এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

কখনো বিষ্ণু দে , কখনো যামিনী রায় , এই  নিয়ে তর্কটা চলতো' ..... দুটি পাতা ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 'কখনো বিষ্ণু দে , কখনো যামিনী রায় , এই  নিয়ে তর্কটা চলতো' .....


যতদিন বাঙালি থাকবে, থাকবে তাদের কবিতা-কফি হাউজ এবং থাকবেন তিনি…


আজ কবি বিষ্ণু দে'র ৪৩-তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই। 


নামে হিন্দু ত্রিদেবতার একজন ৷ ব্যক্তিগত জীবনে গভীর ভাবে প্রভাবিত মার্ক্সীয় দর্শনে ৷ রবীন্দ্রোত্তর যুগে বাংলা সাহিত্যে কল্লোল গোষ্ঠীর অন্যতম বলিষ্ঠ কলম তিনি ৷ তিনি কবি বিষ্ণু দে।


বিখ্যাত শ্যামাচরণ দে বিশ্বাসের (কলেজস্ট্রিট , বইপাড়ার শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট) পরিবারে জন্ম ৷


বিষ্ণু দে শুধু একজন প্রখ্যাত কবি নন ৷ আধুনিক ও উত্তর আধুনিক যুগে তিনি ছিলেন গদ্যকার,অনুবাদক, শিক্ষাবিদ এবং শিল্প সমালোচক ৷  


তিনি বাংলা সাহিত্যে একের পর এক ফুল ফুটিয়েছেন ৷ আর অধ্যাপনা করেছেন ইংরেজি সাহিত্যের ৷


দেশজ এবং বিশ্বসাহিত্যের ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটেছিল তাঁর কাব্যে ৷ একদিকে ইউরোপীয় আধুনিক কবিদের প্রভাব , অন্যদিকে মার্ক্সীয় দর্শন ও বিশ্বাস ৷ তবে জীবনের এক পর্বে দোলাচলে কাটিয়েছেন কমিউনিস্ট নেতাদের প্রতি আস্থাহীনতা থেকেও ; যা ধরা পড়েছে তাঁর বেশ কিছু কবিতায় ৷


রাজনৈতিক-সামাজিক সচেতনতা লৌকিক জীবনচর্চা ইতিহাসবোধ‚ বিশ্ব ও মানবিকবোধ তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য ৷ তাঁর কাব্যগ্রন্হ  'স্মৃতি সত্ত্বা ও ভবিষ্যৎ বাংলা কাব্যে নতুন ধারার সূচনা করে ৷ এই রচনাই ১৯৬৫ সালে এনে দেয় সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৭১ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার ৷


দেশভাগ পরবর্তী সময়ে ১৯৪৭ সালে কলকাতার নামী সাহিত্যিকদের সঙ্গে মিলে গড়ে তোলেন Anti-Fascist Writers and Artists Association ; সেইসঙ্গে যুক্ত ছিলেন Calcutta Group Centre, Soviet Friendship Association, Pragati Lekhak Shilpi Sangha, Indian People's Theatre Association-এর সঙ্গেও ৷


চিত্রশিল্পী যামিনী রায় ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ৷ সেই সখ্যতা থেকেই কবির কলম হয়ে ওঠে চিত্র সমালোচক ৷ বিষ্ণু দে লেখেন বেশ কিছু অন্যধারার বই ৷ ১৯৫৮ সালে ‘The Paintings of Rabindranath Tagore’‚ ১৯৫৯ সালে ‘India and Modern Art’ এবং  ‘Art of Jamini Roy’ .


১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রয়াত হন ৭৩ বছর বয়সে ৷


যতদিন বাঙালি থাকবে‚ থাকবে তাদের কফি হাউজ এবং বিষ্ণু দে ৷ তিনিই তো আমাদের আধুনিক বৈষ্ণব পদাবলীকার ৷ যে পদাবলীতে সবার উপরে কাব্যপ্রেম সত্য

বাবারাও সিঙ্গেল মাদার হয়....,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে সবেমাত্র নিজের ঘরে এসে ফ্যানটা চালিয়ে বসেছি। এমন সময়  রুপু এসে আমার গলা জড়িয়ে ধরে ঝুলে পড়ল। রুপু হল রূপকথা, আমার ছয় বছরের ভাইঝি। বাড়ির সকলের চোখের মণি। আমি ভ্রু তুলে জিজ্ঞাসা করলাম - " কি খবর রুপু সোনা? আজ সারাদিন  কতটা দুষ্টুমি করেছ শুনি একটু?" 

সে যেন এই প্রশ্নের অপেক্ষাতেই ছিল। আধো আধো করে বলল - " শোনো পিপি, পাপাকে বলে দিও,পাপার সঙ্গে আমার কোনো কথাই নেই। পাপার সঙ্গে আড়ি আড়ি আড়ি, কাল যাব বাড়ি করে দিয়েছি"।

আমি ছদ্ম আশ্চর্য হওয়ার অভিনয় করে বললাম " আচ্ছা ! এ তো ভীষণ বড় ধরনের সমস্যা মনে হচ্ছে ! তা কি হয়েছে সেটা তো বলো। আড়ি কেন বাবার সঙ্গে?"

এমন সময় আমার মা ঢুকল, হাতে একটা কাঁচের গ্লাসে দুধ নিয়ে। রুপু দেখেই ঘরময় ছুটোছুটি শুরু করে দিল।দুধ তার ভারী অপছন্দ। মা বলল, " দেখেছিস তো, সারাটাদিন আমার ওপর দিয়ে কি যে যায় ! সত্তর পেরিয়ে গেছে আমার, সারা শরীরে ব্যথা শূলো,রোগবালাই, নানানরকম টেনশন নিয়ে আর পারি বল্ এই মেয়ে নিয়ে দৌড়োদৌড়ি করতে? আমার কি আর সে বয়স আছে? নিজের মা তো গা ঝেড়ে ফেলে দিব্যি দায়সারা হয়ে গেল, আর আমার হয়েছে যত্ত জ্বালা...সেই বিকেল থেকে এই দুধের গ্লাস নিয়ে ঝামেলা চলছে। বাবু স্কুল থেকে এসে একটু জোর গলায় বকতেই মেয়ের রাগ হয়ে গেছে! এইটুকু মেয়ের বেলায় নেই, রাগের ঠেলায় জগত অন্ধকার !"

মায়ের কথা শেষ না হতেই রুপু ঘাড় ঘুড়িয়ে এদিকে ফিরল। পায়ে পায়ে খাটের পিছন থেকে আমার কোলের কাছে এসে দাঁড়িয়ে বলল - " থাম্মাম?ও থাম্মাম, দুধটা দাও। আমি আর দুষ্টু করব না।" বলে মায়ের থেকে গ্লাসটা নিয়ে একহাতে নাক টিপে কোনোরকমে দুধটা গলাধঃকরণ করল। আমি বুঝতে পারলাম কি তীব্র সেনসিটিভ হয়ে গেছে একরত্তি মেয়েটা! কিছু বোঝেনা, কিছু জানেনা, অথচ মায়ের নাম শুনে একটা অপরাধবোধ কাজ করে নিজের প্রতি.....। 

মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে ওকে কোলের কাছে টেনে নিলাম, মাথায় হাত বুলিয়ে আস্তে আস্তে জিজ্ঞেস করলাম, " রুপুসোনার কি মায়ের কথা মনে পড়ছে? একটু কথা বলবে নাকি মায়ের সঙ্গে?ফোন করে দেব?" 

মেয়েটা জোরে জোরে মাথা নেড়ে  বলল " না না পিপি, বাবা বকা দেবে। আর মা তো আমার সঙ্গে ভালো করে কথা বলেনা। মা কোনোদিন আমাকে ফোনও করে না।" কিছুক্ষণ মাটির দিকে তাকিয়ে থেকে আবার বলল, "পিপি আমার স্কুলে গেলে না মায়ের জন্য খুব মনকেমন করে জানো। স্কুলে সবার মা নিতে আসে। আমার তো দাদুন যায়। হ্যাপি বার্থ ডে তে আমার মা- কে খুব দেখতে ইচ্ছে করে"..বলে ঠোঁট ফোলাতে গিয়েও সামলে নিল...আমিও দীর্ঘশ্বাসটা চেপে গেলাম। মেয়েটা কবে এত বড় হল!

আমরা দুই ভাইবোন। দাদা আমার থেকে আট বছরের বড়, হাইস্কুল টিচার। বিয়ে হয়েছিল  প্রায় বছর দশেক আগে। বৌদি প্রফেশনালি  থিয়েটার করত।ষ্টেজ শো, রিহার্শাল, ওয়ার্কশপ, দূর দূরান্তে শো করার জন্য জন্মের পর থেকেই রুপু প্রায় মা ছাড়া। প্রফেশনের পাশাপাশি প্যাশন বলে আমরাও বৌদিকে সবসময় সাপোর্ট দিতাম।  দাদাই মেয়েকে প্রায় একা হাতে সামলেছে।মা বিরক্ত হত বলে মেয়ের সমস্ত দায়িত্ব দাদা খুশিমনে পালন করত।ওর খাবার তৈরী করা থেকে খাবার খাওয়ানো,ন্যাপি বদলানো থেকে ফিডিং বোতল পরিষ্কার করা, রাতের পর রাত জাগা, জ্বোরো কপালে জলপট্টি দিয়ে, সারারাত টেম্পারেচার মেপে সকালে ঘুম চোখে উঠে নাকেমুখে গুঁজে স্কুলে দৌড়ত। হাঁসফাঁস করে ফিরেই আবার মেয়ে নিয়ে পড়ে থাকত। ওর জ্বর,পেটব্যথা,বদহজমে কোথায় কখন কি ওষুধ আছে, কোনটা দরকার সব ছিল  দাদার কণ্ঠস্থ। টলমল পায়ে মেয়েকে হাঁটতে শেখানো থেকে শুরু করে ঘোড়া ঘোড়া খেলায় ঘোড়া হওয়া, মেয়ের হাতেখড়ি দেওয়ানো থেকে সরস্বতী পুজোয় প্রথম শাড়ি পড়ানো,চুল বেঁধে দেওয়া সবতেই দাদা সিদ্ধহস্ত। মেয়েরা তো মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে শুরু করে চাইল্ড কেয়ার লিভের সুবিধা পায়। কিন্তু বাবা আর মায়ের জোড়াদায়িত্বের মধ্যে পড়ে দাদাকে কখনও কখনও হাফ পে লিভ নিয়েও সামলাতে হয়েছে।  সারাদিন ক্লাস করে স্কুল থেকে সন্ধ্যায় ফিরে মাঝরাত পর্যন্ত যখন গল্প বলে ঘুম পাড়াত,তখন বৌদির প্রোডাকশনের গাড়ি দাঁড়াত দরজার সামনে। গাড়ির শব্দে প্রায় ঘুমিয়ে যাওয়া মেয়ে জেগে উঠে দৌড়ে যেত সদর দরজায়। কিন্তু সারাদিন পর একরত্তি মেয়েটা মায়ের একটু আদর পেতে চেয়েও পেত শুধু বকাবকি, অবজ্ঞা আর অবহেলা। মুখ চুন করে ফিরত বাবার সঙ্গে শোওয়ার ঘরে। তারপর ভোররাত পর্যন্ত আমরা শুনতে পেতাম দুজনের তর্কাতর্কি,দোষারোপ। এভাবেই একসময় বোঝা গেল আর চলছেনা। 'দ্য ম্যারেজ ইস ওভার' বলে বৌদি আলাদা হয়ে চলে গেল অন্য ফ্ল্যাটে, অন্য জীবনে, মেয়ের জন্য বিন্দুমাত্র ভাবনা না রেখে, মাতৃত্বের একফোঁটা দাবী না করেই....কিন্তু ম্যারেজ ওভার হলেও মেয়েকে ফেলে দিতে পারেনি তার বাবা।ঐ মেয়ে আঁকড়ে পরে রইল দাদা। 

  কলিং বেলের শব্দে আমার চিন্তার তাল কাটল। উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিলাম। দাদা বাজার করে ফিরেছে। সকালে আমরা দুজনেই বেরই বলে মা কে বাজারটা রাতেই করে দিতে হয়। দেখলাম দাদার গায়ের টি শার্ট ঘামে ভিজে জবজবে, চোখমুখ লাল হয়ে গেছে। দাদা ব্যাগটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে একটা মিল্কি বার নিয়ে রুপুকে দিতে গেল। রুপু ঠোঁট ফুলিয়ে পিছনে ঘুরে দাঁড়াল। দাদাও নাছোড়বান্দা। একটুও রেগে না গিয়ে,একফোঁটাও ধৈর্য্য না হারিয়ে ঠিক এদিক সেদিক করে বুঝিয়ে মেয়েকে কাছে টেনে নিল। কিছুক্ষণ পর আমি রান্নাঘরে চা করতে করতে শুনতে পেলাম বাপ - বেটির খলবল করে কথা বলার আওয়াজ। মান-অভিমান ভাঙার পালা চলছে তাহলে......

প্রচণ্ড  ভালোলাগা আর শান্তিতে মনটা হঠাৎ যেন ভালো হয়ে গেল। আমাদের চারপাশে কত মা আছে যারা সন্তানকে মানুষ করছে একেবারে একা হাতে, একার জোরে। তাদের গল্প তো হামেশাই হয়। কিন্তু যেসব বাবারা নীরবে নিশ্চুপে মায়ের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে একান্তে, তারা খবরে আসেনা। মা গর্ভধারণ করে আর পৃথিবীর আলো দেখায় বলেই সে মা, এটা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু শুধু জন্ম দিলেই তো মা হওয়া যায় না! বরং তার পরবর্তী কর্মগুলোর মধ্যে দিয়েই আস্তে আস্তে মা হয়ে উঠতে হয়। তাই সেইসব বাবাদের সিঙ্গেল ফাদার নয় বরং  সিঙ্গেল মাদার বলা হোক, যারা মায়ের মত কঠিন কাজকেও সহজ করে নিয়েছে শুধুমাত্র সন্তানকে ভালোবেসে.....কথায় বলে, মা হওয়া কি মুখের কথা!!

ছোট ছোট ফুলগুলো তো পৃথিবীতে নিজেরা আসেনি, আনা হয়েছে বলেই না ওরা এসেছে। পৃথিবীকে রঙিন করেছে। ওদের ভালোবাসুন। সেইসব বাবাদের পাশে থাকুন।কারণ সত্যিই মা হওয়া মুখের কথা নয়।আমরা সবাই দূরে ঠেলে দিলে ওরা যে অসহায় হয়ে যাবে। মরে যাবে সবুজ শৈশবটা। নিজেদের সমস্যা,জটিলতার দায়ভার ওদের ওপর চাপাবেন না। ওদের কাঁধ যে বড্ড নরম। বড্ড অপরিনত। ওরা বইতে পারবেনা। এরাই একদিন মহীরুহ হয়ে বৃদ্ধ বয়সে ছায়া দেবে আপনাকে আমাকে... আমাদের সকলকে।


.বাবারাও সিঙ্গেল মাদার হয়....

🖋 কলমে পার্বতী মোদক

শঙ্খমালা — জীবনানন্দ দাশ 

 শঙ্খমালা

— জীবনানন্দ দাশ 


কান্তারের পথ ছেড়ে সন্ধ্যার আঁধারে

সে কে এক নারী এসে ডাকিল আমারে,

বলিল, তোমারে চাই: বেতের ফলের মতো নীলাভ ব্যথিত তোমার দুই চোখ

খুঁজেছি নক্ষত্রে আমি— কুয়াশার পাখ্‌নায়—

সন্ধ্যার নদীর জলে নামে যে-আলোক

জোনাকির দেহ হ‌তে— খুঁজেছি তোমাকে সেইখানে—

ধূসর পেঁচার মতো ডানা মেলে অঘ্রাণের অন্ধকারে

ধানসিড়ি বেয়ে-বেয়ে

সোনার সিঁড়ির মতো ধানে আর ধানে

তোমারে খুঁজেছি আমি নির্জন পেঁচার মতো প্রাণে।


দেখিলাম দেহ তার বিমর্ষ পাখির রঙে ভরা:

সন্ধ্যার আঁধারে ভিজে শিরীষের ডালে যেই পাখি দেয় ধরা—

বাঁকা চাঁদ থাকে যার মাথার উপর,

শিং-এর মতন বাঁকা নীল চাঁদ শোনে যার স্বর।


কড়ির মতন শাদা মুখ তার,

দুইখানা হাত তার হিম;

চোখে তার হিজল কাঠের রক্তিম

চিতা জ্বলে: দখিন শিয়রে মাথা শঙ্খমালা যেন পুড়ে যায়

সে-আগুনে হায়।


চোখে তার

যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার;

স্তন তার

করুণ শঙ্খের মতো— দুধে আৰ্দ্র— কবেকার শঙ্খিনীমালার;

এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায়নাকো আর।

এক লোক পাথর কাটার কাজ করতো,,,৷ ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 এক লোক পাথর কাটার কাজ করতো। লোকটা জীবনে তার অবস্থান নিয়ে খুবই অসন্তুষ্ট থাকতো সবসময়।

একদিন সে এক ধনী ব্যবসায়ীর বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। বাড়ির জানালা দিয়ে সে দেখছিলো ব্যাবসায়ীর বিলাসিতা । খুব ঈর্ষান্বিত হয়ে সে চিন্তা করতে লাগলো, 'আহা আমি যদি বণিকের মতো হতে পারতাম!'

কি আশ্চর্যের ব্যাপার, লোকটা হঠাৎ বিরাট বণিক হয়ে উঠলো। তার কল্পনার চেয়ে বেশি বিলাসিতা এবং ক্ষমতা উপভোগ করতে লাগলো।

একদিন সে দেখলো রাজ্যের প্রধান বিচারক রাস্তার পাশ দিয়ে যাচ্ছেন। সে দেখলো, বিচারক একটা চেয়ারে বসে আছেন এবং তাকে একদল সৈন্য বয়ে নিয়ে চলছে।

রাস্তার পাশের দোকানিদের সৈন্যরা দেদারসে পেটাচ্ছে।

জনতা বিচারকের সামনে মাথা নত করছে।

বণিকের মনে মনে ভাবতে লাগলো, আহা বিচারক কত শক্তিশালী!

আমি যদি একজন বিচারক হতে পারতাম!"

তারপরে সে এক বিচারক হয়ে উঠলো, তার সৈন্যরা তাকে সেডান চেয়ারে সর্বত্র বহন করে নিয়ে যেতে লাগলো। তার চারপাশের লোকজন তাকে প্রচণ্ড ভয় ও ঘৃণা করতে লাগলো।

এক গ্রীষ্মের দিনে বিচারক সেডান চেয়ারে খুব অস্বস্তি বোধ করেছিলো। সে সূর্যের দিকে তাকালো। আকাশে গর্বিতভাবে জ্বলজ্বল করছিলো সূর্য। বিচারকের উপস্থিতিতে সে একটুও নতজানু হয়নি।

"সূর্য কত শক্তিশালী!" বিচারক ভাবলো।

"আমি যদি সূর্য হতে পারতাম!"

তারপর সে সূর্য হয়ে উঠলো,

সকলের উপর প্রচণ্ডভাবে জ্বলে উঠলো,

ক্ষেত পুড়িয়ে দিলো।

কিন্তু একদিন একটা বিশাল কালো মেঘ তার এবং পৃথিবীর মাঝখানে চলে এলো। সূর্য আর তার আলো দিয়ে নীচের কোন কিছুকেই জ্বালাতে পারে না।

"এই মেঘটা কতই শক্তিশালী!" সূর্য ভাবছে।

"আমি যদি মেঘ হতে পারি!"

তারপর সে মেঘ হয়ে ওঠে। বৃষ্টি নেমে, বিদ্যুৎ চমকে সে মাঠ ও গ্রাম প্লাবিত করে দিতে লাগলো।

কিন্তু শীঘ্রই সে দেখতে পেলো যে- তাকে কোন বড় একটা শক্তি দূরে ঠেলে দিচ্ছে। মেঘ বুঝতে পারলো এটা বাতাস।

"এটা কতটা শক্তিশালী!" মেঘ ভাবতে লাগলো।

"আমি যদি বাতাস হতে পারতাম!"

তারপর সে বাতাস হয়ে গেলো।

বাড়ির ছাদ উড়িয়ে দিলো, গাছ উপড়ে ফেলল।

কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই বাতাস আবিষ্কার করলো সে এমন কিছুর সাথে ধাক্কা খাচ্ছে যাকে সে নাড়তে পারছে না কোনক্রমেই। সে দেখলো একটি বিশাল, সুউচ্চ পাথর দাঁড়িয়ে আছে।

"পাথর কতই না শক্তিশালী!" সে ভাবলো।

"আমি যদি একটা পাথর হতে পারতাম!"

তারপর সে একটা পাথরের খণ্ড হয়ে গেলো।

পৃথিবীর অন্যতম শক্ত পদার্থ।

কেউ তাকে নাড়াতে পারে না।

কিন্তু কিছুক্ষণ বাদেই সে লক্ষ্য করলো একটি হাতুড়ির শব্দ ভেসে আসছে। কেউ একজন পাথরটাকে ভাঙছে।

"আমার চেয়ে শক্তিশালী আর কে হতে পারে", পাথর ভাবছে।

সে নিচে তাকিয়ে তার অনেক নিচে একটা লোককে পাথর কাটতে দেখতে পেলো।

সে তার নিজেকে চিনতে পারলো।

---

আমাদের মৃত্যুর পর আমরা পিঁপড়ার খাদ্য হবো, সেই খাদ্যের কিছু অংশ পিঁপড়ার বৃষ্ঠাও হবে। সেখানেও আমরা থাকবো। সেটা হয়তো কোন গাছের খাদ্য হবে। সেই গাছ আবার হয়তো হবে খনিজ।

একটা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হবে একদিন। সেই গ্যাস দিয়ে রান্না করার সময় আমি দেখবো আমিই সামনে দাঁড়িয়ে রান্না করছি।

আমিই উনুনের গ্যাস , আমিই স্টিলের কড়াই।

আমিই সসপেনের ওপরের ডিম। আবার আমিই সেটা খাচ্ছি।

আমাদের সমস্ত অনুসন্ধানের শেষে আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাবো যেখান থেকে আমরা শুরু করেছিলাম

( সংগৃহীত )

হাসন রাজাঃ-- বাংলাদেশের  বিখ্যাত এক মরমী কবি,,,

 হাসন রাজাঃ-- বাংলাদেশের  বিখ্যাত এক মরমী কবি

-----------------------------------------------------------------------

লোকে বলে বলেরে

ঘর বাড়ি ভালো না আমার

কি ঘর বানাইমু আমি শূন্যের মাঝার...

বিখ্যাত এই  মরমী গানের  কবি ও সাধক হাসন রাজা। হাসন রাজা  ১২৬১ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ ও ১৮৫৪ সালের ২৪ জনিুয়ারি সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। উনার প্রকৃত নাম ছিল দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী। 


তাঁর পিতার নাম দেওয়ান আলী রজা চৌধুরী। হাসন রাজার পিতৃকুল ও মাতৃকুল উভয়ই ছিল অযোধ্যাবাসী এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী। হাসন রাজারা পরে  ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাঁরা সুনামগঞ্জ আসেন এবং সেখানেই জমিদারি পত্তন করে স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করেন।


হাসন রাজার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। মাত্র পনেরো বছর বয়সে পিতৃবিয়োগ হলে সংসার ও জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত হয়। যৌবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৌখিন ও ভোগবিলাসী, কিন্তু পরিণত বয়সে সব বিষয়-সম্পত্তি বিলিবণ্টন করে দরবেশ জীবন যাপন করেন।


 তাঁরই উদ্যোগে সুনামগঞ্জ হাসন এম ই স্কুল, অনেক ধর্ম-প্রতিষ্ঠান ও  আখড়া স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়ের অনেক মেধাবী ছাত্রের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও তিনি করতেন।


প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও হাসন রাজা ছিলেন একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি। তিনি সহজ-সরল সুরে আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় এক হাজার আধ্যাত্মিক গান রচনা করে সুর দিয়ে নিজ আখড়ায় পরবেশন করতেন। 


স্থানীয় বাউল-ফকিরেরা পর্যায়ক্রমে  সেসব গান গেয়ে হাসন রাজাকে আরও বেশি  পরিচিত করে তোলে। হাসন রাজা ছিলেন একজন ঐশীপ্রেমী এবং সেই প্রেমে মাতোয়ারা হয়েই তিনি সকল  গান রচনা কতেন।


 তাঁর গানে প্রেম ও বৈরাগ্যময় আধ্যাত্মিক চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর গানগুলি যেন হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের একটি মিলন ক্ষেত্র। তাই সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষজন তার গানের প্রতি গভীর আগ্রহী। 


তিনি গানের ভণিতায় নিজেকে ‘পাগলা হাসন রাজা’, ‘উদাসী’, ‘দেওয়ানা’,  ‘বাউলা’ ইত্যাদি বলে অভিহিত করেছেন। এক সময়ে তিনি কৈশোর ও যৌবনে শ্রীকৃষ্ণের নানাবিধ লীলায় অভিনয়ও করেছেন।


হাসন রাজার মুখ্য পরিচয় একজন মরমি কবি হিসেবে। তাঁর সম্পর্কে  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন: ‘পূর্ববঙ্গের একজন গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধসূত্রেই বিশ্ব সত্য।


বর্তমানে হাসন রাজার যাবতীয় গানের সংগ্রহ গুলো  হাছন উদাস (১৯০৭), শৌখিন বাহার, হাছন বাহার ইত্যাদি গ্রন্থে তাঁর গানগুলি পর্যায়ক্রমে  সংকলিত হয়েছে।


 ১৯২২ সালের ৬ই ডিসেম্বর মরমী কবি গীতিকার ও সুরকার হাসন রাজার মৃত্যু হয়।


আজ এই বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত মরমী কবি হাসন রাজার  প্রয়াণ দিবস। আজকের  এই দিনে এই মহান মানুষটিকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

সীমানা পেরিয়ে ------★

 সীমানা পেরিয়ে ------★

১৯৭০ সালে প্রলয়ংকরী ঘুর্ণিঝড়ের তিন মাস পর বরিশালের উপকূলীয় অঞ্চলে একজোড়া মানব-মানবীকে পাওয়া যায়। পত্রিকায় প্রকাশের পর এই ঘটনায় অনুপ্রাণিত হন আলমগীর কবির। অনুপ্রাণিত হন ইতালিয়ান পরিচালক লিনা ভেটমুলারের "সোয়েপ্ট অ্যাওয়ে" ১৯৭৪ থেকেও। চিত্রনাট্য সাজিয়ে ১৯৭৫ সালে শুরু করেন শুটিং।


১৯৭৭ সালে মুক্তি পায় সম্পূর্ণ রঙিন ছবি সীমানা পেরিয়ে।


সীমানা - বলতে সাধারণত বোঝায় ভৌগোলিক সীমারেখা। কিন্তু ছবিতে সীমানা বলতে পরিচালক দেখিয়েছেন কিভাবে শ্রেণি-বৈষম্য ও সমাজের ভেদাভেদের সীমানা পেরিয়ে যেতে হয়।


অক্সফোর্ড পড়ুয়া আলমগীর কবির ছিলেন তুখোড় সাংবাদিক বামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী। কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সাক্ষাত্কারও নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইংরেজি বিভাগের দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই। জহির রায়হানের "স্টপ জেনোসাইড" নির্মাণেও ছিলেন সহযোগী।


স্বভাবতই তাঁর ছবির বিষয়বস্তু সমাজ,সাম্য ও শ্রেণি বিপ্লব। "সীমানা পেরিয়েও" তাই। জমিদারের নাতনি টিনা ও জমিদারদের দ্বারা নির্যাতিত পরিবারের জেলে কালু প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে একটি দ্বীপে ছয় মাস আটকে পড়ে। উঁচুতলার মানুষের প্রতীক টিনা নিচতলার মানুষ কালুকে ভয় পায়। কালু তোতলা,

অর্থাত্ তার মতোই নিচতলার মানুষদের থেমে থেমে সংগ্রাম করতে হয়।


কালুর তোতলামো সারাতে সহযোগিতা করে টিনা এবং ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে ধনী-গরিবের সীমানা তুলে দেয়। অবরুদ্ধ দ্বীপ থেকে নাগরিক জীবনে ফিরে টিনা জানতে পারে,ঘূর্ণিঝড়ে তার মায়ের মৃত্যু হয়। তার বাবা পুনরায় বিয়ে করে টিনারই এক বান্ধবীকে। অথচ টিনা-কালুর ভালোবাসা মেনে নিতে চায় না তার বাবা। টিনা তখন বলে - বাবা - ওরাই হলো সাইলেন্ট মেজরিটি। একদিন ওরা জাগবে। দুর্যোগকে বিপ্লবের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে ছবিতে। দুর্যোগ এবং বিপ্লব এলে সবাই এক কাতারে চলে আসে,আসতে বাধ্য হয়।


ছবির বড় একটি অংশের শুটিং হয় কক্সবাজার নিকটবর্তী একটি দ্বীপে। ভাটার সময় ইউনিট সেখানে যেত,জোয়ারে শুটিং করে আবার ভাটার সময় ফিরে আসত। পাহাড় কেটে রাস্তাও তৈরি করতে হতো। কিছু অংশের শুটিং হয় এফডিসি,বেঙ্গল স্টুডিও এবং কালিয়াকৈরের জমিদারবাড়িতে। শুটিং ও বাস্তব জীবনে ইংরেজিতেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন আলমগীর কবির। 


সহকারীদের নোটও দিতেন ইংরেজিতে। খুব বেশি টাকা দিতে পারবেন না জেনেও শেখার আগ্রহ থেকে অনেকেই যুক্ত হতে চাইতেন তাঁর ছবিতে। এ ছবিতে সহকারী হিসেবে মাঝপথে যুক্ত হন কাজী হায়াত্। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের পুরস্কার স্বরূপ ক্রেডিট লাইনে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নাম দেন আলমগীর কবির।


১৯৬৮ সালের "মিস ক্যালকাটা" জয়শ্রী রায় "পরবর্তী সময়ে জয়শ্রী কবির" ছবির নায়িকা। সত্যজিত্ রায়ের ছবির এই নায়িকা চমত্কার ইংরেজি বলতেন। তাঁর স্মার্টনেস,সৌন্দর্য ও ফ্যাশন সচেতনতা তখনকার নায়িকাদের মধ্যে এক ধরনের ঈর্ষাও তৈরি করেছিল। তবে শুটিংয়ে পরিচালকের প্রিয়পাত্র ছিলেন বুলবুল আহমেদ। বুলবুলের নিবেদনকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে জয়শ্রীকে আরো মনোযোগী হতে বলতেন পরিচালক।


চারটি শাখায় জাতীয় পুরস্কার পায় এই ছবি - শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বুলবুল আহমেদ - শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা আলমগীর কবির - শ্রেষ্ঠ সম্পাদক বশীর হোসেন ও শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক এম এ মোবিন। বাচসাস পুরস্কারে আলমগীর কবির হন শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার,বিশেষ পুরস্কার পান ভূপেন হাজারিকা। ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের বিচারে সেরা ১০ বাংলাদেশি ছবির একটি - সীমানা পেরিয়ে।


তখনকার চার লাখ টাকায় নির্মিত হয় ছবিটি। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য,নান্দনিক এ ছবিটি প্রত্যাশিত মুনাফা করতে পারেনি - জানিয়েছেন প্রদর্শক মিয়া আলাউদ্দিন। জানা যায়,আশানুরূপ ব্যবসা না করায় পরিবেশক এ কে এম জাহাঙ্গীর খান অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে নির্মাণব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই প্রশ্ন আলমগীর কবিরকে ভীষণ কষ্ট দেয়।


ছবির গানে ও সুরে ভূপেন হাজারিকা অনন্য। তাঁর কণ্ঠে "মেঘ থমথম করে" ও আবিদা সুলতানার কণ্ঠে "বিমূর্ত এই রাত্রি আমার" এখনো দারুণ জনপ্রিয়।


কাহিনি,সংলাপ,চিত্রনাট্য,পরিচালনা ও প্রযোজনা - আলমগীর কবির -------

চিত্রগ্রহণ - এম এ মবিন -----

সংগীত পরিচালনা - ভূপেন হাজারিকা ------

অভিনয় - বুলবুল আহমেদ,জয়শ্রী কবির,কাফি খান,

মায়া হাজারিকা,গোলাম মোস্তফা ও তনুজা ------

সম্পাদনা - বশীর হোসেন -------

সার্বিক তত্ত্বাবধানে - কাজী হায়াত্ ------

মুক্তি - ১৯৭৭ -------

পরিবেশনা - আলমগীর পিকচার্স -------


------- সংগৃহীত

একটি নীতিমূলক গল্প ০,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ❣️💕 একটি নীতিমূলক গল্প 

একজন বয়স্ক মহিলার দুটি বড় পাত্র ছিল, যা তার কাঁধের বাকের দুই প্রান্তে ঝোলানো ছিল। 


একটি পাত্রের মধ্যে সূক্ষ্ম একটি ফাটল ছিল কিন্তু অন্য  পাত্রটি ছিল নিখুঁত এবং নদী থেকে জল আনার সময় একটি পাত্র পুরোপুরি জলে ভর্তি থাকতো অপরটি অর্ধেক জল পূর্ণ থাকত। 


পুরো দুই বছর ধরে, এভাবেই ভদ্রমহিলা দেড় পাত্র জল নিয়ে ঘরে ঢুকতেন। 


অবশ্যই, নিখুঁত পাত্র তার পূর্ণতার জন্য  গর্বিত ছিল কিন্তু বেচারা পটকা পাত্র নিজের অপূর্ণতার জন্য লজ্জিত ছিল এবং তার মনে দুঃখ ছিল যে পুরো জল কখনোই বহন করতে পারে না। 


দুই বছর পর খুঁত যুক্ত পাত্রটি বৃদ্ধার কাছে খুব দুঃখ করে বলল-আমি সত্যি সত্যি নিজে নিজের অক্ষমতার জন্য লজ্জিত। আমার যা করা উচিত ছিল আমি সেটা কখনোই করে উঠতে পারি না। আমার ভেতর একটা ফাটল আমাকে আমার কাজ করতে দেয় না।


বৃদ্ধা মুচকি হেসে বললেন, 'আচ্ছা খেয়াল করেছ, তোমাকে যে রাস্তা দিয়ে নিয়ে আসা হয় সেই রাস্তার পাশে কত ফুলের সারি!আমি তোমার ত্রুটি জানি, যে স্থান দিয়ে তোমাকে আনা হয় সেখানে আমি কিছু ফুলের বীজ ছড়িয়ে দিয়েছি, সেখান থেকে গাছ হয়ে ফুল জন্মেছে। পথের পাশের ওই ফুল গুলিকে তুমি নিজের অজান্তে প্রতিদিন যখন আমরা ফিরে যাই,

তুমি তাদের জল দাও।

আমি দু'বছর ধরে ওখান থেকে ফুল তুলে এনে আমার টেবিলের সাজিয়ে রাখি। তুমি অপূর্ন না হতে তাহলেই ফুল ফুটতো না, এ ফুল আমি পেতাম না 


গল্পের নৈতিক:

আমাদের প্রত্যেকের নিজস্ব স্বতন্ত্র ত্রুটি রয়েছে।এগুলি নিয়ে খুব বেশি ভাবার প্রয়োজন নেই।জীবনকে নিজের ছন্দে, নিজের মতো করে চলতে দেয়া উচিত।এতে জীবনের স্বাভাবিক  সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।ত্রুটিযুক্ত মানুষের ভেতরে যে সৎ গুনাবলী আছে, সেগুলোর সদব্যবহার যদি আমরা করতে পারি তাতে সুন্দর হয় সমাজ, সমৃদ্ধ হয় দেশ। ❣️💕💞


সংগৃহীত।

রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪

রসুনের আচার রেসিপি,,,

 🌹🌹রসুনের আচার রেসিপি 

🌿উপকরণ :

রসুন-৫০০ গ্রাম। রসুন ছিলে ধুয়ে পানি ঝড়িয়ে নিতে হবে। 

শুকনো লাল মরিচ -৪/৫টা।

এলাচ-৩/৪টা।

দারচিনি-২টুকরা।

ধনিয়া -১টে চামুচ। 

জিরা-১টে চামুচ। 

সরিষা-১টে চামুচ। 

পাঁচ ফোড়ন-১টে চামুচ। 

এই সব উপকরণ একসাথে করে হালকা টেলে/ভেজে ঠান্ডা করে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে গুড়ো করে নিতে হবে।

🌿উপকরণ 

চুলায় প্যান বসিয়ে হাফ কাপ সরিষার তেল দিয়ে দিতে হবে। 

তেল গরম হলে শুকনো লাল মরিচ ৪/৫টা।

এবং রসুন দিতে হবে। অল্প সময় নেড়ে নেড়ে রসুন ভেজে দিয়ে দিতে হবে-

তেঁতুলের ক্বাথ-হাফ কাপ।

চিনি-২টে চামুচ। 

হলুদ গুড়া-১চা চামুচ। 

মরিচ গুড়া-১চা চামুচ। 

গুড়ো করে রাখা আচারের মসলা-২টে চামুচ। 

লবন- স্বাদ মতো।

ভালো ভাবে নেড়ে মিশিয়ে অল্প সময়/৪/৫মিনিট জ্বাল করে নিতে হবে। তেলে ভাজতে ভাজতে রসুন নরম হয়ে যাবে।তখনই দিয়ে দিতে হবে ভিনেগার 2 টেবিল চামচ 


২/১বার নেড়ে মিশিয়েই চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। ঠান্ডা হলে পরিস্কার শুকনো কাচের বয়ামে ভরে রেখে দিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন রসুন গুলো তেলের নিচে ডুবে থাকে। 

মাঝে মাঝে রোদে দিলে এই আচার প্রায় এক বছরের মতো ভালো থাকবে।

#রসুনের আচার #tayebadoel

স্বামীপেডিয়া, স্বামী কত প্রকার ও কি কি?,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 স্বামীপেডিয়া, স্বামী কত প্রকার ও কি কি? 


১. ব্যাচেলর স্বামী (Bachelor Husband):

এরা কেতাদুরস্ত, মুখে সর্বদা মিষ্টি হাসি থাকে। নিজেকে ব্যাচেলর বলতে ভালোবাসে। বয়স যতই হোক না কেন, কেউ ব্যাচেলর বললে খুশী হয়। স্ত্রীর চেয়ে বন্ধুদের সাথে বেশি আড্ডা দেয়। দাম্পত্য জীবন নিয়ে মোটেও সিরিয়াস নন। এদের অনেক বান্ধবীও থাকে। 


২. তপ্ত স্বামী (Heated Husband):

এরা সবসময় সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করে, গরম পানির মতো টগবগ করে, সব সময় রাগান্বিত, হিংস্র মেজাজ, আধিপত্যশীল ও খুব বিপজ্জনক। মধ্যরাত ছাড়া বউয়ের প্রয়োজন অনুভব করে না। গতি প্রকৃতি সাইক্লোনের মতো অনিশ্চিত। 


৩. ক্রীতদাস স্বামী (Slave Husband): শ্বশুর বাড়িতে লজিং থেকে পড়াশোনা, শ্বশুরের টাকায় লেখাপড়া, ছাত্রীর সাথে প্রেম কিংবা “বিবাহের বিনিময়ে চাকুরী” কর্মসূচিসহ কিছু অজ্ঞাত দূর্বলতার কারণে এদের স্বাধীনতার অপমৃত্যু ঘটে। এরপর আর কোন ভাবেই হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারে না।


৪. সাধারণ স্বামী (Ordinary Husband):

এরা খুবই গতানুগতিক, আর দশটা স্বামীর মতোই সাধারণ নিরবে সব সয়ে যায়। এরা জেনেই গেছে পুরুষ হয়ে জন্মেছি এটুকু জ্বালা সহ্য করতেই হবে। তাই প্রতিবাদের ঝুঁকি নেয় না।


৫. চামড়ামোটা স্বামী (Fat Skinned Husband): নানান কথার বাণে বিদ্ধ হয়ে এদের চামড়া গণ্ডারের ন্যায় পুরু হয়ে যায়। “তোমার ভাগ্য ভালো যে আমার মতো ... পেয়েছো আর কেউ হলে সেই কবেই ফেলে চলে যেতো” জাতীয় বাক্যবাণ এদের চামড়া ভেদ করতে পারে না।


৬. নিপীড়িত স্বামী (Oppressed Husband):

এরা নিজ বাড়ির চাইতে জেলখানা কিংবা নির্জন বনাঞ্চলকে শান্তির জায়গা মনে করে। সয়ে সয়ে উপরওয়ালার কাছে বিচার চাওয়ারও সাহস করে না। তবে পত্রিকায় কারও বউ মরার সংবাদ খুব মন দিয়ে পড়ে, তারপর কি যেনো ভেবে লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আগের মতো চুপচাপ বসে থাকে।


৭. তেজপাতা স্বামী (Dry Husband):

এরা খুব মুডি, কৃপণ, আত্মকেন্দ্রিক। স্ত্রীর ভালোলাগা, ইচ্ছা ও আগ্রহ মোটেও বিবেচনা করে না, রসবোধ নেই। বউ নিয়ে বেড়ানো রেস্টুরেন্টে যাওয়া, শখ করে বউয়ের জন্য কিছু কেনাকাটা করা এদের কাছে খুব কঠিন একটা কাজ। এরা রিলেশনকে আনন্দদায়ক করতে জানে না। 


৮. দাবাড়ু স্বামী (Grand Master Husband):

এরা স্ত্রীকে সমস্যা সমাধানের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে, স্ত্রীকে শুধুমাত্র তখনই ভালোবাসে যখন তার কাছ থেকে কিছু প্রয়োজন হয়। এরা খুব চালাক, স্ত্রীর দুর্বলতাগুলি খুব ভালোভাবে জানে, স্বার্থ উদ্ধারে তা ভালোভাবে কাজে লাগাতে জানে। 


৯. পরজীবী স্বামী (Parasite Husband):

এরা অলস, শুধুমাত্র অর্থের জন্য স্ত্রীকে ভালোবাসে। বউয়ের রোজগারের টাকায় চলে, ফুটানি করে, কেউ কেউ বিভিন্ন নেশার পেছনে বউয়ের টাকা খরচ করে। সংসারের কাজে স্ত্রী'কে মোটেও সাহায্য করে না। এদের একটি প্রজাতি “ঘর জামাই বা গৃহপালিত স্বামী” নামেও পরিচিত।


১০. অপরিপক্ব স্বামী (Immatured Husband): এরা দায়িত্ব কাণ্ডজ্ঞানহীন ও শিশুসুলভ। তারা মা বোন বা আত্মীয়দের জিজ্ঞাসা না করে নিজে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কিন্তু ভুল কিছু ঘটে গেলে দ্রুত বউয়ের কাছে ছুটে যায়।


১১. অতিথি স্বামী (Guest Husband): 

এরা সব সময় বাড়িতে থাকে না, মাঝে মাঝে ভিজিটর এর মতো আসে। যে ক'দিন ঘরে থাকে বউকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। পরিবারের বাজার ঘাট বা দরকারি জিনিসপত্র কিনে দিয়ে বউ অশ্রুজল উপেক্ষা করে বিদেয় নেয়।যেমন: চাকরিজীবী, প্রবাসী স্বামী।


১২. যত্নশীল স্বামী (Caring Husband):

এরা যত্নশীল, প্রেমময়; সকল মানসিক চাহিদা পুরণ করে, পরিবারকে যথেষ্ট সময় দেয়। অত্যন্ত দায়িত্বশীল, স্ত্রীকে অংশীদার বিবেচনা করে, সকল কাজে সাহায্যকারী হিসাবে পাশে থাকে। 


কার কোন টা...??!

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ০৮-১২-২০২৪ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ০৮-১২-২০২৪ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে আরও সহজ করা হচ্ছে বিচারিক কার্যক্রম - জানালেন প্রধান বিচারপতি।


আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ইস্যু অন্যায্যভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে - বললেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব - এ সংক্রান্ত মামলা তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গঠনগুলোর প্রতি আহ্বান।


আগামী বছর জনগণ দেশে রাজনৈতিক সরকার দেখতে পাবে - বলেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা।


বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে অসহযোগিতা করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতও - বললেন নৌপরিবহণ উপদেষ্টা।


ভারত, বাংলাদেশের ওপর আগ্রাসন চালানোর অপচেষ্টা করছে, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি - মন্তব্য জাতীয় ঐক্য ও সংহতি পরিষদের।


দেশে স্বাধীন নির্বাচন চায় বিএনপি, ফলাফল যাই হোক মেনে নেয়া হবে - বললেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে বন্দুকধারীদের হামলায় ছয় পাকিস্তানি সৈন্য নিহত।


আজ দুবাইয়ে অনুর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ।


নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...