এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫

খান আব্দুল গাফফার খান  নামটা বর্তমানে খুব একটা পরিচিত নাম নয়।,,,, উৎপল কান্তি ধর utpal Kanti dhor ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 # খান আব্দুল গাফফার খান 

নামটা বর্তমানে খুব একটা পরিচিত নাম নয়। 

৩১ শে আগস্ট, ১৯৩৪ বোলপুর স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সাত সকালে যাত্রীদের কৌতূহল ছিল গুরুদেব কি শান্তিনিকেতন ছেড়ে চলে যাচ্ছেন? কিন্তু তখন কলকাতা যাবার কোনও ট্রেন ছিল না। ট্রেন তো চলে গেলো। তাহলে? জানা গেল, তিনি একজন অতিথিকে রিসিভ করতে এসেছেন। 


কে সেই মান্যগণ্য অতিথি! যার জন্যে স্বয়ং গুরুদেব নিজে উপস্থিত স্টেশনে? 


বর্ধমানের দিক থেকে একটি ট্রেন এসে বোলপুরে থামল। দেখা গেল রেলগাড়ির একটি তৃতীয় শ্রেনির কামরা থেকে নামছেন এক দীর্ঘদেহী বলিষ্ঠ পাঠান যুবক। তাঁকে দেখা মাত্র রবীন্দ্রনাথ এগিয়ে গেলেন, ৪৪ বছর বয়স্ক যুবক নত হবার চেষ্টা করতেই ৭৩ বছরের কবিগুরু তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। 


খান যুবক না হলেও এমন কিছু মধ্যবয়স্ক নন তিনি। কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথের চেয়েও দু বছরের ছোট। সেদিনের ওই মানুষটিই হলেন খান আব্দুল গাফফার খান। 


সর্বত্যাগী ফকির, খুব সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে রয়ে গিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়।

 

স্বাধীনতা আন্দোলনের সেই দিনগুলিতে ভারতের মানুষ তাঁকে চিনতেন ‘সীমান্ত গান্ধী’ হিসেবে। এই মানুষটি শান্তিনিকেতনের কথা শুনেছিলেন গান্ধিজির কাছে। শুনেছিলেন কবিগুরু বোলপুরের কাছে একটি গ্রামে গরীব মানুষের উন্নয়নের জন্যে একটি সংগঠন ও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। পেশোয়ার থেকে তাই বড়ো পুত্র আব্দুল গনিকে পাঠিয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে লেখাপড়া শিখতে। পুত্রের মাধ্যমে তাঁর সাথে রবীন্দ্রনাথের যোগসূত্র। ১৯৩৪ সালে হাজারিবাগ জেল থেকে মুক্তি পেতেই তিনি বাংলায় আসতে চেয়েছেন। তাঁর আন্তরিক ইচ্ছে কবিগুরুর সাথে একটিবার দেখা করার। 


প্রথমে পাটনা গিয়েছিলেন বাবু রাজেন্দ্রপ্রসাদের কাছে। তখন তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী একজন কংগ্রেস কর্মী। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। পাটনা থেকে শান্তিনিকেতনে খবর পাঠালেন- খান আবদুল গাফফার খান দেখা করতে চান রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে। তাঁর আগ্রহ শ্রীনিকেতন সম্পর্কেও। 


স্টেশন থেকে কবিগুরু তাঁকে প্রথমে নিয়ে এলেন বিশ্বভারতীর লাইব্রেরী প্রাঙ্গণে। সেখানে সমবেত আশ্রমিক, ছাত্রছাত্রী ও অন্যান্যদের সামনে ‘অতিথি’র পরিচয় করিয়ে বললেন, খান সাহেবের শান্তিনিকেতন সফর আশ্রমবাসীদের জীবনে স্মরণীয় ঘটনা। তিনি যখন কারান্তারালে গিয়েছেন, পুত্রকে পাঠিয়েছেন এখানে লেখাপড়া শেখার জন্য। এতেই প্রমাণ মেলে বিশ্বভারতীর প্রতি তাঁর কতখানি আস্থা ও মমত্ববোধ আছে। তাঁর অনুভুতি আমাদের স্পর্শ করেছে। 


গাফফার খান একদিনের বেশি শান্তিনিকেতনে থাকতে পারেন নি। একদিনেই তিনি শান্তিনিকেতন-শ্রীনিকেতনের প্রতিটি বিভাগ ঘুরেছেন দেখেছেন, নিজের চোখে। পরের দিন শান্তিনিকেতন ত্যাগের আগে সকালে উদয়ন প্রাঙ্গণে কবি তাঁর সংবর্ধনার আয়োজন করেন। সেখানে বাংলা হরফে লেখা তাঁর ভাষণ কবি উর্দুতে পাঠ করেছিলেন। “থোরেসে অরসেকে লিয়ে অপ হামারে ইঁহা তসরিফ লায়ে হৈ ...।”


নিজের হাতে খসড়া করা সেই ভাষণে কবি বলেছিলেন, “অল্পক্ষণের জন্যে আপনি আমাদের মধ্যে এসেছেন। কিন্তু সেই সৌভাগ্যকে আমি অল্প বলে মনে করিনে। আমার নিবেদন এই যে, আমার এ কথাকে আপনি অত্যুক্তি বলে মনে করবেন না যে আপনার দর্শন আমাদের হৃদয়ের মধ্যে নতুন শাক্তি সঞ্চার করেছে। প্রেমের উপদেশ মুখে বলে ফল হয় না, যারা প্রেমিক তাদের সঙ্গই প্রেমের স্পর্শমান। তার স্পর্শে আমাদের অন্তরে যেটুকু ভালবাসা আছে তাঁর মুল্য বেড়ে যায়। 

অল্পক্ষণের জন্যে আপনাকে পেয়েছি কিন্তু এই ঘটনাকে ক্ষণের মাপ দিয়ে পরিমাপ কড়া যায় না। যে মহাপুরুষের হৃদয় সকল মানুষের জন্য, সকল দেশেই যাঁদের দেশ তাঁরা যে কালকে উপস্থিত মতো অধিকার করেন, তাঁকে অতিক্রম করেন, তাঁরা সকল কালের। এখানে আপনার ক্ষণিক উপস্থিতি আশ্রমের হৃদয়ে স্থায়ী হয়ে রইলো”। 


সংবর্ধনার উত্তরে গাফফার খান সেদিন বলেছিলেন, “গুরুদেব” তাঁকে যে আন্তরিক সংবর্ধনা জানিয়েছেন, তাতে তিনি অভিভুত। এখানে আশার আগে যা শুনেছিলেন, নিজের চোখে দেখে মনে হচ্ছে তাঁর চেয়েও মহৎ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কবি এখনে যে আদর্শ অনুসরন করেছেন, তাঁর ভিত্তিতে ভারত উন্নতির পথ খুঁজে পাবে। ধর্মের অপবাখ্যার মধ্য দিয়েই সাম্প্রদায়িক মনোভাবের বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে, এর জন্যই ভারতের জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতায় বাধা আসছে। 


গাফফার খান শান্তিনিকেতন থেকে চলে যাবার পর রবীন্দ্রনাথ একটি পত্রে তাঁর সম্পর্কে গান্ধিজিকে লিখেছিলেন- ‘এক অকপট সরলতার’ মানুষ। রবীন্দ্র প্রয়াণের খবর পেয়ে এই মানুষটি পেশোয়ার থেকে কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে জানিয়েছিলেন, 


 Peshaar 12th Aug. 1941

Dear Mr. Tagore,

 I am deeply grieved to hear of the sad demise of Gurudev. In him India has truly lost the greatest philosopher, poet and a nationalist. I heartily condole with you in your sad bereavement. May God bless his soul and give strength in your preasent trial. 

Yours sincerely, 

Abdul Ghaffar Khan


পঁইত্রিশ বছর পর গাফফার খান আবার শান্তিনিকেতন এসেছিলেন। তখন তাঁর বয়স ৭৯। ক্লান্তিময় বার্ধক্য জাঁকিয়ে বসেছে শরীরে। পাকিস্থান সৃষ্টির ১৭ বছরের মধ্যে ১৫ বছর কেটেছে তাঁর কারাগারে। তিনি ‘হিন্দু ও বিশ্বাসঘাতক’ এই ছিল তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ। অধিকাংশ সময় নির্জন কারাগার, নয়ত নজরবন্দি। ১৯৬৪ সালে স্বেছা নির্বাসন বেছে নিয়েছিলেন আফগানিস্থানের একটি ছোট গ্রাম জালালাবাদে।স্থির করেছিলেন সেখানেই বাকি জীবন কাটাবেন রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধিজির জীবনদর্শন সম্বল করে। 


১৯৬৯ সালে গান্ধি জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভাপতি জয়প্রকাশ নারায়ণ তাঁকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানান।তিনি সে অনুরোধ অগ্রাহ্য করতে পারেন না। স্বাধীনতা প্রাপ্তির বাইশ বছর পর বিপর্যস্ত স্বপ্ন ও আদর্শ আর ভাঙা মন নিয়ে তিনি ভারতের মাটিতে পা রেখেছিলেন। দিল্লিতে নেহেরু কন্যা প্রিয় ইন্দুকে বলেছিলেন তাঁকে যেন শান্তিনিকেতন যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। 


শান্তিনিকেতন কেন?


মৃদু হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, কেন জানো? ১৯৩৪ সালে প্রথম যখন যাই, গুরুদেবের কাছ থেকে স্নেহ ভালবাসা পাবার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। 


১৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৯। আগের মতোই রেলের একটি তৃতীয় শ্রেনির কোচ মধ্যরাত্রে বোলপুর স্টেশনে এসেছিল তাঁকে নিয়ে। বাকি রাত সেটি সাইডিং-এ রেখে দেওয়া হয়। গাফফার খান সেখানেই ছিলেন। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর সকাল আটটায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখার্জি তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যান শান্তিনিকেতনে। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় উদয়নের সেই ঘরে, যে ঘরে ৩৫ বছর আগে রবীন্দ্রসান্নিধ্যে কেটে ছিল তাঁর একটি দিন।

তারপর তাঁকে বিশ্বভারতীর আম্রকুঞ্জে চিরাচরিত ধারায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। 


উত্তরে সেদিনও বলেছিলেন, ৩৫ বছর আগে আমি যখন প্রথম এখানে এসেছিলাম গুরুদেবের যে স্নেহ, ভালবাসা পেয়েছি তা আমার অন্তরে আজও বিরাজমান।


তিনি আশ্রমিকদের হোস্টেল, কলাভবন, বিচিত্রা দেখেন। বিচিত্রায় একটি কাঠ খোদাই মানবমূর্তির সামনে দাঁড়ালে তাঁর চোখ থেকে জল গড়িয়ে নামে। বারবার চোখ কচলে মূর্তিটি পরখ করেন। এ মূর্তি যে গড়েছেন তাঁর পুত্র নন্দলাল শিষ্য আবদুল গনি। 


তিনি ঘুরলেন শ্রীনিকেতন। বহু মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন তাঁকে দেখতে। ছোট একটি বক্তৃতাও দেন। ফেরার পথে উপাচার্য কালিদাস ভট্টাচার্যর কাছে সাঁওতাল পল্লী দেখাবার অনুরোধ করলেন। 

তাঁকে নিয়ে যাওয়া হোল ভুবনডাঙ্গায়।


সাঁওতালদের সাথে গাফফার খান মিলিত হলেন। জানতে চাইলেন, স্বাধীনতার আগে যেমন আপনাদের দিন কাটত, তাঁর কি কোনও পরিবর্তন হয়েছে? স্বাধীনতা কি আপনাদের জীবনের স্বাদ বদলে দিতে পেরেছে? 


দোভাষীর মাধ্যমে তিনি যে জবাব পেয়েছিলেন তাতে তাঁর মুখের হাসি মিলিয়ে গিয়েছিলো। হায় গুরুদেব! হায় স্বাধীনতা! 


বুক ভরা আক্ষেপে শুধু এক টুকরো শান্তি ছিল তাঁর শান্তিনিকেতন সফর। ১৯৮৮-র ২০ জানুয়ারি তিনি প্রয়াত হন।


কৃতজ্ঞতা স্বীকার::white Politics

রুচির রঙ্গরস ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 — এই বিট্টু, কোন কলেজে ভর্তি হলি?

— এই তো টেকনো ইন্ডিয়ায়।

— এহ, বেসরকারী কেন রে?

— আরে এইবার কলেজে ভর্তির ফর্ম ফিল আপটা কেমন যেন উল্টোপাল্টা টাইপের। তাই ভালো কলেজ পেলাম না। তাই বাধ্য হয়েই আর কি.. তুই কোন কলেজে পেলি?

— আমি তো সুরেন্দ্রনাথ কলেজে।

— বাঃ ভালোই। 

— ভালো আর কোথায়...তোর কলেজে কত্ত মেয়ে শালা। টেকনোতে হেব্বি হেব্বি মেয়ে পড়ে। আমি রুখা-সুখা থাকব।

— আহা চাপ নিস না। তোর লাইন আমি লাগিয়ে দেব। 

— এই নাহলে বন্ধু!! 


আহঃ, এটাই তো প্রেমে পড়ার বয়স। আঠেরো উনিশ বছর বয়স। নতুন কলেজ। চারদিকে প্রেম যেন উড়ে বেড়াচ্ছে। প্রেম আর পলিটিক্সে ঢোকার এই তো উত্তম বয়স। এই বয়সে কলেজে উঠে শুরু হয় ইউনিয়ন। আর ইউনিয়নের একটু বড় পদে গেলে নাকি মেয়েদের লাইন লেগে যায়। চলো ফিরে যাওয়া যাক ১১৬ বছর আগে। মেদনীপুরের কলেজিয়েট স্কুলের এক স্টুডেন্ট। সে রামকে যতটা না চেনে তার চেনে বেশি চেনে সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে, ওর স্কুলের হেডমাস্টার। ছেলেটার জীবনে প্রেম এনেছিল ওই মাষ্টারমশাই, দেশপ্রেম। এখনকার ছেলেমেয়েরা প্রেম বলতে যা বোঝে তার চেয়ে অবশ্য অনেক বেশি কিছু। যাইহোক। ওর জীবনে প্রেম তো এলো। আর আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে গেল ওর জীবনে। 

ইতিহাসের পাতায় সময়টা ১৯০৫ সাল, বাংলা মায়ের বুক চিরে দুভাগ করার জন্য ব্রিটিশ সরকার তখন প্রস্তুত। সারা বাংলায় চলছে বিপ্লব, বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন। পূর্ববঙ্গ ও আসামের গভর্নর 'ফুলার' বিপ্লবী সন্দেহে সাধারণ ভারতবাসীর উপর অকথ্য নির্যাতন শুরু করেন। আর এদিকে  বাংলার গভর্নর 'ফ্রেজার' ও শোষণ আর অত্যাচারের দিক দিয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে ছিলেন না। বিপ্লবী 'যুগান্তর দলের' সদস্যরা এই দুই গভর্নর কে হত্যা করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এবার তাদের লক্ষ্য হয়ে ওঠে কলকাতা প্রেসিডেন্সির ম্যাজিস্ট্রেট,  অত্যাচারী 'কিংসফোর্ড'। কিংসফোর্ড বিপ্লবীদের মূল লক্ষ্য  হয়ে উঠেছেন এই সংবাদ পেয়েই ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাকে তড়িঘড়ি মুজাফফরপুর বদলি করে দেয় কিন্তু বিপ্লবীরা তাদের সিদ্ধান্ত থেকে পিছুপা হননি।

৩০ শে এপ্রিল ১৯০৮ বিহারের মোজাফ্ফরপুরে রাত্রি আটটা ত্রিশ মিনিটে রাতের অন্ধকারে, এক হাতে বোমা এবং অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে, ১৮ বছরের ছেলেটা কিংসফোর্ডকে হত্যা করার জন্য অপেক্ষা করছিল, সঙ্গে ছিল দীনেশ। যখন তারা দেখল কিংসফোর্ডের গাড়ি আসছে, তখন বোমা ছুঁড়ে মারল আর সঙ্গে সঙ্গেই সেই গাড়ি জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেদিন সেই গাড়িতে কিংসফোর্ড ছিল না। সেইদিন সেই গাড়িতে ছিল, মিসেস কেনেডি ও তার কন্যা। ব্যস ইংরেজদের রাতের ঘুম উড়ে যায়। 

 সেই ছেলেটা আর দীনেশকে ধরার জন্য ইংরেজ সরকার একশত কুড়ি টাকা (বর্তমান মূল্যে প্রায় ১.২ কোটি) পুরস্কার ঘোষণা করে দেন। ছেলেটা এবং দীনেশ দুজনে আলাদা আলাদা রাস্তা অবলম্বন করলেন। কিন্তু তাঁরা দুজনেই ইংরেজদের কাছে ধরা পড়ে যান। ইংরেজদের হাতে পড়ার আগে দীনেশ পিস্তলের গুলিতে নিজেকে হত্যা করেন। তবুও ব্রিটিশ সরকারের হাতে ধরা দিলেন না। অন্য দিকে ছেলেটা ইংরেজদের কড়া পাহারা থাকা সত্ত্বেও পঁচিশ মাইল (প্রায় ৪০ কিমি) রাস্তা পায়ে হেঁটে ওয়াইনি রেল স্টেশনে এক চায়ের দোকানে জল খেতে ঢুকলে সেখানে তাকে দেখে ইংরেজদের সন্দেহ হয় এবং তাঁর দেহ তল্লাশি করে একটা পিস্তল ও ৩৭ রাউন্ড গুলি পায় এবং তাঁকে ইংরেজরা গ্রেফতার করে।

একটা কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে পড়ার বয়সী ছেলের এতবড় সাহস!! আরেহ কোথায় সাহস দেখলেন? 

ধরা পড়ার পর বোমা নিক্ষেপের সমস্ত দায় নিজের ওপর নিয়ে নেয় ছেলেটা। অন্য কোন সহযোগীর নাম বা কোন গোপন তথ্য শত অত্যাচারেও প্রকাশ করেননি। মজফফরপুর আদালতে ছেলেটার বিচার কাজ শুরু হলো ০৮ জুন ১৯০৮। কিন্তু সারা পশ্চিমবাংলা থেকে কোন আইনজীবী মামলায় আসামী পক্ষের হয়ে কোন আইনজীবী আদালতে দাঁড়াতে সাহস পাননি। তখন পূর্ব বঙ্গ থেকে রংপুর বারের উকিল সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী, কুলকমল সেন ও নগেন্দ্রনাথ লাহিড়ী ছেলেটার পক্ষে মামলায় পরিচালনায় এগিয়ে আসেন।  ইতোমধ্যে বিচারকের অনুরোধে কালিদাস বসু নামে স্থানীয় এক আইনজীবী এগিয়ে আসেন আসামী পক্ষে। ৬ দিন চললো বিচার অনুষ্ঠান। বিচারের শুরুতেই ছেলেটা স্বীকার করে সবকিছু আর সব দোষ নিজের ঘাড়ে নেয়। ভারতীয় দণ্ডবিধি আইনের ৩০২ ধারা অনুযায়ী প্রানদণ্ডের রায় শোনার পরে দেখা যায় ছেলেটার মুখে হাসি।  বিচারক কর্নডফ তাকে প্রশ্ন করেন, তাকে যে ফাঁসিতে মরতে হবে সেটা সে বুঝেছে কিনা? উত্তরে ছেলেটা শুধু হাসে। ১৯০৮ সালের ১১ আগষ্ট। ভোর চারটে। একজন পুলিশ তাকে জিজ্ঞেস করে:

-এখন ভোর চারটে। আর কিছুক্ষণ পরেই আপনার ফাঁসি হবে। ভয় করছে না?

- আমি গীতা পড়েছি। তাই মৃত্যুকে আমি ভয় করি না।


একজন আঠারো বছর আট মাসের ছেলের বলা। খুব ঔদ্ধত্য তাই না? আরেহ ঔদ্ধত্য কোথায় দেখলেন! ফাঁসিতে তোলার আগে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তোমার শেষ ইচ্ছে কী? তার উত্তর ছিল, "আমি ভালো বোমা বানাতে পারি, মৃত্যুর আগে সারা ভারতবাসীকে সেটা শিখিয়ে দিয়ে যেতে চাই।

বিপ্লবীরা কোন দলের না, কোন গোত্রের না, যেখানে স্বৈরাচার সেখানেই বিপ্লবীরা সোচ্চার! ক্ষুদিরাম, প্রীতিলতারা সব সময় ছিল, আছে। ওদের মেরে ফেললে বিপ্লব অবসম্ভবী! মৃত্যুঞ্জয়ীদের গুলি করে মারা যায় না তারা রক্তবীজের মত হাজার হাজার হয়ে ফিরে আসে।

.

.

. কলমে ✍️✍️✍️  সব্যসাচী 


সংগৃহীত


ছবি - 🖼️ অলোক ভট্টাচার্য।

সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫

হিজাব কী? হিজাব শব্দটির বিবর্তিত অর্থ এখন এরকম— লজ্জাস্থান ঢেকে ও মুখ খোলা রেখে আরামদায়ক পোশাক-আশাক পরিধান করা

 যিনি নিকাব (বুরকা) পরেন, তিনি টেলিভিশনে অন্যকে কন্ঠ শোনাবেন কেন? যারা মুখ না দেখানোতে বিশ্বাস করেন, তারা কন্ঠ শোনানোতে বিশ্বাস করতে চান কেন? পরপুরুষ কন্ঠ শুনতে পারবে না— এটা ভুলে যেতে চায় কেন? চ্যানেল আই সঠিক কাজ করেছে। নিকাব আর হিজাব এক জিনিস নয়।


//


‘বুরকা’ ও ‘হিজাব’— এ দুটি বিষয়কে মুসলিমরা প্রায়ই গুলিয়ে ফেলে। ভাবে, হিজাব মানেই বুরকা। আসলে তা নয়। বুরকা হলো কোনো বিশেষ কারণে মাথা ও মুখ ঢেকে চলাফেরার পোশাক। বুরকার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। পৃথিবীতে ইসলাম আসার বহু আগে থেকেই বুরকা ছিলো। আরব পৌত্তলিকদের একটি অংশ বুরকা পরতো। বাইজেন্টিন নারীরাও বুরকা পরতো। সেদিক থেকে বুরকা মূলত অমুসলিমদের পোশাক। 


বুরকা প্রধানত পরা হতো— (ক) তীব্র রোদ ও বৈরি আবহাওয়া থেকে রক্ষা পেতে; (খ) গুপ্তচরবৃত্তি, চৌর্যবৃত্তি, ও চোরাকারবারের সহায়ক পরিধেয় হিশেবে; (গ) সম্মানজনক নয়, এমন পেশায় নিয়োজিত নারীদের রক্ষাকবচ হিশেবে; (ঘ) হারেমখানায় স্ত্রীর মর্যাদা পান নি, এমন নারী ও যৌনদাসীদের পরিচয় আড়ালকারক হিশেবে; এবং (ঙ) নেকাব দ্বারা চোখের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে (কারণ আরব নারীদের চোখ সুন্দর ছিলো)।

 

তবে বুরকা শুধু মাথা বা মুখের হয় না। পায়েরও হয়। যেমন চীনা নারীরা পা দেখাতে চায় না। তাদের জন্য জুতা একপ্রকার বুরকা।


ইসলামের শুরুর দিকে ‘হিজাব’ বা ‘পর্দা’ বলতে আড়ালকারক চাদর ও দেয়াল বুঝাতো। তখন বহুকক্ষবিশিষ্ট ঘর-বাড়ি আরবে ছিলো না। মসজিদে এতেকাফের সময় চাদর টাঙ্গিয়ে যেভাবে আলাদা কক্ষ তৈরি করা হয়, সেভাবে হিজাব টাঙ্গিয়ে ঘরের ভেতর সাময়িক কক্ষ সৃষ্টি করা হতো। নবী যখন তাঁর ঘরে স্ত্রী-কন্যাদের নিয়ে একসাথে থাকতেন, তখন প্রায়ই সাহাবিরা গল্পগুজব করতে আসতো। দূর থেকে মেহমানরা দেখা-সাক্ষাৎ করতে আসতো। একটি ছোট ঘরে হুটহাট অপরিচিত মানুষজন আসায় নবী পরিবারের নারী সদস্যরা বিব্রত বোধ করতেন। এ জন্য হিজাব টাঙ্গিয়ে, অর্থাৎ ঘরের মাঝখানে চাদর-সদৃশ কাপড় টাঙ্গিয়ে, নারী সদস্যদের প্রাইভ্যাসি দেয়া হতো। 


কিন্তু নবীর ওফাতের পর হিজাব শব্দটিকে কোরানের বিভিন্ন আয়াতের সাথে মিশিয়ে এর অর্থ ও পরিধি বাড়ানো হয়েছে। বিকৃত করা হয়েছে আসল রূপ। খিমার, জিলবাব, প্রভৃতি বিষয়কে হিজাবের সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে। যে-আয়াতগুলো কেবল নবীর স্ত্রী-কন্যার জন্য প্রযোজ্য, সে-আয়াতগুলোকেও সাধারণ নারীদের ওপর চাপানো হয়েছে। এ কৃতিত্ব মতলববাজ ধর্মবণিকদের।


নবীর কোনো স্ত্রী ও কন্যা বুরকা পরতেন না। তাঁর স্ত্রী খাদিজা মুখ খোলা রেখে চলাফেরা করতেন। তিনি স্বাধীনভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যও করতেন। নিয়মিত হাট-বাজারে যেতেন। ইসলামের নামে অতিরঞ্জিত কিছু পালন করা ইসলামসম্মত নয়। কোরানে কোথাও নারীদেরকে বুরকা পরতে নির্দেশ দেয়া হয় নি। বরং কিছু আয়াত পড়ে মনে হয়েছে, বুরকা একটি ইসলাম-বিরোধী পোশাক।


এই মুহুর্তে বিশ্বের অনেকগুলো দেশে বুরকা নিষিদ্ধ। কারণ আধুনিক রাষ্ট্রে বুরকা একটি গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি। বুরকা নিষিদ্ধ মানেই হিজাব নিষিদ্ধ নয়। ফ্রান্স বুরকা নিষিদ্ধ করেছে, যেরকম নিষিদ্ধ করেছে মরক্কোসহ আরও অনেক মুসলিম দেশ, কিন্তু এ দেশগুলো হিজাব নিষিদ্ধ করে নি। কোথাও “অমুক দেশ হিজাব নিষিদ্ধ করেছে”— এমন শোরগোল শুনলে বুঝতে হবে, মতলববাজরা ভুল তথ্য প্রচার করছে। সঠিক তথ্য হবে— অমুক দেশ বুরকা নিষিদ্ধ করেছে। ইসলামে হিজাব আছে, বুরকা নেই। 


সম্প্রতি লক্ষ করেছি, বাংলাদেশ পুলিশ প্রায়ই বুরকা পরা ইয়াবা ও গাঁজা-ব্যবসায়ী আটক করছে। ছেলেরা বুরকা পরে মেয়ে সেজে মাদক ব্যবসা করছে। সেদিক থেকে দেখলে বুরকা শুধু ইসলামবিরোধী পোশাক নয়, এটি একটি জনবিরোধী পোশাকও বটে। 


কেউ বুরকা পরতে চাইলে পরুক, এতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ চাহিবামাত্র তাকে নেকাব সরিয়ে মুখমণ্ডল প্রদর্শন করতে হবে। 'পরিচয় যাচাই' বা 'আইডি ভেরিফিকেশন' খুবই গুরুত্বপূর্ণ 'পাবলিক ইন্টারেস্ট'। আধুনিক রাষ্ট্রে মানুষের স্বাধীনতা অবাধ নয়। স্বাধীনতার সীমানা আছে। কারও ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতা 'পাবলিক ইন্টারেস্ট'-এর সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না। পাবলিক সিকিউরিটি, রুল অব ল, ফেয়ারনেস অব জাস্টিস— এ বিষয়গুলো রাষ্ট্রব্যবস্থার খুব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এগুলোকে ফাঁকি দিতে ধর্মীয় স্বাধীনতার দোহাই দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়।


বুরকা নারীর ব্যক্তিত্বকেও নষ্ট করে। বুরকা পরা নারীদের অনেকেই 'লো সেল্ফ-ইস্টিম' বা হীনম্মন্যতায় ভোগেন। তাদের সাহস, মনোবল, ও আত্মবিশ্বাস কম থাকে। এ জন্য নারীদের উচিত, যথাসম্ভব বুরকা পরিহার করা। বুরকা ইসলামের কোনো অংশ নয়। একটি বিশেষ মহল বুরকাকে ইসলামি পোশাক বলে প্রচার করছে। বুরকা পরার সাথে আল্লাহকে পাওয়ার, বা বেহেশতে যাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। কাউকে বুরকা পরতে বাধ্য করা, বা সারাক্ষণ ধর্মের ভয়ে বুরকা পরা, এগুলো আল্লাহর পছন্দের কাজ নয়। নবীর জীবদ্দশায় মুসলিম নারীরা রঙিন ও জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরতেন। 


হিজাব কী? হিজাব শব্দটির বিবর্তিত অর্থ এখন এরকম— লজ্জাস্থান ঢেকে ও মুখ খোলা রেখে আরামদায়ক পোশাক-আশাক পরিধান করা। শাড়ি, সালওয়ার-কামিজ, প্যান্ট, টি-শার্ট, চাদর, স্কার্ট, ব্লাউজ, এগুলো সবই হিজাব। হিজাব মানেই চোখ-মুখ ঢেকে ফেলা নয়। খিমার, জিলবাব, যিনাতাহুন্না, এসবের সাথে চোখ-মুখ ঢাকার কোনো সম্পর্ক নেই।


—মহিউদ্দিন মোহাম্মদ 

পৃষ্ঠা ২৪-২৭, বই: মূর্তিভাঙা প্রকল্প


ছি: ছি: ননী -পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ ও মূল্যায়ন!,,,,গানটির ছত্রে ছত্রে বিষাদ। বিশ্বাস ভঙ্গের ক্রোধ ও বেদনা অথচ আমরা কত সহজে!

 ।। ছি: ছি: ননী -পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ ও মূল্যায়ন!।। 


ধন কে দেখলু তুই ননী সিনা মনকে চিনলু নাই। 

সুনাকে চিনলু বানাকে চিনলু মনুষ চিনলু নাই।

ধন নাই বলি মোর পাখে ননী তার কাছে উঠি গলু।

ধন আছে সিনা মন নাই তাকে তুই জানি না পারালু।গোটে দিন মিশা যগিদেলু নাহি কেড়ে কথা করি দেলু।

মুই গাঁ যা'ই করি আসলা বেলে কেন্তা পাছরি দেলু।

রে ছি ছি ছি ননী ছি ছি ছি।


***

সারেতে দিনরা সান হেইবা কাজে ফজল নেই রেলু

বানজারিনী মা'রা পাখে যাই নিয়ম করি রেলু 

গালাগালা যাক তোর হেবি বলি কেড়েকথা কহি রেলু 

মুই গাঁ যা'ই করি আসলা বেলে কেন্তা পাছরি দেলু।

রে ছি ছি ছি ননী ছি ছি ছি।

***


তোর কথা ধরি ঋণ বাড়ি ধারি সবোকথা করিথিলি,

মালি মুদি গুণ পামেদি পাজহাল সবকিছু দেই থিলি।

তাতে শ্রদ্ধ বলি রঙপাতা কানি, 

সঙ দেই রেলিঙ ঘরে, 

ভোজভাত লাগি, ছেলি মেন্ধা কিনি, রাখি দিলি আমার ঘরে,

নাশাই দেলু ননী সবই আশা মোরা,

ক্যা দুঃখ তুই দেলু,

মুই গাঁ যা'ই করি আসলা বেলে কেন্তা পাছরি দেলু।

রে ছি ছি ছি ননী ছি ছি ছি।


▪️▪️গানটি মূলত: উড়িয়ার একটি উপভাষায় রচিত, কোরাপুট- সম্বল পুরের আঞ্চলিক ভাষা। ▪️▪️

______________________________________________

(বাংলা) 


সম্পত্তি দেখলে মেয়ে কিন্তু মনটাকে দেখলে না তাকে চিনলে না।

সোনাদানাটাই  চিনলে কেবল, মানুষটাকে তার ভালোবাসাটা চিনলে না।

আমার কাছে ধন নেই বলে, আজ তার কাছে চলে যেতে পারলি!

ধনসম্পদ হয়তো আছে কিন্তু হৃদয় নেই তার;  তুমি বুঝতেও পারলে না!

একটা গোটা দিনও অপেক্ষা করতে পারলি না,এতো বড়ো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললি!

অথচ আমি যখন আমার গ্রাম থেকে ফিরলাম, তুমি কী করে সব ভুলে গেলে?

ওরে,  ছি ছি ছিরে  মেয়ে ছি ছি ছি, ধিক তোমারে।

***


সারাদিন সামর্থ্যের মধ্যে ছোট ছোট আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করতাম।

আমি তোমার মা-কে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলাম, ভালো রাখব।

অনেক বার বলেছি, আমার কাছে কেমন ছিলে তুমি

অথচ আমি যখন আমার গ্রাম থেকে ফিরলাম, তুমি কী করে সব ভুলে গেলে?

এটা লজ্জারে মেয়ে, ছিঃ ছিঃ 


***

তোমার জন্য এত ঋণ, বাড়ি অবধি বাঁধা রাখলাম।শুধু তোমায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে... 

তুমি যা চেয়েছ সবই করেছি।

তোমাকে সব রকম উপহার কিনে দিলাম।

রঙিন পাতায় ভালোবাসার স্মৃতি বুনেদিলাম। 

 ঘরেতে আমাদের বিয়ের ভোজ অনুষ্ঠানের জন্য একটি ছাগলও কিনে রাখলাম। 

অথচ এক লহমায় তুমি আমার সব আশা নষ্ট করে দিলে!

ননী, কেন তুমি আমাকে এই ব্যথা দিলে? কী দোষ ছিল আমার?  দারিদ্র?

আমি গ্রাম থেকে ফিরে দেখলাম, তুমি সব ভুলে গেছ?

তোকে ধিক্কার মেয়ে ধিক্কার.... 

তমোঘ্ন নস্কর 


    ~ গানটির ছত্রে ছত্রে বিষাদ। বিশ্বাস ভঙ্গের ক্রোধ ও বেদনা অথচ আমরা কত সহজে! 

লেখক, শিল্পী শুধু অর্থেই খুশি হন না। তিনি খুশি হন যথার্থ মূল্যায়নে। এ আমার তাঁর প্রতি ক্ষমা চাওয়া।🙏

আম গাছে মুকুল আসছেনা?শুধু নতুন পাতা বের হচ্ছে। নো টেনশন, জেনে নিন সমাধা

 আম গাছে মুকুল আসছেনা?শুধু নতুন পাতা বের হচ্ছে। নো টেনশন, জেনে নিন সমাধান । 🥭


 জানুয়ারি শেষের দিকে।ইতিমধ্যেই সকলের আম গাছগুলিতে মুকুল এসে গেছে কিন্তু আপনার বা অনেকের বাগানের বাকি গাছগুলোতে মুকুল আসবে আসবে করছে। তবে এখনো যদি আপনার আম গাছে  মুকুল না এসে থাকে, তাহলে টেনশনের কোন কারন নেই, ছোট্ট একটা পদক্ষেপ নিতে পারেন ইনশাআল্লাহ ভালো কাজে আসবে । 

 জাতগত পার্থক্যের কারনে প্রত্যেকটা গাছে মুকুল আসার ধরন ও কিন্তু একটু আলাদা হয়ে থাকে । যেমন –


একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন কিছু আম গাছের পত্র মুকুলের কোল থেকে মুকুলটা হয় , যার কোন পাতা হয় না, পুরোটাই মুকুল নিয়ে বের হয়।

কিছু গাছে আবার আগে পাতা বের হয় , পাতা বের হওয়ার পর মুকুল আসতে শুরু করে।

কিছু কিছু গাছের ক্ষেত্রে আবার প্রচুর নতুন পাতা বের হয় , সাথে প্রত্যেকটা পাতার কোল থেকে মুকুল আসতে দেখা যায় ৷ মাঝে মাঝে কিছু গাছে মুকুলের মধ্যে খুব ছোট ছোট পাতা বের হয়। মুকুল যত বড় হয় ততই সেই পাতাগুলো শুকিয়ে ঝরে পড়ে যায় ।


সুতরাং যাদের গাছে এখন নতুন পাতা বের হচ্ছে, তাদের গাছ এখন গ্রোথ নিচ্ছে। নতুন গ্রোথ নিচ্ছে মানেই যে সেই গাছে মুকুল আসবে না তা কিন্তু নয়। আবার এই নয় যে, নতুন পাতা বেরোলে সব গাছে মুকুল আসবে। সেটা নির্ভর করে গাছের বয়স এবং গাছের গঠনের উপর ভিত্তি করে ।


তবে যাদের আমগাছ গুলো ফল দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিণত , তারপর ও নতুন পাতা বের হচ্ছে মুকুল না এসে , তাদেরও চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, মাঝে মাঝে আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে গাছে মুকুলের পরিবর্তে নতুন পাতা আসে এবং মুকুল ও আগে পরে বের হয় । আপনার মুকুল না আসা আম গাছের বয়স যদি ৩ বছরের বেশি হয়ে থাকে সাথে গাছও যদি যথেষ্ট হেলদি থেকে থাকে , তাহলে সেই গাছে এবার ফল নেওয়া জন্য নিচের দেখানো নিয়মে চেষ্টা করতে পারেন সামান্য কিছু পরিচর্যার মাধ্যমে ।


পরিচর্যা গুলো হলো :


▪️প্রথমেই মনে রাখতে হবে সম্পূর্ণ গাছেই যদি নতুন ডাল বের হয়ে গিয়ে থাকলে, তাহলে গাছকে ফোর্স না করে আগামী বছরের অপেক্ষায় থাকলে ভালো হবে। 


▪️যে গাছ গুলোর মধ্যে কিছু কিছু ডালে নতুন পাতা সবে বের হতে শুরু করেছে এবং মুকুল এর দেখা নেই, সেই গাছের নতুন ডালের গোড়া থেকে ভাল করে কেটে দিন। কাটা জায়গায় ছত্রাক নাশক স্প্রে করে দিন ।


▪️বিগত ১৫ দিনের মধ্যে যদি কোনো PGR( plant growth regulator) স্প্রে না করে থাকেন, তাহলে এখন মিরাকুলান বা ফ্লোরা ১-২ বার স্প্রে করে দিন। মিরাকুলান হলে প্রতি লিটার জলে দুই এম এল এবং ফ্লোরা হলে প্রতি লিটার জলে  হাফ এম এল । তবে দুটোর যেকোনো একটি দু’বার ব্যাবহার করা যাবে না, বরং দুটো দুইবার পাল্টে পাল্টে স্প্রে করুন।


▪️ PGR স্প্রে করার দুইদিন পর হাফ চা চামচ পটাশিয়াম সালফেট এবং দুই গ্রাম বোরন মিশিয়ে ভালো করে স্প্রে করে দিতে হবে গোটা গাছে। সেইসঙ্গে এই মিশ্রণ মাটিতেও প্রয়োগ করতে হবে।


PGR টা আবার কি? 


 Pgr হল (Plant. Growth Regulator) অর্থাৎ সোজা বাংলায় বলতে গেলে গাছের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক। সহজ ভাষায় যাকে গাছের ভিটামিনও বলা যেতে পারে। যা অত্যন্ত কার্যক্ষমতা সম্পন্ন উদ্ভিদ বৃদ্ধি উদ্দীপক যা গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয়। 


আপাতত এইটুকু পরিচর্যায় যথেষ্ঠ, যার ফলে একটু দেরীতে হলেও আপনার গাছে মুকুল চলে আসবে ইনশাআল্লাহ ।


পরিশেষে, যদি মনে করেন লেখা গুলো বাগানীদের উপকারে আসবে, তাহলে ফেসবুকের পোস্ট টি শেয়ার করুন।

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ২৭-০১-২০২৫ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ২৭-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগদানে প্রধান উপদেষ্টার সুইজারল্যান্ড সফর বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক অর্জন - সংবাদ ব্রিফিং-এ বললেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণে রেখে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান আইন উপদেষ্টার।


ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে হলে বিধি-বিধান ঠিক করে অক্টোবরের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে হবে - জানালেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।


ভারত ভিসা বন্ধ রাখায় চিকিৎসার জন্য চীন বাংলাদেশীদের জন্য বিকল্প হতে পারে - সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য পররাষ্ট্র উপদেষ্টার।


জানুয়ারির মধ্যেই সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বই পাবে - জানালেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা।


ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে স্থানান্তরে ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলো জর্ডান ও মিশর।


মিরপুরে বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফরচুন বরিশাল ও দুর্বার রাজশাহীর জয় - আজ দুটি খেলা।

সফল হওয়ার উপায় এই ২১ "না" কে প্রাধান্য দিন

 ১. নিজেকে কখনো বড় করে প্রকাশ করবেন না। এতে আপনি ছোট হবেন।


২. ভুল স্বীকার করার মানসিকতা দেখান। "Thank you", "Please" এই কথাগুলো বলতে দ্বিধা করবেন না।


৩. কারো কাছে নিজের সিক্রেট শেয়ার করবেন না বা কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না।


৪. অভিজ্ঞতা ছাড়া ব্যবসা করতে যাবেন না।


৫. পর্ণে আসক্ত হবেন না। এতে করে আপনি ক্ষণস্থায়ী সুখের জন্য সুন্দর জীবন হারাবেন।


৫. পরচর্চা করবেন না। যে ব্যক্তি আপনার সামনে অন্যের নিন্দা করে, সে নিশ্চিতভাবে অন্যের সামনে আপনার নিন্দা করে।


৬. গাধার সাথে তর্ক করতে যাবেন না। তর্কের শুরুতেই গাধা আপনাকে তার স্তরে নামিয়ে আনবে, তারপর আপনাকে সবার সামনে অপদস্থ করবে।


৭. পরে করব ভেবে কোনো কাজ ফেলে রাখবেন না। আপনি যদি তা করেন শতকরা ৮০ ভাগ সম্ভাবনা কাজটি আপনি আর কখনোই করতে পারবেন না।


৮. 'না' বলতে ভয় পাবেন না।


৯. স্ত্রীর কারণে বাবা-মাকে বা বাবা মায়ের কারণে স্ত্রীকে অবহেলা করবেন না।


১০. সবাইকে সন্তুষ্ট করতে যাবেন না। এতে আপনি আপনার ব্যক্তিত্ব হারাবেন।


১১. ঝুঁকি ছাড়া সাফল্য আসে না। তাই জীবনে ক্যালকুলেটেড রিস্ক নিতে ভয় পাবেন না।


১২. স্মার্টফোনে আসক্ত হবেন না। গুগলে জীবনের সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন না।


১৩. মনের ইচ্ছা প্রকাশ করতে দেরি করবেন না। কারণ, এই একটি কাজের বিলম্বের জন্য আপনি সারাজীবন পস্তাতে পারেন।


১৩. রিলেশনসিপে অসুখী হলে সেটা আঁকড়ে ধরে থাকবেন না। যে সম্পর্ক মানসিক যন্ত্রণা দেয়, ভেতরে অশান্তি সৃষ্টি করে তা জীবন থেকে দ্রুত মুছে ফেলুন।


১৪. আপনি কখনোই জানেন না যে আপনি স্বপ্নপূরণের ঠিক কতটা কাছাকাছি। তাই, কখনোই লক্ষ্যের পিছু ধাওয়া করা বন্ধ করবেন না। বেশিরভাগ মানুষ সাফল্য লাভের কাছাকাছি গিয়ে হাল ছেড়ে দেয়।


১৫. অকারণে শত্রু বাড়াবেন না।


১৬. কারো ধর্মবিশ্বাসে আঘাত দিয়ে কোনো কথা বলবেন না বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করবেন না।


১৭. বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের সাথে একান্ত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও করবেন না। তার সাথে আপনার বিয়ে হবেই বা সে আপনাকে ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেইল করবে না এটা আপনি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারেন না।


১৮. যে আপনার কথা শোনার জন্য প্রস্তুত নয়, তাকে কিছু শেখাতে যাবেন না। সে ঠকবে, ভুল করবে, ধাক্কা খাবে; তারপর একসময় ঠিকই আপনার মূল্য বুঝতে পারবে।


১৯. নিজের সম্মান বিসর্জন দিয়ে মানুষের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবেন না। যেখানে আপনার সম্মান নেই সেখান থেকে এখনই নিজেকে গুটিয়ে নিন।


২০. টাকার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে প্রিয়জনদের বঞ্চিত করবেন না।


২১. যেটা হাতছাড়া হয়ে গেছে সেটা নিয়ে আফসোস করবেন না।

ঈশপের গল্প’" গোটা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে  আছে।  কিন্তু কে ছিলেন এই Aesop? কী        করে এই গল্পগুলো তৈরি হয়েছিল? 

 "ঈশপের গল্প’" গোটা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে 

আছে।  কিন্তু কে ছিলেন এই Aesop? কী 

      করে এই গল্পগুলো তৈরি হয়েছিল? 

      এই প্রশ্নগুলো আমাদের অনেকের 

      মধ্যে ঘোরাফেরা করে বহুদিন ধরে। 


আর অদ্ভুত কথা, যার তৈরি করা গল্পগুলো কয়েক হাজার বছর ধরে জীবিত রয়েছে, তার স্রষ্টার সম্পর্কে খুবই কম জানা যায়। অনেকটাই ধোঁয়াশায় ভরা। মনে করা হয়, খ্রিস্টপূর্বাব্দ ৬২০ থেকে ৫৬০-এর মধ্যে বর্তমান ছিলেন ঈশপ। বর্তমান তুর্কির কাছাকাছি কোনো একটা অঞ্চলে জন্মেছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে যখন ঈশপের জনপ্রিয়তা কিংবদন্তির আকার নিল, তখন অন্যান্য জায়গা থেকেও একই দাবি জানানো হল। কখনও আফ্রিকা, কখনও আবার জাপান, ইংল্যান্ড— সবাই চায় তাঁর জন্মস্থানের ভাগীদার হতে। তবে আদতে সেটি ঠিক কোথায়, তা নিয়ে অবশ্য আজও গবেষণা জারি আছে। 


হেরোডোটাস, অ্যারিস্টটলের মতো প্রাচীন দার্শনিক ও ঐতিহাসিকদের লেখা থেকে জানা যায়, ঈশপ আদতে ক্রীতদাস ছিলেন। আর সেই সময় ক্রীতদাসদের জীবন ঠিক কেমন ছিল, সেটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। মনে রাখা দরকার, তখনও গ্রিস আর রোমের সভ্যতা অস্ত যায়নি। জ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস চর্চার মাঝে এমন অদ্ভুত রীতিও জারি ছিল। আর তারই দাস ছিলেন ঈশপ। কিন্তু কোথায় বলে না, জীবন সবাইকেই কিছু না কিছু সুযোগ দেয়। আর সঙ্গে দেয় প্রতিভাও। দ্বিতীয় বিষয়টি ঈশপের মধ্যে ভরপুর ছিল। তাঁর সহজাত বুদ্ধি, হাস্যরস, বিচক্ষণতার ঝলক প্রায়শই দেখা যেত। প্রকৃতির মাঝে বসে সেখান থেকেই গল্পের রসদ খুঁজে পেতেন। আর ছিল মানুষ। এই সবকিছু মিলেই তৈরি হত জাদু। তৈরি হত ঈশপের গল্প। 


কিন্তু ভাগ্য সঙ্গ না দিলে যা হয়। ক্রীতদাসের জীবন থেকে এত সহজে তো মুক্তি মিলছে না। এদিকে দেখতেও খুব একটা ভালো নন তিনি। তাঁর চেহারা দেখে আর গলার আওয়াজ শুনে বাকি লোকেরা ঠাট্টা-তামাশাও করত। সেইসঙ্গে ছিল মালিকরা। ইতিহাসবিদরা মনে করেন, নিজের জীবনে মোট দুজনের দাসত্ব করেছিলেন ঈশপ। প্রথম মনিবের কাছ থেকে অবহেলাই জুটেছে। কিন্তু দ্বিতীয় অভিজ্ঞতা তেমনটা নয়। ঈশপের বুদ্ধি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন তাঁর দ্বিতীয় মনিব। এবং তারপরই তিনি দাসত্ব থেকে মুক্তি দিলেন তাঁকে। মুক্ত হলেন ঈশপ, একটা অন্য জগত যেন খুলে গেল তাঁর সামনে… 


নিজের জীবনকালে নানা জনের কাছে গল্প বলে বেরিয়েছেন ঈশপ। তাঁর বলার ধরণ এবং গল্পের জন্য অচিরেই লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ল নাম। সাধারণ সব গল্প, কিন্তু সেই সহজতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবনের মানে। গ্রিস, রোমের রাস্তায় রাস্তায় ঈশপের গল্প ছড়িয়ে পড়ল। শোনা যায়, বন্দি অবস্থায় কারাগারের ভেতর বসে সক্রেটিস নাকি ঈশপের কিছু গল্পই লিখে রাখার কাজ করেছিলেন। কিন্তু ঈশপের জীবনকালে কখনও লিপিবদ্ধ করা হয়নি এই কাহিনিগুলো। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে ডেমেত্রিয়াস প্রথমবার ঈশপের গল্পগুলিকে একসঙ্গে করে সংকলন বের করেন। তখনই প্রথমবার লিখিত আকারে পাওয়া গেল এই কাহিনি। বাকিটা তো এক কিংবদন্তির যাত্রা। আমাদের জীবনের সঙ্গে যা জড়িয়ে গেছে ওতপ্রোতভাবে।                                                                                                              সুত্র… ডিড ইউ নো?



টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা ঝ্যাং ইমিং আসলেই জিনিয়াস,,,,,,, ফাপরবাজ ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 টিকটকে কন্টেন্ট বানিয়ে রাতারাতি অনেকেই বনে গেছেন জিরো থেকে হিরো, পেয়েছেন সেলিব্রিটি তকমা। তবে টিকটকের আসল হিরোর গল্পটা সবসময়ই রয়ে গেছে অজানা। মাত্র ৪০ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোম্পানির সিইও বনে যাওয়া সেই জিনিয়াসের নাম ঝ্যাং ইমিং।


১৯৮৩ সালের পহেলা এপ্রিল চীনের ফুজিয়ান প্রদেশে জন্ম নেয় বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ঝ্যাং ইমিং। তার বাবা-মা দু'জনেই ছিল সিভিল সার্ভেন্ট। স্কুলে পড়াকালীন সময় থেকে বিজ্ঞানের নানা চমকপ্রদ আবিস্কারের প্রতি তার আগ্রহ গড়ে ওঠে। সেই আগ্রহ থেকেই ২০০১ সালে নানকাই বিশ্ববিদ্যালয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন ঝ্যাং।


ছোটবেলা থেকেই টেকনোলজির প্রতি ঝোক থাকায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে থেকেই ঝ্যাং তার ব্যাচমেটদের চেয়ে অনেক বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। ফলে প্রফেসর ও স্টুডেন্টের মাঝে তার আলাদা জনপ্রিয়তা ছিল। এই জনপ্রিয়তার কারণে ইউনিভার্সিটি লাইফেই ঝ্যাং তার জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পান।


২০০৫ সালে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিটের এক বছর পর ঝ্যাং ‘কুসুন’ নামের একটি ট্রাভেল কোম্পানিতে ইঞ্জিনিয়ার পদে যোগদান করেন। তিন বছর পর ২০০৮ সালে ঝ্যাং স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটে জয়েন করেন। তবে সেখানকার ধরাবাঁধা অফিস-লাইফে মন না বসায়, তিনি মাইক্রোসফট ছেড়ে একটি মাইক্রো-বগ্লিং কোম্পানিতে যোগ দেন। তবে মার্কেট ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় এক বছরের মাথায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায় এবং ঝ্যাং জবলেস হয়ে পড়েন।


মাইক্রোসফটে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার ছেড়ে এমন অবস্থায় এসে অন্য কেউ যেখানে হাল ছেড়ে দিত, ঝ্যাং সেখানে নিজেই একটি বিজনেস খুলে বসেন। শুরু হয় স্বপ্নবাজ ঝ্যাং ইমিংয়ের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। তিনি 99fang নামে একটি রিয়েল স্টেট সার্চিং সাইট খুলেন, যেটি ছয় মাসের মধ্যেই দেড় মিলিয়নের বেশি মানুষকে আকৃষ্ট করে।


তবে নিজের পরিচয় বানানোর জন্য যে লোকটি মাইক্রোসফটের জব ছেড়েছিলেন, এটুকুতেই কি তিনি থেমে থাকতে পারেন? মোটেও না। ঝ্যাং আবারও নতুনভাবে চিন্তা শুরু করেন। ২০১২ সালে 99fang এর সিইও পোস্ট ছেড়ে তিনি নতুন এক কোম্পানি খুলেন, যেটির নাম দেন বাইটড্যান্স।


প্রথমদিকে ফান্ডের জন্য একাধিক প্রতিষ্ঠানের দারস্থ হয়েও ব্যর্থ হওয়ার পর একটি প্রতিষ্ঠান ঝ্যাংয়ের উদ্যোগে সাড়া দেয়। ৪০ জন কর্মী নিয়ে একটি ছোট ফ্ল্যাট ভাড়া করে শুরু হয় ঝ্যাং ইমিংয়ের স্বপ্নজয়ের যাত্রা। ২০১২ সালে নিজেদের প্রথম অ্যাপ ‘নেহান ডুয়ানজি’ লঞ্চ করে বাইটড্যান্স। এটি ছিল মূলত একটি মিমস ও জোকসের অ্যাপ।


অ্যাপটি অল্প সময়ের মধ্যে ট্রেন্ডে চলে আসে। অ্যাপটি এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল যে, কিছু ত্রুটির কারণে চীনা সরকার অ্যাপটি ব্যান করে দিলে, সাত শতাধিক ব্যবহারকারী প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। বাইটড্যান্সের উদ্যোগেই ২০১৫ সালে লঞ্চ করা হয় ‘ডোউইন’ যেটি বর্তমানে টিকটক নামে সবার কাছে পরিচিত।


টিকটক যখন লঞ্চ করা হয় তখন মার্কেটে এর সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ ছিল আরেক চীনা অ্যাপ ‘মিউজিক.লি’। এক বছরের মধ্যে ঝ্যাং ইমিংয়ের বাইটড্যান্স ‘মিউজিক.লি’ অ্যাপটি ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে কিনে নেয় এবং এর সব সাবস্ক্রাইবকে টিকটকে এড করে নেয়। তারপর চীনের সীমানা পেরিয়ে টিকটক বিশ্বের ১৫৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে।


২০২১ সালে ঝ্যাং বাইটড্যান্স তথা টিকটকের সিইও পদ ছাড়লে কোম্পানির ৫০ শতাংশ মালিকানা তার দখলে রয়েছে।২০২৪ সালের জরিপ অনুযায়ী, ৪৯.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সম্পদ নিয়ে চীনের ধনী ব্যক্তিদের শীর্ষে রয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই লিভিং জিনিয়াস।


বই পড়ার সুন্দর দুটা পদ্ধতি আছে,,,,,, নন্দিত আরাধনা ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 বই পড়ার সুন্দর দুটা পদ্ধতি আছে।  প্রথমটি হল সাথে একটা নোট খাতা রাখা এবং দ্বিতীয়টি হল শুধু মাত্র রিডিং না পড়ে  প্রত্যেকটি লাইনে লাইনে লেখকের সাথে যুক্তি তর্ক করে যাবেন। 


প্রথম পদ্ধতিটা আমি শিখেছি লেখক আহমদ ছফা'র কাছ থেকে। ছাত্রাবস্থায় তিনি  অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে রোজ একটি করে বই নিয়ে পুরো বইএর সারমর্ম একটা নোট খাতায় নিজের মত করে লিখে রাখতেন। 


এই নোট করে রাখার প্র্যাকটিসটা হুমায়ূন আহমেদের ভেতরেও পেয়েছি যদিও তার  স্মৃতি শক্তি অনেক প্রখর ছিল।  জীবনের শেষের দিকে এসে  স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শৈশবের সাত বছর বয়সে লুকিয়ে প্রথম বই পড়ার কথা লিখতে গিয়ে তিনি সেই বইএর ভেতরের গল্পটাও লিখে ফেলেছেন ! 


বই পড়ার দ্বিতীয় পদ্ধতিটা আমি শিখেছি, ভারতীয় যুক্তিবাদী লেখক প্রবীর ঘোষের কাছ থেকে। তিনি একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, আপনি যদি লেখক যাই লিখেন কোন রকমের চিন্তা ভাবনা না করে সবই বিশ্বাস করতে শুরু করেন তাহলে তার দশটা সত্য কথার সাথে দু একটা মিথ্যা কথাকেও বিশ্বাস করতে শুরু করবেন। এই দুটা মিথ্যা কথা আপনার জীবনে অনেক ভয়ংকর হবে ! কেননা দশটা সত্য কথার সাথে একটা মিত্থা কথা মিশে গেলে সেটাকে আলাদা করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।  


খাতায় নোট করবার ব্যাপারে আমি বেশ কিপটে। খুব সামান্যই লিখে রাখি।  কিন্তু বিশ্বাস করুন, যখন আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি এই নোট খাতাটা খুলে পড়তে শুরু করি এবং যেখান থেকে আমি দৌড়ানোটা থামিয়েছিলাম সেখান থেকেই আবার দৌড়াতে শুরু করি।  


এ পি জে আবদুল কালামের ' টার্নিং পয়েন্টস' পুরো গ্রন্থটা পড়ে আমি শুধু মাত্র সেখান থেকে একটা লাইন আমার নোট খাতায় টুকে রেখেছি। আমি জানি যেদিন আমি মেঝেতে চিত হয়ে মাথার নিচে হাত দিয়ে কাত হয়ে শুয়ে থাকব সেদিন এই লাইনটাই আমাকে মায়ের মত পিঠ চাপড়ে ভরসা দেবে। লাইনটা হল-'' আমি পেশা হিসেবে গবেষণা এবং শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছি কেননা আমি পুনরাবৃত্তি ভালোবাসি'' 


কিছু কিছু শব্দ আছে নিঃশব্দের মত। আমার কাছে পুনরাবৃত্তি শব্দটাকে সেরকম মনে হয়েছে। আমরা বেশিরভাগ মানুষ সফল হইনা কেননা আমরা পুনরাবৃত্তি পছন্দ করি না। একটা কাজে বাঁধা পেলে সেটা বার বার পুনরাবৃত্তি করার ধৈর্যটা আমাদের থাকে না। 


আইরিশ লেখক জর্জ বার্নার্ডশ তার একটা নাটকের সংলাপে লিখেছেন '' আমি যেদিন থেকে বুঝেছি কোন একটা কাজ দশবার করার পর আমি একবার সফল হই সেদিন থেকে আমি প্রত্যেকটি কাজ দশবার করে করা শুরু করেছি''


হার্নিয়ার(Hernia) হোমিও ঔষধসমূহ

 🛑হার্নিয়ার(Hernia) হোমিও ঔষধসমূহ🛑 ♦️Lycopodium - ডান পাশে হার্নিয়া ।  - গ্যাস, অম্বল, পেট ফোলা ।  - ক্ষুধা কম আবার না খেতে পারলে শরীর কাঁ...