এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫

গল্পের নাম: “চুরির রহস্য”

 গল্পের নাম: “চুরির রহস্য”


এক গ্রামে ছিল তিনজন বিখ্যাত প্রাণী—কাক, বিড়াল, আর শিয়াল। তারা ছিল খুব পরিচিত, কিন্তু তাদের স্বভাব ছিল একেবারে ভিন্ন।


কাক ছিল সন্দেহপ্রবণ, সব কিছুতে নাক গলাতো।


বিড়াল ছিল চুপচাপ, কিন্তু অনেক চালাক।


আর শিয়াল ছিল গ্রামের সবার চোখে “চতুর ধুরন্ধর”।


একদিন গ্রামের সবচেয়ে ধনী কৃষকের ঘরে চুরি হয়। চুরি হয় একটি চকচকে রুপার হাঁড়ি, যার ভেতরে ছিল মূল্যবান বীজ। পুরো গ্রাম থমকে যায়।


কৃষক চিৎকার করে বলে, “আমার সব সম্পদ শেষ! কে নিল হাঁড়ি?”


গ্রামবাসী সন্দেহ করে কাক, বিড়াল আর শিয়াল—তিনজনই। কারণ, ঘটনার রাতে তাদের সবাইকে কৃষকের বাড়ির আশপাশে দেখা গিয়েছিল।


তদন্ত শুরু হয়। তিনজনকে ডাকা হলো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।


কাক বলল, “আমি জানালার পাশে বসে রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। আমি শুধু দেখেছি শিয়াল অনেকক্ষণ ঘুরছিল।”

শিয়াল বলল, “আমি তো হাঁড়ি খুঁজতেই সাহায্য করতে এসেছিলাম!”

বিড়াল চুপচাপ বসে থাকে, কিছুই বলে না।


পরদিন কাক গিয়ে দেখে—বিড়ালের লেজে ধুলার আভাস, আর তার থাবায় রুপার চিহ্ন।

সে চিৎকার করে বলে, “বুঝেছি! বিড়ালই চোর!”


গ্রামের সবাই যখন বিড়ালকে ধরতে যাবে, বিড়াল হঠাৎ বলে, “আমার ঘর খুঁজে দেখো।”


সত্যি, বিড়ালের ঘরে হাঁড়ি নেই। তখন বিড়াল কাককে জিজ্ঞাসা করে,

“তুমি কবে থেকে রুপার গন্ধ চিনতে পারো?”


কাক চুপ মারে।


ঠিক তখন শিয়ালের গাছের গোড়ার নিচে কাদা দেখা যায়—আর সেখানেই পোঁতা ছিল রুপার হাঁড়ি!

শিয়াল আসলে কাককে ফাঁসাতে চেয়েছিল, আর কাক সন্দেহে পড়ে বিড়ালকে দোষ দিচ্ছিল।


শেষে:

শিয়ালকে গ্রামছাড়া করা হয়।

কাক শেখে—সব সময় সন্দেহ করা ঠিক নয়।

বিড়াল বলে, “চুপ থাকাই অনেক সময় বড় উত্তর।”


শিক্ষণীয় বার্তা:

অতিরিক্ত সন্দেহ, মিথ্যা কথা, আর চতুরতার শেষ পরিণতি ভালো হয় না। সত্য ধরা পড়ে—যতই চালাকি করা হোক না কেন।

সকাল ৭টার সংবাদ  তারিখ : ২৭-০৪-২০২৫ খ্রি:

 সকাল ৭টার সংবাদ 

তারিখ : ২৬-০৪-২০২৫ খ্রি:


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


রোমান ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্যানুষ্ঠান আজ - ভ্যাটিকানে পৌঁছে মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধান উপদেষ্টা।


সকল সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষাসহ অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ে তোলাই অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য - রাঙ্গামাটিতে বললেন পার্বত্য উপদেষ্টা।


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের আহ্বান।


বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবেলায় আগেভাগেই অভিযান শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।


আইপি এবং সঙ্গীত: আইপির তাল অনুভব করুন -এই প্রতিপাদ্যে নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস।


মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত - রাশিয়া-ইউক্রেন দ্রুতই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাবে - আশাবাদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের।


অনূর্ধ্ব-১৯ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজের প্রথমটিতে আজ স্বাগতিক শ্রীলংকার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।

আপনার জীবন, আপনার সিদ্ধান্ত ‼️

 ✅আপনার জীবন, আপনার সিদ্ধান্ত ‼️


আপনি কি এমন একজন, যিনি ভাবেন, “একদিন আমি সব ঠিকঠাক করে নেব”?

 • “আগামীকাল থেকে সকালে উঠে দৌড়াবো।”

 • “পরের মাস থেকে নতুন কিছু শিখব।”

 • “একটা ভালো কাজ শুরু করবো।”

 • “পরের বার নিশ্চিতভাবে পরীক্ষা ভালো দেব।”


কিন্তু ‘একদিন’ কখনো আসে না। আর এই অপেক্ষা, এই ‘আগামীকাল’ আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতারক।


আপনার সমস্যার আসল কারণ কী?


১. পরিকল্পনা নয়, কাজ শুরু করুন:

পরিকল্পনা করা সহজ, কিন্তু সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করা কঠিন। আমাদের মস্তিষ্ক পরিকল্পনার সময় সাময়িক আনন্দ পায় এবং মনে করে কাজ শেষ। কিন্তু বাস্তবিক কাজ শুরু না করলে সেটি শুধু একটা কল্পনা।


২. সঠিক মুহূর্তের অপেক্ষা:

“সবকিছু ঠিকঠাক হলে শুরু করবো”—এই ধারণা ভয়ানক। কারণ জীবন কখনোই নিখুঁত হবে না। এই অপেক্ষার মানে হলো, আপনি ভয় পাচ্ছেন।


৩. ছোট পদক্ষেপে অগ্রগতি:

বড় কিছু করার জন্য ছোট শুরু করাটা জরুরি। আপনি যদি দিনে মাত্র ১০ মিনিটও কিছু করেন, তাও অগ্রগতির প্রথম ধাপ।


৪. ব্যর্থতার ভয়:

ব্যর্থতা জীবনের অংশ। আপনার ভুল থেকেই শিখতে হবে। ব্যর্থ না হলে সফলতাও আসবে না।


আপনার জন্য আজকের বার্তা:


জীবন আপনাকে কখনোই ‘পরে’ বা ‘কাল’ বলে অপেক্ষা করবে না। সময় তার মতো এগিয়ে যাবে। আপনি হয় আজ শুরু করবেন, নয়তো পিছিয়ে পড়বেন।


আজ থেকেই ছোট কিছু করুন।

 • যদি পড়াশোনা হয়, একটা পৃষ্ঠা পড়ুন।

 • যদি ফিটনেস হয়, ৫ মিনিট ব্যায়াম করুন।

 • যদি নতুন দক্ষতা শিখতে চান, ইউটিউবে একটা ভিডিও দেখুন।


যতদিন না আপনি শুরু করছেন, ততদিন সবকিছুই অসম্ভব। আর একবার শুরু করলে সবকিছুই সম্ভব।


আজকের ছোট পদক্ষেপটাই হতে পারে আপনার আগামীকালের সাফল্যের ভিত্তি।


তাই, “আগামীকাল” নয়, “আজ” শুরু করুন। কারণ, জীবন অপেক্ষা করবে না।

মাইসারা জান্নাত মিম 

স্বপ্ন মানুষকে বাঁচতে শেখায়

আপনার নিজস্ব নিউজ পোর্টাল অথবা পত্রিকার ই-পেপার তৈরি করতে চান?

 বেকার সমস্যার কথা আসলেই অনেকে শিক্ষার্থীদের বেশি করে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করবার কথা বলেন। কিন্তু কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের কি পরিস্থিতি, কারিগরি শিক্ষিতদের আয় ও কর্মপরিবেশ কেমন সে বিষয়ে কয়জন খোজ রাখেন সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। 


আজকে বণিক বার্তায় এ বিষয়ে একটা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টে কিছু কেস স্টাডি ও পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো সবার জানা দরকার। 


উদাহরণ স্বরূপ রবিউল ইসলামের কথাই ধরা যাক। রবিউল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন ২০২০ সালে। এরপর তিনটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। প্রথমটিতে বেতন ছিল মাত্র সাড়ে ৮ হাজার টাকা। তাও আবার চাকরির তিন মাসের মাথায় কোনো ধরনের নোটিস ছাড়াই ছাঁটাই হন। এরপর আরো একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ১২ হাজার টাকায়। সেখানে আবার বেতনের তুলনায় কাজের চাপ ছিল অনেক বেশি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা তারই সহকর্মীরা একই পদে পেতেন প্রায় তিন গুণ বেতন। সেই কষ্টে চাকরি ছেড়ে দিয়ে রবিউল এখন ব্যবসা শুরু করেছেন।


আরেক তরুণ শাহরিয়ার আহমেদ সরকারি একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ২০২২ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং করেন। তিনিও এরপর মোট তিনটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। বর্তমানে যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সেখানে বেতন পান কেবল ১৫ হাজার টাকা। শাহরিয়ার আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেছেন, ‘আমরা চাকরি পাচ্ছি না, বিষয়টি এমন নয়। কিন্তু যে কাজ পাচ্ছি তা মানসম্মত নয়। আমার অনেক সহপাঠী চাকরি না করে গ্রামের বাড়িতে বসে আছে, কারণ যে বেতনে তারা চাকরি পাচ্ছে তা দিয়ে ঢাকায় থাকাই সম্ভব নয়। আমার পরিবার গ্রামে থাকে। ঢাকায় নিজের খরচ চালিয়ে তাদের তেমন সহযোগিতা করতে পারি না।’


এ বিষয়ে পরিসংখ্যানও বেশ হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরে। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) ২০২১ সালে জমা দেয়া এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের মধ্যে ৫৪ শতাংশ কর্মজীবী, ৪ শতাংশ উদ্যোক্তা, ৩৮ শতাংশ বেকার ও ৪ শতাংশ কাজে আগ্রহী নয়। 


যারা কাজ করছেন, তাদের আয়ের কি অবস্থা? ঐ গবেষণা অনুসারে, ৪৪ শতাংশের মাসিক আয় ১০-১৫ হাজার টাকার মধ্যে এবং ৪৩ শতাংশের আয় ১০ হাজার টাকার কম। মাত্র ১৩ শতাংশের মাসিক আয় ১৫ হাজারের ওপর।


প্রায় একই চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) জরিপেও। ব্যানবেইসের ওই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীর ডিগ্রি নিয়ে চাকরিতে প্রবেশ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭১ শতাংশ বেতন পাচ্ছে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।


আসলে যারা বিভিন্ন দেশি বিদেশী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তাদের একটা উল্ল্যেখযোগ অংশকে কাজ করতে হয় অস্থায়ী ভিত্তিতে, আউটসোর্সিং মডেলে যাদের চাকুরির কোন নিশ্চয়তা থাকে না, নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা থাকে না, কাজের পরিবেশও জঘন্য। 


সরকারের উচিত বিভিন্ন দেশি বিদেশী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কারিগরী জনবলের প্রকৃত পরিস্থিতি কি তার খোজ নেওয়া এবং যথাযথ আইন, নীতিমালা ও তাদরকির মাধ্যমে তাদের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের অধিকার নিশ্চিত করা। মর্যাদাপূর্ণ কারিগরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না করে কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা চরম দায়ীত্বহীনতা।

©


---------------------------------------------------------------------


📢 আপনার নিজস্ব নিউজ পোর্টাল অথবা পত্রিকার ই-পেপার তৈরি করতে চান? 🌐


ওয়েব নিউজ ডিজাইন - আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিউজ পোর্টাল, ই-পেপার এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনার সেবা প্রদান করি। এছাড়াও, আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য সেরা ডিজাইন সেবা পেতে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন!


যোগাযোগ


📞 ০১৯১৫৩৪৪৪১৮ [WhatsApp, Imo], ঢাকা।


🌐 webnewsdesign.com


📧 faroque.computer@gmail.com]


---------------------------------------------------------------------

বোজা দরজা, খোলা ভয়

 ⛔বোজা দরজা, খোলা ভয়⛔

(গল্পটি পাঠিয়েছেন ✍️ রাজা গিলগামেশ ✍️ — ছদ্মনাম)


১৮ এপ্রিল, ২০২৫। রাত ২:৫৩।

সব ছিলো স্বাভাবিক—রুমে একা, কাত হয়ে শুয়ে এনিমে দেখা, ছোট ভাই সেদিন মামার সঙ্গে ঘুমাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই রুমটা ভারি হয়ে ওঠে। না, সেটা বোঝা ভারী নয়, যেন বাতাসের ভেতরেই ঢুকে এসেছে অদৃশ্য কোনো অস্তিত্ব। নিঃশ্বাস নিতেও কেমন যেন কষ্ট হচ্ছিল, আর ঘরের মধ্যে এক ধরনের নেগেটিভ অনুভূতির সৃষ্টি হচ্ছিল।


এরপর যা ঘটলো, তা কল্পনারও বাইরে।

চোখ বন্ধ হয়ে আসে, কিন্তু ইচ্ছা করেও খোলা যায় না। মনে হচ্ছে—গভীর এক গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছি। শরীর অবশ, হাত নাড়াতে পারছি না। অথচ মন জেগে আছে, আমি জানি আমি জেগে।

আর তখনই শুরু হয় এক তীব্র শব্দ—কানের ভিতর ঘুরতে থাকা এক ধরনের "ভো-ভো" শব্দ, যা আস্তে আস্তে আমার সমস্ত অনুভূতি গ্রাস করে নিচ্ছিল।


ভয়ে-আতঙ্কে আমি কেবল মনে মনে শুরু করলাম সূরা পাঠ। আল্লাহর নাম নিতে নিতে অনুভব করলাম, সেই ভার, সেই শীতল ভয় যেন একটু একটু করে কমে যাচ্ছে। সজোরে রুকইয়া আয়াত চালিয়ে দিলাম মোবাইলে। সেদিন রাতটা বেঁচে গেলাম... অল্পের জন্য।


কিন্তু ভয় এখানেই শেষ নয়।


১৯ এপ্রিল। আমি আমার অতি প্রিয় রুবিক্স কিউব নিয়ে ব্যস্ত। নানা ধরনের কিউব আমার সংগ্রহে—লোকাল থেকে স্পিড কিউব, দামি থেকে অদলবদলযোগ্য কিউব।

রুমে একা বসে, টিস্যু দিয়ে পরিষ্কার করছিলাম কিউবটা। হঠাৎ খেয়াল করলাম, কিউবের একটি কর্নার... উধাও!

না, নিচে নেই, খাটের কোণায় নেই, জানালার পাশে নেই—পুরো ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সেটা পাওয়া গেল না।

আর এই কিউব? এই কিউব তো আমি নিজের হাতেই খুলে রেখেছিলাম! কেউ ছিল না রুমে, কেউ ঢোকেওনি, জানিও না কেউ ঢোকার কথা।

কিন্তু কর্নারটা নেই।

ডিরেক্ট উধাও।


সেদিনের পর থেকে আমার রুম, আমার আপন জায়গা—আমার জন্য আতঙ্কের নাম। এখন আমি আর সেখানে থাকি না।

একজন হুজুর এসে রুকইয়া পড়ে পানি ছিটিয়েছেন পুরো ঘরে। কিন্তু মনটা এখনো অস্থির। এখনো মাঝরাতে সেই ভারী নিশ্বাস, ছায়ার মতো হাঁটা-চলা আর হারিয়ে যাওয়া জিনিসগুলো আমার ঘুম কেড়ে নেয়।


ঘরের দরজাটা বোজা।

তবু ভয় ঢুকে পড়ে—কখনো শব্দ হয়ে, কখনো অন্ধকার হয়ে...

আর কখনো, কোনো হারিয়ে যাওয়া কর্নারের মতো নিঃশব্দে।

নাজায়েয ঝাড়ফুঁক নয়, আরোগ্য খুঁজে নিন কেবলই রুকইয়ায়!

 নাজায়েয ঝাড়ফুঁক নয়, আরোগ্য খুঁজে নিন কেবলই রুকইয়ায়!

.

কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, তিনি এই কুরআনের মধ্যেই মুমিনদের জন্য রেখেছেন শিফা। অথচ কুরআনকে ছেড়ে আমরা শিফা খুঁজে বেড়াই কবিরাজের ভণ্ডামি আর তান্ত্রিকদের কুফরি তন্ত্রমন্ত্রে। সেইসাথে নাজায়েয ঝাড়ফুঁকের প্রকোপ তো আছেই। আল্লাহর দ্বীনের মধ্যেই যে এ ব্যাপারে সুসংহত বিধানাবলি আছে, সে ব্যাপারে আমরা ব্যাপকভাবে অজ্ঞ!

.

রুকইয়াহ শব্দটি একটা সময় বলা যায় পুরোপুরি অপরিচিতই ছিল মুসলিমদের মাঝে। যে বইটির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এই শব্দ ও চিকিৎসা পদ্ধতিটি সর্বসাধারণের মাঝে ব্যাপক পরিচিতি পায়, সেটা হচ্ছে মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের “রুকইয়াহ”। 

.

এই বইটিতে বিভিন্ন রকম রোগের ক্ষেত্রে রুকইয়াহ করার পদ্ধতি নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করা হয়েছে। কীভাবে নিজের ও অন্যের রুকইয়াহ করবেন, সেটা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন লেখক। এজন্য আয়াত, হাদীস ও প্রয়োজনীয় দু’আ সন্নিবেশ করেছেন তিনি। জ্বিন, জাদু, বদনজর ও ঝাড়ফুঁক বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিও তিনি সহজ ভাষায় তুলে ধরেছেন। 

.

রুকইয়াহ

লেখক : আব্দুল্লাহ আল-মাহমুদ

প্রকাশনী : সন্দীপন প্রকাশন

লিংক: https://www.wafilife.com/rukiyah/dp/640031

আসসালামু আলাইকুম। আজ আপনাদের সাথে একটি ঘটনা শেয়ার করব যেটা বেশ অনেকদিন ধরেই আমরা ফেইস করছি। সবচেয়ে বেশি ফেইস করছে মূলত আমার দাদি। তো শুরু করা যাক

 আসসালামু আলাইকুম। আজ আপনাদের সাথে একটি ঘটনা শেয়ার করব যেটা বেশ অনেকদিন ধরেই আমরা ফেইস করছি। সবচেয়ে বেশি ফেইস করছে মূলত আমার দাদি। তো শুরু করা যাক...


রাত তখন দুইটা বেজে পনেরো মিনিট। দাদির উচ্চকণ্ঠে আমার ঘুম ভেঙে যায়। বলে রাখা ভালো,রাতে আমি দাদির সাথে থাকি। দাদি আব্বু,চাচাদের জোরে জোরে ডাকছিলেন কিন্তু কেউই যেন সে আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিল না। আমি ঘুম জড়ানো কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলাম,


“কী হয়েছে? সবাইকে ডাকছো কেন?”


দাদি কিছুটা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বললেন,


“আমার রুমে কে যেন এসেছে! বিছানায় উঠতে চাইছিল!”


আমি ভ্রু কুঁচকে চারপাশে তাকালাম। অন্ধকারেও স্পষ্ট বুঝতে পারলাম যে কেউ নেই। আমি বললাম,


“কোথায়? কেউ তো নেই!”


“না,একটু আগেও ছিল। এখন হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে গেছে।”


আমি এবার উঠে রুমের লাইট জ্বালালাম৷ পুরো রুম জুড়ে চোখ বুলিয়ে কাউকেই দেখতে পেলাম না। দাদি তখনও ভয়ে  বিছানার এককোণে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছেন। দাদির অবস্থা দেখে বিষয়টা আমার কাছে মোটেও স্বাভাবিক মনে হলো না। আমি বললাম,


“এখানে বসে ডাকলে কেউ শুনবে না। চলো,আমার সাথে।”


দাদিকে সাথে নিয়ে আব্বু,ছোট চাচ্চু,বড়বাবাকে ডেকে তুললাম। তারা মূল ঘটনা জানতে চাইলে দাদি সব খুলে বললেন। দাদির ভাষ্যমতে,


ইদানীং দাদির রাতে খুব একটা ঘুম হয় না। ফলে রাতের বেশিরভাগ সময়ই কাটে নিদ্রাহীন। আজও একইভাবে সময় কাটছিল। সহসা দাদি খেয়াল করে,একটা কালো ছায়া,একদম মানুষের মতোই গড়ন,বিছানায় হামাগুড়ি দিয়ে উঠতে চাইছে এবং দাদির দিকেই মুখ তুলে আছে৷ দাদি প্রথমে ভাবলো ঘরের কেউ কি এসেছে? পরক্ষণেই মাথায় এলো,ছায়াটা দেখতে বেশ বড়সড়। ঘরের বড়দের মধ্যে কেউ এলে এভাবে অন্ধকারের মাঝে কেন বিছানায় উঠতে চাইবে? তাও আবার হামাগুড়ি দিয়ে? হয় রুমের লাইট জ্বালাবে নাহয় দাদিকে ডাক দিবে। এমন অদ্ভুত কর্মকাণ্ড দাদির মনে ভীতির সৃষ্টি করে। তাই তিনি সবাইকে ডাকতে শুরু করেন৷ আশ্চর্যের বিষয় হলো,সবাইকে ডাকামাত্রই ছায়াটা অদৃশ্য হয়ে যায়। 


আব্বু,চাচারা তখন পুরো বাসা ভালোমতো পর্যবেক্ষণ করলেন। কিন্তু কোথাও কিছু দেখতে পেলেন না। তবে দাদি নিশ্চিত ছিল এটা কোনো মানুষ হতে পারে না। নাহলে কি এভাবে অদৃশ্য হয়ে যেত? কিন্তু বাসার কেউই তা বিশ্বাস করলো না। তারা এটাকে নিছকই একটা মনের ভ্রম ধরে নিল। যেহেতু দাদির বয়স হচ্ছে,সেইসাথে তিনি অসুস্থ সেহেতু মনের মাঝে এমন বহু কল্পনা আসে যেগুলোকে মনে হয় আমাদের চোখের সামনেই আছে,চোখের সামনেই সব ঘটছে। দাদিও তাদের যুক্তি প্রথমবারের মতো মেনে নিলেন।


এরপর থেকে ডাইনিং রুমের লাইট জ্বালিয়ে রাখা হতো। এটা মূলত দাদির মনের খচখচানি ভাবের জন্য। ডাইনিং রুমের লাইটে সব রুমই মোটামুটি আলোকিত হয় তাই ভয়টাও কম লাগে। সেদিনের এই ঘটনার পর দুই,তিনদিন আর তেমন কিছু ঘটেনি। কিন্তু এরপরই একদিন দাদি মাঝরাতে উঠে ওয়াশরুমে যায়। ওয়াশরুম থেকে যখন তিনি রুমে এসে বিছানায় উঠেন তখনই তিনি দেখতে পান ওয়ারড্রবের সাথে হেলান দিয়ে সাদা কাপড় পরিহিত কেউ বসে আছে। দাদি ভয়ে আর কিছু খেয়াল না করে অপর পাশ ফিরে শুয়ে পড়েন আর মনে মনে দোয়া পড়তে থাকেন। এই ঘটনাটা দাদি কেবল আমার সাথেই শেয়ার করেন। আমিও আর কাউকে এ বিষয়ে কিছু বলিনি।


এর পরেরদিন রাতেই দাদি সম্মুখীন হয় এক ভয়ানক ঘটনার। এই ঘটনাটাও ঘটে রাত দুটোর সময়। দাদি দেখতে পায় একটা কালো ছায়া দাদির দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এবং দাদিকে ধরার চেষ্টায় আছে। দাদি ভয়ে দ্রুত শোয়া থেকে উঠে বসে এবং ক্রমাগত পিছাতে থাকে। তিনি যতেই পিছিয়ে আসছেন,ছায়াটা ততোই এগিয়ে আসছে। সেদিন দুটো কালো ছায়ার উপস্থিতি ছিল। অপর কালো ছায়াটি পিছনে দাঁড়িয়ে ছিল। দাদি ভয়ে চিৎকার করছেন আর বলছেন,


“না,আমাকে না!”


কিন্তু ছায়াটির কোনো নড়চড় নেই। সে ঠিকই তার হাতদুটো বাড়িয়ে দাদিকে ধরার চেষ্টায় মত্ত। দাদি ভয়ে কোনো সূরাও ঠিকঠাক বলতে পারছেন না। তবে তিনি শুনেছেন ছায়াটা কিছু একটা বলছে কিন্তু কী বলছে তা ঠিক বুঝতে পারেননি। দাদির চিৎকারে প্রথমে ছোটচাচা ছুটে আসে। রুমের লাইট না জ্বালিয়েই দাদিকে এসে জড়িয়ে ধরে। ছোটচাচা আসার পরও ছায়াটা দাঁড়িয়ে ছিল কিন্তু দাদি ব্যতীত আর কেউ দেখতে পায়নি। পরক্ষণে,আব্বু,বড়বাবা,আম্মু,চাচি সবাই এসে রুমের লাইট জ্বালায় এবং দাদি স্পষ্ট দেখতে পায় ছায়াটা কিছু একটা বলতে বলতে অদৃশ্য হয়ে যায়। 

প্রথমদিন দাদির ডাক কেউই শুনতে পায়নি তাই এরপর থেকে সবাই একটু সতর্কতার সাথেই ঘুমাতো যেন দাদি ডাকলে তারা শুনতে পায়। দাদি তাদের সব খুলে বলল। ঘটনা শুনে এবার তারাও কিছুটা ভয় পেল। সত্যিই কি তাহলে কিছু আছে? তখন বড়বাবা বলল,আর একদিন অপেক্ষা করতে। এই একদিনে দাদি আবারও সেই ছায়াটা দেখতে পায় কিনা তা জেনে তখন একজন হুজুরকে ডেকে আনবেন। সবাই মেনে নেয় তা।


এর পরেরদিন ভোরবেলা,ছয়টা বাজে। মূলত এই সময় ঘরের ভিতরটা আলোকিত হতে শুরু করে। কিন্তু সেদিন বাসার ভিতর দেখলে মনে হবে যেন ঘোর অমাবস্যায় ছেয়ে গেছে। কুচকুচে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে আছে বাসার প্রতিটি রুম। সেদিন আবার,আমার চাচাতো ভাই জেগে ফোনে গেইম খেলছিল। হঠাৎ সে আড়চোখে দেখতে পায় যে,একটা কালো অবয়বের মতো কিছু একটা দাদির রুমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে৷ গেইম খেলায় মত্ত থাকায় সে বিষয়টাকে বিশেষ পাত্তা দেয়নি। ছায়াটা এবার দাদির দিকে না গিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসে এবং দুইহাত বাড়িয়ে আমাকে ধরতে চাচ্ছিল। ভাগ্যক্রমে,সেসময় দাদির ঘুম ভেঙে যায় এবং এই দৃশ্য দেখে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। দাদির চিৎকারে সবাই ছুটে আসে এবং সবটা শুনে সিদ্ধান্ত নেয় যে আজকেই একজন হুজুরকে ডেকে আনবেন। বড়বাবা একজন হুজুরের সাথে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করলে হুজুর বলেন,এটা ভালো কোনো কবিরাজ ডেকে আনতে হবে। তবে তিনি বলেন,দাদির বয়স হচ্ছে তো তাই এটা মনের ভুলও হতে পারে৷ কিন্তু সবাই ততদিনে নিশ্চিত এটা কোনো মনের ভুল বা বিভ্রম নয়। এটা সত্যিই অশরীরী জাতীয় কিছু৷ কারণ,সবাই তখন বিষয়টা অনুভব করতে শুরু করেছিল। আম্মুর কাছে প্রায়ই মনে হয়,ডাইনিং রুম জুড়ে কেউ যেন হাঁটছে৷ মাঝে মাঝে মনে হয়,অদ্ভুত কণ্ঠে কেউ আম্মুর নাম ধরে ডাকছে। এর মাঝেই একটা বিশেষ দরকারে আমাদের গ্রামের বাড়ি চলে যেতে হয়। ফলে,গ্রামে যে কতদিন আমরা থেকেছিলাম সে কয়দিন আর বিশেষ কোনো সমস্যা হয়নি।


গ্রামে একজন পীরসাহেবের সাথে আব্বু বিষয়টা নিয়ে কথা বললে তিনি দাদিকে এবং আমাকে একটি তাবিজ দেন এবং বলেন তিনি একদিন বাসায় এসে বিষয়টা দেখতে চান। কিন্তু উনার নানা ব্যস্ততার কারণে আর আসতে পারেননি। এর মাঝেই আমরা গ্রাম হতে এসে পড়ি। 


গ্রাম হতে আসার পর এর উৎপাত যেন আরও বৃদ্ধি পায়৷ দাদি মাঝরাতে দেখতে পেত,কালো ছায়াটা কিছুটা দূরে ঘুরঘুর করছে কিন্তু কাছে আসতো না। হয়তো তাবিজের কারণেই। কালো ছায়াটা বিকট শব্দ করতো,টেবিল,কাঁচের উপর করাঘাত করতো,রুম জুড়ে হাঁটতো। অপরদিকে,আমার চাচাতো ভাই সেদিন আড়চোখে ছায়াটাকে দেখার পর থেকেই কেমন যেন ভয় পেত সর্বদা। সাহসী ছেলেটা দিনদিন ভীতু হয়ে যেতে লাগল। ভয়ে নেতিয়ে থাকতো। ফলে,তার জন্যও তাবিজ আনা হয়। একদিন আম্মুর মনে পড়ে,আম্মুর এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় একজন ভালো কবিরাজ। তিনি দূর থেকে ঘটনা শুনেই বলে দিতে পারেন বিষয়টা আসলে কী। আম্মু ফোনে উনার সাথে যোগাযোগ করেন এবং সবকিছু খুলে বলেন। তিনি সবটা শুনে জিজ্ঞেস করেন,দাদি যখন ভয় পায় তখন উনার মুখ বেঁকে যায় কিনা বা মুখ কিছুটা বিকৃত হয়ে যায় কিনা। এই কতোদিনে দাদি যতোবারই ভয় পেতো,উনার মুখ সত্যিই কিছুটা বেঁকে যেত,দেখতে ভয়ংকর লাগতো। তখন সেই কবিরাজ বলেন,এটা আর কিছু না,এটা হলো পিশাচ। আর এই জাতীয় পিশাচকে বলা হয় 'দেউ পিশাচ'। তিনি বলেন,এরা বেশ লম্বা থাকে,নখগুলো থাকে বড় বড়,দাঁতগুলোও বড় থাকে। এদের দেহ কালো কুচকুচে এবং এরা  একবার কোথাও প্রবেশ করলে সহজে বের হতে চায় না৷ এরা যাদেরকে ধরতে চায় মূলত তাদেরকেই দেখা দেয়। আর কেউ তাদের দেখতে পায় না। বিষয়টা গিয়ে দাঁড়াচ্ছে যে,এটা দাদিকে ধরতে চাচ্ছে কারণ তিনি ব্যতীত আর কেউই ছায়াটাকে দেখতে পায়নি। আম্মু ভীষণ ভয় পেয়ে যায় এবং উনাকে অনুরোধ করে একদিন বাসায় এসে যেন দাদির শরীর এবং বাসাটাকে বন্ধ করে দিয়ে যায়। তিনি আশ্বাস দেন,অবশ্যই একদিন আসবেন।


আম্মু দাদিকে এ বিষয়ে কিছু বলেনি কারণ তিনি এমনিতেই ভয়ের মাঝে আছেন। এসব শুনলে উনার ভয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে। কিন্তু দাদি একদিন বলেন,তিনি তো এতদিন কেবল ছায়াটাকে দেখেছেন,এবার একদম সশরীরে দেখতে পেরেছেন সেই ছায়াটার আসল রূপ। ডাইনিং রুমে রান্নাঘরের সামনে দাদির রুমের দিকে মুখ করে বসে ছিল। শরীরে কোনোরকম একটা কাপড় পেঁচানো,নখগুলো লম্বা লম্বা,দাঁতগুলো বড় বড়,কালো লোমে ঢাকা সম্পূর্ণ দেহ,মুখটা দেখতে কী বিশ্রী আর ভয়ানক! যেহেতু এটা দাদির থেকে দূরেই ছিল তাই দাদি মনে সাহস জুগিয়ে সূরা,আয়তুল কুরসি পাঠ করে ঘুমানোর চেষ্টা করেন। দাদির মুখে এমন বিবৃতি শুনে এবার সবাই নিশ্চিত হলেন এটা পিশাচই। কিন্তু কেন এটা দাদিকেই কেবল ধরতে চাচ্ছে,কী উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে,এর উদ্দেশ্য কি শুধুই দাদির ক্ষতিসাধন করা নাকি অন্যকিছু তা এখনও অজানা। কারণ,এখনও সেই কবিরাজ আসতে পারেননি। কিন্তু তিনিই বা আসতে কেন এতো দেরি করছেন,অপরদিকে গ্রামের সেই পীরসাহেবও যেন কিছু একটা লুকিয়ে গিয়েছিলেন যা উনার সাথে কথা বলার সময় আব্বু বুঝতে পেরেছিল- এসবই যেন রহস্যজনক। সেই রহস্যের বেড়াজালে আটকে রয়েছে আমাদের বাসার প্রতিটি মানুষ।


গল্পঃ পিশাচ

লেখকঃ মারিয়া আক্তার মাতিন

নিশিঃ S1-04


#Nishi

#NishiByMSS

#MymensinghShortStories 


মেসেঞ্জারে আমাদের নতুন গল্পের আপডেট সবার আগে পেতে জয়েন করুন: https://m.me/j/AbaOm2llX93W0VYz/


-----------------------------------------------------------------


বিঃদ্রঃ গল্পের লেখার ছোট ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন; সম্ভব হলে মেসেজে জানাবেন। সবশেষে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না, কেমন লেগেছে আজকের গল্প।


-----------------------------------------------------------------


Disclaimer: The image is generated by AI and depicts a fictional scene intended for artistic and narrative purposes. It may contain elements that some viewers might find unsettling. Viewer discretion is advised. The content is meant to explore themes of suspense and is not intended to glorify or promote violence.

ঘটনাটা কুমিল্লার-

 ⛔ঘটনাটা কুমিল্লার-


শখ করে পুঁটিমাছ কিনে এনেছেন স্বামী ।হয়তো ইচ্ছে ছিল গরম গরম ভাজি করে গরম ভাতের সাথে খাবেন । বৌও খুব যত্ন করে মাছ কেটে ধুয়ে ভেজে স্বামীর পাতে দিবেন বলেই বটি নিয়ে বসে গেছিলেন কাটতে ।


হয়তো পুঁটি মাছ কাটার সময় স্বামী বসেছিলো পাশেই । 


মাছ কাটার সময় স্বামী হয়তো এমনিই বলেছিল- মাছের ভুড়ি ঠিকমতো পরিষ্কার কর .. নাহলে তিতা লাগবে ।


বৌও হয়তো এমনিই বলেছিল - তুমি আমাকে মাছ কাটা শিখাও ? মাছ কাটতে কাটতে এক জীবন পার করে দিলাম …।


স্বামী হয়তো এই কথার উত্তরে বলেছিলো- তবুও যা বলছি সেইমতো কর ।


বৌ হয়তো এই কথার প্রেক্ষিতে বলেছিলো - করতেছিই তো .. এত কথা না বলে চুপ করে দেখ ।


স্বামী চুপ না থেকে হয়তো আরেকটা কথা বলেছে … সেটার প্রেক্ষিতে বৌ আরেকটা । এভাবেই হয়তো ঝগড়ার শুরু ।


এবং শেষ পর্যন্ত স্বামীর হাতে বৌ নৃ$শংস ভাবে খু$ন!

রাগের মাথায় স্বামীও হয়তো বুঝেনি সে কি করছে !


এজন‍্য প্রতিটি সম্পর্কে বোঝাপড়া থাকাটা জরুরী । আমাদের বুঝতে হবে কোথায় আমাদের থামতে হবে । পারস্পরিক বোঝাপড়া, শ্রদ্ধাবোধ এবং ভালোবাসা একটা সম্পর্কের অক্সিজেন । 


এটা ছাড়া সম্পর্কের মৃত্যু হয় !


ছাড় দেয়া শিখতে হয় । শুধু ভালোবাসলেই ধরে রাখা যায় না । জানতে হয় কোথায় বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে , কোথায় ফুলস্টপ দিতে হবে ।


আহ! জীবন … আহারে জীবন!

শেষ জামানার দারপ্রান্তে মনে হয় আমরা 🥺

অভিশপ্ত__পরী পর্ব __০১ #লেখক__মোঃ__নিশাদ 

 গল্প #অভিশপ্ত__পরী

পর্ব __০১

#লেখক__মোঃ__নিশাদ 


পরী এই কথাটা মনে হতে সবার চোখে সুন্দরী এক রমণীর ছবি ভেসে উঠে তাইনা। হ্যাঁ আপনাদের মত আমারে এরকম মনে হতো। 


কিন্তু পরী ও যে কতটা ভয়ং*কর হয় সেটা জানতে পেরেছি আমার বাবার মুখ থেকে। 


আমার বাবা বলতো আমার গ্রামের কবরস্থানের পাশের গাছটার একটা পরী থাকে। এটা যেমন তেমন পরী না অভিশপ্ত পরী। পরীটা নাকি অনেক ভয়ং*কর। গ্রামের যে এই পরীটাকে দেখছে সেই ভয়ে কেউবা অসুস্থ হয়ে মা*রা গেছে। 


আমি যখন প্রথম বাবার মুখ থেকে পরীর ঘটনা শুনি তখন বাবাকে জিজ্ঞেস করি। 


-বাবা ঐ পরী কবরস্থানের ওখানে আসলো কিভাবে না মানে ওর ওখানে থাকার পিছনে কোন রহস্য আছে কি। 


আমার কথার জবাবে বাবা বললেন হ্যাঁ আছে। আমি আমার বাবার মুখ থেকে শুনেছি৷ অনেক আগে সেই কবরস্থানের ওখানে একটা পুকুর ছিলো। 


সেই অভিশপ্ত পরী সেই পুকুরে বসবাস করতেন। 

একদিন সেই পুকুরের মানুষ গ্রামের সবাইকে ডাকে আর বলে। 

আমাদের গ্রামে তো কোন কবরস্থান নেই। আমি আমার পুকুরটা ভরাট করে একটা কবরস্থান তৈরি করতে চাই যদি আমাকে সবাই সাহায্য করেন। 


ওনার কথায় গ্রামের সবাই রাজি হয়।  সবাই পড়েরদিন সেই পুকুরটা ভরাট করার কাজ শুরু করে। 

পুকুর ভরাট করছে সে জন্য ঐ অভিশপ্ত পরী পুকুরের মালিক সহ আরো অনেককে ঘুমের মাঝে স্বপ্নে এসে সাবধান করে ওরা যেনো পুকুরটা ভরাট না করে কিন্তু পরীর কোন কথা না শুনে পুকুরটা ভরাট করা হয় আর সেখানে কবরস্থান করে দেয়া হয়৷ 


কবরস্থান হবার পর ও কিন্তু পরী সেখান থেকে চলে যায়নি পরী সেখানে একটা গাছে থেকে যায় আর মানুষদের৷ ভয় দেখাতে থাকে৷ 


এখন পরীর বিষয়ে আর তেমন কিছু না বলি। কারণ আমি আজ অনেকদিন পর শহর থেকে বাড়িতে ফিরছি। 


আমার ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যাবে। 

গ্রামে দুঃখ একটাই রাত হয়ে অটো বা রিকশা কিছুই পাওয়া যাবেনা তখন হেঁটে যেতে হবে পুরু গ্রাম।


মনের মধ্যে সাহস নিয়ে বাড়িতে ফিরছি। 

আমি মা বাবা একমাত্র ছেলে বাবাকে কল করছিলাম ওনি যেনো একটু এগিয়ে আসে কিন্তু বাবা একটু অসুস্থ হওয়ায় আমি ওনাকে এগিয়ে আসতে মানা করি। 


 যাইহোক, 

আমার মনে যা সন্দেহ ছিলো সেটাই হলো। 

আমি বাস থেকে নামলাম রাত দশটার দিকে। 


রাত দশটাই যে কোন রিকশা বা অটো পাওয়া যাবেনা এটা ভালো করে যানতাম তবুও একটু অপেক্ষা করলাম কিন্তু কোন কিছুই পেলাম না। 


ঘড়িতে তখন দশটা ত্রিশ মিনিট। ফোনের লাইটটা জ্বালিয়ে হাঁটতে লাগলাম বাড়ির দিকে। 

বাড়িতে পৌঁছাতে পনেরো থেকে বিশ মিনিট লাগবে। 


আমি হেঁটে চলেছি গ্রামের শান্ত পরিবেশ। চারিদিকে নিরবতা, পাশের ফসলি জমি থেকে ভেসে আসছে ঝিঝি পোকার ডাক। 


 এরকম পরিবেশে হাঁটতে অনেক ভালো লাগছে। 

সমস্যা ও ভয় একটাই ঐ কবরস্থান। আমাকে বাড়িতে যেতেহলে ঐ কবরস্থান পেড়িয়ে যেতে হবে। কবরস্থান কোন সমস্যা না সমস্যা হলো ঐ অভিশপ্ত পরী। 


বাবার মুখে পরীর ঘটনা শুনেছি। কিন্তু কখনও নিজের চোখে দেখিনি এসব৷ 

এর আগেও এভাবে কখনও রাতের বেলা এভাবে হাঁটা হয়নি। 


মনের মধ্যে ভয় নিয়ে এগিয়ে যেতে লাগলাম। 

বেশ কিছুক্ষন হাঁটার পর আমি চলে আসলাম আমার ভাবনার সেই ভয়ং*কর জায়গায়। 


আমি কবরস্থানের কাছে আসায় দোয়া কালাম পড়তে পড়তে হাঁটতে লাগলাম। 

আমি যখন সেই কবরস্থান অতিক্রম করবো তখনি হঠাৎ শুনতে পেলাম একটা বাচ্চার কান্না। 


-বাচ্চার কান্না শুনে ভয়ের সাথে আমি বেশ অবাক হলাম আর মনে মনে বলে উঠলাম। 


-আরে এত রাতে কবরস্থানে কান্নার আওয়াজ আসে কোথা থেকে। বিষয়টা সাভাবিক না ভেবে সামনের দিকে এগোতে যাবো তখনি কান্নার আওয়াজটা বেড়ে গেলো। 


কান্নার আওয়াজ বেড়ে যাওয়ায় আমি সাহস করে পিছন দিকে ঘুরে তাকাই আর যেদিক দিয়ে কান্নার আওয়াজ আসছে সেদিকে লাইটটা ধরে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলি। 


 কে, কে ওখানে। কেউ কি আছেন ওখানে। 

আমি কথাটা বলায় সেই কান্নার আওয়াজটা থেমে গেলো। 


কান্নার আওয়াজটা থামায় আমি আবারো সামনের দিকে হাঁটতে যাবো তখনি আবারো ভেসে আসলো সেই আওয়াজ। কিন্তু এবার কান্না না হাসির আওয়াজ। মনে হচ্ছে একটা বাচ্চা খিলখিল করে হাঁসছে। কখনও কান্না কখনও বা হাসির আওয়াজ শুনে আমি বুঝতে পারি আমার সাথে খারাপ কিছু ঘটতে পারে যা হবার হবে আমি আর এখানে থাকবোনা আমি সোজা চলে যাবো বাড়িতে। এই ভেবে যেইনা আমি আমার বাড়ির দিকে ঘুরেছি তখনি চিৎ*কার দিয়ে দু পা পিছিয়ে আসি।


কারণ আমি দেখতে পারি আমার সামনে খুব সুন্দরী একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সামনে দিকে হঠাৎ করে মুখোমুখি দেখে চিৎ*কার করছিলাম। 


আমি দু পা পিছিয়ে এসে বলি। 

কে আপনি। এখানে, এখানে কি করেন এত রাতে। 


আমার কথায় সুন্দরী মেয়েটি বলেন  " এটা তো আমার থাকার জায়গা, আমার থাকার জায়গায় আমি থাকবোনা বুঝি। 


মানে, কি বলেন আপনার থাকার জায়গা মানে। এখানে আশপাশে তো কোন বাড়ি ঘর দেখছিনা কোথায় থাকেন আপনি। 


 আমার কথায় ওনি বললেন। কেনো এখানেই থাকি। 

মানে, এখানে কিভাবে থাকা সম্ভব। কে আপনি বলুনতো। 


আমার কথায় মেয়েটা যা বললেন সেটা শুনে আমি চোখ বড় বড় করে ওনার দিকে তাকিয়ে রইলাম। 


মেয়েটা আমাকে বললো আসলে সত্যি বলতে আমি কোন মানুষ না আমি একটা পরী। আর আমি এখানেই থাকি। 


 কিহহহহ, আপনি সেই পরী।আপনি তো অভিশপ্ত পরী। আমাকে ছেড়ে দিন। আমাকে কিছু করবেন না। দেখুন আমি আপনার কোন ক্ষতি তো করিনি তাইনা। আমি শহর থেকে বাড়িতে ফিরছিলাম দয়া করুন। 


আমার কথায় মেয়েটা সামনের দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে শান্ত গলায় বললেন। 


 আপনি ভয় পাবেন না৷ আমি আপনার কোন ক্ষতি করবোনা। আর আমি অভিশপ্ত পরী নই। 


পরীর কথায় আমি ভয়ে ভয়ে বললাম। সত্যি, সত্যি আপনি অভিশপ্ত পরী নন। 


 আরে না আমি সেই পরী না। চলুন হাঁটতে হাঁটতে কথা বলি৷ আমি আপনাকে এগিয়ে দেই। 


পরীর এমন শান্ত কথায় আমি ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে বাড়ির দিকে যেতে থাকি। 

এদিকে পরী আমার সাথে সাথে হাঁটতে থাকে। 


তারপর _______

Next______


একটা রহস্যময় পরীর গল্প নিয়ে হাজির হলাম৷ গল্পটা কেমন লাগলো জানাবেন সবাই। 


যাঁরা আমার গল্প নতুন পড়ছেন তাঁরা আমার এই আইডি " ভূতের গল্প লেখক আইডিতে ঢুকে গল্প পড়েন এই আইডিতে অনেক অনেক গল্প আছে। 


যাঁরা আইডিটি ফলো করেননি ফলো করে দিন। 


এই গল্পটা কেউ কপি করে কোন ইউটিউব চ্যানেলে দিবেন না কারণ আমার গল্প আমার নিজের চ্যানেল " Kalo rat 24 এ প্রচার হয়। 


পরের পর্বর জন্য অপেক্ষা করুন ধন্যবাদ সবাইকে।

শেয়ালের শিক্ষা,,,,

 শেয়ালের শিক্ষা,,,,


একদিন এক চতুর শেয়ালের সঙ্গে এক বকের বন্ধুত্ব হয়ে গেলো। বেশ ভালো বন্ধুত্ব। দুজনে গল্প করে, হাঁটে, মজা করে।

একদিন শেয়াল বককে বললো,

“বন্ধু, আজ আমার বাড়ি এসো না। খাওয়া দাওয়া আর আড্ডা হবে জমিয়ে।”


বক তো খুব খুশি। সেদিন সকালেই সে নিজের ঠোঁট ঝকঝকে করলো, পালক ঝাড়লো, সুন্দর করে গুছিয়ে নিজেকে তৈরি করলো নিমন্ত্রণে যাওয়ার জন্য।


শেয়ালের বাড়িতে গিয়ে বক বসে পড়লো খাওয়ার আশায়। কিছুক্ষণ পর শেয়াল একটি চ্যাপ্টা থালায় পাতলা ঝোল এনে সামনে রাখলো।

শেয়াল নিজে জিভ দিয়ে খুব মজা করে খেতে লাগলো।

কিন্তু বক,,,,? তার তো লম্বা, সরু ঠোঁট। সে কিছুই তুলতে পারল না ওই চ্যাপ্টা থালা থেকে।

অনেক চেষ্টা করেও এক ফোঁটা ঝোলও খেতে পারলো না।

হতাশ হয়ে সে খালি পেটে নিজের বাড়ি ফিরে গেলো।


কয়েকদিন পর বকও শেয়ালকে দাওয়াত দিলো।

সে বলল, “বন্ধু, এবার তুমি এসো আমার বাড়ি। আমি তোমাকে খাওয়াবো একদম মজার খাবার!”


শেয়াল তো খুব খুশি। সে ভাবলো, এবার ভালো খাওয়া হবে।

সে গেলো বকের বাড়ি, খুব আগ্রহ নিয়ে বসে পড়লো।


কিছুক্ষণ পর বক আনলো এক লম্বা গলার সরু মুখওয়ালা মাটির কুঁজো। তার মধ্যে ছিল সুস্বাদু ঝোল।

বক তার ঠোঁট ঢুকিয়ে খেতে লাগলো একদম আয়েশ করে।


কিন্তু শেয়ালের মুখ তো ঢুকেই না সেই সরু মুখের কুঁজোতে।

সে চেয়ে চেয়ে দেখলো বকের খাওয়া।

শেষমেশ খালি পেটে, মন খারাপ করে উঠে দাঁড়ালো।


তখন বক বললো,

“বন্ধু, কিছু মনে করো না। আমি তো শুধু তোমার কাছ থেকেই শিখেছি!”


শেয়ালের মুখ লাল হয়ে গেলো লজ্জায়। সে কিছু না বলে ফিরে গেলো।


শিক্ষাঃ

অন্যের সাথে যেমন ব্যবহার করবে, ঠিক সেরকম ব্যবহার একদিন তোমার দিকেও ফিরে আসবে।

তাই সব সময় অন্যের ভালো চাও, সম্মান দাও। কারণ, যেমন কর্ম, তেমনই ফল।   🥀🥀জীবন🥀🥀

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...