এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৫

সত্য ঘটনা কলমে:সরজিৎ ঘোষ

 (সত্য ঘটনা)

নিজের ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়েছিলেন সতীশবাবু। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন বন্ধু বরেণকেও। ফেরার পথে সেই কথাই দুই বন্ধুর মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল আমার পিছনের সীটে বসেই।


হাওড়া থেকে বাসে উঠেছি আমি। যাদবপুর গামী এসি বাস।আমি ওঠার পরেই ওনারা উঠেই ঠিক আমার পিছনের সীটেই বসলেন। বয়স দুজনেরই ষাটোর্ধ্ব। আমি যাব ভবানীপুর।ওনাদের গন্তব্য আরো পরে। আমি নেমে আসার সময় দেখলাম সে গল্প তখনো চলছে, বুঝলাম ওনারা আরো দূরের যাত্রী। সে যাইহোক আসল গল্পে আসা যাক। বরেণ বাবু বসেই  বিরক্ত হয়ে বললেন,


"দেখ সতীশ, আমি এরকম কথা কোনো মেয়ের মা'কেই বলতে শুনিনি। মেয়ের মা তো বলেই বসল,"ছেলের গায়ের রঙ ফর্সা তো? গায়ের রঙ কালো হলে আমি অন্তত মেয়ের বিয়ে দেব না।দেখলেন তো আমার মেয়ে কেমন টকটকে ফর্সা।"  কথা গুলোর মধ্যে কেমন একটু বক্রোক্তিই ছিল। আচ্ছা তুই বল তো, গায়ের রঙ নিয়ে মেয়ের মায়ের এত অহংকার করার কি আছে? সাধারণত সবাই ছেলের ইনকামটাই দেখে। তোর ছেলে ব্যাঙ্কে চাকরি করে। যে কোনো মেয়ের বাবা মা রাজী হয়ে যাবে বিয়ে দিতে। এই বাজারে ভালো চাকরি করে, এমন একটা সৎ চরিত্রবান ছেলেকে কে না চায়? জানি ওনার মেয়েও চাকরি করে, তবুও। ছেলের গায়ের রঙ কালো বলে কেউ অপছন্দ করবে, অন্তত আমার জানা ছিল না। আর তোকেও বলিহারি! তোর মত হম্বিতম্বি ওয়ালা মানুষটাও মুখে কুলুপ এঁটে থাকল, একটি কথাও বললি না। তোর অন্তত কিছু বলা উচিত ছিল। এটা যদি আমার ছেলের দেখাশোনা  হতো আমি কিন্তু দুটো কথা শুনিয়েই আসতাম। এরকম একটা ফ্যামিলিতে সম্বন্ধটা কে দেখে দিল বল তো? বিয়ের ব্যাপারে শুধু ছেলে মেয়ে দেখাটা শেষ কথা নয়, ফ্যামিলিটাও দেখতে হয়।


বরেণ বাবুর কথা শেষ হতেই মুখ খুললেন সতীশ বাবু। বললেন,


-জানিস বরেণ এই পৃথিবীটা যে গোল, তা আরো একবার প্রমাণ হয়ে গেল। সময়ের সাথে যেমন সব কিছু পরিবর্তন হয়ে যায়, তেমনি সময়ের সাথে সাথে হিসেবটাও বুঝিয়ে দেয়‌ ভগবান। আমি বলতে চাইলেও বলার মত মুখ আমার ছিল না।তাই হয়তো চুপ ছিলাম। আমি তখন ভাবছিলাম মেয়ে দেখা হয়ে গেল অথচ মেয়ের মা কেন সামনে আসছে না, ব্যাপারটা আমার কাছে রহস্যময় মনে হচ্ছিল। শুধু মনে হচ্ছিল কিছু একটা ব্যাপার হয়তো আমার কাছে লুকিয়ে যাচ্ছে। আমার ধারণা ভুল বলে প্রমাণিত হল। আসলে আমরা যা ভাবি তা সব সময় সঠিক নয়। হঠাৎ করেই সে রহস্য ভেদ হয়ে গেল। একটা পুরানো হিসেব মিটিয়ে নিল আজ। বিশ্বাস কর বরেণ, আমি ওখানে মেয়েটির মা হিসেবে অনুলতাকে দেখব ভাবিনি।


-মানে?


-এই সেই অনুলতা আজ থেকে তিরিশ বছর আগে 'গায়ের রঙ কালো' এই অজুহাতে অনুলতাকে ছেড়ে দিয়ে বাড়ির পছন্দেই এক ফর্সা সুন্দরীকে বিয়ে করেছিলাম। অনুলতার কথা যখন বাড়িতে বলেছিলাম,তখন আমার বড় পিসিই বলে বসল, "কালো মেয়েকে বিয়ে করলে ওর পেটে যদি একটা কালো হয়?" আমার মা বলত, "ফরসা টুকটুকে বৌ না'হলে আমার সতুর সাথে মানাবে না।" অথচ আমার গায়ের রঙ কালো সেটা আমি নিজেই ভুলে গিয়েছিলাম। অদ্ভুত ব্যাপারটা কী হল বল তো, ফর্সা সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করেও আমার ছেলে মেয়েরা কিন্তু  তাদের মায়ের মত ফর্সা হল না। অথচ অনুলতার এক মাত্র মেয়ে সে কিন্তু সত্যিই সুন্দরী। সেদিন বাড়ির পছন্দে বিয়ে করেছিলাম বলে সবাই বলেছিল,"এই না হ'লে ছেলে? এরকম ছেলে আজ কাল হয় না। বাবা মায়ের পছন্দতেই পছন্দ।" সেদিন নিজের মেরুদণ্ড সোজা রাখতে আমি পারিনি। আজ অনুলতার ওই একটি কথাই আমাকে অবশ করে দিল। আমি কোন মুখ নিয়ে কথা বলতাম ওখানে? ভগবান আসলে সব হিসেব ঠিক সময়ে বুঝিয়ে দেন বোধহয়। আমার ব্যক্তিত্ব সেদিনই ভেঙে গিয়েছিল যেদিন অনুলতাকে ছেড়ে দিয়ে বাড়ির পছন্দে বিয়ে করে নিয়েছিলাম। প্রশাসনিক পদের ভালো রাঙ্কে চাকরি করলেই কি ব্যক্তিত্বশালী হওয়া যায়? ওপর থেকে সাজানো সব কিছু আমাদের, কিন্তু ভিতরটা অন্য কথা বলে।ভুলটা আমিই করেছিলাম সেদিন, আর আজ অনু্লতা ভুল কিছু বলেও নি। মেরুদণ্ড সোজা থাকলে তো মুখের ওপর বলতে পারতাম। পাশার দান কখন যে উল্টে যাবে কেউ বলতে পারে না?


জানিনা তারপরে দুজনের মধ্যে কী কথা হয়েছিল। ঠিকই তো।ভগবানের হিসেব কখনো ভুল হয় না।  সময়ের সাথে সাথে সব কিছু হিসেব পেয়ে যায় মানুষ, সে ভালো হোক বা মন্দ। বাস থেকে নামি আর ভাবতে থাকি, অন্যায় ভাবে কাউকে ছেড়ে দিলেও ঈশ্বর কখনো ছাড়েন না। দিনশেষে বিবেকের কাছে জবাব দিহি করতেই হবে। আর শেষ জবাবটা তো ঈশ্বর দেন। তার জন্য বোধহয়  তৈরিও থাকতে হয়। 


কলমে:সরজিৎ ঘোষ।

লেখায় : শরণ্যা ছবি : সংগৃহীত  পুনর্জন্ম - Punarjanma,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 || দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর বিছানায় একটু গড়িয়েছেন সবে; এমন সময় হঠাৎ বেল বেজে উঠলো। বিরক্ত হলেন বিলাশবাবু, এই ভর দুপুরবেলা আবার কে এলো রে বাবা! সবে তো তিনটে বাজে, সবাই এখন খেয়েদেয়ে ভাতঘুম দেয়...এই সেলসম্যান গুলো যখন তখন এসে বেল দেয়। কোনো কান্ডজ্ঞান নেই এদের। ভাড়াটে গুলোও ঘুমাচ্ছে নিশ্চয়ই...ভীষণ বিরক্ত নিয়ে উঠলেন বিলাশবাবু। 

এই তিনতলা বাড়িটা বিলাশবাবুর পৈতৃক বাড়ি। বাবা মা মারা যাবার পর বলতে গেলে একা পরে যান। কারণ তিনি বিয়ে থা করেননি; আর তার কোনো ভাইবোনও নেই। সরকারি চাকরি করতেন, রিটায়ার্ড করার পর পেনশন পাচ্ছিলেন দিব্যি। কিন্তু এতবড় বাড়িতে একা থাকতে একটু ভয় ভয় ই করত তার, তাই দোতলা আর তিনতলা পুরোটাই ভাড়া দিয়ে দিয়েছিলেন। একটু উপরি উপার্জনও হয়। কিছুদিন আগে দোতলার একটা ভাড়াটে, দুটো ব্যাচেলর ছেলে; উঠে গেলো। চাকরি নিয়ে কলকাতায় এসেছিল ওরা, এখন চাকরি নিয়েই আবার দূর্গাপুরে চলে গেছে! ওই ঘরটা খালি পড়ে আছে...। বিলাশবাবু ওই ঘরটা ভাড়া দেওয়ার জন্যে বাইরে পোস্টারও টাঙিয়ে রেখেছেন... এখনও অবধি কেউ খোঁজ করতে আসেনি যদিও। 

তবে বাড়িওয়ালা হিসেবে বিলাশবাবুর নামডাক কিন্তু খুব একটা ভালো নয়। তিনি নাকি সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করেন না... পাম্প দিনে একবারের বেশি চালাতে চান না! জল না আসলেও পাম্প চালান না! রাতে দেরি করে ফেরা যাবে না... পুজোর দিনগুলোতেও তার অন্যথা হয়নি! কিছুদিন আগেই দুর্গাপুজোর এক রাতে মেইন গেটে একদিন তালা দিয়ে দিয়েছিলেন; সেই কারণে তিনতলার ভাড়াটেরা বেচারা সেদিন মাঝরাতে ঠাকুর দেখে এসে আর ঢুকতে পারেনি বাড়িতে। তবে এসব নিয়ে বিলাশবাবুর খুব একটা মাথা ব্যাথা নেই! তিনি তার মতোই আছেন... 


আবার বেল বাজলো! একরাশ বিরক্ত নিয়ে দরজা খুললেন! 

– কে রে, তখন থেকে বেল বাজিয়ে বাজছে?

– কাকু, এখানে লক্ষ্মী পুজো অবদি ঘর ভাড়া পাওয়া যাবে? না মানে... আসলে এখন কৈলাস গেলে এত তাড়াতাড়ি ফিরতে পারব না।

বিলাশবাবু হাঁ হয়ে গেলেন, একি! একটা ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে, মুখ খানা একেবারে দেবীর মত! হাতে ঘট নিয়ে, পরনে লাল শাড়ি; কপালে চন্দন, পায়ে আলতা! দরজার সামনে দাঁড়িয়ে... 

– কে তুমি? তোমার মা বাবা কোথায়?

– মা তো ভাইবোন দের নিয়ে কৈলাসে ফিরে গেছে কাকু। আমার তো সামনেই পুজো, আমাকে থাকতে হবে এখানে। এর মধ্যে কৈলাস গেলে আর ফিরে আসতে পারবনা। 

বিলাশবাবু কিছুক্ষণের জন্যে হতভম্ব হয়ে গেলেন; তারপর বুঝলেন কেউ তার সাথে হয়ত মজা করছে। দুর্গাপুজোর বিজয়া সম্মিলনী হবে পাড়ায়, সেখানে কোনো বাচ্চাকে নিশ্চয়ই লক্ষ্মী সাজিয়েছে; আর বলেছে গিয়ে হয়ত মজা করতে... 

– তুমি এসো ভিতরে।

মেয়েটা গুটি গুটি পায়ে ভিতরে ঢুকলো। বিলাশবাবু ঘরে গিয়ে টেলিফোনটা তুললেন, পাড়ার সেক্রেটারি কে ফোন করলেন।

– হ্যাঁ আকাশ? এই, পাড়ায় কি তোমরা কোনো প্রোগ্রাম বা নাটক করছ যেখানে কোনো বাচ্চা মেয়েকে লক্ষ্মী সাজতে হবে? হ্যাঁ...কি বললে?... ও এরকম কোনো নাটক হচ্ছে না?... আচ্ছা বিজয়ার অনুষ্ঠান এখন হচ্ছে না? পরে হবে? আচ্ছা, ঠিক আছে। না না এমনি... রাখলাম। 

বিলাশবাবু একটু অবাক হলেন, মেয়েটা কে তাহলে?! তাড়াতাড়ি বাইরের ঘরে এসে দেখেন মেয়েটা আর নেই! চারিদিকে খুঁজলেন, ঘরের ভিতরে, বাইরে। নাহ্, কোথাও নেই। চলে গেল নাকি? হ্যাঁ দরজাটা যদিও খোলা। সদর দরজাটা আটকাতে গিয়ে দেখেন এক অদ্ভুত ব্যাপার...ছোট ছোট পায়ের  আলতার ছাপ দরজাটার সামনে! একটু ঝুঁকে দেখলেন বিলাশবাবু; নিশ্চয়ই ওই বাচ্চা মেয়েটার পা থেকে এসেছে। যাই হোক, দরজা আটকে ঘরে ফিরলেন। রাতের বেলা রান্নাঘরে যেতেই টের পেলেন আগামীকাল লক্ষ্মীপুজোর জন্যে তিনি এক কৌটো নাড়ু নিয়ে এসেছিলেন; সেটা নেই! তন্নতন্ন করে সারা বাড়িতে খুঁজেও পেলেন না... কিন্তু তার স্পষ্ট মনে আছে তিনি ওটা রান্নাঘরের ই এক কোণায় রেখেছিলেন। 

পরেরদিন সকালে তিনতলার  ভাড়াটেরা এল ওনার ঘরে; লক্ষ্মীপুজোর নেমতন্ন করতে! বিলাশবাবু খুব অবাক হলেন, এই সেই ভাড়াটে যে রাত করে ফিরেছিল বলে তালা খোলেননি তিনি। তারা ওনাকে নেমতন্ন করতে এসেছে? ওরা সারারাত বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল! তিনি ফিরেও তাকাননি...চোখে জল আসল বিলাশবাবুর হঠাৎ...তাহলে কি কাল মা লক্ষ্মী স্বয়ং তার বাড়িতে এসে নাড়ু নিয়ে গেলেন...? মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন, এরপর থেকে আর কোনোদিনও এরকম আচরণ করবেন না কারোর সাথে; নিজেকে শুধরাবেন! সেদিনের পর থেকে বিলাশবাবু নিজে হাতে প্রতিবছর লক্ষ্মীপুজো করেন! ||


লেখায় : শরণ্যা

ছবি : সংগৃহীত 

© পুনর্জন্ম - Punarjanma

বই পড়ার সুন্দর দুটা পদ্ধতি আছে,,,,,,,,,

 বই পড়ার সুন্দর দুটা পদ্ধতি আছে।  প্রথমটি হল সাথে একটা নোট খাতা রাখা এবং দ্বিতীয়টি হল শুধু মাত্র রিডিং না পড়ে  প্রত্যেকটি লাইনে লাইনে লেখকের সাথে যুক্তি তর্ক করে যাবেন। 


প্রথম পদ্ধতিটা আমি শিখেছি লেখক আহমদ ছফা'র কাছ থেকে। ছাত্রাবস্থায় তিনি  অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে রোজ একটি করে বই নিয়ে পুরো বইএর সারমর্ম একটা নোট খাতায় নিজের মত করে লিখে রাখতেন। 


এই নোট করে রাখার প্র্যাকটিসটা হুমায়ূন আহমেদের ভেতরেও পেয়েছি যদিও তার  স্মৃতি শক্তি অনেক প্রখর ছিল।  জীবনের শেষের দিকে এসে  স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শৈশবের সাত বছর বয়সে লুকিয়ে প্রথম বই পড়ার কথা লিখতে গিয়ে তিনি সেই বইএর ভেতরের গল্পটাও লিখে ফেলেছেন ! 


বই পড়ার দ্বিতীয় পদ্ধতিটা আমি শিখেছি, ভারতীয় যুক্তিবাদী লেখক প্রবীর ঘোষের কাছ থেকে। তিনি একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, আপনি যদি লেখক যাই লিখেন কোন রকমের চিন্তা ভাবনা না করে সবই বিশ্বাস করতে শুরু করেন তাহলে তার দশটা সত্য কথার সাথে দু একটা মিথ্যা কথাকেও বিশ্বাস করতে শুরু করবেন। এই দুটা মিথ্যা কথা আপনার জীবনে অনেক ভয়ংকর হবে ! কেননা দশটা সত্য কথার সাথে একটা মিত্থা কথা মিশে গেলে সেটাকে আলাদা করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।  


খাতায় নোট করবার ব্যাপারে আমি বেশ কিপটে। খুব সামান্যই লিখে রাখি।  কিন্তু বিশ্বাস করুন, যখন আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি এই নোট খাতাটা খুলে পড়তে শুরু করি এবং যেখান থেকে আমি দৌড়ানোটা থামিয়েছিলাম সেখান থেকেই আবার দৌড়াতে শুরু করি।  


এ পি জে আবদুল কালামের ' টার্নিং পয়েন্টস' পুরো গ্রন্থটা পড়ে আমি শুধু মাত্র সেখান থেকে একটা লাইন আমার নোট খাতায় টুকে রেখেছি। আমি জানি যেদিন আমি মেঝেতে চিত হয়ে মাথার নিচে হাত দিয়ে কাত হয়ে শুয়ে থাকব সেদিন এই লাইনটাই আমাকে মায়ের মত পিঠ চাপড়ে ভরসা দেবে। লাইনটা হল-'' আমি পেশা হিসেবে গবেষণা এবং শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছি কেননা আমি পুনরাবৃত্তি ভালোবাসি'' 


কিছু কিছু শব্দ আছে নিঃশব্দের মত। আমার কাছে পুনরাবৃত্তি শব্দটাকে সেরকম মনে হয়েছে। আমরা বেশিরভাগ মানুষ সফল হইনা কেননা আমরা পুনরাবৃত্তি পছন্দ করি না। একটা কাজে বাঁধা পেলে সেটা বার বার পুনরাবৃত্তি করার ধৈর্যটা আমাদের থাকে না। 


আইরিশ লেখক জর্জ বার্নার্ডশ তার একটা নাটকের সংলাপে লিখেছেন '' আমি যেদিন থেকে বুঝেছি কোন একটা কাজ দশবার করার পর আমি একবার সফল হই সেদিন থেকে আমি প্রত্যেকটি কাজ দশবার করে করা শুরু করেছি'' 


একটা জিনিস ' জানা' এবং একটা জিনিস ' পারা'র ভেতরে পার্থক্য কিন্তু অনেক। মনে করুন আপনি ড্রাইভিং শেখার জন্য আমার কাছে এসেছেন এবং আমি আপনাকে একটা গাড়ি দেখিয়ে বললাম - এটা হল গাড়ির স্কেলেটর, এখানে চাপ দিলেই গাড়ি চলতে শুরু করবে এবং এই যে ব্রেকে চাপ দিলেই গাড়ি থেমে যাবে। এই যে এখানে চাপ দিলেই হর্ন বাজবে, আর সামনের এটা ডানে ঘুরালে ডানে আর বামে ঘুরালে গাড়ি বা দিকে যাবে। 


আপনি সব কিছু জেনেও কেন গাড়িটা চালাতে পারছেন না জানেন ? পার্থক্যটা হল প্র্যাকটিস ! আপনাকে এই প্র্যাকটিসটা শুরু করতে হবে। 

  

যখন পিপাসা থাকে না তখন একটা পানির বোতলে চোখ গেলে আমরা শুধু বোতলটাই দেখি আর যখন পিপাসা থাকে তখন দেখি বোতলে পানি আছে কিনা !  যখন আলো থাকে তখন মোমটা ড্রয়ারের তলায় অবহেলায় পড়ে থাকে  কিন্তু যখন অন্ধকার হয় - সে যত আড়ালেই থাকুক না কেন সবাই তাকে খুঁজে বের করবেই।  আপনাকে সেই সময়টার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। উঁচু পাহাড়ে উঠার নিয়মটা খুব সহজ- সেটা হল ভুলেও নিচের দিকে তাকানো যাবে না।


©Zunayed evan

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ১০-০১-২০২৫ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ১০-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাপক মতৈক্যের ভিত্তিতে জুলাই ঘোষণাপত্র তৈরি করা হবে - উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত। 


বাংলাদেশে শিল্প কারখানা স্থানান্তর, আরও বেশি বিনিয়োগ ও এদেশের যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে তুরস্কের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান।


কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সহযোগিতা করা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়াই লক্ষ্য - বললেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।


আসন্ন পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে - আশাবাদ বাণিজ্য উপদেষ্টার।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্রসফায়ারে হত্যা ও গুমের অভিযোগ দায়ের বিএনপির - দলের ২ হাজার ২৭৬ জনকে হত্যা ও ১৫৩ নেতাকর্মীকে গুমের দাবি।


যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ৫ জন নিহত।


সিলেটে বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রংপুর রাইডার্স ও চিটাগং কিংস নিজ নিজ খেলায় জয়ী - আজ মুখোমুখি হবে দুর্বার রাজশাহী – খুলনা টাইগার্সের এবং সিলেট স্ট্রাইকার্স – ঢাকা ক্যাপিটালসের।

এ টি এম ভাইয়ের গল্প শুনিয়েছিলাম। সে গল্পে এক শ্রেনীর মানুষের অসভ্যতা উঠে এসেছিলো। এবারের লেখায় শোনাতে চাই অতি খ্যাতনামা শাহরুখ খানের গল্প, আর এক দেশেও একইরকমের মানুষ রয়েছে- সে গল্প।

 এ টি এম ভাইয়ের গল্প শুনিয়েছিলাম। সে গল্পে এক শ্রেনীর মানুষের অসভ্যতা উঠে এসেছিলো। এবারের লেখায় শোনাতে চাই অতি খ্যাতনামা শাহরুখ খানের গল্প, আর এক দেশেও একইরকমের মানুষ রয়েছে- সে গল্প।


বহু আগে শাহরুখ খান যখন নির্ভরযোগ্য তারকা হয়ে উঠেছেন, সেই সময়টায় একটা সাক্ষাৎকারের ঘটনা। সংবাদিকেরা এ প্রশ্ন সে প্রশ্নে তারকাকে খুবই ব্যস্ত রেখেছে। তারকা জানেন আরও বিখ্যাত হতে হলে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে, ধৈর্য হারালে চলবেনা আর হেসে হেসেই সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যেতে হবে। 


এক সাংবাদিক প্রশ্ন করে বসলেন, আপনি এখন বিখ্যাত তারকা, আপনার স্ত্রীকে দেখা যায় মিনি স্কার্ট পরে ঘোরাফেরা করেন- এটা কি ঠিক হচ্ছে বলে মনে করেন? সভ্যতা ভব্যতাহীন প্রশ্নে সামান্য বিরক্ত, বিব্রত হতে দেখা গেলোনা অত্যন্ত বুদ্ধিমান এ অভিনেতাকে। যেমন হেসে হেসে উত্তর করছিলেন, তেমন হেসেই বলেন, আমার স্ত্রী গৌরীকে ছোটবেলা থেকেই চিনি বলে কখন কি পোষাকে তাঁকে আপত্তিকর ঠেকছে খেয়াল করা হয়নি, দুঃখিত। 


একটু থেমে হাসিটায় অপরাধ হয়েছে এমন ভঙ্গী যোগ করে বলেন- কথা দিচ্ছি, আজকেই বাড়িতে ফিরে তাঁকে সাবধান করে দেবো। গিয়ে বলবো- দেখো, তোমার খোলা পা আমি মন দিয়ে কখনও দেখা দরকার বলে মনে করিনি কিন্তু অন্য লোকেরা মন দিয়ে দেখে, সে দেখায় তাদের বড্ড অসুবিধা হয়। তাদের ভালো থাকার জন্য তোমার খোলা পা ঢেকেঢুকে চলা উচিত।


দেখা বিষয়টা কি? চোখ আছে, দেখতে পাই- দেখি। সোজা বিচারে এটাকেই দেখা বলে। দেখা নিয়ে আমরা বিশেষ করে ভাবিইনা। অন্ধমানুষ চোখে না দেখতে পারুক, অনুভব করতে পারে। তার মানে অনুভবও দেখা। সে অনুভব মনে পয়দা হয়। চোখ দেখে, শুধুই দেখে। বাকি যা করার করে মন। একজন ভাবলো, আল্লাহকে তো চোখে দেখিনা। মন তখন বলে, তিনি আছেন। ব্যাস আছে, নেইয়ের সমস্যা মিটে যায়।


চোখ আর মনের দেখার ধরণ, অভ্যাস যেমনই থাকুক- ইচ্ছা করলে বদলানো যায়। আগের লেখায় বলেছিলাম আর্ট কলেজে এসে ছেলে মেয়েদের হাত ধরাধরি করে চলতে দেখে সেদিনের গ্রাম্য মনে কেমন প্রতিক্রিয়া হয়েছিলো, জানাবো।


প্রথমে মনে হয়েছিলো এসেছি গ্রাম থেকে, যা দেখছি তা বোধহয় শহরের রীতি। কয়েকদিন গেলো। ভর্তি হয়ে গেছি। একটু একটু করে বুঝতে পারি, এখানে বাইরের জগৎ ও ভাবনা নিয়ে ঢুকেছি। ঢুকেছি যে জ্ঞান আমার নেই, তা অর্জনের আশায়। সে জ্ঞান পেতে হলে নিজেকে তৈরি করে নেয়া লাগবে। 


প্রথম পাওয়া শিক্ষা হলো যেমন আছো, তেমনই থাকো- শুধু দেখার চোখ আর মনটাকে আরও বেশি দেখার উপযুক্ত করে তোলা দরকার। 

সহজভাবে শেখানো হয়, মন আর চোখ দুটোই তোমার- তুমি তাদের অধীন হতে পারো অথবা তাদেরকে তোমার অধীন করে নিতে পারো। 


উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হলো- ঐ সামনের গাছটার পাতার রং কি, জিজ্ঞাসা করলে সবাই দেখে বলবে সবুজ। শিল্পীকে সেই সবুজ রঙের মধ্যে আরও অনেক রঙ লুকানো থাকে তা দেখা, বোঝা, অনুভব করার চেষ্টা করতে হবে- সেটাই মন আর চোখ দিয়ে নতুন করে দেখা, দেখার চেষ্টা। 


অন্য সকলে যে গাছটাকে বটগাছ বা নিমগাছ গাছ দেখবে, শিল্পী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যারা এসেছে তারা দেখবে আরও মনোযোগী হয়ে। দেখবে- গাছের গড়ন, শাখা প্রশাখার আকৃতি, পাতার ধরন। কিভাবে একটা গাছ মাটির উপর দাঁড়িয়ে থাকে ইত্যাদি।


জানা হলো, মানুষের হাত ছবি আঁকে কিন্তু হাত একা আঁকেনা- চোখ আর মন হাতকে দিয়ে আঁকায়। চোখ মন হাত- সবকিছুকে শিল্পীর করে তোলার জন্য বিশেষ যে প্রক্রিয়া, চেষ্টা- সেটাই আর্ট কলেজের শিক্ষা।


শিল্পী হতে চাওয়ার প্রথম ধাপেই নিজের সাথে একটা বোঝাপড়া হয়ে যায়- জগতে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখার, মন দিয়ে বোঝার, ভাববার জন্য অগণিত বিষয় রয়েছে। সব ছেড়ে ছুঁড়ে এই বিদ্যাপীঠে ছেলেরা মেয়েরা পাশাপাশি কেনো বসে থাকে, হাত ধরাধরি করে কেনো চলে ফেরে- এই ভাবনাকে মনে লটর পটর করতে জায়গা দিলে নিজের বৃদ্ধি হওয়ার সুযোগ গোল্লায় চলে যাবে।


শাহরুখ খানকে তাঁর স্ত্রীর পা নিয়ে যে মানুষটা প্রশ্ন করেছিলো, সে কোনোদিনও ভেবে দেখবেনা, জগতে দেখার, মুগ্ধ হবার বা অপছন্দ করার মতো লক্ষ কোটি বিষয় আছে। সব ফেলে পা দেখা মানুষটা সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পা ই দেখবে এবং দেখে ভাববে, পরস্ত্রীর পা ই জগতের সকল সর্বনাশের মূল কারণ।

সত্যিই তো যে গল্প একবার পড়া হয়ে যায়, সে গল্প আর কতবার পড়তে ভালো লাগে?

 ট্রেনে ভীড় সেভাবে ছিল না। আরামসে দাঁড়িয়ে যাওয়া যাবে। দু একজন দাঁড়িয়েও আছে। দেখলাম, এক ভদ্রলোক জুতো পালিশ করাচ্ছেন। যিনি জুতো পালিশ করছেন তাঁর বয়স ওই পঞ্চাশের কাছাকাছি।


দেউলটি থেকে উঠল অল্প বয়সী একটি ছেলে আর মেয়ে। দেখে মনে হল কলেজ পড়ুয়া। বয়স উনিশ কুড়ি হবে। বসার জায়গা ছিল, তবুও বসল না। উঠেই দাঁড়িয়ে গেল একদম গেটের মুখেই।


এরপর শুরু হল ঘটনা। ছেলেটি আর মেয়েটি গেটের একদিকে, আর অন্য দিকে জুতো পালিশ যিনি করছিলেন ওই ভদ্রলোক, আরো দু একজন। যিনি পালিশ করছিলেন তিনি নিচে বসেই পালিশ করছিলেন। ছেলেটি আর মেয়েটি  শুরু করল তাদের রঙ্গলীলা। মেয়েটি এমন একটা ভাব দেখাচ্ছে কখনো যেন ট্রেনে  ওঠেই নি। ট্রেন চলতে শুরু করেছে ততক্ষণে। মেয়েটি কিছুতেই আর দাঁড়াতে পারছে না যেন। ছেলেটিকে জড়িয়ে ধরে না থাকলে পড়ে যাবে মনে হয়। অথচ বসার জন্য সীট ফাঁকা ছিলই। এদিকে ছেলেটিও দু হাতে মেয়েটিকে ধরেছে জড়িয়ে, একদম অশালীন ভাবে। ছেলেটি ফিসফিস করে কী সব বলছে, মেয়েটিও সেই বিচ্ছিরি রকমের হাসছে,অঙ্গভঙ্গিও বেশ দৃষ্টিকটু, পোশাক আশাকের কথা বাদ দিলাম। কতটা অসভ্য হলে তবেই এরকম নোংরামি প্রকাশ্যে  করতে পারে?


ট্রেনের মধ্যে সবাই দেখছে ওই দৃশ্য। কেউ কিছুই বলছে না।দুজনের ওই কীর্তি কলাপ মোটেই দৃষ্টি নন্দন করছিল না।চোখকে তো বুজিয়ে ফেলতে পারি না। প্রেম করার নাম করে এই অসভ্যতা চলছে আজকাল। চোখে পড়লেও চোখ ফিরিয়ে নিতে হয়। তা নাহলে নিজের লজ্জা লাগে। একবার প্রতিবাদ করে ছিলাম বলে ছেলেটি বলেছিল, নিজে এসব করতে পারেন নি বলে হিংসে হচ্ছে? 


জুতো পালিশ শেষ হতেই ওই ব্যক্তি মানে যিনি পালিশ করছিলেন উনি উঠে দাঁড়ালেন। মেয়েটির এই বিচ্ছিরি হাসির আওয়াজ আর জড়াজড়ি করা দেখে বলে উঠল,


-এই যে খুব হাসি হচ্ছে যে?


ছেলেটি বলল,


-আপনার অসুবিধার কী হলো? দেখে লোভ হচ্ছে?


হাতটা উঁচিয়ে বললেন, একটা থাপ্পড় খেলে একেবারে  সোজা হয়ে যেতে। তোমরা এগুলো যা করছ, এত জন লোক তো আছে, জিজ্ঞেস করে দেখো, এগুলোকে কী বলে? প্রেম করছ তাই না? তোমাদের লজ্জা লাগে না? এই  ভাবে রাস্তা ঘাটে চলো, এই যা করছো, এগুলো তোমাদের বাবা মায়ের সামনে করতে পারবে তো? তোমাদের বাবা মায়ের বয়সী কত লোক তো এখানে আছে ,একবার জিজ্ঞেস করো দেখো দেখি ঠিক করছ কিনা?প্রেম তো ভদ্র ভাবেও করা যায়। সীট ফাঁকা আছে না বসে এই সব করছ? কেউ কিছু বললেই দুটো কথা শোনাবে। তোমরাই তো প্রেমের নামে কলঙ্ক। এই সব আজে বাজে কাজ করবে, এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াবে, ফূর্তি করব, কিন্তু বিয়ে করবে না।তারপর এ ওকে ছেড়ে দিল, সে তাকে ছেড়ে দিল। এই তো কিছুদিন আগেই আমাদের পাড়াতে ছেলেটি সুইসাইড করল মেয়েটি অন্য ছেলেকে বিয়ে করল বলে। শোনো যেটা করছ,ওটাকে প্রেম বলে না। প্রেম আলাদা জিনিস। সবার দ্বারা হয় না। প্রেম করার নামে যেগুলো করো ওগুলোই খারাপ। আমি জুতো পালিশ করতে পারি,অশিক্ষিত নয়। তোমরা এরকম করছ, আর এই সামনে দাঁড়িয়ে এই  বাচ্চাটা তোমাদের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে। তোমাদের দেখে কী শিখবে? সমাজটাকে নোংরা করে দিচ্ছ? 


এমন কথা শুনে যে মেয়েটি দাঁড়াতেই পারছিল না অবলম্বন ছাড়া ,দেখলাম সে তখন দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটিও মাথা নিচু করে একেবারে চুপ। পরের স্টেশন আসতেই ছেলেটি আর মেয়েটি মাথা নিচু করে নেমে গেল। 


অপ্রিয় সত্য কথা কেউ বলে দিলে সেটা অনেকেই নিতে পারে না। আজকাল প্রায়ই দেখি এরকম দৃশ্য।সত্যিই তো প্রেম আলাদা অনুভূতি। তার ভাষাই আলাদা। আজকাল আর সত্যি প্রেম আর কতজন করে? প্রেম মানে ধান্দা, আর ক'দিনের খেলা। কয়েকদিন কথা বলে বিছানা পর্যন্ত না নিয়ে যেতে পারলে প্রেম হয় নাকি? সেদিন একজনের মুখে শুনলাম, সেক্স করতে রাজী হয়নি বলে ব্রেকাপ হয়ে গেছে তার। প্রেম যেন শরীর সর্বস্ব হয়ে উঠছে। শারীরিক খিদে মিটে গেলেই তারপর সব শেষ, সে ছেলেই হোক বা মেয়ে। তারপর অন্য কেউ, অন্য কারো সাথে। সত্যিই তো যে গল্প একবার পড়া হয়ে যায়, সে গল্প আর কতবার পড়তে ভালো লাগে?


(লেখাটা ভালো লাগলো তাই শেয়ার করলাম। কে লিখছে জানি না, আপনি জেনে থাকলে কমেন্টে জানাবেন)

স্মৃতির পাতায় ভ্রান্তিবিলাস! সলিলের পকেটে ‘হাসি’-র চিঠি, কেঁদে ফেলেছিলেন আর্ট কলেজের ছাত্রী জ্যোতি

 স্মৃতির পাতায় ভ্রান্তিবিলাস! সলিলের পকেটে ‘হাসি’-র চিঠি, কেঁদে ফেলেছিলেন আর্ট কলেজের ছাত্রী জ্যোতি



মাসতুতো দাদাদের সূত্রেই আলাপ সলিলের সঙ্গে। কেমন ছিল জীবনের সেই সোনালি দিনগুলি, অঙ্কনশিল্পী জ্যোতি নিজেই জানিয়েছিলেন এক স্মৃতিকথায়।


কোনও এক দুর্গাপুজোর সময় ঘরোয়া স্মৃতিচারণে তিনি ফিরে গিয়েছিলেন অতীতে। কিন্তু কোনও তিক্ততা নয়। বর্ষীয়ানের কথায় ঝরে পড়েছে অতীতের সুন্দর মুহূর্তগুলিই। জানালেন, তিনি তখন ম্যাট্রিক দেবেন। পড়াশোনা দেখিয়ে দেওয়ার অছিলায় প্রায়ই সলিল আসতেন তাঁর কাছে। সেখানেই শুরু আলাপ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বয়স বাড়ে। গাঢ় হয় আলাপ ও তার থেকে প্রেম। সলিল তখনও বাউন্ডুলে শিল্পী। সবে শুরু করেছেন কাজকর্ম। বাড়ির লোকের অমতেই তাঁকে বিয়ে করেন জ্যোতি। প্রথমে সংসার শুরু করেন কলকাতাতেই। সলিল তখন ব্যস্ত আইপিটিএ নিয়ে। জ্যোতিও যেতেন তাঁর সঙ্গে। সেখানেই তাঁর আলাপ ঋত্বিক ঘটক, সুচিত্রা মিত্র, মৃণাল সেন, উ‍ৎপল দত্তের মতো ব্যক্তিত্বের সঙ্গে৷


জীবনের এই পর্বেই মুম্বই থেকে কাজের সুযোগ আসে সলিলের কাছে৷ বিমল রায়ের ‘দো বিঘা জমিন’ ছবির কাজ৷ ১৯৫৪ সালে মুক্তি পাওয়া মাইলফলক এই ছবির সুরকার ছিলেন তিনি৷ কাজের সূত্রে মাঝে মাঝে সলিল মুম্বই গেলেও জ্যোতি থাকতেন কলকাতাতেই৷ সে সময়ের একটি মজার ঘটনার কথা বলেন তিনি৷ বম্বে ফেরত স্বামীর পোশাকের পকেটে একটি চিঠি পান৷ মেয়েলি হস্তাক্ষরে লেখা সেই চিঠির নীচে ছিল জনৈকা ‘হাসি’-র নাম৷ দেখে তো আর্ট কলেজের ছাত্রী জ্যোতি কেঁদেই একশা৷ সলিলও খোলসা করলেন না স্পষ্ট করে৷ তার কয়েক দিন পর আর্ট কলেজে গরমের ছুটিতে জ্যোতি গিয়েছেন বম্বে৷ বিমল রায়ের স্টুডিয়োতে অনুষ্ঠান ছিল৷ সেখানেই সলিল বললেন, ‘এসো এসো তোমার হাসিকে দেখবে এসো’৷ তাঁর সঙ্গে গিয়ে জ্যোতি দেখলেন দাঁড়িয়ে আছেন হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়৷ পরবর্তীতে পরিচালক হওয়া হৃষিকেশ ছিলেন সেই ছবিতে বিমল রায়ের সম্পাদক৷ আসলে তিনিই লিখেছিলেন সেই চিঠি৷ হৃষিকেশের হ-এ ঋ ফলা লম্বা হয়ে আ-কারে পাল্টে গিয়েছিল৷ ফলে হৃষি হয়ে গিয়েছিল হাষি৷


পরে মুম্বই-ই হয়ে ওঠে সলিলের মূল কর্মকেন্দ্র৷ ১৯৫৪ সালে স্বামীর সঙ্গে জ্যোতিও চলে পাড়ি দেন মুম্বই৷ সেখানকার এবং কলকাতা থেকে যাওয়া শিল্পীদের কাছে তিনিই হয়ে ওঠেন শ্রদ্ধেয় বৌদি৷ তাঁর বাড়িতে শিল্পীদের চাঁদের হাট বসত৷ আড্ডা গল্পের মাঝে চলত ক্যারম খেলা৷ স্মৃতিচারণায় প্রবীণা জ্যোতি বলেছেন লতা এবং আশা দু’জনের সঙ্গেই তাঁর খুব ভাল সম্পর্ক ছিল৷ তাঁকে কোলাপুরী শাড়ি এবং সোনার আংটি উপহার দিয়েছিলেন লতা৷ তাঁরাও লতার জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন বাংলার শাড়ি৷ দীপাবলিতে মিষ্টির বাক্স পাঠিয়ে দিতেন লতা৷ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, তালাত মামুদ এবং মান্না দে-এর সঙ্গেও ছিল হৃদ্যতা৷ মান্না দে-এর দুই মেয়ে ছিল সলিল-জ্যোতির মেয়েদের শৈশবের খেলার সঙ্গী৷


কেমন ছিলেন ব্যক্তি সলিল চৌধুরী? ইউটিউবে থাকা সেই স্মৃতিচারণায় প্রবীণা জ্যোতি জানিয়েছেন সুরকার তথা গীতিকার সলিল ছিলেন খুব মিশুকে৷ সকলকে নিয়ে হৈ হৈ করে থাকতে ভালবাসতেন৷ কিন্তু সেই যশস্বীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর্ব প্রকাশ্যে আনেননি জ্যোতি৷ স্মিত হেসে শুধু বলেছেন ‘‘বাকি সব ঘটনা তো আপনারা সবাই জানেন৷’’

আয়তুল কুরসি,,,,,,, নামাজ শিক্ষা এ্যাপস থেকে নেওয়া

 


আয়তুল কুরসি

 

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম ।

● আরবি-উচ্চারন
ﺍﻟﻠّﻪُ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﺤَﻲُّ ﺍﻟْﻘَﻴُّﻮﻡُ ﻻَ ﺗَﺄْﺧُﺬُﻩُ ﺳِﻨَﺔٌ ﻭَﻻَ ﻧَﻮْﻡٌ ﻟَّﻪُ ﻣَﺎ  ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﻣَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﻣَﻦ ﺫَﺍ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳَﺸْﻔَﻊُ ﻋِﻨْﺪَﻩُ ﺇِﻻَّ  ﺑِﺈِﺫْﻧِﻪِ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﺃَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﻭَﻣَﺎ ﺧَﻠْﻔَﻬُﻢْ ﻭَﻻَ ﻳُﺤِﻴﻄُﻮﻥَ ﺑِﺸَﻲْﺀٍﻣِّﻦْ ﻋِﻠْﻤِﻪِ ﺇِﻻَّ ﺑِﻤَﺎ ﺷَﺎﺀ ﻭَﺳِﻊَ ﻛُﺮْﺳِﻴُّﻪُ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻷَﺭْﺽَ ﻭَﻻَ ﻳَﺆُﻭﺩُﻩُ ﺣِﻔْﻈُﻬُﻤَﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟْﻌَﻠِﻲُّ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢ

 

● বাংলা উচ্চারণ
আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বিয়্যুম লা তা’খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিছছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াস ফায়ু ইন দাহু ইল্লা বি ইজনিহি ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খল ফাহুম ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি ইল্লা বিমা সাআ ওয়াসিয়া কুরসিইউ হুস ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আজীম।

 

বাংলা অর্থ
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান। [আল কুরআন: সূরা বাকারাহ্, আয়াত ২৫৫]

 

ফজিলত
জান্নাতের দরজা:-আবু উমামা (রা.)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল নুরে মুজাসসাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি ফরয নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছু বাধা হবে না। [নাসায়ী]
হজরত আলী(রা.) বলেন,-আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি,যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর আয়াতুল কুরসী নিয়মিত পড়ে,তার জান্নাত প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় হয়ে আছে। যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের সময় পড়বে আল্লাহ তার ঘরে,প্রতিবেশির ঘরে এবং আশপাশের সব ঘরে শান্তি বজায় রাখবেন। [সুনানে বায়হাকী]

মর্যাদাসম্পন্ন মহান আয়াত:আবু জর জুনদুব ইবনে জানাদাহ (রা.)রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন,হে আল্লাহর রাসূল (সা.)!আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কোন আয়াতটি নাজিল হয়েছে?রাসূল (সা.)বলেছিলেন,আয়াতুল কুরসী। [নাসায়ী]

 

উবাই বিন কাব থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা:) উবাই বিন কাবকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন,তোমার কাছে কুরআন মজীদের কোন আয়াতটি সর্ব মহান? তিনি বলেছিলেন, (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল্ হাইয়্যূল কাইয়্যূম) তারপর রাসূলুল্লাহ্ নিজ হাত দ্বারা তার বক্ষে আঘাত করে বলেন-আবুল মুনযির!এই ইলমের কারণে তোমাকে ধন্যবাদ। [সহীহ মুসলিম]
শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচার আয়াত:- হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, সূরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, যে ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। [মুসতাদরাকে হাকিম]

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

১. "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকে না। শুআবুল ঈমান : ২৩৯৫ ২. যে ব্যক্তি ফজর ও মাগরিবের নামাজ শেষে ‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার’ সাতবার পাঠ করবে সে যদি ওই রাতে বা দিনে মারা যায় তাহলে অবশ্যই জাহান্নাম থেকে নাজাত পাবে। -সুনানে আবু দাউদ: ২/৭৪১ আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তায়ালা আমাদের জান্নাতে যাওয়া কত সহজ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই কথা গুলোর উপর আমল করার তৌফিক দান করুন।

আমি মানুষকে হাসাতে ভালোবাসি।” এই একটি বাক্যতেই যেন লুকিয়ে  রয়েছে তার জীবনের সারমর্ম। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ, 

 “আমি মানুষকে হাসাতে ভালোবাসি।” এই একটি বাক্যতেই যেন লুকিয়ে  রয়েছে তার জীবনের সারমর্ম। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ,


যিনি চার দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকদের অসংখ্য হাসি উপহার দিয়েছেন, আজ তার জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই অমর শিল্পী আজও দর্শকের হৃদয়ে উজ্জ্বল।


টেলি সামাদের পুরো নাম ছিল আবদুস সামাদ। এই নাম পরে পরিবর্তন হয় ‘টেলি সামাদ’ নামে। বিটিভির জিএম এবং পরিচালকেরা তার প্রতিভা দেখে এই নাম প্রস্তাব করেন। তারা মনে করেছিলেন, এই নামই তার বহুমুখী প্রতিভার সঙ্গে সবচেয়ে মানানসই। তার এই নামের পেছনে ‘ট্যালেন্ট’ শব্দটির যোগসূত্রও ছিল। 

টেলি সামাদ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন বুদ্ধিদীপ্ত ও সৃজনশীল। তার বড় ভাই ছিলেন বিশিষ্ট চারুশিল্পী আব্দুল হাই, যিনি টেলি সামাদের সৃজনশীলতাকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। টেলি সামাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পেশাগতভাবে অভিনয়ে যুক্ত হওয়ার আগে তিনি চারুকলার প্রতি গভীর অনুরাগ পোষণ করতেন এবং এ ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন প্রতিভাবান। এরপর ১৯৬৬ সালে নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘কার বউ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে টেলি সামাদের অভিনয়জীবন শুরু হয়। এই চলচ্চিত্রে তার কৌতুকপ্রদর্শন দর্শকদের মাঝে সাড়া ফেলেছিল। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। চার দশকের বেশি সময় ধরে প্রায় ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেওয়া তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো—‘পায়ে চলার পথ,’ ‘নয়নমণি,’ ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত,’ ‘গোলাপী এখন ট্রেনে,’ ‘সুজন সখী,’ ‘ভাত দে,’ এবং ‘জিরো ডিগ্রি’। তার অভিনয় শুধু চলচ্চিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তিনি টেলিভিশন নাটক ও মঞ্চনাটকেও সমান পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন।


টেলি সামাদের অভিনয় দক্ষতা শুধু কৌতুকেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কাজী হায়াতের পরিচালিত ‘দিলদার আলী’ চলচ্চিত্রে তিনি নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তার বিপরীতে ছিলেন জুলিয়া। এই চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে সাফল্য পায়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, কৌতুকাভিনেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেও তিনি একজন পরিপূর্ণ অভিনেতা।


টেলি সামাদের শিল্পীসত্তা ছিল বহুমুখী। তিনি প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন এবং একটি একক অ্যালবামও প্রকাশ করেছিলেন। ‘মনা পাগলা’ সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেন তিনি। তার কণ্ঠে সুরেলা গান দর্শকদের বিনোদনের আরেকটি মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।


তার জীবনের শেষের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাব তিনি অনেকটাই একা হয়ে পড়েছিলেন। তার আফসোস নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার তিনটি ইচ্ছে ছিল—টেলিভিশনে গান করা, নায়ক হিসেবে একটি সিনেমায় অভিনয় করা, এবং আত্মজীবনীমূলক একটি বই লেখা। দুর্ভাগ্যবশত কোনো ইচ্ছাই পূরণ হয়নি।”


বিখ্যাত এই কিংবদন্তির মৃত্যু  হয় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল, ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৭৪ বছর। মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁও গ্রামে বাবা-মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন তিনি। তিনি আমাদের হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন, এবং চিন্তার খোরাক জুগিয়েছেন। আজ তার জন্মদিনে, বাংলার প্রাঙ্গণের পক্ষ থেকে তাকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তার কাজ ও সৃষ্টিগুলো তাকে বাঁচিয়ে রাখবে আমাদের স্মৃতিতে চিরকাল।


তথ্যসূত্র : (ইন্টারনেট)


#সিনেমা #বাংলাদেশ #কৌতুক  #চলচ্চিত্র #শিল্প   

(অনুমতি ছাড়া রিপোস্ট করবেন না)


#বাংলার_তথ্যপট (বিস্তারিত জানুন কমেন্টে)

বাংলায় নবজাগরণের এক পথিকৃৎ..…. ‌

 বাংলায় নবজাগরণের এক পথিকৃৎ..…. ‌


🔥

নিজের নতুন বৌ-কে বন্ধুর দেখতে ইচ্ছে হয়েছে বলে দিনের বেলা অন্য কোন উপায়ান্তর না দেখে রাতের বেলা কোন স্বামী নিজের শয়নকক্ষে বন্ধুকে ডেকে এনেছেন বধূমুখ দর্শন করানোর জন্য! না, এটা কিন্তু নাটকের দৃশ্য নয়; একেবারে নিখাদ সত্যি। হ্যাঁ! চমকে উঠতেই পারেন। কারণ সময়টা যে আঠারো শতক আর সেই প্রেক্ষাপটে রীতিমতো বৈপ্লবিক ঘটনাও বটে। তবে এহেন বৈপ্লবিক দুঃসাহস তাঁর জন্মগত। চিনতে পেরেছেন কি? এই নববধূটি হলেন জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, আর ঐ বন্ধু হলেন মনোমোহন ঘোষ। আর যে বছর কুড়ির যুবকটি এই পরিকল্পনাটির জনক, তিনি সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রথম ভারতীয় হিসেবে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পাশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু পাশাপাশি ছিলেন নারী স্বাধীনতার অন্যতম কাণ্ডারী। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় পুত্র এবং রবীন্দ্রনাথের অগ্রজ; না! বলা ভাল রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সত্যেন্দ্রনাাথ ঠাকুরের কনিষ্ঠ ভাই। 

বাংলা জুড়ে তখন নতুন তরঙ্গের ঝাপটা লাগছে। চিন্তা-চেতনা, সমাজদর্শন সবেতেই তখন এক নবজাগৃতির পদধ্বনি। কিন্তু বেশীরভাগ মানুষই তখনও ঘুমন্ত। যে ঠাকুরবাড়ি দ্বারকানাথ ঠাকুরের হাত ধরে পথ দেখিয়েছিল এই নবজাগরণের, সেখানে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পরে আবার ফিরছে সংস্কারের দাপট। আর এরই মধ্যে হিন্দু অবিভক্ত ঠাকুরবাড়িতে ১৮৪২ সালের ১ জুন জন্ম নিলেন ভবিষ্যৎ বাঙলার নবোদয়ের এক আলোকবর্তিকা - মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা দেবীর দ্বিতীয় পুত্র সত্যেন্দ্রনাথ। প্রাথমিক ভাবে পিতার তত্ত্বাবধানে তিনি বাড়িতেই সংস্কৃত ও ইংরেজি শিখেছিলেন। একইসঙ্গে চলছিল কুস্তি ও ঘোড়দৌড়ের অনুশীলন। এরপর হিন্দু স্কুলের ছাত্র হিসাবে সত্যেন্দ্রনাথ ১৮৫৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত প্রথম প্রবেশিকা পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন এবং প্রথম বিভাগে স্থান অধিকার করে ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে। সেখানে এসে পেলেন সমমনস্ক কেশবচন্দ্র সেনকে। সত্যেন্দ্রনাথ ছোট থেকেই ছিলেন পিতা দেবেন্দ্রনাথের অপৌত্তলিক দর্শনের অনুরাগী। তাঁর নিজের ভাষায় 'আইকোনোক্লাস্ট'। কলেজে প্রবেশের আগেই ব্রাহ্মসমাজে যোগ দিয়েছিলেন; পেয়েছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদনার গুরুদায়িত্ব। কেশবচন্দ্রের বন্ধুত্ব সেই আগুনে ঘি ঢালল। ১৮৬১ সালে কেশবচন্দ্রের সঙ্গে কৃষ্ণনগরে ব্রাহ্মধর্ম প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করলেন সত্যেন্দ্রনাথ। তবে এরই মধ্যে সব ওলটপালট করে দিলেন আর এক বন্ধু মনোমোহন ঘোষ। তিনি ছিলেন সত্যেনের যাবতীয় বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গী। একটি উদাহরণ তো প্রথমেই বলেছি। পরিবারের দস্তুর মতো, ১৮৫৯ সালে সত্যেন্দ্রনাথের সঙ্গে যশোরের আট বছরের জ্ঞানদানন্দিনীর বিয়ে হয়েছিল। একমাথা ঘোমটা টানা বালিকাটিকে চিন্তায় কর্মে স্বাবলম্বী করে নিজের মনের সঙ্গী করতে সত্যেন্দ্রের উদ্যোগের অন্ত ছিল না। আর জ্ঞানদার আড় ভাঙাতেই মনোমোহনকে ডেকে এনেছিলেন নিভৃত কক্ষে। তো এহেন মনোমোহন পরামর্শ দিলেন, বিলেত গিয়ে দেখাই যাক নি, ভারতীয়দের সিভিল সার্ভিসে নেয় কি না। বহু কষ্টে মহর্ষির মত আদায় করে, ১৮৬২ সালে দুই বন্ধু সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতির জন্য ইংল্যান্ডে গেলেন। সেখানে ভয়ানক পরিশ্রম শেষে মনোমোহন ফেল করলেন বটে, তবে সত্যেন্দ্র পাশ করে নজির গড়লেন। তিনিই হলেন প্রথম ভারতীয় সিভিলিয়ান। কাজ করার সুযোগ পেলেন বোম্বাই প্রেসিডেন্সীতে, যদিও তাঁর প্রথম নিযুক্তি হয়েছিল আহমেদাবাদে অ্যাসিস্ট্যান্ট কালেক্টর ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। আর এই সুযোগেই বস্তুত বহু দিনের স্বপ্ন বাস্তব করার উপায় পেলেন তিনি। 

জ্ঞানদানন্দিনীকে নিদর্শন রূপে সামনে রেখে, ঠাকুরবাড়ি তথা বাঙলার মেয়েদের কয়েদখানার তালাখানি ভেঙে দিলেন। বিলেতজয়ী সত্যেন্দ্র বলে দিলেন কর্মস্থল বোম্বাইয়ে ‘সস্ত্রীক’ যাবেন। 

বোন স্বর্ণকুমারী দেবীর স্মৃতিতে, ‘‘আশৈশব ইনি মহিলা-বন্ধু।.. মহর্ষির কাছে মেয়েদের যদি কোন আবেদন থাকতো তবে তাদের ‘মুরুব্বি’ হয়ে সত্যেন্দ্রনাথই তা অসঙ্কোচে নিবেদন করতেন।’’ 

ইংল্যান্ডে পঠনকালে মুগ্ধ হয়ে দেখেছিলেন মেয়েদের স্বচ্ছন্দ্য স্বাধীনতা। বোম্বাই যাত্রাকালে বাইরে বেরোনোর মতো মহিলাদের উপযুক্ত পোশাকের কথা ভেবে সত্যেন্দ্র ফরাসি মহিলা দর্জির কাছ থেকে তথাকথিত ‘ওরিয়েন্টাল’ পোশাক বানিয়েছিলেন। জ্ঞানদাকে নিজেই তা পরিয়ে দিয়েছিলেন। বম্বে গিয়ে পারসি জীবনে নারী-পুরুষের একত্র ভোজন, অবাধ নারী স্বাধীনতা ও উৎসবে বর্ণাঢ্য পোশাকে নারীসমাজের অংশগ্রহণ দেখে সত্যেন্দ্র মুগ্ধ। পারসিদের দৃষ্টান্তেই জ্ঞানদা সেই ওরিয়েন্টাল পোশাক ছেড়ে, ডান কাঁধের বদলে বাঁ কাঁধে আঁচল ফেলে বা ব্রোচ আটকে ‘বোম্বাই শাড়ি পরা’ রপ্ত করেন। সেই চলনেই শুরু হল ব্লাউজ় পরা। পরের ছুটিতে স্বামীর সঙ্গে এই পোশাকেই সরাসরি গাড়ি করে ঠাকুরবাড়িতে এলেন তিনি। এ দৃশ্যে পিতৃভবনে সত্যেন্দ্র প্রায় একঘরে হলেন। ক্রমে ঠাকুরবাড়িতে বিলেতের ছোঁয়া লাগল, সর্বভারতীয়তার রং ধরল, অন্তঃপুরে অবরোধপ্রথা লুপ্ত হল। 

নানা স্থানে বদলির চাকরি করতে করতে সত্যেন্দ্রনাথ তাঁর ৩২ বছরের কর্মজীবনে অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। ভারতবাসীর মধ্যে প্রথম সেশন জজ হয়েছিলেন। জজিয়তি করার সময়ে বাল্যবিবাহ, বালিকাহরণ, পণপ্রথার মতো সমাজের বহু উপদ্রবের মুখোমুখি হলেন তিনি। সমাজের স্বাস্থ্যের প্রশ্নে বয়স্থ হলে পাত্রপাত্রীর ইচ্ছেয় বিবাহ, একান্নবর্তী পরিবারের অবসানের পক্ষে কলম চালালেন। তবু তিনি অকালে অবসর নিয়েছিলেন। কারণ স্বদেশচেতনা। ইংরেজের প্রভুত্ব করার অনিচ্ছা। তাঁর কর্মজীবনের গোড়ার দিকেই, যখন তাঁর বড়দা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, নবগোপাল মিত্রের উদ্যোগে দেশাত্মবোধ ও রাষ্ট্রীয় মুক্তিচেতনা জাগানোর উদ্দেশ্যে হিন্দুমেলা শুরু হল, তিনি তার দ্বিতীয় অধিবেশনে নিজে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের জন্য 'মিলে সবে ভারতসন্তান' নামে একটি ভারতসঙ্গীত লিখে দিয়েছিলেন। এই গানই বঙ্কিমের ‘বন্দে মাতরম্’ ও ছোটভাই রবীন্দ্রনাথের ‘জনগণমন’র অগ্রদূত। বহু ক্ষেত্রেই এই গানকে দেশের প্রথম জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা দেওয়া হয়।

ঠাকুরবাড়ির ধারা মেনেই সত্যেন্দ্র ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। ‘বোম্বাই চিত্র’, ‘আমার বাল্যকথা’ ইত্যাদিতে মুখের কথায় মনের ভাবপ্রকাশে তাঁর মুনশিয়ানা, যখন-তখন গান বাঁধার পারদর্শিতা, ভক্তিগীত ভেঙে গান রচনা, শেক্সপিয়র-তুকারাম-কালিদাস অনুবাদের প্রাঞ্জলতা, মনোমুগ্ধকর ভাষণ দেওয়ার ক্ষমতা, অভ্রান্ত স্বরক্ষেপণে আবৃত্তির দক্ষতা, বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তি। অবসরের পরে এলেন প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে, হলেন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি। তাঁর হাত ধরেই ঠাকুরবাড়িতে নব্য নাটক ও গানের প্রবেশ ঘটল। 

১৮৭৭ সালে সত্যেন্দ্র জ্ঞানদাকে তিনটি শিশুসন্তান-সহ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় একলাই বিলেতে পাঠিয়ে দিলেন। এই ঘটনার পরে জ্ঞানদার সাঙ্ঘাতিক মনের জোরের কথা কিংবদন্তি হয়ে যায়। দ্বিমত নেই, এই মনের জোরের স্রষ্টা সত্যেন্দ্রনাথ। সোচ্চার আন্দোলন না করেও নিজের জীবনধারার বদল ঘটিয়ে সমাজে নতুন চেতনার সঞ্চার করা যায়,

দেখিয়ে দিয়েছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ। এই সরল সত্যের বহিঃপ্রকাশ ছিল সত্যেন্দ্রের ব্রহ্মতত্ত্ব গীতা উপনিষদ ব্যাখ্যান এবং বুদ্ধ বিষয়ক বইগুলির মধ্যে। সত্যেন্দ্রনাথ নয়টি বাংলা ও তিনটি ইংরেজি গ্রন্থ রচনা করেন। সে সবের মধ্যে সুশীলা ও বীরসিংহ নাটক, বোম্বাই চিত্র, নবরত্নমালা, স্ত্রীস্বাধীনতা, বৌদ্ধধর্ম, আমার বাল্যকথা ও বোম্বাই প্রয়াস, ভারতবর্ষীয় ইংরেজ, Raja Rammohan Roy ইত্যাদি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে। বস্তুতঃ, বাঙালীর সংস্কৃতিতে পূর্ব ও পশ্চিমের অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রস্তুত করেছিলেন ঠাকুরবাড়ির বহুচর্চিত পরিবেশটি। সেই বাগানেই একদিন ফুটে উঠেছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য ও নাট্যচর্চার কুঁড়িটি। সেই উদ্যানেই তো ভাষা খুঁজে পেয়েছিলেন ভবিষ্যতের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

বহু আয়াসে সত্যেন্দ্রনাথ পথ গড়ে দিয়েছিলেন মেয়েদের জন্য। বৃদ্ধাবস্থায় অবশেষে তৃপ্ত সুরে লিখেছেন, ''সত্যি সত্যিই অন্তঃপুরবাসিনীগণ এখন মেমের মত গড়ের মাঠে হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছেন।...

আমার মনস্কামনা অনেকটাই পূর্ণ হয়েছে।'' কোন অপমান কোন বিরোধীতাই তাঁকে তাঁর সঙ্কল্প থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। এক দীর্ঘ মহাজীবনের নাম সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রথম ভারতীয় আইসিএস থেকে সঙ্গীতরচয়িতা; ব্রাহ্মসমাজের সদস্য থেকে স্ত্রীকে পাশে নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে মাঠে হাওয়া খেতে যাওয়া; ছোট ভাইদের প্রধান অনুপ্রেরণা, শিক্ষাগুরু, বোনেদের সাহস জোগানো; জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এই বাঙালী ভাঙতে চেয়েছেন অন্ধ কারার বদ্ধ শিকল - সে ইংরেজদের গোলামীর শৃঙ্খল হোক বা সমাজের নিষেধাজ্ঞার বাঁধন! ১৯২৩ সালের ৯ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তবু তিনি মৃত্যুর পরপারেও অনুপ্রাণিত করে চলেছেন সেই সকল মানুষকে যাঁরা সমানাধিকারে বিশ্বাসী; স্বাধীনতার পক্ষপাতী। 

আজ এই বাঙালী মহামানবের প্রয়াণদিবস। তাঁকে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম। 🙏

- শ্রেয়সী সেন

তথ্যসূত্র - আনন্দবাজার পত্রিকা ও উইকিপিডিয়া

=================

বাংলার ইতিহাস জানতে চান ? যদি প্রকৃত ইতিহাস জানতে চান তাহলে অবশ্যই পড়ুন ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই "বাঙ্গালার ইতিহাস" । বাংলার ইতিহাস নিয়ে এইরকম গবেষণামূলক বই একটিও নেই ।

আমাজন লিংক : https://amzn.to/3MP7d4v

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...