এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪

কবি হেলাল হাফিজের সংক্ষিপ্ত প্রেম কাহিনী...

 কবি হেলাল হাফিজের সংক্ষিপ্ত প্রেম কাহিনী...


হেলাল হাফিজের কবিতায় হেলেন নামে এক নারীর বহুল উপস্থিতি আছে, এই নারীকে কেন্দ্র করে তিনি বেশ কয়েকটি মর্মস্পর্শী কবিতা লিখেছেন। 


হেলেন ছিলেন তার প্রথম প্রেমিকা এবং হেলেনের ব্যাপারে তিনি অতিমাত্রায় সংবেদনশীলও ছিলেন, হেলেন প্রসঙ্গ উঠলে তিনি আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে একসময়ে কান্নাকাটিও করতেন। 


ওনার ছোট ভাই নেহাল হাফিজ আগেই আমাকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন আমি যেন হেলাল হাফিজকে হেলেন প্রসঙ্গে কোনো প্রশ্ন না করি। প্রথম সাক্ষাতে তাকে আমি হেলেন প্রসঙ্গে কিছু বলিওনি।


২০১২ সালের পহেলা মে নেহাল হাফিজকে আমি দ্বিতীয় দফায় কল করি এবং জানতে পাই হেলেনের মর্মান্তিক গল্প। 


হেলাল হাফিজের স্কুলজীবনে হেলেনের সাথে প্রেম হয়, তারা ছিলেন প্রতিবেশী। দীর্ঘ প্রেমের পর দুই পরিবারে ঘটনাটি জানাজানি হয়। হেলেনের বাবা ছিলেন দারোগা আর হেলাল হাফিজের বাবা স্কুলশিক্ষক। 


হেলাল হাফিজের বাবা দারোগার মেয়ের সাথে ছেলের বিয়ে দিতে চাননি, এ নিয়ে দুই পরিবারে বিরোধ ঘটে এবং হেলাল হাফিজ হেলেনকে বিয়ের ব্যাপারে কথাবার্তা বললে হেলেনও নির্বিকার থাকেন। পরে হেলেনের বিয়ে হয় ঢাকার একটি সিনেমা হলের (সম্ভবত মুন সিনেমা হল) মালিকের সাথে।


হেলেনের বিয়ে হয়ে যাবার পর হেলাল হাফিজ দশ-পনেরো দিন কারো সাথে কোনো ধরনের কথা বলেননি। তার ভাবি তার বিয়ের জন্য তাকে কোনো মেয়ের ছবি দেখালেই তিনি বলতেন, 'ভাবি, এই মেয়েটা দেখতে ঠিক আমার মায়ের মতো।'


এরপর তার ভাবি তাকে আর কোনো মেয়ের ছবি দেখাতে সাহস করেননি।


তীব্র দুঃখ বুকে চেপে নেত্রকোনা থেকে ঢাকায় পাড়ি জমান হেলাল হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেখাপড়াও করেছেন। 


ব্যতিক্রমী ও সহজবোধ্য কবিতা লেখার ফলে তার খ্যাতি ক্যামপাস থেকে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ল দেশব্যাপী।


 ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তার আলোড়ন সৃষ্টিকারী কাব্যগ্রন্থ 'যে জলে আগুন জ্বলে'।


হেলেনের স্বামী বইমেলা থেকে অন্যান্য বইয়ের পাশাপাশি 'যে জলে আগুন জ্বলে' বইটিও কিনে বাসায় নিয়ে যান। 


হেলেন যখন দেখতে পেলেন বইটির পুরোটা জুড়ে বিধৃত আছে হেলেন-হেলাল প্রেমোপাখ্যান, আছে হেলালের কষ্টের ইতিবৃত্ত আর হেলেনের জন্য হেলালের শব্দে-শব্দে নিঃশব্দ হাহাকার; তখন ক্রমশ তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে, তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।


 হেলেনের স্বামী দেশে-বিদেশে হেলেনের উচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও হেলেন আর ভারসাম্য ফিরে পাননি। একপর্যায়ে স্বামীর কাছ থেকে হেলেন তালাকপ্রাপ্ত হন।


হেলেন এখন নেত্রকোনা(c)

শাবনূর,একটি পরিপূর্ণ প্রতিভাময় শিল্পীর নাম যাকে বাংলাদেশ কখনোই ভুলতে পারবে না!  

 শাবনূর,একটি পরিপূর্ণ প্রতিভাময় শিল্পীর নাম যাকে বাংলাদেশ কখনোই ভুলতে পারবে না!  

তাঁর অভিনয় শৈলী, তাঁর উচ্চারণ, তাঁর দৈহিক সৌন্দর্য, তাঁর চাঁদপানা মুখশ্রী গোলাপের মতো হাসি এবং তার নয়নযুগল পুরো যুবসম্প্রদায়কে বুঁদ করে রেখেছে কয়েক যুগ। তার রেশ এখনো কাটেনি, কাটবেও না কখনও। এই "শাবনূর" এপিসোড থেকে দর্শক বেরুতেও চায়নি, চাইবেও না। কারণ এমন প্রতিভার অধিকারী শত জনমে একজনই হয়। তাঁর সমসাময়িক অনেকেই আছেন কিন্তু কাছাকাছি কেউ নেই।


আমি বলা যায় প্রথম থেকেই তাঁর জন্য গাইছি। আশ্চর্যজনক কথা যে তাঁর সাথে আমার খুবই কম দেখা হয়েছে । আমি আমার মতো গেয়েছি তিনি তাঁর মতো অভিনয় করেছেন । কিন্তু যখন পিকচারাইজেশন দেখেছি তখন আমারই বিশ্বাস হয়নি যে এটা আমি গেয়েছি, মনে হয়েছে এটা যেন তাঁরই কণ্ঠ!  


এই যে একাকার হয়ে যাওয়া এই ক্রেডিট আমি শাবনূরকেই দিতে চাই। তিনি আসলে আমাদের কবরীর পরে ভার্সেটাইল যাকে বলে সেই উঁচুমানের মহানায়িকা। সিরিয়াস অভিনয়, হাসির অভিনয়, ছটফটে দুরন্ত কিশোরীর অভিনয় সবই দুর্দান্ত তবে তার ভয়ংকর সুন্দর চোখে যখন অশ্রু ঝরে তখন একটা কথাই মাথায় আসে "ফুল নেবো না অশ্রু নেবো ভেবে হই আকুল!"  


আগেই বলেছি ব্যক্তিগত জীবনে তার সাথে আমার খুব কম দেখা হয়েছে। আমার রেকর্ডিং স্টুডিও আর তাঁর কর্মক্ষেত্র আলাদা জায়গায় হওয়াতেই এমন হয়েছে। কিন্তু যখন তাকে দেখেছি, খেয়াল করেছি খুব সহজ সরল তাঁর উপস্থিতি। তাঁর কাঁচভাঙ্গা হাসি আমার মন কেড়ে নিয়েছে। সবারই বোধহয় এভাবে অনুভব হয় । সাধারণ ভাবে দেখা সাক্ষাৎ হলে মনে হয়েছে এই মেয়ে সিরিয়াস অভিনয় করে কিভাবে! 

আমার ছেলের বিয়েতে দাওয়াত দিতে গিয়েছিলাম তাঁর বাসায়। তখন তার আন্তরিক আতিথিয়েতা দেখে আমি মুগ্ধ! তখনও আমি নিরাভরণ শাবনূরকে দেখে চমকে উঠেছি তাঁর বিরল সৌন্দর্য ও চোখের চাহনিতে। 


আমি খুবই গর্বিত তাঁর চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের প্রায় পুরো সময়ই আমি সাথে ছিলাম। তাঁর অভিনীত একশো ভাগের নিরানব্বই ভাগ গানই আমার গাওয়া। আমাদের দুইদেহ এক প্রাণ বলা যায়।


জীবনে কখনো কোন চ্যানেলকে বলিনি আমাকে এমন একটা অনুষ্ঠান দেন। কিন্তু কয়েকটি চ্যানেলে স্বপ্রনোদিত হয়ে বলেছি শাবনূর ও আমাকে নিয়ে একটা প্রোগ্রাম সাজাতে,কিন্তু  কোন চ্যানেলই গা করে নাই। এই বাংলাদেশে মূল্যায়ন পাওয়া খুবই কঠিন তবে আমার বিশ্বাস একদিন আমার গান আর শাবনুরের অভিনয়ের সমন্বয় নিয়ে গবেষণা হবে তখন হয়তো তা দেখার জন্য হয়তো কোন একজন থাকবো না।


আমি আমাদের এই মহানায়িকার আনন্দিত সুখী সুদীর্ঘ জীবন কামনা করছি। শাবনূরের জন্মদিন উপলক্ষ্যে আমার পক্ষ থেকে রইলো অগণন শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।

২২/১২/২০২৪ হটসএ্যাপ কৃষি গ্রুপ

 স্যার আমাদের খাটো জিরা তিন ভাগের দুই ভাগিই গজাই নাই কৃষকের বাড়ি থেকে দেখে আসলাম তাঁরা এই বিজ ফেরত দিবে। তাই দয়া করে কোন সমাধান দিবেন কি??


আমার ময়মনসিংহে একই সমস্যা

স্যারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এ ব্যাপারে একটা জরুরী ভিত্তিতে সমাধান দেয়ার জন্য ডিলার খারাপ ব্যবহার করতেছে।


স্যার সুধু খারাপ ব্যাবহার না এতে করে যত ডিলারের কাছে ধান দিয়েছি তাঁরা কি আর ব্যাবস্যা করবে এই কম্পানির শাথে। এছাড়া ডিলার তাঁর  কৃষকে হারাবে তাঁর কাছ থেকে কোন মালিই নিবে না কম্পানির দৃরনাম।


স্যার দের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি 

আমি পাতা কপি ফুল কপি লাউ বীজ 

বিক্রি করছি 

কিন্তু দুঃখের বিষয় আমাদের বীজ এর আংকুরদগম এর 100 মধ্যে 2% হয় না ( দোকান দার বল্ল )


বীজ ফিরত নেওয়ার জন্য দোকান দার বল্ল 

বীজ ফিরত না নিলে আমাকে ঐ মার্কেট যদি কখনো পাই টাকা আদায় করবে বলে হুমকি দিছে 


এখন কি করবো স্যার?


কুরআনে সাত সালাম,,,,,

 রাসুল (ﷺ) বলেন,

যে ব্যক্তি কুরআনের সাতটি হা-মীম পড়বে তার জন্য জাহান্নামের সাতটি দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। ৭টি হা-মীম কে বলা হয় সাত সালাম।


১। সালামুন কাওলাম মিন রব্বির রাহিম।

দয়াময় প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদেরকে সালাম বলে সম্ভাষণ করা হবে। (সূরা আল-ইয়াসিন, আয়াত ৫৮)


২। সালামুন আলা নুহিন ফিল আলামিন।

সমগ্র বিশ্বের মধ্যে নূহের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। (সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ৭৯)


৩। সালামুন আলা ইব্রাহিম।

ইবরাহীমের উপর শান্তি বর্ষিত! (সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ১০৯)


৪। সালামুন আলা মুসা 

ওয়া হারুন।

মূসা হারূনের উপর শান্তি ও বর্ষিত। (সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ১২০)


৫। সালামুন আলা ইল ইয়াসিন।

ইলিয়াসের উপর শান্তি বর্ষিত। (সূরা আস-সাফফাত, আয়াত ১৩০)


৬। সালামুন আলাইকুম তিবতুম ফাদখুলুহা খলিদিন।

তোমাদের উপর শান্তি (বর্ষিত হোক), চমৎকার কাজ করেছ তোমরা, কাজেই চিরকালের জন্য এতে প্রবেশ কর। (সূরা আয-যুমার, আয়াত ৭৩)


৭। সালামুন ইয়া হাত্তা মাতলাইল ফাজর।

এ রাতে বিরাজ করে শান্তি আর শান্তি- ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত। (সূরা আল-কদর, আয়াত ৫)

আমি যেন হই তোমার মাঝে ধন্য...॥ পর্ব - ১ সত্যিই তিনি ধন্য!

 ॥ আমি যেন হই তোমার মাঝে ধন্য...॥


পর্ব - ১


সত্যিই তিনি ধন্য!

না, আমাদের পেয়ে নয়, আমাদের মতো অগুনতি গুনমুগ্ধ শ্রোতাদের হৃদয়ের মাঝে। আর আমরা ধন্য তাঁকে পেয়ে আমাদের মাঝে। স্বর্ণযুগের কিন্নরকণ্ঠী প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তাঁর জন্মতিথি। বেঁচে থাকলে আজ তিনি ৯০ বছরে পদার্পণ করতেন। তবে তিনি বেঁচে আছেন, চিরকাল থাকবেন সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে।


তাঁর জীবনের গানগল্পে চিরশ্রী মজুমদারসসাগরা ভারতের গীতি-অধীশ্বরের এমন বিশাল সার্টিফিকেটের পরেও প্রতিমার দিকে প্রচারের সার্চলাইট ঘোরেনি! কিন্তু তাতে তাঁর প্রবাদ হয়ে ওঠা আটকাল কই?


এমন একটি বিপদসঙ্কুল প্রশ্নের উত্তর যে তিনি দেবেন, কেউ আশা করেননি। কিন্তু তিনি যে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। সঙ্গীতের মতোই তাঁর মনটাও আকাশসম বড়। তাই এক সাংবাদিক যখন তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, গায়িকাদের মধ্যে কার গলাটি তাঁর সবচেয়ে সুরেলা লাগে, তিনি এক ঝটকায় বলে দিলেন, ‘‘প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’ সাংবাদিক এ বার বিস্মিত, ‘লতা মঙ্গেশকর, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের চেয়ে আপনি প্রতিমাদিকে এগিয়ে রাখছেন!’ সোনা বাঁধানো স্বরযন্ত্রে হাসি আলতো ঢেউ তুলল। ‘‘প্রতিমার গানের কলি লতা নিজের বিশেষ সংগ্রহে রেখেছে। ওরা বলে, প্রতিমা মানুষই নয়। ও তো পাখি!’’


সসাগরা ভারতের গীতি-অধীশ্বরের এমন বিশাল সার্টিফিকেটের পরেও প্রতিমার দিকে প্রচারের সার্চলাইট ঘোরেনি! কিন্তু তাতে তাঁর প্রবাদ হয়ে ওঠা আটকাল কই? সে সময়ের দিকপাল গায়ক-গায়িকারাই জানিয়েছেন, ‘আটপৌরে চেহারা, কপালে টিপ, তাম্বুল রাঙা ঠোঁট, সাদামাঠা শাড়ির এই বঙ্গবালার খোলস দেখে তাকে সাধারণ ভেবো না, সে অনন্যা।’ তাঁর গান গাওয়া দেখতে এক সময়ে রেকর্ডিং রুমে হুড়োহুড়ি পড়ে যেত। হয়তো সে দিন তিনি রেডিয়োয় ‘অনুরোধের আসর’ মাতিয়ে দিচ্ছেন ছন্দে ভরাট ‘কঙ্কাবতীর কাঁকন বাজে ইছামতীর কূলে’ গেয়ে। মেলোডির মহারথী শ্যামল মিত্রের সুরের সে গানে প্রতিমার ছন্দতালে সকলে তো মন্ত্রমুগ্ধ। শুনলে মনে হয় ইছামতীর পাড়ে কোনও বালিকা যেন নাচতে নাচতেই গানখানি শোনাচ্ছেন। শ্রোতারা সব মাথা নেড়ে, তালি বাজিয়ে গানগল্পে মশগুল। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এমন সব কালজয়ী গান গাওয়ার সময়ে স্বয়ং প্রতিমা থাকতেন মূর্তিবৎ স্থির। তালের ওঠানামায় এতটুকু হাতের মুদ্রার ব্যবহার থাকত না, দুরূহ আবেগ ফোটাতে মুখের একটি রেখাও কাঁপত না। অদ্ভুত শান্ত-স্থিত ভাবেই নিখুঁত সুর বয়ন করে একেবারে সজীব করে তুলতেন সঙ্গীতকে। উদ্দেশ্য-বিধেয় পালটে, যেন ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’-এর সেই গানের ইন্দ্রজাল। প্রতিমার বেলায় সেই ছবির উলটপুরাণ। এখানে গানের মায়ায় মজে জগৎসার চোখ বুজে, মাথা দুলিয়ে তাল ঠুকে একশা। আর স্বয়ং গায়িকাই পাথর, স্থাণুবৎ। ও ভাবেই অবলীলায় সৃষ্টি করে চলেছেন তাঁর একান্ত নিজস্ব সাতরঙা গানের ভুবন। দেখেশুনে সকলের প্রশ্ন, এমন দক্ষতা তো সচরাচর দেখা যায় না! গানের মেজাজ ধরতে তাঁর কি প্রস্তুতি, আয়াস কিছুই লাগে না? গুপি-বাঘা তো জাদুক্ষমতা পেয়েছিল ভূতের রাজার বরে! প্রতিমা সেই মণিহার পেলেন কী করে? তারও জবাব দিয়ে গিয়েছেন হেমন্ত। ‘‘সে বাঁশরীকণ্ঠী। তাই সা থেকে সা তার চাইতে সুরে আর কেউ গাইতে পারে না!’’


গানের টানে তাঁর বাঁধা পড়া যে জন্মেরও বহু আগে! বাংলাদেশের বিক্রমপুর জেলার বাহেরক গ্রামের চট্টোপাধ্যায় পরিবারটি বরাবরই সঙ্গীতে অনুরক্ত। সেই পরিবারের ছেলে মণিভূষণ কলকাতার ‘কক্স অ্যান্ড কিং’-এ চাকরি করতেন, সপরিবার থাকতেন ভবানীপুরে। অসীম প্রতিভাধর মানুষ। বছর দুই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। অন্য দিকে গানের জন্য লোকে তাঁর নাম শুনলে মাথা আপনি নত করে। তিনি উস্তাদ বদল খানের শিষ্য অর্থাৎ পণ্ডিত ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের গুরুভাই। মণিভূষণ চট্টোপাধ্যায় গজল, ঠুমরি, দাদরায় ছিলেন ওস্তাদ। প্রতিমা যে বছর জন্মালেন, সেই ১৯৩৪-এই তাঁর গানের রেকর্ড বার হয়েছিল। অজয় ভট্টাচার্যের কথায় ও শচীন দেববর্মণের সুরে ‘যৌবনে হায় ফুলদলে পায়’, হিমাংশু দত্তের সুরে ‘স্বপনে কোন মায়াবী’। কিন্তু বিধি বাম! প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠার সেই দিনগুলিতেই হঠাৎ মারা গেলেন মণিভূষণ। তখন তাঁর বয়স সবে সাতাশ। স্ত্রী কমলা আঠেরো। শিশু প্রতিমা তো মাত্র এক!


অনটন নেমে এসেছিল পরিবারে। কিন্তু কমলা কিছুতে ভেসে যেতে দিলেন না সংসার ও গীতবিতানকে। তাঁরই চেষ্টায়, উৎসাহে মণিভূষণের অকালে ফেলে যাওয়া গান কণ্ঠে তুলে নিলেন একরত্তি প্রতিমা। রোজকার খরচ থেকে বিন্দু বিন্দু করে টাকা বাঁচিয়ে তিনি মেয়েকে একটি হারমোনিয়ামও কিনে দিলেন। গুণবতী কমলা প্রথম দিকে নিজেই মেয়েকে গান শেখাতেন। পরে তাকে নিয়ে গেলেন প্রকাশকালী ঘোষালের কাছে। খুকির কচি গলার দু’কলি শুনে দারুণ খুশি প্রকাশকালী। বললেন, ‘গান এর রক্তে!’ প্রকাশকালী নিজের সবটা উজাড় করে প্রতিমাকে সঙ্গীতের পাঠ দিয়েছিলেন। ছাত্রীভাগ্যে আত্মহারা হয়ে মেয়েটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন নিজগুরু ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। প্রতিমা কিছু দিন ভীষ্মদেবের সঙ্গও করেছেন। সেই শৈশবে ছুটিতে এক বার ঢাকায় আত্মীয়বাড়ি গিয়েছেন, আশপাশের লোকজন তাঁর গান শুনে তাজ্জব। এক গুণগ্রাহী ঢাকা রেডিয়োয় যোগাযোগ করিয়ে দিলেন। সেখানে শিশুবিভাগে গাইবার পরপরই ডাক এল কলকাতা বেতার থেকে। মাত্র এগারো বছর বয়সে ১৯৪৫-এ সেনোলা থেকে প্রথম রেকর্ড বেরিয়ে গেল ‘কুমারী প্রতিমা চ্যাটার্জী’ নামে। সুকৃতি সেনের কথা ও সুরে বেসিক গানের রেকর্ড। ‘প্রিয় খুলে রেখো বাতায়ন’, ‘মালাখানি দিয়ে আমারে ভোলাতে চাও’ গানগুলি বেশ জনপ্রিয় হল। জলসায় গান শুনেই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলেন সঙ্গীতপ্রেমিক অমিয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সুদর্শন যুবক। কমলাদেবীকে প্রতিশ্রুতি দিলেন, গানের জগতে প্রতিমাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে যথাসাধ্য করবেন। তেরো পেরোতে না পেরোতেই স্বামীঘর করতে নবপরিণীতা প্রতিমা চলে এলেন টালিগঞ্জের সাহানগরে। সেখানেই তাঁর সন্তানদের জন্ম। এক মেয়ে, তার পরে ছেলে।


সেই সময়ে দক্ষিণ কলকাতার মিলনচক্র ক্লাবে প্রতি মাসে ঘরোয়া অনুষ্ঠান হত। সেখানে গান শুনতে আসতেন নক্ষত্রেরা। ঊষারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, শৈলেন মুখোপাধ্যায়রা ছিলেন নিয়মিত মুখ। একদিন দর্শকাসনে বসে ছিলেন গায়ক-সুরকার ও শিল্পীস্রষ্টা সুধীরলাল চক্রবর্তী, যিনি শ্যামল মিত্র, উৎপলা সেন, নীতা সেন প্রমুখ অগণিত শিল্পীকে তালিম দিয়েছিলেন। প্রতিমার গায়কিতে তিনিও চমৎকৃত। সেই যোগাযোগের ফুল ফুটল আরও দু’বছর পার করে। ১৯৫১-য় ‘সুনন্দার বিয়ে’তে প্রথম বার সুরারোপ করলেন সুধীরলাল। তাঁর ডাকেই ‘উছল তটিনী আমি সুদূরের চাঁদ’ গানে নেপথ্যগায়িকা রূপে আত্মপ্রকাশ করলেন প্রতিমা। গান শুনে অন্য সুরকাররাও প্রতিমার খোঁজ করতে শুরু করলেন। তবে প্রতিমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল পিনাকী মুখোপাধ্যায়ের ‘ঢুলি’ ছবিটি। ১৯৫৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ঢুলি’ ছিল তখনকার দিনের মাল্টিস্টারার, মিউজ়িক্যালি হিট ছায়াছবি। ছবি বিশ্বাস, সুচিত্রা সেন, অনিল চট্টোপাধ্যায়, মালা সিনহার অভিনয়ে ঋদ্ধ এই ছবিটি ‘পথের পাঁচালী’রও আগে বাঙালি গ্রামের নিসর্গ ও জীবনযাত্রাকে নায়কের আসনে বসিয়েছিল। সেই ছবির টিকিট কাটতে যে দীর্ঘ লাইন পড়ত, তারই দর্শক মোহাবিষ্টের মতো সিনেমাশেষে বেরিয়ে আসতেন রাজেন সরকারের সুরে অনবদ্য গানগুলি গাইতে গাইতে। ‘ঢুলি’র রেকর্ড বিকিয়েছিল মুড়ি-মুড়কির মতো। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য, যূথিকা রায়ের মতো বাঘা শিল্পীর পাশে চমকে দিলেন প্রতিমা। ডুয়েট ‘চুপি চুপি এল কে’ গানে পাতিয়ালা ঘরানার ওস্তাদ গাইয়ে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিলেন এই নবীনা। আর নিজের জাত চিনিয়ে দিলেন ‘নিঙাড়িয়া নীল শাড়ি শ্রীমতী চলে’ গানটিতে। মালা সিনহার লিপে এই গানে প্রতিমা তাঁর রাগের যে ছোট ছোট ঘূর্ণন তুলেছিলেন, তা শুনে ছিটকে গিয়েছিলেন হেমন্ত। তাঁর অস্ফুট জিজ্ঞাসারই প্রতিধ্বনি উঠেছিল সেই সময়ের তাবড় সঙ্গীতকুলে। এই শ্রীকণ্ঠী কে?


(পরবর্তী পর্ব কিছুক্ষণ পরেই পোস্ট করা হবে)

_______________________________________

তথ্য ও চিত্র সৌজন্যে: আনন্দবাজার অনলাইন।

সম্পাদনা ও চিত্র রঙিনীকরন: কিছু কথা ॥ কিছু সুর।


#PratimaBandopadhyay #hemantamukherjee #HemantaMukhopadhyay #kichukothakichusur

প্রথম মহিলা ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পান

 ১. প্রথম মহিলা ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পান

 • সুচিত্রা সেন ছিলেন প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী, যিনি একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হন।

 • ১৯৬৩ সালে মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে তার অভিনীত “সাত পাকে বাঁধা” ছবির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান।


২. সুচিত্রার আসল নাম ছিল ভিন্ন

 • সুচিত্রা সেনের আসল নাম ছিল রোমা দাশগুপ্ত।

 • তিনি বিয়ের পর তার নাম পরিবর্তন করে সুচিত্রা সেন রাখেন।


৩. উত্তম-সুচিত্রার “গোল্ডেন পেয়ার”

 • উত্তম কুমারের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের জুটি আজও বাংলা চলচ্চিত্রের সেরা জুটি হিসেবে ধরা হয়।

 • তারা একসঙ্গে ৩০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে অধিকাংশই সুপারহিট।


৪. সিনেমার জগতে প্রবেশ ছিল এক বিস্ময়

 • সুচিত্রা সেনের প্রথম সিনেমা “শেষ কোথা” (১৯৫২) কখনো মুক্তি পায়নি।

 • তবে তার পরের সিনেমা “সাত নম্বর কয়েদি” তাকে বাংলা সিনেমায় স্থায়ী জায়গা এনে দেয়।


৫. ব্যক্তিগত জীবন ছিল রহস্যে মোড়া

 • সুচিত্রা সেন সবসময় নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে গোপন রেখেছিলেন।

 • অভিনয় থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি একেবারে আড়ালে চলে যান এবং জনসমক্ষে আর আসেননি।

 • তার এই গোপনীয়তা তাকে আরও রহস্যময় করে তোলে।


৬. গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের প্রতি শ্রদ্ধা

 • সুচিত্রা সেনের অভিনীত “সপ্তপদী” ছবিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা “এ ফুল মুকুল, এ ফুল শুকালো” গানটি তার অসাধারণ আবেগপূর্ণ অভিনয়ের জন্য অমর হয়ে আছে।

 • রবীন্দ্রনাথের গান ও সাহিত্যের প্রতি তার গভীর ভালবাসা ছিল।


৭. মহানায়িকার আত্মপ্রত্যয়

 • সুচিত্রা সেন কখনো সিনেমার সেটে দেরিতে আসতেন না এবং অত্যন্ত পেশাদার ছিলেন।

 • তার মধ্যে ছিল আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব, যা তার চরিত্রগুলোতে প্রকাশ পেত।


৮. যোগের প্রতি আসক্তি

 • অভিনয় থেকে অবসর নেওয়ার পর সুচিত্রা যোগ এবং ধ্যানের দিকে মনোনিবেশ করেন।

 • তিনি বিশ্বাস করতেন যে মানসিক শান্তির জন্য এটি অপরিহার্য।


৯. দিদি, মেয়ে এবং নাতনি—তিন প্রজন্ম অভিনেত্রী

 • সুচিত্রা সেনের মেয়ে মুনমুন সেন এবং নাতনি রাইমা সেন ও রিয়া সেন চলচ্চিত্র জগতে প্রতিষ্ঠিত।

 • এই তিন প্রজন্ম বাংলা এবং হিন্দি সিনেমাকে সমৃদ্ধ করেছে।


১০. সুচিত্রার অমর উক্তি

 • একটি সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা বলেছিলেন: “মানুষকে আমি কিছু সুন্দর মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি, তাই আমি কৃতজ্ঞ।"


(সংগৃহিত)।

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ‘হাতির বাংলো’,,,,,,

 চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ‘হাতির বাংলো’


চারপাশে উঁচু পাহাড়, সবুজের সমারোহ ও পাখির কিচিরমিচির শব্দ, এমন প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার ইচ্ছে সবার মধ্যেই আছে। এর মধ্যে দিয়ে একটু সামনে এগিয়ে গেলেই দূর থেকে দেখে যে কারো মনে হতে পারে বিশাল একটি হাতি শুঁড় তুলে দাঁড়িয়ে আছে।


দূর থেকে জীবিত মনে হলেও, সামান্য কাছে যেতেই দেখা মিলবে হাতির আদলে নির্মিত ১৩১ বছরের পুরোনো একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। দেখতে অবিকল হাতির মতো মনে হলেও এটি মূলত ইট-পাথরে নির্মিত একটি প্রাচীন ভবন। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘হাতির বাংলো’ নামেও পরিচিত।


চট্টগ্রামের ফুসফুসখ্যাত সিআরবির পাহাড়ে দৃষ্টিনন্দন আদি এই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাচীন ইতিহাস। শতবর্ষ পুরোনো এই ইতিহাস হয়তো অনেকেরই অজানা। ইতিহাস ঘেটে জানা গেছে, ১৮৯৩ সালে চট্টগ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ কাজ শুরু হয় বৃটিশ প্রকৌশলী ব্রাউনজারের অধীনে।


ঊনিশ শতকের মাঝামাঝিতে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্যই বাংলোটি নিজেই নির্মাণ করেন প্রকৌশলী ব্রাউনজার। তবে কালের আবহমানে বাংলোটি আজ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকার লেডিস ক্লাবের ভেতর দিয়ে সামনে এগিয়ে হাতের ডানে সামান্য গেলেই চোখে পড়বে এই হাতির বাংলো।


বর্তমানে চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ এই হাতির বাংলো পড়ে আছে অনেকটা জীর্ণশীর্ণ অবস্থায়। নেই কোনো রক্ষণাবেক্ষণ, ফলে হারাতে বসেছে বাংলোটির সৌন্দর্য। সরেজমিনে দেখা গেছে,বাংলোটির সামনে ও পেছনের অংশ মিলিয়ে মোট ১২টি গোলআকৃতির জানালা আছে।


এছাড়া হাতির শুঁড়ের আদলে নির্মিত বারান্দার দু’পাশেও আছে গোলাকার দুটো ছিদ্র, যা দেখতে অনেকটাই হাতির চোখের মতো। ডুপ্লেক্স এই ভবনের নীচতলায় ৪টি ও দোতলায় একটি শয়নকক্ষ আছে। বর্তমানে স্থাপনাটির সবক’টি দরজা-জানালাই ভেঙে পড়ার পাশাপাশি মরিচা ধরেছে।


কাঠ দিয়ে নির্মিত সব জানালাগুলোই পড়ে আছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। এছাড়া ভবনের দেয়ালজুড়ে পড়েছে শ্যাওলা, খসে পড়তে শুরু করেছে পলেস্তারা। বাড়ির চারপাশজুড়ে জমে আছে বিভিন্ন ময়লা আর শুকনো পাতা। নান্দনিক এই বাংলোতে এখন একজন রেলওয়ে কর্মচারী ভেতরের একটি শয়নকক্ষে কোনো রকমে থাকেন।


বিকেল হলেই অনেক দর্শনার্থী হাতির বাংলো দেখতে ছুটে আসেন। দর্শনার্থীরা ছবি তোলার পাশাপাশি এখানে অনেক সময় বিভিন্ন শর্টফিল্মের শুটিংও হয়ে থাকে। ঊনিশ শতকের মাঝামাঝিতে ‘ফেরো’ সিমেন্ট দিয়ে নির্মিত এই বাংলোর ১৩২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বেশ মজবুত অবস্থায় আছে।


তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিনদিন হারাতে বসেছে এই ঐতিহ্যের সৌন্দর্য। হাতির গায়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে এই স্থাপনাতেও ধূসর রং করা হয়, তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের রং পুরোটাই এখন বিবর্ণ ধারণ করেছে।


বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে এই হাতির বাংলো, নেই কোনো পদক্ষেপ কিংবা যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ। নান্দনিক এই স্থাপত্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলে এটি দর্শনার্থীদের কাছে আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।


লেখক: শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম।

প্রজাপতি'র ডানায় লাস্যময়ী মৌসুমী"! 

 "প্রজাপতি'র ডানায় লাস্যময়ী মৌসুমী"! 


২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তুমুল  জনপ্রিয় সিনেমা "প্রজাপতি"। প্রিয়দর্শনী মৌসুমীর গ্ল্যামার, লুক, কস্টিউম সবকিছু মিলিয়ে অনিন্দ্য সুন্দর  লেগেছিল, যেন নতুন করে নব্বইয়ের ক্রেজ মৌসুমী,  তাঁর বিপরীতে ছিলেন নাট্য জগতের জনপ্রিয় দুই মুখ জাহিদ হাসান ও মোশারফ করিম। জাহিদ হাসান ও মোশারফ করিম বড় পর্দায় বেশ সফল এই মুভির জনপ্রিয়তাই বলে দেয়। তবে একটা মুভি যে শুধু একটু বিনোদন তাই নয়, সেখানে কিছু টুইস্ট থাকে, বার্তা থাকে যা থেকে সমাজের মানুষের বিবেক জাগ্রত হয়, হুশ ফেরে বা জীবনের নিবিড় গন্তব্য কর্মফলের জন্য কোথায় গিয়ে তল খুঁজে পায় তারই দৃষ্টান্ত আছে। এই ছবিতে সমাজ কিংবা পারিবারিক ক্ষয়িষ্ণু,  ভয়ংকর যে নেশা  তা সুন্দরভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক সুন্দর পরিচ্ছন্ন একটি গল্পের মাধ্যমে। জুয়া একটা পরিবারের কতটা নিচু মননে নিয়ে যায় তার স্বরুপ চিত্র আছে সিনেমার পরতে পরতে। রুচিশীল দর্শকদের কাছে ছবিটি বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল এই সিনেমার প্রতিটি গান, যা ছিল তুমুল জনপ্রিয় এখনো সমান ভাবে মানুষের মুখে মুখে। তবে এই মুভিতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লেগেছিল মৌসুমীকে, শূন‍্য দশকের পর এই সিনেমায় সবচেয়ে বেশি গ্ল্যামারাস ছিলেন মৌসুমী এবং তার  ফিটনেস  ছিল চোখ ধাঁধানো। ন্যান্সি আর হাবিবের গাওয়া


🎵....লাজুক পাতার মত লজ্জাবতী,,,গানটিতে মৌসুমী কে দুর্দান্ত ও প্রাণবন্ত লেগেছিল সত্যি  যেন রূপের রানী। কুমার বিশ্বজিতের গাওয়া 


🎵.....ছোট ছোট আশা খুজে  পেল ভাষা,,, রোমান্টিক এই গানটি  শুনলে যে কোন প্রেমিক হৃদয় প্রেমে পড়তে বাধ্য।এই সিনেমায় দর্শক জরিপে মৌসুমী মেরিল প্রথম আলো অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছিলেন। মৌসুমীর ক্যারিয়ারকে তিন গ্রাফে খন্ডিত করলে যে তিনটি সিনেমায় মৌসুমীর জন্য নতুন করে দর্শক তৈরি করে তারই একটি "প্রজাপতি"২০১১ (কেয়ামত থেকে কেয়ামত" ১৯৯৩, খায়রুন সুন্দরী" ২০০৪)। 


উল্লেখ্য, এই সিনেমার কস্টিউমস ডিজাইনার মৌসুমী নিজেই ছিলেন, স্টার সিনেপ্লেক্সে একনাগাড়ে ৯০ দিন দুর্দান্ত চলার পর ক্লোজিং সেরিমনিতে দর্শক সারিতে বসে উপভোগ করেছিলেন দেশের সব বিখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সেলিব্রেটি, ও মৌসুমীর সহকর্মীরা।

আফজল হোসেন, রিয়াজ, ফেরদৌস, সানি, শাবনূর, পপি, পূর্ণিমারা  দেখে মৌসুমীর নতুন অবতারের যারপরনাই আনন্দিত ও মুগ্ধ ছিলেন এবং তাদের উচ্ছ্বসিত কথা আজও প্রজ্জ্বলিত প্রজাপতি'র ডানায় নতুন মৌসুমী ভর করার জন্য। ❣️


© MD Kalam

তাহাজ্জুদ নামাজের চার  টি ফজিলত 

 তাহাজ্জুদ নামাজের চার  টি ফজিলত 


1. পাপ মুছে দেয়: হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘তোমরা কিয়ামুল লাইলের প্রতি যত্নবান হও। কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী নেককারদের অভ্যাস এবং রবের নৈকট্য লাভের বিশেষ মাধ্যম। আর তা পাপরাশী মোচনকারী এবং গুনাহ থেকে বাধা প্রদানকারী।’ (তিরমিজি: ৩৫৪৯)


2. দোয়া কবুল হয়: নবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা রাতের শেষ তৃতীয়াংশে কাছের আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আছো, দোয়া করবে এবং আমি তার দোয়া কবুল করব। কে আছো, আমার কাছে (তার প্রয়োজন) চাইবে এবং আমি তাকে দান করব। কে আছো, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে এবং আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (বুখারি: ১১৪৫)


৩. মর্যাদা বৃদ্ধি পায়: নবী (সা.) বলেন, ‘মুমিনের মর্যাদা কিয়ামুল লাইল তথা রাতে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদ আদায় ও বিভিন্ন ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে, আর তার সম্মান মানুষ থেকে অমুখাপেক্ষিতার মধ্যে।’ (তবরানি: ৪২৭৮)


৪. জান্নাত লাভ করা যায়: নবী (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই জান্নাতে রয়েছে এমন কিছু প্রাসাদ, যার বাইরে থেকে ভেতরাংশ দেখা যাবে, ভেতর থেকে বাইরের অংশ দেখা যাবে। এগুলো আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন, যারা মানুষকে খাবার খাওয়ায়, কোমল ভাষায় কথা বলে, ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখে, সালামের প্রসার ঘটায় এবং রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন তারা নামাজে দাঁড়িয়ে যায়।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২২৯০৫)

কারো কারো জন্য এমন লাগে কেন       ✍️তসলিমা নাসরিন,,, দিনগুলো ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 কারো কারো জন্য এমন লাগে কেন

      ✍️তসলিমা নাসরিন


জানি না কেন হঠাৎ কোনও কারণ নেই, কিছু নেই, কারও কারও জন্য খুব

অন্যরকম লাগে

অন্য রকম লাগে,

কোনও কারণ নেই,

 তারপরও বুকের মধ্যে চিনচিনে কষ্ট হতে থাকে,

কারুকে খুব দেখতে ইচ্ছে হয়, 

পেতে ইচ্ছে হয়, 

কারুর সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে

বসতে ইচ্ছে হয়,

সারাজীবন ধরে সারাজীবনের গল্প করতে ইচ্ছে হয়,

ইচ্ছে হওয়ার কোনও কারণ নেই,

 তারপরও ইচ্ছে হয়।


ইচ্ছের কোনও লাগাম থাকে না।

 ইচ্ছেগুলো এক সকাল থেকে আরেক সকাল পর্যন্ত

জ্বালাতে থাকে। প্রতিদিন।

ইচ্ছেগুলো পুরণ হয় না, 

তারপরও ইচ্ছেগুলো বেশরমের মত পড়ে থাকে,

আশায় আশায় থাকে।

কষ্ট হতে থাকে, 

কষ্ট হওয়ার কোনও কারণ নেই, 

তারপরও হতে থাকে,

সময়গুলো নষ্ট হতে থাকে।


কারও কারও জন্য জানি না জীবনের শেষ বয়সে এসেও সেই কিশোরীর মত

কেন অনুভব করি।

কিশোরী বয়সেও যেমন লুকিয়ে রাখতে হত ইচ্ছেগুলো, 

এখনও হয়।

কি জানি সে, যার জন্য অন্যরকমটি লাগে, যদি

ইচ্ছেগুলো দেখে হাসে!

সেই ভয়ে লুকিয়ে রাখি ইচ্ছে, 

সেই ভয়ে আড়াল করে রাখি কষ্ট।

হেঁটে যাই, যেন কিছুই হয়নি,

 যেন আর সবার মত সুখী মানুষ আমিও, হেঁটে যাই।

যাই, কত কোথাও যাই,

 কিন্তু তার কাছেই কেবল যাই না,

 যার জন্য লাগে।


কারও কারও জন্য এমন অদ্ভুত অসময়ে বুক ছিঁড়ে যেতে থাকে কেন!

জীবনের কত কাজ বাকি, কত তাড়া!

তারপরও সব কিছু সরিয়ে রেখে তাকে ভাবি, তাকে না পেয়ে কষ্ট আমাকে কেটে কেটে

টুকরো করবে জেনেও তাকে ভাবি। তাকে ভেবে কোনও লাভ নেই জেনেও ভাবি।

তাকে কোনওদিন পাবো না জেনেও তাকে পেতে চাই।

ভূমি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর সহজ ব্যাখ্যা,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 📚 ভূমি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর সহজ ব্যাখ্যা 🏡📜 ভূমি কেনাবেচা, নামজারী বা খতিয়ান নিয়ে কাজ করার আগে নিচের বিষয়গুলো জানা খুবই জরুর...