এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫

বিশিষ্ট কিংবদন্তি ভারতীয় হিন্দি, তামিল,  তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম প্রভৃতি ভাষার কণ্ঠশিল্পী যেসুদাস  - এর শুভ জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা


 বিশিষ্ট কিংবদন্তি ভারতীয় হিন্দি, তামিল,  তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম প্রভৃতি ভাষার কণ্ঠশিল্পী যেসুদাস  - এর শুভ জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা l কে জে যেসুদাস {জন্ম; ১০ই জানুয়ারি, ১৯৪০(বয়স ৮৫)} একজন কিংবদন্তি ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী , তিনি শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে সবচেয়ে  বেশিবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন । তিনি হিন্দি, তামিল,  তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম প্রভৃতি ভাষায় কয়েক হাজার গান গেয়েছেন ।

কে জে যেসুদাস ১০ জানুয়ারি ১৯৪০ সালে কোচিনে জন্মগ্রহণ করেন । কে জে যেসুদাস ফোর্ট কোচিতে জন্মগ্রহণ করেন, প্রাক্তন কিংডম অফ কোচিন (এখন  কেরালা), তিনি লাতিন ক্যাথলিক খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তার  পিতার নাম অগাস্টিন জোসেফ এবং মাতার নাম  এলিজাবেথ জোসেফ। তার পিতা, একজন  সুপরিচিত মালালীয় শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী এবং মঞ্চ অভিনেতা ছিলেন। তিনিই  যেসুদাসের প্রথম গুরু (শিক্ষক) ছিলেন । যেসুদাসরা পাঁচজন ভাই বোন। তিনি  পিতার  জ্যৈষ্ঠ পুত্র , এছাড়া তার তিনটি ছোট ভাই ও একটি ছোট বোন আছে।তিনি  তার একাডেমিক সঙ্গীত প্রশিক্ষণ শুরু করেন R.L.V. সঙ্গীত একাডেমী,  ত্রিপুনথুরা তে , পরবর্তীতে তিনি স্বাথী থিরুণাল কলেজ অব মিউজিকে অধ্যয়ন  করেন। তিনি চেন্নাইয়ে বৈদ্যনাথ ভাগবতের কাছ থেকে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ  করেন। তিনি আর.এল.ভি. এ গণবোধন কোর্স সম্পন্ন করেন। ২০১১ সালে যেসুদাস  প্লেব্যাক গায়ক হিসাবে তার কেরিয়ারের  ৫০ বছর পূর্ণ করেন ।

পুরস্কার ও সম্মাননা

ভারত সরকার কর্তৃক ১৯৭৫ সালে তাকে পদ্মশ্রী ২০০২ সালে পদ্মভূষণ ২০১৭ সালে পদ্মবিভূষণ পুরস্কার দেওয়া হয় । একমাত্র তাকেই কেরালা সরকার প্রদত্ত "আস্থানা গায়াকান" পুরস্কার দেওয়া হয় । তিনি রেকর্ড সংখ্যক আট বার প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন ।পঁচিশ বার কেরালা রাজ্য শ্রেষ্ঠ শিল্পী পুরস্কার পেয়েছেন । পাঁচবার তামিলনাড়ু সরকার প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ শিল্পী পুরস্কার পেয়েছেন। চারবার অন্ধপ্রদেশ সরকার প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ শিল্পী পুরস্কার পেয়েছেন । এছাড়াও তাকে "আনন্দলোক" পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ।


(বিপ্লব দাসের wall থেকে সংগৃহীত)


#yesudas #yesudassongs #yesudashits #singer #playbacksinger #NationalAwardWinner #hindicinama  #hindifilm #Bollywood #oldmovies #hindimovie #bollywoodactoractress #Bollywoodfilmindustry #nostalgia #olddaysmemories #nostalgicmemories #nostalgicmoments #nostalgic #oldmoviestars #indiancinema #filmmusic #filmmusiccomposer #musicdirector #filmsong

পাথরে লেখা পৃথিবী ধ্বংস হবে কবে, কীভাবে? মায়া সভ্যতার বাসিন্দারা নাকি বলে গিয়েছিল, পৃথিবী ২০১২ সালে শেষ হয়ে যাবে

 পাথরে লেখা পৃথিবী ধ্বংস হবে কবে, কীভাবে?

মায়া সভ্যতার বাসিন্দারা নাকি বলে গিয়েছিল, পৃথিবী ২০১২ সালে শেষ হয়ে যাবে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা বিশ্লেষণ করে জানান, মায়া সভ্যতার মানুষরা পৃথিবীর শেষ মোটেও কল্পনা করে যাননি। তবে কয়েক হাজার মাইল উত্তরে আরেকটি সভ্যতা ছিল যারা পৃথিবীর আসন্ন সর্বনাশ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন ছিল মায়া সভ্যতার মতোই। অ্যাজটেক সভ্যতার নানা রহস্য নিয়ে আজও গবেষণা অব্যাহত। অ্যাজটেক সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে পৃথিবীর শেষ সম্পর্কে তাঁদের ধারণা এবং সর্বনাশ থেকে বাঁচার জন্য নিজস্ব উপায়।

অ্যাজটেকরা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়া নিয়ে এতটাই উদ্বিগ্ন ছিল যে তারা, প্রতি বছর এই ধ্বংস আরও এক বছরের জন্য পিছিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে নিয়মিতভাবে মানুষের বলি দিত! ফ্লোরিডা মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির লাতিন আমেরিকান শিল্প ও প্রত্নতত্ত্বের কিউরেটর সুসান মিলব্রাথ সানস্টোন নামে পরিচিত বিশাল এক ধ্বংসাবশেষের পাঠোদ্ধার করেছেন। এই সানস্টোন আসলে ২৪ টন ওজনের, বৃত্তাকার, ব্যাসাল্ট পাথরের তৈরি ক্যালেন্ডার।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘকাল ধরে ভেবেছিলেন, পাথরের এই ক্যালেন্ডারের কেন্দ্রে যে চিত্রটি আছে তা অ্যাজটেকের সূর্য দেবতা টোনাটিউহ। মিলব্রাথ ২০১৭ সালের গ্রহণের একটি উদাহরণ বিশ্লেষণ করে বললেন, এই ছবির ব্যাখ্যা অন্য। দেবতার মুখ নয়, সম্ভবত চিত্রটি সূর্য গ্রহণের সময় তাদের মৃত্যুর প্রতীক। অ্যাজটেকরা বিশ্বাস করেছিল যে, বিশ্বব্যাপী এবং পৃথিবী-কাঁপানো এক সূর্য গ্রহণই সবাইকে সর্বনাশের দিকে নিয়ে যাবে।

টোনাটিউহর আশেপাশে আঁকা নখর বলে এটি গ্রহণ দানবের ছবি। ২৬০-দিনের ক্যালেন্ডারে বৃত্তাকার প্রতীক চিহ্ন পুরোহিতরা ভবিষ্যতের ঘটনার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য ব্যবহার করে। আধুনিক পণ্ডিতরা বিশ্লেষণ করে জানতে পেরেছেন, ঠিক কোন সময় পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মনে করেছিল অ্যাজটেকরা, ৪ অলিন। কী এই ৪ অলিন?

#aztec #aztecmythology #sunstone 

[End of World, Aztec, Aztec Civilization, Sun Stone]


বুড়োর চিঠি বুড়িকে  ******                 ( কবিতা হলেও বাস্তবে সত্যি )

 "বুড়োর চিঠি বুড়িকে  ******                

( কবিতা হলেও বাস্তবে সত্যি )


Dear বুড়ি,কেমন আছো?

বড় ছেলের কাছে?

হিংসুটে ঐ,বৌমাটি কি

তোমার পাশেই আছে?


নাতি,নাতনি কেমন আছে?

ওরা কি সব স্কুলে ?

এতদিনে ওরাও হয়তো

আমায় গেছে ভুলে।


সে যাক ভুলে,এবার তুমি

তোমার কথা বলো।

তোমার হাঁটুর,ব্যথাটা কি

এখন একটু ভালো?


আসার সময়,তোমার প্রেশার

ছিল অনেক বেশি।

উপরে প্রায়,দুশো ছিলো

নিচে ছিল আশি।


এখনও কি তোমার প্রেশার

একই রকম আছে?

থাকলে পরে,ওষুধ চাইবে

বড় খোকার কাছে।


sugar টাওতো,বেশি তোমার

মিষ্টিটা কম খেও।

মাঝে মাঝে,sugar টাকে

check করিয়ে নিও।


এসেছিলাম,দেখে তোমার

heartএ blockage আছে।

দেখিয়েছে, ওরা তোমায়,

specialist এর কাছে?


ছোটো খোকার,কাছে আছি

ভীষণ কষ্টে আমি।

বৌমার কাছে, আমার থেকেও

কুকুরটা তার দামি।


সকাল থেকেই,বাজারঘাট আর

যত ঘরের কাজ।

বউমা আমায়,করিয়ে নিয়ে

দেখায় আবার ঝাঁঝ।


আমারও তো,শরীরটা আর

সুস্থ মোটেও নেই।

হাত পা গুলো,কাঁপতে থাকে

উঠে দাঁড়ায় যেই।


কি আর করবো,এটাই হয়তো

বুড়ো হওয়ার জ্বালা।

হওয়ার ছিল,ভাগের মা আর

ভাগের বাবার পালা।

পারলে তুমি ভালো থেকো

একটু আধটু ঘুরো।

চিন্তা কোরোনা আমার জন্য

ইতি ""তোমার "বুড়ো""


সংগৃহীত পোস্ট

বাস ভাড়া বাঁচাতে সাইকেল ব্যবহার করতেন।  নিজের সাইকেলটি দূরে নিয়ে যেতে পারতেন না বলে বাধ্য হয়ে অন্য দোকান থেকে সাইকেল ভাড়া নিতেন

 বাস ভাড়া বাঁচাতে সাইকেল ব্যবহার করতেন। 

নিজের সাইকেলটি দূরে নিয়ে যেতে পারতেন না বলে বাধ্য হয়ে অন্য দোকান থেকে সাইকেল ভাড়া নিতেন। দূরের লোক তাঁকে চিনতেন না অগত্যা কখনও, কখনও নিজের ঘড়ি থেকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও বাঁধা দিতে হত। রোগা পাতলা, সুদর্শন চেহারার এই সাহেব মন্দিরের টানে হাসিমুখে মাইলের পর মাইল মেঠো পথ পাড়ি দিতেন ,তথ্য জানতে গভীর আগ্রহে শুনতেন গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে বিদগ্ধ মহলের কথা। সাহেবের নাম ডেভিড ম্যাক্কাচিন তিনি বাঙালির প্রিয় টেরাকোটা সাহেব। সত্যজিৎ রায়ের ঘনিষ্ঠ,যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপ্যারেটিভ লিটারেচার পড়তেন। সত্যজিৎ রায়ের ছবির ইংরেজি সাবটাইটল করেছেন।

ধ্রুবতারাদের খোঁজে


পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর শান্তিনিকেতনে লীলা রায় নিজের হাতে রেঁধে খাইয়ে ডেভিড ম্যাক্কাচিনকে

 সুস্থ করে তুলেছিলেন। শরীর শেষ পর্যন্ত সব কিছু সহ্য করলেও মন টিকল না শান্তিনিকেতনে। এর আগে মধ্যবিত্ত ব্রিটিশ পরিবারের সন্তান ডেভিড বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। স্নাতক হয়েছেন ইংরেজি, জার্মান ও ফরাসি ভাষাসাহিত্যে। তারপর স্নাতকোত্তর। ফ্রান্সে শিক্ষকতার কাজে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁর ভাল লাগল না। ইংল্যান্ডে আবার ফিরে আসার পরে এবার সোজা রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে। তবে সেখানে তিনি থাকতে পারলেন না। পোড়ামাটির মন্দির নিয়ে ডেভিডের মুগ্ধতার রেশ কখনও শেষ হত না। সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। মানিকবাবু ও তাঁকে খোঁজ দিতেন বিভিন্ন মন্দিরের। দৈনন্দিন খরচ চালিয়ে অবশিষ্ট টাকা ডেভিড জমিয়ে রাখতেন টেরাকোটা মন্দির অভিযানের জন্য খরচ হিসেবে। কখনও সময় পেলে সত্যজিৎ রায়ের ছবির শুটিং দেখতে যেতেন মানিববাবুর বাড়িতে ফিরে চলত গল্প, আলোচনা। বিলিতি ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিকের পোকা ছিলেন ডেভিড ম্যাক্কাচিন। 

 ধ্রুবতারাদের খোঁজে 


অখণ্ড বাংলার মন্দিরের প্রায় ২০ হাজার ছবি তুলেছিলেন ডেভিড, লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজ়িয়মে সংরক্ষিত। লিখেছেন নানা পত্রপত্রিকায়, বাংলার মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ও টেরাকোটা ভাস্কর্য নিয়ে। নিজের বই 'লেট মিডিভ্যাল টেম্পলস অব বেঙ্গল’ বই হিসেবে দেখে যেতে পারেননি ডেভিড। আক্ষেপ ছিল দ্রুততর যানবাহনের অভাবে, সীমিত সময়ের মধ্যে তিনি উত্তরকালের জন্য সর্বাধিক সংখ্যক মন্দিরের বিশদ তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন নি,এই তথ্য জানা যায় ডেভিডের ঘনিষ্ঠ অমিয়কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখায়। সেদিন সত্যজিৎ রায়ের সাথে দেখা করতে  ডেডিড এসেছিলেন তাদের বাড়িতে। গুরুত্বপূর্ণ একটি বই লেখা শেষ করে ফেলেছেন( লেট মিডিভ্যাল টেম্পলস অব বেঙ্গল)। যেদিন মানিকবাবুর সাথে ডেভিড দেখা করতে আসেন সেদিন তাঁর গায়ে অল্প জ্বর। বলেছিলেন শরীরটা ভাল নেই। সত্যজিৎ রায় একটু বকুনি দিয়ে বললেন বেশ ভাল জ্বর এসেছে,আমি তো কাল আবার চলে যাচ্ছি। তাড়াতাড়ি বাড়ি গিয়ে শুয়ে পড়ো। এরপর আর গ্ৰামে গ্ৰামে ঘুরে বেড়িয়ো না। অনেক হয়েছে। মানিকবাবুর গাড়ি ডেভিড কে পৌঁছে দিল ইনিস্টিটিউট অফ কালচারে। ১২ জানুয়ারি সত্যজিৎ জায়া বিজয়া রায় কে প্রফেসর পি লালের স্ত্রী ফোন করে জানালেন " মঙ্কুদি ডেভিড মারা গেছে"।  ডেভিড ম্যাক্কাচিন ছিলেন মানিকবাবুর অন্তরঙ্গ বন্ধু । মানিক বাবুর ছবি বাংলা থেকে ইংরেজি সাবটাইটেল করতে সাহায্য করতেন।


১৯৭২ সালের ১২ই জানুয়ারি হঠাৎই তিনি গেলেন না ফেরার দেশে। প্রিয় শহর কলকাতার বুকে ভবানীপুর সিমেট্রিতে তাঁকে চির নিদ্রায় সমাহিত করা হয়।

 সত্যজিৎ রায় শান্তিনিকেতন থেকে ফিরলেন, লোয়ার সার্কুলার রোডের জোড়া গীর্জায় প্রার্থনা হল। ভবানীপুর সিমেট্রিতে ডেভিড ম্যাক্কাচিন কে সমাহিত করা হয়। টেরাকাটা সাহেবের প্রয়াণের পর ৫০-এর বেশি বছর হয়ে গেল। আমরা কতজন মনে রেখেছি ভারতপ্রেমী টেরাকোটা সাহেবকে! আজ ডেভিড ম্যাক্কাচিন। তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।।

© ধ্রুবতারাদের খোঁজে 


#DavidMcCutchion

#DeathAnniversary 

#Researcher

#BritishMan

#BengaliTemple

#SatyajitRay 

#dhrubotaraderkhonje 


পুস্তক ঋণ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার, আমাদের কথা বিজয়া রায়, আনন্দবাজার অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদন বাংলার মন্দিরে এক ইংরেজ গবেষক,

দীপঙ্কর ভট্টাচার্য


রবি ঠাকুরের রসবোধ 

 ॥ রবি ঠাকুরের রসবোধ ॥


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন ছিল নানান ঘটনায় ভরা। তাঁর রসবোধ আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা এমন সব মুহূর্ত তৈরি করেছে, যেগুলো যুগের পর যুগ ধরে আমাদের মুগ্ধ করে রেখেছে।


একদিন সন্ধ্যাবেলা রবীন্দ্রনাথ ‘হে মাধবী দ্বিধা কেন’ গানটি শেখাচ্ছিলেন। এমন সময় ভৃত্য বনমালী আইসক্রিমের প্লেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে, আসবে কি আসবে না বুঝতে পারছিল না। রবীন্দ্রনাথ এক নজর দেখে গেয়ে উঠলেন, ‘হে মাধবী দ্বিধা কেন?’ উপস্থিত সবাই হেসে উঠলেন, আর বনমালী তখন লজ্জায় ভীষণ অপ্রস্তুত।


শান্তিনিকেতনের মশার অত্যাচারের কথা তো প্রায় সকলেরই জানা। কবি নিজেকে রক্ষা করতে হাতে-পায়ে তেল মাখতেন। একদিন এক অতিথি এই দৃশ্য দেখে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা কি বাতের জন্য?’ কবি সঙ্গে সঙ্গেই হেসে উত্তর দিলেন, ‘ভেব না যে আমি বুড়ো মানুষ, বাত হয়েছে বলে পায়ে তেল মালিশ করছি। এ মশার ভয়ে। শান্তিনিকেতনের মশারা ভারী নম্র। তারা সারাক্ষণই পদসেবা করে।’


একবার কবি দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বললেন, ‘বুঝলি দিনু, সেদিন অমুক লোকটা আমার কাছ থেকে দশ টাকা ধার নিয়ে গদগদ কণ্ঠে বললেন, "আপনার কাছে আমি চিরঋণী হয়ে রইলুম।"’ দিনেন্দ্রনাথ আতকে উঠে বললেন, ‘তুমি দিলে ওকে টাকাটা? ও তো একটা জোচ্চোর!’

কবি শান্তভাবে বললেন, ‘তা মানি, কিন্তু লোকটার শত দোষ থাকলেও একটা গুণ ওর ছিল। লোকটা সত্যভাষী। কথা রেখেছিল, চিরঋণী হয়েই রইল।’


মংপুতে একদিন মৈত্রেয়ী দেবী বেশ উৎসাহ নিয়ে কবিকে বললেন, ‘এটা একটু খাবেন? রোজ রোজ আপনাকে কি নিরামিষ খাওয়াব ভেবে পাই না।’

কবি জানতে চাইলেন, ‘ও পদার্থটা কি?’

মৈত্রেয়ী দেবী উত্তর দিলেন, ‘ব্রেইন।’

রবীন্দ্রনাথ সঙ্গে সঙ্গেই বললেন, ‘এই দেখ কাণ্ড, এ তো প্রায় অপমানের শামিল। কি করে ধরে নিলে যে, ওই পদার্থটার আমার প্রয়োজন আছে? আজকাল কি আর আমি ভালো লিখতে পারছিনে?’


একবার শান্তিনিকেতনে গানের আসর বসল। সুনয়নী তাঁর রবিকাকাকে নাতনি শিবানী ও নাতজামাই দেখাতে নিয়ে এসেছিলেন। শিবানী গান গাইলেন, আর কবি তাঁর গান শুনে খুশি হয়ে গেলেন। পরদিন শিবানী সাহস করে কবিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা দাদাভাই, আপনি কখনও প্রেমে পড়েছেন?’

রবীন্দ্রনাথ মৃদু হেসে বললেন, ‘হ্যাঁ গো নাতনি, তবে তা শুধু পড়াই হয়েছিল, ওঠা আর হয়ে ওঠেনি।’


শান্তিনিকেতনের অর্থসংকটে সবাই চিন্তিত হয়ে নানা প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। হঠাৎ রবীন্দ্রনাথ বললেন, ‘তোমরা এত ভাবছ কেন? টাকা পাওয়ার একটা অতি সহজ উপায় আছে।’

সবাই কৌতূহল নিয়ে জানতে চাইলেন, ‘কী সেই উপায়?’

রবীন্দ্রনাথ রানী চন্দকে আড়চোখে একবার দেখে নিয়ে বললেন, ‘মাত্র সোয়া পাঁচ আনা খরচ।’

আসলে রানী চন্দ একবার মঙ্গলচণ্ডীর ব্রতের কথা বলেছিলেন, যার খরচ মাত্র সোয়া পাঁচ আনা। সেই ঘটনা থেকে কবি মজা করে কথাটা বলেছিলেন।

এক চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রীকে রবি ঠাকুরের চিঠি!

 এক চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রীকে রবি ঠাকুরের চিঠি!

পিরোজপুরের মাদ্রাসাছাত্রী আমিনাকে কবি রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদ চিঠিতে। যেই চিঠিতে বোঝা যায় সেই সময় রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয়তা সকল প্রকার বাঙালীর কাছে কত বেশি ছিলো।  সময়টা ১৯৪০ এর দিকে। 


শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন মহাফেজখানায় রবীন্দ্রনাথের কয়েক হাজার চিঠির সচিবকৃত অবিকল নকল সংরক্ষিত আছে। কবির হাতে লেখা মূল চিঠি প্রাপকের কাছে ডাকে পাঠানোর আগে তাঁর সচিব চিঠির অনুলিপি করে রাখতেন। তাঁকে লেখা ভক্ত–অনুরাগী ও অন্যদের মূল চিঠি কবি সযত্নে রক্ষা করতেন।


এমনই একটি চিঠি রবীন্দ্রভবনের নথিতে পাওয়া যায় দুই দশক আগে। চিঠিটি জনৈক কিশোরী আমিনা মোজাহারের লেখা। তারিখ ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৭ বঙ্গাব্দ। তৎকালের অবিভক্ত বাকেরগঞ্জ জেলার পিরোজপুর মহাকুমার স্বরূপকাঠি থানার আকলম গ্রাম থেকে পাঠানো কয়েক লাইনের সম্বোধনহীন ছোট চিঠি। নিচে লেখিকার ঠিকানা: চতুর্থ শ্রেণি, আকলম আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসা, স্বরূপকাঠি, বাকেরগঞ্জ।


কাজী আমিনা মোজাহার কাজী মোজহার উদ্দীন আহমদ ও হাকিমুন্নেছার কন্যা। স্বরূপকাঠির আকলম আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসার ওই তালেবে এলেম ভবিষ্যতে বরিশাল সৈয়দানুন্নেসা স্কুল থেকে প্রবেশিকা (১৯৪৭), ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে আইএ (১৯৪৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স এবং এমএ (১৯৫৮) পাস করেন। হলি ক্রস কলেজ ও ময়মনসিংহ মুমিনুন্নেসা কলেজে শিক্ষকতার পর পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান এডুকেশন সার্ভিসে যোগ দিয়ে চট্টগ্রাম কলেজ, তিতুমীর কলেজ ও ঢাকা কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি সওগাতসহ অন্যান্য সাময়িকপত্রে রচনা প্রকাশ করেন এবং ভাষা ও বিরচন নামে পাঠ্যবই লেখেন। পরিণত বয়সে আমিনা চারণ করেছেন তাঁর রবীন্দ্রস্মৃতি। পাঠ্যবইয়ে আর চয়নিকায় কবির কবিতার সঙ্গে প্রথম পরিচয় তাঁর। প্রবেশিকা পাঠ্য বাংলা সংকলনে ‘শা–জাহান’ কবিতার আবৃত্তি শুনেছিলেন। পাঠ্যবইয়ে শামসুন্নাহার মাহমুদ ও আনোয়ারা [বাহার] চৌধুরীর লেখা রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে প্রবন্ধ পড়েছেন। 


তাঁর নিজের কথায়:

‘আমি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে একটা মধুর আত্মীয়তা অনুভব করতে লাগলাম। আর এই স্পর্ধাটুকুই তাঁকে চিঠি লিখতে উদ্বুদ্ধ করলো আমাকে।...একদিন অতি সঙ্গোপনে বাড়ির সবাইকে লুকিয়ে একখানা চিঠি লিখে ফেললাম।’


এক গরমের দুপুরে পোস্টমাস্টার আমিনার বাবাকে ডেকে পাঠালেন। মোজহার উদ্দীন রবীন্দ্রনাথের প্রতীক [মনোগ্রাম] আঁকা চিঠিটি মেয়েকে দিলেন।

চিঠি পাওয়ার পর বালিকার প্রতিক্রিয়া:

‘আমি পড়তে পারলাম না। আমার সমস্ত হৃদয়মন বারবার শিহরিত হতে লাগল। আমি বিছানায় শুয়ে কাঁদলাম। বাবাও জোহরের নামাজ পড়ে জায়নামাজে বসে মোনাজাত করতে করতে কাঁদলেন।’ (উদ্ধৃত, কাজী সাইফুদ্দীন ওমর, ‘স্বরূপকাঠির প্রত্যন্ত পল্লীগ্রামে রবীন্দ্রনাথের চিঠি’)।


আমিনার যে সম্বোধনহীন চিঠির আশীর্বাদী উত্তর দিয়েছিলেন কবি, সেই চিঠির পাঠ:

আকলম

১৩ই জ্যৈষ্ঠ

আপনি আমাকে চিনেন না। কিন্তু আমি আপনাকে চিনি। বাংলা বইয়ের মধ্যে আপনাকে দেখেছিও। আপনি আমাদের ছোট ছেলেমেয়েদের খুব ভালবাসেন। আবার আমরা চিঠি লিখলে উত্তরও নাকি দেন। তাই আমি চিঠি লেখছি (ক.) উত্তর দিবেন কিন্তু। আচ্ছা আপনাকে কি বলে ডাকব?

কুমারী আমিনা মোজাহার

চতুর্থ শ্রেণী

আকলম আহমদিয়া জুনিয়র মাদ্রাসা

পো. স্বরূপকাঠি, বাকেরগঞ্জ।


কবির ছোট আশীর্বাদী চিঠির বয়ান:

GOURIPUR LODGE

KALIMPONG

কল্যাণীয়াসু

তোমার চিঠিখানি পেয়ে খুশি হলুম। আমার আশীর্বাদ গ্রহণ কর। ইতি ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৩৪৭

শুভার্থী

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


সূএ: প্রথম আলো, ভূইয়া ইকবাল


ছবিতে সেই আমিনা মোজাফফর যাকে রবীন্দ্রনাথ পত্র পাঠান।


সৌজন্যে: বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র♥️♥️♥️♥️


ঠিক আছে। না হয় ক্যানসার-ই হয়েছে

 ঠিক আছে। না হয় ক্যানসার-ই হয়েছে। ক্যানসার তো এখন অলক্ষ্মীর ঝাঁপির মতো ঘরে ঘরে গুছিয়ে বসেছে। আমিই বা বাদ যাই কেন? আমার ছোট্ট ভাইঝিটা গিনুমা, ছোটো বোনটা মুন্নু, ছোটো ভাইটা অভীক, ছোটো দেওরটা শিব, প্রিয় দাদা অশোকদা, ছাত্রবেলার বন্ধু শ্যামল, কবিবেলার বন্ধু সুনীল আর সন্তোষকুমার ঘোষ, আরও কত আপনজনকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। হঠাৎ অশীতিপর নবনীতার জন্য এত শোক কীসের? তার তো যাওয়ার সময় এমনিতেই হয়েছে। কিন্তু বন্ধুবান্ধবের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, কচি বাচ্চার মহাপ্রয়াণ হতে চলেছে। তার জীবন যেন ভরেইনি। আরে! আমি তো এখনও মরিনি, মরব কি না, তার ঠিকও নেই। এখন থেকে এত শোক কীসের?

যেসব মানুষ আমাকে একবারও চোখে দ্যাখেনি, দূর দূর গ্রাম থেকে ছুটে আসতে চাইছে, একবার শেষ দ্যাখা দেখতে— আরে, এটাই শেষ দ্যাখা— তোমায় কে বলল? এরপর তো আমি ইলেকশনে দাঁড়াব। তারপর হইহই পড়ে যাবে। শেষ দ্যাখাটা তখনকার জন্য তোলা থাক। এতশত জরুরি কাজ ফেলে রেখে আমি কি না শেষ দর্শন দেব ?

এই যে এত লম্বা জীবনটা কাটালুম, তার একটা যথাযথ সমাপন তো দরকার। পাঁজিপুঁথি দেখে, শুভ দিন, শুভ লগ্ন স্থির করে, স্বজনবান্ধবকে নেমন্তন্ন খাইয়ে তবে তো শুভযাত্রা।

কিন্তু জীবনে সবকিছু কি পরিকল্পনামাফিক করা যায়? আমার এক কবিরাজ দাদা একটি ভেষজ উদ্যান কিনতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে ঝড়ের মধ্যে ওই বাগানেরই একটি গাছ ভেঙে ওঁর গাড়িতে পড়ার ফলে দাদার মৃত্যু হয়। জীবন যে কখন ফুরাবে, তা কি আমরা জানি? বেচারা ক্যানসারকে এত দোষ দিয়ে কী হবে?

তাই এই জানা-অজানা, চেনা-অচেনা আত্মীয়বন্ধুর হাহাকারে, শেষ দর্শনের ধাক্কায়, শেষ প্রণামের অবেদনে বেজায় ঘাবড়ে গেলুম। এ কী রে বাবা! এরা তো ভুল বিসর্জনের লাইনে লেগে গিয়েছে!

আর তাছাড়া, আমার কি তালা ভাঙা দরজার অভাব আছে? আমার তো হৃৎকমল থেকে শ্বাসকমল— সব দরজাই আধখোলা। তো এই কর্কটকমলের এত মাতব্বরি কীসের? লাঠিসোঁটা একটু বেশি আছে বলে ?

দ্যাখো বাপু, এই বিশাল পৃথিবীতে কতরকম বড়ো বড়ো লড়াই-যুদ্ধ চলছে, সেখানে তোমার ওই লাঠিসোঁটায় ভয় পাব ভেবেছ? ওসব তো তুশ্চু! 'আই ডোন্ট কেয়ার্ কানাকড়ি— জানিস্, আমি স্যান্ডো করি?'

******************************

নবনীতা দেবসেন-এর এই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৯ রোববার পত্রিকায়।

আজ এই মহান সাহিত্যিকের জন্ম দিবস | আমাদের প্রণাম | 

অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন নবনীতা দেবসেন-এর লেখা বই নবনীতা । বইটি ১৯৯৯ সালে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ।

আমাজন লিংক : https://amzn.to/3QowC5T

অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন নবনীতা দেবসেন-এর লেখা নানা রঙের নবনীতা । এই বই সংগ্রহে রাখার মত বই ।

আমাজন লিংক : https://amzn.to/49pqZwH

সব পুরুষ সমান নয়”….. কেউ রেখে যায়, কেউ নিয়ে যায়….!! কেউ রাখতে আসে, কেউ ফেরাতে আসে….!!

 ⭕  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি কলকাতার সোনাগাছি বস্তিতে এক বেশ্যা মহিলার কাছে এসেছেন। ব্যক্তিটি জিঙ্গাসা করলেন নাম কি তোমার ? 

মহিলাটি : কেন নাম দিয়ে ধুয়ে খাবেন,, স্বপ্না আমার নাম। 

ব্যক্তিটি : বয়স কত ?

স্বপ্না : কেন বাবু, বয়স শুনলে ২০০ আরো বেশি দেবেন ?

ব্যক্তিটি : এমন ভাবে কথা বলছো কেন ?

স্বপ্না : ভালো ভাবে কথা বলার জন্য তো এক্সট্রা পয়সা দেননি বাবু !

ব্যক্তি : তা বলে এইভাবে কথা বলার জন্যও তো কম পয়সা নাওনি ?

স্বপ্না : বাবু, পয়সা তো শুধু শরীরের জন্যই, কেনোই বা সময় নষ্ট করছেন, শুরু করুন !

ব্যক্তি : সিগারেট খেতে পারি একটা ?

স্বপ্না : খান না, আমাকে জিজ্ঞেস করছেন কেন !

ব্যক্তি : না মানে, যদি সমস্যা থাকে .…

স্বপ্না : বাব্বা, পারি না গো পারিনা, ***তে এসে এতো ন্যাকামো আসে কিভাবে আপনার !

ব্যক্তি : এমন কেন বলছো ? সমস্যা তো থাকতেই পারে অনেকের সিগারেটে !

স্বপ্না : বাবু, সমস্যা তো প্রাণীর থাকে, আমরা তো জড়ো পদার্থ।

 ব্যক্তি : একটু বেশিই বাজে বকছো, সমস্যা আছে কিনা তাই জিজ্ঞেস করলাম !

স্বপ্না : তবে রে, অনেকক্ষন ধরে বড্ডো ***চ্ছেন, এবার নিজের সমস্যা দূর করে বিদায় হন তো, শুরু করুন !

ব্যক্তি : হ্যাঁ ।

স্বপ্না : খুলবো ? না নিজেই খুলবেন ?

ব্যক্তি : হ্যাঁ ..না…হ্যাঁ আমিই..না…

স্বপ্না : ওহ বুঝেছি, সোনাগাছিতে প্রথমবার ?

ব্যক্তিটি : হ্যাঁ ।

স্বপ্না : কেনো ? গার্লফ্রেন্ড দেয়নি ?

ব্যক্তি : না না, গার্লফ্রেন্ড টালফ্রেন্ড নেই ।

স্বপ্না : এমন গা জ্বালানো পাবলিক হলে গার্লফ্রেন্ড হবেই বা কি করে !

ব্যক্তি : না না, আমি বিবাহিত !!

স্বপ্না : তো ? বউ কি রাতে ডিস্কো গেছে ? আর আপনি এলেন সোনাগাছি ? সত্যিই মাইরি, আপনারা বড়লোকরাই পারেন এমন নাটক ***তে !

ব্যক্তি : না না, আমি ওই জন্য আসিনি, বউ কে খুঁজতে এসেছি !

স্বপ্না : মানে ?

ব্যক্তি : হ্যাঁ, জানেন.... রাতে শপিং করে ফিরছিলাম দুজনেই, আমি আর আমার স্ত্রী উত্তরা , হঠাৎ ৪ জন এলো, আমাদের দুজনের মুখে রুমাল চেপে ধরলো, জ্ঞান ফিরলো যখন, পরদিন সকালে আমি স্থানীয় একটা হসপিটালে বেডে শুয়ে আছি , উত্তরা নেই, অনেক খুঁজেছি জানেন, কোথাও পাইনি

স্বপ্না : তা, হটাৎ আজ রাতে সোনাগাছিতে একরাতের জন্য বউ খুঁজতে এলেন বুঝি ?

ব্যক্তি : নাহঃ, বলছি, প্লিজ পুরোটা শুনুন, ওই রাতের ঘটনার ২৬ দিনের মাথায় মানে গতকাল স্ত্রীর ফোন আসে, শুধু বললো সোনাগাছিতে এসে আমাকে নিয়ে যেও, নাম আমার নিশা…. আমি কিছু বলার আগেই ফোন টা কেটে দিলো উত্তরা। বুঝতে পেরেছিলাম হয়তো ৫ সেকেন্ডের সুযোগটাই পেয়েছিলো আমাকে জানানোর জন্য। তারপর কাল থেকে যতবার ফোন করেছি ওই নম্বরে, ফোন লাগে নি আর.… তাই আমি খুঁজতে এসেছি উত্তরাকে !! জানি এতো বড় সোনাগাছিতে আমার স্ত্রীকে খোঁজা সম্ভব নয়, শুধু চাই তোমার মতো একজন বন্ধু যে আমার স্ত্রীকে খুঁজে বের করে দেবে এই নরক থেকে। প্লিজ তুমি খুঁজে দাও উত্তরাকে, যা লাগবে আমি তোমাকে দেবো !!

স্বপ্না : আমার কি লাগবে সে দাবি না হয় আপনাকে পরেই বলবো, তবে পারবেন নিজের স্ত্রীকে এখান থেকে ফিরিয়ে নিতে সব কিছু জেনেও ?

ব্যক্তি : কেনো পারবো না ? আমি তো বেশ্যা নিশাকে কিনতে আসিনি, স্ত্রী উত্তরা কে ফেরাতে এসেছি! তুমি তো কত দালাল, কত মাসি কে চেনো…. প্লিজ ফিরিয়ে দাও আমার উত্তরা কে !!

স্বপ্না : আচ্ছা, আপনার নম্বর টা দিয়ে যান, আমি আপনাকে জানাবো কথা দিলাম যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।

(৩ দিন পর ব্যক্তিটিকে ফোন করে স্বপ্না)

স্বপ্না : শুনছেন ? নিশার খবর পেয়েছি.... আমার বিল্ডিঙের ডান দিকের ৩ নং বিল্ডিয়েই নিশা থাকে, এখানে নতুন তো তাই হাতে ফোন পায়না, আর হ্যাঁ, হয়তো কোনো বাবুর ফোন থেকেই আপনাকে সেদিন ৫ সেকেন্ডের জন্য ফোন করতে পেরেছিলো, নিয়ে যান আপনার নিশা কে !!

(সাথে পুলিশ নিয়ে গিয়েই ব্যক্তিটি উদ্ধার করলো নিশা ওরফে তার স্ত্রী উত্তরা কে এবং ফেরার পথে দেখা করতে যান ওই স্বপ্না নামক বেশ্যার সাথে)


ব্যক্তি : কি বলে ধন্যবাদ দেবো তোমায়, নিজেও জানিনা, এবার বলো তোমার কত টাকা লাগবে ?

স্বপ্না : টাকা লাগবে না, টাকার থেকেও অনেক বেশি কিছু আপনি আমাকে দিয়ে গেলেন বাবু !!

ব্যক্তি : মানে ? কি বলতে চাইছো ? কিছুই বুঝলাম না.…

স্বপ্না : জানেন বাবু ? আজ থেকে ৩ বছর আগে গ্রামেরই একটা ছেলে কে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম, খুব ভালোবাসতাম !! বাবা মা মানে নি তাই পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম…. জানেন বাবু ? বিয়ের ১৯ দিনের মাথায় আমাকে এই নরকে বিক্রি করে দিয়ে যায় ১৩ হাজার টাকায়..!! অনেকবার এখান থেকে পালিয়ে যাবার চান্স পেয়েছিলাম, কিন্তু কোথায় যাবো বলুন, বাবা-মার সামনে কোন মুখে দাঁড়াবো, রাস্তায় নামলেও তো সেই আমাকে ছিঁড়েই খাবে সমাজের বাবুরা রাতের অন্ধকারে , আর দিনের বেলায় খেপি সাজিয়ে রাখবে রেল স্টেশনের চাঁতালে..!! তার থেকে বরং এখানে দিব্যি খেতে বাঁচতে তো পারছি!! বিশ্বাস করুন বাবু, সেদিন থেকে কোনো পুরুষ কে মন থেকে সহ্য করতে পারি না, কোনো পুরুষ কে বিশ্বাস করতেও পারিনা, শুধু এটাই মনে হতো সব পুরুষ সমান…. ৩ দিন আগে আপনি আমার সেই ভুল ভাঙলেন। নতুন করে বিশ্বাস করতে শিখলাম, একটা পুরুষ যেমন তার স্ত্রীকে বিক্রি করতেও পারে সোনাগাছিতে, তেমন কোনো পুরুষ তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতেও পারে সোনাগাছি থেকে..!! গতর খাটিয়ে পয়সা তো ৩ বছরে অনেক রোজগার করেছি বাবু, তবে ৩ বছরে যে ভুল টা রোজ ভেবে এসেছি, সেই ভুল টা আপনি ৫ মিনিটেই ভেঙে দিলেন.. যেটা পয়সার থেকেও অনেক দামি..!! যান বাবু, ভালো থাকবেন আপনার উত্তরা কে নিয়ে..!! আর অনেক ধন্যবাদ এই সত্যিটা আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে যাবার জন্য “সব পুরুষ সমান নয়”….. কেউ রেখে যায়, কেউ নিয়ে যায়….!! কেউ রাখতে আসে, কেউ ফেরাতে আসে….!!


সংগৃহীত

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ১৪-০১-২০২৫ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ১৪-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


দেশের জনগণ অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধ বলে মেনে নিয়েছে, এ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে না - রিট খারিজ করে আদালতের পর্যবেক্ষণ।


জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ যাচাইয়ে সিআইডিকে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ।


বাংলাদেশি শ্রমিকদের মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা দিতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার।


লন্ডনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের আরো উন্নতি - চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণে আজ মেডিকেল বোর্ড।


ঢাকার বাতাসের মান অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর, সতর্কতা পরিবেশ অধিদপ্তরের - ঘরের বাইরে মাস্ক পরার পরামর্শ।


গাজায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি বিনিময় চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে।


বিপিএল ক্রিকেটে চিটাগং কিংস ও রংপুর রাইডার্স নিজ নিজ খেলায় জয়ী।

কলকাতার ‘রেডিওম্যান’ নামে পরিচিত অমিতরঞ্জন কর্মকার, যাঁকে কেউ কেউ ‘রেডিও কাকু’ বলেও ডাকেন, 

 কলকাতার ‘রেডিওম্যান’ নামে পরিচিত অমিতরঞ্জন কর্মকার, যাঁকে কেউ কেউ ‘রেডিও কাকু’ বলেও ডাকেন, দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে কুমোরটুলিতে রেডিও সারানোর কাজ করে আসছেন। ৬৬ বছর বয়সী এই কারিগর বিলুপ্তপ্রায় রেডিও যন্ত্রটিকে অসীম যত্ন ও মমতায় সংরক্ষণ করে চলেছেন। ১৯৬৭ সালে তাঁর বাবা শান্তিরঞ্জন কর্মকার বনমালি সরকার স্ট্রিটে রেডিও মেরামতের দোকানটি শুরু করেছিলেন, যা এখনও একই জায়গায় টিকে আছে। 


১৯৭৬ সালে অমিতরঞ্জন পাকাপাকিভাবে এই পেশায় যুক্ত হন। আজ তাঁর সংগ্রহে ১৫০টিরও বেশি দুর্লভ রেডিও রয়েছে, যার মধ্যে বুশ, ফিলিপস, মারফি-র মতো ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ডের রেডিওও রয়েছে। প্রযুক্তির উন্নতির কারণে রেডিওর জনপ্রিয়তা কমে গেলেও, মহালয়ার সময় বহু মানুষ আবার রেডিওর নস্টালজিয়ায় ফিরে আসেন।


স্মার্টফোন, টেলিভিশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির দাপটে বেশিরভাগ রেডিওর দোকান চিরতরে বন্ধ হয়ে গেলেও, কুমোরটুলির এই ছোট্ট দোকানে এখনও রেডিওর অতীত গরিমা বহন করে চলেছেন ‘রেডিওম্যান’ অমিতরঞ্জন কর্মকার।

Alapan Explorar

পোস্ট ভালো লাগলে ফলো ও শেয়ার করুন ।

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...