চলতি পথে…(পর্ব: ১৩৫)
নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার থনার পাশের একটি বাড়ী। একসময় সেই বাড়িটা ছিল যেন প্রকৃতির নিজের হাতে গড়া এক সবুজ আশ্রয়। ঝোপজঙ্গল আর বাঁশঝাড়ে ভরা সেই বাড়িতে বাস করত হাজারো কলাবাদুড়—রাতের আকাশের সেই রহস্যময় উড়ন্ত প্রাণী। বাদুড় পাখি নয়; তারা স্তন্যপায়ী প্রাণী। ছানাদের মায়ের দুধ খাওয়ায়, আর দিনের আলোয় উল্টো হয়ে ঝুলে বিশ্রাম নেয়।
সন্ধ্যা নামলেই বিশাল ডানা মেলে বেরিয়ে পড়ে খাবারের সন্ধানে; রাতভর বিচরণ শেষে ভোরের আলো ফুটতেই ফিরে আসে আপন আশ্রয়ে।
ফল খাওয়া অনেক বাদুড় বীজ ছড়িয়ে নতুন গাছ জন্মাতে সাহায্য করে—প্রকৃতির নিঃশব্দ বৃক্ষরোপণকারীও যেন তারা।
বাঁশঝাড়ে তাদের সেই হাজারো ডানার সংসার ছিল আমাদের শৈশবের এক বিস্ময়।
ভোরবেলা তাদের ক্যাচক্যাচানি, ঝুলে থাকা ছানাদের মায়ের বুক আঁকড়ে ধরা—সবই ছিল আমাদের প্রতিদিনের চেনা দৃশ্য।
কিন্তু মানুষের আবাস বাড়তে বাড়তে একদিন হারিয়ে গেল তাদের সেই পুরোনো নিবাস; ভেঙে গেল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে ওঠা কলাবাদুড়ের সংসার। কেউ আশ্রয় নিল দূরের গাছগাছালিতে, কেউ চলে গেল অজানা কোনো দেশে।
এখানে আজ বাঁশঝাড় নেই, নেই হাজারো ডানার সেই মেলা—আছে শুধু পুরনো ভিটের মাটিতে জমে থাকা স্মৃতি।
কলাবাদুড়গুলোও হারিয়ে গেছে; অথচ মনে হয়, গভীর রাতে এখনো বুঝি সেই পুরোনো বাড়ির আকাশে তাদের ডানার শব্দ শুনতে পাই। বলছিলেন বাড়ী মালিক মনোহরদীর প্রথিতযথা সাংবাদিক আতাউর রহমান ফারুক। নদীর ধারের সেই বাড়ীর বাঁশ ঝাড়ের মাঝে দেখা মিলল রহস্যময় কলাবাদুরের। চিরচেনা সেই ঢঙ্গে ঝুলে আছে।
ছবি: কাজী আনোয়ার কামাল, নরসিংদী জেলা সংবাদদাতা।
(১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)
#bangladeshbetarnews#চলতিপথে #বাংলাদেশ #যাত্রা #সফর
#প্রকৃতি #ভ্রমণ #স্মৃতি #দৃশ্য #অভিজ্ঞতা #জীবনযাপন
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন