এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ৮ মার্চ, ২০২৪

স্বাধীনতা ও দাসত্ব,,,,,, salsabil ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 স্বাধীনতা ও দাসত্ব


মুসলিম অর্থ আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণকারী অর্থাৎ সে নিজ মতবাদ, নফসের অনুসরণ বাদ দিয়ে আল্লাহর কিতাব ও রসুলল্লাহ’র (সা:) অনুসরণ করে চলবে। বিধানদাতা হিসেবে এক আল্লাহকে মানবে, কারো গোলামী করবে না।


ইসলাম এসেছে মানুষকে মানুষের দাসত্ব হতে মুক্ত করে এক আল্লাহর দাসত্ব মেনে নিতে যেন তা ব্যক্তিজীবন হতে রাষ্ট্রীয়জীবনে সর্বত্র মানুষ মুক্তভাবে দ্বীন পালন করতে পারে। দ্বীনের গন্ডির ভেতর যেকোন মতবাদ প্রকাশের অধিকার ছিল। শাসক নির্বাচনে মজলিসে শুরার রায় দিত। খেলাফায়ে রাশেদীনের যেকোন সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে প্রতিবাদ জানাতে পারতো বিনা ভয়ে। হযরত উমরের (রা:) মত কঠোর ব্যক্তির পোষাকেরও জবাবদিহিতা করতে পারতো! আজকে ক্ষমতাসীনদের সবচেয়ে নিম্নপদের লোকের সম্পদের হিসাব চাইলে জুলুম, নির্যাতন শুরু হবে।


ধীরে ধীরে উম্মাহর বুকে রাজতন্ত্র চালু হল, শাসকের বিরোধিতা করলে জুলুমের শিকার হতে হতো।


আহমাদ ইবন মানী’ (রহঃ) ….. সাফীনা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের খিলাফত হবে ত্রিশ বছর। এরপর হবে বাদশাহী। সহীহ, সহিহাহ ৪৫৯,


নু’মান বিন বশীর (র) আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর গোপন বিষয়ের জ্ঞানধারণকারী হুযাইফা (র) হতে বর্ণনা করেন, আমি আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে শাসকদের সম্পর্কে হাদিস মুখস্থ রেখেছি। তিনি বলেন: “নবুওয়্যাত তোমাদের মাঝে থাকবে, যতদিন মহান আল্লাহ চান, এরপর তিনি তা উঠিয়ে নেবেন যখন তিনি চান। অতপর, নবুওয়্যাতের আদলে খিলাফাহ আসবে এবং তা বিদ্যমান থাকবে যতদিন তিনি চান এবং তিনি উঠিয়ে নেবেন যখন তিনি চান। অত:পর আসবে উত্তরাধিকার সূত্রে রাজতন্ত্র এবং তা থাকবে যতদিন মহান আল্লাহ চান এবং তিনি তা উঠিয়ে নেবেন যখন চান। অতঃপর আসবে চরম জবরদস্তির শাসন, যা থাকবে যতদিন মহান আল্লাহ চান এবং যখন তিনি চান, তা উঠিয়ে নেবেন। অতঃপর আসবে নবুওয়্যাতে আদলে খিলাফাহ। এর পর তিনি চুপ হয়ে গেলেন। মুসনাদে আহমাদ ১৮৪৩০(৪র্থ খন্ড,পৃষ্ঠা-২৭৩)


খেলাফায়ে রাশেদীনের যুগের পর হতে উম্মাহর বুকে চেপে আসে রাজতন্ত্র, তার মধ্যে কিছু ভালো খলিফা ছিল (আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা, উমর ইবনে আবদুল আজিজ রহ)। ইসলামের অনেক অগ্রগতি হয়েছিল – কিন্তু শাসকরা নিজেদের ক্ষমতা বাচাতে মুসলিমদের হত্যা করেছিল।


ইসলামের জন্য উসমানের (রা:) অবদান ছিল সর্বোচ্চ। তার হত্যাকে কেন্দ্র করে ফেতনা উদ্ভব হয় বনু উমাইয়ার অনেকে তার হত্যা ইস্যুকে নিজের ক্ষমতা স্বার্থে ব্যবহার করেন। যে কেউ তাদের বিরোধীতা করলে উসমানের (রা:) হত্যাকারী দলের লোক বলে অপবাদ দিত এমনকি হত্যা করত। যে তালহা (রা:) উসমানের (রা:) রক্ষায় দৃঢ় ছিলেন, উসমান (রা:) হত্যার বিচারের দাবিতে শেষ পর্যন্ত মুনাফেকের ষড়যন্ত্রে যুদ্ধে নেমেছিলেন তাকে হত্যা করা হয়।


খেলাফায়ে রাশেদীনের পর হতে নিজেদের সুবিধার্থে ইসলামের ফেরকার অনুপ্রবেশে বাধা না দিয়ে বরং সহায়তা করেছিল। যেন দরবারী আলেমদের দিয়ে তাদের রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখা যায়। যেমন – উমাইয়াদের সময় জাবারিয়া ফেতনার প্রসার পায় – এর দ্বারা বিরোধিতার হত্যার সর্মথন দেওয়া হতো। তাদের শাসনামলে আহলে বায়াত ও আব্বাসীদের উপর হত্যাকান্ড, নির্যাতন চলে।


আর কারবালা ও আহলে বায়াতের মহব্বতের নামে আব্বাসীরা ক্ষমতায় আসে, এবং বনু উমাইয়াদের নিরীহদের উপরও জুলুৃম চালায় কিন্তু আহলে বায়াত প্রাপ্য সম্মান পায়নি। আব্বাসীদের অনেকে নিজেদের সুবিধার্থে কাদেরিয়া মতবাদের সমর্থন ও প্রসার করে প্রথমে।


অপরদিকে উসমানী রাজতন্ত্রের ছত্রছায়ায় সুফিবাদ প্রসার লাভ করে। উসমান সামাজ্যের পতন হলে মুসলিমদের উপর বিভিন্ন জুলুম নেমে আসে। কুরআনের অনেক আইন যা রাষ্ট্রে চালু ছিল, একে একে রাষ্ট্র ক্ষমতা হতে তুলে নেওয়া হয়।


ইংরেজ, ফ্রান্স, স্পেন বহুদেশ আমাদের জুলুম চালালেও অবশেষে অনেকদেশই ওদের বিতাড়িত করে। বেশিরভাগ মানুষরা আজ গর্বিত তারা স্বাধীন। তারা কারো প্রজা নয়, কেউ তাদের উপর রাজত্ব করতে পারে না।


আসুন একটু সত্যতা যাচাই করি-


আসুন তথাকথিত উন্নত, স্বাধীন দেশ দিয়ে শুরু করি-

ইংরেজদের বিরুদ্ধে আমেরিকার বিদ্রোহের প্রধান কারন ছিল ট্যাক্স। ধীরে ধীরে বিদ্রোহ সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ নেয়।বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া, আলবেনী সব জায়গায় সশস্ত্র সংগ্রামে ওরা জয়ী হয়। জর্জ ওয়াশিংটন সহ অনেকে নায়ক হয়ে উঠেন, ক্ষমতা পান। পরবর্তীতে তারা জাতির ট্যাক্স কতটা কমিয়েছিল!? আশ্চর্য হলেও সত্যি ওদেরই সমীকরন বর্তমানে তারা আরও বেশি ট্যাক্স দিচ্ছে যা ইংরেজদের দিত।


সে ট্যাক্স এর টাকায় মুসলিম দেশগুলোতে হামলা ও হত্যা চলে। বেশিরভাগ জনগনের অজান্তেই ইসরায়েল নামক দেশে সাহায্য করা হয়, অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে।


এতে রাষ্ট্রের ব্যয় হয়, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় লাভবান হয় কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানি বিশেষ করে অস্ত্র কোম্পানিগুলো লাভবান হয়, যেভাবে ইংরেজ আমলে লাভবান হতো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।


এবার আসি ভারত উপমহাদেশে অবস্থা বিশ্লেষন করি!


ইংরেজদের জুলুম, নির্যাতন, করের অত্যাচার হতে অপামর জনতা প্রতিবাদী হয়। ইংরেজরা ছিল অল্পকিছু লোক আর ভারতবর্ষে তাদের বিরোধী অসংখ্য। তারা আমাদের কিছু লোককে শিক্ষিত করে চাকরি দিল। বাবু, সাহেব হল আর কিছু লোককে ওদের সুরক্ষা ও আমাদের আন্দোলন প্রতিরোধে ব্যবহার করতো। ফলে কখনও সংঘর্ষ হলে শুধু ইংরেজদের সাথে হতো তা নয় বরং স্বজাতীর লোকদের সাথে সংঘর্ষে জড়াতে হতো। রক্তাক্ত অনেক সংগ্রাম হতো, এসব কর্মকর্তা, দেহরক্ষী বাহিনী দালাল ও স্বাধীনতার শত্রু বলে অভিহিত করা হতো।


ইংরেজরা বিদায় নিল, এরপর অন্যায়, জুলুম, নির্যাতনের জন্য আবার বিভক্তি। তাদের রেখে যাওয়া বহু আইন আজও ভারতবর্ষে বিদ্যমান। আজ দেখুন- আমাদের দেশে একই ফেতনা বিদ্যমান- আমাদের করের টাকায় যাদের বেতন চলে, সরকারের বিরুদ্ধে কোন বক্তব্য, প্রতিবাদ করলে সেসব প্রশাসনের লোকগুলো ব্যবহার করা হয় আমাদের বিরুদ্ধে।


রসূল (সা) বলেছেন – ‘(হে কা’ব!) তুমি নির্বোধ আমীর (শাসক) থেকে আল্লাহ’র আশ্রয় চেও। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: নির্বোধ আমীর কে?

রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: (ওরা হল) এমন সব আমীর যারা আমার পরে আসবে। তারা না আমার দেখানো পথে চলবে, আর না আমার আদর্শ মাফিক রীতি-নীতি চালু করবে।


কাজেই যে ব্যাক্তি তাদের মিথ্যাকে সত্ত্বায়ন করবে এবং তাদের জুলুম-অন্যায়-অবিচার -এর সহায়তা করবে, ওরা আমার (কেউ) নয়, আমিও তাদের (কেউ) নই এবং তারা (কেয়ামতের দিন আমার) হাউজ (-ই-কাউসার)-এর নিকটে আসতে পারবে না।

আর যে ব্যাক্তি তাদের মিথ্যাকে সত্ত্বায়ন করবে না এবং তাদের জুলুম-অন্যায়-অবিচার এর সহায়তা করবে না, ওরা আমার, আমিও তার এবং (কেয়ামতের দিন) তারা আমার হাউজ (-ই-কাউসার)-এর নিকটে সহজে আসতে পারবে’ [মুসনাদে আহমদ, ৩/৩২১ ; সহিহ ইবনে হিব্বান– ৫/৯ হাদিস ১৭২৩; মুসনাদে বাযযার- ২/২৪১ হাদিস ১৬০৯; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ১১/৩৪৫; মুসতাদরাকে হাকিম- ৩/৩৭৯; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/২৪৭]


আরও বর্ণিত আছে – হযরত আবু হুরায়রাহ (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেন- ‘শেষ জামানায় জালেম ও অন্যায়-অবিচারক শাসকদের আগমন ঘটবে। তাদের মন্ত্রীরা হবে ফাসেক (পাপিষ্ট, পঁচন ধরা), তাদের বিচারকরা হবে খেয়ানতকারী, তাদের (সাথে থাকা) আলেমরা হবে মিথ্যুক। তোমাদের মধ্যে যারা সেই জামানা পাবে, তারা ওদের কর-উসূলকারী, আরেফ এবং সৈন্য হতে যেও না। [মু’জামে আ্উসাত, ত্বাবরানী, হাদিস ৪১৯০; মু’জামে ছাগীর, ত্বাবরানী, হাদিস ৫৬৪; তারীখে বাগদাদ, খতীব-১১/৫৭৭; মাজমাউয যাওয়ায়ীদ, হাইছামী- ৫/২৩৩]


আমাদের করের টাকায় ইংরেজরা মূর্তি তৈরি করতো আজও বহু চেতনা, স্বাধীনতার নামে মূর্তিসহ শিরকের প্রসার আমাদের করের টাকায় হয়। আর প্রতিবাদ করলে আমাদের স্বদেশীয় প্রশাসনের লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবুও আমরা স্বাধীনতার দাবিদার গর্বিত যদিও আমাদের মতবাদের কোন মূল্য তারা দেয় না।


এবার আসি ইসলাম ও কর নিয়ে আলোচনা করি!


ইসলামী রাষ্ট্র কার্যক্রম ও উন্নয়ন চালানোর খাত হল- যাকাত, গনিমত, উসুর, জিজিয়া ও বহিঃবিশ্বের লোকেরা ব্যবসা করতে এলে কর দিত। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত পরে আলোচনা হবে। ভোগ্যপন্যের করের নামে নির্যাতন, দাসত্ব ছিল না। যাকাত সার্মথবানরা দিত সবাই নয়। ধরুন- একজন হতদরিদ্র রিকশাওয়ালা, ফকির বাজার হতে ৫০০ টাকার জামা, পন্য কিনতে যে পরিমান কর দেয়। সেই একই পরিমান কর মিলিনিয়ার ব্যবাসায়ী দেয় অথচ সেই বাধ্যতামূলক যাকাত তার হতে নেওয়া হয় না। (ইনকাম tax ভিন্ন হিসাব আর বেশিরভাগ লোকই প্রকৃত ইনকাম tax দেয় না)। একই এলাকায় বস্তিবাসী, ডুপ্লেক্সের বাসিন্দার বিদ্যুৎ, গ্যাস বিলের করের পরিমাণ একই। তাই গরিবের ছেলে অভুক্ত থাকে আর তাদের দেওয়া করের টাকায় আমলা, মন্ত্রীর ছেলে দামী গাড়ি, বাড়ীর বিলাসীতা করে। অথচ খেলাফায়ে রাশেদীনের যুগে- খলিফার পোষাক, আহার সাধারণ জনগণের মত বা অনেকক্ষেত্রে (তাকওয়ার কারনে) আরও নিম্ন পর্যায়ের ছিল। সামান্যই তারা ভাতা নিতেন।


আরবদেশগুলোতে আমাদের স্বদেশীয় লোকদের উপর আকামার বোঝা চাপানো হয়। কিন্তু তাদের দেশে জন্মগ্রহণকারী কাফেরদের হতে জিজিয়া নেওয়া হচ্ছে না, আকামাই যেন একপ্রকার জিজিয়া যা অন্যদেশের মুসলিমরা দিচ্ছে। অথচ মুসলিমরা পরস্পর ভাই। রসুল (সা:) সাহাবীদের মদীনার রাষ্ট্রে ইয়েমেন, শাম, পারস্য বহুদেশের লোকেরা একইরকম অধিকার নিয়ে থাকতো।

কেউ যদি বেড়াতে আসতো তাকে মুসাফির গন্য করে অতিথিয়তা করা হতো। এই কর, আকামার জন্য যেখানে হয়তো সপ্তাহে ৫ দিন ৭ ঘন্টা কাজ করলে একজন ব্যক্তি স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারতো, তার বদলে আরও বহু ঘন্টা কাজ করতে হচ্ছে। এভাবে দ্বীন চর্চা, পরিবার সংঙ্গ হতে দীর্ঘসময় দূরে থাকতে হচ্ছে। আমাদের সময়গুলো অতিবাহিত হচ্ছে – জালেমদের বিলাসীতা পূরনে।


এরপর সুদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্হা-


দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সিন্ডিকেট, লোভ ও সুদ। বছরের পর বছর টকশো আলোচনা হয় অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণই বাদ যায়, আলেমরা যেন বলতে ভুলে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ সুদভিত্তিক অর্থনীতি ব্যবস্হা।


উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- বেলাল সাহেব একজন বৃহৎ পাইকারী ব্যবসায়ী। তিনি একটি পণ্য কিনলেন যার মোট খরচ হল ১০০ টাকা। এই পণ্য ১০৫ টাকা বিক্রি করলেও তার লাভ থাকতো!! যেহেতু তিনি ব্যাংক হতে সুদে টাকা নিয়ে পণ্য কিনেছেন যে কারণে ব্যাংকে ৬-৭ শতাংশ সুদ পরিশোধ করতে হবে সেজন্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে তাকে বিক্রি করতে হবে ১১০-১১২ টাকা। বেলাল সাহেব হতে ১১০ টাকায় কিনলেন ক্ষুদ্র পাইকারী ব্যবসায়ী। সেও ব্যাংক, সমবায় সমিতি হতে সুদে ধার নিয়ে পণ্য কিনলো ফলে যে পণ্য ১১৫ টাকা বিক্রি করলে তার লাভ হতো কিন্তু সুদের টাকা দিতে হবে তাই ১২০ টাকা বিক্রি করতে হবে। ১২০ টাকায় খুচরো বিক্রেতা কিনলো সেও সমবায় সমিতি হতে সুদের টাকা ধার নিল। ফলে তাকেও অধিক দামে বিক্রি করতে হবে। ফলে সমস্ত সুদ ও লাভ বহন করতে হবে সাধারণ ক্রেতাকে। এভাবে ব্যাংকগুলো, সুদের কোম্পানিগুলো বিনা পরিশ্রমে লাভ করতে থাকে আর তার ভার বহন করতে হয় সাধারণ ভোক্তাদের। আর এভাবে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে দ্রব্যমূল্য অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। সুদ সম্পদের বরকত নষ্ট করে দেয়।


আল্লাহ বলেন-


“অতঃপর যদি তোমরা (সুদ বন্ধ) না কর তবে আল্লাহ ও তার রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা নাও। আর যদি তোমরা তাওবা কর তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। তোমরা যুলুম করবে না এবং তোমাদের উপরও যুলুম করা হবে না।”


সুরা বাকারাহ-২৭৮

তারপরও একদল আলেম পাবেন- এই রাষ্ট্রব্যবস্হাকে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্হা বলে প্রচার করবে। ইংরেজদের পতন শুধু অস্ত্র দ্বারা হয়নি – বরং আলেম, লেখক, বিদ্বানরা মানুষকে তার অধিকার ও দাসত্ব বুঝাতে সক্ষম হয়েছিল। আজও মানুষকে দাসত্ব বুঝাতে হবে। ইনশাআল্লাহ খেলাফত ফিরবে নবুওয়তের আদলে। তার জন্য বহু সংগ্রাম, ইলমের গবেষণা ও প্রচারের প্রয়োজন।

আমাদের ইসলামী অর্থনীতিগুলো জানতে হবে। ইংরেজদের বিরুদ্ধে করের লড়াইকে আমেরিকাসহ অনেকে স্বাধীনতার সংগ্রাম অভিহিত করে। অথচ বর্তমান করের জুলুম নিয়ে আলোচনা করলেই ওরা রাষ্ট্রদ্রোহী, উগ্রবাদী ঘোষণা করবে।


জৈব তরল সারের সুবিধা হলো এটা পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী, এবং সার তৈরি ও প্রয়োগ পদ্ধতি সহজ এবং প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে গাছ বা ফসলের গ্রহণ উপযোগী হয়,,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 জৈব তরল সারের সুবিধা হলো এটা পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী, এবং সার তৈরি ও প্রয়োগ পদ্ধতি সহজ এবং প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে গাছ বা ফসলের গ্রহণ উপযোগী হয়। তরল জৈব সারের হরমোন থাকে যা বায়োস্টিমুলেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ফসলকে পোকামাকড় ও রোগ থেকে আগলে রাখে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তরল জৈব সার থেকে যেমন ফসল সব মেক্রো খাদ্যোপাদান পাচ্ছে সঙ্গে অধিকাংশ মাইক্রো খাদ্যোপাদানগুলোও পাচ্ছে। ফলে ফসলের ফলনের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টিমান ও স্বাদ বৃদ্ধি পায়। উন্নত বিশ্বে তরল জৈব সার (লিকুইড অর্গানিক ফার্টিলাইজার) প্লান্ট টি নামে অবিহিত করা হয়ে থাকে।

দ্বিতীয় পর্বে আমরা আরও চারটি জৈব তরল সার তৈরি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করব।

* বাগানের আগাছা দিয়ে তরল সার - বাগানের আগাছা  এবং পানি ১:৩ হারে মিশাতে হবে। প্রতিদিন এই মিশ্রণটি দুই বেলা ১টা লাঠি দিয়ে নেড়েচেড়ে দিতে হবে। ১০ দিন পর এই মিশ্রণ এর সাথে আরো ১০ গুণ পানি মিশিয়ে মাটিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

* শাকসবজি এবং ফলের বর্জিতাংশ দিয়ে তরল সার - শাকসবজি, ব্যবহৃত চা পাতা এবং ফলের বর্জিতাংশ এবং পানি ১:৩ হারে মিশাতে হবে। প্রতিদিন এই মিশ্রণটি দুই বেলা ১টা লাঠি দিয়ে নেড়েচেড়ে দিতে হবে। মিশ্রণটি বাদামি রং ধারণ এবং গন্ধ কম হলে ব্যবহারের উপযোগী হবে, তখন এই মিশ্রণ এর সাথে আরো ১০ গুণ পানি মিশিয়ে মাটিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

* মাছের বর্জিতাংশ দিয়ে তরল সার - মাছের বোর্জিতাংশ এবং পানি ১:৩ হারে মিশাতে হবে। প্রতিদিন এই মিশ্রণটি দুই বেলা ১টা লাঠি দিয়ে নেড়েচেড়ে দিতে হবে। মিশ্রণটি বাদামি রং ধারণ এবং গন্ধ কম হলে ব্যবহারের উপযোগী হবে, তখন এই মিশ্রণ এর সাথে আরো ১০ গুণ পানি মিশিয়ে মাটিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

* ঘৃতকুমারী (এলোভেরা)  এর তরল সার - ঘৃতকুমারী এবং পানি ১:৩ হারে মিশাতে হবে। প্রতিদিন এই মিশ্রণটি দুই বেলা ১টা লাঠি দিয়ে নেড়েচেড়ে দিতে হবে। মিশ্রণটি বাদামি রং ধারণ এবং গন্ধ কম হলে ব্যবহারের উপযোগী হবে, তখন এই মিশ্রণ এর সাথে আরো ৫ গুণ পানি মিশিয়ে মাটিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এছাড়াও চাল ও ডাল ধোয়া পানি ও জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সে ক্ষেত্রে ২-৩ দিন পর পর এ পানি 

টবে ব্যবহার করা যায়।



সকাল ০৭ টার সংবাদ  তারিখ : ০৮-০৩-২০২৪ ।,,,, ফেইসবুক নে

 সকাল ০৭ টার সংবাদ 

তারিখ : ০৮-০৩-২০২৪ ।


আজকের শিরোনাম:


বিএনপি-জামায়াত চক্রের অগ্নিসন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে - ৭ই মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনায় বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেখ হাসিনার - ৭ই মার্চের ভাষণের চেতনায় শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী। 


রোগীদের দরদ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর। 


রমজানে বাজারে চিনির কোন সংকট হবে না - আবারও বললেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী।


‘নারীর সমঅধিকার, সমসুযোগ এগিয়ে নিতে হবে বিনিয়োগ’ এই প্রতিপাদ্যে দেশে আজ পালিত হচ্ছে আর্ন্তজাতিক নারী দিবস। 


জ্বালানী তেলের দাম কমিয়ে সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি - গত মধ্যরাত থেকে কার্যকর।


৩২তম সদস্য দেশ হিসেবে ন্যাটোতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিল সুইডেন।


নেপালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের লীগ পর্বের শেষ ম্যাচে আজ ভুটানের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ।

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

জগদীশচন্দ্র ইংল্যান্ডে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের কাবুলিওয়ালা গল্পটি ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে বিখ্যাত মার্কিন সাহিত্য পত্র হারপার্স ম্যাগাজিনে পাঠিয়ে ছিলেন

 জগদীশচন্দ্র ইংল্যান্ডে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের কাবুলিওয়ালা গল্পটি ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে বিখ্যাত মার্কিন সাহিত্য পত্র হারপার্স ম্যাগাজিনে পাঠিয়ে ছিলেন।প্রত্যাশা ছিল পত্রিকার পাতায় লেখাটি প্রকাশিত হবে। ভারত তথা বাঙালির দুই গর্ব রবীন্দ্রনাথ ও জগদীশচন্দ্র বসু পরস্পরের শুধু মাত্র গুণমুগ্ধ নয় তাদের মধ্যে গভীর সখ্য ছিল। মার্কিন ম্যাগাজিনটি অবশ্য রবীন্দ্রনাথের কাবুলিওয়ালা গল্পটি ছাপার অক্ষরে প্রকাশ করল না, একই সঙ্গে জগদীশ বোস কে জানিয়ে দিল "ভারতীয় লেখক সম্পর্কে মার্কিন পাঠকদের কোনও আগ্ৰহ নেই"। এই অপমান জগদীশচন্দ্র ভুলতে পারেন নি, ঘটনার রেশ থেকে গিয়েছিল প্রতিবাদী বিজ্ঞানীর মননে। শুধু তাই নয় শেষ পর্যন্ত ওই পত্রিকাকে বিজ্ঞানীর কাছে ভুল স্বীকার করতে হয়।


বেশ কিছু বছর অতিক্রান্ত হয়েছে ,রবীন্দ্রনাথ সাহিত্য নোবেল পেলেন ১৯১৩সালে। সারা বিশ্বের মানুষের প্রশংসা পেলেন কবি,সবাই রবীন্দ্রনাথ কে আরও বিশদে জানতে চায়। কেন পিছিয়ে থাকবে তাঁর লেখা প্রকাশে প্রত্যাখান করা মার্কিন পত্রিকা হারপার্স। তারা যোগাযোগ করলেন বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর সঙ্গে।বিজ্ঞানী কে অনুরোধ করে লিখলেন রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে কিছু লিখে পাঠাও।


জগদীশচন্দ্র পুরনো স্মৃতি ভুলে যাননি তিনি হারপার্স ম্যাগাজিন কে লিখলেন -একদিন তারা রবীন্দ্রনাথ কে জানতে চায়নি, তাঁর অনুবাদ ফেরত পাঠিয়েছে। তাদের অপমানকর চিঠিটাও তিনি সঙ্গে পাঠাচ্ছেন।আশা করেন হারপার্স সেই চিঠিটাও প্রকাশ করবে।


বলা বাহুল্য শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি জগদীশচন্দ্র হেসেছেন। রবীন্দ্রনাথের নোবেলপ্রাপ্তির পরে হারপার্স পত্রিকা জ


গদীশচন্দ্র বসুর কাছে তাদের ভুল স্বীকার করে শুধু তাই নয়, ১৩বছর পরে পত্রিকায় জগদীশচন্দ্র বসু কে প্রত্যাখ্যানের অপমানকর চিঠিটাও ছাপতে বাধ্য হয়। 


কলমে ✍🏻 অরুণাভ সেন।।


পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার, হাসিকান্না হীরাপান্না, চণ্ডী লাহিড়ী


হেলেন কেলারের আঁধার জীবনের আলো হয়ে হঠাৎ এলেন রবীন্দ্রনাথ:,,,,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 হেলেন কেলারের আঁধার জীবনের আলো হয়ে হঠাৎ এলেন রবীন্দ্রনাথ:


১৯২১ সালের ৪ জানুয়ারি। বিশ্ববিখ্যাত কবির সঙ্গে দেখা হবে বলে এক মেয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। মেয়েটি কি মনে মনে অস্ফুটে উচ্চারণ করছেন কোনো গান? নীরব উচ্চারণে বলছেন কি—


“Yes Master, I forget,

 I ever forget, that the

 Gates are shut every

 Where in the house

 Where I dwell alone!”


