এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বৃহস্পতিবার, ২৯ মে, ২০২৫

হেড গ্যাসকিট নষ্ট হলে ইঞ্জিনে কী হয়? — বিস্তারিত ও তথ্যবহুল বিশ্লেষণ

 

হেড গ্যাসকিট নষ্ট হলে ইঞ্জিনে কী হয়? — বিস্তারিত ও তথ্যবহুল বিশ্লেষণ

গাড়ির ইঞ্জিন একটি অত্যন্ত জটিল যন্ত্রাংশ, যার প্রতিটি অংশ নির্ভুলভাবে কাজ না করলে পুরো সিস্টেমেই বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এই অংশগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো হেড গ্যাসকিট। অনেক সময় গাড়ির মালিকরা বুঝতেই পারেন না, হেড গ্যাসকিট নষ্ট হয়ে গেলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে। অথচ এটি এমন একটি অংশ, যার নষ্ট হওয়া ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এই লেখায় আমরা জানব, হেড গ্যাসকিট কী, এটি কীভাবে কাজ করে, নষ্ট হলে কী হয়, লক্ষণগুলো কী এবং কীভাবে এ সমস্যা সমাধান করা যায়।


হেড গ্যাসকিট কী?
হেড গ্যাসকিট হলো ইঞ্জিনের সিলিন্ডার হেড এবং ইঞ্জিন ব্লকের মাঝখানে বসানো একটি পাতলা, তাপ ও চাপ প্রতিরোধক সীল। এটি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য পূরণ করে:
ইঞ্জিনের জ্বালানি ও বায়ুর সংমিশ্রণ চেম্বারে সঠিকভাবে সিলিং নিশ্চিত করা।
ইঞ্জিন কুল্যান্ট ও ইঞ্জিন অয়েল আলাদা রাখা।
উচ্চ চাপ প্রতিরোধ করা যাতে ইঞ্জিন কম্প্রেশন ঠিক থাকে।

এই অংশটি নষ্ট হলে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা থেকে শুরু করে পুরো গাড়ির পারফরম্যান্সে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।


হেড গ্যাসকিট নষ্ট হওয়ার কারণ
হেড গ্যাসকিট বিভিন্ন কারণে নষ্ট হতে পারে। এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য কারণ হলো:

ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া (Overheating)
দীর্ঘদিন ধরে ইঞ্জিন তেল পরিবর্তন না করা
মানহীন কুল্যান্ট ব্যবহার
গাড়ির অতিরিক্ত লোড বা অবহেলাজনিত ব্যবহারে চাপ সৃষ্টি হওয়া


হেড গ্যাসকিট নষ্ট হলে ইঞ্জিনে কী ধরনের সমস্যা দেখা যায়?

১. ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া: হেড গ্যাসকিট নষ্ট হলে কুল্যান্ট ও অয়েল মিশে যায়, ফলে কুলিং সিস্টেম কার্যকর থাকে না। এর ফলে ইঞ্জিন বারবার গরম হয়ে যায়, যা ইঞ্জিনের স্থায়ীত্ব হ্রাস করে।


২. সিলিন্ডার কম্প্রেশন লস; যেহেতু হেড গ্যাসকিট সিলিন্ডারের চাপ ধরে রাখে, তাই এটি লিক করলে ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ চাপ হ্রাস পায়। ফলে ইঞ্জিনের পাওয়ার ও মাইলেজ কমে যায়।


৩. এক্সহস্ট পাইপ থেকে সাদা ধোঁয়া বের হওয়া: গ্যাসকিট নষ্ট হলে কুল্যান্ট সিলিন্ডারে প্রবেশ করে এবং জ্বালানির সঙ্গে মিশে যায়। এই কুল্যান্ট পোড়ার ফলে এক্সহস্ট থেকে সাদা ধোঁয়া নির্গত হয়।


৪. ইঞ্জিন অয়েলের রং বদলে যাওয়া: যখন কুল্যান্ট ও ইঞ্জিন অয়েল একত্রে মিশে যায়, তখন অয়েলের রং দুধের মতো সাদা বা চকোলেট রঙের হয়ে যায়। এটি গ্যাসকিট নষ্ট হওয়ার অন্যতম লক্ষণ।


৫. পাওয়ার লস ও স্টার্ট সমস্যা: ইঞ্জিনে ঠিকমতো কম্প্রেশন না থাকলে স্টার্ট হতে সমস্যা হয় এবং রাস্তায় চালানোর সময় গাড়ি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।


৬. রেডিয়েটরে বুদবুদ: হেড গ্যাসকিট লিক হলে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস কুল্যান্ট লাইনে ঢুকে পড়ে। ফলে রেডিয়েটরের মধ্যে ছোট ছোট বুদবুদ দেখা যায়।


কিভাবে বুঝবেন হেড গ্যাসকিট নষ্ট?
রেডিয়েটরের পানি কমে যাচ্ছে, কিন্তু লিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না
ইঞ্জিন অয়েলের ঢাকনা খুললে সাদা দুধের মতো জমাট দেখা যাচ্ছে
তাপমাত্রা গেজ সবসময় হাই দেখাচ্ছে
এক্সহস্ট থেকে ঘন সাদা ধোঁয়া বের হচ্ছে
স্টার্ট নিতে অনেক সময় লাগছে বা স্টার্ট নিচ্ছে না


হেড গ্যাসকিট নষ্ট হলে কী করবেন?

১. চালানো বন্ধ করুন: গ্যাসকিট নষ্ট হলে গাড়ি চালানো বন্ধ করা জরুরি। যত চালাবেন, ততই ইঞ্জিনের ক্ষতি বাড়বে।

২. বিশেষজ্ঞ মেকানিক দেখান: একজন দক্ষ মেকানিকের মাধ্যমে ইঞ্জিন টেস্ট করিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে কম্প্রেশন টেস্ট, কুল্যান্ট প্রেশার টেস্ট করা যেতে পারে।

৩. গ্যাসকিট প্রতিস্থাপন করুন: গ্যাসকিট প্রতিস্থাপন ছাড়া এই সমস্যা সমাধান হয় না। তবে শুধু গ্যাসকিট বদলালেই হবে না—ইঞ্জিন হেড সমতল আছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।

৪. অন্যান্য অংশ পরীক্ষা করুন: গ্যাসকিট নষ্ট হলে হেড ও ব্লকের মধ্যে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, ফলে ক্র্যাক বা বিকৃতি হতে পারে। এই অংশগুলোও পরীক্ষা করা জরুরি।

হেড গ্যাসকিট প্রতিস্থাপনের খরচ: গাড়ির মডেল ও ইঞ্জিনের জটিলতার উপর নির্ভর করে খরচ ৮,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। খরচে অন্তর্ভুক্ত থাকে:

গ্যাসকিটের দাম
লেবার চার্জ
ইঞ্জিন অয়েল ও কুল্যান্ট নতুন করে দেওয়া
টেস্টিং ও সার্ভিস চার্জ


ভবিষ্যতে হেড গ্যাসকিট যেন নষ্ট না হয় — করণীয়
নিয়মিত কুল্যান্ট চেক করুন এবং প্রয়োজনে পরিবর্তন করুন
ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হলে দ্রুত গাড়ি থামিয়ে ব্যবস্থা নিন
সময়মতো ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করুন
রেডিয়েটর পরিষ্কার রাখুন এবং লিক হলে তাৎক্ষণিক সারাই করুন


উপসংহার: হেড গ্যাসকিট ইঞ্জিনের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা নষ্ট হলে গাড়ির ইঞ্জিনে বিশাল ক্ষতি হতে পারে। সময়মতো সমস্যা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিলে বড় খরচ ও ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা সম্ভব। গাড়ির যত্ন নিলে এটি আপনাকে দীর্ঘদিন নির্ভরযোগ্যভাবে সেবা দিতে পারবে। তাই লক্ষণগুলো বুঝে গাড়ির প্রতি যত্নবান হওয়া জরুরি।

#CarEngineProblem #HeadGasketFailure #EngineRepairCost #CarMaintenanceTips #EngineOverheating #CylinderLeak #CarDiagnostic #CoolantLeakFix #CarMechanicBD #HeadGasketReplacement #EngineDamageSigns #WhiteSmokeFromExhaust #RadiatorBubble #BlownGasketSymptoms #CarRepairBangladesh #CarCareBangla #EngineHealthCheck #AutoRepairTips #CarOwnerGuide #GarageTips #CarCoolingSystem #EngineMisfire #GasketLeakTest #VehicleMaintenance #AutoEngineIssue

বৃষ্টি দেখলে কেন এত শান্তি লাগে?" — বিজ্ঞান এর পেছনে আছে!

 "বৃষ্টি দেখলে কেন এত শান্তি লাগে?" — বিজ্ঞান এর পেছনে আছে!


বৃষ্টি দেখলে বা তার শব্দ শুনলে মনে হয় সব টেনশন যেন গলে যাচ্ছে। এটা শুধু কল্পনা নয়, বরং এর পেছনে কাজ করে সাইকোলজিক্যাল ও নিউরোসায়েন্টিফিক প্রক্রিয়া।


বৃষ্টির সেই টুপটাপ শব্দ আসলে এক ধরনের white noise, যা আমাদের মস্তিষ্কে alpha (α) ও theta (θ) brainwaves তৈরি করে — ঠিক যেভাবে মেডিটেশন বা গভীর ঘুমের সময় হয়। এর ফলে আমাদের ব্রেইন শান্ত হয়ে যায়, স্ট্রেস হরমোন cortisol এর মাত্রা কমে, আর মন হয় হালকা। 

আর সেই মাটি ভেজার পর যেই মিষ্টি গন্ধটা পাওয়া যায়, যার নাম Petrichor — সেটাও শুধু গন্ধ না, এটা মস্তিষ্কে পুরোনো, সুখের স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে। এই গন্ধ তৈরি হয় actinobacteria নামক একধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে, যা বৃষ্টির পানিতে ভিজে গিয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।


এই কারণেই বৃষ্টি শুধু চোখের আর কানের শান্তি না — এটা একধরনের প্রাকৃতিক থেরাপি। মন ভালো করতে ও মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করতে এর জুড়ি নেই।


তাই যখনই আকাশ ভিজে নামে, একটু থেমে শুনো আর দেখো — প্রকৃতি তোমাকে শান্ত হওয়ার বৈজ্ঞানিক সুযোগ দিচ্ছে!


#source: Nature Journal


#অপ্রকাশিতদিনলিপি

খুফুর পিরামিডের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষ প্রথমে আকাশের দিকে তাকায়—যেন বোঝার চেষ্টা করে কতটা উঁচুতে পৌঁছেছে মানুষের নির্মাণশিল্প। কিন্তু আমি সেদিন আকাশ নয়, বরং মাটির দিকে তাকিয়েছিলাম। কারণ জানতাম, নিচেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু, যা পিরামিডের মতো দৃশ্যমান নয়, তবু ইতিহাসের আরেকটি নিঃশব্দ বিস্ময়—খুফুর সৌর নৌকা।

 খুফুর পিরামিডের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষ প্রথমে আকাশের দিকে তাকায়—যেন বোঝার চেষ্টা করে কতটা উঁচুতে পৌঁছেছে মানুষের নির্মাণশিল্প। কিন্তু আমি সেদিন আকাশ নয়, বরং মাটির দিকে তাকিয়েছিলাম। কারণ জানতাম, নিচেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু, যা পিরামিডের মতো দৃশ্যমান নয়, তবু ইতিহাসের আরেকটি নিঃশব্দ বিস্ময়—খুফুর সৌর নৌকা।


একসময় এই নৌকাটি রাখা ছিল গিজার পিরামিডের পাশেই তৈরি করা একটি কাচঘেরা গ্যালারিতে। অনেকেই হয়তো গিজা ঘুরে সেই গ্যালারির কথা মনে করতে পারবেন, যেখানে নৌকাটি দাঁড়িয়ে ছিল ১৯৮০ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত। তবে এখন সেই জাদুঘর আর নেই। ২০২১ সালে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই প্রাচীন নৌকাটিকে স্থানান্তর করা হয়েছে কায়রোর গিজা প্ল্যাটোর কাছেই নতুন করে নির্মিত গ্র্যান্ড ইজিপ্টশিয়ান মিউজিয়ামে (GEM)। এখন সেখানে আরও উন্নত পরিবেশে, বিজ্ঞানভিত্তিক সংরক্ষণের আওতায় সৌর নৌকাটি জুলাই মাস থেকে দেখানো হবে, যেখানে নানান মাল্টিমিডিয়া ও ব্যাখ্যা সংযুক্ত থাকবে দর্শনার্থীদের বোঝার সুবিধার্থে।


খুফুর এই সৌর নৌকাটি প্রায় ৪৪.৬ মিটার দীর্ঘ, আর কাঠামোটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি করা হয়েছিল লেবানন থেকে আমদানি করা সিডার কাঠ দিয়ে। কোনো লোহার পেরেক বা আধুনিক যন্ত্রাংশ ছাড়া, কেবলমাত্র দড়ি ও কাঠের জোড়ায় গেঁথে বানানো হয়েছিল এটি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এটি ছিল ‘বার্ক অফ রা’—অর্থাৎ সূর্যদেবতার নৌকা, যাতে চড়ে রাজা খুফু মৃত্যুর পর আকাশে দেবতার সফরসঙ্গী হতেন। কেউ কেউ বলেন এটি কেবল প্রতীকী নয়, বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী একটি নৌকাও ছিল—খোদ রাজা হয়তো কোনোদিন এ নৌকায় চড়েছিলেনও।


খুফুর সৌর নৌকার পিট ছিল পাঁচটি। তার মধ্যে একটিতে পাওয়া গিয়েছিল আস্ত নৌকাটি, যা জুলাই থেকে GEM-এ প্রদর্শিত হবে। কিন্তু অন্য আরেকটি পিট রয়েছে পিরামিডের দক্ষিণ পাশে, যেটি অনেকাংশে অবহেলিত, অথচ সমান গুরুত্বপূর্ণ। এটি পরিচিত ‘রাণির পিট’ নামে—অনুমান করা হয়, হয়তো খুফুর স্ত্রীদের কারো জন্য এটি প্রস্তুত করা হয়েছিল। যদিও এখান থেকে এখনো কোনো নৌকা তোলা হয়নি, কিন্তু ২০১১ সাল নাগাদ জাপানি ও মিশরীয় বিশেষজ্ঞরা এই পিট থেকে কাঠের কিছু অংশ বের করেছিলেন—যেগুলোর বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, এর মধ্যেও একটি পূর্ণাঙ্গ নৌকার কাঠামো রয়েছে, যা এখনো বালির নিচে সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।


এই নৌকাটিকে “The Second Solar Boat” হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। তবে এখনো পর্যন্ত তা সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠন করা হয়নি, এবং সংরক্ষণ প্রক্রিয়া চলমান। ভবিষ্যতে হয়তো এই নৌকাটিও GEM-এ স্থান পাবে, এবং তখন দর্শনার্থীরা একসাথে দেখতে পাবেন খুফুর দুইটি সৌর নৌকার কিংবদন্তি।


যখন আমি গিজার বালির মধ্যে দাঁড়িয়ে সেই পুরনো গ্যালারির জায়গাটির দিকে তাকালাম, তখন তার জায়গায় শুধুই শূন্যতা। কাচের দেয়াল নেই, ভিতরের বিশাল কাঠের নৌকাটিও নেই। কিন্তু জানতাম, সেটা এখন নতুন এক গন্তব্যে—এক নতুন জাদুঘরে, যেখানে সময়কে আরও নিখুঁতভাবে ধরে রাখা যাবে। আর বালির নিচে পড়ে থাকা সেই ‘রাণির পিট’ যেন আমাকে বলছিল, “সব কিছু একদিন আলোতে আসবেই।”


খুফুর পিরামিড শুধু রাজকীয় কবর নয়, তার পাশের প্রতিটি গর্ত—নৌকার পিট, এক একটি মিসরের আধ্যাত্মিক জাহাজঘর। আর সেই জাহাজে চড়ে, মৃত্যু নয়, বরং অমরতার দিকে যাত্রা করে প্রতিটি আত্মা—এই বিশ্বাসই ছিল নীলনদের পবিত্র সভ্যতার মজ্জায়।


১ম ছবিটি রাণির পিট

২য় ছবিটি খুফুর সৌর নৌকার পিট 

২য় ছবির ডান পাশে একটি ভবন দেখা যাচ্ছে। 

❓ ভবনটি কার ছিল?


- এস এম নিয়াজ মওলা

তোকমা বীজ চিয়া বীজের চেয়ে কোনো অংশেই কম না! 

 তোকমা বীজ চিয়া বীজের চেয়ে কোনো অংশেই কম না! 


চিয়া বীজ (Chia Seeds) ও তোকমা বীজ (Basil Seeds) উভয়েই মিন্ট পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। 

উভয় বীজেই ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে রয়েছে।


তাই, 'মার্কেটিং' এর আশীর্বাদে মহার্ঘ হয়ে উঠা ভিনদেশি চিয়া বীজকেই একমাত্র সুপারফুড ভেবে নিজদেশের তোকমা বীজকে অবহেলা করবেন না, প্লিজ!


চিয়া বীজ মেক্সিকো ও সেন্ট্রাল আমেরিকার স্থানীয় ফসল।

এই চিয়া বীজ আমদানি-নির্ভর ও দাম বেশি।


আর,

তোকমা বীজ আমাদের উপমহাদেশের (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান) স্থানীয় ভেষজ ফসল। 

তোকমা বীজ বাংলাদেশে সহজলভ্য ও দামে কম।


তোকমা বীজ চিয়া বীজের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। 

বরং, ভিনদেশ থেকে আমদানীকৃত চিয়া বীজের চেয়ে তোকমা বীজ আমাদের জলবায়ু ও শরীরের জন্য উত্তম।


চিয়া হচ্ছে গ্লোবালি মার্কেটিং করা সুপারফুড। 

আর, তোকমা হচ্ছে আমাদের দেশীয় সত্যিকারের সুপারফুড।


তোকমা আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী ও স্থানীয় সুপারফুড। 

এটি স্বাস্থ্য উপকারিতায় কোনো অংশে চিয়া থেকে কম নয়।


তোকমা বীজের আয়ুর্বেদিক ও প্রাকৃতিক গুণগুলো হলো:

- শরীর ঠান্ডা রাখে (শীতলপ্রদায়ক)

- অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

- পিত্ত দোষ প্রশমনে কার্যকর


তোকমা বীজে প্রচুর ফাইবার রয়েছে। ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। 

এই বীজে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ।


আপনি যদি মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকার অধিবাসী হতেন তাহলে আপনার জন্য চিয়াসীড উত্তম হতো।

কিন্তু, বাঙালির জন্য উপমহাদেশের ফসল- বেসিল সীডই উত্তম।


সৃষ্টিকর্তা যেই অঞ্চলে যেই নিয়ামত দেন সেটাই ঐ অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য অধিক উত্তম।

এর বাইরে গিয়ে মানুষের যেসব চর্চা–তার বেশিরভাগই স্রেফ ফুটানি!


Muhammad Rahat Khan

এক কাপ চা আর একজোড়া কাঁপা হাত যে জীবনের যত গল্প ধারণ করে, তা অনেক উপন্যাসকেও হার মানায়। সংগৃহিত

 প্রথম দিন তাকে দেখেই আমি চমকে উঠেছিলাম। পরিপাটি সাদা চুল, চোখে পুরু ফ্রেমের চশমা, গলার নিচে একটা পুরনো লকেট। মনে হচ্ছিল যেন কোনো স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক চায়ের দোকানে বসে আছেন।


আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম,


"চাচী, আপনি এখানে বসেন প্রতিদিন?"


তিনি হেসে বলেছিলেন,


"হ্যাঁ মা, এখন আমার পাঠশালা এই রাস্তার ধারে। শুধু পাঠ নেই, শুধু শালা আছে।"


সেই হাসির আড়ালে ছিল এক গাঢ় বিষাদ। কিছুদিন পরেই তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়ে যায়। প্রতিদিন বিকেলে আমি গিয়ে বসতাম তার পাশে। এক কাপ চা আর অজস্র কথা। ধীরে ধীরে খুলে গেল অতীতের বই।


“আমি এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষিকা ছিলাম। আমার ছাত্ররা এখন অনেকেই দেশের বড় বড় জায়গায়।”


এই কথা যখন বলেছিলেন, তার চোখে গর্বের দীপ্তি ছিল। কিন্তু পরের কথায় সে দীপ্তি ম্লান হয়ে গিয়েছিল।


“একটা প্রেম ছিল, যেটা আমার সমস্ত কিছু কেড়ে নিয়েছিল। ও বলেছিল, বিয়ে করলে আমায় কাজ করতে হবে না। আমিও ভাবলাম, ভালোবাসা মানেই তো নিরাপত্তা। ভুল ভেবেছিলাম।”


বিয়ের পর তার স্বামী একে একে বন্ধ করে দেয় তার সকল প্রকাশনা, লেখালেখি, পত্রিকা পড়া। ধীরে ধীরে সে হয়ে পড়ে গৃহবন্দী। সন্তান হয় না। আর সেটা নিয়েই চলতে থাকে মানসিক নির্যাতন। একদিন, এক কাপ চা খেতে খেতে সে সিদ্ধান্ত নেয়, আর নয়।


“তখন আমার বয়স ৪২। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলাম। কিছুই ছিল না। শুধু একটা ব্যাগ আর বুকভরা যন্ত্রণা।”


শুরুর দিকে নানারকম কাজ করেছেন – ছাত্র পড়ানো, টাইপ করা, বইয়ের প্রুফ দেখা। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে কাজ কমে গেছে। এখন রাস্তায় বসে চা বিক্রি করেন। নিজেকে ছোট মনে করেন না।


“এই এক কাপ চা আমার সম্মান। কারো কাছে হাত পাতিনি।”


একদিন আমি বললাম, “চাচী, আপনার তো বই লেখার মতো জীবন। কেন লেখেন না?”


তিনি মুচকি হেসে বললেন,


“আমার লেখার সময় গেছে মা। এখন তোমরা লেখো। আমি শুধু চাই আমার গল্প হারিয়ে না যাক।”


আজ তিন মাস হয়ে গেছে চাচীকে দেখছি না। দোকানটা ফাঁকা পড়ে থাকে। অনেকে বলে, তিনি হয়তো গ্রামে চলে গেছেন, কেউ বা বলে তিনি মারা গেছেন।


কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, চাচী আছেন। কোথাও বসে, কাঁপা হাতে চা বানাচ্ছেন – হয়তো স্বর্গে কোনো কবি বা গল্পকারের জন্য।


আর তার গল্প? আমি লিখে ফেললাম।


এক কাপ চা আর একজোড়া কাঁপা হাত যে জীবনের যত গল্প ধারণ করে, তা অনেক উপন্যাসকেও হার মানায়।


সংগৃহিত

বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫

কুকুরের ঘ্রাণশক্তি মানুষের চেয়ে ২৮,০০০ গুণ বেশি। 

 কুকুরের ঘ্রাণশক্তি মানুষের চেয়ে

২৮,০০০ গুণ বেশি। ০

: ► প্রাণীদের মধ্যে বিড়ালই সবচেয়ে বেশি ঘুমায় (দৈনিক ১৮ঘন্টা)।

: ► একমাত্র স্ত্রী মশাই মানুষের রক্ত খায়।

: ► মাছি ঘন্টায় ৮ কিলোমিটার উড়তে পারে ।

: ► পুরুষ ব্যাঙই বর্ষকালে ডাকে, আর তা শুনে কাছে আসে স্ত্রী ব্যাঙ।

: ► হামিং বার্ড পাখি পিছনের দিকে উড়তে পারে ।

: ► গিরগিটি একই সময়ে তার চোখ

দুটি দুই দিকেই নাড়তে পারে।

: ► টিকটিকি এক সঙ্গে ৩০টি ডিম পাড়ে ।

: ► মাছ চোখ খোলা রেখে ঘুমায়।

: ► একমাএ পিঁপড়াই কোনদিন ঘুমায় না।

: ► সিডকা পোকা একটানা ১৭ বছর

মাটির নিচে ঘুমায়। তারপর মাটি থেকে বেড়িয়ে এসে

চিৎকার করতে করতে ৩ দিনের মাথায় মারা যায়।

: ► সিংহের গর্জন ৫ মাইল দূর থেকেও শোনা যায়।

: ► অনেকের ধারণা হাঙ্গর মানুষকে হাতের কাছে পেলে মেরে ফেলে। কিন্তু মানুষের হাতেই বেশী হাঙর মারা পড়েছে।

: ► কাচ আসলে বালু থেকে তৈরী।

: ► আপনি প্রতিদিন কথা বলতে গড়ে ৪৮০০টি শব্দ ব্যবহার করেন। বিশ্বাস না হলে পরীক্ষা করে দেখতে

পারেন।

: ► আপনি ৮ বছর ৭ মাস ৬ দিন একটানা চিৎকার করলে যে পরিমান শক্তি খরচ হবে তা দিয়ে এক কাপ কফি অনায়েসে বানানো যাবে।

: ► একটি রক্ত কনিকা আমাদের পুরো দেহ ঘুরে আসতে সময় নেয় ২২ সেকেন্ড।

: ► আপনার যদি একটা তারকা গুনতে ১ সেকেন্ড সময় লাগে তাহলে একটি গ্যালাক্সির সব তারকা গুনতে সময় লাগবে প্রায় ৩ হাজার বছর।

: ► অনেকের ধারণা শামুকের দাঁত নেই। অথচ শামুকের ২৫ হাজার দাঁত আছে।

:▬► চোখ খুলে হাঁচি দেয়া সম্ভব না।

: ► বিড়াল ১০০ রকম শব্দ করতে পারে অথচ কুকুর পারে ১০ রকম।

:▬►পৃথিবীর প্রাণীদের মধ্যে ৮০ ভাগই পোকামাকড়।

: ►একটি তেলাপোকা তার মাথা ছাড়া

৯দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এরপর

তারা সাধারণত খাদ্যাভাবে মারা যায়।


ভালো লাগলে শুধু একটা.....Thanks

লিখবেন। 😀


#life #love #information @highlight

পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফের নিয়ম,,,,,

 পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফের নিয়ম


কাবা শরিফ তাওয়াফ করা হজ ও ওমরার অন্যতম রোকন। হজ ও ওমরার তাওয়াফ ছাড়াও সারা বছর কাবা শরিফ তাওয়াফ করা অনেক বড় সাওয়াবের কাজ। আল্লাহ তাআলা শুধু তাওয়াফকারীদের জন্য প্রতিদিন ৬০টি রহমত বর্ষণ করেন। 

হাদিস শরীফে এসেছে-‘আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন বাইতুল্লাহ শরিফের ওপর ১২০টি রহমত নাজিল করেন। এ ১২০টি রহমতের মধ্যে শুধু তাওয়াফকারীদের জন্যই ৬০টি রহমত নির্ধারিত।’


তাওয়াফের রয়েছে কিছু নিয়ম ও ধারাবাহিকতা। তাওয়াফের সময় তা পালন করাও জরুরি। তাওয়াফ শুরুর উদ্দেশ্যে তালবিয়া পাঠ করতে করতে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত যাওয়া।


হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করা। এখানে এসে অনেকে এভাবে তাওয়াফের নিয়ত করেন


-اَللهُمَّ اِنِّى اُرِيْدُ طَوَافَ بَيْتِكَ الْحَرَامِ سَبْعَةَ اَشْوَاطٍ قَيَسِّرْهُ لِىْ وَ تَقَبَّلْهُ مِنِّىْ


‘অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার ঘর সাতবার প্রদক্ষিণে তাওয়াফ করার ইচ্ছা করছি। আমার জন্য তাওয়াফকে সহজ করে দেন এবং আমার তাওয়াফ কবুল করেন।‘


অতঃপর দু’হাত কাঁধ বরাবর উঠিয়ে- بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَر (বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার) বলে তাওয়াফ শুরু করা।


মুলতাজেমে দোয়াহাজরে আসওয়াদ ও কাবা শরিফে দরজা মধ্যবর্তী স্থান মুলতাজেম। এ স্থান অতিক্রম করার সময় পড়া-


اَللَّهُمَّ اِيْمَنًا بِكَ و تَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ وَ اِتِّبَعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّم


মাকামে ইবরাহিম অতিক্রম করার সময় এ দোয়া পড়া


اَللهُمَّ اِنَّ هَذَا الْبَيْتَ بَيْتُكَ وَالْحَرَامَ حَرَمُكَ وَالْاَمْنَ اَمْنُكَ وَ هَذَا مَقَامُ الْعَائِذِبِكَ مِنَ النَّارِ فَأَجِرْنِىْ مِنَ النَّارِ


মিজাবে রহমতে পাঠ করার দোয়া

মিজাবে রহমত তথা রোকনে ইরাকি থেকে হাতিমে কাবা অতিক্রম করার সময় এ দোয়া পড়া-


اَللهُمَّ اَظِلَّنِىْ تَحْتَ ظِلِّ عَرْشِكَ يَوْمَ لَا ظِلَّ اِلّا ظِلُّكُ وَ لَا بَاقِىَ اِلَّا وَجْهُكَ وَاسْقِنِىْ مِنْ حَوْضِ نَبِيْكَ مُحَمَّدٍ شَرْبَةً هَنِيْئَةً لًّا اَظْمَأُ بَعْدَهَا اَبَدَا


রোকনে শামি অতিক্রম করার সময়,  শামি থেকে রোকনে ইয়ামেনির দিকে যাওয়ার সময় এ দোয়া পড়া


-اَللهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ مِنَ الشَّكِّ وَ الشِّرْكِ وَ الشِّقَاقِ وَ النِّفَاقِ وَ سُوْءِ الْاَجْلَاقِ وَ سُوْءِ الْمُنْقَلَبِ فِى الْاَهْلِ وَالْمَالِ وَ الْوَلَدِ


অতঃপর রোকনে ইয়ামেনিতে পৌছেই এ দোয়া পড়া-


اَللهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَ الْفَاقَةِ وَ مَوَاقِفِ الْخِزْىِ فِىْ الدُّنْيَا وَالْاَخِرَةِ


অতঃপর সম্ভব হলে রোকনে ইয়ামেনি স্পর্শ করা। সম্ভব না হলে দু’হাত কাধ পর্যন্ত ওঠিয়ে সেদিকে ইশারা করে সামনে চলা এবং এ দোয়া পড়া


-رَبَّنَا اَتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِى الْاَخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ – وَاَدْخِلْنَا الْجَنَّةَ مَعَ الْاَبْرَارِ – يَا عَزِيْزُ يَا غَفَّارُ – يَا رَبَّ الْعَالَمِيْنَ


এভাবে হাজরে আসওয়াদ যাওয়া পর্যন্ত এক চক্কর বা প্রদক্ষিণ সম্পন্ন হবে। এ নিয়মে ৭ চক্কর কিংবা প্রদক্ষিণের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এক তাওয়াফ। এ ছাড়াও হাদিসের অন্যান্য দোয়াগুলোও পড়া যাবে।


তাওয়াফে আরও করণীয়


 পুরুষদের জন্য দুটি কাজ করা জরুরি; আর তাহলো- ইজতিবা ও রমল।


ইজতিবা


ইহরামের গায়ের চাদরকে ডান বগলের নিচে দিয়ে চাদরের উভয় মাথাকে বাম কাঁধের ওপর দিয়ে এক মাথা সামনে আর অন্য মাথা পেছনে ফেলানো। এটা করা সুন্নাত। তাওয়াফের সময় এভাবে বীর-বাহাদুরি সুলভ ভঙ্গিতে গায়ের চাদর পরিধান করাই হলো ইজতিবা।


রমল


ফরজ তাওয়াফের প্রথম ৩ চক্করে রমল করেছেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর তাহলো তাওয়াফের সময় মুজাহিদের মতো বীরদর্পে দুই হাত, শরীর ও কাঁধ দুলিয়ে দ্রুত গতিতে চলা।


রমল করার রহস্য


মুসলমানদের হিজরতের পর মক্কার মুশরিকরা বলাবলি করতে লাগলো যে, ইয়াসরিবে (মদিনা) হিজরতকারী মুসলমানরা আবহাওয়া ও অন্যান্য কারণে দুর্বল ও রুগ্ন হয়ে গেছে।


মুশরিকদের এ অহেতুক মিথ্যা অপবাদের প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদেরকে তাওয়াফের সময় প্রথম ৩ চক্করে রমল তথা বীরদর্পে চলার নির্দেশ দেন। তারপর থেকে আজও সে বিধান অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।


নফল তাওয়াফ


স্বাভাবিক সময়ের তাওয়াফে ইজতিবা ও রমল করার কোনো প্রয়োজন নেই। সাধারণ পোশাকে স্বাভাবিকভাবে হাটার মাধ্যমে তাওয়াফ করা। যদিও হারাম শরীফের সিকিউরিটি গার্ড ইহরাম ছাড়া মাতাফে প্রবেশ করতে দেন না।  তাওয়াফকারীদের জন্যও ৬০টি রহমত সুনির্ধারিত।


তাওয়াফকারীদের জন্য ইসতেলাম


যারা কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন তা ফরজ হোক আর নফল হোক সব তাওয়াফেই ইসতেলাম বা স্পর্শের মাধ্যমে তাওয়াফ শুরু করা। সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ তথা চুমু খেয়ে তাওয়াফ শুরু করা। সম্ভব না হলে দূর থেকে হাজরে আসওয়াদের দিকে দু’হাত কাধ বরাবর ওঠিয়ে ইশারা বা ইঙ্গিত করে তাওয়াফ শুরু করা। আর তা ইসতেলাম হিসেবেই সাব্যস্ত হবে।


মনে রাখতে হবে


অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে ইসতেলাম (স্পর্শ) বা চুমু খেতে না যাওয়াই উত্তম। দূর থেকে ইশারা করে তাওয়াফ সম্পন্ন করা।


নারীদের ক্ষেত্রে ইজতিবা,  রমল নেই। তাওয়াফে যে ভিড় হয়; তাতে হাজরে আসওয়াদ বা রোকনে ইয়ামেনিও স্পর্শ বা চুম্বন নিরাপদ নয়। তাই দূর থেকে ইশারা করে তাওয়াফ সম্পন্ন করা অতি উত্তম।


আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফে যথাযথ সম্মান ও তাকওয়া অবলম্বন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ক্লিওপেট্রা: রাজসিংহাসনের বাইরেও এক বিস্ময়কর জ্ঞানসাধক নারী

 ক্লিওপেট্রা: রাজসিংহাসনের বাইরেও এক বিস্ময়কর জ্ঞানসাধক নারী


মাত্র ১৭ বছর বয়সে মিশরের রানি হন ক্লিওপেট্রা, আর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মাত্র ৩৯ বছর বয়সে। কিন্তু এই অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন মানব ইতিহাসের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। শুধু রূপ বা রাজনীতির জন্য নয়, বরং জ্ঞানের গভীরতা, ভাষাজ্ঞান ও বিজ্ঞানে অবদানের জন্যও।


তিনি নয়টি ভাষার দক্ষ বক্তা ছিলদন। তাঁর যুগের টলেমিক রাজবংশে যেখানে কেউই প্রাচীন মিশরের ভাষা জানতেন না, ক্লিওপেট্রা সেখানে হায়ারোগ্লিফ পড়তে ও বুঝতে পারতেন। এটা ছিল তাঁর বংশে একেবারেই বিরল। এর পাশাপাশি তিনি জানতেন গ্রিক, পার্থিয়ান, হিব্রু, মিডিয়ান, ট্রোগলোডাইট, সিরিয়ান, ইথিওপিয়ান ও আরব ভাষা। এই অসাধারণ ভাষাজ্ঞান তাঁকে পৃথিবীর প্রায় যেকোনো পাণ্ডুলিপি পড়ার ক্ষমতা দিয়েছিল।


তিনি শুধু ভাষাবিদই ছিলেন না, বরং ভূগোল, ইতিহাস, জ্যোতির্বিজ্ঞান, কূটনীতি, গণিত, রসায়ন, চিকিৎসা, প্রাণিবিদ্যা, অর্থনীতি ও আরও অনেক বিষয়ে গভীর আগ্রহী ছিলেন। তিনি সময় কাটাতেন প্রাচীন ধাঁচের গবেষণাগারে, যেখানে তিনি উদ্ভিদ, ঔষধি ও প্রসাধনী নিয়ে কাজ করতেন।


ক্লিওপেট্রা নিজে কিছু গ্রন্থ রচনা করেছিলেন, বিশেষত উদ্ভিদভিত্তিক চিকিৎসা ও প্রসাধনী বিষয়ে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই সব লেখা ৩৯১ খ্রিস্টাব্দে আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রন্থাগারে অগ্নিকাণ্ডে নষ্ট হয়ে যায়। তবে বিখ্যাত চিকিৎসাবিদ গ্যালেন তার কিছু রচনার ব্যাপারে উল্লেখ করেছেন এবং কিছু প্রসাধনী ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত রেসিপি সংরক্ষণ করতে পেরেছেন। যেমন একটি বিশেষ ক্রিম, যা টাক পড়া পুরুষদের জন্য চুল গজাতে সাহায্য করত। এটা গ্যালেন নিজেও তার রোগীদের দিতেন।


ক্লিওপেট্রার বইগুলোতে সৌন্দর্যচর্চার টিপসও ছিল, যদিও সেগুলোর কিছুই আজ অবশিষ্ট নেই। তিনি ঔষধি গাছ ও প্রাকৃতিক নিরাময়ের প্রতিও আগ্রহী ছিলেন, এবং তাঁর ভাষাজ্ঞানের কারণে তিনি বহু প্রাচীন প্যাপিরাস ও চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে পেরেছিলেন যেগুলোর অধিকাংশই আজ হারিয়ে গেছে।


খ্রিস্টীয় প্রথম শতকগুলোতে ক্লিওপেট্রার বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিদ্যায় প্রভাব ছিল সুপরিচিত। আজও তিনি শুধু মিশরের রানী হিসেবে নয়, বরং এক জ্ঞানতৃষ্ণা ও চেতনার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।  প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার ইতিহাস জানতে দেখুন আমাদের একটি ভিডিও। লিংক কমেন্টে। 

.

.

#cleopatra #ancientegypt #itihasergolpo #itihaser_golpo

মৌসুমী ভৌমিক আমার বহুদিনের বন্ধু তার সাথে আমার বহুবার দেখা হয়েছে, বার্লিনে, স্টকহোম ও লন্ডনে।

 মৌসুমী ভৌমিক আমার বহুদিনের বন্ধু তার সাথে আমার বহুবার দেখা হয়েছে, বার্লিনে, স্টকহোম ও লন্ডনে।

মৌসুমী ভৌমিক (জন্ম: ২৯শে ডিসেম্বর, ১৯৬৪) একজন সংগীত শিল্পী, গীতিকার, লেখক, অনুবাদক, সম্পাদক, আর্কাইভিস্ট, ফিল্ড রেকর্ডিস্ট ও গবেষক। ২০০০ সালে প্রকাশিত 'এখনো গল্প লেখো' অ্যালবামে মৌসুমীর গাওয়া 'স্বপ্ন দেখব বলে' গানটি সকল শ্রেণির মানুষের কাছে অসম্ভব জনপ্রিয়তা লাভ করে, তিনি এই গানটির গীতিকার আর সুরকারও।

 ২০১০ সালে স্টোকহোমে আমাদের বাড়িতে গেস্ট হিসেবেও এসেছিলো একবার,  তার এক সাদামাটা প্রিন্টেড শাড়ি পরেই প্রতিবার এসেছে  একবার বলেই ফেললাম, "আচ্ছা আর কোনো শাড়ি নেই তোমার?" উত্তরে বললো, এই শাড়িটা আমাকে অনেক প্রশান্তি দিয়েছে। তাতেই বুঝলাম, কতোটা সাধারণ মানুষ এই মৌসুমী🌷 

১৯৯৪ সালে মৌসুমী  ভৌমিকের নিজের লেখা ও সুরারোপে বাংলা গানের প্রথম ক্যাসেট বেরিয়েছিল। তার নাম ছিল, ‘তুমিও চিল হও’। তাতে বেশ কিছু গান ছিল, যেমন কিছু ফেলতে পারি না পুরনো ট্রাঙ্কে পড়ে থাকা মোজা জোড়া, ছেঁড়া সোয়েটার… সংসারের খুঁটিনাটি যা কিছু বাদ দেওয়ারই মত, অথচ জীবনের সঙ্গে এমন জড়িয়ে, স্মৃতির সঙ্গে এমন ওতপ্রোত যে বাদ দেওয়ার কথা মনে হলেই বুকের থেকে এক চামচ রক্ত চলকে ওঠে। পিয়ানোর সঙ্গতে বলিষ্ঠ গায়কীতে মৌসুমী র এই গান সকলেই শুনে ফেলেছেন, এই কথা বিশ্বাস করতেও বোধ হয় কষ্ট হয়।


একের পর এক গানের রেকর্ডিং হতে থাকে। 'আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউয়ে চেপে নীলজল-দিগন্ত ছুঁয়ে এসেছ" আর "এখনও গল্প লেখো" সংকলনটি এই গানটি নামে বেরিয়েছিল। বর্তমানে এই গানটি মৌসুমী র লেখা ও সুর করা গানের মধ্যে সব চেয়ে জনপ্রিয়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ তৈরি হওয়ার সময় শত শত মানুষের কলকাতার যশোর রোডের উদ্বাস্তু হয়ে আসা নিয়ে লেখা মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ এর ইংরেজি কবিতার বাংলা অনুবাদ করে মৌসুমী  গান লিখেছেন যশোর রোড…আকাশে বসত মরা ঈস্বর/নালিশ জানাবে ওরা বল কাকে? এছাড়াও রয়েছে, তোরই জন্য শরীরের ভারে আমি নত---র খুবই অশ্রুত চলনে একেবারেই নারী যাপনের কথা বলার গান।


তারেখ মাসুদের মাটির ময়না ছবির সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্বে ছিলো মৌসুমি ভৌমিক।


গতবছর ২০২৩ সালে মৌসুমি আবার বার্লিনে এসেছিলো।


মৌসুমী তার গানের কথাগুলো স্বপ্ন ও বাস্তবের সমন্বিত অভিজ্ঞতা থেকেই লেখে, যেমন প্রথমবার ২০০৩ সালে যখন বার্লিনে এসেছিলো এক সিম্পোজিয়ামে, প্রথমদিনে আলোচনার পরে সন্ধ্যায় এক তুর্কি রেস্তোরাঁর পরিবেশ তার দারুন ভালো লেগেছিলো সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এক গান লিখে ফেলে, দ্বিতীয় দিনে ছিলো তার একক সন্ধ্যা সেখানেই সেই গান পরিবেশন করে। 


মৌসুমীর জন্ম জলপাইগুড়িতে হলেও বাংলাদেশের সাথে তার এক আত্মিক যোগাযোগ রয়েছে। মৌসুমীর বাবা ভূপেন্দ্রনাথ ভৌমিক ও মা অনিতা সেনগুপ্তের আদি বাড়ি ছিল যথাক্রমে  বাংলাদেশের পাবনা এবং বরিশালে, তাই বাংলাদেশের প্রতি তার এক বিশেষ সম্পর্ক আছে।

#মৌসুমীভৌমিক 

@highlight

নজরুল ও নার্গিস -

 নজরুল ও নার্গিস -

নজরুলের জীবনে দু’জন নারীর উপস্থিতি খুব গভীর ভাবে লক্ষ্য করা যায়- একজন নার্গিস আরেকজন হলেন প্রমীলা। নজরুলের হৃদয়ের দুই সারথী- একজন চাঁদ তো অন্যজন নীল সরোবর। 

প্রিয় কবি নজরুলকে, তার প্রথম স্ত্রী নার্গিস একটি পত্র লিখেছিলেন সেই কুমিল্লা থেকে বিয়ের প্রথম রাতে নজরুলের চলে যাবার অনেক দিন পর।সেই চিঠির উত্তর নজরুল দিয়েছিলেন একটি গানের মাধ্যমে- 

“যারে হাত দিয়ে মালা দিতে পার নাই, কেন মনে রাখ তারে্।।

ভুলে যাও তারে ভুলে যাও একেবারে্।।”

-কিন্তু নজরুল কি সত্যিই ভুলতে পেরেছিলেন নার্গিসকে? পনেরো বছর পর একটি আবেগময় চিঠি লিখেন নার্গিসের কাছে- যা হৃদয় ছুঁয়ে যায়- যে চিঠিখানা বিশ্বের সেরা ভালবাসার তথা প্রেমপত্রের একটি। নজরুল নার্গিসকে কতটুকু ভালবাসতেন- সেটা এই চিঠিতেই সেই ভালবাসার রূপ শাশ্বত হয়ে ফুটে উঠেছে- একজন মানুষ কি তার প্রিয়তমাকে এর চেয়ে বেশি ভালবাসতে পারেন! নজরুল দৌলতপুরে বসেই ১৬০টি গান এবং ১২০টি কবিতা রচনা করেন। উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে- ‘বেদনা-অভিমান’, ‘অবেলা’, ‘অনাদৃতা’, ‘পথিক প্রিয়া’, ‘বিদায় বেলা’ প্রভৃতি- তাই নজরুলের জীবনে যদি নার্গিস না আসতেন তাহলে হয়তো বাংলা সাহিত্য ভান্ডারে এই অমূল্য সম্পাদ থেকে আমরা বঞ্চিত হতাম।

নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরর মসজিদের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন- আর নার্গিস চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন ম্যানচেস্টার (ইংল্যান্ড) শহরে।

নার্গিস-নজরুল প্রেম-কাহিনী শুধু সাধারণ প্রেম নয়- এটা অমর প্রেম কাহিনী- এযেন কালজয়ী প্রেম-উপাখ্যান। আর এমনি একটি চিঠির জন্য নার্গিস-নজরুলের প্রেমের উপাখ্যান বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছে। নিচে চিঠিটি উল্লেখ করা হলঃ

কল্যানীয়াসু,

তোমার পত্র পেয়েছি সেদিন নব বর্ষার নবঘন-সিক্ত প্রভাতে ।মেঘ মেদুর গগনে সেদিন অশান্ত ধারায় বারি ঝরছিল ।পনর বছর আগে এমনি এক আষাঢ়ে এমনি এক বারি ধারায় প্লাবন নেমেছিল– তা তুমিও হয়তো স্মরণ করতে পারো ।আষাঢ়ের নবমেঘপুঞ্জকে আমার নমস্কার ।এই মেঘদূত বিরোহী যক্ষের বানী বহন করে নিয়ে গিয়েছিল কালিদাসের যুগে, রেবা নদীর তীরে, মালবিকার দেশে, তার প্রিয়ার কাছে ।এই মেঘ পুঞ্জের আশীর্বাণী আমার জীবনে এনে দেয় চরম বেদনার সঞ্চার ।এই আষাঢ় আমায় কল্পনার স্বর্গ লোক থেকে টেনে ভাসিয়ে দিয়েছে বেদনার অনন্ত স্রোতে । যাক, তোমার অনুযোগের অভিযোগের উত্তর দেই । তুমি বিশ্বাস করো, আমি যা লিখছি তা সত্য । লোকের মুখে শোনা কথা দিয়ে যদি আমার মূর্তির কল্পনা করে থাকো,তাহলে আমায় ভুল বুঝবে- আর তা মিথ্যা ।

তোমার উপর আমি কোনো ‘জিঘাংসা’ পোষণ করিনা –এ আমি সকল অন্তর দিয়ে বলছি ।আমার অন্তর্যামী জানেন তোমার জন্য আমার হৃদয়ে কি গভীর ক্ষত, কি আসীম বেদনা ! কিন্তু সে বেদনার আগুনে আমিই পুড়েছি—তা দিয়ে তোমায় কোনোদিন দগ্ধ করতে চাইনি । তুমি এই আগুনের পরশ মানিক না দিলে আমি ‘অগ্নিবীণা’ বাজাতে পারতাম না—আমি ধুমকেতুর বিস্ময় নিয়ে উদিত হতে পারতাম না । তোমার যে কল্যান রূপ আমি আমার কিশোর বয়সে প্রথম দেখেছিলাম, যে রূপকে আমার জীবনের সর্বপ্রথম ভালবাসার আঞ্জলি দিয়েছিলাম, সে রূপ আজো স্বর্গের পারিজাত-মন্দারের মতো চির অম্লান হয়েই আছে আমার বক্ষে । অন্তরের সে আগুন- বাইরের সে ফুলহারকে স্পর্শ করতে পারেনি ।

তুমি ভুলে যেওনা আমি কবি—আমি আঘাত করলেও ফুল দিয়ে আঘাত করি । অসুন্দর কুৎসিতের সাধনা আমার নয় । আমার আঘাত বর্বরের কাপুরুষের আঘাতের মতো নিষ্ঠুর নয় ।আমার অন্তর্যামী জানেন (তুমি কি জান বা শুনেছ জানিনা) তোমার বিরুদ্ধে আজ আমার কোন অনুযোগ নেই, অভিযোগ নেই, দাবীও নেই ।

তোমার আজিকার রূপ কি জানিনা । আমি জানি তোমার সেই কিশোরি মুর্তিকে, যাকে দেবী মূর্তির মতো আমার হৃদয় বেদীতে অনন্ত প্রেম,অনন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম । সেদিনের তুমি সে বেদী গ্রহণ করলেনা । পাষান দেবীর মতই তুমি বেছে নিলে বেদনার বেদিপাঠ …জীবন ভ’রে সেখানেই চলেছে আমার পূজা আরতি । আজকার তুমি আমার কাছে মিথ্যা,ব্যর্থ ; তাই তাকে পেতে চাইনে । জানিনে হয়ত সে রূপ দেখে বঞ্চিত হব,অধিকতর বেদনা পাব,--তাই তাকে অস্বীকার করেই চলেছি । 

দেখা? না-ই হ’ল এ ধূলির ধরায় । প্রেমের ফুল এ ধূলিতলে হয়ে যায় ম্লান,দগদ্ধ,হতশ্রী ।তুমি যদি সত্যিই আমায় ভালবাস আমাকে চাও ওখান থেকেই আমাকে পাবে ।লাইলি মজনুকে পায়নি, শিরি ফরহাদকে পায়নি, তবু তাদের মত করে কেউ কারো প্রিয়তমাকে পায়নি ।আত্মহত্যা মহাপাপ, এ অতি পুরাতন কথা হলেও প্রেম সত্য ।আত্মা অবিনশ্বর,আত্মাকে কেউ হত্যা করতে পারেনা । প্রেমের সোনার কাঠির স্পর্শ যদি পেয়ে থাকো, তাহলে তোমার মতো ভাগ্যবতী আর কে আছে ? তারি মায়া স্পর্শে তোমার সকল কিছু আলোয় আলোময় হয়ে উঠবে । দুঃখ নিয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে গেলেই সেই দুঃখের অবসান হয়না ।মানুষ ইচ্ছা করলে সাধনা দিয়ে, তপস্যা দিয়ে ভুলকে ফুল রূপে ফুটিয়ে তুলতে পারে । যদি কোনো ভুল করে থাক জীবনে, এই জীবনেই তাকে সংশোধন করে যেতে হবে; তবেই পাবে আনন্দ মুক্তি; তবেই হবে সর্ব দুঃখের অবসান । নিজেকে উন্নত করতে চেষ্টা করো, স্বয়ংবিধাতা তোমার সহায় হবেন । আমি সংসার করছি, তবু চলে গেছি এই সংসারের বাধাকে অতক্রম করে উর্ধ্ব লোকে—সেখানে গেলে পৃ্থিবীর সকল অপূর্ণতা, সকল অপরাধ ক্ষমা সুন্দর চোখে পরম মনোহর মূর্তিতে দেখা যায় ।…

হঠাৎ মনে পড়ে গেল পনর বছর আগের কথা । তোমার জ্বর হয়েছিল, বহু সাধনার পর আমার তৃষিত দুটি কর তোমার শুভ্র ললাট স্পর্শ করতে পেরেছিল; তোমার তপ্ত ললাটের স্পর্শ যেন আজো অনুভব করতে পারি ।তুমি কি চিয়ে দেখেছিলে? আমার চোখে ছিলো জল, হাতে সেবা করার আকুল স্পৃহা, অন্তরে শ্রীবিধাতার চরণে তোমার আরোগ্য লাভের জন্য করুন মিনতি । মনে হয় যেন কালকের কথা । মহাকাল যে স্মৃতি মুছে ফেলতে পারলেননা। কী উদগ্র অতৃপ্তি, কী দুর্দমনীয় প্রেমের জোয়ারই সেদিন এসেছিল । সারা দিন রাত আমার চোখে ঘুম ছিল না । 

যাক আজ চলেছি জীবনের অস্তমান দিনের শেষে রশ্মি ধরে ভাটার স্রোতে, তোমার ক্ষমতা নেই সে পথ থেকে ফেরানোর । আর তার চেষ্টা করোনা । তোমাকে লিখা এই আমার প্রথম ও শেষ চিঠি হোক ।যেখানেই থাকি বিশ্বাস করো আমার অক্ষয় আশির্বাদ কবচ তোমায় ঘিরে থাকবে । তুমি সুখি হও, শান্তি পাও— এই প্রার্থনা । আমায় যত মন্দ বলে বিশ্বাস করো, আমি তত মন্দ নই –এই আমার শেষ কৈফিয়ৎ ।

ইতি—

নিত্য শুভার্থী—

নজরুল ইসলাম।

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...