এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১১ জুন, ২০২৪

হুগলি জেলার নাম-মাহাত্ম্য 

হুগলি জেলার নাম-মাহাত্ম্য 

******************************************

যেকোনো স্থানের নাম ওই স্থান বা বৃহত্তর অঞ্চলের মানব ইতিহাসের স্বাক্ষর বহন করে৷ আবার, নামের উৎপত্তি নিয়েও নানা বৈচিত্র্য রয়েছে। কখনও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, কখনও স্থানীয় ঘটনা, ধর্ম-দেবতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিখ্যাত জিনিসের নামেই অধিকাংশ স্থানের নামকরণ হয়েছে। তাই, নামকরণ শুধুমাত্র পরিচয়জ্ঞাপক শব্দরাজি নয়, যেকোনো স্থানের নামকরণের উৎপত্তি, সেই স্থান/অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে৷

আজ আমরা আলোচনা করব আমাদের প্রিয় জেলা হুগলির নামকরণ কিভাবে হয়েছে৷ 


'হুগলি' নামটির উৎপত্তি সম্পর্কে প্রধানত দুটি মত প্রচলিত রয়েছে। ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকারের মতে, ষোড়শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগিজ বণিকেরা সপ্তগ্রাম থেকে সরে এসে বর্তমান হুগলি অঞ্চলে পণ্য মজুত করার জন্য গুদাম বা গোলা তৈরি করেছিল। সেই 'গোলা' শব্দ থেকেই 'হুগলি' নামটির উৎপত্তি হয়েছে। তাঁর মতে, পর্তুগিজদের ভাষায় 'ও-গোলিম'/'ও-গোলি' কথাটিই বাঙালিদের উচ্চারণে 'হুগলি'-তে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু পর্তুগিজ আগমনের পূর্বেই, ১৪৯৫-৯৬ সালে রচিত বিপ্রদাস পিপলাই-এর মনসাবিজয় কাব্যগ্রন্থে 'হুগলি' নামটি পাওয়া যায়, যা উপরোক্ত মতকে প্রতিষ্ঠা করেনা। পন্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মতেও, হুগলি নামটি পর্তুগিজদের দেওয়া নয়৷ তবে, শম্ভুচন্দ্র দে-এর মতে, ভাগীরথী (গঙ্গা) তীরবর্তী এই অঞ্চলে প্রচুর হোগলা গাছ ছিল। এই হোগলা গাছ থেকেই নদী ও এলাকার নাম হয়েছে হুগলি। হুগলি নামটিই পর্তুগিজদের বিকৃত উচ্চারণে 'ও-গোলি', ও-গোলিম', 'হোয়েগলি' ইত্যাদিতে পরিণত হয়েছিল। 


এরকম আরো ভালো পোস্টের জন্য পেজটিকে ফলো করে রাখুন ,জনস্বার্থে শেয়ার করবেন ,আর নুতুন কোন্ বিষয়ের উপর পোস্ট চান কমেন্ট করে জানান 



চতুর্থ মাত্রা যেভাবে এলো

 # ***চতুর্থ মাত্রা যেভাবে এলো***


১৮৯৫ সাল। সে বছর সারা বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দেয় ব্রিটিশ লেখক এইচ জি ওয়েলসের উপন্যাস দ্য টাইম মেশিন। সময় ভ্রমণ নিয়ে সেটাই প্রথম কোনো উপন্যাস। সেই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন সময় পর্যটক।


তিনি এমন একটা যন্ত্র বানিয়েছেন, যাতে বসে অতীত ও বর্তমানে ঘুরে আসা যায়। সময় পর্যটক প্রথমে ভবিষ্যতে চলে যান। একের পর এক ঘটনা-দুর্ঘটনার শিকার হন সেই অভিযানে, ঘটে মর্মস্পর্শী ঘটনাও। ভবিষ্যৎ থেকে ভালোয় ভালোয় ফিরে আসেন বর্তমানে।


তারপর অতীত যাত্রা। কিন্তু সে যাত্রা থেকে আর ফিরে আসতে পারেননি সময় পর্যটক।


ওয়েলসের এই অবিশ্বাস্য কাহিনির শুরুতেই সময়কে চতুর্থ মাত্রা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন লেখক। তারপর একে একে বুনেছেন কাহিনির জাল।


আজকের ‘টেনেট’, ‘প্রিডেস্টিনেশন’ মুভি বা ডার্কের মতো জটিল সিরিজের কাছে ‘দ্য টাইম মেশিন’ নিতান্তই সরল মনে হবে, কিন্তু মনে রাখতে হবে এই গল্প লেখা হচ্ছে আইনস্টাইনে বিশেষ আপেক্ষিকতা প্রকাশের ১০ বছর আগে, আইনস্টাইন যখন নিতান্তই এক কিশোর। সেই সময় ‘সময়’কে মাত্রা হিসেবে দেখানো দুঃসাহিসক কাজই ছিল বটে। তখনো সময়কে রেফারেন্স কাঠামোর সাপেক্ষে পরিবর্তনশীল হিসেবে দেখাননি ওয়েলস, কারণ তখন কে-ই বা থিওরি অব রিলেটিভিটির ভবিতব্য বুঝতে পেরেছিল! তবু ওয়েলসের কল্পবিজ্ঞানকেও তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের অগ্রসর চিন্তা বলা যায়।


১৯০৫ সালে আইনস্টাইন সালে আইনস্টাইন বিশেষ আপেক্ষিকতা প্রকাশ করলেন, তাতে দেখালেন, সময় পরম কিছু নয়, প্রসঙ্গ কাঠামোনির্ভর। এরপর একটা বড়সড় পরিবর্তন এলো তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে।


আগে স্থান ও কালকে আলাদা আলদা ভৌত রাশি হিসেবে দেখানো হতো। এ ঘটনার পর স্থান আর কালকে এক করে ফেললেন বিজ্ঞানীরা। অর্থাৎ দুয়ে মিলে এক সত্তা—স্পেস টাইম বা স্থান-কাল। আর এই স্থান-কাল বস্তুর গতি কিংবা মহাকর্ষ বলের দ্বারা প্রভাবিত হয়।


১৯০৭ সালে আইনস্টাইনের সাবেক স্কুল শিক্ষক হারমান মিনকোভস্কি এ ধারণায় একটা বিপ্লব ঘটিয়ে দিলেন।


স্থান হলো ত্রিমাত্রিক। তার তিনটি মাত্রা থাকে—দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা। মিনকোভস্কির যুক্তি ছিল, যদি স্থান আর কাল আলাদা সত্তা না হয়, তাহলে এই দুয়ে মিলে মোট মাত্রা হবে চারটি। চতুর্থ মাত্রাটাই হলো কাল বা সময়—বললেন মিনকোভস্কি। কোনো বস্তু কোথায় অবস্থান করছে, এটা বোঝার জন্য মাত্রার প্রয়োজন হয়। আমাদের স্থানের জগৎ ত্রিমাত্রিক। এই ত্রিমাত্রিক জগতের কোথায় একটা বস্তু অবস্থান করছে, সেটা বোঝার জন্য স্থানাঙ্ক ব্যবহার করা হয়।   ২. স্থানাঙ্ক আবার কী?


কোনো একটা বস্তু কোথায় অবস্থান করছে, কোনো একটা মাত্রায় বস্তুটির স্থান কোথায়, সেটা যে দূরত্ব দিয়ে বোঝা যায়, সেটাই স্থানাঙ্ক।  ধরা, যাক দূরে একটা আয়তকার ঘাসজমির ঠিক একটা কোনায় আপনি অবস্থান করছেন। আপনার অবস্থানকে শূন্য বিন্দু ধরুন। নিচের ছবির মতো।


ধরা যাক, আপনার ডান দিকে যে আইলটা সেটা জমিটার দৈর্ঘ্য নির্দেশ করে এবং বাম দিকের আইলটা প্রস্থ। দৈর্ঘ্যকে নির্দেশকারী আইলটাকে আমরা x-অক্ষ এবং বাম দিকের আইল যেটা, প্রস্থ নির্দেশ করে, সেটাকে y-অক্ষ ধরা যাক।


দ্বিমাত্রিক স্থান


এবার ধরা যাক, ডান দিকের আইলে একটা মোহনচূড়া পাখি এসে বসেছে, ঘাসের ভেতর থেকে পোকা ধরে খাচ্ছে। অর্থাৎ পাখিটা ঠিক x-অক্ষের ওপর বসে। আপনার থেকে পাখিটার দূরত্ব ধরা যাক ১০ মিটার। তাহলে আপনার সাপেক্ষে পাখিটার অবস্থান P = (x, y, z) = (১০, ০, ০)।


আইলের ওপর


পাখিটা x-অক্ষের ওপর বসে আছে, তাই y, z অক্ষের সাপেক্ষে এর কোনো মান পাওয়া যাবে না। ধরা যাক, কিছুক্ষণ পর পাখিটা উড়ে গিয়ে ঘাসজমির ভেতর গিয়ে বসল। সেটা এমন জায়গায়, যেখান থেকে আপনার দূরত্ব ডান দিকের আইল অর্থাৎ x-অক্ষ বরাবর ১২ মিটার, ডান দিকের আইল অর্থাৎ y-অক্ষের দিকে দূরত্ব ৮ মিটার। তাহলে পাখিটা বসে আছে xy-সমতলে, তাই z-অক্ষ বরাবর এর কোনো মান থাকবে না। সুতরাং পাখিটার বর্তমান অবস্থান P = (x, y, z) = (10,8,0)।


জমির ভেতর


এবার ধরুন, ঘাসজমির মাঝখানে একটা খুঁটি পোঁতা আছে। পাখিটা উড়ে গিয়ে বসল সেই খুঁটির ওপর বসল। খুঁটির দূরত্ব আপনা কাছ থেকে x-অক্ষ বরাবর ১২ মিটার, y-অক্ষ বরাবর ৯ মিটার এবং খুঁটির উচ্চতা ৬ মিটার। আপনার সাপেক্ষে এখন তাহলে পাখিটার অবস্থান P (x, y, z) = (12,9,6). এই ছিল কোনো বস্তুর অবস্থানের ত্রিমাত্রিক হিসাব-নিকাশ।


একটু সোজাসুজি হিসাবটা দেখে নিতে পারি। আপনি যে ঘরে অবস্থান করছেন, সেই ঘরের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর উচ্চত হলো ঘরটির তিনটি মাত্রা। ধরা যাক, ঘরের সিলিং থেকে একটা ঝাড়বাতি ঝুলছে সেই বাতিটার ত্রিমাত্রিক অবস্থান হলো, কোনো একটি কোনা বা শূন্য বিন্দু থেকে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বরাবর কতটা দূরে ও কতটা উচ্চতায় ঝুলছে, এই সবগুলো মান কত, কত ও কত?


এভাবে যেকোনো স্থির বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। কিন্তু বস্তুটি যদি গতিশীল হয়, তাহলে প্রতি মুহূর্তে এর অবস্থান পরিবর্তন হচ্ছে। তখন কী হবে?   ৩. আবার আমরা সেই ঘাসজমিতে ফিরে যাই। আমাদের সেই মোহনচূড়া পাখিটি এখন আর স্থির হয়ে কোথাও বসে নেই। উড়ে বেড়াচ্ছে সেই ঘাসজমির ওপরে। এখন এর নির্দষ্ট অবস্থা আর তিন মাত্রা দিয়ে বলতে পারবেন না। এর অবস্থান নির্দিষ্ট করতে হলে সময়ের প্রয়োজন সময়ের। একটা নির্দিষ্ট মুহূর্তে পাখিটার অবস্থান কোথায় সেটা হয়তো বলতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি বলতে t1, t2, t3… ইত্যাদি মুহূর্তে পাখিটার অবস্থা P1, P2, P3…ইত্যাদি বিন্দুতে। তাই স্থানাকে আরেকটা মাত্রা যোগ হবে, সেটা হলো সময়ের মাত্রা।


ধরা যাক, আপনি সেই আইলের কোনায় অর্থাৎ শূন্য স্থানাঙ্কের বিন্দুতে বসে আছে। ধরা যাক, আপনি যখন পর্যবেক্ষণ শুরু কলেন, সেই সময়টা t0=0 সেকেন্ড। সঙ্গে আপনি অবস্থান মাপতে পারলেন না। ধরা যাক, t1 সেকেন্ডে আপনার সাপেক্ষে পাখিটার অবস্থান দৈর্ঘ্যে ৯ মিটার প্রস্থে ৭ মিটার এবং উচ্চতায় ১৭ মিটার। তাহলে t1 সময়ে পাখিটার অবস্থা P = (x,y,z.t) = (9,7,17,t1)। t1-এরও একটা মান থাকবে। সেটা ধরায, আপনার পর্যবেক্ষণ শুরু তিন সেকেন্ড পর, তাহলে t1=2 সেকেন্ড। তাহলে ওই সময়ে উড়ন্ত পাখিটার অবস্থান P = (9,7,17, t1)। এখন একটু উল্টো করে বলি। যদি কোথাও লেখা থাকে, ঘাসজমিতে পাখিটা অবস্থান P = (9,7,17, t1) তাহলে আপনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন, পর্যবেক্ষণ শুরুর ২ সেকেন্ড পর পাখিটা পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে ডান দিক থেকে ৯ মিটার, বাম দিক থেকে ৭ মিটার দূরত্বে ১৭ মিটার উচ্চতায় অবস্থান করছিল। এভাবেই আসলে সময়কে চতুর্থমাত্রা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন হারমান মিনকোভস্কি।


আমরা সময়কে নিরবচ্ছিন্ন মনে করি। আসলেই কি সময় নিরবচ্ছিন্ন? বস্তু থেকে তরঙ্গ, শক্তি থেকে বলক্ষেত্র—কোনো কিছুই আসলে নিরবচ্ছিন্ন নয়। কোয়ান্টাম বলবিদ্যা আমাদের সে তথ্যই দেয়। সময়ের কোয়ান্টাম তত্ত্ব থাকা উচিত। সে বিষয়ে এ লেখায় বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সময়ের কোয়ান্টাম তত্ত্বের কথা বিজ্ঞানীদের মাথায় আসার আগেই মিনকোভস্কি বলেছিলেন সময়ের বিচ্ছিন্নতার কথা। বস্তুর বিল্ডিং ব্লক যেমন পরমাণু, আর গভীরে গেলে ইলেকট্রন ও কোয়ার্ক—মিনকোভস্কি দেখালেন স্থান-কালের এমন বিল্ডিং ব্লক আছে। একটা ফটোগ্রাফকে যেমন সময়ের একটা নিশ্চল ফ্রেম হিসেবে দেখা যায়।


আমরা সময়কে দেখি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান কোনো রাশি হিসেবে (আসলে অনুভব করি ঘটনাপ্রবাহ দেখে)। কিন্তু মিনকোভস্কিও সময়ের দেখলেন বিচ্ছিন্ন কাঠামো হিসেবে। তিনি স্থান আর কালের একটা কাঠামো দাঁড় করালেন, যেটাকে স্থান-কালের বিল্ডিং ব্লক বলা যায়। তিনি প্রতিটা মহূর্তে স্থান-কালের জন্য একটা ব্লক কল্পনা করলেন, এমন অজস্র ব্লকের সমন্বয়ে তৈরি গোটা মহাবিশ্বের স্থান-কাল।


ধরা যাক, সাকিব আল হাসান একটা অবিশ্বাস্য ক্যাচ ধরেছেন। পরদিন সেটা পত্রিকায় ছাপা হলো। সাকিবের ক্যাচ যতটা অবিশ্বাস্য, তার চেয়েও অবিশ্বাস্য ছবিটা। সাকিব পুরো শূন্য ভেসে আছেন, সেই অবস্থায় ক্যাচটা তাঁর মুঠোবন্দি হয়েছে।


ভাবতে পারেন, ছবিটাকে অবিশ্বাস্য কেন বলছি? হরহামেশাই এমন দৃশ্য ক্রিকেটে দেখা যায়, আর পত্রিকায় সেসব ছাপাও হয়। তাহলে এই ছবি বিশেষ কেন?


আসলে এ ধরনের প্রতিটা দৃশ্যই বিশেষ। কারণ বাস্তবে সাকিব কেন, বিশ্বের কোনো খেলোয়াড়কেই আপনি শূন্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভেসে থাকতে দেখবেন না। কিন্তু ছবিতে দেখবেন।


ভাবতে পারেন, ছবিতে এমন দৃশ্য অস্বাভাবিক নয়, তাহলে বিশেষ কিভাবে হলো?


একটা ছবিতে বিশেষ কিছু বুঝবেন না। এবার আপনি ইউটিউবে গিয়ে সাকিবের ক্যাচ নেওয়ার সময়টুকু পুরোটা দেখুন। তাও বুঝতে পারলেন না তো?


ধরা যাক পুরো ভিডিওটা পাঁচ সেকেন্ডের। এই পাঁচ সেকেন্ড তৈরি হয়েছে প্রচুর সংখ্যক ফটোগ্রাফ বা স্থিরচিত্র দিয়ে। বিশ্বাস না হলে ভিডিওটা কোনো ভিডিও অ্যাডিটর টুল ব্যবহার করে দেখুন। প্রতি সেকেন্ডে হয়তো এমন ৬০-১০০টা ফটোগ্রাফ পাবেন। সেগুলো পর পর সাজানো। একদম শুরুর ফটোতে হয়তো আপনি দেখবেন ব্যাটসম্যান শট নিচ্ছেন। একই ধরনের ছবি পরপর অনেকগুলো পাবেন।


আসলে কোনো ঘটনার যখন ভিডিও করা হয়, তখন ক্যামেরা খুব দ্রুত পর পর প্রচুর স্টিল ফটোগ্রাফ বা স্থিরচিত্র তোলে। সেটা ক্যামেরাভেদে হতে পারে সেকেন্ডে ৩০ থেকে ১০০০-২০০০ পর্যন্ত। এদের একেকটিকে বলা হয় ফ্রেম। পরে ভিডিও প্লেয়ার অ্যাপের সাহায্যে খুব দ্রুত ছবিগুলো ওপেন ও সুইপ করানো হয়। তখন সেটাকেই আমরা ভিডিও হিসেবে দেখি।


হারম্যান মিনকোস্কি সময়কে এমন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফ্রেমে ভাগ করেছিলেন। শুধু সময় নয়, এর সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন স্থানকেও। আমরা ভিডিওতে যে স্টিল ফটোগ্রাফ বা ফ্রেম দেখি, সেগুলো কিন্তু শুধু সময়ের নয়, স্থান-কাল একসঙ্গে আছে প্রতিটা ছবিতে। তবে কাগজের পৃষ্ঠা বা টিভি/ফোন/পিসির মনিটরে এগুলো দেখা যায় দ্বিমাত্রিক ছবি হিসেবে। কারণ কাগজের পৃষ্ঠা, ফোন বা টিভির স্ক্রিনও দ্বিমাত্রিক।


একটা ফটোগ্রাফের পৃষ্ঠের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ আছে, কিন্তু উচ্চতা নেই। তাই ত্রিমাত্রিক ছবিকে আমরা দুই মাত্রায় দেখি। কিন্তু এই যুগে থ্রিডি বা ত্রিমাত্রিক ছবি তোলার মতো যথেষ্ট ভালো ক্যামেরা আছে। সেই ছবি অবশ্য শুধু একটা দ্বিমাত্রিক স্ক্রিনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। মনিটরের বাইরে এসে ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করে। তখন আর সেটা দ্বিমাত্রিক ফ্রেমের মতো থাকে না। একটা চারকোনা বাক্সের আকার নেয়, যেটাকে আমরা ব্লকও বলতে পারি। নির্দিষ্ট সময়ে কোনো ঘটনার এ ধরনের ত্রিমাত্রিক কাঠামোকে মিনকোভস্কি বললেন চার মাত্রিক ব্লক, যেখানে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ্য ও উচ্চতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটা নির্দিষ্ট সময়। সুতরাং পুরো ব্লকটি স্থান-কালের চার মাত্রিক একটা ব্লক। এ ধরনের অসংখ্য ব্লক পর পর যুক্ত হয়ে ঘটনা তৈরি করে। অর্থাৎ প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কালের মাত্রা। ঠিক এভাবেই মিনকোভস্কি স্থানের সঙ্গে কালের মাত্রা যুক্ত করলেন। তখন থেকেই সময় হয়ে উঠল চতুর্থ মাত্রা। 


সূত্র : নিউ সায়েন্টিস্ট


সকাল ৭ টার  সংবাদ।  তারিখ: ১১-০৬-২০২৪ খ্রি:।

 সকাল ৭ টার  সংবাদ। 

তারিখ: ১১-০৬-২০২৪ খ্রি:।


আজকের শিরোনাম:


টানা তৃতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগদানের পর দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী।


দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও ভারত।


আজ ১৮ হাজার ৫শো ৬৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ বাড়ি হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 


জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দিলেন রাষ্ট্রপতি।


জাতীয় সংসদে পাস হলো চলতি ২০২৩—২৪ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট।


আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে — জানালেন দলের সাধারণ সম্পাদক।


গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সমর্থন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের।


নিউইয়র্কে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪ রানে হারলো বাংলাদেশ।

সকাল ৭ টার  সংবাদ।  তারিখ: ১০-০৬-২০২৪ খ্রি:।

 সকাল ৭ টার  সংবাদ। 

তারিখ: ১০-০৬-২০২৪ খ্রি:।


আজকের শিরোনাম:


টানা তৃতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন নরেন্দ্র মোদী - নতুন দিল্লিতে শপথ অনুষ্ঠানে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


 ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করতে আগ্রহী বাংলাদেশ - ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বললেন শেখ হাসিনা। 


প্রতি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতি বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার - জাতীয় সংসদে তথ্য প্রকাশ।


বিএনপি’র আমলে যে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল তা থেকে দেশকে রক্ষা করেছেন শেখ হাসিনা - বললেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।


সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট সাংবাদিকদের সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার প্রমাণ - মন্তব্য তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর। 


ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচনে নিজ দলের পরাজয়ের পর ফ্রান্সের পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। 


নিউইয়র্কে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৬ রানে হারালো ভারত - একই ভেন্যুতে আজ রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ।

নন্দিত নাট্যজন অধ্যাপক মমতাজউদদীন এর প্রতিটি উচ্চারণ বড় বেশী মনে পড়ে আজ।

 ❝বাংলাদেশের প্রতিটি ধুলিকণা আমার। মসজিদ, মন্দির, গির্জা, মঠ- সব আমার। পৃথিবীর সেরা দেশ আমার দেশ।❞ - অধ্যাপক মমতাজউদদীন।  


নন্দিত নাট্যজন অধ্যাপক মমতাজউদদীন এর প্রতিটি উচ্চারণ বড় বেশী মনে পড়ে আজ। বহুমাত্রিক গুণীমানুষটি যা চেয়েছেন, নিজের অদম্য চেষ্টায় তাই পেয়েছেন। বলা যায় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সাফল্য অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে তুখোড় অভিনেতা, লেখক ও শিক্ষাবিদ। বৃত্তের বাইরে তিনি ছিলেন ভাষা সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, সবার প্রিয় শিক্ষক। বাঙালির চেতনায় ঋদ্ধ মানুষটি বাংলা ভাষা আন্দোলন, এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। শিক্ষক ও লেখক হিসেবে পরিচিতি পেলেও থিয়েটারের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। তিনি যেমন ছিলেন মঞ্চের মানুষ, তেমনি ছিলেন একজন সফল নাট্যকার এবং আমাদের শ্রদ্ধাভাজন প্রিয়জন। 


মমতাজ স্যারের জন্ম বাংলার অবিভক্ত ভারতের মালদহে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৮ জানুয়ারি ১৯৩৫ সালের পৌষ মাসে এক রোববারে। মা সখিনা খাতুন, বাবা কলিমুদ্দিন আহমদ। ৬ বোন ও ৬ ভাইয়ের মধ্যে তিনি বাবা মায়ের তৃতীয় সন্তান। ব্যক্তিজীবনে ১৯৬৩ সালে কামরুন্নেসা মমতাজকে তাঁর জীবন সঙ্গী করে নিয়েছিলেন। তাঁদের দু'ছেলে, দু'মেয়ে সবাই প্রবাসী।   


জীবনে সূর্যের মতই তিনি জ্বলে উঠেছিলেন। মালদহের আইহো স্কুলে লেখাপড়া শুরু, চতুর্থ শ্রেণীর পর ভর্তি হন সে সময়ের সেরা মালদহ জেলা স্কুলে। গ্রাম থেকে ৫ মাইল দুরের জেলা শহর, সে সময়ে মালদহ জেলা স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীর স্কুল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে সবাইকে চমকে দেন। তখন প্রতিবছর দুটি নাটক হতো, প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি অভিনয় করতেন সে সব নাটকে। শরৎচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন শিক্ষক। ভালোদের জন্য তিনি সুযোগ দিতেন অভিনয়ের। মমতাজ স্যারের প্রতিভার স্ফুরণ হয় সে সময় থেকে। 

 

দেশভাগ তাঁকে দুঃখ দিয়েছে। তিনি দেশভাগের দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, দেশভাগ আমার মানুষ পরিচয় মুছে মুসলমান পরিচয় দিয়েছে, তাঁর জন্য এ ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক, কষ্টের। দেশ ভাগের ফলে সেই মালদহ স্কুল থেকে পূর্ববঙ্গের ছাত্রদের বিতাড়িত করেছিল। ধর্ম দিয়ে মানুষকে চিহ্নিত করা, বোধ শক্তির পর থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তাঁর কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য ছিল না। 


১৯৪৭ এর দেশভাগের পর স্থায়ী আবাস গড়েন চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ১৯৫১ ভোলাহাট রামেশ্বর পাইলট থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তখন তিনি মার্ক্সবাদ আর ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতি করেন। তিনি মানুষকে মানুষের পরিচয়ে দেখতে চেয়েছেন। পুরো পৃথিবীর বন্ধুত্ব আর সখ্যতা চেয়েছেন। চেয়েছেন মানুষের সামাজিক আর অর্থনৈতিক সমতা।  ১৯৫২ সালে তিনি আন্দোলন, ভাষায় দাবী আদায়ে সোচ্চার হয়েছেন, ১৯৫৩ সালে কারাবরন করেছেন। 


সে এক বৈরী সময় এসেছিল তাঁর জীবনে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন চলছে, তিনি পরীক্ষা দিচ্ছেন, অর্ধেক পরীক্ষার পর ছুটেছেন কেন্দ্রে নির্বাচনকে সামনে রেখে। চলছে রাজনীতি, পেয়েছেন বাঙালি জাতির প্রতি উদাত্ত কণ্ঠ বঙ্গবন্ধুর প্রেরণা। ১৯৫৪ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে সেদিনের সেরা ছাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন গ্রেস নিয়ে। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৬ বাংলায় বি.এ অনার্স। এর পর চলে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সে সময়ে ক্লাসে পেয়েছিলেন জহির রায়হান, আবদুল গাফফার চৌধুরীর মত বন্ধুদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ১৯৫৮ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ পাশ করেন। 


সে সময়ে তিনি গল্প আর প্রবন্ধ লিখতেন সমকালে। সিকান্দার আবুজাফর, হাসান হাফিজুর রহমান সহ বরেণ্য সাংবাদিক ও লেখকদের সহচর্যে ধন্য হয়েছেন। মালদহ জেলা স্কুল, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, অতঃপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হলে চলেছে অভিনয়, পেয়েছেন প্রথম পুরস্কার। আর এভাবে ভাষা আন্দোলন, বাম ছাত্র রাজনীতি করেও নাটকে যুক্ত থেকেছেন আজীবন। 


সময়টা ১৯৫৮, আইয়ুব খানের মার্শাল'ল। তিনি চাকুরী খুঁজছেন, এ সময়ে এগিয়ে আসেন অনেকেই। শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন বাংলার অধ্যাপক হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৬ বছর ছিলেন সে জীবনে। ১৯৬০ এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রাদুর্ভাবের পর অর্থ সংগ্রহের জন্য লেখেন একটি নাটক, 'তবুও আমরা বাঁচবো' এ শিক্ষকতা আর নাটকই তাঁর জীবনে আশীর্বাদ হয়ে আসে। বোধ করি সেই শক্তিতেই মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তিনি মুক্তির সংগ্রামকে উদ্দীপ্ত করতে নাটক লিখেছিলেন, 'এবারের সংগ্রাম' যা পরে নামকরণ হয় 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা'। স্যার বলেছিলেন ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ সে নাটকের দর্শক ছিল প্রায় দেড় লক্ষ। সেদিনের প্লাবনের পর আর একাত্তরের স্বাধীনতার আহ্বানের পক্ষে কাজ করাই ছিল তাঁর সে শক্তির উৎস। 


পেছনে ফিরে তাকালে দেখি স্যার বলছেন; মামা, চাচা, বড় বোন সহ পরিবারের প্রায় অনেকেই অভিনয় করতেন বা দর্শক সারিতে থাকতেন। রামচন্দ্র, সীতা পালা নিয়ে অভিনয়, তিনি শিখতেন তাঁদের কাছে। ছোট বেলায় বেশ বুদ্ধিমত্তার ছিলেন 'মমতাজ', তাঁর ভাষায় অত্যন্ত চালাক ও চতুর। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, পয়সা দরকার হলে বাবা বা মায়ের পয়সা চুরিও করেছেন। বাল্যকাল কেটেছে দাদীর অপরিসীম স্নেহ, ভালোবাসায়। ছোট বেলায় জন্মে দাদীর উপহার হিসেবে পাওয়া কোমরের সোনার বিছা বা চেন হারিয়ে ফেলেছিলেন মঞ্চে, পরে মা বলেছিলেন 'তুই নাটকে নাটক করছিস, নাটকে সোনার বিছা পাবি না।'। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে তিনি শিক্ষানুরাগী মা সখিনা খাতুনের সে কথা ভুল প্রমাণ করেছিলেন। বরং নাটকের পাগলামিকে তিনি আশীর্বাদ হিসেবে নিয়েছিলেন। খুব ভালো খেলতেন না বটে, তবুও ছোট বেলা থেকেই ফুটবল, ভলিবল, হকি খেলাধুলা সহ নাটকে অংশ নিতেন। আর চলতো নাটকে অভিনয়।


বাবা কলিমউদদীন চান নি তিনি নাটকে চাকরের অভিনয় করেন, চাইতেন তিনি নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করবেন। কিন্তু নাটক পাগল মমতাজউদদীন দুর্দান্ত অভিনয়ে সীমানা ভেঙ্গেছিলেন, কোন চরিত্রই তাঁর কাছে ছোট মনে হয় নি। খুব ছোট চরিত্র করেও তিনি অনন্য হয়েছেন। বাংলা নাটকে মঞ্চে তিনি যেমন ছিলেন দক্ষ অভিনেতা, তেমনি সফল নাট্যকার, এবং নির্দেশক। ছোট বেলায় শখের থিয়েটারে কাজ শুরু করে জীবনে কখনো নাটককে ছেড়ে থাকেন নি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা কালে থিয়েটার ৭৩ এর সাথে কাজ শুরু। পরে ঢাকা এসে যুক্ত হন নাট্যদল 'থিয়েটার' এর সাথে। শুরু হয় গ্রুপ থিয়েটারে কাজ।         


তাঁর লেখা নাটক ‘কি চাহ শঙ্খ চিল’ এবং ‘রাজা অনুস্বরের পালা’ রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিচিত্র ও বহুমাত্রিক। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকসমূহে নিয়মিত কলাম লিখতেন। তাঁর বেশ কিছু নাটক, বাংলাদেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাঁর লেখায়, নাটকে হাসি, আনন্দ, দুঃখ বেদনা, সাম্প্রদায়িকতা, ক্ষয়িষ্ণু জীবন বা জীবনের দুর্নিবার আকর্ষণ, সমসাময়িক রাজনীতি, বিচ্ছেদ, লোভ, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্ষমতায়ন সহ জীবনের নানা উপাখ্যান উঠে এসেছে। এবং তা সহনীয় হাস্যরস, কৌতুক, প্রহসনের মত নিজ নিজ জায়গায় পাঠকের এবং দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বলা যায় ধন্য হয়েছে সে সব নির্মাণ। নাটকের বাইরে ভাষাতত্ত্ব নিয়ে তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ।         


৩২ বছরের বেশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ইউরোপীয় নাট্যকলায় শিক্ষাদান করেছেন। ১৯৬৪ সালে চট্টগ্রাম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা শুরু করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৭৬-৭৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ থেকে নিউ ইয়র্কে জাতি সংঘের বাংলাদেশ মিশনে সংস্কৃতি মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সেখানে তিনি বাংলা ভাষা, এবং বাঙালি জাতির প্রতিনিধিত্ব করেছেন, পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বহির্বিশ্বে। ২০১৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি কখনোই মিথ্যায় জীবন যাপন করেন নি। শেষ জীবনেও তিনি সাম্প্রদায়িকতা, এবং মৌলবাদের বিরুদ্ধে কণ্ঠ ধারণ করেছেন, লেখায় অকপট সত্য তুলে ধরেছেন। 


তাঁর সৃজনশীলতা আর বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার,  বাংলা নাটকে অবদানের জন্য ১৯৯৭ সালে একুশে পদক, ২০০৮ সালে নাট্যকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক বিশেষ সম্মাননা ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। 


এ পৃথিবীর সর্বত্র যখন শিক্ষা, সংস্কৃতির ছোঁয়া স্পষ্ট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যখন ঊর্ধ্বমুখী, অত্যন্ত দুঃখজনক ভাবে তখনো বাংলা উইকিপিডিয়ায় মমতাজউদদীন স্যার সহ অনেকের প্রোফাইলে মনগড়া কথা লেখা হচ্ছে, আজও বিভ্রান্ত হচ্ছে বাংলার জনগণ। বাংলার আর এক দার্শনিক ড. মমতাজউদ্দিন আহমেদ, ২৪ ডিসেম্বর ১৯০৩ – ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৭১, তাঁর প্রোফাইলে বলা হয়েছে তিনি ১৯৩৯ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে ঢাকা কলেজের প্রথম মুসলিম অধ্যক্ষ হন। একজন শিক্ষাবিদকে মুসলিম অধ্যক্ষ বলার কারণ কি, যদি তাঁর আগে পরের অন্য ধর্মের অধ্যক্ষদের ধর্মীয় দৃষ্টিতে দেখা না হয়। প্রত্যাশা করি এসব ভুলগুলো সংশোধনে তৎপর হবেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নীতিনির্ধারক ও আইন প্রণেতারা। সকল বাঙালি আইন প্রণেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি; মমতাজউদদীন স্যার ছিলেন ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক, কোন বিশিষ্ট বাঙালিকে তো নয়ই, তাঁর মত শ্রেষ্ঠ বাঙালিকে আমরা উইকিপিডিয়ার মত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে ধর্মান্ধর চোখে দেখতে চাই না। চাই মানুষ হিসেবে বিষয়গুলো বুঝে নিতে, সেভাবে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে জানাতে। কারণ তাঁরা যুগ যুগ ধরে যেমন আমাদের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, আমাদের প্রেরণা দিয়েছেন, তেমনি বর্তমানে; এবং আগামীতে আমাদের প্রেরণা দেবেন আগামীর কোন 'মমতাজউদদীন' স্যার, যিনি সবে মাত্র ভূমিষ্ঠ হয়েছেন, বা এখনো তাঁর জন্মই হয় নি।


বলছিলাম মমতাজ স্যারের কথা। স্যারের নাটক দেখার জন্য আমরা যেমন মঞ্চে ভিড় জমাতাম, তেমনি টেলিভিশনের সামনে অপেক্ষা করতাম, যখন তিনি ছিলেন টেলিভিশনের নিয়মিত অভিনেতা। 'মমতাজউদদীন' স্যার নাটকে আছেন মানেই ধরে নিতাম সে নাটক সুপার হিট হবে। হতোও তাই। নাটক শেষে স্যারের মুখে সংলাপ হয়ে যেতো আমাদের সংলাপ। সুনিপুণ অভিনয় শৈলী, নির্মল আনন্দ হাসি, আড্ডার মাঝেই আমরা শিখেছি তাঁর কাছে। স্যার যেমন ক্যামেরার সামনে আমাদের শেখাতেন, তেমনি ক্লাসে, নেপথ্যে, লেখায়, সৃষ্টিতে, নির্মাণে। স্যার ছিলেন সকল শিক্ষার্থীর প্রিয় শিক্ষক। এতো কিছুর পরও তিনি না পারার যন্ত্রণায় বিদ্ধ হয়েছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি অব্যক্ত ব্যথায় বলেছিলেন; ❝শিশুর মতো হয়ে গেছি আমি। আমার বাঁচার কোনও যোগ্যতা নেই, আমি আবর্জনা মাত্র।❞ তাঁর মতো মাটি ও মানুষকে ভালোবাসতে, সত্য উচ্চারণ করতে, খুব কম বাঙালিকেই দেখেছি। তাঁর মতো মানুষকে ভালো না বেসে থাকা যায় না। 


চিত্রসূত্র: আন্ত:র্যোগ !


সোমবার, ১০ জুন, ২০২৪

২০২৪ সালে জমি নামজারি বা খারিজ করতে কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ২০২৪ সালে জমি নামজারি বা খারিজ করতে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন?

শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিন। আপনাদের অনেকের প্রশ্নের উত্তর একসাথে।


জমিজমা হস্তান্তর, কর (LdTax) পরিশোধ, ব্যাংক লোন, রেকর্ড সংশোধন বা রেকর্ডীয় মালিক হতে জমি কর্তন করে বর্তমান গ্রহিতার নামে খতিয়ান সরবরাহের জন্য নামজারি/জমা খারিজ আবশ্যক। নামজারি করে নিলে বিক্রিত ভূমি বিক্রেতা পূনরায় ২য় পক্ষের নিকট বিক্রয় করতে পারে না। নামজারি বা খারিজ হচ্ছে মূলত রেকর্ড হালনাগাদকরন বা সংশোধনকরন প্রক্রিয়া।


যেভাবে নামজারি করে নিবেন ও যা যা কাগজপত্র লাগবেঃ


১। মূল দলিলঃ যেমন: সাফ-কবলা, হেবা, হেবাবিল এওয়াজ, বণ্টননামা, দানপত্র প্রভৃতি রেজিস্ট্রিকৃত মূল দলিল।


২।  বায়া দলিলঃ যদি জমিটি বায়া হয়ে মানে আপনি যার নিকট হতে জমি ক্রয় করেছেন তার দলিলটি লাগবে। আবার সে লোক যদি আরো বায়া হয়ে ক্রয় করে তবে সেই বায়া দলিলটিও দিতে হবে। অর্থাৎ জমির ধারাবাহিক হস্থান্তর মিল করার জন্য বায়া দলিল প্রয়োজন হয়ে থাকে।


৩। খতিয়ানঃ সর্বশেষ জরিপের (বি.আর.এস, আর.এস, বি.এস ইত্যাদি) খতিয়ানের সার্টিফাইড কপির ফটোকপি প্রয়োজন।


৪। খারিজ খতিয়ানঃ সর্বশেষ জরিপের খতিয়ান থেকে দলিলমূলে খারিজ করলে সেই খারিজ খতিয়ানের ফটোকপি প্রয়োজন। তবে নতুন ই-নামজারি সিস্টেমে খারিজ খতিয়ানটি থাকলে নামজারি আবেদনের সময় স্বয়ংক্রিয় ভাবে যাচাই হয়ে যাবে।


৫। খাজনা পরিশোধের দাখিলাঃ নামজারির জন্য খারিজ খতিয়ান হইলে এটি আবশ্যক। জমি হস্তান্তর করতে চাইলেই মালিকের এটি প্রয়োজন। স্মার্ট ভূমি উন্নয়ন কর সিস্টেমের মাধ্যমে খাজনা প্রদান করা হলে নামজারি আবেদনে স্বয়ংক্রিয় ভাবে হোল্ডিং নম্বর যাচাই হয়ে যাবে।


৬। উত্তরাধিকার সনদঃ যদি উত্তরাধিকারের সম্পত্তি ক্রয় করা হয় তবে উত্তরাধিকার সনদ লাগবে। এক্ষেত্রে সনদ নিতে ইউ/পি চেয়ারম্যান বা পৌরসভা/সিটিকর্পোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত সনদ আবশ্যক। এখানে মনে রাখতে হবে, সর্বশেষ বা হাল জরিপের মূল রেকর্ডীয় মালিক থেকে জমি ক্রয় করলে উত্তরাধিকার সনদ প্রযোজ্য নয়।


৭। ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রঃ একক বা যৌথ মালিক হলে প্রত্যেকের ও আবেদনকারী প্রতিনিধি হলে প্রতিনিধির ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি প্রয়োজন। বর্তমানে অনলাইন নামজারিতে এটি আবশ্যক।


[শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিন এবং ফলো দিয়ে সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত Zakigonj land survey office এর সাথেই থাকুন]


৮। ছবিঃ নামজারিতে ছবি আবশ্যক। ছবি না দিলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) নামজারি বাতিল করার ক্ষমতা রাখেন। তাই প্রত্যেক দলিল গ্রহীতা ও আবেদনকারী প্রতিনিধি হলে প্রতিনিধির পাসপোর্ট সাইজের এক কপি রঙ্গিন ছবি আবেদনের সময় আপলোড করতে হবে।


৯। মোবাইল নম্বরঃ আবেদনকারীকে অবশ্যই সচল মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। নামজারির অবস্থা বা অনলাইনে ওটিপি (অন টাইম পাসওয়ার্ড) প্রদানের জন্য মোবাইল নম্বর প্রয়োজন। মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে নামজারির হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়। তাই গ্রহিতা বা গ্রহিতা কর্তৃক নিযুক্ত প্রতিনিধির সচল মোবাইল নম্বর আবশ্যক। এটি ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক একাধিকবার প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।


স্মার্ট সেবা পোর্টাল ব্যবহারে সচেতনতা অবলম্বন জরুরী। তাই শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখার পাশাপাশি অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন। ধন্যবাদ।



প্রাচীন এশীয় দর্শন থেকে নেওয়া ৬টি লাইফ  লেসন ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 

প্রাচীন এশীয় দর্শন থেকে নেওয়া ৬টি লাইফ লেসন

চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াস এর কথা আমরা মোটামুটি সবাই শুনেছি। চীনের লু শহরে খ্রিস্টপূর্ব ৫৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। চীনসহ পূর্ব এশিয়ার জীবনদর্শনে তার প্রভাব অনেক বেশি। কনফুসিয়াস মূলত ছিলেন নীতিবাদী দার্শনিক। তিনি মনে করতেন, একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব বা চরিত্রগত উন্নতি যদি না ঘটে, আইন দিয়েও তাকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখা সম্ভব না।

৫২ বছর বয়সে লু প্রদেশের প্রধান আইনরক্ষকের দায়িত্ব পান তিনি। তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন লু রাজ্যে অন্যায়, অপরাধ এতটাই কমে যায় যে সেগুলি প্রায় হতই না। এই বিস্ময়কর পরিবর্তন কনফুসিয়াসকে লু রাজ্যের আইনরক্ষক থেকে প্রধানমন্ত্রী করে তোলে।

এত সময় পরে এসে এখনও এই দার্শনিক-চিন্তাবিদের শান্তি, শৃঙ্খলার দর্শন মানুষকে পথ দেখায়, আজও তা একই রকম প্রাসঙ্গিক।

কনফুসিয়াসের দর্শন থেকে আপনার জীবনেও কাজে লাগবে এমন ৬টি পরামর্শ থাকল এই লেখায়। জীবনযাত্রায় নতুন পথ খুঁজে বের করতে, এই শিক্ষাগুলিকে কাজে লাগাতে পারেন।
.

১. হাল ছাড়বেন না

“যতক্ষণ পর্যন্ত না থেমে যাচ্ছেন যাচ্ছেন, কত ধীরে অগ্রসর হচ্ছেন তা কোনো ব্যাপার নয়।”

সাফল্য একটি চলমান প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট সময়ে প্রত্যাশিত গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে তাই হতাশ হবেন না, মানসিক চাপে ভুগবেন না। কনফুসিয়াস বলেন, নিজের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেই আগানোর পরিমাণ এক ধাপ, বা এক ইঞ্চিই হোক, কিছু যায় আসে না।
.

২. সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন

“যা ই করতে চান, সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।”

জীবন আপনাকে যেদিকেই নিয়ে যাক, নিজের সম্পূর্ণ সত্তাকে সাথে নিয়ে সেখানে যান, নিজের শক্তি ছড়িয়ে দিন সবার মাঝে। মন দিয়ে ও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে চাইলে পর্বতসম কাজও করে ফেলা যায়।

আপনার আগ্রহ ও অধ্যবসায় যখন সবার চোখে পড়বে, আপনি পৃথিবী বদলে ফেলতে পারবেন।
.

৩. প্রস্তুতিই মূল বিষয়

“সাফল্য পূর্বপ্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে, এবং যথেষ্ট প্রস্তুতি না থাকলে ব্যর্থতা নিশ্চিত।”

এই বাক্যের সাথে আরেকটি কনফুসিয়ান নীতির মিল আছে। তা হল, “দক্ষ কারিগর প্রথমে নিজের যন্ত্রপাতিতে ধার দেয়।” এর অর্থ হল, জীবনে সাফল্য নির্ভর করে প্রস্তুতির ওপর। সাফল্য পাওয়া সহজ বিষয় নয়, এর জন্য দরকার পূর্বপ্রস্তুতি ও কঠোর পরিশ্রম।
.

৪. বন্ধুত্বও সাফল্যে ভূমিকা রাখে

“এমন কারও সাথে বন্ধুত্ব করবেন না যে আপনার চেয়ে ভাল নয়।”

বন্ধুরা আপনাকে ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। বন্ধুরা জীবনের যে পর্যায়ে থাকে, সেদিকে আমাদের পা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই, এমন বন্ধুদের সাথে রাখুন যারা অনুসরণীয়, যাদের সাথে আপনার মত ও মূল্যবোধের মিল আছে। একে অপরকে নিজেদের সেরা সত্তা হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যান।
.

৫. ক্ষমা করতে ও ভুলে যেতে শিখুন

“ভুল বড় কোনো ব্যাপার নয়, যদি না আপনি তা মনে রাখতে থাকেন।”

অনেক সময় আমাদের সাথে অন্যায় হয় বা ভুল আচরণ করা হয়। আপনি যতক্ষণ এসব মনে রাখবেন, ততক্ষণ কষ্ট পাবেন। ভুলে গেলে বা গুরুত্ব না দিলে এসব অন্যায় আমাদের পথরোধ করতে পারবে না।

ছোটখাটো বিষয়ে অতিরিক্ত সময় ও শক্তি নষ্ট করবেন না। অন্যের কাজ ও কথাকে আপনার একটি দিন নষ্ট করতে দেবেন না। তাদের কথা মাথায় নেবেন না। ক্ষমা করতে শিখুন ও দরকারি বিষয়ে মনোযোগ দিন।
.

৬. সবার কাছ থেকেই শেখার আছে

“আমি যদি দুইজন মানুষের সাথে হাঁটি, তাদের প্রত্যেকেই আমার শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন। একজনের কাছ থেকে আমি তার ভাল দিকগুলি শিখে তা চর্চা করব, অন্যজনের খারাপ দিকগুলি লক্ষ্য করে তা নিজের মধ্যে শুধরে নেব।”

এটি একটি অসাধারণ শিক্ষা। চারপাশে থাকা সবার থেকেই কিছু না কিছু শিখতে পারি আমরা। তাই যার কাছ থেকে যা শেখা যায়, শিখে নিন। অন্যদের কোন গুণগুলি আপনার ভাল লাগে, নিজের জীবনে চর্চা করতে চান তা বেছে নিন। তাদের নেতিবাচক গুণগুলিকে শিক্ষা হিসেবে নিন। নিজের মধ্যে কোন বিষয়গুলি দেখতে চান না, এসব তা মনে করিয়ে দেবে। জীবনে সবসময়ই শেখার আছে।

মোটিভেশন শিক্ষা 

দর্শন

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 


রংপুর বিভাগের আট জেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস --

 -- রংপুর বিভাগের আট জেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস --


কোন কিছুর নামকরণের ক্ষেত্রে একটা বিশেষ কারণ থাকে বা বিশেষ কোন পরিস্থিতির কারণেই কোন স্থান, কাল বা পাত্রের নামকরণ করা হয়। ঠিক তেমনি বাংলাদেশের উত্তর বাংলার আট জেলা নিয়ে গঠিত “রংপুর বিভাগ” এর জেলাগুলোর নামকরণের পিছনেও বিশেষ কারণ বা ইতিহাস রয়েছে। নীচে রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো। উল্লেখ্য, কোন কোন ক্ষেত্রে অনেক ভিন্নমতও রয়েছে।


১) পঞ্চগড় জেলা : “পঞ্চ” (পাঁচ) গড়ের সমাহার “পঞ্চগড়” নামটির অপভ্রংশ “পঁচাগড়” দীর্ঘকাল এই জনপদে প্রচলিত ছিল। কিন্তু গোড়াতে এই অঞ্চলের নাম যে, ‘পঞ্চগড়ই’ ছিলো সে ব্যাপারে সন্দেহর কোন অবকাশ নেই। বস্তুত ভারতীয় উপমহাদেশে “পঞ্চ” শব্দটি বিভিন্ন স্থান নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যেমন- পঞ্চনদ, পঞ্চবটী, পঞ্চনগরী, পঞ্চগৌড় ইত্যাদি। “পঞ্চনগরীর” দূরত্ব পঞ্চগড় অঞ্চল থেকে বেশি দূরে নয়। পঞ্চগড় জেলায় বেশ কিছু গড় রয়েছে তাদের মাঝে উল্লেখ করার মত গড় হল ভিতরগড়, মিরগড়, রাজনগড়, হোসেনগড়, দেবনগড়। ‘পঞ্চ’ অর্থ পাঁচ, আর ‘গড়’ অর্থ বন বা জঙ্গল। ‘পঞ্চগড়’ নামটি এভাবেই এসেছে।


২) ঠাকুরগাঁও জেলা : ঠাকুরগাঁও এর আদি নাম ছিল নিশ্চিন্তপুর। ঠাকুরগাঁওয়ের নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে আর যা পাওয়া গেছে তাহলো, বর্তমানে যেটি জেলা সদর অর্থাৎ যেখানে জেলার অফিস-আদালত অবস্থিত সেখান থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরে আকচা ইউনিয়নের একটি মৌজায় নারায়ণ চক্রবর্তী ও সতীশ চক্রবর্তী নামে দুই ভাই বসবাস করতেন। সম্পদ ও প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে তারা সেই এলাকায় খুব পরিচিত ছিলেন। সেখানকার লোকজন সেই চক্রবর্তী বাড়িকে ঠাকুরবাড়ি বলতেন। পরে স্থানীয় লোকজন এই জায়গাকে ঠাকুরবাড়ি থেকে ঠাকুরগাঁও বলতে শুরু করে। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি ৫টি থানা নিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।


৩) দিনাজপুর জেলা : জনশ্রুতি আছে জনৈক দিনাজ অথবা দিনারাজ দিনাজপুর রাজ পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নামানুসারেই রাজবাড়ীতে অবস্থিত মৌজার নাম হয় দিনাজপুর। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসকরা ঘোড়াঘাট সরকার বাতিল করে নতুন জেলা গঠন করে এবং রাজার সম্মানে জেলার নামকরণ করে দিনাজপুর।


৪) নীলফামারী জেলা : প্রায় দুই শতাধিক বছর পূর্বে এ অঞ্চলে নীল চাষের খামার স্থাপন করে ইংরেজ নীলকরেরা। এ অঞ্চলের উর্বর ভূমি নীল চাষের অনুকূল হওয়ায় দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় নীলফামারীতে বেশি সংখ্যায় নীলকুঠি ও নীল খামার গড়ে ওঠে। উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই দুরা কুটি, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ, টেঙ্গনমারী প্রভৃতি স্থানে নীলকুঠি স্থাপিত হয়। সে সময় বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের মধ্যে নীলফামারীতেই বেশি পরিমাণে শস্য উৎপাদিত মাটির উর্বরতার কারণে। সে কারণেই নীলকরদের ব্যাপক আগমন ঘটে অত্র অঞ্চলে । গড়ে ওঠে অসংখ্য নীল খামার। বর্তমান নীলফামারী শহরের তিন কিলোমিটার উত্তরে পুরাতন রেল স্টেশনের কাছেই ছিল একটি বড় নীলকুঠি। তাছাড়া বর্তমানে অফিসার্স ক্লাব হিসেবে ব্যবহৃত পুরাতন বাড়িটি ছিল একটি নীলকুঠি। ধারণা করা হয়, স্থানীয় কৃষকদের মুখে ‘নীল খামার’ রূপান্তরিত হয় ‘নীল খামারী’তে। আর এই নীলখামারীর অপভ্রংশ হিসেবে উদ্ভব হয় নীলফামারী নামের।


৫) রংপুর জেলা : রংপুর নামকরণের ক্ষেত্রে লোকমুখে প্রচলিত আছে যে পূর্বের ‘রঙ্গপুর’ থেকেই কালক্রমে এই নামটি এসেছে। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে উপমহাদেশে ইংরেজরা নীলের চাষ শুরু করে। এই অঞ্চলে মাটি উর্বর হবার কারণে এখানে প্রচুর নীলের চাষ হত। সেই নীলকে স্থানীয় লোকজন রঙ্গ নামেই জানত। কালের বিবর্তনে সেই রঙ্গ থেকে রঙ্গপুর এবং তা থেকেই আজকের রংপুর। অপর একটি প্রচলিত ধারনা থেকে জানা যায় যে রংপুর জেলার পূর্বনাম রঙ্গপুর। প্রাগ জ্যোতিস্বর নরের পুত্র ভগ দত্তের রঙ্গমহল এর নামকরণ থেকে এই রঙ্গপুর নামটি আসে। রংপুর জেলার অপর নাম জঙ্গপুর । ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব থাকায় কেউ কেউ এই জেলাকে যমপুর বলেও ডাকত। তবে রংপুর জেলা সুদূর অতীত থেকে আন্দোলন প্রতিরোধের মূল ঘাঁটি ছিল। তাই জঙ্গপুর নামকেই রংপুরের আদি নাম হিসেবে ধরা হয়। জঙ্গ অর্থ যুদ্ধ, পুর অর্থ নগর বা শহর। গ্রাম থেকে আগত মানুষ প্রায়ই ইংরেজদের অত্যাচারে নিহত হত বা ম্যালেরিয়ায় মারা যেত। তাই সাধারণ মানুষ শহরে আসতে ভয় পেত। সুদূর অতীতে রংপুর জেলা যে রণভূমি ছিল তা সন্দেহাতীত ভাবেই বলা যায়। ত্রিশের দশকের শেষ ভাগে এ জেলায় কৃষক আন্দোলন যে ভাবে বিকাশ লাভ করে ছিল তার কারণে রংপুরকে লাল রংপুর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।


৬) গাইবান্ধা জেলা : গাইবান্ধা নামকরণ সম্পর্কে কিংবদন্তী প্রচলিত আছ, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মৎস্য দেশের রাজা বিরাটের রাজধানী ছিল গাইবান্ধার গোবিন্দগজ থানা এলাকায়। বিরাট রাজার গো-ধনের কোন তুলনা ছিল না। তার গাভীর সংখ্যা ছিল ষাট হাজার। মাঝে মাঝে ডাকাতরা এসে বিরাট রাজার গাভী লুণ্ঠন করে নিয়ে যেতো। সে জন্য বিরাট রাজা একটি বিশাল পতিত প্রান্তরে গো-শালা স্থাপন করেন। গো-শালাটি সুরক্ষিত এবং গাভীর খাদ্য ও পানির সংস্থান নিশ্চিত করতে। নদী তীরবর্তী ঘেসো জমিতে স্থাপন করা হয়। সেই নির্দিষ্ট স্থানে গাভীগুলোকে বেঁধে রাখা হতো। প্রচলিত কিংবদন্তী অনুসারে এই গাভী বেঁধে রাখার স্থান থেকে এতদঞ্চলের কথ্য ভাষা অনুসারে এলাকার নাম হয়েছে গাই বাঁধা এবং কালক্রমে তা গাইবান্ধা নামে পরিচিতি লাভ করে।


৭) কুড়িগ্রাম জেলা : কুড়িগ্রাম জনপদ বেশ প্রাচীন। কুড়িগ্রাম-এর নাম করণের সঠিক ইতিহাস জানা যায়নি। অনেকে মনে করেন গণনা সংখ্যা কুড়ি থেকে কুড়িগ্রাম হয়েছে। কারো মতে কুড়িটি কলু পরিবার এর আদি বাসিন্দা ছিল। তাই এর নাম কুড়িগ্রাম। কেউ বা মনে করেন, রঙ্গপুর রাজার অবকাশ যাপনের স্থান ছিল কুড়িগ্রাম। প্রচুর বন-জঙ্গল ও ফল মূলে পরিপূর্ণ ছিল এই এলাকা, তাই ফুলের কুড়ি থেকে এর নাম হয়েছে কুড়িগ্রাম। ১৮০৯ সালে ডাঃ বুকানন হ্যামিলটন তাঁর বিবরণীতে বলেছেন-Kuriganj of which the market place is called Balabari in a place of considerable trade (martins Eastern India)। মিঃ ভাস তাঁর রংপুরের বিবরণীতেও এ অঞ্চলকে কুড়ি গঞ্জ বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু কুড়ি গঞ্জ নামের উৎপত্তি সম্বন্ধে কেউ কিছুই বলেননি। ১৯৮৪ সালের ২৩ শে জানুয়ারী ‘‘কুড়িগ্রাম’’ মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয়।


৮) লালমনিরহাট জেলা : লালমনিরহাট নামকরণ নিয়ে জনশ্রুতি আছে যে, ব্রিটিশ সরকারের আমলে বর্তমান লালমনিরহাট শহরের মধ্যে দিয়ে রেলপথ বসানোর সময় উল্লিখিত অঞ্চলের রেল শ্রমিকরা বন-জঙ্গল কাটতে গিয়ে জনৈক ব্যক্তি ‘লালমণি’ পেয়েছিলেন। সেই লালমনি থেকেই পর্যায়ক্রমে লালমনিরহাট নামের উৎপত্তি হয়েছে। অন্য এক সূত্র থেকে জানা যায়, বিপ্লবী কৃষক নেতা নুরুলদীনের ঘনিষ্ঠ সাথী লালমনি নামে এক ধনাঢ্য মহিলা ছিলেন। যার নামানুসারে লালমনিরহাট নামকরণ করা হয়েছে।


লিখেছেনঃ Poribartan Prottashi.


কপিরাইট : রংপুর, বাংলাদেশ

ফেইসবুক থেকে নেওয়া 




অস্ট্রেলিয়ার কুখ্যাত কালো পর্বতের রহস্য আজও উদঘাটন করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা "

 " অস্ট্রেলিয়ার কুখ্যাত কালো পর্বতের রহস্য আজও উদঘাটন করতে পারেনি বিজ্ঞানীরা "


কালো পর্বত, অস্ট্রেলিয়া::--


অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে রয়েছে কুখ্যাত ব্ল্যাক মাউন্টেন বা কালো পর্বত। কুকটাউন থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে কালো রঙের পাহাড়টি স্থানীয়দের কাছে রহস্যময় হয়ে আছে নানারকম অদ্ভুত কারণে। এই পর্বতে ছড়িয়ে আছে অজস্র গ্রানাইট পাথরের বোল্ডার, যেগুলির কোনোটির আকার প্রায় একটি বাড়ির সমান। 


বোল্ডারগুলোর ফাঁকে কোনো মাটি না থাকায় তৈরি হয়েছে একধরনের গোলকধাঁধার মতো পথ। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী এই পর্বতটিতে রাতের বেলা অদ্ভুত ছায়া মানবদের ঘুরতে দেখা যায়। একথা জনশ্রুতি রয়েছে অসংখ্য মানুষ নাকি এই পর্বতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। তবে সবটাই স্থানীয় অধিবাসীদের ধারণা মাত্র।


বাস্তবিকই কোনোরকম চিহ্ন ছাড়াই এই পর্বতে হারিয়ে গেছে দুর দূরান্ত থেকে আগত বহু মানুষ এবং তাদের খুঁজতে যাওয়া অনেক দল। যে কারণে এই পর্বত স্থানীয় মানুষদের কাছে পরিচিত মাউন্টেইন অব ডেথ বা মৃত্যু পর্বত নামে। একথাও জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায়ই নাকি এখানে এক চিকিৎসকের আত্মাকে দেখা যায়। 


এছাড়া এই পর্বতের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় বিমানের কম্পাস ঠিকমতো কাজ করেনা বলেও বিশ্বাস করা হয়। এমনকি পশুপাখিরাও ওই পর্বত এড়িয়ে চলতে চায় বলে দাবি করেছেন এলাকার বহু মানুষ।


তবে স্থানীয় মানুষদের এই ভ্রান্ত ধারণা গুলিকে বিজ্ঞানীরা কোনরকম ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বিজ্ঞানীরা স্রেফ এই সমস্ত তথ্যগুলি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বহু সংখ্যক গবেষক এই পর্বতটি নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন নিরন্তর ভাবে। শুধু ভবিষ্যতে হয়তো এই পর্বতের সংক্রান্ত অদ্ভুত তথ্য সঠিকভাবে মানুষের সামনে উঠে আসবে


Collected





জমি পরিমাপের পদ্ধতিঃ ইংরেজ বিজ্ঞানী গ্যান্টার জরিপ কাজে ব্যবহৃত চেইন আবিস্কার করেন

 জমি পরিমাপের পদ্ধতিঃ ইংরেজ বিজ্ঞানী গ্যান্টার জরিপ কাজে ব্যবহৃত চেইন আবিস্কার করেন। তাই তার নামানুসারে এ চেইনের নামকরন করা হয়েছে“গ্যান্টর্র্স চেইন”। এ চেইনের দের্ঘ্য ২২ গজ বা ৬৬ ফুট। এতে ১০০টি লিংক আছে। প্রতি লিংকের দৈর্ঘ্য ৭.৯২ ইঞ্চি এর দু মাথায় দুটো হাতল এবং দশম লিংক একটি করে “পেন্ডিল” বা পুলি আছে।

ইদানিং ফিতা/টেপ ব্যবহার করেও জমি পরিমাপ করা হয়। সার্ভেয়ার বা আমিন সব সময় পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত হিসাব ও পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে আপনি নিজেই জমি পরিমাপ করতে পারবেন।

হিসাবটি হলোঃ ১০০০ বর্গ লিংক (৩১.৬২x৩১.৬২ লিংক) ১ শতাংশ। 

১৯৪.৬ বর্গ হাত (১৩.৯৫x১৩.৯৫ হাত) = ১ শতাংশ। ১০.০০০ বর্গ লিংক(১x১ চেইন) = ১০ শতাংশ। ৩৩.৩ শতাংশ কার্যত ৩৩ শতাংশ = ১ বিঘা। (ষ্টান্ডার্ড বিঘা) ১০০ শতাংশ বা ৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর। ৪৮৪০x৯ (৯ বর্গফুট = ১ বর্গ গজ বলে = ৪৩৫৬০ বর্গফুট। ৪৩৫৬০ ১০০ (১০০ শতাংশ ১ একর বলে)= ৪৩৫.৬ বর্গফুট। অতএব ১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট বা ৪০.৪৬ বর্গমিটার (প্রায়)

আমাদের দেশে কোথাও ৩৫ শতাংশে ১ বিঘা, কোথাও ৩৩ শতাংশে ১ বিঘা আবার ইদানিং ৩০ শতাংশে ১ বিঘা বলা হচ্ছে। যদিও সরকারী বিঘা ৩৩ শতাংশেই গুনা করা হয়। অপরদিকে কাঠার পরিমাণ শতাংশের পরিমাণে স্থান বিশেষ পার্থক্য হলেও ২০ কাঠায় ১ বিঘার হিসেবে সর্বত্র প্রচলিত ও স্বীকৃত আছে।

বিঘা থেকে কাঠা ও শতাংশ বের করার পদ্ধতিঃ 

৩৫ শতাংশ ১ বিঘা ধরে হিসেব করলে ১ কাঠা = ১.৭৫ শতাংশ বের করার পদ্ধতি হলো: 

১ কাঠা = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট x৩৫ (৩৫ শতাংশে বিঘা হিসাবে) ২০ (২০ কাঠায় বিঘা বলে) 

১ কাঠা = ১৫২৪৬২০ = ৭৬২.৩ বর্গ ফুট, 

১ কাঠা ৭৬২.৩ ৪৩৫.৬ = ১.৭৫ শতাংশ। 

অনুরুপ ভাবে ৩৩ শতাংশে ১ বিঘা ধরলে ১ কাঠা সমান = ৪৩৫.৬x৩৩ ২০ = ৭১৮.৭৪ বর্গফুট, 

১ কাঠা সমান ৭১৮.৭৪ ৪৩৫.৬ = ১.৬৫ শতাংশ। অনুরুপ ভাবে ৩০ শতাংশে ১ বিঘা ধরলে ১ কাঠা সমান = ১.৫০ শতাংশ।

বিভিন্ন পরিমানে জমির হিসেব: 

১ শতক = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট ১ শতক = ৪৮.৪০ বর্গগজ ১ মতক ৪০.৪৬ বর্গমিটার ১ শতক = ১৯৪.৬০ বর্গহাত ১ মতক ১০০০ বর্গলিংক ১ কাঠা = ১.৭৫ শতক (৩৫ এর মাপে) 

১ কাঠা = ১.৬৫ শতক (৩৩ এর মাপে

) ১ কাঠা = ১.৫০ শতক (৩০ এর মাপে) 

১ একর = ৬০.৬০ কাঠা ১ একর = ৩.০৩ ১ হেক্টর = ২.৪৭ একর ১ একর = ৪৩৫৬০ বর্গফুট ১ একর = ৪৮৪০ বর্গগজ ১ একর = ৪০৪৬ বর্গমিটার

 ১ একর = ১৯৪৬০ বর্গহাত ১ একর = ১০০০০০ বর্গলিংক।


উদাহরণঃ 

একটি জমির দৈর্ঘ্য উত্তর আইল ৫০ ফুট, দক্ষিণ আইল ৫৪ ফুট, প্রস্থ পশ্চিম আইল ৩০ ফুট, ভিতরে এক অংশে ৩৪ পুট, এক অংশে ৩৮ ফুট এবং পূর্ব আইল ৪০ ফুট জমিটির পরিমাণ কত ?


জমিটির দৈর্ঘ্য ৫০+৫৪ = ১০৪ (দুই দিকের দৈর্ঘ্য যোগ করা হলে) তাই ২ দিয়ে ভাগ করলে দৈর্ঘ্য পাওয়া যায় (১০৪ ভাগ ২) = ৫২ ফুট। 

জমিটি প্রস্থে অসম হওয়ায় এর ২ দিকের বাউন্ডারীর প্রস্থ ছাড়াও ভিতরের দিকে অন্তত ২াট প্রস্থ পরিমাপ এবং তা গড় করে মূল প্রস্থ বের করা যায় ৩০+৪০+৩৪+৩৮ = ১৪২ (ফুট) এর গড় (১২৪ ভাগ ৪) ৩৫.৫ ফুট। 


ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য x প্রস্থ = ৫২ x ৩৫.৫ = ১৮৪৬ বর্গফুট (জমিটির ক্ষেত্রফল) সূত্র মরত ৪৩৫.৬০ বর্গফুট = ১ শতাংশ। অতএব উপরের জমিটির পরিমাণ (১৮৪৬ ভাগ ৪৩৫.৬০) = ৪.২৪ শতাংশ।



রাত ৮টা ৩০ মিনিটের সংবাদ তারিখ ১৪-০৫-২০২৬

 রাত ৮টা ৩০ মিনিটের সংবাদ তারিখ ১৪-০৫-২০২৬ আজকের সংবাদ শিরোনাম আগামী বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারিতে, এইচএসসি জুনে --- জানালেন শিক...