মেয়েটির তিনটি ইন্দ্রিয়ের দ্বার রুদ্ধ। তবু কোন এক আলোর পথে যেন তাঁর বুকের ভিতর জেগে ওঠে শব্দ ভ্রমর— “কক্ষে আমার রুদ্ধ দুয়ার সেকথা যে যাই পাশরি”! দিনটা ছিল সেই আলোর সঙ্গে সাক্ষাতের দিন। মেয়েটি হেলেন কেলার আর সেই আলোর নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আজকের কথকতায় রইল একটি মেয়ের অন্ধকারের উৎস থেকে আলোর পথে যাত্রার কাহিনি এবং তাঁর পথপ্রদর্শক এক ভারতীয় কবির গল্প।


হেলেন কেলার জন্মেছিলেন আর পাঁচটি স্বাভাবিক শিশুর মতোই। উনিশ মাস বয়সে এক অসুখে হারিয়ে গেল তাঁর দৃষ্টিশক্তি এবং শ্রবণশক্তি। কিছুদিন পর বন্ধ হল কথা বলাও। এক মৌন, নিঃশব্দ, অন্ধকার পৃথিবীতে কেউ যেন তাঁকে জোর করে আটক করল। অথচ এমনটা হওয়ার কথাই ছিল না। সেই আঁধারে পথ হারিয়ে ফেলাটাই মনে হয় ভবিতব্য ছিল হেলেনের। কিন্তু আসল রূপকথা শুরু হল ঠিক তখনই। মায়ের সাহায্য আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে হেলেন বিশ্ববিখ্যাত হলেন। চব্বিশ বছর বয়সে তিনি আমেরিকার রাডক্লিফ কলেজ থেকে কোনো সংরক্ষণ ছাড়াই পরীক্ষা দিলেন এবং ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক হলেন। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও তাঁর টাইপ করা উত্তরপত্রগুলি রয়েছে। মার্ক টোয়েন হেলেন কেলারকে উনিশ শতকের একজন শ্রেষ্ঠ মানুষ বলেছিলেন। তাঁর অষ্টআশি বছরের দীর্ঘ জীবন কত মানুষকে আলোর নিশানা দিয়েছে। অথবা তিনি নিজেই ছিলেন একটি দীপশিখা।


হেলেনের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত লেখাপড়ার জগতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষদের জন্য পথে নেমেছেন। নারীমুক্তি আন্দোলন, কালো মানুষদের জন্য লড়াই, শিশুশ্রমিকদের শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন, যুদ্ধবিরোধী জনসভা— সবক্ষেত্রেই দৃপ্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে এসেছেন এই মেয়েটি। যুদ্ধ শেষে অন্ধ সৈনিকদের কাছে ছুটে গিয়েছেন প্রেরণা হয়ে। এই মেয়েটির আঁধার জগতের আলো হয়ে একদিন এলেন রবীন্দ্রনাথ। প্রথমে শব্দের অবয়বেই এলেন।


রবীন্দ্রনাথের লেখা ব্রেইলের হরফে পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন হেলেন কেলার। তাঁর নীরব ভাবনার জগতে তোলপাড় হল। আলোর মতো, শব্দ ব্রহ্মের মতো রবীন্দ্রনাথ এলেন হেলেনের কপাট দেওয়া হৃদয়ের কুঠুরিতে। হেলেন নিজের ভাবনার সঙ্গে মিল খুঁজে পেলেন রবীন্দ্রভাবনার। প্রতীক্ষায় রইলেন সেই নিভৃত প্রাণের দেবতার সঙ্গে দেখা করার জন্য। তারপর সেই দিন এল। হেলেন সেই মূল্যবান দিনটির বর্ণনা লিখে রেখেছেন তাঁর লেখা ‘মিড স্ট্রিম মাই লেইটার লাইফ’ বইয়ের ‘ভ্যারিড কর্ডস’ অধ্যায়ে। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে পত্রপত্রিকায় আলোচনা পড়ে হেলেন কেলার তাঁর প্রতি কৌতূহলী হয়ে পড়েন। রবীন্দ্রনাথ সেই সময় এসেছেন বিশ্বভারতীর জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে। বড়ো পৃথিবীর প্রাণের জোয়ার শান্তিনিকেতনের প্রাণধারার সঙ্গে মেলানোর জন্য। সাক্ষাতের দু-দিন আগে কমিউনিটি হলে ‘The meeting of East and West’ প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথ পড়েছিলেন। এই প্রবন্ধের কথাগুলিও হেলেনকে মুগ্ধ করে। হেলেন কেলার ‘গীতাঞ্জলি’ এবং ‘গার্ডেনার’ দুটি বই গভীরভাবে পড়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ নিজেই উৎসাহী ছিলেন হেলেন কেলারের সঙ্গে দেখা করার জন্য। রবীন্দ্রনাথকে দেখে হেলেন কেলার উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলেন। গানে, কবিতায়, আলোচনায় আসর জমে উঠল। রবীন্দ্রনাথের মুখ, ঠোঁট ও কণ্ঠ স্পর্শ করে হেলেন যেন আসলে স্পর্শ করলেন রবীন্দ্রনাথের হৃদয়কে।


পরে এই মেয়েটিই লিখবেন, “Serene. Gracious. He saluted me in a monotone. Almost like a prayer…”। রবীন্দ্রনাথকে স্পর্শ করে ‘খাঁচার পাখি’ কবিতা শুনতে শুনতে আনমনে তিনি বলেছিলেন, তাঁর পৃথিবী অন্ধকার প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। রবীন্দ্রনাথ গান শোনালেন, “আমি চিনি গো চিনি তোমারে ওগো বিদেশিনী...” আর শোনালেন, “আমি চঞ্চল হে, আমি সুদূরের পিয়াসী...”। তখন বুঝি একটি অন্ধকার ভুবনে আটকে থাকা চঞ্চল মেয়ে মনে মনে নীরবে উচ্চারণ করেছিল— “ওগো সুদূর, বিপুল সুদূর, তুমি বাজাও ব্যাকুল বাঁশরি—/কক্ষে আমার রুদ্ধ দুয়ার সেকথা যে যাই পাশরি...”। রবীন্দ্রনাথ হেলেনের কাছে সুদূর বিপুলের সঙ্গে এক হয়ে যান। রবীন্দ্রনাথের কাছে তিনটি শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছিলেন হেলেন কেলার— God, light, love! রবীন্দ্রনাথ ও হেলেন কেলার দুজনেই আলো বলতে বন্ধুত্ব বুঝতেন। হেলেন অন্ধকারে বন্ধুর হাত ধরে হাঁটতে ভালোবাসতেন। তাঁর প্রখর স্মৃতিশক্তি ছিল। ছিল ল্যাটিন, ফরাসি, জার্মান ও গ্রিক ভাষায় ব্যুৎপত্তি।


দুঃখ সহ্য করেছিলেন তিনি গীতাঞ্জলির শব্দকে আঁকড়ে ধরে। মায়ের মৃত্যুর পরেও তিনি যে ঔপনিষদিক ভাবনার খড়কুটো আগলে বাঁচলেন, তাও রবীন্দ্রনাথের শব্দের সঞ্চয় থেকেই নেওয়া। হেলেন কেলার কর্মী। তাঁর দীর্ঘজীবনে ঈশ্বরনির্ভরতা ধীরে ধীরে রবীন্দ্রনাথের প্রতি মগ্নতায় পরিণত হয়। ছায়াপথে আবার দেখা হবে, এই ইচ্ছেটুকুকে ভর করে এগিয়ে চলেছিলেন হেলেন কেলার, অন্ধকার থেকে আলোর পথে।


দুটি অসমবয়সী বন্ধুত্ব ছিল রবীন্দ্রনাথ ও হেলেন কেলারের। রবীন্দ্রনাথের ভুবন আলোর ভুবন, সেখানে এক বিস্ময় ছিলেন হেলেন কেলার। কিন্তু হেলেনের আঁধার পৃথিবীতে প্রতিদিন সূর্যোদয় হত রবীন্দ্রনাথের লেখা শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে। মনে হয় হেলেন ছিলেন এক গুপ্ত যোগী। তিনটি ইন্দ্রিয়ের দ্বার রুদ্ধ করে নীরবে করে গিয়েছেন সত্য ও সুন্দরের উপাসনা।


সময় গড়িয়ে গিয়েছে নিজস্ব নিয়মে। ভাবতে ইচ্ছে করে, যেন ছায়াপথের ওপারে বসে হেলেন নামের একটি  মেয়ে নীরবে চিঠি লিখছেন প্রিয় কবিকে— “My poet friend, Please look for me in the

 nurseries of Heaven...”


সময় স্তব্ধ হয়ে আছে।


লেখা: মহুয়া দাশগুপ্ত (১৫ নভেম্বর, ২০২২)

তথ্যসূত্র: রবীন্দ্রনাথ ও হেলেন কেলার,

              স্বপন মুখোপাধ্যায়, কোরক সাহিত্য

              পত্রিকা


                                    *******


হেলেন কেলারের একটি উক্তি—


“প্রত্যেক মানুষের‌ই মনের অতলে রয়ে গেছে সবুজ

 মাটি আর টলটলে পানির স্মৃতি। অন্ধত্ব কিংবা

 বধিরতা আমাদের পূর্ব পুরুষের দেয়া এ অধিকার

 লুট করে নিতে পারে না। উত্তরাধিকার সূত্রে লব্ধ এ

 ক্ষমতা অনেকটা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের মতো— আত্মার

 ইন্দ্রিয়, যা এক‌ই সঙ্গে দেখে, শোনে এবং অনুভব

 করে।”


শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীতও লিখেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীতও লিখেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীত ‘আপা শ্রীলঙ্কা, নম নম নম নম মাতা, সুন্দর শ্রী বরনী’র মূল রচয়িতা ও সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভাবতে অবাক লাগলেও সত্যি ঘটনা। শ্রীলঙ্কা থেকে আনন্দ সমরকুন ১৯৩০ সালে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে কলা ও সঙ্গীত বিভাগে পড়তে এসেছিলেন। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথের প্রিয় ছাত্র। ১৯৩৮ সালে তিনি গুরুদেবের কাছে তার দেশের জন্য একটি গান লিখে দেবার জন্য অনুরোধ করেন। প্রিয় ছাত্রের এই অনুরোধ ফেরাতে পারেননি রবীন্দ্রনাথ। বাংলায় লিখে দিলেন ‘নম নম শ্রীলঙ্কা মাতা’। সুর করে গানটি তুলেও দিলেন আনন্দকে। ১৯৪০ সালে বিশ্বভারতীর শিক্ষা শেষ করে কবিগুরুর এই গানটি নিয়ে দেশে ফিরে গেলেন আনন্দ সমরকুন। ১৯৪৬ সালে গানটি সিংহলিভাষায় অনুবাদ করে একটি রেকর্ড বের করলেন শ্রীলঙ্কায়। ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে শ্রীলঙ্কা স্বাধীনতা পেল ১৯৪৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।


১৯৫০ সালে নতুন দেশের জাতীয় সঙ্গীত ঠিক করার জন্য স্যার এডউইন ওয়াসজার এটনির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠিত হয়। সেই সময় আনন্দ তার অনূদিত ‘নম নম শ্রীলঙ্কা মাতা’ গানটি ওই কমিটির কাছে দেন। কমিটি ১৯৫১ সালের ২২ নভেম্বর ওই গানটিকেই শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এভাবেই প্রিয় ছাত্রকে লিখে দেওয়া কবিগুরুর মূল গানটির অনুবাদ হয়ে গেল আরও একটি দেশের জাতীয় সঙ্গীত। শ্রীলঙ্কায় রবীন্দ্রচর্চার পথিকৃৎ ছিলেন আনন্দ। সিংহলি ভাষায় তিনি বহু রবীন্দ্রসঙ্গীত অনুবাদ করেছেন। অনুবাদ করেছেন রবীন্দ্র সাহিত্য। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশনও করতেন। কবিগুরুর এই প্রিয় ছাত্র আনন্দ সমরকুন অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ১৯৬২ সালের ৫ এপ্রিল আত্মহত্যা করেন।


Rabindranath Tagore


নারী ---কাজী নজরুল ইসলাম,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 নারী

---কাজী নজরুল ইসলাম


সাম্যের গান গাই-

আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!

বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,

অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি,

অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।

নরককুন্ড বলিয়া কে তোমা’ করে নারী হেয়-জ্ঞান?

তারে বলো, আদি পাপ নারী নহে, সে যে নর-শয়তান।

অথবা পাপ যে-শয়তান যে-নর নহে নারী নহে,

ক্লীব সে, তাই সে নর ও নারীতে সমান মিশিয়া রহে।

এ-বিশ্বে যত ফুটিয়াছে ফুল, ফলিয়াছে যত ফল,

নারী দিল তাহে রূপ-রস-মধু-গন্ধ সুনির্মল।

তাজমহলের পাথর দেখেছ, দেখিয়াছে যত ফল,

অন্তরে তার মোমতাজ নারী, বাহিরেতে শা-জাহান।

জ্ঞানের লক্ষ্মী, গানের লক্ষ্মী, শস্য লক্ষ্মী নারী,

সুষমা-লক্ষ্মী নারীই ফিরিছে রূপে রূপে সঞ্চারি’।

পুরুষ এনেছে যামিনী-শানি-, সমীরণ, বারিবাহ!

দিবসে দিয়াছে শক্তি সাহস, নিশীতে হ’য়েছে বধূ,

পুরুষ এসেছে মরুতৃষা ল’য়ে, নারী যোগায়েছে মধু।

শস্যক্ষেত্র উর্বর হ’ল, পুরুষ চালাল হল,

নারী সেই মাঠে শস্য রোপিয়া করিল সুশ্যামল।

নর বাহে হল, নারী বহে জল, সেই জল-মাটি মিশে

ফসল হইয়া ফলিয়া উঠিল সোনালী ধানের শীষে।

স্বর্ণ-রৌপ্যভার,

নারীর অঙ্গ-পরশ লভিয়া হ’য়েছে অলঙ্কার।

নারীর বিরহে, নারীর মিলনে, নর পেল কবি-প্রাণ,

যত কথা তার হইল কবিতা, শব্দ হইল গান।

নর দিল ক্ষুধা, নারী দিল সুধা, সুধায় ক্ষুধায় মিলে,

জন্ম লভিছে মহামানবের মহাশিশু তিলে তিলে!

জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় অভিযান,

মাতা ভগ্নী ও বধূদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।

কোন রণে কত খুন দিল নর লেখা আছে ইতিহাসে,

কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।

কত মাতা দিল হৃদয় উপড়ি’ কত বোন দিল সেবা,

বীরের স্মৃতি-স্তম্ভের গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবা?

কোনো কালে একা হয়নি ক’ জয়ী পুরুষের তরবারী,

প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে বিজয় লক্ষ্মী নারী।

রাজা করিতেছে রাজ্য-শাসন, রাজারে শাসিছে রাণী,

রাণীর দরদে ধুইয়া গিয়াছে রাজ্যের যত গ্লানি।

পুরুষ হৃদয়-হীন,

মানুষ করিতে নারী দিল তারে আধেক হৃদয় ঋণ।

ধরায় যাঁদের যশ ধরে না’ক অমর মহামানব,

বরষে বরষে যাঁদের স্মরণে করি মোরা উৎসব,

খেয়ালের বশে তাঁদের জন্ম দিয়াছে বিলাসী পিতা,-

লব-কুশে বনে ত্যজিয়াছে রাম, পালন ক’রেছে সীতা।

নারী সে শিখা’ল শিশু-পুরুষেরে স্নেহ প্রেম দয়া মায়া,

দীপ্ত নয়নে পরা’ল কাজল বেদনার ঘন ছায়া।

অদ্ভুতরূপে পুরুষ পুরুষ করিল সে ঋণ শোধ,

বুকে ক’রে তারে চুমিল যে, তারে করিল সে অবরোধ!

তিনি নর-অবতার-

পিতার আদেশে জননীরে যিনি কাটেন হানি’ কুঠার।

পার্শ্ব ফিরিয়া শুয়েছেন আজ অর্ধনারীশ্বর-

নারী চাপা ছিল এতদিন, আজ চাপা পড়িয়াছে নর।

সে যুগ হয়েছে বাসি,

যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না ক’, নারীরা আছিল দাসী!

বেদনার যুগ, মানুষের যুগ, সাম্যের যুগ আজি,

কেহ রহিবে না বন্দী কাহারও , উঠিছে ডঙ্কা বাজি’।

নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর পর যুগে

আপনারি রচা ঐ কারাগারে পুরুষ মরিবে ভুগে!

যুগের ধর্ম এই-

পীড়ন করিলে সে পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই।

শোনো মর্ত্যের জীব!

অন্যেরে যত করিবে পীড়ন, নিজে হবে তত ক্লীব!

স্বর্ণ-রৌপ্য অলঙ্কারের যক্ষপুরীতে নারী

করিল তোমায় বন্দিনী, বল, কোন্ সে অত্যাচারী?

আপনারে আজ প্রকাশের তব নাই সেই ব্যাকুলতা,

আজ তুমি ভীরু আড়ালে থাকিয়া নেপথ্যে কও কথা!

চোখে চোখে আজ চাহিতে পার না; হাতে রুলি, পায় মল,

মাথার ঘোমটা ছিঁড়ে ফেল নারী, ভেঙে ফেল ও-শিকল!

যে ঘোমটা তোমা’ করিয়াছে ভীরু, ওড়াও সে আবরণ,

দূর ক’রে দাও দাসীর চিহ্ন, যেথা যত আভরণ!

ধরার দুলালী মেয়ে,

ফির না তো আর গিরিদরীবনে পাখী-সনে গান গেয়ে।

কখন আসিল ‘প্নুটো’ যমরাজা নিশীথ-পাখায় উড়ে,

ধরিয়া তোমায় পুরিল তাহার আঁধার বিবর-পুরে!

সেই সে আদিম বন্ধন তব, সেই হ’তে আছ মরি’

মরণের পুরে; নামিল ধরায় সেইদিন বিভাবরী।

ভেঙে যমপুরী নাগিনীর মতো আয় মা পাতাল ফুঁড়ি’!

আঁধারে তোমায় পথ দেখাবে মা তোমারি ভগ্ন চুড়ি!

পুরুষ-যমের ক্ষুধার কুকুর মুক্ত ও পদাঘাতে

লুটায়ে পড়িবে ও চরণ-তলে দলিত যমের সাথে!

এতদিন শুধু বিলালে অমৃত, আজ প্রয়োজন যবে,

যে-হাতে পিয়ালে অমৃত, সে-হাতে কূট বিষ দিতে হবে।

সেদিন সুদূর নয়-

যেদিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়!

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি বিখ্যাত ছোটগল্প রচনার পেছনের ঘটনা!,,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি বিখ্যাত ছোটগল্প রচনার পেছনের ঘটনা!


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্পকার। বাংলা ভাষায় ছোটগল্প তিনিই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর দেখানো পথেই পরবর্তী লেখকগণ হেঁটেছেন বা চেষ্টা করেছেন। এখানে রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি বিখ্যাত ছোটগল্প রচনার পেছনের ঘটনা তুলে ধরা হলো-


১. পোস্টমাস্টার

রবি ঠাকুরের অতি জনপ্রিয় একটি ছোটগল্প ‘পোস্টমাস্টার’। আপনারা অনেকেই জানেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে তাঁর একটি কাচারি বাড়ি ছিল। এই কাচারি বাড়ির একতলাতে একটা পোস্ট অফিস ছিল। সেখানকার পোস্টমাস্টার মহাশয়ের সাথে রবি ঠাকুরের প্রায় প্রতিদিন দেখা হতো এবং তাদের মধ্যে অনেক কথাবার্তা, গল্প-গুজব হতো। কবিগুরু প্রায় প্রতিদিন দিনের বা রাতের কোনো একটা সময় পোস্টমাস্টার সাহেবের সাথে কাটাতেন। মূলত এই পোস্টমাস্টার মহাশয়ের জীবনের নানা কাহিনি অবলম্বনেই তিনি এই গল্পটি লেখেন। 


২. কংকাল

ছোটবেলায় কবি যে ঘরে শুতেন সেখানে একটা মেয়ে মানুষের skeleton ঝুলানো ছিল। সে সময় তাঁর তেমন একটা ভয়-টয় করত না। পরিণত বয়সে একদিন বাড়িতে অতিথি সমাগম হওয়াতে তাকে বাইরে শোবার দরকার পড়েছিল। অনেকদিন পরে সেই ঘরে তিনি আবার শুয়েছেন। শুয়ে তাঁর মনে হতে লাগল, সেজের আলোটা ক্রমে কাঁপতে কাঁপতে নিভে গেল। তাঁর আরও মনে হতে লাগল, কে যেন মশারির চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর বলছে ‘আমার কংকালটা কোথায় গেল’, ‘আমার কংকালটা কোথায় গেল’? ক্রমে মনে হতে লাগল সে দেয়াল হাতড়ে বন বন করে ঘুরতে আরম্ভ করেছে। এভাবেই তাঁর মাথায় এসে গেল এই ‘কংকাল’ গল্পটা।


৩. জীবিত ও মৃত

কবিগুরুর ভোররাতে উঠে অন্ধকার ছাদে ঘুরে বেড়ানোর অভ্যাস ছিল। তেমনি একদিন রাত্রে ঘুম ভেঙ্গে যেতেই তিনি উঠে পড়লেন, ভেবেছিলেন উঠার সময় হয়েছে, আসলে তখন গভীর রাত। অভ্যাশবসত তিনি হাঁটতে লাগলেন। সব ঘরের দরজা বন্ধ। সব একেবারে নিরব, নিঝুম। খানিক পড়েই ঢং ঢং করে দুটো বাজার ঘণ্টা পড়ল। তিনি থমকে দাঁড়ালেন, ভাবলেন- তাই তো, এই গভীররাত্রে আমি সারা বাড়িময় এমন করে ঘুরে বেড়াচ্ছি। হঠাত তাঁর মনে হল তিনি যেন প্রেতাত্বা, এ বাড়ি হান্ট করে বেড়াচ্ছেন। তিনি যেন মোটেই তিনি নন, তাঁর রুপ ধরে বেড়াচ্ছেন মাত্র। এই আইডিটাই তাকে পেয়ে বসল, যেন একজন জীবিত মানুষ সত্যসত্যই নিজেকে মৃত বলে মনে করছে। এভাবেই ’জীবিত ও মৃত’ গল্পের সৃষ্টি।


৪. ক্ষুধিত পাষাণ

কবির মতে, ‘ক্ষুধিত পাষাণের কল্পনা কল্পলোক থেকে আমদানি’। তবে তাঁর এই কল্পনার পেছনেও একটি কাহিনি আছে। কবি বিলেত যাওয়ার আগে তাঁর মেঝদাদার কর্মস্থল আহমেদাবাদ গিয়েছিলেন। তাঁর বড় ভাই জজিয়তি করতেন। আহমেদাবাদের জজের বাসা ছিল শাহিবাগে, বাদশাহী আমলের রাজবাড়িতে। দিনের বেলায় তাঁর মেঝদাদা চলে যেতেন কাজে, তখন তাঁর মনে হতো, বড়ো বড়ো ফাঁকা ঘর হাঁ হাঁ করছে, সমস্ত দিন ভূতে পাওয়ার মতো ঘুরে বেড়াতেন তিনি। বাড়ির সামনে প্রকাণ্ড চাতাল, সেখান থেকে দেখা যেত সাবরমতি নদী (গল্পের ‘শুস্তা’ নদী)। তাঁর মতে, কোলকাতার মানুষ হিসেবে ইতিহাসের মাথা তোলা চেহারা কোথাও তিনি দেখেননি। আহমেদাবাদ এসে তিনি প্রথম দেখলেন চলতি ইতিহাস থেমে গিয়েছে, দেখা যাচ্ছে তার পিছন-ফেরা বড়োঘরোআনা। তাঁর সাবেক দিনগুলো যেন যক্ষের ধনের মতো মাটির নিচে পোঁতা। তাঁর মনের মধ্যে প্রথম আভাস দিয়েছিল ক্ষুধিত পাষাণের গল্প।


৫. ছুটি

এটাও শাহজাদপুরে কাচারিবাড়ি বসে লেখা রবীন্দ্রনাথের আরো একটি অনবদ্য ছোটগল্প। তখনকার যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম বাহন ছিল নৌকা। তিনিও নৌকাযোগেই তাঁর কাচারি বাড়িতে তাঁর জমিদারী দেখাশোনা করতে আসতেন। এমনি একদিন ওই রকম নৌকা ঘাটে ভিড়িয়েছেন। নদীর তীরে গ্রামের অনেক ছেলে খেলা করতে এসেছে। তার মধ্যে সর্দার গোছের একটি ছেলে ছিল। অনেক ডানপিটে স্বভাবের ছিল সে। তার কাজই হলো, এ-নৌকা ও-নৌকা করে বেড়ানো, মাঝিদের কাজ দেখা, মাস্তলের পাল গোটানো দেখা ইত্যাদি। তীরে অনেকগুলো গুড়িকাঠ গাদা-করা অবস্থায় ছিল। মাঝে ছেলেটি তড়াক করে নৌকা থেকে এই কাঠগুলি গড়িয়ে গড়িয়ে নদীতে ফেলতে আরম্ভ করলে। কিন্তু তার আমোদের পথে একটা বিঘ্ন এসে উপস্থিত হল। একটি ছোট মেয়ে এসে গুড়ি চেপে বসল। ছেলেটি তাকে উঠাবার চেস্টা করলে, কিন্তু মেয়েটি তা গ্রাহ্যও করলে না। তখন ছেলেটি তাকে সুদ্দই গুড়িটি উলটে দিলে। মেয়েটি পড়ে গিয়ে বিকট কান্না জুড়ে দিলে, এবং কাঁদতে কাঁদতে উঠেই ছেলেটিকে কষে এক চড় লাগালো। এই ঘটনা থেকেই ‘ছুটি’-র শুরু। সৃষ্টি হলো অন্যতম সেরা একটি গল্পের। এই গল্পে ফটিকের ‘ছুটি’ হয়েছিল চিরতরে।


তথ্যসংগ্রহ: ইন্টারনেট


ফেইসবুক থেকে নেওয়া 


ফেইসবুক থেকে নেওয়া হয়েছে

 আমি তখন কুড়ি বছরের তরুণী। পরিবার থেকে আমার বিয়ে ঠিক করা হলো পঞ্চাশ বছরের এক বয়স্ক লোকের সাথে। আমার বয়সের তিনগুন বয়স তার। আবার তিনি ছিলেন বিপত্নীক। আর আমি সদ্য প্রস্ফুটিত ফুল। কুমারীত্বের গন্ধ সবে তীব্র হতে শুরু করেছে।


নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার জন্ম। বাবার সামান্য আয়ে আমাদের সংসার চলত। আমার মা কখনো অভিযোগ করেন নি। দুবেলা দু'মুঠো খেয়ে স্বামীর সাথে থাকতে পারাটাই তার কাছে ছিল সুখের সংজ্ঞা। শুনেছি একবার নাকি বাবার বিলেত যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল।

 মা নাছোড়বান্দা। তিনি দুবেলা পান্তা খাবেন। তবুও স্বামীকে দূরে পাঠাবেন না! এতে আয় কম হলে হোক। পেটে কিছু পড়লেই হলো। 

আমিও মার মতোই স্বপ্ন দেখতাম। অল্প রোজগারে সাজানো সংসার। অভাব থাকলে থাকবে। তবে ভালোবাসা থাকতে হবে অফুরন্ত। 

আমার বেলায় তাদের মত পাল্টে গেল। বিত্তশালী এক লোকের সাথে তারা আমার বিয়ে দিয়ে দিল। ওনার আগের বৌয়ের দুটো বাচ্চাও আছে। 

বাসর রাতে লোকটি শান্ত মেজাজে আমার পাশে এসে বসে। নাক সিটকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিই। মনে মনে "বুড়ো" বলে গালিও দিই। বিষয়টা বুঝতে পেরে উনি বলেন:-  আমি জানি, আমাকে তোমার পচ্ছন্দ নয়। আমার রঞ্জনের জন্য আমি বিয়েটা করি নি। বাচ্চা দুটো খুব মা কাতুরে জানো? কমলা মরে যাওয়ার পর সবসময় ওরা মাকে খুঁজে বেড়ায়। মায়ের জন্য কাঁদে। আমি তোমার কাছে স্বামীর অধিকার চাইতে আসি নি। তবে অনুরোধ করে বলছি বাচ্চা দুটোকে আগলিয়ে রেখো। 

কঠিন স্বরে তাঁকে বলি:- আপনার বাচ্চাদের আমি খেয়াল রাখবো তবে আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। আর আমি বাচ্চাদের নিয়ে আলাদা ঘরে থাকবো। সেই ঘরে আপনি যেতে পারবেন না। 

উনি হেসে বললেন:- বেশ। তুমি যা চাইবে তাই হবে। এখানে তুমি নিরাপদেই থাকবে। 

শুধু এটুকু বলেই লোকটি ঘর থেকে বেরিয়ে যান। আমি অবাক হয়ে চেয়ে দেখি তার প্রস্থানের পথ।


বুড়োকে আমার সহ্য হতো না ঠিক, তবে তার বাচ্চা দুটো খুব দ্রুত আমার মনে বিশালাকারে জায়গা করে নেয়। গর্ভে ধারন না করেও যে মা হওয়া যায় তার বাস্তব প্রমাণ ছিল তারা। কলেজ থেকে যখন বাড়ি ফিরতাম, দীর্ঘ তিন ঘন্টা পর আমায় দেখতে পেয়ে তারা কি যে খুশি হতো! "মা" ডাকের স্বমসুরে তারা আমার তৃষ্ণার্ত প্রাণ ভিজিয়ে দিত। 


একবার প্রচন্ড জ্বরে কাতরাচ্ছিলাম। বুড়ো খুব উসখুস করছিল। অস্থিরতা নিয়ে আমার ঘরের দরজার সামনে অনবরত পায়চারি করছিল। 

তার ভেতরে ঢোকা বারণ। বাচ্চা দুটোর একজনের হাতে ওষুধ আরেকজনের হাতে জল ভর্তি বাটি দিয়ে ফিসফিস করে বলেছিল:-  মার জ্বর হয়েছে। মাকে ওষুধ খাইয়ে জলপট্টি দিয়ে দাও। যাও। 

বাধ্য ছেলেমেয়ের মতো তারা আমার মাথায় জলপট্টি দিয়ে দিয়েছিল। গুটি গুটি হাত জোড়ায় ভাত মেখে আমায় খাইয়ে দিয়েছিল!

আর বুড়ো? দরজার সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল। হয়তো ভাবছিল, কখন ওপর মহল থেকে অনুমতি প্রদান করা হবে,

" ভেতরে আসতে পারেন!! "

বুড়োর ঘর পেরিয়ে আমাকে রান্নাঘরে যেতে হতো। প্রায় সময়ই দেখতাম তিনি তার প্রথম স্ত্রীর ছবির সামনে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছেন। হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখছেন। প্রথম দিকে বিষয়টা ভালো লাগলেও পরেরদিকে খুব রাগ হতো। কেনো হতো বুঝতে পারতাম না।


পুজোর আগের দিন আমি রান্না ঘরে পায়েস রান্না করছিলাম। বাচ্চা দুটো বায়না করেছে তারা গুড়ের পায়েস খাবে। আমিও উৎফুল্ল মনে আমার বাচ্চাদের জন্য রাঁধছি। এমন সময়, মানুষটা রান্নাঘরের সামনে এসে দাঁড়ালো। হাতে বেশ বড়সড় বাদামী রঙের একটা প্যাকেট। উনি সামান্য ঝেড়ে কেশে বললেন:- এটা তোমার জন্য। 

আমি বললাম:- কি আছে এতে ?

_ কাজ শেষ করে খুলে দেখো। আশাকরি তোমার পছন্দ হবে। এই টেবিলের ওপর প্যাকেটটা রেখে গেলাম। 

উনি চলে গেলেন। আমি রান্না শেষ করে প্যাকেট হাতে নিজের ঘরে চলে এলাম। খুলে দেখি খুব দামী একখানা শাড়ি। সাথে একখানা চিরকুট ও আছে। তাতে লেখা, " তোমায় নীল আর সাদায় বেশ মানাবে। জানি আমার জোর করার অধিকার নেই। তবুও আগামীকাল শাড়িটা পরলে খুব খুশি হবো। "

শাড়িটা আমার পছন্দ হয়নি। কিন্তু চিরকুটের কথাগুলো আমায় বাধ্য করেছিল পূজোর দিন শাড়িটা পরতে। বুড়ো সেদিন গভীর চোখে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। অনেকবার চোখে চোখ পড়েছে। লজ্জায় সে অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছে ঠিকই কিন্তু পুনরায় তাকানোর লোভ উপেক্ষা করতে পারে নি।


প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত লোকটির চিলেকোঠার ঘরের টেবিল ল্যাম্প জ্বলতো। ধূসর রঙের এক ডায়রির ওপর সে মুখ থুবড়ে পরে থাকত। বিরামহীনভাবে কিছু না কিছু লিখে যেত। আর লেখা শেষে, চশমা খুলে চোখ জোড়া কচলিয়ে যত্ন করে ডায়রি তুলে রাখত। যেন কোনো মূল্যাতীত বার্তা রাখা আছে সেখানে।


বুড়োর চায়ের নেশা ছিল। একদিন বিকেলে অসাবধান বশত চায়ের সসপেন ফসকে গরম জল আমার হাতের কিছু অংশে পড়ে। যন্ত্রণায় চেঁচিয়ে উঠি। তিনি আমার চিৎকার শুনতে পান। উন্মাদের মতো ছুটে আসেন। 

_ কি হয়েছে ?

_ হাতে গরম জল পড়েছে। 

_ কই দেখি ?

তিনি উদ্বিগ্ন মুখে এগিয়ে আসেন। আমার হাত ধরেন। সেই স্পর্শে কোনো চাহিদা ছিল না। 

কোনো আকাঙ্ক্ষা ছিল না। তবে মিশে ছিল অনুরাগ। না বলা অনেক অনুরক্তি। সেদিন তিনি আমার হাতে বার্নল লাগিয়ে দিয়েছেন। আমি কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করি নি। মানুষ বেঁচে থাকলে বদলায়। আমিও মানুষ। এ নিয়ম অবজ্ঞা করার সাধ্যি কি আমার আছে ?


Blessings are not valued till they are gone. প্রচলিত সত্যি। দাঁত থাকতে মানুষ দাঁতের মর্যাদা বোঝে না। মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কখনো কখনো এতটাই দেরী করে ফেলে, ফলাফল হয় শূন্য। 

বেশ কয়েকদিন ধরেই বুড়ো তীব্র মাথা ব্যাথার যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। রাতে ঘুমোতে পারেন না। অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে বললাম ডাক্তার দেখাতে। উনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,

_ তুমি যাবে আমার সাথে ?

_ যাবো।

বুড়ো খুশি হয়ে গেলেন। আমি ওনার সাথে ডাক্তারের কাছে গেলাম। সিটিস্ক্যান করা হলো। এম আর আই করা হলো। ডাক্তার আমায় আলাদা করে ডেকে বললেন:- রোগীর ব্রেইন টিউমার হয়েছে। টিউমারের অবস্থা ভালো নয়। চিকিৎসা করিয়ে বিশেষ কোনো লাভ হবে না। 

_ চেষ্টা করতে তো কোনো দোষ নেই। আপনি ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে রোগীকে আজই ভর্তি করা হোক। 

ডাক্তারের সাথে কথা বলে বাইরে বেরিয়ে আসি। বুড়ো আমায় দেখে ফ্যাকাসে হাসলো। আমি ধীর পায়ে টলতে টলতে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার বিবাহিত জীবনে সেদিনই প্রথম তাকে জড়িয়ে ধরি। দুই বাহু প্রসার করে জড়িয়ে ধরি। আমার চোখ দিয়ে অজস্র ধারা সেদিন টপ টপ করে ঝরে পড়ছিল।

ডাক্তারের সকল চেষ্টা আর আমার প্রার্থনা দুটোই বিফলে যায়। শাস্তিস্বরূপ উপরওয়ালা বুড়োকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নেয়।


সেদিন আকাশে শ্রাবণের মেঘ ছিল। শঙ্খচিল ডানা ঝাপটে উড়ে বেড়াচ্ছিল নীল আকাশে। মেঘের ফাঁকে উঁকি দেওয়া রোদের তীব্রতা ছিল না। বুড়োর চিলেকোঠার ঘরের জানালা খোলা ছিল। বাতাসের তীব্রতায় খুলে গেছিল ডায়রির পাতা। সেটি হাতে নিয়ে আমি পড়তে শুরু করি। পড়তে পড়তে আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। ডায়রির শেষ পাতায় শুকিয়ে যাওয়া চোখের জলের ওপর লিখা ছিল..

_" মানুষ প্রেমে পড়ে। 


বারবার প্রেমে পড়ে। 


আমায় দেখে তরূণীর নাক সিটকানোর স্বভাব 


আমায় বাধ্য করে তাকে ভালোবাসতে। 


রান্নাঘরে কর্মরত তরূণীর কপালে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘাম, 


আমায় বাধ্য করে প্রেমে পড়তে। 


নীল-সাদা শাড়িতে তার স্নিগ্ধ মুখখানি 


যেন আমার চোখের মনি। 


হয়তো একদিন ফুরিয়ে যাবে আয়ূ। 


তার হাত ধরে জোৎস্না দেখার ইচ্ছেটা ইচ্ছেই থেকে যাবে। 


তার দীঘল কালো চুলের ঘ্রাণ নেওয়া আর হবে না। 


লুকিয়ে তার রোদে ভেজা 


সেই মুখ আর দেখা হবে না। 


আমার বাচ্চাদুটোর সাথে তার খুনসুটি, 


সেই মূল্যবান মুহূর্ত গুলো আর উপভোগ করা হবে না। 


জানি, তার চোখে আমি অপরাধী। 


তবু সে ভালো থাকুক! 


নতুন করে বেঁচে উঠুক তার স্বপ্নেরা। 


শুধু আফসোস থেকে যাবে, 


ভালোবাসি - কথাটা হলো না বলা।"


আকাশ কাঁপিয়ে সেদিন আরো একবার কেঁদেছিলাম। চিৎকার করে বলেছিলাম,

আর বুড়ো বলবো না, তোমায়। 

শুধু একবার ফিরে এসো! 

একবার সুযোগ দাও ভালোবাসার। 

সে আর ফিরে আসে নি। 

মৃত মানুষ কখনো ফিরে আসে না

সংগৃহীত পোষ্ট❤️❤️❤️❤️❤️❤️ ( রিপোষ্ট)❤️


সেদিনের এক সিদ্ধান্তে আমার জীবনে শুরু হলো টাকা জমানো,,,, ইসলাম ও জীবন ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সেদিনের এক সিদ্ধান্তে আমার জীবনে শুরু হলো টাকা জমানো


বিয়ের ৪ বছর পেরিয়ে গেছে। তানহাকে খুব সাধারণভাবে বিয়ে করে বাড়িতে এনেছিলাম। এতোদিন পেরিয়ে গেলেও তাকে এখনও কোন দামী উপহার দিতে পারিনি। কিন্তু গতকাল রাতে বদলে গেছে পুরো দৃশ্যপট। ২ বছর আগে নেয়া এক সিদ্ধান্তে আজ একটি বড় উপহার দিতে পেরেছি আমার স্ত্রী’কে।


শুক্রবারের সন্ধ্যা। পুরো শহরে ছুটির আমেজ। নিতান্ত মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে তানহাকে সেদিন রঙিন ঢাকা শহর ঘুরিয়ে দেখালাম। বড় বড় শপিংমলে ঘুরলাম, মুখরোচক খাবার খেলাম দুজন। শেষে বাসায় ফেরার আগে তাকে নিয়ে ঢুকলাম একটি জুয়েলারির দোকানে। তানহা তো অবাক! আমাকে জিজ্ঞেস করলো, “এখানে কেন?”


তানহাঃ এখানে এনেছ কেন?

আমিঃ আজ আমার খুশির দিন, তাই।

তানহাঃ খুশির দিন বলে তো অনেক ঘুরলাম, খেলাম। এখানে কী কাজ?

আমিঃ তোমার জন্য একটা উপহার আছে।

তানহাঃ আমার আবার উপহার! ইনকাম তো বাড়েনি তোমার। তাহলে কীভাবে?

আমিঃ আরে সে গল্প যেতে যেতে বলবো। এখন কি নিবে সেটা বলো। 

তানহাঃ তোমার চোখে যেটা আমাকে মানায় সেটা কিনে দাও।


সব দেখেশুনে একটা ‘নাকফুল’ কিনে দিলাম তানহাকে। খুব অবাক হল সে। রিকশায় করে দুজন ফিরছি। তানহা জিজ্ঞেস করলো টাকা কোথায় পেয়েছি। আমি বললাম পুরো কাহিনীটা।


আমার অনলাইন ব্যবসায় বেশিরভাগ পেমেন্টই আসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। দীর্ঘদিন ধরে আমি আমার আগের একাউন্ট থেকে ক্যাশআউট করলে প্রতি হাজারে ১৮.৫০ টাকা কাটতো। আমার এই খরচ দেখে শৈশবের বন্ধু জোবায়ের আমাকে বেকুব বলেছিল। আর চিনিয়েছিলো নগদকে। যে নগদে ক্যাশ আউট চার্জ হাজারে মাত্র ১২.৫০ টাকা। যেখানে প্রতি হাজার লেনদেনে আমার সেভ হয় ৬.৫০ টাকা। এভাবে দুই বছর ধরে আমার ব্যবসার বাড়তি লাভের টাকা দিয়ে আজ তানহাকে নাকফুলটি কিনে দিয়েছি। এই গল্প যখন ওকে বলছি, ও আমার কাঁধে মাথা রেখে বাহুটা শক্ত করে ধরে আছে। এখন খুব বোধদয় হচ্ছে, যদি আরও আগে থেকে নগদে লেনদেন করতাম, তাহলে আজ ওকে আরও দামি কোন উপহার দিতে পারতাম। তবে আফসোস নেই আর। বরং ২ বছরের মধ্যে যে উপহার দিয়েছি তাতেই আমি নগদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ নগদ, তোমার কম ক্যাশআউট চার্জের কারনেই, আমি টাকা বাঁচিয়ে তানহাকে আজ একটি দামী উপহার দিতে পেরেছি।



ভূমি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর সহজ ব্যাখ্যা,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 📚 ভূমি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর সহজ ব্যাখ্যা 🏡📜 ভূমি কেনাবেচা, নামজারী বা খতিয়ান নিয়ে কাজ করার আগে নিচের বিষয়গুলো জানা খুবই জরুর...