এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ২ মে, ২০২৫

প্রোস্টেট ক্যান্সার সচেতনতা

 ⭕প্রোস্টেট ক্যান্সার সচেতনতা


 প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরুষদের সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সারের ধরনগুলির মধ্যে একটি এবং ফুসফুসের ক্যান্সারের পরে পুরুষদের ক্যান্সারের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ।


তথ্য অনুসারে, ৯ জনের মধ্যে ১ জন পুরুষ তাদের জীবদ্দশায় প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সচেতনতা মাস অপরিহার্য. এটি পুরুষদের উপসর্গ শনাক্ত করতে শিক্ষিত করবে এবং তাদের ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করতে এবং অসংখ্য জীবন বাঁচাতে উৎসাহিত করবে।


⭕প্রোস্টেট ক্যান্সার কী?


প্রোস্টেট ক্যান্সার হয় যখন শরীরের কোষগুলি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বাড়তে শুরু করে। অনেক কারণ এই বৃদ্ধির জন্য দায়ী যেমন ডিএনএ মিউটেশন, জেনেটিক ডিসঅর্ডার বা লাইফস্টাইল ফ্যাক্টর। এই বৃদ্ধি আমাদের শরীরের যেকোনো অংশে হতে পারে এমনকি শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রোস্টেট ক্যান্সার হয় যখন প্রোস্টেট গ্রন্থির কোষগুলি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। প্রোস্টেট গ্রন্থি একটি ছোট আখরোট আকৃতির গ্রন্থি। এটি সেমিনাল তরল তৈরি করে যা শুক্রাণুকে পুষ্ট করে এবং পরিবহন করে। প্রোস্টেট গ্রন্থি নীচে অবস্থিত থলি এবং মলদ্বারের সামনে।


সাধারণত, প্রোস্টেট ক্যান্সার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়, এবং এটি গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে না, তবে এটি রক্ত ​​​​বা লিম্ফ নোডের মাধ্যমে হাড়ের মতো শরীরের অন্যান্য অংশে ভ্রমণ করতে পারে এবং তাদের বৃদ্ধি করতে পারে, যার ফলে মারাত্মক ক্ষতি হয়। যদিও কিছু ধরণের প্রোস্টেট ক্যান্সার খুব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং শুধুমাত্র ন্যূনতম চিকিত্সার প্রয়োজন হয়, কিছু অন্যান্য আক্রমণাত্মক হতে পারে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্য যেকোনো ক্যান্সারের মতো, প্রোস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সফল চিকিৎসার চাবিকাঠি হল প্রাথমিক সনাক্তকরণ।


⭕প্রোস্টেট ক্যান্সারের লক্ষণগুলি


প্রোস্টেট ক্যান্সারের লক্ষণ প্রাথমিক পর্যায়ে দেখা যায় না। এটি লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ যে প্রোস্টেট ক্যান্সারের বেশিরভাগ উপসর্গ এবং একটি বর্ধিত প্রোস্টেট গ্রন্থি একই রকম হতে পারে। অতএব, নিম্নলিখিত উপসর্গগুলির মধ্যে কোনটি বিদ্যমান থাকলে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার পরামর্শ দেওয়া হয়:


প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত।ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা এবং প্রস্রাবের সময় ব্যথা।নিম্ন শ্রোণী অঞ্চলে নিস্তেজ ব্যথা।ইরেক্টাইল ডিসফাংশন।হাড় বা পিঠের নিচের অংশে ব্যথা।ব্যাখ্যাতীত ওজন এবং ক্ষুধা হ্রাস।


⭕প্রোস্টেট ক্যান্সারের কারণ


প্রোস্টেট ক্যান্সারের সঠিক কারণ এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। গবেষণা ব্যাপকভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কিন্তু এটি কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু প্রোস্টেট ক্যান্সারের সাথে যুক্ত বেশ কিছু ঝুঁকির কারণ রয়েছে।


ঝুঁকির কারণ বয়স প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি আপনার বয়সের সাথে বৃদ্ধি পায়। 

রেস: যে কারণে এখনও বৈজ্ঞানিকভাবে পাওয়া যায়নি, আফ্রিকান আমেরিকানদের প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি। তাদের প্রোস্টেট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণ জনগণের তুলনায় ১.৫ গুণ বেশি এবং এর কারণে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা দুই গুণ বেশি।পারিবারিক ইতিহাস: আপনার পরিবারের কোনো সদস্যের এটি থাকলে আপনার প্রোস্টেট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ২ থেকে ৩ গুণ বেশি।

জিন: যদি আপনার পরিবারে জিনের ইতিহাস থাকে যেমন BRCA1 বা BRCA2 যা ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ায় বা আপনার যদি স্তন ক্যান্সারের একটি শক্তিশালী পারিবারিক ইতিহাস থাকে তবে আপনার প্রোস্টেট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

স্থূলতা: স্থূল পুরুষদের পর্যায় ৩ বা পর্যায় ৪ প্রোস্টেট ক্যান্সার নির্ণয়ের সম্ভাবনা বেশি।


⭕প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধ


প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধের কোন সুনির্দিষ্ট উপায় নেই। কিছু ঝুঁকির কারণ যেমন জাতি, জেনেটিক মিউটেশন আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু কিছু কারণ প্রোস্টেট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। আপনি যদি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তাহলে এই বিষয়গুলো অনুসরণ করলেও আপনার উপকার হবে। এইগুলো:


ফল এবং সবজি পূর্ণ একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন করুন।পরিপূরকগুলির চেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া।স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা।প্রোস্টেট ক্যান্সারের উচ্চ ঝুঁকিযুক্ত পুরুষরা তাদের ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার পরে 5- আলফা-রিডাক্টেস ইনহিবিটর নিতে পারেন।


⭕প্রস্টেট ক্যান্সার চিকিত্সা


প্রোস্টেট ক্যান্সারের জন্য চিকিত্সা একটি জটিল প্রক্রিয়া হতে পারে কারণ কিছু ক্যান্সার খুব ধীর গতিতে বৃদ্ধি পায় যে চিকিত্সার প্রয়োজন নাও হতে পারে, আবার কিছু কিছু দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং জীবন-হুমকি হতে পারে। চিকিত্সা নির্ভর করবে আপনার ক্যান্সারের পর্যায় এবং গ্রেড, ঝুঁকির বিভাগ, বয়স, স্বাস্থ্য এবং চিকিত্সা সম্পর্কিত আপনার ব্যক্তিগত পছন্দের মতো বিষয়গুলির উপর।


আপনি চিকিত্সা শুরু করার আগে একটি দ্বিতীয় মতামত পেতে সবসময় পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিত্সার অনেকগুলি বিকল্প উপলব্ধ রয়েছে এবং সেইজন্য প্রক্রিয়াটির তাত্ক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করা একটি অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।


⭕প্রোস্টেট ক্যান্সার সচেতনতা জন্য প্রয়োজন


প্রোস্টেট ক্যান্সারের পাঁচ বছরের বেঁচে থাকার হার ৯৯ শতাংশের বেশি, যা দেখায় যে এটি প্রাথমিকভাবে নির্ণয়ের মাধ্যমে বেশিরভাগই নিরাময়যোগ্য। তবে এই প্রতিবেদনটি প্রোস্টেট ক্যান্সারকে হালকাভাবে নেওয়ার জন্য নয় কারণ ক্যান্সারকে উপেক্ষা করলে এটি মেটাস্টেসাইজিং এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি বিপজ্জনক হতে পারে। খুব দেরি হওয়ার আগে লক্ষণগুলিকে তাড়াতাড়ি চিনতে এবং সঠিকভাবে নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ প্রোস্টেট ক্যান্সারের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ৮৮ জন পুরুষ মারা যায়। এই সংখ্যাগুলি রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করে, যার জন্য সারা বিশ্বে ক্যান্সার সংস্থাগুলি সেপ্টেম্বরকে প্রোস্টেট ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসাবে পালন করছে।


ডাঃ মাহমুদ-উর-রহমান মাসুদ 

ইউরোলজিস্ট 

ল্যাপারো- এন্ডোসকপিক ও রিকন্সট্রাক্টিভ সার্জন

বাঙালির বহুমাত্রিক বিনোদনের এক রসালো উপকরণ পাওয়া যায় পাবলিক টয়লেটে। 

 বাঙালির বহুমাত্রিক বিনোদনের এক রসালো উপকরণ পাওয়া যায় পাবলিক টয়লেটে। এই ‘টয়লেট’ শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ একাধিক। এর মধ্যে গণব্যবহৃত সুপ্রচলিত শব্দ-পায়খানা।  এই শব্দটি নিয়ে নজরুল ব্যঙ্গ করে বলেছেন, ওটির নাম হওয়া উচিত ছিলো, ‘যায়খানা’। কারণ ওখানে খানা যায়, খানা পাওয়া যায় না!


 যাই হোক, বাংলা অভিধান বলে, ‘পায়খানা’ শব্দটি ফারসি-‘পায়েখানাহ্’ শব্দ থেকে এসেছে। কিন্তু আমার কেন যেন মনে হয়, ‘পায়ু’ শব্দটির সঙ্গে ‘পায়খানা’-এর কোথায় যেন মিল আছে এবং তাতে কেবল ধ্বনিগত নয়, অর্থগত ও ভাবগত মিলও আছে। পায়ু মানে তো গুহ্যদ্বার- প্রাণীদেহের কঠিন বর্জ্য নির্গত হওয়ার পথ। তাই ব্যাকরণসিদ্ধ না হলেও আমার কেন যেন মনে হয় সেই পায়ু থেকেই পায়খানা শব্দটির জন্ম।


পায়ুপথে মানবদেহের দুর্গন্ধময় যে কঠিন বর্জ্য বের হয় তার সর্বপরিচিত নাম- ‘গু’। এর যে প্রতিশব্দ এই মুহূর্তে মনে পড়ছে তা হলো : বিষ্ঠা, মল, পুরীষ। এগুলো সংস্কৃত শব্দ। পায়খানাকেও আমরা মলের প্রতিশব্দ হিসেবেও ব্যবহার করি। ইতর প্রাণীর মলের আবার অন্য নাম। পাখির মলকে গ্রামের মানুষ ‘বিষ্ঠা’ বলে। আর পশুর মলকে বলে ‘ল্যাদা’। বিট ক্ষুদ্রার্থে আর ল্যাদা বৃহদার্থে ব্যবহৃত হয়। তবে গরুর মলকে বলা হয় গোবর। রস করে ছাগলের মলকে বলা হয়, ছাগলের বড়ি বার নাদি! 


মলত্যাগের স্থানকে শিক্ষিত-ভদ্রলোকেরা সুন্দর-সুন্দর নামে ডাকে-টয়লেট, বাথরুম, শৌচাগার, প্রসাধনকক্ষ ইত্যাদি। কিন্তু বিদ্যালয় বা হিমালয়ের মতো কেউ তাকে মলালয় বা বিষ্ঠালয় বলে না।


পাবলিক টয়লেটকে আমরা বাংলায় বলি, গণশৌচাগার। এই গণশৌচাগার এদেশে কেবল অপরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধময় এবং ব্যবহার অযোগ্যই থাকে না, তাতে মজার মজার ‘বাণী’ও লেখা থাকে। এসব ‘বাণী’ কোনো কথাশিল্পী বা মহাজনরা লেখেন, তা আমরা জানি না। কিন্তু তাতে পাওয়া যায়, বাঙালির রসবোধের পরিচয়। সাধারণ বাঙালি যে এতো চিন্তাশীল, রসিক ও শিল্পগুণসম্পন্ন কথাসরিৎসাগর, তার সরস পরিচয় পাওয়া যায় গণশৌচাগারের দেয়াল ও দরোজার দিকে তাকালে।


: ভোগে নয়, ত্যাগেই শান্তি! : ডানে দেখুন। ডানে লেখা ছিলো...বামে দেখুন। বামে লেখা...পেছনে দেখুন। পেছনে লেখা...ওপরে দেখুন। ওপরে লেখা ছিলো... ঐ মিয়া, টয়লেটে বইয়া এতো মোচড়া-মুচড়ি করেন ক্যান? 


: আপনার হাগু আপনার সম্পদ। দয়া করে অন্য কারো জন্য ফেলে যাবেন না।


 : আপনার ত্যাগকৃত মল কোনো শিল্পকর্ম নয়। তাই অন্যকে প্রদর্শনের জন্য রেখে যাবেন না।


 : ওগো মহাজ্ঞানী, মুতিয়া লইও পানি।


 : তুই যে লাটের বেটাই হইস না ক্যান... আমার সামনে আইলে তোর পাজামার গিট্টু খোলা লাগবোই।


 : হাই-কমোড ঠিকমতো ব্যবহার করতে না পারায় একটি দরোজায় লেখা ছিলো : আপনি যদি পা ঝুলাইয়া বসিয়া এই লেখা স্বাচ্ছন্দ্যে পড়িতে পারেন, তবে আপনি সঠিক অবস্থানেই বসিয়াছেন। 


: টয়লেট কি তোর বাপের? ঢুকলে আর বাইর হইতে মন চায় না! 


: যাহা ফেলিয়া যাইতেছেন তাহা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত সম্পদ হইলে সঙ্গে করিয়া নিয়া যান। না হইলে এক বদনা পানি ঢালিয়া যান। 


:ওহে মহাজ্ঞানী, কর্ম করিয়া ঢালিও পানি। যে সবে হাগিয়া প্যানে না দেয় পানি/সে সবে কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।/হাগার জন্য সবাই বাঁচে, হাগায় নেইকো পাপ,/হেগেছে আমার ঠাকুরদাদা, হেগেছে আমার বাপ। 


টয়লেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট আসছে।।। 


😅😅😅

ডা: সাইদ

লালমনিরহাটের এক অজপাড়াগাঁয়ে ছিল পুরনো এক ডিসপেনসারি।

 লালমনিরহাটের এক অজপাড়াগাঁয়ে ছিল পুরনো এক ডিসপেনসারি। বহু বছর আগে সেখানে রফিক সাহেব নামে এক ডাক্তারবাবু কাজ করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু আর রোগীদের জন্য নিজের জীবন বাজি রাখতেও রাজি ছিলেন। কিন্তু এক ভয়াবহ কলেরার মহামারীর সময় রোগীদের সেবা করতে গিয়ে নিজেই সেই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

তারপর থেকে গ্রামের মানুষজন ঐ ডিসপেনসারিতে আর যেত না। তাদের বিশ্বাস ছিল, ডাক্তার রফিক সাহেবের আত্মা ওখানে আজও ঘুরে বেড়ায়। রাতের অন্ধকারে নাকি শোনা যেত তাঁর ক্লান্ত পায়ের শব্দ, আর ভেসে আসত চাপা কাশির আওয়াজ। কেউ কেউ তো আবছা আলোয় তাঁর ছায়া দেখতেও পেয়েছে বলে দাবি করত, হাতে পুরোনো দিনের একটা ব্রিফকেস।

একদিন গভীর রাতে, গ্রামের এক বৃদ্ধা রহিমার হঠাৎ বুকে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হলো। গ্রামে আর কোনো ডাক্তার ছিল না, আর বর্ষার রাতে শহরে যাওয়াও ছিল অসম্ভব। বাধ্য হয়ে রহিমার ছেলে কাশেম সেই পুরনো ডিসপেনসারির দিকে রওনা হলো, মনে ভয় আর desperation দুটোই কাজ করছিল।

ডিসপেনসারির দরজা ছিল বহু বছর ধরে বন্ধ, মরচে ধরে গিয়েছিল কড়া। কাশেম ধাক্কা দিতেই ক্যাঁচ করে দরজা খুলে গেল। ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার আর স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ। কাশেম টর্চলাইট জ্বালালো। ভাঙা চেয়ার, ধুলো জমা টেবিল, আর ওষুধের খালি শিশি-বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। হঠাৎ কাশেমের মনে হলো যেন কেউ তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে।

সে চমকে ঘুরে তাকালো, কিন্তু অন্ধকারে কিছুই দেখতে পেল না। তবে একটা ঠান্ডা বাতাস তার গা ছুঁয়ে গেল, আর সেই চাপা কাশির শব্দটা যেন আরও কাছে ভেসে এলো। কাশেমের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল। সে কোনোমতে বললো, "কে... কে ওখানে?"

সঙ্গে সঙ্গে আবছা আলোয় কাশেম দেখলো, দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছেন এক ব্যক্তি। পুরোনো দিনের ঢিলেঢালা কোট পরা, হাতে একটা মলিন ব্রিফকেস। মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না, তবে মনে হলো যেন ক্লান্ত আর বিষণ্ণ।

আগন্তুক মৃদু স্বরে বললেন, "কী হয়েছে? কার শরীর খারাপ?"

কাশেম ভয়ে ভয়ে সব কথা খুলে বললো। শুনে ডাক্তারবেশী সেই লোকটি বললেন, "চলো আমার সাথে।"

ভেতরের একটা পুরনো ঘরে ডাক্তার তাকে নিয়ে গেলেন। সেখানে একটা ভাঙা টেবিলের ওপর কিছু পুরোনো দিনের যন্ত্রপাতি আর ওষুধের শিশি রাখা ছিল। ডাক্তার সেই আলো আঁধারিতেই রহিমার রোগের লক্ষণ শুনলেন, তারপর ব্রিফকেস থেকে একটা পুরোনো শিশি বের করে কিছু ওষুধ দিলেন।

কাশেম অবাক হয়ে বললো, "এটা কী ওষুধ?"

ডাক্তার বললেন, "বিশ্বাস রাখো। এতেই কাজ হবে।"

কাশেম সেই ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফিরে এলো এবং তার মাকে খাওয়ালো। আশ্চর্য ব্যাপার হলো, কিছুক্ষণ পরেই রহিমার যন্ত্রণা কমতে শুরু করলো, আর সকালের দিকে সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলো।

পরের দিন কাশেম আবার সেই ডিসপেনসারিতে গেল ডাক্তার সাহেবকে ধন্যবাদ জানাতে। কিন্তু গিয়ে দেখলো, দরজা যেমন বন্ধ ছিল তেমনই আছে, বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই যে রাতে কেউ ভেতরে ছিল। ভেতরে ঢুকে কাশেম সেই ঘরটা খুঁজে বের করলো, কিন্তু সেখানে কোনো যন্ত্রপাতি বা ওষুধের শিশি কিছুই দেখতে পেল না। শুধু ধুলো আর মাকড়সার জাল।

গ্রামের পুরনো লোকেরা শুনে বললো, রাতে কাশেম যাকে দেখেছিল, তিনি আর কেউ নন, সেই ভুতুরে ডাক্তার রফিক সাহেব। আজও তিনি রোগীদের কষ্ট সহ্য করতে পারেন না, তাই রাতের অন্ধকারে এসে সেবা করে যান। সেই ঘটনার পর থেকে গ্রামের মানুষজনের ভয় কিছুটা কমেছিল। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, ডাক্তার রফিক সাহেবের আত্মা হয়তো এখনও ঐ ডিসপেনসারিতেই আছে, নীরবে মানুষের সেবা করে চলেছে। তবে রাতের অন্ধকারে একা সেই পুরনো ডিসপেনসারির কাছে ঘেঁষতে আজও তাদের গা ছমছম করে।


collect from bhoutik duniya


NOTE : THIS POST IS COPYRIGHT PROTECTED ©️

Don’t try to copy without permission.. 

otherwise Facebook community can take actions.

গাধা, কুমির আর কাকের গল্প 

 গাধা, কুমির আর কাকের গল্প 

 

গ্রীষ্মের একদিন, নদীটি প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল। নদীর মাঝখানে কাদায় আটকে ছিল এক কুমির। হাঁফাতে হাঁফাতে সে চেষ্টা করছিল বাঁচতে, কিন্তু কিছুতেই বের হতে পারছিল না।

 

নদীর ধারে ঘাস খাচ্ছিল একটি গাধা। হঠাৎ সে দেখতে পেল কুমিরটি কাদায় ছটফটাচ্ছে। মায়ায় পড়ে গাধা এগিয়ে গেল।

 

কুমির কাতর গলায় বলল, "দয়া করো, আমাকে বাঁচাও! আমি মরে যাচ্ছি!"

 

গাধার মন নরম হলো। সে একটি বড় শুকনো ডাল এনে কুমিরের দিকে বাড়িয়ে দিল। কুমির সেটি ধরে ধীরে ধীরে নিজেকে টেনে মাটির শক্ত জায়গায় তুলল।

 

কিন্তু মাটি ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমিরের চোখে ঝলসে উঠল লোভ। সে সুযোগ বুঝে গাধার দিকে লাফিয়ে পড়ল, তাকে ধরে খাবার জন্য!

 

আতঙ্কে গাধা দৌড়াতে লাগল, কিন্তু কুমিরের শক্ত চোয়াল থেকে ছুটে পালানো কঠিন ছিল।

 

ঠিক তখনই কাছের গাছ থেকে উড়ে এল একটি কাক। কাকটি চিৎকার করে বলল, "তুমি কি ভুলে গেলে — যে তোমাকে বাঁচালো, তার প্রতি এভাবে প্রতিদান দিতে নেই?"

 

কুমির একটু থমকালো। সেই ফাঁকে কাক গাধার কানে ফিসফিস করে বলল, "ঝাঁকি দাও, আর দৌড়াও! আমি বিভ্রান্ত করি!"

 

কাক দ্রুত কুমিরের চোখের সামনে পাখা নাচিয়ে উড়তে লাগল। গাধা জোরে ঝাঁকি মেরে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল এবং ছুটে অনেক দূরে নিরাপদে গিয়ে দাঁড়াল।

 

সেখানে দাঁড়িয়ে গাধা চিৎকার করে বলল, "জীবন দিয়ে তুমি লোভ দেখালে! এখন একা পড়ে থাকো তোমার কাদার মধ্যে!"

 

কুমির হতাশ হয়ে নদীর পাশে পড়ে রইল। আর গাধা আর কাক মিলে দূরের সবুজ বন ধরে এগিয়ে গেল নতুন জীবনের পথে।


  গল্পের শিক্ষা:

"বিপদ বা অসহায়তা দেখলেই চট করে সাহায্য করতে নেই। আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। সবকিছু বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সত্যিকারের বুদ্ধিমানের কাজ।"

মানুষের নাহয় হাগু করার আলাদা জায়গা আছে কিন্তু বাকিদের যে নেই! এত লক্ষ কোটি পশুপাখি খোলা জায়গায় সারাদিন বসে দাঁড়িয়ে খাচ্ছে আর হাগু কচ্ছে কিন্তু কই আশপাশটা তো দুর্গন্ধে বা হাগুতে ভরে উঠছেনা! আশ্চর্য না? বলুনতো কীকরে এটা সম্ভব হচ্ছে? ঠিক বলেছেন! গুবরে পোকারা আছে বলে। পৃথিবীতে সাত হাজার প্রজাতির গুবরে পোকারা সব হাগু পরিষ্কার করার দায়িত্ব নিয়েছে সেই কবে থেকে। এন্টার্কটিকা বাদে সব দেশে সবখানে তারা আছে। কেউ হাগু করলেই তারা হাজারে হাজারে জড়ো হয়ে সব দ্রুত সরিয়ে ফেলছে নয়তো decomposed হয়ে যেতে সাহায্য করছে। তাই আমরা আজ এত হাজার বছর দুর্গন্ধহীন নিশ্চিন্ত জীবন কাটাতে পারছি। গুবরে পোকাদের সঙ্গে এই কাজে অবশ্য ব্যাকটেরিয়ারাও আছে। আমরা সবাই দেখেছি টাটকা গোবর কদিনের মধ্যেই কেমন শুকনো হয়ে মাটিতে মিলিয়ে গেলো পাউডারের মতো। বিস্ময়কর না! গুবরে পোকারা কাজের ধরণ অনুযায়ী চার রকমের। সেও ভারী মজার৷ একদল বড় আলসে, তারা বলে, "বাবা বেশি এদিক ওদিক গিয়ে কাজ নেই, একেবারে গোবর(সবধরণের হাগুকেই গোবর নাম দিচ্ছি আপাতত, বারবার হাগু বললে কেমন লাগে 😂) এর উপর বসে ডিম পেড়ে দেবো"। ডিম ফুটে লার্ভা বেরোয়। সব লার্ভারা গোবর খায় আর একদিন পূর্ণাঙ্গ পোকা হয়ে বেরিয়ে আসে। দ্বিতীয়দল গোবরের তলায় সুড়ঙ্গ খোঁড়েম সেখানে সসেজ এর মতো গোবর এর টুকরো জমা করে ডিম পাড়ে। বাচ্চারা সেই সুড়ঙ্গেই বড় হয় আর একদিন বেরিয়ে আসে। এত সুড়ঙ্গ খুঁড়লে মাটির ভারী উপকার। মাটির ভেতরে থাকা সব্বার শ্বাস নিতে সুবিধা হয়। শিকারীর হাত থেকে বাঁচতে কেউ কেউ লুকাতেও পারে। বারবার গোবর নিয়ে যাতায়াতের ফলে মাটির সঙ্গে গোবর মিশে উর্বরতা বেড়ে যায়। মাটি ও মাটিতে থাকা সবাই ভালো থাকে৷ তৃতীয়দল বলে বাবা এত প্রতিযোগিতায় কাজ নেই, আমি বরং একটা গোবরের তাল কুড়িয়ে তাড়াতাড়ি পালাই। সে গোবরের তাল নিয়ে সেটাকে ভালো করে গোল করে গোলা পাকিয়ে গড়াতে গড়াতে চলে। শরীরের যা ওজন তার পঞ্চাশগুণ বড়ো গোবরের গোলা নিয়ে সে যেতে পারে৷ এদেরকে আমরা অনেকে দেখেছি দিনেরবেলা। কখনো একা কখনো দোকা। দোকা চলেছে মানে জানবেন পুরুষ পোকাটি তার সঙ্গীনীকে পেয়ে গেছে। এবার দুজনে মিলে নিরাপদ জায়গায় গর্ত করে ওই গোবরের গোলাটাকে সেখানে ঢুকিয়ে তাতে ডিম পাড়বে। বাচ্চারা সেই গোলার মধ্যে বড় হবে। তারপর পূর্ণাঙ্গ রূপ নিয়ে বেরিয়ে আসবে। চতুর্থদল ভারী বদ, সে ব্যাটা কিছুই করবে না। একটা গোবরের গোলা নিয়ে একজোড়া নারীপুরুষ যখন গর্তে গেছে আর সেখানে অন্য কোনো পুরুষ এসে পুরুষে পুরুষে সেই মেয়ের জন্য লড়াই লাগিয়েছে তখন সে মেয়ের ছদ্মবেশ মেয়ে পোকাটার কাছে এসে নিজের আসল রূপ দেখিয়ে মুগ্ধ করতে চায়। মানে এরা অন্যের শ্রমের ফসল একটু চুরিই করে নেয় বলা চলে। তবে ফাংশনাল গ্রুপ মূলত ওই প্রথম তিনধরণের। ভাবতে পারেন, সারা পৃথিবীর সব গোবর/হাগুর দায়িত্ব নিয়ে নিমেষের মধ্যে তাকে সরিয়ে ফেলা, দুর্গন্ধ না হতে দেওয়া, উফ! এ কাজের জন্য তাদের তো পুরস্কার দরকার, তার চেয়েও বেশি দরকার আদর যত্নের। পারলে তো খাতির করে ঘরে ডেকে পাত পেড়ে খাওয়াতাম। তারা তো নিজের জীবন কাটাতে গিয়ে আমাদের এত বড় উপকার করে দিচ্ছে যার বার্ষিক টাকার মূল্য ৬০০ মিলিয়ন ডলার প্রায়। ভাবুন এই টাকাটা আমাদের আলাদা করে কাউকে দিতে হয় না। এমনিই আমাদের রোজগার কর্মসংস্থানের যা অবস্থা, এদের টাকা দিতে হলে কী যে হতো! এদিকে এরা এই কাজ করে বলে গোবর/হাগুকে কেন্দ্র করে মাছিদের পপুলেশন নিয়ন্ত্রণে থাকে নাহলে যত মাছি এখন দেখি তার হয়ত একশোগুণ মাছি আমাদের ঘরবাড়ি ছেয়ে ফেলতো। আর কৃষকের বন্ধু তো তারা বটেনই। মাটিকে ঝুরঝুরে রাখা, ভালো রাখা, উর্বর রাখা, সব করে ফেলছেন। এত গোবর/হাগু থেকে ক্ষতিকর মিথেন গ্যাসের প্রভাব থেকে আমাদের রক্ষা করছেন। কিন্তু তারা ভালো আছে কি? নেই। এখন তাদের দেখা যাচ্ছে খুব কম। গ্রামেও গোবর পড়ে থাকছে রাস্তায় কিন্তু তাদের আর দেখা নেই। পুঁজিবাদীরা সবচেয়ে বেশি রোজগার করে মানুষকে খাইয়ে আর কৃষিকাজের যাবতীয় উপাদান বেচে। তারা বিষাক্ত GM ফসলের বীজ, মারাত্মক সব বিষ সার বানাচ্ছে আর মানুষকে কনভিন্স করে সেগুলো এন্তার বেচছে। এত বিষ দিলে বন্ধুরা কি আর বাঁচে? বন্ধুরা বাঁচেনা তাই বাকিরাও বাঁচেনা। আমাদের স্কুল কলেজে তত পড়ানোও হয়না তাদের কথা। আরেকটা সমস্যা হয়েছে দিনেরবেলা সূর্য আর রাতে চাঁদ তারা আকাশগঙ্গাকে লক্ষ্য করে তারা যাতায়াত করে। সেখানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সভ্যতার এত আলো। রাতের আকাশে চাঁদ তারা কিছুই ভালো করে দেখা যাচ্ছে না রাতে মানুষেরা এত আলো জ্বেলে রাখায়। এদের পথভুল হয়ে যাচ্ছে। বড় শহরে বড় বড় বাড়ির আলো দেখে এরা সেইদিকে চলে যাচ্ছে। মানুষ এত বেশি পিচ কংক্রিটের রাস্তা বানিয়ে ফেলেছে যে তারা আর গর্ত খুঁড়তে পারছে না। তাহলে তারা সুস্থ শরীরে মনে কাজ করবে কীকরে? আমরা যারা সব কিনে খাই তারা বুঝতে পারি তো যে খাবার থেকে আজকাল অনেক রোগ হচ্ছে? যদি বুঝে থাকি তবে সার কীটনাশক দিয়ে বড় করা ফসল আমরা খাবো না। GM ফসল এর বিরোধিতা করবো। দেশি গাছ লাগাবো। মাটিকে ঢেকে রাখব স্বাভাবিক ঘাসে। মাটিতে বেশি লাঙল কোদাল চালাবো না। অকারণে রাতে আলো জ্বাললে এই বন্ধুদের চরম ক্ষতি, আমরা জ্বালবো না। আমরা তো মানুষ, এইটুকু বুঝবো না? না বুঝলে একদিন এরা যদি সবাই হারিয়ে যায় তবে আমাদের কিন্তু মাথা অবধি হাগুতে গোবরে ডুবে যেতে হবে। মজা না, সত্যি বললাম। 🌿 লিখেছেন: নীলাঞ্জন মিশ্র Nilanjan Mishra ২৫/৪/২৫ সুন্দরবন

 মানুষের নাহয় হাগু করার আলাদা জায়গা আছে কিন্তু বাকিদের যে নেই! এত লক্ষ কোটি পশুপাখি খোলা জায়গায় সারাদিন বসে দাঁড়িয়ে খাচ্ছে আর হাগু কচ্ছে কিন্তু কই আশপাশটা তো দুর্গন্ধে বা হাগুতে ভরে উঠছেনা! আশ্চর্য না? বলুনতো কীকরে এটা সম্ভব হচ্ছে? ঠিক বলেছেন! গুবরে পোকারা আছে বলে। পৃথিবীতে সাত হাজার প্রজাতির গুবরে পোকারা সব হাগু পরিষ্কার করার দায়িত্ব নিয়েছে সেই কবে থেকে। এন্টার্কটিকা বাদে সব দেশে সবখানে তারা আছে। কেউ হাগু করলেই তারা হাজারে হাজারে জড়ো হয়ে সব দ্রুত সরিয়ে ফেলছে নয়তো decomposed হয়ে যেতে সাহায্য করছে। তাই আমরা আজ এত হাজার বছর দুর্গন্ধহীন নিশ্চিন্ত জীবন কাটাতে পারছি। গুবরে পোকাদের সঙ্গে এই কাজে অবশ্য ব্যাকটেরিয়ারাও আছে। আমরা সবাই দেখেছি টাটকা গোবর কদিনের মধ্যেই কেমন শুকনো হয়ে মাটিতে মিলিয়ে গেলো পাউডারের মতো। বিস্ময়কর না! গুবরে পোকারা কাজের ধরণ অনুযায়ী চার রকমের। সেও ভারী মজার৷ 


একদল বড় আলসে, তারা বলে, "বাবা বেশি এদিক ওদিক গিয়ে কাজ নেই, একেবারে গোবর(সবধরণের হাগুকেই গোবর নাম দিচ্ছি আপাতত, বারবার হাগু বললে কেমন লাগে 😂) এর উপর বসে ডিম পেড়ে দেবো"।  ডিম ফুটে লার্ভা বেরোয়। সব লার্ভারা গোবর খায় আর একদিন পূর্ণাঙ্গ পোকা হয়ে বেরিয়ে আসে। 


দ্বিতীয়দল গোবরের তলায় সুড়ঙ্গ খোঁড়েম সেখানে সসেজ এর মতো গোবর এর টুকরো জমা করে ডিম পাড়ে। বাচ্চারা সেই সুড়ঙ্গেই বড় হয় আর একদিন বেরিয়ে আসে। এত সুড়ঙ্গ খুঁড়লে মাটির ভারী উপকার। মাটির ভেতরে থাকা সব্বার শ্বাস নিতে সুবিধা হয়। শিকারীর হাত থেকে বাঁচতে কেউ কেউ লুকাতেও পারে। বারবার গোবর নিয়ে যাতায়াতের ফলে মাটির সঙ্গে গোবর মিশে উর্বরতা বেড়ে যায়। মাটি ও মাটিতে থাকা সবাই ভালো থাকে৷ 


তৃতীয়দল বলে বাবা এত প্রতিযোগিতায় কাজ নেই, আমি বরং একটা গোবরের তাল কুড়িয়ে তাড়াতাড়ি পালাই। সে গোবরের তাল নিয়ে সেটাকে ভালো করে গোল করে গোলা পাকিয়ে গড়াতে গড়াতে চলে। শরীরের যা ওজন তার পঞ্চাশগুণ বড়ো গোবরের গোলা নিয়ে সে যেতে পারে৷ এদেরকে আমরা অনেকে দেখেছি দিনেরবেলা। কখনো একা কখনো দোকা। দোকা চলেছে মানে জানবেন পুরুষ পোকাটি তার সঙ্গীনীকে পেয়ে গেছে। এবার দুজনে মিলে নিরাপদ জায়গায় গর্ত করে ওই গোবরের গোলাটাকে সেখানে ঢুকিয়ে তাতে ডিম পাড়বে। বাচ্চারা সেই গোলার মধ্যে বড় হবে। তারপর পূর্ণাঙ্গ রূপ নিয়ে বেরিয়ে আসবে। 


চতুর্থদল ভারী বদ, সে ব্যাটা কিছুই করবে না। একটা গোবরের গোলা নিয়ে একজোড়া নারীপুরুষ যখন গর্তে গেছে আর সেখানে অন্য কোনো পুরুষ এসে পুরুষে পুরুষে সেই মেয়ের জন্য লড়াই লাগিয়েছে তখন সে মেয়ের ছদ্মবেশ মেয়ে পোকাটার কাছে এসে নিজের আসল রূপ দেখিয়ে মুগ্ধ করতে চায়। মানে এরা অন্যের শ্রমের ফসল একটু চুরিই করে নেয় বলা চলে। তবে ফাংশনাল গ্রুপ মূলত ওই প্রথম তিনধরণের। 


ভাবতে পারেন, সারা পৃথিবীর সব গোবর/হাগুর দায়িত্ব নিয়ে নিমেষের মধ্যে তাকে সরিয়ে ফেলা, দুর্গন্ধ না হতে দেওয়া, উফ! এ কাজের জন্য তাদের তো পুরস্কার দরকার, তার চেয়েও বেশি দরকার আদর যত্নের। পারলে তো খাতির করে ঘরে ডেকে পাত পেড়ে খাওয়াতাম। তারা তো নিজের জীবন কাটাতে গিয়ে আমাদের এত বড় উপকার করে দিচ্ছে যার বার্ষিক টাকার মূল্য ৬০০ মিলিয়ন ডলার প্রায়। ভাবুন এই টাকাটা আমাদের আলাদা করে কাউকে দিতে হয় না। এমনিই আমাদের রোজগার কর্মসংস্থানের যা অবস্থা, এদের টাকা দিতে হলে কী যে হতো! এদিকে এরা এই কাজ করে বলে গোবর/হাগুকে কেন্দ্র করে মাছিদের পপুলেশন নিয়ন্ত্রণে থাকে নাহলে যত মাছি এখন দেখি তার হয়ত একশোগুণ মাছি আমাদের ঘরবাড়ি ছেয়ে ফেলতো। আর কৃষকের বন্ধু তো তারা বটেনই। মাটিকে ঝুরঝুরে রাখা, ভালো রাখা, উর্বর রাখা, সব করে ফেলছেন। এত গোবর/হাগু থেকে ক্ষতিকর মিথেন গ্যাসের প্রভাব থেকে আমাদের রক্ষা করছেন। 


কিন্তু তারা ভালো আছে কি? নেই। এখন তাদের দেখা যাচ্ছে খুব কম। গ্রামেও গোবর পড়ে থাকছে রাস্তায় কিন্তু তাদের আর দেখা নেই। পুঁজিবাদীরা সবচেয়ে বেশি রোজগার করে মানুষকে খাইয়ে আর কৃষিকাজের যাবতীয় উপাদান বেচে। তারা বিষাক্ত GM ফসলের বীজ, মারাত্মক সব বিষ সার বানাচ্ছে আর মানুষকে কনভিন্স করে সেগুলো এন্তার বেচছে। এত বিষ দিলে বন্ধুরা কি আর বাঁচে? বন্ধুরা বাঁচেনা তাই বাকিরাও বাঁচেনা। আমাদের স্কুল কলেজে তত পড়ানোও হয়না তাদের কথা। আরেকটা সমস্যা হয়েছে দিনেরবেলা সূর্য আর রাতে চাঁদ তারা আকাশগঙ্গাকে লক্ষ্য করে তারা যাতায়াত করে। সেখানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সভ্যতার এত আলো। রাতের আকাশে চাঁদ তারা কিছুই ভালো করে দেখা যাচ্ছে না রাতে মানুষেরা এত আলো জ্বেলে রাখায়। এদের পথভুল হয়ে যাচ্ছে। বড় শহরে বড় বড় বাড়ির আলো দেখে এরা সেইদিকে চলে যাচ্ছে। মানুষ এত বেশি পিচ কংক্রিটের রাস্তা বানিয়ে ফেলেছে যে তারা আর গর্ত খুঁড়তে পারছে না। তাহলে তারা সুস্থ শরীরে মনে কাজ করবে কীকরে? 


আমরা যারা সব কিনে খাই তারা বুঝতে পারি তো যে খাবার থেকে আজকাল অনেক রোগ হচ্ছে? যদি বুঝে থাকি তবে সার কীটনাশক দিয়ে বড় করা ফসল আমরা খাবো না। GM ফসল এর বিরোধিতা করবো। দেশি গাছ লাগাবো। মাটিকে ঢেকে রাখব স্বাভাবিক ঘাসে। মাটিতে বেশি লাঙল কোদাল চালাবো না। অকারণে রাতে আলো জ্বাললে এই বন্ধুদের চরম ক্ষতি, আমরা জ্বালবো না। আমরা তো মানুষ, এইটুকু বুঝবো না? 


না বুঝলে একদিন এরা যদি সবাই হারিয়ে যায় তবে আমাদের কিন্তু মাথা অবধি হাগুতে গোবরে ডুবে যেতে হবে। 


মজা না, সত্যি বললাম। 


🌿

লিখেছেন: নীলাঞ্জন মিশ্র 

Nilanjan Mishra 

২৫/৪/২৫

সুন্দরবন

কুং ফুর পাঁচটি প্রথাগত পশুর ধরনকে উপস্থাপন করে, যার প্রতিটি একটি আলাদা যুদ্ধকৌশল ও দার্শনিক চিন্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।

 কুং ফুর পাঁচটি প্রথাগত পশুর ধরনকে উপস্থাপন করে, যার প্রতিটি একটি আলাদা যুদ্ধকৌশল ও দার্শনিক চিন্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই শৈলীগুলো মূলত দক্ষিণ শাওলিন মার্শাল আর্ট থেকে এসেছে, বিশেষ করে ‘ফাইভ অ্যানিমেলস স্টাইল’ (পাঁচ পশুর শৈলী) থেকে। নিচে প্রতিটির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:


১. ড্রাগন স্টাইল (উপরে বামে)

প্রাণী: ড্রাগন (ড্রাগন)

কেন্দ্রবিন্দু: আত্মিক শক্তি, তরল গতিবিধি, অভ্যন্তরীণ শক্তি (চি)

প্রযুক্তি: কঠিন ও নরম গতির সংমিশ্রণ, বৃত্তাকার গতি ও শক্তি নিয়ন্ত্রণের উপর জোর। ড্রাগন স্টাইলে শরীর মোচড়ানোর গতি, শক্তিশালী ভঙ্গি এবং নিঃশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ ব্যবহৃত হয়।

প্রতীক: প্রজ্ঞা, অন্তর্নিহিত শক্তি এবং অভিযোজন ক্ষমতা।


২. স্নেক স্টাইল (উপরে ডানে)

প্রাণী: সাপ

কেন্দ্রবিন্দু: গতি, নিখুঁততা ও নমনীয়তা

প্রযুক্তি: চাপ পয়েন্টে দ্রুত, কুণ্ডল strike দেয়। আঙ্গুলগুলোকে বিষদাঁতের মতো ব্যবহার করা হয়, আর চলাফেরা হয় মসৃণ ও অপ্রত্যাশিত।

প্রতীক: নিখুঁততা, তরল গতি এবং অভ্যন্তরীণ শক্তি।


৩. ক্রেন স্টাইল (মাঝখানে)

প্রাণী: সারস (ক্রেন)

কেন্দ্রবিন্দু: ভারসাম্য, দৃষ্টতা ও সৌন্দর্য

প্রযুক্তি: প্রতিরক্ষামূলক পদচারণা, এক পায়ে দাঁড়ানো ভঙ্গি এবং আঙ্গুল দিয়ে ঠোকর দেওয়ার কৌশল। চলাফেরা হয় হালকা ও চটপটে।

প্রতীক: শান্তি, নিয়ন্ত্রণ এবং নিখুঁততা।


৪. প্যান্থার স্টাইল (নিচে বামে)

প্রাণী: প্যান্থার (বা ফাইভ অ্যানিমেলসে লেপার্ড)

কেন্দ্রবিন্দু: গতি, আক্রমণাত্মকতা ও শক্তি

প্রযুক্তি: দ্রুত, শক্তিশালী আঘাত – নখের মতো আঙ্গুল দিয়ে। প্যান্থার brute force নয়, বরং গতিকে কাজে লাগিয়ে দুর্বল স্থানগুলোতে আঘাত করে।

প্রতীক: বিস্ফোরকতা, গোপনতা ও নিখুঁততা।


৫. টাইগার স্টাইল (নিচে ডানে)

প্রাণী: বাঘ

কেন্দ্রবিন্দু: শক্তি, দৃঢ়তা ও আধিপত্য

প্রযুক্তি: শক্তিশালী, সরাসরি আঘাত এবং নখ দিয়ে খোঁচানোর কৌশল। টাইগার স্টাইলে শারীরিক শক্তি, নিচু ভঙ্গি এবং জোরালো আক্রমণ গুরুত্ব পায়।

প্রতীক: হিংস্রতা, সাহস ও brute force।

উপদেশমূলক একটি গল্পঃ  শিরোনাম :- "তৃতীয় ব্যক্তি হতে সাবধান".......

 ✅✅উপদেশমূলক একটি গল্পঃ 

শিরোনাম :- "তৃতীয় ব্যক্তি হতে সাবধান"....... 


💥প্রেক্ষাপট ১


উচ্চ বেতনে চাকুরি করা এক যুবক আরেক গরীব যুবককে প্রশ্ন করলো,

- তুমি কোথায় চাকুরি করো?

- একটা কোম্পানিতে ।

- স্যালারি কতো?

- ১০০০০ টাকা।

- মোটে দশ হাজার? চলো কিভাবে? তোমার মালিক তোমার প্রতি অবিচার করছে। তুমি যেই ছেলে তোমার যা যোগ্যতা,তাতে হেসেখেলেই তুমি অনেক টাকা বেতন পেতে পারো।

যুবকের মেজাজ খাট্টা হয়ে গেলো। নিজের কাজের প্রতি ও বসের প্রতি 

বেজায় রুষ্ট হয়ে উঠলো। পরদিন গিয়ে সরাসরি বসকে বেতন বাড়ানোর কথা। জানালো। কথা কাটাকাটি হওয়ার একপর্যায়ে বস তাকে চাকরিচ্যুত করলো।

এখন যুবকটি বেকার। 


💥প্রেক্ষাপট ২


- তোমার প্রথম সন্তান হলো বুঝি?

- হ্যাঁ।

- তোমার স্বামী এ উপলক্ষ্যে তোমাকে কিছু দেয় নি? উপহার, টাকা বা এ জাতীয় কিছু?

- না। কেন দেবে? এ তো আমাদেরই সন্তান! উপহার বা টাকা দিতে হবে কেন?

- কেন তোমাকে হাত খরচার জন্যেও তো দু’চার পয়সা দিতে পারে। তার কাছে কি তোমার কোনও মূল্য নেই? তুমি চাকরানি?

স্ত্রীর মনে ধরলো কথাটা। 

সারাদিন কথাটা ভাবতে ভাবতে মনটা বিষিয়ে উঠলো। সত্যিই তো! আমাকে একটা টাকাও কখনো ছোঁয়ায় না! রাতে কর্মক্লান্ত স্বামী ঘরে ফিরলো। 


স্ত্রীর মুখ দিয়ে বোমা বিস্ফোরিত হলো। রেগে গেলো দু’জনে, কথা কাটাকাটি ঝগড়া আর ঝগড়া। পরে হাতাহাতি, শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদে গিয়ে গড়ালো।


💥প্রেক্ষাপট ৩


- এই বৃদ্ধ বয়েসে কষ্ট করছেন? ছেলে  কোলকাতায় থাকে,বড় চাকুরি করে শুনেছি। মস্ত বড় ফ্ল্যাটে বউ-বাচ্চা নিয়ে থাকে। আপনাদের দু’জনকে সাথে নিয়ে যেতে পারে না? আপনাদের দেখতেও তো আসে না!

- না না, ছেলে আমার খুবই ব্যস্ত। টাকা পাঠায় তো। ফোনে ও খোঁজ-খবর নেয় নিয়মিত।

- কী এমন ব্যস্ততা তার শুনি? নিজের জন্মদাতা-জন্মদাত্রীকে দেখতে আসার সময় হয় না?

- সারাদিন অফিস-বাসা করতে করতেই তো তার সবটা সময় চলে যায়!

- আপনি খোঁজ নিয়েছেন? সে কোলকাতায় বাড়ি-গাড়ি হাঁকিয়ে বেড়াচ্ছে। 

আর আপনারা অজ পাড়াগাঁয়ে ধুঁকছেন?

বৃদ্ধ বাবা বাসায় এসে স্ত্রীকে খুলে বললো। 

স্ত্রীও বাধা দিল,

- আপনি ভুল শুনেছেন। সে আসলেই ব্যস্ত।

- নাহ,সেকি কি মিথ্যা বলতে পারে ? 

আহা রে! কাকে বুকের রক্ত জল  করে বড় করলাম। এটা ভেবেই করে বসলেন ব্রেইন স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক! 


*️⃣*️⃣এবার আসি মূলকথায়⤵️


কিছু নিরীহ-অযাচিত প্রশ্ন আমাদের সুখী জীবনকে ক্ষণিকের মধ্যেই দুঃখী করে দিতে সক্ষম।


আমাদের সমাজে ছদ্মবেশী দরদীরা নিরন্তর শান্ত জীবনে অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে দেয়।


ছদ্মবেশী ডাইন/ডাইনীগুলো নিজের থেকে কিন্তু আপনাকে কিছুই দেবেনা। কিন্তু অন্যের থেকে অবৈধভাবে আদায় করার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়ে আপনাকে জিতিয়ে দেয়ার নামে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবে।


✅✅গল্পের হিতোপদেশঃ⤵️

জীবনে ৩য় ব্যাক্তি কে প্রবেশ করার সুযোগ দেবেন না। আর যদিও কোন ভাবে ঢুকে যায় তাহলে যথা সম্ভব তার কথা কানে তুলবেন না। ৩ য় ব্যাক্তি হতে সাবধান।


ভালো লাগছে তাই শেয়ার করলাম। এই রকম ঘটনা আমাদের চারপাশে অহরহ ঘটছে।তৃতীয় ব্যাক্তি তো পালিয়ে বেঁচে যায়। কিন্তু ভুক্তভোগী???

জাপানে পড়তে যাওয়া এক ছাত্রী একদিন ফোনে বলল, "বড়োই লজ্জায় আছি।"

 ✅ জাপানে পড়তে যাওয়া এক ছাত্রী একদিন ফোনে বলল, "বড়োই লজ্জায় আছি।"

- "কেন কী হয়েছে?"

- "ড্রইং ক্লাসে ড্রইং বক্স নিয়ে যাইনি।"

- "তো?"

- "জাপানি স্যার একটা বড় শিক্ষা দিয়েছেন।"

- "কী করেছেন?"

- "আমার কাছে এসে ক্ষমা চেয়েছেন। বলেছেন, আজ যে ড্রইং বক্স নিয়ে আসতে হবে,তা স্মরণে রাখার মতো জোর দিয়ে তিনি আমাকে বুঝিয়ে বলতে পারেননি। 

তাই তিনি দুঃখিত।"

- "হুম।"

- "আমি তো আর কোনদিন ড্রইং বক্স নিতে ভুলবো না। আজ যদি তিনি আমাকে বকতেন বা অন্য কোন শাস্তি দিতেন, আমি হয়তো কোনও একটা মিথ্যা অজুহাত দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতাম।"


জাপানি দল বিশ্বকাপে হেরে গেলেও জাপানি দর্শকরা গ্যালারি পরিষ্কার করে তবেই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন।  


এ আবার কেমন কথা?  

এটা কি কোনো পরাজয়ের ভাষা! হেরেছিস যখন রেফারির গুষ্টি তুলে গালি দে। বলে দে পয়সা খেয়েছে। বিয়ারের ক্যান, কোকের ক্যান, চিনাবাদামের খোসা যা পাস ছুঁড়ে দে। দুই দিন হরতাল ডাক। অন্তত বুদ্ধিজীবীদের ভাষায় এটা তো বলতে পারিস যে, খেলোয়াড় নির্বাচন ঠিক হয়নি, এতে সরকার বা বিরোধী দলের হাত আছে।


দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হেরে গিয়ে জাপানের সম্রাট হিরোহিতো আমেরিকার প্রতিনিধি ম্যাক আর্থারের কাছে গেলেন। প্রতীকী  হিসাবে নিয়ে গেলেন এক ব্যাগ চাল। হারিকিরির ভঙ্গিতে হাঁটু গেড়ে মাথা পেতে দিয়ে বললেন, "আমার মাথা কেটে নিন আর এই চালটুকু গ্রহণ করুন। আমার প্রজাদের রক্ষা করুন। ওরা ভাত পছন্দ করে। ওদের যেন ভাতের অভাব না হয়।"


আরে ব্যাটা, তুই যুদ্ধে হেরেছিস, তোর আত্মীয়স্বজন নিয়ে পালিয়ে যা। তোর দেশের চারিদিকেই তো জল। নৌপথে কিভাবে পালাতে হয় আমাদের ইতিহাস (লক্ষণ সেন) থেকে শিখে নে। কোরিয়া বা তাইওয়ান যা। ওখানকার 'মীর জাফর'-দের সাথে হাত মেলা। সেখান থেকে হুঙ্কার দে। সম্রাট হিরোহিতোর এই আচরণ আমেরিকানদের পছন্দ হল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কুখ্যাত মহানায়কদের মধ্যে কেবলমাত্র হিরোহিতোকেই বিনা আঘাতে বাঁচিয়ে রাখা হলো ।


২০১১ সালের ১১ই মার্চ। সুনামির আগাম বার্তা শুনে এক ফিশারি কোম্পানির মালিক সাতো সান প্রথমেই বাঁচাতে গেলেন তার কর্মচারীদের। হাতে সময় আছে মাত্র ৩০ মিনিট। প্রায়োরিটি দিলেন বিদেশি (চাইনিজ)-দের। একে একে সব কর্মচারীদের অফিস থেকে বের করে পাশের উঁচু টিলায় নিজে পথ দেখিয়ে গিয়ে রেখে এলেন। সর্বশেষে গেলেন তার পরিবারের খোঁজ  নিতে। ইতিমধ্যে সুনামি এসে হাজির। সাতো সানকে চোখের সামনে কোলে তুলে ভাসিয়ে নিয়ে গেল সুনামি। আজও খোঁজহীন হয়ে আছেন তার পরিবার (ইসস!!! সাতো সান যদি একবার আমাদের প্রমোটারের সাথে দেখা করার সুযোগ পেতেন)। সাতো সান অমর হলেন চায়নাতে। চাইনিজরা দেশে ফিরে গিয়ে শহরের চৌরাস্তায় ওনার প্রতিকৃতি বানিয়ে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।


নয় বছরের এক ছেলে। স্কুলে ক্লাস করছিল। সুনামির আগমনের কথা শুনে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানালো এবং সব ছাত্রদের নিয়ে তিন তলায় জড়ো করলো। তিন তলার ব্যালকনি থেকে দেখলো তার বাবা স্কুলে আসছে গাড়ি নিয়ে। গাড়িকে ধাওয়া করে আসছে ফোসফোসে জলের সৈন্য দল। গাড়ির স্পিড জলের স্পিডের কাছে হার মেনে গেল। চোখের সামনে নেই হয়ে গেল বাবা। সৈকতের কাছেই ছিল তাদের বাড়ি। শুনলো, মা আর ছোট ভাই ভেসে গেছে আরো আগে। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে ছেলেটি আশ্রয় শিবিরে উঠল। শিবিরের সবাই খিদে আর শীতে কাঁপছে। ভলান্টিয়াররা রুটি বিলি করছেন। আশ্রিতরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ছেলেটিও আছে।  


এক বিদেশী সাংবাদিক দেখলেন, যতখানি খাদ্য (রুটি) আছে তাতে লাইনের সবার হবে না। ছেলেটির কপালে জুটবে না।সাংবাদিক সাহেব তার কোট পকেটে রাখা নিজের ভাগের রুটি দুটো ছেলেটিকে দিলেন। ছেলেটি ধন্যবাদ জানিয়ে রুটি গ্রহণ করল, তারপর যেখান থেকে রুটি বিলি হচ্ছিল সেখানেই ফেরত দিয়ে আবার লাইনে এসে দাঁড়াল।


সাংবাদিক সাহেব কৌতূহল চাপতে পারলেন না। ছেলেটিকে জিজ্ঞাস করলেন, "এ কাজ কেন করলে খোকা ?" 

খোকা উত্তর দিল "বন্টন তো ওখান থেকে হচ্ছে। ওদের হাতে থাকলে, বন্টনে সমতা আসবে।তাছাড়া লাইনে আমার চেয়েও বেশি ক্ষুধার্ত লোকও তো থাকতে পারে।"

সহানুভুতিশীল হতে গিয়ে বন্টনে অসমতা এনেছেন, এই ভেবে সাংবাদিক সাহেবের পাপবোধ হল। এই ছেলের কাছে কী বলে ক্ষমা চাইবেন ভাষা হারালেন তিনি। 


যাদের জাপান সম্পর্কে ধারণা আছে তারা সবাই জানেন, যদি ট্রেনে বা বাসে কোনো জিনিস হারিয়ে যায়, অনেকটা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। ঐ জিনিস আপনি অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাবেন।


গভীর রাতে কোনো ট্রাফিক নেই, কিন্তু পথচারীরা ট্রাফিক বাতি সবুজ না হওয়া পর্যন্ত পথ পার হচ্ছেন না। 


ট্রেনে বাসে টিকিট ফাঁকি দেওয়ার হার প্রায় শূণ্যের কোঠায়।


একবার ভুলে ঘরের দরজা লক না করে এক ভারতীয় দেশে গেলেন। মাস খানেক পর এসে দেখেন, যেমন ঘর রেখে গেছেন, ঠিক তেমনই আছে।


এই শিক্ষা জাপানিরা কোথায় পান?


সামাজিক শিক্ষা শুরু হয় কিন্ডারগার্টেন লেভেল থেকে।  


সর্বপ্রথম যে তিনটি শব্দ এদের শেখানো হয় তা হল -


*কননিচিওয়া* (হ্যালো) 

- পরিচিত মানুষকে দেখা মাত্র 'হ্যালো' বলবে।


*আরিগাতোউ* (ধন্যবাদ)

- সমাজে বাস করতে হলে একে অপরকে উপকার করবে। তুমি যদি বিন্দুমাত্র কারো দ্বারা উপকৃত হও তাহলে ধন্যবাদ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।


*গোমেননাসাই* (দুঃখিত)

- মানুষ মাত্রই ভুল করে এবং সেই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে।


এগুলো যে স্কুলে শুধু মুখস্ত করে শেখানো হয় তা নয়।  বাস্তবে শিক্ষকরা প্রোএক্টিভলি সুযোগ পেলেই এগুলো ব্যবহার করেন এবং করিয়ে ছাড়েন।


সমাজে এই তিনটি শব্দের গুরুত্ব কত তা নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পারছেন। এই শিক্ষাটা এবং প্র্যাকটিসটি ওরা বাল্যকাল থেকে করতে শেখে।


আমাদের দিক নির্দেশকেরা তাদের বাল্যকালটা যদি কোনও রকমে জাপানের কিন্ডারগার্টেনে কাটিয়ে আসতে পারতেন তাহলে কী ভালোটাই না হতো! কিন্ডারগার্টেন থেকেই স্বনির্ভরতার ট্রেনিং দেওয়া হয়।


সমাজে মানুষ হিসাবে বসবাস করার জন্য যা যা দরকার অর্থাৎ নিজের বই-খাতা, পোষাক, খেলনা, বিছানা সব নিজে গোছানো। টয়লেট ব্যবহার করে নিজেই পরিষ্কার করা। খাবার খেয়ে নিজের খাবারের প্লেট নিজেই ধুয়ে ফেলা ইত্যাদি।  


প্রাইমারী স্কুল থেকে এরা নিজেরা দল বেঁধে স্কুলে যায়। দল ঠিক করে দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ট্রাফিক আইন, বাস-ট্রেনে চড়ার নিয়ম কানুন সবই শেখানো হয়।  


আপনার গাড়ি আছে, বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসতেই পারেন, কিন্তু উল্টে আপনাকে লজ্জা পেয়ে আসতে হবে।


ক্লাস সেভেন থেকে সাইকেল চালিয়ে তারা স্কুলে যায়।  


ক্লাসে কে ধনী, কে গরীব, কে প্রথম, কে দ্বিতীয় এসব বৈষম্য যেন তৈরি না হয় তার জন্য যথেষ্ট সতর্ক থাকেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।  


ক্লাসে রোল নং ১ মানে এই নয় যে একাডেমিক পারফরম্যান্স সবচেয়ে ভাল। রোল নং তৈরি হয় নামের বানানের আদ্যাক্ষরের ক্রমানুসারে।


বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সমস্ত আইটেমগুলো থাকে গ্রুপ পারফরম্যান্স দেখার জন্য, ইন্ডিভিজুয়েল নয়। 


সারা স্কুলের ছেলে মেয়েদের ভাগ করা হয় কয়েকটা গ্রুপে। সাদা দল, লাল দল, সবুজ দল ইত্যাদি। গ্রুপে কাজ করার ট্রেনিংটা ছাত্রছাত্রীরা পেয়ে যায় স্কুলের খেলাধুলা জাতীয় এ্যাক্টিভিটি থেকে।


এই জন্যই হয়তো জাপানে তথাকথিত 'লিডার' তৈরি হয় না কিন্তু এরা সবাই এক একজন বড় লিডার,,,,👍👍


@সংগৃহীত  পোস্ট  (হ্যাপি রিডিং❤️) 👈 লেখাটি ড. আশির আহমেদের জাপান কাহিনি ১ম খন্ড থেকে নেয়া ।


⚠️ছবিটি ও লেখা সংগৃহিত⚠️

এক জঙ্গলের পাশে দুই কাঠুরে বাস করতো- পিটার এবং জন। তাদের মধ্যে প্রায়ই তর্ক হতো - কে বেশি কাঠ কাটতে পারে?

 এক জঙ্গলের পাশে দুই কাঠুরে বাস করতো- পিটার এবং জন। তাদের মধ্যে প্রায়ই তর্ক হতো - কে বেশি কাঠ কাটতে পারে?


তো একদিন তারা একটা প্রতিযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নিল যাতে পরিষ্কার হয়ে যায় কে সবথেকে বেশি কাঠ কাটতে পারে। প্রতিযোগিতার নিয়ম - সকাল ৮ থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত যে বেশি কাটবে, সেই জয়ী।


পরের দিন সকালে, তারা জঙ্গলের মধ্যে তাদের অবস্থান নিল এবং কাঠ কাটতে শুরু করলো যতটা দ্রুত সম্ভব। এক ঘন্টা পর, পিটার হঠাৎ কাঠ কাটা বন্ধ করলো। জন পিটারের কাঠ কাটার শব্দ না পেয়ে মনে মনে খুশি হলো এবং ভাবলো সে মনে হয় ইতিমধ্যে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।


প্রায়  ১৫ মিনিট পর, আবার পিটারের কাঠ কাটার শব্দ আসতে লাগলো এবং সারাদিন এক ঘন্টা পর পর এরকম প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য পিটারের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যেত না। আর এইদিকে জন, প্রচন্ড খুশি মনে একটানা কাঠ কেটে যেতে লাগলো এবং সে নিশ্চিন্ত ছিল, অব্যশই আমি অনেকটা বেশি কাট কেটেছি।


সারাদিন শেষে যখন তারা এক জায়গায় তাদের কাঠগুলো এনে জড়ো করলো, জন অবাক হয়ে দেখলো, পিটার তার থেকে অনেকগুলো বেশি কাঠ কেটেছে।


সে চিৎকার করে উঠলো, "এটা কিভাবে সম্ভব? আমার থেকে কিভাবে তুমি বেশি কাঠ কাটতে পারো? তুমি সারাদিন প্রতি ঘন্টায় ১৫ মিনিট করে বিশ্রাম নিয়েছো আর আমি সারাদিন কাঠ কেটেছি।"


পিটার হাসলো এবং উত্তর দিলোঃ "আমি ১৫ মিনিট বিশ্রাম নেয়ার পাশাপাশি আমার কুঠারে ধার দিয়েছি। আর যার কারণেই আমি বেশি কাঠ কাটতে পেরেছি।"


আমাদের মধ্যেও সবাই অনেক অনেক ব্যস্ত। আমরা এতটাই ব্যস্ত যে আমাদের নিজেদের জন্য সময় নেই। এতে আমাদের কুঠার মানে মস্তিষ্ক কিন্তু দিন দিন ধার কমে যাচ্ছে।

মাঝে মাঝে একটু ব্রেক নিয়ে, নতুন কিছু শেখা, নতুন কিছু জানার মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্ক ধারালো হয়।


আমাদেরকে আরেকটু বেশি কর্মঠ করতে, আরো বেশি সচল থাকতে - আমরা এই কাজগুলো করতে পারি।


স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত এক্সারসাইজ।ভালো সামাজিক জীবন, সত্যিকারের সম্পর্ক।

নতুন কিছু শেখা, বইপড়া এবং লেখালেখি করা। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, পালন করা।🙂


#সংগৃহীত #viralpost #story #motivation #educationalcontent #inspiration #education #viralpost2025シ

মুখে ও শরীরে দুর্গন্ধ? হোমিওপ্যাথিক সমাধানে ফিরুক আত্মবিশ্বাস!

 মুখে ও শরীরে দুর্গন্ধ? হোমিওপ্যাথিক সমাধানে ফিরুক আত্মবিশ্বাস!


দীর্ঘদিন ধরে মুখে বা শরীরে দুর্গন্ধে ভুগছেন? বাজারের কেমিকেলজাত দ্রব্যে সাময়িক আরাম পেলেও সমস্যার মূল কারণ থেকে যায়।


হোমিওপ্যাথি বিশ্বাস করে — রোগ নয়, রোগীর মূল কারণের উপর কাজ করাই প্রকৃত চিকিৎসা।


Merc Sol 30 — একটি জার্মান ফর্মুলাভিত্তিক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ, যা শরীরের ভেতর থেকে দুর্গন্ধের কারণ দূর করে আপনাকে দেয় স্থায়ী স্বস্তি।


ব্যবহারবিধি:

প্রতিদিন ২ বার করে ১০ ফোঁটা করে, এক ফাইলেই পর্যাপ্ত।


উপকারিতা:

 মুখ ও শরীরের দুর্গন্ধ দূর করে

 প্রাকৃতিকভাবে শরীরের টক্সিন পরিষ্কার করে

 কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই

 ১০০% হোমিওপ্যাথিক


অর্ডার করতে কল করুন:

01937-000511

ফ্রি হোম ডেলিভারি সুবিধা পাচ্ছেন এখনই!


বিশ্বাস রাখুন হোমিওতে — সুস্থ থাকুন স্বাভাবিক উপায়ে।

ভূমি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর সহজ ব্যাখ্যা,,,,ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 📚 ভূমি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলোর সহজ ব্যাখ্যা 🏡📜 ভূমি কেনাবেচা, নামজারী বা খতিয়ান নিয়ে কাজ করার আগে নিচের বিষয়গুলো জানা খুবই জরুর...