এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৪

পেঁপে চাষাবাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা।,,,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 পেঁপে চাষাবাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা।


১। পেঁপে চাষের জন্য বন্যামুক্ত  উচু জমি যেখানে বৃষ্টির পানি জমে না সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা আছে এমন রোদ্রউজ্জ্বল জমি নির্বাচন করতে হবে। 


২। পেঁপে বীজ অবশ্যই শোধন করে চারা করতে হবে। 


৩। জমিতে রোপণ করার পূর্বে  চারার বয়স  হতে হবে ৪৫/৬০ দিন তবে রাসায়নিক সার দিয়ে চারা করা জাবে না। 


৪। পলিথিন ব্যাগে চারা তৈরি করলে রোপণের পর চারা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ৫X৪ ইঞ্চি . আকারের ব্যাগে সমান পরিমাণ বালি, মাটি ও পচা গোবরের মিশ্রণ ভর্তি করে ব্যাগের তলায় ২-৩টি ছিদ্র করুন।


৫। প্রতি গাছে ১৫ কেজি জৈব সার, ৫৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার, ৫৫০ গ্রাম টিএসপি সার, ৫৫০ গ্রাম এমওপি সার, ২৫০ গ্রাম জিপসাম সার, ২৫ গ্রাম বোরাক্স সার এবং ২০ গ্রাম জিংক সালফেট সার একত্রে ভালভাবে প্রয়োগ করতে হয়।  ইউরিয়া ও এমওপি সার ছাড়া সব সার গর্ত তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে। চারা লাগানোর পর গাছে নতুন পাতা আসলে ইউরিয়া ও এমওপি সার ৫০ গ্রাম করে প্রতি ১ মাস পর পর প্রয়োগ করতে হয়। গাছে ফুল আসলে এ মাত্রা দ্বিগুণ করতে হবে। ফল তোলার ২ মাস আগে সার দেয়া বন্ধ করতে হবে।


৬। পেঁপের ড্যাম্পিং অফ রোগ দমনে অতিরিক্ত পানি বের করার ব্যবস্থা করুন। গোড়ায় ছাই ছিটিয়ে রাখতে পারেন।লাগানোর প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন: এমকজিম অথবা ৪ গ্রাম ট্রাইকোডারমা ভিরিডি মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট ধরে বীজ শোধন করে নিন।


৭। পেঁপে বাগানে পরিমাণ মতো সেচ ও পানি নিষ্কাশন  সাথে আগাছা দমন করতে হবে নাহলে উপরের কাজ গুলো সঠিক মতো করলেও কাংখিত ফলন পাওয়া যাবে না।



বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০২৪

কোলগেটে দাঁত না মাজলে যাদের দিন ই শুরু হয়না তাদের জন্য,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 কলগেটে দাঁত না মাজলে যাদের দিন‌ই শুরু হয় না তাঁদের জন্য।

কলগেট জিনিসটা আগে মাজন ছিল না, ছিল সাবান। কি ভাবছেন, ছিল সাবান, হয়ে গেল টুথপেস্ট? না না, একটা লোকের পদবি ছিল কলগেট। ইংল‍্যাণ্ডের লোক ছিলেন রবার্ট কলগেট ( ১৭৫৮ - ১৮২৬)। তাঁর বৌয়ের নাম ছিল সারা বাউলস। রবার্ট সাহেব ছিলেন কৃষিজীবী মানুষ। কিন্তু তাঁর দোষ ছিল তিনি পলিটিক্স নিয়ে ভাবতে ভালবাসতেন। তিনি ফরাসি বিপ্লবের গুণগ্রাহী ছিলেন আর আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের সমর্থক। এই অপরাধের দরুণ ইংল্যান্ডের বুকে আর তাঁর থাকার সুবিধা হল না। দূর দূর করে তাড়িয়ে দেওয়া হল। তাড়া খেয়ে চাটিবাটি গুটিয়ে রবার্ট সাহেব বৌ বাচ্চা সমেত পাড়ি দিলেন আমেরিকায়। সেখানে মেরিল্যান্ড প্রদেশের বাল্টিমোরে ঠাঁই নিলেন। সেটা ১৭৯৮ এর মার্চ মাস। ওখানে তিনি আরেকটি লোকের সঙ্গে পার্টনারশিপে সাবান আর মোমবাতি তৈরির কারখানা ফাঁদলেন। পরে চলে গেলেন নিউ ইয়র্কের ডেলাওয়ার কাউন্টিতে। পার্টনারশিপ কারবার দু বছরের বেশি টিঁকল না। তারপর তাঁর ছেলে উইলিয়াম কলগেট একটা সাবান তৈরির কারখানায় শিক্ষা নবিশিতে লাগলেন। সেটা ১৮০৪। এই উইলিয়াম কলগেট (২৫ জানুয়ারি, ১৭৮৩ - ২৫ মার্চ, ১৮৫৭) গোড়াপত্তন করলেন কলগেট পামোলিভ কোম্পানির। ১৯৫০ এর দিকে কপিরাইটার অ্যালিসিয়া টোবিন বিজ্ঞাপন করেছিলেন It Cleans Your Breath While It Cleans Your Teeth"। আর ক্রমেই দাঁতের মাজন হিসেবে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল কলগেট। এমনকি অতি সাধারণ মানুষের কাছে কলগেট হয়ে গেল দাঁতের মাজনের প্রতিশব্দ।

এখন কলগেট পামোলিভ একটা বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ এ জানা গিয়েছে চৌত্রিশ হাজার কর্মচারী এই সংস্থায় বেতনভুক হিসেবে কাজ করে। এই কোম্পানির নেট আয় ২.৩০ বিলিয়ন ডলার, আর এদের সম্পত্তির মোট অর্থমূল‍্য হল ১৬.৪ বিলিয়ন ডলার। কলগেট পামোলিভ কোম্পানির হেড কোয়ার্টারের ঠিকানা হল ৩০০, পার্ক অ্যাভিনিউ, মিডল টাউন, ম‍্যানহাটান, নিউ ইয়র্ক, ১০০২২, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। 

আজ থেকে ২১৮ বছর আগে ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম কলগেট সাবান আর বাতি তৈরির   ব‍্যবসা ফাঁদেন। তার চৌদ্দ বছর পর তিনি সাবান তৈরির কারখানা খুললেন। গোড়ায় অবশ‍্য তিনি একটা সাবান তৈরির কারখানায় বয়লার ঘরে শিক্ষা নবিশ হিসাবে কাজ শিখেছিলেন। আজ থেকে ১৫১ বছর আগে ১৮৭৩ এ উইলিয়াম কলগেট মারা যাবার অনেকদিন পর কাচের জারে করে সুগন্ধি টুথপেস্ট বিক্রি শুরু করে কলগেট। ১৮৯৬ তে সেই টুথপেস্ট টিউবে ভরে বিক্রি করা শুরু হল। 

গোড়ায় পামোলিভ বলে কিছু ছিল না। ১৮৯৮ তে পাম তেল আর অলিভ তেল থেকে সাবান তৈরির ফরমূলা তৈরি করলেন বারডেট জে জনসন। তিনি উইসকনসিন প্রদেশের মিলাওয়াকিতে পামোলিভ নামে কারবার ফা়ঁদলেন। ১৯২৮ এর পহেলা জুলাই কলগেট আর পামোলিভ আর পীট একজোট হল। আর ১৯৫৩ তে কারবারের নাম হল কলগেট পামোলিভ।

কলগেটের গোড়াপত্তন করেছিলেন যিনি, সেই উইলিয়াম কলগেটের আজ মৃত্যুদিন।  ছবিটি কলগেটের মৃত্যুর অনেক পরে আঁকা।



সকাল ০৭ টার সংবাদ  তারিখ : ২৭-০৩-২০২৪ ।,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সকাল ০৭ টার সংবাদ 

তারিখ : ২৭-০৩-২০২৪ ।


আজকের শিরোনাম:


যথাযথ মর্যাদায় ৫৪তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন - জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সফররত ভুটানের রাজার গভীর শ্রদ্ধা। 


ধানমন্ডিতে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন শেখ হাসিনা।


স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী ও ভুটানের রাজার যোগদান - আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ভুটানের যৌথ উদ্যোগের ওপর রাষ্ট্রপতির গুরুত্বারোপ।


ভুটানের রাজার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শন - বাংলাদেশের আদলে সেদেশে অত্যাধুনিক বার্ন হাসপাতাল নির্মাণের আগ্রহ ।


অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের সাথে অংশীদার হতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত-স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের শুভেচ্ছা বার্তায় বললেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্টনি জে. ব্লিনকেন।


জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব পাস সত্ত্বেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত।


আজ ঢাকায় তৃতীয় ও শেষ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মোকাবেলা করবে  বাংলাদেশ নারী দল।

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 

মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০২৪

সকাল ০৭ টার সংবাদ  তারিখ : ২৬-০৩-২০২৪ ।

 সকাল ০৭ টার সংবাদ 

তারিখ : ২৬-০৩-২০২৪ ।


আজকের শিরোনাম:


আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস - নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছে জাতি। 


ভোরে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে দেশের বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। 


স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সকল ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিতে দেশবাসীর সহযোগিতা চাইলেন শেখ হাসিনা।


জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।


শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন সফররত ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক - বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।


গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস।


ঢাকায় বিশ্বকাপ ফুটবল বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডের ফিরতি ম্যাচে আজ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেলবে ফিলিস্তিন ।

সকাল ০৭ টার সংবাদ  তারিখ : ২৫-০৩-২০২৪ ।

 সকাল ০৭ টার সংবাদ 

তারিখ : ২৫-০৩-২০২৪ ।


আজকের শিরোনাম:


আজ ভয়াল ২৫শে মার্চ, গণহত্যা দিবস - ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানী বাহিনী বাঙালি নিধনে শুরু করে “অপারেশন সার্চলাইট”। 


পাঁচ দিনের সফরে আজ ঢাকায় আসছেন ভুটানের রাজা - তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা।


গাজায় হত্যাকাণ্ড বন্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেয়া দুঃখজনক - ফিলিস্তিনের ক্ষমতাসীন ফতেহ আন্দোলনের মহাসচিব সৌজন্য সাক্ষাতে এলে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


