এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫

পায়খানার (মলত্যাগের) সময় রক্ত যাওয়া একেবারে অবহেলা করার মতো বিষয় নয়। 

 পায়খানার (মলত্যাগের) সময় রক্ত যাওয়া একেবারে অবহেলা করার মতো বিষয় নয়। এটি অনেক কারণেই হতে পারে — কিছু হালকা ও স্বাভাবিক, আবার কিছু গুরুতর রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে। নিচে সম্ভাব্য কারণগুলো ব্যাখ্যা করা হলো:


🔍 পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়ার সাধারণ কারণসমূহ:

1. পাইলস (অর্শ/গাঁট) – Hemorrhoids

এটি সবচেয়ে সাধারণ কারণ।


মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রক্ত পড়ে (সাথে ব্যথা নাও থাকতে পারে বা হালকা জ্বালাপোড়া হতে পারে)।


সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য বা অতিরিক্ত চাপ দিলে হয়।


2. ফিশার (Anal Fissure)

পায়ুপথে ফেটে যাওয়া বা ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে হয়।


সাধারণত শক্ত মল বা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে হয়।


তীক্ষ্ণ ব্যথা ও মলের পরে কিছু উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যায়।


3. পলিপস (Colon Polyps)

এটি অন্ত্রে ছোট ছোট টিউমারের মতো গঠন, যা কখনো রক্তপাত করতে পারে।


অনেক সময় কোনো ব্যথা ছাড়াই রক্ত যায়।


4. আন্ত্রিক ইনফেকশন / আমাশয় (Dysentery)

তরল বা পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত ও মিউকাস থাকে।


পেট ব্যথা, জ্বর বা বমি বমি ভাব থাকতে পারে।


ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা পরজীবীর কারণে হয়।


5. আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ক্রনস ডিজিজ (IBD - Inflammatory Bowel Disease)

অন্ত্রে প্রদাহজনিত রোগ।


দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া, রক্ত-মিউকাস মেশানো পায়খানা হয়।


6. কোলোরেক্টাল ক্যান্সার (Colon/Rectal Cancer)

বিশেষ করে ৪০ বছরের পরে যদি রক্ত যায়, তাহলে অবশ্যই সতর্ক হওয়া জরুরি।


ওজন হ্রাস, অজানা ক্লান্তি, পায়খানার ধরণে পরিবর্তন থাকলে ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন।


7. ডাইভার্টিকুলোসিস

অন্ত্রে ছোট ছোট থলির মতো গঠন হয়, সেগুলো ছিঁড়ে গেলে রক্তপাত হতে পারে।


❗ কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন:

বারবার রক্ত যাচ্ছে।


পায়খানার ধরণ পরিবর্তন হয়েছে (পাতলা, কালো বা রক্তাক্ত)।


পেটে ব্যথা, দুর্বলতা, জ্বর, ওজন কমে যাওয়া বা ক্ষুধামান্দ্য আছে।


বয়স যদি ৪০ বা তার বেশি হয় এবং আগে এমন সমস্যা না থাকে।


🩺 কী ধরনের টেস্ট লাগতে পারে:

Proctoscopy / Colonoscopy — পায়ুপথ বা অন্ত্রের ভিতর দেখা।


Stool test — ইনফেকশন আছে কি না জানতে।


CBC (Complete Blood Count) — রক্তশূন্যতা হয়েছে কি না দেখতে।


Ultrasound বা CT scan — কোনো গঠনগত সমস্যা আছে কি না দেখতে।


✅ করণীয়:

কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ান – পানি, ফাইবারযুক্ত খাবার বেশি খান।


পায়খানায় চাপ দেওয়া বন্ধ করুন।


রক্ত গেলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিন — ১-২ বার হলেও ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

টাকা পয়সার সিক্রেট কি আসলে? মানুষ ধনী বা বড়লোক কিভাবে হয়? তারা কি এমন কিছু জানে যা বাকিরা জানেনা?

 টাকা পয়সার সিক্রেট কি আসলে? মানুষ ধনী বা বড়লোক কিভাবে হয়? তারা কি এমন কিছু জানে যা বাকিরা জানেনা?


ধনী হতে চাইলে কিছু কঠিন সত্য বুঝতে হবে।

এগুলো গল্প না, ফর্মুলা না, বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বের করা একেকটা সত্য।


অনেকে মনে করেন, ধনীরা হয়তো হঠাৎ করেই ভাগ্যবান হয়ে উঠেছে। টাকাপয়সা নাকি নিজেরাই এসে ধরা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা একদমই আলাদা।

আসলে তারা এমন কিছু নিয়ম মেনে চলে, যেগুলো বেশিরভাগ মানুষ জানেই না। আর জানলেও গুরুত্ব দেয় না। কারণ সেগুলো সহজ না, কিন্তু ফলাফল অসাধারণ।


এই কথাগুলো শুধুমাত্র তাদের জন্য, যারা আসলেই নিজের জীবন পাল্টাতে চান। যারা আর পুরনো জীবনটাকেই মেনে নিতে রাজি নন। যারা নিজের পাশাপাশি নিজের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তা করেন।


নিচে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট শেয়ার করছি। এগুলো শুধু পড়লেই হবে না, বিশ্বাস করতে হবে এবং ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

একবার মনের মধ্যে গেঁথে গেলে, ১২ মাসও লাগবে না, নিজের উন্নতি চোখে পড়বে..


১. সময়ের বদলে মূল্য তৈরি করেন।

একজন সাধারণ মানুষ তার সময় বিক্রি করে আয় করেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা কাজ করেই আয় আসে।

কিন্তু যারা ধনী হয়েছেন, তারা এমন কিছু তৈরি করেছেন, যেটা তাদের উপস্থিতি ছাড়াও ইনকাম এনে দেয়। ব্যবসা, ডিজিটাল প্রডাক্ট, ইনভেস্টমেন্ট, এই জিনিসগুলোই তাদের “সময়” কে বাড়িয়ে দিয়েছে।


২. ঋণ নিজে খারাপ না, কিভাবে ব্যবহার করা হয় সেটাই আসল ব্যাপার।

বুদ্ধিমান মানুষ ঋণ নিয়ে সম্পদ তৈরি করেন যেমন বাড়ি, ব্যবসা, জমি ইত্যাদি।

আর অনেকেই ঋণ নিয়ে কেনেন দামি ফোন, গ্যাজেট, শখের জিনিস, যেগুলো এক টাকাও ফেরত আনে না।

একটা কথা মনে রাখুন, যেকোনো ঋণ যদি আপনার আয় বাড়াতে সাহায্য না করে, তাহলে সেটা আসলে একটা বোঝা।


৩. চাকরি নিরাপত্তা দিতে পারে, কিন্তু স্বাধীনতা দিতে পারে না।

অনেক ধনী ব্যক্তি শুরু করেছেন চাকরি দিয়ে, কিন্তু সেখানকার ইনকামকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন নিজেদের সিস্টেম।

অন্যদিকে কেউ কেউ একই ইনকাম শুধু খরচ করে ফেলেছেন।

স্বপ্ন যদি থাকে বড় কিছু গড়ার, তাহলে নিজের কিছু একটা শুরু করতেই হবে, ছোট হোক, ধীরে হোক, কিন্তু শুরুটা জরুরি।


