এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫

সরকারি/বেসরকারি চাকরিতে ভাইভা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয় নিচের ৭৭ টি প্রশ্নঃ 

 ✅ সরকারি/বেসরকারি চাকরিতে ভাইভা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয় নিচের ৭৭ টি প্রশ্নঃ 


ভাইভা বোর্ডে যাঁরা থাকেন, তাঁরা কিন্তু নানাভাবে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই আপনাকে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেবেন। 


একজন চাকরিপ্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি তাঁর স্মার্টনেস, উপস্থাপন কৌশল, বাচনভঙ্গি এসব বিষয়ও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। 


ভাইভা বোর্ডে ঢুকেই অনেকে নিজের অজান্তে প্রথমেই নিজেকে অযোগ্য প্রমাণ করে বসেন। 


নিয়োগদাতারা তেমন কোনো প্রশ্ন না করেই বা সৌজন্যতার খাতিরে দু-একটি প্রশ্ন করেই বিদায় করে দেন। এ রকম পরিস্থিতি এড়াতে ও নিজেকে যোগ্য করে উপস্থাপন করার জন্য কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়; এখন আসি সরকারি এবং বেসরকারি  চাকরির ভাইভাতে সাধারণত ফ্রেশার এবং চাকরির পূর্ব অভিজ্ঞদের যেসকল প্রশ্ন করা হয় সে প্রসঙ্গেঃ

ভাইবা বোর্ডে যে প্রশ্নগুলো প্রায়ই করা হয়:-

1. আপনার নাম কী?-

2. আপনার নামের অর্থ কী?-

3. এই নামের একজন বিখ্যাতব্যক্তির নাম বলুন?

4. আপনার জেলার নাম কী?-

5. আপনার জেলাটি বিখ্যাত কেন?-

6. আপনার জেলার একজন বিখ্যাত মুক্তিযোদ্ধার নাম বলুন?-

7. আপনার বয়স কত?-

8. আজ কত তারিখ?

9. আজ বাংলা কত তারিখ?-

10. আজ হিজরি তারিখ কত?-

11. আপনি কি কোনো দৈনিক পত্রিকা পড়েন?-

12. পত্রিকাটির সম্পাদকের নাম কী?

13. আপনার নিজের সম্পর্কে সমালোচনা করুন।

14. আপনার জেলার নাম কী? জেলা সম্পর্কে ১ মিনিট বলুন।

15. আপনার জেলার বিখ্যাত কিছু মানুষের নাম বলুন এবং তারা কী কারণে বিখ্যাত তা আলোচনা করুন।

16. আপনার বয়স, জন্ম তারিখ কত?

17. আপনি কি কোন দৈনিকপত্রিকা পড়েন? পড়লে সম্পাদকের নাম কি?

18.

19. আপনার পরিবার সম্পর্কে বলুন।

20. আমরা আপনাকে কেন চাকুরিটা দিব?

21. বিয়ে করেছেন? কেন করেছেন/করেননি? বিবাহ সম্পর্কে আপনার চিন্তাভাবনা কী?

22. আরো পড়াশুনা করার ইচ্ছা আছে কি? কেন নেই ইচ্ছা?

23. এর আগে কোথায় জব করেছেন? সেখানে কী ধরনের কাজ করেছেন? সে জবটি কেন ছেড়ে দিতে হলো?

24. আপনার নিজের সম্পর্কে (ইংরেজিতে/বাংলাতে) বলুন?

25. আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে বলুন?

26. আপনার নিজের  Strength / Weakness (SWOT: S-Strength ,W-Weakness, O-Opportunity, T-Threat) কী কী বলে মনে করেন?

27. একটি শব্দে/তিনটি শব্দে আপনি নিজেকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

28. যে পদের জন্য আবেদন করেছেন তাঁকে অন্যগুলোর সঙ্গে কীভাবে তুলনা করবেন?

29. আপনার তিনটি গুণ ও দুর্বলতার কথা কি বলতে পারেন?

30. বর্তমান চাকুরীটি কেন ছেড়ে দিতে চান ?

31. ক্যারিয়ারের কোন বিষয়টি নিয়ে আপনি গর্ব করবেন?

32. কোন ধরনের বস ও সহকর্মীদের সাথে কাজ করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন সফল হয়েছেন? কেন?

33. একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে চিন্তা করেছিলেন?

34. যেকোনো ১ টি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর সুযোগ পেলে আপনি কোথায় চাকুরী করতেন?

35. আগামীকাল কোটি টাকা হাতে পেয়ে গেলে আপনি কী করবেন?

36. আপনার বস অথবা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্বারা কি কখনো সততা বিসর্জনের প্রস্তাব পেয়েছেন?

37. আপনার সঙ্গে কাজ করতে না চাওয়ার ১ টি কারণ বলতে পারেন?

38. এতদিন কাজ থেকে দূরে ছিলেন কেন?

39. এই ইন্টার্ভিউয়ের জন্য কীভাবে সময় পেলেন?

40. একটি সমস্যার কথা বলুন যার সমাধান আপনি নিজে করেছেন?

41. আপনি নেতৃত্ব দিয়েছেন বা দলগতভাবে কাজ করেছেন এমন একটি অবস্থার বর্ণনা দিন?

42. আগামী ৫-১০ বছরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

43. আপনাকে আমাদের কেন নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন?

44. আমাদের কোম্পানিতেই কেন কাজ করতে চান?

45. হার্ড ওয়ার্ক এবং স্মার্ট ওয়ার্ক বলতে কী বুঝেন?

46. চাপের মধ্যে কাজ করা (Work under Pressure) বলতে কী বুঝেন?

47. ভ্রমন করাকে কিভাবে দেখছেন? প্রয়োজনে ভ্রমন বা ট্রান্সফার হওয়াকে কীভাবে গ্রহণ করবেন?

48. আপনার জীবনের লক্ষ্য কী?

49. কী আপনাকে রাগিয়ে তোলে?

50. কি আপনাকে প্রেরণা (Motivation) যোগায়?

51. আপনার জীবনের করা কিছু ক্রিয়েটিভ কাজের উদাহরণ দিন?

52. আপনি কি একা কাজ করতে পছন্দ করেন নাকি দলকে সাথে নিয়ে কাজ করা কে বেশি গুরুত্ব দেন?

53. আপনার করা কিছু দলগত কাজের উদাহরণ দিন?

54. লিডার হিসেবে নিজেকে আপনি ১ থেকে ১০ এর মাঝে কত দিবেন?

55. রিস্ক নিতে কি পছন্দ করেন?

56. আপনার পছন্দের কিছু চাকরি, অফিস লোকেশান এবং কোম্পানির উদাহরণ দিন? ৩২। আমাদের কোম্পানি সম্পর্কে কিছু বলুন?

57. আজ থেকে দশ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান নিজেকে?

58. আপনার আগের কোম্পানি থেকে কেনো চাকরি ছেড়ে দিতে (Resign) দিতে চাচ্ছেন?

59. কাজ থেকে কেনো অনেক দিন বাহিরে ছিলেন?

60. অনেকগুলি কোম্পানি কেনো পরপর পরিবর্তন করেছেন?

61. আপনার করা সবচেয়ে বিরক্তিকর কাজ কী ছিলো?

62. সবচেয়ে কঠিন যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করেছিলেন তা কি ছিলো?

63. আপনাকে যদি আমরা নিয়োগ দেই কী কী পরিবর্তন আপনি আনতে পারবেন বলে মনে করছেন?

64. আপনার কি মনে হয় যে আপনি আপনার আগের কাজে আপনার সর্বোচ্চটা দিয়েছিলেন?

65. আপনার চেয়ে বয়সে ছোট কাউকে রিপোর্ট করাকে কীভাবে দেখবেন আপনি? ৪২। আপনি কি আপনাকে সফল মনে করেন?

66. আপনার জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য বিগত বছরে কি কি করেছেন?

67. আর কোথায় কোথায় চাকরির জন্য আবেদন করেছেন?

68. আমাদের কোম্পানির কারো সাথে কি পরিচয় আছে?

69. আপনাকে যদি নিয়োগ দেওয়া হয় কত দিন আমাদের সাথে কাজ করার ইচ্ছে আছে?

70. আপনি কি কাউকে কখনো চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছেন? কেন করেছিলেন, কি পন্থা অবলম্বন করে করেছিলেন? তখন আপনার প্রতিক্রিয়া কী ছিলো?

71. ব্যখ্যা করুন আপনি কীভাবে আমাদের জন্য মূল্যবান সম্পদ হবেন?

72. আপনার দেওয়া কোন সাজেশন ম্যানেজমেন্ট গ্রহন করেছে এমন একটি উদাহরণ দিন?

73. আপনার কলিগদের আপনার সম্পর্কে কী মন্তব্য?

74. নতুন টেকনোলজিকে কীভাবে গ্রহন করছেন আপনি? কী কী সফটওয়্যার এর সাথে আপনি পরিচিত?

75. আপনার শখ কী বা কী করতে ভালো লাগে?

76. আপনার নিজের জ্ঞান সম্পর্কে বলুন?

77. আপনি কে?


সংগৃহীত ও সংশোধিত তথ্য

সত্যি কি বিজ্ঞানীরা সিসা (Lead, Pb) থেকে সোনা (Gold, Au) তৈরি করেছেন? ইতিহাসে নতুন অধ্যায়! 

 🌟 সত্যি কি বিজ্ঞানীরা সিসা (Lead, Pb) থেকে সোনা (Gold, Au) তৈরি করেছেন? ইতিহাসে নতুন অধ্যায়! 🌟


চলুন এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তথ্য জেনে নেই, লিখা আর ছবি যদি আপনাদের পছন্দ হয় তাহলে রসায়ন এর সাথে থাকবেন। 


বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত আমাদের চমকে দিচ্ছে। যে বিষয়গুলো একসময় কেবল রূপকথা কিংবা অলৌকিক গল্প মনে হতো, আজ সেগুলো বিজ্ঞানীদের গবেষণাগারে বাস্তব হয়ে উঠছে। সম্প্রতি এমনই এক চমকপ্রদ খবর ভাইরাল হয়েছে—"বিজ্ঞানীরা সিসা (lead) থেকে সোনা (gold) তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন!"


প্রথমে শুনলে মনে হতে পারে এটি কোনও ভুয়া খবর, কিংবা মধ্যযুগীয় আলকেমিস্টদের (alchemists) পুরনো স্বপ্নের আধুনিক সংস্করণ। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে—এটি সত্যি ঘটনা। চলুন আজ এই অসাধারণ ঘটনার পেছনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, বাস্তবতা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে একটু গভীরভাবে জানি।


🔬 আলকেমি থেকে আধুনিক বিজ্ঞান: সোনা তৈরির শতাব্দী প্রাচীন স্বপ্ন


মানব ইতিহাসে বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সভ্যতার দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করে এসেছেন এক ধাতুকে অন্য ধাতুতে রূপান্তর করতে। বিশেষ করে সিসা থেকে সোনা তৈরির চিন্তা ছিলো আলকেমির মূল আকর্ষণ। তারা বিশ্বাস করতেন, প্রকৃত “ফিলোসোফার্স স্টোন” থাকলে যেকোনো সাধারণ ধাতুকে সোনায় রূপান্তর করা সম্ভব।


তবে, বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় এটি তখন ছিল অসম্ভব। আজ আমরা জানি, এক ধাতুকে আরেক ধাতুতে রূপান্তর করতে হলে তার পারমাণবিক গঠন পরিবর্তন করতে হয়। এটি শুধুমাত্র পারমাণবিক স্তরে ঘটানো সম্ভব, যা কেবল আধুনিক পদার্থবিদ্যার মাধ্যমে করা যায়।


⚛️ আসলে কীভাবে সিসা থেকে সোনা তৈরি হয়?


সোনা (Au) এবং সিসা (Pb) দুটিই ভারী ধাতু, কিন্তু তাদের পরমাণু সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। সোনার পারমাণু সংখ্যা ৭৯, আর সিসার ৮২। অর্থাৎ, সিসার নিউক্লিয়াস থেকে তিনটি প্রোটন সরিয়ে ফেললে তা সোনায় রূপান্তরিত হতে পারে।


এই ধরনের রূপান্তর সাধন করতে হলে উচ্চ শক্তির পারমাণবিক বিক্রিয়া (nuclear reaction) ব্যবহার করতে হয়, যেমন পার্টিকেল অ্যাকসেলারেটরের মাধ্যমে নিউক্লিয়াসে আঘাত করা। এতে করে সিসার নিউক্লিয়াস ভেঙে যায়, এবং নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণে থাকলে তা সোনার পরমাণুতে রূপান্তরিত হতে পারে।


এই গবেষণাটি মূলত "নিউক্লিয়ার ট্রান্সমিউটেশন" নামে পরিচিত, যা মূলত এক মৌলকে অন্য মৌলে রূপান্তর করার একটি বৈজ্ঞানিক কৌশল।


💰 তাহলে কি এখন সবাই সোনা তৈরি করতে পারবে?


প্রযুক্তিগতভাবে হ্যাঁ, কিন্তু বাস্তবিকভাবে না। কারণ এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল এবং ধীর। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা পারমাণবিক বিক্রিয়া ব্যবহার করে কয়েকটি সোনার পরমাণু তৈরি করেছিলেন। তবে এতে যে খরচ হয়েছিল, তা উৎপন্ন সোনার মূল্য থেকে হাজার গুণ বেশি।


সাম্প্রতিক গবেষণাগুলিতেও দেখা গেছে, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রচুর শক্তি ব্যয় করেও এই রূপান্তরের স্কেল অত্যন্ত ক্ষুদ্র। এটি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয়। ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রযুক্তি সহজলভ্য হবে—এমনটি এখনও কল্পনার বিষয়।


📉 সোনার বাজারে এর প্রভাব কী হবে?


এই ধরনের গবেষণা এখনো ল্যাবভিত্তিক এবং ক্ষুদ্র পরিসরে সীমাবদ্ধ। তাই সোনার বাজারে তাৎক্ষণিক কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতি যেহেতু দিন দিন বাড়ছে, ভবিষ্যতে হয়তো আরও উন্নত, দক্ষ ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি আসবে, যা সোনার প্রাপ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে।


যদিও সেটা অনেক দূরের ভবিষ্যৎ, কিন্তু এই মুহূর্তে এটি একটি বৈজ্ঞানিক কৌতূহল এবং গবেষণার জগতের জন্য বিশাল অগ্রগতি।


🌍 মানব সভ্যতার অগ্রগতির পথে আরেকটি মাইলফলক


সিসা থেকে সোনা তৈরি করা হয়তো এখনও গণউৎপাদনের পথে যায়নি, কিন্তু এটি বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব হয়েছে—এই বাস্তবতাই মানুষের কল্পনাশক্তি, অধ্যবসায়, এবং প্রযুক্তির শক্তির এক অনন্য উদাহরণ।


এটি প্রমাণ করে, আমরা যদি চিন্তা করি, গবেষণা করি এবং সহনশীলভাবে কাজ করে যাই, তবে একদিন "অসম্ভব" শব্দটা বিজ্ঞান অভিধান থেকে হারিয়ে যাবে।


🧠 শেষ কথা: বিজ্ঞানের জয়যাত্রা চলছে...


আজকের দিনে এই খবর হয়তো শখের বা কৌতূহলের বিষয় মনে হতে পারে। কিন্তু এই একেকটি আবিষ্কারই আগামী দিনের প্রযুক্তি ও সমাজের ভিত্তি গড়ে তুলছে। সিসা থেকে সোনা তৈরি করা হয়তো এখনও কেবল পরীক্ষাগারে সম্ভব, কিন্তু এটি প্রমাণ করে দিয়েছে—বিজ্ঞান সত্যিই অলৌকিক!


তাই আসুন, আমরা সবাই বিজ্ঞানের এই অসাধারণ অগ্রগতিকে স্বাগত জানাই।


Reference 

https://www.nature.com/articles/d41586-025-01484-3


অসংখ্য ধন্যবাদ লেখাটি পড়ার জন্য!

মধ্যযুগের আলকেমিস্টরা আজীবন স্বপ্ন দেখতেন—সিসাকে বা অন্যান্য ধাতুকে সোনায় রূপান্তর করা এবং অমরত্বের ওষুধ তৈরি করা। যদিও সিসা (Lead) ও সোনা (Gold) একেবারে আলাদা মৌলিক পদার্থ, পার্থক্য মাত্র নিউক্লিয়াসের তিনটি প্রোটন। সোজা বাংলায়, সিসা থেকে যদি ঠিক তিনটি প্রোটন সরানো যায়, তাহলেই তা সোনায় পরিণত হবে। কিন্তু এটা শুনতে যতটা সহজ করা ততটাই কঠিন।

 মধ্যযুগের আলকেমিস্টরা আজীবন স্বপ্ন দেখতেন—সিসাকে বা অন্যান্য ধাতুকে সোনায় রূপান্তর করা এবং অমরত্বের ওষুধ তৈরি করা। যদিও সিসা (Lead) ও সোনা (Gold) একেবারে আলাদা মৌলিক পদার্থ, পার্থক্য মাত্র নিউক্লিয়াসের তিনটি প্রোটন। সোজা বাংলায়, সিসা থেকে যদি ঠিক তিনটি প্রোটন সরানো যায়, তাহলেই তা সোনায় পরিণত হবে। কিন্তু এটা শুনতে যতটা সহজ করা ততটাই কঠিন।


এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে Large Hadron Collider (LHC)-এ চলমান ALICE নামের এক গবেষণা প্রকল্প। যারা LHC-র নাম প্রথম শুনছেন তাদের বলে রাখি, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পার্টিকেল অ্যাক্সেলারেটর, যেটা সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত। এখানে কণাগুলোকে প্রায় আলোর গতিতে একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঠানো হয়।


গবেষকদের লক্ষ্য ছিল এর ভেতরে বিগ ব্যাং-এর মতো একটি অবস্থা তৈরি করা। এজন্য তারা সিসার পরমাণু একে অপরের দিকে ছুড়ে দেন, প্রায় আলোর গতিতে। এই সংঘর্ষে নিউক্লিয়াসগুলো তীব্র শক্তির মুখোমুখি হয়। সাধারণত এতে পরমাণু ধ্বংস হয়ে যায়, কিন্তু কখনো কখনো ঘটে ‘near miss’ অর্থাৎ উক্লিয়াসগুলো খুব কাছ দিয়ে চলে যায়, ধাক্কা না খেয়ে।


তখন কেবল ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বল কাজ করে এবং তৈরি হয় এক ভয়াবহ ইলেকট্রিক ফিল্ড। এই শক্তিশালী ফিল্ড সিসার নিউক্লিয়াস কাঁপিয়ে তোলে, ফলে মাঝে মাঝে তা কিছু প্রোটন ছুড়ে ফেলে। যদি কোনো নিউক্লিয়াস ঠিক তিনটি প্রোটন হারায়, তাহলে সেটি আর সিসা থাকে না—সেটা পরিণত হয় সোনায়।


গবেষকরা বিশেষ ডিটেক্টরের সাহায্যে দেখেছেন, প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮৯,০০০টি সোনার পরমাণু তৈরি হচ্ছে! যদিও এগুলোর মোট ওজন মাত্র ২৯ ট্রিলিয়ন ভাগের এক গ্রাম এবং এই সোনার অস্তিত্ব ছিল খুবই ক্ষুদ্র সময়ের জন্য, পরবর্তীতে সেটা ধ্বংস হয়ে যায়।


কয়েকশো বছর আগে আলকেমিস্টদের যেটা ছিল কল্পনা, আজ তা বিজ্ঞানের হাত ধরে বাস্তব হয়েছে। এটি তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এমন ছোট ছোট পর্যবেক্ষণই ভবিষ্যতের বড় গবেষণার ভিত্তি গড়ে তোলে। Compiled by: বিজ্ঞান্বেষী

#Bigganneshi #schoolofsciencelab #hilightseveryonefollowers #Metaquest3 #science #socialmediasupport

নিচে ৬টি সুস্বাদু ও সহজ বিস্কুট তৈরির রেসিপি দেওয়া হলো:

 নিচে ৬টি সুস্বাদু ও সহজ বিস্কুট তৈরির রেসিপি দেওয়া হলো:


---

১. বাটার বিস্কুট:


👉 উপকরণ:


* ময়দা – ২ কাপ

* মাখন – ১ কাপ (নرم)

* চিনি – ১ কাপ (গুঁড়া)

* ভ্যানিলা এসেন্স – ১ চা চামচ


👉 প্রণালী:

১. মাখন ও চিনি ভালো করে বিট করুন।

২. ময়দা ও ভ্যানিলা এসেন্স মিশিয়ে ময়ান তৈরি করুন।

৩. ছোট ছোট বল বানিয়ে চেপে বিস্কুটের আকার দিন।

৪. ১৮০°C তাপে ওভেনে ১৫-২০ মিনিট বেক করুন।


---

২. কোকোনাট বিস্কুট


👉 উপকরণ:


* ময়দা – ১ কাপ

* কোরানো নারকেল – ১ কাপ

* চিনি – ৩/৪ কাপ

* ডিম – ১টি

* মাখন – ১/২ কাপ


👉 প্রণালী:

১. সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।

২. চামচ দিয়ে মিশ্রণ নিয়ে বেকিং ট্রেতে দিন।

৩. ১৮০°C তাপে ১৫ মিনিট বেক করুন।


---

৩. চকলেট চিপ বিস্কুট


👉 উপকরণ:


* ময়দা – ২ কাপ

* মাখন – ১ কাপ

* চিনি – ১ কাপ

* ডিম – ২টি

* চকলেট চিপ – ১ কাপ

* বেকিং পাউডার – ১ চা চামচ


👉 প্রণালী:

১. মাখন, চিনি ও ডিম বিট করুন।

২. ময়দা ও বেকিং পাউডার মিশিয়ে দিন।

৩. চকলেট চিপ মেশান।

৪. ওভেনে ১৮০°C তাপে ১৫-১৮ মিনিট বেক করুন।


---

৪. চায়ের বিস্কুট (টি বিস্কুট)


👉 উপকরণ:


* ময়দা – ১.৫ কাপ

* চিনি – ১/২ কাপ

* গুঁড়ো দুধ – ১/৪ কাপ

* মাখন – ১/২ কাপ

* বেকিং পাউডার – ১ চা চামচ


👉 প্রণালী:

১. সব উপকরণ মিশিয়ে ময়ান তৈরি করুন।

২. বেকিং ট্রেতে সাজিয়ে ওভেনে ১৫ মিনিট বেক করুন।


---

৫. বেসন বিস্কুট


👉 উপকরণ:


* বেসন – ১ কাপ

* চিনি – ১/২ কাপ

* ঘি – ১/২ কাপ

* এলাচ গুঁড়া – ১ চিমটি


👉 প্রণালী:

১. বেসন হালকা ভেজে নিন।

২. ঘি ও চিনি মিশিয়ে বেসনের সঙ্গে ময়ান বানান।

৩. ছোট করে গড়ে ওভেনে ১৫-২০ মিনিট বেক করুন।


---

৬. ওটস বিস্কুট


👉 উপকরণ:


* ওটস – ১ কাপ

* ময়দা – ১/২ কাপ

* বাদাম কুচি – ১/২ কাপ

* মাখন – ১/২ কাপ

* মধু – ১/৩ কাপ


👉 প্রণালী:

১. সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে ময়ান তৈরি করুন।

২. চামচ দিয়ে অল্প অল্প করে ট্রেতে দিন।

৩. ১৭৫°C তাপে ১৫ মিনিট বেক করুন।

লাখ টাকা ইনবেস্ট করে স্ট্রিট ফুড ব্যবসা করুণ: পরিশ্রম আপনাকে সফলতা এনে দিবেই! এটুজেট পরিকল্পনা

 লাখ টাকা ইনবেস্ট করে স্ট্রিট ফুড ব্যবসা করুণ: পরিশ্রম আপনাকে সফলতা এনে দিবেই! এটুজেট পরিকল্পনা


স্ট্রিট ফুড ব্যবসা বাংলাদেশসহ অনেক দেশে একটি লাভজনক ও জনপ্রিয় উদ্যোগ। নিচে স্টেপ বাই স্টেপ একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড দেওয়া হলো:

স্ট্রিট ফুড ব্যবসা শুরু করার স্টেপ বাই স্টেপ গাইড

Step 1: বাজার গবেষণা করুন


আপনার এলাকায় কোন ধরণের স্ট্রিট ফুড বেশি জনপ্রিয় তা খুঁজে বের করুন।

প্রতিযোগীদের পর্যবেক্ষণ করুন—তারা কী বিক্রি করছে, দাম কেমন, কাস্টমারদের প্রতিক্রিয়া কেমন।

লক্ষ্য নির্ধারণ করুন—স্কুল, কলেজ, অফিস এরিয়া, বাসস্ট্যান্ড, পর্যটন এলাকা ইত্যাদি।


Step 2: একটি নির্দিষ্ট ফুড আইটেম ঠিক করুন


ভাজাপোড়া (সিঙ্গারা, সমুচা, পুরি)

ফাস্টফুড (বুরগার, স্যান্ডউইচ, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই)

ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি

হেলদি অপশন (ফ্রুট সালাদ, জুস)

লোকাল বা ফিউশন আইটেম (তন্দুরি চা, পান্তা-মাছ ভাজা)


Step 3: ব্যবসার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করুন

দৈনিক কতজন ক্রেতা পাবেন তার ধারণা নিন।

কত টাকায় মালামাল কিনবেন ও কত টাকায় বিক্রি করবেন তা হিসাব করুন।

একটি ক্ষুদ্র ব্যবসার বাজেট তৈরি করুন (১০,০০০–৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি)।


Step 4: প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন সংগ্রহ করুন

সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার কাছ থেকে অনুমতি নিন।

ভ্রাম্যমাণ ব্যবসার জন্য ট্রাফিক পুলিশের অনুমতিও লাগতে পারে।


Step 5: উপযুক্ত ভেন্যু ও ভ্যান/স্টল প্রস্তুত করুন

একটি মোবাইল ভ্যান বা হাইজিনিক ছোট স্টল কিনুন/ভাড়া নিন।

স্টলটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয়ভাবে সাজান।

পরিষ্কার পানি, হ্যান্ডগ্লাভস, টিস্যু, ফুড কভার রাখুন।


Step 6: কাঁচামাল ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করুন

প্রতিদিন ফ্রেশ কাঁচামাল কিনুন।

কুকিং পট, গ্যাস সিলিন্ডার/চুলা, ছুরি, প্লেট, কাপ, ফয়েল, ফুড গ্রেড কনটেইনার কিনুন।


Step 7: দক্ষতা অর্জন করুন

যদি নিজের রান্নার দক্ষতা কম হয়, তবে কেউকে নিয়োগ করুন বা রান্না শেখার ট্রেনিং নিন।

ফুড হাইজিন ও কাস্টমার সার্ভিস বিষয়ে জ্ঞান নিন।

Step 8: ট্রায়াল রান দিন

১–২ দিন বন্ধুবান্ধব বা ছোট এলাকায় ট্রায়াল দিন।

ফিডব্যাক নিয়ে মেনু ও দাম ঠিক করুন।


Step 9: ব্যবসা শুরু করুন

উপযুক্ত সময় (সকাল বা সন্ধ্যা) নির্ধারণ করুন।

দিনে কত বেলা বিক্রি করবেন তা ঠিক করুন।

বিকাশ/নগদ বা ক্যাশ রিসিভ করার ব্যবস্থা রাখুন।]


Step 10: প্রচার ও মার্কেটিং করুন

ফেসবুক পেজ খুলুন, লাইভ ভিডিও দিন।

প্রথম দিকে অফার দিন (যেমন: “৩ টা সিঙ্গারার সাথে ১ টা ফ্রি!”)

ইউনিফর্ম বা ব্র্যান্ডিং থাকলে ব্যবসার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।


টিপস:

নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন—ক্রেতারা এটি খুব গুরুত্ব দেয়।

ভালো ব্যবহার ও হাসিমুখে সার্ভ করুন।

ক্রেতার মতামত নিন ও প্রয়োজনে পরিবর্তন আনুন।

ধৈর্য রাখুন—প্রথম দিকে লাভ কম হলেও পরিচিতি বাড়লে আয়ও বাড়বে।

পায়খানার (মলত্যাগের) সময় রক্ত যাওয়া একেবারে অবহেলা করার মতো বিষয় নয়। 

 পায়খানার (মলত্যাগের) সময় রক্ত যাওয়া একেবারে অবহেলা করার মতো বিষয় নয়। এটি অনেক কারণেই হতে পারে — কিছু হালকা ও স্বাভাবিক, আবার কিছু গুরুতর রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে। নিচে সম্ভাব্য কারণগুলো ব্যাখ্যা করা হলো:


🔍 পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়ার সাধারণ কারণসমূহ:

1. পাইলস (অর্শ/গাঁট) – Hemorrhoids

এটি সবচেয়ে সাধারণ কারণ।


মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রক্ত পড়ে (সাথে ব্যথা নাও থাকতে পারে বা হালকা জ্বালাপোড়া হতে পারে)।


সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য বা অতিরিক্ত চাপ দিলে হয়।


2. ফিশার (Anal Fissure)

পায়ুপথে ফেটে যাওয়া বা ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে হয়।


সাধারণত শক্ত মল বা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে হয়।


তীক্ষ্ণ ব্যথা ও মলের পরে কিছু উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যায়।


3. পলিপস (Colon Polyps)

এটি অন্ত্রে ছোট ছোট টিউমারের মতো গঠন, যা কখনো রক্তপাত করতে পারে।


অনেক সময় কোনো ব্যথা ছাড়াই রক্ত যায়।


4. আন্ত্রিক ইনফেকশন / আমাশয় (Dysentery)

তরল বা পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত ও মিউকাস থাকে।


পেট ব্যথা, জ্বর বা বমি বমি ভাব থাকতে পারে।


ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা পরজীবীর কারণে হয়।


5. আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ক্রনস ডিজিজ (IBD - Inflammatory Bowel Disease)

অন্ত্রে প্রদাহজনিত রোগ।


দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া, রক্ত-মিউকাস মেশানো পায়খানা হয়।


6. কোলোরেক্টাল ক্যান্সার (Colon/Rectal Cancer)

বিশেষ করে ৪০ বছরের পরে যদি রক্ত যায়, তাহলে অবশ্যই সতর্ক হওয়া জরুরি।


ওজন হ্রাস, অজানা ক্লান্তি, পায়খানার ধরণে পরিবর্তন থাকলে ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন।


7. ডাইভার্টিকুলোসিস

অন্ত্রে ছোট ছোট থলির মতো গঠন হয়, সেগুলো ছিঁড়ে গেলে রক্তপাত হতে পারে।


❗ কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন:

বারবার রক্ত যাচ্ছে।


পায়খানার ধরণ পরিবর্তন হয়েছে (পাতলা, কালো বা রক্তাক্ত)।


পেটে ব্যথা, দুর্বলতা, জ্বর, ওজন কমে যাওয়া বা ক্ষুধামান্দ্য আছে।


বয়স যদি ৪০ বা তার বেশি হয় এবং আগে এমন সমস্যা না থাকে।


🩺 কী ধরনের টেস্ট লাগতে পারে:

Proctoscopy / Colonoscopy — পায়ুপথ বা অন্ত্রের ভিতর দেখা।


Stool test — ইনফেকশন আছে কি না জানতে।


CBC (Complete Blood Count) — রক্তশূন্যতা হয়েছে কি না দেখতে।


Ultrasound বা CT scan — কোনো গঠনগত সমস্যা আছে কি না দেখতে।


✅ করণীয়:

কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ান – পানি, ফাইবারযুক্ত খাবার বেশি খান।


পায়খানায় চাপ দেওয়া বন্ধ করুন।


রক্ত গেলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিন — ১-২ বার হলেও ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

টাকা পয়সার সিক্রেট কি আসলে? মানুষ ধনী বা বড়লোক কিভাবে হয়? তারা কি এমন কিছু জানে যা বাকিরা জানেনা?

 টাকা পয়সার সিক্রেট কি আসলে? মানুষ ধনী বা বড়লোক কিভাবে হয়? তারা কি এমন কিছু জানে যা বাকিরা জানেনা?


ধনী হতে চাইলে কিছু কঠিন সত্য বুঝতে হবে।

এগুলো গল্প না, ফর্মুলা না, বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বের করা একেকটা সত্য।


অনেকে মনে করেন, ধনীরা হয়তো হঠাৎ করেই ভাগ্যবান হয়ে উঠেছে। টাকাপয়সা নাকি নিজেরাই এসে ধরা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা একদমই আলাদা।

আসলে তারা এমন কিছু নিয়ম মেনে চলে, যেগুলো বেশিরভাগ মানুষ জানেই না। আর জানলেও গুরুত্ব দেয় না। কারণ সেগুলো সহজ না, কিন্তু ফলাফল অসাধারণ।


এই কথাগুলো শুধুমাত্র তাদের জন্য, যারা আসলেই নিজের জীবন পাল্টাতে চান। যারা আর পুরনো জীবনটাকেই মেনে নিতে রাজি নন। যারা নিজের পাশাপাশি নিজের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তা করেন।


নিচে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট শেয়ার করছি। এগুলো শুধু পড়লেই হবে না, বিশ্বাস করতে হবে এবং ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

একবার মনের মধ্যে গেঁথে গেলে, ১২ মাসও লাগবে না, নিজের উন্নতি চোখে পড়বে..


১. সময়ের বদলে মূল্য তৈরি করেন।

একজন সাধারণ মানুষ তার সময় বিক্রি করে আয় করেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা কাজ করেই আয় আসে।

কিন্তু যারা ধনী হয়েছেন, তারা এমন কিছু তৈরি করেছেন, যেটা তাদের উপস্থিতি ছাড়াও ইনকাম এনে দেয়। ব্যবসা, ডিজিটাল প্রডাক্ট, ইনভেস্টমেন্ট, এই জিনিসগুলোই তাদের “সময়” কে বাড়িয়ে দিয়েছে।


২. ঋণ নিজে খারাপ না, কিভাবে ব্যবহার করা হয় সেটাই আসল ব্যাপার।

বুদ্ধিমান মানুষ ঋণ নিয়ে সম্পদ তৈরি করেন যেমন বাড়ি, ব্যবসা, জমি ইত্যাদি।

আর অনেকেই ঋণ নিয়ে কেনেন দামি ফোন, গ্যাজেট, শখের জিনিস, যেগুলো এক টাকাও ফেরত আনে না।

একটা কথা মনে রাখুন, যেকোনো ঋণ যদি আপনার আয় বাড়াতে সাহায্য না করে, তাহলে সেটা আসলে একটা বোঝা।


৩. চাকরি নিরাপত্তা দিতে পারে, কিন্তু স্বাধীনতা দিতে পারে না।

অনেক ধনী ব্যক্তি শুরু করেছেন চাকরি দিয়ে, কিন্তু সেখানকার ইনকামকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন নিজেদের সিস্টেম।

অন্যদিকে কেউ কেউ একই ইনকাম শুধু খরচ করে ফেলেছেন।

স্বপ্ন যদি থাকে বড় কিছু গড়ার, তাহলে নিজের কিছু একটা শুরু করতেই হবে, ছোট হোক, ধীরে হোক, কিন্তু শুরুটা জরুরি।


৪. যাদের সঙ্গে সময় কাটান, তারাই আপনাকে গড়ে তোলে বা ভেঙে দেয়।

নেগেটিভ চিন্তাভাবনার মানুষের সাথে থেকে কেউ কখনো সামনে এগোতে পারেননি।

একজন মানুষ হিসেবে আপনি যাদের সাথে সময় কাটান, তাদের চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, উদ্যম, সবই আপনার মধ্যে প্রভাব ফেলে।

নিজেকে এমন মানুষের মাঝে রাখুন, যাদের কাছ থেকে শেখা যায়।


৫. প্রচারে নয়, প্রগতিতে বিশ্বাস রাখেন।

আসল সাফল্য যারা অর্জন করেন, তারা সোশাল মিডিয়ায় তা প্রচার করে বেড়ান না।

তারা নীরবে কাজ করেন, সম্পদ তৈরি করেন, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেন।

সারাক্ষণ কে কী বলছে সেটা না ভেবে, নিজের কাজেই মন দিন। ফলাফল এমনিতেই কথা বলবে।


৬. প্রতিদিন কিছু না কিছু শেখার চেষ্টা করেন।

আজকের দুনিয়ায় জ্ঞানই সবচেয়ে বড় পুঁজি।

যারা প্রতিনিয়ত শিখছেন, তারা প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছেন।

বই, কোর্স, ভিডিও, রিয়েল অভিজ্ঞতা, যেকোনো কিছু থেকেই শেখা সম্ভব।

যদি শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, তাহলে উন্নতির পথ নিজেই বন্ধ করে দিচ্ছেন।


৭. বিক্রি করার দক্ষতা না থাকলে, সফল হওয়াও কঠিন।

যে যা-ই করুন, পণ্য হোক, সার্ভিস হোক, নিজের স্কিল হোক সব ক্ষেত্রেই বিক্রি জানাটা জরুরি।

নিজের কথা, নিজের কাজ, নিজের প্রস্তাব ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারা মানে হচ্ছে সামনে সুযোগ তৈরি হওয়া।

সেলস মানে শুধু মার্কেটিং না, এটা আসলে কমিউনিকেশন যেটা আপনার ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে পারে।


এই বিষয়গুলো কোনো ম্যাজিক ট্রিক না, বরং বাস্তব জীবনের tested সত্য।

যত তাড়াতাড়ি এই জিনিসগুলো হৃদয়ে ধারণ করবেন, তত দ্রুত জীবন বদলাতে শুরু করবে।


#hasanshanth #entrepreneurmindset #richlife #howto #business #bd #knowledgesharing

শহরের জমি নেব, নাকি গ্রামের জমিতে বিনিয়োগ করব?

 বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট বাজারে একটি সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল:

"শহরের জমি নেব, নাকি গ্রামের জমিতে বিনিয়োগ করব?"

এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে আপনি কি উদ্দেশ্যে জমি কিনতে চাচ্ছেন – বাস করার জন্য, ভবিষ্যতে বিক্রি করে লাভ করার জন্য, নাকি কৃষিকাজ বা ব্যবসার জন্য।


চলুন শহর ও গ্রামের জমির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেখে নিই।


🌆 শহরের জমি – সুবিধা ও অসুবিধা

✅ সুবিধা:

বাজার মূল্য বেশি ও দ্রুত বাড়ে: ঢাকাসহ বড় শহরে জমির চাহিদা অনেক বেশি।


বাসা/বিল্ডিং তৈরি করে ভাড়া আয়ের সুযোগ।


সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধা: স্কুল, হাসপাতাল, মার্কেট সহজেই পাওয়া যায়।


❌ অসুবিধা:

প্রতি কাঠায় দাম অনেক বেশি।


জমি খুঁজে পাওয়া কঠিন, জটিল দলিল ও মালিকানা সমস্যা হতে পারে।


উচ্চ ট্যাক্স ও রেজিস্ট্রেশন ফি।


দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ দামে বিক্রি কঠিন, কারণ দাম অনেকটাই “স্যাচুরেটেড”।


🏞️ গ্রামের জমি – সুবিধা ও অসুবিধা

✅ সুবিধা:

মূল্য অনেক কম: অল্প টাকায় বেশি জায়গা পাওয়া যায়।


ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা (যদি রোড, শহর বা কারখানা আসে)।


কৃষি, রিসোর্ট, বা ভবিষ্যৎ প্লটিং প্রকল্পে ব্যবহারের সুযোগ।


স্বল্প খরচে হোল্ড করা যায় (ট্যাক্স, রক্ষণাবেক্ষণ কম)।


❌ অসুবিধা:

মূল্য বাড়তে সময় লাগে (অনেক ক্ষেত্রে ১০–১৫ বছর)।


অনেক সময় অবকাঠামো সুবিধা থাকে না (বিদ্যুৎ, পানি, রোড)।


দলিল ও দখল ঝামেলা থাকতে পারে, বিশেষ করে বড় পরিবারে মালিকানা বিভাজন থাকলে।


তৎক্ষণাৎ বিক্রি করে ক্যাশ রিটার্ন পাওয়া কঠিন।


📊 তুলনামূলক বিশ্লেষণ (সারাংশ টেবিল)

বিষয় শহরের জমি গ্রামের জমি

দাম বেশি কম

মূল্য বৃদ্ধির গতি দ্রুত (কিছু এলাকায় ধীর) ধীরে কিন্তু স্থায়ী (ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নির্ভর)

ব্যবহারিকতা বসবাস, ভাড়া, ব্যবসা কৃষি, রিসোর্ট, ভবিষ্যৎ প্লটিং

ঝুঁকি বেশি (চড়া দামে কিনে stuck হওয়া) কম (দামে নিচু, তবে সময় লাগে)

রিটার্ন টাইম মধ্যম থেকে স্বল্প মেয়াদ দীর্ঘমেয়াদি (৫-১৫ বছর)

দলিল ঝামেলা কম (ফ্ল্যাট কনসেপ্টে থাকে) বেশি (মালিকানা বিভাজন/অস্পষ্টতা)


🤔 আপনার জন্য কোনটা?

আপনি যদি —


এখনই থাকবেন বা ফ্ল্যাট করবেন


দ্রুত রিটার্ন চান

👉 তাহলে শহরের জমি উপযুক্ত।


আপনি যদি —


লং টার্মে বিনিয়োগ করতে চান


পরবর্তীতে লাভে বিক্রি করতে চান


পর্যাপ্ত সময় ও ধৈর্য রাখেন

👉 তাহলে গ্রামের জমি ভালো অপশন হতে পারে।


🔎 কিছু বাস্তবিক টিপস:

গ্রামের জমি কিনলে চেষ্টা করুন রোডসাইড, হাইওয়ে বা ভবিষ্যৎ প্রজেক্ট সংলগ্ন জায়গায় নিতে।


শহরের জমি হলে ডেভেলপার বা ফ্ল্যাট শেয়ার চুক্তির জন্য উপযুক্ত কিনা যাচাই করুন।


দুই ধরনের জমি মিক্সড ইনভেস্টমেন্ট করুন – একাংশ এখন, একাংশ ভবিষ্যতের জন্য।


🚀 সবশেষে বলা যেতে পারে,

"শহরের জমি তৎক্ষণাৎ লাভ দেয়, গ্রামের জমি ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়।"


আপনি কি জমি বা ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করছেন? 

👉 আপনার যদি নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্ন থাকে, আমাদের জানাতে পারেন। 😊

✅ ম্যাক্স রিয়েল এস্টেট

 📌 অফিস: শেখের জায়গা, নন্দিপাড়া, বাসাবো, খিলগাঁও, ঢাকা।

 ➡️ ই-মেইল: maxrealestatebd@gmail.com

 ➡️ মোবাইল: ০১৯১২-৯৩৩৬৩০, ০১৭৪০-৫২৬০৪৫

 🚀 বিস্তারিত জানতে আজই যোগাযোগ করুন!

#maxrealestate

লবণ যদি নষ্ট হয়ে যায়, কে করবে তার পরিশোধন?

 লবণ যদি নষ্ট হয়ে যায়, কে করবে তার পরিশোধন?


একজন তরুণ গ্রামের যুবক তাঁর সম্প্রদায়ের একজন শালীন, ধার্মিক ও সজ্জন মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের মাত্র এক বছর পার হয়েছে, হঠাৎ একদিন এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের সাথে তীব্র ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। রাগের বশে ঐ আত্মীয়কে মা*রধর করে ফেলেন।


গ্রামের রীতিনীতি অনুযায়ী, এর পর তাঁকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হয়। স্ত্রীকে সাথে নিয়ে তিনি দূরবর্তী এক অজানা অঞ্চলের গ্রামে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। নতুন পরিবেশে তিনি জীবন গুছিয়ে নিতে থাকেন।


প্রতিদিনের মতো তিনি গ্রামের মোড়লের আসরে যেতেন, গল্প করতেন, পরামর্শ নিতেন। একদিন, হঠাৎ মোড়ল তাঁর বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমবারের মতো তাঁর স্ত্রীকে দেখতে পান—একজন শালীন, রূপবতী ও গম্ভীর নারীর সম্মোহনী দৃশ্য।


ঐ মুহূর্তেই মোড়লের অন্তরে কামনা জেগে ওঠে। লালসার শিকারে পরিণত হয়ে, এক অশুভ পরিকল্পনা আঁটেন—কীভাবে যুবককে কিছুদিনের জন্য দূরে পাঠিয়ে, সুযোগ বুঝে তাঁর স্ত্রীকে নিজের করে নেওয়া যায়।


কয়েকদিন পর আসরে মোড়ল এক আলোচনা তুললেন:


"শুনেছি এক জায়গায় দারুণ চারণভূমি আছে। কিছু লোক পাঠিয়ে যাচাই করতে চাই।"


তিনি চারজন লোক বাছাই করলেন, যার মধ্যে যুবকও ছিল।


কয়েকদিনের যাত্রা নির্ধারিত হলো, আর তারা রওনা দিল।


রাতে, মোড়ল চুপিচুপি যুবকের বাড়ির দিকে এগোলেন। অন্ধকারে দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে শব্দ করে ফেলেন। স্ত্রীর ঘুম ভেঙে যায়।


ভয় পেয়ে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "কে ওখানে?"


মোড়ল নিজের পরিচয় দিলেন।


স্ত্রী বললেন, "এত রাতে? সব ঠিক আছে তো?"


মোড়ল নিজের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করলেন:


"তোমায় দেখার পর থেকে মনে শান্তি নেই। তোমায় চাই; আমাকে সঙ্গ দাও।"


মহিলাটি অত্যন্ত ধীরস্থির কণ্ঠে বললেন:


"ভালবাসা চাইলে ঠিক আছে, তবে আগে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। যদি ঠিক উত্তর দিতে পারেন, তবে আপনার ইচ্ছা পূর্ণ হবে।"


মোড়ল খুশি হয়ে বললেন, "বলুন!"


তিনি জিজ্ঞেস করলেন:


"যেমন মাংস নষ্ট না হয় বলে আমরা লবণ ব্যবহার করি, তবে যদি লবণ নিজেই নষ্ট হয়ে যায়… তাহলে কে তা পরিশোধন করবে?"


মোড়ল গভীর চিন্তায় ডুবে গেলেন।


একদিন, একরাত পেরিয়ে গেল, কিন্তু তিনি কোনো উত্তর খুঁজে পেলেন না।


পরদিন আসরে তিনি সকলকে প্রশ্নটি করলেন, কিন্তু কারো কাছ থেকেই সন্তোষজনক উত্তর এল না।


এক কোণে বসে থাকা এক বৃদ্ধ নীরবে তাকিয়ে ছিলেন।


মোড়ল তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন,


"আপনি কিছু বলছেন না কেন?"


বৃদ্ধ উত্তর দিলেন:


"কারণ, এটা কেবল একটা প্রশ্ন নয়; এটা যুগের যুগের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে আসা একটি বার্তা।


তিনি আপনাকে অপমান করতে পারতেন, কিন্তু অপমানের বদলে আপনার বিবেক জাগিয়ে দিলেন।"


তারপর তিনি ব্যাখ্যা করলেন:


"মাংস নষ্ট হলে লবণ তা রক্ষা করে। কিন্তু যদি লবণ নিজেই পচে যায়, তবে তাকে কে রক্ষা করবে?


অর্থাৎ,


সাধারণ মানুষ ভুল করলে নেতারা তাদের সঠিক পথে ফেরান, কিন্তু যদি নেতা নিজেই বিপথগামী হয়, তবে জাতিকে কে রক্ষা করবে?"


মোড়ল লজ্জায় মাথা নিচু করলেন, চোখ ভরে এল অশ্রুতে।


যদি পিতা বিপথে যায়—কে সন্তানের পথ দেখাবে?

যদি শিক্ষক পথ হারায়—কে জ্ঞানের আলো ছড়াবে?

যদি নেতা পথভ্রষ্ট হয়—কে জাতিকে রক্ষা করবে?


স্মরণ রাখো—

জ্ঞানীদের সঙ্গ গ্রহণ করো।

মূর্খদের সঙ্গ কেবল হৃদয় নষ্ট করে না,

পুরো প্রজন্মকেও ধ্বংস করে দেয়।

এর আগে জাপানিজদের সম্পর্কে কোথাও লিখেছিলাম যে, এরা যা করে অনেক ডেডিকেশন ও নিষ্ঠার সাথে করে,,,,,

 এর আগে জাপানিজদের সম্পর্কে কোথাও লিখেছিলাম যে, এরা যা করে অনেক ডেডিকেশন ও নিষ্ঠার সাথে করে। ধরেন যিনি একটা মাটির পট বানাচ্ছে সে খুব ধীরস্থির ভাবে পার্ফেক্ট করে বানাতে চেষ্টা করে, যিনি সুশি মেইকার তিনি হয়তো বিশ বছর ধরে কেবল নিখুঁত ভাবে সুশিই বানাচ্ছেন, যে মেয়েটা মাঙ্গা কার্টুন আঁকে সে অনেক সময় ধরে খুব ডিটেইলিং মাথায় রেখে পেইজ বাই পেইজ কমপ্লিট করে। 


ওয়াগু বিফের ব্যাপারে এমন কিছু শুনেছিলাম যা হয়তো অতিরঞ্জিত। গরুকে নাকি মাসাজ করা হয়, সঙ্গীত শোনানো হয়, এমনকি বিয়ার খাওয়ানো হয় মাংসের গুণগত মান বাড়ানোর জন্য। জাপানে শত শত বছর ধরে এই নির্দিষ্ট ব্লাডলাইন রক্ষা করে বংশবিস্তারের মাধ্যমে এই জাতটি উন্নত করা হয়েছে। 


এই প্রসঙ্গ থেকেই ব্রিটিশ সহ বাকি পশ্চিমাদের ব্যাপারে কিছু অদ্ভুত বিষয় খেয়াল এলো। জিম করবেটের শিকারের কাহিনী পড়তে পড়তে দেখেছিলাম ব্যাটা হচ্ছে ইংরেজ (এংলো-ইন্ডিয়ান মূলত), কিন্তু দীর্ঘদিন থাকতে থাকতে ভারতবর্ষের জঙ্গলের আনাচে কানাচে সব জানে। কোনটা কোন পশুর ডাক, কোনটা কোন পাখির ডাক এসব মুখস্ত। পায়ের ছাপ দেখে বুঝতে পারত বাঘ ক্ষুধার্ত নাকি শান্ত। উপমহাদেশের সেরা শিকারির নাম বললে জিম করবেটের নাম আসবে।  


এই ব্যাপারটায় হয়তো নুয়ান্স আছে। কারণ ইউরোপিয়ানরা আধিপত্যে ছিল, তাই হয়তো সাহিত্য ও ইতিহাসের একরৈখিক ব্যাখ্যায় অন্যকারো গল্প স্থান পায় নি। তবুও এমন কিছু প্রমাণ আছে যেটা মূল স্টেইটমেন্টকে বৈধতা দেয়। ব্রিটিশ ও অন্যান্য কিছু ইউরোপিয়ানদের ব্যাপারে আমার যতটুকু মনে হয়েছে-  


প্রথমত, এই শালারা প্রচুর কম্ফোর্ট জোনের বাইরে থাকতে পারে 

দ্বীতিয়ত, এরা মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে ও অসাধারণ এডাপ্টেশন ক্ষমতা। 

তৃতীয়ত, ওদের প্রচুর সাহস (কিছুক্ষেত্রে এটাকে বোকামী হিসেবেও ধরা যায়)     


একারণে শীতপ্রধান দেশে জন্মেও ইউরোপিয়ানরা আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও ভারতবর্ষের মত যায়গা কলোনাইজ করতে পেরেছে। ভ্যাপসা গরম সহ্য করেছে ও মশার কামড় খেয়েছে। কিছু যায়গা আছে যেখানে কেউ মরতেও যায়না কিন্তু দেখবেন সেসব যায়গাতেও ইংরেজরা চলে গিয়েছে।  


এরা যেখানেই কলোনি করতে গেছে সেখানকার সংস্কৃতি বাদ দিলে প্রায় বাকি সবকিছুতে এক্সপার্ট হয়ে গেছে।     


যেমন দেখেন প্রথম বাংলা ব্যকরণ রচয়িতা বাঙালি না সেটা একজন ইংরেজ, নাম নাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড। উইলিয়াম কেরি জীবদ্দশায় প্রায় ৩৪টি ভাষা ও উপভাষা শিখেছিলেন,  বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি, মারাঠি, তামিল ইত্যাদি জানতেন ও এসব ভাষায় বাইবেন অনুবাদ করেন। উপমহাদেশেই এতদিন এভারেস্ট ছিল, কিন্তু সেটার চূড়ায় প্রথমে যে উঠে সে নিউজিল্যান্ডের। এমনকি ব্রাহ্মি লিপি প্রথম যে ডিসাইফার করে সেও ইংরেজ।  


নতুন জিনিস এক্সপেরিমেন্ট ও ট্রাই করা সম্ভবত ইউরোপিয়ানদের একটা নেশা। পৃথিবীর দুই মেরু অঞ্চল আর্কটিক ও এন্টার্টিকা প্রথম এক্সপ্লোর করা লোকেরাও নরওয়েজিয়ান আর ব্রিটিশ। জেমস কুক সর্বপ্রথম অস্ট্রেলিয়া ম্যাপ করে। পুরো দুনিয়া তিনবার চক্কর লাগানো প্রথম লোকটাও কোনভাবে ইংরেজ। রিচার্ড বার্টন নামে এক ব্রিটিশ লোক ছিল ২৯ টা ভাষা জানতো। এরাবিয়ান নাইটস ইংরেজিতে অনুবাদ করেছে এবং শোনা যায় ছদ্মবেশে নাকি একবার হজ্বও করে এসেছে। এই কাজটা করেছে স্রেফ কৌতুহল ও আগ্রহের বশে।


এমনকি ইজিপশিওলজির গোরাপত্তন, হায়রোগ্লিফিক্স ডিসাইফার করেছে ইউরোপীয়ানরা। পার্সি ফশেট নামে এক ইংরেজ ভূতত্ত্ববিদ ছিলেন। ১৯০০ সালের দিকে এমাজন জঙ্গলে অভিযান চালিয়েছেন। ১৯২৫ সালে একটা হারানো শহর খুঁজতে গিয়ে নিজেই নিখোঁজ হন। মানে এক কথায়, দেখা যায় দুঃসাহসী এক্সপ্লোরারদের বেশীরভাগই কোনভাবে ব্রিটিশ বা ইউরোপিয়ান।   


জঙ্গল অভিযান, সমুদ্রভ্রমণ, তিমি শিকার, আফ্রিকাতে কোন ফ্যান্টম হাতির আক্রমণ থেকে গ্রামবাসীকে বাঁচানো নিয়ে বিভিন্ন ইউরোপিয়ান অফিসারদের ঘটনা পড়েছি আর রোমাঞ্চিত হয়েছি। 


জেমস ক্লিয়ারের বই এটমিক হ্যাবিটস থেকে একটা ঘটনা বলি।  ১৯০৮ সাল থেকে ব্রিটিশরা অলিম্পিক গেইমসের সাইক্লিংয়ে তুলনামুলক বাজে ছিল। সাইক্লিংয়ের বৃহত্তম রেস ট্যুর ডি ফ্রান্সেও একই, ১১০ বছরেও কোন ব্রিটিশ এই ইভেন্ট জিতে নাই। ইউরোপের ভালো বাইক কোম্পানীগুলো নেভেটিভ পাবলিসিটির ভয়ে ব্রিটিশদের কাছে বাইক বেচত না। 


ব্রেইলসফোর্ড নামে নতুন কোচ নিয়োগ দেয়া হল। কোচের কাজ কি? শুধু অনুশীলন করানো তাইতো? কিন্তু এই লোক ফুলফ্লেজড সায়েন্টিস্টের মত কাজ করা শুরু করল। 


এমন কিছু নাই যেটা ব্রেইলসফোর্ড চেষ্টা করল না। নতুন বাইক ডিজাইন করল যেখানে সিটগুলো তাদের মত আরামদায়ক পজিশনে রাখলো। টায়ারগুলো এলকোহল দিয়ে ঘষা হল। রাইডারদের গরম পোষাক দেয়া হল, প্রতিটা রাইডারের শরীরে বায়োসেন্সর লাগানো হল শারিরীক প্রতিক্রিয়া ও ওয়ার্ক আউট পর্যবেক্ষণের জন্য।  


সুড়ঙ্গের ভেতরে বিভিন্ন স্যুট পরিয়ে বাতাস প্রবাহিত করে এরোডায়নামিক্স পরীক্ষা করে দেখা হল, ফলে স্যুটেও কিছুটা চেঞ্জ আনা হল। কোচ এত নাছোড়বান্দা ছিল যে কোথাও কোনভাবে ১% উন্নতিও করা সম্ভব হলেও তা বাদ দিল না। এথলেটদের মাসলের রিকভারির জন্য বিভিন্ন মাসাজ জেল টেস্ট করা হল।  


ডাক্তার, সার্জন নিয়োগ করা হল। হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে সাইক্লিস্টদের ঠান্ডা লাগানোর সম্ভাবনা কমাতে সহীহ পদ্ধতিতে হাতধোয়ার ট্রেইনিংও দেয়া হল। রাতে ভালো ঘুমের জন্য বালিশ আর গদিও টেস্ট করা হল। মানে একেবারে টমাস এডিসনের মত সবকিছু এক্সপেরিমেন্ট করে দেখা হচ্ছে।  


ব্রেইলসফোর্ডের কথাই ছিল এরকম যে- ভাই আমাকে একদিনে হাতি মেরে দেখাতে হবে না, প্রতিদিন আগের থেকে ১% উন্নতি করলেই হবে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন করতে হবে।  


ফলাফল হচ্ছে ব্রেইলসফোর্ডের দায়িত্ব নেয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে বেইজিং অলিম্পিকে ব্রিটিশ টিম ৫০ পার্সেন্স গোল্ড মেডেল জিতে নেয়। এর পরের অলিম্পিকেতো নয়টা অলিম্পিক রেকর্ড ও সাতটা বিশ্বরেকর্ড করে ফেলে এবং ট্যুর ডি ফ্রান্সও জিতে নেয়।  


যাইহোক, মজার ব্যাপার হচ্ছে আপনি এখনো এরকম কেইস দেখবেন যে কোন একটা ব্রিটিশ বা পশ্চিমা নাগরিক অদ্ভুত কারণে হঠাৎ করে বাংলাদেশ বা ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাস করা শুরু করেছে। কিছু কেইভ এক্সপ্লোরার আছে যারা চিপাচাপা গুহা দেখলেই ভেতরে ঢুকে যায়।  বহু বিলাতি ফুড ভ্লগারকে দেখবেন এমন স্ট্রিট ফুড খাচ্ছে বা এমন টয়লেট ব্যবহার করছে যেটা আপনি জীবনেও ট্রাই করতে চাইবেন না। ওরা কেন জানি করছে।  


সম্ভবত জাতিগত ভাবে কোমফোর্ট জোনের মেন্টালিটি বাদ দিয়ে এরকম এক্সপ্লোরার মেন্টালিটি গড়ে তোলা যায় না। তবে ইন্ডিভিজ্যুয়ালিস্টিক ভাবে সেটা হতে তো বাঁধা নাই। লাইফে রিস্ক নেয়া, একটা গোল সেট করা এবং সেই কম্পিটিটিভ গোল পারসিউ করার ব্যাপারটা অসাধারণ। এসব ছোট বড় জিনিস জীবনে অনেক বলার মত গল্প রেখে যায়। 


জীবনে যে একবার বাঘ শিকার যে করেছে তার কাছে একবার সেই গল্প শুনতে চেয়েন। অথবা যে স্কাইডাইভিং করেছে,গভীর সমুদ্রে স্করকেলিং করেছে, কিংবা সম্পূর্ণ একা একটা দ্বীপে একদিন থেকেছে তার কাছে জানতে চেয়েন তার আকাশ দেখার অনুভূতি কেমন ছিল।      


আমার পছন্দের একজন ইনফ্লুয়েন্সার এবং লেখক কোন একটা ভিডিওতে দৌড়াতে দৌড়াতে অনেকটা এরকম কিছু বলেছিল- 


“এই যে আমি ভোর সকালে উঠে পাগলের মত দৌড়াচ্ছি, কেন দৌড়াচ্ছি জানেন? কারণ আমি জানি আমার আশেপাশের সব লুজাররা এখন ঘুমাচ্ছে। এটা করার মত অওকাদ সবার নাই আর এই ব্যাপারটাই আমাকে ইম্পাওয়ার ও মোটিভেট করে”


-ওমর বিন মাহতাব।

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...