ঈদ সামনে রেখে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হল ৭টি ফ্লাইওভার - বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে এখন যোগাযোগ আরো স্বস্তিদায়ক ও সহজ হবে - বললেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী।


জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাকে উত্তর গাজায় ত্রাণ সহায়তা দিতে বাধা ইসরায়েলের।


সিলেট টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আজ চতুর্থ দিনে ৫ উইকেট হাতে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামবে বাংলাদেশ।


সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০২৪

লিচুর ফল ঝরে যাওয়া সমস্যা‌।

 লিচুর ফল ঝরে যাওয়া সমস্যা‌।


লক্ষণ:


* ফল ঝরা লিচুর সাধারণ সমস্যা, ফল ধরার পর থেকে শুরু করে ফল পরিপক্কতা হওয়া পর্যন্ত ফল ঝরা চলতে থাকে।


* ফল বাদামী থেকে কাল রং ধারণ করে।


* গুটি অবস্থায় ফল ঝরে পড়ে অর্থাৎ ফল ধরার ২-৪ সপ্তাহ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ফল ঝরে।


কারণ: 


ছত্রাক, খরা/দীর্ঘ সময় আবহাওয়া শুষ্ক হলে, শারীরবৃত্তীয় কারণে ও গাছে পুষ্টির ঘাটতি/হরমোনের অভাব থাকলে ফল ঝরে পড়তে পারে ।


সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা:


* শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করলে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে।


* মাটিতে জৈব সার সহ সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে।


* ফল মটর দানা এবং মার্বেল আকার অবস্থায় প্রোটোজিম/প্লানোফিক্স/ফ্লোরা/মিরাকুলান/লিটোসেন/বাম্পার/বলবান এর যে কোন একটি অনুমোদিত মাত্রায় পানির সাথে মিশিয়ে  স্প্রে করতে হবে।


* গুটি বাধার পর জিংক সালফেট প্রতি লিটার পানিতে ১০ গ্রাম হারে মিশিয়ে পর পর ৩ সপ্তাহ গাছে স্প্রে করলে ফল ঝরা ও ফল ফাটা বন্ধ হয় এবং ফলের আকৃতিও বড় হয়। রোগ ও পোকার আক্রমণ প্রতিহত করতে হবে।



রাস্তার ধারে 'মমি' এবং পিরামিড থেকে পাওয়া (বা চুরি করা) জিনিষ বিক্রয় করছেন এক স্থানীয় মিশরীয় বিক্রেতা। কায়রো, মিশর। ১৮৭৫ সালের ছবি।

 🔺রাস্তার ধারে 'মমি' এবং পিরামিড থেকে পাওয়া (বা চুরি করা) জিনিষ বিক্রয় করছেন এক স্থানীয় মিশরীয় বিক্রেতা। কায়রো, মিশর। ১৮৭৫ সালের ছব

(ছবি সৌজন্যে - ব্রিটিশ লাইব্রেরী, ইউনাইটেড কিংডোম।)


'মমি বিক্রি', এই শব্দবন্ধটি পড়ে অবাক লাগলেও, এটি একসময় মিশরে খুবই সাধারণ বিষয় ছিল। আর এই বিক্রিবাটা হত রাস্তার ধারে এবং খোলা বাজারে। খ্রিস্টীয় ১৯ শতকে ধনী ইউরোপীয়ান এবং আমেরিকান ভ্রমনার্থীদের নিকট "ভ্রমণ স্মারক" (tourist souvenirs) রূপে 'মমি' বিক্রি মিশরের প্রায় সর্বত্র হত এবং এটি খুবই সাধারণ বিষয় ছিল। নীচে ছবিতে যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমন ভাবেই রাস্তার ধারে বা খোলা বাজারে এগুলো বিক্রি করা হত মিশর ভ্রমণকারীদের জন্য, যাতে তাঁরা এগুলো নিজেদের দেশে, নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেন।


ভিক্টোরিয়ান যুগে, ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নের মিশর বিজয়, ইউরোপ ও ইউরোপীয়ানদের কাছে মিশর এবং মিশরের ইতিহাসের বন্ধ থাকা দরজা খুলে দিয়েছিল। সেই সময়ে ইউরোপীয়ান এলিট সমাজে মমি কে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হত না। খ্রিস্টীয় ১৮ শতকে, মিশরের রাস্তার ধার ও বাজার থেকে কেনা মমিগুলোকে ইউরোপে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে 'মজার জিনিষ' বলে সকলের সামনে প্রদর্শন করা হত। এমনকি ইউরোপে এই সময়ে 'মমি উন্মোচন' পার্টির আয়োজন পর্যন্ত করা হত। এই ধরণের পার্টিতে অতিথি অভ্যাগতদের সামনে মমির থেকে ব্যান্ডেজ খুলে সেগুলো কে উন্মুক্ত করা হত, এবং সেই দৃশ্য পানীয় সহযোগে, হাততালি দিয়ে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতেন পার্টিতে আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা।


ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের সাথে সাথে মিশর থেকে কিনে নিয়ে যাওয়া মমির অন্য ব্যবহার হওয়াও শুরু হল। মিশর থেকে জাহাজ ভরে মানুষ ও পশুর মমি ব্রিটেন ও জার্মানি তে নিয়ে যাওয়া হত, সেখানে সেগুলি জমির সার রূপে ব্যবহার করা হত। মমির শরীর থেকে ব্যান্ডেজ খুলে, সেই ব্যান্ডেজ আমেরিকায় পাঠানো হত, সেখানে সেগুলি কাগজ তৈরির জন্য ব্যবহৃত হত। বিখ্যাত লেখক মার্ক টোয়াইন তাঁর মিশর ভ্রমণের ডাইরি তে লিখে গিয়েছেন যে, মিশরে মমি কে লোকমটিভের জ্বালানি রূপেও ব্যবহার করা হত।


খ্রিস্টীয় ১৯ শতক এগিয়ে আসার সাথে সাথে, মিশরের মমি কেবলমাত্র ধনী ইউরোপীয় এবং মার্কিন প্রাইভেট সংগ্রাহকদের সংগ্রহের বিষয় বস্তু হয়ে দাঁড়ায়। তাঁরা মিশর ভ্রমণকালে উচ্চ মূল্যে এগুলো ক্রয় করে নিতেন "ভ্রমণ স্মারক" রূপে। যাঁরা আবার একটা আস্ত মমি কিনতে পারতেন না বা পেতেন না, তাঁরা চোরা বাজার থেকে মমির শরীরের বিভিন্ন অংশ যেমন মাথা বা পা বা হাত কিনে নিয়ে নিজের দেশে নিয়ে যেতেন।


মমির জন্য মিশরের ছোট বড় কোনও পিরামিডই ধনী ইউরোপীয় এবং মার্কিনদের লোভের হাত থেকে রক্ষা পায় নি। কেবলমাত্র যে পিরামিডগুলোর দরজা কোনও ভাবেই খোলা সম্ভব হয় নি বা যে পিরামিডগুলো তে অজানা মৃত্যু ফাঁদ ছিল, সেগুলোই লুঠের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল। এটাও উল্লেখ্য যে মমির সাথে পিরামিডের ভিতরে থাকা বিপুল ঐশ্বর্য এবং জিনিসপত্রও যথেচ্ছ ভাবে লুঠ করে ইউরোপ ও মার্কিন মুলুকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।


এই ব্যবসাতেও অবশ্য জালিয়াতি ছিল। ছিল জাল মমির উৎপাত। বিচারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আসামির দেহ, বয়স্ক মানুষের মৃতদেহ, গরীব মানুষের দেহ এবং যারা কোনও জটিল রোগে মারা গিয়েছেন তাঁদের দেহ, ক্রয় করে, সেই দেহ একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মরুভূমির তপ্ত বালি তে পুঁতে রেখে বা বিটুমিন দিয়ে স্টাফ করে, সেগুলো কে ব্যান্ডেজ দিয়ে মুড়িয়ে তারপরে আবার চড়া রোদে শুকিয়ে প্রাচীন মমি বলে ধনী বিদেশিদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রয় করা হত।


(তথ্য সৌজন্যে - ব্রিটিশ লাইব্রেরী, ইউনাইটেড কিংডোম।)

কৃতজ্ঞতা Dr Nobiul Islam Sohel


Stay Curious SIS 

Siddiqui's International School



এখানে কিছু পড়লেই পাথর হয়ে যায় !!,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 এখানে কিছু পড়লেই পাথর হয়ে যায় !! 


ন্যাট্রন হ্রদ (যেখানে কোনো প্রাণী পড়লেই পাথর হয়ে যায়) 🥶🥶🥶

_________________________________________


তানজানিয়ার লেক ন্যাট্রন আফ্রিকার ফৈ নির্মল হ্রদগুলির মধ্যে একটি। এর জলের সংস্পর্শে আসলে যেকোনো প্রাণীর চামড়া পুড়ে যায় এবং তারা সেখান থেকে পালিয়ে যেতে পারে না। এভাবে দীর্ঘকাল ধরে তাদের দেহ  সেখানে থাকার কারণে তা পাথরে পরিণত হয়। এর সৌন্দর্যের কারণে প্রতিবছর অনেক অতিথি পাখি এখানে আসে দুর্ঘটনাবসত এদের অনেকেই মারা যায়। 

 

 Natron লেকের ক্ষারীয় জলের pH 10.5 এর মতো এবং এটি এতই ক্ষারীয় যে এটি প্রাণীদের ত্বক এবং চোখ পুড়িয়ে ফেলতে পারে। জলের ক্ষারত্ব আসে সোডিয়াম কার্বনেট এবং অন্যান্য খনিজ থেকে যা পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে হ্রদে প্রবাহিত হয়। জলের সোডিয়াম কার্বনেট থাকার কারণে মৃতদেহগুলো পচে না। 


পূর্ব আফ্রিকার ওই এলাকার দুটি ক্ষারীয় হ্রদের মধ্যে একটি হ্রদ ন্যাট্রন;  অন্যটি হ্রদ বাহি।  উভয়  হ্রদ যা কোনো নদী বা সাগরে জল নিষ্কাশন করে না।


আফ্রিকার গভীর অরণ্য অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে এক ওল্ডোনিও লেঙ্গাই। হ্যাঁ, ‘চাঁদের পাহাড়’-এর সেই আগ্নেয়গিরি, যার কাছেই হিরের খনির সন্ধান পেয়েছিল শঙ্কর। কিন্তু এই আগ্নেয়গিরির কাছেই রয়েছে আরও এক বিস্ময়, যার সন্ধান শঙ্কর জানত না। শঙ্কর কেন, বাইরের পৃথিবীর কেউই তখনও এই হ্রদের কথা জানতেন না। তাঞ্জানিয়ার আরুশা অঞ্চলে পাহাড়ি উপত্যকায় বিরাট একটি হ্রদ লেক নেট্রন। যার জল যে কোনো জীবিত প্রাণীকে পাথরে পরিণত করতে পারে। না না, গ্রীক পুরাণের মেডুসা বা রামায়ণের অহল্যার মতো কোনো রূপকথার গল্প নয়। এ একেবারে জলজ্যান্ত বাস্তব। হ্রদের চারপাশে এমন অনেক পাখির দেহাবশেষ পড়ে রয়েছে আজও, যাদের দেখলে পাথরের মূর্তি ছাড়া অন্য কিছু মনে হওয়ার সম্ভাবনা নেই।


খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। ২০১৩ সাল। লেক নেট্রনের ধারে ছবি তুলতে হাজির হয়েছেন ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার নিক ব্র্যান্ড। এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে তাঁর চোখে পড়ে কয়েকটা পাথরের মূর্তি। ঠিক পাখির মতো। এবং অত্যন্ত নিখুঁত সেই মূর্তি। যেন বাস্তবের কোনো পাখিই প্রস্তরমূর্তি ধারণ করেছে। কাছে গিয়ে একটি মূর্তি তুলে নিলেন নিক। আর তারপরেই অবাক হলেন। মূর্তি নয়, আসলে পাখিরই মৃতদেহ। তার শরীরের ভিতরে রক্ত-মাংসের কিছু নমুনা তখনও অবশিষ্ট রয়েছে। শুধু বাইরের অংশটাই পাথরে বদলে গিয়েছে। একটি একটি করে পাখিকে তুলে নিয়ে গাছের ডালে বসিয়ে দিলেন নিক। তারপর ক্যামেরার শাটার সরিয়ে তাদের ছবি তুললেন। গোটা ইউরোপ জুড়ে প্রদর্শশালাগুলিতে ভিড় জমে গেল সেই ছবি দেখতে। নিক এই ছবিগুলির নাম রেখেছিলেন ‘অ্যালাইভ এগেইন ইন ডেথ’।


৫৭ কিলোমিটার লম্বা, ২২ কিলোমিটার চওড়া এবং প্রায় ১০ ফুট গভীর লেক নেট্রন। অথচ দীর্ঘদিন তার অস্তিত্বের কথা জানতেনই না কেউ। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ এই হ্রদের কথা শুনেছিলেন, কিন্তু বাইরের পৃথিবীর কাছে তা ছিল একেবারে অপরিচিত। ১৯৫৪ সালে প্রথম এই হ্রদের অস্তিত্বের কথা জানা যায়। তাও কেবলমাত্র ফ্লেমিংগো পাখির আশ্রয়স্থল হিসাবে। বছরের সবসময় এখানে ফ্লেমিংগো পাখির দল উড়ে বেড়ায়। হ্রদের জলে খেলা করে। আর হ্রদের জলও যেন ফ্লেমিংগো পাখির গায়ের সঙ্গে মিল রেখেই কখনও গোলাপি তো কখনও টকটকে লাল। এইসবই অবাক করে রেখেছিল পর্যটকদের। এর থেকে বড়ো কোনো রহস্যের সন্ধান তাঁরা পাননি।


প্রায় ২৫ লক্ষ ফ্লেমিংগো পাখির বাস এই হ্রদের আশেপাশে। লম্বা লম্বা পা ফেলে তারা ঘুরে বেড়ায়, আর জলজ ঝাঁঝি খায়। তবে হ্রদের জল অবাক করেছিল গবেষকদের। তাঁরা এই জলের নমুনা পরীক্ষা করে জানিয়েছিলেন, প্লিস্টোসিন যুগে তৈরি হওয়া এই হ্রদের তলদেশ লাভাগঠিত। আর তার মধ্যে রয়েছে ট্রনা ও নেট্রন নামের দুটি যৌগ। এই দুই যৌগের কারণেই জলের রং লাল। শুধু তাই নয়, জলে সোডিয়ামের পরিমাণও অত্যন্ত বেশি। পিএইচ মাত্রা সবসময় ১২ অঙ্কের বেশি থাকে। ১৯৯৮ সালে স্টুয়ার্ট অ্যান্ড স্টুয়ার্ট নামের একটি কোম্পানি এই হ্রদের ধারে সোডিয়াম নিষ্কাশনের জন্য কারখানা তৈরির চেষ্টাও করে। কিন্তু রুখে দাঁড়িয়েছিলেন পরিবেশকর্মীরা। কারণ, কারখানা তৈরি হলে হারিয়ে যাবে ফ্লেমিংগো-র বসতি।


তবে তখনও অবধি হ্রদের জলের খুনে চরিত্রের কথা কেউ জানতেন না। নিকের ছবিগুলির কথা জানাজানি হতেই তাই অবাক হয়েছিলেন সকলে। এমনটাও কি বাস্তবে সম্ভব? অসম্ভব যে নয় তা ছবিগুলিই প্রমাণ করে। কিন্তু এই জল ছুঁলেই জীবিত প্রাণীর শরীর পাথর হয়ে যাবে, বিষয়টা এমন নয় বলেই মনে করছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, জলে সোডিয়ামের প্রভাবে ক্ষরতা এতটাই বেশি, যে কোনো জীবিত প্রাণীর চামড়া এতে পুড়ে যেতে বাধ্য। আর দীর্ঘক্ষণ জলের মধ্যে থাকলে ক্রমশ শরীরের সমস্ত কোষই মারা যেতে পারে। তখন সেইসমস্ত মৃত কোষকে পাথরের চেয়ে আলাদা কিছু মনে হবে না। নিক আসলে জলে পুড়ে যাওয়া সেইসব পাখিদেরই সন্ধান পেয়েছিলেন। তবে এর মধ্যে ফ্লেমিংগো পাখিরা কীভাবে অবাধে ঘুরে বেড়ায়, সেও এক রহস্য।


রহস্যময় এই হ্রদের টানে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে যান। এখনও বসবাসের তেমন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। পাহাড়ের গায়ে তাঁবু খাটিয়েই থাকেন পর্যটকরা। চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন। রক্তাভ হ্রদের উপরে ফ্লেমিংগো পাখির দল আপনাকে মুগ্ধ করবেই। কিন্তু ভুল করেও সেই জলে পা ডুবিয়ে বসবেন না। তাহলে আপনার

 অবস্থাও হতে পারে নিক ব্র্যান্ডের ছবির পাখিগুলির মতোই।


Photo Credit : Photographer Nick Brandt (U.K.)



সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের পুরনো সুমেরীয় তারকা মানচিত্র।,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের পুরনো সুমেরীয় তারকা মানচিত্র।


সুমেরীয় সভ্যতা মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশের একটি প্রাচীন সভ্যতা। এর অবস্থান ছিল আধুনিক ইরাক এর দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে। সুমেরীয় সভ্যতার সময়কাল খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫০০ হতে খ্রিষ্টপূর্ব ১৮০০-এর মধ্যে। ব্যাবিলন সভ্যতার উত্থানের সাথে সাথে সুমেরীয় সভ্যতার পতন ঘটে।


১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিজ্ঞানীরা সুমেরীয় সভ্যতার বিতর্কিত কিউনিফর্ম লিপিতে লেখা কাদামাটির তৈরি একটি ট্যাবলেটের রহস্য সমাধানের চেষ্টা করেছে। ধারণা করা হয় যে প্রাচীনকালে এই ট্যাবলেটে তথাকথিত Köfel’s নামক এক ঘটনার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল। বৃত্তাকার স্টোনকাস্ট ট্যাবলেটটি ১৯ শতকের শেষের দিকে ইরাকের নিনেভেতে অবস্থিত রাজা আশুরবানিপালের (খ্রি.পূ.৬৫০) ভূগর্ভস্থ লাইব্রেরি থেকে উদ্ধার করা হয়।


দীর্ঘকাল ধরে একে অ্যাসিরিয়ান ট্যাবলেট বলে মনে করা হয়েছিল। আধুনিক কম্পিউটার বিশ্লেষণ এটি ৩৩০০ খ্রি.পূ. এর মেসোপটেমিয়ার আকাশের সাথে মিলেছে। এছাড়া, এটি আরও প্রাচীন সুমেরীয় অরিজিন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। ট্যাবলেটটি একটি "অ্যাস্ট্রোল্যাব", যা প্রাচীনতম জ্যোতির্বিদ্যার যন্ত্র। এটি খণ্ডিত ডিস্ক-আকৃতির তারকা চার্ট নিয়ে গঠিত। এর কোণ পরিমাপের একক রিমের উপরে খোদাই করা আছে। এটি একটি অনবদ্য আবিষ্কার।


সুমেরীয়রা গণিত ব্যবহার করে চাঁদ ও গ্রহের গতি গবেষণা শুরু করে। ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষশাস্ত্রের বিকাশ ঘটে। গ্রহ নক্ষত্রের গতির ছক এঁকে ক্যালেন্ডার তৈরিপূর্বক ঋতু নির্ণয় করে শস্যরোপনের সময় বের করতো। প্রথম দিকে পৃথিবীকে চাকতি ভাবলেও, পরে তাদের ধারণা হয় পৃথিবী গোলাকার। তারাই প্রথম পৃথিবীকে ৩৬০ ডিগ্রিতে ভাগ করে।




রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০২৪

পড়বেন হাদিসটি,,,,,,,

 পড়বেন হাদিসটি    ..."তোমরা কি জানো, মানুষ মারা যাওয়ার পর, তাঁর আত্মার কি হয় ?" রাসুল (সাঃ)

একদিন নবী করিম (সাঃ)এর একজন সাহাবী মারা গেলেন

রাসূল পাক (সাঃ) উনার জানাজা পড়ালেন I তারপর একদল সাহাবী মৃতদেহ কবর দেয়ার জন্য কবরস্থানে নিয়ে আসলেন I সবার সাথে আমাদের নবী করিমও (সাঃ)হেঁটে হেঁটে আসলেন I

দুই জন সাহাবী কবর খুঁড়তে শুরু করলেন I

সবাই মৃত দেহকে ঘিরে বসে আছেন I

কবর খনন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন I

সবাই চুপচাপ, নীরব ও শান্ত একটি পরিস্থিতি I

নবীজি গভীর মনোযোগ দিয়ে কবর খোঁড়া দেখছিলেন একটু পর সবার দিকে তাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

"তোমরা কি জানো, মানুষ মারা যাওয়ার পর, তাঁর আত্মার কি হয় ?"

সবাই খুব আগ্রহ নিয়ে নবীজি কে বললেন,

-ইয়া রাসূলুল্লাহ ! আমাদেরকে বলুন I

নবীজি একটু চুপ করে থাকলেন I সবাই উনার কাছে এসে ঘিরে বসলেন I মৃত্যুর পর আত্মার কি হয়, এই তথ্য তাঁদের জানা ছিল না I আজ সেটা নবীজির মুখে শুনবেন I কত বড় সৌভাগ্য I শুনার জন্য সবাই অধীর আগ্রহে নবীজির কাছে এসে বসলেন I

তিনি একবার কবরের দিকে তাকিয়ে মাথাটা তুলে আকাশের দিকে তাকালেন

তারপর তিনি গল্পের মত করে বলতে শুরু করলেনI

"শুনো, যখন মানুষ একেবারেই মৃত্যু শয্যায়, তখন সে মৃত্যুর ফেরেস্তাকে দেখে ভয় পেয়ে যায় I কিন্তু যে বিশ্বাসী ও ভালো মানুষ তাকে মৃত্যুর ফেরেস্তা হাসি মুখে সালাম দেন I তাকে অভয় দেন এবং মাথার পাশে এসে ধীরে ও যত্ন করে বসেন I তারপর মৃত প্রায় মানুষটির দিকে তাকিয়ে বলেন,

-হে পবিত্র আত্মা ! তুমি তোমার পালনকর্তার ক্ষমা ও ভালোবাসা গ্রহণ করো এবং এই দেহ থেকে বের হয়ে আসোI

মুমিনের আত্মা যখন বের হয়ে আসে তখন সে কোন ধরণের ব্যথা ও বেদনা অনুভব করে না I

নবী আরো একটু ভালো করে উদাহরণ দিয়ে বললেন,

-মনে করো একটা পানির জগ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর উপর থেকে এক ফোঁটা পানি যেমন নিঃশব্দে উপর থেকে নিচে নেমে আসে ঠিক তেমনি নীরবে ও কষ্ট ছাড়াই আত্মাটি তার দেহ থেকে বের হয়ে আসেI

সেই সময় দুই জন অন্য ফেরেস্তা বেহেস্ত থেকে খুব সুগন্ধি মাখানো একটা নরম সুতার সাদা চাদর নিয়ে আসেন এবং তারা আত্মাটিকে সেই চাদরে আবৃত করে আকাশের দিকে নিয়ে যান I

তারা যখন আকাশে পৌঁছান তখন অন্য ফেরেস্তারা সেই আত্মাটিকে দেখার জন্য এগিয়ে আসেনI

কাছে এসে সবাই বলেন,

সুবহানাল্লাহ ! কত সুন্দর আত্মা, কি সুন্দর তার ঘ্রান !

তারপর সবাই জানতে চান,

-এই আত্মাটি কার ?

উত্তরে আত্মা বহন কারী ফেরেস্তারা বলেন,

-উনি হলেন, "ফুলান ইবনে ফুলান"

(নবী আরবিতে বলেছেন, বাংলায় হলো, "অমুকের সন্তান অমুক" )

বাকি ফেরেস্তা গন তখন আত্মাটিকে সালাম দেয়, তারপর আবার জিজ্ঞেস করে,

-উনি কি করেছেন ? উনার আত্মায় এতো সুঘ্রাণ কেন ?

আত্মা বহন কারী ফেরেস্তা গন তখন বলেন,

-আমরা শুনেছি মানুষজন নিচে বলা-বলি করছে, উনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন, আল্লাহর ভালো বান্দা, অনেক দয়ালু, মানুষের অনেক উপকার করেছেন I

এতটুকু বলার পর নবী একটু থামলেন I

তারপর সবার দিকে ভালো করে দৃষ্টি দিয়ে, উনার কণ্ঠটা একটু বাড়িয়ে বললেন,

এই কারণেই বলছি, সাবধান ! তোমরা কিন্তু মানুষের সাথে কখনো খারাপ ব্যবহার করবে না I

তুমি মারা যাওয়ার পর মানুষ তোমার সম্পর্কে যা যা বলবে, এই আত্মা বহন কারী ফেরেস্তারাও আকাশে গিয়ে ঠিক একই কথা অন্যদেরকে বলবেI

এই কথা বলে তিনি আবার একটু চুপ করলেন, কবরটার দিকে দৃষ্টি দিলেন I

আবার বলতে শুরু করলেন I

এই সময় মানুষ যখন পৃথিবীতে মৃত দেহকে কবর দেয়ার জন্য গোসল দিয়ে প্রস্তুত করবে তখন আল্লাহ তা'আলা আত্মা বহন কারী ফেরেশতাদেরকে বলবেন, "যাও , এখন তোমরা আবার এই আত্মাকে তার শরীরে দিয়ে আসো, মানুষকে আমি মাটি থেকে বানিয়েছি, মাটির দেহেই তার আত্মাকে আবার রেখে আসো I সময় হলে তাকে আমি আবার পুনরায় জীবন দিবো I"

তারপর মৃতদেহকে কবরে রেখে যাওয়ার পর দুই জন ফেরেস্তা আসবেন I তাদের নাম মুনকার ও নাকির I

তারা মৃতের সৃষ্টিকর্তা, তার ধর্ম ও নবী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন I

মুনকার নাকির চলে যাওয়ার পর,

আত্মাটি আবার অন্ধকার কবরে একাকী হয়ে যাবে I

সে এক ধরণের অজানা আশংকায় অপেক্ষা করবে I কোথায় আছে ? কি করবে ? এক অনিশ্চয়তা এসে তাকে ঘিরে ধরবে I

এমন সময় সে দেখবে, খুব সুন্দর একজন তার কবরে তার সাথে দেখা করতে এসেছেন I

তাঁকে দেখার পর আত্মাটি ভীষণ মুগ্ধ হবে I এতো মায়াবী ও সুন্দর তার চেহারা, সে জীবনে কোন দিন দেখেনি I

আত্মাটি তাকে দেখে জিজ্ঞেস করবে,

-তুমি কে ?

সেই লোকটি বলবে,

-আমি তোমার জন্য অনেক বড় সু- সংবাদ নিয়ে এসেছি, তুমি দুনিয়ার পরীক্ষায় উর্তীর্ণ হয়েছো, তোমার জন্য আল্লাহ তা'আলা জান্নাতের ব্যবস্থা করেছেন, তুমি কি সেটা একটু দেখতে চাও?

আত্মাটি ভীষণ খুশি হয়ে বলবে,

-অবশ্যই আমি দেখতে চাই, আমাকে একটু জান্নাত দেখাও I

লোকটি বলবে,

-তোমার ডান দিকে তাকাও I

আত্মাটি ডানে তাকিয়ে দেখবে কবরের দেয়ালটি সেখানে আর নেই I সেই দেয়ালের দরজা দিয়ে অনেক দূরে সুন্দর বেহেস্ত দেখা যাচ্ছে I

বেহেস্তের এই রূপ দেখে আত্মাটি অনেক মুগ্ধ হবে ও প্রশান্তি লাভ করবে I

এবং সেখানে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে লোকটিকে জিজ্ঞেস করবে,

-আমি সেখানে কখন যাবো ? কিভাবে যাবো ?

লোকটি মৃদু হেসে বলবেন,

- যখন সময় হবে, তখনই তুমি সেখানে যাবে ও থাকবেI আপাততঃ শেষ দিবস পর্যন্ত তোমাকে অপেক্ষা করতে হবে I ভয় পেও নাI আমি তোমার সাথেই আছি I তোমাকে আমি সেই দিন পর্যন্ত সঙ্গ দিবো I

আত্মাটি তখন তাকে আবারো জিজ্ঞেস করবে,

-কিন্তু তুমি কে ?

তখন লোকটি বলবে,

-আমি তোমার এতদিনের আমল, পৃথিবীতে তোমার সব ভালো কাজের, তোমার সব পুণ্যের রূপ আমি, আজ তুমি আমাকে একজন সঙ্গীর মত করে দেখছো I আমাকে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে সঙ্গ দেয়ার জন্যই এখানে পাঠিয়েছেন I

এই কথা বলে, লোকটি আত্মাটির উপর যত্ন করে হাত বুলিয়ে দিবেন

এবং বলবেন,

-হে পবিত্র আত্মা ! এখন তুমি শান্তিতে ঘুমাও I নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নাও I

এই কথা বলার পর, আত্মাটি এক নজরে বেহেস্তের দিকে তাঁকিয়ে থাকবে এবং একসময় এই তাকানো অবস্থায় গভীর প্রশান্তিতে ঘুমিয়ে পড়বে I

নবীজি এতটুকু বলে আবার একটু থামলেনI

সাহাবীরা তখন গায়ের কাপড় দিয়ে ভেজা চোখ মুছলেন I

(বুখারী ও মুসনাদের দুইটি হাদিস অবলম্বনে)

আল্লাহ আমাদের পবিত্র আত্মা হওয়ার তাওফিক দান করুন..........…...আমীন।



ইসলামে প্রবাদ আছে, হাদিস না মানলে সে কাফের।

 👉👉 ইসলামে প্রবাদ আছে, হাদিস না মানলে সে কাফের। সহীহ বুখারী শরীফের (২৩৩)(৫৬৮৬) নং হাদিসে আছে, কিছু অসুস্থ ব্যক্তিকে রাসুল সাঃ উটের দুধ এবং...