এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৫

আমি মানুষকে হাসাতে ভালোবাসি।” এই একটি বাক্যতেই যেন লুকিয়ে  রয়েছে তার জীবনের সারমর্ম। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ, 

 “আমি মানুষকে হাসাতে ভালোবাসি।” এই একটি বাক্যতেই যেন লুকিয়ে  রয়েছে তার জীবনের সারমর্ম। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ,


যিনি চার দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকদের অসংখ্য হাসি উপহার দিয়েছেন, আজ তার জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই অমর শিল্পী আজও দর্শকের হৃদয়ে উজ্জ্বল।


টেলি সামাদের পুরো নাম ছিল আবদুস সামাদ। এই নাম পরে পরিবর্তন হয় ‘টেলি সামাদ’ নামে। বিটিভির জিএম এবং পরিচালকেরা তার প্রতিভা দেখে এই নাম প্রস্তাব করেন। তারা মনে করেছিলেন, এই নামই তার বহুমুখী প্রতিভার সঙ্গে সবচেয়ে মানানসই। তার এই নামের পেছনে ‘ট্যালেন্ট’ শব্দটির যোগসূত্রও ছিল। 

টেলি সামাদ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন বুদ্ধিদীপ্ত ও সৃজনশীল। তার বড় ভাই ছিলেন বিশিষ্ট চারুশিল্পী আব্দুল হাই, যিনি টেলি সামাদের সৃজনশীলতাকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। টেলি সামাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পেশাগতভাবে অভিনয়ে যুক্ত হওয়ার আগে তিনি চারুকলার প্রতি গভীর অনুরাগ পোষণ করতেন এবং এ ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন প্রতিভাবান। এরপর ১৯৬৬ সালে নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘কার বউ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে টেলি সামাদের অভিনয়জীবন শুরু হয়। এই চলচ্চিত্রে তার কৌতুকপ্রদর্শন দর্শকদের মাঝে সাড়া ফেলেছিল। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। চার দশকের বেশি সময় ধরে প্রায় ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেওয়া তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো—‘পায়ে চলার পথ,’ ‘নয়নমণি,’ ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত,’ ‘গোলাপী এখন ট্রেনে,’ ‘সুজন সখী,’ ‘ভাত দে,’ এবং ‘জিরো ডিগ্রি’। তার অভিনয় শুধু চলচ্চিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি টেলিভিশন নাটক ও মঞ্চনাটকেও সমান পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন।


টেলি সামাদের অভিনয় দক্ষতা শুধু কৌতুকেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কাজী হায়াতের পরিচালিত ‘দিলদার আলী’ চলচ্চিত্রে তিনি নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তার বিপরীতে ছিলেন জুলিয়া। এই চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে সাফল্য পায়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, কৌতুকাভিনেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও তিনি একজন পরিপূর্ণ অভিনেতা।


টেলি সামাদের শিল্পীসত্তা ছিল বহুমুখী। তিনি প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন এবং একটি একক অ্যালবামও প্রকাশ করেছিলেন। ‘মনা পাগলা’ সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেন তিনি। তার কণ্ঠে সুরেলা গান দর্শকদের বিনোদনের আরেকটি মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।


তার জীবনের শেষের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাব তিনি অনেকটাই একা হয়ে পড়েছিলেন। তার আফসোস নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার তিনটি ইচ্ছে ছিল—টেলিভিশনে গান করা, নায়ক হিসেবে একটি সিনেমায় অভিনয় করা, এবং আত্মজীবনীমূলক একটি বই লেখা। দুর্ভাগ্যবশত কোনো ইচ্ছাই পূরণ হয়নি।”


বিখ্যাত এই কিংবদন্তির মৃত্যু  হয় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল, ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৪ বছর। মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁও গ্রামে বাবা-মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন তিনি। তিনি আমাদের হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন, এবং চিন্তার খোরাক জুগিয়েছেন। আজ তার জন্মদিনে, বাংলার প্রাঙ্গণের পক্ষ থেকে তাকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তার কাজ ও সৃষ্টিগুলো তাকে বাঁচিয়ে রাখবে আমাদের স্মৃতিতে চিরকাল।


তথ্যসূত্র : (ইন্টারনেট)


#সিনেমা #বাংলাদেশ #কৌতুক  #চলচ্চিত্র #শিল্প   

(অনুমতি ছাড়া রিপোস্ট করবেন না)


#বাংলার_তথ্যপট (বিস্তারিত জানুন কমেন্টে)

বাংলায় নবজাগরণের এক পথিকৃৎ..…. ‌

 বাংলায় নবজাগরণের এক পথিকৃৎ..…. ‌


🔥

নিজের নতুন বৌ-কে বন্ধুর দেখতে ইচ্ছে হয়েছে বলে দিনের বেলা অন্য কোন উপায়ান্তর না দেখে রাতের বেলা কোন স্বামী নিজের শয়নকক্ষে বন্ধুকে ডেকে এনেছেন বধূমুখ দর্শন করানোর জন্য! না, এটা কিন্তু নাটকের দৃশ্য নয়; একেবারে নিখাদ সত্যি। হ্যাঁ! চমকে উঠতেই পারেন। কারণ সময়টা যে আঠারো শতক আর সেই প্রেক্ষাপটে রীতিমতো বৈপ্লবিক ঘটনাও বটে। তবে এহেন বৈপ্লবিক দুঃসাহস তাঁর জন্মগত। চিনতে পেরেছেন কি? এই নববধূটি হলেন জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, আর ঐ বন্ধু হলেন মনোমোহন ঘোষ। আর যে বছর কুড়ির যুবকটি এই পরিকল্পনাটির জনক, তিনি সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রথম ভারতীয় হিসেবে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পাশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু পাশাপাশি ছিলেন নারী স্বাধীনতার অন্যতম কাণ্ডারী। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় পুত্র এবং রবীন্দ্রনাথের অগ্রজ; না! বলা ভাল রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সত্যেন্দ্রনাাথ ঠাকুরের কনিষ্ঠ ভাই। 

বাংলা জুড়ে তখন নতুন তরঙ্গের ঝাপটা লাগছে। চিন্তা-চেতনা, সমাজদর্শন সবেতেই তখন এক নবজাগৃতির পদধ্বনি। কিন্তু বেশীরভাগ মানুষই তখনও ঘুমন্ত। যে ঠাকুরবাড়ি দ্বারকানাথ ঠাকুরের হাত ধরে পথ দেখিয়েছিল এই নবজাগরণের, সেখানে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পরে আবার ফিরছে সংস্কারের দাপট। আর এরই মধ্যে হিন্দু অবিভক্ত ঠাকুরবাড়িতে ১৮৪২ সালের ১ জুন জন্ম নিলেন ভবিষ্যৎ বাঙলার নবোদয়ের এক আলোকবর্তিকা - মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা দেবীর দ্বিতীয় পুত্র সত্যেন্দ্রনাথ। প্রাথমিক ভাবে পিতার তত্ত্বাবধানে তিনি বাড়িতেই সংস্কৃত ও ইংরেজি শিখেছিলেন। একইসঙ্গে চলছিল কুস্তি ও ঘোড়দৌড়ের অনুশীলন। এরপর হিন্দু স্কুলের ছাত্র হিসাবে সত্যেন্দ্রনাথ ১৮৫৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত প্রথম প্রবেশিকা পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন এবং প্রথম বিভাগে স্থান অধিকার করে ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে। সেখানে এসে পেলেন সমমনস্ক কেশবচন্দ্র সেনকে। সত্যেন্দ্রনাথ ছোট থেকেই ছিলেন পিতা দেবেন্দ্রনাথের অপৌত্তলিক দর্শনের অনুরাগী। তাঁর নিজের ভাষায় 'আইকোনোক্লাস্ট'। কলেজে প্রবেশের আগেই ব্রাহ্মসমাজে যোগ দিয়েছিলেন; পেয়েছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদনার গুরুদায়িত্ব। কেশবচন্দ্রের বন্ধুত্ব সেই আগুনে ঘি ঢালল। ১৮৬১ সালে কেশবচন্দ্রের সঙ্গে কৃষ্ণনগরে ব্রাহ্মধর্ম প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করলেন সত্যেন্দ্রনাথ। তবে এরই মধ্যে সব ওলটপালট করে দিলেন আর এক বন্ধু মনোমোহন ঘোষ। তিনি ছিলেন সত্যেনের যাবতীয় বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গী। একটি উদাহরণ তো প্রথমেই বলেছি। পরিবারের দস্তুর মতো, ১৮৫৯ সালে সত্যেন্দ্রনাথের সঙ্গে যশোরের আট বছরের জ্ঞানদানন্দিনীর বিয়ে হয়েছিল। একমাথা ঘোমটা টানা বালিকাটিকে চিন্তায় কর্মে স্বাবলম্বী করে নিজের মনের সঙ্গী করতে সত্যেন্দ্রের উদ্যোগের অন্ত ছিল না। আর জ্ঞানদার আড় ভাঙাতেই মনোমোহনকে ডেকে এনেছিলেন নিভৃত কক্ষে। তো এহেন মনোমোহন পরামর্শ দিলেন, বিলেত গিয়ে দেখাই যাক নি, ভারতীয়দের সিভিল সার্ভিসে নেয় কি না। বহু কষ্টে মহর্ষির মত আদায় করে, ১৮৬২ সালে দুই বন্ধু সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতির জন্য ইংল্যান্ডে গেলেন। সেখানে ভয়ানক পরিশ্রম শেষে মনোমোহন ফেল করলেন বটে, তবে সত্যেন্দ্র পাশ করে নজির গড়লেন। তিনিই হলেন প্রথম ভারতীয় সিভিলিয়ান। কাজ করার সুযোগ পেলেন বোম্বাই প্রেসিডেন্সীতে, যদিও তাঁর প্রথম নিযুক্তি হয়েছিল আহমেদাবাদে অ্যাসিস্ট্যান্ট কালেক্টর ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। আর এই সুযোগেই বস্তুত বহু দিনের স্বপ্ন বাস্তব করার উপায় পেলেন তিনি। 

জ্ঞানদানন্দিনীকে নিদর্শন রূপে সামনে রেখে, ঠাকুরবাড়ি তথা বাঙলার মেয়েদের কয়েদখানার তালাখানি ভেঙে দিলেন। বিলেতজয়ী সত্যেন্দ্র বলে দিলেন কর্মস্থল বোম্বাইয়ে ‘সস্ত্রীক’ যাবেন। 

বোন স্বর্ণকুমারী দেবীর স্মৃতিতে, ‘‘আশৈশব ইনি মহিলা-বন্ধু।.. মহর্ষির কাছে মেয়েদের যদি কোন আবেদন থাকতো তবে তাদের ‘মুরুব্বি’ হয়ে সত্যেন্দ্রনাথই তা অসঙ্কোচে নিবেদন করতেন।’’ 

ইংল্যান্ডে পঠনকালে মুগ্ধ হয়ে দেখেছিলেন মেয়েদের স্বচ্ছন্দ্য স্বাধীনতা। বোম্বাই যাত্রাকালে বাইরে বেরোনোর মতো মহিলাদের উপযুক্ত পোশাকের কথা ভেবে সত্যেন্দ্র ফরাসি মহিলা দর্জির কাছ থেকে তথাকথিত ‘ওরিয়েন্টাল’ পোশাক বানিয়েছিলেন। জ্ঞানদাকে নিজেই তা পরিয়ে দিয়েছিলেন। বম্বে গিয়ে পারসি জীবনে নারী-পুরুষের একত্র ভোজন, অবাধ নারী স্বাধীনতা ও উৎসবে বর্ণাঢ্য পোশাকে নারীসমাজের অংশগ্রহণ দেখে সত্যেন্দ্র মুগ্ধ। পারসিদের দৃষ্টান্তেই জ্ঞানদা সেই ওরিয়েন্টাল পোশাক ছেড়ে, ডান কাঁধের বদলে বাঁ কাঁধে আঁচল ফেলে বা ব্রোচ আটকে ‘বোম্বাই শাড়ি পরা’ রপ্ত করেন। সেই চলনেই শুরু হল ব্লাউজ় পরা। পরের ছুটিতে স্বামীর সঙ্গে এই পোশাকেই সরাসরি গাড়ি করে ঠাকুরবাড়িতে এলেন তিনি। এ দৃশ্যে পিতৃভবনে সত্যেন্দ্র প্রায় একঘরে হলেন। ক্রমে ঠাকুরবাড়িতে বিলেতের ছোঁয়া লাগল, সর্বভারতীয়তার রং ধরল, অন্তঃপুরে অবরোধপ্রথা লুপ্ত হল। 

নানা স্থানে বদলির চাকরি করতে করতে সত্যেন্দ্রনাথ তাঁর ৩২ বছরের কর্মজীবনে অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। ভারতবাসীর মধ্যে প্রথম সেশন জজ হয়েছিলেন। জজিয়তি করার সময়ে বাল্যবিবাহ, বালিকাহরণ, পণপ্রথার মতো সমাজের বহু উপদ্রবের মুখোমুখি হলেন তিনি। সমাজের স্বাস্থ্যের প্রশ্নে বয়স্থ হলে পাত্রপাত্রীর ইচ্ছেয় বিবাহ, একান্নবর্তী পরিবারের অবসানের পক্ষে কলম চালালেন। তবু তিনি অকালে অবসর নিয়েছিলেন। কারণ স্বদেশচেতনা। ইংরেজের প্রভুত্ব করার অনিচ্ছা। তাঁর কর্মজীবনের গোড়ার দিকেই, যখন তাঁর বড়দা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, নবগোপাল মিত্রের উদ্যোগে দেশাত্মবোধ ও রাষ্ট্রীয় মুক্তিচেতনা জাগানোর উদ্দেশ্যে হিন্দুমেলা শুরু হল, তিনি তার দ্বিতীয় অধিবেশনে নিজে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের জন্য 'মিলে সবে ভারতসন্তান' নামে একটি ভারতসঙ্গীত লিখে দিয়েছিলেন। এই গানই বঙ্কিমের ‘বন্দে মাতরম্’ ও ছোটভাই রবীন্দ্রনাথের ‘জনগণমন’র অগ্রদূত। বহু ক্ষেত্রেই এই গানকে দেশের প্রথম জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা দেওয়া হয়।

ঠাকুরবাড়ির ধারা মেনেই সত্যেন্দ্র ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। ‘বোম্বাই চিত্র’, ‘আমার বাল্যকথা’ ইত্যাদিতে মুখের কথায় মনের ভাবপ্রকাশে তাঁর মুনশিয়ানা, যখন-তখন গান বাঁধার পারদর্শিতা, ভক্তিগীত ভেঙে গান রচনা, শেক্সপিয়র-তুকারাম-কালিদাস অনুবাদের প্রাঞ্জলতা, মনোমুগ্ধকর ভাষণ দেওয়ার ক্ষমতা, অভ্রান্ত স্বরক্ষেপণে আবৃত্তির দক্ষতা, বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তি। অবসরের পরে এলেন প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে, হলেন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি। তাঁর হাত ধরেই ঠাকুরবাড়িতে নব্য নাটক ও গানের প্রবেশ ঘটল। 

১৮৭৭ সালে সত্যেন্দ্র জ্ঞানদাকে তিনটি শিশুসন্তান-সহ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় একলাই বিলেতে পাঠিয়ে দিলেন। এই ঘটনার পরে জ্ঞানদার সাঙ্ঘাতিক মনের জোরের কথা কিংবদন্তি হয়ে যায়। দ্বিমত নেই, এই মনের জোরের স্রষ্টা সত্যেন্দ্রনাথ। সোচ্চার আন্দোলন না করেও নিজের জীবনধারার বদল ঘটিয়ে সমাজে নতুন চেতনার সঞ্চার করা যায়,

দেখিয়ে দিয়েছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ। এই সরল সত্যের বহিঃপ্রকাশ ছিল সত্যেন্দ্রের ব্রহ্মতত্ত্ব গীতা উপনিষদ ব্যাখ্যান এবং বুদ্ধ বিষয়ক বইগুলির মধ্যে। সত্যেন্দ্রনাথ নয়টি বাংলা ও তিনটি ইংরেজি গ্রন্থ রচনা করেন। সে সবের মধ্যে সুশীলা ও বীরসিংহ নাটক, বোম্বাই চিত্র, নবরত্নমালা, স্ত্রীস্বাধীনতা, বৌদ্ধধর্ম, আমার বাল্যকথা ও বোম্বাই প্রয়াস, ভারতবর্ষীয় ইংরেজ, Raja Rammohan Roy ইত্যাদি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে। বস্তুতঃ, বাঙালীর সংস্কৃতিতে পূর্ব ও পশ্চিমের অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রস্তুত করেছিলেন ঠাকুরবাড়ির বহুচর্চিত পরিবেশটি। সেই বাগানেই একদিন ফুটে উঠেছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য ও নাট্যচর্চার কুঁড়িটি। সেই উদ্যানেই তো ভাষা খুঁজে পেয়েছিলেন ভবিষ্যতের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

বহু আয়াসে সত্যেন্দ্রনাথ পথ গড়ে দিয়েছিলেন মেয়েদের জন্য। বৃদ্ধাবস্থায় অবশেষে তৃপ্ত সুরে লিখেছেন, ''সত্যি সত্যিই অন্তঃপুরবাসিনীগণ এখন মেমের মত গড়ের মাঠে হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছেন।...

আমার মনস্কামনা অনেকটাই পূর্ণ হয়েছে।'' কোন অপমান কোন বিরোধীতাই তাঁকে তাঁর সঙ্কল্প থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। এক দীর্ঘ মহাজীবনের নাম সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রথম ভারতীয় আইসিএস থেকে সঙ্গীতরচয়িতা; ব্রাহ্মসমাজের সদস্য থেকে স্ত্রীকে পাশে নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে মাঠে হাওয়া খেতে যাওয়া; ছোট ভাইদের প্রধান অনুপ্রেরণা, শিক্ষাগুরু, বোনেদের সাহস জোগানো; জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এই বাঙালী ভাঙতে চেয়েছেন অন্ধ কারার বদ্ধ শিকল - সে ইংরেজদের গোলামীর শৃঙ্খল হোক বা সমাজের নিষেধাজ্ঞার বাঁধন! ১৯২৩ সালের ৯ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তবু তিনি মৃত্যুর পরপারেও অনুপ্রাণিত করে চলেছেন সেই সকল মানুষকে যাঁরা সমানাধিকারে বিশ্বাসী; স্বাধীনতার পক্ষপাতী। 

আজ এই বাঙালী মহামানবের প্রয়াণদিবস। তাঁকে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম। 🙏

- শ্রেয়সী সেন

তথ্যসূত্র - আনন্দবাজার পত্রিকা ও উইকিপিডিয়া

=================

বাংলার ইতিহাস জানতে চান ? যদি প্রকৃত ইতিহাস জানতে চান তাহলে অবশ্যই পড়ুন ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই "বাঙ্গালার ইতিহাস" । বাংলার ইতিহাস নিয়ে এইরকম গবেষণামূলক বই একটিও নেই ।

আমাজন লিংক : https://amzn.to/3MP7d4v

হয় যদি বদনাম হোক আরো  আমি তো এখন আর নই কারো -  স্মরণ-            চির সবুজ অভিনেতা                 জাফর ইকবাল

 হয় যদি বদনাম হোক আরো 

আমি তো এখন আর নই কারো -


 স্মরণ-


           চির সবুজ অভিনেতা 

               জাফর ইকবাল

----------------------------------------------------

অভিনেতা জাফর ইকবাল ১৯৭০ সালে কবরীর নায়ক হয়ে চিত্র সম্পাদক ও পরিচালক বশীর হোসেনের 'আপনপর' ছায়াছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পদার্পন করেন।


ছিলেন আশির দশকের বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। তিনি একাধারে একজন সঙ্গীতশিল্পী, অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা।


জন্ম ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৫০ সালে ঢাকায়। বড় ভাই আনোয়ার পারভেজ বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক ও ছোট বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ সঙ্গীতশিল্পী।


জাফর ইকবাল ১৯৬৬ সালে প্রথম একটি ব্যান্ড দল গড়ে তোলেন। তাঁর কণ্ঠে 'হয় যদি বদনাম হোক আরো' গানটি একসময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।


জাফর ইকবাল বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দেশের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সরাসরি অংশগ্রহন করেন।


সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে তিনি চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। তিনি আবদুস সামাদের চিত্রগ্রহন ও পরিচালনায় ‘সূর্যগ্রহন’ ও এর সিকুয়াল ‘সূর্যসংগ্রাম’ চলচ্চিত্রে ববিতার বিপরীতে অভিনয় করেন।


১৯৭৫ সালে ‘মাস্তান’ চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় তাঁকে সে প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়।


স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের রাগী, রোমান্টিক, জীবন-যন্ত্রণায় পীড়িত কিংবা হতাশা থেকে বিপথগামী তরুণের চরিত্রে তিনি ছিলেন পরিচালকদের অন্যতম পছন্দ।


সামাজিক প্রেমকাহিনী ‘মাস্তানে’র নায়ক জাফর ইকবাল রোমান্টিক নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রে এক গ্রামীন তরুণের চরিত্রেও দর্শক তাঁকে গ্রহণ করে।


জাফর ইকবাল একশোরও কম চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন যার বেশিরভাগই ছিল ব্যবসা সফল। 


১৯৮৯ সালে জাফর ইকবাল অভিনীত ত্রিভূজ প্রেমের ছবি ‘অবুঝ হৃদয়’ দারুণ ব্যবসা সফল হয়। এ ছবিতে চম্পা ও ববিতার বিপরীতে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে।


ববিতার সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শক নন্দিত। এই জুটির বাস্তব জীবনে প্রেম চলেছে বলেও গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। তাঁদের সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ায় হতাশ হয়েই জাফর ইকবাল অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জোর গুঞ্জন উঠেছিল।


ববিতার বিপরীতে আনুমানিক পনেরটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।


জাফর ইকবাল অভিনীত এক মুঠো ভাত, ভাই বন্ধু, অবদান, সাধারণ মেয়ে, একই অঙ্গে এত রূপ, ফকির মজনুশাহ, দিনের পর দিন, বেদ্বীন, অংশীদার, মেঘবিজলী বাদল, সাত রাজার ধন, আশীর্বাদ, অপমান, নয়নের আলো, গৃহলক্ষ্মী, ওগো বিদেশিনী, প্রতিরোধ, সিআইডি, মর্যাদা, সন্ধি প্রভৃতি চলচ্চিত্র সুপারহিট হয়। 


সোনিয়া-জাফর ইকবাল দম্পতির দুই সন্তান।


পারিবারিক অশান্তির কারনে জাফর ইকবাল মানসিক ভাবে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েন। 


অতিরিক্ত সুরাপান ও অনিয়ম জীবন যাপনের ফলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। ফলে নষ্ট হয়ে যায় তাঁর হার্ট এবং কিডনি। 


১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি মাত্র ৪১ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


-- মেসবা খান

ঐতিহাসিক শমসের গাজীর সুরঙ্গ: যার এক মাথা বাংলাদেশে অপর মাথা ত্রিপুরার আগরতলায়!

 ঐতিহাসিক শমসের গাজীর সুরঙ্গ:

যার এক মাথা বাংলাদেশে অপর মাথা ত্রিপুরার আগরতলায়!



ঐতিহাসিক শমসের গাজীর সুরঙ্গ। এটি পুরোনো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা সদরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে গেলে চম্পকনগর। এখান থেকে অটোরিকশায় এক কিলোমিটার পাড়ি দিলেই জগন্নাথ সোনাপুর গ্রাম। গ্রামের বড় এক দিঘির পাড়ে ছোট একটা ঢিবি। এর গায়ে মাটি কেটে বানানো একটা সুড়ঙ্গের মুখ। উঁকি দিলে অপর প্রান্ত দেখা যায় না।


ছাগলনাইয়ার চম্পকনগরের শমসের গাজীর সুড়ঙ্গ দেশের তালিকাভুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ভাটির বাঘ নামে পরিচিত শমসের গাজী একসময় এ এলাকা শাসন করতেন। এখানে তিনি তৈরি করেছিলেন সুবিশাল কেল্লা, সুড়ঙ্গ আর দিঘি। প্রায় ১৫ একর জায়গায় আজও ছড়িয়ে আছে সেসব নিদর্শন। ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় কৃষক ও প্রজাদরদি এক বিপ্লবী শাসক। বৃহত্তর নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ ছিল তার শাসনাধীন।


১৭১২ সালে বর্তমান ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলায় নিজকুঞ্জরা গ্রামে তার জন্ম। পিতা পীর মোহাম্মদ তখনকার ওমরাবাদ পরগনার একটি কাছারিতে খাজনা আদায় করতেন। তার মায়ের নাম ছিল কৈয়ারা বেগম। ছোটকালেই তির-ধনুক, তলোয়ার চালানোসহ সমরবিদ্যায় পারদর্শী হন। এরপর দিকে দিকে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে শমসের গাজীর।


এই সুড়ঙ্গ নির্মাণ সম্পর্কে স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দাদের বরাতে জানা যায়- আক্রমণকারী শত্রুপক্ষের যোদ্ধাদের ঠেকাতে সুড়ঙ্গের নির্মাণ। আবার কেউ বলেন, বাড়ির নারীদের গোসলের জন্য পুকুরে যাওয়ার পথ ছিল এটি। সুড়ঙ্গটি নির্মাণের সময় এর দৈর্ঘ্য ৪০-৪৫ মিটার ছিল বলে দাবি করেন অনেকে। সেই সময় এটির একটি মুখ ছিল চম্পকনগর গ্রামে, অন্য প্রান্তে ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলার আমলি ঘাট। তবে মাঝখানের অনেক স্থানে ধসে যাওয়ায় এখন আর ভারতের সঙ্গে সুড়ঙ্গটির সংযোগ নেই। শুধু এ সুড়ঙ্গ নয়, শমসের গাজীর খনন করা বিশাল খুইল্লার দিঘি আর কেল্লার ভিটা রয়ে গেছে আজও।


সবাই পড়ার অনুরোধ রইল ❤️ অনেক কিছু শিখতে পারবেন আশা করি আপনাদের ভালো হবে। 

 🚫সবাই পড়ার অনুরোধ রইল ❤️

অনেক কিছু শিখতে পারবেন আশা করি আপনাদের ভালো হবে।


💯👍


হিংসুক মানুষের আবিষ্কৃত শ্রেষ্ঠ যন্ত্রের নাম ষড়যন্ত্র। আপনি উঠতে চাইলে পেছনে টেনে ধরবে, বড় কিছু করলে সমালোচনা করবে, আপনি স্বপ্ন দেখলে তারা আপনাকে হতাশ করবে। এতসব কিছুর মাঝেও আপনাকে বেঁচে থাকতে হবে, টিকে থাকতে হবে, স্বপ্ন পূরণ করতে হবে ; কারণ মানুষ অন্যের হাঁটুর জোরে হাঁটেনা, সে নিজের পায়ে ভর করেই দৌঁড়ায়।

আপনাকে টেনে উপরে তোলার জন্য কারো ঠেকা পড়েনি। আপনি কঠোরভাবে চেষ্টা না করলে, কার এত দায় পড়েছে আপনার জন্য সাহায্যের ডালা সাজিয়ে বসে থাকার? পৃথিবীটা অনেক নিষ্টুর। এখানে সবাই স্বার্থপর। আপনার বেঁচে থাকার কারণ আপনাকেই সৃষ্টি করতে হবে। কেউ আপনাকে সাকসেস হওয়ার আগ পর্যন্ত পাত্তা দিবেনা। অনেকেই আপনাকে কথা দিয়েও কথা রাখবেনা। এমনকি অনেকেই আপনাকে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় রাখবে, কারণ সাকসেস হওয়ার আগ পর্যন্ত সবাই ধরেই নিবে আপনি একটা অপদার্থ, এভাবে ১০ ঘন্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলেও আপনার সমস্যা কিসের!


পৃথিবীতে মানুষ রেজাল্ট দেখতে চায়। আপনি কত ঘন্টা পড়ে, কত রাত জেগে প্রিপারেশন নিয়েছেন সেটা কাউকে ভাবাবে না, বরং আল্টিমেটলি চাকরিটা আপনি পেয়েছেন কিনা সবাই সেটাই দেখতে চায়। শচীন কয়টা ছক্কা মারার চেষ্টা করেছে, তাতে কার কি আসে; বরং কয়টা ছক্কা তিনি মেরে টিমকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন সবাই সেটাই দেখতে চায়বে। মেসির পায়ে কত মিনিট বল ছিলো, কয়টা বল তিনি গোলপোস্টে থ্রো করেছেন এসব দেখতে চায় না অডিয়েন্স। আল্টিমেটলি দিনশেষে অডিয়েন্স এটাই দেখতে চায় মেসির টিম আর্জেন্টিনা জিতেছে কিনা। লাইফটা রেজাল্টের উপর দাঁড়িয়ে থাকে।


বিধাতা আপনাকে একটা খোলা মাঠ দিলো। এখন সেই মাঠে যদি আপনি অল্প খনন করেন, তবে আপনি একটা গর্ত করতে পারবেন। আরেকটু বেশি খনন করলে একটা পুকুর হবে। আরো বেশি খনন করলে বিশাল দিঘী হয়ে যাবে। আপনি যা খুশি করতে পারবেন। বিধাতা আপনাকে শক্তি দিয়েছে, মাঠ দিয়েছে; কিন্তু সেই শক্তি দিয়ে মাঠকে পুকুর বানাবেন নাকি দিঘী বানাবেন সেটা নির্ভর করছে আপনার সিদ্ধান্তের উপর।✅💯❤️


#সংগ্ৰহীত

এই মানুষটি কোনো ভিক্ষুক বা ভবঘুরে নন।। তিনি লিও টলস্টয়—বিশ্বসাহিত্যের এক মহান নাম।

 এই মানুষটি কোনো ভিক্ষুক বা ভবঘুরে নন।।


তিনি লিও টলস্টয়—বিশ্বসাহিত্যের এক মহান নাম।


রাশিয়ার এই মহান ঔপন্যাসিক এবং দার্শনিকের লেখা উপন্যাস *"War and Peace"* এবং *"Anna Karenina"* আজও সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কীর্তিগুলোর অন্যতম বলে বিবেচিত। বাস্তববাদী সাহিত্যের একজন অগ্রগণ্য পথিকৃৎ হিসেবে তার অবদান অপরিসীম।


তবে শুধু সাহিত্যিক প্রতিভার জন্যই নয়, টলস্টয় স্মরণীয় তার জীবনের দর্শন এবং মানবতার প্রতি অগাধ ভালোবাসার জন্য। ধনসম্পদ, আরাম-আয়েশের জীবন, সবকিছু তিনি ত্যাগ করেছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল, গৃহহীনদের জন্য আশ্রয় এবং ক্ষুধার্তদের জন্য খাবার নিশ্চিত করাই মানবতার প্রকৃত সেবা। তার জীবন ছিল এক জীবন্ত উদাহরণ যে, প্রকৃত সুখ খুঁজে পাওয়া যায় ত্যাগের মধ্য দিয়ে।


লিও টলস্টয় ১৮২৮ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর রাশিয়ার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু বিলাসী জীবন তাকে কখনো টানেনি। বরং জীবনের গভীর অর্থ খুঁজে পাওয়ার তাগিদে তিনি আত্মনিবেদন করেছিলেন সাহিত্য, দর্শন, এবং মানুষের কল্যাণে। ১৯১০ সালের ২০শে নভেম্বর তিনি পরলোকগমন করেন। কিন্তু তার রচনা এবং আদর্শ আজও মানুষের মননে অমর হয়ে আছে।


টলস্টয়ের লেখা শুধু কাহিনি নয়; তার রচনাগুলোতে নৈতিকতা, ন্যায়বোধ, এবং মানবিকতার গভীর প্রশ্ন উঠে এসেছে। মানুষ কিভাবে নিজের জীবনের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে বৃহত্তর কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে পারে, তার প্রতিফলন দেখা যায় তার রচনায়।


✅তার কিছু বিখ্যাত উক্তি আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়:  

-“তোমার ধর্ম সম্পর্কে আমাকে কিছু বলার দরকার নেই; তোমার কাজের মধ্যে তা আমি দেখতে চাই।”

- “যদি তুমি নিজের কষ্ট অনুভব করো, তবে তুমি জীবিত। কিন্তু যদি তুমি অন্যের কষ্ট অনুভব করো, তবে তুমি প্রকৃত মানুষ।”


টলস্টয়ের প্রভাব শুধুমাত্র সাহিত্য জগতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক। তার অহিংস প্রতিরোধের দর্শন এবং সরল জীবনের আদর্শ মহাত্মা গান্ধী ও মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের মতো নেতাদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। গান্ধী নিজেই একাধিকবার বলেছেন, টলস্টয়ের আদর্শ তার জীবনে এক বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।


টলস্টয়ের জীবন ও কাজ আমাদের শেখায় যে মানবতার জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করা কতটা মহৎ। তিনি দেখিয়েছেন, জীবনের প্রকৃত সার্থকতা পাওয়া যায় অন্যের জন্য কিছু করার মাধ্যমে। টলস্টয় শুধু একজন সাহিত্যিক নন; তিনি মানবতার একজন পথপ্রদর্শক।

বিখ্যাত আইরিশ চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক জর্জ বার্নার্ড শ বলেছিলেন, আমি ডিনামাইট তৈরির জন্য আলফ্রেড নোবেলকে ক্ষমা করতে পারি, কিন্তু নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তনকারীকে ক্ষমা করতে পারি না, কারণ একমাত্র মানুষরূপী শয়তানই এমন পুরস্কার প্রবর্তন করতে পারে। সূত্র : ইন্টারনেট।

 নোবেল প্রাইজ শয়তানের সৃষ্টি! ফন্ট 

============================

 : বিখ্যাত আইরিশ চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক জর্জ বার্নার্ড শ বলেছিলেন, আমি ডিনামাইট তৈরির জন্য আলফ্রেড নোবেলকে ক্ষমা করতে পারি, কিন্তু নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তনকারীকে ক্ষমা করতে পারি না, কারণ একমাত্র মানুষরূপী শয়তানই এমন পুরস্কার প্রবর্তন করতে পারে। সূত্র : ইন্টারনেট।


 

আজ থেকে ৮৭ বছর আগে ১৯২৬ সালের এই দিনে নোবেল পুরস্কারের অর্থ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেছিলেন।

 

সুইডিশ রসায়ন বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিষ্কারের পর 'মৃত্যুর সওদাগর' হিসেবে নিন্দিত হওয়ায় নোবেল পুরস্কার প্রথা চালু করেছিলেন। কিন্তু এই প্রথা চালু হওয়ার পর বেশি দিন না যেতেই পুরস্কারটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে পাশ্চাত্য। কেবল তাই নয় এই পুরস্কারকে ব্যবহার করা হয় পাশ্চাত্যের আধিপত্যকামী, বিভেদকামী, শোষণকামী ও হত্যাযজ্ঞের নীতি জোরদারের হাতিয়ার হিসেবে।

 

তাই স্পষ্টভাষী সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ জর্জ বার্নার্ড শ (১৮৫৬-১৯৫০) এই পুরস্কারের তীব্র সমালোচনা করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

 

পবিত্র ধর্ম ইসলাম ও বিশ্বনবী (সা.) সম্পর্কে নিজের গভীর শ্রদ্ধাবোধের জন্যও খ্যাতি অর্জন করেছেন এই সুনাম-ধন্য মনীষী। তিনি বলেছেন, আগামী একশ’ বছরের মধ্যে যদি কোনো ধর্ম ব্রিটেন, এমনকি গোটা ইউরোপের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তা হলে সেটা হবে ইসলাম।

 

শ আরো বলেছেন, আমি মুহাম্মাদ (সা.) এর ধর্মকে সব সময়ই গভীর শ্রদ্ধার চোখে দেখি, কারণ এর রয়েছে বিস্ময়কর গতিশীলতা বা শক্তি। আমার দৃষ্টিতে এটা হচ্ছে একমাত্র ধর্ম যার রয়েছে অস্তিত্বের জগতের পরিবর্তশীলতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার বা খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা, আর এ কারণে ইসলাম প্রত্যেক যুগেই মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম।

 

তিনি বলেন, আমি মুহাম্মাদকে (সা.) কে অধ্যয়ন করেছি, তিনি ছিলেন একজন বিস্ময়কর মানুষ এবং আমার মতে খ্রিস্ট বা ঈসা (আ.) এর বিরোধী হওয়ার ধারে কাছেও তিনি ছিলেন না, মুহাম্মাদ (সা.) কে অবশ্যই মানবতার ত্রাণকর্তা বলা উচিত।

 

জর্জ বার্নার্ড বলেন, আমি মুহাম্মাদ (সা.) এর ধর্ম সম্পর্কে এ ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে, এই ধর্ম আগামী দিনের ইউরোপে গৃহীত হবে এবং এই ধর্মকে সাদরে বরণ করে নেয়া এখনই শুরু হয়েছে।


বাংলাদেশের প্রথম মহিলা দাবাড়ু রানী হামিদ  রাণী হামিদ (জন্ম:২৩ ফেব্রুয়ারি,১৯৪৪) একজন বাংলাদেশী দাবাড়ু। তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা আন্তর্জাতিক দাবা মাস্টার

 বাংলাদেশের প্রথম মহিলা দাবাড়ু রানী হামিদ 


রাণী হামিদ (জন্ম:২৩ ফেব্রুয়ারি,১৯৪৪) একজন বাংলাদেশী দাবাড়ু। তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা আন্তর্জাতিক দাবা মাস্টার


। রাণী হামিদের পুরো নাম সৈয়দা জসিমুন্নেসা খাতুন ডাক নাম রাণী। বিয়ের পর তিনি স্বামীর নাম যুক্ত করে রাণী হামিদ হন। ক্রীড়াজগতে তিনি রাণী হামিদ নামেই পরিচিত। ১৯৮৫ সালে তিনি ফিদে আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার খেতাব পান। তিনি ৩ বার ব্রিটিশ মহিলা দাবা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন। । রাণী হামিদের সন্তান কায়সার হামিদ ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতের খ্যাতনামা ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। 

তার আরও একটি বড় পরিচয় 

তিনি আমাদের কিংবদন্তি ফুটবলার কায়সার হামিদের মাতা।

বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৫

দ্যা পাওয়ার অফ "সূরাহ মূলক্",,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 "দ্যা পাওয়ার অফ "সূরাহ মূলক্"


"মনে করুন,আপনি দুনিয়া থেকে চলে গেছেন। আপনার জা'নাজার নামাজ শেষ।আপনাকে ক' বরে রাখা হলো। আপনি অপেক্ষা করতেছেন মু'নকার নাকির ফেরেশতার জন্য। কিন্তু,তাঁরা আসছে না কেন! অথচ, জান্নাতের সুঘ্রাণ পাওয়া শুরু করেছেন আপনি। 

একটু পরেই—

ক' বরের সাথে জান্নাতের একটি সু'ড়ঙ্গপথ তৈরি হয়ে গেলো। আপনি ভাবলেন,!!

'এ কেমন কথা! প্রশ্ন-উত্তর কই?

তখন আপনার মনে পড়ল- 'প্রতি রাতে সূরা মূলক পাঠ করলে কবরে প্রশ্ন উত্তরের ঝামেলা নাই। কবর আজাবেরও কোনো চান্স নাই।'

অতঃপর, রেশমী চাদরের নরম বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে আপনি বললেন 'আলহামদুলিল্লাহ'। ❤️


[] তিরমিজি -২৮৯০ এর সহীহ অংশ থেকে।

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ০৯-০১-২০২৫ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ০৯-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন একই সঙ্গে করার পরিকল্পনা করছে অন্তর্বর্তী সরকার - বললেন প্রধান উপদেষ্টা।


উন্নত চিকিৎসার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখন লন্ডনে - সাড়ে সাত বছর পর মা-ছেলের সাক্ষাৎ।


স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি শুরু করলো টিসিবি ৷


বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।


শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর ভারতের পদক্ষেপ ইতিবাচকভাবে নেয়নি বাংলাদেশের জনগণ - মন্তব্য বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর।


ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।


রাশিয়ার বোমা হামলায় ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া নগরীতে ১৩ জনের প্রাণহানি।


আজ সিলেটে বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পরস্পরের মুখোমুখি হবে ফরচুন বরিশাল – রংপুর রাইডার্সের ও ঢাকা ক্যাপিটালস - চিটাগাং কিংসের।


নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...