এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫

নিজেকে ভালো রাখার জন্য কিছু দরজা বন্ধ রাখাই শ্রেয়

 নিজেকে ভালো রাখার জন্য কিছু দরজা বন্ধ রাখাই শ্রেয়


সবাইকে ধরে রাখতে হয় না।

সব সময় সদয় থাকলে, মানুষ সেটা অধিকার ভাবতে শুরু করে।

একটা সময় বুঝেছি—নিজের মনের জানালা সব সময় খোলা রাখলে, ধুলা-বালি ঢুকবেই।

তাই এখন দরজা জানালা বুঝে খুলি। সম্পর্ক বুঝে রাখি।


আগে ভাবতাম, সম্পর্ক মানেই নিরন্তর খোঁজ নেওয়া, সময় দেওয়া, আপস করা।

এখন বুঝি—মানুষের কিছু আচরণ নিজের সম্মানের সাথে যায় না।


কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করি:

❶ এক আপু ছিল, প্রায়ই টাকা ধার নিত।

ফেরত দিতে ভুলে যেত, মনে করিয়ে দিলে বলত—“আরে না, দিয়ে দিয়েছি তো!”

কিন্তু মাসের পর মাস কেটে যেত, টাকাও আসত না, দৃষ্টিও বদলাত।

অদ্ভুত ব্যাপার, সে প্রায়ই আমার বাসায় আসত, খেত-দিতাম, গল্প করতাম।

কিন্তু আমি একবার ওর বাসায় গেলাম , প্লাস্টিকের গ্লাসে পানি দিয়ে বলেছিল, ‘কাজ আছে, পরে দেখা হবে।’

সেদিনই বুঝেছিলাম—মানবিকতা একতরফা হলে, সেটা বোকামি হয়ে দাঁড়ায়।”


❷ এক বন্ধু ছিল, শুধু নিজের সুবিধামতো যোগাযোগ রাখত।

ওর প্রেমে ঝামেলা, তখন আমি therapist!

ওর বাড়ির সমস্যা, আমি lawyer!

কিন্তু আমি যখন একটু মন খারাপ করে বলি, “আজকে খারাপ লাগছে”—সে reply করে, “আমি একটু busy”।

আজও ইনস্টায় দেখে, ক্যাফেতে বসে latte খাচ্ছে।

আমি আর বিরক্ত হই না, কারণ বুঝে গেছি—কারো কাছে তুমি প্রয়োজন, কারো কাছে তুমি মানুষ। আমি দ্বিতীয় দলে থাকতে চাই।


❸ এক আত্মীয়, সবসময় ছুটি পেলেই আমার বাসায় আসত,

বাচ্চারা খেলত, আমি রান্না করতাম, গল্প করতাম, ওরা খুশি হতো।

একবার হঠাৎ আমার বাসায় গ্যাস নেই, ভেবেছিলাম, ওদের বাসায় খেয়ে আসব।

গিয়ে দেখি, ও বলছে “আমরা একটু বাইরে যাচ্ছি, আরেকদিন এসো।”

তখনই বুঝলাম—সব ‘আপনজন’ আসলে আপন না, অনেকে শুধু সুবিধাজনক জায়গা খোঁজে।

সেই দিন থেকে আমি শুধু দূর থেকেই সালাম দেই, ঘর পর্যন্ত আর ঢুকি না।


❹ এক কলিগ, আমার থেকে বারবার ফাইল তৈরিতে সাহায্য নিয়েছে।

নিজের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফোন করে ধরিয়ে রাখত,

আর আমার কাজের সময়? বলত, “তুই তো পারিস! তোর জন্য এটা কি এমন কঠিন?”

কিন্তু অফিসে প্রমোশনের প্রশ্নে একবার আমাকে বাদ দিয়ে নিজের নাম প্রস্তাব করেছিল।

সেই দিনই বুঝেছিলাম—যাদের কাছে তুমি ‘পারফেক্ট মেশিন’, তারা কখনও তোমাকে মানুষ ভাবে না।

সেই সম্পর্কের তার কেটে দিয়েছি, শান্তিতে আছি।


❺ এক বান্ধবী, সব সময় আমার কাছ থেকে সাজগোজ, শপিং, ছবি তোলা—সব কিছুতেই সাহায্য নিত।

সে একবারও আমার কাজের বিষয়ে জিজ্ঞেস করেনি।

আমার একটি প্রজেক্টে সাহায্য চাইলে বলেছিল, “এই সময় আমার শরীর ভালো না।”

অথচ আমি তাকে ইনস্টায় দেখলাম ব্রাইডাল ট্রায়ালে ব্যস্ত।

সেদিন বুঝলাম—কিছু মানুষ তোমার উদারতাকে ব্যবহার করে, যতক্ষণ না তুমি সীমারেখা টানো।

আমি সেটা করেছি, সময় মতো।


কিছু সম্পর্ক, যেগুলোর ভার কেবল একপাশে পড়ে থাকে:

এক পরিচিত আপু ছিলেন, সব সময় ফোন দিতেন শুধুই নিজের দুঃখ শোনাতে।

একদিন যখন আমিই ভেঙে পড়েছিলাম, আর তাকে বলতে চেয়েছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন, “আরে এসব বিষয় আমি বুঝি না, পরে কথা বলি।”

আমি বুঝে গেছি, উনি আমার দুঃখের জন্য না, নিজের আরাম খোঁজার জন্য যোগাযোগ রাখেন।


এক বন্ধুর জন্মদিনে আমি কেক নিয়ে গেলাম, অথচ আমার জন্মদিনে সে একবারও ফোন দেয়নি। বলেছিল, ওই দিন নেটওয়ার্ক ছিল না। আমি মনে মনে বলেছি—বন্ধুত্ব যদি নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে, তাহলে সেটা রাখারও দরকার নেই।


একবার এক আত্মীয়ের বাসায় দাওয়াতে গিয়েছিলাম।

চোখে মুখে হাসি, কিন্তু কথার ভেতরে ছিল কাঁটা।

একটা মন্তব্য—“তুমি তো কিছু করো না, বাসাতেই থাকো বেশি”—সেই একটা বাক্য আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল, সব দাওয়াত সম্মান নয়, কিছু দাওয়াত শুধুই ফর্মালিটি।সেই থেকে আমি ‘না’ বলতে শিখেছি।


✅ কী করা উচিত:

 • নিজের ইচ্ছার বাইরে কাউকে খুশি করতে যেও না।

সম্মান তখনই থাকে, যখন তা আত্মসম্মান নষ্ট না করে।

 • সময়মতো দূরত্ব তৈরি করো।

একবারের অপমান সহ্য করলে, মানুষ দ্বিতীয়বার সেটা অভ্যাস করে ফেলে।

 • যারা কেবল নিজের প্রয়োজনে খোঁজ নেয়, তাদের জন্য আলাদা বাউন্ডারি রাখো।

ওদের কথা শুনো, হাসো, কিন্তু মন খুলে দিও না।

 • ‘না’ বলাটা শিখে ফেলো—এটা আত্মরক্ষা।

‘না’ বললে অনেকে দূরে সরে যাবে, কিন্তু ওদের না যাওয়াটাই বিপদ।


❌ কী করা উচিত নয়:

 • বেশি ভদ্র হতে গিয়ে নিজেকে ছোট করো না।

“ভদ্র” হবার চেষ্টায় অনেকেই নিজের অনুভূতির কবর দিয়ে ফেলে।

 • যারা একবার আঘাত করেছে, তাদের বারবার সুযোগ দিও না।

‘দ্বিতীয় সুযোগ’ মানে অনেক সময় ‘দ্বিতীয়বার কষ্ট’।

 • ভুল মানুষদেরকে ঠিক করার দায়িত্ব নিও না।

তুমি কাউন্সেলর নও, থেরাপিস্ট নও—তুমি একজন মানুষ, যার নিজের অনুভূতির যত্ন নেওয়াও জরুরি।

 • নিজের অবস্থান বোঝাতে গিয়ে চোখে জল এনো না।

যে বোঝে না, সে কান্না দেখেও ব্যস্ত থাকবে অন্য কাজে।


আজ আমি কেমন?

 • নিজের জায়গা বোঝাতে শিখেছি।

 • ভালোবাসা দিতে আগে ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্যতা দেখি।

 • অপরাধবোধ ছাড়াই ব্লক করি, মিউট করি, দূরে যাই—কারণ সেটা আমার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য দরকারি।


🔚  সব সম্পর্ক পবিত্র নয়,

সব সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ নয়,

সব সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়াও জরুরি নয়।


তোমার জীবনের প্রতিটা মানুষ যদি তোমার স্পেস, সম্মান আর সংবেদনশীলতা বুঝতে না পারে—তবে সেই সম্পর্ক শুধু নামমাত্র একটা বোঝা।


জীবন ছোট, সময় অল্প। সব জায়গায় খুশি ছড়াতে গিয়ে নিজেকে ধ্বংস কোরো না।


নিজেকে ভালোবাসো, নিজের মনকে গুরুত্ব দাও।

কিছু দরজা বন্ধ রাখো—সেটা তোমার শান্তির জন্য।

Facebook copy

#fyp #friendsforeverkuwentuhan

ফেসবুক ও AI ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ফ্রি ভিডিও বানিয়ে ইউএস ডলার ইনকাম করার একটি **সহজ এবং বাস্তব গাইড** নিচে দেওয়া হলো।

 ফেসবুক ও AI ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ফ্রি ভিডিও বানিয়ে ইউএস ডলার ইনকাম করার একটি **সহজ এবং বাস্তব গাইড** নিচে দেওয়া হলো। এতে ৩টি ধাপে দেখানো হবে কীভাবে কাজ শুরু করবেন, ভিডিও বানাবেন এবং ইনকাম করবেন:


🔹 ধাপ ১: প্রস্তুতি ও প্রোফাইল তৈরি*

✅ ফেসবুক পেজ বানান


* একটি Facebook Page খুলুন (নিচের ক্যাটাগরি ব্যবহার করতে পারেন):


  * Personal Blog

  * Entertainment

  * Motivation

  * Tech or Education


✅ Page সেটআপ:


* পেজের নাম, প্রোফাইল ও কভার ছবি দিন।

* Page Description দিন (কাজের বিষয় লিখুন)।

* “Professional mode” চালু করুন (Creator Studio বা Meta Business Suite-এ গিয়ে)।


✅ Audience তৈরি করুন:


* প্রতিদিন নিয়মিত ভিডিও আপলোড করুন।

* ছোট  Reels  (60 সেকেন্ডের মধ্যে) এবং short educational/entertainment video দিন।


🔹 ধাপ ২: AI দিয়ে ভিডিও বানানো (ফ্রি টুল)


 ✅ স্ক্রিপ্ট লেখার জন্য:


 ChatGPT, Gemini, Grock


  উদাহরণ: “মোটিভেশনাল ১ মিনিটের ভিডিওর জন্য বাংলা ভাষায় একটি স্ক্রিপ্ট দাও”


✅ ভিডিও বানানোর AI টুলস:


1. Pictory  — ফ্রি টিয়ার দিয়ে শুরু করুন


2. InVideo  — টেক্সট দিয়ে ভিডিও বানাতে পারবেন


3. Canva Video — সহজে রিল বানাতে পারবেন


4. CapCut (মোবাইল অ্যাপ) — ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য অসাধারণ


✅ ভয়েস দিতে চাইলে:


TTS Maker — ফ্রি বাংলা ও ইংরেজি ভয়েস বানাতে পারবেন


ElevenLab — প্রফেশনাল ভয়েস, ফ্রি টেস্ট অপশন


🔹 ধাপ ৩: ফেসবুক মনিটাইজেশন ও ইনকাম শুরু

✅ ফেসবুক মনিটাইজেশনের শর্ত (Reels Bonus বা Ads On Reels):


5,000 Followers

60,000 মিনিটের রিল ভিউস (60 দিনে)

কন্টেন্ট নিজের তৈরি হতে হবে


যদিও এত কঠিন নিয়ম এখন নেই বললেই চলে। নিয়ম মেনে  নিয়মিত ভিডিও দিলে অল্প কিছুদিনের মধ্যে মনিটাইজেশ পাওয়া যায়


👉 ফেসবুক Creator Studio বা Professional Dashboard-এ গিয়ে চেক করতে পারবেন আপনি মনিটাইজেশনের জন্য উপযুক্ত কিনা।


🔹ইনকামের ধরন


1. Ads on Reels: ফেসবুক আপনার ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখাবে

2. Bonus Program: ভালো পারফর্ম করলে Meta থেকে Bonus পাওয়া যায়

3. Affiliate Marketing: ভিডিওতে পণ্য রিভিউ দিয়ে লিংক শেয়ার করলে কমিশন পাবেন

4. Brand Deals/Sponsorship: পেজ জনপ্রিয় হলে কোম্পানি আপনার সাথে চুক্তি করবে


✅ অতিরিক্ত টিপস:


* ট্রেন্ডিং টপিক নিয়ে কাজ করুন (ChatGPT দিয়ে আইডিয়া নিতে পারেন)

* থাম্বনেইল সুন্দর করুন (Canva ব্যবহার করুন)

* প্রতিদিন অন্তত ১টি ভিডিও দিন

* নিজের নামে পেজ খুললে Audience বেশি বিশ্বাস করবে


 🔚 উপসংহার:


আপনি যদি নিয়মিত ভিডিও বানিয়ে পোস্ট করেন এবং Audience তৈরি করতে পারেন, তাহলে **AI দিয়ে বানানো কন্টেন্ট দিয়েই মাসে ২০০–৫০০ ডলার বা তার বেশি ইনকাম সম্ভব।** এটি ঘরে বসেই করা যায় এবং কোন ভিডিও এডিটিং স্কিল ছাড়াও শুরু করা যায়।


#aivideo #onlineincome #AI

অনেকেই জমি মাপার পদ্ধতি জানি না। তাই, সাধারণত জমি মাপার সময় আমরা একজন আমিন বা  সার্ভেয়া্রের শরণাপন্ন হই।

 অনেকেই জমি মাপার পদ্ধতি জানি না। তাই, সাধারণত জমি মাপার সময় আমরা একজন আমিন বা

 সার্ভেয়া্রের শরণাপন্ন হই। এই ব্যাপারে তখন আমাদের সেই সার্ভেয়ার বা আমিনের উপর চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে হয়। সেক্ষেত্রে, প্রতারিত হবার কিছুটা সম্ভাবনা থেকেই যায়। জমি পরিমাপের ব্যাসিক ধারণা পারে এই সমস্যা থেকে সমাধান দিতে।

এ ছাড়া জমি পরিমাপ জানা থাকলে জমি কেনার সময়  জমির পরিমাণ নিজেই মেপে বের করা যায়। এই আর্টিকেলে জমি মাপার বিভিন্ন সূত্র এবং নিয়মগুলো খুব সহজ করে বর্ণনা করা হয়েছে। 

সুত্র এবং নিয়ম গুলো জানা থাকলে আশা করি, জমি মাপার বিষয়টি আপনাদের কাছে খুবই স্বচ্ছ হয়ে উঠবে।

জমির মাপের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন এককঃ

১ শতাংশ = ১০০০ বর্গলিংক

১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গ ফুট

১ শতাংশ = ১৯৩.৬০ বর্গহাত

১ শতাংশ = ৪৮.৪০ বর্গগজ

১ শতাংশ = ৪০.৪৭ বর্গ মিটার

জমি কেনার আগে আপনাকে যা যা জানতে হবে

বিভিন্ন পরিমানে জমির হিসাবঃ

১ শতক = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট

১ শতক = ৪৮.৪০ বর্গগজ

১ শতক ৪০.৪৬ বর্গমিটার

১ শতক = ১৯৪.৬০ বর্গহাত

১ শতক ১০০০ বর্গলিংক

১ কাঠা = ১.৭৫ শতক (৩৫ এর মাপে)

১ কাঠা = ১.৬৫ শতক (৩৩ এর মাপে)

১ কাঠা = ১.৫০ শতক (৩০ এর মাপে)

১ একর = ৬০.৬০ কাঠা

১ একর = ৩.০৩ বিঘা

১ হেক্টর = ২.৪৭ একর

১ একর = ৪৩৫৬০ বর্গফুট

১ একর = ৪৮৪০ বর্গগজ

১ একর = ৪০৪৬ বর্গমিটার

১ একর = ১৯৪৬০ বর্গহাত

১ একর = ১০০০০০ বর্গলিংক।

উদাহরণঃ একটি জমির দৈর্ঘ্য উত্তর আইল ৫০ ফুট, দক্ষিণ আইল ৫৪ ফুট, প্রস্থ পশ্চিম আইল ৩০ ফুট, ভিতরে এক অংশে ৩৪ ফুট, এক অংশে ৩৮ ফুট এবং পূর্ব আইল ৪০ ফুট জমিটির পরিমাণ কত ?

জমিটির দৈর্ঘ্য ৫০+৫৪ = ১০৪ (দুই দিকের দৈর্ঘ্য যোগ করা হলে) তাই ২ দিয়ে ভাগ করলে দৈর্ঘ্য পাওয়া যায় (১০৪ ভাগ ২) = ৫২ ফুট।

জমিটি প্রস্থে অসম হওয়ায় এর ২ দিকের বাউন্ডারীর প্রস্থ ছাড়াও ভিতরের দিকে অন্তত ২াট প্রস্থ পরিমাপ এবং তা গড় করে মূল প্রস্থ বের করা যায় ৩০+৪০+৩৪+৩৮ = ১৪২ (ফুট) এর গড় (১২৪ ভাগ ৪) ৩৫.৫ ফুট।

ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য x প্রস্থ = ৫২ x ৩৫.৫ = ১৮৪৬ বর্গফুট (জমিটির ক্ষেত্রফল)

সূত্র মতে ৪৩৫.৬০ বর্গফুট = ১ শতাংশ।

অতএব উপরের জমিটির পরিমাণ (১৮৪৬ ভাগ ৪৩৫.৬০) = ৪.২৪ শতাংশ।

পরচা, দাখিলনামা, জমাবন্দি, দাখিলা, দাগ নাম্বার, ছুটদাগ কি?

ক্ষেত্রফল আকৃতির জমির মাপঃ

প্রথমেই সুত্রগুলো জেনে নেয়া যাক-

ক্ষেত্রফল = বাহু X বাহু

কর্ন = ১ বাহু X ১.৪১৪

পরীসিমা= ১ বাহু X ৪

এখন যদি প্রশ্ন হয় একটি বর্গক্ষের বাহুগুলির দৈর্ঘ্য ১২০ লিংক করে হলে উহার ক্ষেত্রফল এবং জমির পরিমাণ বের কর।

তাহলে আমরা জেনেছি যে, ক্ষেত্রফল= বাহু X বাহু = ১২০ X ১২০= ১৪৪০০ বর্গলিংক (যদি ক্ষেত্রফলের একেকটি বাহু ১২০ লিংক হয়)।

এখন আমরা আগেই জেনেছি যে, ১ শতাংশ = ১০০০ বর্গ লিংক তাহলে জমির পরিমান,

১০০০ বর্গ লিংক = ১ শতাংশ

১ বর্গ লিংক = ১০০০ ভাগের ১ ভাগ

১৪৪০০০ বর্গ লিংকে কত হবে?

সুতরাং ১৪৪০০০ বর্গ লিংকে ১০০০ দিয়ে ভাগ দিলে যা হবে তাই হচ্ছে তার ফল অর্থাৎ ১৪.৪০ শতাংশ হবে।


জমি মাপের সহজ পদ্ধতি ও যন্ত্রপাতিঃ

গ্যান্টার জরিপঃ

ইংরেজ বিজ্ঞানী গ্যান্টার জরিপ কাজে ব্যবহৃত চেইন আবিস্কার করেন। তাই তার নামানুসারে এ চেইনের নামকরন করা হয়েছে “গ্যান্টর্র্স চেইন”। এ চেইনের দের্ঘ্য ২২ গজ বা ৬৬ ফুট। এতে ১০০টি লিংক আছে। প্রতি লিংকের দৈর্ঘ্য ৭.৯২ ইঞ্চি এর দু মাথায় দুটো হাতল এবং দশম লিংক একটি করে “পেন্ডিল” বা পুলি আছে।

ইদানিং ফিতা/টেপ ব্যবহার করেও জমি পরিমাপ করা হয়। সার্ভেয়ার বা আমিন সব সময় পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত হিসাব ও পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে আপনি নিজেই জমি পরিমাপ করতে পারবেন।

হিসাবটি হলোঃ

১০০০ বর্গ লিংক (৩১.৬২x৩১.৬২ লিংক) ১ শতাংশ।

১৯৪.৬ বর্গ হাত (১৩.৯৫x১৩.৯৫ হাত) = ১ শতাংশ।

১০.০০০ বর্গ লিংক (১x১ চেইন) = ১০ শতাংশ।

৩৩.৩ শতাংশ কার্যত ৩৩ শতাংশ = ১ বিঘা। (ষ্টান্ডার্ড বিঘা)

১০০ শতাংশ বা ৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর।

৪৮৪০x৯ (৯ বর্গফুট = ১ বর্গ গজ বলে = ৪৩৫৬০ বর্গফুট।

৪৩৫৬০ ১০০ (১০০ শতাংশ ১ একর বলে)= ৪৩৫.৬ বর্গফুট।

অতএব ১ শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট বা ৪০.৪৬ বর্গমিটার (প্রায়)।


আমাদের দেশে কোথাও ৩৫ শতাংশে ১ বিঘা, কোথাও ৩৩ শতাংশে ১ বিঘা আবার ইদানিং ৩০ শতাংশে ১ বিঘা বলা হচ্ছে।

যদিও সরকারি বিঘা ৩৩ শতাংশেই করা হয়। অপরদিকে কাঠার পরিমাণ শতাংশের পরিমাণে স্থান বিশেষ পার্থক্য হলেও ২০ কাঠায় ১ বিঘার হিসেবে সর্বত্র প্রচলিত ও স্বীকৃত আছে।


ডায়াগনাল স্কেলঃ

ডায়াগনাল স্কেল একটি চার কোনা বিশিষ্ট তামা ব্রোঞ্জের তৈরি স্কেল। ইহার চার পাশে ১০ টি ঘর বা কক্ষ থাকে প্রতিটি ঘরের মান ১০০ লিংক। ১৬”=১ মাইল স্কেলে ইহা তৈরি করা হয়। এবং গান্টার চেইনের সাথে মিল আছে বলে একে গান্টার স্কেলও বলা হয়।


আভার অফসেটঃ

এটি একটি প্লাষ্টিকের তৈরি স্কেল এই স্কেলের সাথে গান্টার স্কেলের মিল আছে। ইহার দৈর্ঘ্য ২ ” এবং প্রস্ত .৫” (ইঞ্চি) এই স্কেলের সাহায্যে নকশার সংকোচিত দুরত্ব সহজে মাপা যায়। এটা ছাড়া অফনেট নেয়ার ক্ষেত্রে ইহা বিশেষ সুবিধাজনক। গুনে গুনে সংখ্যা হিসাব করা যায় বলে একে গুনিয়া বলা হয়।


ডিভাইডার বা কাটা কম্পাসঃ

ইহা একটি জ্যামিতিক কম্পাস। ইহার সাহায্যে নকশার সংকোচিত দুরত্ব নিয়ে ডাইগোনাল স্কেলে মাপ নেয়া যায় এবং দুরত্ব গুনিয়া গুনিয়া সংখ্যা বুঝা যায়।


জোনাল জরিপঃ 

ভূমি সংস্কার কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক রিভিশনাল সেটেলমেন্ট পদ্ধতির পরিবর্তে ১৯৮৫-৮৬ অর্থ বছরে স্থায়ী পদ্ধতির জোনাল সেটেলমেন্ট আরম্ভ হয়। ১০ টি বৃহত্তর জেলায় জরিপ কাজ হয় এবং এ জরিপে সৃষ্ট খতিয়ানকে বাংলাদেল সার্ভে বা বি. এস. খতিয়ান বলে। কেউ আবার একে আর. এস. খতিয়ান বলে। 

দিয়ারা জরিপঃ দরিয়া শব্দ থেকে দিয়ারা শব্দের উদ্ভব। যে সকল এলাকায় নদী বা সাগরের কারনে জমির ভাঙ্গাগড়া বেশী হয় সে অঞ্চলে দিয়ারা জরিপ পরিচালিত হয়।

বিঘা থেকে কাঠা ও শতাংশ বের করার পদ্ধতি :

১ কাঠা = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট x৩৫ (৩৫ শতাংশে বিঘা হিসাবে) ২০ (২০ কাঠায় বিঘা বলে)। ১ কাঠা = ১৫২৪৬২০ = ৭৬২.৩ বর্গ ফুট, ১ কাঠা ৭৬২.৩ ৪৩৫.৬ = ১.৭৫ শতাংশ। অনুরুপভাবে ৩০ শতাংশে ১ বিঘা ধরলে ১ কাঠা সমান = ১.৫০ শতাংশ।

 

#আপডেট_জমি_রেজিস্ট্রি_খরচঃ #জমিররেকর্ড #জমিরসমস্যা #fypviralシ #ভূমিসেবা #আইনী #খারিজ #NewsUpdate #ভূমি #খাজনা #everyoneactive #everyonehighlightsfollowers #everyonefollowers #everyonehighlights #everyoneシ゚ #everyone #follow #follower


শহর,কিংবা গ্রাম, ফ্লাট, মার্কেট প্রতি ইঞ্চি জমি অনেক মূল্যবান তাই ১০০%ডিজিটাল পদ্ধতিতে  ভূমি জরিপ করা হয় |

বাংলাদেশের সকল জেলায় আমরা ডিজিটাল সার্ভের কাজ করে থাকি |  ডিজিটাল পেন্টাগ্রাফ ম্যাপ তৈরি করা হয় ডিমারকেশন করা হয় এবং সকল মৌজার ম্যাপ সরবরাহ করা হয়  ভূমি বিষয়ের যেকোনো তথ্য সেবা এবং ভূমি পরিমাপের জন্য যোগাযোগ করুন |


  আতিক হাসান মন্ডল লেবু 

  সিভিল কোড কমিশনার

  জেলা ও দায়রা জজ আদালত গাইবান্ধা

  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

 বাংলাদেশ সার্ভেয়ার অ্যাসোসিয়েশন

  ইমু &হোয়াটসঅ্যাপ 01737-132014

ইহুদি ও ইসলাম ধর্ম—দু’টিরই মূল উৎস এক। উভয়ের জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ)।

 📜 ইতিহাস জানা সবার জন্য জরুরি, বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। তাই নিজের ওয়ালে জমা রাখলাম।


ইহুদি ও ইসলাম ধর্ম—দু’টিরই মূল উৎস এক। উভয়ের জাতির পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ)।


🔸 ইবরাহীম (আঃ) এর দুই পুত্র:


১. ইসহাক (আঃ) – যাঁর বংশধরদের বলা হয় বনি ইসরাঈল,

২. ইসমাইল (আঃ) – যাঁর বংশধরদের মধ্য থেকে এসেছেন শেষ নবী, হযরত মুহাম্মদ (সঃ)।


🔹 বনি ইসরাঈলের উৎপত্তি:


ইসহাক (আঃ) এর ছেলে ইয়াকুব (আঃ)—তাঁর আরেক নাম ইসরাঈল।

ইয়াকুব (আঃ) এর ১২ পুত্রের একজন ছিল ইয়াহুদা, যার বংশ থেকেই ইহুদি জাতি বেশি বিস্তার লাভ করে।

তবে মনে রাখতে হবে, ইহুদি ধর্ম আর ইহুদি বংশ এক নয়।


ইহুদা—যিনি নিজের ভাই ইউসুফ (আঃ) কে হত্যার উদ্দেশ্যে কূপে ফেলে দিয়েছিল!

এই ঘটনার পর ইয়াকুব (আঃ) ও তাঁর পরিবার কেনান (বর্তমান ফিলিস্তিন) এ চলে যান, পরে দুর্ভিক্ষের কারণে মিশরে চলে যেতে হয়।


🔸 ইউসুফ (আঃ) তখন মিশরের রাজা।


তাঁর ভাইয়েরা মিশরে গিয়ে ক্ষমতা ও প্রভাব অর্জন করে।

কিন্তু কালের প্রবাহে ফারাওরা ক্ষমতায় আসে এবং বনি ইসরাঈলদের উপর নির্মম অত্যাচার শুরু হয়।


🔹 আল্লাহ তখন পাঠান হযরত মূসা (আঃ) কে,


যিনি ফেরাউনকে হারিয়ে বনি ইসরাঈলকে মুক্তি দেন এবং তাওরাত প্রদান করেন।


কিন্তু পরবর্তীতে তারা আবার আল্লাহর আদেশ অমান্য করে গরু পূজা, অনাচার এবং তাওরাতের বিকৃতি শুরু করে।

তাদের কিছু ধর্মব্যবসায়ী তাওরাত বিকৃত করে লিখে যে, "কেনান ভূমি ইহুদিদের জন্য প্রতিশ্রুত ভূমি" – এটাই "জেকব ল্যাডার ড্রিম"।


🔸 এই ধৃষ্টতা ও অবাধ্যতার ফলে তারা আল্লাহর গজব ও শাস্তির মুখোমুখি হয়ঃ


ব্যবিলনীয় সাম্রাজ্য দ্বারা গণহত্যা,


রোমান সাম্রাজ্য থেকে বিতাড়ন,


আরব দেশ থেকেও হিজরত,


উমার (রা.) ফিলিস্তিন বিজয় করেন এবং আল-আকসা মুসলিমদের অধিকারে আসে।


🔹 ইহুদিরা যেখানে আশ্রয় পেয়েছে, সেখানেই কৌশলে জমি, সম্পদ ও প্রভাব দখল করেছে।


তাদের ব্যবসায়িক কৌশল অনেক উন্নত হলেও, মিথ্যা, ধোঁকা ও কু-নীতি তাদের বহির্বিশ্বে ঘৃণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তবুও তারা শিক্ষা ও অর্থনীতিতে এগিয়ে যায়—কারণ তারা বুঝে যায়, "ক্ষমতা পেতে হলে শিক্ষা ও অর্থ লাগবেই।"


🔸 ১৮৯৭ সালে থিওডোর হার্জেল শুরু করেন জিওনিজম আন্দোলন,


যার লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনে আবার ইহুদি রাষ্ট্র গঠন।

এই আন্দোলনের মূল পৃষ্ঠপোষক ছিল ইউরোপ ও ব্রিটিশ উপনিবেশবাদ।


🔹 প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনকে সাহায্য করে ইহুদি গবেষক চাইম ওয়াইজম্যান,


এর পুরস্কার হিসেবে সে দাবি করে “ফিলিস্তিন আমাদের প্রমিজ ল্যান্ড”।

এরপর ব্রিটেন ব্যালফোর ঘোষণা দেয়—ফিলিস্তিনে ইহুদিদের রাষ্ট্র গঠনের অনুমোদন।


🔸 ফিলিস্তিন তখন ছিল উসমানী খিলাফতের অধীনে,


তাদের পতনের পর ব্রিটেন ফিলিস্তিনে ইহুদি অভিবাসন সহজ করে দেয়।

প্রথমে তারা ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে ভাড়া নেয়, তারপর জমি কিনে বসতি স্থাপন করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ইহুদিরা সন্ত্রাসী হামলা শুরু করে এবং ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।


এর মাত্র ৬ মিনিট পরেই আমেরিকা স্বীকৃতি দেয়!

নবগঠিত রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয় চাইম ওয়াইজম্যান।


---


💔 আজ সেই রাষ্ট্র ইসরায়েলই ফিলিস্তিন, বিশেষ করে গাজা উপত্যকাকে ধ্বংস করে চলেছে।

আর মুসলিম বিশ্বের নেতারা চুপচাপ দর্শকের ভূমিকায় বসে আছেন!


📌 ইতিহাস শুধু বইয়ের বিষয় নয়—এটি আমাদের ভবিষ্যতের আয়না।

এই ইতিহাসের শিক্ষা হলো: শিক্ষা, ঐক্য, ধর্মভীতি ও আত্মমর্যাদা হারালে—পরিণতি হয় ভয়াবহ।


---


🕊️ দয়া করে এই পোস্ট শেয়ার করুন,

যাতে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস জানতে পারে এবং নিজেদের অধিকার, দায়িত্ব ও চেতনা সম্পর্কে সচেতন হয়।

ভী‌‌মের পা‌ন্টির বাংলা অনুবাদ *******

 ভী‌‌মের পা‌ন্টির বাংলা অনুবাদ

***************************

[ ভীমেরপান্টি বাদালস্তম্ভ গরুড়স্তম্ভ মঙ্গলবাড়ীস্তম্ভ ] কথা দিয়ে ছিলাম গরুড়স্তম্ভ’র লিখা গুলোর একটি সরল বাংলা আনুবাদ আপনাদের কাছে উপস্থাপন করব। ছোট্টবেলা থেকে শুনেছি এই লেখাগুলো কেউ পড়তেই পারেনি। গতকাল (০৯ জুন ২০২৫ খ্রিঃ) শেষ বার দেখে আসার সময়ও উপস্থিত দর্শনার্থীরা  ঐ একই কথা বলেন, “এটা কেউ পড়তেই পারেনি!” কথাটি সত্য নয়। ১৭৮০ খ্রিঃ স্যার চার্লস উইলকিন্স এটি আবিষ্কার করেন (স্যার চার্লস উইলকিন্স ”বাদাল কঠির” (নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার ঈসবপুর ইউনিয়নে বাদাল আশেকিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্বদিকে কাচারীভিটা নামে  একটি উচুঁ ডিবি আছে ও সেখানে কুঠিপুকুর নামে একটা পুকুরও বর্তমান।)  অধ্যক্ষ ছিলেন।) তিনি পাথরের এই স্তম্ভটি  দেখতে পাওয়া পর এর লিখাগুলোর পাঠ উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তার সম্পাদনায় ১৭৮৫ সালের ১৪ জুলাই এই স্তম্ভলিপির একটি ইংরেজী অনুবাদ Asiatic Researches কর্তৃক প্রকাশিত হয়। সেখানে লিপিটির মুল ভাষা (সংস্কত) সংযুক্ত করা হয় নাই। নানাবিধ কারনে তাঁর অনুবাদটি প্রশ্নবিদ্ধ হলেও তাঁর চেষ্টা প্রসংসার দাবি রাখে। স্যার চার্লস উইলকিন্স ‘র অনুবাদটি পুনঃবার ১৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে এসিয়াটিক সোসাইটির পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল (?)। এর প্রায় একশ বছর পর  দিনাপুরের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর (বের্তমানের জেলা প্রশাসক পদ মর্যাদা) মিঃ ওয়েষ্টমেক্‌ট এর অনুপ্রেরনায় সংস্কৃত পন্ডিত মান্যবর হরচন্দ্র চক্রবর্ত্তি -র সম্পাদনায় এসিয়াটিক সোসাইটিতে প্রেরণ করলে তা ১৮৭৪ খ্রিঃ প্রকাশিত হয়। একই সাথে শ্রীযুক্ত প্রতাপচন্দ্র ঘোষজ কতৃক লিপিটির ইংরেজী অনুবাদও প্রকাশিত হয়। এই অনুবাদেও বেশ কিছু শ্লোকের অনুবাদ ও আনুষাঙ্গিক বিয়য়ে পন্ডিতগনের মধ্যে সঠিক অনুবাদ হয়নি বলে মতানৈক্য তৈরী হয়। এরপর বিখ্যাত লিপি বিশারদ প্রফেসর কিলহর্ণ  উইলকিন্স, পন্ডিত হরচন্দ্র চক্রবির্ত্তি পাঠটি সংষ্করণ করে ১৮৯৩ সালে (ইংরেজী ভাষায়) Epigraphia India পত্রিকায় পকাশিত হয়। প্রফেসর কিলহর্ণের এই পাঠটি অধিকাংশ পন্ডিতগন গ্রহনযোগ্য বলে মেনে নিয়ে ছিলেন।  কিছু ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হয়, তা নিয়ে বিজ্ঞজনদের সংশয় দেখা দিলে ”বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি”  অক্ষকুমার মৈত্র মহাশয়কে এর একটি বিশুদ্ধ পাঠ সংকলনের  গুরুদায়ীত্ব অর্পণ করেন। দায়ীত্ব প্রাপ্ত হয়ে মৈত্র মহাশয় “গরুড়স্তম্ভ-লিপি” নামে এই স্তম্ভের লিপিগুলোর একটি বাংলা পাঠ সংকলন করে ১৯০৫(?) সালে প্রাকাশ করেন। আমি এসব তথ্য-উপাত্ত্ব অনুসন্ধান করে  এই সংস্কৃত লিপির একটি সরল বাংলা অনুবাদ করার চেষ্টা করেছি মাত্র। আমার ইচ্ছা ভীমের পান্টি নামে খ্যাত এই স্তম্ভলিপিটির ২৮ টি স্তবকে কি লেখা আছে তা সাধারণ জানুক ও তাদের কৌতুহল মেটাক। 

এখন ধারাবাহিক ভাবে প্রতিটি লাইন ও স্তববকের অনুবাদ প্রকাশ করা হবে। আজকে প্রথম লাইন প্রথম স্তবকের মুল সংষ্কতলিপি পাঠ ও আমার সম্পাদিত সরল বাংলা পাঠ উপস্থাপিত করলাম।


প্রথম স্তবকঃ (মুল সংষ্কৃত ভাষা লিপি)

शाण्डिल्यवंशेभूद्वीरदेव स्तदन्व

पाञ्चालो नाम तद्गीत्रे गर्ग स्तस्मादजायत॥

शक्रः पुरोदिशि पति र्न दिगन्तरेषु

तत्रापि दैत्यपतिभि र्जित एव

প্রথম স্তবকঃ (আমার সরল বাংলা অনুবাদ)

শান্ডিল্য বংশ-গোত্রে’র বীরদেব, তার গোত্রে পঞ্চাল এবং পঞ্চালের পুত্র গর্গ জন্ম গ্রহণ করেন।।


বিঃদ্রঃ গর্গদেব গৌড়রাজের বিগ্র ও সান্ধিক ( বর্স্বতমান সময়ের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী) মন্ত্রী ছিলেন। গর্গদেব এর বাড়ী এই পাশেই হরগৌরী মন্দির। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে আর এক পর্বে।


✍️ Afzal Hossain

ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অমূল্য রত্ন

 খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করা মানুষটিই বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশক! 


ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অমূল্য রত্ন। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ব্রিটিশ বাংলা প্রদেশের বর্তমান বাংলাদেশ খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এই মনীষী, শাস্ত্র ও ভাষাতত্ত্বের গভীরতা থেকে বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার অনন্য দিকগুলোকে আবিষ্কার করেছেন। ১৯০৭ সালে তার হাতে আসে বাংলার প্রাচীনতম কবিতা-সংগ্রহ চর্যাগীতির পুঁথি। চর্যাগানের সংকলনটি আবিষ্কার ও সম্পাদনা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণায় তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি।। 


“ বাঙালিয়ানা, বাঙালিত্ব, আমি বাঙালি এই বোধ। আমার বাঙালি বলিয়া যে একটা সত্তা আছে, এই জ্ঞান। বেশি সংস্কৃত পড়িলে লোকে ব্রাহ্মণ হইতে চায়, ঋষি হইতে চায়। সেটা খাঁটি বাংলার জিনিস নয়; তাহার সঞ্চার পশ্চিম হইতে। বেশি ইংরাজি পড়িলে কী হয় তাহা আর বলিয়া দিতে হইবে না। ... 

বাঙালিয়ানার অর্থ এই যে, বাংলার যা ভালো তাহা ভালো বলিয়া জানা, আর যাহা মন্দ তাহা মন্দ বলিয়া জানা। ভালো লওয়া ও মন্দ না লওয়া তোমার নিজের কাজ। কিন্তু জানাটা প্রত্যেক বাঙালির দরকারি কাজ। জানিতে হইলে বুদ্ধিপূর্বক বাংলা দেশটা কী দেখিতে হইবে, বাংলায় কে থাকে দেখিতে হইবে, বাংলার আচার ব্যবহার, রীতি-নীতি, সমাজ-সংসার, উৎসব-আনন্দ, দুঃখ-শোক, কুস্তি লাঠিখেলা টোল পাঠশালা দেখিতে হইবে। ইহার গান গীতি পয়ার পাঁচালী, নাচ খেমটা, কীর্তন ঢপ যাত্রা কবি সব দেখিতে হইবে। মন প্রাণ দিয়া দেখিতে হইবে। আবার এখনকার কালে যাহা যাহা বদলাইতেছে, তাহাও দেখিতে হইবে। খবরের কাগজ, মাসিক পত্র, কনসার্ট, থিয়েটার, ইস্কুল, কলেজ, আপিস, আদালত সবই দেখিতে হইবে। বাংলার এবং বাঙালি জাতির সমস্ত জীবনটা ভালো করিয়া দেখিতে হইবে, তবেই তুমি বাঙালি হইবে।”  


                     -হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচনা সংগ্রহ, ২য় খণ্ড 


 তাঁর জীবন ছিল সংগ্রাম ও পরিশ্রমের এক অবিরাম অধ্যায়। তিনি ভারতের প্রাচীন সাহিত্য, সংস্কৃত কবিতা এবং পুরাণের গভীরতা উন্মোচন করেন, যা আজও আমাদের জন্য অমূল্য সম্পদ। 

বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ব্রিটিশ বাংলা প্রদেশের বর্তমান বাংলাদেশের খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর আদি নিবাস ছিল উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটিতে। তার পারিবারিক পদবী ছিল ভট্টাচার্য। গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর হরপ্রসাদ কলকাতার সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুল ও প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেন। কলকাতায় তিনি তার বড়দা নন্দকুমার ন্যায়চঞ্চুর বন্ধু তথা বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ও পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সঙ্গে থাকতেন। বিএ পরীক্ষায় সংস্কৃতে প্রথম হওয়ায় প্রতি মাসে ৫০ টাকা ‘সংস্কৃত কলেজ স্নাতক বৃত্তি’, ৫ টাকা ‘লাহা বৃত্তি’, এবং ‘রাধাকান্ত দেব মেডেল’ লাভ করেন। ১৮৭৭ সালে সংস্কৃতে সাম্মানিক হন। পরে এম.এ. পরীক্ষায় পাস করে তিনি ‘শাস্ত্রী’ উপাধি লাভ করেন। ১৮৭৮ সালে তিনি হেয়ার স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৮৮৩ সালে তিনি সংস্কৃত কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯০৮ সালে সংস্কৃত কলেজ থেকে অবসর নিয়ে তিনি সরকারের তথ্যকেন্দ্রে যোগ দেন। ১৯২১ থেকে ১৯২৪ পর্যন্ত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান।


তার বিখ্যাত বইগুলো হলো- বাল্মীকির জয়, মেঘদূত ব্যাখ্যা, বেণের মেয়ে (উপন্যাস), কাঞ্চনমালা (উপন্যাস), সচিত্র রামায়ণ, প্রাচীন বাংলার গৌরব ও বৌদ্ধধর্ম। তার উল্লেখযোগ্য ইংরেজি রচনাগুলো হলো- মগধান লিটারেচার, সংস্কৃত কালচার ইন মডার্ন ইন্ডিয়া ও ডিসকভারি অফ লিভিং বুদ্ধিজম ইন বেঙ্গল।

ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী'র জীবন ও কাজ আজও প্রেরণা দেয়, বিশেষ করে যারা সাহিত্য এবং ভাষাতত্ত্বে আগ্রহী, এই প্রতিবেদন তাদের জন্য।।


ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী: বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অমূল্য রত্ন! 


ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন একাধারে পণ্ডিত, গবেষক, সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদ। তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যিনি তাঁর বিশাল অবদান দিয়ে বাংলা ভাষার গর্বিত ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছেন। তাঁর জীবন ছিল এক অবিরাম সাধনা, যেখানে শৈশব থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে তিনি নিঃশেষে উৎসর্গ করেছিলেন ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্যকে।


 শৈশব ও বেড়ে ওঠা: 

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ব্রিটিশ বাংলা প্রদেশের (বর্তমান বাংলাদেশ) খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাদের আদি নিবাস ছিল উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটিতে। তার পারিবারিক পদবি ছিল ভট্টাচার্য। তিনি ছিলেন বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ, সংরক্ষণবিদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা। তার আসল নাম ছিল হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক। শৈশবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী এবং কৌতূহলী। তাঁর বাবা, পণ্ডিত গিরিশচন্দ্র শাস্ত্রী, ছিলেন একাধিক ভাষার পন্ডিত এবং তিনি নিজে তাঁর পুত্রকে উচ্চমানের শিক্ষার জন্য প্রেরণা দিতেন। ছোট থেকেই তিনি বাংলা, সংস্কৃত, পালি এবং একাধিক প্রাচীন ভাষা শিখতে শুরু করেন। কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শুরু করেন, যেখানে তিনি প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর আগ্রহ দেখান।


শিক্ষা: 

গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর হরপ্রসাদ কলকাতার সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুল ও প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেন। কলকাতায় তিনি তার বড়দা নন্দকুমার ন্যায়চঞ্চুর বন্ধু তথা বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ও পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সঙ্গে থাকতেন। ১৮৭১ সালে হরপ্রসাদ প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৮৭৩ সালে ১৯ তম স্থান অধিকার করেন ফার্স্ট আর্টস(এফএ) পরীক্ষায়। ১৮৭৬ সালে বি.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন(৮ম স্থান)। বিএ পরীক্ষায় সংস্কৃতে প্রথম হওয়ায় প্রতি মাসে ৫০ টাকা 'সংস্কৃত কলেজ স্নাতক বৃত্তি', ৫ টাকা 'লাহা বৃত্তি', এবং 'রাধাকান্ত দেব মেডেল' লাভ করেন।১৮৭৭ সালে সংস্কৃতে সাম্মানিক হন। পরে এম.এ. পরীক্ষায় পাস করে তিনি 'শাস্ত্রী' উপাধি লাভ করেন। উক্ত পরীক্ষায় হরপ্রসাদই ছিলেন প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ একমাত্র ছাত্র।


পেশাগত জীবন ও গবেষণা: 


ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর পেশাগত জীবন শুরু হয়েছিল শিক্ষকতা দিয়ে, তবে খুব দ্রুতই তিনি প্রাচীন সাহিত্য ও ভাষাতত্ত্বের গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। তাঁর কাজের মধ্যে প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য এবং সংস্কৃতির নানা দিক নিয়ে অমূল্য অবদান রয়েছে। তিনি বিশেষ করে সংস্কৃত, পালি, এবং প্রাচীন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিশদ গবেষণা করেন এবং এসব ভাষার গ্রন্থগুলোর সঠিক অনুবাদ ও ব্যাখ্যা প্রদান করেন।


তিনি প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের এক মহান গবেষক হিসেবে পরিচিত। তাঁর "বাংলা সাহিত্যরূপ" এবং "বাংলা সাহিত্য ইতিহাস" সংক্রান্ত গবেষণা বাংলা সাহিত্যকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপলব্ধি করতে সহায়তা করেছে। তাঁর কাজ শুধু ভারতীয় সাহিত্যিক ও ইতিহাসবিদদের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সমাদৃত হয়েছে। তাঁর সৃষ্ট গবেষণা গ্রন্থগুলো বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।


এছাড়া, তিনি বাংলা ভাষার ওপর “বাংলা ভাষার শুদ্ধতা” এবং "ভারতীয় ভাষার ঐতিহাসিক বিবর্তন" বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছিলেন, যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে এক দিক নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।


ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আউটস্ট্যান্ডিং কাজ: 


১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস :  চর্যাপদ আবিষ্কার: ১৮৯৭ সালে নেপালে গিয়ে প্রথম বৌদ্ধ পুঁথি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং সেখান থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।

এটি একটি অমূল্য সংকলন, যা বাংলা সাহিত্যের শুরু থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। এতে তিনি সাহিত্যের বিভিন্ন দিক, রচনা, লেখক, এবং সাহিত্যের ধারাগুলির গভীর বিশ্লেষণ করেছেন।

২. ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্য: ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কিত তাঁর গ্রন্থগুলির মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং এক্সটেনসিভ গবেষণা রয়েছে, যা ভারতীয় সংস্কৃতির বিস্তৃত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গভীরতায় আলোকপাত করেছে।


৩. প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্য: সংস্কৃত সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলির আধুনিক ভাষায় অনুবাদ ও ব্যাখ্যা। এই কাজগুলি আজও গবেষকদের জন্য রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


৪. পালি ভাষার গবেষণা: পালি ভাষার ওপর তাঁর কাজ ছিল উল্লেখযোগ্য, বিশেষ করে তিনি তাতে সংকলিত পবিত্র গ্রন্থগুলির বিশ্লেষণ করেন।


শাস্ত্রীর ঐতিহাসিক অবদান


ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির মঙ্গলার্থে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি কেবল একটি যুগের সাহিত্য গবেষকই ছিলেন না।

বরং বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশক ছিলেন। তাঁর গবেষণার মধ্য দিয়ে প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সাহিত্য অনেক বেশি সুস্পষ্ট এবং সংজ্ঞায়িত হয়েছে।


তিনি যে সমস্ত বই লিখেছিলেন এবং গবেষণা করেছিলেন তা আজও ঐতিহাসিক শিক্ষায় দিশা নির্দেশক। তার সাহিত্যের ক্ষেত্রে যে এক গভীর আন্তরিকতা ছিল, তা আজকের সাহিত্যিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে।


পরিশেষে বলবো, 

ড.হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আমাদের জন্য একটি জীবন্ত আদর্শ, যার জীবন ও কাজ বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অমূল্য ধন। তিনি শুধু একজন গবেষক নন, বরং একজন আদর্শ ব্যক্তি যিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে অনন্তকাল ধরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।


#travelblogger #blogger #blog #history #historylovers #lovers

#ড.হরপ্রসাদশাস্ত্রী ##বাংলাশাস্ত্রী #বাংলাসাহিত্য #ভারতীয়সংস্কৃতি #সংস্কৃতসাহিত্য #পালিলেখক #বাংলাভাষা #বাংলাদেশ #সাহিত্য #ইতিহাস #indianliterature #BengaliLanguage #HorePrasadShastri #classicalliterature #sanskritresearch #Tagore #birthday #Khulna #kolkata #Dhaka #DhakaUniversity #culture

খুলনার গায়েবি দুর্গ — সুন্দরবনের গোপন রহস্য

 🏰 খুলনার গায়েবি দুর্গ — সুন্দরবনের গোপন রহস্য


📍 দাকোপ, খুলনা | 🔍 লোককাহিনী ও ইতিহাস


বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে, খুলনার দাকোপ উপজেলার এক গভীর বনাঞ্চলে রয়েছে এমন একটি জায়গা, যাকে স্থানীয় মানুষজন “গায়েবি কেল্লা” বা “অদৃশ্য দুর্গ” নামে চেনে।


এটি কোনো গল্প নয়, বাস্তবেই সেখানে রয়েছে ইটের তৈরি একটি পরিত্যক্ত পুরনো কাঠামো, যা আজও গবেষকদের ধাঁধায় ফেলে দেয়।


---


🧱 কাঠামোর বর্ণনা


মাটি চাপা পড়া প্রাচীন ইটের তৈরি দেয়াল ও চৌকি আকৃতির কাঠামো


কিছু জায়গায় গাছের শিকড়ের মধ্যে লুকানো ছোট ছোট গুহার মতো গর্ত


আশপাশে কোনো মানুষের বসতি নেই, কেবল জেলেরা মাঝেমধ্যে যান


---


👻 লোককাহিনীর দাবি


স্থানীয়দের বিশ্বাস, এটি জিনদের তৈরি দুর্গ


কেউ কেউ বলেন, এক কালে এখানে কোনো অলৌকিক সাধকের আস্তানা ছিল


রাতে সেখানে অদ্ভুত আলো দেখা যায়, আবার কেউ কেউ ধূপের গন্ধ টের পান


অনেক জেলে এই জায়গা পাশ কাটিয়ে চলেন, কারণ নাকি এখানে দিক হারানোর সম্ভাবনা বেশি


---


📵 অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক লক্ষণ


মোবাইল নেটওয়ার্ক একেবারে বন্ধ হয়ে যায়


কম্পাসের দিক দেখানো বন্ধ হয়ে যায় বা এলোমেলো দেখায়


জোয়ার-ভাটার সঙ্গে এক রহস্যময় “গুহার মতো গর্ত” পানির নিচে চলে যায় এবং আবার উঠে আসে


---


📜 


কেউ কেউ মনে করেন, এটি মুঘল আমলে লবণাক্ততা থেকে বাঁচার জন্য তৈরি কোনো সেনা দুর্গ ছিল


আবার কারও মতে, এটি পর্তুগিজ জলদস্যুদের পুরনো ঘাঁটি, যারা সুন্দরবনে লুকিয়ে থাকতো


তবে এখনও কোনো সরকারি খনন বা চূড়ান্ত গবেষণা হয়নি


---


🎯 ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য বার্তা:


খুলনার এই গায়েবি দুর্গ ইতিহাসের একটি অব্যাখ্যাত অধ্যায়। এটি শুধু কল্পনা নয়, সত্যিকারের একটি রহস্য, যাকে জানতে আমাদের আরো গবেষণা প্রয়োজন।


রেফারেন্স ও তথ্যসূত্র:


1. স্থানীয় সংবাদ ও সাক্ষাৎকার


খুলনার দাকোপ উপজেলায় সুন্দরবনের সীমান্তবর্তী এলাকায় বেশ কিছু পুরনো ইটের কাঠামোর অস্তিত্ব স্থানীয় মানুষ ও জেলেরা দেখে থাকেন।


সূত্র: স্থানীয় পত্রিকা “দৈনিক পূর্বাঞ্চল” (খুলনা সংস্করণ), বনে হারিয়ে যাওয়া কাঠামোর খবর, ২০১৯।


2. লোককাহিনী ও মৌখিক ইতিহাস


দাকোপ ও পাশ্ববর্তী গ্রামের প্রবীণদের মুখে এই ধরনের “গায়েবি দুর্গ” এর কাহিনী প্রচলিত আছে।


একাধিক ফোকলোর গবেষণায় উঠে এসেছে, এই ধরনের কাঠামোকে "জিনের ঘর", "অলৌকিক কেল্লা" বলা হয়।


3. খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রিপোর্ট


২০১৫ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দাকোপ এলাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের সময় এ ধরনের স্থাপনার অস্তিত্বের সম্ভাবনার কথা বলেন।


যদিও পূর্ণাঙ্গ খনন বা গবেষণা হয়নি, তারা স্থানীয় ফোক-তথ্যের উপর ভিত্তি করে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করেন।


4. বাংলাদেশ বনবিভাগের সংরক্ষণ নথি


সুন্দরবনের ভেতরের কিছু এলাকা ‘অবিকৃত বনাঞ্চল’ হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে মানব-নির্মিত কাঠামোর সন্ধান পাওয়া গেছে।


সূত্র: বাংলাদেশ বনবিভাগ, খুলনা রেঞ্জ রিপোর্ট ২০০৭-২০২০।


Isma Azam Rezu নাম Shakher Tek Kali Temple (“গায়েবী কেল্লা”)

অবস্থান দাকোপ, খুলনা; শিবসা নদীর পূর্ব পাড়


আপনি খুলনা শহর থেকে দাকোপের Shakher Tek (শাখের টেক) কালী মন্দির বা “گায়েবী কেল্লা” পৌঁছাতে পারেন দুইটি প্রধান রুটে — রাস্তা ও নৌপথ। নিচে বিস্তারিত দেখুন:


---


🚗 রুট ১: রাস্তা + নৌকাযোগে


1. খুলনা → দাকোপ (সড়কপথ, ≈ 50 কিমি)


বাস বা সিএনজি অটোরিকশা: খুলনা শহরের বেলাভূমি, নারী কলোনি বা কাটখোলা থেকে সরাসরি ডাকপপুর বাস পাওয়া যায়।


প্রাইভেট কার/মটরসাইকেল: কাঁচা-জমির মধ্য দিয়ে দোয়ারাবাড়ি, পিরোজপুর-দাকোপ রাস্তা ধরে করে দাকোপ পৌঁছতে পারেন।


2. দাকোপ → শিবসা নদীর পূর্ব পাড়ে (নৌকাযোগে, ≈ 10–15 কিমি)


দৌলতিয়া ঘাট বা স্থানীয় ঘাট থেকে ছোট নৌকা ভাড়া করে নদীপারে হয়ে নদী পারাপর অন্তত ৪০–৬০ মিনিট সময় নেবে।


নদীপথে গিয়ে “Shekher Khal” বা “Kali Khal” খাল অনুসরণ করে পৌঁছান।


3. শাখের টেক অর্জন


নদী তীরে নেমে সংক্ষিপ্ত যানবাহন বা হাঁটাহাঁটি করে মন্দিরাঞ্চলে উপনীত হন।


---


🌉 রুট ২: দীর্ঘ নদীপথ (পুরোপুরি নৌকা)


Khulna Launch Ghat থেকে সরাসরি শিবসা নদীতে চালকৃত লোকাল নৌকা ভাড়া করে ২–৩ ঘণ্টা যেতে পারবেন “Shekher Khal” এলাকায়।


সময় বেশি লাগলেও এটি সরাসরি সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ, প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের দুর্দান্ত উপায়।


আমি আবারও বলছি এটা লোকোকথার গল্প বা ইতিহাস 

সম্পূর্ণ সঠিক আমি জানিনা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে রেফারেন্স গুলো দিয়েছি 

লেখা : History Hunters 


#khulnahistory #Khulna #history #historyhunters

বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫

রান্নাঘরের দুই যাদুকর – বেকিং সোডা আর বেকিং পাউডার!

 🧂 রান্নাঘরের দুই যাদুকর – বেকিং সোডা আর বেকিং পাউডার!


❝ এক চামচেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ম্যাজিক! ❞


আমরা সাধারণত কেক, পিঠে বা বিস্কুট বানাতে বেকিং সোডা বা বেকিং পাউডার ব্যবহার করি।

কিন্তু জানেন কি?

রান্নাঘর পরিষ্কার রাখতে, গন্ধ দূর করতে, এমনকি তেলের দাগ তোলাতেও এদের অবদান অসাধারণ!


চলুন, এক নজরে দেখে নিই এদের বিস্ময়কর ব্যবহার 👇



🥄 বেকিং সোডার ঘরোয়া টিপস:


➤ ১. চপিং বোর্ড পরিষ্কার করতে:

পেঁয়াজ-রসুন কাটা বোর্ডে গন্ধ বা দাগ বসে গেলে বেকিং সোডা ছিটিয়ে স্পঞ্জ দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলুন—দারুণ কাজ দেবে।


➤ ২. সবজি ধোওয়ায়:

ফল বা সবজি ফ্রেশ রাখতে জলের মধ্যে এক চিমটি বেকিং সোডা মিশিয়ে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।


➤ ৩. পোড়া হাঁড়ি পরিষ্কার করতে:

গরম জল আর বেকিং সোডা মিশিয়ে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে ঘষে নিন—পুরনো দাগ হাওয়া।


➤ ৪. রান্নার গন্ধ দূর করতে:

একটি বাটিতে বেকিং সোডা রেখে দিন রান্নাঘরে—অতিরিক্ত তেল-ঝালের গন্ধ শুষে নেবে।


➤ ৫. ফ্রিজ বা মাইক্রোওভেনের গন্ধ কমাতে:

একটি খোলা পাত্রে বেকিং সোডা রেখে দিন—নিঃশব্দে গন্ধ শুষে নেবে।


➤ ৬. প্লাস্টিক কন্টেইনারের গন্ধ দূর করতে:

বেকিং সোডা ও জল মিশিয়ে ধুয়ে ফেললেই দাগ ও গন্ধ দুটোই যাবে।


➤ ৭. কাপড়ে তেলের দাগ উঠাতে:

দাগের উপর বেকিং সোডা ছিটিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ঘষে দিন, তারপর ধুয়ে ফেলুন।


➤ ৮. এক্সজস্ট ফ্যান, গ্যাস বার্নার বা চিমনি পরিষ্কারে:

গরম জলে বেকিং সোডা মিশিয়ে কাপড় ডুবিয়ে পরিষ্কার করুন।


➤ ৯. চা-কফির কাপের দাগ তুলতে:

বেকিং সোডা ছিটিয়ে নরম স্পঞ্জে ঘষলেই দাগ উধাও।



🥄 বেকিং পাউডারের ঘরোয়া টিপস:


🌟 বেকিং পাউডার (Baking Powder) – শুধু কেক নয়, পরিষ্কারের জাদুও!


🔸 ১. হাঁড়ির পোড়া দাগে:

গরম জল ও বেকিং পাউডার দিয়ে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে স্ক্রাব করলেই দাগ উঠে যাবে।


🔸 ২. প্লাস্টিক বক্সের গন্ধ দূর:

এক চিমটি বেকিং পাউডার ও জল দিয়ে ধুলেই গন্ধ উধাও।


🔸 ৩. তেলের দাগ তুলতে:

দাগের ওপর ছিটিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ঘষুন, কাচলে দাগ যাবে।


🔸 ৪. টাইলস, সিঙ্ক বা গ্যাস স্টোভ পরিষ্কারে:

লেবুর রস ও বেকিং পাউডার পেস্ট বানিয়ে লাগান, কিছুক্ষণ পর স্ক্রাব করুন—ফিরবে চকচকে ভাব।


🔸 ৫. চা-কফির কাপ পরিষ্কার:

কাপে বেকিং পাউডার ছিটিয়ে স্পঞ্জ দিয়ে ঘষলেই দাগ উধাও।


🔸 ৬. ফ্রিজ/ওভেনের গন্ধে:

এক বাটিতে রেখে দিন—গন্ধ শোষণ করবে।


🔸 ৭. চিমনি/বার্নার/এক্সজস্ট পরিষ্কারে:

গরম জলে মিশিয়ে কাপড় বা স্পঞ্জ দিয়ে ঘষুন—তেল-ময়লা দূর হবে।


🔸 ৮. তেল লাগা কনটেইনার পরিষ্কারে:

গরম জল ও বেকিং পাউডার দিয়ে ধুলেই দাগহীন হবে।



🧁 বেকিং সোডা বনাম বেকিং পাউডার – কখন কোনটা?


🥄 বেকিং সোডা:

– শুধু sodium bicarbonate

– অ্যাসিড থাকলেই কাজ করে (যেমন দই, লেবু)

– রান্না ও পরিষ্কারে দুই জায়গায়ই খুব কার্যকর


🥄 বেকিং পাউডার:

– তাতে আগে থেকেই অ্যাসিড মেশানো থাকে

– আলাদা অ্যাসিড লাগে না

– কেক, বিস্কুট, ব্রেডে বেশি ব্যবহার হয়

– হালকা পরিষ্কার কাজেও ভালো


🧽 সংক্ষেপে:

✔️ রান্নায় অ্যাসিড থাকলে → Baking Soda

✔️ অ্যাসিড না থাকলে → Baking Powder

✔️ পরিষ্কারে → Baking Soda Best!



🌿 তাই কেবল কেক বা পিঠে নয়, এই দুই কৌটোতে লুকিয়ে আছে পরিষ্কার আর রান্নার অজস্র উপকারিতা।

রোজকার ছোট সমস্যার সহজ সমাধান – একেবারে আপনার হেঁশেল থেকেই।


✨ আপনার কিচেন থাকুক পরিষ্কার, ঝকঝকে আর সুগন্ধি – বেকিং পাউডার আর বেকিং সোডার সঙ্গে!


#BakingSodaTips #BakingPowderHacks #RannaGhorerTips #HomeHacks 


 #tips  #tipsandtricks  #follower #nonfollowers

ইতিহাসে প্রাচীন ভারতের রাজবংশ  _______পর্ব-১০৩-(ণ)

 ইতিহাসে প্রাচীন ভারতের রাজবংশ 

_______পর্ব-১০৩-(ণ)


ভারতীয় প্রাচীন ইতিহাসে মালাবারের প্রধান ক্রীতদাস জাতি ছিল পুলায়ার,পারয়ার, কুরুভার,চেরুমাস।প্রধান কালেক্টর অনুমান করেছিলেন যে,পুলায়ার এবঙ চেরুমাররা দাস জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক ছিল।বুকানন 1801 সালে বলেছিলেন যে,প্রায় সমস্ত চাষীই দাস ছিল।তিনি আরও বলেছিলেন যে,দাসদের প্রাথমিকভাবে ক্ষেতে শ্রমের জন্য ব্যবহার করা হত এবঙ দাসত্বের মাত্রা ছিল পারয়ার,পুলায়ন এবঙ কুরভানদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ যাদেরকে পশুর মতো কাজ করানো হয়েছিল। চেরুভান এবঙ পুলায়নদের কেনাবেচা করার জন্য শহরে আনা হয়েছিল।1806 থেকে 1842 সাল পর্যন্ত 36 বছরে ক্রীতদাস জনসংখ্যা 65 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।1801 খ্রিস্টাব্দে ড. ফ্রান্সিস বুকাননের অনুমান অনুসারে,মালাবারের দক্ষিণ,মধ্য এবঙ উত্তর বিভাগে 292,366 জন মোট জনসংখ্যার মধ্যে 41,367 জন দাস ছিল।1836 সালে ট্রাভাঙ্কোরে 164,864 জন ক্রীতদাস ছিল,মোট জনসংখ্যা 1,280,668 জন।উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে কেরালায় আনুমানিক 4.25 লক্ষ (425,000) ক্রীতদাস ছিল।তাছাড়া সামাজিক নিপীড়নও দাসপ্রথার অংশ ছিল। তাদের পরিষ্কার পোশাক পরার অনুমতি ছিল না এবঙ তাদের প্রভুদের রাস্তা থেকে দূরে রাখতে হয়েছিল যারা ব্রাহ্মণ ও নায়ার ছিল। মেজর ওয়াকার বলেছিলেন যে,তারা প্রকৃতির কাছে ত্যাগ করা হয়েছিল এবঙ যখন তারা রোগে ভুগেছিল এবঙ কখনও কখনও ধানের ক্ষেতে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল যা তাদের বাত,কলেরা এবঙ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত করেছিল।ক্রীতদাসদের নিম্ন বর্ণের আখ্যায়িত করা হয়েছিল এবঙ শুধুমাত্র সামন্ত কাজের জন্য নিযুক্ত ছিল এবঙ তাদের প্রভুদের কাছ থেকে তাদের দূরে রাখা উচিত এই কলঙ্কটি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল।স্যামুয়েল মাতার উল্লেখ করেছেন যে, এমনকি কাজের ক্ষেত্রেও দাসদের দূর থেকে তদারকি করা হয়েছিল।


ভারতীয় বর্ণপ্রথা দাসদের অস্পৃশ্য হিসাবে রেখেছিল এবঙ তারা অসংখ্য উপ-বর্ণে বিভক্ত ছিল।19 শতকে চেরুমারদের অবস্থা আলাদা ছিল না,1898 সালে কেরালা পত্রিকা লিখেছিল যে,চেরুমার দাসদের তাদের প্রভুদের জন্য উচ্চ শ্রদ্ধা ছিল কারণ উচ্চ বর্ণের লোকেরা তাদের বিশ্বাস করেছিল যে,তারা উচ্চ বর্ণের সেবা করতে জন্ম থেকেই বাধ্য।

_______ চলমান,


জয় ভারত মাতার জয় 🇳🇪

প্রথমে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করুন। কোনমতে পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করুন।

 প্রথমে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করুন। কোনমতে পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করুন। ন্যূনতম প্ল্যানিং ছাড়াই বাচ্চা পয়দা করুন। এরপর শুরু করুন আসল গেম …


যেহেতু আপনার বেশি টাকা নেই, তাই আপনার সন্তানকে একটি বাল-ছাল স্কুলে ভর্তি করান। সবচেয়ে ভালো হয় সরকারি স্কুল কিংবা হালকা-পাতলা নাম আছে – এমন কোনো স্কুলে ভর্তি করালে। কারণ আপনি যেই সমাজে থাকেন, সেখানে তথাকথিত সরকারি স্কুল কিংবা কিঞ্চিৎ নামী স্কুল একটা স্ট্যাটাসের বিষয় হলেও সেখানে পড়াশোনার নামে হয় না বাল্ডাও। সেখানে শিক্ষকেরা একটা প্রাচীন, ধ্বজভঙ্গ সিলেবাস ধরে পড়ায়; যার মূল উদ্দেশ্য দু’টো। এক, এই শিক্ষকরা যাতে সহজে বেতন নিয়ে বাসায় গিয়ে প্রাইভেট বাণিজ্য করতে পারে। আর দুই, সরকার যেন ভবিষ্যত প্রজন্ম হিসেবে থটলেস, ব্রেইনলেস, কনফিডেন্সলেস গ্রুপ অব স্লেইভস পায়। যাদের পলিটিক্যালি, রিলিজিয়াসলি, ন্যাশনালি ম্যানিপুলেট করা সুপার ইজি। অবশ্যই এমন স্কুলে ভর্তি করবেন, যেন আপনার সন্তান স্কুলের নাম শুনলেই কাঁদে। স্কুলের যে এমন হওয়া উচিত, যে বাচ্চারা সেখানে আগ্রহ নিয়ে যেতে চাইবে – এসব জানার আপনার প্রয়োজনই নেই। উল্টো শিক্ষকেরা ধরে মারধোর, গালি-গালাজ করলে সন্তানকে বলবেন, ঠিকই তো আছে!


এবার শিশুর যে মানসিক বিকাশ দরকার, সেটা সম্পূর্ণ ভুলে যান। ঢাকায় এমনিতেই খেলার জায়গা নেই, তাই সন্তানকে খেলাধুলা করানোর প্রশ্নই আসে না। এছাড়াও যে সকল অ্যাকটিভিটি এ বয়সে ব্রেইনের ক্যাপাসিটি বাড়ায়, স্মার্ট বানায়, সেসব নিয়েও কোন চিন্তাই করবেন না। বাচ্চাদের মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট, আঁকা-আঁকি, বই পড়া, টুক-টাক লেখালিখি তথা যেকোনো প্রকারের ক্রিয়েটিভিটির চর্চা শেখানোকে চোদনামি ভাবুন। তাকে বাসায় একটা ফোন দিয়ে আটকে রাখুন। সোশ্যালাইজিং স্কিল তাতে পুটুম্রা খাক, সেসব মোটেও আপনার মাথা ব্যথা হওয়ার কথা না। 


এরপর একটু বড় হলেই তাকে বোঝান যে সে যদি এ+ না পায়, সমাজে আপনাদের মুখ দেখানোর জায়গা থাকবে না। তাকে চরম প্রেশারে রাখুন। সবচেয়ে ভালো হয় আপনার পরিমন্ডলে থাকা বাচ্চাদের সাথে তাকে প্রায়ই কম্পেয়ার করলে। তাকে বলুন, যে অমুকেও ভাত খায়। তুইও খাস। ও পারে, তুই পারিস না ক্যান? তার সামনে কয়েকটা লক্ষ্য বেঁধে দিন। বলুন যে পৃথিবীর একমাত্র পেশা হচ্ছে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার আর নাহলে বিসিএস ক্যাডার। এগুলো না হতে পারলে জীবনের কোন অর্থ নেই …


তাকে চরম স্ট্রাগল করে মেট্রিক, ইন্টার পাশ করতে দিন। তারপর শুরু করুন গেমের দ্বিতীয় অধ্যায়। তাকে বোঝান, যে পাবলিকে চান্স না পেলে তোমার জীবন শেষ। আপনার সমস্ত চেষ্টার পরও যে যদি ভুলেও কোন হবি বা স্কিল ডেভলপ করে, সেসবকে অপ্রয়োজনীয় বোঝাতে আপনার সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করে সেটাকে ধ্বংস করার এটাই প্রকৃত সময়। তাকে ডিপ্রেশন, এনজাইটি, সোশ্যাল অকওয়ার্ডনেস ডেভলপ করতে সাহায্য করুন। তাকে বলুন যে তার পড়াশোনা ও খাওয়ানোর পেছনে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, তাকে “এই পর্যায়ে” নিয়ে আসতে আপনার কি পরিমাণ বাল ছিঁড়তে হয়েছে … 


তারপর সে যদি পাবলিকে চান্স পায়, তো ভালো। আর বাই এনি চান্স না পেলে যদি তাকে ন্যাশনাল কিংবা প্রাইভেটে ভর্তি করাতে হয়, তাহলে তাকে প্রতিনিয়ত সে যে কতোবড় অথর্ব, সেটা মনে করিয়ে দিতে ভুলবেন না। ভার্সিটিতে উঠে সে যখন দেখবে তার আশে-পাশের পোলাপান সোশ্যাল স্কিলে অনেক স্মার্ট, ভালো ইংরেজি বলতে পারে, ট্রেন্ডিং স্কিল আছে, ক্রিয়েটিভ স্কিল আছে, মোদ্দাকথা যে যখন লেফ্ট আউট ফিল করবে, তখন তাকে বলুন, মানুষের পোলাপান কতো কিছু পারে, আর তুই?


তাকে বোঝান যে, যেহেতু আপনি গরিব, আপনি জীবনে একটা বালের চাকরি ছাড়া আর কিছুই করতে পারেননি, তাই তাকে ইনস্যুরেন্স পলিসি হিসেবে পয়দা করেছেন। আপনি, আপনার পরিবার, আপনার খানদান যে অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ যে আপনার সন্তান; এ জিনিসটা তার মাথায় ঢুকিয়ে তাকে প্রেশার দিয়ে পাগল বানিয়ে দিন। ডিপ্রেসড হলে, মাথায় সুইসাইডাল থট আসলে তাকে বলুন যে মোবাইল না টিপলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। 


এভাবে সে কোনমতে ভার্সিটিটা পাশ করা মাত্র শুরু করুন গেমের তৃতীয় অধ্যায়। চাকরি না পাওয়া অবধি সে যে পরিবারের একটা বোঝা, সেটা প্রতিদিন মনে করিয়ে দিন। মানুষের ছেলে-মেয়ে কত এগিয়ে গিয়েছে, কার বেতন কত, কে কত ভালো পজিশনে আছে – এটাকেই বাসার প্রধান আলোচনায় নিয়ে আসুন। তাকে বলুন এন সংখ্যক মাইল হেঁটে, এক্স সংখ্যক কিলোমিটার নদী সাঁতরে আপনারা পড়াশোনা করে “এই পর্যায়ে” এসেছেন। সে “সবকিছু” পেয়েও কেন পারছে না? 


এরপর শুরু করুন গেমের ফাইনাল স্টেজ। 


তাকে বোঝান যে আপনাদের বয়স বাড়ছে। আর বেশিদিন পৃথিবীতে থাকবেন না। সন্তানের বৌ/জামাই দেখতে চান। দাদা-দাদী, নানা-নানী ডাক শুনতে চান। এদিকে তাকে সমাজের বোঝা হিসেবে বড় করায় তাকে যে কেউ পাত্তাই দেয় না, সেটা নিয়ে আপনার ভাবার কোন দরকার নেই। তাকে জোরপূর্বক পাত্র-পাত্রী দেখানো শুরু করুন। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ বিষয়টা সিস্টেমেটিক। কে কি পাচ্ছে, সেটা অনেকাংশেই মূখ্য। আপনার সন্তানের যে কিছুই দেওয়ার নেই – এই তথ্যটা তখনই তার মাথায় সেট করে দেওয়ার আদর্শ সময়। প্রতিটা চাকরির পরীক্ষা/ইন্টারভিউয়ের আগে তাকে প্রেশারে রাখুন, রেজাল্ট শুনে মুখ কালো করে এমনভাবে “কি সন্তান জন্ম দিয়েছি” বলুন, যেন সে ভাবে বাচ্চা পয়দা করার পরিকল্পনাটা আপনাদের ছিলো না, বরং সে-ই উপর থেকে আপনাদের সিগন্যাল দিয়েছিলো পয়দা হওয়া জন্য। 


এভাবে ধীরে ধীরে আপনার সন্তানের জীবনটা তছনছ করে দিন। 


দেখবেন, প্রচন্ড ভালো লাগবে।


copy post

কশাইদের প্রতারণার শিকার ভোক্তাগণ,,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমাদের দেশে মাংসের দোকানগুলোতে গেলে দেখবেন কসাই মাংস কাটছে আর সেই মাংস থরথর করে নড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা মনে করে, মাংস নড়ছে মানেই এটা একদম টাট...