এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০২৪

ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 (১) আমার এক ব্যাচমেট ছিলো, তার মা তাকে ছোটবেলা থেকে উঠতে বসতে সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট দিতো। পান থেকে চুন খসলে সেই মা তার সন্তানের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিতেন। মা কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন, এরচেয়ে বড় শাস্তি একটা সন্তানের জন্য আর কিছু হতে পারে না।


ছোটবেলায় আমার সেই ব্যাচমেট এইটার কারণে পাগল পাগল হয়ে যেতো। স্কুলে যেয়ে দেখতাম, মা কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে, এজন্য উদভ্রান্তের মত করে হা হুতাশ করতো। ছেলেটার দূর্বলতার সুযোগ এমনভাবে মা নিচ্ছেন, এটা দেখে আমার বেশ খারাপ লাগতো।


একটা লম্বা সময় যাওয়ার পরে আমার সেই ব্যাচমেট হুট করে আবিষ্কার করলো, কিছু হলেই তার মা যে তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে, বিষয়টা তার কাছে বেশ ভালোই লাগছে। নীরবতা এঞ্জয় করতে করতে সে রিল্যাক্স মুডে তার দৈনন্দিন কাজকর্ম করতো। তার দূর্বলতা এক্সপ্লয়েট করার চেষ্টায় রত তার মা কে সে ঘৃণা করে নিজে থেকেই কথাবার্তা বন্ধ করে দিলো। 


আমার সেই ব্যাচমেট এখন তার মায়ের সাথে কথা বলে না দীর্ঘদিন। জিজ্ঞেস করায় বলেছিলো, তার মায়ের থাকা না থাকায় তার আর কিছু যায় আসে না। 


(২) এক ছোটবোন ছিলো, বাচ্চা একটা ছেলেকে টিউশানি করাতো। বাচ্চাটাকে পড়াতে পড়াতে আমার ছোটবোন মায়ায় পড়ে গেলো, আপন ভাইয়ের মত আদর করতো। মাঝেমধ্যেই চকলেট, খেলনা এসব নিয়ে যেতো। বাচ্চাও আমার ছোটবোনকে ছাড়া কিছু বুঝতো না। বিষয়টা খেয়াল করলো সেই বাচ্চার মা। তিনি বিষয়টাকে এক্সপ্লয়েট করা শুরু করলেন। 


শুরুতে টাকাপয়সা দিতেন ভালোই, ফ্যামিলি ছিলো ধনী। এরপরে আন্টি তার সংসারের বিভিন্ন অসুবিধার অজুহাত দেখিয়ে টাকাপয়সা কমানো শুরু করলেন। যখন দেখলেন, বাচ্চাটার প্রতি মায়া থাকায় আমার ছোটবোন কম টাকায়ও পড়াচ্ছে, আন্টি টাকাপয়সা দিনকে দিন আরও কমিয়ে একেবারে বেয়ার মিনিমামে নিয়ে এলেন। এরপরে শুরু করলেন টাকা দেয়া নিয়ে টালবাহানা করা। অবস্থা এমন দাঁড়ালো, টিউশান করে যাতায়াত খরচই উঠছে না। 


আমার ছোটবোন হুট করে বুঝতে পারলো, যেই ফ্যামিলি ট্যুরে যায় ইন্দোনেশিয়ায়, তাদের সংসারের খরচ নাই, এইটা তো লজিকে মিলে না। বাচ্চাটার প্রতি তার মায়ার ব্যপারটা যে সেই মহিলা এক্সপ্লয়েট করেছে, এটা সে বুঝামাত্র টিউশানি ছেড়ে দিলো। 


সেই মহিলা আজও আমার ছোটবোনকে ফোন দেয় এসে টিউশানিটা আবার করানোর জন্য। এই দফায় টাকা দেয়া হবে শুরুর চেয়েও অনেক বেশী। আমার ছোটবোন আর কোনোদিন ওই বাসামুখো হয় নি। 


(৩) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার এক বন্ধু ছিলো, প্রেমিকার জন্য তার ভালোবাসা ছিলো হিমালয়সম। মেয়েটার রাগ ভাঙানোর জন্য সে একবার অরিজিনাল সুইস চকলেট কিনেছিলো নিজের খাবারের টাকা দিয়ে। সেই চকলেট কিনার পরে নিজে দুইদিন না খেয়ে ছিলো। 


সেই মেয়ে একবার তাকে ফোন দিয়ে জানালো, তাকে বিয়ের জন্য দেখতে এসেছে ব্যবসায়ীর ছেলে। সেই ছেলের অন্তরাত্মা পর্যন্ত নড়ে গেলো। সে মেয়েকে সারারাত পাগলের মত ফোন দিয়ে গেলো। হাত পা ধরে অনুরোধ করলো, মেয়েটা যেন বিয়ে ভেঙে দেয়। মেয়েটা বিয়ে ভেঙে দিলো ঠিকই, কিন্তু এই ঘটনায় মেয়েটা পেলো তীব্র মজা। 


এরপর থেকেই নাকি মেয়েকে দেখতে দুইদিন পরপর এডমিন ক্যাডার, পুলিশ ক্যাডার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, মেরিনার সবাই আসে। মেয়েটা এসব বলতো, আমার বন্ধুটা কাঁদতো, মেয়েটা মজা নিতো। 


ওয়ান ফাইন মর্নিং, আমার বন্ধু মেয়েটার এরকম এক ফোনের জবাবে নিস্পৃহ গলায় বললো, "তোমার অবশ্যই বিয়ে করে ফেলা উচিৎ। আমার জন্য এত ভালো ভালো প্রস্তাব পায়ে ঠেলা উচিৎ হচ্ছে না। বিয়ে করে সুখী হও তুমি।" 


আমার সেই বন্ধু পাশ করে চাকরি নিয়ে অন্য মেয়েকে বিয়ে করে এখন সুখের সংসার করছে। তার সাবেক প্রেমিকার বিয়ে হয়নি আজও। 


ঘটনা এরকম প্রচুর আছে, আমি শুধু তিনটা বললাম। 


ভালোবাসা জিনিসটা আসলে যত্ন করার বিষয়। আদর দিয়ে, এফোর্ট দিয়ে আগলে রেখে লালন করে বড় করার বিষয়। ওটাকে এক্সপ্লয়েট করতে নাই, সুযোগ বুঝে ফায়দা তুলতে নাই। সেই দূর্বলতাকে পুঁজি করে ফায়দা তুলতে গেলে একসময় বিষয়টা হবে, সোনার ডিম পাড়া হাঁসের গল্পের মত, আম ছালা সবই যাবে। কাজটা কখনো করবেন না। 


কারণ, যার ভালোবাসাকে আপনি দূর্বলতা ভেবে সুযোগ নিচ্ছেন, সে একদিন আপনার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে পাথরের মত শক্ত এবং পাহাড়ের মত অটল হয়ে যাবে। আপনি তার সামনে তড়পাতে তড়পাতে মারা গেলেও সে ফিরে তাকাবে না। আপনার থাকা না থাকায় তার কিছুই যাবে আসবে না। 


নিজেকে প্রশ্ন করেন, বিষয়টা কি ওর্থ ইট?


.

©️সংগৃহীত

কোন মন্তব্য নেই:

রাসেল মাহমুদ স্যারের মেসেজ ১১/০৮/২০২৬

 সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে সাম্প্রতিক সময়ে আমরা একটা বিষয় খুবই অনুধাবন করতেছি যে আমরা নতুন যেসব লোকজন নিয়োগ করতেছি এবং তাদেরকে ট্রেনি...