চলতি পথে ...(পর্ব:১৪০)
'আমি রূপনগরের রাজকন্যা রূপের জাদু এনেছি......'
হ্যাঁ, রূপের মাধুরী নিয়ে সবুজ ঘাসের বুকে নেমে আসা রাজকন্যা সে। সে চারপাশ আলো করে স্বর্গ থেকে প্রকৃতির কোলে নেমে আসা একঝাঁক হলদে ফুল। নাম তার 'হলুদ কসমস।' সে যেন ফুল নয়, প্রকৃতির আঙিনায় এক অকৃত্রিম হাসি, এক চিলতে কবিতা। শরতের নীল আকাশ আর মৃদু হাওয়ার মাঝে হৃদয়ে সৌন্দর্যের পরশ বুলিয়ে দেয় ফুলটি। উজ্জ্বল হলুদ, কমলা বা গাঢ় লালচে কমলা রঙের ফুলগুলো যখন সোনাঝরা বাতাসে দোল খায় তখন মনে হয় কোন এক শিল্পী প্রকৃতির সবুজ ক্যানভাসে হলুদের আলপনা এঁকে দিয়েছেন। গাঢ় সবুজ পাতার মাঝে Asteraceae পরিবারের এই 'হলুদ কসমস' ফুলের উপর যখন সূর্যের আলো এসে পড়ে ঠিক তখনই জীবন্ত স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বল জ্বল করে জ্বলে ওঠে সে।
উদ্ভিদতাত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে আমরা যাকে Cosmos sulphureus Cav ও ইংরেজি নাম Sulfur Cosmos, Yellow Cosmos হিসেবে চিনি- সেই কসমস নামক রূপনগরের রাজকন্যার রূপের মোহে কেবল মানুষই নয়, ডানায় রঙের বাহার নিয়ে ছুটে আসে রঙিন প্রজাপতি আর মৌমাছির দল। যেন দূরদেশ থেকে স্বাগত জানাতে ছুটে এসেছে অতিথিরা। দ্রুত বর্ধনশীল এই একবর্ষজীবী হলুদ কসমস কেবল রূপেই নয়, গুনেও সেরা। ভেষজ ঔষধি গুণে সে অতুলনীয়। ইট, পাথর আর কংক্রিটের এই নগরী বা গ্ৰামের আঁকাবাঁকা মেঠো পথ ধরে চলতে অহরহ দেখা মেলে তার। তখন হলুদ কসমস এর হলুদ হাসির ছটায় হৃদয়টি যেন নেচে ওঠে। তাই কবির ভাষায় বলতে হয়-
'হৃদয় আমার নাচে রে আজিকে ময়ূরের মতো নাচে রে.....'
রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের লেকের পাশের এই 'হলুদ কসমস' ফুলেরা যেন কানে কানে বলে যায়, 'জীবন সুন্দর, প্রকৃতি আরো সুন্দর।'
ছবি: খোন্দকার এরফান আলী
(১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন