এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪

হজরত উসমান (রাঃ) যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন, তখন এমনভাবে কাঁদতেন যে, নিজের দাড়ি মোবারক ভিজে যেত।,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 হজরত উসমান (রাঃ) যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন, তখন এমনভাবে কাঁদতেন যে, নিজের দাড়ি মোবারক ভিজে যেত। তাই একবার তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো- আপনি জান্নাত ও জাহান্নাম স্মরণ করে এত কাঁদেন না, যতটুকু কাঁদেন কবর দেখে, এর কারণ কী?

 তিনি বললেন, রাসুল ﷺ বলেছেন, কবর হচ্ছে আখেরাতের প্রথম ঘাঁটি। এখানে যদি কেউ রক্ষা পেয়ে যায়, তাহলে পরবর্তী সব ঘাঁটি তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। 

আর এখানে কেউ যদি রক্ষা না পায় তাহলে পরবর্তী সব ঘাঁটি তার জন্য খুব কঠিন হবে।

তিনি আরও বললেন, রাসুল ﷺ বলেছেন, মেরাজের রজনীতে আমি যত ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছি তার মধ্যে কবরের আজাবই হচ্ছে সবচেয়ে ভয়াবহ। 

হে আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবরের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি দিও 

আমার প্রিয় ভাইকে আল্লাহ জান্নাত বাসি করুন, 

------------------------------( আমিন)

(তিরমিজি শরিফ, হাদিস নং-২৩০৮)

 

حضرت عثمان رضی اللہ عنہ جب کسی قبر کے پاس کھڑے ہوتے تو اتنا روتے کہ داڑھی تر ہو جاتی۔  تو ایک دفعہ ان سے پوچھا گیا کہ تم جنت اور جہنم کو یاد کرکے اتنا نہیں روتے لیکن قبر کو دیکھ کر روتے ہو، اس کی کیا وجہ ہے؟


 ♐♐♐♐♐♐

  انہوں نے کہا کہ رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے فرمایا قبر آخرت کی پہلی بنیاد ہے۔  اگر کوئی یہاں سے فرار ہو جائے تو اس کے لیے اگلے تمام اڈے آسان ہو جائیں گے۔ 

 اور اگر کوئی یہاں نہیں بچا تو اس کے بعد کے تمام اڈے اس کے لیے بہت مشکل ہوں گے۔

 انہوں نے یہ بھی کہا کہ رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے فرمایا کہ میں نے معراج کی رجنی میں جو سب سے ہولناک چیز دیکھی وہ عذاب قبر ہے۔ 

 اے اللہ ہم سب کو قبر کے سخت عذاب سے نجات عطا فرما 

 اللہ میرے پیارے بھائی کو سلامت رکھے۔ 

 -------------------------------------------- (آمین)

 (ترمذی شریف، حدیث نمبر-2308

লাল_পাঁড়ের_সাদা_শাড়ি ফেইসবুক গল্প

 থমথমে শিকদার বাড়ি। কারো মুখে কোন কথা নেই। এ বাড়ির সবচেয়ে কনিষ্ঠ কন্যা চৈতালীর আজ বিয়ে ছিলো। কিন্ত বর আসেনি। আজ থেকে ছয়মাস আগে মোর্শেদ মির্জার ছেলে আশরাফ মির্জার সাথে চৈতালীর আংটি বদল হয়েছিল। এতদিন তারা দেখা সাহ্মাৎ করেছে। ভালো একটা বোঝােপড়াও হয়েছিলো তাদের মধ্যে। বিয়ে ভাঙার হলে আগেই বলতে পাড়তো, আজ এরকম নাটক করে মান সম্মান  খাওয়ার মানে কি?? রাগে দপদপ করছে শিকদার বাড়ির মানুষ। একহাত দেখে নিবে বলে শাসাচ্ছে মির্জাদের। 

সকলের সম্মুখে মাথা নত করে আছে মোর্শেদ মির্জা। হ্মমা চাওয়া ছাড়া তার আর কোন উপায় নেই। তবে শিকদার বাড়ির লোকজনের ভাব- গতিক ভাল লাগছে না। কি করে বসে বোঝা মুশকিল। হ্মুনাহ্মরেও তিনি ছেলের মনের কথা বুঝতে পারেন নি। গতকাল অবধি ছেলেকে দেখে মনে হয়েছে সে চৈতালী বিনে কিছু বুঝে না। সেই ছেলে যে পালিয়ে যাবে কে জানতো? একবার হাতের কাছে পাক ছেলেকে তার কি করা লাগে তার জানা আছে। তার আগে এখান থেকে বের হতে হবে।  শিকদার দের মাথা এখন গরম। কি করতে কি করে ফেলে বলা যায় না। তবে চৈতালীর জন্য খারাপ লাগছে তার।  কি সুন্দর মেয়েটা। নাটক সিনেমা বা উপন্যাসের মত তার যদি আর একটা ছেলে বা ভাতিজা থাকতো তাহলে চৈতালীকে আজ তার সাথে বিয়ে দিতো। আফসোস নেই। থাকার মধ্যে ঐ কুলাঙ্গার ছেলেই আছে। 


বিছানায় স্তব্দ হয়ে বসে আছে চৈতালী। কিছুক্ষণ আগ পর্যন্ত সে ভেবেছিলো আশরাফ মজা করছে। ঠিক চলে আসবে।  তবে কয়েক মিনিট আগে আসা আশরাফের মেসেজে পুরো দুনিয়া উল্টে গেছে চৈতালীর। মেসেজে আশরাফ লিখেছে- 

চৈতালী 

তুমি হয়তো এতহ্মন খবর পেয়ে গেছো আমি পালিয়েছি। বিশ্বাস করতে পারছো না তাই না?? আমি জানি আমি তোমাকে কষ্ট দিয়েছি। গত ছয়মাস তোমার সাথে নাটক করেছি। তোমাকে মিথ্যা সংসারের স্বপ্ন দেখিয়েছি। কিন্তু এছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিলো না। আমি মিতু নামে একটা মেয়েকে ভালবাসি।  দু বছর আগে আমরা গোপনে বিয়েও করছি। মিতু আমার ক্লাসমেইট।  আমরা সেইম এজের বলতে পারো। বাবাকে মিতুর কথা বলেছিলাম।  বাবার ধারণা মিতুর বয়স বেশী। ছেলের বউ হবে কমবয়সী। তাই ২৫ বছরের আমার জন্য ১৭ বছরের তোমাকে পছন্দ করলেন। মিতুর সাথে আমার সম্পর্ক কলেজ থেকে৷ এই আমার জন্য ও জীবনে হাজার টা বিয়ে ভেঙেছে।  ওর মনে কিভাবে কষ্ট দিতাম বলো? পারলে আমাকে মাফ করে দিও। তোমার মন ভাঙ্গার কোন ইচ্ছা আমার ছিলো না। কিন্তু  আমি ও নিরউপায় ছিলাম। 

 

 আশরাফ


চলবে...................🍁


লাল_পাঁড়ের_সাদা_শাড়ি

সূচনা_পর্ব

লেখকঃসামিরা_আক্তার

জুলিয়া রবার্টস সম্প্রতি তার বয়স হয়ে যাওয়া এবং অল্পবয়সী দেখানোর জন্য— তার অনেক সহকর্মীর মতো— বয়স না-লুকানো নিয়ে খোলামেলা আলাপে বলেছেনঃ

 জুলিয়া রবার্টস সম্প্রতি তার বয়স হয়ে যাওয়া এবং অল্পবয়সী দেখানোর জন্য— তার অনেক সহকর্মীর মতো— বয়স না-লুকানো নিয়ে খোলামেলা আলাপে বলেছেনঃ


“আমি আত্মসম্মানের সাথেই বুড়ো হচ্ছি, মজা পাচ্ছি এতে, নিজেকে প্রশান্ত লাগছে আগের তুলনায়।


বুবস-লিফটিং বা বোটক্সের শরণাপন্ন হই না, জানি এতে হলিউড-স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী আমি আমার ক্যারিয়ারকে ঝুঁকিতে ফেলছি। যদি বয়স্ক দেখানোর কারণে তারা আমাকে ফিল্মে আর নিতে না-চায়, ভেবে নেবো— ঠিকাছে, আমার মতো জীবন নিয়ে আমি ভালো আছি। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে— নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে যেয়ে কাজ করাকে গুরুত্বপূর্ণ না-ভাবা।


প্রচুর মাকে চিনি আমি, যারা জীবন সামলাতে ভীষণ বেগ পাচ্ছেন তাদের চেহারা নিয়ে অন্যে কী ভাবছে এই ভাবনা ভাবতে গিয়ে। এটা ভয়ানক সমস্যা। আমি ওই নারীদেরকে ভীষণ পছন্দ করি, যারা ক্যারিয়ার, পরিবার, সবদিক সামলাতে যেয়ে পরিশ্রমের দাগ চেহারায়-দেহে মেখেই দেখতে চমৎকার। সত্যি বলতে কী, আমার ভয় অন্যখানে।


আমি ভয়ে থাকি, আমার সন্তানদেরকে মানুষ করতে পারছি কিনা, তাদের সুন্দর আচারব্যবহারকে দুর্বলতা ভেবে অন্যরা তাদেরকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে কিনা। আমার কাছে— শুধুমাত্র নিজে রূপবতী থাকার চেয়ে আমার পরিবারকে রূপবতী করে তোলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


আমার যা অর্জন, এ নিয়েই নিজেকে ভাগ্যবতী ভাবি। আমার স্বামী এবং বাচ্চাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমার সুন্দরতম মুহূর্ত ওগুলো নয় যেগুলো আমি চলচ্চিত্রের সেটে কাটাই, বরঞ্চ ওই মুহূর্তগুলোই যেসব আমি পরিবারের সাথে ব্রেকফাস্টে কাটাই নানান খুনসুটিতে-অভিযোগে-আলাপে-অনুযোগে-মমতায়-অভিমানে-স্নেহে-ভালোবাসায় এবং সুখে।


মুহূর্তগুলো স্বপ্নের মতো!"

অন্তর্জাল 🖤

ও বাজান চল যাই চল ___জসীম উদ্‌দীন (পদ্মাপার কাব্যগ্রন্থ)

 ও বাজান চল যাই চল

___জসীম উদ্‌দীন (পদ্মাপার কাব্যগ্রন্থ)


ও বাজান, চল, যাই চল

মাঠে লাঙল বাইতে,

গরুর কাঁধে লাঙল দিয়া

ঠেলতে ঠেলতে ঠেলতে।

মোরা লাঙল খুঁড়ে ফসল আনি

পাতাল পাথার হইতে,

সব দুনিয়ার আহার জোগাই

সেই না ফসল হইতে,

আর আমরা কেন খাইতে না পাই

পারো কি কেউ কইতে।


বউ দিয়াছে গলায় দড়ি সাতদিন না খাইতে,

ভুখের জ্বালা সইতে, কবরখানায় রইতে;

এবার লাঙর দিয়ে খুঁড়ি মাটি তারি দেখা পাইতে।

মোরা, মাঠ চিরি ভাই! লাঙল দিয়ে,

মোদের বুক চেরা তার চাইতে,

মাঠ চিরিলে ফসল ফলে,

ও ফসল ফলে না বুক হইতে।

এবার মাটি খুঁড়বরে ভাই, ফসল নাহি পাইতে,

ও মাটি খুঁড়ে দেখব আর কতদূর কবরখানায় যাইতে।

সুদক্ষিণার আরেক নাম ছিল পূর্ণিমা। দাদা দিদিদের সাহচর্যে বড়ো হচ্ছিলেন পূর্ণিমা তথা সুদক্ষিণা

 সুদক্ষিণার আরেক নাম ছিল পূর্ণিমা। দাদা দিদিদের সাহচর্যে বড়ো হচ্ছিলেন পূর্ণিমা তথা সুদক্ষিণা। একটু বড়ো হওয়ার পরেই তাঁর রূপের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল। আশ্চর্য এক সৌন্দর্য! পরিবারের মধ্যে তখন বেশ জল্পনা, এ মেয়ে তো রাজরানীর মতো রূপ নিয়ে এসেছে। সত্যিই রাজরানী হলেন।


 পাত্র উত্তরপ্রদেশের হরদৈ জেলার জমিদার, পণ্ডিত জ্বালাপ্রসাদ পাণ্ডে। তিনি পারিবারিক দিক থেকে জমিদার হলেও একজন আই সি এস অফিসারও ছিলেন। ঠাকুরবাড়ির সুন্দরী মেয়ে সুদক্ষিণার যথার্থ দোসর। ঠাকুরবাড়ির অন্যান্য মেয়েদের মতো ‘পুণ্য’ পত্রিকায় তিনিও লিখেছিলেন। তবে রান্নার লক্ষ্ণৌ প্রণালী নিয়ে। স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনে অত্যন্ত  সুখী ছিলেন। জমিদারি পরিচালনা, ঘোড়ায় চড়া, বন্দুক ছোঁড়া, ইংরেজি ভাষাচর্চা — সবটাই স্বামীর সঙ্গেই আয়ত্ত করেছিলেন। মাত্র সাতাশ বছর বয়সে স্বামীকে হারিয়ে, বিরাট বৈভবের মধ্যে একলা হয়ে পড়েন তিনি। যেন রহস্যময় সৌরজগতে একলা চাঁদের আলো। সেইসময়ের এক বিধবা, নিঃসন্তান , সুন্দরী যুবতী!


 ভেবেই নেওয়া হয়েছিল, পণ্ডিত জ্বালাপ্রসাদ পাণ্ডের জমিদারির অবশেষটুকুও থাকবে না। অথচ, গল্পটা ঠিক উল্টো হল। ঠাকুরবাড়ির এই মেয়েটি কলম ধরলেন না সেইভাবে। কিন্তু ঘোড়ায় চড়ে, হাতে বন্দুক নিয়ে জমিদারি এলাকা পরিদর্শন করে বেড়াতেন। অচিরেই তিনি নিজে হয়ে উঠলেন হরদৈ জেলার জমিদার। কাউকেই পরোয়া করতেন না সুদক্ষিণা। আসলে জীবন তাঁকে বেপরোয়া হতেই শিখিয়েছে। সুদক্ষিণার কীর্তির কথা বাংলাদেশে সুপরিচিত ছিল না। অথচ সুদূর উত্তরপ্রদেশে ঠাকুরবাড়ির একটি মেয়ে ঠিক চিত্রাঙ্গদার মতো স্নেহবলে মাতা ও বাহুবলে পিতা হয়ে উঠলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁদের বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে, এমনটাই ভেবেছিলেন সকলে। বিশেষ করে ব্রিটিশ সরকার। কিন্তু সকলের ধারণা মিথ্যে প্রমাণ করে বীরাঙ্গনার মতো ব্যক্তিত্ব নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ালেন রানি সুদক্ষিণা। ঘোড়ায় চড়ে প্রজাদের দুঃখ দুর্দশার কথা শুনতে যেতেন। বিচার করতেন শক্ত হাতে। তাঁর আমলকে সকলে বলত, রামরাজত্ব! 


বেশ কয়েকজন তেজস্বী ডাকাতকে নিয়ে রক্ষীবাহিনী তৈরি করেছিলেন তিনি। ইংরেজ সরকার রীতিমতো নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েছিল। উত্তরপ্রদেশে তাঁকে ‘মুকুটহীন রানি’ বলা হত। ইংরেজ সরকার তাঁকে তিনবার ‘মহারানি’ খেতাব দিতে চেয়েছিল। তিনবারই পূর্ণিমা তা প্রত্যাখ্যান করেন। ‘ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল’ বইতে চিত্রা দেব এমন কথা লিখেছেন। বিদ্যার প্রতি অমোঘ টান থেকেই ভাষাকে সম্মান জানাতে পেরেছিলেন সুদক্ষিণা। উত্তরপ্রদেশের অনগ্রসর মেয়েদের জন্য একটি বালিকা বিদ্যালয়ও স্থাপন করেছিলেন। পূর্ণিমা নামে ‘দ্য ইন্ডিয়ান ভিলেজ গার্ল’ নামে একটি অর্কেস্ট্রায় সুরও দিয়েছিলেন। এখনও হয়তো উত্তরপ্রদেশের বুধাওন, হরদৈ জেলার অতীত স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছেন রানি সুদক্ষিণা, ঠাকুরবাড়ির একটি মেয়ে!

তথ্যসূত্র

ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল, চিত্রা দেব

সংগৃহীত গল্পটি যারা পড়েনি তাদের জন্য :-,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সংগৃহীত গল্পটি যারা পড়েনি তাদের জন্য :-


ফ্রান্ৎস কাফকা কখনো বিয়ে করেননি এবং তাঁর কোনো সন্তানাদিও ছিল না। তাঁর বয়স যখন ৪০, তখন একদিন তিনি বার্লিনের পার্কে হাঁটছিলেন। এমন সময় তিনি একটি ছোট্ট মেয়েকে দেখলেন যে তার প্রিয় পুতুলটি হারিয়ে কাঁদছিল। সেই মেয়েটি এবং কাফকা, দু’জনে মিলে খুব খুঁজলেন হারিয়ে যাওয়া পুতুলটিকে। কিন্তু কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না তা।

কাফকা মেয়েটিকে পরের দিন আবার সেখানে আসতে বললেন। উদ্দেশ্য, আবার তাঁরা দু’জনে মিলে হারিয়ে যাওয়া পুতুলটি খুঁজবেন সেখানে।

কিন্তু পরের দিনও পুতুলটিকে খুঁজে পাওয়া গেল না। তখন কাফকা ছোট্ট মেয়েটিকে একটি চিঠি দিলেন। আর বললেন, ‘এই চিঠিটি তোমার হারিয়ে যাওয়া পুতুলের লেখা’। সে চিঠিতে লেখা ছিল, ‘দয়া করে তুমি কেঁদো না। আমি পৃথিবী দেখতে বেরিয়েছি। আমি আমার রোমাঞ্চকর ভ্রমণকাহিনী তোমাকে নিয়মিত লিখে জানাব।’

এভাবেই শুরু হয়েছিল একটি গল্পের, যা চলেছিল কাফকার মৃত্যু পর্যন্ত।

ছোট্ট মেয়েটির সঙ্গে কাফকার নিয়মিত দেখা হতো। আর যখনই দেখা হতো তখনই কাফকা একটি চিঠি দিতেন মেয়েটিকে, বলতেন সেই একই কথা, ‘চিঠিটি তার হারিয়ে যাওয়া পুতুলের লেখা’, এবং পড়ে শোনাতেন তার প্রিয় পুতুলের বিশ্ব-ভ্রমণের রোমাঞ্চকর সব বর্ণনা খুব যত্নের সাথে, যে বর্ণনাগুলো মেয়েটিকে ভীষণ আনন্দ দিত।

এর কিছুদিন পর একদিন কাফকা একটি পুতুল কিনলেন এবং মেয়েটিকে দিলেন। বললেন, ‘এই নাও, তোমার হারিয়ে যাওয়া সেই পুতুল।’

মেয়েটি বললো, ‘এই পুতুলটি মোটেও আমার হারিয়ে যাওয়া পুতুলের মতো দেখতে নয়।’

কাফকা তখন মেয়েটিকে আরও একটা চিঠি দিলেন যেটাতে তার প্রিয় পুতুলটি তাকে লিখেছে, ‘ভ্রমণ করতে করতে আমি অনেক পাল্টে গিয়েছি।’

ছোট্ট মেয়েটি তখন নতুন পুতুলটিকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল এবং অপার আনন্দে ভাসল।

এর এক বছর বাদে কাফকা মারা যান।

বহু বছর বাদে, সেই ছোট্ট মেয়েটি যখন অনেক বড় হয়ে গেছে, তখন সে সেই পুতুলটির ভিতরে একটি ছোট্ট চিঠি পায়। কাফকার সই করা ছোট্ট সে চিঠিটিতে লেখা ছিল, ‘Everything you love will probably be lost, but in the end, love will return in another way . ’   .........

ফ্রান্ৎস কাফকা ছিলেন একজন জার্মান ভাষার উপন্যাস ও ছোটগল্প লেখক।

ঈশপ (Aesop) ছিলেন এক প্রখ্যাত গ্রিক উপন্যাসকার ও গল্পকার,

 ঈশপ (Aesop) ছিলেন এক প্রখ্যাত গ্রিক উপন্যাসকার ও গল্পকার, যিনি প্রায় ২৫০০ বছর আগে বাস করতেন। তাঁর রচনা ও উপদেশগুলি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলতে থাকলেও তাঁর জীবন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য নেই। তবে, তিনি যে ধরনের গল্প রচনা করেছিলেন তা আজও বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। ঈশপের কর্ম সম্পর্কে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নিচে আলোচনা করা হলো:


১. ঈশপের পরিচয়: ঈশপ ছিলেন একজন দাস, যিনি গ্রীসের সাদী অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত ইতিহাস নেই, তবে তিনি প্রাচীন গ্রীসে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন।


২. ঈশপের গল্পের ধরন: ঈশপের রচনা সাধারণত ছোট গল্প বা উপকথা হিসেবে পরিচিত, যা সাধারণত পশুদের মাধ্যমে মানবীয় গুণাবলী এবং নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে। তাঁর গল্পগুলিতে সাধারণত একথা বলার চেষ্টা করা হয় যে, চরিত্র বা ঘটনাগুলির মধ্যে শিক্ষা লুকানো থাকে।


৩. ঈশপের কাল্পনিক চরিত্র: ঈশপের গল্পগুলোতে মূলত পশুদের চরিত্র থাকে, যেগুলি মানুষের মতো আচরণ করে এবং মানবিক গুণাবলী প্রতিফলিত করে। তাঁর গল্পগুলিতে শিয়াল, শূকর, খরগোশ, হাতি, বাজপাখি ইত্যাদি পশুদের গুরুত্ব ছিল।


৪: নৈতিক শিক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি: ঈশপের গল্পগুলির মূল উদ্দেশ্য ছিল মানব সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ এবং ভালো আচরণ শেখানো। তাঁর গল্পগুলোতে লোকদের বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য, আত্মবিশ্বাস, দুর্বলতা এবং প্রকৃত শৌর্য সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।


৫: বিশ্ববিদ্যালয়ে জনপ্রিয়তা: ঈশপের গল্পগুলো শুধুমাত্র প্রাচীন গ্রীসে জনপ্রিয় ছিল না, তা বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলেছে। তাঁর রচনা মধ্যযুগ এবং আধুনিক যুগেও অনেক পঠন-পাঠনে প্রভাবিত করেছে।


৬: উল্লেখযোগ্য গল্প: ঈশপের কিছু বিখ্যাত গল্পগুলির মধ্যে "শিয়াল ও আঙুর", "কচ্ছপ ও খরগোশ", "মিষ্টি মুখ, তৃষ্ণা" এবং "গাভী ও তার বাচ্চা" অন্তর্ভুক্ত। এই গল্পগুলো খুব সহজ ভাষায় লেখা, যা সহজে মানুষের মনের মধ্যে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।


৭: ঈশপের শিক্ষা: ঈশপের গল্পগুলো প্রমাণ করে যে, ভালো আচরণ, সততা, পরিশ্রম, এবং বিচক্ষণতা সর্বদা পুরস্কৃত হয়। তিনি প্রচুর সময় ধরে নৈতিক শিক্ষা দিয়ে গেছেন, যা মানব জীবনের সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।


৮: আধুনিক সংস্করণ: ঈশপের গল্পগুলো যুগে যুগে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং তাঁর শিক্ষাগুলো এখনো আধুনিক সমাজে মূল্যবান হয়ে উঠেছে। তাঁর গল্পগুলির আধুনিক সংস্করণও বিভিন্ন শিক্ষামূলক বইয়ে দেখা যায়।


৯: ঈশপের চরিত্রের প্রভাব: ঈশপের গল্পগুলোতে তার অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্ররা আজও প্রভাব বিস্তার করে। পৃথিবীজুড়ে শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক গল্প হিসাবে ঈশপের নাম উচ্চারিত হয়।


১০: ঈশপের সাংস্কৃতিক অবদান: ঈশপের গল্প শুধু সাহিত্যের দিক থেকে নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর গল্পগুলো নানা সমাজের নানা মানুষের মধ্যে সংলাপ তৈরি করেছে, যা বিশ্ব সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ঈশপের গল্পগুলি সময় ও স্থান অতিক্রম করে আজও সমানভাবে মানুষের মনে বেঁচে আছে। তার সহজ, সরল ভাষা এবং গভীর শিক্ষা আজও আমাদের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে।

নকশী কাঁথার মাঠ __ পল্লী কবি জসীম উদ্‌দীন

 নকশী কাঁথার মাঠ

__ পল্লী কবি জসীম উদ্‌দীন7

সংক্ষিপ্ত 


একটি বছর হইয়াছে সেই রূপাই গিয়াছে চলি,

দিনে দিনে নব আশা লয়ে সাজুরে গিয়াছে ছলি |

কাইজায় যারা গিয়াছিল গাঁয়, তারা ফিরিয়াছে বাড়ী,

শহরের জজ, মামলা হইতে সবারে দিয়াছে ছাড়ি |

স্বামীর বাড়ীতে একা মেয়ে সাজু কি করে থাকিতে পারে,

তাহার মায়ের নিকটে সকলে আনিয়া রাখিল তারে |

একটি বছর কেটেছে সাজুর একটি যুগের মত,

প্রতিদিন আসি, বুকখানি তার করিয়াছে শুধু ক্ষত |


ও-গাঁয়ে রূপার ভাঙা ঘরখানি মেঘ ও বাতাসে হায়,

খুঁটি ভেঙে আজ হামাগুড়ি দিয়ে পড়েছে পথের গায় |

প্রতি পলে পলে খসিয়া পড়িছে তাহার চালের ছানি,

তারও চেয়ে আজি জীর্ণ শীর্ণ সাজুর হৃদয়খানি |

রাত দিন দুটি ভাই বোন যেন দুখেরই বাজায় বীণ |

কৃষাণীর মেয়ে, এতটুকু বুক, এতটুকু তার প্রাণ,

কি করিয়া সহে দুনিয়া জুড়িয়া অসহ দুখের দান!

কেন বিধি তারে এত দুখ দিল, কেন, কেন, হায় কেন,

মনের-মতন কাঁদায় তাহারে “পথের কাঙালী” হেন ?

সোঁতের শেহলা ভাসে সোঁতে সোঁতে, সোঁতে সোঁতে ভাসে পানা,

দুখের সাগরে ভাসিছে তেমনি সাজুর হৃদয়খানা |

কোন্ জালুয়ার মাছ সে খেয়েছে নাহি দিয়ে তায় কড়ি,

তারি অভিশাপ ফিরেছে কি তার সকল পরাণ ভরি !

কাহার গাছের জালি কুমড়া সে ছিঁড়েছিল নিজ হাতে,

তাহারি ছোঁয়া কি লাগিয়াছে আজ তার জীবনের পাতে !

তোর দেশে বুঝি দয়া মায়া নাই, হা-রে নিদারুণ বিধি

কোন্ প্রাণে তুই কেড়ে নিয়ে গেলি তার আঁচলের নিধি |

নয়ন হইতে উড়ে গেছে হায় তার নয়নের তোতা,

যে ব্যাথারে সাজু বহিতে পারে না, আজ তা রাখিবে কোথা ?

এমনি করিয়া কাঁদিয়া সাজুর সারাটি দিবস কাটে,

আমেনে কভু একা চেয়ে রয় দীঘল গাঁয়ের বাটে |

কাঁদিয়া কাঁদিয়া সকাল যে কাটে—দুপুর কাটিয়া যায়,

সন্ধ্যার কোলে দীপ নিবু-নিবু সোনালী মেঘের নায়ে |

তবু ত আসে না ! বুকখানি সাজু নখে নখে আজ ধরে,

পারে যদি তবে ছিঁড়িয়া ফেলায় সন্ধ্যার কাল গোরে |

মেয়ের এমন দশা দেখে মার সুখ নাই কোন মনে,

রূপারে তোমরা দেখেছ কি কেউ, শুধায় সে জনে জনে |

গাঁয়ের সবাই অন্ধ হয়েছে, এত লোক হাটে যায়,

কোন দিন কিগো রূপাই তাদের চক্ষে পড়ে নি হায় !

খুব ভাল করে খোঁজে যেন তারে, বুড়ী ভাবে মনে মনে,

রূপাই কোথাও পলাইয়া আছে হয়ত হাটের কোণে |

ভাদ্র মাসেতে পাটের বেপারে কেউ কেউ যায় গাঁরষ

নানা দেশে তারা নাও বেয়ে যায় পদ্মানদীর পার |

জনে জনে বুড়ী বলে দেয়, “দেখ, যখন যখানে যাও,

রূপার তোমরা তালাস লইও, খোদার কছম খাও |”

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৪

অভিশাপ __কাজী নজরুল ইসলাম [ দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থ ]

 অভিশাপ

__কাজী নজরুল ইসলাম

[ দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থ ]


যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,

অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে-

                      বুঝবে সেদিন বুঝবে!

                  ছবি আমার বুকে বেঁধে

                  পাগল হ’লে কেঁদে কেঁদে

                  ফিরবে মর” কানন গিরি,

                  সাগর আকাশ বাতাস চিরি’

                  যেদিন আমায় খুঁজবে-

                      বুঝবে সেদিন বুঝবে!


স্বপন ভেঙে নিশুত্‌ রাতে জাগবে হঠাৎ চমকে,

কাহার যেন চেনা-ছোঁওয়ায় উঠবে ও-বুকে ছমকে,-

                      জাগবে হঠাৎ চমকে!

                  ভাববে বুঝি আমিই এসে 

                  ব’সনু বুকের কোলটি ঘেঁষে,

                  ধরতে গিয়ে দেখবে যখন

                  শূন্য শয্যা! মিথ্যা স্বপন!

                  বেদ্‌নাতে চোখ বুঁজবে-

                      বুঝবে সেদিন বুজবে।

গাইতে ব’সে কন্ঠ ছিঁড়ে আস্‌বে যখন কান্না,

ব’লবে সবাই-“ সেই য পথিক তার শেখানো গান না?’’

                      আস্‌বে ভেঙে কান্না!

                  প’ড়বে মনে আমার সোহাগ,

                  কন্ঠে তোমার কাঁদবে বেহাগ!

                  প’ড়বে মনে অনেক ফাঁকি

                  অশ্র”-হারা কঠিন আঁখি

                  ঘন ঘন মুছবে-

                      বুঝ্‌বে সেদিন বুঝবে!


আবার যেদিন শিউলি ফুটে ভ’রবে তোমার অঙ্গন,

তুলতে সে ফুল গাঁথতে মালা কাঁপবে তোমার কঙ্কণ-

                      কাঁদবে কুটীর-অঙ্গন!

                  শিউলি ঢাকা মোর সমাধি

                  প’ড়বে মনে, উঠবে কাঁদি’!

                  বুকের মালা ক’রবে জ্বালা

                  চোখের জলে সেদিন বালা

                  মুখের হাসি ঘুচবে-

                      বুঝবে সেদিন বুঝবে!

আসবে আবার আশিন-হাওয়া, শিশির-ছেঁচা রাত্রি,

থাকবে সবাই – থাকবে না এই মরণ-পথের যাত্রী!

                      আসবে শিশির-রাত্রি!

                  থাকবে পাশে বন্ধু স্বজন,

                  থাকবে রাতে বাহুর বাঁধন,

                  বঁধুর বুকের পরশনে

                  আমার পরশ আনবে মনে-

                  বিষিয়ে ও-বুক উঠবে-

                      বুঝবে সেদিন বুঝবে।

সুখের সংজ্ঞা " ——————-নীলুফার হাসান,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 "সুখের সংজ্ঞা "

——————-নীলুফার হাসান 

ফেলে আসা এক শহরে,

একটি মধ্যবিত্ত পরিবার কে  

চিনতাম অল্প পরিসরে।

সে বহু বছর আগে,

অনেক সময় পেরিয়ে গেছে মাঝে।

সেদিন হঠাৎ দেখা পেলাম ওদের,  ফেসবুকে।

ওদের হাসি খুশি মুখ,

ভাবছিলাম, সত্যিই কি ওদের আছে অনেক সুখ?

জীবনযাপন মোটামুটি, আটপৌরে সাধারণ,  

নেই ওদের তেমন বিশেষ,  উচ্চাভিলাষ স্বপ্নবিলাস।

নেই চিন্তা ভাবনায় কোন ইন্টেলেকচুয়াল আভাস।

দৈনন্দিন চেতনায়

বেচে থাকার সহজ সরল বাস্তবতায় প্রধান।  

ছোট ছোট পাওয়া গুলো

ওদের কাছে  অনেক মূল্যবান।  

আপসোস হুতাশ সেখানে পায় না কোন আহবান।

সুখ দেখেছি ওদের মাঝে

আনন্দ জোয়ারে  সাঁতার কাটে।

চাওয়ার বাইরে অল্প কিছু বাড়তি পাওয়াতেই

মন ওদের খুশিতে ডগমগ থাকে।

পৃথিবী ওদের ছিমছাম সঙ্কীর্ণ।

ছোট গণ্ডির বাইরে ওরা দেখে না কোন, অতিরিক্ত স্বপ্ন।

ওদের কে দেখি যখন,

আহা, অনুকম্পা করতে গিয়ে, হোঁচট খেয়ে ভাবি

সুখের সংজ্ঞাটা  আসলে  কি।

———— 

নীলুফার হাসান 


ছবি: সংগৃহীত

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...