৪. যাদের সঙ্গে সময় কাটান, তারাই আপনাকে গড়ে তোলে বা ভেঙে দেয়।

নেগেটিভ চিন্তাভাবনার মানুষের সাথে থেকে কেউ কখনো সামনে এগোতে পারেননি।

একজন মানুষ হিসেবে আপনি যাদের সাথে সময় কাটান, তাদের চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, উদ্যম, সবই আপনার মধ্যে প্রভাব ফেলে।

নিজেকে এমন মানুষের মাঝে রাখুন, যাদের কাছ থেকে শেখা যায়।


৫. প্রচারে নয়, প্রগতিতে বিশ্বাস রাখেন।

আসল সাফল্য যারা অর্জন করেন, তারা সোশাল মিডিয়ায় তা প্রচার করে বেড়ান না।

তারা নীরবে কাজ করেন, সম্পদ তৈরি করেন, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেন।

সারাক্ষণ কে কী বলছে সেটা না ভেবে, নিজের কাজেই মন দিন। ফলাফল এমনিতেই কথা বলবে।


৬. প্রতিদিন কিছু না কিছু শেখার চেষ্টা করেন।

আজকের দুনিয়ায় জ্ঞানই সবচেয়ে বড় পুঁজি।

যারা প্রতিনিয়ত শিখছেন, তারা প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছেন।

বই, কোর্স, ভিডিও, রিয়েল অভিজ্ঞতা, যেকোনো কিছু থেকেই শেখা সম্ভব।

যদি শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, তাহলে উন্নতির পথ নিজেই বন্ধ করে দিচ্ছেন।


৭. বিক্রি করার দক্ষতা না থাকলে, সফল হওয়াও কঠিন।

যে যা-ই করুন, পণ্য হোক, সার্ভিস হোক, নিজের স্কিল হোক সব ক্ষেত্রেই বিক্রি জানাটা জরুরি।

নিজের কথা, নিজের কাজ, নিজের প্রস্তাব ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারা মানে হচ্ছে সামনে সুযোগ তৈরি হওয়া।

সেলস মানে শুধু মার্কেটিং না, এটা আসলে কমিউনিকেশন যেটা আপনার ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে পারে।


এই বিষয়গুলো কোনো ম্যাজিক ট্রিক না, বরং বাস্তব জীবনের tested সত্য।

যত তাড়াতাড়ি এই জিনিসগুলো হৃদয়ে ধারণ করবেন, তত দ্রুত জীবন বদলাতে শুরু করবে।


#hasanshanth #entrepreneurmindset #richlife #howto #business #bd #knowledgesharing

শহরের জমি নেব, নাকি গ্রামের জমিতে বিনিয়োগ করব?

 বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট বাজারে একটি সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল:

"শহরের জমি নেব, নাকি গ্রামের জমিতে বিনিয়োগ করব?"

এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে আপনি কি উদ্দেশ্যে জমি কিনতে চাচ্ছেন – বাস করার জন্য, ভবিষ্যতে বিক্রি করে লাভ করার জন্য, নাকি কৃষিকাজ বা ব্যবসার জন্য।


চলুন শহর ও গ্রামের জমির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেখে নিই।


🌆 শহরের জমি – সুবিধা ও অসুবিধা

✅ সুবিধা:

বাজার মূল্য বেশি ও দ্রুত বাড়ে: ঢাকাসহ বড় শহরে জমির চাহিদা অনেক বেশি।


বাসা/বিল্ডিং তৈরি করে ভাড়া আয়ের সুযোগ।


সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধা: স্কুল, হাসপাতাল, মার্কেট সহজেই পাওয়া যায়।


❌ অসুবিধা:

প্রতি কাঠায় দাম অনেক বেশি।


জমি খুঁজে পাওয়া কঠিন, জটিল দলিল ও মালিকানা সমস্যা হতে পারে।


উচ্চ ট্যাক্স ও রেজিস্ট্রেশন ফি।


দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ দামে বিক্রি কঠিন, কারণ দাম অনেকটাই “স্যাচুরেটেড”।


🏞️ গ্রামের জমি – সুবিধা ও অসুবিধা

✅ সুবিধা:

মূল্য অনেক কম: অল্প টাকায় বেশি জায়গা পাওয়া যায়।


ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা (যদি রোড, শহর বা কারখানা আসে)।


কৃষি, রিসোর্ট, বা ভবিষ্যৎ প্লটিং প্রকল্পে ব্যবহারের সুযোগ।


স্বল্প খরচে হোল্ড করা যায় (ট্যাক্স, রক্ষণাবেক্ষণ কম)।


❌ অসুবিধা:

মূল্য বাড়তে সময় লাগে (অনেক ক্ষেত্রে ১০–১৫ বছর)।


অনেক সময় অবকাঠামো সুবিধা থাকে না (বিদ্যুৎ, পানি, রোড)।


দলিল ও দখল ঝামেলা থাকতে পারে, বিশেষ করে বড় পরিবারে মালিকানা বিভাজন থাকলে।


তৎক্ষণাৎ বিক্রি করে ক্যাশ রিটার্ন পাওয়া কঠিন।


📊 তুলনামূলক বিশ্লেষণ (সারাংশ টেবিল)

বিষয় শহরের জমি গ্রামের জমি

দাম বেশি কম

মূল্য বৃদ্ধির গতি দ্রুত (কিছু এলাকায় ধীর) ধীরে কিন্তু স্থায়ী (ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নির্ভর)

ব্যবহারিকতা বসবাস, ভাড়া, ব্যবসা কৃষি, রিসোর্ট, ভবিষ্যৎ প্লটিং

ঝুঁকি বেশি (চড়া দামে কিনে stuck হওয়া) কম (দামে নিচু, তবে সময় লাগে)

রিটার্ন টাইম মধ্যম থেকে স্বল্প মেয়াদ দীর্ঘমেয়াদি (৫-১৫ বছর)

দলিল ঝামেলা কম (ফ্ল্যাট কনসেপ্টে থাকে) বেশি (মালিকানা বিভাজন/অস্পষ্টতা)


🤔 আপনার জন্য কোনটা?

আপনি যদি —


এখনই থাকবেন বা ফ্ল্যাট করবেন


দ্রুত রিটার্ন চান

👉 তাহলে শহরের জমি উপযুক্ত।


আপনি যদি —


লং টার্মে বিনিয়োগ করতে চান


পরবর্তীতে লাভে বিক্রি করতে চান


পর্যাপ্ত সময় ও ধৈর্য রাখেন

👉 তাহলে গ্রামের জমি ভালো অপশন হতে পারে।


🔎 কিছু বাস্তবিক টিপস:

গ্রামের জমি কিনলে চেষ্টা করুন রোডসাইড, হাইওয়ে বা ভবিষ্যৎ প্রজেক্ট সংলগ্ন জায়গায় নিতে।


শহরের জমি হলে ডেভেলপার বা ফ্ল্যাট শেয়ার চুক্তির জন্য উপযুক্ত কিনা যাচাই করুন।


দুই ধরনের জমি মিক্সড ইনভেস্টমেন্ট করুন – একাংশ এখন, একাংশ ভবিষ্যতের জন্য।


🚀 সবশেষে বলা যেতে পারে,

"শহরের জমি তৎক্ষণাৎ লাভ দেয়, গ্রামের জমি ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়।"


আপনি কি জমি বা ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করছেন? 

👉 আপনার যদি নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্ন থাকে, আমাদের জানাতে পারেন। 😊

✅ ম্যাক্স রিয়েল এস্টেট

 📌 অফিস: শেখের জায়গা, নন্দিপাড়া, বাসাবো, খিলগাঁও, ঢাকা।

 ➡️ ই-মেইল: maxrealestatebd@gmail.com

 ➡️ মোবাইল: ০১৯১২-৯৩৩৬৩০, ০১৭৪০-৫২৬০৪৫

 🚀 বিস্তারিত জানতে আজই যোগাযোগ করুন!

#maxrealestate

লবণ যদি নষ্ট হয়ে যায়, কে করবে তার পরিশোধন?

 লবণ যদি নষ্ট হয়ে যায়, কে করবে তার পরিশোধন?


একজন তরুণ গ্রামের যুবক তাঁর সম্প্রদায়ের একজন শালীন, ধার্মিক ও সজ্জন মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের মাত্র এক বছর পার হয়েছে, হঠাৎ একদিন এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের সাথে তীব্র ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। রাগের বশে ঐ আত্মীয়কে মা*রধর করে ফেলেন।


গ্রামের রীতিনীতি অনুযায়ী, এর পর তাঁকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হয়। স্ত্রীকে সাথে নিয়ে তিনি দূরবর্তী এক অজানা অঞ্চলের গ্রামে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। নতুন পরিবেশে তিনি জীবন গুছিয়ে নিতে থাকেন।


প্রতিদিনের মতো তিনি গ্রামের মোড়লের আসরে যেতেন, গল্প করতেন, পরামর্শ নিতেন। একদিন, হঠাৎ মোড়ল তাঁর বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমবারের মতো তাঁর স্ত্রীকে দেখতে পান—একজন শালীন, রূপবতী ও গম্ভীর নারীর সম্মোহনী দৃশ্য।


ঐ মুহূর্তেই মোড়লের অন্তরে কামনা জেগে ওঠে। লালসার শিকারে পরিণত হয়ে, এক অশুভ পরিকল্পনা আঁটেন—কীভাবে যুবককে কিছুদিনের জন্য দূরে পাঠিয়ে, সুযোগ বুঝে তাঁর স্ত্রীকে নিজের করে নেওয়া যায়।


কয়েকদিন পর আসরে মোড়ল এক আলোচনা তুললেন:


"শুনেছি এক জায়গায় দারুণ চারণভূমি আছে। কিছু লোক পাঠিয়ে যাচাই করতে চাই।"


তিনি চারজন লোক বাছাই করলেন, যার মধ্যে যুবকও ছিল।


কয়েকদিনের যাত্রা নির্ধারিত হলো, আর তারা রওনা দিল।


রাতে, মোড়ল চুপিচুপি যুবকের বাড়ির দিকে এগোলেন। অন্ধকারে দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে শব্দ করে ফেলেন। স্ত্রীর ঘুম ভেঙে যায়।


ভয় পেয়ে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "কে ওখানে?"


মোড়ল নিজের পরিচয় দিলেন।


স্ত্রী বললেন, "এত রাতে? সব ঠিক আছে তো?"


মোড়ল নিজের আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ করলেন:


"তোমায় দেখার পর থেকে মনে শান্তি নেই। তোমায় চাই; আমাকে সঙ্গ দাও।"


মহিলাটি অত্যন্ত ধীরস্থির কণ্ঠে বললেন:


"ভালবাসা চাইলে ঠিক আছে, তবে আগে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। যদি ঠিক উত্তর দিতে পারেন, তবে আপনার ইচ্ছা পূর্ণ হবে।"


মোড়ল খুশি হয়ে বললেন, "বলুন!"


তিনি জিজ্ঞেস করলেন:


"যেমন মাংস নষ্ট না হয় বলে আমরা লবণ ব্যবহার করি, তবে যদি লবণ নিজেই নষ্ট হয়ে যায়… তাহলে কে তা পরিশোধন করবে?"


মোড়ল গভীর চিন্তায় ডুবে গেলেন।


একদিন, একরাত পেরিয়ে গেল, কিন্তু তিনি কোনো উত্তর খুঁজে পেলেন না।


পরদিন আসরে তিনি সকলকে প্রশ্নটি করলেন, কিন্তু কারো কাছ থেকেই সন্তোষজনক উত্তর এল না।


এক কোণে বসে থাকা এক বৃদ্ধ নীরবে তাকিয়ে ছিলেন।


মোড়ল তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন,


"আপনি কিছু বলছেন না কেন?"


বৃদ্ধ উত্তর দিলেন:


"কারণ, এটা কেবল একটা প্রশ্ন নয়; এটা যুগের যুগের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে আসা একটি বার্তা।


তিনি আপনাকে অপমান করতে পারতেন, কিন্তু অপমানের বদলে আপনার বিবেক জাগিয়ে দিলেন।"


তারপর তিনি ব্যাখ্যা করলেন:


"মাংস নষ্ট হলে লবণ তা রক্ষা করে। কিন্তু যদি লবণ নিজেই পচে যায়, তবে তাকে কে রক্ষা করবে?


অর্থাৎ,


সাধারণ মানুষ ভুল করলে নেতারা তাদের সঠিক পথে ফেরান, কিন্তু যদি নেতা নিজেই বিপথগামী হয়, তবে জাতিকে কে রক্ষা করবে?"


মোড়ল লজ্জায় মাথা নিচু করলেন, চোখ ভরে এল অশ্রুতে।


যদি পিতা বিপথে যায়—কে সন্তানের পথ দেখাবে?

যদি শিক্ষক পথ হারায়—কে জ্ঞানের আলো ছড়াবে?

যদি নেতা পথভ্রষ্ট হয়—কে জাতিকে রক্ষা করবে?


স্মরণ রাখো—

জ্ঞানীদের সঙ্গ গ্রহণ করো।

মূর্খদের সঙ্গ কেবল হৃদয় নষ্ট করে না,

পুরো প্রজন্মকেও ধ্বংস করে দেয়।

এর আগে জাপানিজদের সম্পর্কে কোথাও লিখেছিলাম যে, এরা যা করে অনেক ডেডিকেশন ও নিষ্ঠার সাথে করে,,,,,

 এর আগে জাপানিজদের সম্পর্কে কোথাও লিখেছিলাম যে, এরা যা করে অনেক ডেডিকেশন ও নিষ্ঠার সাথে করে। ধরেন যিনি একটা মাটির পট বানাচ্ছে সে খুব ধীরস্থির ভাবে পার্ফেক্ট করে বানাতে চেষ্টা করে, যিনি সুশি মেইকার তিনি হয়তো বিশ বছর ধরে কেবল নিখুঁত ভাবে সুশিই বানাচ্ছেন, যে মেয়েটা মাঙ্গা কার্টুন আঁকে সে অনেক সময় ধরে খুব ডিটেইলিং মাথায় রেখে পেইজ বাই পেইজ কমপ্লিট করে। 


ওয়াগু বিফের ব্যাপারে এমন কিছু শুনেছিলাম যা হয়তো অতিরঞ্জিত। গরুকে নাকি মাসাজ করা হয়, সঙ্গীত শোনানো হয়, এমনকি বিয়ার খাওয়ানো হয় মাংসের গুণগত মান বাড়ানোর জন্য। জাপানে শত শত বছর ধরে এই নির্দিষ্ট ব্লাডলাইন রক্ষা করে বংশবিস্তারের মাধ্যমে এই জাতটি উন্নত করা হয়েছে। 


এই প্রসঙ্গ থেকেই ব্রিটিশ সহ বাকি পশ্চিমাদের ব্যাপারে কিছু অদ্ভুত বিষয় খেয়াল এলো। জিম করবেটের শিকারের কাহিনী পড়তে পড়তে দেখেছিলাম ব্যাটা হচ্ছে ইংরেজ (এংলো-ইন্ডিয়ান মূলত), কিন্তু দীর্ঘদিন থাকতে থাকতে ভারতবর্ষের জঙ্গলের আনাচে কানাচে সব জানে। কোনটা কোন পশুর ডাক, কোনটা কোন পাখির ডাক এসব মুখস্ত। পায়ের ছাপ দেখে বুঝতে পারত বাঘ ক্ষুধার্ত নাকি শান্ত। উপমহাদেশের সেরা শিকারির নাম বললে জিম করবেটের নাম আসবে।  


এই ব্যাপারটায় হয়তো নুয়ান্স আছে। কারণ ইউরোপিয়ানরা আধিপত্যে ছিল, তাই হয়তো সাহিত্য ও ইতিহাসের একরৈখিক ব্যাখ্যায় অন্যকারো গল্প স্থান পায় নি। তবুও এমন কিছু প্রমাণ আছে যেটা মূল স্টেইটমেন্টকে বৈধতা দেয়। ব্রিটিশ ও অন্যান্য কিছু ইউরোপিয়ানদের ব্যাপারে আমার যতটুকু মনে হয়েছে-  


প্রথমত, এই শালারা প্রচুর কম্ফোর্ট জোনের বাইরে থাকতে পারে 

দ্বীতিয়ত, এরা মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে ও অসাধারণ এডাপ্টেশন ক্ষমতা। 

তৃতীয়ত, ওদের প্রচুর সাহস (কিছুক্ষেত্রে এটাকে বোকামী হিসেবেও ধরা যায়)     


একারণে শীতপ্রধান দেশে জন্মেও ইউরোপিয়ানরা আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও ভারতবর্ষের মত যায়গা কলোনাইজ করতে পেরেছে। ভ্যাপসা গরম সহ্য করেছে ও মশার কামড় খেয়েছে। কিছু যায়গা আছে যেখানে কেউ মরতেও যায়না কিন্তু দেখবেন সেসব যায়গাতেও ইংরেজরা চলে গিয়েছে।  


এরা যেখানেই কলোনি করতে গেছে সেখানকার সংস্কৃতি বাদ দিলে প্রায় বাকি সবকিছুতে এক্সপার্ট হয়ে গেছে।     


যেমন দেখেন প্রথম বাংলা ব্যকরণ রচয়িতা বাঙালি না সেটা একজন ইংরেজ, নাম নাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড। উইলিয়াম কেরি জীবদ্দশায় প্রায় ৩৪টি ভাষা ও উপভাষা শিখেছিলেন,  বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি, মারাঠি, তামিল ইত্যাদি জানতেন ও এসব ভাষায় বাইবেন অনুবাদ করেন। উপমহাদেশেই এতদিন এভারেস্ট ছিল, কিন্তু সেটার চূড়ায় প্রথমে যে উঠে সে নিউজিল্যান্ডের। এমনকি ব্রাহ্মি লিপি প্রথম যে ডিসাইফার করে সেও ইংরেজ।  


নতুন জিনিস এক্সপেরিমেন্ট ও ট্রাই করা সম্ভবত ইউরোপিয়ানদের একটা নেশা। পৃথিবীর দুই মেরু অঞ্চল আর্কটিক ও এন্টার্টিকা প্রথম এক্সপ্লোর করা লোকেরাও নরওয়েজিয়ান আর ব্রিটিশ। জেমস কুক সর্বপ্রথম অস্ট্রেলিয়া ম্যাপ করে। পুরো দুনিয়া তিনবার চক্কর লাগানো প্রথম লোকটাও কোনভাবে ইংরেজ। রিচার্ড বার্টন নামে এক ব্রিটিশ লোক ছিল ২৯ টা ভাষা জানতো। এরাবিয়ান নাইটস ইংরেজিতে অনুবাদ করেছে এবং শোনা যায় ছদ্মবেশে নাকি একবার হজ্বও করে এসেছে। এই কাজটা করেছে স্রেফ কৌতুহল ও আগ্রহের বশে।


এমনকি ইজিপশিওলজির গোরাপত্তন, হায়রোগ্লিফিক্স ডিসাইফার করেছে ইউরোপীয়ানরা। পার্সি ফশেট নামে এক ইংরেজ ভূতত্ত্ববিদ ছিলেন। ১৯০০ সালের দিকে এমাজন জঙ্গলে অভিযান চালিয়েছেন। ১৯২৫ সালে একটা হারানো শহর খুঁজতে গিয়ে নিজেই নিখোঁজ হন। মানে এক কথায়, দেখা যায় দুঃসাহসী এক্সপ্লোরারদের বেশীরভাগই কোনভাবে ব্রিটিশ বা ইউরোপিয়ান।   


জঙ্গল অভিযান, সমুদ্রভ্রমণ, তিমি শিকার, আফ্রিকাতে কোন ফ্যান্টম হাতির আক্রমণ থেকে গ্রামবাসীকে বাঁচানো নিয়ে বিভিন্ন ইউরোপিয়ান অফিসারদের ঘটনা পড়েছি আর রোমাঞ্চিত হয়েছি। 


জেমস ক্লিয়ারের বই এটমিক হ্যাবিটস থেকে একটা ঘটনা বলি।  ১৯০৮ সাল থেকে ব্রিটিশরা অলিম্পিক গেইমসের সাইক্লিংয়ে তুলনামুলক বাজে ছিল। সাইক্লিংয়ের বৃহত্তম রেস ট্যুর ডি ফ্রান্সেও একই, ১১০ বছরেও কোন ব্রিটিশ এই ইভেন্ট জিতে নাই। ইউরোপের ভালো বাইক কোম্পানীগুলো নেভেটিভ পাবলিসিটির ভয়ে ব্রিটিশদের কাছে বাইক বেচত না। 


ব্রেইলসফোর্ড নামে নতুন কোচ নিয়োগ দেয়া হল। কোচের কাজ কি? শুধু অনুশীলন করানো তাইতো? কিন্তু এই লোক ফুলফ্লেজড সায়েন্টিস্টের মত কাজ করা শুরু করল। 


এমন কিছু নাই যেটা ব্রেইলসফোর্ড চেষ্টা করল না। নতুন বাইক ডিজাইন করল যেখানে সিটগুলো তাদের মত আরামদায়ক পজিশনে রাখলো। টায়ারগুলো এলকোহল দিয়ে ঘষা হল। রাইডারদের গরম পোষাক দেয়া হল, প্রতিটা রাইডারের শরীরে বায়োসেন্সর লাগানো হল শারিরীক প্রতিক্রিয়া ও ওয়ার্ক আউট পর্যবেক্ষণের জন্য।  


সুড়ঙ্গের ভেতরে বিভিন্ন স্যুট পরিয়ে বাতাস প্রবাহিত করে এরোডায়নামিক্স পরীক্ষা করে দেখা হল, ফলে স্যুটেও কিছুটা চেঞ্জ আনা হল। কোচ এত নাছোড়বান্দা ছিল যে কোথাও কোনভাবে ১% উন্নতিও করা সম্ভব হলেও তা বাদ দিল না। এথলেটদের মাসলের রিকভারির জন্য বিভিন্ন মাসাজ জেল টেস্ট করা হল।  


ডাক্তার, সার্জন নিয়োগ করা হল। হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে সাইক্লিস্টদের ঠান্ডা লাগানোর সম্ভাবনা কমাতে সহীহ পদ্ধতিতে হাতধোয়ার ট্রেইনিংও দেয়া হল। রাতে ভালো ঘুমের জন্য বালিশ আর গদিও টেস্ট করা হল। মানে একেবারে টমাস এডিসনের মত সবকিছু এক্সপেরিমেন্ট করে দেখা হচ্ছে।  


ব্রেইলসফোর্ডের কথাই ছিল এরকম যে- ভাই আমাকে একদিনে হাতি মেরে দেখাতে হবে না, প্রতিদিন আগের থেকে ১% উন্নতি করলেই হবে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিন করতে হবে।  


ফলাফল হচ্ছে ব্রেইলসফোর্ডের দায়িত্ব নেয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে বেইজিং অলিম্পিকে ব্রিটিশ টিম ৫০ পার্সেন্স গোল্ড মেডেল জিতে নেয়। এর পরের অলিম্পিকেতো নয়টা অলিম্পিক রেকর্ড ও সাতটা বিশ্বরেকর্ড করে ফেলে এবং ট্যুর ডি ফ্রান্সও জিতে নেয়।  


যাইহোক, মজার ব্যাপার হচ্ছে আপনি এখনো এরকম কেইস দেখবেন যে কোন একটা ব্রিটিশ বা পশ্চিমা নাগরিক অদ্ভুত কারণে হঠাৎ করে বাংলাদেশ বা ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাস করা শুরু করেছে। কিছু কেইভ এক্সপ্লোরার আছে যারা চিপাচাপা গুহা দেখলেই ভেতরে ঢুকে যায়।  বহু বিলাতি ফুড ভ্লগারকে দেখবেন এমন স্ট্রিট ফুড খাচ্ছে বা এমন টয়লেট ব্যবহার করছে যেটা আপনি জীবনেও ট্রাই করতে চাইবেন না। ওরা কেন জানি করছে।  


সম্ভবত জাতিগত ভাবে কোমফোর্ট জোনের মেন্টালিটি বাদ দিয়ে এরকম এক্সপ্লোরার মেন্টালিটি গড়ে তোলা যায় না। তবে ইন্ডিভিজ্যুয়ালিস্টিক ভাবে সেটা হতে তো বাঁধা নাই। লাইফে রিস্ক নেয়া, একটা গোল সেট করা এবং সেই কম্পিটিটিভ গোল পারসিউ করার ব্যাপারটা অসাধারণ। এসব ছোট বড় জিনিস জীবনে অনেক বলার মত গল্প রেখে যায়। 


জীবনে যে একবার বাঘ শিকার যে করেছে তার কাছে একবার সেই গল্প শুনতে চেয়েন। অথবা যে স্কাইডাইভিং করেছে,গভীর সমুদ্রে স্করকেলিং করেছে, কিংবা সম্পূর্ণ একা একটা দ্বীপে একদিন থেকেছে তার কাছে জানতে চেয়েন তার আকাশ দেখার অনুভূতি কেমন ছিল।      


আমার পছন্দের একজন ইনফ্লুয়েন্সার এবং লেখক কোন একটা ভিডিওতে দৌড়াতে দৌড়াতে অনেকটা এরকম কিছু বলেছিল- 


“এই যে আমি ভোর সকালে উঠে পাগলের মত দৌড়াচ্ছি, কেন দৌড়াচ্ছি জানেন? কারণ আমি জানি আমার আশেপাশের সব লুজাররা এখন ঘুমাচ্ছে। এটা করার মত অওকাদ সবার নাই আর এই ব্যাপারটাই আমাকে ইম্পাওয়ার ও মোটিভেট করে”


-ওমর বিন মাহতাব।

রসগোল্লা বানানোর একটি সহজ রেসিপি দেওয়া হলো:

 রসগোল্লা একটি জনপ্রিয় বাঙালি মিষ্টি যা প্রধানত ছানা দিয়ে তৈরি হয়। নিচে রসগোল্লা বানানোর একটি সহজ রেসিপি দেওয়া হলো:


উপকরণ:


ছানা তৈরির জন্য:


দুধ – ১ লিটার (ফুল ফ্যাট হলে ভালো)


লেবুর রস/ভিনেগার – ২ টেবিল চামচ (জল মিশিয়ে পাতলা করুন)


চিনি সিরার জন্য:


চিনি – ১ কাপ


পানি – ৪ কাপ


এলাচ – ২টি (ঐচ্ছিক)


প্রস্তুত প্রণালী:


১. ছানা তৈরি করুন:


1. দুধ ফোটান।


2. ফুটে উঠলে অল্প অল্প করে লেবুর রস দিন এবং নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না দুধ ফেটে যায়।


3. ছানা ছেঁকে নিয়ে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন (লেবুর গন্ধ দূর করার জন্য)।


4. একটি পাতলা কাপড়ে ছানা বেঁধে প্রায় ৩০ মিনিট ঝুলিয়ে রাখুন যাতে অতিরিক্ত জল ঝরে যায়।


২. ছানা মাখানো:


1. ছানাটা হাত দিয়ে ভালো করে ৮-১০ মিনিট মাখুন যতক্ষণ না তা মসৃণ এবং নরম হয়।


2. ছোট ছোট গোল বল বানান (খেয়াল রাখবেন ফাটল না থাকে)।


৩. সিরা তৈরি ও রসগোল্লা সেদ্ধ:


1. একটি পাত্রে ১ কাপ চিনি ও ৪ কাপ পানি দিয়ে সিরা তৈরি করুন।


2. সিরা ফুটে উঠলে ছানা বলগুলো দিন।


3. ঢেকে মাঝারি আঁচে ১৫-২০ মিনিট সেদ্ধ করুন (রসগোল্লা ফুলে উঠবে)।


4. চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন।

পরিবেশন:


রসগোল্লা ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন। চাইলে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করেও খেতে পারেন...

কাজী সাইফুজ্জামান মুন্নু

 অতি কৈশোর থেকেই কাজী সাইফুজ্জামান মুন্নু নানা ধরনের খেলাধূলা ও ক্রীড়ানুষ্ঠানের প্রতি আকৃষ্ট হন। বিশেষ করে ফুটবল খেলা ও এ্যাথলেটিকস এর প্রতি নিবেদিত হয়ে কৃতি ক্রীড়াবিদে রূপান্তরিত হন। তাঁর জন্ম ১৯৩৭ সালের ১ এপ্রিল ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের গোপালপুর গ্রামে। পিতার নাম কাজী আব্দুল মোতালেব। পিতা কাজী আব্দুল মোতালেব প্রথম মহাযুদ্ধের রেজিমেন্টাল সৈনিকরূপে অংশগ্রহণ করেন এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের অত্যন্ত অন্তরঙ্গ একনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। একাধারে কবি, সাংবাদিক, লেখক হিসাবে তাঁর খ্যাতি ছিল। তিনি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ধুমকেতু পত্রিকার সহ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। “সওগাত” “মোসলেম ভারত”, “নওরোজ”, “মধুমিতা” সহ বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর বহু লেখা মুদ্রিত হয়। তিনি ১৯৪৭-এ কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ।

কাজী সাইফুজ্জামান কৃতি সন্তান হিসাবে অত্র এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। শিক্ষা জীবনে ১৯৫১ সালে নলডাঙ্গা ভূষণ হাই স্কুলে প্রবেশিকা, ১৯৫৩ সালে খুলনার দৌলতপুর ব্রজলাল কলেজে আই এ এবং ১৯৫৫ সালে এ বি এ, ১৯৫৭ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা সাহিত্যে এম পাশ করেন। তিনি কর্মজীবনে মাগুরা হোসেন সোহারাওয়ার্দী কলেজে অধ্যাপনা, পরে অবসর গ্রহণ করেন। পেশার বাইরে তিনি নানা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে পূর্ব জার্মানীর রাজধানী বার্লিন কার্ল মার্কস পার্টি কলেজ থেকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের উপর এক বছরের একটি মৌলিক শিক্ষা কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৭৩ সালে বার্লিনে অনুষ্ঠিত ১০ম বিশ্ব ছাত্র ও যুব উৎসবে অংশগ্রহণ। ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি নানা সাফল্য ও শিরোপা স্বীকৃতি অর্জন করেন। এই সময়কালে তিনি নানা শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়ের বেষ্ট প্লেয়ার ট্রফি পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৫১ সালে  আন্তঃ কলেজ ফুটবলের চূড়ান্ত খেলায় “ফিরোজ খান নুন ট্রফি”তে তিনি অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ১৯৫৪ ও ১৯৫৫ সালে বি এল কলেজ চ্যাম্পিয়ন। ১৯৫৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন এ্যাথলেট হিসাবে পুরস্কৃত হন। ১৯৫৩ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত নানা সূত্রে তিনি খুলনা, যশোর রাজশাহী ও কুষ্টিয়া জেলা একাদশের হয়ে ফুটবলে (কখনো দলীয় অধিনায়করূপে) অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৭-তে কলকাতা ১ম বিভাগ ফুটবল দল “এরিয়ান্স ক্লাব”এর পক্ষে তিনি আই এফ এ শিল্ড, ডুরাল্ড কাপ ও রোভার্স কাপে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৬ সালে রাজশাহী জেলা একাদশের পক্ষে হুইলার শিল্ডে মুর্শিদাবাদ অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫৭সালে ত্রিদেশীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় ট্রাঙ্গুলার ফুটবলে পাকিস্তানের পক্ষে অংশ গ্রহণের অনুরোধে এমএ ফাইনাল পরীক্ষার কারণে তাকে অপেক্ষা করতে হয়। ক্রীড়া ক্ষেত্রে যশোর জেলা দলের বিশেষ অবদানের জন্য ‘চাঁদের হাট পদক’ মাগুরার ক্রীড়া ও শিক্ষাঙ্গণে অবদানের জন্য ‘মোখলেসুর রহমান পদক’-এ ভূষিত করা ছাড়াও ‘মাগুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থা’র আজীবন সদস্যপদে তাঁকে বরণ করা হয়।

নতুন নিয়মে #উপবৃত্তি পেতে হলে অভিভাবকের NID এর সাথে সিম/মোবাইল নং এবং সিম/মোবাইল নং ও নগদ একউন্ট একই NID হতে হবে। 

 নতুন নিয়মে #উপবৃত্তি পেতে হলে অভিভাবকের NID এর সাথে সিম/মোবাইল নং এবং সিম/মোবাইল নং ও নগদ একউন্ট একই NID হতে হবে। 

সমস‌্যা বিদ‌্যমান:

১। পিতার nid দিয়ে সিম মাতা অভিভাবক হিসেবে ফোন নং দেওয়া। 

২।কোন অভিভাবকের নগদ একাউন্ট মাতার নামে 

৩। মাতার nid দিয়ে সিম উঠানো নগদ একাউন্ট অভিভাবক পিতার নামে

৪। কখনো ১৭ সংখ্যার nid পরে জমা দেওয়া স্মার্ট কার্ড সিম উঠানো পুরাতন NID


সমাধান:

# নগদ ভেরিফিকেশন আগে চেক করে শিউর হয়ে এন্ট্রি করতে হবে। 

# প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশীরভাগ অভিভাবকের সিম/মোবাইল নং স্বামীর এন আই ডি দিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করা। উপবৃত্তিতে সার্ভার ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে।

 # পিতার NID এবং পিতার মোবাইল নাম্বার একাউন্ট মিলে গেলে অভিভাবক পিতার নাম দেওয়া যেতে পারে। উপবৃত্তির ক্ষেত্রে নগদ একাউন্ট অটোমেটিক্যালি হয়ে যাওয়ার কারণে অফিসিয়াল কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়নি যে কারণে পুনরায় যাচাই করার জন্য দেওয়া হয়েছে।

# যে অভিভাবকদের এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে তাদেরকে কাগজপত্র জমা দিয়ে অ্যাকাউন্ট সঠিক করে নিতে হবে।সেক্ষেত্রে এন্ট্রির জন‌্য ৪৮ ঘন্টা অপেক্ষা করে ভেরিফিকেশন করতে হবে।


 যে বিভাগ গুলো এখনো উপবৃত্তির জন্য চালু হয়নি সেই বিভাগ গুলো ইউজার আইডি আপডেট করার প্রয়োজন নেই যখন চালু হবে তখন ইউজার আইডি দিয়ে আপডেট করে নিতে হবে।


যেসকল বিদ‌্যালয়ে ইউজার আইডি লগইন করতে ব‌্যার্থ হয়েছেন সেই বিদ‌্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহোদয়ের তথ‌্য সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ‌্যমে কর্মকর্তা মহোদয়গণের বিভাগীয় হোয়াটসঅ‌্যাপ গ্রুপে দিয়ে ঠিক করে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে দুই দিন সময় লাগতে পারে। না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

 

সিম ভেরিফিকেশন করার জন্য মোবাইল বিদ্যালয়ে এনে *16001# দিয়ে ডায়েল করে sms এ nid শেষ চার সংখ্যা লিখে পাঠানোর পর ফিরতি sms এ তথ্য পেয়ে যাবেন।

#উপবৃত্তি

শনিবার, ১৭ মে, ২০২৫

অনেক স্বপ্ন নিয়ে বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য,২০১৩সালে সরকারি চাকরিতে জয়েন করেছি, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 অনেক স্বপ্ন নিয়ে বাবা-মার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য,২০১৩সালে সরকারি চাকরিতে জয়েন করেছি, ৪৫০০ টাকা বেসিকে। ১৩ বছর চাকরি করার পরে সামান্য কিছু  বেতন বেড়েছে, সব মিলিয়ে মাস শেষে  কিছু টাকা পাই। প্রথম পোস্টিং ছিল কুমিল্লা । বছরে কয়েক বার বাড়িতে  ছুটি আসতাম। ছুটি শেষ বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় পকেটে ভাড়ার টাকাও থাকতো না। এত অল্প টাকা বেতনে কখনো বাবা,মা ,ভাই ,বোন ,কারো স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি, কোনদিন ভালো বাসে উঠে ছুটিতে বাড়িতে আসতে পারেনি। কখনো ভালো রেস্টুরেন্টে খেতে পারেনি। বাবা মাকে ভালো জিনিস খাওয়াতে পারেনি। চাকরি যখন ৩/৪ বছর তখন বিয়ে করেছি। তখন ব্যাংকে আমার ১০ হাজার টাকাও নেই, শ্বশুর বাড়িতে যখন বেড়াতে গিয়েছি, কোনদিন ভালো কিছু সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেনি, শ্বশুরবাড়িতে গেলে অনেক লজ্জা লাগ তো, কারণ আমার শ্বশুর বাড়িতে আমাকে অনেক আদর করত। প্রত্যেকটা জামাই চায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে সবচেয়ে ভালো জামাই হয়ে থাকতে। প্রত্যেকটা মানুষের কিছু প্রিয় স্বপ্ন থাকে। আমার প্রিয় স্বপ্ন ছিল , ভালো কাপড়-চোপড় পড়া ভালো জুতা পরা, একটা মোটরসাইকেল কিনে ব্যবহার করা, খুব সামান্য একটা স্বপ্ন, সেগুলো কোনদিন পূরণ করতে পারিনি, আজ চাকরি আমার ১৩ বছর প্রায় শেষ, এখন ও একটা মোটরসাইকেল কিনতে পারিনি, বাড়িতে গেলে সব সময় বন্ধুদের মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়াই। বন্ধুরা সব সময় বলে মোটরসাইকেল কখন কিনবি,  । তখন শুধু মনে মনে হাসি , কারন আমার নামের পাশে তো সরকারি চাকরিজীবী লেখা আছে , বন্ধুরা তো বলবে এটাই স্বাভাবিক।,  চাকুরী জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। প্রতিদিন রাত জেগে ডিউটি দিয়েছি, ভোতা কাচি দিয়ে ঘাস কেটেছি, ঘাস কাটতে কাটতে হাতের মধ্যে ফুচকা পড়ে গেছে, একদিন তো কান্না করে দিয়েছিলাম ঘাস কাটতে গিয়ে, তখন এক সিনিয়র সার্জেন্ট, আমার হাত দেখে বলেছিল, ও মনে হয় কোনো ভালো ফ্যামিলির ছেলে , ওকে আর ঘাস কাটতে দেয়া যাবে না কোদাল দিয়ে মাটি কেটেছি, নোংরা ড্রেন পরিস্কার করেছি, ১৬ মাইল দৌড় দিয়েছি, তিন মাইল দৌড় দিয়েছি, সারা জীবন গরমের মধ্যে মোটা কাপড়ের ইউনিফরম পড়েছি , মাথায় মোটা টুপি পড়েছি, অনেক গরম পড়ছে, কখনো কখনো মনে হয়েছে মাথার টুপিটা খুলি, মোটা কাপড়ের ইউনিফর্ম টা একটু খুলি। কিন্তু ডিপার্টমেন্ট এর চাকরি সিনিয়ারদের ভয়ে কখনো তা সম্ভব হয় নাই। জীবনে কখনো কি শুনেছেন, সরকারি চাকরি পাওয়ার পরে ও চাকরি চলাকালীন অবস্থায় মানুষ আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যা করে, এখন অবশ্য বিজিবি, পুলিশ আর্মি, এই তিন বাহিনীর লোক আত্মহত্যা করে, তাও আবার নিজের অস্ত্র দিয়ে নিজেই, গুলি করে। কিন্তু কখনো কি কেউ জেনেছেন কিসের জন্য আত্মহত্যা করে। সেটা কখনো কেউ জানতে চায় না। এতকিছুর পরেও ,আমরা বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। কিন্তু পারিনা, এই সরকারি চাকরিতে একটা জিনিস পেয়েছি সবার কাছ থেকে, সেটা হচ্ছে ,বাবা মায়ের সাথে ভালো সম্পর্ক নেই, ভাইদের সাথে নেই, আত্মীয়-স্বজনের সাথে নেই, শশুর বাড়ির লোকজনের সাথে নেই। ইচ্ছা থাকলেও মানুষের মনের আশা পূরণ করতে পারছি না। কারণ ১৩ বছর চাকরিতে এখন বেতন পাই ২৫ + হাজার টাকার মত, এই টাকা দিয়ে কি করা সম্ভব, যার দুইটা ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করে, বাবা-মা বৃদ্ধ, মাস শেষে, কোনরকম ডাল ভাত খেলে হয়তো বা পাঁচ হাজার টাকা ব্যালেন্স থাকে, কিন্তু অসুস্থ হলে আবার ৫০০০ টাকা দেনা হতে হয়। সরকারি চাকরি করি ইচ্ছা করলেই তো লুঙ্গি পড়ে ঘুরে বেড়াতে পারি না , সেই জন্য প্যান্ট পড়তে হয়। আমাদের চেয়ে রিক্সাওয়ালা অটোওয়ালাতারা অনেক ভালো আছে। কারণ তাদের তো প্যান্ট পড়ার চিন্তা নেই। আজ ০৮ টি বছর সরকার বেতন বৃদ্ধি করে না। জিনিসপত্র দাম তো আর থেমে নেই সব দ্বিগুণ হয়েছে।

আর কতদিন এভাবে চলবে। আস্তে আস্তে স্বপ্নগুলো ছোট হয়ে আসছে মন ভেঙে যাচ্ছে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। 

শরীরের বিভিন্ন রোগব্যাধি ভর করছে।

 কেউ যদি কষ্ট করে আমার লেখাগুলো দয়া করে পড়ে থাকেন।

অনুরোধ থাকবে। কেউ অবহেলার চোখে দেখবেন না। কারো দয়া বা করুণা পাওয়ার জন্য লিখিনি। বিভিন্ন টেনশন মাথার মধ্যে ভর করে, রাতে ঘুম আসে না। 

তাই লিখলাম।

 🥲🥲

ইনকামে বরকত পাচ্ছিনা এই অভিযোগ নিয়ে একদিন আমার এক প্রিয় উস্তাযের (মেন্টর) কাছে গেলাম। কোনো কিছু নিয়ে দ্বিধান্বিত-কনফিউজড কিংবা অশান্তিতে থাকলে তার সাথে কথা বললে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি আমি পাই। 

 ইনকামে বরকত পাচ্ছিনা এই অভিযোগ নিয়ে একদিন আমার এক প্রিয় উস্তাযের (মেন্টর) কাছে গেলাম। কোনো কিছু নিয়ে দ্বিধান্বিত-কনফিউজড কিংবা অশান্তিতে থাকলে তার সাথে কথা বললে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি আমি পাই। 


তো একবার এইরকম একটা ডাউট নিয়ে আমি মেন্টরের সাথে দেখা করলাম। 


আমাকে দুধ এবং চিনি ছাড়া স্রেফ গরম পানিতে ডুবানো একটা টি প‍্যাক এগিয়ে দিয়ে বললেন-তানভীর, আছো কেমন? 

আমি কিছুটা আড়ষ্টতা নিয়ে তাকে বললাম, কনফিউজড উস্তায! 


তিনি আমার চেহারার দিকে গভীর ভাবে তাকালেন, মিনিট খানেক। তারপর চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন-কি নিয়া পেরেশানিতে আছো? 

আমি তার আরো একটু সামনে এসে নিচু কন্ঠে বললাম-উস্তায, আমার ইনকাম নিয়া আমি দ্বিধায় আছি। আমি সৎ পথে উপার্জন করি। পেশাগত কাজে পারলে ২০০ ভাগ নিবেদন দিয়ে কাজ করি। তারপরও কেন জানি এতো বছর কাজ করার পরও আমার মনে হয়ে যে আমার উপার্জনে কোনো বরকত পাচ্ছিনা। 


উস্তায মন দিয়ে আমার কথা শুনলেন, তারপর জিজ্ঞেস করলেন

*কেন তোমার এমন মনে হচ্ছে? 

আমি এবার বললাম, যে আমার সেভিংস হচ্ছেনা। প্রতিবছর যেমন আয় বাড়ছে, তেমনি খরচও বাড়ছে। 


উস্তায আবার কী মনে করে যেন আমার ডান হাতটা তার হাতে নিলেন। তারপর আবার গভীর ভাবে আমার কপাল আর চোখের দিকে তাকালেন। প্রশ্ন করলেন

_কিসের খরচ বাড়ছে তোমার? 

_এই ‍যেমন বাচ্চাদের এডুকেশন-ওদের স্কুলের বেতন, ওদের টিচারদের বেতন, কিছু অস্বচ্ছল আত্নীয় স্বজনদের খরচ। 

_কোন স্কুলে পড়ে তোমার বাচ্চারা? 

-আমি স্কুলের নাম বললাম। 

_-তানভীর, তুমি কি মনে করো, শুধু ব‍্যাংকে জমা বাড়া মানেই আয়ের বরকত? 

আমি আমতা আমতা করি। 

_এই যে তুমি সেরা একটা স্কুলে তোমার বাচ্চাদের পড়াতে পারছ, এটা কি বরকত নয়? কয়জন বাবা-মা এরকম ভালো স্কুলে তার বাচ্চাদের পড়াতে পারছে? 

হ‍্যাঁ, তা তো ঠিক। আমি মাথা নাড়ি। 

_তোমার বাচ্চারা কেমন? ওরা কি উচ্ছৃংখল? তোমাদের কথা বার্তা শোনেনা? 

-না, না উস্তায। খুব লক্ষি বাচ্চা ওরা। 

_এটা কি বরকত নয়, তানভীর? 

_জি, অবশ‍্যই। 

_বিগত ৫/৭ বছরে তোমার পরিবারে কেউ বড় রকম অসুস্থ হইছে? বা তুমি নিজে? 

_না উস্তায, আল্লাহর রহমতে কেউ ওরকম সিরিয়াস অসুস্থ হয়নাই। আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়েছিল, আল্লাহর রহমতে দ্রুত সুস্থ হয়ে গেছে। 

*হাসপাতালে ভর্তি করাতে হইছিল? 

_না উস্তায, আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়েছে। 

:-এই যে তোমরা সুস্থ আছো, এটা কি বরকত না, তানভীর? আমার মাথায় হাত রেখে জিজ্ঞেস করেন তিনি। 

-জি অবশ‍্যই। 


-তানভীর, তোমার স্ত্রী কেমন মানুষ? সে কি তোমার সাথে সদাচারণ করে? তোমার খেয়াল রাখে? সে কী উন্নত চরিত্রের নয়? 

না না, উস্তায। সে অসাধারণ উন্নত চরিত্রের মানুষ। সে শুধু আমাকেই নয়। আমার সন্তাদের, আমার বাবার, আত্নীয় স্বজনেরও যত্ন নেয। 

:-আর কী বরকত চাও, তুমি? পরিবারে শান্তির চেয়ে বড় বরকত কী হতে পারে? 

:-জি উস্তায, আমি আসলে এভাবে গভীরে গিয়া চিন্তা করিনাই। 


*তোমার বাবা-মা আছেন? 

-মা নেই, বাবা আছেন? 

-বাবা কি তোমার সাথে থাকেন, নাকি আলাদা থাকেন? 

-আমার সাথে থাকেন, উস্তায। আমার সাথে। 

*তোমার বাবা তোমার সাথে থাকেন, এ যুগে বাবা-মা সাথে থাকা, কত বড় বরকত তানভীর, তুমি টের পাওনা? 

-টের পাই উস্তায। টেরপাই। আব্বা সাথে আছেন, এইটা

অনেক বড় বারাকা, উস্তায। 


তিনি আর কথা বাড়ান না। আমাকে বুকে জড়াই ধরেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। তারপর বলেন, জীবনে টাকা পয়সা-ধনসম্পদ বৃদ্ধিই শুধু বরকত না। জীবনে তুমি সুস্থ আছো, তোমার একটা সুন্দর পরিবার আছে, তুমি তাদের এবং তারা তোমার দেখভাল করতে পারছে-এটাও বরকত। জীবনে তুমি সঠিক জ্ঞানের আলো পাচ্ছ-এটাও বরকত। আত্নীয় স্বজনের খবর নিতে পারছ-এটাও বরকত। প্রতিদিন বাবার চেহারা দেখতে পাচ্ছ-এটাও বরকত। 


তুমি টাকা পয়সা ব‍্যাংকে জমাইয়া কী এরচেয়ে বেশি বরকত পাবে, তানভীর? 

*উস্তায, আপনি ঠিক বলছেন। 


তিনি আমাকে নিচ তলা পর্যন্ত এগিয়ে দেন। আমি তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বের হয়ে পড়ি। গাড়ি সার্ট দিয়ে আমি প‍্যানারমিক সানরুফটা খুলে দিই। তারপর গভীর কৃতজ্ঞতায় আকাশের দিকে তাকাই। সেদিন ছিল জোৎস্না। রুপালী আলোয় ভেসে যাচ্ছে আকাশ। সানরুফের খোলা ছাদ দিয়ে আমি দুইহাত উপরে তুলে দাঁড়িয়ে যাই। তারপর দুচোখ বন্ধ করি। আমি অনুভব করি, পৃথিবীর সব বরকত জড়িয়ে আছে আমায়।


(তানভীর শাহরিয়ার রিমন)

Cp

ন্যানো-স্কেলে কোয়ান্টাম সুপারপজিশন: সোডিয়াম কণার 'একই সঙ্গে দুই জায়গায়' থাকার নতুন প্রমাণ,,,মুস্তাকীম ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ন্যানো-স্কেলে কোয়ান্টাম সুপারপজিশন: সোডিয়াম কণার 'একই সঙ্গে দুই জায়গায়' থাকার নতুন প্রমাণ ~ কোয়ান্টাম জগতের সবচেয়ে বিস্ময়কর ধার...