১২ মাসের ক্যালেন্ডার কি মানবজাতির সঙ্গে করা অন্যতম বড় স্ক্যাম?
আমার উত্তর হলো, হ্যাঁ।
দেখুন, সময়, ঘড়ি, দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর ~এই জিনিসগুলো একধরনের ইলিউশন। মানুষের নিজের তৈরি করা। মহাবিশ্বে সময়ের কোনো অস্তিত্ব নেই। আচ্ছা, এই হিসাবটা আপাতত বাদ দিলাম।
আধুনিক বিশ্বে ১২ মাসের বছর অবশ্যই একটা বড় স্ক্যাম।
আমাদের প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে চাঁদের সাইকেলের ভিত্তিতে মানুষ মাস হিসাব করত। এমনকি প্রাচীন রোমানরাও ২৮ দিনে এক মাস—এমন ধারণায় বিশ্বাস করত।
এক ফুল মুন, অর্থাৎ পূর্ণিমা থেকে পরবর্তী পূর্ণিমার দূরত্ব Approximately ২৮ দিন। অর্থাৎ, আমরা যদি প্রাচীন শাস্ত্রীয় লজিক অনুসারে চন্দ্রের সাইকেলের ওপর ভিত্তি করে মাস সাজাই, তাহলে প্রতিটি মাস হয় ২৮ দিনের!
জ্যোতিষশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে খেয়াল করেছি, চন্দ্র হিউম্যান সাইকোলজি, শরীর এবং ইমোশনের ওপর যতখানি প্রভাব বিস্তার করে, তা সূর্যের চেয়েও বেশি ইমপ্যাক্টফুল।
আপনারা জেনে আশ্চর্য হবেন, চন্দ্রের লুনার সাইকেল এবং নারীদের Menstrual Cycle—উভয়ই Approximately ২৮ দিন।
এবার আসুন বছরের হিসাবে।
যদি লুনার সাইকেলের ওপর ভিত্তি করে মাস হয় ২৮ দিনের, তাহলে—
১৩ মাস × ২৮ দিন = ৩৬৪ দিন
এর সঙ্গে বছরের আরও ১ দিন যোগ করলে—
১৩ মাস × ২৮ দিন = ৩৬৪ দিন
+ Year Day = ৩৬৫ দিন
১৩ মাসের ক্যালেন্ডারের ধারণা ইউরোপেও কয়েক শতাব্দী ধরে আলোচনায় ছিল।
১৭৪৫ সালে Hugh Jones ১৩ মাসের ক্যালেন্ডারের একটি প্রাথমিক ধারণা দেন। পরে Marco Mastrofini সমান দৈর্ঘ্যের মাসভিত্তিক ক্যালেন্ডারের ধারণা নিয়ে কাজ করেন।
১৮৪৯ সালে ফরাসি দার্শনিক Auguste Comte ১৩টি ২৮ দিনের মাস নিয়ে তাঁর Positivist Calendar প্রস্তাব করেন। এরপর ১৯০২ সালে Moses B. Cotsworth এসব ধারণাকে আরও সুসংগঠিত করে International Fixed Calendar তৈরি করেন।
পরবর্তীতে George Eastman, Kodak-এর প্রতিষ্ঠাতা, Cotsworth-এর ক্যালেন্ডারকে সমর্থন করেন এবং Kodak কিছু সময় এটি ব্যবহারও করেছিল।
ফলে ১৩ মাসের ক্যালেন্ডার মূলত কয়েক শতাব্দী ধরে বিকশিত একটি ক্যালেন্ডার-সংস্কার ধারণা।
এখন ১২ মাসের ক্যালেন্ডারকে কেন স্ক্যাম বললাম?
কারণ লুনার সাইকেল অনুসারে, আমরা সবাই ১৩ মাস চাকরি করি। কিন্তু সবাই বেতন পাই ১২ মাসের!
হয়তো এটাও মানুষকে বেশি কাজ করিয়ে কম বেতন দেওয়ার একটি সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র হতে পারে! 🤔
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন