দিনরাত লাইভ করে ১০/২০টা পার্সেল পাঠালেন।
দিনশেষে প্রফিট কত? মাত্র ২,৫০০ টাকা!
মাঝখান থেকে ২টা পার্সেল রিটার্ন আসলো, উল্টো ৫০০ টাকা নিজের পকেট থেকে হাওয়া।
অভিনন্দন!
আপনি আসলে ব্যবসা করছেন না। আপনি কুরিয়ার কোম্পানির বিনা বেতনের কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন!
মার্কেটের অবস্থা খেয়াল করেছেন?
একজন লাইভে এসে বলছে: "৯০০ টাকার ব্যাটারি ৮০০ টাকা!"
পাশের পেজ রেগে গিয়ে পোস্ট দিল: "৭৫০ টাকা, ধামাকা অফার!"
তৃতীয়জন এসে চিল্লায়ে বলল: "লস দিয়ে দিলাম ভাই, মাত্র ৬৯৯ টাকা!"
কাস্টমার হাততালি দিচ্ছে।
আর এই ৩ জন তথাকথিত উদ্যোক্তা নিজেদের ব্যবসায়ের কবর নিজেরাই খুঁড়ছে।
ভাই, একটু থামেন।
কম দামে বিক্রি করে যদি বড়লোক হওয়া যেত, তবে অ্যাপল আর স্টারবাক্স কবেই দেউলিয়া হয়ে যেত!
একটা কঠিন সত্যি বলি?
যেই কাস্টমার আপনার কাছে শুধু "১০ টাকা কম" পেয়ে আসছে, কালকে অন্য কেউ ২০ টাকা কম দিলে সে নির্দ্বিধায় আপনাকে ছেড়ে তার কাছে চলে যাবে।
কারণ সে আপনার লয়াল কাস্টমার না। সে সস্তার কাস্টমার। আর সস্তা কাস্টমার দিয়ে কোনোদিন বড় ব্র্যান্ড দাঁড়ায় না।
কাস্টমার আসলে কম দাম খোঁজে না, কাস্টমার খোঁজে "ভ্যালু"।
১. "১০০% খাঁটি মধু" এই গৎবাঁধা কথা মানুষ আর বিশ্বাস করে না। এর চেয়ে লাইভে গিয়ে মৌচাক কেটে সংগ্রহ দেখান। মানুষ ২০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনবে।
২. ব্যাটারির দাম না কমিয়ে দেখান কোয়ালিটি কেমন! IR (internal registance) কতো ! বা টেস্টেড ক্যাপাসিটি কতো!
মানুষ দাম নিয়ে টু শব্দটাও করবে না। কারণ অনেকেই ভালো জিনিস চায় দু টাকা বেশি হলেও।
৩. দাম না কমিয়ে বান্ডেল অফার তৈরি করুন। একটা প্রোডাক্টের সাথে ১০ টাকার একটা সুন্দর প্রেজেন্টেবল গিফট বা অ্যাকসেসরিজ দিন। কাস্টমারের কাছে ওটার ভ্যালু ১০০ টাকা মনে হবে।
মনে রাখবেন—
কাস্টমার আপনার সাথে তখনই অতিরিক্ত দামাদামি করে, যখন সে আপনার আর বাকি দশজনের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পায় না!
পার্থক্যটা তৈরি করুন।
লস দিয়ে, মার্জিন ছাড়া বিক্রি করে ভাইরাল হওয়ার কোনো ক্রেডিট নাই।
অল্প বিক্রি করুন, কিন্তু প্রফিট মার্জিন আর আত্মসম্মান ধরে রেখে করুন।
ব্যবসা করতে এসেছেন, সমাজসেবা না!
আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা কমেন্টে জানান।
"সংগৃহীত এবং সংশোধিত" ।
#BusinessTips #OnlineBusinessBD #Entrepreneurship #BanglaBusiness #উদ্যোক্তা
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন