এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ৪ মে, ২০২৫

জমি রেজিস্ট্রি খরচ ২০২৪: জেনে নিন জমি রেজিস্ট্রি করতে কত টাকা খরচ হবে।

 জমি রেজিস্ট্রি খরচ ২০২৪: জেনে নিন জমি রেজিস্ট্রি করতে কত টাকা খরচ হবে।


যদি কোনো জমির ঘোষিত মূল্য হয় ৫০ লাখ টাকা, তবে আনুমানিক রেজিস্ট্রেশন খরচ হবে:


স্ট্যাম্প ডিউটি: ৭৫,০০০ টাকা (১.৫%)


রেজিস্ট্রেশন ফি: ৫০,০০০ টাকা (১%)


ভ্যাট: নগর এলাকায় ৭,৫০,০০০ টাকা (১৫%)


এআইটি: নির্ভর করবে জমির প্রকৃতির উপর।


জমি রেজিস্ট্রেশনের আগে কিছু পরামর্শ


জমির প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করুন।


সকল নথি যাচাই করে নিন।


সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করুন।


জমি রেজিস্ট্রেশনের খরচের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মাবলী অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে। তাই, জমি কেনার আগে সঠিক তথ্য জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। 


জমি রেজিস্ট্রি খরচ ২০২৪: জেনে নিন জমি রেজিস্ট্রি করতে কত টাকা খরচ হবে


জমি কেনা-বেচার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বাংলাদেশে জমি রেজিস্ট্রেশনের খরচ নির্ধারিত হয় জমির মূল্যের উপর ভিত্তি করে এবং এতে বেশ কয়েকটি ফি ও কর অন্তর্ভুক্ত থাকে। ২০২৪ সালের জমি রেজিস্ট্রেশনের আনুমানিক খরচ ও প্রয়োজনীয় তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:


জমি রেজিস্ট্রেশন খরচের প্রধান উপাদান


১. স্ট্যাম্প ডিউটি:


জমির ঘোষিত মূল্যের ১.৫%।

২. রেজিস্ট্রেশন ফি:


জমির ঘোষিত মূল্যের ১%।

৩. ভ্যাট:


নগর এলাকায় ১৫% এবং গ্রামীণ এলাকায় ৩%।

৪. এডভান্স ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি):


জমির ঘোষিত মূল্যের উপর নির্ভর করে, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এটি বেশি হতে পারে।


অন্যান্য খরচ


ডকুমেন্টেশন ফি: দলিল তৈরি, দাখিলা, ও অন্যান্য নথিপত্র প্রস্তুতের খরচ।


আইনজীবীর ফি: জমি রেজিস্ট্রেশনের আইনি দিকগুলো নিশ্চিত করতে আইনজীবী নিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।


বিজ্ঞপ্তি ফি: সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাইয়ের খরচ।

নিজের পছন্দের কাজ থেকে উপার্জন: কিভাবে আপনার প্যাশনকে কাজে লাগিয়ে সফলতা অর্জন করবেন?

 আপনি কি জানেন, আপনি যখন আপনার প্যাশনের কাজে সময় দিচ্ছেন, তখন তা শুধু আপনার জন্য নয়, বরং আপনার জীবনে নতুন সুযোগ তৈরি করতে সাহায্য করছে? চলুন, জানি কীভাবে আপনি আপনার পছন্দের কাজ থেকে উপার্জন করতে পারেন, এমনকি যখন আপনি ঘুমাচ্ছেন!


✅ নিজের পছন্দের কাজ থেকে উপার্জন: কিভাবে আপনার প্যাশনকে কাজে লাগিয়ে সফলতা অর্জন করবেন?


আজকাল আমরা সবাই জানি যে, বেশি পরিশ্রম এবং সঠিক দিশা আমাদের সফলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে, বাস্তবে আমরা কতটা কঠোর পরিশ্রম করছি, তা যদি সঠিক পথে না যায়, তাহলে সেই পরিশ্রম কখনোই ফলপ্রসূ হবে না। আপনার যদি প্যাশন থাকে এবং আপনি সেটিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে জানেন, তবে আপনি সফলতা অর্জন করতে পারবেন। আপনার পছন্দের কাজের মাধ্যমে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারেন, এমনকি যখন আপনি ঘুমাচ্ছেন! আমি নাজিম উদ্দিন হৃদম আজ আপনাকে কিছু সহজ পন্থা জানাবো, যেগুলি আপনি অনুসরণ করলে আপনার প্যাশনকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।


✅ সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট তৈরি করুন

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। আপনি যদি আপনার প্যাশন নিয়ে কাজ করতে চান, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া এক অসাধারণ মাধ্যম হতে পারে। আপনার পছন্দের কাজের উপর, আপনি নিজের অভিজ্ঞতা, শিখা জ্ঞান এবং দক্ষতা সম্পর্কে কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন। ধরুন, আপনি কোনো বিষয় নিয়ে গভীরভাবে পড়াশোনা করছেন—আপনার যদি বই পড়া, আঁকাআঁকি, রান্না করা, খেলাধুলা বা যেকোনো বিষয় নিয়ে আগ্রহ থাকে, তাহলে আপনি সেটির উপর কন্টেন্ট তৈরি করুন।


✅ কীভাবে শুরু করবেন?

১. পছন্দের বিষয় ঠিক করুন:

আপনি যে কাজটি করতে আগ্রহী, তা নিয়ে এক ঘন্টা সময় নিয়ে ভাবুন। কী এমন কাজ যা করতে আপনি ক্লান্ত হবেন না? সেই কাজটি আপনার জন্য হতে পারে।


২. আর্টিকেল, ভিডিও বা পোস্ট তৈরি করুন:

আপনার পছন্দের বিষয়ে যতটা সম্ভব জানুন এবং সেই বিষয় নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করুন। আপনি ভিডিও বানাতে পারেন, ব্লগ লিখতে পারেন বা ছবি দিয়ে পোস্ট তৈরি করতে পারেন। সহজ ভাষায়, যেমন আপনি আপনার বাচ্চাকে শিখান, তেমন করে বর্ণনা করুন।


৩. নিয়মিত কন্টেন্ট আপলোড করুন:

আপনার যা কিছু শিখেছেন, তা নিয়ে নিয়মিত কন্টেন্ট আপলোড করুন। এটি মানসম্মত, তথ্যবহুল এবং আকর্ষণীয় হওয়া উচিত, যাতে দর্শকরা বা পাঠকরা আপনার কাছ থেকে নতুন কিছু শিখতে পারে।


এভাবে আপনার কন্টেন্ট ধীরে ধীরে পরিচিতি লাভ করবে এবং আপনি পাবেন অনেক দর্শক, পাঠক, সাবস্ক্রাইবার। যখন আপনি ঘুমাচ্ছেন বা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত, তখন আপনার কন্টেন্ট মানুষ দেখে শিখছে, শেয়ার করছে এবং আপনার অ্যাকাউন্টে ডলার জমা হচ্ছে। যত বেশি কন্টেন্ট তৈরি করবেন, তত বেশি দর্শক এবং টাকা আপনি পাবেন। কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের উপর আমার একটা সম্পুর্ন ইবুক লেখা আছে, যেখানে একজন মানুষ শুরু থেকে সফল হওয়া পর্যন্ত সকল ধাপ গুলো দেখানো আছে, আপনি যদি ইবুকটি নিতে চান তাহলে আমাকে ইনবক্সে জানান।


✅ বই লিখুন: নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন

এখন ভাবুন, বই লেখা কি এত সহজ? অবাক হচ্ছেন তো? তবে, সত্যিই এটা সম্ভব। আপনি যদি আপনার প্যাশন নিয়ে জানেন, তাহলে সেই বিষয়ে একটি বই লেখা কোনো কঠিন কাজ নয়। অভিজ্ঞতা এবং চিন্তাধারা ভাগ করে, আপনি খুব সহজেই একটি বই লিখে ফেলতে পারেন।


কীভাবে শুরু করবেন?

১. লেখার বিষয় ঠিক করুন:

আপনি যে বিষয়ে প্যাশন অনুভব করেন, সেই বিষয়ে লিখুন। সেটা হতে পারে আপনার শখ, অভিজ্ঞতা, বা কোনো টপিক যা আপনি গভীরভাবে জানেন।


২. ধারাবাহিকভাবে লেখা শুরু করুন:

ধারাবাহিকভাবে কিছু অধ্যায় লিখুন এবং সেই লেখা পরে একত্রিত করে বই বানান। ইবুক হিসেবে সেই বই প্রকাশ করুন। আপনি কাগজের বই না লিখলেও হবে, ইবুক আকারে প্রকাশ করা অনেক সহজ।


৩. বই বিক্রি এবং উপার্জন:

বাংলাদেশে বইঘর এবং বইটই নামক জনপ্রিয় ইবুক প্ল্যাটফর্মগুলোতে আপনার বই প্রকাশ করতে পারেন। সেখানে বই বিক্রি হওয়ার পর, আপনি আপনার ড্যাসবোর্ডে দেখতে পাবেন কয়টি বই বিক্রি হয়েছে এবং কত টাকা জমা হয়েছে। বইয়ের দাম যদি ১০০ টাকা হয়, তবে বিক্রির পর আপনি পাবেন ৬০ টাকা।


আপনি যখন আপনার বই লিখে ইবুক আকারে প্রকাশ করবেন, তখন সেটা পুরো পৃথিবীজুড়ে পৌঁছাবে, এবং যত বেশি বই বিক্রি হবে, তত বেশি টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।


✅ এখন আপনি কী করবেন?

আপনি যদি মনে করেন আপনি একটি চাকরি বা একটি চাকরি খুঁজে আপনার উপার্জন শুরু করবেন, তাহলে মনে রাখবেন, আপনি নিজেই উপার্জনের পথ সৃষ্টি করতে পারেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুন, ব্র্যান্ড হয়ে উঠুন, এবং তখনই আপনার উপার্জন শুরু হবে। জীবনকে শুধুমাত্র গড়তে হলে কিছু সময়ের জন্য নিজের কাছে থাকুন, পড়াশোনা করুন, এবং নিজের প্যাশনকে কাজে লাগান।


এটা সহজ নয়, তবে আপনি যদি একবার আপনার প্যাশনের পথে কাজ শুরু করেন, আপনি দেখতে পাবেন, ধীরে ধীরে আপনার কাজ আপনাকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাবে। এমন কাজ করুন যা মানুষের উপকারে আসে, এবং মনে রাখবেন—আপনার উপার্জন তখনই শুরু হবে, যখন আপনার কাজ সত্যিকারের মানুষের প্রয়োজন হয়ে যাবে।


✅ শেষ কথা:


আপনার প্যাশন থেকেই আপনি উপার্জন করতে পারেন, শুধু প্রয়োজন সঠিক দিশার। আর সে দিশা খুঁজে পাওয়ার জন্য আপনাকে কিছু সময় এবং মনোযোগ দিতে হবে। আমি নিজে বই লিখে এবং কন্টেন্ট বানিয়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে পয়সা কামাচ্ছি—এবং আপনাকেও পরামর্শ দিচ্ছি, প্যাশনের কাজ শুরু করুন এবং আপনার ভবিষ্যৎ তৈরি করুন!


#collected

আপনার সন্তানকে আপনি বাহিরের কোন খাবার (চকলেট, চিপস, জুস) ইত্যাদি খেতে দেন না

 আপনার সন্তানকে আপনি বাহিরের কোন খাবার (চকলেট, চিপস, জুস) ইত্যাদি খেতে দেন না। কিন্তু হঠাৎ আপনার সন্তানের স্কুলের কোন শিক্ষক বাচ্চাদের CT পরীক্ষার খুশি হয়ে উপহার হিসাবে সবাইকে একটি করে চকলেট উপহার দিতে চাইল। সবাইকে দেয়ার মাঝে আপনার সন্তানকে যখন দিতে আসলো সে কিভাবে শিক্ষককে বুঝাবে "আমি বাহিরের খাবার খাই না।" অর্থাৎ কিভাবে সুন্দরভাবে প্রত্যাখ্যান করবে। 


আপনি তাকে এই সম্পর্কে কিভাবে শেখাবেন? 


১. আগে মন থেকে শিশুকে বোঝান কেন বাইরে খাবার না খাওয়া ভালো:

সন্তানকে আদর ও ভালোবাসা নিয়ে বলুন, 


“আব্বু/আম্মু, আমরা বাইরের খাবার খাই না কারণ অনেক সময় সেগুলোতে এমন কিছু থাকতে পারে যা তোমার শরীরের জন্য ভালো না। তুমি জানো, আমরা সবসময় চাই তুমি সুস্থ থাকো।” 


২. বাহিরের খাবার কিভাবে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি হয় সেগুলো দেখানো বা বুঝানোর চেষ্টা করুন: 


সন্তানকে বাহিরে খোলা খাবার তৈরি হচ্ছে এমন জায়গায় নিয়ে যান অথবা বর্তমানে ইন্টারনেটে অনেক ভিডিও পাওয়া যায় যেগুলোতে দেখানো হয় কিভাবে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে খাবার তৈরি হচ্ছে। সেগুলো বাচ্চাকে দেখানোর চেষ্টা করুন। যেন তারা বুঝতে পারে, কেন বাবা-মা তাদের নিষেধ করছে। 


৩.শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কীভাবে না বলতে হয় তা শেখান: 


আপনার সন্তানকে এইরকম বলার জন্য অনুশীলন করাতে পারেন:

“স্যার/ম্যাম, জাযাকাল্লাহু খইর । আপনি আমাকে চকলেট দিতে চেয়েছেন বলে আমি খুব খুশি হয়েছি। কিন্তু আমার আব্বু/আম্মু আমাকে বাইরের কিছু খেতে নিষেধ করেছেন, তাই আমি নিতে পারছি না। দয়া করে রাগ করবেন না। আপনার উপহারের জন্য অনেক ধন্যবাদ।" 


৪. বিকল্প সমাধানের কথা বলুন 


যদি শিক্ষক নিতে জোর করেন, তাহলে বাচ্চা বলতে পারে:

"আমি এটা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আব্বু/আম্মু অনুমতি দিলে খাবো। 


পরে আপনি চকলেটটি গ্রহণ করে তার জন্য অন্য কোনো স্বাস্থ্যকর উপহার (যেমন ফল, বাদাম) দিতে পারেন। 


৫. শিক্ষককে আগেই জানানো (যদি সম্ভব হয়) 


স্কুলের শিক্ষক/অভিভাবক দলের সাথে যোগাযোগ করে আগেই জানিয়ে রাখুন যে আপনার সন্তান বাইরের নির্দিষ্ট খাবার খায় না। 


৬. মানসিক প্রস্তুতি দিন 


বাচ্চাকে বুঝিয়ে বলুন:

 "তোমার জন্য ভালো বলে আমরা কিছু নিয়ম করি, কিন্তু অন্যরা হয়তো জানে না। তাই কেউ দিলে রাগ না করে ধন্যবাদ দিয়ে বলবে।" এতে তার মধ্যে হতাশা বা বিভ্রান্তি তৈরি হবে না। 


৭. ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি শেখান 


"না বলার অধিকার তোমার আছে"—এই বার্তা তাকে দিন।  


৮. বাড়িতেই রোল প্লে করে শেখান 


বাচ্চাকে সাথে নিয়ে স্কুলের মতো করে একটি দৃশ্য তৈরি করুন। বাসায় এই পরিস্থিতির অভিনয় করে অভ্যাস করান, যাতে বাচ্চা সহজে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে। 


৯. উৎসাহ ও পুরস্কার: 


বাড়িতে ফিরে এলে বাচ্চার আত্মসংযম ও নীতিবোধের জন্য তাকে প্রশংসা করুন ও উৎসাহ দিন। 


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বাচ্চাকে শেখানো যে এই প্রত্যাখ্যান করা কোন অপরাধ নয় এবং তার মূল্যবোধ ও পারিবারিক নিয়ম মেনে চলা একটি গর্বের বিষয়। এতে করে বাচ্চা নিজের সিদ্ধান্তে দৃঢ় থাকতে শিখবে এবং সামাজিক চাপ মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।


🍏 আপনারা জানেন দীর্ঘদিন ধরে "শিশু লালন-পালন | শিশু শিক্ষা" গ্রুপে আদর্শ সন্তান প্রতিপালন সম্পর্কে আপনাদের বিভিন্ন টিপস, সেমিনার, ওয়েবিনারের আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়াও সন্তানদের বিভিন্ন তারবিয়াহ মূলক শিশু শিক্ষার আয়োজনও এখানে রয়েছে। 


টেলিগ্রাম প্যারেন্টিং গ্রুপ লিংক: https://t.me/goodparenting1000


হোয়াটসঅ্যাপ প্যারেন্টিং গ্রুপ লিংক: https://whatsapp.com/channel/0029VaHztxAGU3BTlowja32h

জাযাকাল্লাহু খইর।


#প্যারেন্টিং #শিশু #শিশুশিক্ষা #সন্তান #ParentingJourney #parentingtips #parenting #parents #parentinghacks #positiveparenting

ফেরাউনের দা*সী*র ক*ব*র থেকে সুঘ্রান আসার কারন কি

 মিরাজের রাতে আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) যখন হযরত জিব্রাইল (আঃ)-এর সাথে হাঁটছিলেন তখন হৃদয় জুড়ানো সুঘ্রাণ পাচ্ছিলেন। কী মন মাতানো সেই ঘ্রাণ! রাসূল (সাঃ) অবাক হলেন এবং জিব্রাইল (আঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন-  ‘হে জিব্রাইল, আমি নাকে কিসের সুঘ্রাণ অনুভব করছি’?


তখন জিব্রাইল (আঃ) বললেন- ’ইয়া রাসুলুল্লাহ, এই সুঘ্রাণ ফেরাউনের দা*সী*র ক*ব*র থেকে আসছে’। মহানবী (সাঃ) তখন জিব্রাইল (আঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ফেরাউনের দা*সী*র ক*ব*র থেকে এমন সুঘ্রাণ আসার কারণ কী, হে জিব্রাইল’?


তখন জিব্রাইল (আঃ) বললেন- ’একদিন ফেরাউনের দা*সী ফেরাউন কন্যার চুল আঁচড়ে দিচ্ছিলেন, হঠাৎ তাঁর হাত থেকে চিরুনি পড়ে গেলো। চিরুনিটি তোলার সময় দা*সী আনমনে বলে উঠলেন- ‘বিসমিল্লাহ্‌’  বা আল্লাহর নামে।


তখন ফেরাউন কন্যা জিজ্ঞাস করলো-  ‘এই কথা দ্বারা তুমি আমার পিতাকে বুঝিয়েছো নিশ্চয়’?


দা*সী উত্তর দিলেন-  ‘না, আমি বলেছি আল্লাহ্‌! যিনি আমার প্রভু, তোমার বাবার প্রভু, জান্নাতের প্রভু, সারা জাহানের প্রভু’।


ফেরাউন কন্যা বললো- ‘তুমি যা বলেছো তা কি আমি আমার পিতাকে জানাবো’? নির্ভয়ে দা*সী উত্তর দিলেন-  ‘হ্যাঁ, জানাও’! কথাটি যখন জা*লিম*দের মধ্যে নি*কৃ*ষ্ট  জা*লি*ম ফেরাউনের কানে গেলো, তখন সে দা*সী*কে দরবারে তলব করলো।


দা*সী তার দরবারে গেলেন।  তখন ফেরাউন তার উপদেষ্টাদের সাথে তার দরবারে বসেছিল। তাচ্ছিল্যের সুরে সে দা*সী*কে জিজ্ঞেস করলো-  ‘হে আমার দা*সী, তোমার প্রভু কে’? সাথে সাথে দা*সী*র নির্লিপ্ত উত্তর- ’আল্লাহ্‌, তিনি আমার প্রভু এবং তোমারও প্রভু’! দাসীর এমন উত্তর শুনে ফেরাউন ক্রো*ধ মাখানো অট্টহাসিতে ফে*টে পড়লো এবং বললো- ‘যাও, বাড়ি যাও’। 


পরদিন ফেরাউন সেই দা*সী ও তাঁর সন্তানদের দরবারে হাজির করার জন্য রক্ষীদের পাঠালো।


যখন দা*সী*কে দরবারে হাজির করা হলো তখন তিনি দেখলেন, ফেরাউন একটি বড় কড়াইয়ের পাশে পায়চারী করছে। ইবনে কাতির (রাঃ) এই কড়াইকে বর্ণনা করে বলেছেন- ’এটি এমন বিশাল একটি কড়াই যেখানে অনায়াসেই বিশাল সাইজের একটি গরু ঠাঁই পাবে’।


তিনি আরও বলেছেন- ‘সেই কড়াইতে তেল ঠগ-বগ করে ফুটছিল এবং কড়াইয়ের নিচে দা*উ দা*উ করে আ*গু*ন জ্ব*লছি*ল’। সন্তানসহ হাজির করানোর পর ফেরাউন দাসীকে বললো- ’ওহে দা*সী, এবার বল তোর প্রভু কে’? এবারও দাসী ভয়হীন উত্তর- ‘আল্লাহ্‌, যিনি আমার প্রভু এবং তোমারও  প্রভু’। এ কথা শুনে ফেরাউনের আদেশে রক্ষীরা তার বড় সন্তানকে ফু*ট*ন্ত তেলে নি*ক্ষে*প করলো। 


মা মা চিৎকার করতে করতে দা*সী*র ছেলেটি উত্তপ্ত তেলে নিমিষেই গ*লে গেলো। এই দৃশ্য দেখে জা*লি*ম কা*ফি*রের দল হো হো করে হাসতে লাগলো। প্রথম সন্তানকে মে*রে ফেলার পর ফেরাউন আবারও জিজ্ঞেস করলো- ‘হে আমার দা*সী, তোমার প্রভু কে’? দাসী আবারও বললেন,’আল্লাহ্‌’!


এই কথা বলার সাথে সাথে রক্ষীরা তাঁর অন্য সন্তানকেও ফু*ট*ন্ত তেলে নি*ক্ষে*প করলো। সাথে সাথে সেও সিদ্ধ হয়ে তেলের সাথে মিলিয়ে গেলো। তারপর ফেরাউন আবারও জানতে চাইলো- ‘তোমার প্রভু কে’? চোখের সামনে সদ্য দুই সন্তান হা*রা*নো দা*সী একটুও বিচলিত না হয়ে এবারও উত্তর দিলেন-’আল্লাহ, যিনি আমারও প্রভু, তোরও প্রভু’।


এবার রক্ষীরা দাসীর দু*ধে*র শিশুটিকে তেলে নি*ক্ষে*প করার জন্য ঝুলিয়ে রাখলো, ঠিক তখনই দেখা গেলো আল্লাহ্‌র কুদরত। ছোট্ট শিশুটি বলে উঠলো- ’চিন্তু করো না মা, আমরা জান্নাতে আছি’!


দা*সী এবার আরো জোর গলায় চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘আল্লাহ্‌ ! তিনি আমারও প্রভু, তোরও প্রভু’। এরপর সেই দা*সী*কেও ফু*ট*ন্ত তেলে নি*ক্ষে*প করা হলো। দা*সী*র অটুট ঈমান নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যান। আর এমন কঠিন ঈমান নিয়ে জান্নাতে যাওয়ার জন্যেই তাঁকে এমন মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে, সুবহানাল্লাহ…

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর ২০টি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে।

 বজ্রপাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর ২০টি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলো-

১. বজ্রপাতের ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির ধাতব রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না।

২. প্রতিটি বিল্ডিংয়ে বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন নিশ্চিত করুন।

৩. খোলাস্থানে অনেকে একত্রে থাকাকালীন বজ্রপাত শুরু হলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে দূরে সরে যান।

৪. কোনো বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সবাই এক কক্ষে না থেকে আলাদা আলাদা কক্ষে যান।

৫. খোলা জায়গায় কোনো বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেয়া যাবে না। গাছ থেকে চার মিটার দূরে থাকতে হবে।

৬. ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে থাকতে হবে। বৈদ্যুতিক তারের নিচ থেকে নিরাপদ দূতত্বে থাকতে হবে।

৭. ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগগুলো লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে।

৮. বজ্রপাতে আহতদের বৈদ্যুতিক শকে মতো করেই চিকিৎসা দিতে হবে।

৯. এপ্রিল-জুন মাসে বজ্রপাত বেশি হয়। এই সময়ে আকাশে মেঘ দেখা গেলে ঘরে অবস্থান করুন।

১০. যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন।

১১. বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি বা বারান্দায় থাকবেন না এবং ঘরের ভেতরে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকুন।

১২. ঘন-কালো মেঘ দেখা গেলে অতি জরুরি প্রয়োজনে রাবারের জুতা পরে বাইরে বের হতে পারেন।

১৩. উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, তার, ধাতব খুঁটি ও মোবাইল টাওয়ার ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন।

১৪. বজ্রপাতের সময় জরুরি প্রয়োজনে প্লাস্টিক বা কাঠের হাতলযুক্ত ছাতা ব্যবহার করুন।

১৫. বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, মাঠ বা উঁচু স্থানে থাকবেন না।

১৬. কালো মেঘ দেখা দিলে নদী, পুকুর, ডোবা, জলাশয় থেকে দূরে থাকুন।

১৭. বজ্রপাতের সময় শিশুদের খোলা মাঠে খেলাধুলা থেকে বিরত রাখুন এবং নিজেরাও বিরত থাকুন।

১৮. বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে পড়ুন।

১৯. বজ্রপাতের সময় গাড়ির মধ্যে অবস্থান করলে, গাড়ির থাতব অংশের সঙ্গে শরীরের সংযোগ ঘটাবেন না। সম্ভব হলে গাড়িটিকে নিয়ে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন।

২০. বজ্রপাতের সময় মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকার ছাউনির নিচে অবস্থান করুন।


পোষ্টটি শেয়ার করে সকলকে সতর্ক করি এবং নিজে সতর্ক থাকি।

#GWET_OFFICIAL

স্মার্টফোন: আধুনিক যুগের নিঃশব্দ দাসত্ব

 *📱 স্মার্টফোন: আধুনিক যুগের নিঃশব্দ দাসত্ব​*


এক সময় যুদ্ধ মানে ছিল অস্ত্র, রক্তপাত, ও শারীরিক পরাজয়। কিন্তু আজকের দিনে, যুদ্ধের রূপ বদলে গেছে। এখন আর বুলেট বা বোমার প্রয়োজন নেই; একটি স্মার্টফোনই যথেষ্ট আমাদের মনোজগত দখল করতে। এটি এমন এক নিঃশব্দ দাসত্ব, যা আমরা নিজেরাই বেছে নিচ্ছি।আজকের দুনিয়ায় স্মার্টফোন শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, এটি হয়ে উঠেছে আধুনিক দাসত্বের অস্ত্র।


একটা সময় ছিল যখন বিজয়ের অর্থ ছিল শারীরিকভাবে দখল করা। এখন সেই দখল চলে গেছে ডিজিটাল দুনিয়ায়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক—এসব অ্যাপ আমাদের সময় খাচ্ছে, মনোযোগ ছিনিয়ে নিচ্ছে, চিন্তার স্বাধীনতা কেটে ফেলছে। আমরা নিজের অজান্তেই হয়ে যাচ্ছি এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক বন্দি, যার শিকল হলো স্ক্রলিং অভ্যাস।


স্মার্টফোন এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন আমরা যতটা সম্ভব বেশি সময় ব্যয় করি এতে। আমাদের চিন্তাভাবনা, রুচি, অনুভূতি এমনকি বিশ্বাস পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করছে অ্যালগরিদম। আপনি কী পছন্দ করবেন, কী ভাববেন, কোন বিষয়কে ভয় পাবেন—সবকিছুর পেছনে আছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর সুনির্দিষ্ট প্রভাব। এটা হলো "algorithmic colonization"—যেখানে আপনাকে বাহ্যিকভাবে দাস করা হয়নি, কিন্তু আপনার ভেতরটাই বন্দি করে ফেলা হয়েছে।


স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্নতা, আগ্রাসী আচরণ, এবং এমনকি হ্যালুসিনেশন পর্যন্ত সৃষ্টি করছে। ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১০,৫০০ কিশোর-কিশোরীর উপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা কম বয়সে স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করেছে, তাদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বেশি ।


তাছাড়াও, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো তাদের কর্মীদের চীনা নির্মিত ইলেকট্রিক গাড়িতে স্মার্টফোন চার্জ না করতে নির্দেশ দিয়েছে, কারণ এতে সাইবার গোয়েন্দাগিরির আশঙ্কা রয়েছে । অর্থাৎ এটির ব্যবহার যুদ্ধক্ষেত্রেও রয়েছে! ​ 


আজ আমরা মনে করি স্মার্টফোন ছাড়া থাকা সম্ভব নয়। অথচ এটা আমাদের সময়, সম্পর্ক, মনোযোগ, এবং চিন্তার জায়গাগুলো ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে। একসময় আমরা যেসব কাজ করতাম মানুষ হয়ে, এখন তার অনেকটাই অ্যাপ নির্ভর। আমাদের সুখ-দুঃখের অনুভব এখন নোটিফিকেশন ডিপেন্ডেন্ট।


সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, এই বন্দিত্ব আমরা নিজেরাই পছন্দ করছি। দিন শেষে ফোনটাকে গাল দিয়ে বলি, “সময় নষ্ট হয়ে গেল”—কিন্তু পরদিন আবার শুরু করি একই ভুল। এটি কোনো সাধারণ অভ্যাস নয়, এটি হলো নতুন প্রজন্মের মানসিক দাসত্ব, যেটা শারীরিক পরাজয়ের চেয়েও ভয়ংকর।


আমরা যুদ্ধের ভয় করি, কিন্তু নিজের মনোযোগ ও মূল্যবান সময়কে স্মার্টফোনে বিলীন করে দিয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করছি—এটা কি সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতা?


📢 সময় এসেছে প্রশ্ন তোলার:

আমরা কি স্মার্টফোন ব্যবহার করছি, নাকি স্মার্টফোন আমাদের ব্যবহার করছে?


📌 মনে রাখুন: আধুনিক যুগের সবচেয়ে ভয়ংকর দাসত্ব হলো এমন এক দাসত্ব যেটিকে দাসত্ব মনে হয় না।


#Investine 

#HalalInvestment 

#InvestineMastery

#ShariahCompliance 

#Mabroom

#TheQuestOf114

#AmeenDigital

#Azeen

#PahariPonno

#BestProperties

#LearnToTeach

#NeverForget 🇵🇸

ছাদকৃষির জন্য ১২ টি পরামর্শ

 🪴🌿🍆🌽🌶️ছাদকৃষির জন্য ১২ টি পরামর্শ🍆🌽🌶️🥕🍉

"ছাদ বাগানীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। টবে, ড্রামে গাছ লাগানো হয়। কেউ ফল, কেউবা সবজির গাছ লাগান। কেউ সফল হন। কেউ সফল হন না। ছোট ছোট কিছু ভুল বাগানীরা করে থাকেন। সে কারণে যত্ন নিলেও ফল আসে না। এখানে ছাদ বাগানীদের জন্য কিছু টিপস দেয়া হলো, যা মানলে সফলতা পাওয়া সহজ হতে পারে।


প্রথমেই মনে রাখতে হবে, টবে বা ড্রামে গাছ লাগালে তাকে খাবার দিতে হবে। প্রকৃতিতে বিদ্যমান গাছের মতো সে খাবার সংগ্রহ করতে পারে না। রোগ-বালাই হলো কিনা সেটাও বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে।


১. মাটির সাথে অবশ্যই কিছু কোকোপিট মেশাবেন। গাছের গোড়া স্যাতস্যাতে হতে দিবেন না। স্যাতস্যাতে হলে অসংখ্য রোগ হবে। মাটি ভেজা থাকবে তবে স্যাতস্যাতে না। কেকোপিট মেশালে পানি কম দিলেও হবে। কোকোপিট (নারকেলের ছোবলার গুড়া) পানি ধরে রাখে। অতি বৃষ্টি হলে গোড়ায় পানি জমতে দেয় না। হালকা হওয়ায় ছাদে ওজনের চাপ পড়ে না। এছাড়া কোকোপিটে কিছু পুষ্টি উপাদান আছে। যা গাছের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কোকোপিটে চারা দ্রুত গজায়, বড় হয়। মাটির চেয়ে কোকোপিটে চারা ভালো হয়।


২. গাছের জন্য বিরিয়ানি হলো সরিষার খৈল-পচা পানি। মাটির হাড়িতে খৈল পচাতে হবে। কমপক্ষে ৫ দিন। ৭ দিন কিংবা বা ১৫ দিন হলে উত্তম। অল্প পানিতে পচিয়ে তার সাথে আরো পানি মিশিয়ে দিতে হবে। এটি গাছের জন্য অত্যন্ত উপকারী। একটু গন্ধ হয়, তাই অল্প একটু গুড় দিতে পারেন। ছাদে হাড়িতে পচালে বাসায় গন্ধ আসবে না। বৃষ্টির সময় খৈল-পচা পানি দেবেন না। পুকুরের নিচে থাকা পাক কাদা গাছের জন্য খুব উপকারী।


৩. আমরা জানি, মাটিতে অসংখ্য ক্ষতিকর ছত্রাক থাকে। যা গাছকে মেরে ফেলার জন্য যথেস্ট। তাই মাটি রেডি করার সময় কিছুটা বায়োডামা সলিট দিবেন। এটি উপকারী ছত্রাক। মাটিতে ক্ষতিকারক উপাদানগুলো মেরে ফেলে। আবার জৈব সারের কাজও করে। গাছের জন্য মাটি হবে ঝুরঝুরে, হালকা।


৪. যাই লাগান না কেন, ভালো জাতের বীজ কিনা নিশ্চিত হয়ে নেবেন। ভালো বীজে ভালো ফসল হবে। নতুবা যতই যত্ন নেন না কেন, সব পরিশ্রম বেলাশেষে জলে যাবে। বীজ থেকে নিজে চারা করা উত্তম। কারণ বাজার থেকে যে চারা কিনবেন সেটার জাত ভালো হবে সে নিশ্চয়তা কোথায়? ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করে নেয়া উত্তম। পদ্ধতি হলো- ছত্রাকনাশক দেয়া পানিতে কিছুটা সময় বীজ ভিজিয়ে রাখতে হবে। ম্যানসার, মেটারিল দুটি ছত্রাকনাশক।


৫. গাছ বেশি তো ফলন বেশি- এটি ভুল ধারণা। অল্প জায়গায় বেশি গাছ লাগানো যাবে না। গাছ পাতলা করে লাগাতে হবে। বেশি লাগালে গাছ প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে না। একটি ফলের ক্রেটে মাত্র দুটি গাছ। একটি টবে একটি গাছ। ক্রেট বা টবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।


৬. ছাদে মাচা দেয়া সমস্যা। কারণ ঘুঁটি থাকে না। এ জন্য ফলের ক্রেটের চারপাশে লাঠি বেঁধে সহজে মাচা দেয়া যায়। লতাপাতা জাতীয় গাছ লাগানোর পাত্র একটু গভীর হলে উত্তম। গাছের জন্য সবচেয়ে বেশি ভালো জৈব সার হলো পাতা-পচা সার, তারপর ভার্মি কম্পোস্ট, তারপর গোবর সার। পাতা-পচা সার সহজলভ্য নয়। দাম বেশি। কিন্তু ভার্মি কম্পোস্ট সহজলভ্য। মাটির সঙ্গে মিনিমাম ৪০% জৈব সার দেয়া উত্তম।


৭. নিম কীটনাশককে ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় খুব অপছন্দ করে। এটি দিলে তারা বিরক্ত বোধ করে। গাছে বাসা বাঁধতে পারে না। প্রতি সাত দিনে একবার সব গাছের পাতায় নিম কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। মাসে একবার ইপসম সল্ট স্প্রে করে দেয়া উত্তম। একইভাবে মাসে একবার পানির সঙ্গে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড মিশিয়ে স্প্রে করা ভালো।


৮. ডাটা, পুইশাক, লালশাক, ধনেপাতা এসব লাগাতে পারেন। মাত্র ২৫ দিনে খেতে পারবেন। লালশাক লাগালে নেট দিয়ে ঘিরে দেবেন। শাকপাতা লাগালে দ্রুত আউটপুট পাবেন। যা আপনাকে প্রেরণা দেবে। পুইশাক গাছের পাতায় দাগ হলে পাতা কেটে দিন। অথবা ছত্রাকনাশক স্প্রে করেন। অথবা গাছ উঠিয়ে আবার লাগান। ইউরিয়া সার দিলে পুইশাক দ্রুত বাড়বে। শশা গাছের বৃদ্বির জন্য ডিএপি সার দিলে ভালো হবে। শশা গাছে ছাড়া ছাড়া ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হয়। খুব রোদ, গাছের গোড়ায় মালচিং করে দিয়ে উত্তম ফল মিলবে। মালচিং হলো গাছের গোড়ায় বিশেষ পলিথিন কিংবা শুকনো পাতা, খড় দিয়ে ঢেকে দেয়া।


৯. ফুল আসার পরে প্রানোফিক্স অথবা মিরাকুরান গাছের পাতায় শেষ বিকালে স্প্রে করবেন। বাসায় দুইটি গ্রুপের ছত্রাকনাশক রাখা ভালো। যেমন- ম্যানসার, মেটারিল। ১৫ দিনে একবার স্প্রে করবেন।  এগরোমিন্ড গোল্ড অনুখাদ্য বা অন্য কোনো অনুখাদ্য বাসায় রাখতে হবে। মাসে কমপক্ষে একবার স্প্রে করবেন। অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টি, খাদ্যের অভাব, গাছ রোগাক্রান্ত, আবহাওয়া দ্রুত আপডাউন করা ইত্যাদি কারণে ফুল ঝরে পড়তে পারে। আবার পরাগায়ন না হলে ঝরে পড়তে পারে। এ জন্য হাতের মাধ্যমে পরাগায়ন করতে হবে। পুরুষ ফুলের পরাগদণ্ড নারী ফুলে গর্ভে ঘষে দিতে হবে।


১০. ছাদ বাগানে গাছ মারা যাওয়ার অন্যতম কারণ পানি বেশি বা কম দেয়া। যতটুকু লাগে ঠিক ততটুকু পানি দিতে হবে। কোন গাছের কি চাহিদা, রোগ একটু স্টাডি করলে সহজে সফল হতে পারবেন।


১১. গাছের পাতার নিচে খেয়াল করবেন। বেগুন গাছের পোকা মারার জন্য সেক্স ফোরেমান ফাঁদ লাগাবেন। ডগা ছিদ্র বা ফল ছিদ্র হলে সাইপারমেত্রিন গ্রুপের কীটনাশক দিতে হবে। একটি বেগুন গাছ অনেক দিন ফল দেয়। ঢেড়স গাছ বেশি রোদ পড়ে এমন জায়গায় লাগাবেন। বেগুন, ঢেড়স, লালশাক, পুইশাক, ধনেপাতা, ডাটা শাক- এসব গাছের খুব যত্ন করতে হয় না।


১২. রসুন আর লবঙ্গ বেটে সেই পানি গাছে স্প্রে করলে পোকা কম আসবে। মরিচ গাছে নেপথলিন বেঁধে দিন, পোকা কম আসবে। পাতা কোকড়ালে ভার্মিটেক কিংবা এবোম কীটনাশক দিন। কোকড়ানো পাতা ফেলে দিন। মরিচ গাছে দশ দিন পর পর ডায়মেথট গ্রুপের (যেমন টাফগর) কীটনাশক দিলে উপকার হবে। সবকিছু করছেন, তারপরও কাজ হচ্ছে না। এক্ষেত্রে গাছের জায়গা বদল করেন, উঠিয়ে অন্যত্র লাগান।"


শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিলাম ধন্যবাদ।


@topfans Md Biplob Hossain

মাত্র ৭ দিনে চীনের ৬,০০০ কিলোমিটার রোড ট্রিপ!

 মাত্র ৭ দিনে চীনের ৬,০০০ কিলোমিটার রোড ট্রিপ!

ভাবছেন কীভাবে সম্ভব? চলুন শুরু করি চায়না ভ্রমণের ছোট্ট কিন্তু দারুণ অভিজ্ঞতার গল্প—


চীনের সবচেয়ে সুন্দর তিনটি শহর ঘুরেছি মাত্র এক সপ্তাহে:

চায়না ভিসা সহজ!

আজকাল চীনের ভিসা খুব সহজে পাওয়া যায়।

 • যদি আপনার কোনো চাইনিজ সেলার থাকে, তাহলে ইনভাইটেশন নিয়ে মাত্র ৮,০০০ টাকায় নিজে নিজেই ভিসা করে নিতে পারবেন।

 • ইনভাইটেশন না থাকলে, ভালো কোনো এজেন্সির সাহায্যে ১০-১৫ হাজার টাকায় ট্যুরিস্ট বা বিজনেস ভিসা পাওয়া সম্ভব।


আমার ভ্রমণ প্ল্যান ছিল এমন:

১. গুয়াংজু – ৩ রাত

 • চীনের শপিং হাব!

 • বায়ি ইউন মার্কেট, ফ্যাব্রিক মার্কেট, ইলেকট্রনিকস সিটি

 • দারুন ফুড এবং ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ এক্সপেরিয়েন্স


২. বেইজিং – ২ রাত

 • ইতিহাস আর সংস্কৃতির শহর

 • গ্রেট ওয়াল অব চায়না – এক কথায় অসাধারণ

 • ফোরবিডেন সিটি ও তিয়েনআনমেন স্কয়ার


৩. ঝংজিয়াজি – ২ রাত

 • প্রকৃতির এক অনন্য স্বর্গ

 • ঝংজিয়াজি ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্ক – যেটা “অ্যাভাটার মাউন্টেন” নামেও পরিচিত

 • গ্লাস ব্রিজ – বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ও উঁচু কাঁচের সেতু


চায়না ট্রাভেলের জন্য দরকারি কিছু অ্যাপ:

 • Baidu Maps / Gaode Maps (গুগল ম্যাপ চলে না)

 • WeChat – চায়নার সবকিছুই এই অ্যাপে

 • Dianping – খাবার ও রেস্টুরেন্ট খুঁজতে

 • Ctrip / Trip.com – টিকিট, হোটেল, বুকিং জন্য

 • Translation App – চাইনিজ ভাষা বুঝতে Google    

             Translate (অফলাইন ভার্সন রাখতে হবে)


চীনা মাটিতে পা রাখার প্রথম ২৪ ঘণ্টার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা!


✈️ রাত ৩টার দিকে পৌঁছালাম গুয়াংজু এয়ারপোর্টে।

ইমিগ্রেশন টার্মিনালে পৌঁছেই দেখি কঠিন জেরা চলছে! দুজনকে সরাসরি সন্দেহ করে নিয়ে গেল ভিতরের রুমে।

আমার কাছে শুধু দুইটা প্রশ্ন—

– কেন এসেছেন?

– কত ডলার এনেছেন?


আমি বললাম: “ঘুরতে এসেছি, আনছি ৩৫০০ ডলার।”

ভদ্রলোক আর কিছু না বলেই সিল দিয়ে দিল—“Welcome to China”!



রোমিং প্যাকেজ বিপদে ফেলল!

বাংলালিংকের রোমিং একেবারে ফালতু! কাজ করেই না।

এয়ারপোর্টের ওয়াইফাই দিয়ে DiDi অ্যাপ দিয়ে ডেকে নিলাম ট্যাক্সি—১২০ ইয়ানে ৪ জনে পৌঁছালাম Sanyuanli এরিয়ায়।



হোটেলে ঠাঁই নাই!

সকাল ৬টায় পৌঁছালাম Burman Hotel– কিন্তু রুম ফ্রি না!

বলল ২টার আগে রুম ফাঁকা হলে দিবে, না হলে অপেক্ষা।

ইশ! যদি আগের রাতেই বুক করতাম, তাহলে ঘুমিয়ে সারাদিন ঘুরতে পারতাম!



সময়টা নষ্ট করিনি!

এই ফাঁকে চলে গেলাম:

Laos, Cambodia, Vietnam এম্বাসি দেখতে – সবই এক বিল্ডিংয়ে: Ellen Garden Hotel।



সন্ধ্যায় চীনের সৌন্দর্য

রুম পেলাম, ঘুম দিলাম আর সন্ধ্যায় মেট্রো ধরে চলে গেলাম Canton Tower– চারপাশের ভিউ এক কথায় অসাধারণ!

রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যান্টন টাওয়ারে কাটিয়ে, ২০ ইয়ানে খেলাম:

রূপচাঁদা ফ্রাই + ভাত + ডাল + সবজি – Radhuni Bangla Restaurant

রাত ১২টা পর্যন্ত মেট্রো চলে – একদম চিন্তার বাইরে!



পরদিন সকাল:

ঘুম থেকে উঠে রওনা হলাম Dasha Tou Wholesale Electronics Market–

চীনের ইলেকট্রনিক্স পণ্যের জান্নাত! ৪-৫ ঘণ্টা ধরে ঘুরলাম, তারপর খাইলাম চাইনিজ খাবার—জঘন্য স্বাদ!

বাধ্য হয়ে চলে গেলাম Huimin Street Food Market (হুইমিন) – দারুণ হালাল স্ট্রিট ফুড!


শেষ বিকেলে পার্ল নদীর পাড়ে বসে লোকালদের সাথে ফিশিং,

রাতটা শেষ করলাম Lotus Mall-এ কিছু শপিং করে। 


পরের পার্ট আসবে শীগ্রই….


নোট: পুরো চায়না সিরিজ দেখে আসতে পারেন আমার ইউটিউব চ্যানেলে Travel With Alomgir থেকে। অনেক অজানা তথ্য পেয়ে যাবেন এবং চায়না ভ্রমণের একটি কমপ্লিট গাইডলাইন পাবেন। 


#ChinaTrip #GuangzhouTravel #BeijingGreatWall #Zhangjiajie #RoadTripChina

ব্যস্ততা এলেই নিজেকে বলি, এই ব্যস্ততা ফুরালে তারপর অখণ্ড অবসর। তখন শখের এটা পূরণ করবো, ওটা করবো। উড়বো-ঘুরবো, সুন্দর দিন কাটাবো। অথচ এক ব্যস্ততা ফুরাতেই আরও তিন ব্যস্ততা হাজির হয়। জীবন যত সামনে যাচ্ছে তত জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। 

 ব্যস্ততা এলেই নিজেকে বলি, এই ব্যস্ততা ফুরালে তারপর অখণ্ড অবসর। তখন শখের এটা পূরণ করবো, ওটা করবো। উড়বো-ঘুরবো, সুন্দর দিন কাটাবো। অথচ এক ব্যস্ততা ফুরাতেই আরও তিন ব্যস্ততা হাজির হয়। জীবন যত সামনে যাচ্ছে তত জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। আড্ডার সময়, গল্পের আসর আর জমছে না। সামনের দিনগুলো ব্যস্ততায় মুড়িয়ে আবেগি সম্পর্কগুলো স্বাভাবিকতা হারাচ্ছে। কৃত্রিমতার চাদরে গুটিয়ে যাচ্ছে মানুষ। পারস্পরিক কথা হচ্ছে মেপে মেপে, আচরণ করছে হিসেব করে এবং মিলিত হচ্ছে স্বার্থের বাটখারায় পা দিয়ে, দিয়ে।  


প্রাত্যহিক জীবনের অনেক ব্যস্ততার অনেকাংশই অপচয়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশের একভাগ অকাজেই চলে যাচ্ছে। যে ব্যস্ততায় মানুষের দিন ফুরাচ্ছে সেখানে নিজেকে জানার কিংবা চেনার সামান্যতম চেষ্টা পর্যন্ত নাই। সব অপরের জন্য! কমবেশি সঞ্চয় করা যাবে, কী কী ভোগ করা যাবে, কাকে কাকে ঠকানো যাবে এবং কোথায় কোথায় জয়ী হওয়া যাবে সেই দ্বন্দ্বে মানুষ তার নিজস্ব স্বকীয়তা হারাচ্ছে। ব্যস্ততায় মানুষের ভেতরের স্বাভাবিক নির্মলতা, মনের পবিত্রতা খুইয়েছে। শখের জীবন অসুখেই লগ্নি করছে। 


অভাব সামনে দাঁড়ালেই মনে মনে ভাবি এবার উৎরে গেলে সামনের দিনগুলো খুব স্বাচ্ছন্দ্যে যাবে। সব দুঃখ মুছে যাবে। নিজের সব শখ পূরণ করবো, প্রিয়জনের চাওয়া মিটিয়ে দেবো। অথচ যত সামনে চলি তত অভাব বাড়ে । যে দিন যায় সে দিন ভালো যায়। শখের সাথে বাস্তবতার সমন্বয় বড্ড জটিল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আয় বাড়ছে কিন্তু অভাব কমছে না। চাহিদা শাখাপ্রশাখায় বিস্তার করছে। দ্রব্যমূল্য ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছে।ভালোভাবে থাকার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে। একটি চাহিদা মিটতেই বহু চাহিদা সমাজ বাস্তবতায় সামনে আনছে। 


আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার অনেকাংশেই গরিবের ঘোড়া রোগ ভর করছে। আমরা অযাচিত-অপ্রাসঙ্গিক অনেক কিছুই কামনা করছি। ভোগের খতিয়ান দীর্ঘায়িত হচ্ছে। মানসিকতার দৈন্য, রুচির দুর্ভিক্ষ এবং আভিজাত্যের খোলসের অসুস্থতা আমাদের নৈমিত্তিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। দিন দিন যেন খেই হারিয়ে চলছি। সাধ্য এবং সাধের মিলন ঘটছে কিঞ্চিৎ! যেন এক অসুখী আগামীর দিকে আমাদের অগ্রযাত্রা অবিরাম হয়েছে। দিনশেষে ডায়েরিতে ভালো আছি’- লিখতে পারছি না। হাসি মুখে বলতে বাধ্য হচ্ছি ভালো আছি! পরক্ষণেই নিজেকে জিজ্ঞেস করছি, আমি কী আসলেই ভালো আছি?


শৈশব এবং কৈশোর কালই জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। গোটা যৌবন সংগ্রামের। অপরের শখ পূরণের জন্য ব্যয় করতে হয়। আমরা আশায় থাকি, এই বুঝি দুঃখ ফুরিয়ে, সুখ এলো বলে। সব শখেরা জীবন পেলো। কতক মেলে আর কতক অধরাই থেকে যায়। তবুও আমরা আশায় থাকি, রাত পোহাবে, ভোর আসবে। জীবনের এই গোলকধাঁধায় বহু জীবনের সাঁঝ নামে। আবার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে বায়ু দিক পরিবর্তন করে। একটা সুযোগ পেলেই জীবন স্থির হয়ে যাবে! ভাগ্য কাকে, কখন, কোথায় টেনে নেয়, তা কে জানে? অপেক্ষায় অপার হয়ে বসে থাকি!

এথেন্সের গলিতে হারিয়ে গেলো চাঁদপুরের রুনা

 এথেন্সের গলিতে হারিয়ে গেলো চাঁদপুরের রুনা 


গ্রীসের রাজধানী এথেন্স। সূর্যের কোমল আলো শহরের প্রাচীন স্থাপত্যের দেয়ালে দেয়ালে খেলা করে। দিনের ব্যস্ততায় শ্রমজীবী মানুষ ছুটছে আপন লক্ষ্যের দিকে। কেউ যাচ্ছেন নির্মাণ কাজে, কেউবা আবার দোকানে অথবা ক্লিনিং কোম্পানিতে। পরিশ্রমের ঘামে ভেজা এ শহরের অলিগলিতে হাজারো স্বপ্ন নিয়ে বাস করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদেরই একজন ছিলেন রুনা আক্তার। বয়স ছত্রিশ। জন্মস্থান চাঁদপুরের সবুজ ঘেরা নদী ও খাল-বিল ঘেরা এক গ্রামে। জীবন-সংগ্রামে ভাগ্যের খোঁজে স্বামী রিপন মিয়ার হাত ধরে নারায়ণগঞ্জ থেকে উড়ে এসেছিলেন সুদূর গ্রিসে। স্বপ্ন ছিল, বিদেশের মাটিতে নিজের একটি শান্তিময় জীবন গড়ে তোলার। কিন্তু জীবন তার জন্য যে গল্প লিখেছিল, তা ছিল ভিন্ন। 


গ্রিসের মাটিতে বহু দেশের মানুষের সমাগম, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির মিলনস্থল এটি। এখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি শক্তিশালী কমিউনিটি রয়েছে। নির্মাণকাজ থেকে শুরু করে ক্লিনিং সার্ভিস, রেস্তোরাঁ ব্যবসাসহ নানান কাজে নিজেদের শ্রম ও মেধার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন তারা। বিদেশ বিভুঁইয়ের প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রমের মধ্যেও তারা নিজেদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ আঁকড়ে ধরে রাখেন। সেই প্রবাসী জীবনেই যুক্ত হয়েছিলেন রুনা আক্তার।


এথেন্সের কিপসেলি এলাকার তেনেদু স্ট্রিট। রুনা এখানকার একটি ক্লিনিং কোম্পানিতে কাজ করতেন। জীবন চলছিল কষ্টের মধ্যেও সুন্দর। একই কোম্পানিতে কাজ করতেন ৪০ বছর বয়সী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেলিম আহমেদ ওরফে শান্ত। একই কাজে যুক্ত থাকায় ধীরে ধীরে দুজনের পরিচয় ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে তাদের মাঝে গড়ে ওঠে গভীর এক প্রেমের সম্পর্ক। 


রুনার স্বামী রিপন তখন দীর্ঘদিন ধরে বেকার, তাদের পরিবার আর্থিক সংকটে ভুগছিল। এমন সময় সহকর্মী শান্তকে তাদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়। গত কয়েক মাসে শান্ত'র কাছ থেকে প্রায় বিশ হাজার ইউরো ধার নেন রুনা ও রিপন দম্পতি। শান্ত অর্থনৈতিক সাহায্য দিতে গিয়ে কখনো ভাবেনি তার এই আবেগ একদিন রক্তাক্ত পরিণতিতে গিয়ে শেষ হবে।


রুনা শান্তকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি শীঘ্রই স্বামী রিপনের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করবেন এবং শান্ত'র সঙ্গেই জীবন শুরু করবেন। কিন্তু দিন যেতে যেতে রুনা তার সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলেন। তিনি বুঝতে পারেন শান্ত'র সঙ্গে সম্পর্ক ভুল। রিপনের সঙ্গে নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টা করেন রুনা। 


ধীরে ধীরে শান্ত'র সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে যেতে থাকেন রুনা। এই প্রত্যাখ্যান শান্তর জন্য ছিল অসহনীয়। রাগ, ক্ষোভ ও হতাশায় শান্ত নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেন না। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় ক্ষুব্ধ শান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। 


২০২২ সালের ২৮ আগস্ট। সূর্যের শেষ আলো তখনো এথেন্সের কিপসেলি এলাকার তেনেদু স্ট্রিটের দালানগুলোর দেয়ালে কমলা রঙের মায়াবী ছবি আঁকছিল। প্রাচীন ইতিহাসের শহর এথেন্সে প্রতিদিনের মতো আজও ব্যস্ত জীবনের মাঝ থেকে কিছুটা শান্তির আশায় মানুষজন ঘরে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নেয়। এদিকে শান্তর মন অশান্ত হয়ে গিয়েছিলো। শান্ত রুনার বাসার সামনে গিয়ে তাকে ফোনে নিচে নামতে বলেন। জরুরি কিছু কথা বলার কথা শুনে রুনা বাসার নিচে নেমে আসেন।


রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শান্ত'র চোখে ছিল অসংখ্য প্রশ্ন। প্রথমেই শান্ত জানতে চান, রুনা তার স্বামী রিপনকে আসলেই ছেড়ে দিতে চান কি না। রুনা সেদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি কখনোই রিপনকে ছাড়বেন না। শান্তকে তাদের জীবন থেকে দূরে সরে যেতে বলেন। এই কথায় শান্ত তার দেওয়া কুড়ি হাজার ইউরো ফেরত চাইলে রুনা সাফ জানিয়ে দেন, তিনি কোনো টাকা ফেরত দিতে পারবেন না। 


তীব্র বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে শান্ত তার কোমরে লুকিয়ে রাখা ধারালো ছুরি বের করে (রুনাকে শায়েস্তা করার জন্য শান্ত এথেন্সের ওমোনিয়া স্কয়ারের কাছের এক দোকান থেকে আগেই তীক্ষ্ণ এ ছুরিটি কিনে আনেন)। এক নিমিষেই তিনি ছুরিটি বসিয়ে দেন রুনার পেটে। রক্তে ভেসে যায় তেনেদু স্ট্রিটের পিচঢালা রাস্তা। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান রুনা।


পুলিশ গ্রেপ্তার করে শান্তকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত নিজেই খুনের কথা স্বীকার করেন। এই ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়ে পুরো বাংলাদেশ কমিউনিটি। নেমে আসে বিষাদের ছায়া। কমিউনিটির নেতারা এগিয়ে এসে রুনার মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। বিশেষ করে তার কিশোরী মেয়ে মনিফা আকুল হয়ে অপেক্ষায় থাকে শেষবারের মতো তার মায়ের মুখটি দেখার জন্যে। অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২২ অক্টোবর রুনার মরদেহ পৌঁছে তার নিজ বাড়ি চাঁদপুরে।


আজও এথেন্সের তেনেদু স্ট্রিটে সন্ধ্যা নামলে রুনার কথা মনে করেন অনেকে। প্রবাসের কঠোর জীবনের মাঝে ভালোবাসা, ভুল বোঝাবুঝি আর ট্র্যাজেডির এক মর্মান্তিক অধ্যায় হিসেবে রচনা হলো রুনা নামে মেয়েটির গল্প।

ন্যানো-স্কেলে কোয়ান্টাম সুপারপজিশন: সোডিয়াম কণার 'একই সঙ্গে দুই জায়গায়' থাকার নতুন প্রমাণ,,,মুস্তাকীম ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ন্যানো-স্কেলে কোয়ান্টাম সুপারপজিশন: সোডিয়াম কণার 'একই সঙ্গে দুই জায়গায়' থাকার নতুন প্রমাণ ~ কোয়ান্টাম জগতের সবচেয়ে বিস্ময়কর ধার...