চলতি পথে ...(পর্ব:১০৭)
'বাংলার রূপ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না।'
হ্যাঁ, রূপসী বাংলা'র কবি জীবনানন্দ দশের লেখায় যেমন বাংলার অপরূপ প্রকৃতি তথা নদী, মাটি, গাছপালা, ও পাখিদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। তেমনি বাংলার হরেক রকম ফল ও ফুলের প্রতি গভীর মায়া ও সৌন্দর্যের হাতছানি কবি মনকে নাড়া দিয়েছে বার বার। তার লেখায় ফুটে উঠেছে বাংলার অগণিত ফল, ফুল ও কাক শালিকের ছবি। শুধু জীবনানন্দ দাশই নন, জানা-অজানা বা নাম না জানা এদেশের ফল, ফুল ও প্রকৃতির রূপ মাধুর্য নিয়ে বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক ও মনীষীরাও মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। সবুজ শ্যামল বাংলার খেত ও দেশীয় ফলের ঘ্রাণ সকলকেই মুগ্ধ করছে। পাশাপাশি বিদেশি নানা নজরকাড়া রঙিন ফলও বাংলার মাটিতে বিলিয়ে দিচ্ছে সৌন্দর্য, ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা। তেমনই একটি ফল 'রুবি লংগান।'
Sapindaceae পরিবারভুক্ত রুবি লংগান এর উদ্ভিদতাত্তিক নাম Dimocarpus longan (পুরনো শ্রেণিবিন্যাসে Nephelium longana বা Euphoria longana), ইংরেজি নাম Ruby Longan, Dragon's Eye, তবে বাংলায় একে লাল লংগান, রুবি লংগান বা লাল আঁশফল বলা হয়। এটি মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের একটি বিশেষ জাতের লংগান। দেখতে লিচুর মতো এবং কাঠলিচু পরিবারের একটি অত্যন্ত সুস্বাদু ও উন্নত জাতের গ্ৰীস্মমন্ডলীয় ফল। ফলটি লিচুর তুলনায় অনেক বেশি মিষ্টি, সুগন্ধযুক্ত ও রসালো। এর ফলের খোসা দেখতে গোলাকার ও টকটকে গাঢ় লাল বা রুবি রঙের হয়। এর আকার মাঝারি (পিংপং বলের মতো)। ফলের ভেতরের শাঁস স্বচ্ছ-সাদা, রসালো এবং আঙ্গুরের মতো কোঁচকানো বা জেলি প্রকৃতির। ভেতরে একটি ছোট গোল চকচকে কালো বীজ থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় মাটিতে ও ছাদ বাগানে এটি সফলভাবে চাষ করা হচ্ছে। রুবি লংগান ফলের ছবিটি রাজধানীর আগারগাঁও থেকে তোলা।
ছবি: খোন্দকার এরফান আলী
(১৩ আগষ্ট, ২০২৬)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন