চলতি পথে…(পর্ব: ১১১)
চলার পথে হঠাৎ চোখে পড়ে জলাভূমি, খাল-বিল কিংবা পুকুরের পানিতে ভেসে থাকা কচুরিপানা। তারই মাঝে ফুটে থাকা বেগুনি রঙের ছোট্ট ছোট্ট ফুল যেন বর্ষার প্রকৃতিতে ছড়িয়ে দেয় এক অপূর্ব সৌন্দর্য। ব্যস্ততার মাঝে এমন দৃশ্য চোখে পড়লে স্বাভাবিকভাবেই মন কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায়।
কচুরিপানার বৈজ্ঞানিক বা উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম হলো Pontederia crassipes (পূর্বে এটি Eichhornia crassipes নামে পরিচিত ছিল)। এটি একটি ভাসমান জলজ উদ্ভিদ। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের পুকুর, খাল, বিল, ডোবা ও বিভিন্ন জলাশয়ে বর্ষাকালে কচুরিপানা প্রচুর দেখা যায়। এর মোটা ও ফাঁপা পাতার গোড়ার অংশ পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে। সবুজ পাতার মাঝে উঁচু হয়ে বেরিয়ে আসে ফুলের ডাঁটা, যার মাথায় ফুটে থাকে একগুচ্ছ বেগুনি বা হালকা নীলচে-বেগুনি ফুল।
কচুরিপানা ফুলের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে শান্ত পানির ওপর। ফুলের পাপড়ির বেগুনি রঙের সঙ্গে মাঝখানের হলুদাভ দাগ প্রকৃতিতে তৈরি করে দারুণ এক রঙের সমন্বয়। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজ পাতার বিছানার ওপর কেউ যেন বেগুনি রঙের ছোট্ট ফুলের তোড়া সাজিয়ে রেখেছে।
যদিও কচুরিপানা সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত, অতিরিক্ত বিস্তার জলাশয়ের জন্য সমস্যার কারণও হতে পারে। ঘন হয়ে ছড়িয়ে পড়লে এটি পানির ওপরের অংশ ঢেকে ফেলে এবং জলজ পরিবেশে আলো ও অক্সিজেনের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সৌন্দর্যের পাশাপাশি জলাশয়ের ভারসাম্য রক্ষায় এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তবুও বর্ষার বাংলার প্রকৃতিতে কচুরিপানা ফুলের উপস্থিতি এক অনন্য দৃশ্য। সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ততার ফাঁকে পানির ওপর ফুটে থাকা এই বেগুনি ফুল যেন মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতির সৌন্দর্য খুব কাছেই, শুধু একটু থেমে তাকানোর অপেক্ষা।
ছবি: আবু সাঈদ, গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা।
(১৭ আগস্ট, ২০২৬)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন