এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪

অভিনেতা খালেদ খান বাংলাদেশের টিভি নাটকের যুবরাজ ------ ছিঃ ছিঃ, তুমি এত খারাপ’- এই একটি সংলাপই যথেষ্ট এদেশের নাট্যজগতের যুবরাজকে পরিচয় করিয়ে দিতে

 ‘

অভিনেতা খালেদ খান

বাংলাদেশের টিভি নাটকের যুবরাজ

-------------------------------------------------

ছিঃ ছিঃ, তুমি এত খারাপ’- এই একটি সংলাপই যথেষ্ট এদেশের নাট্যজগতের যুবরাজকে পরিচয় করিয়ে দিতে। নব্বই দশকে এই সংলাপটি ছিলো সব নাট্যামোদি দর্শকদের খুব প্রিয়। দারুণ নাটকীয়তায় এই বাক্য সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছিলেন যিনি তিনি হলেন অভিনেতা খালেদ খান।


খালেদ খান পুরোনাম: খালেদ মাহমুদ খান যুবরাজ) ছিলেন বাংলাদেশের একজন অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। ১৯৭৮ সালে নাগরিক নাট্যদলের 'দেওয়ান গাজীর কিসসা' নাটকে কাজ করার মাধ্যমে তার অভিনয় জীবনের শুরু। 


খালেদ খান  ৩০টিরও বেশি নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনা দিয়েছেন ১০টি নাটকে।শিল্পকলার অভিনয় শাখায় তার অবদানের জন্য তাকে ২০২২ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়।


এদেশের অভিনয়ের সাম্রাজ্যে তাকে ‘যুবরাজ’ বলে সম্মান দেখানো হয় খালেদ খানকে। মঞ্চ ও টিভি অভিনয়শিল্পী এবং নির্দেশক হিসেবে প্রশংসিত ছিলেন খালেদ খান। খালেদ খান ১৯৫৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন।


প্রয়াত এ অভিনেতার জন্মদিন ও মৃত্যুদিনকে ঘিরে মঞ্চ বা টিভিতে কোথাও কোনো স্মরণ অনুষ্ঠান বা আয়োজনের খবর মেলেনি। তবে খালেদ খানকে মনে রেখেছেন তার অভিনয়ের অনুরাগীরা। সোশাল মিডিয়ায় অনেকেই অভিনয়ের যুবরাজকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা দিয়েছেন।


খালেদ খানের শৈশব কেটেছে টাঙ্গাইলেই। সেখানেই শিক্ষাজীবনের শুরু। ১৯৮১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি. কম এবং ১৯৮৩ সালে ফিন্যান্স বিষয়ে এম. কম সম্পন্ন করেন তিনি।


দীর্ঘ ২৮ বছর নিয়মিত থিয়েটার ও টিভি নাটকে অভিনয় করে শক্তিমান এক অভিনেতায় পরিণত হয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে নব্বই দশকে একাধিক টিভি নাটকে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান।


 মঞ্চে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, অচলায়তন, নুরালদীনের সারা জীবন, ‘ঈর্ষা’, দর্পণ, গ্যালিলিও ও ‘রক্তকরবী’।


নাটকে সফলভাবে পথচলার পর পরিচালনাও শুরু করেন খালেদ খান। তার পরিচালিত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘মুক্তধারা’, ‘পুতুল খেলা’, ‘কালসন্ধ্যায়’, ‘মাস্টার বিল্ডার’, ‘ক্ষুদিত পাষাণ’সহ বেশ কিছু নাটক।


১৯৮১ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে টিভি নাটকে অভিষেক হয় তার। তার অভিনীত প্রথম টিভি নাটক হলো ‘সিঁড়িঘর’। এরপর অসংখ্য টিভি নাটকে অভিনয় করে দর্শক হৃদয় জয় করেছেন।


একাধিক নাটকে তার বেশ কিছু সংলাপও জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে নব্বই দশকের নাটক ‘রূপনগর’-এ তার ‘ছিঃ ছিঃ, তুমি এত খারাপ’ শীর্ষক সংলাপটি চলে আসে মানুষের মুখে মুখে। 


খালেদ খান অভিনীত জনপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এইসব দিনরাত্রী, কোন কাননের ফুল, মফস্বল সংবাদ, অথেলো ইত্যাদি।


ক্যারিয়ারজুড়ে কোটি দর্শকের ভালোবাসা ছাড়াও মঞ্চ নাটকে অনবদ্য অবদানের জন্য মোহাম্মদ জাকারিয়া পদক, সেরা অভিনেতা হিসেবে নুরুন্নাহার স্মৃতিপদক।


এছাড়া আরও পেয়েছেন,  সেরা পরিচালক হিসেবে সিজেএফবি পুরস্কার এবং সেরা টিভি অভিনেতা হিসেবে ‘ইমপ্রেস-অন্যদিন’ পুরস্কার অর্জন করেছিলেন খালেদ খান।


২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর মাত্র ৫৫ বছর বয়সে 

খালেদ খান ইহকাল ত্যাগ করে পরপারে চলে যান। আজকের এই প্রয়াণ দিবসে উনাকে গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ২২-১২-২০২৪ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ২২-১২-২০২৪ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


বাংলাদেশে গুমের ঘটনায় ভারতের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিশন।


বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত - জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং - বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান থেকে সকলকে বিরত থাকার অনুরোধ।


ব্যবসায়ীদের একই জায়গা থেকে সকল তথ্যপ্রাপ্তির সুবিধার্থে একক জাতীয় বাতায়ন তৈরি করা হবে - জানালেন অর্থ উপদেষ্টা।


পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনা রোধে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার গুরুত্বারোপ।


সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত - সহকর্মীদের শেষ শ্রদ্ধা - আগামীকাল মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন।


ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ৩২ জনের মৃত্যু।


আজ কুয়ালালামপুরে অনুর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ভারতের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ।

শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

মঙ্গলগ্রহে নয়, পৃথিবীতেই রয়েছে এমন অদ্ভুত রঙ্গিন পাহাড়! লাল, সবুজ, কমলা, খয়েরী, হলুদ নানান রঙে তৈরী পাহাড় পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে।,,,,, কিছু মিছু ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 মঙ্গলগ্রহে নয়, পৃথিবীতেই রয়েছে এমন অদ্ভুত রঙ্গিন পাহাড়! লাল, সবুজ, কমলা, খয়েরী, হলুদ নানান রঙে তৈরী পাহাড় পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। 


চীনের জানজাই ডেনজিয়া ন্যাশনাল জিওলজিকাল পার্ক ( Danxia National Geological Park) চীনের গানসু প্রদেশের কিলিয়ান পর্বতমালার পূর্ব পাদদেশে অবস্থিত। প্রায় ৫০ বর্গ কিলোমিটার (১৯ বর্গ মাইল) জুড়ে বিস্তৃত, এটি প্রকৃতির একটি মাস্টারপিস।






চীনের অন্যতম জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট আকর্ষণ জানজাই পার্ক। টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে  সৃস্টি হয় এই পাহাড়গুলো। পাহাড়গুলোর রঙিন হওয়ার মূল কারন হচ্ছে এহগুলো লাল বেলেপাথরের দিয়ে তৈরী।বেলেপাথরের সাথে অন্যান্য মিনারেল যোগ হয়ে পাহাড় সেজেছে স্থলে রঙ ধনুর সাজে।


 বিজ্ঞানীদের মতে এই রঙিন পাহাড়গুলো তৈরী হতে প্রায় 

২ কোটি ৪০ লাখ বছর সময় লেগেছে।

পিটকেয়ার্ন দ্বীপপুঞ্জ 🇵🇳 পৃথিবীর এক বিস্ময়কর জনপদ!

 পিটকেয়ার্ন দ্বীপপুঞ্জ 🇵🇳 পৃথিবীর এক বিস্ময়কর জনপদ!


পিটকেয়ার্ন দ্বীপপুঞ্জ হল প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম এবং ক্ষুদ্র জনপদ। এটি যুক্তরাজ্যের একটি নির্ভরশীল অঞ্চল। চারটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে কেবলমাত্র পিটকেয়ার্ন দ্বীপই বসবাসযোগ্য!


মূল বৈশিষ্ট্য:

জনসংখ্যা: মাত্র ৫০ জনের মতো! পৃথিবীর সবচেয়ে কম জনবহুল জায়গাগুলোর একটি!""

ভূমি আয়তন: ৪৭ বর্গকিলোমিটার!""

বাসিন্দাদের পরিচয়: এখানকার অধিবাসীদের বেশিরভাগই ১৭৮৯ সালের ঐতিহাসিক বিদ্রোহী জাহাজ এইচএমএস বাউন্টি-এর বিদ্রোহীদের বংশধর!

প্রধান ভাষা: ইংরেজি এবং পিটকেয়ার্নের নিজস্ব ক্রেওল।

অর্থনীতি: দ্বীপবাসীরা মূলত হস্তশিল্প, মধু উৎপাদন, এবং পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল!""

দ্বীপপুঞ্জের বিশেষত্ব

পিটকেয়ার্নের জনজীবন আধুনিকতার থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। এখানে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন, কারণ কোনো বিমানবন্দর বা বড় বন্দর নেই। দ্বীপে বিদ্যুৎ সীমিত সময়ের জন্য সরবরাহ করা হয় এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা অনেক কম!!"


তবুও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, সরল জীবনযাত্রা এবং ইতিহাসে সমৃদ্ধ এই দ্বীপপুঞ্জ প্রকৃতিপ্রেমী এবং অভিযাত্রীদের জন্য এক স্বপ্নের স্থান!""


পিটকেয়ার্ন দ্বীপপুঞ্জ যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে এখনও এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে জীবন সহজ, সরল, এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটে!


Follow : Md Saruar Jahan Polash

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ২১-১২-২০২৪ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ২১-১২-২০২৪ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


ডি-এইট শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান শেষে মিশর থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস।


রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ছাড়া মিয়ানমারে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অসম্ভব -পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্য।


উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের ইন্তেকাল - রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শোক।


সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিভেদ তৈরি হতে দেওয়া যাবে না-বললেন ধর্ম উপদেষ্টা    ডক্টর আ ফ ম খালিদ হোসেন।


একশোর বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী ভারত মহাসাগর থেকে উদ্ধার।


ভারতের রাজস্থানে সিএনজি ট্যাঙ্কারের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ১২ জনের প্রাণহানি।


কিংসটাউনে টি-টোয়েন্টি সিরিজে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তিন-শূন্যতে হোয়াইট ওয়াশ করলো বাংলাদেশ।

বন্দে আলী মিয়া (১৫ ডিসেম্বর ১৯০৬ - ১৭ জুন ১৯৭৯)

 বন্দে আলী মিয়া

(১৫ ডিসেম্বর ১৯০৬ - ১৭ জুন ১৯৭৯)


"আমাদের ছোটো গাঁয়ে ছোটো ছোটো ঘর

থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।

পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই

একসাথে খেলি আর পাঠশালে তাই।

হিংসা ও মারামারি কভু নাহি করি

পিতামাতা গুরুজনে সদা মোরা ডরি।"


'আমাদের গ্রাম' কবিতার প্রথম কয়েক লাইন। এই কবিতাটি আমরা অনেকেই ছোটোবেলায় পড়েছি। কবিতাটির রচয়িতা কবি বন্দে আলী মিয়া। এই কবিকে আমরা প্রায় ভুলেই গেছি।  বন্দে আলী পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মুন্সী উমেদ আলী। তিনি ছিলেন পাবনা জজকোর্টের একজন কর্মচারী। বন্দে আলী ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, শিশু সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিত্রকর। 


পাবনার মজুমদার একাডেমী থেকে ১৯২৩ সালে তিনি ম্যাট্রিক পাস করেন। তারপর তিনি কলকাতায় গিয়ে ভর্তি হলেন কলকাতা আর্ট একাডেমীতে। সেখান থেকে প্রথম বিভাগে তিনি উত্তীর্ণ হন। ১৯২৫ সালে  'ইসলাম দর্শন' পত্রিকায় শুরু করলেন সাংবাদিকতা। ১৯২৯ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। 


দেশ ভাগে তিনি খুবই দুঃখ পেয়েছিলেন। তাঁর অনেক লেখার মধ্যেই তাঁর এই বেদনা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি দেশ ভাগের আগেই ১৯৪৬ সালে তিনি প্রথমে ঢাকা বেতার কেন্দ্রে এবং পরে রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন। সেখানে তিনি ছিলেন 'গল্পদাদু'।  তিনি কলকাতার অনেক রেকর্ড কোম্পানির হয়ে পালাগান ও নাটিকা রেকর্ড করেন যেগুলো খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। 


'বসন্ত জাগ্রত দ্বারে' (১৯৩১) তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা। ১৯৩২ সালে তাঁর 'ময়নামতীর চর' কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।  এরপর‌ই রবীন্দ্রনাথ লিখলেন, 'বাংলা সাহিত্যে তুমি আপন বিশেষ স্থানটি অধিকার করতে পেরেছ বলে আমি মনে করি।' তাঁর প্রায় সব কবিতাই ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত। 


১৯৫৭ সালে তিনি প্রাইড অব পারফরম্যান্স পুরস্কার পান। ১৯৬২ সালে তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান ও ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে রাজশাহীর উত্তরা সাহিত্য মজলিস পুরস্কার পান। তাঁকে মরণোত্তর একুশে পুরস্কার‌ও দেওয়া হয়েছিল। তা সত্বেও এ কথা বলাই যায় তাঁর প্রতিভার যথার্থ মূল্যায়ন আমরা করতে পারিনি। 


১৯৭৯ সালের ১৭ জুন রাজশাহীতে তাঁর মৃত্যু হয়। 


ছবি ও তথ্য: উইকিপিডিয়া এবং প্রথম আলো পত্রিকার সৌজন্যে।

বন্দী-শিবির থেকে"              কবি শামসুর রাহমান

 "বন্দী-শিবির থেকে"

             কবি শামসুর রাহমান


 ঈর্ষাতুর নই, তবু আমি

তোমাদের আজ বড়ো ঈর্ষা করি | তোমরা সুন্দর

জামা পরো, পার্কের বেঞ্চিতে বসে আলাপ জমাও,

কখনো সেজন্য নয়।   ভালো খাওদাও

ফুর্তি করো সবান্ধব, সেজন্যেও নয় । 


বন্ধুরা তোমরা যারা কবি,

স্বাধীন দেশের কবি, তাদের সৌভাগ্যে

আমি বড়ো ঈর্ষান্বিত আজ। 

যখন যা খুশি

মনের মতন শব্দ কী সহজে করো ব্যবহার

তোমরা সবাই। 

যখন যে-শব্দ চাও, এসে গেলে সাজাও পয়ারে,

কখনো অমিত্রাক্ষরে, ক্ষিপ্র মাত্রাবৃত্তে কখনো-বা  

সেসব কবিতাবলী যেন রাজহাঁস,

দৃপ্ত ভঙ্গিমায় মানুষের

অত্যন্ত নিকটে যায়, কুড়ায় আদর

অথচ এ দেশে আমি আজ দমবন্ধ

এ বন্দী-শিবিরে

মাথা খুঁড়ে মড়লেও পারি না করতে উচ্চারণ

মনের মতন শব্দ কোনো। 

মনের মতন সব কবিতা লেখার

অধিকার ওরা

করেছে হরণ। 

প্রকাশ্য রাস্তায় যদি তারস্বরে চাঁদ ফুল পাখি

এমন কি ‘নারী’ ইত্যাকার শব্দাবলী

করি উচ্চারণ, কেউ করবে না বারণ কখনো । 

কিন্তু কিছু শব্দকে করেছে

বেআইনী ওরা

ভয়ানক বিস্ফোরক ভেবে

স্বাধীনতা নামক শব্দটি

ভরাট গলায় দীপ্ত উচ্চারণ ক’রে বারবার

তৃপ্তি পেতে চাই ; শহরের আনাচে কানাচে

প্রতিটি রাস্তায়

অলিতে গলিতে

রঙিন সাইনবোর্ডে, প্রত্যেক বাড়িতে

স্বাধীনতা নামক শব্দটি

লিখে দিতে চাই

বিশাল অক্ষরে

স্বাধীনতা শব্দ এত প্রিয় যে আমার

কখনো জানি নি আগে ; উঁচিয়ে বন্দুক

স্বাধীনতা, বাংলা দেশ—- এই মতো শব্দ থেকে ওরা

আমাকে বিচ্ছিন্ন ক’রে রাখছে সর্বদা । 


অথচ জানে না ওরা কেউ

গাছের পাতায়, ফুটপাতে

পাখির পালকে কিংবা নারীর দু-চোখে

পথের ধুলোয়,

বস্তির দুরন্ত ছেলেটার

হাতের মুঠোয়

সর্বদাই দেখি জ্বলে স্বাধীনতা নামক শব্দটি। 

========================

             "আসাদের শার্ট"

              শামসুর রাহমান


গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের

জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট

উড়ছে হাওয়ায় নীলিমায় ।


বোন তার ভায়ের অম্লান শার্টে দিয়েছে লাগিয়ে

নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম কখনো

হৃদয়ের সোনালী তন্তুর সূক্ষতায়

বর্ষীয়সী জননী সে-শার্ট

উঠোনের রৌদ্রে দিয়েছেন মেলে কতদিন স্নেহের বিন্যাসে ।


ডালীম গাছের মৃদু ছায়া আর রোদ্দুর- শেভিত

মায়ের উঠোন ছেড়ে এখন সে-শার্ট

শহরের প্রধান সড়কে

কারখানার চিমনি-চূড়োয়

গমগমে এভেন্যুর আনাচে কানাচে

উড়ছে, উড়ছে অবিরাম

আমাদের হৃদয়ের রৌদ্র-ঝলসিত প্রতিধ্বনিময় মাঠে,

চৈতন্যের প্রতিটি মোর্চায় ।


আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা

সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্ত্র মানবিক ;

আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা ।

==========================

          "অভিশাপ দিচ্ছি"

             শামসুর রাহমান


না আমি আসিনি ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রাচীন পাতা ফুঁড়ে,

দুর্বাশাও নই, তবু আজ এখানে দাঁড়িয়ে এই রক্ত গোধূলিতে অভিশাপ দিচ্ছি।

আমাদের বুকের ভেতর যারা ভয়ানক কৃষ্ণপক্ষ দিয়েছিলো সেঁটে

মগজের কোষে কোষে যারা পুঁতেছিল

আমাদেরই আপন জনেরই লাশ দগ্ধ, রক্তাপ্লুত

যারা গণহত্যা করেছে শহরে গ্রামে টিলায় নদীতে ক্ষেত ও খামারে

আমি অভিশাপ দিচ্ছি নেকড়ের চেয়েও অধিক পশু সেই সব পশুদের।


ফায়ারিং স্কোয়াডে ওদের সারিবদ্ধ দাঁড় করিয়ে নিমেষে ঝাঁ ঝাঁ বুলেটের বৃষ্টি

ঝরালেই সব চুকে বুকে যাবে তা আমি মানি না।

হত্যাকে উৎসব ভেবে যারা পার্কে মাঠে ক্যাম্পাসে বাজারে

বিষাক্ত গ্যাসের মতো মৃত্যুর বীভৎস গন্ধ দিয়েছে ছড়িয়ে,

আমি তো তাদের জন্য অমন সহজ মৃত্যু করি না কামনা।

আমাকে করেছে বাধ্য যারা

আমার জনক জননীর রক্তে পা ডুবিয়ে দ্রুত সিঁড়ি ভেঙ্গে যেতে

ভাসতে নদীতে আর বনেবাদাড়ে শয্যা পেতে নিতে,

অভিশাপ দিচ্ছি, আমি সেইসব দজ্জালদের।

অভিশাপ দিচ্ছি ওরা চিরদিন বিশীর্ণ গলায়

নিয়ত বেড়াক বয়ে গলিত নাছোড় মৃতদেহ,


অভিশাপ দিচ্ছি প্রত্যহ দিনের শেষে ওরা

হাঁটু মুড়ে এক টুকরো শুকনো রুটি চাইবে ব্যাকুল

কিন্তু রুটি প্রসারিত থাবা থেকে রইবে দশ হাত দূরে সর্বদাই।


অভিশাপ দিচ্ছি ওদের তৃষ্ণায় পানপাত্র প্রতিবার

কানায় কানায় রক্তে উঠবে ভরে, যে রক্ত বাংলায়

বইয়ে দিয়েছে ওরা হিংস্র জোয়ারের মত।

অভিশাপ দিচ্ছি আকণ্ঠ বিষ্ঠায় ডুবে ওরা অধীর চাইবে ত্রাণ

অথচ ওদের দিকে কেউ দেবে না কখনো ছুঁড়ে একখন্ড দড়ি।


অভিশাপ দিচ্ছি স্নেহের কাঙ্গাল হয়ে ওরা

ঘুরবে ক্ষ্যাপার মতো এ পাড়া ওপাড়া,

নিজেরি সন্তান প্রখর ফিরিয়ে নেবে মুখ, পারবে না চিনতে কখনো;

অভিশাপ দিচ্ছি এতোটুকু আশ্রয়ের জন্য, বিশ্রামের কাছে আত্মসমর্পণের জন্যে দ্বারে দ্বারে ঘুরবে ওরা। প্রেতায়িত সেই সব মুখের উপর

দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে পৃথিবীর প্রতিটি কপাট,

অভিশাপ দিচ্ছি…

অভিশাপ দিচ্ছি,….

অভিশাপ দিচ্ছি….

========================

পিরোজপুরের মাদ্রাসাছাত্রী আমিনাকে কবি রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদ চিঠিতে।

 পিরোজপুরের মাদ্রাসাছাত্রী আমিনাকে কবি রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদ চিঠিতে। যেই চিঠিতে বোঝা যায় সেই সময় রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয়তা সকল প্রকার বাঙালীর কাছে কত বেশি ছিলো।  সময়টা ১৯৪০ এর দিকে। 


শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন মহাফেজখানায় রবীন্দ্রনাথের কয়েক হাজার চিঠির সচিবকৃত অবিকল নকল সংরক্ষিত আছে। কবির হাতে লেখা মূল চিঠি প্রাপকের কাছে ডাকে পাঠানোর আগে তাঁর সচিব চিঠির অনুলিপি করে রাখতেন। তাঁকে লেখা ভক্ত–অনুরাগী ও অন্যদের মূল চিঠি কবি সযত্নে রক্ষা করতেন।


এমনই একটি চিঠি রবীন্দ্রভবনের নথিতে পাওয়া যায় দুই দশক আগে। চিঠিটি জনৈক কিশোরী আমিনা মোজাহারের লেখা। তারিখ ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৭ বঙ্গাব্দ। তৎকালের অবিভক্ত বাকেরগঞ্জ জেলার পিরোজপুর মহাকুমার স্বরূপকাঠি থানার আকলম গ্রাম থেকে পাঠানো কয়েক লাইনের সম্বোধনহীন ছোট চিঠি। নিচে লেখিকার ঠিকানা: চতুর্থ শ্রেণি, আকলম আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসা, স্বরূপকাঠি, বাকেরগঞ্জ।


কাজী আমিনা মোজাহার কাজী মোজহার উদ্দীন আহমদ ও হাকিমুন্নেছার কন্যা। স্বরূপকাঠির আকলম আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসার ওই তালেবে এলেম ভবিষ্যতে বরিশাল সৈয়দানুন্নেসা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (১৯৪৭), ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে আইএ (১৯৪৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স এবং এমএ (১৯৫৮) পাস করেন। হলি ক্রস কলেজ ও ময়মনসিংহ মুমিনুন্নেসা কলেজে শিক্ষকতার পর পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান এডুকেশন সার্ভিসে যোগ দিয়ে চট্টগ্রাম কলেজ, তিতুমীর কলেজ ও ঢাকা কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি সওগাতসহ অন্যান্য সাময়িকপত্রে রচনা প্রকাশ করেন এবং ভাষা ও বিরচন নামে পাঠ্যবই লেখেন। পরিণত বয়সে আমিনা চারণ করেছেন তাঁর রবীন্দ্রস্মৃতি। পাঠ্যবইয়ে আর চয়নিকায় কবির কবিতার সঙ্গে প্রথম পরিচয় তাঁর। প্রবেশিকা পাঠ্য বাংলা সংকলনে ‘শা–জাহান’ কবিতার আবৃত্তি শুনেছিলেন। পাঠ্যবইয়ে শামসুন্নাহার মাহমুদ ও আনোয়ারা [বাহার] চৌধুরীর লেখা রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে প্রবন্ধ পড়েছেন। 


তাঁর নিজের কথায়:

‘আমি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে একটা মধুর আত্মীয়তা অনুভব করতে লাগলাম। আর এই স্পর্ধাটুকুই তাঁকে চিঠি লিখতে উদ্বুদ্ধ করলো আমাকে।...একদিন অতি সঙ্গোপনে বাড়ির সবাইকে লুকিয়ে একখানা চিঠি লিখে ফেললাম।’


এক গরমের দুপুরে পোস্টমাস্টার আমিনার বাবাকে ডেকে পাঠালেন। মোজহার উদ্দীন রবীন্দ্রনাথের প্রতীক [মনোগ্রাম] আঁকা চিঠিটি মেয়েকে দিলেন।

চিঠি পাওয়ার পর বালিকার প্রতিক্রিয়া:

‘আমি পড়তে পারলাম না। আমার সমস্ত হৃদয়মন বারবার শিহরিত হতে লাগল। আমি বিছানায় শুয়ে কাঁদলাম। বাবাও জোহরের নামাজ পড়ে জায়নামাজে বসে মোনাজাত করতে করতে কাঁদলেন।’ (উদ্ধৃত, কাজী সাইফুদ্দীন ওমর, ‘স্বরূপকাঠির প্রত্যন্ত পল্লীগ্রামে রবীন্দ্রনাথের চিঠি’)।


আমিনার যে সম্বোধনহীন চিঠির আশীর্বাদী উত্তর দিয়েছিলেন কবি, সেই চিঠির পাঠ:

আকলম

১৩ই জ্যৈষ্ঠ

আপনি আমাকে চিনেন না। কিন্তু আমি আপনাকে চিনি। বাংলা বইয়ের মধ্যে আপনাকে দেখেছিও। আপনি আমাদের ছোট ছেলেমেয়েদের খুব ভালবাসেন। আবার আমরা চিঠি লিখলে উত্তরও নাকি দেন। তাই আমি চিঠি লেখছি (ক.) উত্তর দিবেন কিন্তু। আচ্ছা আপনাকে কি বলে ডাকব?

কুমারী আমিনা মোজাহার

চতুর্থ শ্রেণী

আকলম আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসা

পো. স্বরূপকাঠি, বাকেরগঞ্জ।


কবির ছোট আশীর্বাদী চিঠির বয়ান:

GOURIPUR LODGE

KALIMPONG

কল্যাণীয়াসু

তোমার চিঠিখানি পেয়ে খুশি হলুম। আমার আশীর্বাদ গ্রহণ কর। ইতি ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৭

শুভার্থী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


সূএ: প্রথম আলো, ভূইয়া ইকবাল


ছবিতে সেই আমিনা মোজাফফর যাকে রবীন্দ্রনাথ পত্র পাঠান।


সৌজন্যে: বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র

শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪

২০টি দেশের সর্বকালের ২০টি সেরা সিনেমা,,,,,,

 ২০টি দেশের সর্বকালের ২০টি সেরা সিনেমা


1. United States: The Godfather (1972)

    =শক্তিশালী গল্পে পারিবারিক সম্পর্ক আর   অপরাধের রাজনীতি।


2. India: Pather Panchali (1955)

    =গ্রামবাংলার জীবন আর সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।


3. Japan: Seven Samurai (1954)

    = সাহসিকতার গল্পে জাপানি সংস্কৃতির উদাহরণ।


4. France: Amélie (2001)

    =এক মেয়ের সুন্দর ও মজার জীবনের গল্প।


5. Italy: La Dolce Vita (1960)

    =জীবনের মিষ্টি আর তিক্ততার ফ্যাশনেবল গল্প।


6. United Kingdom: Lawrence of Arabia (1962)

    =মরুভূমির এক বিস্ময়কর ইতিহাস।


7. Germany: Metropolis (1927)

    =ভবিষ্যতের শহর আর মানুষের সংগ্রাম।


8. Russia: Battleship Potemkin (1925)

    = বিপ্লবের শক্তি আর মানুষের একতার প্রতীক।


9. China: Raise the Red Lantern (1991)

    =একটি প্রাসাদে মহিলাদের জীবনের শ্বাসরুদ্ধকর গল্প।


10. South Korea: Parasite (2019)

    =ধনী-গরিবের জীবনকে এক অদ্ভুত মোড়ে দেখানো হয় এখানে।


11. Brazil: City of God (2002)

    =অপরাধে ভরা এক শহরের জীবনের বাস্তব চিত্র।


12. Mexico: Pan's Labyrinth (2006)

    =বাস্তব আর কল্পনার মিশেলে এক অনন্য গল্প।


13. Iran: A Separation (2011)

    =সম্পর্ক আর নৈতিকতার কঠিন প্রশ্ন।


14. Sweden: The Seventh Seal (1957)

    =জীবন আর মৃত্যুর গভীর এক দার্শনিক প্রশ্ন।


15. Australia: Mad Max: Fury Road (2015)

    =গতির সাথে জীবনের যুদ্ধ।


16. Spain: The Spirit of the Beehive (1973)

    =একটি শিশুর দৃষ্টিতে যুদ্ধের প্রভাব।


17. Turkey: Once Upon a Time in Anatolia (2011)

    =রহস্যময় এক গল্প, যা ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় অদ্ভুত এক সত্য।


18. Denmark: The Hunt (2012)

    =মিথ্যার জালে আটকা পড়া মানুষের গল্প।


19. Poland: Ida (2013)

    =নিজের পরিচয় খোঁজার গল্প।


20. Argentina: The Secret in Their Eyes (2009)

    =প্রেম আর প্রতিশোধের সুন্দর এক মিশ্রণ।


আপনি কয়টা দেখেছেন?

একটা বয়স পেরিয়ে মানুষ বুঝে যায়...

 একটা বয়স পেরিয়ে মানুষ বুঝে যায়...

কারও সাথে অকারণ তর্কে যাওয়াটা বোকামি। কেউ যদি বলে "পৃথিবী গোল নয় লম্বা", তাতেই সায় দিয়ে হেসে চলে আসাটা বরং বেশি দরকারি। একটা বয়সের পর আপনি বুঝে যাবেন,কেউ কারও ভাবনা-চিন্তা বা মতামত আসলে বদলায় না, অন্তত তর্ক করে আপনি তা বদলাতে পারবেন না। তাই চুপ করে হাসিমুখে নিজের কাজ করে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। একটা বয়সের পেরিয়ে আপনি বুঝে যাবেন, বাইরের লোক তো ছেড়েই দিলাম, আপনার খুব কাছের মানুষজনও আসলে আপনার মনের মতো হবে না। আপনি যেমন করে তাদের ভালোবাসা চান, তারা তেমন করে আপনাকে কখনোই ভালোবাসবে না, আপনাকে তেমন করে গুরুত্ব দেবে না। আসলে সব মানুষই নিজের ইচ্ছে, বিবেচনা, ভাবনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলে, আর এটাই বাস্তব। প্রত্যেকটা মানুষের বিচার, বিবেক আর বিবেচনাবোধ আলাদা— এটাই কঠিন সত্যি। আপনার মতামত, আপনার চিন্তা- ভাবনা, আপনার জীবনবোধ, আপনার অনুভব একান্তই আপনার নিজস্ব, আর কারো তা নিয়ে ভাববার বা বোঝবার দায় নেই। একথা যত সহজে বুঝবেন, তত আঘাত কম পাবেন। একটা বয়সের পর মানুষ বুঝে যায়, মানুষের কাছে বেশি ভালো হওয়ার চেষ্টা করে,কারো প্রতি বেশি আপনতা দেখিয়ে, বেশি কর্তব্য করে বা কাউকে বেশি ভালোবেসে সবসময় নিজেকে কারো কাছের মানুষ, কারো নিজের মানুষ,কারো ভরসার মানুষ তৈরি করা যায় না। মানুষ আপনাকে ঠিক ততটুকুই ভালোবাসবে, ততটুকুই গুরুত্ব দেবে, ততটুকুই সম্মান বা অগ্রাধিকার দেবে— যতটা তার নিজের জীবনে আপনার প্রয়োজন,গুরুত্ব বা স্বার্থ থাকবে। তার বেশি একচুলও নয়। তাই একটা বয়সের পর আপনি বুঝবেন—কারো জন্য কোনো কিছুই বেশি করে বা আগ বাড়িয়ে বেশি ভালোমানুষি দেখিয়ে আসলে কোনো লাভ হয় না। তাই তখন আপনি ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু করতে শিখে যাবেন। একটা বয়সের পর আর কারো উপর কিছু চাপিয়ে দিতে ইচ্ছে করবে না,নিজেকেও সবরকম চাপমুক্ত,ভারমুক্ত রাখতে ইচ্ছে করবে। কারো কাছে কোনোকিছু আশা করে কোনো লাভ হয় না— একটা বয়স তা ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়ে যায়। তখন নিজের হাতে,নিজের ক্ষমতার মধ্যে যেটুকু আছে শুধু সেটুকু করে মানুষকে ভালো থাকার চেষ্টা করে যেতে হয় অবিরাম,আর বাকিটা ঈশ্বরের উপর ছেড়ে দিতে হয়। একটা বয়সের পর কে আপনার সম্পর্কে কী ভাবলো,আপনাকে নিয়ে কী মন্তব্য করল,আপনাকে কে কী বলল না বলল —কিছুই আর তেমন যায় আসে না। একটা বয়সের পর আপনি বুঝে যাবেন প্রত্যেকটা মানুষ তার নিজের জীবনের গন্ডী,নিজের মনোভাব,নিজের স্বভাব,দৃষ্টিভঙ্গি বা শিক্ষা অনুযায়ী চিন্তা-ভাবনা করে। কারো চিন্তা-ভাবনা আপনাকে নয়,বরং সেই লোকটিকে চেনায়। তাই একটা বয়সের পর আপনি নিজে এবং যাদের আপনার ব্যক্তিগত জীবনে গুরুত্ব আছে তারা ছাড়া পৃথিবীর আর কেউ আপনাকে নিয়ে কী ভাবছে তা অর্থহীন হয়ে যায়। একটা বয়সের পর মানুষ আর সকলের সঙ্গে একটা বিরাট দূরত্ব তৈরি করে নেয়। এমনকি অনেক লোকজনের মধ্যে থাকলেও আসলে তাদের সকলের আর তার নিজের মধ্যে এমন এক বিরাট বড় খাদ,বিরাট এক শূন্যতা তৈরি হয়ে যায় যা আর পার করা যায় না। চারপাশের মানুষের প্রতি গভীর নিরাশা আর বহুকালের জমা ক্ষোভ, অভিমান এই বিরাট দুর্ভেদ্য গহ্বর টা তৈরি করে। একটা বয়সের পর মানুষ বুঝে যায়— পৃথিবীর কারো কাছে তার আর চাওয়া- পাওয়ার কিছু বাকি নেই। একটা সময় পর রাগ, ক্ষোভ, বিরক্তি, অভিমানও হারিয়ে যায়। একটা বয়স ধীরে ধীরে মানুষকে নির্বিকার তৈরি করে,শান্ত হতে শেখায়, নিরুত্তাপ হতে শেখায়। কারো সাথে দেখা করার তাগিদ,কথা বলার তেমন উৎসাহ আর থাকে না। তখন তার একমাত্র প্রিয় বন্ধু,তার একমাত্র কাছের মানুষ সে নিজে। সে নিজেকে ভালোবাসতে শেখে,নিজেকে সময় দিতে শেখে,নিজের গভীরে ডুব দিতে শেখে। অন্য কোনোকিছুই আর তাকে তেমন আনন্দ দেয়না তখন,উৎসাহ দেয় না। কিছুই আর যেন তেমন টানে না তাকে। তখন শুধু নিজের মতো করে ভালো থাকতে পারা,নিজের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানো আর মনের অপরিসীম শান্তি ছাড়া তার বোধহয় আর চাওয়ার কিছুই থাকে না।

কশাইদের প্রতারণার শিকার ভোক্তাগণ,,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমাদের দেশে মাংসের দোকানগুলোতে গেলে দেখবেন কসাই মাংস কাটছে আর সেই মাংস থরথর করে নড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা মনে করে, মাংস নড়ছে মানেই এটা একদম টাট...