চলতি পথে ......(পর্ব:১৪২)
সবুজ পাতার আড়ালে যেন একঝাঁক হলদে প্রজাপতি ডানা মেলে বসে আছে, আর সুরের লহরী তুলছে চঞ্চল মৌমাছির দল। এভাবেই শরতের এক টুকরো সোনালী রোদে, প্রকৃতির ক্যানভাসে মিতালী করে চলেছে হলুদ 'সুরতিসেনা' ফুলেরা। ঝিরঝিরে বাতাসে যখন হলুদ সুরতিসেনা ফুলের পাপড়িগুলো দুলে উঠছে তখন মনে হচ্ছে কোনো এক অভিমানী বধু তার সোনার গহনা জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কাকলি বাসস্ট্যান্ডের পাশেই মায়াবী রূপের পরশ ছড়িয়ে দিয়ে এভাবেই সুরতিসেনা ফুলেরা জানান দিচ্ছে তারা কত সুন্দর, কত মনোরম! যান্ত্রিক জীবন আর ইট-পাথরের এই ব্যস্ত শহরের বুকে ফুলগুলোর হলুদ আভা যেন এক চিলতে শান্তির পরশ। কবিগুরুর শরতের গানের মতোই যেন তারা আজ মেতে উঠেছে এক হলুদ উৎসবে।
উদ্ভিদবিজ্ঞানের পরিভাষায় এই সুরতিসেনা Fabaceae পরিবারের সদস্য, যার বর্তমান উদ্ভিদতাত্তিক নাম Senna surattensis (পূর্বে যা Cassia glauca বা Cassia surattensis নামে পরিচিত ছিল), এর ইংরেজি নাম Glaucous Cassia, Scrambled Egg Tree, Golden Senna, বা Sunshine Tree। ইংরেজি নাম অনুসারে আমাদের দেশে এটি সাধারণত 'গ্লুকাস ক্যাসিয়া' নামেও পরিচিত। মূলত এটি মাঝারি আকৃতির চিরসবুজ বৃক্ষ বা ঝোপঝাড় জাতীয় উদ্ভিদ। এর পাতাগুলো সুবিন্যস্ত, কিছুটা নীলাভ-সবুজ বা ধোঁয়াটে সবুজ রঙের ছোঁয়াযুক্ত, যার কারণে এর নাম হয়েছে 'গ্লুকাস'। বছরের একটা বড় সময় জুড়ে এই গাছটি ভরে ওঠে উজ্জ্বল হলুদ রঙের থোকা থোকা ফুলে। তখন সুরতিসেনা ফুলের পরম নান্দনিক রূপ যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমীদের মন নিমিষেই রাঙিয়ে দেয়, আর সোনালী স্বপ্নের মতো দোলা দিয়ে যায় হ্নদয়ে।
ছবি: খোন্দকার এরফান আলী
(১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন