এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪

চেতনাতে  নজরুল 🔥 --- রণজিৎ কুমার দেব।  ২৯/১১/২০২৪

 প্রবন্ধ 


চেতনাতে  নজরুল 🔥

--- রণজিৎ কুমার দেব। 

২৯/১১/২০২৪

------------------------------------


        বাংলাদেশের জাতীয় কবি হইয়াছেন তো অনেক পরে;  ইহার ও আগে, ষাটের দশক হইতে তিনি আমার হৃদয়ের কবি।  কাজী নজরুল ইসলাম।   হ্যাঁ;  নজরুলকে চাক্ষুষ দেখিবার সৌভাগ্য আমার হয় নাই;  কারণ তিনি যখন ভারতে আমি সেই সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে আমার শৈশব-কৈশোর অতিবাহিত করিতেছিলাম আবার আমি যখন ভারতের নাগরিকত্ব লাভ করিয়া  ভারতে চলিয়া আসি নজরুলকে সেই সময়ে বাংলাদেশ লইয়া যাওয়া হয়।  কাজীর কবিতা এবং বিভিন্ন রচনার মাধ্যমেই আমি কাজীকে চিনিয়াছি, জানিয়াছি।  কৈশোরে পাঠ্য বইয়ে যেমন পড়িয়াছি তেমনি রেডিওতে কাউকে গাইতেও শুনিয়াছি কাজীর সেই উদ্দীপনাময় কবিতা -- 'দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার হে, লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার।'  ইহার পর হইতে ক্রমে ক্রমে কবি কাজী আমার চেতনার সাম্রাজ্য দখল করিয়া লইয়াছেন। 

 

          কাজী নজরুল মৃত্যুঞ্জয়ী।  নজরুল বাঁচিয়া রহিয়াছেন আমাদের প্রাণে,  রহিয়াছেন বাংলার প্রতিটি ধূলিকণায়।   নজরুল বাঁচিয়া রহিয়াছেন তাঁহারই সৃষ্টিতে, তাঁহার লেখায় কবিতায় গানে। কখনও দেশাত্মবোধের উদ্যমতায় কখনও প্রেমের মাদকতায় কখনও বা ভক্তিরসাপ্লুত গানে গানে।  


          মানবজাতিকে, --  বিশেষ করিয়া বাংলার মানুষের মধ্যে ইসলাম আর সনাতন ধর্ম্মের সমন্বয়ের দ্বারা বৃহত্তর বাঙ্গালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করিতে নজরুল যাহা করিয়াছিলেন বা করিবার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা করিয়াছিলেন বাংলার কোনও কবি সাহিত্যিক বা বুদ্ধিজীবী এমন কি রবীন্দ্রনাথও ঠিক ততটা করেন নাই।  ধর্ম্মে ইসলাম কাজী নজরুল ছিলেন যথার্থই একজন আদর্শ মুসলমান।   নজরুল শুধুমাত্র বাঙ্গালীই ছিলেন না --  ছিলেন বাঙ্গলার পথপ্রদর্শক।   সর্বোপরি এই মানুষের সাম্রাজ্যে জাতি-ধর্ম্মের ঊর্ধ্বে কাজী নজরুল ছিলেন এক আদর্শ মানুষ, মহামানব।  আগেকার অনেক কবি লেখক স্বচ্ছল চিন্তাহীন জীবনযাত্রার মধ্য দিয়ে অনেক কিছুই লেখিয়া গিয়াছেন,  কিন্তু দুঃখের নদীতীরে বসিয়া জীবন-সংগ্রামের মধ্য দিয়া দেশ সমাজ বিধ্বংসকারী ধর্মান্ধতা কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এবং তৎসহ পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনে সংগ্রামী চেতনাকে জাগরিত করিয়া নজরুল যাহা লেখিয়াছিলেন তাহা নেহাৎ কাব্য নহে, হৃদয়ের গভীর হইতে উৎসরিত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।   অনেক কবিই বাঙ্গলাকে লইয়া বাঙ্গালীকে লইয়া ধর্মীয় ভাবধারায় বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে কতই মিষ্টি-মধুর কবিতা গান প্রবন্ধ লেখিয়া গিয়াছেন কিন্তু নজরুলের অধিকাংশ লেখাই ছিল বাস্তবধর্মী,  ছিল প্রেরণামূলক বার্তাবহ।   নজরুলের লেখা প্রেম-বিরহের গান যেন বাঙালির হৃদয়ের গান, অতুলনীয়;  তবে সেই সবকিছুর পাশাপাশি তাঁহার লেখনী হইতে মাঝেমাঝে কালির বদলে বারুদ বাহির হইত;  যে বারুদ হইতে আগুন জ্বলিয়া কবিকে ‘বিদ্রোহী’ আখ্যায় ভূষিত করিয়াছিল সেই আগুন আজ পর্যন্ত  আমাদের মনের কলুষতা অজ্ঞানতা ভীরুতাকে অতি কিঞ্চিত হইলেও হয়তো বা পুড়াইতে সক্ষম হইয়াছে।   অদূর ভবিষ্যতে হয়তো সেই আগুন হইতে জ্বালানো বাতি অন্ধকারের নাগপাশ ছিন্ন করিয়া আমাদেরকে আরও অনেকটা পথ দেখাইয়া লইয়া যাইবে।  


আমি সাম্যের গান গাই >


      মানুষ সত্য, খোদা-ঈশ্বর পরম সত্য,

              গাহি সেই সত্যের জয়গান;

      আত্মা হইতে উৎসরিত  

              ধর্ম্মের জয়গান। 

      আমি সাম্যের গান গাই;

              আমি যখনি গান গাই —

      কবি কাজী মোর জিহ্বাগ্রেতে 

              আসিয়া লহেন ঠাঁই। 

      ধর্ম্মের নামে কূটনীতি বিষে

              ছিঁড়িল নাড়ির টান,

      মানুষে মানুষে ভেদাভেদ রচি

              জাতি হ’ল খানখান। 

      নেই ভক্তি নিষ্ঠা প্রেমের বালাই

              মুখে ধর্ম্মের নাড়া,

      ধরমের নামে শুধু বিদ্বেষ,

              দিল হিংসা যে মাথাচারা। 

       ভণ্ডামি দেখে গরজে উঠিল 

              কন্ঠ সে প্রতিবাদী,

      তা’রি কম্পন লেগে জাগিল যে 

              একবিংশ শতাব্দী। 

     মাটির গন্ধে একে অন্যেরে

              টানিল বক্ষপাতি,

      লুকাইল মুখ ভণ্ড যতেক

              ঘুচিল জাতের বজ্জাতি। 

      কোথায় হিন্দু কোথায় বৌদ্ধ,

              ঈসাই মুসলমান,

      দু’চোখ মেলিয়া যাহারেই দেখি

              দেখি শুধু ইনসান্। 

      হে আমার কবি নজরুল !

              তুমি যদিও আজ অতীত —

      তুমি আমার দেবতা জাতির প্রেরণা,

              বাংলার পথিকৃৎ । 


                                🍀


Poet Kazi Nazrul Islam  ::   enjoying music rendered by Renu Bhowmick  ( 1970 ).

ফেইসবুক গল্প

 একবার এক ইঁদুর লক্ষ্য করল যে বাড়িতে ইঁদুর মারার ফাঁদ পাতা রয়েছে। সে খুবই ভয় পেল। ফাঁদটি অকেজো করার জন্য সে ওই বাড়িতে থাকা মুরগির সাহায্য চাইল। মুরগি ঘটনা শুনে জবাব দিল-

“ ফাঁদটি আমার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। অতএব আমি এখানে কোন সাহায্য করতে পারবনা”।


মুরগির কাছ থেকে এই উত্তর শুনে ইঁদুর খুব দুঃখিত হল এবং ছাগলের কাছে গিয়ে সাহায্য চাইল। ছাগল ফাঁদের কথা শুনে বলল-

“ওই ফাঁদ বড়দের জন্য নয়। আমি এখানে তোমাকে কোন সাহায্য করতে পারবনা”।

ইঁদুর ছাগলের কাছ থেকে একই উত্তর শুনে দুঃখিত হয়ে গরুর কাছে এলো। সব কথা শুনে গরু বলল-

“ইদুরের ফাঁদ আমার মত বড় প্রাণীর কোন ক্ষতিই করতে পারবেনা। যা আমার কোন ক্ষতি করতে পারবেনা- তাতে আমি সাহায্য করতে পারবনা”।


ইঁদুর শেষ পর্যন্ত নিরাশ হয়ে তার ঘরে ফিরে এলো। রাতের বেলা বাড়ির কর্ত্রী অন্ধকারের ভিতর বুঝতে পারলেন যে ফাঁদে কিছু একটা ধরা পরেছে। অন্ধকারে ফাঁদের কাছে হাত দিতেই উনি হাতে কামড় খেলেন এবং দেখলেন ফাঁদে ইঁদুরের বদলে সাপ ধরা পরেছে। 


তার চিৎকারে কর্তার ঘুম ভাঙল। তাড়াতাড়ি ডাক্তার ডাকা হল। চিকিৎসা শুরু হয়ে গেল। কিন্তু অবস্থা মোটেই ভালো না। পথ্য হিসেবে ডাক্তার মুরগির সূপ খাওয়াতে বল্লেন। সুপের জন্য কর্তা মুরগিকে জবাই করে দিলেন। অবস্থা আস্তে আস্তে আরও খারাপ হতে লাগলো। দূরদূরান্ত থেকে আরও অনেকে আত্মীয় স্বজন আসতে লাগলো। বাধ্য হয়ে কর্তা ছাগলকে জবাই করলেন তাদের আপ্যায়ন করার জন্য।


আরও ভালো চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার দরকার হতে লাগলো। অবশেষে বাড়ির কর্তা তাদের গরুটিকে কসাইখানায় বিক্রি করে দিল। একসময় বাড়ির কর্ত্রী সুস্থ হয়ে উঠল। আর এই সমস্ত কিছু ইঁদুরটি তার ছোট্ট ঘর থেকে পর্যবেক্ষণ করল।


উপদেশঃ কেউ বিপদে সাহায্য চাইলে তাকে সাহায্য করা উচিৎ, হোক সেই বিপদ আপনাকে স্পর্শ করুক বা না করুক। বিপদগ্রস্থকে সাহায্য করা মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।

বন্ধুরা আজ কথা বলবো স্বর্নযুগের এক কমেডি ব্লকবাস্টার ছবি "যমালয়ে জীবন্ত মানুষ" নিয়ে 

 বন্ধুরা আজ কথা বলবো স্বর্নযুগের এক কমেডি ব্লকবাস্টার ছবি "যমালয়ে জীবন্ত মানুষ" নিয়ে


👇


যমালয়ে জীবন মানুষ ( অনুবাদ। যমের  আবাসে একজন জীবিত মানুষ ) হল একটি 1958 সালের ভারতীয় বাংলা ভাষার রোমান্টিক কমেডি চলচ্চিত্র যা প্রফুল্ল চক্রবর্তী  পরিচালিত এবং চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার অভিযানের সদস্য অনন্ত সিং প্রযোজনা করেছেন। একই নামের দীনবন্ধু মিত্রের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি1958 সালে রাজকুমারী চিত্রমন্দিরের ব্যানারে মুক্তি পায়।তেলুগুতে দেবন্থাকুডু এবং তামিল ভাষায় নান কান্দা সোরগাম হিসাবে সি. পুল্লাইয়া দ্বারাপুনর্নির্মিত হয়েছিল। 


প্লট👇


গ্রামের ছেলে সিদ্ধেশ্বর (ওরফে সিধু) হরির মেয়ে মাধুরীকে ভালোবাসে। গ্রামের ধনী প্রধান হরি, সিধুকে জামাই হিসেবে মেনে নেবে না। যখন তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন হরি কিছু লোক পাঠায় যারা প্রায় সিধুকে হত্যা করে। হতবাক, মাধুরী আত্মহত্যা করে এবং সিধু বেঁচে থাকতে ভুল করে নরকে পাঠানো হয়। সে নরক এবং স্বর্গে একটি বিপ্লব শুরু করে এবং তার মৃত পোষা ষাঁড়ের সাহায্যে মৃত্যুর হিন্দু দেবতা, যমরাজ এবং চিত্রগুপ্তকে নরক থেকে তাড়া করে। তিনি যমরাজ এবং তার হেড ক্লার্ক চিত্রগুপ্ত কর্তৃক প্রণীত পুরানো নিয়ম ও নিয়মগুলিকে নির্মূল করেন, যখন বিচিত্রগুপ্ত তাকে সহায়তা করেন। তারপরে, বিষ্ণু এবং লক্ষ্মী সিধুর কাছে আসেন এবং বিষ্ণু তাকে আশীর্বাদ করেন এবং তাকে তার প্রিয় মাধুরীর সাথে পৃথিবীতে ফিরিয়ে দেন। হরি তাদের সানন্দে গ্রহণ করে। 


কাস্ট👇


সিধুর চরিত্রে ভানু ব্যানার্জী

মাধুরী চরিত্রে বাসবি নন্দী

হরিনারায়ণের চরিত্রে ছবি বিশ্বাস

পাহাড়ি সান্যাল

যমরাজের চরিত্রে কমল মিত্র

তুলসী চক্রবর্তী

বিচিত্রগুপ্তের চরিত্রে জহর রায়

হরিধন মুখোপাধ্যায়

শ্যাম লাহা

নৃপতি চট্টোপাধ্যায়

লালুর চরিত্রে জীবেন বোস

অপর্ণা দেবী

অজিত চ্যাটার্জি

গেমার হিসেবে সুভোজিৎ সাহা


কথা ও সুত্র👉উইকিপিডিয়া


এই ছবিটা কে কতবার দেখেছেন কমেন্ট করে জানিও, ❤️


মোঘল এ আযম  বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তৎকালীন সময়ের  স্মরণকালের সর্বোচ্চ বাজেটে তৈরি ছবি ‘মোঘল-এ-আযম’ মুক্তি পায় ১৫ অক্টোবর, শুক্রবার। শুধু বিগ বাজেটের জন্যই নয়, নানা কারণেই এটি ঢালিউডের একটি বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ছিল।

 মোঘল এ আযম 

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তৎকালীন সময়ের  স্মরণকালের সর্বোচ্চ বাজেটে তৈরি ছবি ‘মোঘল-এ-আযম’ মুক্তি পায় ১৫ অক্টোবর, শুক্রবার। শুধু বিগ বাজেটের জন্যই নয়, নানা কারণেই এটি ঢালিউডের একটি বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ছিল।


২০০৩ সালে ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছিল, শুটিং শেষ করতেই সময় নিয়েছে ৪ বছর আর মুক্তি পায় শুভ-মহরতের সাত বছর পর। প্রয়াত নায়ক মান্না অভিনীত সর্বশেষ ছবি এটি।

মৃত্যুর কিছুদিন আগে মান্না এ ছবিতে তার অংশের অভিনয় ও ডাবিং শেষ করেছিলেন।


মিজানুর রহমান দীপু (এমপি) পরিচালিত ও প্রযোজিত এ ছবিটি নিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল।


আর অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাছে  ‘মোঘল-এ-আযম’ ছিল স্বপ্নের ছবি।


ভারতের দিলীপ কুমার আর মধুবালা অভিনীত অবিস্মরণীয় ছবি ‘মোঘল-এ-আযম’ দেখেছেন বাংলাদেশের অনেক দর্শক।

কে আসিফ পরিচালিত ১৯৬০ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি ভারতের সর্বকালের সর্বাধিক সফল ও জনপ্রিয় ৫টি ছবির তালিকায় জায়গা করে আছে। এই ছবিটি দেখেই পরিচালক-প্রযোজক মিজানুর রহমান দিপু অনুপ্রাণিত হন বাংলাদেশে ‘মোঘল-এ-আযম’ নির্মাণের। শুরুতে তার পরিকল্পনার কথা শুনে ঠোঁট উল্টেছিলেন অনেকেই। মুম্বাইতে যে জাঁকজমকভাবে ছবিটি তৈরি হয়েছে, তার ধারেকাছে পৌঁছানো সহজ কথা নয়। কিন্তু নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য মরিয়া মিজানুর রহমান দীপু শুরুতেই দু হাত মেলে ছবিটির পেছনে শুরু করেন বিনিয়োগ। সেলিম চরিত্রে মান্না আর আনারকলি চরিত্রে শাবনূরকে কাস্ট করেন তাদের তৎকালীন সম্মানীর দ্বিগুণ অর্থে। অভিজ্ঞ অভিনেতা সোহেল রানাকে বাদশাহ আকবর চরিত্রে কাস্ট করার সময় তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে নির্মাতা বলেছিলেন, এ ছবির জন্য আমি আমার সব সহায়-সম্পত্তিও খরচ করতে প্রস্তুত। আপনি শুধু এ ছবির অভিনেতাই নন, আমার পরামর্শক। ছবির কোথায় কী প্রয়োজন আমাকে পরামর্শ দেবেন। বাস্তবেও প্রযোজনায় মিজানুর রহমান দীপু বিন্দুমাত্র ঘাটতি রাখেননি। যে টাকা তিনি খরচ করেছিলেন শুধু ছবির সেট ও পোশাক তৈরির কাজে, তা দিয়েই অনেক নির্মাতা ছবির সম্পূর্ণ কাজ শেষ করেন।


সোহেল রানার মতে, একটি ঐতিহাসিক ছবির পেছনে এতো বিনিয়োগ বাংলাদেশে প্রোপটে ভাবতেও অবাক লাগে। তিনি বলেছিলেন, আমি অনেক পোশাকি ছবিতে অভিনয় করেছি। কিন্তু আমার অভিনীত সেরা পোশাকি ছবি ‘মোঘল-এ-আযম’।


ছবিটি নিয়ে আশাবাদী ছিলেন প্রয়াত নায়ক মান্না । একই ধরনের গৎবাঁধা কাহিনীতে অভিনয় করতে করতে যখন তিনি কান্ত, ঠিক সেই সময় তার কাছে আসে ‘মোঘল-এ-আযম’ ছবির প্রস্তাব। স্বাভাবিকভাবেই দিলীপ কুমারের করা যুবরাজ সেলিম চরিত্রটিতে নিজের অভিনয় নিয়ে তিনি ছিলেন বেশ সিরিয়াস। ছবিটিতে অভিনয়ের একপর্যায়ে মান্না এতোটাই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন যে, সম্মানী নিতেই অস্বীকার করেন। যদিও পরিচালক-প্রযোজক তাতে সম্মত হননি। মান্না খুব আশা করেছিলেন এ ছবির মধ্য দিয়ে তার অভিনয় জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজের স্বীকৃতি পাবেন। ছবিটি মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারেও তিনি বার বার তাগিদ দিয়েছেন। কিন্তু আনুষঙ্গিক কিছু কাজ বাকি থাকায় এবং নির্মাতার ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে ছবিটি মুক্তি দিতে এতো দীর্ঘসময় লেগেছিল।


বিশাল ফিল্মসের ব্যানারে ‘মোঘল-এ-আজম’ ছবিতে মান্না, শাবনূর ও সোহেল রানাসহ আরো অভিনয় করেছেন নাসিমা খান, চন্দ্রিমা, টেলি সামাদ, নাসরীন, নাসির খানসহ আরও অনেকে। যুবরাজ সেলিম আর নর্তকী আনারকলির প্রেমকাহিনী নিয়ে নির্মিত এ ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক-প্রযোজক মিজানুর রহমান দীপু নিজেই। ছবির সঙ্গীত পরিচালনায় রয়েছেন আলাউদ্দিন আলী এবং চিত্রগ্রহণ করেছেন রেজা লতিফ।


‘মোঘল-এ-আযম’ ছবির প্রযোজক-পরিচালক মিজানুর রহমান দীপু বলেন, এটি একটি বিগ এরেঞ্জমেন্টের ছবি। তাই শুটিং শেষ করতেই বছর তিনেক লেগে যায়। এরপর আমার নানা ব্যস্ততায় ছবিটির কাজ দীর্ঘসময় বন্ধ ছিল। এক পর্যায়ে ভেবেছিলাম কাজটাই শেষ করতে পারবো না। যাই হোক শেষপর্যন্ত ছবিটি দর্শকের কাছে যে পৌছে দিতে পারছি তাতে আমি আনন্দিত। তিনি বলেন, প্রতিটি শিল্পীই এ ছবিতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। সোহেল রানা, মান্না আর শাবনূর নিজেদের অভিনয় মেধার স্বার রেখেছেন এ ছবিতে। ছবিটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উৎসাহী ছিলেন প্রায়াত নায়ক মান্না। দুর্ভাগ্য তিনি ছবিটি দেখে যেতে পারলেন না।

দুপুরে খেতে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। ওয়েটারকে জিজ্ঞাসা করলাম "কি আছে?",,,,,, ফেইসবুক গল্প

 দুপুরে খেতে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। ওয়েটারকে জিজ্ঞাসা করলাম "কি আছে?" 


সে শুরু করলো কাচ্চি, তেহেরী, বিরিয়ানি দিয়ে। আমি তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম "ভাতের সাথে কি আছে বলেন?" সে এবার ২য় দফায় শুরু করলো গরু, খাসি, মুরগী দিয়ে। শেষ করলো ইলিশ, মাগুর, মলা মাছে গিয়ে। হোটেলে খেতে গেলে কখনো আমি মাছ মাংস কিছু খাই না। হোটেলের খাবার মানেই মরা ধরা পচা সব কিছুর সমাহার। একমাত্র ভর্তা ভাজিটাই মোটামুটি নিরাপদ।


আমি জিজ্ঞাসা করলাম "ভর্তা ভাজি নাই?" 


সাথে সাথে দেখলাম তার চেহারায় সব উৎসাহ হারিয়ে গেলো। সে বুঝে নিয়েছে, আমি গরিব কাস্টমার। তারে টিপস দিতে পারব না। সে অন্যদিকে ফিরে কোনরকম বললো "আছে"! 


আমি বললাম "আলুভর্তা, ডাল আর লালশাক আনেন!" অর্ডার দিয়ে ১৫ মিনিট বসে রইলাম। এরপর খাবার আসলো। গরিব কাস্টমার নিয়ে তার এতো মাথা ব্যাথা নাই। এর মধ্যে একবার আরেকটা আলুভর্তা আনার জন্য ডাকতে লাগলাম। তার খবর নাই। মনে হয় কাছে গিয়ে রিকুয়েষ্ট করতে হবে। এরপর মর্জি হলে আনবে। আমার খাওয়া শেষ হয়ে গেল। এরপর সে আলুভর্তা আনলো। ভর্তার প্লেটটা রেখেই সে চলে গেল। 'খেলে খান, না খেলে নাই' স্টাইলের ভাব। আমি হাত ধুয়ে বিল দিতে গেলাম কাউন্টারে। অন্য কাস্টমারের বেলায় সে সাথে এসে কাউন্টারে বিল বলে দিচ্ছে, আর কাষ্টমারের পেছনে দাড়িয়ে থাকছে। কাষ্টমার পেছনে ঘুরেই তাকে দেখে টিপস দিচ্ছে। আমার বেলায় সে আসলো না। দূর থেকে বিল বললো। এসব আলুভর্তা, ডালের কাস্টমার সে গুনায় ধরে না। আমি তাকে ডাকলাম৷ হাতে ১০০ টাকা দিয়ে বললাম "আলুভর্তা ডাল খেলাম বলে পাত্তা দিলেন না।" সে লজ্জায় নিয়ে একটা হাসি দিয়ে, 'না না স্যার 'বলে পারলে মাথা নুয়ে মাটিতে ঢুকিয়ে দিবে অবস্থা! এরপর আমি বললাম "১০ টাকা রেখে ৯০ টাকা দেন।" তার মুখের মানচিত্র আবার বদলে গেল।


আমারে তুই আলুভর্তা দিতে গিয়ে ঘুরাইলি, আমি তর ইমোশন নিয়ে খেললাম। হিসাব কাটাকাটি।

বাংলাদেশের প্রথম নারী চিত্রশিল্পী নিভাননী চৌধুরীর আজ ১১২-তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।

 বাংলাদেশের প্রথম নারী চিত্রশিল্পী নিভাননী চৌধুরীর আজ ১১২-তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।


কথায় আছে ‘আকাশে চাঁদ উঠলে ঢেকে রাখা যায় না’। দেশের আকাশে প্রথম চাঁদ উঁকি দেয় চাঁদপুরে। জায়গাটির নামেই রয়েছে এর স্বার্থকতা। যেমন জাপানে প্রথম সূর্যোদয় হয়। এ কারণে জাপানের আরেক নাম ‘নিপ্পন’। চিত্রনিভা চৌধুরী হলেন সেই চাঁদ। যার পূর্ণ আলোয় আলোকিত হয়েছে আমাদের শিল্পাঙ্গণ।


২৭ নভেম্বর, ১৯১৩ সালে চিত্রনিভা চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন অধুনা বাংলাদেশের চাঁদপুরে। তিনি এই দেশের প্রথম মহিলা চিত্রশিল্পী। যদিও ঢাকার নবাব পরিবারের আরেকজন মহিলা চিত্রশিল্পী মেহেরবানু খানমের দুটি চিত্রকর্ম ১৯২০ সালে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ছাপা হয়। এছাড়া আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, এমনকি অন্য কোনো মহিলা শিল্পীরও। সে হিসেবে উল্লেখযোগ্য চিত্রনিভা।


‘চিত্রনিভা’ নামটি শিল্পের আচ্ছাদনে জড়ানো। এই শিল্পীর চিত্রশৈলি দেখে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর (নিভাননী) নতুন নামকরণ করেন ‘চিত্রনিভা’। সেই থেকে রবীন্দ্রনাথ প্রায় রসিকতা করে বলতেন: ‘তোমার নামকরণ করলুম এখন বেশ ঘটা করে আমাদের খাইয়ে দাও’। নন্দলাল বসুর শুরুর দিকের প্রিয় ছাত্রী চিত্রনিভাকে শান্তিনিকেতনের শিক্ষার্থীরা আলপনায় বিশেষ খ্যাতি দেখে ‘আলপনাদি’ বলে সম্বোধন করতেন। চিত্রকলা ছাড়া তিনি দেওয়াল-চিত্র ও মাটির কাজেও সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। কলাভবন প্রাঙ্গণে অবস্থিত ‘কালোবাড়ি’ তৈরির সময় রামকিংকরের সাথে তিনি ‘শিবের বিয়ে’ শীর্ষক ম্যুরালের কাজ করেছেন।


আজ ভেবে অবাক হতে হয়, সেই তমশাচ্ছন্ন সময়ে যখন বাড়ির মেয়েরা বাইরে পড়াশোনার সুযোগ পেতেন না, তখন চিত্রনিভা শান্তিনিকেতনে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, মানুষ গুহাতন্ত্র থেকে মুক্তির সনদ পেয়েছে, কিন্তু পরিবারতন্ত্র থেকে সবাইকে মুক্তির সনদ প্রদান করা হয় না।  পুত্রবধূদের জন্য এই সনদ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার বটে। সিগমুন্ড ফ্রয়েড বলেছেন, ‘মানুষ জন্মের পর থেকে স্বাধীন’। কিন্তু পুত্রবধূরা সম্ভবত পরাধীনতার শ্লেষ বহন করে চলেন। মেয়েরা বিয়ের পর ‘পরিবার’ নামক পিঞ্জরে প্রবেশ করে আর বের হবার ব্যর্থ চেষ্টা করেন না। কারণ তাঁরা জানেন এই পিঞ্জরে প্রবেশাধিকারের জন্য সরকারি রেজিস্ট্রেশন বা সামাজিক সনদ লাগে। উল্লেখ্য বিজয়ী পুরুষ ইতিহাস লেখে। সেই ইতিহাসের ভিড়ে যদি কতিপয় মহিয়সী নারীর সামান্য অবদান ফাঁকফোকর গলে জায়গা করে নিতে পারে সেটাই নারী মুক্তির পথ বলে আমরা মনে করি। যে কারণে সংসারে নারীমুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎদের তালিকা খুব বড় নয়। এই উপমহাদেশে আমাদের রয়েছেন বেগম রোকেয়া। তাঁর কথা নারী জাতির জন্য তো বটেই সমগ্র জাতির জন্য শিরোধার্য। তাদেরও জীবন পরিবারতন্ত্র, সংসারতন্ত্রের ভিতর দিয়ে অতিবাহিত হয়েছিল। তাঁরাও পরিবারের, সংসারের জানালা-দরজা খুলেছিল তবে অবলা নারীর মতো নয়। তাঁরা খুলে দিয়েছিল সূর্যবাতির আলো দেখতে এবং সমাজকে দেখাতে। স্রষ্টার আলোতে পক্ষপাতিত্ব নেই তবু পিছিয়ে পড়া নারীরা মনে করেন সব আলো পুরুষের জন্য বরাদ্দ। আমরা জানি বৈদিক যুগেও নারী-পুরুষের সমান অধিকার ছিল। উপরন্তু আজকের গল্প সেই আলোর স্ফুরণ চিত্রনিভা চৌধুরী।


তাঁর পিতা ডাক্তার ভগবানচন্দ্র বসুর অকাল প্রয়াণের পর সবাই মামার বাড়ি মুর্শিদাবাদ চলে যান। আমরা এখানে ইতিহাসের পাতায় দৃষ্টি ফেলে দেখতে পাই, তাঁর মামার বাড়িতে শিল্প ও সংগীতচর্চার ব্রত পালিত হতো প্রায় নিয়মিত। এখানেই চিত্রনিভার শিল্পবীজের অঙ্কুরোদম। তবে কিছুদিন পর তাঁর মা শরৎকুমারী দেবী নিজের পুত্রকন্যাদের নিয়ে আবার চাঁদপুর এসে বসবাস শুরু করেন। তখন লামচর নোয়াখালীর জমিদার ঈশ্বরচন্দ্র চৌধুরীর মধ্যমপুত্র নিরঞ্জনের জন্য তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা মনোরঞ্জন চৌধুরী পাত্রী দেখতে তাদের বাড়ি আসেন। তখন ছোট্ট নিভাননীর আঁকা ছবি দেখে মুগ্ধ হয়ে তার ভাইয়ের জন্য বিয়ের দিন ধার্য করে যান। সেই সূত্রে জমিদার পরিবারে বালিকা বধূ নিভাননীর আগমন। তিনি শ্বশুরবাড়ি এসে দেখেন বড় লাইব্রেরি। সেখানে প্রচুর বইপত্র, পত্রিকায় রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এবং নন্দলাল বসুর আঁকা দেখে তিনি মুগ্ধ হন।


অর্থাৎ এখানে দেখা যাচ্ছে নিভাননী ভাগ্যবতী ছিলেন। তিনি এমন এক শ্বশুরবাড়ি পেয়েছিলেন যেখানে শিল্পচর্চা, পড়াশোনার অবারিত সুযোগ ছিল।  যদিও ‘শ্বশুরবাড়ি মধুর হাড়ি’ এই বাক্যটি এখনও পুরুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু আমরা যখন নিভাননীর বিবাহিত জীবনে দৃকপাত করি তখন সেখানেও এরূপ দেখতে পাই।


উপরন্তু চিত্রনিভার ক্ষেত্রে আরেকটু ভিন্নমাত্রা যুক্ত হয়েছে। শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে শিল্পশিক্ষার জন্য শান্তিনিকেতনে কবিগুরুর আশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শান্তিনিকেতন হচ্ছে এক প্রকাণ্ড শিল্পবৃক্ষ। এই বৃক্ষের ছায়াতে রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদ আছে। সেই ছায়াতলেই হয় চিত্রনিভার আশ্রয়স্থল। সেখানে গুরুদেব তাঁর থাকা-খাওয়া ও ছবি আঁকা, গান শেখার বন্দোবস্ত করে দেন। প্রতিদিন দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নন্দলাল বসুর কাছে পাঠিয়ে দিতেন। চিত্রনিভা চৌধুরীর ‘স্মৃতিকথা’ গ্রন্থের প্রথম পর্বের সূচনায় আমরা দেখি তিনি তাঁর প্রতিদান দিয়েছেন এভাবে: ‘আমার ধ্যানের ঋষি রবীন্দ্রনাথ, আমার ধ্যানের আশ্রম শান্তি নিকেতন’- এই শিরোনামে। 


গুরুদেবের কাছে ছাত্রছাত্রীদের ছিল অবারিত দ্বার। তিনি সব সময় বলতেন, ‘তোমাদের যখন যা বুঝতে ইচ্ছা হয় আমার কাছে এসে বুঝে নিও।’ চিত্রনিভার স্মৃতিকথায় মাস্টার মশাই নন্দলাল বসুর কথাও বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তিনি নন্দলাল বসুর প্রয়াণে লিখেছেন: ‘তিনি ছাত্রছাত্রীদের নিজের সন্তানের মতো দেখতেন, তাই আজ তাঁর মৃত্যুতে আমরা পিতৃহীন হলাম। তাঁর শেখাবার পদ্ধতি ছিল একেবারে আলাদা। তিনি খুব অল্প কথায় সহজভাবে আমাদের বোঝাতেন।’


চিত্রনিভা চৌধুরী শান্তিনিকেতনের প্রথম মহিলা শিক্ষক। যদিও কিছুকাল পর তিনি নোয়াখালী শ্বশুরবাড়ি চলে আসেন এবং সংসার সামলানোর পাশাপাশি সেখানে চিত্রকলা ও সংগীতের স্কুল শুরু করেন। সেই সময় ঢাকায় তাঁর ভাশুর ডা. জে. কে. চৌধুরীর বসার ঘরে তিনি যে দেয়ালচিত্র আঁকেন সেটি ছিল তখন বাংলার সবচেয়ে বড় দেয়ালচিত্র । দেশ বিভাগের পরে, তিনি আবার তাঁর শিশু পুত্রকন্যাদের নিয়ে শান্তিনিকেতনে থাকতে শুরু করেন। তবে কলাভবনের সেই চাকরি আর ফিরে পাননি। ঐ সময়ে তাঁর অসংখ্য চিত্রসম্ভারে চিত্রশালা ভরে ওঠে। ১৯৫৭ সালে তাঁর ছেলেমেয়েদের উচ্চ শিক্ষার্থে কলকাতায় স্বামীর কর্মস্থলে চলে আসেন। এখানে এসে বিদ্যাসাগর বাণীভবনের শিল্প বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন। সত্যিকার্থে চিত্রনিভার শিল্প সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এমন ঘটনা আমাদের সমাজে দুর্লভ বলতে হবে। সম্ভবত ইংরেজি সাহিত্যের জনক জিওফ্রে চসার-এর এই বাণীটি ফ্রেমবন্দি ছিল তাঁর শ্বশুরবাড়িতে: ‘What is better than wisdom? Woman. And what is better than a good woman? Nothing.’


৯ নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে প্রচারবিমুখ নির্মোহ এই মহান শিল্পীর প্রয়াণ ঘটে। তাঁর সৃষ্টির প্রয়াণ নেই। যুগপৎ শিল্পেও তাঁর কাজ উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে চিরকাল।


তথ্য সূত্র : চারুকলা-৬, রাজ্য চারুকলা পর্ষদ মাস্টার মশাই, নন্দলাল বসু, চিত্রনিভা চৌধুরী স্মৃতিকথা, চিত্রনিভা চৌধুরী কৃতজ্ঞতা: রাইজিংবিডি

একটা কুকুরের সব সময়ের জন্য ভাবনা ছিলো শুধু তার সুখকে ঘিরে।  তার চাহিদা ছিলো বেশির থেকে বেশি

 একটা কুকুরের সব সময়ের জন্য ভাবনা ছিলো শুধু তার সুখকে ঘিরে। 

তার চাহিদা ছিলো বেশির থেকে বেশি।


 নিজের কাছে যা ছিলো তা নিয়ে কখনও সে সুখী ছিলো না।

 একদিন লোভী এই কুকুর একটি সেতু পার হচ্ছিলো, তার মুখে তখন একটি হাড় ছিলো,সেতুটি ছিলো একটি নদীর উপরে। 


সেতু পার হওয়ার সময় নিচে পানিতে তার ছায়া দেখতে পেলো। 

নিজের ছায়াটি দেখে সাথে সাথেই কুকুরটি থেমে গেলো, 

এ ছায়াটি তাকে বেশ ভাবনায় ফেলে দিলো: 'আরে, ওই কুকুরটার মুখেও দেখছি একটি হাড়, তা-ও আবার আমারটার চেয়েও বড়ো। 


এবার লোভী কুকুরটি ওই হাড়টি পেতে চাইলো। 

আর হাড়টি পাওয়ার জন্য যে কোনোকিছু করতে সে ছিলো একপায়ে খাড়া। 

কোনো রকম চিন্তাভাবনা ছাড়াই তার ছায়া-কুকুরটির উপর ঝাপিয়ে পড়লো, কারণ সে তো কুকুরটিকে আরেকটি কুকুর মনে করেছিলো।


 যখনই শীতল পানিতে সে ডুব দিলো, তখনই তাকে হতাশ হতে হলো; কারণ ওখানে কোনো কুকুরই ছিলো না, হাড়ও ছিলো না।

 এখন আমও গেলো, ছালাও গেলো নদীর পানির তোড়ে তার নিজের হাড়টিও ভেসে দূরে চলে গেলো। 


আহা! বেচারা লোভী কুকুর! সে তার ছায়া-কুকুর থেকে যা নিতে চেয়েছিলো তা তো পেলই না; সেই সাথে তার মুখের আসল হাড়টিও হারালো।


✅আপনার যা আছে তাতে সন্তুষ্ট থাকুন। 

অন্যের ধন,সম্পদ ও খ্যাতির প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে নিজের যোগ্যতায় যা কিছু অর্জিত হবে তাতেই প্রশান্তি নিয়ে বাচুন।

 মনে রাখতে হবে "লোভে পাপ আর পাপে অপমৃত্যু"।।

হজরত উসমান (রাঃ) যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন, তখন এমনভাবে কাঁদতেন যে, নিজের দাড়ি মোবারক ভিজে যেত।,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 হজরত উসমান (রাঃ) যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন, তখন এমনভাবে কাঁদতেন যে, নিজের দাড়ি মোবারক ভিজে যেত। তাই একবার তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো- আপনি জান্নাত ও জাহান্নাম স্মরণ করে এত কাঁদেন না, যতটুকু কাঁদেন কবর দেখে, এর কারণ কী?

 তিনি বললেন, রাসুল ﷺ বলেছেন, কবর হচ্ছে আখেরাতের প্রথম ঘাঁটি। এখানে যদি কেউ রক্ষা পেয়ে যায়, তাহলে পরবর্তী সব ঘাঁটি তার জন্য সহজ হয়ে যাবে। 

আর এখানে কেউ যদি রক্ষা না পায় তাহলে পরবর্তী সব ঘাঁটি তার জন্য খুব কঠিন হবে।

তিনি আরও বললেন, রাসুল ﷺ বলেছেন, মেরাজের রজনীতে আমি যত ভয়াবহ দৃশ্য দেখেছি তার মধ্যে কবরের আজাবই হচ্ছে সবচেয়ে ভয়াবহ। 

হে আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবরের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি দিও 

আমার প্রিয় ভাইকে আল্লাহ জান্নাত বাসি করুন, 

------------------------------( আমিন)

(তিরমিজি শরিফ, হাদিস নং-২৩০৮)

 

حضرت عثمان رضی اللہ عنہ جب کسی قبر کے پاس کھڑے ہوتے تو اتنا روتے کہ داڑھی تر ہو جاتی۔  تو ایک دفعہ ان سے پوچھا گیا کہ تم جنت اور جہنم کو یاد کرکے اتنا نہیں روتے لیکن قبر کو دیکھ کر روتے ہو، اس کی کیا وجہ ہے؟


 ♐♐♐♐♐♐

  انہوں نے کہا کہ رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے فرمایا قبر آخرت کی پہلی بنیاد ہے۔  اگر کوئی یہاں سے فرار ہو جائے تو اس کے لیے اگلے تمام اڈے آسان ہو جائیں گے۔ 

 اور اگر کوئی یہاں نہیں بچا تو اس کے بعد کے تمام اڈے اس کے لیے بہت مشکل ہوں گے۔

 انہوں نے یہ بھی کہا کہ رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم نے فرمایا کہ میں نے معراج کی رجنی میں جو سب سے ہولناک چیز دیکھی وہ عذاب قبر ہے۔ 

 اے اللہ ہم سب کو قبر کے سخت عذاب سے نجات عطا فرما 

 اللہ میرے پیارے بھائی کو سلامت رکھے۔ 

 -------------------------------------------- (آمین)

 (ترمذی شریف، حدیث نمبر-2308

লাল_পাঁড়ের_সাদা_শাড়ি ফেইসবুক গল্প

 থমথমে শিকদার বাড়ি। কারো মুখে কোন কথা নেই। এ বাড়ির সবচেয়ে কনিষ্ঠ কন্যা চৈতালীর আজ বিয়ে ছিলো। কিন্ত বর আসেনি। আজ থেকে ছয়মাস আগে মোর্শেদ মির্জার ছেলে আশরাফ মির্জার সাথে চৈতালীর আংটি বদল হয়েছিল। এতদিন তারা দেখা সাহ্মাৎ করেছে। ভালো একটা বোঝােপড়াও হয়েছিলো তাদের মধ্যে। বিয়ে ভাঙার হলে আগেই বলতে পাড়তো, আজ এরকম নাটক করে মান সম্মান  খাওয়ার মানে কি?? রাগে দপদপ করছে শিকদার বাড়ির মানুষ। একহাত দেখে নিবে বলে শাসাচ্ছে মির্জাদের। 

