এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫

ছি: ছি: ননী -পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ ও মূল্যায়ন!,,,,গানটির ছত্রে ছত্রে বিষাদ। বিশ্বাস ভঙ্গের ক্রোধ ও বেদনা অথচ আমরা কত সহজে!

 ।। ছি: ছি: ননী -পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ ও মূল্যায়ন!।। 


ধন কে দেখলু তুই ননী সিনা মনকে চিনলু নাই। 

সুনাকে চিনলু বানাকে চিনলু মনুষ চিনলু নাই।

ধন নাই বলি মোর পাখে ননী তার কাছে উঠি গলু।

ধন আছে সিনা মন নাই তাকে তুই জানি না পারালু।গোটে দিন মিশা যগিদেলু নাহি কেড়ে কথা করি দেলু।

মুই গাঁ যা'ই করি আসলা বেলে কেন্তা পাছরি দেলু।

রে ছি ছি ছি ননী ছি ছি ছি।


***

সারেতে দিনরা সান হেইবা কাজে ফজল নেই রেলু

বানজারিনী মা'রা পাখে যাই নিয়ম করি রেলু 

গালাগালা যাক তোর হেবি বলি কেড়েকথা কহি রেলু 

মুই গাঁ যা'ই করি আসলা বেলে কেন্তা পাছরি দেলু।

রে ছি ছি ছি ননী ছি ছি ছি।

***


তোর কথা ধরি ঋণ বাড়ি ধারি সবোকথা করিথিলি,

মালি মুদি গুণ পামেদি পাজহাল সবকিছু দেই থিলি।

তাতে শ্রদ্ধ বলি রঙপাতা কানি, 

সঙ দেই রেলিঙ ঘরে, 

ভোজভাত লাগি, ছেলি মেন্ধা কিনি, রাখি দিলি আমার ঘরে,

নাশাই দেলু ননী সবই আশা মোরা,

ক্যা দুঃখ তুই দেলু,

মুই গাঁ যা'ই করি আসলা বেলে কেন্তা পাছরি দেলু।

রে ছি ছি ছি ননী ছি ছি ছি।


▪️▪️গানটি মূলত: উড়িয়ার একটি উপভাষায় রচিত, কোরাপুট- সম্বল পুরের আঞ্চলিক ভাষা। ▪️▪️

______________________________________________

(বাংলা) 


সম্পত্তি দেখলে মেয়ে কিন্তু মনটাকে দেখলে না তাকে চিনলে না।

সোনাদানাটাই  চিনলে কেবল, মানুষটাকে তার ভালোবাসাটা চিনলে না।

আমার কাছে ধন নেই বলে, আজ তার কাছে চলে যেতে পারলি!

ধনসম্পদ হয়তো আছে কিন্তু হৃদয় নেই তার;  তুমি বুঝতেও পারলে না!

একটা গোটা দিনও অপেক্ষা করতে পারলি না,এতো বড়ো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললি!

অথচ আমি যখন আমার গ্রাম থেকে ফিরলাম, তুমি কী করে সব ভুলে গেলে?

ওরে,  ছি ছি ছিরে  মেয়ে ছি ছি ছি, ধিক তোমারে।

***


সারাদিন সামর্থ্যের মধ্যে ছোট ছোট আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করতাম।

আমি তোমার মা-কে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলাম, ভালো রাখব।

অনেক বার বলেছি, আমার কাছে কেমন ছিলে তুমি

অথচ আমি যখন আমার গ্রাম থেকে ফিরলাম, তুমি কী করে সব ভুলে গেলে?

এটা লজ্জারে মেয়ে, ছিঃ ছিঃ 


***

তোমার জন্য এত ঋণ, বাড়ি অবধি বাঁধা রাখলাম।শুধু তোমায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে... 

তুমি যা চেয়েছ সবই করেছি।

তোমাকে সব রকম উপহার কিনে দিলাম।

রঙিন পাতায় ভালোবাসার স্মৃতি বুনেদিলাম। 

 ঘরেতে আমাদের বিয়ের ভোজ অনুষ্ঠানের জন্য একটি ছাগলও কিনে রাখলাম। 

অথচ এক লহমায় তুমি আমার সব আশা নষ্ট করে দিলে!

ননী, কেন তুমি আমাকে এই ব্যথা দিলে? কী দোষ ছিল আমার?  দারিদ্র?

আমি গ্রাম থেকে ফিরে দেখলাম, তুমি সব ভুলে গেছ?

তোকে ধিক্কার মেয়ে ধিক্কার.... 

তমোঘ্ন নস্কর 


    ~ গানটির ছত্রে ছত্রে বিষাদ। বিশ্বাস ভঙ্গের ক্রোধ ও বেদনা অথচ আমরা কত সহজে! 

লেখক, শিল্পী শুধু অর্থেই খুশি হন না। তিনি খুশি হন যথার্থ মূল্যায়নে। এ আমার তাঁর প্রতি ক্ষমা চাওয়া।🙏

আম গাছে মুকুল আসছেনা?শুধু নতুন পাতা বের হচ্ছে। নো টেনশন, জেনে নিন সমাধা

 আম গাছে মুকুল আসছেনা?শুধু নতুন পাতা বের হচ্ছে। নো টেনশন, জেনে নিন সমাধান । 🥭


 জানুয়ারি শেষের দিকে।ইতিমধ্যেই সকলের আম গাছগুলিতে মুকুল এসে গেছে কিন্তু আপনার বা অনেকের বাগানের বাকি গাছগুলোতে মুকুল আসবে আসবে করছে। তবে এখনো যদি আপনার আম গাছে  মুকুল না এসে থাকে, তাহলে টেনশনের কোন কারন নেই, ছোট্ট একটা পদক্ষেপ নিতে পারেন ইনশাআল্লাহ ভালো কাজে আসবে । 

 জাতগত পার্থক্যের কারনে প্রত্যেকটা গাছে মুকুল আসার ধরন ও কিন্তু একটু আলাদা হয়ে থাকে । যেমন –


একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন কিছু আম গাছের পত্র মুকুলের কোল থেকে মুকুলটা হয় , যার কোন পাতা হয় না, পুরোটাই মুকুল নিয়ে বের হয়।

কিছু গাছে আবার আগে পাতা বের হয় , পাতা বের হওয়ার পর মুকুল আসতে শুরু করে।

কিছু কিছু গাছের ক্ষেত্রে আবার প্রচুর নতুন পাতা বের হয় , সাথে প্রত্যেকটা পাতার কোল থেকে মুকুল আসতে দেখা যায় ৷ মাঝে মাঝে কিছু গাছে মুকুলের মধ্যে খুব ছোট ছোট পাতা বের হয়। মুকুল যত বড় হয় ততই সেই পাতাগুলো শুকিয়ে ঝরে পড়ে যায় ।


সুতরাং যাদের গাছে এখন নতুন পাতা বের হচ্ছে, তাদের গাছ এখন গ্রোথ নিচ্ছে। নতুন গ্রোথ নিচ্ছে মানেই যে সেই গাছে মুকুল আসবে না তা কিন্তু নয়। আবার এই নয় যে, নতুন পাতা বেরোলে সব গাছে মুকুল আসবে। সেটা নির্ভর করে গাছের বয়স এবং গাছের গঠনের উপর ভিত্তি করে ।


তবে যাদের আমগাছ গুলো ফল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিণত , তারপর ও নতুন পাতা বের হচ্ছে মুকুল না এসে , তাদেরও চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, মাঝে মাঝে আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে গাছে মুকুলের পরিবর্তে নতুন পাতা আসে এবং মুকুল ও আগে পরে বের হয় । আপনার মুকুল না আসা আম গাছের বয়স যদি ৩ বছরের বেশি হয়ে থাকে সাথে গাছও যদি যথেষ্ট হেলদি থেকে থাকে , তাহলে সেই গাছে এবার ফল নেওয়া জন্য নিচের দেখানো নিয়মে চেষ্টা করতে পারেন সামান্য কিছু পরিচর্যার মাধ্যমে ।


পরিচর্যা গুলো হলো :


▪️প্রথমেই মনে রাখতে হবে সম্পূর্ণ গাছেই যদি নতুন ডাল বের হয়ে গিয়ে থাকলে, তাহলে গাছকে ফোর্স না করে আগামী বছরের অপেক্ষায় থাকলে ভালো হবে। 


▪️যে গাছ গুলোর মধ্যে কিছু কিছু ডালে নতুন পাতা সবে বের হতে শুরু করেছে এবং মুকুল এর দেখা নেই, সেই গাছের নতুন ডালের গোড়া থেকে ভাল করে কেটে দিন। কাটা জায়গায় ছত্রাক নাশক স্প্রে করে দিন ।


▪️বিগত ১৫ দিনের মধ্যে যদি কোনো PGR( plant growth regulator) স্প্রে না করে থাকেন, তাহলে এখন মিরাকুলান বা ফ্লোরা ১-২ বার স্প্রে করে দিন। মিরাকুলান হলে প্রতি লিটার জলে দুই এম এল এবং ফ্লোরা হলে প্রতি লিটার জলে  হাফ এম এল । তবে দুটোর যেকোনো একটি দু’বার ব্যাবহার করা যাবে না, বরং দুটো দুইবার পাল্টে পাল্টে স্প্রে করুন।


▪️ PGR স্প্রে করার দুইদিন পর হাফ চা চামচ পটাশিয়াম সালফেট এবং দুই গ্রাম বোরন মিশিয়ে ভালো করে স্প্রে করে দিতে হবে গোটা গাছে। সেইসঙ্গে এই মিশ্রণ মাটিতেও প্রয়োগ করতে হবে।


PGR টা আবার কি? 


 Pgr হল (Plant. Growth Regulator) অর্থাৎ সোজা বাংলায় বলতে গেলে গাছের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক। সহজ ভাষায় যাকে গাছের ভিটামিনও বলা যেতে পারে। যা অত্যন্ত কার্যক্ষমতা সম্পন্ন উদ্ভিদ বৃদ্ধি উদ্দীপক যা গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়। 


আপাতত এইটুকু পরিচর্যায় যথেষ্ঠ, যার ফলে একটু দেরীতে হলেও আপনার গাছে মুকুল চলে আসবে ইনশাআল্লাহ ।


পরিশেষে, যদি মনে করেন লেখা গুলো বাগানীদের উপকারে আসবে, তাহলে ফেসবুকের পোস্ট টি শেয়ার করুন।

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ২৭-০১-২০২৫ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ২৭-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগদানে প্রধান উপদেষ্টার সুইজারল্যান্ড সফর বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক অর্জন - সংবাদ ব্রিফিং-এ বললেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে রেখে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান আইন উপদেষ্টার।


ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে হলে বিধি-বিধান ঠিক করে অক্টোবরের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে হবে - জানালেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।


ভারত ভিসা বন্ধ রাখায় চিকিৎসার জন্য চীন বাংলাদেশীদের জন্য বিকল্প হতে পারে - সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য পররাষ্ট্র উপদেষ্টার।


জানুয়ারির মধ্যেই সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বই পাবে - জানালেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা।


ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে স্থানান্তরে ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলো জর্ডান ও মিশর।


মিরপুরে বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফরচুন বরিশাল ও দুর্বার রাজশাহীর জয় - আজ দুটি খেলা।

সফল হওয়ার উপায় এই ২১ "না" কে প্রাধান্য দিন

 ১. নিজেকে কখনো বড় করে প্রকাশ করবেন না। এতে আপনি ছোট হবেন।


২. ভুল স্বীকার করার মানসিকতা দেখান। "Thank you", "Please" এই কথাগুলো বলতে দ্বিধা করবেন না।


৩. কারো কাছে নিজের সিক্রেট শেয়ার করবেন না বা কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না।


৪. অভিজ্ঞতা ছাড়া ব্যবসা করতে যাবেন না।


৫. পর্ণে আসক্ত হবেন না। এতে করে আপনি ক্ষণস্থায়ী সুখের জন্য সুন্দর জীবন হারাবেন।


৫. পরচর্চা করবেন না। যে ব্যক্তি আপনার সামনে অন্যের নিন্দা করে, সে নিশ্চিতভাবে অন্যের সামনে আপনার নিন্দা করে।


৬. গাধার সাথে তর্ক করতে যাবেন না। তর্কের শুরুতেই গাধা আপনাকে তার স্তরে নামিয়ে আনবে, তারপর আপনাকে সবার সামনে অপদস্থ করবে।


৭. পরে করব ভেবে কোনো কাজ ফেলে রাখবেন না। আপনি যদি তা করেন শতকরা ৮০ ভাগ সম্ভাবনা কাজটি আপনি আর কখনোই করতে পারবেন না।


৮. 'না' বলতে ভয় পাবেন না।


৯. স্ত্রীর কারণে বাবা-মাকে বা বাবা মায়ের কারণে স্ত্রীকে অবহেলা করবেন না।


১০. সবাইকে সন্তুষ্ট করতে যাবেন না। এতে আপনি আপনার ব্যক্তিত্ব হারাবেন।


১১. ঝুঁকি ছাড়া সাফল্য আসে না। তাই জীবনে ক্যালকুলেটেড রিস্ক নিতে ভয় পাবেন না।


১২. স্মার্টফোনে আসক্ত হবেন না। গুগলে জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন না।


১৩. মনের ইচ্ছা প্রকাশ করতে দেরি করবেন না। কারণ, এই একটি কাজের বিলম্বের জন্য আপনি সারাজীবন পস্তাতে পারেন।


১৩. রিলেশনসিপে অসুখী হলে সেটা আঁকড়ে ধরে থাকবেন না। যে সম্পর্ক মানসিক যন্ত্রণা দেয়, ভেতরে অশান্তি সৃষ্টি করে তা জীবন থেকে দ্রুত মুছে ফেলুন।


১৪. আপনি কখনোই জানেন না যে আপনি স্বপ্নপূরণের ঠিক কতটা কাছাকাছি। তাই, কখনোই লক্ষ্যের পিছু ধাওয়া করা বন্ধ করবেন না। বেশিরভাগ মানুষ সাফল্য লাভের কাছাকাছি গিয়ে হাল ছেড়ে দেয়।


১৫. অকারণে শত্রু বাড়াবেন না।


১৬. কারো ধর্মবিশ্বাসে আঘাত দিয়ে কোনো কথা বলবেন না বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবেন না।


১৭. বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের সাথে একান্ত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও করবেন না। তার সাথে আপনার বিয়ে হবেই বা সে আপনাকে ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেইল করবে না এটা আপনি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারেন না।


১৮. যে আপনার কথা শোনার জন্য প্রস্তুত নয়, তাকে কিছু শেখাতে যাবেন না। সে ঠকবে, ভুল করবে, ধাক্কা খাবে; তারপর একসময় ঠিকই আপনার মূল্য বুঝতে পারবে।


১৯. নিজের সম্মান বিসর্জন দিয়ে মানুষের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবেন না। যেখানে আপনার সম্মান নেই সেখান থেকে এখনই নিজেকে গুটিয়ে নিন।


২০. টাকার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে প্রিয়জনদের বঞ্চিত করবেন না।


২১. যেটা হাতছাড়া হয়ে গেছে সেটা নিয়ে আফসোস করবেন না।

ঈশপের গল্প’" গোটা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে  আছে।  কিন্তু কে ছিলেন এই Aesop? কী        করে এই গল্পগুলো তৈরি হয়েছিল? 

 "ঈশপের গল্প’" গোটা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে 

আছে।  কিন্তু কে ছিলেন এই Aesop? কী 

      করে এই গল্পগুলো তৈরি হয়েছিল? 

      এই প্রশ্নগুলো আমাদের অনেকের 

      মধ্যে ঘোরাফেরা করে বহুদিন ধরে। 


আর অদ্ভুত কথা, যার তৈরি করা গল্পগুলো কয়েক হাজার বছর ধরে জীবিত রয়েছে, তার স্রষ্টার সম্পর্কে খুবই কম জানা যায়। অনেকটাই ধোঁয়াশায় ভরা। মনে করা হয়, খ্রিস্টপূর্বাব্দ ৬২০ থেকে ৫৬০-এর মধ্যে বর্তমান ছিলেন ঈশপ। বর্তমান তুর্কির কাছাকাছি কোনো একটা অঞ্চলে জন্মেছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে যখন ঈশপের জনপ্রিয়তা কিংবদন্তির আকার নিল, তখন অন্যান্য জায়গা থেকেও একই দাবি জানানো হল। কখনও আফ্রিকা, কখনও আবার জাপান, ইংল্যান্ড— সবাই চায় তাঁর জন্মস্থানের ভাগীদার হতে। তবে আদতে সেটি ঠিক কোথায়, তা নিয়ে অবশ্য আজও গবেষণা জারি আছে। 


হেরোডোটাস, অ্যারিস্টটলের মতো প্রাচীন দার্শনিক ও ঐতিহাসিকদের লেখা থেকে জানা যায়, ঈশপ আদতে ক্রীতদাস ছিলেন। আর সেই সময় ক্রীতদাসদের জীবন ঠিক কেমন ছিল, সেটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। মনে রাখা দরকার, তখনও গ্রিস আর রোমের সভ্যতা অস্ত যায়নি। জ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস চর্চার মাঝে এমন অদ্ভুত রীতিও জারি ছিল। আর তারই দাস ছিলেন ঈশপ। কিন্তু কোথায় বলে না, জীবন সবাইকেই কিছু না কিছু সুযোগ দেয়। আর সঙ্গে দেয় প্রতিভাও। দ্বিতীয় বিষয়টি ঈশপের মধ্যে ভরপুর ছিল। তাঁর সহজাত বুদ্ধি, হাস্যরস, বিচক্ষণতার ঝলক প্রায়শই দেখা যেত। প্রকৃতির মাঝে বসে সেখান থেকেই গল্পের রসদ খুঁজে পেতেন। আর ছিল মানুষ। এই সবকিছু মিলেই তৈরি হত জাদু। তৈরি হত ঈশপের গল্প। 


কিন্তু ভাগ্য সঙ্গ না দিলে যা হয়। ক্রীতদাসের জীবন থেকে এত সহজে তো মুক্তি মিলছে না। এদিকে দেখতেও খুব একটা ভালো নন তিনি। তাঁর চেহারা দেখে আর গলার আওয়াজ শুনে বাকি লোকেরা ঠাট্টা-তামাশাও করত। সেইসঙ্গে ছিল মালিকরা। ইতিহাসবিদরা মনে করেন, নিজের জীবনে মোট দুজনের দাসত্ব করেছিলেন ঈশপ। প্রথম মনিবের কাছ থেকে অবহেলাই জুটেছে। কিন্তু দ্বিতীয় অভিজ্ঞতা তেমনটা নয়। ঈশপের বুদ্ধি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন তাঁর দ্বিতীয় মনিব। এবং তারপরই তিনি দাসত্ব থেকে মুক্তি দিলেন তাঁকে। মুক্ত হলেন ঈশপ, একটা অন্য জগত যেন খুলে গেল তাঁর সামনে… 


নিজের জীবনকালে নানা জনের কাছে গল্প বলে বেরিয়েছেন ঈশপ। তাঁর বলার ধরণ এবং গল্পের জন্য অচিরেই লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ল নাম। সাধারণ সব গল্প, কিন্তু সেই সহজতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের মানে। গ্রিস, রোমের রাস্তায় রাস্তায় ঈশপের গল্প ছড়িয়ে পড়ল। শোনা যায়, বন্দি অবস্থায় কারাগারের ভেতর বসে সক্রেটিস নাকি ঈশপের কিছু গল্পই লিখে রাখার কাজ করেছিলেন। কিন্তু ঈশপের জীবনকালে কখনও লিপিবদ্ধ করা হয়নি এই কাহিনিগুলো। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে ডেমেত্রিয়াস প্রথমবার ঈশপের গল্পগুলিকে একসঙ্গে করে সংকলন বের করেন। তখনই প্রথমবার লিখিত আকারে পাওয়া গেল এই কাহিনি। বাকিটা তো এক কিংবদন্তির যাত্রা। আমাদের জীবনের সঙ্গে যা জড়িয়ে গেছে ওতপ্রোতভাবে।                                                                                                              সুত্র… ডিড ইউ নো?



টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা ঝ্যাং ইমিং আসলেই জিনিয়াস,,,,,,, ফাপরবাজ ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 টিকটকে কন্টেন্ট বানিয়ে রাতারাতি অনেকেই বনে গেছেন জিরো থেকে হিরো, পেয়েছেন সেলিব্রিটি তকমা। তবে টিকটকের আসল হিরোর গল্পটা সবসময়ই রয়ে গেছে অজানা। মাত্র ৪০ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোম্পানির সিইও বনে যাওয়া সেই জিনিয়াসের নাম ঝ্যাং ইমিং।


১৯৮৩ সালের পহেলা এপ্রিল চীনের ফুজিয়ান প্রদেশে জন্ম নেয় বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ঝ্যাং ইমিং। তার বাবা-মা দু'জনেই ছিল সিভিল সার্ভেন্ট। স্কুলে পড়াকালীন সময় থেকে বিজ্ঞানের নানা চমকপ্রদ আবিস্কারের প্রতি তার আগ্রহ গড়ে ওঠে। সেই আগ্রহ থেকেই ২০০১ সালে নানকাই বিশ্ববিদ্যালয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন ঝ্যাং।


ছোটবেলা থেকেই টেকনোলজির প্রতি ঝোক থাকায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে থেকেই ঝ্যাং তার ব্যাচমেটদের চেয়ে অনেক বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। ফলে প্রফেসর ও স্টুডেন্টের মাঝে তার আলাদা জনপ্রিয়তা ছিল। এই জনপ্রিয়তার কারণে ইউনিভার্সিটি লাইফেই ঝ্যাং তার জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পান।


২০০৫ সালে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিটের এক বছর পর ঝ্যাং ‘কুসুন’ নামের একটি ট্রাভেল কোম্পানিতে ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগদান করেন। তিন বছর পর ২০০৮ সালে ঝ্যাং স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটে জয়েন করেন। তবে সেখানকার ধরাবাঁধা অফিস-লাইফে মন না বসায়, তিনি মাইক্রোসফট ছেড়ে একটি মাইক্রো-বগ্লিং কোম্পানিতে যোগ দেন। তবে মার্কেট ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় এক বছরের মাথায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায় এবং ঝ্যাং জবলেস হয়ে পড়েন।


মাইক্রোসফটে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার ছেড়ে এমন অবস্থায় এসে অন্য কেউ যেখানে হাল ছেড়ে দিত, ঝ্যাং সেখানে নিজেই একটি বিজনেস খুলে বসেন। শুরু হয় স্বপ্নবাজ ঝ্যাং ইমিংয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। তিনি 99fang নামে একটি রিয়েল স্টেট সার্চিং সাইট খুলেন, যেটি ছয় মাসের মধ্যেই দেড় মিলিয়নের বেশি মানুষকে আকৃষ্ট করে।


তবে নিজের পরিচয় বানানোর জন্য যে লোকটি মাইক্রোসফটের জব ছেড়েছিলেন, এটুকুতেই কি তিনি থেমে থাকতে পারেন? মোটেও না। ঝ্যাং আবারও নতুনভাবে চিন্তা শুরু করেন। ২০১২ সালে 99fang এর সিইও পোস্ট ছেড়ে তিনি নতুন এক কোম্পানি খুলেন, যেটির নাম দেন বাইটড্যান্স।


প্রথমদিকে ফান্ডের জন্য একাধিক প্রতিষ্ঠানের দারস্থ হয়েও ব্যর্থ হওয়ার পর একটি প্রতিষ্ঠান ঝ্যাংয়ের উদ্যোগে সাড়া দেয়। ৪০ জন কর্মী নিয়ে একটি ছোট ফ্ল্যাট ভাড়া করে শুরু হয় ঝ্যাং ইমিংয়ের স্বপ্নজয়ের যাত্রা। ২০১২ সালে নিজেদের প্রথম অ্যাপ ‘নেহান ডুয়ানজি’ লঞ্চ করে বাইটড্যান্স। এটি ছিল মূলত একটি মিমস ও জোকসের অ্যাপ।


অ্যাপটি অল্প সময়ের মধ্যে ট্রেন্ডে চলে আসে। অ্যাপটি এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল যে, কিছু ত্রুটির কারণে চীনা সরকার অ্যাপটি ব্যান করে দিলে, সাত শতাধিক ব্যবহারকারী প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। বাইটড্যান্সের উদ্যোগেই ২০১৫ সালে লঞ্চ করা হয় ‘ডোউইন’ যেটি বর্তমানে টিকটক নামে সবার কাছে পরিচিত।


টিকটক যখন লঞ্চ করা হয় তখন মার্কেটে এর সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ ছিল আরেক চীনা অ্যাপ ‘মিউজিক.লি’। এক বছরের মধ্যে ঝ্যাং ইমিংয়ের বাইটড্যান্স ‘মিউজিক.লি’ অ্যাপটি ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে কিনে নেয় এবং এর সব সাবস্ক্রাইবকে টিকটকে এড করে নেয়। তারপর চীনের সীমানা পেরিয়ে টিকটক বিশ্বের ১৫৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে।


২০২১ সালে ঝ্যাং বাইটড্যান্স তথা টিকটকের সিইও পদ ছাড়লে কোম্পানির ৫০ শতাংশ মালিকানা তার দখলে রয়েছে।২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, ৪৯.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পদ নিয়ে চীনের ধনী ব্যক্তিদের শীর্ষে রয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই লিভিং জিনিয়াস।


বই পড়ার সুন্দর দুটা পদ্ধতি আছে,,,,,, নন্দিত আরাধনা ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 বই পড়ার সুন্দর দুটা পদ্ধতি আছে।  প্রথমটি হল সাথে একটা নোট খাতা রাখা এবং দ্বিতীয়টি হল শুধু মাত্র রিডিং না পড়ে  প্রত্যেকটি লাইনে লাইনে লেখকের সাথে যুক্তি তর্ক করে যাবেন। 


প্রথম পদ্ধতিটা আমি শিখেছি লেখক আহমদ ছফা'র কাছ থেকে। ছাত্রাবস্থায় তিনি  অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে রোজ একটি করে বই নিয়ে পুরো বইএর সারমর্ম একটা নোট খাতায় নিজের মত করে লিখে রাখতেন। 


এই নোট করে রাখার প্র্যাকটিসটা হুমায়ূন আহমেদের ভেতরেও পেয়েছি যদিও তার  স্মৃতি শক্তি অনেক প্রখর ছিল।  জীবনের শেষের দিকে এসে  স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শৈশবের সাত বছর বয়সে লুকিয়ে প্রথম বই পড়ার কথা লিখতে গিয়ে তিনি সেই বইএর ভেতরের গল্পটাও লিখে ফেলেছেন ! 


বই পড়ার দ্বিতীয় পদ্ধতিটা আমি শিখেছি, ভারতীয় যুক্তিবাদী লেখক প্রবীর ঘোষের কাছ থেকে। তিনি একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, আপনি যদি লেখক যাই লিখেন কোন রকমের চিন্তা ভাবনা না করে সবই বিশ্বাস করতে শুরু করেন তাহলে তার দশটা সত্য কথার সাথে দু একটা মিথ্যা কথাকেও বিশ্বাস করতে শুরু করবেন। এই দুটা মিথ্যা কথা আপনার জীবনে অনেক ভয়ংকর হবে ! কেননা দশটা সত্য কথার সাথে একটা মিত্থা কথা মিশে গেলে সেটাকে আলাদা করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।  


খাতায় নোট করবার ব্যাপারে আমি বেশ কিপটে। খুব সামান্যই লিখে রাখি।  কিন্তু বিশ্বাস করুন, যখন আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি এই নোট খাতাটা খুলে পড়তে শুরু করি এবং যেখান থেকে আমি দৌড়ানোটা থামিয়েছিলাম সেখান থেকেই আবার দৌড়াতে শুরু করি।  


এ পি জে আবদুল কালামের ' টার্নিং পয়েন্টস' পুরো গ্রন্থটা পড়ে আমি শুধু মাত্র সেখান থেকে একটা লাইন আমার নোট খাতায় টুকে রেখেছি। আমি জানি যেদিন আমি মেঝেতে চিত হয়ে মাথার নিচে হাত দিয়ে কাত হয়ে শুয়ে থাকব সেদিন এই লাইনটাই আমাকে মায়ের মত পিঠ চাপড়ে ভরসা দেবে। লাইনটা হল-'' আমি পেশা হিসেবে গবেষণা এবং শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছি কেননা আমি পুনরাবৃত্তি ভালোবাসি'' 


কিছু কিছু শব্দ আছে নিঃশব্দের মত। আমার কাছে পুনরাবৃত্তি শব্দটাকে সেরকম মনে হয়েছে। আমরা বেশিরভাগ মানুষ সফল হইনা কেননা আমরা পুনরাবৃত্তি পছন্দ করি না। একটা কাজে বাঁধা পেলে সেটা বার বার পুনরাবৃত্তি করার ধৈর্যটা আমাদের থাকে না। 


আইরিশ লেখক জর্জ বার্নার্ডশ তার একটা নাটকের সংলাপে লিখেছেন '' আমি যেদিন থেকে বুঝেছি কোন একটা কাজ দশবার করার পর আমি একবার সফল হই সেদিন থেকে আমি প্রত্যেকটি কাজ দশবার করে করা শুরু করেছি''


এ কী লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ (জীবনানন্দ দাশের সহধর্মিণী লাবণ্য দেবীকে নিয়ে লিখেছেন লেখিকা কবিতা সিংহ) 

 এ কী লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ (জীবনানন্দ দাশের সহধর্মিণী লাবণ্য দেবীকে নিয়ে লিখেছেন লেখিকা কবিতা সিংহ) 


লম্বা ছিপছিপে উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ একটি মেয়ে। মুখের গড়ন লম্বা ধাঁচের। উজ্জ্বল চোখ, তীক্ষ্ণ নাক, পাতলা ঠোঁট। বয়স সতেরো আঠারো। ঢাকায় হস্টেলে থেকে পড়ত।

নাম লাবণ্য। ছোটবেলাতেই বাবা-মাকে হারিয়েছে। মানুষ হয়েছে জ্যাঠামশাই-এর কাছে।


তখনকার কালের ঢাকার কলেজের মেয়ে যেমন হত, ঠিক তেমন। বিপ্লবী দলের সঙ্গে গোপন সংযোগ, শরীরচর্চা, আবার নাচ গান অভিনয়ে ঝোঁক। মা-বাপ নেই বলে খুব স্পর্শকাতর—সেই লাবণ্যকে হঠাৎ একদিন জ্যাঠামশাই বাড়িতে ডেকে নিয়ে এলেন।

হস্টেল থেকে বাড়িতে আসতে এক মাঠ কাদা ভাঙতে হয়। পরনে নকশাপাড় তাঁতের সাধারণ শাড়ি। আসতেই জ্যাঠামশাই বললেন, বাড়িতে অতিথি এসেছেন চা জলখাবার এনে দাও। সেই কাদামাখানো শাড়ি পরেই লাবণ্য লুচি মিষ্টি চা নিয়ে এলেন বাইরের

ঘরে। অতিথির সংখ্যা মাত্র একজন। শ্যামবর্ণ, অতিসাধারণ ধুতি-পাঞ্জাবি পরা নতমুখী

একটি আটাশ-ঊনত্রিশ বছরের যুবক।

জ্যাঠামশাই পরিচয় করিয়ে দিলেন।


—ইনি দিল্লি থেকে এসেছেন। ওখানকার রামযশ কলেজে পড়ান। ইংরেজির অধ্যাপক।

আর এ আমার ভাইঝি লাবণ্য।


জীবনানন্দ দাশ চোখ তুলে নমস্কার করলেন।


সেদিন দুপুরে জ্যাঠামশাই লাবণ্যকে বললেন দিল্লি থেকে যে ছেলেটি এসেছিলেন,

তিনি তাঁকে দেখতেই এসেছিলেন। এবং যাবার সময় মনোনীত করে গেছেন। লাবণ্যের

কিন্তু তখন বিয়ে করতে একটুও ইচ্ছে নেই। সে সময়ে কারই বা থাকে। বিশেষ করে

সবে তখন কলেজে ঢুকেছে, সবে মুক্তির স্বাদ, সবে রাজনীতির রহস্যময় আস্বাদ—তখন

সব এত নতুন এত বৈচিত্র্যময়...জ্যাঠামশাই লাবণ্যকে জীবনের বাস্তব দিকগুলির কথাও

ভাবতে বললেন সেদিন। বাবা নেই, মা নেই। কেবল তিনিই সম্বল। আর জীবনানন্দ

কথা দিয়েছিলেন বিয়ের পরও লাবণ্য পড়বেন। তাছাড়া যখন জ্যাঠামশাই বলছিলেন—

‘মেয়েটা মা-বাপ মরা, একটু জেদি একটু আদুরে, ওকে তুমি ভালো করে দেখো'—

তখন ছেলেটির শান্তচোখে একটা আশ্বাসের ছায়া তিনি স্পষ্ট দেখেছেন। বিশেষ করে ছেলেটির শান্ত প্রকৃতিটিই তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছিল।


লাবণ্য মত দিলেন।


সে বছরটা ১৯৩০ সাল।


সে সময়টা বৈশাখ।


সেদিন সন্ধ্যায় তাড়াহুড়ো করে বরিশালে বাড়ি, দিল্লির ছেলেটি ঢাকার এক শাড়ির

দোকানে ঢুকে জীবনে প্রথম একটি শাড়ি কিনল। আশীর্বাদের শাড়ি। সন্ধ্যায় আশীর্বাদ

হল। লাবণ্য হিন্দু কুলীন বাড়ির মেয়ে। মানুষ গিরিডিতে। তাঁর বিশেষ হিদুয়ানির সংস্কার

ছিল না। জ্যাঠামশাই ব্রাহ্মা ছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের মর্যাদা দিতেন বলেই তিনি লাবণ্যকে

জিজ্ঞেস করে নিলেন, বিয়ে কোন মতে হবে। ব্রাহ্ম বিবাহে লাবণ্যের আপত্তি হয় নি।


বিয়ের সময়ে জীবনানন্দর সঙ্গে এসেছিলেন বুদ্ধদেব বসু আর অজিত দত্ত। বিয়ের

অনেক রমণীয় স্মৃতির সঙ্গে স্বামীর একটি বন্ধুর স্মৃতিও কেন যেন গেঁথে গিয়েছিল তাঁর

মনে। বুদ্ধদেব ছোটখাট বুদ্ধিদীপ্ত উজ্জ্বল একটি যুবা তখন। স্বামী পরিচয় করিয়ে দিয়ে

বলেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রত্ন, পণ্ডিত ব্যক্তি। কিন্তু লাবণ্যর চোখে সুন্দর লেগেছিল

তাঁর প্রাণচাঞ্চল্য, আকর্ষণীয় কথা বলার ভঙ্গি, সহজ সাবলীল আচরণ। লাবণ্য দাশ

বললেন,—“সাধারণত ওঁর বন্ধুদের সামনে খুব একটা বেরোতাম না। কিন্তু বিয়ের দিনটি

থেকেই বুদ্ধদেববাবুকে আমি আমার স্বামীর বন্ধু, আমাদের বড় সুহৃদ বলে জেনেছি।

তিনি এলেই তাঁর কাছে এসে বসেছি। তাঁর পাণ্ডিত্য, কবিপ্রতিভা নামযশ কিছুই আমাদের

আর তাঁর মধ্যে কোনও আড়াল সৃষ্টি করেনি। বিয়ের দিনে দেখা সেই বুদ্ধিদীপ্ত মানুষটি—

আমার তরুণ স্বামীর তরুণ সঙ্গীটি আমার কাছে ওইভাবেই মুদ্রিত হয়ে গেছেন।”


বিয়ের পরে বরিশালে গেলেন বরবধূ। মস্ত সংসার। অনেকখানি ছড়ানো মেলা জায়গা

নিয়ে বড় বড় ঘর। কিন্তু মাটির ভিত। খড়ের আস্তর। শহর থেকে গিয়ে লাবণ্যর খানিকটা

অবাক লেগেছিল। ঢুকতেই ইতস্তত করছিলেন ঘরে। পরে সেই বড় বড় ঠান্ডা ঠান্ডা ঘর, আম, জাম, বট অশথের হিজলের ছড়ানো বড় বড় বাগান পুকুরের স্নিগ্ধতা লাবণ্য অনুভব করেছিলেন।

পঁচাত্তর হাজার বছরের লুকানো ইতিহাস !! বৃত্তের বাহিরে ফেইসবুক থেকে নেওয়া!

 পঁচাত্তর হাজার বছরের লুকানো ইতিহাস !!!


মেক্সিকোর  পুরনো  মায়া সভ্যতার সমাধিফলকে অদ্ভুত এক চিত্র পাওয়া গেছে। 

একজন মানুষ  কিছু চালানোর চেষ্টা করেছেন !!


 মানুষটি একটি  কম্পিউটারের কমান্ড প্যানেলের দিকে মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন বলে মনে হয়, আর বাহনের পিছনের অংশ থেকে অগ্নিশিখার মতো কিছু নির্গত হচ্ছে।  


ছবিতে আরও বিস্ময়কর , একটি  শ্বাস প্রশ্বাস নেয়ার জন্য মাস্ক , গ্রেনেডের এর মতো বাহ্যিক কাঠামো সহ আধুনিক মহাকাশযান ।


সুইসজারল‍্যন্ড এর লেখক  এরিচ ভন ডেনিকেন তিনি তার ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত বই “মেমোরিজ অফ দ্য ফিউচার”।

তার মতে, প্রাচীন মানুষের কাছে  একসময় উচ্চ প্রযুক্তি ছিল, যা পরবর্তীতে হারিয়ে গেছে।  


তাহলে প্রশ্ন হলো—প্রাচীনকালে কি মানুষ উড়তে সক্ষম ছিল?  


আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন: হোমো রিলোডের  “৭৫,০০০ বছরের গোপন ইতিহাস”

তিনি ছিলেন বিলাসী জমিদার। বড় ভাই ও বাবার মৃত্যুর পর অল্প বয়সেই ৬ লাখ বিঘা জমির বিশাল এলাকার জমিদারির দায়িত্ব ন্যস্ত হয় তাঁর উপর

 তিনি ছিলেন বিলাসী জমিদার। বড় ভাই ও বাবার মৃত্যুর পর অল্প বয়সেই ৬ লাখ বিঘা জমির বিশাল এলাকার জমিদারির দায়িত্ব ন্যস্ত হয় তাঁর উপর। কিন্তু উত্তরাধিকার সূত্রে এত ভূসম্পত্তির মালিক হয়ে চরম ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে পড়েন তিনি। নারীর প্রতি ছিল প্রবল টান। নিজেই লিখেন, “সর্বলোকে বলে হাছন রাজা লম্পটিয়া”।   একদিন চোখে পড়ল দিলারাম নামের সুন্দরী এক হিন্দু যুবতী। রূপে মুগ্ধ হয়ে বিলিয়ে দিলেন নিজের গলার সোনার চেইন। সুদর্শন জমিদারের অমূল্য উপহার পেয়ে দিলারামও তাঁকে হৃদয় বেদিতে পূজার আসনে বসালেন। প্রেমে মজে হাছন রাজা লিখলেন, 


'ধর দিলারাম, ধর দিলারাম, ধর দিলারাম, ধর। 

হাছন রাজারে বান্ধিয়া রাখ, দিলারাম তোর ঘর!'


কিন্তু পারিবারিক আভিজাত্য ও বংশগৌরবের কথা ভেবে যুবক জমিদারের মা দিলারামকে গ্রামছাড়া করলেন। 

মায়ের উপর রাগ করে হাছন রাজা নারী আসক্তি আরও বাড়িয়ে দেন। বাইজি আর আকণ্ঠ শরাবে ডুবে গেলেন। প্রতি বর্ষায় নৌকার বহর নিয়ে চলে যেতেন হাওরে। থাকতো নাচ-গানের ব্যবস্থা। এরপর লখনৌ থেকে আসা সুন্দরী বাইজি পিয়ারির প্রেমে পড়েন। পিয়ারির রূপে মুগ্ধ হয়ে লিখেন, 

'নেশা লাগিল রে। বাঁকা দুই নয়নে নেশা লাগিল রে। হাছন রাজা পিয়ারির প্রেমে মজিলোরে...'


আর এভাবেই প্রজাদের কাছ থেকে দূরে সরে যান হাছন। পরিচিত হয়ে ওঠেন অ/ত্যাচারী নি/ষ্ঠুর জমিদার হিসেবে।

মা দেখলেন, ছেলে যেভাবে এগোচ্ছে, পতন অনিবার্য। ছেলেকে বিকৃত পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে একদিন বাইজির ছদ্মবেশে মা নিজেই ছেলের জলসা ঘরে গিয়ে হাজির হলেন। মায়ের পায়ে পড়লেন জমিদার হাছন। লজ্জায় ও মনোকষ্টে নারী ও নেশার পথ থেকে অনেকটাই ফিরে আসেন।এরপর আধ্যাত্নিক এক স্বপ্ন-দর্শন জীবনকে আমূল পাল্টে দেয়। শুধরাতে শুরু করলেন ভুল-ত্রুটি। সাধারণ হয়ে ওঠে পোশাক-আশাক ও চলাফেরা। প্রজাদের খোঁজ খবর নিতে থাকেন। মগ্ন হলেন সৃষ্টিকর্তার প্রেমে। রচনা করেন একের পর এক কালোত্তীর্ণ গানঃ 


‘লোকে বলে বলেরে, ঘর বাড়ি ভালা নায় আমার’, 'কানাই তুমি খেল খেলাও কেনে', 'মাটিরো পিঞ্জিরার মাঝে বন্ধী হইয়া রে', 'বাউলা কে বানাইলো রে', 'আগুন লাগাইয়া দিলো কনে', 'সোনা বন্দে আমারে দেওয়ানা বাইনালে' সহ অসংখ্যা বিখ্যাত গান।  


ছেড়ে দেন জীব হ/ত্যাও। গানে প্রকাশ পেতে থাকে অতীতের ভুলগুলো। লিখেন, 'একদিন তোর হইবোরে মরণ'!

তাঁকে বৈরাগ্য পেয়ে বসে। বাউল হয়ে উদাসীন হয়ে যান বিষয়-সম্পত্তি নিয়ে। সম্পত্তি বিলিবণ্টন করে পুরোপুরি দরবেশ-জীবন যাপন শুরু করেন। প্রতিষ্ঠা করেন হাছন এম. ই. হাই স্কুল, অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও আখড়া। 

হাছনকে বাউলা কে বানিয়েছে, সে কথা সরাসরি লিখে না গেলেও অদৃশ্য নিয়ন্ত্রকের হাতে বাঁধা ঘুড়ির কথা বলেছেন তিনি। আসলে হাছন রাজা ছিলেন অতি সুদর্শন। লম্বা দেহ, সূচালো খাড়া নাক, জ্যোতির্ময় পিঙ্গলা চোখ এবং ঘন চুলের কারণে অনেকের মধ্যেই তাকে আলাদা করে চোখে পড়তো। তাঁর এই অপূর্ব দৈহিক গঠন চরম আকর্ষিত করতে নারীদের।

নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন

 নারী স্বাস্থ্য সচেতনতা: মহিলা প্রজননতন্ত্রের রহস্য উদঘাটন 🌺 আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশই অবিশ্বাস্যভাবে সুনির্দিষ্ট এবং জটিল, বিশেষ করে যখন ...