এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫

সেনোলাইটিক চিকিৎসা: বার্ধক্যকে ধীর করার বিজ্ঞান

 সেনোলাইটিক চিকিৎসা: বার্ধক্যকে ধীর করার বিজ্ঞান


মানুষ যত উন্নত হচ্ছে, ততই সামনে আসছে এক নতুন প্রশ্ন—আমরা কি সত্যিই বার্ধক্যকে ধীর করতে পারব? বিশ্বের জনসংখ্যা যত দ্রুত বৃদ্ধ হচ্ছে, ততই বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন মানুষের বার্ধক্যকে ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার উপায় খুঁজতে। যদি এমন কোনো ওষুধ তৈরি হয় যা বয়স বাড়ার গতি কমিয়ে দিতে পারে, তাহলে তা কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্য নয়, বরং চিকিৎসা, সমাজ ও অর্থনীতির জন্যও এক বিশাল পরিবর্তন বয়ে আনবে।


বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলি আসলে বয়স-সম্পর্কিত রোগ—যেমন ক্যান্সার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আলঝেইমার ইত্যাদি। তাই বয়সকে ধীর করা বা বার্ধক্য বিলম্বিত করা মানুষের বহু পুরোনো স্বপ্ন। 


গত দুই দশকে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে, প্রাণীদেহে জিনগত পরিবর্তন, নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস, বা ওষুধের মাধ্যমে বার্ধক্য ধীর করা সম্ভব। ইঁদুরের মত প্রাণীতে এই সাফল্য থেকেই জন্ম নিয়েছে এক নতুন শিল্পখাত—লংজেভিটি বায়োটেকনোলজি (Longevity Biotechnology)—যেখানে বিভিন্ন কোম্পানি এই ধারণাগুলিকে মানুষের শরীরে প্রয়োগের চেষ্টা করছে।


এই খাত এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা গবেষণা ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলির একটি। কেউ পুরোনো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পদ্ধতিতে কাজ করছেন, কেউ নতুন দিক খুঁজছেন—যেমন Altos Labs, যারা কোষকে আংশিকভাবে “রিইউভেনেট” বা পুনরুজ্জীবিত করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।

.


বার্ধক্য গবেষণার পটভূমি


এই অ্যান্টি-এজিং গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা হল শরীরে জমে থাকা সেনেসেন্ট কোষ নিয়ে কাজ করা—অর্থাৎ এমন কোষ, যেগুলি আর বিভাজন করতে পারে না, আবার মারাও যায় না। ১৯৬০-এর দশকে বিজ্ঞানী লিওনার্ড হেইফ্লিক ও পল মুরহেড দেখান যে, মানুষের কোষ একসময় এসে বিভাজন বন্ধ করে দেয়—এর কারণ হল টেলোমিয়ার নামের ডিএনএ অংশটির ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যাওয়া।


পরে দেখা যায়, শুধু বয়স নয়—বিভিন্ন ধরনের মানসিক, রাসায়নিক বা জিনগত চাপেও এই সেনেসেন্ট কোষ তৈরি হয়। এরা আর বৃদ্ধি পায় না, বরং আশেপাশে একধরনের প্রদাহজনক রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে দেয়, যাকে বলে SASP (senescence-associated secretory phenotype)। এই প্রক্রিয়ায় শরীরের অন্য কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়।


২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিক-এর বিজ্ঞানী জ্যান ভ্যান ডিউরসেন ও তার দল দেখান, সাধারণ ইঁদুরের শরীর থেকে p16 জিন সক্রিয় সেনেসেন্ট কোষ সরিয়ে ফেললে ইঁদুরের আয়ু ২৪-২৭ % পর্যন্ত বেড়ে যায় এবং তারা বেশি সময় সুস্থ থাকে। অর্থাৎ শুধু আয়ু নয়, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময়ও (healthspan) বাড়ানো যায়।


এই আবিষ্কারই তৈরি করে নতুন সম্ভাবনা—যদি এই নিষ্ক্রিয় কোষগুলি ওষুধের মাধ্যমে সরানো যায়, তাহলে মানুষও হয়ত বার্ধক্যকে কিছুটা ধীর করতে পারবে। এখান থেকেই শুরু হয় সেনোলাইটিক ড্রাগস (বার্ধক্যনাশক ওষুধ)-এর গবেষণা।

.


সেনোলাইটিক ওষুধের কার্যপ্রণালী


সেনোলাইটিক (Senolytics) ওষুধ শরীরের অকার্যকর বা বৃদ্ধ কোষগুলিকে লক্ষ্য করে তাদের ধ্বংস করে দেয়। প্রথম দিকের ওষুধগুলির মধ্যে ছিল Dasatinib, Quercetin, Fisetin ও Navitoclax। এগুলি শরীরের কোষগুলির ভেতরে থাকা আত্মরক্ষার ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়, ফলে ক্ষতিকারক কোষগুলি নিজেই ভেঙে যায় বা মারা যায়।


যেহেতু নতুন সেনেসেন্ট কোষ জমে উঠতে সময় লাগে কয়েক সপ্তাহ, তাই এই ওষুধগুলি নিয়মিত নয়, বরং মাঝে মাঝে দেওয়া হয়—একে বলা হয় “hit-and-run approach”।


প্রাণীদেহে করা গবেষণায় দেখা গেছে, সেনোলাইটিক ওষুধ বয়সজনিত দুর্বলতা, ক্যান্সার, হৃদরোগ, লিভার, কিডনি, ফুসফুস, ত্বক, হাড়, চোখ এবং স্নায়ুজনিত রোগগুলিতে উন্নতি আনতে পারে। মানুষের ওপর প্রাথমিক পরীক্ষাতেও দেখা গেছে, এই ওষুধ বুড়ো কোষ কমায়, প্রদাহ হ্রাস করে এবং শরীরকে কিছুটা সক্রিয় রাখে।


তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক—এই ওষুধ এখনও পরীক্ষার পর্যায়ে এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ বা কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। তাই এটি সাধারণ ব্যবহারের জন্য নয়, কেবল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা গবেষণার অংশ হিসাবেই প্রয়োগ করা হচ্ছে।

.


অর্থনৈতিক গুরুত্ব: ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সুযোগ


শুধু স্বাস্থ্য নয়, অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এই গবেষণার সম্ভাবনা বিশাল। গবেষণায় দেখা গেছে, যদি মানুষের বার্ধক্য সামান্যও ধীর করা যায় এবং মাত্র এক বছর অতিরিক্ত সুস্থ জীবন পাওয়া যায়, তবে তার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার। আর যদি মানুষের স্বাস্থ্যকর আয়ু ১০ বছর বাড়ানো যায়, তবে সেই মূল্য হবে প্রায় ৩৬৭ ট্রিলিয়ন ডলার। (সূত্র: National Library of Medicine, PMC10154220, 2023)


এই বিশাল সংখ্যা দেখায়, দীর্ঘায়ু প্রযুক্তি (longevity technology) শুধু চিকিৎসা নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। প্রবীণ মানুষ যদি আরও উৎপাদনশীল, কর্মক্ষম ও স্বনির্ভর হতে পারে, তবে সেটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও বিরাট লাভজনক হবে।

.


সেনোলাইটিক ওষুধের ধরন ও কাজ


সব সেনোলাইটিক ওষুধ একইভাবে কাজ করে না। কোনোটি শরীরের রক্ত ও টিস্যু পরিষ্কার করে, কোনোটি পেশি ও অস্থিসন্ধির কোষকে পুনরুজ্জীবিত করে, কোনোটি হৃদপিণ্ড বা মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়।


• রক্ত ও টিস্যু পরিষ্কারকারী ওষুধ: পুরোনো কোষ সরিয়ে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে।


• পেশি ও অস্থিসন্ধি রক্ষাকারী ওষুধ: পেশির শক্তি ও নড়াচড়া ফিরিয়ে আনে।


• হৃদপিণ্ড ও রক্তনালী সুরক্ষাকারী ওষুধ: রক্তপ্রবাহ উন্নত করে ও ক্লান্তি কমায়।


• মস্তিষ্ক ও স্নায়ু রক্ষাকারী ওষুধ: স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।


• ফুসফুস ও কিডনি পরিশোধনকারী ওষুধ: শরীরের ফিল্টার অঙ্গগুলি তরতাজা রাখে।


• প্রাকৃতিক উদ্ভিদজাত উপাদান: যেমন গ্রিন টি, আঙুর বা স্ট্রবেরির নির্যাস—যেগুলি শরীরের কোষে ধীরে ধীরে বার্ধক্যবিরোধী প্রভাব ফেলে।

.


ভবিষ্যৎ, নৈতিকতা ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপট


বিজ্ঞানীরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নতুন সেনোলাইটিক যৌগ খুঁজছেন। একই সঙ্গে তৈরি হচ্ছে “বায়োমার্কার”, যা দিয়ে আগেভাগেই জানা যাবে কার শরীরে এই চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে।


তবে একাধিক নৈতিক প্রশ্নও রয়েছে—এই চিকিৎসা কি সবার নাগালে আসবে? নাকি শুধু ধনীদের? বার্ধক্য রোধের ওষুধ যদি খুব ব্যয়বহুল হয়, তবে তা সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়াতে পারে। তাই ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল—“সবার জন্য সুস্থ দীর্ঘায়ু” নিশ্চিত করা।

.


বাংলাদেশে ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যার ২০% হবে ষাটোর্ধ্ব। তাই Healthy Ageing বা “সুস্থ বার্ধক্য” এখন শুধু চিকিৎসার নয়, বরং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত। সেনোলাইটিক চিকিৎসা ভবিষ্যতে যদি সহজলভ্য হয়, তাহলে এটি প্রবীণদের যত্ন, চিকিৎসা ব্যয় এবং জীবনমান উন্নত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।


সেনোলাইটিক ড্রাগস (বার্ধক্যনাশক ওষুধ) প্রমাণ করছে যে বার্ধক্য আর অপ্রতিরোধ্য নয়—এটি একটি জৈব প্রক্রিয়া, যা বিজ্ঞান দ্বারা প্রভাবিত করা সম্ভব। এখনও এটি পরীক্ষার স্তরে আছে, কিন্তু এর সম্ভাবনা বিশাল। একদিন হয়ত আমরা এমন এক যুগে পৌঁছাব, যেখানে “বয়স বাড়া মানেই দুর্বল হওয়া” নয়—বরং দীর্ঘ, কর্মক্ষম ও প্রাণবন্ত জীবনই হবে নতুন বাস্তবতা।


#বার্ধক্য #আয়ু #চিকিৎসা

হোমিপ্যাথিতে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ  অ্যাগারিকাস মাস্কেরিয়াস

 🎍হোমিপ্যাথিতে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ 

অ্যাগারিকাস মাস্কেরিয়াস


Agaricus Muscarius–এর ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ ~


🍄 **Agaricus Muscarius — 100 Symptoms


🔵 Mental Symptoms (মানসিক লক্ষণ)


1. Excessive cheerfulness without cause — বিনা কারণে অতিরিক্ত আনন্দ


2. Loquacity and foolish talking — অতিরিক্ত কথা বলা ও বোকামি ধরনের কথা


3. Anxiety with trembling — উদ্বেগের সাথে কাঁপুনি


4. Fear of falling ill — অসুস্থ হয়ে পড়ার ভয়


5. Sudden fits of laughter — হঠাৎ অকারণ হাসি


6. Confusion of mind — মাথা ঝাপসা লাগা


7. Difficulty concentrating — মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট


8. Excitable, nervous temperament — উত্তেজিত ও নার্ভাস স্বভাব


9. Fear of death at night — রাতে মৃত্যুভয়


10. Sensation as if intoxicated — নেশা পাওয়া অনুভূতি


---


🔵 Head Symptoms (মাথা)


11. Vertigo on walking — হাঁটলে মাথা ঘোরা


12. Sensation of icy coldness on scalp — মাথার তালু বরফ ঠান্ডা মনে হওয়া


13. Twitching of facial muscles — মুখের পেশি টান ধরা


14. Headache from sunlight — রোদে মাথাব্যথা


15. Stabbing pain in temples — কানের পাশে ছুরির মতো ব্যথা


16. Foggy or clouded feeling in head — মাথা ভারী ও ঝাপসা


17. Frost-bite-like sensation — শীতের কামড়ের মতো অনুভূতি


18. Headache better by gentle motion — হালকা নড়াচড়ায় মাথাব্যথা কমা


19. Scalp very sensitive to cold — শীতে মাথার ত্বক সংবেদনশীল


20. Head trembles when thinking — ভাবলেই মাথা কাঁপা


---


🔵 Eyes (চোখ)


21. Twitching of eyelids — চোখের পাতায় টান ধরা


22. Weak vision with flickering — ঝিলমিল করা দৃষ্টি


23. Sensation of sand in eyes — চোখে বালির মতো অনুভূতি


24. Burning of eyes in cold air — ঠান্ডা বাতাসে চোখ জ্বালা


25. Double vision at times — মাঝে মাঝে দ্বৈত দেখা


26. Eyelid spasms from stress — স্ট্রেসে চোখের পাতার খিঁচুনি


27. Pupils dilated — চোখের মণি বড় হয়ে যাওয়া


28. Eyesight improves in open air — খোলা বাতাসে দৃষ্টি উন্নত


29. Cold tears from eyes — ঠাণ্ডা পানি পড়ে


30. Sensitivity to bright light — আলোতে অস্বস্তি


---


🔵 Ears (কান)


31. Ringing and buzzing sounds — কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ


32. Ear twitching — কানে টান ধরার অনুভূতি


33. Sensation of cold inside ears — কানের ভেতর ঠান্ডা অনুভব


34. Itching deep inside ear — কানের গভীরে চুলকানি


35. Sudden pain like electric shock — ইলেকট্রিক শক-এর মতো ব্যথা


---


🔵 Nose (নাক)


36. Cold nose with sneezing — নাক ঠান্ডা + হাঁচি


37. Nose bleeding from slight cause — সামান্য কারণে নাক দিয়ে রক্ত


38. Constant itching of nostrils — নাকের ভেতর চুলকানি


39. Sensation of frozen nose — নাক জমে যাচ্ছে এমন অনুভূতি


40. Profuse watery discharge — প্রচুর পানি পড়া


---


🔵 Face (মুখমন্ডল)


41. Facial muscles twitch constantly — মুখে সবসময় টান


42. Burning cheeks with cold tip of nose — গাল গরম, নাক ঠান্ডা


43. Red spots on cheeks — গালে লাল দাগ


44. Neuralgic facial pain — মুখমণ্ডলের নার্ভের ব্যথা


45. Facial trembling from nervousness — ভয় বা নার্ভাসে মুখ কাঁপা


---


🔵 Mouth (মুখ)


46. Burning tongue — জিহ্বায় জ্বালা


47. Excessive salivation — অতিরিক্ত লালা


48. Bitter taste in morning — সকালে মুখ তিতা


49. Lips twitching — ঠোঁটে টান ধরা


50. Dryness of mouth despite saliva — লালা থাকা সত্ত্বেও মুখ শুষ্ক অনুভব


---


🔵 Throat & Chest (গলা ও বুকে)


51. Raw soreness in throat — গলায় কাঁচা ব্যথা


52. Difficulty swallowing — গিলতে সমস্যা


53. Chest tightness with cold sensation — বুকে চাপ + ঠান্ডা অনুভূতি


54. Stitching pain in chest — বুকে সূচ ফোটার মতো ব্যথা


55. Asthmatic wheezing in cold weather — ঠান্ডায় অ্যাজমার মতো শ্বাসকষ্ট


---


🔵 Stomach & Abdomen (পেট)


56. Sharp spasmodic pain — গ্যাঁক গ্যাঁক ব্যথা


57. Extreme hunger, yet cannot eat much — খুব ক্ষুধা, কিন্তু খেতে পারে না


58. Gas with rumbling — গ্যাস + পেট গড়গড়


59. Cramping better by bending — ঝুঁকে থাকলে ব্যথা কমে


60. Cold feeling in abdomen — পেট ঠাণ্ডা


---


🔵 Rectum (মলদ্বার)


61. Itching in rectum — মলদ্বারে চুলকানি


62. Burning during stool — মলত্যাগে জ্বালা


63. Frequent desire for stool — বারবার পায়খানার চাপ


64. Uncontrollable flatus — গ্যাস আটকে রাখতে না পারা


65. Spasmodic rectal pain — খিঁচুনিজনিত ব্যথা


---


🔵 Urinary (প্রস্রাব)


66. Burning urination — প্রস্রাবে জ্বালা


67. Urine with flakes — মূত্রে সাদা দানা


68. Frequent night urination — রাতে বারবার প্রস্রাব


69. Cold sensation after urinating — প্রস্রাবের পর ঠান্ডা লাগা


70. Dribbling urine — প্রস্রাব লিক হওয়া


---


🔵 Male/Female Sexual Organs (যৌনাঙ্গ)


71. Tingling in genital area — যৌনাঙ্গে ঝিনঝিনি


72. Increased sexual excitement — যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি


73. Itching of genitals — যৌনাঙ্গে চুলকানি


74. Spasms during intercourse — মিলনে খিঁচুনি


75. Irregular menstrual flow (female) — মাসিকে অনিয়ম


---


🔵 Back (পিঠ)


76. Twitching in back muscles — পিঠের পেশিতে টান


77. Pain like electric-shock — ইলেকট্রিক শকের মতো ব্যথা


78. Weakness of spine — মেরুদণ্ড দুর্বল


79. Coldness along the spine — পিঠ বেয়ে ঠাণ্ডা ভাব নামা


80. Back pain worse in cold — ঠান্ডায় পিঠ ব্যথা


---


🔵 Limbs (হাত-পা)


81. Jerking of arms & legs — হাত-পা লাফানো


82. Trembling in hands — হাত কাঁপা


83. Frostbite-like pain in fingers — আঙুলে বরফ শীতের কামড়ের মতো ব্যথা


84. Numbness of limbs — হাত-পা অবশ


85. Sudden violent cramps — হঠাৎ মারাত্মক ক্র্যাম্প


86. Legs feel heavy — পা ভারী মনে হওয়া


87. Spasms increased by thinking — চিন্তা করলেই খিঁচুনি বাড়ে


88. Difficulty walking straight — সোজা হাঁটতে কষ্ট


89. Fingers twitch continuously — আঙুলে টান


90. Jerking during sleep — ঘুমের মধ্যে হাত-পা দপদপ করা


---


🔵 Skin (ত্বক)


91. Burning on skin patches — ত্বকের কিছু অংশে জ্বালা


92. Extreme sensitivity to cold — ঠান্ডায় অতিসংবেদনশীল


93. Small red itchy spots — ছোট লাল চুলকানিযুক্ত দাগ


94. Blue discoloration of skin — ত্বক নীলচে


95. Sweating with cold feeling — ঘাম হলেও শরীর ঠান্ডা


---


🔵 Sleep (ঘুম)


96. Twitching during sleep — ঘুমে টান ধরা


97. Difficult falling asleep — ঘুম আসতে দেরি


98. Restless sleep — অস্থির ঘুম


99. Vivid dreams — জীবন্ত স্বপ্ন


100. Wakes up shivering — কাঁপুনি নিয়ে ঘুম ভাঙা


---


📌 Agaricus Muscarius — মূল প্রয়োগ ক্ষেত্র


স্নায়বিক খিঁচুনি (Neural Spasm)


টিক্‌স (Twitching)


ট্রেমর (Tremor)


ঠান্ডায় সংবেদনশীলতা


ফ্রস্ট-বাইটের মতো ব্যথা


মুখ–চোখ–হাত–পায়ের টান


হঠাৎ জার্ক (Myoclonus)


মেন্টাল এক্সাইটেবল স্টেট।


⚠️ বিজ্ঞপ্তি:শেয়ার করে রেখে দিন।

এই পোস্টের সমস্ত লেখা, ছবি,ও আইডিয়া © Dr.Forhad Hossain fb page–এর স্বত্বাধিকারভুক্ত।

অনুমতি ছাড়া কপি, রি-আপলোড, স্ক্রিনশট, বা পুনঃপ্রকাশ করলে

তা কপিরাইট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

এমন কার্যকলাপের ক্ষেত্রে ফেসবুক ও মেটা টিমে রিপোর্ট করা হবে

এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

🔒 Respect Original Creation | 


🤷‍♂️🌷সঠিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পেতে হলে জানতে হবে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ সেবন করা উচিৎ নয়।


🩺Dr.Md.Forhad Hossain 

D.H.M.S(B.H.B),DHAKA

Pdt(Hom)

Consultant:Homoeopathic  Medicine 

Helpline:01955507911

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ: ২১-১১-২০২৫

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ: ২১-১১-২০২৫


আজকের সংবাদ শিরোনাম

......................................................


* নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে রায় আপিল বিভাগের--কার্যকর চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে


* তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল


* সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ এর খসড়ায় উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন।


* মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাওয়ার কথা ভাবছে সরকার --- জানালেন আইন উপদেষ্টা


* যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনায় আজ দেশে পালিত হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী দিবস


* চলতি বছর পশ্চিম তীরের তিনটি  শিবির থেকে ইসরাইলের জোরপূর্বক শরণার্থী উচ্ছেদ কার্যক্রমকে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আখ্যা দিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ


* এবং দোহায় এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ২০-১১-২০২৫ খ্রি:।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ।

তারিখ: ২০-১১-২০২৫ খ্রি:।

আজকের শিরোনাম:


নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে রায় আপিল বিভাগের --- কার্যকর চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে ।


তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।


সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ এর খসড়ায় উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন।


মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাওয়ার কথা ভাবছে সরকার --- জানালেন আইন উপদেষ্টা।


রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব গৃহীত।


যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনায় আগামীকাল দেশে পালিত হবে সশস্ত্র বাহিনী দিবস।


আফগান সীমান্তের কাছে দুটি পৃথক স্থানে পাকিস্তানি হামলায় অন্তত ২৩  জঙ্গি নিহত।


এবং ঢাকায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে প্রথম ইনিংসে ৪৭৬ রানের বিশাল সংগ্রহ বাংলাদেশের --- শততম টেস্টে সেঞ্চুরীর অনবদ্য রেকর্ড মুশফিকুর রহিমের।

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ: ২০-১১-২০২৫

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ: ২০-১১-২০২৫


আজকের সংবাদ শিরোনাম

.......................................................


* সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

 

* নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর---বললেন সিইসি, গণভোট পরিচালনায় আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ

 

* মহান বিজয় দিবস ঘিরে নাশকতার কোনো শঙ্কা নেই--- জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা


* শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায়কে একটি মহল ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি বিএনপি মহাসচিবের আহ্বান

 

* গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ২৮ ফিলিস্তিনি নিহত


* এবং আজ ঢাকায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে চার উইকেটে ২৯২ নিয়ে দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিং শুরু করবে বাংলাদেশ

শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫

শরীরকে নিজের আক্রমণ থেকে বাঁচানোর সুরক্ষা ব্যবস্থা আবিষ্কার,,,,নোবেল পুরস্কার ২০২৫: ফিজিওলজি বা মেডিসিন

 নোবেল পুরস্কার ২০২৫: ফিজিওলজি বা মেডিসিন

শরীরকে নিজের আক্রমণ থেকে বাঁচানোর সুরক্ষা ব্যবস্থা আবিষ্কার


২০২৫ সালের চিকিৎসাশাস্ত্র বা শারীরবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মেরি ই. ব্রাঙ্কো, ফ্রেড র‌্যামসডেল এবং শিমন সাকাগুচি মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা (Self-Tolerance) সংক্রান্ত মৌলিক আবিষ্কারের জন্য এই সম্মাননা পান। একেকজন আলাদা ল্যাব, আলাদা দেশে কাজ করেছেন। কিন্তু তিনজনের গবেষণা মিলিয়ে আমাদের শরীর সম্পর্কে এক গভীর সত্য ধরা দিয়েছে।


ইমিউন সিস্টেম শুধু যুদ্ধ করতে জানে না, সে জানে কখন থামতে হবে, কাকে আঘাত না করে ছাড় দিতে হবে। আর সেই “ছাড় দেওয়ার বুদ্ধি”টাই হল পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স।

.


শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে ইমিউন সিস্টেম


মানুষের ইমিউন সিস্টেমকে আপনি চাইলে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে কল্পনা করতে পারেন। বাইরে থেকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্যারাসাইট ঢুকলে সৈন্যরা (টি-সেল, বি-সেল ইত্যাদি) ধেয়ে যায় আক্রমণ করতে। কিন্তু শহরের ভেতরের মানুষ, নিজের দোকান-–বাড়ি, অফিস-আদালত—এসবকে আক্রমণ করলে তো চলবে না।


তাই প্রয়োজন শুধু অস্ত্রধারী বাহিনী নয়। দরকার রেফারি, ট্রাফিক পুলিশ আর শান্তিরক্ষীও—যারা ঠিক করবে কোথায় “স্টপ”, কোথায় “স্লো”, আর কোথায় “ওকে, যেতে দাও”। পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স আসলে এই “শান্তি রক্ষা” ও “সীমা টেনে দেওয়ার” বৈজ্ঞানিক ভাষা।

.


রেগুলেটরি টি সেল: শরীরের ভেতরের শান্তিবাহিনী


এখানেই আসছে রেগুলেটরি টি সেল, সংক্ষেপে Treg (Regulatory T cell)। এরা এমন কিছু টি-সেল, যাদের কাজ লড়াই করা নয়। বরং অন্য টি-সেলদের নিয়ন্ত্রণে রাখা—অনেকটা রেফারি বা শান্তিবাহিনীর মত।


কোনো টি-সেল যদি ভুল করে নিজের শরীরের টিস্যুকে শত্রু ভেবে আক্রমণ করতে যায়, Treg গিয়ে তাকে থামায়। তারা সংকেত কমিয়ে দেয়, বা পুরো প্রতিক্রিয়াটাই “ডাউন” করে দেয়। শিমন সাকাগুচির বড় অবদান হল, এই গোপন শান্তিবাহিনীকে তিনি প্রথম স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন, ইমিউন সিস্টেমের ভেতরে সত্যিই এমন এক আলাদা “ব্রেক সিস্টেম” আছে।

.


সাকাগুচির ইঁদুর-পরীক্ষা: ব্রেক তুলে নিলে কী হয়


সাকাগুচি ১৯৯০-এর দশকে ইঁদুর নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখলেন, সব টি-সেল সমান নয়। কিছু টি-সেলের গায়ে বিশেষ এক মার্কার থাকে—CD25। এগুলিকে আলাদা করে পরীক্ষা করে তিনি এক অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করলেন।


যে ইঁদুরের শরীর থেকে এই CD25-যুক্ত টি-সেলগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়, কিছুদিনের মধ্যেই সে ভয়ঙ্কর অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত হয়। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে প্রদাহ দেখা দেয়, টিস্যু নষ্ট হয়ে যায়। এক কথায়, ইমিউন সিস্টেম নিজের শরীরের ওপরই আক্রমণ চালাতে শুরু করে।


আবার, যদি এই বিশেষ কোষগুলি ফেরত দেওয়া হয়, তখন রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। এখান থেকেই প্রমাণ হল, CD25-সমৃদ্ধ এই টি-সেলগুলিরই একটা অংশ হল Regulatory T cell। এরা না থাকলে ইমিউন সিস্টেম নিজের ও পরের পার্থক্যটাই হারিয়ে ফেলে।


নতুন প্রশ্ন সামনে এলো, Treg তৈরি হয় কীভাবে?


কিন্তু শুধু জানা গেল যে Treg আছে, এতে পূর্ণ ছবি পাওয়া গেল না। প্রশ্ন থেকে গেল—এই বিশেষ “শান্তিবাহিনী” তৈরি হয় কীভাবে? কোন জিন বা মলিকুলার প্রোগ্রাম ঠিক করে যে, একটা টি-সেল লড়াই করবে, নাকি লড়াই থামানোর দায়িত্ব নেবে?


এখানেই বিশাল ভূমিকা রাখেন মেরি ই. ব্রাঙ্কো এবং ফ্রেড র‌্যামসডেল।

.


Scurfy মাউস: এক অদ্ভুত ইঁদুর থেকে বড় আবিষ্কার


তারা কাজ শুরু করলেন এক অদ্ভুত ইঁদুর নিয়ে, যার নাম scurfy mouse। এই ইঁদুর খুব অল্প বয়সেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সারা শরীরে প্রচণ্ড প্রদাহ হয়, অঙ্গগুলি ফেইল করতে থাকে। সব মিলিয়ে দেখতে এক ভয়ংকর অটোইমিউন সিন্ড্রোমের মত।


আগেই জানা ছিল, সমস্যাটা X ক্রোমোজোমের কোনো জিনে। কিন্তু ঠিক কোনটায়, তা কেউ জানত না। ব্রাঙ্কো ও র‌্যামসডেল ধৈর্য ধরে সেই X ক্রোমোজোমের অঞ্চল ধরে ধরে স্ক্যান করতে থাকলেন।


তখনকার প্রযুক্তি দিয়ে পুরো ক্রোমোজোম ঘেঁটে কোনো নির্দিষ্ট মিউটেশন বের করা মানে সত্যিই খড়ের গাদায় সূচ খোঁজার মত কাজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পেলেন এক নতুন ট্রান্সক্রিপশন ফ্যাক্টর জিন, যার নাম রাখলেন FOXP3।

.


FOXP3: ব্রেক না থাকলে ইমিউন সিস্টেমের উন্মত্ত দৌড়


দেখা গেল, scurfy ইঁদুরের এই FOXP3 জিনে গুরুতর ত্রুটি আছে। এই ত্রুটি থাকলেই ইঁদুরের ইমিউন সিস্টেম যেন লাগামহীন ঘোড়ার মত সবকিছুতে আক্রমণ চালিয়ে যায়। পুরো শরীর জুড়ে অটোইমিউন ঝড় শুরু হয়।


এর পাশাপাশি তারা মানুষের একটি বিরল ও ভয়ঙ্কর রোগের দিকে তাকালেন—IPEX syndrome (Immune dysregulation, Polyendocrinopathy, Enteropathy, X-linked)। সাধারণত ছোট ছেলে শিশুদের এই রোগ হয়, কারণ জিনটি X ক্রোমোজোমে থাকে।


এই শিশুদের মধ্যে একসাথে একাধিক গ্রন্থির রোগ দেখা যায়। অন্ত্রের মারাত্মক প্রদাহ হয়, ডায়াবেটিস হয়, থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দেয়। সবকিছু মিলিয়ে শরীরের ইমিউন সিস্টেম যেন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।


বিভিন্ন দেশের হাসপাতাল থেকে IPEX রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে যখন FOXP3 জিন পরীক্ষা করা হল, দেখা গেল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই FOXP3-এ মারাত্মক মিউটেশন রয়েছে। অর্থাৎ, ইঁদুর আর মানুষের, দু’ক্ষেত্রেই একই গল্প। FOXP3 নষ্ট মানেই রেগুলেটরি টি সেল ঠিকমত গড়ে উঠতে পারে না। আর তার ফল ভয়াবহ অটোইমিউন ব্যর্থতা।

.


FOXP3: Treg-এর “মাস্টার কন্ট্রোল জিন”


এরপরের কয়েক বছরের মধ্যে আরও গবেষণা প্রমাণ করল, FOXP3 আসলে Treg-এর “মাস্টার কন্ট্রোল জিন”। কোনো টি-সেলে FOXP3 সঠিকভাবে কাজ করলে সেই কোষ রেগুলেটরি চরিত্র ধারণ করে।


মানে, সে অন্য কোষকে থামাতে শেখে, শান্ত রাখতে শেখে। ইমিউন প্রতিক্রিয়াকে অতিরিক্ত হয়ে যেতে না দিতে শেখে। আর FOXP3 নষ্ট হলে ঠিক বিপরীত ঘটে।


তখন Treg গঠন ব্যাহত হয়। ইমিউন সিস্টেম নিজের শরীরের বিরুদ্ধে অকারণে যুদ্ধ শুরু করে। শিমন সাকাগুচি যে রেগুলেটরি টি সেলের ধারণা দিয়েছিলেন, ব্রাঙ্কো ও র‌্যামসডেল সেই ধারণার মলিকুলার ভিত এনে দিলেন। তারা দেখালেন, এই শান্তিবাহিনীর কমান্ডার জিন হল FOXP3।

.


অটোইমিউন রোগ: যখন ব্রেক কাজ করে না


এই আবিষ্কারের বাস্তব প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট হয় অটোইমিউন রোগ, ক্যান্সার আর অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট-এর মত জায়গায়। যেমন ধরুন, টাইপ-১ ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস বা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মত রোগ।


এই ধরনের রোগে আমরা দেখি, রোগীর শরীরে Treg-এর সংখ্যা বা কার্যকারিতা অনেক সময় কম থাকে। ফলে যে টি-সেলগুলি আক্রমণ থেকে বিরত থাকার কথা, তারা আর থামে না। তারা নিজের অর্গান-টিস্যুকেই ধ্বংস করতে থাকে।


এখন গবেষকরা চেষ্টা করছেন—কীভাবে আবার Treg বাড়ানো যায়। কীভাবে FOXP3-এর কার্যকারিতা বাড়িয়ে ইমিউন সিস্টেমকে নিজের শরীরের প্রতি “সহনশীলতা” শেখানো যায়।


কোথাও কম ডোজ IL-2 দিয়ে Treg বাড়ানোর ট্রায়াল চলছে। কোথাও রোগীর নিজের Treg কোষ ল্যাবে বাড়িয়ে আবার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—যাকে “Treg সেল থেরাপি” বলা যায়।

.


ক্যান্সার: যখন শান্তিবাহিনী ভুল পক্ষকে বাঁচায়


ক্যান্সারের ক্ষেত্রে আবার ছবি ঠিক উল্টা। অনেক টিউমারের ভেতরে খুব বেশি সংখ্যায় Treg জড়ো হয়। এখানে এই শান্তিরক্ষী বাহিনী আসলে শরীরের বদলে টিউমারকেই রক্ষা করে।


টিউমারের আশেপাশে Treg এত বেশি হয়ে যায় যে, ইমিউন সিস্টেমের যে আক্রমণকারী টি-সেলগুলি ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে পারত, তারা আর কাজ করতে পারে না। টিউমার একধরনের “ইমিউন সুরক্ষা-প্রাচীর” তৈরি করে। সেখানে Treg-ই হয়ে যায় তার নিরাপত্তারক্ষী।


তাই এখন অনেক ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপিতে গবেষকরা নতুন উপায় খুঁজছেন। কীভাবে নির্দিষ্টভাবে টিউমারের আশেপাশের Treg কমিয়ে বা দুর্বল করে আক্রমণকারী টি-সেলদের আবার সক্রিয় করা যায়, সেটাই তাদের মূল লক্ষ্য। যাতে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে তাদের প্রাকৃতিক যুদ্ধটা পুনরায় শুরু হয়।

.


অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট: ইমিউন সিস্টেমকে “মানিয়ে নিতে” শেখানো


অর্গান ট্রান্সপ্লান্টের গল্পও এই আবিষ্কারের আলোয় নতুন করে দেখা যায়। অন্যের কিডনি, লিভার বা হার্ট শরীরে বসালে ইমিউন সিস্টেম এগুলিকে প্রথমে একদম “বিদেশি শত্রু” হিসাবে দেখে। স্বাভাবিকভাবেই সে আক্রমণ করতে চায়।


এই আক্রমণ ঠেকাতে রোগীকে সারাজীবন ইমিউনো-সাপ্রেসিভ ওষুধ খেতে হয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক—সংক্রমণ, ক্যান্সার, এমনকি অর্গান ফেইলিওর পর্যন্ত।


কিন্তু যদি টার্গেটেড Treg দিয়ে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করা যায়, যেখানে শুধু ওই ট্রান্সপ্লান্টেড অর্গানের বিরুদ্ধে ইমিউন প্রতিক্রিয়াটা শান্ত হয়ে যায়, তাহলে সুবিধা হয়। বাকি শরীরের প্রতিরোধশক্তি তখন মোটামুটি ভাল থাকে।


তাহলে ট্রান্সপ্লান্ট রোগীদের জীবন অনেক নিরাপদ আর স্বাভাবিক হতে পারে। তাই আজকে CAR-Treg-এর মত কনসেপ্ট নিয়ে কাজ হচ্ছে। সেখানে বিশেষভাবে ডিজাইন করা Treg নির্দিষ্ট অর্গান বা টিস্যুকে চিনে সেখানেই গিয়ে ইমিউন প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

.


সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু: Regulatory T cell এবং FOXP3


এই সবকিছুর ভিত্তি, শেষ পর্যন্ত এসে দাঁড়ায় ঐ দুটো শব্দে—Regulatory T cell আর FOXP3। শিমন সাকাগুচি দেখালেন, এমন এক আলাদা টি-সেল গোষ্ঠী আছে, যারা ইমিউন সিস্টেমের ভেতরে শান্তি রক্ষা করে।


মেরি ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড র‌্যামসডেল দেখালেন, এই শান্তিবাহিনী গড়ে ওঠার চাবিকাঠি একটি নির্দিষ্ট জিন—FOXP3। তিনজনের গবেষণার ফল মিলিয়ে এখন আমরা জানি, ইমিউন সিস্টেমের ভেতরে শুধু “আক্রমণ বাহিনী”ই নেই। খুব সংগঠিত এক “ব্রেক সিস্টেম”ও আছে। আর সেটাকে বদলাতে পারলে ভবিষ্যতের চিকিৎসায় বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়।

.


তিন নোবেলজয়ী: ল্যাবের ভেতরের মানুষগুলি


তিন বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত পথও কম আকর্ষণীয় নয়। মেরি ই. ব্রাঙ্কো যুক্তরাষ্ট্রে জন্মেছেন। তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে।


সিয়াটলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজিতে কাজ করতে করতে scurfy ইঁদুরের FOXP3-ত্রুটি খুঁজে বের করা প্রকল্পের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হয়েছেন। তার কাজ দেখিয়েছে, একটি মাত্র জিনের সমস্যা পুরো ইমিউন সিস্টেমের ভারসাম্য উল্টে দিতে পারে। আজ বিরল জেনেটিক রোগ থেকে শুরু করে সাধারণ অটোইমিউন রোগ বোঝার ক্ষেত্রেও এই ধারণা প্রভাব ফেলছে।


ফ্রেড র‌্যামসডেল একদিকে একাডেমিক গবেষক, অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকের সেতুবন্ধনকারী। তিনি শুধু FOXP3 আবিষ্কারে নন, পরের ধাপেও গুরুত্বপূর্ণ।


এই জ্ঞানকে ভিত্তি করে Treg-ভিত্তিক সেল থেরাপি আর নতুন ধরনের ইমিউনো-মডুলেটরি চিকিৎসার দিকে গবেষণা এগিয়ে নেওয়ার কাজও তিনি করে চলেছেন।


আর শিমন সাকাগুচি, জাপানের ইমিউনোলজি জগতের এক কিংবদন্তি। তিনি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে Treg-এর ভূমিকা ও গঠন নিয়ে কাজ করছেন। FOXP3-এর সঙ্গে এর সম্পর্ক আর বিভিন্ন রোগে Treg-এর ভারসাম্য ভাঙার প্রভাব নিয়েও তিনি ধারাবাহিকভাবে গবেষণা করে গেছেন।

.


লড়াই নয়, ভারসাম্যই ভবিষ্যৎ


এই সব কারণে নোবেল কমিটি যখন বলল—তাদের আবিষ্কার দেখিয়েছে কীভাবে আমাদের ইমিউন সিস্টেম “নিজেকে নিজে নিয়ন্ত্রণে রাখে”—তা শুধু বৈজ্ঞানিক ভাষণ ছিল না। আমাদের স্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এক বড় আশার কথাও ছিল।


আজ আমরা হয়ত সাধারণ রোগী হিসেবে FOXP3 বা Treg-এর নাম জানি না। কিন্তু অটোইমিউন রোগের নতুন চিকিৎসা, ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপির দক্ষতা, কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অর্গান ট্রান্সপ্লান্টের স্বপ্ন—এসবের সাথে নীরবে কাজ করে যাচ্ছে এই আবিষ্কার।


একসময় ইমিউনোলজি মানে ছিল, কীভাবে আক্রমণ বাড়ানো যায়। এখন, ব্রাঙ্কো, র‌্যামসডেল আর সাকাগুচির কাজের পর, আমরা নতুন করে বুঝতে পারছি—সত্যিকারের উন্নত ইমিউন সিস্টেম মানে শুধু শক্তিশালী “লড়াই করার ক্ষমতা” নয়। বরং গভীর “নিজেকে থামিয়ে রাখার ক্ষমতা”ও।


এই ভারসাম্য বোঝার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের অনেক চিকিৎসা বিপ্লবের বীজ।


#নোবেল #মেডিসিন #আবিষ্কার

মাছের গায়ে বা শরীরে বিভিন্ন ধরণের পরজীবী বা প্যারাসাইট (Parasite) বাসা বাঁধতে পারে

 মাছের গায়ে বা শরীরে বিভিন্ন ধরণের পরজীবী বা প্যারাসাইট (Parasite) বাসা বাঁধতে পারে


। এই পরজীবীগুলো মাছের পুষ্টি শুষে নিয়ে বেঁচে থাকে এবং মাছের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে, এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।


​অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে মাছের পরজীবীগুলোকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়:


১. বহিঃপরজীবী (Ectoparasites): এগুলো মাছের শরীরের বাইরের অংশে যেমন— ত্বক, আঁশ, পাখনা বা ফুলকায় (Gills) আক্রমণ করে।


২. অন্তঃপরজীবী (Endoparasites): এগুলো মাছের শরীরের ভেতরে যেমন— পাকস্থলী, অন্ত্র, যকৃৎ বা মাংসপেশীতে বসবাস করে।

​নিচে মাছের প্রধান প্রধান পরজীবীগুলোর ধরন আলোচনা করা হলো:


​১. প্রোটোজোয়া বা এককোষী পরজীবী (Protozoan Parasites)

​এগুলো অণুবীক্ষণীয় ছোট জীব। এগুলো সাধারণত মাছের ত্বক এবং ফুলকায় আক্রমণ করে।


​সাদা দাগ রোগ সৃষ্টিকারী (Ichthyophthirius multifiliis - সংক্ষেপে 'Ich'): এটি খুব সাধারণ একটি পরজীবী। আক্রান্ত মাছের সারা গায়ে লবণের দানার মতো ছোট ছোট সাদা বিন্দু দেখা যায়। মাছ খুব অস্বস্তি বোধ করে এবং গা চুলকানোর জন্য পাথরের সাথে শরীর ঘষে।


​ট্রাইকোডিনা (Trichodina): এগুলো চাকতির মতো দেখতে এক ধরণের এককোষী প্রাণী। এরা মাছের ত্বক ও ফুলকায় আক্রমণ করে। অতিরিক্ত শ্লেষ্মা (পিচ্ছিল পদার্থ) তৈরি হয় এবং মাছের শ্বাসকষ্ট হতে পারে।


​কসটিয়া (Costia / Ichthyobodo): এটিও ত্বক ও ফুলকায় আক্রমণ করে, যার ফলে ত্বকে নীলচে-ধূসর আস্তরণ পড়ে।


​২. কৃমি জাতীয় পরজীবী (Helminths/Worms)

​মাছে বিভিন্ন ধরণের কৃমি দেখা যায়। কিছু বাইরে থাকে, কিছু ভেতরে।


​ক) মনোজিনিয়ান (Monogeneans - ফ্লুক বা চ্যাপ্টা কৃমি):

এরা সাধারণত বহিঃপরজীবী।


​ড্যাকটাইলোগাইরাস (Dactylogyrus): একে "ফুলকা কৃমি" (Gill Fluke) বলা হয়। এরা ফুলকায় আক্রমণ করে শ্বাসকষ্ট ঘটায়।

​গাইরোড্যাকটাইলাস (Gyrodactylus): একে "ত্বকের কৃমি" (Skin Fluke) বলা হয়। এরা মাছের ত্বকে ও পাখনায় আক্রমণ করে।


​খ) ডাইজিনিয়ান (Digeneans - ট্রেমাকোডা):

এদের জীবনচক্র জটিল এবং একাধিক পোষক (host) দরকার হয়। অনেক সময় মাছ এদের মধ্যবর্তী পোষক হয়।


​কালো দাগ রোগ (Black Spot Disease): এক ধরণের কৃমির লার্ভা (metacercariae) মাছের চামড়ার নিচে বাসা বাঁধলে সেখানে কালো দাগের সৃষ্টি হয়।


​গ) ফিতা কৃমি (Cestodes / Tapeworms):

এগুলো অন্তঃপরজীবী। মাছের অন্ত্রে (intestine) লম্বা ফিতার মতো এই কৃমিগুলো বাস করে এবং মাছের গ্রহণ করা খাদ্য থেকে পুষ্টি শুষে নেয়। ফলে মাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।


​ঘ) গোল কৃমি (Nematodes / Roundworms):

এগুলো সুতার মতো দেখতে। এরা মাছের পাকস্থলী, অন্ত্র এমনকি মাংসপেশীতেও থাকতে পারে। কিছু সামুদ্রিক মাছের গোল কৃমি (যেমন- Anisakis) মানুষের শরীরেও সংক্রমিত হতে পারে যদি সেই মাছ কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ খাওয়া হয়।


​৩. ক্রাস্টেসিয়ান বা সন্ধিপদী পরজীবী (Crustacean Parasites)

​এগুলো তুলনামূলকভাবে বড় এবং খালি চোখে দেখা যায়। এগুলো মাছের জন্য খুবই ক্ষতিকর বহিঃপরজীবী।


​মাছের উকুন (Argulus / Fish Louse): এটি খুব সাধারণ একটি পরজীবী। দেখতে চ্যাপ্টা, গোলাকার এবং স্বচ্ছ। এরা মাছের গায়ে লেগে থেকে রক্ত চুষে খায়। এদের কামড়ের স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয় যা পরে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।


​অ্যাংকর ওয়ার্ম বা নোঙর কৃমি (Lernaea / Anchor Worm): যদিও নামে 'ওয়ার্ম' বা কৃমি, কিন্তু এটি আসলে এক ধরণের কোপিপড (Copepod) ক্রাস্টেসিয়ান। স্ত্রী পরজীবীটি তার মাথা নোঙরের মতো মাছের মাংসপেশীতে গেঁথে দেয় এবং শরীরের বাকি অংশ সুতার মতো বাইরে ঝুলে থাকে।


​৪. জোঁক (Leeches)

​কিছু প্রজাতির জলজ জোঁক মাছের গায়ে লেগে রক্ত চুষে খায়। এরা রক্ত খাওয়ার পর শরীর থেকে খসে পড়ে, কিন্তু কামড়ের স্থানে ক্ষত রেখে যায়।


​সারসংক্ষেপ:

মাছের গায়ে সাদা দাগ, উকুন, নোঙর কৃমি এবং ফুলকা কৃমি—এগুলোই সাধারণত বেশি দেখা যায়। মাছ চাষে এই পরজীবীগুলো বড় ধরণের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫

DNA কাহিনী

 ভাবুন তো, এক বিকেলে আপনি বিশ্রাম নিচ্ছেন প্রশান্ত এক পরিবেশে। আগডুম বাগডুম অনেক ভাবনার মাঝে হঠাৎ চিন্তা ঘুরে যায় নিজের জীবনের দিকে — আপনার মা-বাবা, তাদের পরিশ্রম আর ভালোবাসা, যেগুলোর জন্য আপনি আজকের আপনি হয়েছো। তারপর চিন্তা চলে যায় আরও পেছনে — আপনার দাদা-দাদী বা নানা-নানীর দিকে। মনে পড়ে যায় তাদের মমতা, স্নেহ আর যত্ন। তারপর মনে হয়, তারাও তো কারও সন্তান ছিল, তাদেরও ছিল মা-বাবা, দাদা-দাদী... এভাবেই চলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। হঠাৎ মনে হয়, আমি তো এক দীর্ঘ, অবিচ্ছিন্ন ভালোবাসা, যত্ন আর ত্যাগের শৃঙ্খলের ফল। কত প্রপিতামহ-প্রমাতামহ ছিলেন আমার আগে — ভাবতেই অবাক লাগে।


আমার আসলে কতজন পূর্বপুরুষ আছে? এটা তো অসীম হতে পারে না, কারণ মানুষ প্রজাতি যখন প্রথম সৃষ্টি হয়েছিল, তখন নিশ্চয়ই তার একটি শুরু ছিল, তাই না?


পৃথিবীর সব মানুষ, দেখতে যতই আলাদা হোক না কেন, ভেতরে আমরা প্রায় হুবুহু একরকম। পৃথিবীর একদম দুই প্রান্তের একজন পুরুষ আর একজন নারীও একসাথে সন্তান জন্ম দিতে পারেন। তারা সেটা পারেন কারণ তারা একই প্রজাতির দুজন মানুষ। তাহলেতো আসলে আমরা সবাই আত্মীয়, যত দূরেরই হোক না কেন। অনেক দূর পেছনে গেলে দেখা যাবে আমাদের সবারই কোনো এক দাদা-দাদী বা নানা-নানী এক। 


এই কৌতূহল থেকেই আসে প্রশ্নটা — তাহলে কি আমাদের সবার সাধারণ পূর্বপুরুষদের খুঁজে বের করা সম্ভব? ধর্মবিশ্বাসীরা হয়তো বলবেন, আমরাতো ইতিমধ্যেই জানি — আদম আর হাওয়া (Adam and Eve) আমাদের প্রথম পূর্বপুরুষ। কিন্তু ওটা বিশ্বাসের ব্যাপার। যদি আমরা প্রমাণ চাই — বিজ্ঞানভিত্তিক বা যুক্তিনির্ভর — তাহলে?


শুনতে অসম্ভব মনে হলেও, আশ্চর্যভাবে কিছু যৌক্তিক উপায় আছে যেগুলো দিয়ে আমরা একধরনের মোটামুটি অনুমান করতে পারি এ ব্যাপারে। এখানে খুব কঠিন কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের কথা বলছি না, বরং পর্যবেক্ষিত কিছু সত্য মেনে নিয়ে যুক্তির ওপর যুক্তি দাঁড় করাবার কথা বলছি।


এই যুক্তি নির্ভর চিন্তাটা একটু এগিয়ে নিতে হলে আমাদের কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্যের সাহায্য লাগবে — যেগুলো অনেকেই হয়তো জানেন না পুরোপুরি। চলেন, সেগুলো নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।


প্রায় সব শিক্ষিত মানুষই জানে — DNA, জিন আর ক্রোমোজোম সম্পর্কে। DNA হলো সেই অণু যেটা ক্রোমোজোম তৈরি করে, আর জিন হলো DNA-র ছোট ছোট অংশ, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বা জৈবিক কাজের নির্দেশনা লেখা থাকে।


প্রতিটি মানুষের কোষে থাকে ৪৬টি ক্রোমোজোম, ২৩ জোড়ায় সাজানো। প্রতিটা জোড়ার এক অংশ আসে মায়ের কাছ থেকে, আরেকটা বাবার কাছ থেকে। ২৩তম জোড়াটা ঠিক করে দেয় জীবের লিঙ্গ — মেয়েদের জন্য XX আর ছেলেদের জন্য XY। X ক্রোমোজোম আসে মার থেকে আর Y বাবার থেকে।


এখন, যদি আমরা জানতে চাই মানবজাতির সাধারণ পূর্বপুরুষ কে ছিলেন — বিশেষ করে আমাদের “প্রথম দাদা” — তাহলে কোন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কাজে লাগানো যেতে পারে?


দুই বাবা-মাই তাঁদের DNA সন্তানকে দেন। কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে ২৩তম জোড়ার এক অংশ — Y ক্রোমোজোম — কেবল বাবার কাছ থেকেই আসে। এটা মায়ের DNA-র সঙ্গে মিশে না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ছেলেরা বাবার কাছ থেকে এই Y ক্রোমোজোম প্রায় হুবহু অপরিবর্তিত অবস্থায় পায়।হ্যাঁ, সময়ের সঙ্গে ছোটখাটো পরিবর্তন বা মিউটেশন হয় — কিন্তু তাও খুবই সামান্য। তাই পৃথিবীর সব পুরুষের Y ক্রোমোজোম প্রায় একরকম, যেটা হাজার হাজার বছর ধরে পিতৃপরম্পরায় চলে এসেছে।


এখন একটু অন্য বিষয়ের কথা বলি — যদিও এটা আসলে আমাদের মূল আলোচনার সঙ্গেই যুক্ত।


ভাবুন, কেউ একটি  পুরনো ছবি হাজারবার ফটোকপি করেছে। কিছু কপি আবার আগের কপি থেকে করা। পুরনো ছবিটাতে আগে থেকেই ছিল দাগ, ছোপ আর স্ক্র্যাচ। প্রতিবার ফটোকপি করলে কিছু নতুন দাগ যোগ হয়, কিছু আগের দাগ হারিয়ে যায় — তবুও ছবিটা মোটামুটি চিনে নেওয়া যায়।


এখন যদি আপনার হাতে সেই রকম একশোটা কপি দেওয়া হয় আর বলা হয়, বলো তো মূল ছবি থেকে এটি কয়বার কপি হয়েছে? প্রথমে শুনে অসম্ভব মনে হবে, কিন্তু আসলে পরিসংখ্যানভিত্তিক কিছু বিশ্লেষণ পদ্ধতি আছে যেগুলো দিয়ে আন্দাজ করা সম্ভব কত প্রজন্ম বা ধাপ পেরিয়ে এই কপিগুলো এসেছে।


একইভাবে, Y ক্রোমোজোমও বংশের পর বংশ কপি হয়ে আসছে। প্রতি প্রজন্মে ছেলেরা বাবার কাছ থেকে প্রায় হুবহু একটি  কপি পায়, শুধু সামান্য মিউটেশন হয়।


যদি পৃথিবীর বেশ কিছু সংখ্যক পুরুষের Y ক্রোমোজোম সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা যায়, তাহলে সেটাও অনেকটা সেই ফটোকপিগুলোর মতো একটি  ডেটাসেট হবে। আর ঠিক তেমনি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা হিসেব করতে পারেন কত প্রজন্ম আগে ছিল সেই সাধারণ পূর্বপুরুষ — “সব পুরুষের সাধারণ দাদা”।


এই ব্যক্তিকেই বিজ্ঞানীরা বলেন  "Y-chromosomal Adam" — যিনি সব জীবিত পুরুষের পিতৃসূত্রে অভিন্ন পূর্বপুরুষ। তিনি পৃথিবীর প্রথম মানুষ ছিলেন না, কিন্তু সেই ব্যক্তি যার Y ক্রোমোজোম আজও সবার মধ্যে বিদ্যমান। অনুমান করা হয়, তিনি প্রায় ২ থেকে ৩ লক্ষ বছর আগে বেঁচে ছিলেন।


এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে — তাহলে কি আমাদের একটি  সাধারণ দাদী বা নানী আছে? উত্তরটা হলো, হ্যাঁ, আছে, তবে শুধু নানী। আর তাঁকে খুঁজে বের করাটা তুলনামূলকভাবে সহজ।


প্রতিটি সন্তান — ছেলে বা মেয়ে — একটি  বিশেষ DNA পায়, যেটা কেবল মায়ের কাছ থেকে আসে। এই DNA কিন্তু আমাদের ৪৬টা ক্রোমোজোমের অংশ না। এটা থাকে কোষের এক বিশেষ অংশে, যেটার নাম মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria)।


মাইটোকন্ড্রিয়া হলো আমাদের কোষের পাওয়ারহাউস — এখানেই তৈরি হয় বেশিরভাগ শক্তি। মজার বিষয় হলো, পুরুষরা যতই শক্তি আর এনার্জি নিয়ে গর্ব করুক না কেন, আসলে সেই এনার্জির উৎসটা এসেছে মায়ের দিক থেকেই! অবশ্য, শক্তি বা মাংসপেশির জিনগত দিকটা আরও জটিল।


মাইটোকন্ড্রিয়ারও নিজের DNA আছে — যেটা কোষের মূল নিউক্লিয়াসের DNA থেকে আলাদা। এই মাইটোকন্ড্রিয়াল DNA (mtDNA) মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে যায় — ছেলে বা মেয়ে, দুইয়ের ক্ষেত্রেই।


এই mtDNA-র ছোট ছোট মিউটেশন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বের করেছেন, পৃথিবীর সব আধুনিক মানুষ এক সময় এক সাধারণ নারী পূর্বপুরুষের বংশধর। তিনি প্রায় দুই লক্ষ বছর আগে বেঁচে ছিলেন। এই নারীকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন — “মাইটোকন্ড্রিয়াল ইভ (Mitochondrial Eve)”।


তাহলে আমরা দুর অতীতের  দাদা আর নানীর সন্ধান কিছুটা হলেও পেলাম। এদের দুজনেই খুব সম্ভবত বসবাস করতেন আফ্রিকা মহাদেশে। এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে, ওনাদের সাথে আমাদের রক্তের সম্পর্ক থাকলেও ওনারা কিন্ত একই সময়ে জীবিত ছিলেন না।

বমনের কার্যকারী হোমিও ঔষধ সমুহঃ 

 বমনের কার্যকারী হোমিও ঔষধ সমুহঃ 


🟦 আর্সেনিকঃ যে কোন খাদ্যদ্রব্য অথবা পানীয় হউক আহার

মাত্রই বমন হইয়া উঠিয়া যায় । উষ্ণ পানীয় কিম্বা খাদ্যভ্রব্যে

কিঞ্চিৎ উপশম হয় ।


🟦 ফসফরাসঃ  শীতল কিংবা বরফ জল পান করিবার অদম্য

আকাঙ্ক্ষা এবং পান করিবার কিয়ৎকাল পর বমন হয় অর্থাৎ

পাকস্থলীতে গিয়া উষ্ণ হইলেই বমন হইয়া উঠিয়া যায় ।


🟦 ইপিকাকঃ  সর্ব্বদা বমনেচ্ছা, প্রকৃত বমনাপেক্ষা বমনোদ্বেগ

অধিক ।


🟦 নাক্সভমিকাঃ  — উদ্গার এবং অম্লস্বাদযুক্ত বমন । অম্ল ( Acidity ) লক্ষণই ইহাতে অধিক বর্তমান থাকে এবং প্রাতঃকালে ও আহারান্তে অধিক হয় ।


🟦 এন্টিমটার্টঃ  বমনের ভীষণ উদ্বেগ হয় অথচ বমন কিছুতেই

হয় না। বমনের উদ্বেগকালীন কপালে ঘর্ম্ম এবং বমনান্তে দুর্ব্বলতা ও তন্দ্রাভাব উপস্থিত হয় ।


🟦 ম্যাগনেসিয়া কাৰ্ব্বঃ ইহাতেও অম্ল বমন হয় কিন্তু ইহাতে প্রায়ই সবুজ অত্যন্ত অস্ত্রগন্ধযুক্ত উদরাময় বৰ্ত্তমান থাকে। বমনাপেক্ষা সবুজ উদরাময়ে ইহা অধিক প্রয়োগ হয় ।


Dr.Hasanul Banna Alamin

DHMS, BHMEC (DHAKA)

BSc (Honours), MSc (First Class)

Homeopathic Physician & Consultant

01729-841398

BHMEC REG: 46200


#homeopathic #sylhethomeopathy #homeopathictreatmentbd #VomitingHomeopathicRemedy #HomeoMedicine #homeopathyforvomiting #homeopathicdoctor #বমিভাবেরচিকিৎসা #বমনেরহোমিওঔষধ #হোমিওপ্যাথিকচিকিৎসা #হোমিওপ্যাথি_বাংলাদেশ #HomeopathicMedicine #homeopathicremedies #homeopathyworks #homeopathic #homeopathy

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ১৯-১১-২০২৫ খ্রি:।

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ।

তারিখ: ১৯-১১-২০২৫ খ্রি:।

আজকের শিরোনাম:


সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা।


নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর

--- বললেন সিইসি, গণভোট পরিচালনায় আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ।


মহান বিজয় দিবস ঘিরে নাশকতার কোনো শঙ্কা নেই --- জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।  


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো ও হত্যা মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারিক কার্যক্রম ১৫ই ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে --- আশাবাদ প্রসিকিউশনের।


শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায়কে একটি মহল ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছে কিনা  তা খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি বিএনপি মহাসচিবের আহ্বান।


পারমানবিক জ্বালানি ও অত্যাধুনিক এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর।


এবং ঢাকায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ চার উইকেটে ২৯২।

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...