সকলের সম্মুখে মাথা নত করে আছে মোর্শেদ মির্জা। হ্মমা চাওয়া ছাড়া তার আর কোন উপায় নেই। তবে শিকদার বাড়ির লোকজনের ভাব- গতিক ভাল লাগছে না। কি করে বসে বোঝা মুশকিল। হ্মুনাহ্মরেও তিনি ছেলের মনের কথা বুঝতে পারেন নি। গতকাল অবধি ছেলেকে দেখে মনে হয়েছে সে চৈতালী বিনে কিছু বুঝে না। সেই ছেলে যে পালিয়ে যাবে কে জানতো? একবার হাতের কাছে পাক ছেলেকে তার কি করা লাগে তার জানা আছে। তার আগে এখান থেকে বের হতে হবে।  শিকদার দের মাথা এখন গরম। কি করতে কি করে ফেলে বলা যায় না। তবে চৈতালীর জন্য খারাপ লাগছে তার।  কি সুন্দর মেয়েটা। নাটক সিনেমা বা উপন্যাসের মত তার যদি আর একটা ছেলে বা ভাতিজা থাকতো তাহলে চৈতালীকে আজ তার সাথে বিয়ে দিতো। আফসোস নেই। থাকার মধ্যে ঐ কুলাঙ্গার ছেলেই আছে। 


বিছানায় স্তব্দ হয়ে বসে আছে চৈতালী। কিছুক্ষণ আগ পর্যন্ত সে ভেবেছিলো আশরাফ মজা করছে। ঠিক চলে আসবে।  তবে কয়েক মিনিট আগে আসা আশরাফের মেসেজে পুরো দুনিয়া উল্টে গেছে চৈতালীর। মেসেজে আশরাফ লিখেছে- 

চৈতালী 

তুমি হয়তো এতহ্মন খবর পেয়ে গেছো আমি পালিয়েছি। বিশ্বাস করতে পারছো না তাই না?? আমি জানি আমি তোমাকে কষ্ট দিয়েছি। গত ছয়মাস তোমার সাথে নাটক করেছি। তোমাকে মিথ্যা সংসারের স্বপ্ন দেখিয়েছি। কিন্তু এছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিলো না। আমি মিতু নামে একটা মেয়েকে ভালবাসি।  দু বছর আগে আমরা গোপনে বিয়েও করছি। মিতু আমার ক্লাসমেইট।  আমরা সেইম এজের বলতে পারো। বাবাকে মিতুর কথা বলেছিলাম।  বাবার ধারণা মিতুর বয়স বেশী। ছেলের বউ হবে কমবয়সী। তাই ২৫ বছরের আমার জন্য ১৭ বছরের তোমাকে পছন্দ করলেন। মিতুর সাথে আমার সম্পর্ক কলেজ থেকে৷ এই আমার জন্য ও জীবনে হাজার টা বিয়ে ভেঙেছে।  ওর মনে কিভাবে কষ্ট দিতাম বলো? পারলে আমাকে মাফ করে দিও। তোমার মন ভাঙ্গার কোন ইচ্ছা আমার ছিলো না। কিন্তু  আমি ও নিরউপায় ছিলাম। 

 

 আশরাফ


চলবে...................🍁


লাল_পাঁড়ের_সাদা_শাড়ি

সূচনা_পর্ব

লেখকঃসামিরা_আক্তার

জুলিয়া রবার্টস সম্প্রতি তার বয়স হয়ে যাওয়া এবং অল্পবয়সী দেখানোর জন্য— তার অনেক সহকর্মীর মতো— বয়স না-লুকানো নিয়ে খোলামেলা আলাপে বলেছেনঃ

 জুলিয়া রবার্টস সম্প্রতি তার বয়স হয়ে যাওয়া এবং অল্পবয়সী দেখানোর জন্য— তার অনেক সহকর্মীর মতো— বয়স না-লুকানো নিয়ে খোলামেলা আলাপে বলেছেনঃ


“আমি আত্মসম্মানের সাথেই বুড়ো হচ্ছি, মজা পাচ্ছি এতে, নিজেকে প্রশান্ত লাগছে আগের তুলনায়।


বুবস-লিফটিং বা বোটক্সের শরণাপন্ন হই না, জানি এতে হলিউড-স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী আমি আমার ক্যারিয়ারকে ঝুঁকিতে ফেলছি। যদি বয়স্ক দেখানোর কারণে তারা আমাকে ফিল্মে আর নিতে না-চায়, ভেবে নেবো— ঠিকাছে, আমার মতো জীবন নিয়ে আমি ভালো আছি। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে— নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে যেয়ে কাজ করাকে গুরুত্বপূর্ণ না-ভাবা।


প্রচুর মাকে চিনি আমি, যারা জীবন সামলাতে ভীষণ বেগ পাচ্ছেন তাদের চেহারা নিয়ে অন্যে কী ভাবছে এই ভাবনা ভাবতে গিয়ে। এটা ভয়ানক সমস্যা। আমি ওই নারীদেরকে ভীষণ পছন্দ করি, যারা ক্যারিয়ার, পরিবার, সবদিক সামলাতে যেয়ে পরিশ্রমের দাগ চেহারায়-দেহে মেখেই দেখতে চমৎকার। সত্যি বলতে কী, আমার ভয় অন্যখানে।


আমি ভয়ে থাকি, আমার সন্তানদেরকে মানুষ করতে পারছি কিনা, তাদের সুন্দর আচারব্যবহারকে দুর্বলতা ভেবে অন্যরা তাদেরকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে কিনা। আমার কাছে— শুধুমাত্র নিজে রূপবতী থাকার চেয়ে আমার পরিবারকে রূপবতী করে তোলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


আমার যা অর্জন, এ নিয়েই নিজেকে ভাগ্যবতী ভাবি। আমার স্বামী এবং বাচ্চাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমার সুন্দরতম মুহূর্ত ওগুলো নয় যেগুলো আমি চলচ্চিত্রের সেটে কাটাই, বরঞ্চ ওই মুহূর্তগুলোই যেসব আমি পরিবারের সাথে ব্রেকফাস্টে কাটাই নানান খুনসুটিতে-অভিযোগে-আলাপে-অনুযোগে-মমতায়-অভিমানে-স্নেহে-ভালোবাসায় এবং সুখে।


মুহূর্তগুলো স্বপ্নের মতো!"

অন্তর্জাল 🖤

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...