এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫

অরুণিকা লেখিকা_সামিয়া_বিনতে_হামিদ ||পর্ব-৪৩|| 

 #অরুণিকা

#লেখিকা_সামিয়া_বিনতে_হামিদ

||পর্ব-৪৩|| 

৭৩.

হলুদ শাড়ি আর ফুলের গহনার আবরণের ঢাকা পড়ে গেছে একটা বিধ্বস্ত মন। পিঁড়িতে পুতুলের মতো বসে আছে শতাব্দী। সবাই একে একে এসে তার গায়ে হলুদ লাগিয়ে দিচ্ছে, আর তার দেহটা যেন সেই হলুদের স্পর্শে শিউরে উঠছে। সে নিজেও জানে না সে কোন ভাবনায় ডুবে আছে। কিছু এলোমেলো আলোছায়া তার মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই আলোছায়ার ভীড়ে ভেসে উঠছে প্রথম দেখা তাহমিদের সেই বিরক্তিমাখা মুখ, রোদে রাঙা হয়ে যাওয়া গাল, অসহায় চোখ, প্রশান্তির হাসি। এসব ভাবতে ভাবতেই তার চোখ দু'টি ছলছল করে উঠলো। এতোক্ষণ তার চোখ জোড়া পায়ের নখের দিকেই স্থির ছিল, এবার সে চোখ জোড়া উপরে তুলতেই সভার ভীড়ে সবুজ পাঞ্জাবি পরা সেই ছেলেকে দেখতে পেলো, যাকে সে এতোক্ষণ মনের আলোছায়ার ভীড়ে খুঁজছিল।

এদিকে তূর্য আর অরুণিকা শতাব্দীর সামনে এসে দাঁড়ালো। অরুণিকা হাঁটু গেড়ে বসে বলল,

"শতাব্দী দিদি, তুমি আমাদের ফেলে চলে যাবে?" 

অরুণিকার মুখে 'শতাব্দী দিদি' ডাকটা শুনে শতাব্দীর ভেতরটা আরো খালি হয়ে গেলো। শতাব্দী কাঁপা কন্ঠে বললো,

"ছোট সখী, এভাবে পর করে দিলে আমায়? আমাকে শতু আপু ডাকবে না?" 

অরুণিকা তূর্যের দিকে একবার তাকালো, তারপর বলল,

"আমি তো চেয়েছি তোমাকে আমার আপু করে নিয়ে যেতে। তুমিই তো দিদি হয়ে গেলে। কি হতো তাহমিদকে বিয়ে করলে? তুমি সবসময় আমার সাথেই থাকতে পারতে।" 

তূর্য অরুণিকার হাত ধরে ইশারায় তাকে চুপ থাকতে বললো। শতাব্দী মলিন হেসে বলল,

"আমার তো আপু হওয়ার যোগ্যতা ছিল না। ঈশ্বর এটাই চেয়েছিলেন। উনি আমাকে তোমার দিদি বানিয়েই পাঠিয়েছিলেন।" 

আহনাফ তূর্যের পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলল,

"কংগ্রাচুলেশন। নতুন জীবন সুখের হোক।" 

শ্রীজা এসে অরুণিকার হাত ধরে বলল,

"দিদিকে হলুদ লাগিয়ে দাও।" 

অরুণিকা হলুদ লাগিয়ে দিয়ে শতাব্দীকে বলল,

"জানো, কাল আমি তাহমিদকে প্রথম কাঁদতে দেখেছি।" 

শতাব্দী চোখ বড় বড় করে অরুণিকার দিকে তাকালো। অরুণিকা আবার বলল,

"ও কারো সামনে কাঁদে না। ওয়াশরুমে গিয়ে কাঁদে। ওর চোখ অনেক লাল হয়ে যায়। সায়ন্তনী আপু মারা যাওয়ার পর আরাফ যেভাবে কাঁদতো, এখন ঠিক সেভাবেই তাহমিদ কাঁদে। আমি আগে কখনো তাহমিদকে কাঁদতে দেখি না। ও কেন কাঁদে জানো?" 

শতাব্দীর‍ গলায় কিছু একটা আটকে যাচ্ছিল। সে কোনো শব্দ বের কর‍তে পারছিলো না। তবুও অনেক কষ্টে অরুণিকার হাত ধরে কাঁপা কন্ঠে বলল,

"বলো না সখী। শুনতে পারবো না।" 

অরুণিকা আরো কিছু বলতে যাবে তখনই আহনাফ বলল,

"অরু, এদিকে আসো।" 

অরুণিকা নামতেই আহনাফ তার হাত ধরে অন্যদিকে নিয়ে গিয়ে বলল,

"শতাব্দীকে তাহমিদের ব্যাপারে কোনো কথা বলবে না!" 

"কেন?" 

"তুমি এসব বুঝবে না। এখন এসব বললে ঝামেলা হবে। তুমি কি চাও কোনো ঝামেলা হোক?" 

"না, আমি কেন চাইবো? আমি তো চাই, ওরা দু'জন...!" 

আহনাফ অরুণিকাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,

"তোমাকে প্রেম গুরু হতে হবে না। তুমি বয়সে অনেক ছোট। আমাদের এসব বুঝার যথেষ্ট বয়স হয়েছে। যেখানে আমরা চুপ করে আছি, সেখানে তোমাকে বুঝতে হবে, এটা সম্ভব না, তাই আমরা চুপ করে আছি।" 

এদিকে ইমন আর মাওশিয়াত শতাব্দীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একপাশে গিয়ে বসলো। ইভান মেহমানদের খাওয়া-দাওয়ার দেখাশুনায় মাস্টারমশাইকে সাহায্য করছে। আরাফ তাহমিদের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। তাহমিদ দূর থেকেই শতাব্দীর দিকে তাকিয়ে আছে। অনেকক্ষণ পর তূর্য এসে বলল,

"তুই শতাব্দীর সাথে কথা বলবি না?" 

তাহমিদ মাথা নেড়ে সামনে পা বাড়ালো। তাহমিদ কাছাকাছি যেতেই শতাব্দী পিঁড়ি থেকে উঠে দাঁড়ালো। তার মা কাছে আসতেই সে বলল,

"মা, স্নান করিয়ে দাও। গা জ্বলছে।" 

শতাব্দী ভেতরে চলে যেতেই তাহমিদ অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো। শ্রীজা হঠাৎ কোথা থেকে এসে তাহমিদের হাতে একটুখানি হলুদ লাগিয়ে দিলো। তাহমিদ সাথে সাথেই চমকে উঠলো। শ্রীজা বলল,

"শুনেছি, কনের গায়ে লাগানো হলুদ তার বরের গায়েই লাগে। যদিও এটা কতোখানি সত্য তা আমি জানি না। কিন্তু যদি সত্য হয়, তাহলে দেখবে তুমিই আমার দাদা হবে।" 

তাহমিদ পকেট থেকে রোমাল বের করে হলুদগুলো মুছে নিলো। শ্রীজা তা দেখে বলল,

"দাদা, দিদি তোমাকে অনেক ভালোবাসে। তুমি দিদিকে নিয়ে পালিয়ে যাও। তোমরা তো দেশে চলে যাবে। ওখানে নিয়ে গেলে এরা আর দিদিকে খুঁজে পাবে না।" 

তাহমিদ কোনো উত্তর দিলো না। শ্রীজা মলিন হেসে বলল,

"দিদি ঠিকই বলেছে, তুমি তোমার কষ্ট লুকিয়ে রাখতে পারো না। তোমার চোখ দেখলেই সব বোঝা যায়।" 

তাহমিদ চোখ বড় বড় করে শ্রীজার দিকে তাকালো। শ্রীজা আবার বলল,

"সবার চোখেই হাসি। শুধু তোমার চোখে বিষন্নতা। কেন দাদা? তুমি কষ্ট পাচ্ছো, তাই তো!" 

"এমন কিছুই না।" 

তাহমিদ কথাটি বলেই সরে গেলো। তারপর আরাফের সামনে এসে বলল,

"আমি বাসায় যাচ্ছি।" 

আরাফও তাহমিদকে আটকাতে পারছিলো না। সে ইভানকে এসে বলল,

"আমি তাহমিদের সাথে বাসায় চলে যাচ্ছি।" 

এদিকে ইভান অতিথিদের সাথে কুশল বিনিময় করার সময় খেয়াল করল, একটা অর্ধ বয়ষ্ক লোক বাইরের চেয়ারে বসে খুব মনোযোগ দিয়ে ইমন আর মাওশিয়াতের দিকে তাকিয়ে আছে। ইভান কিছুটা সামনে এগুতেই সালেহ আলী তার সামনে এসে দাঁড়ালো। ইভান তাকে দেখেই বলল,

"কেমন আছেন, চাচা?" 

সালেহ আলী ব্যস্ত কন্ঠে বললেন,

"আমি তো ভালো আছি। তুমি এখানে কি করছো? তুমি আমাদের মেহমান। চলো, ওখানে বসো গিয়ে।" 

সালেহ আলী তাকে টেনে নিতেই সে পেছন ফিরে দেখলো, সেই লোকটি আর সেখানে নেই। ইভানের এবার সন্দেহ হলো। সে সালেহ আলীর সাথে কথা বলার মাঝেই মেসেজ করে বাকিদের বিষয়টা জানিয়ে দিলো। আরাফ ততোক্ষণে তাহমিদকে নিয়ে বাসায় পৌঁছে গেছে। সে দেখলো, ইভান গ্রুপে মেসেজ দিয়েছে,

"কেউ একজন আমাদের উপর নজর রাখছে। অরুণিকার উপর নজর রাখিস।" 

আরাফ মেসেজটি দেখেই তাহমিদকে বলে বাসা থেকে বের হতে যাবে তখনই তাহমিদ এসে দরজা ভালোভাবে আটকে দিলো। আরাফ ভ্রূ কুঁচকে বললো,

"সর। দরজা বন্ধ করে দিয়েছিস কেন? অরুকে আনতে যাবো।" 

তাহমিদ লাইট বন্ধ করে দিয়ে আরাফকে নিয়ে বারান্দায় এলো। আরাফ নিচে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটি দেখে বলল,

"এই গাড়িটা এখানে!" 

"আমরা ওখান থেকে ফেরার সময় এই গাড়িটা আমাদের পিছু নিচ্ছিল। কিন্তু আমি এতোক্ষণ এটা স্বাভাবিক ভাবছিলাম। এখন ইভানের মেসেজ দেখে নিশ্চিত হয়েছি।" 

"কি করবো এখন!" 

"বাসা থেকে বের হতে হবে। ওরা জানে না আমরা ক'তলায় থাকি। কিন্তু এভাবে বের হলে তো চিনে ফেলবে।" 

"কিন্তু সালেহ আলী তো জানে, আমরা কোথায় থাকি, ক'তলায় থাকি। তাহলে আজই কেন আসলো? আর এভাবেই বা কেন পিছু নিলো?" 

হঠাৎ দরজায় বেল বেজে উঠলো। আরাফ আস্তে আস্তে দরজার সামনে গিয়ে পীপহোল দিয়ে দেখলো, একটা কালো কোট পরা লোক দাঁড়িয়ে আছে। তাহমিদ রান্নাঘর থেকে একটা ছুরি নিয়ে এলো। আরাফ ধীরে ধীরে তার রুমে চলে গেলো। রুমে গিয়ে আলমারির ভেতর থেকে একটা পিস্তল বের করে আনলো। তাহমিদ পিস্তলটি দেখে বলল,

"এটা কোথায় পেয়েছিস?" 

"ইভান দিয়েছিল। ওর এক বন্ধুর বাবার পিস্তল। উনি পুলিশে চাকরি করেন।" 

"এটা বেআইনী, আরাফ।" 

"আইন কানুন মেনে চলার সময় এই মুহূর্তে নেই। ইভান এটা সিকিউরিটির জন্য এনেছে। আর এই বিষয়ে আমি আর ও ছাড়া কেউই জানে না।" 

"আচ্ছা, এখানে কি বুলেট আছে?" 

"হ্যাঁ, চারটা আছে।" 

আরাফ পিস্তল নিয়ে দরজার কাছে আসতেই তাহমিদ বলল,

"আরাফ, আগে কখনো পিস্তল চালিয়েছিস?" 

"না।" 

"তাহলে, অভিজ্ঞতা ছাড়া বুলেটসহ পিস্তল হাতে নিয়েছিস কেন? কিভাবে চালাতে হয়, তা তো জানতে হবে।" 

"আরেহ, এটা তো সবাই জানে।" 

"না, ভাই। উল্টাপাল্টা কিছু হয়ে গেলে? দাঁড়া, এক কাজ করি, বিক্রম দাদাকে ফোন দেই।" 

"বিক্রম কে?" 

"অরুণিকার কেইসে যিনি আমাদের সাথে ছিলেন!" 

"তোর উনার সাথে যোগাযোগ আছে?" 

"হ্যাঁ, আছে।" 

"তাহলে, তাড়াতাড়ি ফোন দে।" 

তাহমিদ ফোন দিতেই বিক্রম ফোন রিসিভ করলো। তাহমিদ পুরো ঘটনা খুলে বলতেই তিনি তখনই তার টিম নিয়ে তাদের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। এদিকে লোকটা কিছুক্ষণ পর পর বেল দিচ্ছিল। হুট করে সে কোথায় চলে যাচ্ছে, আবার পাঁচ মিনিট পর পর এসে বেল দিচ্ছে। আরাফ ইভানকে মেসেজ দিয়ে বলে দিলো, বাসায় না আসার জন্য। তাই মাওশিয়াত তার চাচ্চুকে গাড়ি পাঠাতে বললো। আর সেই গাড়ি নিয়ে তারা সোজা মাওশিয়াতের বড় চাচার বাসায় চলে গেলো। মাওশিয়াতের বড় চাচা সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। আর এই মুহূর্তে তার বাসাটাই সবার জন্য নিরাপদ। প্রায় দশ-পনেরো মিনিটের মধ্যে বিক্রম তাহমিদকে ফোন করলো। তাহমিদ বারান্দায় এসে দেখলো বিক্রম তার গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর আগের গাড়িটাও নেই। পুলিশের গাড়ি দেখে হয়তো সেই গাড়িটা চলে গেছে। এরপর বিক্রম তাদের ফ্লোরে এসে তাদের নিয়ে নিচে নামলো, আর তার গাড়িতে করেই তাহমিদ আর আরাফকে মাওশিয়াতের চাচার বাসায় নামিয়ে দিলো।

তারা সবাই গোল হয়ে একটা রুমে বসে আছে। অরুণিকা ঘুমিয়ে পড়েছে। মাওশিয়াত এসে বলল,

"অরুণিকাকে পাশের রুমে শুইয়ে দাও।" 

আরাফ জোর গলায় বলল,

"না। ও ওখানেই থাকুক।" 

"কি বলছো, আরাফ? ও এখন বড় হয়ে গেছে। বাসায় চাচীরা আছে। বড় চাচীই বললো ওকে নিয়ে আসতে।" 

এবার ইমন বলল,

"আরাফ যেতে দে ওকে। মাওশিয়াত থাকবে তো অরুণিকার সাথে।" 

আরাফ আরো জোর গলায় বলল,

"না, বললাম তো। ও এখানেই থাকবে। আমি আর আহনাফ নিচেই ঘুমাবো।" 

মাওশিয়াত বলল,

"না, নিচে কেন থাকবে? পাশে আরেকটা রুম আছে, ওখানে দু'টো বেড পাশাপাশি আছে। তোমরা দু'জন বরং অরুণিকাকে নিয়ে ওখানেই থাকো।" 

এরপর সবাই যার যার রুমে শুয়ে পড়লো। আহনাফ অরুণিকার হাত ধরে বসে আছে। তখন আরাফ বলল,

"আমাদের ওই বাসা ছাড়তে হবে।" 

আহনাফ বলল,

"হ্যাঁ, আর ভাবছি, আমরা অরুকে নিয়েই দেশে ফিরবো। এখানে তুই আর ইভান একা থাকবি। অরুকে কার ভরসায় রেখে যাবি? ওখানে আমরা সবাই থাকবো!" 

"আমি অরুকে কারো ভরসায় ছাড়তে চাচ্ছি না। ওর কিছু হয়ে গেলে?" 

"আমি আছি তো।" 

"আমি তোর উপর বিশ্বাস করতে পারবো না। অরু তোর কথা শুনবেও না। ও শুধু আমার কথায় শুনে।" 

"আচ্ছা, তাহলে ওরা যাক! আমি এখানেই থেকে যাই। তোরা বাইরে থাকলে আমি অরুকে দেখবো।" 

"হুম, সেটাই কর। আর আমাদের শুটিং শিখতে হবে। লাইসেন্স গান লাগবে।" 

এদিকে সকালে এই বিষয়ে কথাবার্তা হতেই তূর্য বলল,

"টুইংকেল না গেলে আমিও এখানে থাকবো।" 

আহনাফ ভ্রূ কুঁচকে বললো,

"ওর সাথে তোর কি!" 

"আমার ওকে ছাড়া ভালো লাগে না। ও আমার মন খারাপের বিনোদন।" 

ইমন বলল,

"আচ্ছা, তাহলে আমরা সবাই একসাথেই দেশে ফিরবো। আরো একবছর অপেক্ষা করি। এই মুহূর্তে আমাদের একসাথে থাকা দরকার। আলাদা হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।" 

ইভান বলল,

"তাহলে আমাদের দ্বিতীয় ধাপটাই আগে শুরু করা উচিত। আপতত বিজনেস দাঁড় করানো উচিত। আর কিছু ট্রেনিং দরকার। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমরা এখনো শক্ত হই নি। তাই এই এক বছরে আগে আমাদের নিজেদের রক্ষা করার মতো ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তা হোক আর্থিক, বা শারীরিক।" 

এদিকে রহমতুল্লাহর ফোনে কল এলো। কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একজন বলে উঠল,

"কি হলো এটা?" 

রহমতুল্লাহ কাঁপা কন্ঠে বললেন,

"পুরো পরিকল্পনায় নষ্ট হয়ে গেছে, জনাব।" 

"ওরা না ফিরলে আমাদের এতোদিনের পরিকল্পনা নষ্ট হয়ে যাবে।" 

"দেখুন জনাব। হঠাৎ করেই যে এমন কিছু হবে!" 

রহমতুল্লাহকে থামিয়ে লোকটা বলল,

"সব তোমার বোকামীর কারণে হয়েছে।" 

"আমি তো ভেবেছি, ওরা ভয় পেয়ে কলকাতা ছেড়ে দেশে ফিরবে।" 

"হ্যাঁ, কিন্তু এখন তো ওরা দেশেই ফিরবে না বলছে।" 

"কিন্তু জনাব, আপনি কিভাবে নিশ্চিত হয়েছেন যে ওরা দেশেই ফিরছে না?" 

"তুমি কি ভাবছো, ওদের সাথে আমি আমার লোক রাখি নি? ওই ছ'জনের প্রতি পদক্ষেপের খবর আমার কাছে আছে। আমার লোক সবসময় ওদের সাথেই থাকে। ওরা যে তোমার উপর সন্দেহ করে দেশে এসেছিল একমাসের জন্য এটাও আমার লোকেই বলেছে। ভাগ্যিস সব আগেই জানতে পেরেছি, নয়তো ওরা জেনে যেতো, তুমি আমার লোক। এখন ওরা তা-ই দেখেছে, যা আমি দেখিয়েছি। ওরা এখন মুরশিদ জুবাইয়েরকেই সন্দেহ করছে।" 

"কিন্তু জনাব, লোকটা কে যে আপনাকে এসব খবর দিচ্ছে!" 

"তোমার এসব না জানলেও চলবে। এখন যা করার, আগে ওদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করো। ওদের দেশে আনার ব্যবস্থা করো। নয়তো সেই ছ'টা বুলেট তোমাকেই বিদ্ধ করবে।"

চলবে-

বাবা মায়ের অনুভূতিটুকু অনুভবেই বুঝে নেন। কলমে: সরজিৎ ঘোষ। Sarajit Ghosh

 আজ সকালে বাজারের ব্যাগ হাতে আমাকেই বেরোতে হলো। 'আমাকেই বেরোতে হল' কথাটা এই কারণেই বললাম সকালের বাজার করার দায়িত্ব আমার মায়ের। মা নিজে হাতে বাজার করবে, সে সবজিই হোক বা মাছ। বাড়িতে ফ্রিজ থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন বাজারে যাবেই। মায়ের বক্তব্য ফ্রিজে মাছ সবজি রাখার থেকে প্রতিদিন  টাটকা জিনিস খাওয়াই ভালো।


তো আজ আর মা যেতে পারল না। শুধু আজ নয়, গত দু'তিন দিন মা আর যেতে পারছেই না। সমস্যা চোখে। ডান চোখে দেখতে পাচ্ছে না। বাম চোখটাও আবছা দেখছে। ডাক্তার দেখানো হয়েছে। এর আগে অবশ্য ছানি অপারেশন হয়েছে। ডাক্তার বাবু বললেন, চোখে ইঞ্জেকশন দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ইঞ্জেকশন দিতে গিয়ে দেখা গেল আর এক সমস্যা‌। সুগার লেভেলটা একটু হাই। তাই সুগার কমাতে হবে। যে ডাক্তার বাবুর ট্রিটমেন্টে মা থাকেন উনি আর একটা ওষুধ বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, এতে সুগারটা কমবে। তারপর ইঞ্জেকশনটা নিতে পারবেন। সেই ভাবেই সমস্ত ওষুধ চলছে  গত চার পাঁচদিন। তো আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই মা আক্ষেপ করে বলল,


-মনে হয় আমি আর কোনো দিন বাজার যেতে পারব না। এবার থেকে তুই বাজার করে নিয়ে আসবি। 


মাকে আশ্বস্ত করে বললাম, তুমিই যাবে। কিছুদিন রেস্টে থাকো। চোখ ঠিক হয়ে গেলে, তুমিই বাজার করবে নিজে হাতে‌।


বুঝতে পারছিলাম মায়ের কষ্টটা। এই বয়সে এসে মা নিজের পায়ে হেঁটে, নিজে হাতে দেখে, সবজি কেনা, মাছ কেনা, পাঁচটা মানুষের সাথে কথা বলা, এর মধ্যে রয়েছে মায়ের ভালো থাকার রসদ, বেঁচে থাকার উদ্যম। বয়স বাড়ার সাথে সাথে, শক্তি কমার সাথে  সাথে মানুষ তো একদিন ঘর বন্দী হয়েই যায়। তারপর থেকে বাইরের পৃথিবীটা তখন অধরা থেকে যায়। কি অদ্ভুত জীবন মানুষের।  কিন্তু কেউ কি চায় এভাবে থাকতে?  মন তখন অন্য কথা বলে, একটু বেরোতে পারলেই ভালো হতো। 


তবে আমার মাকে আমি বারণ করে বলতাম, মা রোজ রোজ যাওয়ার কী দরকার আছে। তোমার তো বয়স বাড়ছে। চোখের সমস্যা,  তার ওপর সুগারের পেশেন্ট তুমি, কেন এত কর? আমিই তো করতে পারি এগুলো।


মা বলে, তুই এসব পারবি না। মাছ, সবজি এগুলো সব দেখে আনতে হয়। তাছাড়া তোর সময় কোথায়? সকালে বেরিয়ে সেই সন্ধ্যের পর ফেরা। তোর ওপর চাপ পড়ে যাবে।


আমি জানি, মায়ের এই কথা গুলো বাইরে বের হবার বাহানা। সত্যিই কি আমি বাজার করতে পারব না? নাকি আর কেউ চাকরি বাকরি করে এসব করে না? আসলে মা চায় এই বয়সে একটু বাইরে বেরোবে, চেনা পরিচিত কারো পাথে দেখা হলে একটু সময় বিনিময় করবে, বাইরের জগতটাকে নিজে চোখে দেখবে। আমি আর বাধা দিতাম না মাকে। এগুলোর ও তো প্রয়োজন আছে। মন যদি ভালো না থাকে তখন শরীরটাও আর সায় দেবে না। আমাকে অনেকেই বলে, কেন বয়স্ক মাকে দিয়ে এসব করাও, নিজেই তো করতে পারো। আমি কান দিই নি কারো কথাতেই।  মায়ের ভালো থাকাতেই আমি ভালো থাকা খুঁজি। শুধু একটাই ভয়, রাস্তা ঘাটে গাড়ি ঘোড়ার এত চাপ, কখন যে দুর্ঘটনা ঘটে যাবে, তাই মাকে বলি, খুব সাবধানে রাস্তা চলবে।


সে যাইহোক, যে কথা বলতে গিয়ে এত কথা বলে ফেললাম, সে কথাটা এবার বলি। আজ সকালে বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়েই মাকে জিজ্ঞেস করলাম, বাজারের কী কী জিনিস আনতে হবে।


মা বলল, যা খেতে ইচ্ছে করবে তাই নিয়ে আসিস।


চিকেন নেব ভেবেই বেরিয়েছি। ঘড়িতে তখন  সাড়ে নটা। একটু বেলাই হয়েছে। চিকেনের দোকানে যেতেই মাংস বিক্রেতা ছেলেটি আমাকে দেখেই বলল, কাকিমা আসেনি আজ?


বললাম, মায়ের শরীরটা খারাপ। আজ আসতে পারল না। এবার থেকে আমিই আসব।


-সে ঠিক আছে। কাকিমা আসে তো, এসে অনেক গল্প করে। আমি জিজ্ঞেস করি, তোমার কথা। বলে, ছেলের সময় কোথায়।  এই বয়সে কাকিমা সব কিছু নিজে হাতে করবে। করুক করুক। বাইরেও একটু বেরোনো দরকার আছে। তাতে মন ভালো থাকে।  দাদা তুমি দাঁড়াও, মাংস রেডি নেই‌। আমি তোমাকে দিচ্ছি।


বললাম, তুমি রেডি করো আমি দাঁড়াচ্ছি।  চিকেন ছাড়া আর কী কী নেব তখন সেটাই ভাবছি। হঠাৎ করেই আমার পিছনে কী যেন একটা আওয়াজ হলো। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি এক বয়স্ক ভদ্রলোক, বয়স সত্তরের কাছাকাছি। সাইকেল সমেত উল্টে পড়ে গেল। সাইকেলের দুদিকের হ্যাণ্ডেলে রয়েছে  ব্যাগভর্তি বাজার‌। একটা ব্যাগ থেকে সবজি ছিটকে গিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। আশে পাশে যারা ছিল, তারা বলতে শুরু করল, আরে তোল তোল। কে তুলতে আসবে?  বুঝতে পারলাম, পা ঠেকাতে গিয়ে ব্যালেন্স রাখতে না পেরে পড়ে গেছে। আমি সঙ্গে সঙ্গেই সাইকেলটা তুলে সবজি গুলো কুড়িয়ে ব্যাগে রাখলুম, আর একটি বাচ্চা ছেলে সে এসে ওনার হাতটা ধরে তুলল। কোনো রকমে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে দাঁড়াতে পারলেন, পাশে একটা বেঞ্চ ছিল, আমিও ধরে ওখানেই বসিয়ে দিলাম। দেখলাম পা মচকেছে, আর সব থেকে বেশি লেগেছে কোমরে। সঙ্গে সঙ্গেই পাশের দোকান থেকে বরফ নিয়ে এসে পায়ে আর কোমড়ে দিতে লাগলাম। উনি এতটাই টেনশন করে ফেলেছেন,  শুধু একটাই কথা বলছেন," আমার সব শেষ হয়ে গেল। আর হয়তো কোনো দিন আসতে পারব না।"  বরফ দিতে দিতেই আশ্বস্ত করলাম, টেনশন করবেন না কিছুই হয় নি। বাড়ির নাম্বার বলুন, বাড়িতে কল করি।


উনি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন, আর তার সাথেই বলছেন, " বাড়িতে কল করতে হবে না। ছেলে বারণ করেছিল, আমি জোর করে বাজারে এসেছি। যদি জানতে পারে আর আসতে দেবে না আমাকে।"


বুঝতে পারলাম, এই একই অনুভূতি আমার মায়েরও। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই পৃথিবীর সাথে আরো অনেকটা মায়া বাড়িয়ে ফেলে বয়স্ক মানুষরা। অনুভব করলাম, শুধু আমার মা নয়, এই পৃথিবীতে আরো কত বয়স্ক মা বাবা আছেন, যারা এই বয়সে এসেও মনের জোর নিয়েই বাইরে বেরোন। সে যাইহোক,

উপায় তো নেই। বাড়িতে কল করতেই হবে। তাই জোর করে একটু ধমকের সুরেই বললাম, আগে কল করুন। বাড়ির লোককে জানাতে হবে তো। যতক্ষণ না কেউ আসছে, ততক্ষণ আমি আছি। আমি আপনার ছেলের মতো।


আমার কথাটা উনি শুনলেন।  কোনো রকমে পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে, কল করে ছেলেকে ডাকলেন। দেখলাম দশ  মিনিটের মধ্যেই ছেলেও চলে এলো। ছেলেকে বললাম, আগে ডাক্তারের কাছ নিয়ে যান। উনি তো দাঁড়াতেই পারছেন না। 


আশেপাশে তখন ভালোই ভীড় জমে গেছে। অনেকেই অনেক কিছু পরামর্শ দিচ্ছে, কেউ কিন্তু এগিয়ে এসে সহযোগিতার হাত বাড়ায় নি।  ওনার ছেলেকে দেখলাম, খুব শান্ত স্বরে বলল, বাবা! ও নিয়ে চিন্তা করো না। ডাক্তারের কাছে আগে চলো, ওষুধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে।


আমি ছেলের জায়গায় থাকলে ঠিক এই কথাটাই বলতাম। বয়স্ক বাবা মা তো আমাদের সন্তানের মতোই। একটা টোটো ডেকে বাবাকে টোটোয় বসিয়ে নিয়ে ছেলে চলে গেল, বাজারের ব্যাগ আর সাইকেলটা সাইডে রেখে মাংসের দোকানে ছেলেটিকে বলে গেল, পরে এসে নিয়ে যাচ্ছি।


বাবাকে নিয়ে ছেলেটি চলে যেতেই একজন দুম করে বলে বসল, ইয়াং ছেলে ঘরে বসে থাকে, আর বুড়ো বাবাকে বাজারে পাঠিয়ে দেয়। বাবাকে তো আর এমনি এমনি খাওয়াবে না, খাটিয়ে উশুল করে নেয়।


ভাবছিলাম একটি বার উত্তর দিই। তারপর ভাবলাম, সব জায়গায় উত্তর দিতে নেই। কিছু মানুষ আছে, যারা আসল কাজে কোনো কাজে লাগে না, কিন্তু অকেজো কথাও বলতে ছাড়ে না। ওখান থেকে সরে এলাম। শুধু এটুকু বুঝলাম, এই পৃথিবীর সব অনুভব ক্ষমতা  ঈশ্বর সকলকে দেন নি। সত্যিটা তো আমি বুঝি, আমার মতো অনেকেই আছেন, যারা বাবা মায়ের অনুভূতিটুকু অনুভবেই বুঝে নেন।


কলমে: সরজিৎ ঘোষ। Sarajit Ghosh

টুনটুনি আর নাপিতের কথা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী 

 টুনটুনি আর নাপিতের কথা

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী 


টুনটুনি গিয়েছিল বেগুন পাতায় বসে নাচতে। নাচতে-নাচতে খেল বেগুন কাঁটার খোঁচা। তাই থেকে তার হল মস্ত বড় ফোড়া। ও মা, কী হবে? এত বড় ফোড়া কী করে সারবে?


টুনটুনি একে জিগগেস করে, তাকে জিগগেস করে। সবাই বললে, ওটা নাপিত দিয়ে কাটিয়ে ফেল।'


তাই টুনটুনি নাপিতের কাছে গিয়ে বললে, 'নাপিতদাদা, নাপিতদাদা, আমার ফোড়াটা কেটে দাও না।'


নাপিত তার কথা শুনে ঘাড় বেঁকিয়ে নাক সিটকিয়ে বললে, 'ঈস! আমি রাজাকে কামাই, আমি তোর ফোড়া কাটতে গেলুম আর কি!'


টুনটুনি বললে, 'আচ্ছা দেখতে পাবে এখন, ফোড়া কাটতে যাও কি না।' বলে সে রাজার কাছে গিয়ে নালিশ করলে, 'রাজামশাই, আপনার নাপিত কেন আমার ফোড়া কেটে দিচ্ছে না? ওকে সাজা দিতে হবে।'


শুনে রাজামশাই হো-হো করে হাসলেন, বিছানায় গড়াগড়ি দিলেন, নাপিতকে কিছু বললেন না। তাতে, টুনটুনির ভারি রাগ হল। সে ইঁদুরের কাছে গিয়ে বললে, 'ইঁদুরভাই, ইঁদুরভাই, বাড়ি আছ?'


ইঁদুর বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই। এস ভাই। বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি খাবে ভাই?'


টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি এক কাজ কর।'


ইঁদুর বললে, 'রাজামশাই যখন ঘুমিয়ে থাকবেন, তখন গিয়ে তাঁর ভুঁড়িটা কেটে ফুটো করে দিতে হবে।'


তা শুনে ইঁদুর জিভ কেটে কানে হাত দিয়ে বললে, 'ওরে বাপরে! আমি তা পারব না।'


তাতে টুনটুনি রাগ করে বিড়ালের কাছে গিয়ে বললে, 'বিড়ালভাই, বিড়ালভাই, বাড়ি আছ?'


বিড়াল বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'


টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি ইঁদুর মার।'


বিড়াল বললে, 'এখন আমি ইঁদুর-টিদুর মারতে যেতে পারব না, আমার বড্ড ঘুম পেয়েছে।'


শুনে টুনটুনি রাগের ভরে লাঠির কাছে গিয়ে বললে, 'লাঠি ভাই, লাঠি ভাই, বাড়ি আছ?'


লাঠি বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'


টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি বিড়ালকে ঠেঙাও।'


লাঠি বললে, 'বিড়াল আমার কী করেছে যে আমি তাকে ঠেঙাতে যাব? আমি তা পারব না।'


তখন টুনটুনি আগুনের কাছে গিয়ে বললে, 'আগুনভাই, আগুনভাই, বাড়ি আছ?'


আগুন বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'


টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি তুমি লাঠি পোড়াও।'


আগুন বললে, 'আজ ঢের জিনিস পুড়িয়েছি, আজ আর কিছু পোড়াতে পারব না।'


তাতে টুনটুনি তাকে খুব করে বকে, সাগরের কাছে গিয়ে বললে, 'সাগরভাই, সাগরভাই, বাড়ি আছ?'


সাগর বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'


টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি তুমি আগুন নিভাও।'


সাগর বললে, 'আমি তা পারব না।'


তখন টুনটুনি হাতির কাছে গিয়ে বললে, 'হাতিভাই, হাতিভাই, বাড়ি আছ?'


হাতি বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'


টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি সাগরের জল সব খেয়ে ফেল।'

হাতি বললে, 'অত জল খেতে পারব না, আমার পেট ফেটে যাবে।'


কেউ তার কথা শুনল না দেখে টুনটুনি শেষে মশার কাছে গেল। মশা দূর থেকে তাকে দেখেই বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'


টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি হাতিকে কামড়াও।'


মশা বললে, 'সে আবার একটা কথা! এখুনি যাচ্ছি! দেখব হাতি বেটার কত শক্ত চামড়া!' বলে, সে সকল দেশের সকল মশাকে ডেকে বললে, 'তোরা আয় তো রে ভাই, দেখি হাতি বেটার কত শক্ত চামড়া।' অমনি পিন্-পিন্ পিন্-পিন্ করে যত রাজ্যের মশা, বাপ-বেটা ভাই-বন্ধু মিলে হাতিকে কামড়াতে চলল। মশায় আকাশ ছেয়ে গেল, সূর্য ঢেকে গেল। তাদের পাখার হাওয়ায় ঝড় বইতে লাগল। পিন্-পিন্ পিন-পিন্ ভয়ানক শব্দ শুনে সকলের প্রাণ কেঁপে উঠল। তখন—


হাতি বলে, সাগর শুষি। 

সাগর বলে, আগুন নেবাই! 

আগুন বলে, লাঠি পোড়াই!

 লাঠি বলে, বিড়াল ঠেঙাই! 

বিড়াল বলে, ইঁদুর মারি। 

ইঁদুর বলে, রাজার ভুঁড়ি কাটি! 

রাজা বলে, নাপতে বেটার মাথা কাটি!


নাপিত হাত জোড় করে তোমার ফোড়া কাটি।' কাঁপতে-কাঁপতে বললে, 'রক্ষে কর, টুনিদাদা! এস তোমার ফোঁড়া কাটি। তারপর টুনটুনির ফোড়া সেরে গেল, আর সে ভারি খুশি হয়ে আবার গিয়ে নাচতে আর গাইতে লাগল— টুনটুনা টুন টুন টুন! ধেই ধেই!

গীবত  ফেরদৌস আহমেদ,,,,,

 খেজুরের রস কয়না কভূ তিতা লাগে নিম,

ময়ূর কয়না কাকের বাসায় কোকিল রাখে ডিম।


ময়না-টিয়া কয়না কভূ দেখতে কালো কাক,

কয়না বাঁশি তবলা-বীনা বিশ্রী বাজে ঢাঁক।


কয়না সাগর দিঘির জলে যায়না পাওয়া নুন,

সারা বছর ফুল ফোটেনা; কয়না তা ফাগুন। 


কয়না নদী মরুর বুকে যায়না পাওয়া জল,

কয়না বিড়াল কুকুরছানা খায় মানুষের মল। 


সোনা-রূপা কয়না কভূ লোহায় ধরে জং, 

কয়না প্রাসাদ ওই দেয়ালের ঝলসে গেছে রং।


পা যে সবার নিচে থাকে কয়না তা হাত,

জিহবা ও ঠোঁট বেজায় নরম কয়না তা দাঁত। 


আকাশ-বাতাস, চন্দ্র-তারা, সাগর-নদী ফুল ,

কেউ বলে না মন্দ কারো কয়না কারো ভুল।


কেউ বলেনা মন্দ কারো একেবারে তা নয়,

সুযোগ পেলেই মানুষ পরের মন্দচারি কয়।


জামাই বলে বউয়ের লাগি ধ্বংস আমার ঘর,

পরের কাছে নিজের বউয়ের মন্দ বলে বর।


ভাইয়ের কাছে ভাই বলে তার আরেক ভাইয়ের দোষ,

বউ শাশুড়ি করলে শুরু থাকে না আর হুঁশ।


একটুখানি কথা বলার সুযোগ যদি হয়,

এমনি করে মানুষ পরের মন্দচারি কয়। 


মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণী করে না যেই কাজ, 

সেই ছোট কাজ করতে মানুষ পায়না কোন লাজ। 


লাগামছাড়া এমনি যদি চলতে থাকে জিভ,

কেমন করে হবো আমরা সৃষ্টি সেরা জীব। 


গীবত 

ফেরদৌস আহমেদ

RFL এ চাকরী

 হেড অফিস HRM সহ আমরা ৪ জনের টিম লোক নিয়োগের উদ্দেশ্য রহনা দিচ্ছি, আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আমাদের ডাঙ্গা পলাশ নরসিংদীতে অনেক বড় নতুন RFL-DPL -এর ফ্যাক্টরি  হচ্ছে (DIP-2) এবং যেখানে প্রায় -২০০০+ লোকের কর্মসংস্থান হবে। 


বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কর্মসংস্থান তৈরি করা। আজকের তরুণদের জন্য যথাযথ ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই। তাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাটাই এখন জরুরি।


👉মৃলগাঁও, কালীগঞ্জ, গাজীপুর/ ডাঙা ডিপিএল-২ (পলাশ, নরসিংদী) - ফ্যাক্টরি তে অ্যাসিস্ট্যান্ট অপারেটর পদে জরুরী ভিত্তিতে প্রায় ২০০০ জন পুরুষ এবং মহিলা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।


👉বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা:


১. প্রতি মাসের ১/২ তারিখে বেতন প্রদান করা হয়।


২. বছরে ২টি উৎসব বোনাস প্রদান করা হয়।


৩. স্বল্প মুল্যে থাকা ও খাওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে।


৪. মেডিকেল ট্রিটমেট এর সুবিধা রয়েছে।


৫. এক বেলা কোম্পানী প্রদত্ত ৮ টাকার মূল্যের খাবারের সুবিধা রয়েছে।


👉 সাক্ষাৎকারের স্থান ও তারিখ ---


১.স্থান -  ইএসডিও এর অঙ্গ  প্রতিষ্ঠান কুড়িগ্রাম ইকো সেন্টার ফর স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ( কেইসিএসডি), কুড়িগ্রাম।  

তারিখ -২৬-০৫-২৫ রোজ সোমবার। 

সময় সকাল -১০.০০টায়। 


২.স্থান  -আন্ধারিঝার  আলহাজ্ব মাহমুদ আলী বি আই এল হাই স্কুল মাঠ, ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম। 

তারিখ -২৬-০৫-২৫ রোজ সোমবার।   

সময়- সকাল -১০.০০ টা। 


৩.স্থান -কুড়িগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ( TTC) কুড়িগ্রাম।  

তারিখ -২৭-০৫-২৫ রোজ মঙ্গলবার । 

সময়- সকাল -১০.০০ টা।


৪.স্থান  -দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ( TTC), দিনাজপুর।  

তারিখ -২৮-০৫-২৫ রোজ বুধবার। 


৫.স্থান -ঠাকুরগাঁও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ( TTC) ঠাকুরগাঁও। 

তারিখ -২৯-০৫-২৪ রোজ বৃহস্পতিবার। 

সময়-সকাল -১০.০০ টা।


৬.বগুড়া (লোকেশন রেডি করা হচ্ছে) 


৭.স্থান -যশোর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ( TTC) যশোর । 

তারিখ -০১-০৬-২৫ রোজ রবিবার । 

সময়-সকাল -১০.০০ টা।


৮.সাতক্ষীরা (লোকেশন রেডি করা হচ্ছে) ।


সেলারি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা :


👉ডিউটি -সিফটিং (১২ ঘন্টা). 


👉সেলারি তিন ক্যাটাগরিতে ---

A+=

বেসিক -৯০০০

ওভারটাইম-৪৪৭২ (শ্রম আইন অনুযায়ী) 

হাজিরা বোনাস -১০০০ 


>টোটাল-১৪৪৭২টাকা। 

অবশ্যই তিন মাসের কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত /বিটাক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত /কারিতাস প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত /ইউসেফ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। 


A=

বেসিক -৮৫০০

ওভারটাইম-৪১৬০(শ্রম আইন অনুযায়ী) 

হাজিরা বোনাস -১০০০

>টোটাল -১৩৬৬০


অবশ্যই এসএসসি /এইচএসসি পাশ হতে হবে। 


B=

বেসিক -৮০০০

ওভারটাইম-৩৯৫২ (শ্রম আইন অনুযায়ী)

হাজিরা বোনাস -১০০০

>টোটাল-১২,৯৫২


অবশ্যই পঞ্চম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত।


আগ্রহী প্রার্থী কে সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের তিন কপি ছবি, সকল পরীক্ষার সনদপত্র, নাগরিক সনদপত্র, ভোটার আইডি কার্ড / জন্ম নিবন্ধন( অনলাইন) এবং সকল ধরনের মেইন কপি (মেইন কপি জমা নেওয়া হয় না) নিয়ে উল্লেখিত ঠিকানায় উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। 

বিশেষ প্রয়োজনে - 01841-357658/01844-605167.

ফরিদপুর এর মধ্যে যাদের চাকুরি প্রয়োজন তারা যোগাযোগ করতে পারেন।আমার বন্ধু এখানে হাব ইনচার্জ পদে দায়িত্বে আছেন

 ফরিদপুর এর মধ্যে যাদের চাকুরি প্রয়োজন তারা যোগাযোগ করতে পারেন।আমার বন্ধু এখানে হাব ইনচার্জ পদে দায়িত্বে আছেন


📢 জরুরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

দেশের স্বনামধন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ক্যারিবি এক্সপ্রেস লিমিটেড-এ ডেলিভারি এজেন্ট পদে জরুরি ভিত্তিতে ডেলিভারি এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।


🔹 পদের নাম: ডেলিভারি এজেন্ট

🔹 পদের সংখ্যা: ৫ (পাঁচ) জন

🔹 কাজের সময়: ......................................

🔹 কর্মস্থল: [ফরিদপুর]


💰 বেতন ও অন্যান্য সুবিধাসমূহ:

মাসিক বেতন: ১৪,০০০/- টাকা


নিয়মিত উপস্থিতির বোনাস: ১,০০০/- টাকা


মোটরসাইকেলের জ্বালানী বাবদ ভাতা প্রদান


📦 কাজের দায়িত্ব:

হাব ইনচার্জের সাথে পার্সেল প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করা


হাব থেকে পার্সেল বুঝে নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া


গ্রাহকের ঠিকানায় হোম ডেলিভারি নিশ্চিত করা


ক্যাশ অন ডেলিভারির টাকা সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা


রিটার্ন পণ্যের যথাযথ রিটার্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা


প্রতিদিনের ডেলিভারি শেষে হাব ইনচার্জকে রিপোর্ট প্রদান করা এবং রিটার্ন পণ্য ও টাকা বুঝিয়ে দেওয়া


✅ আবেদন করার জন্য যা যা প্রয়োজন:

১। জীবনবৃত্তান্ত (সিভি)

২। ব্যক্তিগত তথ্য (জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, বিদ্যুৎ/গ্যাস বিলের কপি)

৩। অভিভাবক বা পরিচয় দানকারী ২ জনের ডকুমেন্টস

৪। ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল

৫। স্মার্টফোন


📌 আগ্রহী প্রার্থীরা যোগাযোগ করুন:    +8801733760253

দই খাওয়া: নওদাবাস স্থানের নামকরণ,,,,,,

 দইখাওয়া : 


এই স্থানটিতে এবং এর বর্ডারসংলগ্ন উত্তরের জলপাইগুড়ি অঞ্চলে একসময় মেচ/বোড়ো/রাভা আদিভাষা প্রচলিত ছিলো, পশ্চিমবঙ্গের কিছু স্থানে এখনো প্রচলিত আছে। এ আদি ভাষায় দই অর্থ পানি, দই খ্রোং  অর্থ  নদী।  নদীকে বিভিন্ন ভাষার লোকজন বিভিন্ন নামে ডাকে; যেমন- নদী/সতী/গাঙ ইত্যাদি। বোড়ো ভাষার লোকজন নদীকে দইখ্রোং বলতো, বলে। এভাবে বর্তমান দইখাওয়া বাজারের পাশ্ববর্তী নদীটি এবং স্থানটি তখন সবার কাছে 'দইখ্রোং' নামে পরিচিত হয়। দইখাওয়া শব্দটি দইখ্রোং এর বিকৃত রূপ।  


     তাই, দইখাওয়া নামের বর্তমান প্রচলিত উৎসগুলি  ( যেমন:  দুই খেয়া থেকে দইখাওয়া, দৈ থেকে দইখাওয়া)  সম্ভবত সত্য নয়। বোড়ো/মেচ/রাভা এই অঞ্চলের আদিভাষা। যা আর্যদের আগমনের পূর্বে (দুই হাজার বছর আগে) নিজস্ব বর্ণসহ  পূর্ণাঙ্গভাবে  প্রচলিত ছিল। পরবর্তীতে  আর্যদের আগমনের পর আর্যভাষার সাথে এ আদিভাষাগুলি মিলেমিশে এক হয়ে যায়। 


    বোড়ো/মেচ/রাভা সম্ভবত একই আদিভাষার এলাকাভিত্তিক বিভিন্নরূপ। যেমন- লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও এর আঞ্চলিক ভাষা একই ভাষার কিছুটা পরিবর্তিত রূপ।বোড়ো/রাভা ভাষার এখনো  কিছু প্রচলিত শব্দ চ্যাংরা, বোকা, শাগাই ইত্যাদি।


নওদাবাস:


'নওদা' অর্থ  নতুন  বসবাসযোগ্য  জমি।


'বাস' অর্থ বসবাস করা।


এই ইউনিয়নের অনেকাংশ একসময় জনমানবহীন ও জঙ্গলাকীর্ণ ছিল। যা বিভিন্ন সময় দলবদ্ধ settlers পরিষ্কার করে ছোট ছোট গ্রাম/পাড়া তৈরি করে বসবাস শুরু করে। এভাবেই, বর্তমান 'নওদাবাস'। 


ভোটমারী/ভুটিয়ামঙ্গল: এই স্থানগুলিতে 'ভুটিয়া' আদিবাসীদের বসবাস ছিল। ভুটিয়া আদিবাসিরা এখনো পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে পাড়াভিত্তিক বসবাস করে।


References: I got no direct references, rather I have infarred from different sources.


Source 1: 'বৃহত্তর রংপুরের ইতিহাস' - মোস্তফা তোফায়েল হোসেন


Source 2 :  ' বাংলাদেশের রাজবংশী সমাজ ও সংস্কৃতি' -অশোক বিশ্বাস


Chatgpt, Wikipedia and so on...


ছবি: 'ভুটিয়া' উপজাতি নারী, Wikipedia


  


২৩.৫.২০২৫


© জনাব জাকির হোসেন Zakir Hossain  🙂

শনিবার, ২৪ মে, ২০২৫

জৈন্তা রাজবাড়ী  জৈন্তাপুর, সিলেট 

 ▪️জৈন্তা রাজবাড়ী 

জৈন্তাপুর, সিলেট 


সিলেটের ইতিহাসে প্রাচীনতম ঐতিহ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ঐতিহ্য হলো “জৈন্তা রাজবাড়ী”। কোনো ঐতিহাসিকই জৈন্তারাজদের রাজত্ব কবে শুরু হয়েছিল তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। তবে এ রাজ্যের অস্তিত্ব প্রাচীন মহাকাব্য ও পৌরাণিক কাহিনীতে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, সপ্তম থেকে অষ্টম শতকে কামরুপ রাজ্যের অধীনে ছিল জৈন্তাপুর। চন্দ্র ও বর্মণ রাজাদের পতনের পর দেব বংশের রাজত্ব শুরু হয় এ অঞ্চলে। এই বংশের সর্বশেষ রাজা ছিলেন জয়ন্ত রায়। তার এক মেয়ের নাম ছিল জয়ন্তি। ঐতিহাসিকগণের ধারণা, রাজকুমারী জয়ন্তির নামানুসারেই এই রাজ্যের নামকরণ করা হয় জৈন্তাপুর।

জৈন্তা রাজ্য বিস্তৃত ছিল উত্তর-পূর্ব ভারতের শিলং মালভূমির (বর্তমান মেঘালয় ) পূর্ব প্রান্ত থেকে আসামের বরাক নদীর উপত্যকার দক্ষিণ ও উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত। ১৮৩৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই রাজ্যের দখল নেয়। বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত এই রাজ্যের রাজধানী জৈন্তিয়াপুরের অবস্থান ছিল জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে। ধারণা করা হয়, জৈন্তা পাহাড়ের নারটিয়াংয়ে ছিল এই রাজ্যের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী। বর্তমানে মধ্যযুগীয় কিছু স্থাপনা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই সেখানে। বর্তমান সিলেট অঞ্চলের বেশির ভাগই জৈন্তা রাজ্যের অধীনে ছিল।


জৈন্তা রাজ্যের উৎপত্তির সঠিক ইতিহাস না পেলেও এখানকার মানুষেরা শিলং মালভূমির খাসিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মধ্যযুগীয় সংস্কৃতি লালন করত। খাসিয়া রাজ বংশের ২৩ জন রাজা ১৫০০ সাল থেকে ১৮৩৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যের শাসনকার্য পরিচালনা করেন। খাসিয়াদের পূর্বপুরুষেরা চীনের তিব্বত থেকে জৈন্তা রাজ্যে এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন। তবে ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, এই অঞ্চলের মানুষেরা অনেক আগে এখানে বসতি স্থাপন করেছিল। সতেরো শতকের পর কাছাড়ের রাজা শত্রু দমনের অভিযানের পর জৈন্তা রাজ্যের কাছারি ও অহমিয়াদের রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়।


১৭৬৫ সালে বাংলার শাসনভার গ্রহণের পর ইংরেজরা জৈন্তা রাজ্যের প্রতি মনোনিবেশ করে এবং জৈন্তিয়াপুরকে এ রাজ্যের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এখানকার খনিগুলো থেকে চুনাপাথর উত্তোলন করে সারা বাংলায় পাঠানো হতো। প্রথম ইঙ্গো-বর্মিজ যুদ্ধের সমাপ্তির পর ইংরেজরা জৈন্তা রাজাকে সুরমা নদীর উত্তর প্রান্ত শাসনের অনুমতি দেয়। ১৮৩৫ সালের ১৫ মার্চ ইংরেজরা এই রাজ্যটি পুরোপুরি দখল করে নেয়। কারণ হিসেবে জানা যায়, তিন ব্রিটিশ বণিককে বলি দিয়েছিল তৎকালীন জৈন্তা রাজা। ফলে ব্রিটিশরা ক্ষেপে গিয়ে দীর্ঘ পরিকল্পনা শেষে রাজ্যটি আক্রমণ করে। একপর্যায়ে রাজ্যটির স্বাধীন সূর্য অস্তমিত হয়। জৈন্তা রাজাকে সিলেটে তাঁর সম্পত্তি বুঝিয়ে দিয়ে সামান্য একজন জমিদার হিসেবে মাসিক ৫০০ রুপি বেতন ধার্য করা হয়।


এখানকার সহজ-সরল অধিবাসীরা জৈন্তাপুরী হিসেবে অনেকের কাছে তাচ্ছিল্যের শিকার হয়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সারা ভারতীয় উপমহাদেশ যখন ইংরেজদের কাছে পদানত, তখন সম্রাট নিজামের এলাহাবাদ বাদে একমাত্র জৈন্তা রাজ্যই ১৮৩৫ সাল পর্যন্ত সিংহখচিত স্বাধীনতার পতাকা উড্ডিন রাখতে পেরেছিল। রাজ্যের অধিবাসীরা গর্ব করে বলতে পারত আমরা স্বাধীন।

তথ্য: গুগল/পত্রিকা

১২টি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থপূর্ণ গল্প (𝗦𝗜𝗫 𝗕𝗥𝗜𝗘𝗙 𝗦𝗧𝗢𝗥𝗜𝗘𝗦 𝗙𝗨𝗟𝗟 𝗢𝗙 𝗠𝗘𝗔𝗡𝗜𝗡𝗚) (জীবন গঠনের জন্য প্রতিটি গল্প এক একটি শিক্ষা)

 ✍️ ১২টি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থপূর্ণ গল্প (𝗦𝗜𝗫 𝗕𝗥𝗜𝗘𝗙 𝗦𝗧𝗢𝗥𝗜𝗘𝗦 𝗙𝗨𝗟𝗟 𝗢𝗙 𝗠𝗘𝗔𝗡𝗜𝗡𝗚) (জীবন গঠনের জন্য প্রতিটি গল্প এক একটি শিক্ষা)


"সত্যকে প্রকাশ করিতে পারাই

   সত্য সম্বন্ধে চরম শিক্ষা।" 


      🌺  বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 🌻

            📖 (নৌকাডুবি)


1➡️ বিশ্বাস (𝙁𝙖𝙞𝙩𝙝):

একবার সব গ্রামবাসী মিলে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করার সিদ্ধান্ত নিল।

প্রার্থনার দিন সবাই একত্রিত হলো, কিন্তু শুধু একটি ছোট ছেলে ছাতা নিয়ে এল।

এটাই বিশ্বাস।


2➡️ ভরসা (𝙏𝙧𝙪𝙨𝙩):

যখন আপনি বাচ্চাদের বাতাসে ছুঁড়ে দেন, তারা হাসে—

কারণ তারা জানে আপনি ধরবেন।

এটাই ভরসা।


3➡️ আশা (𝙃𝙤𝙥𝙚):

প্রতিদিন রাতে আমরা ঘুমোতে যাই,

জানিনা সকালে আর জেগে উঠবো কি না,

তবুও আমরা অ্যালার্ম ঘড়ি সেট করি।

এটাই আশা।


4➡️ আত্মবিশ্বাস (𝘾𝙤𝙣𝙛𝙞𝙙𝙚𝙣𝙘𝙚):

আমরা আগামীকাল নিয়ে বড় পরিকল্পনা করি,

যদিও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমাদের কোনো জ্ঞান নেই।

এটাই আত্মবিশ্বাস।


5➡️ ভালোবাসা (𝙇𝙤𝙫𝙚):

আমরা পৃথিবীতে অনেক কষ্ট দেখি,

তারপরও আমরা বিয়ে করি, সন্তান নিই।

এটাই ভালোবাসা।


6➡️ দৃষ্টিভঙ্গি (𝘼𝙩𝙩𝙞𝙩𝙪𝙙𝙚):

এক বৃদ্ধের শার্টে লেখা ছিল:

"আমি ৮০ বছর বয়সী নই; আমি ১৬ বছরের মিষ্টি একটি মেয়ে, যার ৬৪ বছরের অভিজ্ঞতা আছে।"

এটাই দৃষ্টিভঙ্গি।


7➡️ নির্ভরতা (𝘿𝙚𝙥𝙚𝙣𝙙𝙚𝙣𝙘𝙚):

এক ছোট মেয়ে বাবার হাতে একটি ভাঙা খেলনা দিল ঠিক করতে।

সে জানে, বাবা ঠিক করে দিতে পারবেন।

এটাই নির্ভরতা।


8➡️ আশাবাদিতা (𝙊𝙥𝙩𝙞𝙢𝙞𝙨𝙢):

একজন কৃষক বীজ বপন করেন, জানেন না বৃষ্টি হবে কি না,

তবুও তিনি মাটি চাষ করেন।

এটাই আশাবাদিতা।


9➡️ কর্তব্যবোধ (𝘿𝙪𝙩𝙮):

একজন শিক্ষক প্রতিদিন ছাত্রদের শেখান—

জানেন না কে সফল হবে, কে হবে বিফল।

এটাই কর্তব্যবোধ।


10➡️ আত্মনির্ভরতা (𝙎𝙚𝙡𝙛-𝙧𝙚𝙡𝙞𝙖𝙣𝙘𝙚):

একটি পাখি ডালে বসে বিশ্রাম নেয়—

সে ডাল ভাঙবে কি না তা নিয়ে ভাবে না, কারণ তার ডানার উপর ভরসা আছে।

এটাই আত্মনির্ভরতা।


11➡️ উদারতা (𝙂𝙚𝙣𝙚𝙧𝙤𝙨𝙞𝙩𝙮):

এক নারী প্রতিদিন দরিদ্র শিশুদের খাওয়ান—

জানেন না আগামীকাল তার নিজের ঘরে খাবার থাকবে কি না।

এটাই উদারতা।


➡️12মানবতা (𝙃𝙪𝙢𝙖𝙣𝙞𝙩𝙮):

এক পথচারী বৃষ্টির মধ্যে এক ছাতাহীন মানুষকে নিজের ছাতার নিচে আশ্রয় দিলো।

এটাই মানবতা।


জীবন বড় নয়, গভীর।

এই ১২টি গল্প আমাদের শেখায়—

বিশ্বাস করো, ভরসা রাখো, ভালোবাসো, দায়িত্ব নাও,

আশা ও আত্মবিশ্বাসে জীবনকে আলোকিত করো।


এই মানসিক গুণগুলোই আমাদের মানুষ করে তোলে।


পোস্টটি আপনার ভাল লেগে থাকলে এবং মনে হয় অন্যদেরও উপকারে আসবে, তবে শেয়ার করতে ভুলবেন না!🇧🇩🥰

ওরা কীভাবে তুলেছিল সেসব বিশাল পাথর?

 ওরা কীভাবে তুলেছিল সেসব বিশাল পাথর?


প্রথমে ছবিটা দেখে মনে হতে পারে, এ তো স্রেফ একটা কাল্পনিক কিছু, যেখানে প্রাচীনকালের কিছু মানুষ একটা বিশাল পাথর টেনে এনে দাঁড় করাচ্ছে। কিন্তু একটু ভালো করে তাকালেই বোঝা যাবে- এই সাধারণ ছবির পেছনে লুকিয়ে আছে মানুষের বিস্ময়কর মেধা আর পরিকল্পনার নিখুঁত হিসেব।


এটা কোনো কল্পকাহিনি নয়। এটা বাস্তবসম্মত এক ব্যাখ্যা, কীভাবে নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষরা স্টোনহেঞ্জ, কারনাক বা গোবেকলি তেপের মতো মেগালিথিক কাঠামো বানিয়েছিল। 


প্রক্রিয়াটা শুরু হতো মানুষ আর কাঠের রোলার দিয়ে। বিশাল পাথরের ব্লকগুলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আনা হতো কাঙ্ক্ষিত জায়গায়। এরপর ব্যবহৃত হতো মোটা দড়ি, কাঠের ঠেকনা আর মাটি কেটে বানানো খাদ; সব মিলিয়ে গড়ে উঠত একধরনের প্রাচীন যন্ত্র। আধুনিক যন্ত্রপাতির ছিটেফোঁটাও নেই, তবু কাঠামো দাঁড়িয়ে যেত নিখুঁতভাবে। যখন পাথর তার নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছাত, তখন সেটি দাঁড় করানো হতো চমৎকার হিসেব-নিকেশ মেনে; লিভারেজ, অভিকর্ষ বল আর সম্মিলিত শক্তি কাজে লাগিয়ে।


না ছিল কোনো ক্রেন, না ছিল লোহার কোনো যন্ত্র। ছিল শুধু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা আর পরীক্ষানিরীক্ষার ফলাফল। এই বিশাল পাথরগুলো, যেগুলোর ওজন ৩০ টনেরও বেশি হতে পারে, শুধু সৌন্দর্যের স্মারক ছিল না। এগুলো ছিল ক্যালেন্ডার, উপাসনাস্থল, সমাধি, বা আকাশের মানচিত্র। কিন্তু সবচেয়ে অবাক করার মতো ব্যাপার হলো- এসব নির্মাণের পেছনে লুকিয়ে থাকা মানুষের অসাধারণ মেধা ও বৈজ্ঞানিক প্রয়োগ। তারা অনুমান করে কাজ করেনি, বরং তারা পদার্থবিজ্ঞানের মূল নীতিগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করেছে: ঘর্ষণ, গতি আর ভারসাম্যের কৌশল। হাজার হাজার বছর আগে মানুষ কীভাবে পিরামিড বানিয়েছিল সেই ব্যাপারে জানতে দেখুন আমাদের একটি ভিডিও। লিংক কমেন্টে। 

.

.

#itihasergolpo #itihaser_golpo

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...