এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫

পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে বাকৃবির একদল গবেষক দেশীয় ব্ল্যাক বেঙ্গল ও দক্ষিণ আফ্রিকার বোয়ার জাতের সংকরায়ন করে উদ্ভাবন করেছেন একটি নতুন জাতের ছাগল, যা মাংস উৎপাদনে দ্বিগুণ কার্যকর। 

পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে বাকৃবির একদল গবেষক দেশীয় ব্ল্যাক বেঙ্গল ও দক্ষিণ আফ্রিকার বোয়ার জাতের সংকরায়ন করে উদ্ভাবন করেছেন একটি নতুন জাতের ছাগল, যা মাংস উৎপাদনে দ্বিগুণ কার্যকর। 

গবেষণা অনুযায়ী, নতুন জাতটি ব্ল্যাক বেঙ্গলের মতোই সহজে লালন-পালন করা যায়। কিন্তু বছরে পুরুষ ছাগল ২৬ কেজি ও স্ত্রী ছাগল ২৩ কেজি মাংস উৎপাদনে সক্ষম, যা ব্ল্যাক বেঙ্গলের দ্বিগুণ। পাশাপাশি, এই ছাগল বছরে পাঁচটি বাচ্চা দেয়, যার প্রতিটির বাজারমূল্য ২০-২৫ হাজার টাকা। ফলে এক বছরে একজন খামারি নতুন জাত থেকে আয় করতে পারবেন প্রায় এক লাখ টাকা, যা ব্ল্যাক বেঙ্গলের তুলনায় ৪০ হাজার টাকা বেশি।

গবেষকরা জানিয়েছেন, সংকর জাতের ছাগলের মাংসের স্বাদ ভালো এবং এগুলো দেখতে সাদা, কালো বা বাদামি রঙের হয়। তবে নতুন জাতকে প্রজননের জন্য নয়, কেবল মাংস উৎপাদনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে হবে।

বাকৃবির গবেষণার এই উদ্ভাবন দেশের খামারিদের আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং মাংস উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে




ব্রয়লার মুরগি পালন: একটি সম্পূর্ণ নির্দেশিকা

 ব্রয়লার মুরগি পালন: একটি সম্পূর্ণ নির্দেশিকা


ব্রয়লার মুরগি পালন লাভজনক একটি খামারব্যবস্থা যা দ্রুত মাংস উৎপাদনের জন্য করা হয়। সফল ব্রয়লার খামার গড়ে তুলতে সঠিক হাউজিং, ব্রুডিং, খাদ্য সরবরাহ, পানি প্রদান, টিকা প্রদান, বায়োসিকিউরিটি এবং সংগ্রহ (হারভেস্টিং) প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।


১. হাউজিং (বাসস্থানের ব্যবস্থা)


ব্রয়লার মুরগির ঘরটি প্রশস্ত, আলো-বাতাস চলাচলের উপযোগী এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে।


প্রতি বর্গফুটে ১-১.৫টি মুরগির ব্যবস্থা রাখা উচিত।


মেঝেতে পর্যাপ্ত লিটার (বিছানা) যেমন কাঠের গুঁড়ো বা ধানের তুষ বিছানো উচিত (৪-৬ ইঞ্চি)।


পর্যাপ্ত আলো ও বায়ু চলাচলের জন্য জানালা ও ফ্যানের ব্যবস্থা করতে হবে।


২. ব্রুডিং (প্রাথমিক পরিচর্যা)


ব্রয়লার মুরগির বাচ্চাগুলো (চিকস) প্রথম ৭-১৪ দিন বিশেষ তাপমাত্রা ও যত্নের অধীনে রাখতে হয়।


প্রথম সপ্তাহে তাপমাত্রা ৩২-৩৪°C রাখতে হবে এবং ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে।


মুরগির গতিবিধি দেখে বুঝতে হবে যে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে আছে কি না—


যদি তারা এক জায়গায় গাদাগাদি করে থাকে, তাহলে ঠান্ডা লাগছে।


যদি তারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে, তাহলে তাপমাত্রা স্বাভাবিক।


যদি তারা দূরে দূরে থাকে, তাহলে অতিরিক্ত গরম লাগছে।


পর্যাপ্ত আলো ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।


৩. খাদ্য সরবরাহ (ফিডিং)


ব্রয়লার মুরগির বৃদ্ধির জন্য ব্যালান্সড ফিড (পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য) প্রদান করতে হবে।


খাদ্য তিনটি ধাপে সরবরাহ করা হয়:


1. স্টার্টার ফিড (০-১০ দিন) – উচ্চ প্রোটিনযুক্ত ফিড, দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।


2. গ্রোয়ার ফিড (১১-২৫ দিন) – মাংসের বৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন।


3. ফিনিশার ফিড (২৬-৩৫ দিন বা বাজারজাতকরণের সময় পর্যন্ত) – ওজন বাড়ানোর জন্য দেয়া হয়।


খাবার সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে হবে এবং দিনে ৪-৬ বার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা উচিত।


৪. পানির সরবরাহ (ওয়াটারিং)


ব্রয়লার মুরগিকে সবসময় পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ ও ঠান্ডা পানি সরবরাহ করতে হবে।


পানির পাত্র প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে এবং এতে ভিটামিন ও ইলেক্ট্রোলাইট যোগ করা যেতে পারে।


গরমের সময় দিনে ৩-৪ বার পানির পরিবর্তন করা উচিত।


৫. টিকা প্রদান (ভ্যাকসিনেশন)


মুরগিকে বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষার জন্য সময়মতো টিকা প্রদান করতে হবে।


সাধারণত ব্যবহৃত ভ্যাকসিন:


মারেক্স ডিজিজ ভ্যাকসিন – ১ দিন বয়সে


নিউক্যাসল ডিজিজ ও ইনফেকশাস ব্রোনকাইটিস – ৫-৭ দিন বয়সে


গাম্বোরো ডিজিজ (IBD) ভ্যাকসিন – ১২-১৪ দিন বয়সে


দ্বিতীয় নিউক্যাসল ডিজিজ ভ্যাকসিন – ২১-২৫ দিন বয়সে


ভ্যাকসিন প্রয়োগের সময় পরিষ্কার সিরিঞ্জ ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে।


৬. বায়োসিকিউরিটি (জীবন-নিরাপত্তা ব্যবস্থা)


খামারে বহিরাগত মানুষের প্রবেশ সীমিত রাখতে হবে যাতে রোগজীবাণুর সংক্রমণ কমানো যায়।


খামারের চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে হবে।


মুরগির খাঁচা, পানি ও খাবারের পাত্র নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করতে হবে।


রোগাক্রান্ত মুরগিকে আলাদা রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা দিতে হবে।


৭. সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ (হারভেস্টিং)


সাধারণত ৩০-৩৫ দিন পর ব্রয়লার মুরগি বিক্রির উপযোগী হয় (ওজন ১.৮-২.৫ কেজি)।


বাজারে বিক্রির জন্য মুরগিগুলোকে পরিষ্কার, স্বাস্থ্যকর এবং সুস্থ রাখতে হবে।


সংগ্রহের সময় মুরগিকে অযথা আঘাত না দিয়ে সতর্কতার সাথে ধরতে হবে।


বাজারে নেওয়ার সময় তাদের আরামের জন্য পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।


উপসংহার


সঠিক ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে ব্রয়লার মুরগি পালন থেকে লাভজনক ব্যবসা করা সম্ভব। উন্নত বাসস্থান, পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানি, সময়মতো টিকা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মুরগির দ্রুত বৃদ্ধি হবে এবং খামারটি লাভজনক হবে।

Dr. Omar Faruq #highlightseveryone #highlightseveryonefollowers #reelsfacebook #broilerchickens

বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ২৯-০১-২০২৫ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ২৯-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


ফলপ্রসূ আলোচনার প্রেক্ষিতে রেলের রানিং ‍স্টাফদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার - সারাদেশে ট্রেন চলাচল শুরু।


গুম ও হত্যার নির্দেশ দিতেন শেখ হাসিনা - হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রদিবেদনে প্রকাশ।


সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাসের পর আন্দোলনরত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রত্যাহার।


মানসম্মত, অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের।


বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় বিদায়ী সৌদি রাষ্ট্রদূতকে শ্রেষ্ঠ কূটনীতিকের  পদক প্রদান।


ত্রাণ সংস্থাগুলোর ওপর ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে - জানালো জাতিসংঘ ত্রাণ সংস্থা।


বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আজ মুখোমুখি হবে চিটাগং কিংস – রংপুর রাইডার্সের এবং ঢাকা ক্যাপিটালস – ফরচুন বরিশালের।

মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৫

সালমান শাহ্ অভিনীত সিনেমার নাম, পোস্টার ও মুক্তির তারিখ:-,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 সালমান শাহ্ অভিনীত সিনেমার নাম, পোস্টার ও মুক্তির তারিখ:-

● কেয়ামত থেকে কেয়ামত – ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ

● তুমি আমার – ১৯৯৪ সালের ২২ মে

● অন্তরে অন্তরে – ১৯৯৪ সালের ১০ জুন

● সুজন সখী – ১৯৯৪ সালের ১২ আগস্ট

● বিক্ষোভ – ১৯৯৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর

● স্নেহ – ১৯৯৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর

● প্রেমযুদ্ধ – ১৯৯৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর

● কন্যাদান – ১৯৯৫ সালের ৩ মার্চ

● দেনমোহর – ১৯৯৫ সালের ৩ মার্চ

● স্বপ্নের ঠিকানা – ১৯৯৫ সালের ১১ মে

● আঞ্জুমান – ১৯৯৫ সালের ১৮ আগস্ট

● মহামিলন – ১৯৯৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর

● আশা ভালোবাসা – ১৯৯৫ সালের ১ ডিসেম্বর

● বিচার হবে- ১৯৯৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি

● এই ঘর এই সংসার – ১৯৯৬ সালের ৫ এপ্রিল

● প্রিয়জন – ১৯৯৬ সালের ১৪ জুন

● তোমাকে চাই – ১৯৯৬ সালের ২১ জুন

● স্বপ্নের পৃথিবী – ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই

● সত্যের মৃত্যু নেই – ১৯৯৬ সালের ৪ অক্টোবর

● জীবন সংসার – ১৯৯৬ সালের ১৮ অক্টোবর

● মায়ের অধিকার – ১৯৯৬ সালের ৬ ডিসেম্বর

● চাওয়া থেকে পাওয়া – ১৯৯৬ সালের ২০ ডিসেম্বর

● প্রেম পিয়াসী – ১৯৯৭ সালের ১৮ এপ্রিল

● স্বপ্নের নায়ক – ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই

● শুধু তুমি – ১৯৯৭ সালের ১৮ জুলাই

● আনন্দ অশ্রু – ১৯৯৭ সালের ১ আগস্ট

● বুকের ভেতর আগুন – ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্ব

তিনি ৮ টি নাটক এ অভিনয় করেছেন-

১. পাথর সময়

২. ইতিকথা

৩. আকাশ ছোঁয়া

৪. দোয়েল

৫. সব পাখি ঘরে ফেরে

৬. সৈকতে সারস

৭. নয়ন

৮. স্বপ্নের পৃথিবী।

মুঘোল আমলের এক করুণ প্রেমের কাহিনির স্মারক বাকরখানির উৎপত্তি।

 ‎মুঘোল আমলের এক করুণ প্রেমের কাহিনির স্মারক বাকরখানির উৎপত্তি। মুঘোল, ইংরেজ ও পাকিস্তান আমলে এর জৌলুস থাকলেও সময়ের সঙ্গে ফাস্টফুড ও আধুনিক খাবারের দাপটে এটি হারিয়ে যেতে বসেছে। পুরান ঢাকা, খিলগাঁও, সিপাহীবাগে এখনও বাকরখানির দোকান খুঁজে পাওয়া যায়। জিঞ্জিরার তন্দুরে তৈরি রুটিগুলো এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

‎ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিরমাল, চা'পাতার মতো বাকরখানিও বিলুপ্তির পথে। তবে এর রোমাঞ্চকর অতীত এখনও আমাদের মনে ইতিহাসের গন্ধ ছড়ায়। বাকরখানি শুধু একটি খাবার নয়, এটি আমাদের অতীতের জীবন্ত সাক্ষী।

‎এবার আসি এর ইতিহাস কথনে, এ বিষয়ে জানা যায় কিংবদন্তির ঢাকা গ্রন্থের লেখক নাজির হোসেনের লেখনীতে। তিনি লিখেছেন বাকরখানি রুটির সাথে যার নাম ওতপ্রোত ভাবে জড়িত তিনি হলেন আগা বাকের ও আরামবাগের নর্তকী খনি বেগম।

‎আগা বাকের ছিলেন তুর্কিস্তানের মতান্তরে ইরানের অধিবাসী। তিনি শিয়া মুসলিম ছিলেন। ভাগ্যন্বেষণে তিনি ভারতবর্ষে আগমন করেন এবং মুর্শিদকুলী খার বিশেষ স্নেহ ও আশ্রয় লাভ করেন এবং নিজ দক্ষতায় তার সেনাবাহিনীর উচ্চপদে আসীন হন। তিনি চট্টগ্রামের ফৌজদার নিযুক্ত হয়েছিলেন। তার ছেলের নাম আগা সাদেক যার নামে পুরনো ঢাকাতে একটি সড়কের নামও রয়েছে। আর খনি বেগম সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায়নি। যতটুকু জানা গেছে তা হলো- তিনি আরামবাগের নর্তকী ছিলেন। এই খনি বেগমকে নিয়ে অনেক জলঘোলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে তদসাথে প্রাণহানিও।

‎যাহোক, আগা বাকের ও খনি বেগম একে অপরকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন । বাকেরের এই প্রেমের সম্পর্কে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন উজিরেআলা জাহান্দর খার দুশ্চরিত্র পুত্র কোতোয়াল জয়নুল খাঁ। এসব ব্যাপারে মুর্শিদকুলী খাঁ কিছু জানতেন না। একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে খনি বেগমের সতীত্ব নষ্ট করতে চেষ্টা করেন কোতোয়াল জয়নুল খাঁ। সংবাদ পেয়ে আগা বাকের বাঁধা দিলে  উভয়ের মাঝে যুদ্ধ বেঁধে যায়। যুদ্ধে হেরে জয়নুল খাঁ পালিয়ে যান। জয়নুলের বন্ধুগন এটাকে অন্যরূপ দিয়ে গুজব ছড়িয়ে দিল যে বাকের জয়নুলকে হত্যা করে মৃতদেহ গুম করে দিয়েছে। এ অভিযোগ নবাবের দরবারে গেলে ন‍্যয়পরায়ণ মুর্শিদকুলী খাঁ পূত্রবৎ বাকেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে বাঘের খাঁচায় ঢুকিয়ে দেন। দমবার পাত্র ছিলেন না বাকের। বাঘের সঙ্গে লড়াই করে বাঘটিকে হত্যা করে বিজয়ীর বেশে খাঁচা হতে বেরিয়ে আসেন। এদিকে জয়নুল সুযোগ বুঝে জোরপূর্বক খনি বেগমকে অপহরণ করে দক্ষিন পূর্ব বঙ্গের ভাটি অঞ্চলের এক গভীর অরণ্যে পালিয়ে যান। জয়নুল শত চেষ্টা করেও খনি বেগমকে বশে আনতে না পেরে তাকে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যে (বাকেরগঞ্জ/বরিশাল) বন্দী করে রাখেন। এ খবর আগা বাকেরের কানে পৌঁছালে তিনি সেনাপতি কালা গাজীকে নিয়ে ছুটে যান চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যে। জয়নুলের পিতাও তার চরিত্রহীন ছেলের কার্যকলাপে অতিষ্ট হয়ে  ছেলেকে শিক্ষা দেয়ার জন্য তথায় হাজির হলেন এবং পুত্রকে বন্দী করে শাস্তিস্বরূপ নিজ তরবারি দিয়ে আঘাত করলেন। অসির আঘাতে মরণাপন্ন জয়নুল দেখল যে সে আর বাঁচবে না এবং খনিকেও পাবে না তাই সুযোগ বুঝে সে খনি বেগমের বুকে অসি বসিয়ে দিল প্রতিশোধস্বরূপ। এ আঘাতে খনি বেগম যখন মৃত্যু পথযাত্রী তথায় হাজির হন আগের বাকের। মৃত্যমুখী খনি বেগমকে বুকে তুলে নিয়ে অঝোর ধারায় কাঁদতে থাকেন বাকের। এক পর্যায়ে খনি বেগম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খনির মৃত্যুতে প্রায় উন্মাদ হয়ে যান বাকের। রাজ্য ও মসনদের সকল আকর্ষন পরিত্যাগ করে সেই অঞ্চলেই থেকে যান তিনি। শুরু হয় তার জীবনের নতুন অধ্যায়। পরবর্তীতে বুজুর্গ উমেদপুরের জমিদারি লাভ করার পর সেলিমাবাদ ও চন্দ্রদ্বীপ পরগনা দখল করে নেন। বহু দ্বীপ নিয়ে গঠিত বাখলা চন্দ্রদ্বীপের জমিদারি লাভ করেন আগা বাকের। পরবর্তীতে ১৭৯৭ সালে ইংরেজ সরকার যখন পৃথক জেলা গঠন করেন তখন এই জনপ্রিয় ব্যাক্তির নামটিকে অস্বীকার না করে তার নামেই নামকরণ করা হয় বাকেরগঞ্জ জেলা। এরপর মুর্শিদ কুলী খাঁর আদেশে আগা বাকের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে বিয়ে করেন। সে ঘরে জন্ম লাভ করে আগা সাদেক ও মির্জা মাহদী নামে দুই পুত্র। 

‎আগা বাকের নবাব সিরাজউদ্দোলার দুর্দিনে তার পাশেই ছিলেন। নবাব বিরোধী শিবির রাজবল্লভ ও ঘসেটি বেগমের বিরুদ্ধেও তিনি ভীষণ সরব ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ‍্যজনকভাবে ঢাকার নায়েব নাজিম হোসেন উদ্দিন খানের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে আগা বাকের নিহত হন। রাজবল্লভ তার দেহ টুকরো টুকরো করে ফেলেন। বাকেরের এই খণ্ডিত দেহ পরে আগা সাদেক ময়দানে সমাহিত করা হয়।

‎আগা বাকের অন্য নারীকে বিয়ে করলেও তার মন থেকে খনি বেগমের স্মৃতি মুছে যায়নি। তার প্রমাণ- বিশেষভাবে তৈরি তার প্রিয় খাদ্য তথা রুটির নাম তার প্রেম কাহিনীর উপর ভিত্তি করেই নামকরণ করা হয়েছিল "বাকর-খনি" রুটি যা কিছুটা অপভ্রংশ হয়ে হয়েছে বাকরখানি রুটি। এটি টিকে আছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। পুরনো ঢাকার আদি খাবারগুলোর মধ্যে এটি একটি অন্যতম খাবার। বাকরখানি পুরান ঢাকাবাসীর সকালের নাস্তা হিসেবে প্রচলিত ছিল আদিতে। 

‎বাকরখানি মূলতঃ আদি ঢাকা তথা পুরনো ঢাকাবাসীর একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। পরবর্তীতে এটি বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়েছে। সকাল ও বিকেলের নাস্তায় এটি একসময় পুরনো ঢাকাবাসীর কাছে তুমুল জনপ্রিয় ছিল। এখনও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাকরখানি রুটির পুরনো দোকান ও তন্দুর সগৌরবে টিকে আছে।

‎সৌজন্যে: বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র

ভালোবাসার_শীতলতা #লেখক_তৌফিক ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 নিজের বাবা কে যদি দুটো ভালো কাপড় দিতে না পারো, তবে কখনো আমার জন্য কিচ্ছু এনো না, আবিদ।


হাসিমুখে শ্বশুরকে শীতের কাপড় এগিয়ে দিতে গিয়ে শ্বশুরের উপরোক্ত কথা শুনে থমকে যায় আবিদ। নিমিষেই মুখ থেকে হাসিটা উধাও হয়ে যায়।


আবিদের শ্বশুর, রাহাত সাহেব, আবারও বলে উঠেন,


"আমি না হয় আমার কন্যাকে জন্ম দিয়েছি বলে, তার টান আমার ওপর সবচেয়ে বেশি। কিন্তু তোমার বাবা তো তোমায় জন্ম দিয়েছে। কই, তার ওপর তো তোমার কোনো টান দেখিনা! কারণে-অকারণে আমাকে এটা-ওটা কিনে দাও। বলি, তোমার পিতাকে কিছু কিনে দিয়েছো?"


আবিদ মুখটা কালো করে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার স্ত্রী শাম্মির দিকে তাকায়। স্বামীর কালো মুখ দেখে দ্রুত শাম্মি ওর বাবাকে বলে ওঠে,


"বাবা, তুমি এসব কী বলছো? আমার স্বামী তোমার সন্তানের মতোই... সে তোমাকে দুটো দিতেই পারে। এতে অন্যজনকে না দিলে তোমার কী? তাছাড়া আমার শ্বশুর কুঁড়ে লোক, ঘর ছেড়ে বের হন না, তাই তাকে কিনে দিতে হয় না। আর তুমি দশ বাজার ঘুরে বাজার করো, তোমার ভালো কাপড় না হলে হয় বলো?"


মেয়ের কথা শুনে রাহাত সাহেব রাগের চোটে ঠাস ঠাস করে কয়েকটা থাপ্পড় মেরে হুংকার ছেড়ে বলেন,


"শাম্মি, তুই এতটা নিচ! এতটা নিকৃষ্ট হয়েছিস! তোর মা তো এমন ছিল না। তুই এমন হলি কী করে! আরে, আমার জামাইয়ের কিছুর প্রয়োজন নেই। আল্লাহ দিলে আমার দুটো পুত্র সন্তান আছে, যাদের আমি মানুষ করতে পেরেছি। আমাকে একটা দিলে তার শ্বশুরকেও একটা দেয়। আমি খুশি হই এতে। কিন্তু তোর জামাই তো কাপুরুষ। নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার বসালেও মনের মাঝে পশু ভাবটা আছে। সে শিক্ষিত হয়েছে, মানুষ হয়নি।"


আবিদ পুরোটা সময় ওর শ্বশুরের কথাগুলো শুনে গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওর স্ত্রী শাম্মির দিকে তাকিয়ে থাকে। শাম্মি চুপচাপ মাথা নিচু করে থাকে। তাছাড়া, কী বা করবে, আবিদের দিকে তাকানোর সাহসও তার নেই।


অনেকক্ষণ চুপ করে থাকার পর আবিদ বলে ওঠে,


"বাবা, আমাকেও দুটো থাপ্পড় দিন। দুটো থাপ্পড় আমারও প্রাপ্য।"


রাহাত সাহেব আবিদের কথায় পরপর কষে দুটো থাপ্পড় বসিয়ে দেন। পাথরের মতো শক্ত হাতের থাপ্পড় খেয়ে আবিদের চোখ-মুখে অন্ধকার নেমে আসে। খানিকক্ষণ সময় নিয়ে মুচকি হেসে আবিদ বলে,


"বাবা, আর্মিদের হাত এত শক্ত হয় জানা ছিল না।


আজ শুধু গালে পড়েছে। এরপর পিঠেও পড়বে। আমি ভাবতেই শিউরে উঠি। তুমি কেমন সন্তান, যে নিজের বাবাকে ভালো শীতের পোশাক না কিনে দিয়ে বউয়ের বাবা কে কাপড় দিতে এসেছো? তোমার বাবার অসহায় চাহনি আমি সেদিন দূর থেকে দেখেছিলাম। সামনে যাওয়ার সাহস হয়নি লজ্জায়। কারণ তখন আমার গায়ে ছিল তোমার দেওয়া আরেকটা শীতের পোশাক।"


আবিদ নিশ্চুপ। রাহাত সাহেব অগ্নি চোখে শাম্মির দিকে তাকিয়ে বলে,


"তোকে আর যেন এ বাড়িতে না দেখি। যতদিন না নিজের শ্বশুরকে বাবা মতো ভালোবাসতে পারবি, ততদিন এ বাড়িতে আসবি না। বেরিয়ে যা তোরা দুটো অমানুষের দল।"


আবিদ শাম্মির হাত ধরে টানতে টানতে বেরিয়ে আসে শ্বশুরবাড়ি থেকে। রাস্তায় কেউ কারো সাথে কথা না বললেও বাসায় আসতেই আবিদ ওর শাম্মিকে নিজের ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে বলে,


"শাম্মি, এসবের মানে কী! তোমার বাবা আমায় ভুল বুঝলো! আরে, আমি তো দুজনের জন্যই কাপড় কিনতে টাকা দিয়েছিলাম। তুমি কি আমার বাবাকে কিনে দাওনি?"


শাম্মি মুখটা নিচু করে ভয়ে ভয়ে বলে,


"আ...আসলে আবিদ..."


"বলো..."


"আসলে ভেবেছিলাম তোমার বাবার আছেই। তাই টাকা নষ্ট করিনি।"


আবিদ আর নিজের রাগটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে প্রচণ্ড জোরে জানালার থাই গ্লাসে ঘুষি মেরে হনহন করে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে।


আজ অনেকদিন পর বাবার ঘরের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে আবিদ। কমসে কম ছয় মাস তো হবেই। অফিসের কাজে এই ট্যুর, ওই ট্যুর করতে করতে বাসায় তেমন একটা আসেনি। আসলেও তখন ওর বাবা বাসায় থাকতো না। রাতেও তেমন দেখা হতো না ওদের। আর তাই আবিদ ওর স্ত্রীকে সব দায়িত্ব দিয়েছিল। তবে ভাবেনি শাম্মি এমন কিছু করবে।


আবিদ দরজায় নক করে,


"বাবা, আছো?"


ভেতর থেকে আবিদের বাবা আহমেদ সাহেব সাড়া দেন,


"হ্যাঁ, আছি। ভেতরে এসো, আবিদ।"


আবিদ মাথাটা নিচু করে ওর বাবার পাশে গিয়ে বসে। আহমেদ সাহেব বহুদিন পর ছেলেকে দেখে হাসি মুখে বলেন,


"বহুদিন পর তোমায় দেখলাম... আজকাল খুব ব্যস্ত হয়ে গিয়েছো?"


আবিদ ওর বাবার হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে ছলছল চোখে বলে,


"বাবা, আসলে অফিসে কাজের চাপ ছিল খুব, তাছাড়া..."


আবিদকে বাকিটা বলতে না দিয়েই আহমেদ সাহেব বলে ওঠেন,


"থাক, আমি বুঝি। তা শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে এলে যে? আর তোমার হাত কেটে গেলো কীভাবে?"


আবিদ মাথাটা নিচু করে বলে,


"আসলে বাবা..."


আহমেদ সাহেব চোখ দুটো বন্ধ করে নেন। মিনিট খানেক বন্ধ করে রাখার পর ধীরে ধীরে চোখ খুলে বলেন,


"বাইরে বেশ ঠান্ডা। তুমি বলেছিলে, আমার কিছু লাগলে বউমাকে বলতে। অনেকদিন হলো, বউমাকে শীতের পোশাক আর একটা জুতো কিনে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। সে দেয়নি। তোমার কাছে কিছু টাকা থাকলে আমাকে দিয়ে যেও। বউমাকে বলতে আমার লজ্জা লাগে ভীষণ।"


আবিদ বলেন, "বউমাকে বলতে হবে না বাবা। আমি আছি। চলো বের হই।"


আহমেদ সাহেবকে নিয়ে আবিদ সারাদিন ঘোরাঘুরি করে এবং শীতের পোশাক কিনে দিয়ে বাসায় ফেরে রাতে। আজ আবিদ বেশ খুশি। বহুদিন পর বাবার মুখে হাসি দেখে।


রাত ১২টা। আবিদ নিজের ঘরে ঢুকতেই দেখে শাম্মি সেই আগের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আবিদ কয়েক পলক শাম্মির দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে,


"কি হলো, শাম্মি? এভাবে খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছো কেন! কিছু হয়েছে?"


শাম্মি আবিদের কথা শুনে তড়িৎ গতিতে আবিদের পা দুটো জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে ওঠে। শাম্মির এমন আচরণে আবিদ অবাক হয়ে বলে,


"এই, কি করছো! পা ছাড়ো।"


"না, তুমি আগে আমায় ক্ষমা করে দাও।"


আবিদ থমথমে কণ্ঠে বলে,


"সে তো তোমার বাবার হাতের দুটো থাপ্পড় খাওয়ার পরই হয়ে গেছে। এখন উঠে এসো, বউ।"


আবিদ শাম্মিকে পা থেকে টেনে তুলে নিজের বুকে জড়িয়ে নিয়ে আদুরে গলায় বলে,


"আচ্ছা শাম্মি, তুমি টাকাগুলো কী করেছো, বলো তো?"


শাম্মি আবিদকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,


"ওগুলো ড্রয়ারেই রেখে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, টাকা নষ্ট করে কী হবে! জমিয়ে রাখি।"


"তাহলে নিজের বাবারটা কিনে কেন নষ্ট করেছিলে! ওটাও জমিয়ে রাখতে পারতে।"


শাম্মি নিশ্চুপ। আবিদ শাম্মিকে আরও শক্ত করে নিজের বুকে টেনে নিয়ে বলে,


"এমন স্বভাবের হইয়ো না, শাম্মি। তোমার পেটের মাঝেও ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে আমাদের অনাগত সন্তান।"


"আমি ভুল করেছি, আবিদ।"


"হুম, প্রথম ভুল। ক্ষমা করাই যায়। তবে পরের বার আর করোনা প্লিজ।"


"প্রমিজ, আর করবো না।"


আবিদ  পরম মমতায়  শাম্মির কপালে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে  দেয় শিউরে উঠে শাম্মি শক্ত করে জরিয়ে ধরে আবিদ কে,,,,


কখনো কখনো গায়ে হাত দিয়ে বা চিৎকার করে কিছু হয়না।বুঝিয়ে বলতে হয় আশা করি তারা বুঝবে।


#ভালোবাসার_শীতলতা

#লেখক_তৌফিক

এক লাফেই পার হওয়া যায় যে নদীর, বলছি উত্তরের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে হুয়ালাই নদীর কথা। পৃথিবীর সবচেয়ে সরু নদী হিসেবে অফিসিয়াল স্বীকৃতি আছে যার

 এক লাফেই পার হওয়া যায় যে নদীর, বলছি উত্তরের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে হুয়ালাই নদীর কথা। পৃথিবীর সবচেয়ে সরু নদী হিসেবে অফিসিয়াল স্বীকৃতি আছে যার। এর গড় প্রস্থ ১৫ সেন্টিমিটার। সবচেয়ে সরু পয়েন্টটি মাত্র ৪ সেন্টিমিটার চওড়া। তবে লম্বায় গুনে গুনে ১৭ কিলোমিটার।


নদী হতে যেসব শর্ত মানতে হয়, সেগুলো মেনেই নদীর মর্যাদা পেয়েছে হুয়ালাই। এক লাফে পার হওয়া যায় বলে এটাকে খাটো করে দেখার জো নেই। কারণ চীনা বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ হাজার বছর ধরে হুয়ালাইতে পানির প্রবাহ একই রকম আছে। মাটির তলায় থাকা একটি স্রোত থেকেই এ নদীর উৎপত্তি। এরপর থেকে কখনই এর প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়নি, নদী শুকিয়েও যায়নি। নদীর পানি এঁকে বেঁকে গিয়ে পড়েছে হেক্সিগট্যান গ্রাসল্যান্ড ন্যাচার রিজার্ভের দালাই নুর লেকে।


সারাবছরই হুয়ালাইতে স্রোত থাকে। গভীরতা গড়পড়তায় ৫০ সেন্টিমিটার হলেও এর পানি একদম স্বচ্ছ। যা দিয়ে আশপাশে সেচের কাজ তো হয়ই, বুনো প্রাণীরাও আসে এর স্রোত থেকে পান করতে।






বাঙালি scandal-কে খুব ভয় করে । ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 বাঙালি scandal-কে খুব ভয় করে ।


লক্ষ্য করলে দেখবেন, বাঙালিরা সবচেয়ে বেশি রোম্যান্টিক। ঘন ঘন প্রেমে পড়ে। ঘন ঘন ছ্যাঁকা খায়। ছ্যাঁকা খেলেই বাঙালি ছেলেরা রবীন্দ্রনাথ আর বাঙালি মেয়েরা তসলিমা নাসরিন হয়ে যায় । 


ছেলেদের কলমে তখন কান্না, আর মেয়েরা হয়ে ওঠে মারাত্মক পুরুষবিদ্বেষী। অবশ্য ব্যতিক্রমও আছে । কিন্তু ওই যে বলে – exception is not the example !


বাঙালিরা আসলে ভীতু জাতি । বাঙালিরা ভীষণ ইমেজের পরোয়া করে। যেমন, সিগারেট খাওয়া ছবি পোস্ট করবো বাড়ির বড়োরা কি ভাববে – এদিকে দেখা যাচ্ছে বড়োদের থোড়াই কেয়ার করে !


প্রেমিকার হাত ধরে ঘুরবো কে কি ভাববে – যেন মনে হয় দু'জনে খোলা রাস্তায় সেক্স করছে। একজন বিয়ে করা মেয়ে বা বিয়ে করা ছেলের প্রেমে পড়বো – লোকজন ছিঃ ছিঃ করবে। আর কিছু হলেই খালি বলবে– আমাদের সংস্কৃতিতে এসব নেই !


কার মেয়ে কার সাথে প্রেম করে (মেয়েটা উচ্ছন্নে গেছে), কার ছেলে পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট খায় (বড়দের সামনে কিন্তু খাচ্ছে না আর সিগারেট একটি নিষিদ্ধ উপাদান নয়), কার বউ সারাদিন স্মার্ট ফোনে ব্যস্ত (ধরেই নেওয়া হলো কারো সাথে লটঘট চলছে), কে আজ একটু খোলামেলা পোশাকে বাইরে বেরোলো (মেয়েটা এক নম্বরের *****), বিবাহিত পুরুষ বা বিবাহিতা নারীর সাথে প্রেম (সংসার ভাঙছে) -ইত্যাদি বিষয়ে সবসময় কান খাড়া । 


‘আমাদের সময় এরকম ছিল না’ বলা লোকটিও দেখা যায় রাস্তায় হাঁটার সময় ছোট পোশাক পরা মেয়ে দেখে দিশা হারিয়ে ফেলে। 


রবীন্দ্রনাথ ও কাদম্বরীর প্রেমকে জোর করে অস্বীকার করে দেওর-বৌদির স্নেহ প্রমাণ করবে, আর নিজেদের হাজার হাজার ইচ্ছেকে দমন করে রাখবে শুধু কেচ্ছা হবে এই ভয়ে।


খুব কম পুরুষ কোনও লাস্যময়ী মেয়েকে দেখলে নির্লিপ্ত থাকে, খুব কম পুরুষ ভিড়ে কোনও মেয়ের খোলা পিঠে, খোলা হাতে, খোলা কাঁধে বা কায়দা করে খোলা ঊরুতে চোখ না দিয়ে পারে না, খুব কম পুরুষ বিয়ের এক দশক পরেও স্ত্রী'র প্রতি একটা বন্য উন্মাদনা অনুভব করে – কিন্তু কেউ মুখে স্বীকার করবে না। তাহলে এমন জিনিস করা কেন যা স্বীকার করা যায় না ? এহেন নারীর সংখ্যাও কম নয় ।


“তোমায় খুব ভাল লাগে” বলে কায়দা করে তার গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা না করে কিংবা “তোমায় ভালোবাসি” এরকম মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিছানায় শোয়ার ভান না করে সরাসরি বলতে শিখুন “আমার তোমার সাথে শুতে ইচ্ছে করছে”। সেটা অপরাধ নয়, পাপ নয়, অন্যায় নয়। 


শরীরের ইচ্ছে শরীরের চাহিদা শরীরের খিদেকে অস্বীকার না করে বরং সেটা মেনে নিন – বিকৃতি আসবে না।


আসলে আমরা জানিই না আমাদের সংস্কৃতি কাকে বলে। ভারতীয়দের এই সমস্যা আছে, বাঙালিদের আরও বেশি। পাশের বাড়িতে কি হচ্ছে আড়ি পেতে শোনা অথবা পর্দার আড়াল দিয়ে দেখা আমাদের অভ্যেস। আবার নিজের কিছু হলে আপ্রাণ ঢেকে রাখতে আমরা মরিয়া। কারণ লোকের কাছে মানহানী হওয়ার ভয়। 


আমরা কেমন যেন ভীতু, double standard ! যদি স্বীকার করতেই না পারলাম তাহলে কীসের সততা ? ধূমপান করা, মদ খাওয়া, রেড লাইট এরিয়াতে যাওয়া, সুন্দরী লাস্যময়ী কারো প্রেমে পড়া কিংবা সুপুরুষ কারো প্রেমে পড়া, হাত ধরে হাঁটা– যদি সাহস না থাকে তাহলে না করাই বাঞ্ছনীয় ।


আজকের টেক স্যাভি যুগে বাঙালি যেন ক্রমেই খোলসে ঢুকে যাচ্ছে । এখনো নাকি বাঙালিরা live in করতে গেলে ভয়ে কাঁপে, বান্ধবীকে বাড়ি নিয়ে আসার ভয়ে হিসি করে দেয় – আসলে সবেতেই কাজ করে পাপবোধ। সবেতেই ভাবে “খুব খারাপ কাজ করছি” – তবুও করে – আর যে কোনও বস্তুকেই রঙিন করে তোলার বদলে করে তোলে কলঙ্কিত। এটাই সমস্যা।


বুক চিতিয়ে কথা বলা, বুক চিতিয়ে দুঃসাহস দেখানো, বুক চিতিয়ে তথাকথিত scandalous হয়ে গর্বিত হওয়ার মতো বাঙালি দিনদিন কমে যাচ্ছে। বাঙালি দিনদিন ভীতু হচ্ছে, কাপুরুষ হচ্ছে, ভণ্ড হচ্ছে। এমন এক প্রেমিক জাতি বিপ্লবী জাতির এমন সঙ্কোচন – সত্যিই কষ্ট দেয় !


--সংগৃহিত

ছন্দে ছন্দে ৬৪ জেলার নাম.. ফেরদৌস আহমেদ ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ছন্দে সুরে বলছি আমি সকল জেলার নাম

তাল মেলাতে সবার আগে আসলো কুড়িগ্রাম। 


প্রধান জেলা ঢাকা থেকে একটুখানি দূর

এক জেলার নাম নরসিংদী আর একটা গাজীপুর । 


জয়পুরহাট ও লালমনিরহাট দুইটা জেলার নাম

রাজশাহীর নাম উজ্জ্বল করছে মিষ্টি স্বাদের আম। 


পাহাড় ঘেরা বান্দরবান ও সিলেট খাগড়াছড়ি

ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জে এই অধমের বাড়ি । 


নেত্রকোনা সুনামগঞ্জে আছে ধানের মাঠ

সুন্দর বনের কাছে আছে খুলনা বাগেরহাট । 


ভোলা এবং বরিশালে আছি অনেক নদী

পাবনায় আছে পাগলা গারদ বগুড়াতে দধি । 


পাশাপাশি দুইটা জেলা টাঙ্গাইল জামালপুর

আরো দুইটা জেলা হল কুষ্টিয়া যশোর । 


মনের মত একটা জেলা নাম তার মাগুরা

দন্তন্য তে নারায়ণগঞ্জ নাটোর ও নওগাঁ । 


দন্তন্য তে আরো চারটি জেলা বলতে পারি

নবাবগঞ্জ ও নোয়াখালী নড়াইল নীলফামারী ‌। 


গঞ্জ দিয়া মানিকগঞ্জ হয় আরো মুন্সিগঞ্জ

গোপালগঞ্জ হয় হবিগঞ্জ হয় আরো সিরাজগঞ্জ । 


চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কিন্তু গঞ্জ দিয়া ভাই

এদের ছাড়া বাংলাদেশে আর কোন গঞ্জ নাই । 


রংপুর এবং রাঙ্গামাটির নামটা রঙে রাঙা

নামের জন্য আরও সুন্দর চাঁদপুর চুয়াডাঙ্গা ‌। 


কক্সবাজার নামের জেলা আছে সাগর পাড়ে

পঞ্চগড়টা পড়ছে বন্ধু দেশের এক কিনারে । 


ফেনী জেলার নামটা মাত্র দুইটা অক্ষর দিয়া

সবচেয়ে বেশি অক্ষর লাগে লিখতে বি-বাড়িয়া । 


ছয়টা অক্ষর লিখতে লাগে মৌলভীবাজার

এদিক থেকে শরীয়তপুর সমান তাহার । 


শেষের দিকে এসে দেখি বসছে পুরের মেলা

নামের শেষে পুর লাগানো অনেকগুলো জেলা । 


পুর দিয়ে ভাই শেরপুর আছে আছে পিরোজপুর

মেহেরপুর ও মাদারীপুর আরো দিনাজপুর। 


ফরিদপুর ও লক্ষিপুর এই দুই টা জেলার সাথে 

পুরের পালা শেষ করিয়া গেলাম বরগুনাতে । 


আসার পথে কুমিল্লা ও ঝালকাঠি সহ

ঘুরে এলাম রাজবাড়ী তার সঙ্গে ঝিনাইদহ ‌। 


গাইবান্ধার নাম বাদে থাকে আর মাত্র এক হালি

তাদের মধ্যে একটা জেলার নাম পটুয়াখালী । 


এখন শুধু বাকি আছে তিনটা জেলার নাম

এদের মধ্যে একটা জায়গা হইল চট্টগ্রাম ‌। 


সাতক্ষীরায় আর ঠাকুরগাঁয়ে হইল এই গান শেষ

এদের নিয়েই গড়া আমার সোনার বাংলাদেশ । 


ছন্দে ছন্দে ৬৪ জেলার নাম..

ফেরদৌস আহমেদ


সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ২৮-০১-২০২৫ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ২৮-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থাকছে না রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজের - সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে সকল পক্ষকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার।


বাংলাদেশের সঙ্গে বিস্তৃত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।


ন্যূনতম সংস্কার শেষে জাতীয় নির্বাচনসহ ১০ দফায় ঐকমত্য বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের।


ন্যায়বিচারের স্বার্থে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে ভারত - আশাবাদ আইসিটি চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক টবি ক্যাডম্যানের।


যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশী সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্বেগ।


মিরপুরে বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফরচুন বরিশাল ও দুর্বার রাজশাহীর নিজ নিজ খেলায় জয়লাভ।

সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:১৩-০৫-২০২৬ খ্রি:।

সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:১৩-০৫-২০২৬ খ্রি:। আজকের শিরোনাম: গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানালেন প্...