এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫

ছায়া হাঁটে নুপূরের ছন্দে,,,,ভুতের গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ⛔ ছায়া হাঁটে নুপূরের ছন্দে⛔

 (✍️ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি  পাঠিয়েছেন  মাহিয়া আক্তার ✍️) 


রাতের নীরবতা কখনও কখনও এতটাই গভীর হয় যে, সেখানে অজানা কিছু উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এমন এক নিঃস্তব্ধ, অন্ধকার রাত ছিল সেটি—যেখানে বাতাস থেমে গিয়েছিল, চারদিক নিথর হয়ে পড়েছিল, আর কেবলই শোনা যাচ্ছিল এক অদ্ভুত, ঠান্ডা কাঁপিয়ে দেওয়া নুপূরের শব্দ।


ঘটনাটি ২০০৮-২০০৯ সালের দিকে। আমার বয়স তখন মাত্র ৩ বা ৪। মা আমাকে নিয়ে নানাবাড়ি গিয়েছিলেন, রায়পুরা, নরসিংদীর এক প্রত্যন্ত গ্রামে। নানুর ঘর তখনো ঠিক আগেকার মতই ছিল—দোচালা টিনের ছাদ, কুয়োর পানি, আর রান্নাঘরটা ছিল ঘর থেকে আলাদা, একটু দূরে। সেদিন রাতে আমরা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ রাত আনুমানিক ২টা বা ৩টা নাগাদ আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি মা-কে পানি খাওয়ার জন্য বায়না শুরু করি। মা প্রথমে আমাদের ঘরে, পরে পাশের ঘরে খুঁজে কোনো পানির সন্ধান পাননি। অবশেষে রান্নাঘরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন—যেখানে অন্ধকার, নীরবতা, আর অজানা কিছু অপেক্ষা করছিল।


রান্নাঘরের লাইটটা জ্বালানো ছিল। মা সেখানে গিয়ে জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে আমাকে পানি খাওয়াচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই পাশের জঙ্গল থেকে এক অস্বাভাবিক শব্দ ভেসে আসে—নুপূরের টুংটুং আওয়াজ। প্রথমে মা ভেবেছিলেন, ওটা হয়তো মামাতো বোন মুক্তা, কিন্তু এরপরই চমকে ওঠেন—এই গভীর রাতে মুক্তা কেন জঙ্গলে যাবে? সেদিন চাঁদ ছিল না, চারদিক অন্ধকারে ঢাকা, আর জঙ্গল থেকে আসা সেই আওয়াজ যেন প্রতিধ্বনি হয়ে পুরো রান্নাঘর ঘিরে ধরছিল।


মা তখন একটুও দেরি না করে আমাকে কোলে নিয়ে দৌঁড়ে চলে আসেন ঘরের ভেতর। দরজা বন্ধ করে, গলা শুকিয়ে গিয়ে হাপাতে হাপাতে খাটে এসে শুয়ে পড়েন। ঘুমোতে চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু... নুপূরের সেই টুংটুং আওয়াজ আবারো ভেসে এল। এবার তা যেন আরও কাছে, আরও জোরালো, আরও রহস্যময়। মা অনুভব করতে পারলেন—জঙ্গল থেকে সেই আওয়াজ বেরিয়ে এসেছে, আর এখন ঘরের পেছনের রাস্তা দিয়ে ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছে। ঠিক খাটের পাশে দিয়েই—আর প্রতিটি ধাপ যেন মায়ের বুকের ভিতর কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছিল।


মা জানান, সেই আওয়াজে কোনো মানুষের মতো ছিল না। ছিল না কোনো দৌড়, না কোনো হালকা পায়ের শব্দ—ছিল কেবল এক অশরীরী গতির ছায়া, যেটা মাটি ছুঁয়ে নয়, যেন বাতাস ছুঁয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। সেই মুহূর্তে মা চোখ বন্ধ করে শুধু আল্লাহকে ডাকতে থাকেন। তিনি জানতেন, একটুও ভুল করলে কিংবা যদি একটু সাহস কম পেতেন, সেদিন হয়তো আমার বা তার জীবনে ঘটে যেতে পারতো চরম কোনো অঘটন।


আজও মা বলেন—সেদিন রান্নাঘরের লাইটটা না জ্বললে হয়তো সেই অলৌকিক উপস্থিতি তাকে দেখতে পেত না। আর অন্ধকারে কোনো ছায়ার আবরণে না গিয়ে সামনে চলে এলে, হয়তো কেউ ফিরতে পারতো না ঘরে।


এই ঘটনা শুধু একটি স্মৃতি নয়, আমাদের পরিবারের জন্য একটি চিরস্থায়ী অভিজ্ঞতা। নুপূরের সেই রাত, এখনও ঘুমের মাঝে কাঁপিয়ে তোলে মায়ের বুক। আর আমি, যাকে পানি খাওয়াতে গিয়ে ঘটে গিয়েছিল এমন এক অতিপ্রাকৃত রাত—আমিও বড় হয়ে এই গল্প শুনে ভাবি, রাত যত গভীর হয়, অজানার দ্বার তত বেশি খুলে যায়।


শেষে বলতে চাই, এই ঘটনাটি সত্য এবং একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার নিঃশ্বাস গলিয়ে লেখা হয়েছে। যারা ভাবেন সবকিছু বিজ্ঞানে ব্যাখ্যা করা যায়, তাদের উচিত এমন কিছু মুহূর্তের সাক্ষী হওয়া—যেখানে নুপূরের একেকটি শব্দ মানেই মৃত্যুর খুব কাছাকাছি যাওয়া।

হাতে তৈরি জুয়েলারি বানানোর সম্পূর্ণ গাইড: শুরু থেকে আয় পর্যন্ত!**  

 # **📿 হাতে তৈরি জুয়েলারি বানানোর সম্পূর্ণ গাইড: শুরু থেকে আয় পর্যন্ত!**  


হাতে তৈরি গয়না শুধু সৌন্দর্য বর্ধনই নয়, এটি একটি লাভজনক শিল্পও হতে পারে! আপনি যদি **জুয়েলারি মেকিং** শুরু করতে চান বা ইতিমধ্যে করছেন কিন্তু আরও উন্নত করতে চান, এই গাইডটি আপনার জন্য।  


## **🎨 ১. জুয়েলারি মেকিং শুরু করার আগে যা জানা জরুরি**  


### **কেন হ্যান্ডমেড জুয়েলারি?**  

- **ইউনিক ডিজাইন:** আপনার নিজস্ব স্টাইল ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।  

- **কম বিনিয়োগে শুরু করা যায়।**  

- **অনলাইন/অফলাইন মার্কেটে চাহিদা বেশি।**  


### **কী ধরনের জুয়েলারি বানাবেন?**  

- **বিডস জুয়েলারি** (মাটির, ক্রিস্টাল, গ্লাস, মার্বেল বিডস)  

- **ওয়্যার র্যাপিং** (প্রাকৃতিক পাথর দিয়ে)  

- ** ক্লে জুয়েলারি**  

- **ম্যাক্রামে বা থ্রেড জুয়েলারি**  

- **মেটাল জুয়েলারি**  


---  


## **🛠️ ২. জুয়েলারি মেকিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় টুলস ও ম্যাটেরিয়াল**  


### **বেসিক টুলস:**  

✔ **প্লায়ারস** (রাউন্ড নোজ, ফ্ল্যাট নোজ, কাটিং প্লায়ার)  

✔ **জুয়েলারি আঠা** (B6000 , fabric glur )  

✔ **নাইলন থ্রেড/জুয়েলারি ওয়্যার** 

✔ **স্কেল/মাপার ফিতা**  

✔ **কাঁচি ও কাটিং বোর্ড**  


### **ম্যাটেরিয়ালস:**  

- **বিডস** (কাচ, মেটালিক, উডেন, সেমি-প্রিসিয়াস স্টোন)  

- **চেইন & ফাস্টেনার্স** (লবস্টার ক্ল্যাপ, হুক, ইয়ারিং পোস্ট)  

- **পাথর & চার্মস** (কোয়ার্টজ, অ্যামেথিস্ট, মুক্তা)  

- **ক্লে বা রেসিন** (যদি মোল্ডেড জুয়েলারি বানান)  


**💰 বাজেট টিপস:**  

- প্রথমে সস্তা ম্যাটেরিয়াল দিয়ে প্র্যাকটিস করুন।  

- ঢাকার নিউ মার্কেট বা অনলাইনে (Magic Crafts Bd) থেকে কিনুন।  


---  


## **✂️ ৩. ধাপে ধাপে জুয়েলারি বানানোর পদ্ধতি**  


### **সাধারণ বিডস নেকলেস বানানোর স্টেপস:**  

1. **ডিজাইন ঠিক করুন** – স্কেচ করুন বা Pinterest , Instagram থেকে আইডিয়া নিন।  

2. **থ্রেড কাটুন** – গলার সাইজ + ২ ইঞ্চি অতিরিক্ত রাখুন।  

3. **নিডল বা থ্রেডে বিডস গাঁথুন** – প্যাটার্ন মেনে চলুন।  

4. **ক্ল্যাপ বা হুক লাগান** – প্লায়ার দিয়ে সুরক্ষিত করুন।  

5. **এক্সট্রা থ্রেড কেটে ফেলুন** – আঠা দিয়ে শক্ত করুন।  


## **💡 ৪. ক্রিয়েটিভ ডিজাইন আইডিয়াস**  

- **থিম বেসড** (সী-শেল, ফ্লোরাল, জ্যামিতিক)  

- **মিনিমালিস্ট** (সিম্পল, হালকা গয়না)  

- **বোহো-স্টাইল** (ম্যাক্রামে, ফ্রিঞ্জ, লেয়ার্ড)  

- **কাস্টমাইজড** (নাম বা ইনিশিয়াল যুক্ত করা)  


**🎨 রঙের কম্বিনেশন:**  

- **মনোহারী:** নীল + সিলভার  

- **ট্রাডিশনাল:** লাল + সোনালি  

- **মডার্ন:** ব্ল্যাক + গোল্ড  


---  


## **📸 ৫. ফটোগ্রাফি ও মার্কেটিং টিপস**  


### **কিভাবে ভালো ছবি তুলবেন?**  

✔ **প্রাকৃতিক আলো** ব্যবহার করুন (সকালের আলো ভালো)।  

✔ **সাদা বা নিউট্রাল ব্যাকগ্রাউন্ড** রাখুন।  

✔ **ক্লোজ-আপ & ডিটেইল শট** নিন।  


### **সোশ্যাল মিডিয়ায় কিভাবে বিক্রি করবেন?**  

- **ফেসবুক পেজ/ইনস্টাগ্রাম** খুলুন।  

- **স্টোরি & রিলস** বানান (মেকিং ভিডিও ভালো কাজ করে)।  

- **হ্যাশট্যাগ** ব্যবহার করুন (#হ্যান্ডমেডজুয়েলারি #ক্রাফটিংবাংলাদেশ)।  

- **কাস্টমার রিভিউ** শেয়ার করুন।  


---  


## **🚀 ৬. জুয়েলারি বিজনেস থেকে আয়**  


### **কোথায় বিক্রি করবেন?**  

- **ফেসবুক মার্কেটপ্লেস**  ফেসবুক পেইজ

- **Daraz, বা নিজস্ব ওয়েবসাইট**  

- **লোকাল ক্রাফট ফেয়ার/বুটিক শপ**  


### **প্রাইসিং স্ট্র্যাটেজি:**  

- **কস্ট x ৩** = বিক্রয় মূল্য (উদা: খরচ ১০০ টাকা → বিক্রি ৩০০ টাকা)।  

- **ডিসকাউন্ট অফার** করুন (ব্যান্ডেল ডিল, ফেস্টিভ্যাল সেল)।  


---  


## **🎉 শেষ কথাঃ আপনার শিল্পকে বিশ্ব দেখুক!**  

জুয়েলারি মেকিং ধৈর্য্য ও ক্রিয়েটিভিটির কাজ। প্রতিদিন কিছু না কিছু বানান, নতুন টেকনিক শিখুন। আপনার তৈরি গয়না শেয়ার করতে **কমেন্টে ছবি দিন!** 📸  


**#হ্যান্ডমেডজুয়েলারি #জুয়েলারি_টিপস #ক্রাফটিং #সাইড_আয়** 

 Page 

https://www.facebook.com/MagicCraftbd

দাউদ হায়দার দেশের প্রথম কবি যাকে কবিতা লেখার জন্য দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল

 বিদায় দাউদ হায়দার! ভর্তি পরীক্ষায় যাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' কবিতাটি কার লেখা?


১.

১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে দাউদ হায়দার নামক এক যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে যান। ভাইভা বোর্ডে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়:

— বল তো, 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' — এটা কার কবিতা? 

তিনি হাসিমুখে উত্তর দিয়েছিলেন:

— আমারই লেখা।

বোর্ডের শিক্ষকরা প্রথমে অবাক হয়েছিলেন, কারণ এমন একটি কবিতা এর রকম কোনো যুবক লিখতে পারেন তা তাদের ধারণায় ছিল না। কিন্তু পরে যখন তারা তার আগের কিছু লেখা দেখেন এবং তার প্রতিভা বুঝতে পারেন, তখন দাউদ হায়দারকে মেধার জন্য বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন। নথিপত্র অনুসারে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া কবির বয়স তখন ছিল মাত্র ১৭ বছর!

আলোচিত কবিতাটির ক’টি লাইন: 

'জন্মই আমার আজন্ম পাপ, মাতৃজরায়ু থেকে নেমেই জেনেছি আমি

সন্ত্রাসের ঝাঁঝালো দিনে বিবর্ণ পত্রের মত হঠাৎ ফুৎকারে উড়ে যাই

পালাই পালাই সুদূরে।

...

আমার জন্যই তোমাদের এত দুঃখ

আহা দুঃখ

দুঃখরে!

আমিই পাপী, বুঝি তাই এ জন্মই আমার আজন্ম পাপ।’


২. 

দাউদ হায়দার দেশের প্রথম কবি যাকে কবিতা লেখার জন্য দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। দৈনিক সংবাদ এর সাহিত্য পাতায় 'কালো সূর্যের কালো জ্যোৎসায় কালো বন্যায়' নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। ওই কবিতায় হযরত মোহাম্মদ [স.], যিশুখ্রিস্ট এবং গৌতম বুদ্ধ সম্পর্কিত অবমাননাকর উক্তি রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। [সংস্‌ অব ডেস্পায়ার বইতে এই কবিতাটি সঙ্কলিত থাকতে পারে।] প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে ঢাকার এক কলেজ-শিক্ষক আদালতে এই ঘটনায় দাউদ হায়দারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। 

১৯৭৩ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সরকার কবিকে নিরাপত্তামূলক কাস্টডিতে নেয়। ১৯৭৪ এর ২০ মে সন্ধ্যায় তাঁকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে ২১ মে সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটা রেগুলার ফ্লাইটে ভারতের কলকাতায় পাঠানো হয়। ওই ফ্লাইটে তিনি ছাড়া আর কোনো যাত্রী ছিল না। তাঁর স্মৃতিচারণ থেকে জানা যায়, তার কাছে সে সময় ছিল মাত্র ৬০ পয়সা এবং কাঁধে ঝোলানো একটা ছোট ব্যাগ (ব্যাগে ছিল কবিতার বই, দু'জোড়া শার্ট, প্যান্ট, স্লিপার আর টুথব্রাশ)। কবির ভাষায়, ‘আমার কোন উপায় ছিল না। মৌলবাদীরা আমাকে মেরেই ফেলত। সরকারও হয়ত আমার মৃত্যু কামনা করছিল।’

কবি দাউদ হায়দারের 'কালো সূর্যের কালো জ্যোৎস্নায় কালো বন্যায়’ কবিতায় ‘কিছু বিতর্কিত বক্তব্য’ থাকলেও অসাধারণ কিছু লাইনও আছে: 

‘আদমের সন্তান আমি; আমার পাশে আমি?

আমি আমার জন্ম জানি না। কীভাবে জন্ম? আতুরের ঘরে কথিত

জননী ছাড়া আর কে ছিল? আমায় বলে নি কেউ।

আমার মা শিখালো এই তোর পিতা, আমি তোর মাতা।

আমি তাই শিখেছি। যদি বলতো, মা তোর দাসী, পিতা তোর দাস;

আমি তাই মেনে নিতুম। কিংবা অন্য কিছু বললেও অস্বীকারের

উপায় ছিল না।

আমি আজ মধ্য যৌবনে পিতা মাতার ফারাক বুঝেছি। বুঝেছি সবই মিথ্যা

বুঝেছি কেউ কারও নয়; কেউ নয় বলেই তো বলি

একদিন সবকিছুই যাবে চলে (চলে যাবে)।’


৩.

কলকাতা ছিল দাউদ হায়দারের কাছে একদম অচেনা বিদেশ, যেখানে কাউকেই চিনতেন না। এর আগে তিনি বিদেশ যাননি। দমদম এয়ারপোর্টে নেমে প্রথমে একা কাঁদছিলেন। সাংবাদিক-সাহিত্যিক গৌরকিশোর ঘোষ এর কাছে প্রথম আশ্রয় পান। একমাসের মতো ছিলেন। এরপর বিখ্যাত সাহিত্যিক অন্নদাশঙ্কর রায় তাঁকে নিজ বাড়ীতে আশ্রয় দেন। লেখালেখি শুরু করেন দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকায়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে 'আন্তর্জাতিক তুলনামূলক সাহিত্যে' ভর্তি হন।


৪. 

বাংলাদেশের কোনো সরকারই তাঁর প্রতি সহানুভূতি দেখায়নি। নির্বাসিত অবস্থায় ১৯৭৯ সালে তিনি ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসে নবায়নের জন্য পাসপোর্ট জমা দিলে তা বাজেয়াপ্ত করা হয়। তখন ছিল জিয়াউর রহমানের শাসনামল। এরপর ভারত সরকারও তাঁকে ভারত ত্যাগের ফাইনাল নোটিশ দেয়- “… য়্যু হ্যাভ নো কেইস ফর গ্রান্ট অব লংটার্ম ষ্টে ফ্যাসিলিটিজ ইন ইন্ডিয়া এন্ড য়্যু আর দেয়ারফর রিকোয়েষ্টেড টু লীভ ইন্ডিয়া ইম্মিডিয়েটলি উইদাউট ফেইল।” 

নোবেল লরিয়েট জার্মান সাহিত্যিক গুন্টার গ্রাস ভারত সফরে এলে পুরো ঘটনা শুনেন। তিনি ফিরে গিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে নির্বাসিত কবিকে জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা করেন। ২২ জুলাই ১৯৮৭ থেকে তিনি জার্মানির বার্লিন শহরে অবস্থান করেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় এলে আটক পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে আবেদন করেও বিফল হন। বার্লিন যাত্রায় তিনি পাসপোর্টের পরিবর্তে জাতিসংঘের বিশেষ ট্র্যাভেল পাস ব্যবহার করেন। পরে এই ট্র্যাভেল পাস ব্যবহার করে বহু দেশ ঘুরেছেন। ১৯৮৯ সালে তিনি জার্মানীতে সাংবাদিক হিসেবে চাকুরী নেন। 


৫.

দাউদ হায়দার প্রায় ৩০টির মতো বই লিখেছেন জার্মান, হিন্দি, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, জাপানি ও স্প্যানিশ ভাষায়। দাউদ হায়দারের কবিতায় ব্যক্তিগত বেদনা, নির্বাসনের কষ্ট,  মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, স্বাধীনতা-চেতনা, দ্রোহ এবং মানবতাবাদী চেতনা প্রবলভাবে ফুটে ওঠে। তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের পত্র  পত্রিকায় সাহসী উচ্চারণে কলাম লিখেও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। 


৬. 

দাউদ হায়দার ছিলেন এক রত্নগর্ভা মায়ের সন্তান। তাঁর সব ভাই-ই বিখ্যাত, লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। বড় ভাই জিয়া হায়দার নাটকের লোক। রশীদ হায়দার কথাসাহিত্যিক, গবেষক। বাংলা একাডেমিতে কর্মরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক অসাধারণসব বই প্রকাশ করেছেন। আমার ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতিও আছে উনার সঙ্গে।  মাকিদ হায়দার কবি। খুবই সজ্জন লোক ছিলেন। তাঁরা সবাই প্রয়াত। আছেন কবি জাহিদ ও আরিফ। কনিষ্ঠ আরিফ হায়দার Arif Haider আমাদের সিনিয়র বন্ধু। নাটকের মানুষ। ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাটকের উপর পড়াশুনা করেছেন। ঢাকায় শংকর সাওজালের কারক নাট্যসম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলার অধ্যাপক। আমাদের ইউনিভার্সেল থিয়েটারের নাট্যগুরু মাজহারুল হক পিন্টুর Mazhar Pintu  ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই সূত্রে আমাদেরও ঘনিষ্ঠতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অসংখ্য দিন রাত আমাদের কেটেছে আড্ডায়। মাঝে মধ্যে দেখা হয়। কিন্তু বিখ্যাত হায়দার পরিবারের একেকজন তারকা নক্ষত্রের খসে পড়ার সংবাদ এলে তাকে ফোন দেই। বেদনাকে শেয়ার করি। সংস্কৃতি বিট কভার করার কারণে বাড়তি তথ্য সংগ্রহের জন্যও নির্দয়ভাবে নানা প্রশ্ন করতে হয়। 

আজ ঘুম ভাঙতেই শুনলাম। দাউদ হায়দার আর নেই। শনিবার (২৭ এপ্রিল ২০২৫) রাতে জার্মানির রাজধানী বার্লিনের একটি বয়স্ক নিরাময় কেন্দ্রে মারা গেছেন। হাসপাতালে দীর্ঘদিন কোমায় ছিলেন। লাইভসাপোর্ট তুলে নিলে তিনি অনন্তের পথে যাত্রা করেন। চিরমুক্তি ঘটে নির্বাসিত জীবনের।

ইসলাম ধর্মের বিশ্বাস অনুসারে, শেষ বিচারের মালিক আল্লাহ। তিনিই তাঁর বান্দার ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। 

এবার আর আরিফ ভাইকে ফোন দিতে ইচ্ছে করেনি। জানতাম তিনি কলকাতায়। তারপরও ফেসবুকে সমবেদনা জানাই। কিছুক্ষণ আগে দেখলাম আরিফ ভাই লিখেছেন, ‘খোকন ভাই (নির্বাসিত কবি দাউদ হায়দার) আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে...।’ এরপর ভাইয়ের সঙ্গে কিছু ছবি শেয়ার দিয়েছেন, যেগুলো ২০২৩ সালের, কলকতার।


৭.

দেশে ফেরার প্রবল আকুতি ছিল দাউদ হায়দারের। অপেক্ষার প্রহর গুণেছেন, স্বপ্ন দেখেছেন একদিন সময় হবে পদ্মা ইচ্ছামতি গাঙ্গ শালিকের দেশে ফেরার। সময় কি আর হবে? হলেও তো মাতৃভূমিতে শায়িত হওয়ার বাসনা তার পূরণ হবে না। 

১৯৮৩ সালে কলকাতায় অবস্থানকালে কবি দেশান্তরী হওয়ার গভীর বেদনার কথা লিখেছেন ‘তোমার কথা’ কবিতায়। 

'মাঝে মাঝে মনে হয়

অসীম শূন্যের ভিতরে উড়ে যাই। 

মেঘের মতন ভেসে ভেসে, একবার

বাংলাদেশ ঘুরে আসি। 


মনে হয়, মনুমেন্টের চুড়োয় উঠে 

চিৎকার করে

আকাশ ফাটিয়ে বলি:

দ্যাখো, সীমান্তের ওইপারে আমার ঘর

এইখানে আমি একা, ভিনদেশী। '


আসলেই মানুষ সব সময়ই একা।

বিদায় কবি দাউদ হায়দার।

রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫

গরমে শীতল হাওয়ার ছোঁয়া পেতে অনেকেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি ব্যবহার করেন। তবে গরমের তীব্রতা দিন দিন বাড়তে থাকলেও অনেকের এসি কেনার সক্ষমতা নে

 গরমে শীতল হাওয়ার ছোঁয়া পেতে অনেকেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি ব্যবহার করেন। তবে গরমের তীব্রতা দিন দিন বাড়তে থাকলেও অনেকের এসি কেনার সক্ষমতা নেই। অনেকেই আবার বিদ্যুৎ বিল, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এমনকি পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি মাথায় রেখেও এসি ব্যবহার করেন না।


এসি ছাড়াই ঘর শীতল রাখার কয়েকটি উপায় সম্পর্কে জানা যাবে এই আলোচনায়।


প্রাচীন মিশরীয় পদ্ধতি


প্রাচীন মিশরীয়দের মধ্যে সাধারণ একটি নিয়ম ছিল শীতল জলাবদ্ধতা তৈরি করা। তারা জানালা-দরজায় বা রোদ প্রবেশের স্থানে ভেজা চট বা মাদুর রেখে দিত। রোদের তাপ ভেজা মাদুর বা ভেজা চটের পানি শুকিয়ে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা তেমন একটা বাড়ানোর সুযোগ পেতো না।


সিলিং ফ্যানের ঘূর্ণন


সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গ্রীষ্মকাল এবং শীতকালের একটি সম্পর্ক আছে। গ্রীষ্মকালে এমন ভাবে ফ্যান সেট করতে হবে যাতে সেটি ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে ঘুরে। আবার শীতকালে ফ্যান থাকা উচিত এমন ভাবে যাতে ফ্যানের পাখাগুলো ঘড়ির কাটার দিকে ঘুরতে পারে। গরমের সময় এমন ঘূর্ণনের ফলে ফ্যান গরম বাতাস দ্রুত অপসারণ করতে পারে।


ডাবল গ্লাসযুক্ত জানালার ব্যবহার


কাঁচের ২ স্তর বিশিষ্ট প্যানেলকেই সাধারণত ডাবল গ্লাসযুক্ত জানালা বলা হয়। ডাবল গ্লাসযুক্ত জানালার কাঁচের স্তর ৩ থেকে ১০ মিলিমিটার পুরু হয়ে থাকে। এসব কাঁচের মধ্যকার জায়গা গ্যাস দিয়ে পূর্ণ করা হয় এবং গ্যাস যেন বেড়িয়ে যেতে না পারে তাই সিল করে দেওয়া হয়।


কাঁচের ২ স্তরের মধ্যে শূন্যস্থান সিল করা থাকে বলে ডাবল গ্লাসযুক্ত জানালা সাধারণ জানালার থেকে অনেক ভাল তাপ নিরোধক হিসেবে কাজ করে। গ্রীষ্ম ও শীতকালের চরম তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। গ্রীষ্মের গরম দিনে, ডাবল গ্লাসযুক্ত জানালা আপনাকে রক্ষা করবে প্রচণ্ড তাপ থেকে। শীতকালে এই জানালা বাইরে থেকে শীতকে ঘরের ভেতর ঢুকতে বাধা দেবে। আবহাওয়া যাই হোক না কেন, বাড়ি বা অফিসে ডাবল গ্লাসযুক্ত জানালা ঘরের ভেতরে আরামদায়ক পরিস্থিতি নিশ্চিত করে।


জানালার পাল্লা কাঁচের হলে গরম বেশি অনুভূত হয়। কারণ কাঁচের মধ্যে দিয়ে সূর্যের তাপ দ্রুত শোষণ হয় এবং ঘরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।


এক্ষেত্রে যেসব জানালায় সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে সেসব জানালায় হিট প্রটেক্টিং উইন্ডো ফিল্ম লাগানো যেতে পারে। যার ফলে জানালার ভেতর দিয়ে সূর্যের তাপ শোষণ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় এবং ঘর ঠাণ্ডা থাকে। এছাড়াও সাদা কাগজ, সাদা হার্ডবোর্ড, জানলার পাল্লার বাহিরের দিকে লাগালে সাদা রং প্রায় সব শক্তিই বিকিরণ করবে বাইরের দিকে। ঘরে খুব কম তাপ প্রবেশ করবে।


মোটা এবং গাঢ় রঙের পর্দা ব্যবহার


বাজারে বাহারি ধরনের পর্দা থাকলেও গরম কমাতে চাইলে মোটা কাপড়ের এবং গাঢ় রঙ যেমন কালো, বেগুনী, নীল, খয়েরী এমন রঙগুলো বাছাই করতে পারেন। কারণ এগুলোর তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি, তাপ বিকিরণ ক্ষমতা কম থাকে৷


তাপ প্রবেশ রোধ করা


জানালার মাধ্যমে প্রায় ২৫ শতাংশ তাপ ঘরে প্রবেশ করতে পারে। ঘর ঠাণ্ডা রাখতে দিনের বেলা বা দিনের যে সময় সবচেয়ে বেশি রোদ্রৌজ্জ্বল থাকে তখন তাপ প্রবেশ করার পথ বন্ধ করে দিলে উত্তাপ কম থাকবে।


রাতে ঘরে বাতাস প্রবেশ করতে দেওয়া


রাতে ঘুমাবার আগে জানালা খুলে শীতল বাতাস প্রবেশ করতে দিতে হবে। এতে করে ভেতরের গরম বাতাস বাইরে বের হয়ে ঘরকে শীতল করবে। দিনের বেলা নতুন ভাবে রোদ না ঢুকলে এই শীতল বাতাস প্রশান্তি দেবে।


অপ্রয়োজনে বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখা


যেকোনো সক্রিয় ডিভাইস চালু থাকলে তা নির্দিষ্ট কাজের পাশাপাশি কিছু শক্তি তাপ উৎপাদনে ব্যয় করে। এতে ঘর গরম হয়। তাই অব্যবহৃত যে কোনো কিছু বন্ধ করা উচিত। কম্পিউটার, টেলিভিশন, ওভেন, কিংবা এমন ডিভাইস যা প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে তা বন্ধ রাখতে হবে। ঘরে ব্যবহৃত বাল্বগুলোও তাপের উৎস। তাই সব লাইট বন্ধ করা সবসময় সম্ভব না হলেও আলো যতটা সম্ভব কম রাখতে পারেন।


বরফ পদ্ধতি


এটি ঘর ঠাণ্ডা রাখার জনপ্রিয় এবং প্রচলিত পদ্ধতি। ফ্যানের নিচে বাটিতে বরফের টুকরা রাখলে এটি গরম তাপ শুষে নিয়ে গলতে শুরু করবে। এতে ঘর ঠাণ্ডা রাখা যায়।


উত্তাপ কমাতে গাছ রাখা


বেশ কিছু গাছ আছে যা তাপমাত্রা ঠাণ্ডা রাখতে সক্ষম। যেমন, অ্যালোভেরা, অ্যারিকা পাম, গোল্ডেন পোথোস বা সাদা-সবুজ মিশেলের মানি প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট বা ফণিমনসা, ফার্ন ইত্যাদি। এছাড়াও আইভি, দ্রুত বর্ধনশীল লতা এবং আলংকারিক গৃহস্থালির উদ্ভিদ দেয়াল বা জানালায় ব্যবহার করা যেতে পারে। সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি তাপ আর রোদ প্রবেশ নিরোধক হিসেবেও এটি কাজ করবে।


বেড়েই চলছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা, যার প্রভাব কোনো দেশই এড়াতে সক্ষম নয়। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। গরমের এই দুর্বিষহ জীবনযাত্রায় পুরোপুরি শান্তি না মিললেও স্বস্তি পেতে উপরের যে কোনো পদ্ধতি প্রয়োগে ঘরের কিংবা কাজের পরিবেশ ঠাণ্ডা রাখতে পারেন।

বুদ্ধিমান চাকর উপেন্দ্রকিশোর রায়চৗধুরী

 বুদ্ধিমান চাকর

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৗধুরী


এক বাবুর একটি বড় বুদ্ধিমান চাকর ছিল, তার নাম ভজহরি। একদিন ভজহরি পথ দিয়ে যেতে যেতে দেখল তার বাবু ব্যস্ত হয়ে বাড়ির দিকে ছুটে চলেছেন। ভজহরি জিজ্ঞাসা করল, 'বাবু, কোথায় যাচ্ছেন?' বাবু বললেন, 'শিগগির এস ভজহরি, সর্বনাশ হয়েছে—আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে।' তাতে ভজহরি বলল, 'আপনার কোনও ভয় নেই বাবু, ও মিছে কথা। আগুন কি করে লাগবে? আমার কাছে যে ঘরের চাবি রয়েছে!'


ভজহরি গেল কলুর দোকানে, এক সের তেল কিনতে। কলু তাকে এক সের তেল মেপে দিল, তাতেই তার বাটিটা ভরে গেল। তখন ভজহরি বলল, 'ফাউ দেবে না?' কলু বলল, 'হ্যাঁ দেব বইকি! কিসে করে নেবে?' ভজহরি ভাবল, 'তাই তো কিসে করে নিই? কিন্তু ফাউ না নিয়ে গেলে যে বাবু আমাকে বোকা ভাববেন।' তখন তার মনে হলো যে বাটির তলায় একটু গর্ত আছে। অমনি সে বাটিটা উল্টিয়ে নিয়ে সেই গর্তটা দেখিয়ে কলুকে বলল, 'এতে ফাউ দাও।' কলু হাসতে হাসতে সেই গর্তে ফাউ ঢেলে দিল, ভজহরি মহাখুশি হয়ে তাই নিয়ে বাড়ি এল।


ভজহরি তার বাবুর সঙ্গে নৌকায় চড়ে নদী পার হচ্ছে। নৌকায় ঢের লোক, ভজহরি ভাবল নৌকা বড্ড বোঝাই হয়েছে, যদি ডুবে যায়। এই ভেবে, সে তাদের পুঁটলি মাথায় করে বসে রইল। বাবু বললেন, 'ভজহরি পুটলিটা নামিয়ে রাখ না, মাথায় করে কেন কষ্ট পাচ্ছ? ভজহরি বললে, 'আজ্ঞে না, নৌকা বড্ড বোঝাই হয়েছে, পুঁটলিটা তাতে রাখলে আরও বোঝাই হয়ে যাবে।'


বাড়িতে চোর এসেছে, ভজহরি তা টের পেয়েছে। সে ভাবল, বেটাকে ধরতে হবে। তখন সে মাথায় শিং বেঁধে লেজ পরে উঠানের কোণে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। মতলবখানা এই যে, চোর নিশ্চয় তাকে দেখে ছাগল মনে করে তাকে চুরি করতে আসবে, তখন সে তাকে জড়িয়ে ধরবে। চোর এল, ঘরে গিয়ে ঢুকল, ভজহরি উঠানের কোণ থেকে বলল, 'ম্যা-আ-আ-আ!' চোর ঘরের সব জিনিসপত্র বাইরে এনে একটি পুঁটলি বাঁধল, ভজহরি তাকে বলল, 'ম্যা-আ-আ-আ'। তা চোর তাড়াতাড়ি সেই পুঁটলি নিয়ে আঁস্তাকুড়ের উপর দিয়ে ছুট দিল। তখন ভজহরি হেসে গড়াগড়ি দিয়ে বলল, 'ব্যাটা কি বোকা, আঁস্তাকুড় মাড়িয়ে গেল, এখন বাড়ি গিয়ে স্নান করতে হবে!'


রামধন লোকটি বেশ সাদাসিধে, কিন্তু একটু রাগী। সে গিয়েছে চোরেদের বাড়ি চাকরি করতে। রাত্রে চোরেরা এক জায়গায় চুরি করতে গেল, রামধনকেও সঙ্গে নিল। সেখানে রামধনকে একটা কচুবনে বসিয়ে দিয়ে বলল, 'তুই এইখানে চুপ করে বসে থাক্, আমরা চুরি করে জিনিস নিয়ে এলে সেগুলো বয়ে নিয়ে যাবি।' রামধন বলল, 'আচ্ছা।'


চোরেরা সিঁদ কাটছে, রামধন কচুবনে বসে আছে। সেখানে বেজায় রকমের মশা, রামধনকে কামড়িয়ে পাগল করে তুলল। বেচারা অনেকক্ষণ সয়ে চুপ করে ছিল, তারপর চটাস্ চটাস্ করে দু'-একটা মারতে লাগল। শেষে রেগে গিয়ে লাঠি দিয়ে মেরে কচুবন তোলপাড় করে তুলল। সেই বাড়ির লোক সব জেগে গিয়ে বলল, 'কেরে তুই এত গোলমাল করছিস?" রামধন বলল, 'আমি রামধন গো।' বাড়ির লোকেরা বলল, 'ওখানে কি করছিস?' রামধন বলল, 'আপনাদের ঘরে যে সিঁদ হচ্ছে।'


তখন তো আর ছুটোছুটি হাঁকাহাঁকির সীমাই রইল না। চোরেরা আর চুরি করবে কি, তাদের প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসাই ভার হলো। ঘরে এসে তারা তারপর অবিশ্যি রামধনের উপর খুবই চোটপাট লাগাল। সে বলল, 'কি করি ভাই, আমার রাগ হয়ে গেল; যে ভয়ানক মশা!' চোরেরা বলল, আচ্ছা, খবরদার! আর কখনো এমন করিস নে।'


পরদিন চোরেরা আবার রামধনকে নিয়ে চুরি করতে গিয়েছে। এবারে রামধন ঠিক করে এসেছে যে, মশায় তাকে খেয়ে ফেললেও আর টু শব্দটি করবে না। আর চোরেরাও বেশ বুঝে নিয়েছে যে, রামধনকে বাইরে রেখে ঢুকলে বড়ই বিপদ হতে পারে। তাই তারা ভেবেছে ওকে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে তারা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে।


একটা বাড়ির কাছে এসে চোরেরা বাইরে থেকেই কেমন করে তার একটা দরজার ছিটকানি খুলে ফেলল, তারপর রামধনকে বলল, 'এখন তুই চুপি চুপি ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র বার করে আন্। দেখিস কোনও শব্দ করিস না যেন।' রামধন দরজা খুলে ঘরে ঢুকতে গেল। দরজার কব্জায় ছিল মরচে ধরা, তাই দরজা ঠেলতেই সেটা বলল, 'ক্যাঁচ।' রামধন থতমত খেয়ে অমনি থেমে গেল। তারপর আবার যেই ঠেলতে যাবে, অমনি দরজা আবার বলল, 'ক্যাঁচ্!' রামধন তাতে দাঁত খিঁচিয়ে 'আঃ;!' বলে আবার থেমে গেল। তারপর রামধন কিছুতেই আর রাগ সামলাতে পারল না। তখন সে পাগলের মতো হয়ে প্রাণপণে সেই দরজা নাড়তে নাড়তে চেঁচিয়ে বলতে লাগল, 'ক্যাঁচ্! ক্যাঁচ!! কাঁচ্!!!' তারপর —কি হলো বুঝতেই পার!


এ-সব তো শুধু গল্প, এবার একটি সত্যিকারের চাকরের কথা বলি। তার নাম, ধরে নাও যে কেনারাম। কেনারাম সেজেগুজে একটা বোটের ছাতে উঠে বসে আছে—তার বাবুর সঙ্গে এক জায়গায় তামাশা দেখতে যাবে। খানিক বাদেই বোটের ভিতর থেকে জুতোর শব্দ এল! কেনারাম বুঝল বাবু বেরুচ্ছেন, এইবেলা যেতে হবে। সে অমনি তাড়াতাড়ি বোটের ছাত থেকে লাফিয়ে পড়ল—আর ঠিক তার বাবুর ঘাড়ে।


প্রথমে যখন কেনারাম আসে তখন একজন পুরানো চাকর বলেছিল, 'বাবু কাছারি থেকে এলে রোজ তাঁকে পান খেতে দিও।' সেদিন বাবু কাছারি থেকে এসেই পায়খানায় গেলেন, কেনারামও তাড়াতাড়ি সেইখানেই গিয়ে তাঁকে বলল, 'বাবু পান এনেছি।'

গল্পের নাম: “চুরির রহস্য”

 গল্পের নাম: “চুরির রহস্য”


এক গ্রামে ছিল তিনজন বিখ্যাত প্রাণী—কাক, বিড়াল, আর শিয়াল। তারা ছিল খুব পরিচিত, কিন্তু তাদের স্বভাব ছিল একেবারে ভিন্ন।


কাক ছিল সন্দেহপ্রবণ, সব কিছুতে নাক গলাতো।


বিড়াল ছিল চুপচাপ, কিন্তু অনেক চালাক।


আর শিয়াল ছিল গ্রামের সবার চোখে “চতুর ধুরন্ধর”।


একদিন গ্রামের সবচেয়ে ধনী কৃষকের ঘরে চুরি হয়। চুরি হয় একটি চকচকে রুপার হাঁড়ি, যার ভেতরে ছিল মূল্যবান বীজ। পুরো গ্রাম থমকে যায়।


কৃষক চিৎকার করে বলে, “আমার সব সম্পদ শেষ! কে নিল হাঁড়ি?”


গ্রামবাসী সন্দেহ করে কাক, বিড়াল আর শিয়াল—তিনজনই। কারণ, ঘটনার রাতে তাদের সবাইকে কৃষকের বাড়ির আশপাশে দেখা গিয়েছিল।


তদন্ত শুরু হয়। তিনজনকে ডাকা হলো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।


কাক বলল, “আমি জানালার পাশে বসে রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। আমি শুধু দেখেছি শিয়াল অনেকক্ষণ ঘুরছিল।”

শিয়াল বলল, “আমি তো হাঁড়ি খুঁজতেই সাহায্য করতে এসেছিলাম!”

বিড়াল চুপচাপ বসে থাকে, কিছুই বলে না।


পরদিন কাক গিয়ে দেখে—বিড়ালের লেজে ধুলার আভাস, আর তার থাবায় রুপার চিহ্ন।

সে চিৎকার করে বলে, “বুঝেছি! বিড়ালই চোর!”


গ্রামের সবাই যখন বিড়ালকে ধরতে যাবে, বিড়াল হঠাৎ বলে, “আমার ঘর খুঁজে দেখো।”


সত্যি, বিড়ালের ঘরে হাঁড়ি নেই। তখন বিড়াল কাককে জিজ্ঞাসা করে,

“তুমি কবে থেকে রুপার গন্ধ চিনতে পারো?”


কাক চুপ মারে।


ঠিক তখন শিয়ালের গাছের গোড়ার নিচে কাদা দেখা যায়—আর সেখানেই পোঁতা ছিল রুপার হাঁড়ি!

শিয়াল আসলে কাককে ফাঁসাতে চেয়েছিল, আর কাক সন্দেহে পড়ে বিড়ালকে দোষ দিচ্ছিল।


শেষে:

শিয়ালকে গ্রামছাড়া করা হয়।

কাক শেখে—সব সময় সন্দেহ করা ঠিক নয়।

বিড়াল বলে, “চুপ থাকাই অনেক সময় বড় উত্তর।”


শিক্ষণীয় বার্তা:

অতিরিক্ত সন্দেহ, মিথ্যা কথা, আর চতুরতার শেষ পরিণতি ভালো হয় না। সত্য ধরা পড়ে—যতই চালাকি করা হোক না কেন।

সকাল ৭টার সংবাদ  তারিখ : ২৭-০৪-২০২৫ খ্রি:

 সকাল ৭টার সংবাদ 

তারিখ : ২৬-০৪-২০২৫ খ্রি:


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


রোমান ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্যানুষ্ঠান আজ - ভ্যাটিকানে পৌঁছে মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধান উপদেষ্টা।


সকল সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষাসহ অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ে তোলাই অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য - রাঙ্গামাটিতে বললেন পার্বত্য উপদেষ্টা।


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের আহ্বান।


বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবেলায় আগেভাগেই অভিযান শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।


আইপি এবং সঙ্গীত: আইপির তাল অনুভব করুন -এই প্রতিপাদ্যে নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস।


মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত - রাশিয়া-ইউক্রেন দ্রুতই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাবে - আশাবাদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের।


অনূর্ধ্ব-১৯ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজের প্রথমটিতে আজ স্বাগতিক শ্রীলংকার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।

আপনার জীবন, আপনার সিদ্ধান্ত ‼️

 ✅আপনার জীবন, আপনার সিদ্ধান্ত ‼️


আপনি কি এমন একজন, যিনি ভাবেন, “একদিন আমি সব ঠিকঠাক করে নেব”?

 • “আগামীকাল থেকে সকালে উঠে দৌড়াবো।”

 • “পরের মাস থেকে নতুন কিছু শিখব।”

 • “একটা ভালো কাজ শুরু করবো।”

 • “পরের বার নিশ্চিতভাবে পরীক্ষা ভালো দেব।”


কিন্তু ‘একদিন’ কখনো আসে না। আর এই অপেক্ষা, এই ‘আগামীকাল’ আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতারক।


আপনার সমস্যার আসল কারণ কী?


১. পরিকল্পনা নয়, কাজ শুরু করুন:

পরিকল্পনা করা সহজ, কিন্তু সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করা কঠিন। আমাদের মস্তিষ্ক পরিকল্পনার সময় সাময়িক আনন্দ পায় এবং মনে করে কাজ শেষ। কিন্তু বাস্তবিক কাজ শুরু না করলে সেটি শুধু একটা কল্পনা।


২. সঠিক মুহূর্তের অপেক্ষা:

“সবকিছু ঠিকঠাক হলে শুরু করবো”—এই ধারণা ভয়ানক। কারণ জীবন কখনোই নিখুঁত হবে না। এই অপেক্ষার মানে হলো, আপনি ভয় পাচ্ছেন।


৩. ছোট পদক্ষেপে অগ্রগতি:

বড় কিছু করার জন্য ছোট শুরু করাটা জরুরি। আপনি যদি দিনে মাত্র ১০ মিনিটও কিছু করেন, তাও অগ্রগতির প্রথম ধাপ।


৪. ব্যর্থতার ভয়:

ব্যর্থতা জীবনের অংশ। আপনার ভুল থেকেই শিখতে হবে। ব্যর্থ না হলে সফলতাও আসবে না।


আপনার জন্য আজকের বার্তা:


জীবন আপনাকে কখনোই ‘পরে’ বা ‘কাল’ বলে অপেক্ষা করবে না। সময় তার মতো এগিয়ে যাবে। আপনি হয় আজ শুরু করবেন, নয়তো পিছিয়ে পড়বেন।


আজ থেকেই ছোট কিছু করুন।

 • যদি পড়াশোনা হয়, একটা পৃষ্ঠা পড়ুন।

 • যদি ফিটনেস হয়, ৫ মিনিট ব্যায়াম করুন।

 • যদি নতুন দক্ষতা শিখতে চান, ইউটিউবে একটা ভিডিও দেখুন।


যতদিন না আপনি শুরু করছেন, ততদিন সবকিছুই অসম্ভব। আর একবার শুরু করলে সবকিছুই সম্ভব।


আজকের ছোট পদক্ষেপটাই হতে পারে আপনার আগামীকালের সাফল্যের ভিত্তি।


তাই, “আগামীকাল” নয়, “আজ” শুরু করুন। কারণ, জীবন অপেক্ষা করবে না।

মাইসারা জান্নাত মিম 

স্বপ্ন মানুষকে বাঁচতে শেখায়

আপনার নিজস্ব নিউজ পোর্টাল অথবা পত্রিকার ই-পেপার তৈরি করতে চান?

 বেকার সমস্যার কথা আসলেই অনেকে শিক্ষার্থীদের বেশি করে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করবার কথা বলেন। কিন্তু কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের কি পরিস্থিতি, কারিগরি শিক্ষিতদের আয় ও কর্মপরিবেশ কেমন সে বিষয়ে কয়জন খোজ রাখেন সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। 


আজকে বণিক বার্তায় এ বিষয়ে একটা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টে কিছু কেস স্টাডি ও পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো সবার জানা দরকার। 


উদাহরণ স্বরূপ রবিউল ইসলামের কথাই ধরা যাক। রবিউল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন ২০২০ সালে। এরপর তিনটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। প্রথমটিতে বেতন ছিল মাত্র সাড়ে ৮ হাজার টাকা। তাও আবার চাকরির তিন মাসের মাথায় কোনো ধরনের নোটিস ছাড়াই ছাঁটাই হন। এরপর আরো একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ১২ হাজার টাকায়। সেখানে আবার বেতনের তুলনায় কাজের চাপ ছিল অনেক বেশি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা তারই সহকর্মীরা একই পদে পেতেন প্রায় তিন গুণ বেতন। সেই কষ্টে চাকরি ছেড়ে দিয়ে রবিউল এখন ব্যবসা শুরু করেছেন।


আরেক তরুণ শাহরিয়ার আহমেদ সরকারি একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ২০২২ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং করেন। তিনিও এরপর মোট তিনটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। বর্তমানে যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সেখানে বেতন পান কেবল ১৫ হাজার টাকা। শাহরিয়ার আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেছেন, ‘আমরা চাকরি পাচ্ছি না, বিষয়টি এমন নয়। কিন্তু যে কাজ পাচ্ছি তা মানসম্মত নয়। আমার অনেক সহপাঠী চাকরি না করে গ্রামের বাড়িতে বসে আছে, কারণ যে বেতনে তারা চাকরি পাচ্ছে তা দিয়ে ঢাকায় থাকাই সম্ভব নয়। আমার পরিবার গ্রামে থাকে। ঢাকায় নিজের খরচ চালিয়ে তাদের তেমন সহযোগিতা করতে পারি না।’


এ বিষয়ে পরিসংখ্যানও বেশ হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরে। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) ২০২১ সালে জমা দেয়া এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ কর্মজীবী, ৪ শতাংশ উদ্যোক্তা, ৩৮ শতাংশ বেকার ও ৪ শতাংশ কাজে আগ্রহী নয়। 


যারা কাজ করছেন, তাদের আয়ের কি অবস্থা? ঐ গবেষণা অনুসারে, ৪৪ শতাংশের মাসিক আয় ১০-১৫ হাজার টাকার মধ্যে এবং ৪৩ শতাংশের আয় ১০ হাজার টাকার কম। মাত্র ১৩ শতাংশের মাসিক আয় ১৫ হাজারের ওপর।


প্রায় একই চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) জরিপেও। ব্যানবেইসের ওই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর ডিগ্রি নিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭১ শতাংশ বেতন পাচ্ছে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।


আসলে যারা বিভিন্ন দেশি বিদেশী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তাদের একটা উল্ল্যেখযোগ অংশকে কাজ করতে হয় অস্থায়ী ভিত্তিতে, আউটসোর্সিং মডেলে যাদের চাকুরির কোন নিশ্চয়তা থাকে না, নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা থাকে না, কাজের পরিবেশও জঘন্য। 


সরকারের উচিত বিভিন্ন দেশি বিদেশী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কারিগরী জনবলের প্রকৃত পরিস্থিতি কি তার খোজ নেওয়া এবং যথাযথ আইন, নীতিমালা ও তাদরকির মাধ্যমে তাদের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের অধিকার নিশ্চিত করা। মর্যাদাপূর্ণ কারিগরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না করে কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা চরম দায়ীত্বহীনতা।

©


---------------------------------------------------------------------


📢 আপনার নিজস্ব নিউজ পোর্টাল অথবা পত্রিকার ই-পেপার তৈরি করতে চান? 🌐


ওয়েব নিউজ ডিজাইন - আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিউজ পোর্টাল, ই-পেপার এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনার সেবা প্রদান করি। এছাড়াও, আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য সেরা ডিজাইন সেবা পেতে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন!


যোগাযোগ


📞 ০১৯১৫৩৪৪৪১৮ [WhatsApp, Imo], ঢাকা।


🌐 webnewsdesign.com


📧 faroque.computer@gmail.com]


---------------------------------------------------------------------

বোজা দরজা, খোলা ভয়

 ⛔বোজা দরজা, খোলা ভয়⛔

(গল্পটি পাঠিয়েছেন ✍️ রাজা গিলগামেশ ✍️ — ছদ্মনাম)


১৮ এপ্রিল, ২০২৫। রাত ২:৫৩।

সব ছিলো স্বাভাবিক—রুমে একা, কাত হয়ে শুয়ে এনিমে দেখা, ছোট ভাই সেদিন মামার সঙ্গে ঘুমাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই রুমটা ভারি হয়ে ওঠে। না, সেটা বোঝা ভারী নয়, যেন বাতাসের ভেতরেই ঢুকে এসেছে অদৃশ্য কোনো অস্তিত্ব। নিঃশ্বাস নিতেও কেমন যেন কষ্ট হচ্ছিল, আর ঘরের মধ্যে এক ধরনের নেগেটিভ অনুভূতির সৃষ্টি হচ্ছিল।


এরপর যা ঘটলো, তা কল্পনারও বাইরে।

চোখ বন্ধ হয়ে আসে, কিন্তু ইচ্ছা করেও খোলা যায় না। মনে হচ্ছে—গভীর এক গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছি। শরীর অবশ, হাত নাড়াতে পারছি না। অথচ মন জেগে আছে, আমি জানি আমি জেগে।

আর তখনই শুরু হয় এক তীব্র শব্দ—কানের ভিতর ঘুরতে থাকা এক ধরনের "ভো-ভো" শব্দ, যা আস্তে আস্তে আমার সমস্ত অনুভূতি গ্রাস করে নিচ্ছিল।


ভয়ে-আতঙ্কে আমি কেবল মনে মনে শুরু করলাম সূরা পাঠ। আল্লাহর নাম নিতে নিতে অনুভব করলাম, সেই ভার, সেই শীতল ভয় যেন একটু একটু করে কমে যাচ্ছে। সজোরে রুকইয়া আয়াত চালিয়ে দিলাম মোবাইলে। সেদিন রাতটা বেঁচে গেলাম... অল্পের জন্য।


কিন্তু ভয় এখানেই শেষ নয়।


১৯ এপ্রিল। আমি আমার অতি প্রিয় রুবিক্স কিউব নিয়ে ব্যস্ত। নানা ধরনের কিউব আমার সংগ্রহে—লোকাল থেকে স্পিড কিউব, দামি থেকে অদলবদলযোগ্য কিউব।

রুমে একা বসে, টিস্যু দিয়ে পরিষ্কার করছিলাম কিউবটা। হঠাৎ খেয়াল করলাম, কিউবের একটি কর্নার... উধাও!

না, নিচে নেই, খাটের কোণায় নেই, জানালার পাশে নেই—পুরো ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সেটা পাওয়া গেল না।

আর এই কিউব? এই কিউব তো আমি নিজের হাতেই খুলে রেখেছিলাম! কেউ ছিল না রুমে, কেউ ঢোকেওনি, জানিও না কেউ ঢোকার কথা।

কিন্তু কর্নারটা নেই।

ডিরেক্ট উধাও।


সেদিনের পর থেকে আমার রুম, আমার আপন জায়গা—আমার জন্য আতঙ্কের নাম। এখন আমি আর সেখানে থাকি না।

একজন হুজুর এসে রুকইয়া পড়ে পানি ছিটিয়েছেন পুরো ঘরে। কিন্তু মনটা এখনো অস্থির। এখনো মাঝরাতে সেই ভারী নিশ্বাস, ছায়ার মতো হাঁটা-চলা আর হারিয়ে যাওয়া জিনিসগুলো আমার ঘুম কেড়ে নেয়।


ঘরের দরজাটা বোজা।

তবু ভয় ঢুকে পড়ে—কখনো শব্দ হয়ে, কখনো অন্ধকার হয়ে...

আর কখনো, কোনো হারিয়ে যাওয়া কর্নারের মতো নিঃশব্দে।

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...