চলতি পথে...
"ও বউ ধান ভানে রে,
ঢেঁকিতে পাড় দিয়া...
ঢেঁকি নাচে, বউ নাচে,
হেলিয়া দুলিয়া!"
হ্যাঁ, বলছি গ্ৰামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ 'ঢেঁকি'র কথা। একসময় ঢেঁকির ঢাকুর-ঢেকুর শব্দে গ্ৰামের অধিকাংশ বাড়ির মানুষের ঘুম ভাঙতো। অতি প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার ঘরে ঘরে ধান ভানাসহ (ধান থেকে চাল তৈরি) বিভিন্ন শস্য কোটার জন্য ঢেঁকি ব্যবহৃত হতো। গ্ৰামীণ নারীদের ঢেঁকিতে তৈরি সেই ঢেঁকি ছাঁটা চাল ছিল বিখ্যাত। কিন্তু কালের বিবর্তনে যান্ত্রিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এই ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে। ঢেঁকি'র স্থান দখল করে নিয়েছে যন্ত্রচালিত চালকল বা রাইস মিলগুলো। এতে খুবই কম পরিশ্রম ও অল্প সময়ে ধান ভাঙানো সম্ভব হয়েছে। একারণে ঢেঁকির গুরুত্বও কমে গেছে। অথচ একসময় এই ঢেঁকি ঘর বা ঢেঁকি শাল ছিল গ্ৰামের গৃহস্থ বাড়ির নারীদের সুখ, দুঃখ ও হাসি, আড্ডার স্থল। যেখানে তারা ঢেঁকিতে ধান ভানতো আর মনের সুখে নানা গল্প কবিতা, ছড়া গানে মেতে উঠতো। আর সেকারণেই আমাদের লোকসাহিত্যে স্থান দখল করে নিয়েছে ঢেঁকি। গান, কবিতা, ছাড়াও এই ঢেঁকি নিয়ে লোকমুখে নানা প্রবাদ-প্রবচন প্রচলিত রয়েছে। যেমন - 'ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে', 'আমড়া কাঠের ঢেঁকি', অনুরোধে ঢেঁকি গেলা, ধান ভানে ঢেঁকি', 'আর গাঁ বেড়ায়', 'ঢেঁকিশালে যদি মানিক পাই, তবে কেন পর্বতে যাই' প্রভৃতি। এখন এই ঢেঁকি কেবলই শুধু স্মৃতি। গ্ৰামাঞ্চলে এখনো কিঞ্চিত দু'একটি বাড়িতে ঢেঁকির দেখা মিললেও রাজধানীতে ঢেঁকি'র দেখা মেলা ভার। ঢেঁকির এই ছবিটি রাজধানীর পান্থপথের একটি অভিজাত বিপণী বিতান থেকে তোলা। সেখানে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের দেখার জন্য হাজার বছরের ঐতিহ্যের স্মারক ঢেঁকিটি প্রদর্শন করা হয়েছে।
ছবি: খোন্দকার এরফান আলী
(২০ জুলাই, ২০২৬)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন