*নারী চার প্রকার। 🌸*
কামশাস্ত্র বলে নারী চার জাত, আর মারফত বলে নারী চার স্তরের প্রেম। এই চার জাতকে চিনতে পারলেই তুমি বুঝবে কার সাথে কিভাবে সাধনা করতে হয়।
--- ১. পদ্মিনী নারী - জান্নাতি ফুল 🌷
এরা হলো সবচেয়ে উঁচু স্তরের নারী।
*চেনার উপায়:* এদের শরীর থেকে সবসময় পদ্মের মতো সুগন্ধ বের হয়। এরা দেখতে কোমল, চোখে লজ্জা, কথায় মধু। বেশি খায় না, বেশি ঘুমায় না, বেশি সাজে না। অল্পতেই খুশি।
*মারফতের বাণী:* পদ্মিনী নারী হলো সেই নারী, যে স্বামীকে দেখলেই তার ভিতরের সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেয়। সে রাগ করে না, সে অভিমান করে। তার অভিমানও প্রেম। তার একটু ছোঁয়ায় পুরুষের হাজার বছরের সাধনা পূর্ণ হয়ে যায়। এমন নারীকে যে পায়, সে দুনিয়াতেই জান্নাত পায়।
*এদের মন:* এরা প্রেমের কাঙাল, শরীরের না। এদেরকে যদি তুমি একটা ফুল দিয়ে বলো "তুমি আমার সব", সে তোমার জন্য জীবন দিয়ে দেবে।
---২. চিত্রিণী নারী - প্রেমের কবিতা 🎨
এরা হলো শিল্পীর জাত।
*চেনার উপায়:* এরা সাজতে ভালোবাসে, গান ভালোবাসে, ছবি আঁকতে ভালোবাসে। এদের চোখে সবসময় একটা স্বপ্ন থাকে। এরা কথায় পটু, হাসিতে মুক্তা ঝরে। এদের রাগও সুন্দর, হাসিও সুন্দর।
*মারফতের বাণী:* চিত্রিণী হলো সেই নারী, যে পুরুষের জীবনকে রঙিন করে দেয়। যে পুরুষ সারাদিন দুনিয়ার সাথে যুদ্ধ করে ঘরে ফেরে, চিত্রিণী তার মাথায় হাত বুলিয়ে সব যুদ্ধ ভুলিয়ে দেয়। সে স্বামীকে শুধু স্বামী ভাবে না, তাকে বন্ধু ভাবে, প্রেমিক ভাবে।
*এদের মন:* এদেরকে সময় দিতে হয়। এদের সাথে গল্প করতে হয়। তুমি যদি এদের মনের কথা না শোনো, এরা ভিতরে ভিতরে মরে যাবে।
--- ৩. শঙ্খিনী নারী - আগুনের ফুল 🔥
এরা হলো তেজস্বিনী।
*চেনার উপায়:* এদের রাগ একটু বেশি, জেদ বেশি। এরা সহজে কাউকে বিশ্বাস করে না। কিন্তু একবার বিশ্বাস করলে তার জন্য সব করতে পারে। এরা সংসারকে আগলে রাখে, সন্তানকে যোদ্ধা বানায়।
*মারফতের বাণী:* শঙ্খিনীকে ভয় পেও না দরদী, তাকে বোঝো। তার ভিতরে যে আগুন আছে, সেটা অহংকারের আগুন না, সেটা ভালোবাসার আগুন। সে চায় তার স্বামী শুধু তারই থাকুক। সে ভাগ দিতে পারে না। এই অধিকারবোধ থেকেই তার রাগ। তুমি যদি তার রাগকে প্রেম দিয়ে ঠান্ডা করতে পারো, তাহলে সে তোমার জন্য দুনিয়ার সাথে লড়াই করবে।
*এদের মন:* এদেরকে শক্ত হাতে নয়, নরম হাতে ধরতে হয়। এদের রাগের সময় চুপ থাকতে হয়, রাগ কমলে বুকে টেনে নিতে হয়।
--- ৪. হস্তিনী নারী - গভীর সাগর 🌊
এরা হলো সবচেয়ে গভীর। এদেরকে সবাই বোঝে না।
*চেনার উপায়:* এদের শরীর একটু ভারী, চলা একটু ধীর। এরা বেশি কথা বলে না, কিন্তু যখন বলে, তখন দিল ছুঁয়ে যায়। এরা খেতে ভালোবাসে, ঘুমাতে ভালোবাসে, কিন্তু ভালোবাসলে পাগলের মতো ভালোবাসে।
*মারফতের বাণী:* হস্তিনী নিয়ে সমাজ অনেক বাজে কথা বলে, কিন্তু মারফত বলে - হস্তিনী হলো মা। তার বুকের ভিতরে সাগরের মতো মমতা। সে তার স্বামীকে সন্তানের মতো আগলে রাখে। সে হয়তো পদ্মিনীর মতো সুগন্ধি না, চিত্রিণীর মতো রঙিন না, কিন্তু তার ভালোবাসা হলো সবচেয়ে খাঁটি। যে পুরুষ হস্তিনীকে অবহেলা করে, সে নিজের কপাল নিজে পোড়ায়। কারণ হস্তিনী যখন কাঁদে, তখন আরশ কেঁপে ওঠে।
*এদের মন:* এদেরকে কখনো শরীর নিয়ে খোঁটা দিও না। এদেরকে বলো - "তুমি আমার শান্তি"। দেখবে, সে তোমার জন্য জান্নাত থেকে ফুল এনে দেবে।
নারী পদ্মিনী হোক, চিত্রিণী হোক, শঙ্খিনী হোক বা হস্তিনী হোক - দিনশেষে সে নারী। আর নারী মানেই মা। মায়ের জাতকে সম্মান করতে শেখো।
যে পুরুষ নারীকে ভোগের চোখে দেখে, সে সারাজীবন ফকির থাকে। আর যে পুরুষ নারীকে মায়ের চোখে, প্রেমিকার চোখে দেখে, তার ঘরে আল্লাহর রহমত নাজিল হয়।
*নারীকে চিনতে হলে চোখ লাগে না, দিল লাগে।*
জয় গুরু 🙏
(সংগৃহীত)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন