এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ৪ মে, ২০২৫

মজন্তালী সরকার উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

 মজন্তালী সরকার

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী


এক গ্রামে দুটো বিড়াল ছিল। তার একটা থাকত গোয়ালাদের বাড়িতে, সে খেত দই, দুধ, ছানা, মাখন আর সর। আর একটা থাকত জেলেদের বাড়িতে, সে খেত খালি ঠেঙার বাড়ি আর লাথি। গোয়ালাদের বিড়ালটা খুব মোটা ছিল, আর সে বুক ফুলিয়ে চলত। জেলেদের বিড়ালটার গায় খালি চামড়া আর হাড় কখানি ছিল। সে চলতে গেলে টলত আর ভাবত, কেমন করে গোয়ালাদের বিড়ালের মতো মোটা হব।

শেষে একদিন সে গোয়ালাদের বিড়ালকে বললে, 'ভাই, আজ আমার বাড়িতে তোমার নিমন্ত্রণ।'


সব কিছু মিছে কথা। নিজেই খেতে পায় না, সে আবার নিমন্ত্রণ খাওয়াবে কোথা থেকে? সে ভেবেছে, 'গোয়ালাদের বিড়াল আমাদের বাড়ি এলেই আমার মতন ঠেঙা খাবে আর মরে যাবে, তারপর আমি গোয়ালাদের বাড়িতে গিয়ে থাকব।'

যে কথা সেই কাজ। গোয়ালদের বিড়াল জেলেদের বাড়িতে আসতেই জেলেরা বললে, 'ঐ রে। গোয়ালাদের সেই দই-দুধ-খেকো চোর বিড়ালটা এসেছে, আমাদের মাছ খেয়ে শেশ করবে। মার বেটাকে!'

বলে তারা তাকে এমনি ঠেঙালে যে, বেচারা তাতে মরেই গেল। রোগা বিড়াল তো জানতই যে, এমনি হবে। সে তার আগেই গোয়ালাদের বাড়ি গিয়ে উপস্থিত হয়েছে। সেখানে খুব করে ক্ষীর-সর খেয়ে, দেখতে-দেখতে সে মোটা হয়ে গেল। তখন আর সে অন্য বিড়ালদের সঙ্গে কথা কয় না, আর নাম জিগগেস করলে বলে, 'মজন্তালী সরকার।'


একদিন মজন্তালী সরকার কাগজ কলম নিয়ে বেড়াতে বেরুল। বেড়াতে-বেড়াতে সে বনের ভিতরে গিয়ে দেখল যে তিনটি বাঘের ছানা খেলা করছে। সে তাদের তিন তাড়া লাগিয়ে বলল, 'এইয়ো! খাজনা দে!' বাঘের ছানাগুলো তার কাগজ কলম দেখে আর ধমক খেয়ে বড্ড ভয় পেল। তাই তারা তাড়াতাড়ি তাদের মায়ের কাছে গিয়ে বললে, 'ও মা, শিগগির এস! দেখ এটা কি এসেছে, আর কী বলছে!', বাঘিনী তাদের কথা শুনে এসে বললে, 'তুমি কে বাছা? কোথেকে এলে? কী চাও?' মজস্তালী বললে, 'আমি রাজার বাড়ির সরকার, আমার নাম মজন্তালী। তোরা যে আমাদের রাজার জায়গায় থাকিস, তার খাজনা কই? খাজনা দে।'

বাঘিনী বললে, 'খাজনা কাকে বলে তা তো আমি জানিনে। আমরা খালি বনে থাকি, আর কেউ এলে তাকে ধরে খাই। তুমি না হয় একটু বস, বাঘ আসুক।'

তখন মজন্তালী একটা উঁচু গাছের তলায় বসে, চারিদিকে উঁকি মেরে দেখতে লাগল। খানিক বাদেই সে দেখল ঐ বাঘ আসছে। তখন সে তাড়াতাড়ি কাগজ কলম রেখে, একেবারে গাছের আগায় গিয়ে উঠল।


বাঘ আসতেই তো তা বাঘিনী তার কাছে সব কথা বলে দিয়েছে, আর বাঘের যে কি রাগ হয়েছে কি বলব! সে ভয়ানক গর্জন করে বললে, 'কোথায় সে হতভাগা? এখুনি তার ঘাড় ভাঙছি!'

মজন্তালী গাছের আগা থেকে বললে, 'কী রে বাঘা, খাজনা দিবি না? আয়, আয়!'

শুনেই তো বাঘ দাঁত মুখ খিঁচিয়ে 'হালুম!' বলে দুই লাফে সেই গাছে গিয়ে উঠেছে। কিন্তু খালি উঠলে কি হয়? মজন্তালীকে ধরতে পারলে তো! সে একটুখানি হালকা জন্তু, সেই কোন্ সরু ডালে উঠে বসেছে, অত বড় ভারি বাঘ সেখানে যেতেই পারছে না। না পেরে রেগে-মেগে বেটা দিয়েছে এক লাফ, অমনি পা হড়কে গিয়েছে পড়ে। পড়তে গিয়ে, দুই ডালের মাঝখানে মাথা আটকে, তার ঘাড় ভেঙে প্রাণ বেরিয়ে গিয়েছে।

তা দেখে মজন্তালী ছুটে এসে তার নাকে তিন চারটে আঁচড় দিয়ে, বাঘিনীকে ডেকে বললে, 'এই দেখ, কী করেছি। আমার সামনে বেয়াদবি।'

এ সব দেখে শুনে তো ভয়ে বাঘিনী বেচারীর প্রাণ উড়ে গেল। সে হাত জোড় করে বললে, 'দোহাই মজন্তালী মশাই আমাদের প্রাণে মারবেন না। আমরা আপনার চাকর হয়ে থাকব।'

তাতে মজন্তালী বললে, 'আচ্ছা তবে থাক, ভালো করে কাজকর্ম করিস, আর আমাকে খুব ভালো খেতে দিস।'

সেই থেকে মজন্তালী বাঘিনীদের বাড়িতেই থাকে। খুব করে খায় আর বাঘিনীর ছানাগুলির ঘাড়ে চড়ে বেড়ায়। সে বেচারারা তার ভয়ে একেবারে জড়-সড় হয়ে থাকে, আর তাকে মনে করে, না জানি কত বড় লোক।


একদিন বাঘিনী তাকে হাত জোড় করে বললে, 'মজন্তালী মশাই, এ বনে খালি ছোট-ছোট জানোয়ার, এতে কিছু আপনার পেট ভরে না। নদীর ওপারে খুব ভারি বন আছে, তাতে খুব বড়-বড় জানোয়ারও থাকে। চলুন সেইখানেই।'

শুনে মজন্তালী বললে, 'ঠিক কথা। চল ওপারে যাই।' তখন বাঘিনী তার ছানাদের নিয়ে, দেখতে-দেখতে নদীর ওপারে চলে গেল। কিন্তু মজন্তালী কই? বাঘিনী আর তার ছানারা অনেক খুঁজে দেখল— ঐ মজন্তালী সরকার নদীর মাঝখানে পড়ে হাবু-ডুবু খাচ্ছে। স্রোতে তাকে ভাসিয়ে সেই কোথায় নিয়ে গিয়েছে, আর ঢেউয়ের তাড়ায় তার প্রাণ যায়-যায় হয়েছে।

মজন্তালী তো ঠিক বুঝতে পেরেছে যে, আর দুটো ঢেউ এলেই সে মারা যাবে। এমন সময় ভাগ্যিস বাঘিনীর একটা ছানা তাকে তাড়াতাড়ি ডাঙায় তুলে এনে বাঁচাল, নইলে সে মরেই যেত, তাতে আর ভুল কি?

কিন্তু মজন্তালী সরকার তাদের সে কথা জানতেই দিল না। সে ডাঙায় উঠে ভয়ানক চোখ রাঙিয়ে বাঘের ছানাকে চড় মারতে গেল, আর গাল যে দিল তার তো লেখাজোখাই নেই। শেষে বললে, 'হতভাগা মূর্খ, দেখ দেখি কী করলি! আমি অমন চমৎকার হিসাবটা করছিলুম, সেটা শেষ না হতেই তুই আমাকে টেনে তুলে আনলি— আর আমার সব হিসাব এলিয়ে গেল! আমি সবে গুণছিলুম, নদীতে কটা ঢেউ, কতগুলো মাছ আর কতখানি জল আছে। মূর্খ বেটা, তুই এর মধ্যে গিয়ে সব গোলমাল করে দিলি। এখন যদি আমি রাজামশাইয়ের কাছে গিয়ে এর হিসাব দিতে না পারি, তবে মজাটা টের পাবি।'


এসব কথা শুনে বাঘিনী তাড়াতাড়ি এসে হাত জোড় করে বললে, 'মজন্তালী মশাই, ঘাট হয়েছে, এবারে মাপ করুন। ওটা মূর্খ, লেখাপড়া জানে না তাই কি করতে কী করে ফেলেছে!'

মজন্তালী বললে, 'আচ্ছা, এবারে মাপ করলুম। খবরদার। আর যেন কখনো এমন হয় না।' এই বলে মজন্তালী তার ভিজে গা শুকাবার জন্যে রোদ খুঁজতে লাগল।

ভারি বনের ভিতরে সহজে রোদ ঢুকতে পায় না। সেখানে রোদ খুঁজতে গেলে উঁচু গাছের আগায় গিয়ে উঠতে হয়। মজন্তালী একটা গাছের আগায় উঠে দেখলে যে, এই বড় এক মরা মহিষ মাঠের মাঝখানে পড়ে আছে। তখন সে তাড়াতাড়ি গিয়ে সেই মহিষটার গায়ে কয়েকটা আঁচড় কামড় দিয়ে এসে বাঘিনীকে বললে, 'শিগগির যা, আমি একটা মোষ মেরে রেখে এসেছি।'

বাঘিনী আর তার ছানাগুলো ছুটে গিয়ে দেখলো, সত্যি মস্ত এক মোষ পড়ে আছে। তারা চারজনে মিলে অনেক কষ্টে সেটাকে টেনে আনলে, আর ভাবলে, 'ঈস! মজন্তালী মশায়ের গায়ে কি ভয়ানক জোর!'

আর একদিন মজন্তালীকে বললে, 'মজন্তালী মশাই, এ বনে বড়-বড় হাতি আর গণ্ডার আছে। চলুন একদিন সেইগুলো মারতে যাই।'

একথা শুনে মজন্তালী বললে, 'তাই তো হাতি গণ্ডার মারব না তো মারব কি? চল আজই যাই।'

বলে সে তখুনি সকলকে নিয়ে হাতি আর গণ্ডার মারতে চলল। যেতে-যেতে বাঘিনী তাকে জিগগেস করলে, 'মজন্তালী মশাই, আপনি খাপে থাকবেন না, ঝাঁপে থাকবেন?' খাপে থাকবার মানে কি? না-জন্তু এলে তাকে ধরে মারবার জন্যে চুপ করে গুড়ি মেরে বসে থাকা। আর ঝাঁপে থাকার মানে হচ্ছে, বনের ভিতরে গিয়ে ঝাঁপাঝাঁপি করে জন্তু তাড়িয়ে আনা। মজন্তালী ভাবলে, 'আমার তাড়ায় আর কোন জন্তু ভয় পাবে?' তাই সে বললে,

'আমি ঝাঁপিয়ে যে সব জন্তু পাঠাব, তা কি তোরা মারতে পারিস? তোরা ঝাঁপে যা, আমি খাপে থাকি।'

বাঘিনী বললে, 'তাই তো, সে সব ভয়ানক জন্তু কি আমরা মারতে পারব? চল বাছারা, আমরা ঝাঁপে যাই।'

এই বলে বাঘিনী তার ছানাগুলোকে নিয়ে বনের অন্য ধারে গিয়ে, ভয়ানক 'হালুম-হালুম' করে জানোয়ারদের তাড়াতে লাগল। মজন্তালী জানোয়ারদের ডাক শুনে, একটা গাছের তলায় বসে ভয়ে কাঁপতে লাগল।


খানিক বাদে একটা সজারু সড়-সড় করে সেই দিক পানে ছুটে এসেছে, আর মজন্তালী তাকে দেখে 'মাগো' বলে সেই গাছের একটা শিকড়ের তলায় গিয়ে লুকিয়েছে, এমন সময় একটা হাতি সেইখানে দিয়ে চলে গেল। সেই হাতির একটা পায়ের এক পাশ সেই শিকড়ের উপরে পড়েছিল, তাতেই মজন্তালীর পেট ফেটে গিয়ে, বেচারার প্রাণ যায় আর কি।

অনেকক্ষণ ঝাঁপাঝাঁপি করে বাঘেরা ভাবলে, 'মজন্তালী মশাই না জানি এতক্ষণে কত জন্তু মেরেছেন, চল একবার দেখে আসি।' তারা এসে মজন্তালীর দশা দেখে বললে, 'হায়-হায়! মজন্তালী মশায়ের এ কি হল?'

মজন্তালী বললে, 'আর কি হবে? তোরা যে সব ছোট-ছোট জানোয়ার পাঠিয়েছিলি। দেখে হাসতে-হাসতে আমার পেটই ফেটে গিয়েছে।' এই বলে মজন্তালী মরে গেল।

জলাতঙ্ক থেকে কি বেঁচে ফেরা সম্ভব? 

 জলাতঙ্ক থেকে কি বেঁচে ফেরা সম্ভব? 

জলাতঙ্ক শব্দটা শুনলেই আমাদের সর্বপ্রথম মাথায় আসে একজন মুমূর্ষু রোগীর ভয়াবহ অবস্থার প্রতিচ্ছবি — যিনি প্রচণ্ড আতঙ্কে ভুগছেন, প্রচণ্ড পিপাসায় তার গলা শুকিয়ে গেছে অথচ পানি দেখলে বা পান করতে গেলেই ছটফট করছেন, মুখ থেকে বেরোচ্ছে ফেনা, শরীর কাঁপছে, কখনো হিংস্র আচরণ করছেন আবার কখনো অচেতন হয়ে পড়ছেন। সময় যত এগোচ্ছে, তার স্নায়ুতন্ত্র ততই ভেঙে পড়ছে, শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটছে, হৃদস্পন্দন দুর্বল হয়ে আসছে — এবং অবশেষে, একটি ভয়ানক এবং নির্মম পরিণতির মাধ্যমে শেষ হয় তার জীবনের অধ্যায়।


জলাতঙ্ক ভাইরাস, বা র‍্যাবিস, সাধারণত সংক্রমিত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। যদি যথাসময়ে প্রতিষেধক (vaccine) দেওয়া না হয় তাহলে একবার উপসর্গ শুরু হলে এই অবস্থা থেকে কোনো মানুষের বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোটায় বলেই আমরা জানি। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে জলাতঙ্ককে আজও মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক রোগগুলোর একটি ধরা হয় যার বিরুদ্ধে উপসর্গ-পরবর্তী কার্যকর প্রতিকার আজও সুনিশ্চিত নয়।


তবে ২০০৪ সালে ঘটে এক অভাবনীয় ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী (Jeanna Giese) বাদুড়ের কামড়ে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হোন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো উপসর্গ শুরু হওয়ার পরও তিনি বেঁচে যান। এটি ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। এই অলৌকিক সাফল্যের পেছনে ছিল এক সাহসী চিকিৎসক ও পরীক্ষামূলক চিকিৎসাপদ্ধতি — Milwaukee Protocol।


ঘটনার শুরু হয় ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১২ তারিখে। সেদিন জিয়ানা তার মায়ের সাথে গির্জায় প্রার্থনা করতে গেলে দেখা যায় গির্জায় অনুপ্রবেশকৃত একটি বাঁদুড় সবার প্রার্থনায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল বলে  গির্জার কর্মীরা সেটিকে আঘাতের মাধ্যমে মেঝেতে ফেলে দেয়। আর এই ঘটনা জিয়ানার দৃষ্টিগোচর হলে সে বাঁদুড়টিকে গির্জার বাইরে ছেড়ে দিয়ে আসার চেষ্টা করে এবং এমতাবস্থায় আচমকা বাদুড়টি তার আঙুলে কামড় দেয়। তবে সে এই ব্যাপারটিকে খুবই  হালকাভাবে নেয় এবং ভ্যাকসিন না নিয়ে কেবল এন্টিসেপটিক দিয়ে ক্ষত পরিষ্কার করে। আর তার এই সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনে এক ভয়াবহ পরিণতি। প্রায় ১ মাস পর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সে জ্বরে ভুগতে শুরু করে। শুরু হয় ক্লান্তি, দৃষ্টিজনিত সমস্যা, বমি, অতিরিক্ত লালার প্রবাহ — এবং ধীরে ধীরে স্নায়ুবিক উপসর্গ।


শিশু সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসক রডনি উইলোবি রোগীর অবস্থা দেখে উপলব্ধি করেন এটি জলাতঙ্ক হতে পারে এবং পরবর্তীতে CDC (Centers for Disease Control and Prevention) থেকেও পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে। এর পরপরই উইলোবি সিদ্ধান্ত নেন মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার বদলে একটি সাহসী ও নতুন পথ বেছে নেবেন।


Dr. Willoughby-এর ধারণা ছিল অনেকটা এমন যে, যেহেতু র‍্যাবিস মস্তিষ্কের কোষে আক্রমণ করে এবং কোষের কার্যকলাপ ধ্বংসের কারণেই রোগীর মৃত্যু ঘটে তাই যদি মস্তিষ্কের কার্যকলাপ সাময়িকভাবে “বন্ধ” করে রাখা যায় তাহলে ভাইরাসের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে স্নায়ু কিছুটা রক্ষা পাবে এবং ফলশ্রুতিতে শরীর নিজেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ার সময় পাবে। র‍্যাবিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ওপর করা কেস রিপোর্টগুলো বিশ্লেষণ করে তিনি দেখতে পান যে, র‍্যাবিসে মৃতদের মস্তিষ্ক মৃত্যুর পর দেখা যায় না খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যদি রোগীদের মৃত্যুর আগে শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্তচাপ বজায় রাখতে সহায়তা করা যায়, তাহলে মৃত্যুর পর তাদের দেহে ভাইরাস খুঁজে পাওয়া যায় না।


আর এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে তিনি তৈরি করলেন এক পরীক্ষামূলক চিকিৎসা — Milwaukee Protocol। 


জিয়ানা-কে ওষুধের মাধ্যমে কৃত্রিম কোমায় পাঠানো হয়। তাকে দেওয়া হয় sedatives (ketamine, midazolam), antiviral ও neuroprotectant ওষুধ (amantadine), এবং antiviral ribavirin। পরে অল্প ডোজে phenobarbital দেয়া হয় কোমা পরিপুর্ণভাবে নিশ্চিত করতে, যদিও এটি মূল পরিকল্পনার অংশ ছিল না। যাইহোক এসব ঔষধ প্রয়োগের উদ্দেশ্য মস্তিষ্কের কার্যক্রম হ্রাস করে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিউরনগুলোকে রক্ষা করা এবং সেই সময়টায় শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে সুযোগ দেওয়া।


মূলত চিকিৎসকেরা Jeanna-র শরীরকে একটি নিউরোলজিকাল শীতনিদ্রা/হাইবারনেশনে পাঠিয়েছিলেন। উইলোবি বলেছিলেন, এটা ছিল একেবারেই একটি "ধারণা", যার পেছনে কোনো পরীক্ষিত তথ্য ছিল না। কিন্তু জিয়ানা গিজের অভিভাবকরা সম্মতি দেন। শুরুতে জিয়ানা নির্দিষ্ট কিছুদিন কোমায় ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তার স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকলাপ  পুনরুদ্ধার হয় এবং দীর্ঘ পুনর্বাসনের মাধ্যমে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।


সপ্তাহখানেক পর ঔষধের ডোজ কমানোর ফলে কৃত্রিম কোমা থেকে ধীরে ধীরে জিয়ানা যখন জেগে ওঠেন তখন তিনি পুরোপুরি প্যারালাইজড — কিন্তু তিনি জীবিত ছিলেন, যা নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। দিনদিন ডাক্তাররা যখন অ্যানেস্থেসিয়ার পরিমাণ কমাচ্ছিল তখন জিয়ানার ধীরে ধীরে রিফ্লেকশন আসা শুরু করে। দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি উঠে বসতে এবং চারপাশে তাকাতে শুরু করলেন এবং তিনি একটি দীর্ঘ, কঠিন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করলেন। তার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে লিখিত তথ্যমতে, “কথা বলা, হাঁটা, দাঁড়ানো, জিনিস তুলে ধরা, নির্দেশ করা, খাওয়া, পান করা, সবকিছু একটি শিশু যা শেখে” এই সবকিছু তাকে পুনরায় শিখতে হয়েছিল (যেহেতু সে প্যারালাইজড ছিল)। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে জিয়ানা হাসপাতাল ছাড়েন। রোগ নির্ণয়ের এক বছর পর তিনি রেবিস গবেষকদের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতা দেন এবং ২০১১ সালে তিনি কলেজ থেকে স্নাতক হন, যেখানে তার চিকিৎসক উইলোবি উপস্থিত ছিলেন।


তবে ২০০৫ সালে জিয়ানা গিজ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও পরবর্তী দুই বছর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারেননি ডাক্তার উইলোবি। কেননা যেহেতু এটাই সুস্থতার প্রথম রেকর্ড এবং জলাতঙ্ক থেকে আরোগ্যের বিষয়ে এর আগে তার কোনো ধারণা ছিল না তাই তাই গিজের পুনরায় জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়া কিংবা ধীর্ঘ মেয়াদি অন্য কোনো সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তাছাড়া এরই মধ্যে তার মনে বেশকিছু প্রশ্নও ছিল। গিজ কেন বেঁচে গেল? সে কি র‍্যাবিস দ্বারা পরিপূর্ণভাবে সংক্রমিত ছিল নাকি তার সংক্রমণের ধরণ ছিল হালকা কিংবা অস্বাভাবিক? নাকি সত্যিই প্রটোকৌলই তাকে বাঁচিয়েছে? আর যদি তাই হয় সেক্ষেত্রে প্রটোকৌলের কোন উপাদানগুলো জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে দায়ী? তার এই পদ্ধতি কি বাকিদের উপর কাজ করবে?


উইলোবি ও তার সহকর্মীরা জিয়ানা গিজের এই আরোগ্য লাভের ঘটনাটি CDC (Centers for Disease Control and Prevention) এর “রোগ ও মৃত্যু সাপ্তাহিক প্রতিবেদন”-এ এবং নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে রিপোর্ট করেছিলেন। তাছাড়া উইসকনসিন মেডিকেল কলেজ বিস্তারিত চিকিৎসা পদ্ধতি সহ একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছিল (যা মিলওয়াকি প্রোটোকল নামে পরিচিত হয়েছিল) এবং একটি রেজিস্ট্রিও তৈরি করেছিল যেখানে চিকিৎসকরা প্রোটোকল ব্যবহার করে তাদের অভিজ্ঞতার বিবরণ রেকর্ড করতে পারতেন। উইলোবি আশা করেছিলেন যে বছরে হাজার হাজার জলাতঙ্কের মারাত্মক ঘটনা ঘটলে, অন্যান্য চিকিৎসকরা এটি ব্যবহার শুরু করবে এবং ছয় মাসের মধ্যে তার কাছে একটি উত্তর থাকবে সেই প্রশ্নগুলোর। 


যাইহোক, যে  Milwaukee Protocol ইতিহাসের প্রথমবারের মতো কোনো জলাতঙ্কের রোগীকে সুস্থ করে তোলার কর্তৃত্ব অর্জন করেছিল সে চিকিৎসা পদ্ধতিটি তেমন উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি তো পায়নি বরং অনেক জলাতঙ্ক গবেষক তার এই প্রটোকৌল এর তীব্র সমালোচনা করেছেন এই চিকিৎসাটিকে “অনৈতিক” অবহিত করে। বহু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই পদ্ধতিটি আসলে কার্যকর নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা পদ্ধতিতে করা ৫১টি প্রচেষ্টাতে দেখা যায়, যার মধ্যে মাত্র ৭ জন বেঁচে আছেন, অর্থাৎ, সাফল্যের হার মাত্র ১০–১৫ শতাংশ। আবার বেঁচে যাওয়া এসব লোকেদের মধ্যে কারো কারো শারীরিক প্রতিবন্ধকতার রেকর্ডও রয়েছে। তবে উইলোবি মনে করেন, প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে তার এই প্রটোকৌল কঠোরভাবে মানা হয়নি এবং এতদিনে এই পদ্ধতির সংশোধিত রূপ আরও নিরাপদ ও কার্যকর হতে পারে। 


যদিও উইলোবি মনে করেন তার উদ্ভাবিত এই চিকিৎসা পদ্ধতি অধ্যয়ন যোগ্য তবে সমালোচকরা তা মোটেও মনে করেন না। এরমধ্যে ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালান জ্যাকসন ২০১৩ সালে অ্যান্টিভাইরাল রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলেছেন, “এই প্রোটোকলটির ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।” আবার, অনেকে সমালোচকরা মনে করেন যারা জলাতঙ্ক থেকে বেঁচে গেছেন তারা হয়ত এমনিতেই বেঁচে যেতেন। জিয়ানার বেঁচে থাকা হয়ত তার শক্তিশালী ইম্যিউন সিস্টেমের ফলাফল — কোনো চিকিৎসার কারণে নয়। এই ধারণাকে সমর্থন করার জন্য প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করানো হয় যে, র‍্যাবিস সংক্রমণ সবসময় মারাত্মক হয় না। তাছাড়া, সমস্ত আক্রান্ত প্রাণী এই রোগে মারা যায় না, এবং পেরুর প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে সংক্রামিত ভ্যাম্পায়ার বাদুড় খুবই কমন, সেখানে গবেষণায় দেখা গেছে যে কিছু লোকের জলাতঙ্কের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি রয়েছে যদিও তারা কখনও টিকা গ্রহণ করেনি।


যাইহোক, চিকিৎসক উইলোবির উদ্ভাবিত এই Milwaukee Protocol সমস্ত সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে আদৌ কোনোদিন সর্বজনস্বীকৃত হতে পারবে কি না, নাকি চিকিৎসাবিজ্ঞানের কল্যাণে ভবিষ্যতে জলাতঙ্কে আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচাতে আরো কার্যকর কোনো পদ্ধতি উদ্ভাবিত হবে তার উত্তর হয়ত সময়ই বলে দিবে। তবে বর্তমানে উইলোবি এবং তার চিকিৎসা পদ্ধতির সমালোচকগণ, উভয় পক্ষ এই বিষয়ে একমত যে, প্রতিরোধই জলাতঙ্কের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। Milwaukee Protocol-এ একজন রোগীর চিকিৎসার খরচ যেখানে ৮ লক্ষ ডলার, সেখানে সেই খরচে হাজার হাজার শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব। তাই বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কুকুরের টিকাদান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি এই ভয়াবহ রোগ থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর পথ।

 অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক, ব্রেইন স্ট্রোক, হঠাৎ মৃত্যু—এর পেছনের ভয়ংকর সত্যটা কি জানেন?

 অল্প বয়সেই হার্ট অ্যাটাক, ব্রেইন স্ট্রোক, হঠাৎ মৃত্যু—এর পেছনের ভয়ংকর সত্যটা কি জানেন?


আজকাল প্রায়ই শুনি—২৫, ৩০ এমনকি ১৮-২০ বছরের ছেলেমেয়েও স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকে মারা যাচ্ছে। পরিবার, বন্ধু, পরিচিতদের মধ্যে কারো না কারো এমন ঘটনা ঘটছে। অথচ একসময় এসব রোগ হতো বৃদ্ধ বয়সে। তাহলে এখন অল্প বয়সেই কেন?


চলুন কিছু বাস্তব কারণ জানি, যাতে সময় থাকতে সাবধান হওয়া যায়:


১. জীবনযাপন বদলেছে, কিন্তু অভ্যাস বদলায়নি


সকালে উঠে হাঁটা নয়, ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল। খাবারের বদলে ফাস্ট ফুড আর সফট ড্রিংকস। খেলাধুলার জায়গায় PUBG, Free Fire, Netflix। রাতে ঘুমানোর বদলে স্ক্রিন টাইম। এই সবকিছু মিলিয়ে আমাদের শরীর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে ভিতর থেকে।


২. অতিরিক্ত মানসিক চাপ (Stress)


পড়ালেখা, চাকরি, সম্পর্ক, সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ—সব কিছু মিলে একটা অসহনীয় মানসিক বোঝা সৃষ্টি করছে। ঘুম ঠিকমতো হয় না, মাথাব্যথা, রাগ, হতাশা—এসব থেকেই হার্টের সমস্যা, ব্রেইন স্ট্রোক বা প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে।


৩. নেশার ভয়াল থাবা


ধূমপান, এলকোহল বা মাদকের প্রতি আসক্তি দিন দিন বেড়েই চলেছে। এগুলো সরাসরি হার্টের রক্তনালী সরু করে দেয়, ফলে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।


৪. অভ্যাসগত অবহেলা


হালকা বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, প্রেসার ওঠানামা—এসব লক্ষণকে আমরা গুরুত্ব দিই না। নিয়মিত চেকআপ করি না, সময়মতো চিকিৎসা নেই না।


৫. বংশগত কারণও বড় একটি ফ্যাক্টর


পরিবারের কারো আগে হার্ট ডিজিজ বা ডায়াবেটিস থাকলে, আপনি ঝুঁকির মধ্যে আছেন। সচেতন থাকা জরুরি।


✅ সমাধান কী? (জীবন বাঁচাতে ৫টি সহজ সিদ্ধান্ত)

১. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম।

২. ফাস্ট ফুড নয়, বাসার পুষ্টিকর খাবার খান।

৩. ধূমপান-মাদক একদম বাদ দিন।

৪. প্রতিমাসে নিজের রক্তচাপ, সুগার, কোলেস্টেরল চেক করুন।

৫. মন খারাপ থাকলে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


সময় থাকতে জীবনটাকে ভালোবাসুন।

হার্ট বা ব্রেইন একবার বন্ধ হয়ে গেলে আর কিছুই করার থাকে না।

নিজে সচেতন হোন, অন্যদেরও সাবধান করুন।


#HeartHealth #StrokeAwareness #LifestyleMatters #HealthIsWealth #StayHealthyStayHappy

শনিবার, ৩ মে, ২০২৫

মা অংক বোঝেন না!

 মা

মা অংক বোঝেন না!

আমি এক চামচ ভাত চাইলে, মা প্লেটে তুলে দেন দুই-তিন চামচ।

কোথাও যাওয়ার সময় পঞ্চাশ টাকা চাইলে, পকেটে গুঁজে দেন একশ টাকা।


মা ইংরেজিও বোঝেন না!

আমি রাগ করে বলি, "I hate you",

মা তা না বুঝেই ভালোবেসে বুকে টেনে নেন।


মা মিথ্যাবাদী!

নিজে না খেয়েও হাসিমুখে বলেন, "আমি খেয়ে নিয়েছি।"

পছন্দের খাবারটা, ক্ষুধার্ত পেটে রেখেও আমার জন্য আগলে রাখেন।


মা বোকা!

সারাজীবন সংসারের জন্য নিজের সবটুকু নিঃস্ব করে দেন,

কখনো নিজের কথা ভাবেন না।


মা চোর!

আমি বন্ধুদের সাথে পিকনিকে যাব শুনলে,

বাবার পকেট থেকে চুপিচুপি টাকা চুরি করে আমার হাতে দেন।


মা নির্লজ্জ!

আমার জিনিসে হাত না দিতে বলা সত্ত্বেও,

নির্লজ্জের মতো সব কিছু গুছিয়ে রাখেন, পরিষ্কার করে দেন।


মা বেহায়া!

আমি কথা না বললেও,

বেহায়ার মতো গায়ে পড়ে আমার সাথে কথা বলেন,

রাতে দরজা খুলে চুপিচুপি আমাকে দেখে যান।


মায়ের কোনো কমনসেন্স নেই!

আমার প্লেটে খাবার কম দেখলে, সবার সামনে লজ্জা ভুলে জোর করে খাওয়ান।

তার চোখে আমি কখনোই যথেষ্ট খাই না, যথেষ্ট ভালো থাকি না!


মা কেয়ারলেস!

নিজে কোমরের ব্যথায় কাতরান,

তবুও ডাক্তার দেখাতে যান না।

আর আমার সামান্য কাশিতেই সবকিছু ফেলে ছোটেন।


মা আনস্মার্ট!

নতুন দামি শাড়ি কেনেন না,

ভ্যানিটি ব্যাগ বা স্মার্টফোন হাতে নিয়ে ঘোরেন না।

সারাটা দিন সন্তানের ভালোমন্দ ভাবনায় কাটান।


মা স্বার্থপর!

নিজের সুখ, নিজের ইচ্ছা সব ভুলে,

শুধু সন্তানের জন্য দুনিয়ার সবকিছু ত্যাগ করতে পারেন।


পৃথিবীর সবচেয়ে "খারাপ" মানুষ মা,

কারণ তার অশেষ ভালোবাসার মূল্য আমরা দিতে পারি না।

নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সাথে সাথেই

আমরা মাকে জীবনের প্রান্তে সরিয়ে রাখি।

তবুও মা নির্বোধের মতো, অবুঝের মতো,

প্রতিদিন আমাদের জন্য প্রার্থনা করেন।

কিছু চান না—শুধু চান, দিনে একবার আদর করে 'মা' ডাকে ডাকি।

গর্ভবতী মায়েদের আল্ট্রাসাউন্ড কেন, এমআরআই নয়?

 গর্ভবতী মায়েদের আল্ট্রাসাউন্ড কেন, এমআরআই নয়?


গর্ভাবস্থায় একটি সাধারণ প্রশ্ন উঠতেই পারে—আধুনিক প্রযুক্তির যুগে গর্ভস্থ শিশুর বিস্তারিত চিত্র পাওয়ার জন্য কেন এমআরআই (MRI) ব্যবহার করা হয় না, বরং কেন আল্ট্রাসাউন্ডকেই (Ultrasound) বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়?


সম্প্রতি ইন্টারনেটে কিছু গর্ভস্থ শিশুর এমআরআই ইমেজ ভাইরাল হয়েছে, যেগুলোতে ভ্রূণকে অনেকটা 'এলিয়েন' বা 'ডেমন' এর মতো দেখাচ্ছে। অনেকেই এই চিত্র দেখে আতঙ্কিত হয়েছেন। তবে বাস্তবে, এই চিত্রগুলো যতটা ভীতিকর মনে হয়, ততটা ভয়াবহ নয়। বরং এগুলো বিজ্ঞানসম্মত ও নিরাপদ চিকিৎসা প্রক্রিয়ার একটি অংশ।


আল্ট্রাসাউন্ড কেন বেশি ব্যবহৃত হয়?


আল্ট্রাসাউন্ড হলো উচ্চ-তরঙ্গের শব্দ ব্যবহার করে ভ্রূণের ছবি তোলার একটি নিরাপদ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী পদ্ধতি। এতে কোনো বিকিরণ (radiation) থাকে না এবং এটি বহু দশক ধরে গর্ভাবস্থায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি দ্রুত, সহজলভ্য এবং গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে ভ্রূণের স্বাস্থ্য নিরীক্ষার জন্য খুবই কার্যকর।


তবে এমআরআই কি কখনো করা হয় না?


অবশ্যই করা হয়। যখন আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায় না, তখনই এমআরআই করা হয়। বিশেষ করে যখন ভ্রূণের মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড বা অন্যান্য নরম কলা (soft tissues) সংক্রান্ত জটিলতা বা অস্বাভাবিকতা সন্দেহ হয়, তখন ডাক্তাররা এমআরআই করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এমআরআই তে আরও বিস্তারিত ছবি পাওয়া যায়, যদিও এটি খরচ বেশি এবং সময়সাপেক্ষ।


সোর্স কমেন্টে

ইঁদুর দমনে করনীয় জেনে নিন........ 

 ইঁদুর দমনে করনীয় জেনে নিন........ 


✅ইঁদুর সম্পর্কে কিছু তথ্য


১. ইঁদুরের সামনের দাঁত জন্ম থেকেই বাড়তে থাকে;

২. ইঁদুর সাধারনত ৫ থেকে ১০ ভাগ ফসলের ক্ষতি করে;

৩. ইঁদুর যা খায় তার চেয়ে ৫ থেকে ১০গুন বেশি ক্ষতি করে;

৪. একটি ইঁদুর বছরে ৫০ কেজি গোলাজাত শস্য নষ্ট করে;

৫. প্রতি জোড়া ইঁদুর হতে বছরে ৩০০০টি ইঁদুর জন্ম নিতে পারে;

৬. ইঁদুর বছরে ৬ থেকে ৮ বার বাচ্চা দেয়;

৭. ইঁদুর প্রতিবারে ৩ থেকে ১৩টি বাচ্চা দিতে পারে;

৮. বাচ্চা প্রসবের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আবারও গর্ভধারন করতে পারে;

৯. তিন মাসের মধ্যেই ইঁদুর বড় হয়ে আবার বাচ্চা দিতে পারে;

১০. এরা গর্তে ২০ কেজিরও বেশি খাদ্য জমা করতে পারে;

১১. ইঁদুর দৈনিক তার শরীরের ওজনের এক দশমাংশ খাবার খায়;

১২. বাংলাদেশে ১১ প্রজাতির ইঁদুর রয়েছে।


✅ইঁদুর দমনের সঠিক সময়


১. যে কোন ফসলের থোড় আসার পূর্বে। এ সময় ইঁদুরের সংখ্যা কম থাকে, মাঠে খাবার কম থাকে বলে সহজে বিষটোপ খেয়ে থাকে;

২. ঘর-বাড়িতে বর্ষার সময় ও সারা বছর ইঁদুর মারতে হবে;

৩. গভীর ও অগভীর সেচ নালায় প্রথম পানি ছাড়ার দিন ইঁদুর মারতে হবে।


✅ইঁদুর দমনের রাসায়নিক কৌশল


এ পদ্ধতিতে ইঁদুর দমনের জন্য দু'ধরনের বিষ ব্যবহার করা হয়।


🔴তীব্র বিষঃ


২% জিংক ফসফাইড (তাৎক্ষনিত বিষ)


🔴দীর্ঘস্থায়ী বিষঃ


🔴গ্যাসবড়ি: এ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড ট্যাবলেট (ইঁদুরের গর্তে প্রয়োগ করে মুখ মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিতে হয়।)

🔴 ব্রমাপয়েন্ট 

🔴 ল্যানির‍্যাট 

🔴রোমা

বৈশ্বিক আধুনিকতায় বহু বিবাহ ও বহুগামিতার  দ্বন্দ্ব!

 বৈশ্বিক আধুনিকতায় বহু বিবাহ ও বহুগামিতার  দ্বন্দ্ব!


বহু বিবাহ বলতে একাধিক বিবাহকে বোঝায়। বর্তমান আধুনিক যুগে একাধিক বিবাহ করার নজির খুবই কম। কেবল স্ত্রীর অসুস্থতা এবং স্ত্রী সন্তান ধারণে অক্ষম হলে পুরুষেরা একাধিক বিবাহ করে। এর বাহিরে একাধিক বিবাহের প্রচলন নাই বললেই চলে। শুধু তাই নয়! একাধিক বিবাহকে সমাজে খারাপ চোখে দেখা হয়। সমাজ মনে করে চরিত্রগত সমস্যার কারণেই মানুষ একাধিক বিবাহ করে। আসলেই কি তাই?


বিবাহ হচ্ছে দুইটা সম্পর্কের মাঝে সামাজিক চুক্তি। যার মাধ্যমে দুইটা সম্পর্কের বৈধতা দেওয়া হয়। 

অথচ, বিবাহ বহির্ভূত অবৈধ সম্পর্ককে তেমন খারাপ নজরে দেখা হয়না যতটা একাধিক বিবাহকে(বৈধ) দেখা হয়।

বিবাহ বহির্ভূতভাবে একাধিক নারীর কাছে যাওয়া-আসা যেটাকে বহুগামী বলা হয়। বিবাহ বহির্ভূত অবৈধ সম্পর্ককে বৈশ্বিক আধুনিকতার দোহায় দিয়ে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। যার দরুন অবৈধ সম্পর্ক, পরকীয়া ও বহুগামিতা সহজলভ্য হয়ে গেছে। অন্যদিকে নারী-পুরুষের বয়স, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আইন ও কিছু মনস্তাত্ত্বিক নীতিকথা দিয়ে বিবাহকে কঠিন করা হয়েছে। এটা ধোঁকাবাজি বৈকি! 

পশ্চিমা থেকে  কিছু ধার করা বস্তাপঁচা দর্শন এদেশে বাস্তবায়ন করতে আমাদের সাথে ঢের ধোঁকাবাজি করা হয়েছে। যার বিষবাষ্প সমাজ ও রাষ্ট্রের অলিতে-গলিতে ছড়িয়ে পড়েছে। অবৈধ প্রেম, পরকীয়া ও বহুগামিতা আড়ম্বরপূর্ণ ভাবেই চলছে। অথচ যথা সময়ে বিবাহ ও বহুবিবাহ নামক বৈধ সম্পর্ককে  ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। 

বহু বিবাহের কিছু সুফল বলা যেতে পারে।


*যে সকল পুরুষের যৌনশক্তি অতিরিক্ত, এক স্ত্রীতে তাদের চাহিদা নিবারণ হয়না, এমন পুরুষদের জন্য একাধিক বিবাহ জরুরী। যাতে করে অতিরিক্ত চাহিদা নিবারণের জন্য তার বৈধ রাস্তা সুগম হয়। তা না হলে তিনি অতিরিক্ত চাহিদা নিবারণের জন্য অবৈধ সম্পর্ক, পরকীয়া বা বহুগামিতায় লিপ্ত হয়ে যেতে পারেন। যেটা সমাজের জন্য হুমকি স্বরুপ। পুরুষেরা সাধারণ বৈচিত্র্যময় স্বাদ আস্বাদন করতে চায়। তবে তারা যদি সেটা বৈধ পন্থায় না পান তাহলে, অবৈধ পন্থায় স্বাদ আস্বাদন করতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক।


*পুরুষের কামবাসনা জোয়ারভাটার মতো। যখন-তখন কামবাসনা জেগে উঠতে পারে। এমতাবস্থায়, যদি তার স্ত্রী অসুস্থ বা গর্ভবতী অথবা বাড়িতে না থাকে, তাহলে তিনি জৈবিক চাহিদা নিবারণের জন্য নৈতিক পন্থা খুঁজে পাবেন না। এমন পরিস্থিতিতে সে অনৈতিক পন্থা খুঁজতে পারে। যেটা তার জন্য কোনোভাবেই সমীচীন নয়।

এমন পরিস্থিতিতে একাধিক স্ত্রী থাকলে তার অনৈতিক পরিমন্ডলে পা বাড়ানোর কোনো সুযোগ থাকেনা। কেননা, তার জরুরত একাধিক স্ত্রীর মাধ্যমে পুরা করতে পারছে।


*আমাদের দেশে পুরুষের থেকে নারীর সংখ্যা ঢের বেশি। একটা জরিপে দেখা গেছে যে, প্রায় ১ কোটি ত্রিশ লক্ষ নারী স্বামীহীন জীবনযাপন করছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই অসহায়। অনেকে দারিদ্রতা ঘোচানোর জন্য বাধ্য হয়ে গার্মেন্টস বা মিল কলকারখানায় কাজ করছে। যেখানে তারা অহরহ যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। যার কারণে, নারী মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে দিনদিন।

 যে সকল নারীরা অসহায়, সমাজের সামর্থবান পুরুষেরা যদি তাদেরকে একাধিক বিবাহের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করে, তাহলে এদেশে নারী অসহায়ত্ব কমে আসবে এবং নারী মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটবেনা।

এতে করে অসহায় এবং স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের যথাযথ মূল্যায়ন হবে বলে মনে করি।


তবে, এদেশের মানুষের মানব মননে একাধিক বিবাহের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছে। এবং নারীদেরকে "নারী জাগরণের" নামে যথাস্থান থেকে রাস্তায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এবং তাদেরকে ভোগের পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অফিসের কলিগ, অফিসের বস সহ এমনকি অফিসের পিয়ন পর্যন্ত একই নারী ব্যবহার করছে। পাশের বাসার আঙ্কেল,  পাশের বাসার দেবর-ভাসূর সবাই একই নারী ব্যবহার করছে।  এতে কোনো সমস্যাই নেই! 

অথচ,  বৈধ পন্থায় একাধিক বিবাহ করলে তার চরিত্রের সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। 

 নারীবাদি নামক কিছু ভুঁইফোঁড় মাথামোটা নারী, এদেশে পশ্চিমের এজেন্ডা ও পশ্চিমা আদর্শ বাস্তবায়ন করতে "নারী প্রগতি" নামক কিছু স্লোগান উত্থাপন করে এদেশের নারীসমাজকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার বাহানায় নিমজ্জিত হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে এদেশের নারী সমাজ নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ভুলে গিয়ে পশ্চিমা আদর্শ চর্চায় নিজেদেরকে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে নিবেদন করছে।


বৈশ্বিক আধুনিকতার পেছনে বিশাল এক পাপী সম্রাজ্য বাস করে। আধুনিক বিশ্বে তথ্য-প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিসীম থাকলেও এর অন্তরালে রয়েছে চরিত্র অবক্ষয়ের গুরুত্বপূর্ণ রসদ। প্রযুক্তির আদলে গড়ে ওঠা এই পাপী সম্রাজ্যে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্কের মতো নোংরা কাজ সহজলভ্য হয়ে গেছে।

যার কারণে, বিবাহের প্রতি যুবক-যুবতীদের অনীহা তৈরি হয়ে গেছে। কেননা, জৈবিক চাহিদা যদি সহজ ভাবেই পূরণ করা যায় তাহলে, অর্থদণ্ড দিয়ে কে-ইবা বিয়ে করতে চায়!


তার মানে হলো; বিবাহ কঠিন! এবং অশ্লীলতা সহজ!

পশ্চিমা বিশ্বে বিবাহ রীতি ভিন্ন। সহজে কেউ বিবাহে জড়ায় না! তবে একসঙ্গে

থাকে। যার যখন মনে চাচ্ছে যারতার সাথেই শারীরিক সম্পর্ক করছে। যাকে আমরা বহুগামিতা বলি। 

পশ্চিমা আদর্শ লালনকারী বহুগামী  সুশীলদের কাছে প্রশ্ন;

আচ্ছা, একাধিক নারীর সাথে অবৈধভাবে যৌনমিলন করতে পারলে বৈধভাবে একাধিক বিবাহ করলে সমস্যা কী?

আমাদের দেশে বাল্য বিবাহ নিষিদ্ধের আইন আছে! অথচ যারা বাল্যকালে ঝোপঝাড়ে গিয়ে নিজেদের সতীত্ব হারায় এবং বাল্যকালে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে, তাদের ব্যাপারে কোনো আইন নাই। আজিব!


তাহলে কি মূল সমস্যা বিবাহেই?

দুঃখিত! মূল সমস্যা হল আমাদের মাথায়! 

পশ্চিম থেকে আমদানি করা কিছু অযাচিত চিন্তাভাবনা আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার কারনে, আমাদের চিন্তাগত পরিবর্তন ঘটেছে, ফলশ্রুতিতে আমরা সবকিছুতে পশ্চিম কেদ্রিক চিন্তাভাবনা করি।


বহুগামিতা বা অবৈধভাবে একাধিক নারী-পুরুষের যাথে যৌন মিলন করার কিছু কুফল উল্লেখ করা যেতে পারে।


*প্রথমত বহুগামী পুরুষ-নারী কেউই যৌনমিলনের  আসল স্বাদ গ্রহন করতে পারেনা। কারণ, অবৈধ মিলনের মধ্যে আবেগ-ভালোবাসা থাকেনা। এজন্য অবৈধ মিলনের মাধ্যমে চরম যৌন অনুভূতি অনুভাব করা সম্ভব না। পক্ষান্তরে, বিবাহের মাধ্যমে বৈধ আবেগ-অনুভূতি তৈরি হয়, যা যৌন মিলনের সময় অনুভূতির চরম শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।

 অবৈধ মাধ্যমে কখনোই বৈধতার স্বাদ আশা করা যায়না। 


*বহুগামী নারী-পুরুষের বহুগামিতার কারণে, বিভিন্ন ধরণের রোগের জন্ম নেয়। এর মধ্যে অন্যতম রোগ  হলো "এইডস"। যা নারী এবং পুরুষের জীবনে কালোমেঘ হয়ে নেমে আসে। এই রোগ এমনই মারাত্মক! যে,  আস্তে আস্তে মানুষকে ভেতর থেকে শেষ করে ফেলে। অত:পর চিরতরে ধংস করে দেয়। 


*সুন্দর একটা সমাজ বিনির্মাণ করতে হলে, নৈতিক ও চরিত্রবান একটা জাতি দরকার। নৈতিক ও চরিত্রবান জাতি ছাড়া একটা সুস্থ ও সুন্দর সমাজ আশা করা যায়না!

যারা পরকীয়া, অবৈধ সম্পর্ক  ও বহুগামিতায় লিপ্ত, তাদের নৈতিকতা ও চরিত্রের অবক্ষয় ঘটে। যার কুপ্রভাব জাতি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ভোগ করতে হয়। এই অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া জাতি, সমাজের জন্য ব্যাপক হুমকিস্বরূপ! 

এজন্য, সুস্থ, সুন্দর ও নৈতিকতা সমৃদ্ধ সমাজ গড়তে হলে যথা সময়ে বিবাহ বা একাধিক বিবাহের বিকল্প নেই।

অবৈধভাবে একাধিক পরকীয়া, একাধিক প্রেম, একাধিক নারী গমন করতে পারলে বৈধ ভাবে একাধিক বিবাহ করাটা দোষের কী?

যারা এটাকে দোষনীয় চোখে দেখে তারা মূলত নারীদেরকে রাস্তায় নামিয়ে বিনামূল্যে ভোগ করতে চায়! 


আধুনিক বাস্তবতা: বর্তমান সময়কালটা আধুনিক সময়কাল। বিশ্ব আজ প্রযুক্তির চরম শিখরে পৌঁছে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তি মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করলেও নীতি-নৈতিকতার উন্নতি সাধন করতে পারেনি।  যার পুঁজি হচ্ছে অশ্লীলতা এবং  বেহায়াপনা, সে কিভাবে নীতি-নৈতিকতার উন্নতিসাধন করবে?

বর্তমান প্রজন্ম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ছাড়া চলতেই পারেনা। তথ্য-প্রযুক্তিতে খুবই আসক্তি, বিশেষ করে ইন্টারনেট এবং সোশ্যালমিডিয়াতে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে গেলেও বর্তমান জেনারেশনের নৈতিক মূল্যবোধকে ধংস করে দিয়েছে।

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মারফতে, অবৈধ সম্পর্ক, পরকীয়া, পর্ণগ্রাফি মহামারী আকারে পদার্পণ করেছে। পরকীয়া নামক নোংরা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কত সাজানো-গোছানো সংসার ধংস হয়েছে তার কোনো ইয়াত্তা নেই।

তরুণ-তরুণীদের অযাচিত পর্ণগ্রাফিতে আসক্তি, অল্প বয়সেই তাদের যৌবন ধংস করে দিচ্ছে।

এতে করে তারা পরবর্তী বৈবাহিক জীবন নিয়ে বিড়ম্বনায় ভুগছে। 

যেখানে বিবাহ পূতপবিত্র সম্পর্ক।


মোদ্দকথা হলো; কোনোভাবেই অবৈধ পথে না হেটে সামর্থবান পুরুষদের যথা সময়ে এক বা একাধিক বিবাহ করে পূতপবিত্র সুখময় দাম্পত্যজীবন লাভ করা উচিত। 


#Admin_post 

মুহাম্মাদ আবু রায়হান গিফারী

প্রাচীন ভারতের গর্ব, সিন্ধু সভ্যতা, শুধু তার শিল্প, স্থাপত্য ও লিপির জন্যই নয়, বরং তার অসাধারণ নগর পরিকল্পনা এবং উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য আজও বিস্ময়ের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত।

 প্রাচীন ভারতের গর্ব, সিন্ধু সভ্যতা, শুধু তার শিল্প, স্থাপত্য ও লিপির জন্যই নয়, বরং তার অসাধারণ নগর পরিকল্পনা এবং উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য আজও বিস্ময়ের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত। প্রায় ৫,০০০ বছর আগে (খ্রিস্টপূর্ব ২,৬০০ – ১,৯০০) গড়ে উঠেছিল এই সভ্যতা, যা মূলত হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো নামক দুই প্রধান নগরকে ঘিরে বিস্তার লাভ করে। এই শহরগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এর সুপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থা ও উন্নত নিকাশী অবকাঠামো।


✅ সিন্ধু সভ্যতার ড্রেনেজ ব্যবস্থা

A. প্রতিটি ঘরের সাথেই ছিল পৃথক শৌচাগার ও স্নানঘর, যা একটি নির্দিষ্ট পাইপের মাধ্যমে মূল নিকাশী লাইনের সাথে যুক্ত ছিল।

B. রাস্তাগুলোর পাশে ছিল ঢাকনা দেওয়া ড্রেন, যা নিয়মিত পরিষ্কারের উপযোগী ছিল – একেবারে আধুনিক নগর পরিকল্পনার আদলে।

C. ড্রেনগুলি এতটাই দক্ষতার সাথে ঢালু করে তৈরি করা হয়েছিল যে, বৃষ্টির জল বা গৃহস্থালির অপচয় দ্রুত প্রবাহিত হয়ে যেত।

D. প্রতিটি ড্রেন ব্যবস্থার মধ্যে ছিল স্যান্ড ট্র্যাপ এবং পরিষ্কার করার জন্য চেম্বার, যা আজকের দিনের সিভিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সাথে তুলনীয়।


✅ আধুনিক শহর ও নিকাশী ব্যবস্থার দুরবস্থা

i. বর্তমানে বহু শহরে অপরিকল্পিত ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও পানিবাহিত রোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ii. নগরায়ণের চাপে এবং দখলদারির কারণে প্রাকৃতিক নিকাশী পথগুলো হারিয়ে যাচ্ছে বা বন্ধ হয়ে গেছে।

iii. বৃষ্টির সময় শহরের রাস্তাঘাটে জল জমে যাতায়াতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, যা নাগরিক জীবনে এক বিশাল সমস্যা।

iv. নির্মাণ কাজের সময় পরিকল্পনার অভাব এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি আধুনিক ড্রেন ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলেছে।


✅ উপসংহার

যেখানে প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার মানুষ প্রকৃতি ও মানবচাহিদার মধ্যে এক সুসমন্বিত ভারসাম্য রেখে পরিকল্পিত শহর গড়ে তুলেছিল, আজকের আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও সেই দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির অভাব স্পষ্ট। এই প্রাচীন নগর সভ্যতা আমাদের শেখায়, উন্নয়ন তখনই টেকসই হয় যখন তা প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পিত হয়। তাই ভবিষ্যতের শহর গঠনের জন্য আমাদের উচিৎ প্রাচীন জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো।


#IndusValleyCivilization #UrbanPlanning #AncientDrainageSystem #Harappa #MohenjoDaro #SustainableCities #DrainageProblems #SmartCityIndia #HistoryOfIndia #Archaeology #AncientWisdom #ModernChallenges #CivilEngineering #UrbanIndia

মুলিয়া বিলের আশ্চর্য পাখি: ক্রেস্টেড বুন্টিং

 🐦 মুলিয়া বিলের আশ্চর্য পাখি: ক্রেস্টেড বুন্টিং!

📸 "এক মুহূর্তের অপেক্ষা, আর ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়ল প্রকৃতির এক নিখুঁত সৃষ্টি!"


২০১৪ সালে নড়াইল সদরের মুলিয়া বিল থেকে আমার নিজস্ব ক্যামেরায় তোলা এই দুর্লভ পাখিটির নাম ক্রেস্টেড বুন্টিং (Melophus lathami)। মাথার ওপর মুকুটের মতো ঝুঁটি আর শরীরের কালচে-বাদামি পালক একে করে তুলেছে প্রকৃতির রাজপুত্রের মতো।


এরা সাধারণত পাহাড়ি বা উপ-হিমালয় অঞ্চলে দেখা গেলেও জলাভূমির আশেপাশে মাঝে মাঝে বিচরণ করে। পাখি ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি এক দুর্লভ সৌভাগ্য।


📷 ক্যামেরা: Canon 750D

📍 লোকেশন: মুলিয়া বিল, নড়াইল সদর

🗓️ বছর: ২০১৪


🔍 প্রকৃতি আমাদের চারপাশে কত বৈচিত্র্যপূর্ণ – শুধু একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন!


🐦 “পাখির ডানায় ভর করে ছড়িয়ে পড়ে প্রকৃতির রং।”

#CrestedBunting #BirdsofBangladesh #NarailNature #BirdPhotography #মুলিয়াবিল #নড়াইল #পাখিপ্রেম

বরাবর মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ!  বিষয়ঃ 'নারী সংস্কার কমিশন',,,, মুফতি মাহমুদউল্লাহ আল কাফি ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 বরাবর

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ! 

বিষয়ঃ 'নারী সংস্কার কমিশন' 


স্যার, ভিন্ন ঘরনার মানুষ আপনার কাছে বিভিন্ন দাবী পেশ করবে এটাই স্বাভাবিক,তবে দাবী গুলি পূরন করার আগে আপনাকে মনে রাখা উচিত এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ Islam Dhorme বিশ্বাসী, তাই Muslimder মনে কোন বিষয়ে আঘাত করা মানে এদেশের বেশিরভাগ জনগোষ্ঠী কে আঘাত করা। 


সম্প্রতিকালে Islam সম্পর্কে অজ্ঞ কিছু নারী আপনার কাছে 'নারী সংস্কার কমিশন' নামে ৩১৮ পৃষ্ঠাব্যাপি একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। 


একজন উচ্চ শিক্ষিত মানুষ হিসেবে উক্ত বিষয়ে ধর্ম উপদেষ্টা সাহেব এবং বাইতুল মোকাররমের খতীব সাহেবের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে আমরা আশাবাদী। 


তারপরও একজন Muslim হিসেবে সংক্ষেপে কয়েকটি সাংঘর্ষিক বিষয় আপনার কাছে পেশ করছি। 


এক. 

'সম্পত্তিতে সমান উত্তরাধিকার'

উক্ত প্রতিবেদনের একাদশতম অধ্যায়ের ১১.৩.১ এর 'ক' অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে 'সম্পত্তিতে নারী পুরুষের সমান অধিকার' যা সরাসরি কুরআনের বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। 


        یُوۡصِیۡکُمُ اللّٰہُ فِیۡۤ اَوۡلَادِکُمۡ  لِلذَّکَرِ مِثۡلُ حَظِّ الۡاُنۡثَیَیۡنِ    

আল্লাহ তোমাদের সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, পুরুষের অংশ দুই নারীর সমান।  

আন নিসা - ১১


দুই. 

'বহু বিবাহ রোধ' 'বহু বিবাহ প্রথা বিলুপ্ত'

পঞ্চম অধ্যায়ের ৩.২.৩ এর 'খ' অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় অধ্যায়ের ৩.২.৩.১.১ এর 'গ' অনুচ্ছেদে উক্ত দাবী গুলি করা হয়েছে। 

এটি সুরা নিসার ৩নং আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক। 


          فَانۡکِحُوۡا مَا طَابَ لَکُمۡ مِّنَ النِّسَآءِ مَثۡنٰی وَثُلٰثَ وَرُبٰعَ

নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের পছন্দ হয় বিবাহ কর  দুই-দুইজন, তিন-তিনজন অথবা চার-চারজনকে। 

আন নিসা - ৩


নোট. 

একটি বিষয় এখানে পরিষ্কার হওয়া দরকার যে শর্ত সাপেক্ষে ইসলাম পুরুষের জন্য একসঙ্গে একাধিক স্ত্রী রাখার বৈধতা দিয়েছে, এ বিষয়ে আলাদা লেখা প্রয়োজন। 


গোটা বিশ্বের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নারীদের সংখ্যা পুরুষদের সংখ্যার চেয়ে বেশি। যদি প্রত্যেক পুরুষ শুধু একজন নারীকে বিয়ে করে, তাহলে তার অর্থ এই দাঁড়াবে যে কিছু নারীকে স্বামী ছাড়াই থাকতে হবে, যা তার ওপর এবং সমাজের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করবে। এটি তার জীবনকে সংকীর্ণ করার পাশাপাশি তাকে বিপথগামিতার দিকে পরিচালিত করতে পারে। এবং এর মাধ্যমে সমাজে অনাচারের পথ প্রশস্ত হতে পারে।

এ ছাড়া বহু কল্যাণ রয়েছে, প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করার অনুরোধ রইল। 


তিন. 

'শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার'

এটি দশম অধ্যায়ে রয়েছে। এই অংশটিও কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক। 


                                 اَلَا لَہُ الۡخَلۡقُ وَالۡاَمۡرُ     

স্মরণ রেখ, সৃষ্টি ও আদেশ দান তাঁরই কাজ। 

আল আ'রাফ - ৫৪


চার. 

নারীদের অসুস্থ হওয়া কুসংস্কার, কুপ্রথা, ইত্যাদি বলা। (দশম অধ্যায়ঃ ১০.২ অনুচ্ছেদ) 

এটির দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সুরা বাকারার ২২২ নং আয়াত কে চ্যালেঞ্জ করা। 


  وَیَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ الۡمَحِیۡضِ ؕ قُلۡ ہُوَ اَذًی ۙ فَاعۡتَزِلُوا النِّسَآءَ فِی الۡمَحِیۡضِ ۙ وَلَا تَقۡرَبُوۡہُنَّ حَتّٰی یَطۡہُرۡنَ ۚ فَاِذَا تَطَہَّرۡنَ فَاۡتُوۡہُنَّ مِنۡ حَیۡثُ اَمَرَکُمُ اللّٰہُ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ التَّوَّابِیۡنَ وَیُحِبُّ الۡمُتَطَہِّرِیۡنَ 

     

লোকে আপনার কাছে হায়য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলে দিন, তা অশুচি। সুতরাং হায়যের সময় স্ত্রীদের থেকে পৃথক থেক এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পবিত্র না হয়, ততক্ষণ তাদের কাছে যেয়ো না (অর্থাৎ সহবাস করো না)। হাঁ যখন তারা পবিত্র হয়ে যাবে, তখন তাদের কাছে সেই পন্থায় যাবে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই সকল লোককে ভালোবাসেন, যারা তাঁর দিকে বেশি বেশি রুজু করে এবং ভালোবাসেন তাদেরকে, যারা বেশি বেশি পাক-পবিত্র থাকে।

আল বাকারা - ২২২


পাচ. 

"ট্রান্সজেন্ডার"

চতুর্থ অধ্যায়ের ৪.১ অনুচ্ছেদে 'জেন্ডার' বলে পরোক্ষভাবে ট্রান্সজেন্ডারের বিষয়ে বলা হয়েছে, যা কুরআন ও সুন্নাহের সাথে সাংঘর্ষিক, এগুলো ইবলিসের পলিসি,   


                  وَلَاٰمُرَنَّہُمۡ فَلَیُغَیِّرُنَّ خَلۡقَ اللّٰہِ

তাদেরকে আদেশ করব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে। 

আন নিসা - ১১৯


لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ‏

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ সব পুরুষকে লা’নত করেছেন যারা নারীর বেশ ধরে এবং ঐসব নারীকে যারা পুরুষের বেশ ধরে।

বুখারী- ৫৮৮৫


ছয়. 

'বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমান অধিকার'(ষষ্ঠ অধ্যায়ঃ ৬.৩.১ এর 'ক' অনুচ্ছেদ) 


 اَلرِّجَالُ قَوّٰمُوۡنَ عَلَی النِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ اللّٰہُ بَعۡضَہُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ وَّبِمَاۤ اَنۡفَقُوۡا مِنۡ اَمۡوَالِہِمۡ        

পুরুষ নারীদের অভিভাবক, যেহেতু আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু পুরুষগণ নিজেদের অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে। 

আন নিসা - ৩৪


নোট:-

কোন নারী পুরুষ কর্তৃক নির্যাতনের স্বীকার হলে সেখানে ও ইসলামের বিধান রয়েছে, সে বিষয়ে আলেমদের থেকে পরামর্শ নিলেই চলবে। 


সাত. 

'দত্তক শিশুকে গর্ভজাত শিশুর ন্যায় বিধান করা'

(তৃতীয় অধ্যায়ঃ ৩.২.২.১.৪ এর 'খ' অনুচ্ছেদ) 

এটিও একটি জোরপূর্বক প্রস্তাবনা, কুরআন এ বিষয়ে স্পট বার্তা দিয়েছে, 


وَمَا جَعَلَ اَدۡعِیَآءَکُمۡ اَبۡنَآءَکُمۡ ؕ ذٰلِکُمۡ قَوۡلُکُمۡ بِاَفۡوَاہِکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ یَقُوۡلُ الۡحَقَّ وَہُوَ یَہۡدِی السَّبِیۡلَ        

আর তোমাদের মুখের ডাকা পুত্রদেরকে তোমাদের প্রকৃত পুত্র সাব্যস্ত করেননি। এটা তো তোমাদের মুখের কথামাত্র। আল্লাহ সত্য কথাই বলেন এবং তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।

আল আহ্‌যাব - ৪


আট. 

'শ্রম আইনে যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান' (দ্বাদশ অধ্যায়ঃ ১২.৩.১১ এর 'জ' অনুচ্ছেদ) 

এটা ইলাহী গজব ডেকে আনার প্রস্তাবনা, এই জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্ৰহন করলে কিছুদিন পর ধর্ষকরাও শ্রম অধিকার চেয়ে বসবে। 


 اَلزَّانِیَۃُ وَالزَّانِیۡ فَاجۡلِدُوۡا کُلَّ وَاحِدٍ مِّنۡہُمَا مِائَۃَ جَلۡدَۃٍ ۪ وَّلَا تَاۡخُذۡکُمۡ بِہِمَا رَاۡفَۃٌ فِیۡ دِیۡنِ اللّٰہِ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ۚ وَلۡیَشۡہَدۡ عَذَابَہُمَا طَآئِفَۃٌ مِّنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ 

      

ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে একশত চাবুক মারবে। তোমরা যদি আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখ, তবে আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি করুণাবোধ যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত না করে। আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।

আন নূর - ২


নয়. 

'কোন ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে সংবিধান শুরু করা উচিৎ নয়'

এটা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে Islam কে হেয় করার চেষ্টা মাত্র। 


                               اِنَّ الدِّیۡنَ عِنۡدَ اللّٰہِ الۡاِسۡلَامُ  

নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট (গ্রহণযোগ্য) দীন কেবল ইসলামই। 

আলে ইমরান - ১৯


 وَمَنۡ یَّبۡتَغِ غَیۡرَ الۡاِسۡلَامِ دِیۡنًا فَلَنۡ یُّقۡبَلَ مِنۡہُ ۚ وَہُوَ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ        

যে ব্যক্তিই ইসলাম ছাড়া অন্য কোনও দীন অবলম্বন করতে চাবে, তার থেকে সে দীন কবুল করা হবে না এবং আখিরাতে সে মহা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

আলে ইমরান - ৮৫


অতএব

জনাবের নিকট আকুল আবেদন এই যে, কিছু অসাধু মানুষের কুরুচিপূর্ণ চাহিদার কাছে এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাস কে আঘাত করে তাদেরকে কষ্ট দিবেন না। 


জীবনের শেষ বেলায় এসে একজন গর্বিত Muslim হিসেবে সারা পৃথিবীকে ভালো কিছু উপহার দিয়ে সবার কাছে স্মরনীয় হয়ে থাকার এটাই আপনার সুবর্ণ সুযোগ। 


নিবেদক

একজন বাঙালি Muslim 

আরিফ বিন হাবিব

সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:২৩-০৫-২০২৬ খ্রি:।

 সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ:২৩-০৫-২০২৬ খ্রি:। আজকের শিরোনাম: দিনব্যাপী সফরে আজ ময়মনসিংহ যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান - যোগ দেবেন খাল ...