এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ২৬ মে, ২০২৫

২১০ টাকায় স্টারলিংক: শুধু বড় অফিসের জন্য নয়, এখন সবার হাতের নাগালে!

🌏 ২১০ টাকায় স্টারলিংক: শুধু বড় অফিসের জন্য নয়, এখন সবার হাতের নাগালে!

অনেকে মনে করেন, স্টারলিংক ইন্টারনেট বুঝি শুধু সরকারি অফিস, বড় কোম্পানি বা সিনেমার শুটিংয়ের মতো বিশাল কাজে ব্যবহারের জন্য। বাস্তবে তা নয়। এখন সাধারণ মানুষ, দোকানদার এমনকি গ্রামের বাসিন্দারাও এই প্রযুক্তির সুবিধা নিতে পারেন — যদি সবাই মিলে উদ্যোগ নেওয়া যায়।

🎢কমিউনিটি ভিত্তিক সমাধান:

ধরুন, একটি এলাকায় ২০–২৫টি দোকান বা বাড়ি মিলে একজন উদ্যোক্তাকে সহায়তা করে স্টারলিংক সেটআপ করলেন।
তাহলে তিনি চাইলে মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি হিসেবে ১০০–২০০ টাকা করে প্রতি ইউজার থেকে নিতে পারেন।
এভাবে, রিকশাওয়ালাও সহজে ২০০ টাকায় মাসব্যাপী ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারবেন — দোকানপাট বা বাড়ির মতো করেই।

---

💰💰খরচের সহজ হিসাব:💰

খরচের ধরণ আনুমানিক মূল্য (টাকা)

একবারের সেটআপ ৪৭,০০০ – ৫১,০০০
মাসিক ইন্টারনেট ফি ৪,২০০ – ৬,০০০

যদি ২০ জন মিলে খরচ ভাগাভাগি করেন:

মোট মাসিক খরচ ধরা যাক = ৪,২০০ টাকা

প্রতি জনের খরচ = ৪,২০০ ÷ ২০ = মাত্র ২১০ টাকা!

---

✈🔍স্টারলিংক টু রাউটার কানেকশন পদ্ধতি:

১. স্টারলিংক ডিশ খোলা আকাশের নিচে এমন স্থানে বসাতে হবে, যেখান থেকে স্যাটেলাইট সিগন্যাল পেতে কোনো বাধা না থাকে।


২. এই ডিশ থেকে একটি তারের মাধ্যমে সংযোগ যাবে স্টারলিংকের পাওয়ার ব্রিক বা মডেমে।


3. এরপর এই মডেম সংযুক্ত থাকবে একটি Wi-Fi রাউটারের সঙ্গে।


4. রাউটারটি ৫০–২০০ মিটার পর্যন্ত ওয়াইফাই ছড়াতে পারে। চাইলে বড় রেঞ্জের রাউটার অথবা Wi-Fi এক্সটেন্ডার ব্যবহার করে পুরো পাড়া বা গ্রামজুড়ে সংযোগ ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।


#Starlink_bypass Mode ব্যবহার করতে হবে, যা স্টারলিংক এ্যাপের ভিতর পাবেন সেটিং এ।

5. ইউটিউবে স্টারলিংকের সাথে মাইক্রোটিক রাউটের সেটআপ ভিডিও আছে। মিনি আইএসপি হিসাবেও চলাতে পারবেন গ্রামে।

---

✌কে কে উপকৃত হবেন?

যেসব এলাকায় এখনো ব্রডব্যান্ড পৌঁছায়নি

শহরের নতুন গড়ে ওঠা পাড়া বা প্রত্যন্ত গ্রাম

দোকানদার, রিকশাচালক ও সাধারণ জনগণ

উদ্যোক্তারা যারা কম খরচে ইন্টারনেট দিয়ে আয় করতে চান

---

👌যা মনে রাখা জরুরি👌:

ডিশ বসানোর জন্য খোলা আকাশের নিচে একটি নির্দিষ্ট জায়গা দরকার

নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকতে হবে

ইউজার সংখ্যা বেশি হলে স্পিড কিছুটা কমতে পারে, তবে সাধারণ ব্যবহারে সমস্যা হয় না

খরচ ভাগাভাগি করার নিয়ম আগেই স্পষ্ট করে নিতে হবে

---

শেষ কথা:

স্টারলিংক শুধু বড়লোকদের জন্য নয় — এটি আমাদের জন্যও।
যদি আমরা সবাই মিলে পরিকল্পনা করি, তাহলে এটি হতে পারে এক যুগান্তকারী কমিউনিটি উদ্যোগ, যা আমাদের গ্রামের মানুষ, দোকানদার, এমনকি রিকশাওয়ালাকেও ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল স্রোতে যুক্ত করতে পারবে।

নিচের ছবিটি চ্যাটজিপিটি থেকে নেওয়া।
© লেখা ও সংকলনঃ হেমন্ত দেবনাথ


কুরবানীর জরুরি ৬৬ টি মাসয়ালা! ________________________

 কুরবানীর জরুরি ৬৬ টি মাসয়ালা!

________________________________________________


১.কার উপর কুরবানী ওয়াজিব? 

উঃ জিলহজ্জ মাসের ১০ সুবহে সাদিক থেকে১২ তারিখ 

সূর্যাস্ত পর্যন্ত কারো কাছে যদি নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে ৭ঃ৫ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা থাকে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। 


২.নিছাবের মেয়াদ কত দিন?

উঃ ৩ দিন, জিলহজ্জ মাসের ১০,১১ এবং ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। 


৩. তিন দিনের মধ্যে কোন দিন কুরবানী করা উত্তম? 

উঃ ১০ তারিখে প্রথম দিন।


৪.যদি নাবালক এর নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে  তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ? 

উঃ না। 


৫.বালেক সুস্থ মস্তিষ্ক না নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি ? 

উঃ- না 


৬.যদি নাবালেক এর  নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে এর পক্ষে থেকে কুরবানী দেওয়া কি? 

উঃ মুস্তাহাব, ওয়াজিব না। 


৭.দরিদ্র লোকের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব? 

উঃ- না, তবে যদি কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে 

তখন সে পশু কুরবানী করা ওয়াজিব।


৮.কেউ যদি কুরবানির দিন গুলোতে কুরবানির দিতে না পারে তাহলে কি করবে, যদি সে নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে, কোন সমস্যায় দিতে পারে নি তাহলে কি করবে? 


উঃ-একটা ছাগল যে কুরবানী উপযুক্ত সে ছাগলের সমপরিমাণ টাকা সদকা করে দিবে ন এটা হলো যারা পশু ক্রয় করতে পারেনি তাদের জন্য। 

কিন্তু যারা পশু কিনেছেন কিন্তু তিন দিনের মাঝে কুরবানী দিতে পারেন নি  তাহলে তার জন্য করণীয় হলো সে পশু সদকা করে দেওয়া। 


আবার যদি কেউ তিন দিন পর জবাই করে ফেলে তাহলে সে ঐ পশুর গোশত ওজন করবে তারপর যদি ঐ পশুর ক্রয়ের  টাকা থেকে কম হয় তাহলে গোশত সহ 

যতো টাকার গোশত  কম হয়েছে  পুরো টাই সদকা করতে হবে। ধরনে আপনি ২০ হাজার দিয়ে কিনেছেন ওজন দিয়ে দেখলেন ১৮ হাজার টাকার গোশত হয়েছে 

গোশতের আরও ২ হাজার টাকা সদকা করতে হবে।  


৯.প্রথম দিন কখন থেকে কুরবানী করা যাবে?

উঃ যে এলাকায় জুমার নামাজ,এবং ঈদের নামাজ ওয়াজিব সে এলাকায় ঈদের নামাজের আগে কুরবানী করা জায়েজ নেই। তবে কোন প্রকার দুর্ঘটনা ঘটে গেলে 

যদি ঈদের নামাজ না পড়া যায় তাহলে করনীয় হলো সূর্য মধ্যে আকাশ অতিক্রম করার পর কুরবানী করা জায়েজ হবে।


১০.রাতে কুরবানী দিলে কি হবে?

উঃ ১০,১১ তারিখে রাতে দিলে হবে ১২ তারিখ রাতে দিলে হবে না।  


১১.কোন কোন পশু দিয়ে কুরবানী দেওয়া জায়েজ?

উঃ- গরু,উট,মহিষ,দুম্বা, ছাগল এবং ভেড়া। 


১২.পশু দের লিঙ্গ ভেদ করতে হবে কি?

উঃ- না, পুরুষও  মহিলা উভয় দিয়ে হবে।  


১৩.পশুর বয়স সীমা কত?

উঃ উট কম পক্ষে ৫ বছর,গরু মহিষ ২ বছর 

ভেড়া, দুম্বা  ছাগল ১ বছর। 

ভেড়া এবং দুম্বা ১ বছর হয়নি তবে বলিষ্ঠ মনে হয় 

যে এক বছর হয়েছে তাহলে এটা দিয়ে কুরবানী হবে। 

তবে ছাগল ১ বছরের নিচে কোন ভাবে হবে না।  


১৪.শরীক সর্বোচ্চ কত জন হওয়া যাবে?

উঃ উট,গরু,মহিষে  সর্বোচ্চ ৭ জন কমে হলে সমস্যা নেই তবে একা দেওয়া উত্তম  । ছাগল, দুম্বা, ভেড়া  তে একজন। 


১৫.গোশত ভাগে কম বেশি হলে? 

উঃ- কারো কুরবানী সহীহ হবে না। 


১৬. শরীকের মাঝে কেউ যদি গোশত খাওয়ার নিয়তে দেয় তাহলে? 


উঃ- কারো কুরবানী হবে না। 


১৭.কুরবানীর পশুতে আকিকা দেওয়া যাবে? 

উঃ- হ্যাঁ, তবে উট, গরু,এবং মহিষে। 


১৮. শরীক দার দের মাঝে যদি কারো অধিকাংশ বা পুরা টাকা হারাম হয় তাহলে কি কুরবানী হবে?


উঃ- না না না! কারো কুরবানী হবে না। 


১৯. গরু, মহিষ উট একা কুরবানী নিয়তে কিনার অন্য কাউকে কি শরীক করা যাবে?


উঃ- ধনী হলে পারবে অর্থাৎ যার উপর ওয়াজিব  , তবে গরিব ওয়াজিব না কুরবানী তার উপর। পশু কিনে ফেলছে কুরবানীর নিয়তে তাহলে শরীক করা যাবে না একাই দিতে হবে।  


২০.কোন ধরনের  পশু নির্বাচন করা উত্তম? 

উঃ- রিষ্ট পুষ্ট, তাজা পশু নির্বাচন করা সুন্নত।


২১.যে পশু তিন পায়ে ভর করে চলে এমন পশু ধারা কি কুরবানী হবে? 


উঃ- না


২২.রোগ্ন পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?

উঃ- না 


২৩.দাঁত ছাড়া পশু দিয়ে কি কুরবানী হবে?

উঃ একটা দাত  নেই এটা কোন ভাবেই হবে না ,অথবা কিছু আছে তবে ঘাস খেতে পারে না এমন পশু ধারা কুরবানী হবে না। 


২৪. শিং ছাড়া পশু দিয়ে কুরবানী হবে কি ?

উঃ জন্মগত যে পশুর শিং নেই সেটা ধারা হবে। 

তবে পরবর্তীতে যেটা ভেঙ্গে যায় আর তার ফলে মস্তিষ্কে ক্ষতি হয় এমন পশু ধারা হবে না। তবে অর্ধে হলেও হবে।  


২৫.লেজ কাটা, কান কাটা পশু দিয়ে কুরবানি হবে কি?

উঃ যদি পশুর লেজ বা কান অর্ধেক বা তার বেশি কাটা হয় তাহলে সে পশু ধারা কুরবানী হবে না। 

তবে অর্ধেকের কম হলে হবে।  


২৬.অন্ধ পশু ধারা কুরবানী করা যাবে কি?

উঃ- না তবে যে পশুর এক চোখ ও অন্ধ সেটা দিয়েও হবে না।  


 


২৭.কুরবানীর নিয়তে পশু ক্রয় করার পর  হারিয়ে গেলে দাতা কি করবে?


উঃ- ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন।

এবং গরিব ওয়াজিব নয় এমন ব্যক্তি ক্রয় করতে হবে না

তবে কিনার পরে যদি আবার প্রথম পশু ফিরে পাওয়া যায় তাহলে ধনী ব্যক্তি যেকোন একটা কুরবানী করলে হবে, তবে দুটা করা উত্তম একটা করলেও হবে। 


** আর গরিব ব্যক্তি যদি হয় তাহলে দুটাই দিতে হবে। 

দুটাই দেওয়া তখন ওয়াজিব।  


২৮.গর্ভবতী পশু  কুরবানী করা কি জায়েজ আছে?

উঃ- হ্যা জায়েজ। 


২৯.পশু জবাইয়ের পরে যদি বাচ্চা কে জীবিত পাওয়া যায় তাহলে কি করবে?

উঃ- বাচ্চা ও জবাই দিতে হবে। 


৩০.জবাইয়ের আগ মুহূর্তে যদি পশু প্রসব অবস্থায় উপনীত হয় তখন করনীয় কি?


উঃ- সে পশু জবাই করা জায়েজ আছে, তবে মাকরূহ!


৩১.পশু ক্রয় করার পর যদি এমন কোন দোষ দেখা যায় যে দোষ গুলো থাকিলে কুরবানী হয়  না তখন করনীয় কি?

উঃ-  এই পশু ধারা কুরবানী হবে না। 

তবে এখানে গরিব ব্যক্তির  জন্য জায়েজ আছে 

ধনী ব্যক্তির জন্য জায়েজ নয়।  


৩২.আপনি কোন পশু ক্রয় করার সময় জিজ্ঞেস করলেন বয়স কত সে বললো ২ বছর যদি সেটার আসলে বয়স ২ বছর না হয় তখন কি করনীয় বা কুরবানী কি হবে? 


উঃ- হ্যা হবে তবে যে বিক্রেতা মিথ্যা বলেছে তার গুনা হবে।  


৩৩.পশু কোথায় জবাই করা উত্তম? 

উঃ- যেখানে পরিবেশ দূষিত  হওয়ার আশংকা কম থাকে।


৩৪. পশু কে জবাই করা উত্তম? 

উত্তমঃ- নিজের পশু নিজে কুরবানী করা উত্তম। 


৩৫.বন্ধা পশু ধারা কুরবানী হবে কি?

উঃ- হ্যা হবে । 


৩৬.অনেক সময় হুজুর জবাই করার পর দেখা যায় সম্পূর্ণ হয় নি আবার অন্য জন তরবারি হাতে নিয়ে 

রগ বা শিরা কাটতে যায় এটা কি জায়েজ হবে?


উত্তরঃ- হ্যা জায়েজ আছে তবে উভয় ব্যক্তি বিসমিল্লাহি আল্লাহ আকবার না বললে কুরবানী হবে না।

একজন যদি না বলে সেক্ষেত্রে ও কুরবানী বাতিল হয়ে যাবে। 


৩৭. কুরবানীর পশু ধারা উপকৃত হওয়া যাবে কি? 

উঃ না এটা কোন ভাবে জায়েজ নেই।  


৩৮.কুরবানীর পশু ধারা যদি আপনি হাল চাষ করে ফেলেন সেক্ষেত্রে করনীয় কি?

উঃ অন্য পশু ধারা করলে যে পারিশ্রমিক আসত সে পরিমান টাকা সদকা করে দেওয়া।


৩৯.কুরবানির পশুর,দুধ পান করা  যাবে কি? 

উঃ- না 


৪০. যদি পশুর জবাইর আগে মন হয় দুধ দহন না করলে পশুর কষ্ট হবে  তাহলে করনীয় কি?


উঃ- সে দুধ দহন করে সদকা করে দিতে হবে. 

ভুলে খেয়ে ফেললেন তখন যে পরিমাণ পান করেছেন সে পরিমাণ অর্থ সদকা করতে হবে।  


৪১.পশু ক্রয় করার পর শরীক মারা গেল তখন কি করবে?


উঃ- তার ওয়ারিশ রা যদি বলে কুরবানী করেন তাহলে 

করতে পারবেন, আর যদি বলে না করতে পারবেন না তাহলে টাকা দিয়ে দিতে হবে। 

তবে চাইলে পরবর্তী আরেক জন শরীক করতে পারবেন।


৪২.জবাইয়ের আগে পশু বাচ্চা দিলে কি করবেন?


উঃ- ঐ বাচ্চা জীবিত  সদকা করে দিতে হবে।

সদকা না করলে পশুর সাথে জবাই করতে হবে।

এখানে জবাই করা  বাচ্চার গোশত সদকা করে দিতে হবে, আপনে খেতে পারবেন না।  


৪৩.মৃত্যু ব্যক্তির পক্ষ থেকে কি কুরবানী করা যাবে?


উঃ- হ্যা করা যাবে, তবে উসিয়ত করে গেলে গোশত সদকা করে দিতে হবে।  উছিয়ত না করলে আপনে খেতে পারবেন। 


৪৪.তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত রাখা যাবে?

উঃ- হ্যা রাখা যাবে  যতো দিন ইচ্ছে!


৪৫.অনুমান করে বন্টন করা কি জায়েজ আছে?

উঃ- না, পূর্ণ ওজন করে ভাগ করতে হবে। 


৪৬. তিনের এক অংশ গরীব কে দেওয়া, যদি সেটা না দেই তাহলে কি কুরবানী হবে? (আমরা যেটা কে সমাজের গোশত বলি)

উঃ- হ্যা হবে তবে সেটা বড় কৃপ্রনতার পরিচয়।


৪৭.গোশত চর্বি বিক্রি করা যাবে কি?

উঃ- না। 


৪৮.জবাইকারী বা কসাই কে গোশত দিয়ে পারিশ্রমিক দেওয়া যাবে কি?


উঃ না টাকা দিতে হবে, তবে পরে হাদিয়া হিসেবে গোশত দিতে পারবেন আগে পারিশ্রমিক দিতে হবে।  


৪৯. জবাই করার অস্র কেমন হতে হবে?

উঃ দাড়ালো উত্তম। 


৫০. জবাইয়ের কত সময় পর চামড়া আলাদা করা যাবে?

উঃ- নিসতেজ হওয়ার পর পশু। 


৫১.এক পশু কে অন্য পশুর সামনে জবাই করা যাবে কি?


উঃ- যাবে তবে ঠিক না নবী কারীম সাঃ নিষেধ করেছেন?


৫২.কুরবানীর গোশত অন্য র্ধমের ব্যক্তি কে দেওয়া যাবে কি ?

উঃ- হ্যা তাতে কোন সমস্যা নেই।  


৫৩.পশু মারা গেলে অথবা ছিনতাই হয়ে গেলে কি করনীয়?

উঃ- ধনী হলে আরেক টা ক্রয় করবেন। 

গরিব হলে লাগবে না। 


৫৪.মুসাফির এর উপর কুরবানী করা কি ওয়াজিব?

উঃ না। 


৫৫.কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করলে কি করনীয়? 


উঃ- ঐ ব্যক্তি থেকে অনুমতি নিতে হবে।  


৫৬.কুরবানী গোশত খাওয়া কি?

উঃ- মুস্তাহব, না খেলেও গুনা হবে না। তবে খাওয়া উত্তম। 


৫৭.কুরবানী ওয়াজিব এমন ব্যক্তি যদি ঋণ নিয়ে কুরবানী করে কুরবানী হবে কি?

উঃ হবে তবে সুদের উপর ঋণ নিয়ে করলে হবে না। 


৫৮.হাজীরা যদি মুসাফির থাকে তখন তাদের উপর কুরবানী কি ওয়াজিব?

উঃ- না। 


৫৯.পাগল পশু ধারা কুরবানী কি হবে?

উঃ- না। 


৬০.নবী কারীম সাঃ এর পক্ষ থেকে কুরবানী করা কি?

উঃ- উত্তম সামার্থ্যবান দের জন্য। 

এটার গোশত সবায় খেতে পারবে। 


৬১.খাসি কৃত পশু ধারা কুরবানী করা যাবে কি?

উঃ- হ্যা 


৬২.বিদেশে অবস্থানে  ব্যক্তির করনীয় কি?

উঃ- উনার পক্ষ থেকে দেশে কুরবানী দিলেও হবে


৬৩.পশুর চামড়া কি নিজে ব্যবহার করা যাবে?

উঃ- হ্যা,তবে বিক্রি করলে  টাকা সদকা করতে হবে। 


৬৪.জবাই কারী কে পারিশ্রমিক দিতে হবে কি?

উঃ  উত্তম হাদিয়া দেওয়া।  


৬৫.কুরবানীর দিনে মুরগী হাঁস জবাই করা যাবে কি?

উঃ- যাবে, তবে কুরবানী নিয়তে করা যাবে না। 


৬৬. জীবিত ব্যক্তির পক্ষ হতে কুরবানী করা যাবে কি?

উঃ- হ্যা যাবে।


আলহামদুলিল্লাহ এই হলো ৬৬ টি মাসায়ালা

আল্লাহ সকল কে সঠিক নিয়ম মেনে কুরবানী করার তৌফিক দান করুন আমিন।

প্রাণিসম্পদ থেকে নন-ক্যাডার ২ বছর, তারপর ক্যাডার

 যখন সরকারি চাকুরি (প্রাণিসম্পদে) করেও দিনে গড়ে ১২ ঘন্টা পড়তাম! (24 May 2019 অফিসে তোলা ছবি)


প্রাণিসম্পদ থেকে নন-ক্যাডার ২ বছর, তারপর ক্যাডার


এছাড়া জব+পড়ার পাশাপাশি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৪৯৫ উপজেলা ভ্রমণ করেছি | একটা Subscribe করবেনঃ

https://www.youtube.com/@mahbuborrashid


আপনার মাথায় যদি ক্যাডার / ভালো সরকারি চাকুরির স্বপ্ন থাকে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগে আপনি স্বস্তি পাবেন না! আপনি ক্যাডার হতে চান আবার ফেসবুকেও পড়ে থাকেন তাহলে ১০০% নিশ্চিত আপনি নিজেই নিজের সাথে প্রতারণা করতেছেন!


অনেকে বলে আমার ডাটা অন থাকে, আমি ফেসবুকে কিছুই করি না! বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই এটা সত্য তবে মোবাইল চুম্বকের মত আকর্ষণ করে | কোনো কারণ ছাড়াই বারবার স্ক্রল করতে ইচ্ছে করে, ইনবক্স চেক করতে ইচ্ছে করে | তাই পড়ার সময় মোবাইল হাতের সীমানায় তো দূরে থাক, চোখের সীমানায়ও রাখা যাবে না, না, না | নয়তো মোবাইল আপনাকে ডাকবে, আয় আমাকে দেখ, আরে কতোক্ষণ দেখোস না, দেখ দেখ..... আসলেই কিছু নেই তবু দেখতে ইচ্ছে করবে, এ এক অজানা টান!!


এমনটা আমাদেরও হতো, তবু যেকোনোভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতাম | এডিকটেড হয়ে গ্রামের বাড়িতে এন্ড্রয়েড রেখে আসছি এমনটাও করছি | তা সম্ভব না হলে ফোন ড্রয়ারে তালা মেরে রাখুন বা lock my phone এপ ব্যবহার করতে পারেন | তাহলে যত ঘন্টার জন্য ফোন লক করবেন তার আগে ফোন খুলতে পারবেন না (কল/মেসেজ যাবে আসবে)


অনেকের অভিযোগ পড়তে ভালো লাগে না! এর সমাধান হলো "পড়াকে ভালোবাসা" (পড়া মানে নতুন কিছু জানা, পড়বেন মানেই নতুন কিছু জানবেন) পড়ার উদ্দেশ্য "জানা" জানলে শিখাও হলো, জবও হলো |


তাই যেকোনো উপায়ে মোবাইল আসক্তি ছাড়ুন, জীবনে মোবাইল ফেসবুক চালানোর অফুরান সময় পাবেন | ৩০ বছর এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত আর্থিক নিশ্চিন্তে কাটাতে ৩ টা বছর কষ্ট করতেই হবে!


রুটিন করলে মানতে পারবেন না (আমি পারতাম না) সময় পেলেই পড়তাম এটাই রুটিন (ঘড়ি ধরে বা রুটিন করে নয়) সেটা গড়ে ১২ ঘণ্টা হতে পারে [সরকারি অফিসে কাজের কোনো চাপ নেই, কাজের ফাঁকে ফাঁকে পড়তাম] আপনি মোবাইল এডিকটেড হলে এভাবে "সময় পেলেই পড়বেন" এটা পারবেন না বরং আপনি ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোন ৪/৬/৮ ঘন্টা পড়বেন জাস্ট ওটা ঠিক করেন |


পড়ার জন্য নির্দিষ্ট করা ঐ ৪/৬/৮ ঘন্টা ভুল করেও ফোন ধরা যাবে না, বাকি সময় ফেসবুকে ঢুকে বা কারো ইনবক্সে ঘুমিয়ে থাকুন 🛌


ফোন ধরার কুফল প্রতিবার পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়ার পর কিছুটা অনুধাবন করা উচিত! বিসিএসের ক্ষেত্রে একটা প্রিলি ফেল করা মানে আপনার জীবন থেকে ১ বছর শেষ! এর সাথে পরিবার, বিয়ে, সন্তান অনেককিছুই জড়িত | আপনি হয়তো ভাবেন জব একদিন হবেই! (কয়েক বছর পর বা শেষ বয়সে) মনে রাখবেন প্রতি জুলাই মাসে সরকারি চাকুরির বেতন বাড়ে | আপনি যতো আগে ঢুকবেন অন্যদের থেকে বেতনে ততো এগিয়ে থাকবেন | যতো আগে জব হবে অত বেশি বছর চাকুরি করতে পারবেন, শেষ বয়সের দিকে অনেক বেশি বেতন, অনেক বেশি এককালীন & আমৃত্যু পেনশন পাবেন |


495 Upazilas 395 Pic (Click Mahbub Or Rashid)


https://www.facebook.com/100064278236575/posts/1069292655223332/?app=fbl


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কয়েকটা সরকারি চাকুরি & বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বিসিএসের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি তথা সরকারি চাকুরি পাওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইনের জন্য পড়তে পারেনঃ


এটা "৪১তম বিসিএস প্রিলি প্রস্তুতি" পোস্ট (আমার টাইমলাইনে ২০১৯ সালের পোস্ট) তখন আমি নিজেও ৪১তম বিসিএস প্রার্থী! তবে আমার পূর্ণ বিশ্বাস ছিলো ক্যাডার হবোই তাই এমন পোস্ট করার সাহস করি!! aLHaMDuLiLLaH ৪১তম বিসিএস থেকেই আমার প্রিয় ক্যাডার (শিক্ষা ক্যাডারে) "ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজ" যোগদান করি ২৮ এপ্রিল ২০২৪ |


এর আগে যখন সরকারি মাধ্যমিকে নন-ক্যাডার শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় আমি নিজেই প্রার্থী হয়েও পোস্ট করেছি "কীভাবে সরকারি মাধ্যমিকে চাকুরি পেতে হবে" & তা করে দেখিয়েছি (২ বছর ২ মাস ২০ দিন সরকারি হাইস্কুলে ছিলাম)


তার আগে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ছিলাম (অনার্স কমপ্লিটের ৬ মাসের মধ্যে সরকারি জবে যোগদান করি)


যাহোক প্রথমত বিশ্বাস করুন "আমি পারবোই" আসলে সরকারি চাকুরি পাওয়া কোনো ব্যাপারই না, শুধু বিশ্বাস & "সঠিক উপায়ে" "সামান্য" চেষ্টা দরকার |


সবকিছু মনে রাখতে হবে?

-  না | আমরা যখন কোনো বই পড়ি ৯০% ভুলে যাই, হয়তো ১০% মনে থাকে | এই ১০% ই আপনার সম্পদ | পরের বার শুধু দাগানো অংশ পড়লেই ২০%, ৩০% এভাবেই জ্ঞানভাণ্ডার বাড়তে থাকবে!


রুটিন করবেন কিনা?

- আপনি যদি সবসময় নির্দিষ্ট জায়গায়, নির্দিষ্ট কর্মে আবদ্ধ থাকেন তবে রুটিন করতে পারেন | আমি রুটিন করে পড়তে পারিনি, রুটিন করলে ২/৩ দিন পরেই রুটিন শেষ!! যতটুকু ফ্রি সময় পাবেন ততটুকু কাজে লাগাতে চেষ্টা করবেন, এটাই রুটিন!


সরকারি চাকুরির জন্য পড়বেন বাট কোনটা দিয়ে শুরু করবেন??

- আপনি যদি সত্যিই সরকারি জব চান তবে আপনাকে অন্তত ৫টা বই কিনতে হবে | বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান একটা করে & জব সলুয়েশন | আগে সহজ (জিকে) দিয়েই শুরু করুন | ক্রমান্বয়ে বাকিগুলো পড়ুন | এক দিনে কখনো ২ সাবজেক্টের বেশি পড়বেন না (১টা পড়াই বেস্ট)


জব সলুয়েশন পড়া জরুরি কিনা?

- জব সলুয়েশনে আগের বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নের ব্যাখ্যাসহ সমাধান থাকে | আমি জব সলুয়েশন পড়িনি কারণ বিষয়ভিত্তিক বইগুলোর প্রতিটি অধ্যায় শেষেই বিগত প্রশ্ন থাকে | তবু সব প্রশ্ন একত্রে পেতে জব সলুয়েশন পড়তে পারেন (২/১ বছর পুরাতন হলেও চলবে)


সাজেশন দেয়ার কোনো যোগ্যতা আমার নেই তবু অনেকে বিসিএস প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চান | যেহেতু ৪১ থেকে শিক্ষা ক্যডারে কর্মরত, ৪৩/৪৪ ভাইভার সুযোগ পেয়েও দেইনি (শিক্ষা ক্যাডার বেস্ট) সেহেতু কিছু লিখছি.... (এখনও বয়স আছে)


প্রথমত, জবের পড়া কি অসীম কিছু? নিশ্চয়ই না |

মনে করুন বাংলা গ্রামারে কয়টা অধ্যায়? ধরলাম ৩০টা | তো আপনি যদি ২ দিনেও মাত্র ১টা অধ্যায় পড়েন তাহলে ২ মাসে বই শেষ! (অবশ্যই মোবাইল দূরে রেখে পড়তে হবে) তেমনি গণিতে ৩০টা অধ্যায় ২ মাসেই তো শেষ হয়ে যায়, ইংরেজীও সেইম | তাহলে আপনি পড়াকে, সরকারি জব পাওয়াকে অসীম মনে করবেন কেনো? এর পরিধি একদম সামান্য | আসলে আমরা পড়ি না | পড়লে সরকারি জব কোনো ব্যাপারই না, খুব ইজি.....


হ্যাঁ, সাধারণ জ্ঞানের পড়া অনেক, তবে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই | কারণ বিগত বিসিএস বা যেকোনো পরীক্ষার প্রশ্ন দেখুন ৮০-৯০% প্রশ্ন আসে স্থায়ী জিকে থেকে, সামান্য কিছু সাম্প্রতিক থাকে | অনুরোধ করবো এ সামান্য কিছুর জন্য অযথা সময় নষ্ট করবেন না | আপনার চাকুরির প্রধান পড়া গণিত, ইংরেজি, বাংলা | সাধারণ জ্ঞান পড়ুন বা না পড়ুন পরীক্ষায় সবার প্রাপ্ত নাম্বার কাছাকাছি থাকে | চাকুরি পাওয়া না পাওয়া নির্ভর করে গণিত ও ইংরেজির উপর | সাধারণ জ্ঞান যেগুলো "বারবার পরীক্ষায় আসে" সেগুলো মোটামুটি সব পারা উচিত, আর সাম্প্রতিক শুধু পরীক্ষার সময় পড়বেন (রিসেন্ট ভিউ পড়তাম আমি)


প্রিলির জন্য যাদের আগে থেকে ভালো প্রস্ততি আছে তাদের জন্য বিষয়টা সহজ (পড়তেও হয় না) একদম নতুনদের জন্য কঠিন | আমি প্রিলির জন্য প্রতি বিষয়ের অন্তত ৪/৫টা করে বই রিডিং পড়েছি (দাগিয়ে) সার্বিকভাবে যে বইগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হলো শুধু সেগুলোই উল্লেখ করলামঃ


® বাংলা লিটারেচার = ওরাকল গাইড (পাশাপাশি অগ্রদূত দেখতে পারেন) [টার্গেট ১৪/২০]


® বাংলা গ্রামার = নবম বোর্ড বই (পাশাপাশি ওরাকলেরই গ্রামার অংশ) [টার্গেট ৮/১৫]


® ইংরেজী গ্রামার = প্রফেসরস/মাস্টার (যেকোনো একটা হলেই চলবে) (টার্গেট ১০/২০)


® ইংরেজী লিটারেচার = শরীফ স্যারের হ্যান্ডবুক (পাশাপাশি জয়কলি) [টার্গেট ১০/১৫]


® বাংলাদেশ বিষয়াবলী = কনফিডেন্স (পাশাপাশি জুবায়েরস জিকে) [টার্গেট ২০/৩০]


® আন্তর্জাতিক = কনফিডেন্স (পাশাপাশি রিসেন্ট ভিউ) [টার্গেট ১২/২০]


® ভূগোল = নবম বোর্ড বই (পাশাপাশি জর্জ) [টার্গেট ৬/১০]


® বিজ্ঞান = নবম বোর্ড বই (পাশাপাশি জর্জ) [টার্গেট ৮/১৫]


® ICT = এইচএসসি আইসিটি বই (পাশাপাশি সেল্ফ সাজেশন) [টার্গেট ৮/১৫]


® গণিত = খায়রুলস বেসিক ম্যাথ (একটাতেই চলবে) [টার্গেট ১০/১৫]


® মানসিক = এসিউরেন্স রিটেন (একটা পড়লেই প্রিলি, রিটেন হয়ে যাবে) [টার্গেট ১১/১৫]


® সুশাসন = পৌরনীতি দ্বিতীয় পত্র বই (পাশাপাশি যেকোনো গাইড!) [টার্গেট ৩/১০]


® জিস্ট হিসেবে ইনসেপশন/এসিউরেন্স ডাইজেস্ট পড়তে পারেন


® মডেল টেস্ট করলেও অনেক উপকৃত হবেন | আমি ৫টা করেছিলাম (প্রফেসরস, কনফিডেন্স, জ্ঞানদ্বীপ, ওরাকল, অদিতি) মডেল টেস্ট বা যেকোনো mcq পড়ার আমার উদ্ভাবিত নিয়মঃ পড়ার সময় যে প্রশ্নগুলো আপনার চাকুরির আবেদনের বয়স শেষ না হওয়া পর্যন্ত পারবেন ১০০% নিশ্চিত সেগুলো ক্রস দিয়ে দিবেন, তাহলে পড়া অনেক কমে যাবে  | যতোবার পড়বেন এ নিয়ম ফলো করবেন & পড়া কমতে থাকবে |


এখানে ১২০ মার্কসের টার্গেট দেখানো হলো | আপনাকে সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হবে | বই আমাদের সবার কাছেই আছে | কারো কাছে যদি অন্যান্য বই থাকে পড়তে পারেন তবে আর্থিক সমস্যা না থাকলে উপর্যুক্ত বইগুলোও কিনুন | বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না, প্রতিটা বই থেকে কিছু না কিছু শিখার আছে | তবে বেশি বেশি বই পড়ার চেয়ে "বুঝে পড়া" এবং একই বই বারবার "রিভিশন" দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ | প্রথমবার পড়ার সময় অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই ২টা ম্যাপ রাখবেন & ভাববেন কি পড়তেছেন, বাস্তবতা মিলাবেন, গুরুত্বপূর্ণ লাইন অবশ্যই লাল দাগ করে যাবেন, রিভিশন দেয়ার সময় শুধু দাগাঙ্কিত অংশ পড়বেন (তখন না বুঝলে আবার পুরা প্যারা পড়বেন) মাসিক কারেন্ট এফেয়ার্সের পাশাপাশি দৈনিক পত্রিকা পড়ার চেষ্টা করবেন |


আপনি কোথায় কোন বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স করেছেন সেটা কোনোভাবেই পরিবর্তন করতে পারবেন না! তাই অতীত বাদ দিন, পুরোপুরি বাদ (আমার HSC gpa 3.50) মনে রাখবেন কিছু এক্সটা মেধাবী ব্যতীত আমাদের সবার মেধা একই! একটু চেষ্টা করুন, আপনিও পারবেন | জেনারেল লাইনে পড়ুয়াদের সামনে বিসিএস ছাড়া তেমন কোনো পথ নেই (বিশেষত আমরা যারা ব্যাংকে পরীক্ষা দেই না) যদি ক্যাডার হতে চান তবে সারাক্ষণ মনে রাখবেন "আমাকে ক্যাডার হতে হবে, হতে হবে মানে হতেই হবে"


শুধু খাওয়া, পরা ঘুমানোর নাম জীবন নয়, জীবনে আরো অনেক কিছু আছে.... জীবন উপভোগের বিষয় | সরকারি জব হলে মেয়েদের একটা আত্মপরিচয় তৈরী হয়, সমাজে মূল্যায়িত হয়, নিজের ইচ্ছেমত টাকা খরচ করতে পারে | সৃষ্টিকর্তা ভাগ্য লিখে রাখছে ঠিক তবে নিশ্চয়ই সেটা দুভাবে পরিবর্তনযোগ্য (১) প্রচেষ্টা (২) দোয়া | তাই আপনার ভবিষ্যত জীবন কেমন হবে সেটা আপনার হাতেই..... আপনার জীবনকে সুন্দর করতে চাইলে আজই, ঠিক আজই সিরিয়াস হোন | কাল, পরশু করে করে সময় চলে যাবে |


মোটিভেশন দিতে যোগ্যতা লাগে, তার বিন্দুমাত্র আমার নেই | সত্যিকারার্থে মোটিভেশন মানুষের তেমন কাজে লাগে না | এই লেখা এখন পড়ছেন, আগামীকালই ভুলে যাবেন | তাই জীবনকে সুন্দর করতে হলে নিজের মোটিভেশন নিজেকেই তৈরী করতে হবে | পৃথিবীতে এমন কোনো কথা নেই যেটা দিয়ে কেউ আপনাকে বুঝাতে পারবে যদি আপনি নিজে না বুঝেন!! এখনি সিদ্ধান্ত নিন আপনার ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হবে | মোটিভেশন নিন আপনার মা-বাবার চেহারা থেকে | একবার ভাবুন, আপনার একটা ভালো জব হলে তারা কতোটা খুশি হবেন | বাবার যতোই টাকা থাকুক নিজে ইনকাম করে বাবা মায়ের হাতে টাকা দিন | মেয়েরা নিজ ইনকামের টাকায় বাবাকে পাঞ্জাবী, মাকে শাড়ি কিনে দিন | এর থেকে বড় সুখ আর নাই | যতদিন ফেসবুক+বন্ধুবান্ধব এই ২টা ছাড়তে পারবেন না, ততদিন ভালো কিছু করতে পারবেন না | ফেসবুকে আসবেন শুধু খবরাখবর দেখার জন্য | চ্যাটিং নিষিদ্ধ! নিজে কিছু হবেন, দেখবেন ছেলেরা/মেয়েরা সিরিয়াল দিবে | যারা আলেম, ডাক্তার, প্রকৌশলী, বৈজ্ঞানিক কিছুই হতে পারিনি তারাও যখন নিজেরটা নিজে বুঝবেন "সমাজের জন্য কিছু করতে হলে নিজেকে কিছু হতেই হবে" এই ভাবনা যখন নিজে তৈরী করে নিতে পারবেন তখন আপনার মাথায় শুধু কাজ করবে পড়া, পড়া, পড়া! অথবা আমার মত ভ্রমণপাগল হলেও ভালো জবের (টাকা) বিকল্প নাই!


বয়স ৩২ হলে পিছনে তাকিয়ে দেখবেন চাকুরি না হওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ "মোবাইল" তাই

আপনার সফলতার পিছনে সবচেয়ে বড় বাধা মোবাইলটাকে যেকোনো মূল্যে, যেকোনো মূল্যে সরিয়ে দিন (দিনে ১ ঘন্টা বরাদ্দ রাখবেন) জানি মোবাইল সরিয়ে থাকতে পারবেন না | তাই লগইন করলেও টাইমলাইনে ২ মিনিট চোখ বুলিয়ে মেসেজগুলো দেখা শেষে "আমার সব পড়া রয়ে গেছে" ভেবে দ্রুত ডাটা অফ করে দিবেন | নামমাত্র প্রস্তুতি নিয়ে কোনো পরীক্ষায় টিকবেন না, ভালো প্রস্তুতি নিলে সব পরীক্ষায় টিকবেন |


বেসিক জ্ঞান অর্জনের পর মডেল টেস্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! বাসায় মডেল টেস্ট করবেন | ১টা ১টা প্রশ্ন পড়ে মনে মনে উত্তর বলে তারপর মিলাবেন | যেসব প্রশ্ন ১০০% পারবেন সেগুলো ক্রস করে দিবেন তাহলে পরীক্ষার ঘনিয়ে আসলে শুধু না পারা গুলো পড়া যাবে | বেশি বেশি মডেল টেস্ট না করলে পরীক্ষার হলে শুধু কনফিউশন সৃষ্টি হবে |


বিসিএস পরীক্ষার্থী? কাজের ফাঁকে ফাঁকে পড়া নয় বরং পড়ার ফাঁকে ফাঁকে শুধু জরুরী কাজ.............


সিদ্ধান্ত নিন কী করবেন? বিদেশ, ব্যবসা নাকি জব?

যদি জব করতে চান তবে সরকারি জব কেনো করবেন না? (যেহেতু সরকারি জব পাওয়া খুব সহজ) আপনি শূন্য থেকে হোন কিংবা হয়তো অল্পের জন্য জব হয় না | সব ঘাটতি পূরণে আমার লাইভ ক্লাস করতে পারেন | ইনশাআল্লাহ অনেক উপকৃত হবেন |


[সরকারি প্রাথমিক / সরকারি মাধ্যমিক (নন-ক্যাডার) / স্কুল নিবন্ধন / কলেজ নিবন্ধন ফুল সিলেবাস মাত্র ১ হাজার টাকায় ফেসবুক লাইভে পড়াই & নিয়মিত পরীক্ষা নেই (সিক্রেট গ্রুপে) একবার ভর্তি হলে চাকুরি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস করতে পারবেন | এড হতে নক দিবেন হোটসএপে 01872-665371 ]


প্রতি বছর প্রাথমিকের বিজ্ঞপ্তি দিলে নতুন ব্যাচ শুরু করি (গণিত, ইংরেজি, বাংলা, জিকে প্রাইমারি & বিসিএসের সব টপিকস ভেঙ্গে ভেঙ্গে বুঝিয়ে পড়াই, বিশেষত মনে রাখার টেকনিক শিখাই + নোট করাই) হয়ে যাওয়া সব ক্লাস+এক্সাম সিরিয়ালি রেকর্ড থাকে | সবগুলো ক্লাস করলে ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবেই হবে |


সব কথার শেষ কথাঃ পড়ার জন্য দিনে ৪/৬/৮ ঘন্টা ফিক্সড করুন | বাকি ২০ ঘন্টা যা খুশি করবেন, ফেসবুকে বসে শুয়ে ঘুমিয়ে থাকবেন তবে ঐ ৪ ঘন্টা কোনোভাবেই মোবাইল ধরা যাবে না | তবেই সফল হবেন | 


দুইটা ম্যাপ কিনে আজই পড়াশোনা শুরু করুন... আর যে বই পড়বেন তার পৃষ্ঠা সংখ্যাকে ৩০ বা ৬০ দিয়ে ভাগ করে দিনে তত পৃষ্ঠা পড়তে হবে | নয়তো দিন মাস বছর যাব তবু বই শেষ হবে না.......


পোস্টে আপনার বন্ধুবান্ধবকে মেনশন করতে পারেন |

অভিজ্ঞতা শেয়ারের "প্রয়োজন" মনে করলে যেকোনো সময় নির্দ্বিধায় হোটসএপে  01872665371 মেসেজ করতে পারেন বা কল দিতে পারেন | আমি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে দেশের ৬৪ জেলার পুরো ৪৯৫টি উপজেলাই এক্সপ্লোর করেছি! সারা বাংলাদেশের প্রতিটা উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, জনজীবন সংক্রান্ত তথ্য পেতে (স্বল্প খরচে দেশের ৪৯৫ উপজেলা ও অন্তত ২০+ দেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত ভ্লগ করবো) & সরকারি জব সংক্রান্ত আপডেট তথ্য পেতে মাহবুব অর রশিদ কে follow করতে পারেন!


উল্লেখ্য, একাডেমিক বা চাকুরির জন্য কখনো কোনো প্রাইভেট/ব্যাচ/কোচিং করিনি |


আচ্ছা আপনার উপজেলা কোনটি? নিচের লিংকের পোস্টে আমার তোলা আপনার জেলা+উপজেলার ছবি রয়েছে, ঐ ছবিতে রিপ্লাই করলে আপনার এলাকায় আপনার সাথে চা খাবো inshaAllah!

https://www.facebook.com/100064278236575/posts/1069292655223332/?app=fbl


আমার ইউটিউব চ্যানেলে শিক্ষামূলক & ভ্রমণের অনেক ভিডিও পাবেনঃ একটা Subscribe করবেন please!

https://www.youtube.com/@mahbuborrashid


#BCS #BCSBooks #bcspreparation


#BCS #bcspreparation #jobpreparation #facebook #phone #আসক্তি

রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫

অরুণিকা লেখিকা_সামিয়া_বিনতে_হামিদ ||পর্ব-৪৩|| 

 #অরুণিকা

#লেখিকা_সামিয়া_বিনতে_হামিদ

||পর্ব-৪৩|| 

৭৩.

হলুদ শাড়ি আর ফুলের গহনার আবরণের ঢাকা পড়ে গেছে একটা বিধ্বস্ত মন। পিঁড়িতে পুতুলের মতো বসে আছে শতাব্দী। সবাই একে একে এসে তার গায়ে হলুদ লাগিয়ে দিচ্ছে, আর তার দেহটা যেন সেই হলুদের স্পর্শে শিউরে উঠছে। সে নিজেও জানে না সে কোন ভাবনায় ডুবে আছে। কিছু এলোমেলো আলোছায়া তার মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই আলোছায়ার ভীড়ে ভেসে উঠছে প্রথম দেখা তাহমিদের সেই বিরক্তিমাখা মুখ, রোদে রাঙা হয়ে যাওয়া গাল, অসহায় চোখ, প্রশান্তির হাসি। এসব ভাবতে ভাবতেই তার চোখ দু'টি ছলছল করে উঠলো। এতোক্ষণ তার চোখ জোড়া পায়ের নখের দিকেই স্থির ছিল, এবার সে চোখ জোড়া উপরে তুলতেই সভার ভীড়ে সবুজ পাঞ্জাবি পরা সেই ছেলেকে দেখতে পেলো, যাকে সে এতোক্ষণ মনের আলোছায়ার ভীড়ে খুঁজছিল।

এদিকে তূর্য আর অরুণিকা শতাব্দীর সামনে এসে দাঁড়ালো। অরুণিকা হাঁটু গেড়ে বসে বলল,

"শতাব্দী দিদি, তুমি আমাদের ফেলে চলে যাবে?" 

অরুণিকার মুখে 'শতাব্দী দিদি' ডাকটা শুনে শতাব্দীর ভেতরটা আরো খালি হয়ে গেলো। শতাব্দী কাঁপা কন্ঠে বললো,

"ছোট সখী, এভাবে পর করে দিলে আমায়? আমাকে শতু আপু ডাকবে না?" 

অরুণিকা তূর্যের দিকে একবার তাকালো, তারপর বলল,

"আমি তো চেয়েছি তোমাকে আমার আপু করে নিয়ে যেতে। তুমিই তো দিদি হয়ে গেলে। কি হতো তাহমিদকে বিয়ে করলে? তুমি সবসময় আমার সাথেই থাকতে পারতে।" 

তূর্য অরুণিকার হাত ধরে ইশারায় তাকে চুপ থাকতে বললো। শতাব্দী মলিন হেসে বলল,

"আমার তো আপু হওয়ার যোগ্যতা ছিল না। ঈশ্বর এটাই চেয়েছিলেন। উনি আমাকে তোমার দিদি বানিয়েই পাঠিয়েছিলেন।" 

আহনাফ তূর্যের পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলল,

"কংগ্রাচুলেশন। নতুন জীবন সুখের হোক।" 

শ্রীজা এসে অরুণিকার হাত ধরে বলল,

"দিদিকে হলুদ লাগিয়ে দাও।" 

অরুণিকা হলুদ লাগিয়ে দিয়ে শতাব্দীকে বলল,

"জানো, কাল আমি তাহমিদকে প্রথম কাঁদতে দেখেছি।" 

শতাব্দী চোখ বড় বড় করে অরুণিকার দিকে তাকালো। অরুণিকা আবার বলল,

"ও কারো সামনে কাঁদে না। ওয়াশরুমে গিয়ে কাঁদে। ওর চোখ অনেক লাল হয়ে যায়। সায়ন্তনী আপু মারা যাওয়ার পর আরাফ যেভাবে কাঁদতো, এখন ঠিক সেভাবেই তাহমিদ কাঁদে। আমি আগে কখনো তাহমিদকে কাঁদতে দেখি না। ও কেন কাঁদে জানো?" 

শতাব্দীর‍ গলায় কিছু একটা আটকে যাচ্ছিল। সে কোনো শব্দ বের কর‍তে পারছিলো না। তবুও অনেক কষ্টে অরুণিকার হাত ধরে কাঁপা কন্ঠে বলল,

"বলো না সখী। শুনতে পারবো না।" 

অরুণিকা আরো কিছু বলতে যাবে তখনই আহনাফ বলল,

"অরু, এদিকে আসো।" 

অরুণিকা নামতেই আহনাফ তার হাত ধরে অন্যদিকে নিয়ে গিয়ে বলল,

"শতাব্দীকে তাহমিদের ব্যাপারে কোনো কথা বলবে না!" 

"কেন?" 

"তুমি এসব বুঝবে না। এখন এসব বললে ঝামেলা হবে। তুমি কি চাও কোনো ঝামেলা হোক?" 

"না, আমি কেন চাইবো? আমি তো চাই, ওরা দু'জন...!" 

আহনাফ অরুণিকাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,

"তোমাকে প্রেম গুরু হতে হবে না। তুমি বয়সে অনেক ছোট। আমাদের এসব বুঝার যথেষ্ট বয়স হয়েছে। যেখানে আমরা চুপ করে আছি, সেখানে তোমাকে বুঝতে হবে, এটা সম্ভব না, তাই আমরা চুপ করে আছি।" 

এদিকে ইমন আর মাওশিয়াত শতাব্দীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একপাশে গিয়ে বসলো। ইভান মেহমানদের খাওয়া-দাওয়ার দেখাশুনায় মাস্টারমশাইকে সাহায্য করছে। আরাফ তাহমিদের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। তাহমিদ দূর থেকেই শতাব্দীর দিকে তাকিয়ে আছে। অনেকক্ষণ পর তূর্য এসে বলল,

"তুই শতাব্দীর সাথে কথা বলবি না?" 

তাহমিদ মাথা নেড়ে সামনে পা বাড়ালো। তাহমিদ কাছাকাছি যেতেই শতাব্দী পিঁড়ি থেকে উঠে দাঁড়ালো। তার মা কাছে আসতেই সে বলল,

"মা, স্নান করিয়ে দাও। গা জ্বলছে।" 

শতাব্দী ভেতরে চলে যেতেই তাহমিদ অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো। শ্রীজা হঠাৎ কোথা থেকে এসে তাহমিদের হাতে একটুখানি হলুদ লাগিয়ে দিলো। তাহমিদ সাথে সাথেই চমকে উঠলো। শ্রীজা বলল,

"শুনেছি, কনের গায়ে লাগানো হলুদ তার বরের গায়েই লাগে। যদিও এটা কতোখানি সত্য তা আমি জানি না। কিন্তু যদি সত্য হয়, তাহলে দেখবে তুমিই আমার দাদা হবে।" 

তাহমিদ পকেট থেকে রোমাল বের করে হলুদগুলো মুছে নিলো। শ্রীজা তা দেখে বলল,

"দাদা, দিদি তোমাকে অনেক ভালোবাসে। তুমি দিদিকে নিয়ে পালিয়ে যাও। তোমরা তো দেশে চলে যাবে। ওখানে নিয়ে গেলে এরা আর দিদিকে খুঁজে পাবে না।" 

তাহমিদ কোনো উত্তর দিলো না। শ্রীজা মলিন হেসে বলল,

"দিদি ঠিকই বলেছে, তুমি তোমার কষ্ট লুকিয়ে রাখতে পারো না। তোমার চোখ দেখলেই সব বোঝা যায়।" 

তাহমিদ চোখ বড় বড় করে শ্রীজার দিকে তাকালো। শ্রীজা আবার বলল,

"সবার চোখেই হাসি। শুধু তোমার চোখে বিষন্নতা। কেন দাদা? তুমি কষ্ট পাচ্ছো, তাই তো!" 

"এমন কিছুই না।" 

তাহমিদ কথাটি বলেই সরে গেলো। তারপর আরাফের সামনে এসে বলল,

"আমি বাসায় যাচ্ছি।" 

আরাফও তাহমিদকে আটকাতে পারছিলো না। সে ইভানকে এসে বলল,

"আমি তাহমিদের সাথে বাসায় চলে যাচ্ছি।" 

এদিকে ইভান অতিথিদের সাথে কুশল বিনিময় করার সময় খেয়াল করল, একটা অর্ধ বয়ষ্ক লোক বাইরের চেয়ারে বসে খুব মনোযোগ দিয়ে ইমন আর মাওশিয়াতের দিকে তাকিয়ে আছে। ইভান কিছুটা সামনে এগুতেই সালেহ আলী তার সামনে এসে দাঁড়ালো। ইভান তাকে দেখেই বলল,

"কেমন আছেন, চাচা?" 

সালেহ আলী ব্যস্ত কন্ঠে বললেন,

"আমি তো ভালো আছি। তুমি এখানে কি করছো? তুমি আমাদের মেহমান। চলো, ওখানে বসো গিয়ে।" 

সালেহ আলী তাকে টেনে নিতেই সে পেছন ফিরে দেখলো, সেই লোকটি আর সেখানে নেই। ইভানের এবার সন্দেহ হলো। সে সালেহ আলীর সাথে কথা বলার মাঝেই মেসেজ করে বাকিদের বিষয়টা জানিয়ে দিলো। আরাফ ততোক্ষণে তাহমিদকে নিয়ে বাসায় পৌঁছে গেছে। সে দেখলো, ইভান গ্রুপে মেসেজ দিয়েছে,

"কেউ একজন আমাদের উপর নজর রাখছে। অরুণিকার উপর নজর রাখিস।" 

আরাফ মেসেজটি দেখেই তাহমিদকে বলে বাসা থেকে বের হতে যাবে তখনই তাহমিদ এসে দরজা ভালোভাবে আটকে দিলো। আরাফ ভ্রূ কুঁচকে বললো,

"সর। দরজা বন্ধ করে দিয়েছিস কেন? অরুকে আনতে যাবো।" 

তাহমিদ লাইট বন্ধ করে দিয়ে আরাফকে নিয়ে বারান্দায় এলো। আরাফ নিচে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটি দেখে বলল,

"এই গাড়িটা এখানে!" 

"আমরা ওখান থেকে ফেরার সময় এই গাড়িটা আমাদের পিছু নিচ্ছিল। কিন্তু আমি এতোক্ষণ এটা স্বাভাবিক ভাবছিলাম। এখন ইভানের মেসেজ দেখে নিশ্চিত হয়েছি।" 

"কি করবো এখন!" 

"বাসা থেকে বের হতে হবে। ওরা জানে না আমরা ক'তলায় থাকি। কিন্তু এভাবে বের হলে তো চিনে ফেলবে।" 

"কিন্তু সালেহ আলী তো জানে, আমরা কোথায় থাকি, ক'তলায় থাকি। তাহলে আজই কেন আসলো? আর এভাবেই বা কেন পিছু নিলো?" 

হঠাৎ দরজায় বেল বেজে উঠলো। আরাফ আস্তে আস্তে দরজার সামনে গিয়ে পীপহোল দিয়ে দেখলো, একটা কালো কোট পরা লোক দাঁড়িয়ে আছে। তাহমিদ রান্নাঘর থেকে একটা ছুরি নিয়ে এলো। আরাফ ধীরে ধীরে তার রুমে চলে গেলো। রুমে গিয়ে আলমারির ভেতর থেকে একটা পিস্তল বের করে আনলো। তাহমিদ পিস্তলটি দেখে বলল,

"এটা কোথায় পেয়েছিস?" 

"ইভান দিয়েছিল। ওর এক বন্ধুর বাবার পিস্তল। উনি পুলিশে চাকরি করেন।" 

"এটা বেআইনী, আরাফ।" 

"আইন কানুন মেনে চলার সময় এই মুহূর্তে নেই। ইভান এটা সিকিউরিটির জন্য এনেছে। আর এই বিষয়ে আমি আর ও ছাড়া কেউই জানে না।" 

"আচ্ছা, এখানে কি বুলেট আছে?" 

"হ্যাঁ, চারটা আছে।" 

আরাফ পিস্তল নিয়ে দরজার কাছে আসতেই তাহমিদ বলল,

"আরাফ, আগে কখনো পিস্তল চালিয়েছিস?" 

"না।" 

"তাহলে, অভিজ্ঞতা ছাড়া বুলেটসহ পিস্তল হাতে নিয়েছিস কেন? কিভাবে চালাতে হয়, তা তো জানতে হবে।" 

"আরেহ, এটা তো সবাই জানে।" 

"না, ভাই। উল্টাপাল্টা কিছু হয়ে গেলে? দাঁড়া, এক কাজ করি, বিক্রম দাদাকে ফোন দেই।" 

"বিক্রম কে?" 

"অরুণিকার কেইসে যিনি আমাদের সাথে ছিলেন!" 

"তোর উনার সাথে যোগাযোগ আছে?" 

"হ্যাঁ, আছে।" 

"তাহলে, তাড়াতাড়ি ফোন দে।" 

তাহমিদ ফোন দিতেই বিক্রম ফোন রিসিভ করলো। তাহমিদ পুরো ঘটনা খুলে বলতেই তিনি তখনই তার টিম নিয়ে তাদের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। এদিকে লোকটা কিছুক্ষণ পর পর বেল দিচ্ছিল। হুট করে সে কোথায় চলে যাচ্ছে, আবার পাঁচ মিনিট পর পর এসে বেল দিচ্ছে। আরাফ ইভানকে মেসেজ দিয়ে বলে দিলো, বাসায় না আসার জন্য। তাই মাওশিয়াত তার চাচ্চুকে গাড়ি পাঠাতে বললো। আর সেই গাড়ি নিয়ে তারা সোজা মাওশিয়াতের বড় চাচার বাসায় চলে গেলো। মাওশিয়াতের বড় চাচা সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। আর এই মুহূর্তে তার বাসাটাই সবার জন্য নিরাপদ। প্রায় দশ-পনেরো মিনিটের মধ্যে বিক্রম তাহমিদকে ফোন করলো। তাহমিদ বারান্দায় এসে দেখলো বিক্রম তার গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর আগের গাড়িটাও নেই। পুলিশের গাড়ি দেখে হয়তো সেই গাড়িটা চলে গেছে। এরপর বিক্রম তাদের ফ্লোরে এসে তাদের নিয়ে নিচে নামলো, আর তার গাড়িতে করেই তাহমিদ আর আরাফকে মাওশিয়াতের চাচার বাসায় নামিয়ে দিলো।

তারা সবাই গোল হয়ে একটা রুমে বসে আছে। অরুণিকা ঘুমিয়ে পড়েছে। মাওশিয়াত এসে বলল,

"অরুণিকাকে পাশের রুমে শুইয়ে দাও।" 

আরাফ জোর গলায় বলল,

"না। ও ওখানেই থাকুক।" 

"কি বলছো, আরাফ? ও এখন বড় হয়ে গেছে। বাসায় চাচীরা আছে। বড় চাচীই বললো ওকে নিয়ে আসতে।" 

এবার ইমন বলল,

"আরাফ যেতে দে ওকে। মাওশিয়াত থাকবে তো অরুণিকার সাথে।" 

আরাফ আরো জোর গলায় বলল,

"না, বললাম তো। ও এখানেই থাকবে। আমি আর আহনাফ নিচেই ঘুমাবো।" 

মাওশিয়াত বলল,

"না, নিচে কেন থাকবে? পাশে আরেকটা রুম আছে, ওখানে দু'টো বেড পাশাপাশি আছে। তোমরা দু'জন বরং অরুণিকাকে নিয়ে ওখানেই থাকো।" 

এরপর সবাই যার যার রুমে শুয়ে পড়লো। আহনাফ অরুণিকার হাত ধরে বসে আছে। তখন আরাফ বলল,

"আমাদের ওই বাসা ছাড়তে হবে।" 

আহনাফ বলল,

"হ্যাঁ, আর ভাবছি, আমরা অরুকে নিয়েই দেশে ফিরবো। এখানে তুই আর ইভান একা থাকবি। অরুকে কার ভরসায় রেখে যাবি? ওখানে আমরা সবাই থাকবো!" 

"আমি অরুকে কারো ভরসায় ছাড়তে চাচ্ছি না। ওর কিছু হয়ে গেলে?" 

"আমি আছি তো।" 

"আমি তোর উপর বিশ্বাস করতে পারবো না। অরু তোর কথা শুনবেও না। ও শুধু আমার কথায় শুনে।" 

"আচ্ছা, তাহলে ওরা যাক! আমি এখানেই থেকে যাই। তোরা বাইরে থাকলে আমি অরুকে দেখবো।" 

"হুম, সেটাই কর। আর আমাদের শুটিং শিখতে হবে। লাইসেন্স গান লাগবে।" 

এদিকে সকালে এই বিষয়ে কথাবার্তা হতেই তূর্য বলল,

"টুইংকেল না গেলে আমিও এখানে থাকবো।" 

আহনাফ ভ্রূ কুঁচকে বললো,

"ওর সাথে তোর কি!" 

"আমার ওকে ছাড়া ভালো লাগে না। ও আমার মন খারাপের বিনোদন।" 

ইমন বলল,

"আচ্ছা, তাহলে আমরা সবাই একসাথেই দেশে ফিরবো। আরো একবছর অপেক্ষা করি। এই মুহূর্তে আমাদের একসাথে থাকা দরকার। আলাদা হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।" 

ইভান বলল,

"তাহলে আমাদের দ্বিতীয় ধাপটাই আগে শুরু করা উচিত। আপতত বিজনেস দাঁড় করানো উচিত। আর কিছু ট্রেনিং দরকার। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমরা এখনো শক্ত হই নি। তাই এই এক বছরে আগে আমাদের নিজেদের রক্ষা করার মতো ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। তা হোক আর্থিক, বা শারীরিক।" 

এদিকে রহমতুল্লাহর ফোনে কল এলো। কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একজন বলে উঠল,

"কি হলো এটা?" 

রহমতুল্লাহ কাঁপা কন্ঠে বললেন,

"পুরো পরিকল্পনায় নষ্ট হয়ে গেছে, জনাব।" 

"ওরা না ফিরলে আমাদের এতোদিনের পরিকল্পনা নষ্ট হয়ে যাবে।" 

"দেখুন জনাব। হঠাৎ করেই যে এমন কিছু হবে!" 

রহমতুল্লাহকে থামিয়ে লোকটা বলল,

"সব তোমার বোকামীর কারণে হয়েছে।" 

"আমি তো ভেবেছি, ওরা ভয় পেয়ে কলকাতা ছেড়ে দেশে ফিরবে।" 

"হ্যাঁ, কিন্তু এখন তো ওরা দেশেই ফিরবে না বলছে।" 

"কিন্তু জনাব, আপনি কিভাবে নিশ্চিত হয়েছেন যে ওরা দেশেই ফিরছে না?" 

"তুমি কি ভাবছো, ওদের সাথে আমি আমার লোক রাখি নি? ওই ছ'জনের প্রতি পদক্ষেপের খবর আমার কাছে আছে। আমার লোক সবসময় ওদের সাথেই থাকে। ওরা যে তোমার উপর সন্দেহ করে দেশে এসেছিল একমাসের জন্য এটাও আমার লোকেই বলেছে। ভাগ্যিস সব আগেই জানতে পেরেছি, নয়তো ওরা জেনে যেতো, তুমি আমার লোক। এখন ওরা তা-ই দেখেছে, যা আমি দেখিয়েছি। ওরা এখন মুরশিদ জুবাইয়েরকেই সন্দেহ করছে।" 

"কিন্তু জনাব, লোকটা কে যে আপনাকে এসব খবর দিচ্ছে!" 

"তোমার এসব না জানলেও চলবে। এখন যা করার, আগে ওদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করো। ওদের দেশে আনার ব্যবস্থা করো। নয়তো সেই ছ'টা বুলেট তোমাকেই বিদ্ধ করবে।"

চলবে-

বাবা মায়ের অনুভূতিটুকু অনুভবেই বুঝে নেন। কলমে: সরজিৎ ঘোষ। Sarajit Ghosh

 আজ সকালে বাজারের ব্যাগ হাতে আমাকেই বেরোতে হলো। 'আমাকেই বেরোতে হল' কথাটা এই কারণেই বললাম সকালের বাজার করার দায়িত্ব আমার মায়ের। মা নিজে হাতে বাজার করবে, সে সবজিই হোক বা মাছ। বাড়িতে ফ্রিজ থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন বাজারে যাবেই। মায়ের বক্তব্য ফ্রিজে মাছ সবজি রাখার থেকে প্রতিদিন  টাটকা জিনিস খাওয়াই ভালো।


তো আজ আর মা যেতে পারল না। শুধু আজ নয়, গত দু'তিন দিন মা আর যেতে পারছেই না। সমস্যা চোখে। ডান চোখে দেখতে পাচ্ছে না। বাম চোখটাও আবছা দেখছে। ডাক্তার দেখানো হয়েছে। এর আগে অবশ্য ছানি অপারেশন হয়েছে। ডাক্তার বাবু বললেন, চোখে ইঞ্জেকশন দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ইঞ্জেকশন দিতে গিয়ে দেখা গেল আর এক সমস্যা‌। সুগার লেভেলটা একটু হাই। তাই সুগার কমাতে হবে। যে ডাক্তার বাবুর ট্রিটমেন্টে মা থাকেন উনি আর একটা ওষুধ বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, এতে সুগারটা কমবে। তারপর ইঞ্জেকশনটা নিতে পারবেন। সেই ভাবেই সমস্ত ওষুধ চলছে  গত চার পাঁচদিন। তো আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই মা আক্ষেপ করে বলল,


-মনে হয় আমি আর কোনো দিন বাজার যেতে পারব না। এবার থেকে তুই বাজার করে নিয়ে আসবি। 


মাকে আশ্বস্ত করে বললাম, তুমিই যাবে। কিছুদিন রেস্টে থাকো। চোখ ঠিক হয়ে গেলে, তুমিই বাজার করবে নিজে হাতে‌।


বুঝতে পারছিলাম মায়ের কষ্টটা। এই বয়সে এসে মা নিজের পায়ে হেঁটে, নিজে হাতে দেখে, সবজি কেনা, মাছ কেনা, পাঁচটা মানুষের সাথে কথা বলা, এর মধ্যে রয়েছে মায়ের ভালো থাকার রসদ, বেঁচে থাকার উদ্যম। বয়স বাড়ার সাথে সাথে, শক্তি কমার সাথে  সাথে মানুষ তো একদিন ঘর বন্দী হয়েই যায়। তারপর থেকে বাইরের পৃথিবীটা তখন অধরা থেকে যায়। কি অদ্ভুত জীবন মানুষের।  কিন্তু কেউ কি চায় এভাবে থাকতে?  মন তখন অন্য কথা বলে, একটু বেরোতে পারলেই ভালো হতো। 


তবে আমার মাকে আমি বারণ করে বলতাম, মা রোজ রোজ যাওয়ার কী দরকার আছে। তোমার তো বয়স বাড়ছে। চোখের সমস্যা,  তার ওপর সুগারের পেশেন্ট তুমি, কেন এত কর? আমিই তো করতে পারি এগুলো।


মা বলে, তুই এসব পারবি না। মাছ, সবজি এগুলো সব দেখে আনতে হয়। তাছাড়া তোর সময় কোথায়? সকালে বেরিয়ে সেই সন্ধ্যের পর ফেরা। তোর ওপর চাপ পড়ে যাবে।


আমি জানি, মায়ের এই কথা গুলো বাইরে বের হবার বাহানা। সত্যিই কি আমি বাজার করতে পারব না? নাকি আর কেউ চাকরি বাকরি করে এসব করে না? আসলে মা চায় এই বয়সে একটু বাইরে বেরোবে, চেনা পরিচিত কারো পাথে দেখা হলে একটু সময় বিনিময় করবে, বাইরের জগতটাকে নিজে চোখে দেখবে। আমি আর বাধা দিতাম না মাকে। এগুলোর ও তো প্রয়োজন আছে। মন যদি ভালো না থাকে তখন শরীরটাও আর সায় দেবে না। আমাকে অনেকেই বলে, কেন বয়স্ক মাকে দিয়ে এসব করাও, নিজেই তো করতে পারো। আমি কান দিই নি কারো কথাতেই।  মায়ের ভালো থাকাতেই আমি ভালো থাকা খুঁজি। শুধু একটাই ভয়, রাস্তা ঘাটে গাড়ি ঘোড়ার এত চাপ, কখন যে দুর্ঘটনা ঘটে যাবে, তাই মাকে বলি, খুব সাবধানে রাস্তা চলবে।


সে যাইহোক, যে কথা বলতে গিয়ে এত কথা বলে ফেললাম, সে কথাটা এবার বলি। আজ সকালে বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়েই মাকে জিজ্ঞেস করলাম, বাজারের কী কী জিনিস আনতে হবে।


মা বলল, যা খেতে ইচ্ছে করবে তাই নিয়ে আসিস।


চিকেন নেব ভেবেই বেরিয়েছি। ঘড়িতে তখন  সাড়ে নটা। একটু বেলাই হয়েছে। চিকেনের দোকানে যেতেই মাংস বিক্রেতা ছেলেটি আমাকে দেখেই বলল, কাকিমা আসেনি আজ?


বললাম, মায়ের শরীরটা খারাপ। আজ আসতে পারল না। এবার থেকে আমিই আসব।


-সে ঠিক আছে। কাকিমা আসে তো, এসে অনেক গল্প করে। আমি জিজ্ঞেস করি, তোমার কথা। বলে, ছেলের সময় কোথায়।  এই বয়সে কাকিমা সব কিছু নিজে হাতে করবে। করুক করুক। বাইরেও একটু বেরোনো দরকার আছে। তাতে মন ভালো থাকে।  দাদা তুমি দাঁড়াও, মাংস রেডি নেই‌। আমি তোমাকে দিচ্ছি।


বললাম, তুমি রেডি করো আমি দাঁড়াচ্ছি।  চিকেন ছাড়া আর কী কী নেব তখন সেটাই ভাবছি। হঠাৎ করেই আমার পিছনে কী যেন একটা আওয়াজ হলো। পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি এক বয়স্ক ভদ্রলোক, বয়স সত্তরের কাছাকাছি। সাইকেল সমেত উল্টে পড়ে গেল। সাইকেলের দুদিকের হ্যাণ্ডেলে রয়েছে  ব্যাগভর্তি বাজার‌। একটা ব্যাগ থেকে সবজি ছিটকে গিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। আশে পাশে যারা ছিল, তারা বলতে শুরু করল, আরে তোল তোল। কে তুলতে আসবে?  বুঝতে পারলাম, পা ঠেকাতে গিয়ে ব্যালেন্স রাখতে না পেরে পড়ে গেছে। আমি সঙ্গে সঙ্গেই সাইকেলটা তুলে সবজি গুলো কুড়িয়ে ব্যাগে রাখলুম, আর একটি বাচ্চা ছেলে সে এসে ওনার হাতটা ধরে তুলল। কোনো রকমে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে দাঁড়াতে পারলেন, পাশে একটা বেঞ্চ ছিল, আমিও ধরে ওখানেই বসিয়ে দিলাম। দেখলাম পা মচকেছে, আর সব থেকে বেশি লেগেছে কোমরে। সঙ্গে সঙ্গেই পাশের দোকান থেকে বরফ নিয়ে এসে পায়ে আর কোমড়ে দিতে লাগলাম। উনি এতটাই টেনশন করে ফেলেছেন,  শুধু একটাই কথা বলছেন," আমার সব শেষ হয়ে গেল। আর হয়তো কোনো দিন আসতে পারব না।"  বরফ দিতে দিতেই আশ্বস্ত করলাম, টেনশন করবেন না কিছুই হয় নি। বাড়ির নাম্বার বলুন, বাড়িতে কল করি।


উনি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন, আর তার সাথেই বলছেন, " বাড়িতে কল করতে হবে না। ছেলে বারণ করেছিল, আমি জোর করে বাজারে এসেছি। যদি জানতে পারে আর আসতে দেবে না আমাকে।"


বুঝতে পারলাম, এই একই অনুভূতি আমার মায়েরও। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই পৃথিবীর সাথে আরো অনেকটা মায়া বাড়িয়ে ফেলে বয়স্ক মানুষরা। অনুভব করলাম, শুধু আমার মা নয়, এই পৃথিবীতে আরো কত বয়স্ক মা বাবা আছেন, যারা এই বয়সে এসেও মনের জোর নিয়েই বাইরে বেরোন। সে যাইহোক,

উপায় তো নেই। বাড়িতে কল করতেই হবে। তাই জোর করে একটু ধমকের সুরেই বললাম, আগে কল করুন। বাড়ির লোককে জানাতে হবে তো। যতক্ষণ না কেউ আসছে, ততক্ষণ আমি আছি। আমি আপনার ছেলের মতো।


আমার কথাটা উনি শুনলেন।  কোনো রকমে পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে, কল করে ছেলেকে ডাকলেন। দেখলাম দশ  মিনিটের মধ্যেই ছেলেও চলে এলো। ছেলেকে বললাম, আগে ডাক্তারের কাছ নিয়ে যান। উনি তো দাঁড়াতেই পারছেন না। 


আশেপাশে তখন ভালোই ভীড় জমে গেছে। অনেকেই অনেক কিছু পরামর্শ দিচ্ছে, কেউ কিন্তু এগিয়ে এসে সহযোগিতার হাত বাড়ায় নি।  ওনার ছেলেকে দেখলাম, খুব শান্ত স্বরে বলল, বাবা! ও নিয়ে চিন্তা করো না। ডাক্তারের কাছে আগে চলো, ওষুধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে।


আমি ছেলের জায়গায় থাকলে ঠিক এই কথাটাই বলতাম। বয়স্ক বাবা মা তো আমাদের সন্তানের মতোই। একটা টোটো ডেকে বাবাকে টোটোয় বসিয়ে নিয়ে ছেলে চলে গেল, বাজারের ব্যাগ আর সাইকেলটা সাইডে রেখে মাংসের দোকানে ছেলেটিকে বলে গেল, পরে এসে নিয়ে যাচ্ছি।


বাবাকে নিয়ে ছেলেটি চলে যেতেই একজন দুম করে বলে বসল, ইয়াং ছেলে ঘরে বসে থাকে, আর বুড়ো বাবাকে বাজারে পাঠিয়ে দেয়। বাবাকে তো আর এমনি এমনি খাওয়াবে না, খাটিয়ে উশুল করে নেয়।


ভাবছিলাম একটি বার উত্তর দিই। তারপর ভাবলাম, সব জায়গায় উত্তর দিতে নেই। কিছু মানুষ আছে, যারা আসল কাজে কোনো কাজে লাগে না, কিন্তু অকেজো কথাও বলতে ছাড়ে না। ওখান থেকে সরে এলাম। শুধু এটুকু বুঝলাম, এই পৃথিবীর সব অনুভব ক্ষমতা  ঈশ্বর সকলকে দেন নি। সত্যিটা তো আমি বুঝি, আমার মতো অনেকেই আছেন, যারা বাবা মায়ের অনুভূতিটুকু অনুভবেই বুঝে নেন।


কলমে: সরজিৎ ঘোষ। Sarajit Ghosh

টুনটুনি আর নাপিতের কথা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী 

 টুনটুনি আর নাপিতের কথা

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী 


টুনটুনি গিয়েছিল বেগুন পাতায় বসে নাচতে। নাচতে-নাচতে খেল বেগুন কাঁটার খোঁচা। তাই থেকে তার হল মস্ত বড় ফোড়া। ও মা, কী হবে? এত বড় ফোড়া কী করে সারবে?


টুনটুনি একে জিগগেস করে, তাকে জিগগেস করে। সবাই বললে, ওটা নাপিত দিয়ে কাটিয়ে ফেল।'


তাই টুনটুনি নাপিতের কাছে গিয়ে বললে, 'নাপিতদাদা, নাপিতদাদা, আমার ফোড়াটা কেটে দাও না।'


নাপিত তার কথা শুনে ঘাড় বেঁকিয়ে নাক সিটকিয়ে বললে, 'ঈস! আমি রাজাকে কামাই, আমি তোর ফোড়া কাটতে গেলুম আর কি!'


টুনটুনি বললে, 'আচ্ছা দেখতে পাবে এখন, ফোড়া কাটতে যাও কি না।' বলে সে রাজার কাছে গিয়ে নালিশ করলে, 'রাজামশাই, আপনার নাপিত কেন আমার ফোড়া কেটে দিচ্ছে না? ওকে সাজা দিতে হবে।'


শুনে রাজামশাই হো-হো করে হাসলেন, বিছানায় গড়াগড়ি দিলেন, নাপিতকে কিছু বললেন না। তাতে, টুনটুনির ভারি রাগ হল। সে ইঁদুরের কাছে গিয়ে বললে, 'ইঁদুরভাই, ইঁদুরভাই, বাড়ি আছ?'


ইঁদুর বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই। এস ভাই। বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি খাবে ভাই?'


টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি এক কাজ কর।'


ইঁদুর বললে, 'রাজামশাই যখন ঘুমিয়ে থাকবেন, তখন গিয়ে তাঁর ভুঁড়িটা কেটে ফুটো করে দিতে হবে।'


তা শুনে ইঁদুর জিভ কেটে কানে হাত দিয়ে বললে, 'ওরে বাপরে! আমি তা পারব না।'


তাতে টুনটুনি রাগ করে বিড়ালের কাছে গিয়ে বললে, 'বিড়ালভাই, বিড়ালভাই, বাড়ি আছ?'


বিড়াল বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'


টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি ইঁদুর মার।'


বিড়াল বললে, 'এখন আমি ইঁদুর-টিদুর মারতে যেতে পারব না, আমার বড্ড ঘুম পেয়েছে।'


শুনে টুনটুনি রাগের ভরে লাঠির কাছে গিয়ে বললে, 'লাঠি ভাই, লাঠি ভাই, বাড়ি আছ?'


লাঠি বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'


টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি বিড়ালকে ঠেঙাও।'


লাঠি বললে, 'বিড়াল আমার কী করেছে যে আমি তাকে ঠেঙাতে যাব? আমি তা পারব না।'


তখন টুনটুনি আগুনের কাছে গিয়ে বললে, 'আগুনভাই, আগুনভাই, বাড়ি আছ?'


আগুন বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'


টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি তুমি লাঠি পোড়াও।'


আগুন বললে, 'আজ ঢের জিনিস পুড়িয়েছি, আজ আর কিছু পোড়াতে পারব না।'


তাতে টুনটুনি তাকে খুব করে বকে, সাগরের কাছে গিয়ে বললে, 'সাগরভাই, সাগরভাই, বাড়ি আছ?'


সাগর বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'


টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি তুমি আগুন নিভাও।'


সাগর বললে, 'আমি তা পারব না।'


তখন টুনটুনি হাতির কাছে গিয়ে বললে, 'হাতিভাই, হাতিভাই, বাড়ি আছ?'


হাতি বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'


টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি সাগরের জল সব খেয়ে ফেল।'

হাতি বললে, 'অত জল খেতে পারব না, আমার পেট ফেটে যাবে।'


কেউ তার কথা শুনল না দেখে টুনটুনি শেষে মশার কাছে গেল। মশা দূর থেকে তাকে দেখেই বললে, 'কে ভাই? টুনিভাই? এস ভাই! বস ভাই! খাট পেতে দি, ভাত বেড়ে দি, খাবে ভাই?'


টুনটুনি বললে, 'তবে ভাত খাই, যদি হাতিকে কামড়াও।'


মশা বললে, 'সে আবার একটা কথা! এখুনি যাচ্ছি! দেখব হাতি বেটার কত শক্ত চামড়া!' বলে, সে সকল দেশের সকল মশাকে ডেকে বললে, 'তোরা আয় তো রে ভাই, দেখি হাতি বেটার কত শক্ত চামড়া।' অমনি পিন্-পিন্ পিন্-পিন্ করে যত রাজ্যের মশা, বাপ-বেটা ভাই-বন্ধু মিলে হাতিকে কামড়াতে চলল। মশায় আকাশ ছেয়ে গেল, সূর্য ঢেকে গেল। তাদের পাখার হাওয়ায় ঝড় বইতে লাগল। পিন্-পিন্ পিন-পিন্ ভয়ানক শব্দ শুনে সকলের প্রাণ কেঁপে উঠল। তখন—


হাতি বলে, সাগর শুষি। 

সাগর বলে, আগুন নেবাই! 

আগুন বলে, লাঠি পোড়াই!

 লাঠি বলে, বিড়াল ঠেঙাই! 

বিড়াল বলে, ইঁদুর মারি। 

ইঁদুর বলে, রাজার ভুঁড়ি কাটি! 

রাজা বলে, নাপতে বেটার মাথা কাটি!


নাপিত হাত জোড় করে তোমার ফোড়া কাটি।' কাঁপতে-কাঁপতে বললে, 'রক্ষে কর, টুনিদাদা! এস তোমার ফোঁড়া কাটি। তারপর টুনটুনির ফোড়া সেরে গেল, আর সে ভারি খুশি হয়ে আবার গিয়ে নাচতে আর গাইতে লাগল— টুনটুনা টুন টুন টুন! ধেই ধেই!

গীবত  ফেরদৌস আহমেদ,,,,,

 খেজুরের রস কয়না কভূ তিতা লাগে নিম,

ময়ূর কয়না কাকের বাসায় কোকিল রাখে ডিম।


ময়না-টিয়া কয়না কভূ দেখতে কালো কাক,

কয়না বাঁশি তবলা-বীনা বিশ্রী বাজে ঢাঁক।


কয়না সাগর দিঘির জলে যায়না পাওয়া নুন,

সারা বছর ফুল ফোটেনা; কয়না তা ফাগুন। 


কয়না নদী মরুর বুকে যায়না পাওয়া জল,

কয়না বিড়াল কুকুরছানা খায় মানুষের মল। 


সোনা-রূপা কয়না কভূ লোহায় ধরে জং, 

কয়না প্রাসাদ ওই দেয়ালের ঝলসে গেছে রং।


পা যে সবার নিচে থাকে কয়না তা হাত,

জিহবা ও ঠোঁট বেজায় নরম কয়না তা দাঁত। 


আকাশ-বাতাস, চন্দ্র-তারা, সাগর-নদী ফুল ,

কেউ বলে না মন্দ কারো কয়না কারো ভুল।


কেউ বলেনা মন্দ কারো একেবারে তা নয়,

সুযোগ পেলেই মানুষ পরের মন্দচারি কয়।


জামাই বলে বউয়ের লাগি ধ্বংস আমার ঘর,

পরের কাছে নিজের বউয়ের মন্দ বলে বর।


ভাইয়ের কাছে ভাই বলে তার আরেক ভাইয়ের দোষ,

বউ শাশুড়ি করলে শুরু থাকে না আর হুঁশ।


একটুখানি কথা বলার সুযোগ যদি হয়,

এমনি করে মানুষ পরের মন্দচারি কয়। 


মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণী করে না যেই কাজ, 

সেই ছোট কাজ করতে মানুষ পায়না কোন লাজ। 


লাগামছাড়া এমনি যদি চলতে থাকে জিভ,

কেমন করে হবো আমরা সৃষ্টি সেরা জীব। 


গীবত 

ফেরদৌস আহমেদ

RFL এ চাকরী

 হেড অফিস HRM সহ আমরা ৪ জনের টিম লোক নিয়োগের উদ্দেশ্য রহনা দিচ্ছি, আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আমাদের ডাঙ্গা পলাশ নরসিংদীতে অনেক বড় নতুন RFL-DPL -এর ফ্যাক্টরি  হচ্ছে (DIP-2) এবং যেখানে প্রায় -২০০০+ লোকের কর্মসংস্থান হবে। 


বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কর্মসংস্থান তৈরি করা। আজকের তরুণদের জন্য যথাযথ ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই। তাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাটাই এখন জরুরি।


👉মৃলগাঁও, কালীগঞ্জ, গাজীপুর/ ডাঙা ডিপিএল-২ (পলাশ, নরসিংদী) - ফ্যাক্টরি তে অ্যাসিস্ট্যান্ট অপারেটর পদে জরুরী ভিত্তিতে প্রায় ২০০০ জন পুরুষ এবং মহিলা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।


👉বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা:


১. প্রতি মাসের ১/২ তারিখে বেতন প্রদান করা হয়।


২. বছরে ২টি উৎসব বোনাস প্রদান করা হয়।


৩. স্বল্প মুল্যে থাকা ও খাওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে।


৪. মেডিকেল ট্রিটমেট এর সুবিধা রয়েছে।


৫. এক বেলা কোম্পানী প্রদত্ত ৮ টাকার মূল্যের খাবারের সুবিধা রয়েছে।


👉 সাক্ষাৎকারের স্থান ও তারিখ ---


১.স্থান -  ইএসডিও এর অঙ্গ  প্রতিষ্ঠান কুড়িগ্রাম ইকো সেন্টার ফর স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ( কেইসিএসডি), কুড়িগ্রাম।  

তারিখ -২৬-০৫-২৫ রোজ সোমবার। 

সময় সকাল -১০.০০টায়। 


২.স্থান  -আন্ধারিঝার  আলহাজ্ব মাহমুদ আলী বি আই এল হাই স্কুল মাঠ, ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম। 

তারিখ -২৬-০৫-২৫ রোজ সোমবার।   

সময়- সকাল -১০.০০ টা। 


৩.স্থান -কুড়িগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ( TTC) কুড়িগ্রাম।  

তারিখ -২৭-০৫-২৫ রোজ মঙ্গলবার । 

সময়- সকাল -১০.০০ টা।


৪.স্থান  -দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ( TTC), দিনাজপুর।  

তারিখ -২৮-০৫-২৫ রোজ বুধবার। 


৫.স্থান -ঠাকুরগাঁও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ( TTC) ঠাকুরগাঁও। 

তারিখ -২৯-০৫-২৪ রোজ বৃহস্পতিবার। 

সময়-সকাল -১০.০০ টা।


৬.বগুড়া (লোকেশন রেডি করা হচ্ছে) 


৭.স্থান -যশোর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ( TTC) যশোর । 

তারিখ -০১-০৬-২৫ রোজ রবিবার । 

সময়-সকাল -১০.০০ টা।


৮.সাতক্ষীরা (লোকেশন রেডি করা হচ্ছে) ।


সেলারি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা :


👉ডিউটি -সিফটিং (১২ ঘন্টা). 


👉সেলারি তিন ক্যাটাগরিতে ---

A+=

বেসিক -৯০০০

ওভারটাইম-৪৪৭২ (শ্রম আইন অনুযায়ী) 

হাজিরা বোনাস -১০০০ 


>টোটাল-১৪৪৭২টাকা। 

অবশ্যই তিন মাসের কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত /বিটাক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত /কারিতাস প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত /ইউসেফ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। 


A=

বেসিক -৮৫০০

ওভারটাইম-৪১৬০(শ্রম আইন অনুযায়ী) 

হাজিরা বোনাস -১০০০

>টোটাল -১৩৬৬০


অবশ্যই এসএসসি /এইচএসসি পাশ হতে হবে। 


B=

বেসিক -৮০০০

ওভারটাইম-৩৯৫২ (শ্রম আইন অনুযায়ী)

হাজিরা বোনাস -১০০০

>টোটাল-১২,৯৫২


অবশ্যই পঞ্চম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত।


আগ্রহী প্রার্থী কে সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের তিন কপি ছবি, সকল পরীক্ষার সনদপত্র, নাগরিক সনদপত্র, ভোটার আইডি কার্ড / জন্ম নিবন্ধন( অনলাইন) এবং সকল ধরনের মেইন কপি (মেইন কপি জমা নেওয়া হয় না) নিয়ে উল্লেখিত ঠিকানায় উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। 

বিশেষ প্রয়োজনে - 01841-357658/01844-605167.

ফরিদপুর এর মধ্যে যাদের চাকুরি প্রয়োজন তারা যোগাযোগ করতে পারেন।আমার বন্ধু এখানে হাব ইনচার্জ পদে দায়িত্বে আছেন

 ফরিদপুর এর মধ্যে যাদের চাকুরি প্রয়োজন তারা যোগাযোগ করতে পারেন।আমার বন্ধু এখানে হাব ইনচার্জ পদে দায়িত্বে আছেন


📢 জরুরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

দেশের স্বনামধন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ক্যারিবি এক্সপ্রেস লিমিটেড-এ ডেলিভারি এজেন্ট পদে জরুরি ভিত্তিতে ডেলিভারি এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।


🔹 পদের নাম: ডেলিভারি এজেন্ট

🔹 পদের সংখ্যা: ৫ (পাঁচ) জন

🔹 কাজের সময়: ......................................

🔹 কর্মস্থল: [ফরিদপুর]


💰 বেতন ও অন্যান্য সুবিধাসমূহ:

মাসিক বেতন: ১৪,০০০/- টাকা


নিয়মিত উপস্থিতির বোনাস: ১,০০০/- টাকা


মোটরসাইকেলের জ্বালানী বাবদ ভাতা প্রদান


📦 কাজের দায়িত্ব:

হাব ইনচার্জের সাথে পার্সেল প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করা


হাব থেকে পার্সেল বুঝে নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া


গ্রাহকের ঠিকানায় হোম ডেলিভারি নিশ্চিত করা


ক্যাশ অন ডেলিভারির টাকা সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা


রিটার্ন পণ্যের যথাযথ রিটার্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা


প্রতিদিনের ডেলিভারি শেষে হাব ইনচার্জকে রিপোর্ট প্রদান করা এবং রিটার্ন পণ্য ও টাকা বুঝিয়ে দেওয়া


✅ আবেদন করার জন্য যা যা প্রয়োজন:

১। জীবনবৃত্তান্ত (সিভি)

২। ব্যক্তিগত তথ্য (জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, বিদ্যুৎ/গ্যাস বিলের কপি)

৩। অভিভাবক বা পরিচয় দানকারী ২ জনের ডকুমেন্টস

৪। ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল

৫। স্মার্টফোন


📌 আগ্রহী প্রার্থীরা যোগাযোগ করুন:    +8801733760253

দই খাওয়া: নওদাবাস স্থানের নামকরণ,,,,,,

 দইখাওয়া : 


এই স্থানটিতে এবং এর বর্ডারসংলগ্ন উত্তরের জলপাইগুড়ি অঞ্চলে একসময় মেচ/বোড়ো/রাভা আদিভাষা প্রচলিত ছিলো, পশ্চিমবঙ্গের কিছু স্থানে এখনো প্রচলিত আছে। এ আদি ভাষায় দই অর্থ পানি, দই খ্রোং  অর্থ  নদী।  নদীকে বিভিন্ন ভাষার লোকজন বিভিন্ন নামে ডাকে; যেমন- নদী/সতী/গাঙ ইত্যাদি। বোড়ো ভাষার লোকজন নদীকে দইখ্রোং বলতো, বলে। এভাবে বর্তমান দইখাওয়া বাজারের পাশ্ববর্তী নদীটি এবং স্থানটি তখন সবার কাছে 'দইখ্রোং' নামে পরিচিত হয়। দইখাওয়া শব্দটি দইখ্রোং এর বিকৃত রূপ।  


     তাই, দইখাওয়া নামের বর্তমান প্রচলিত উৎসগুলি  ( যেমন:  দুই খেয়া থেকে দইখাওয়া, দৈ থেকে দইখাওয়া)  সম্ভবত সত্য নয়। বোড়ো/মেচ/রাভা এই অঞ্চলের আদিভাষা। যা আর্যদের আগমনের পূর্বে (দুই হাজার বছর আগে) নিজস্ব বর্ণসহ  পূর্ণাঙ্গভাবে  প্রচলিত ছিল। পরবর্তীতে  আর্যদের আগমনের পর আর্যভাষার সাথে এ আদিভাষাগুলি মিলেমিশে এক হয়ে যায়। 


    বোড়ো/মেচ/রাভা সম্ভবত একই আদিভাষার এলাকাভিত্তিক বিভিন্নরূপ। যেমন- লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও এর আঞ্চলিক ভাষা একই ভাষার কিছুটা পরিবর্তিত রূপ।বোড়ো/রাভা ভাষার এখনো  কিছু প্রচলিত শব্দ চ্যাংরা, বোকা, শাগাই ইত্যাদি।


নওদাবাস:


'নওদা' অর্থ  নতুন  বসবাসযোগ্য  জমি।


'বাস' অর্থ বসবাস করা।


এই ইউনিয়নের অনেকাংশ একসময় জনমানবহীন ও জঙ্গলাকীর্ণ ছিল। যা বিভিন্ন সময় দলবদ্ধ settlers পরিষ্কার করে ছোট ছোট গ্রাম/পাড়া তৈরি করে বসবাস শুরু করে। এভাবেই, বর্তমান 'নওদাবাস'। 


ভোটমারী/ভুটিয়ামঙ্গল: এই স্থানগুলিতে 'ভুটিয়া' আদিবাসীদের বসবাস ছিল। ভুটিয়া আদিবাসিরা এখনো পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে পাড়াভিত্তিক বসবাস করে।


References: I got no direct references, rather I have infarred from different sources.


Source 1: 'বৃহত্তর রংপুরের ইতিহাস' - মোস্তফা তোফায়েল হোসেন


Source 2 :  ' বাংলাদেশের রাজবংশী সমাজ ও সংস্কৃতি' -অশোক বিশ্বাস


Chatgpt, Wikipedia and so on...


ছবি: 'ভুটিয়া' উপজাতি নারী, Wikipedia


  


২৩.৫.২০২৫


© জনাব জাকির হোসেন Zakir Hossain  🙂

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ২০-০৩-২০২৬ খ্রি:।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ২০-০৩-২০২৬ খ্রি:। আজকের শিরোনাম: এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দী...