চলতি পথে ...(পর্ব:১১২)
"তুমি ভুলে যেওনা আমি কবি, আমি আঘাত করলেও ফুল দিয়ে আঘাত করি"
হ্যাঁ, স্ত্রী নার্গিসকে এক চিঠিতে এ কথাই লিখেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
কবি নজরুলের কবি মানষপট, ভাবনা, কবিতা, গান ও সৃষ্টিকর্মে ফুলের সৌন্দর্য যেন বার বার এভাবেই ফুটে উঠেছে। বলা যায় তার সমগ্ৰ সাহিত্য সম্ভারই যেন এক বর্ণিল ফুলবাগান। যা বাংলা সাহিত্যকে সুবাসিত ও সমৃদ্ধ করেছে।
শুধু কবি নজরুলই নন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে বিশ্বের অন্যান্য জনপ্রিয় কবি, সাহিত্যিক, মনীষী, শিল্পী, দার্শনিক, সুফি সাধক, ধর্মতাত্ত্বিক সবাই ফুলের রূপ ও ঘ্রাণে মুগ্ধ হয়ে ফুলের সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটিয়েছেন তাদের সৃষ্টিকর্মে। ফুল যেন প্রকৃতির রাজ্যে হাসিমাখা এক স্বর্গরাজ্য, পৃথিবীর রূপ ও রঙের এক অপূর্ব প্রকাশ। মনীষীদের সৃষ্টিকর্মে ফুল ধরা দিয়েছে শিল্পীর তুলিতে আঁকা জীবন্ত পটভূমি হিসেবে। এমনই একটি ফুল "কপসিয়া।" এটি শ্রাব ভিনকা ও পিঙ্ক কপসিয়াবা ডাকুর নামেও পরিচিত। Apocynaceae পরিবারভুক্ত কপসিয়া এর উদ্ভিদতাত্তিক নাম Kopsia fruticosa (Cerbera fruticosa), ইংরেজি নাম Shrub Vinca. কপসিয়া একটি চিরসবুজ শোভাবর্ধক গুল্ম। এর রয়েছে পাঁচটি খন্ডযুক্ত ঘুর্ণায়মান পাপড়ি, যা বাইরের দিকে হালকা গোলাপি বা সাদা থেকে কেন্দ্রের দিকে একটি স্পষ্ট উজ্জ্বল গাঢ় লাল রঙে রূপান্তরিত হয়। এর গাছে কান্ডের ডগার কাছে ছোট ছোট থোকায় ফুল ফোটে। গাছের পাতাগুলো সবুজ, চকচকে ও ডিম্বাকৃতির। এর আদিনিবাস মূলতঃ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মিয়ানমার এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন ক্রান্তীয় অঞ্চলে ব্যপকভাবে এর চাষ হচ্ছে। শোভাবর্ধক ফুল হিসেবে এটি বেশ জনপ্রিয়। কপসিয়া ফুলের এই ছবিটি রাজধানীর উত্তরা থেকে তোলা।
ছবি: খোন্দকার এরফান আলী
(১৮ আগষ্ট, ২০২৬)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন