চলতি পথে ...(পর্ব:১৩৯)
রূপসী বাংলার চিরসবুজ প্রকৃতিতে রূপের স্নিগ্ধতা আর রঙের মাধুর্য বিলিয়ে দেয়। ছড়িয়ে দেয় মৃদু হাসির আভা। গ্ৰাম বাংলার উঠোনের এক কোণে বা শহরের বনেদী বাগান ও এক চিলতে বারান্দাকে রঙের খেলায় মাতিয়ে রাখে আর প্রকাশ করে মায়াবী রূপের জাদু, সেটি আমাদের অতি চিরচেনা একটি ফুল 'নয়নতারা।'
Apocynaceae পরিবারভুক্ত 'নয়নতারা' ফুলের উদ্ভিদতত্তিক নাম Catharanthus roseus (L.) G. Don (Syn: Vinca rosea L. 'Pink'), ইংরেজি নাম Madagascar Periwinkle, Cape Periwinkle, Rose Periwinkle. এটি একটি ছোট ঝোপালো ক্রান্তীয় বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস এবং সারা বিশ্বে বাগান ও ঔষধি গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ হিসেবে এই নয়নতারার রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রজাতি। এছাড়াও বর্তমানে আকর্ষণীয় রঙের হাইব্রিড জাতও পাওয়া যায়।ইতিপূর্বে সচারাচর প্রাপ্ত একটি প্রজাতির নয়নতারা ফুল তুলে ধরা হয়েছিল। আজ উজ্জ্বল ম্যাজেন্টা-গাঢ় গোলাপি রঙের একটি আকর্ষণীয় ফুলের ছবিসহ উল্লেখ করা হলো। এর বৈশিষ্ট্য হলো পাঁচটি পাপড়িযুক্ত ফুল, যার কেন্দ্রভাগ সুস্পষ্ট সাদা। যার কেন্দ্রে একটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ সাদা বা হালকা হলুদ চোখ থাকে। তবে এই ফুলের তীব্র সুবাস বা গন্ধ নেই। গাছে সারাবছরই ফুল ফোটে। এর পাতা চকচকে, মসৃণ, গাঢ় সবুজ ডিম্বাকার। আমাদের দেশে ভেষজ ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে এটি বেশ জনপ্রিয়। তীব্র রোদ কিংবা অযত্ন অবহেলায়ও এই নয়নতারা সবুজ পাতার বুক ফুটে হাসির ঝলক ছড়ায়। তখন মনে হয় কোন মহান শিল্পীর তুলির আঁচড়ে ফুটে ওঠা এক জীবন্ত শিল্পকর্ম। প্রকৃতির ক্যানভাসে উঁকি দেওয়া এই 'নয়নতারা' ফুলের ছবিগুলো রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা থেকে তোলা।
ছবি: খোন্দকার এরফান আলী
(১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন