ছবিটা হলো রিং নেবুলা বা M57 এর।
- ১৭০০-এর দশকে যখন প্রথম টেলিস্কোপ দিয়ে এটিকে দেখা হয়, তখন এটি গোলাকার আর অস্পষ্ট দেখাচ্ছিল, আর তাই তৎকালীন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে এটিকে দূরবর্তী একটি গ্রহের মতো মনে হয়েছিল। এই নামকরণ করেছিলেন উইলিয়াম হার্শেল।
- রিং নেবুলা হলো একটি মৃতপ্রায় সূর্যের মতো নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ। এই নক্ষত্রটি তার জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তার বাইরের গ্যাসীয় স্তরগুলো মহাকাশে ছুড়ে দিয়েছে, আর ভিতরের কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে একটি সাদা বামন (white dwarf) নক্ষত্রে পরিণত হচ্ছে।
- আপনি ছবিতে এটিকে একটি ফাঁপা রিং বা আংটির মতো দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এখন জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মতো উন্নত যন্ত্র দিয়ে দেখেছেন যে, এর আসল আকৃতিটা একটা ফাঁপা রিংয়ের মতো নয়, বরং এটি একটি রাগবি বলের মতো লম্বাটে গঠন। আমরা এটিকে রিংয়ের মতো দেখি কারণ এটি আমাদের পৃথিবীর দিকে এমনভাবে ঝুঁকে আছে যে আমরা এর কেন্দ্র বরাবর দেখছি।
- এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২,৩০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। আমাদের বর্তমান প্রযুক্তির মাধ্যমে সেখানে পৌঁছাতে কয়েক মিলিয়ন বছর লেগে যাবে!
- এই নেবুলাটির ব্যাস প্রায় ১ আলোকবর্ষ, যার মানে হলো, এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আলোর পৌঁছাতেও পুরো এক বছর সময় লাগে।
- নেবুলার গ্যাসগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার গতিতে বাইরের দিকে প্রসারিত হচ্ছে। এটি দেখে মনে হতে পারে যে এটি খুব দ্রুত গতি, কিন্তু মহাকাশের বিশালতার তুলনায় এই গতি খুবই ধীর।
- নেবুলার সবথেকে উজ্জ্বল অংশটি লাল, সবুজ এবং নীল রঙের হয়। এই রঙগুলো আসে বিভিন্ন গ্যাসের পরমাণু থেকে:
* লাল - নাইট্রোজেন এবং হাইড্রোজেন।
* সবুজ - অক্সিজেন।
* নীল - হিলিয়াম।
- নেবুলার কেন্দ্রে থাকা সাদা বামনটি আমাদের সূর্যের আকারের প্রায় ৬০% এবং এটি অবিশ্বাস্যরকম গরম। এর পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় ১২০,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- এই কেন্দ্রীয় সাদা বামনটি এখন তার সমস্ত শক্তি শেষ করে ঠাণ্ডা এবং ম্লান হয়ে যাচ্ছে। কয়েক বিলিয়ন বছরের মধ্যে, এটি একটি কালো বামন (black dwarf) হয়ে মহাবিশ্বের অন্ধকারে মিশে যাবে।
- রাতের আকাশে এটি লাইরা (Lyra) তারামণ্ডলে অবস্থিত এবং এটি এতটাই উজ্জ্বল যে একটি ছোট টেলিস্কোপ বা শক্তিশালী বাইনোকুলার ব্যবহার করে সহজেই দেখা যায়। এটি মেসিয়ার ক্যাটালগের ৫৭তম বস্তু, তাই এর আরেক নাম M57।
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ এই নেবুলার ভেতর থেকে প্রায় ২০,০০০টি ছোটো ছোটো বলের মতো গঠন খুঁজে পেয়েছে, যেগুলোকে হাইড্রোজেন গ্যাস দিয়ে তৈরি বলে মনে করা হয়। এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদেরকে নেবুলার গঠন এবং বিবর্তন সম্পর্কে নতুন ধারণা দিয়েছে।
