এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ১০ মে, ২০২৫

প্রতিদিন অফিস এ যাওয়ার সময় দেখি, একজন ভদ্র মহিলা নোহা গাড়ীর পিছনের ঢালা ওপেন করে থ্রি পিস, ওড়না এসব বিক্রি করেন।

 প্রতিদিন অফিস এ যাওয়ার সময় দেখি, একজন ভদ্র মহিলা নোহা গাড়ীর পিছনের ঢালা ওপেন করে থ্রি পিস, ওড়না এসব বিক্রি করেন।


উত্তরা আজমপুর রেল গেট পার হলেই দেখা যায় তিনি ক্রেতাদের সাথে ব্যস্ত সময় পার করছেন।


ওনার সাথে কথা বলার কৌতূহল থাকলেও ওনার ব্যস্ততার  কারণে সেই সুযোগ হয় না।


আজকে অবশেষে কথা বলার সুযোগ হলো, জানতে পারলাম অনেক কিছু। 

ওনি ওই জায়গাতে কাপড় বিক্রি  করার কারণ হলো, ওখানে একটা স্কুল আছে, চাইল্ড হ্যাভেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।


ওই স্কুলে তার একটা ছেলে পড়ে, ছেলেকে স্কুলে নিয়ে আসেন এবং এই সময়টাতে তিনি কাপড় বিক্রি করেন।


অনেক ভাবিরা কিন্তু শরমে শেষ হয়ে যেতো। মনে আছে আমিও আমার স্কুলে, আমাদের গাছের পেয়ারা বিক্রি করতে নিয়ে যেতাম। এটা কিছুটা চ্যালেঞ্জিংও বটে।

রিপা আপুকে নিয়ে লেখার কারণ হলো, ওনারা বেশ স্বচ্ছল, ওনাদের এই গাড়ীটা ছাড়াও আরো ২ টা গাড়ী আছে। রিপা আপু জানালো ছেলেদের পড়াশোনা সংসারের খরচ মিলে মাসে লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

আর এটা ওনার কাপড় বিক্রির টাকা থেকেই উঠে আসে।

কি দারুণ তাই না?


আমাদের প্রজন্মের সবাই ছুটছি চাকরির পিছনে, চাকরি করে কত টাকা পাই? আজকে ২০ টাকা বাঁচানোর জন্য তিন কিলোমিটার হেঁটে বাসায় আসলাম। 


© সার্জেন্ট জুয়েল

Copy post 🙏

ছয়_জাতের_পেয়াজ_বীজ

 মানুষের ভেতরের উদ্ভাবনী শক্তি কখনো পড়ালেখার জন্য থেমে থাকে না। মানুষের পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা প্রকাশিত হয় যা প্রমাণ করলেন রাজশাহীর হাফিজ উদ্দিন। 


পড়ার ইচ্ছে ছিলো খুব তবুও বড় ভাইয়ের কথায়  সপ্তম শ্রেণির পর কলম ছেড়ে হাতে তুলে নেন লাঙল। লাঙলেই ফলিয়েছেন সোনা। এখন তার জায়গা-জমি, সুনাম সব আছে। ছোট ভাইয়কে পড়িয়েছেন বাংলাদেশের শেষ পর্যন্ত। 


নিজের চেষ্টায় সংকরায়ণের মাধ্যমে পেয়েছেন ছয় জাতের বীজ যার নামকরণ করেছেন তিনি নিজে। এগুলো হচ্ছে সম্রাট, সুপার গোল্ড, সুপার কিং, মহারাজ,রেশমা সুপার ও কুইন-তাহেরপুরী। এর মধ্যে রেশমা সুপার বীজের নামকরণ করেছেন তাঁর প্রয়াত স্ত্রীর নামে। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৪ জেলায় ছড়িয়ে আছে সেই পেঁয়াজবীজের বাজার। যেসব জেলার মধ্যে রয়েছে রাজশাহী, পাবনা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, মাগুরা, মানিকগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, লালমনিরহাট এবং পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও বগুড়া জেলার কিছু অংশ।


এই বীজের বৈশিষ্ট্যঃ

সাধারণ পেঁয়াজ সহজে পচে যায়। চাতালে বেশি দিন টেকে না। একাধিক কন্দবিশিষ্ট হয়, ফেটে যায়। সংকরায়ণের মাধ্যমে পাওয়া হাফিজের বীজের পেঁয়াজ হয় এক কন্দবিশিষ্ট, এক মাপের ও চাতালে টেকে বেশি দিন। তাই চাষিরা ঝুঁকেছেন তাঁর বীজের দিকে। গত বছর হাফিজ উদ্দিনের উৎপাদিত পেঁয়াজবীজের পরিমাণ ছিল ২৯ মেট্রিক টন। এবারের লক্ষ্যমাত্রা ৪০ মেট্রিক টন।


তাঁর রয়েছে ৩৫০ কন্টাক্ট ফারমার (চুক্তিবদ্ধ চাষি)। হাফিজ উদ্দিন সেই চাষিদের বপনের জন্য বীজ দেন, বিনা সুদে ঋণ দেন। তাঁদের উৎপাদিত পেঁয়াজবীজ নিয়েও চাষির দুশ্চিন্তা থাকে না। সব বীজ তিনিই নগদ টাকায় কিনে নেন। এভাবে তিনি নিজের পাশাপাশি দিন বদলে দিয়েছেন ভিটেমাটিহীন শতাধিক চাষির। কেউ জায়গাজমি কিনছেন, কেউ করেছেন পাকা ঘরবাড়ি।


হাফিজ উদ্দিন যে তীক্ষ্ণ বুদ্ধির মানুষ তা বোঝা যায় তার বীজের স্বকীয়তা রক্ষার মাধ্যম থেকে। 

বীজের স্বকীয়তা রক্ষার জন্য হাফিজ উদ্দিন চাষের সময় গোপনীয়তা রক্ষা করেন। মাঠে যাঁরা চাষ করেন, তাঁরা বলতে পারেন না তিনি কোন জাতের বীজ ফলাচ্ছেন। তাঁকে শুধু একটি কোড নম্বর দেওয়া হয়। একমাত্র হাফিজ উদ্দিনই জানেন, কোন কোডে কী বীজ হবে। আবার নির্দিষ্ট একটি এলাকায় তিনি বীজ চাষ করেন না। ঠাকুরগাঁও থেকে রাজশাহী ও কুষ্টিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে তাঁর সাড়ে ৩০০ চাষির জমি। এটা করেন প্রথমত, উপযোগী মাটি আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচার জন্য। তিনি মাটি হাতে নিলেই বলে দিতে পারেন, ওই মাটিতে ভালো পেঁয়াজ হবে কি না। দ্বিতীয়ত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ একসঙ্গে সব এলাকায় হয় না।  এ জন্য তাঁর খামার দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে ছড়ানো। একটি এলাকায় দুর্যোগ হলেও অন্য এলাকার বীজ তাঁকে বাঁচায়। 


হাফিজ উদ্দিন প্রথমে ধান চাষ করতেন। এ সময় মোহনপুর উপজেলার বেলনা গ্রামের মফিজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি পেঁয়াজবীজের চাষ করতেন। একদিন হাফিজ তাঁর কাছে গিয়ে পেঁয়াজবীজের আবদার করলেন। মফিজ উদ্দিন পরের মৌসুমে হাফিজকে সাড়ে সাত কেজি পেঁয়াজ দেন। আর এখান থেকেই শুরু তার পেঁয়াজ বীজ চাষের। 


যেভাবে বাজার দখল করলেনঃ

২৫ বছর আগের কথা। ৫মণ পেয়াজ বীজ হয়েছে তার। প্রতি কেজি ৫০০টাকা দরে বিক্রি জরছিলেন স্থানীয় বাজারে। এক প্রতিবেশী ১০০টাকা বেশি দরে ৬০০টাকায় বীজ কিনে তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা পাবনায় বিক্রি করেন সে বীজ। কিছুদিন পর ৮০০টাকা কেজিতে বীজ কিনতে চান সেই প্রতিবেশী। এবার হাফিজ উদ্দিন শর্ত দিয়ে বসেন তিনিও যাবেন পাবনায়। পাবনায় গিয়ে দেখেন সবার মুখে তার বীজের কথা। এরপর সব বীজ বিক্রির দায়িত্ব দিয়ে আসেন সেখানকার এক দর্জিকে এবং বলেন বীজ থেকে চারা গজালে টাকা নিবেন নয়তো না। কিছুদিন পর খবর আসে বীজ থেকে ভালোই চারা এসেছে পাবনার লোকেরা খুশি হয়ে তাকে আড়াই হাজার টাকা কেজিতে বীজের দাম দেন। পাবনার বাজার চলে আসে তার হাতে এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। 


বীজের চাহিদা এত বেড়ে যায় যে হাফিজ উদ্দিন ‘কন্টাক্ট ফার্মিং’ শুরু করেন। চাষিদের বপন করার জন্য পেঁয়াজ দেন। বিনা সুদে ঋণ দেন। পেঁয়াজবীজ উঠলে তিনি সব কিনে নেন। তাঁদের নিয়ে মাঠ দিবস করেন। মৌসুম শেষে শহরের বড় হোটেলে অনুষ্ঠান করে দক্ষ চাষিদের পুরস্কৃত করেন। সেখানে বিশেষ ভোজের ব্যবস্থাও থাকে।


হাফিজ উদ্দিনের বাড়িতে যাওয়ার কোনো সরকারি রাস্তা ছিল না। তিনি নিজে জায়গা কিনে রাস্তা তৈরি করেছেন। উপকৃত হয়েছেন পাড়ার সব মানুষ। তাঁর দোতলা বাড়ির নিচতলা যেন একটি কারখানা। বীজ তোলার মৌসুমে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় অর্ধশত শ্রমিক কাজ করছেন। কেউ প্যাকেটে ভরছেন, কেউ প্যাকেটের মুখ সেলাই করছেন; কেউ গ্রেডিং মেশিনে, কেউ কৌটার মুখে সিল মারছেন—সে এক কর্মযজ্ঞ। 


হাফিজ উদ্দিনের মতো মানুষের জন্ম হোক বাংলার ঘরে ঘরে। যারা নিজের মেধা ও শ্রম খাটিয়ে উপকৃত হবেন নিজে এবং পাশাপাশি উপকৃত করবেন অন্যকেউ। 


তথ্যসূত্র: প্রথমআলো।

#পেয়াজ_বীজ #ছয়_জাতের_পেয়াজ_বীজ 

(অনুমতি ছাড়া রিপোস্ট করবেন না)

#বাংলার_তথ্যপট (বিস্তারিত জানুন কমেন্টে)

গল্পঃ চালাক বুড়োর টাকাকড়ি বইঃ আসামের লোককথা

 পাথর কুঁদেই দিন কাটত সেই বুড়োর। একদিন পাথর নিতে গিয়ে বুড়ো দেখে পাথরের একটা ফোকরের মধ্যে ড্যাবড্যাবিয়ে তাকিয়ে আছে একটি সোনাব্যাঙ। ব্যাঙটার রঙ যেমন সোনালি সবুজ, ঠিক তেমনি তরতাজা সেই ব্যাঙটা।

     ব্যাঙটাকে দেখেই বুড়োর বুকে উথাল-পাতাল করে উঠল পরিবর্তনের ঢেউ। বুড়ো ভাবে, শুকনো খটখটে এই নীরস পাথরের মধ্যে থেকেও ব্যাঙটা কেমন হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠেছে। এই পাথরের ফোকরেও তার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে রেখেছেন বিধাতাপুরুষ।

     আর সে-সে কিনা এই বুড়ো বয়সেও দুটো খাবার জোগাড়ের জন্য দিনরাত কুঁদে যাচ্ছে এই পাথরের চাঙর।

     মনে মনেই ভাবে বুড়ো, ইস কি বোকা আমি। একবারও কেন মনে হয়নি, কপালে যা আছে তা জুটবেই। কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না তা থেকে। তাই বুড়ো ঠিক করে ফেলে। আর কাজ নয়, এবার সে ঘরেই দিন কাটাবে শুয়ে বসে। দেখবে বিধাতাপুরুষ কি মেপে রেখেছেন তার জন্য।

     যেমন ভাবা তেমন কাজ। বুড়ো সব কাজকর্ম ছেড়ে দিনরাত শুয়ে থাকে ঘরে। পাড়া প্রতিবেশী যারা তারা ভাবে, হল কি বুড়োর? কাজ ছেড়ে দিনরাত শুয়ে থাকে-ওর খাওয়া জোটে কোথা থেকে?

     সত্যি কথা বলতে কি, সারা গাঁয়ের মানুষ বুড়োর কাজ ছাড়ার কারণটা জানার জন্য ছটফট করতে থাকে। কিন্তু জানতে পারে না কিছুই। এমন কি বুড়িকেও কিছু বলে না বুড়ো। তাই বুড়ির কাছ থেকেও শুনতে না পেয়ে পেট যেন ফুলতে থাকে গাঁয়ের মানুষের।

     কিছু দুষ্টু লোক ঠিক করে নেয়, বুড়ো নিশ্চয় খোঁজ পেয়েছে কোনো গুপ্তধনের—সেই টাকাতেই কাটাচ্ছে দিন পায়ের ওপর পা তুলে। গাঁয়ের সেই দুষ্টুদের চারজন ঠিক করে, জানতে হবে রহস্যটা। চুরি করতে হবে বুড়োর টাকা।

     চার চোর রাতের অন্ধকারে আড়ি পাতে বুড়োর ঘরে। বুড়ো তখন বিছানায় শুয়ে দেখছে একটা স্বপ্ন। বিড়বিড় করে বলে চলেছে বুড়ো তার স্বপ্নের কথাগুলো।

     বুড়ি, ও বুড়ি, শোন না কেনে, কুয়োতলায় পাড়ে রয়েছে যে লেবুগাছটা—তার তলায় রয়েছে একটা কলসি। যেমন তেমন কলসি নয়, টাকা ভর্তি কলসি। কাল সকালেই লেবু গাছের গোড়াটা খুঁড়ে বের করে নিতে হবে টাকার কলসিটা।

     চার চোর শোনে বুড়োর স্বপ্নের কথা। তারপর বলে, থাক বুড়ো এখন শুয়ে, সকালে উঠে দেখবে সব ভোঁ-ভোঁ।

     বাড়ির কানাচ থেকে চার চোরে চলে যায় কুয়োতলায়। কুয়ো-তলার পাড়েই রয়েছে একটা লেবুগাছ। চারজনে এবার খুঁড়তে থাকে গাছের তলাটা। খানিকটা খোঁড়াখুঁড়ি করতেই ঠং করে শব্দ হয়। তারা টেনে তোলে সেটা—সেই কলসিটা।

     লোভে চিকচিক করে ওঠে চার চোরের চোখ। তাড়াতাড়ি তারা কলসির ঢাকনাটা খোলে। তারপরেই যন্ত্রণায় চেঁচিয়ে ওঠে 'উফ' বলে। কলসির মুখে রয়েছে বোলতার চাক। নাড়া খেয়ে বেরিয়ে আসে বোলতা চাক ছেড়ে। হুল ফোটাতে থাকে চার চোরকে। বোলতার হুলে নাস্তানাবুদ চার চোর তাড়াতাড়ি বন্ধ করে দেয় ঢাকনা।

     বোলতার হুলের জ্বালা বড় জ্বালা। চার চোর সেই জ্বালায় জ্বলতে জ্বলতে বলে, হতচ্ছাড়া বুড়ো, আমাদের নাকাল করা, দেখাচ্ছি তোমাকে মজা।

     চার চোরে কলসিটা তুলে ছুঁড়ে ফেলে দেয় বুড়োর ঘরে। বোলতার হুলে প্রাণ যাচ্ছে বুড়োর এই ভেবে চার চোর যেই ফিরেছে অমনি তারা শোনে টাকার ঝনঝন শব্দ। বুড়োর ঘরে কলসি থেকে পড়ছে টাকা।

     চার চোরের আক্কেল গুড়ুম। কোথায় বুড়োকে বোলতায় কামড়াবে, তা নয় মাটি খুঁড়ে তারা বের করল যে কলসি তার টাকা-গুলো পেয়ে গেল বুড়ো। আর তাদের ভাগ্যে জুটল কিনা লবডঙ্কা। বোলতার হুলে ফুলে ওঠা মুখে হাত বোলাতে বোলাতে তারা বলে, জেনে রাখ বুড়ো, ও টাকা তোমার ভোগে লাগতে দেব না কিছুতেই। কালকেই চুরি করে নেব তোমার ওই টাকা।

     বিষের জ্বালায় চোরগুলো বোধহয় একটু জোরেই বলেছিল কথাগুলো। তাই বুড়ো শুনে ফেলল তাদের কথা। সঙ্গে সঙ্গে চোখ মটকে বুড়োও ঠিক করে ফেলে মতলবটা। বুড়িকে ডেকে বলে, ও বুড়ি কাল আমি জিজ্ঞেস করলে যেমন শিখিয়ে দিচ্ছি—তেমনি উত্তর দিবি কিন্তু।

     বুড়ি বলে, তা আর বলতে। কিন্তু জিজ্ঞেস করবে কি আর আমিই বা উত্তরটা দেব কি?

     শোন, আমি বলব, ও বুড়ি টাকাগুলো কোথায় রেখেছিস? তুই বলবি খড়ের চালার নিচে মাচার ওপর, কেমন?

     বুড়ি জোরে জোরে মাথা নাড়ে তিনবার। তারপর আবার ঘুমিয়ে পড়ে তারা।

     পরদিন রাতে চার চোর বুড়োর বাড়ির কাছে আসতেই ঠিক টের পেয়ে যায় বুড়ো। তারপর চেঁচিয়েই বলে, ও বুড়ি, টাকাগুলো তুই কোথায় রেখেছিস?

     বুড়িও বেশ জোরেই বলে, কেন, চালার নিচে ওই মাচাটার ওপর।

     কথাটা শুনতে পেয়ে চার চোর বলে, বরাতটা আমাদের সত্যি ভাল। না হলে এত সহজে জানা যায় টাকাটা রয়েছে কোথায়?

     এবার সলা করতে বসে চার চোরে। ঠিক করে ঘরের চালার খড় সরিয়ে একজন টুক করে নেবে পড়বে মাচার ওপর। তারপর টাকার কলসিটাকে ওপরে তুলে দিয়ে সরে পড়বে সেখান থেকে।

     ফন্দি মাফিক ঘরের চাল ফাঁকা করে এক চোর তার পা-টাকে নামিয়ে দেয়; কিন্তু মাচার হদিশ পায় না। সে অন্যদের বলে, কই মাচা তো নেই! তার তিন সঙ্গী বলে, নিশ্চয় আছে—তুই দু-পা ঝুলিয়ে নেমে পড় ঝুপ করে।

     সেই প্রথম চোর তাই করে। সতিই কিন্তু চালার নিচে মাচা ছিল না। তাই চোরটা গিয়ে ধপাস করে শক্ত মাটির মেঝেতে পড়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠে। বুড়ো তার পেছনে একটা লাথি মেরে বের করে দেয় ঘর থেকে। বলে, যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে—এইবার বাড়ি চাল যাও যাদু।

     প্রথম চোর ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে যায় তার সঙ্গীদের কাছে। চার চোরেই বলে, বেশ আজকের মতো রেহাই দিলাম। কালই দেখব, কেমন করে টাকা রাখ তুমি ঘরে।

     বুড়ো কিন্তু শুনে ফেলে এই কথাগুলোও। তাই বুড়িকে বলে, কাল যখন জিজ্ঞেস করব, বুড়ি টাকাগুলো কোথায় রেখেছিস; তখন বলবি চাল রাখার ওই বেতের পাত্রটার মধ্যে।

     পরদিন রাতে আবার আসে চার চোর। টের পেয়েই বুড়ো বলে, ও বুড়ি টাকাগুলো এবার কোথায় রেখেছিস? বুড়ি বলে, চাল রাখার ওই বেতের পাত্রটার মধ্যে।

     চার চোরে এবার সিঁধ কেটে ঘরে ঢোকে। ঘরের কোণে দেখতে পায় চালের পাত্রটা। তারপর সেটাকে টেনে নিয়ে বেরিয়ে যায় সিধকাটা গর্ত দিয়ে।

     এদিকে বুড়ো ছোট্ট একটা ধারালো দা নিয়ে আগে থেকেই ঢুকে ছিল ওই বেতের পাত্রে। তাই ওটা বেশ ভারি লাগে চোরদের। একজন বলে, এটা এত ভারি কেন বলত?

     অন্যজন বলে, দূর মুখ্যু। শুনলি না, চাল রাখার পাত্র— চাল আছে তাই ভারি।

     চোরেদের কথা শুনে মনে মনে হাসে বুড়ো। বেতের পাত্রে চোরদের কাঁধে চেপে বেশ আরামেই চলে বুড়ো। চলার পথে পড়ে একটা ছোট নদী। নদী পাড় হবার সময় জল ঢুকতে থাকে পাত্রে। সঙ্গে সঙ্গে বুড়ো চেঁচিয়ে বলে ওঠে, এই, হচ্ছেটা কি? আমি ভিজে গেলাম যে, তোল তোল ওপরে তোল।

     চমকে ওঠে চার চোর। আওয়াজ আসে কোথা থেকে? বুঝতে না পেরে তারা বেতের পাত্রটা নিয়ে এগিয়ে যায়। ভারি পাত্রটা আবার নিচু হতেই আবার জল ঢোকে পাত্রে। বুড়ো আবার চেঁচিয়ে ওঠে, আরে আরে আমার পেছনটা যে একেবারে ভিজে গেল। শিগগির ওপরে তোল পাত্রটা।

     চার চোর এবার বুঝতে পারে, আবার ঠকেছে তারা। বুড়োটা রয়েছে পাত্রের মধ্যে। আরাম করে সে চলেছে তাদের কাঁধে চড়ে। রেগেমেগে তারা পাত্রটা ফেলে দিয়ে রওনা হয়।

     বুড়ো বেড়িয়ে আসে পাত্র থেকে। তারপর তার সেই ছোট্ট দা'টা তুলে তার সে কী তড়পানি। ওরে পালাচ্ছিস কেন, আয় নিয়ে যা টাকা। তোদের টাকা নেবার সাধ আমি একবারে মিটিয়ে দেব—আয়।

     আর আয়—চার চোর তখন ছুট দিয়েছে জোরে তাই দেখে বুড়ো এবার হাসতে থাকে হি-হি করে।


গল্পঃ চালাক বুড়োর টাকাকড়ি

বইঃ আসামের লোককথা

পটুয়াখালী : পাল ও সেন আমল —------------

 পটুয়াখালী : পাল ও সেন আমল

—------------


পটুয়াখালী জেলার প্রাচীন ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। দীর্ঘকাল এই অঞ্চল বৃহত্তর বরিশাল জেলার অংশ ছিল। গঙ্গার বদ্বীপ অঞ্চল হিসেবে এখানে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সভ্যতার আগমন ঘটেছিল। যা এই জনপদকে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে সহায়ক হয়। আবার বিভিন্ন সময়ে এই জনপদ পর্তুগীজ ও মগ-সহ হার্মাদ জলদস্যু ও দখলদার বাহিনীর তান্ডবে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিল। এমনকি একটা পর্যায়ে সমগ্র পটুয়াখালী জেলা জনশূন্য হয়ে পড়েছিল। 

বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী অবস্থানের কারণে এখানে বাণিজ্য এবং সমুদ্রপথের গুরুত্বও ছিল ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখযোগ্য।


পটুয়াখালীর ইতিহাস মোটামুটি চতুর্থ শতাব্দীর গুপ্ত যুগের সময় থেকে স্পষ্ট হয়। তখন পটুয়াখালী তথা দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গ সমতট হিসেবে পরিচিত ছিল। বেশ কিছু কাল এ অঞ্চল হরিকেল রাজ্যের আওতাধীন ছিল। এলাহাবাদ গুপ্ত লিপিতে সমতট গুপ্ত সম্রাট সমুদ্র গুপ্তের সাম্রাজ্যভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সমুদ্র গুপ্ত ৩৪০ থেকে ৩৮০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ অঞ্চলের রাজা ছিলেন। 


 পটুয়াখালী অঞ্চলে পাল ও সেন আমলে (৮ম থেকে ১২শ শতাব্দী) হিন্দু ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। পাল রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং তাঁদের আমলে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে বৌদ্ধ বিহার, স্তূপ ও শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপিত হয় বলে ধারণা করা হয়। যদিও পটুয়াখালীতে সরাসরি পাল আমলের নিদর্শন অল্পসংখ্যক। তবু অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন, দলিল, মাটি খুঁড়ে পাওয়া মূর্তি ও পোড়ামাটির নির্মাণশৈলীতে সেই সময়কার ছাপ মেলে।

পরবর্তী সেন যুগে (১১শ-১২শ শতাব্দী), যাঁরা ছিলেন কায়স্থ হিন্দু শাসক। ওই সময়ে এ অঞ্চলে হিন্দুধর্মের প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ওই সময় এ অঞ্চলটিতে বহু শিবমন্দির ও বিষ্ণু মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ বিগ্রহ, বহিরাগত আক্রমণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানাবিধ কারণে পাল-সেন আমলে নির্মিত প্রায় সকল মন্দির এবং স্হাপনা ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয় কীর্তিপুরাণ ও লোককথায় এই সময়কে ‘সুশাসনের যুগ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে সেন শাসন উচ্ছেদ করে দেবগণ তাদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে। 

পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল হলেও ওই আমলে এটি নদীবাহিত অভ্যন্তরীণ রুটে যুক্ত থাকায় বাণিজ্য, ধর্মীয় প্রসার ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

১৮৬৯ সালে পটুয়াখালী মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৬৯ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।


-শংকর লাল দাশ 

মে ০৫. ২০২৫

স্যার আপনি হোমিওপ্যাথি না পড়ে এলোপ্যাথি করলে ভালো করতেন এলোপ্যাথি পড়লেন না কেনো? 

 স্যার আপনি হোমিওপ্যাথি না পড়ে এলোপ্যাথি করলে ভালো করতেন এলোপ্যাথি পড়লেন না কেনো? 


বানীতে ঢাবির  MCJ ( mass communication and journalism)   ডিপার্টমেন্ট এর এক রোগি ও কাছের ছোট ভাই 😥😥😥😥


উত্তরঃ আমি ভাই মেডিকেল এ চান্স পাই নাই তাই MBBS পড়তে পারি নি 😥😥

আর বাবার তেমন অর্থ ছিল না যে প্রাইভেট এ পড়াবে,

আর তৃতীয় আমার ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া সেটা ও ভাগ্যে জুটে নাই,  তাই আল্লাহ হয়তো আমার রিজিক এই পেশায় রেখেছেন তাই এখানে এসেছি ❤️❤️❤️ আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়াতে ভালো আছি।


আমি রোগিকে জিজ্ঞাস করলাম আপনি এখন কেমন আছেন বললেন স্যার আলহামদুলিল্লাহ আমি এখন ৯০% সুস্থ্য,  ( রোগিটি এনাকাইলোসিং এর ব্যথার তীব্রতায় দিনে দুইটা নেপ্রোক্সেন খেতেন সপ্তাহের মাথায় DMD বা Disease  modifying Drug হিসেবে সালফোস্যালাজিন খেতেন মাঝে মাঝে স্টেরয়েড ও নেওয়া লাগত ব্যাথার তীব্রতা বেশি হলে)

এখন এইসবের কিছু ই লাগে না আলহামদুলিল্লাহ  আল্লাহর রহমতে সামান্য হোমিওপ্যাথি পানি সেবনে রোগি এখন বেশ স্বস্থিতে আছেন।


তাকে আবার জিজ্ঞাস করলাম আপনি জেনো কাকে দেখাইছিলেন এর আগে উনি বেশ কয়েকজন এলোপ্যাথি রিউমাটোলজিষ্ট প্রফেসর এর নাম বললেন, যারা দেশ সেরা এবং বিখ্যাত।


আমি তাকে বললাম আমি যদি আজ এলোপ্যাথি হতাম নিশ্চই তাদের চেয়ে বেশি জ্ঞানি হতাম না, তাদের রোগি কোন দিন আমি পেতাম ও না তাই নয়কি? 


আমি৷ MBBS হলে কি নতুন মেডিসিন আবিস্কার করতাম? 

চুপ হয়ে রইলেন, কি বলবেন বুঝতে পারছেন না।


দেখেন আপনার রোগ ভালো হচ্ছে, চেম্বারে এত রোগি তাও আস্থা পাচ্ছেন না তাই নয় কি? 

তাও আপনি আমাকে আইডেন্টিটি ক্রাইসিজ এ ভুগাচ্ছেন 😥😥😥

আর কিছু বললেন না, বললেন স্যার আমি সরি।

😥😥😥😥


আমি তাকে শেষে একটা কথা বললাম


ভাই আমি যখন ইন্টারমিডিয়েট এ পড়ি আমি একজন স্যার এর কাছে ব্যাচে ফিজিক্স পড়তাম উনি শিক্ষা ক্যাডারে ছিলেন সহকারী অধ্যাপক,  ঢাকা কলেজ এর।


স্যার একটা কথা বলেছিলেন, উনি যখন ইন্টারে পড়েন তখন তার সাথে এক ফ্রেন্ড ছিল যিনি এস এস সি তে

সারা দেশে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছিলেন।


ইন্টারে ও নাকি সেইম রেসাল্ট,  বুয়েট মেডিকেল বাদ দিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাবির ফিলোসোফিতে, 


সেখান থেকে নাকি খুব ইজিলি প্রথম হয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য পেন্সিলভেনিয়া ইউনিভার্সিটি চলে যান এখন সেখানের প্রফেসর, 


ফিলোসোফিতে পড়ার সময় সবাই নাকি তাকে জিজ্ঞাস করেছিলেন কিরে এই সাব্জেক্ট এ ভর্তি হইছ কেনো, তুমি ত মেডিকেল বা বুয়েটে ভর্তি হতে পারতে?

তিনি চুপ করে থাকতেন।


প্রফেসর হবার পর তিনি নাকি বলছেন আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গেলে সেখানে সবাই আমার মতই মেধাবী থাকত তাদের সাথে কম্পিটশন করে পাশ করার পর চাকরির পেছনে দৌড়াতে গেলে আমার আর, বিশ্বব্যাপী শিক্ষা অর্জনের স্টেমিনা নষ্ট হয়ে যেত।


যা অপেক্ষাকৃত দূর্বল সাব্জেক্ট ( বাংলাদেশ এর পেক্ষাপটে)

আমাকে সম্ভাবনা দেখিয়েছে, এখানে আমিই ছিলাম টপ।


মোরাল কথা হলো আপনি যেখানেই যান না কেন সেখানে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে ট্রাই করুন ইং শা আল্লাহ ভালো কিছু আসবেন


ধন্যবাদ 

গুড নাইট

হোমিওপ্যাথি পড়ে আলহামদুলিল্লাহ আমি অনেক হ্যাপি,

অনেক  MBBS ডাক্তার আমার রোগি,


দরকারে আমি ও MBBS এর কাছে যাই।


দুটোই মেডিকেল সাইন্স, 

আবারো 

ধন্যবাদ ❤️❤️❤️❤️❤️❤️

শুক্রবার, ৯ মে, ২০২৫

প্রধান শিক্ষকের উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব ও কর্তব্য

 

প্রধান শিক্ষকের উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব ও কর্তব্য :

১. বিদ্যালয়ের সকল প্রকার রেকর্ড, রেজিষ্ট্রেশন ও ফাইল সংরক্ষণ করা;


২. শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সহযোগিতায় বিদ্যালয় গমন উপযোগী শিশুদের জরিপ করা এবং শিশু শুমারীর রেকর্ড স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত রাখা;


৩. বিদ্যালয়ে শিশুদের আসার জন্য অভিভাবকগণকে উদ্বুদ্ধ করা বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ নারী শিশু এবং উপজাতি শিশুদের বিষয়ে;


৪. শিক্ষক, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও অভিভাবকগণের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের দৈনিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করা;


৫.সরকারি আদেশ ও বিধিবিধান সংশ্লিষ্ট সকলকে জ্ঞাত করা;

৬. সহকারী শিক্ষকগণের নৈমিত্তিক ছুটি সর্বোচ্চ ০৩ দিন পর্যন্ত মঞ্জুর করা;


৭. বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং সে আলোকে সাপ্তাহিক রুটিন প্রস্তুত করা।


৮. বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা অনুপাতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য শাখা ভাগ করে দেয়া।


৯. শিক্ষকগণের শ্রেণিকক্ষে শিখন শেখানো কার্যক্রম পরিচালনার পূর্বে বিষয়ভিত্তিক পাঠটিকা ও পাঠ সংশ্লিষ্ট শিক্ষোপকরণসহ পূর্বে প্রস্তুতি সহযোগে শ্রেণিকক্ষে গমন নিশ্চিত করা ;


১০. বিদ্যালয়ে বার্ষিক পুরষ্কার বিতরণী সভা, বাৎসরিক ক্রীড়ানুষ্ঠান ও অভিভাবক দিবস উদযাপনের ব্যবস্থা করা ;


১১. বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য সময়মত ব্যবস্থা গ্রহণসহ সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করা ;


১২. শিক্ষক অভিভাবক সমিতি গঠন ও এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা ;


১৩. সরকার প্রদত্ত বিনামূল্যেের পাঠ্যপুস্তক, অন্যান্য সরবরাহকৃত দ্রব্য ও সাজ-সরঞ্জামাদি ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদনক্রমে বিতরণ করা ;


১৪. বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শ্রেণিকক্ষ, আঙ্গিনা এবং শৌচাগার ইত্যাদির পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা ;


১৫. পাঠোন্নতির লক্ষ্যমাত্রা পর্যালোচনার জন্য সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে মাসে অন্তত:পক্ষে ২টি সভার ব্যবস্থা করা এবং সিদ্ধান্তসমূহ খাতায় লিপিবদ্ধ করা;


১৬. সহকারী শিক্ষকদের বদলি,ছুটিসহ অন্যান্য আবেদনপত্র মন্তব্য সহকারে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা ;


১৭. বিভাগীয় নির্দেশ অনুযায়ী মাসে একবার ম্যানেজিং কমিটির সভার ব্যবস্থা করা এবং সভার গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন করা ;


১৮. বিদ্যালয়ে একটি লাইব্রেরি স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণসহ ছাত্র -ছাত্রীদের বই পড়ার অভ্যাস নিশ্চিত করা ;


১৯. সরকারি ঘোষণা অনুসারে জাতীয় দিবস উদযাপন করা এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা;


২০. সহকারী শিক্ষক -শিক্ষিকাদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা ;


২১. শ্রেণি পাঠদানে শিক্ষকদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণপূর্বক সফলতা অর্জনে সাহায্য করা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া;


২২. সহকারী শিক্ষকদের ওপর অর্পিত দায়িত্বসমূহ সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা;


২৩. সরকারি ও স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত অর্থ, আসবাবপত্র, শিক্ষোপকরণ ও অন্যান্য সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য ক্যাশবুক ও স্টক রেজিষ্ট্রেশন সংরক্ষণ করা ;


২৪. বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারীর মাসিক বেতনের বিল তৈরি করে যথাসময়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট নিয়মিতভাবে দাখিল করা;


২৫. সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের তারিখ, সময় এবং বিষয় যথাসময়ে শিক্ষকদের জানিয়ে দেয়া এবং সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ;


২৬. নির্ধারিত ছকে প্রতি ০৩ মাস পরপর ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট দাখিল করা ;


২৭. প্রতিমাসে একবার হোম ভিজিট করে অন্যান্য শিক্ষকদের দ্বারা হোম ভিজিট নিশ্চিত করা ;


২৮. যথাসময়ে সাময়িক ও বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া;


২৯. ছাত্র -ছাত্রীদের তথ্য কার্ড পূরণ করা এবং ক্যাচমেন্ট এলাকার ম্যাপ তৈরি করা ;


৩০. বিদ্যালয় কল্যাণ সমিতি গঠন ও নিবন্ধন করা;


৩১. শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা ;


৩২. প্রতিমাসে প্রধান শিক্ষকগণের মাসিক সমন্বয় সভায় যোগদান করা;


৩৩. প্রয়োজনীয় রিপোর্ট ও রিটার্ন নিয়মিতভাবে প্রণয়নপূর্বক সংশ্লিষ্ট সকলের  নিকট যথাসময়ে  করা ;


৩৪. প্রয়োজন অনুযায়ী ছাত্র -ছাত্রীদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট ও টেস্টিমোনিয়াল ইস্যু করা;


৩৫. ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ববলী

বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০২৫

শক্তি সঞ্চয়ের নতুন দিগন্ত: ফিনল্যান্ডের স্যান্ড ব্যাটারি

 শক্তি সঞ্চয়ের নতুন দিগন্ত: ফিনল্যান্ডের স্যান্ড ব্যাটারি


কল্পনা করুন—আপনার বাড়ির পাশে পড়ে থাকা সাধারণ বালি একদিন বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাবে, আর কনকনে শীতের রাতে আপনার ঘর রাখবে গরম? অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে? অথচ ফিনল্যান্ডের একদল ইঞ্জিনিয়ার এই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছেন!


তারা উদ্ভাবন করেছেন "স্যান্ড ব্যাটারি" বা বালির ব্যাটারি—শক্তি সঞ্চয়ের এক আশ্চর্য প্রযুক্তি, যা ভবিষ্যতের শক্তি সমস্যার সমাধান এনে দিতে পারে। চলুন, সহজ ভাষায় বুঝে নিই—এই অভিনব প্রযুক্তি আসলে কী, কীভাবে কাজ করে।

.


স্যান্ড ব্যাটারি কী?


প্রথমেই বলা দরকার, এটা কিন্তু আপনার মোবাইল বা রিমোটের ব্যাটারির মত নয়। ওগুলি রাসায়নিক শক্তি জমিয়ে রাখে আর সরাসরি বিদ্যুৎ দেয়। স্যান্ড ব্যাটারি একটু ভিন্ন ধরনের। এটি মূলত একটা বিশাল আকারের "থার্মাল স্টোরেজ"  বা তাপ শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা। যেখানে রাসায়নিক নয়, জমা থাকে তাপ।


সহজ কথায়, এটি এক ধরনের বড়, ভালভাবে ইনসুলেটেড বা তাপরোধী স্টিলের ট্যাঙ্ক, যার ভেতর ভরা থাকে প্রচুর সাধারণ বালি। উজ্জ্বল রোদ বা প্রচণ্ড বাতাসের সময় সৌর প্যানেল বা উইন্ড টারবাইন থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বালিকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উত্তপ্ত করা সম্ভব হয়।


এখানে বালি একপ্রকার "তাপীয় ব্যাটারি" হিসাবে কাজ করে—যেমন রাসায়নিক ব্যাটারিতে ইলেকট্রন জমা থাকে, এখানে জমা থাকে তাপ। উত্তপ্ত বালি মাসের পর মাস তাপশক্তি ধরে রাখতে পারে, যা পরে ব্যবহার করা হয় পানি গরম করতে বা ঘরবাড়ি উষ্ণ রাখতে।

.


যেভাবে শুরু হল


এই প্রযুক্তির পেছনে রয়েছে ফিনল্যান্ডের স্টার্টআপ কোম্পানি "পোলার নাইট অ্যানার্জি" (Polar Night Energy)। ফিনল্যান্ডে শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নিচে নেমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ঘর গরম রাখার জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। আবার, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, বিশেষ করে উইন্ড পাওয়ার, সব সময় সমানভাবে শক্তি দিতে পারে না। কখনও বাতাস বেশি, কখনও কম। ফলে উদ্বৃত্ত শক্তি ধরে রাখার সস্তা ও কার্যকর উপায়ের অভাব ছিল।


এই বাস্তব সমস্যা থেকেই স্যান্ড ব্যাটারির ধারণা জন্ম নেয়। ২০২২ সালে পোলার নাইট অ্যানার্জি কানকানপা  শহরে "ভাতাজানকোস্কি" নামের একটি পাওয়ার কোম্পানির সঙ্গে মিলে পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক স্যান্ড ব্যাটারি চালু করে।


এই প্ল্যান্টটি এলাকার "ডিস্ট্রিক্ট হিটিং" নেটওয়ার্কে তাপ সরবরাহ করে—অর্থাৎ এলাকার বাড়িঘর, স্কুল, অফিস ইত্যাদি উষ্ণ রাখতে সাহায্য করে। বর্তমানে জার্মানির কিছু ছোট শহরেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে কমিউনিটি হিটিং প্রকল্পের জন্য—যেখানে আবহাওয়া ঠাণ্ডা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ছে।

.


কাজের পদ্ধতি 


বালি ব্যাটারির কাজ করার পদ্ধতি বেশ মজার এবং তুলনামূলকভাবে সরল। প্রথমে, যখন সস্তায় বা উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায় (বিশেষ করে সৌর বা বায়ু বিদ্যুৎ), তখন সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রেজিস্ট্যান্স হিটারের (এক ধরনের বৈদ্যুতিক হিটার) মাধ্যমে বাতাস গরম করা হয়। এরপর সেই গরম বাতাস পাইপের মাধ্যমে ট্যাঙ্কভর্তি বালির মধ্যে চালনা করা হয়। গরম বাতাসের সংস্পর্শে বালি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হতে থাকে এবং তাপশক্তি শোষণ করে নেয়। 


ট্যাঙ্কটি এত ভালভাবে ইনসুলেট করা থাকে যে ভেতরের তাপ সহজে বাইরে বেরিয়ে আসে না, ফলে মাসের পর মাস ধরে তাপ জমা থাকতে পারে। পরে যখন প্রয়োজন হয়, তখন ঠাণ্ডা বাতাস সেই উত্তপ্ত বালির মধ্য দিয়ে চালানো হয়। তখন বাতাস গরম হয়ে ওঠে এবং সেই গরম বাতাস হিট এক্সচেঞ্জারের মাধ্যমে পানি গরম করতে ব্যবহৃত হয়। এই গরম পানি পাঠানো হয় ডিস্ট্রিক্ট হিটিং নেটওয়ার্কে অথবা ব্যবহৃত হয় শিল্প কারখানার বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়।


মূলত, এখানে বিদ্যুৎ সরাসরি জমিয়ে না রেখে, তা প্রথমে তাপে রূপান্তর করে জমিয়ে রাখা হয়—কারণ তাপশক্তি সঞ্চয় করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও সহজ, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে।

.


বর্তমান অবস্থা


ফিনল্যান্ডের কানকানপা শহরের প্ল্যান্টটি সফলভাবে কাজ করছে এবং এটি প্রমাণ করেছে যে এই প্রযুক্তি বাস্তবে কার্যকর। এটি প্রায় ৮ মেগাওয়াট-আওয়ার তাপশক্তি সঞ্চয় করতে পারে, যা দিয়ে বেশ কিছু বাড়িঘর কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত গরম রাখা সম্ভব। পোলার নাইট অ্যানার্জি এখন বৃহত্তর স্কেলে, ২০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট-আওয়ারের মত বিশাল স্যান্ড ব্যাটারি তৈরির পরিকল্পনা করছে। 


শুধু ফিনল্যান্ড নয়—কানাডা, জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গবেষণা সংস্থাও এখন এই প্রযুক্তির ওপর গবেষণা শুরু করেছে। ভবিষ্যতে, বড় বড় ডেটা সেন্টারগুলিতেও স্যান্ড ব্যাটারি ব্যবহার করা হতে পারে, যাতে সার্ভারের জন্য প্রয়োজনীয় ঠাণ্ডা বা গরম তাপমাত্রা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

.


স্যান্ড ব্যাটারির সুবিধা 


স্যান্ড ব্যাটারির বেশ কিছু দারুণ সুবিধা রয়েছে, যা একে ভবিষ্যতের শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তির জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এর প্রধান উপাদান হল সাধারণ বালি—যা সারা পৃথিবীতে প্রচুর পরিমাণে মেলে এবং তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত সস্তা। তাই স্যান্ড ব্যাটারির উৎপাদন খরচ অনেক কম।


এছাড়া এর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্য। রাসায়নিক ব্যাটারির মত বার বার ব্যবহারে কার্যক্ষমতা কমে আসে না—বরং বালি হাজার হাজার বার উত্তপ্ত ও ঠাণ্ডা হতে পারে, কার্যক্ষমতার কোনো বড় ধরনের ক্ষতি ছাড়াই। ফলে এটি দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই সমাধান।


নিরাপত্তার দিক থেকেও স্যান্ড ব্যাটারি এগিয়ে। এতে বিস্ফোরণ বা আগুন লাগার ঝুঁকি অত্যন্ত কম, তাই এটি অধিকতর রিস্ক-ফ্রি প্রযুক্তি হিসাবে বিবেচিত। 


শুধু তাই নয়, এটি দীর্ঘ সময় ধরে তাপ সঞ্চয় করতে সক্ষম। ফলে গ্রীষ্মকালে উৎপন্ন অতিরিক্ত সৌরশক্তি শীতকালে ব্যবহার করা সম্ভব, যা মৌসুমভিত্তিক শক্তি চাহিদা মেটাতে বিশেষভাবে কার্যকর।


সবচেয়ে বড় কথা, স্যান্ড ব্যাটারির ব্যবহার বহুমুখী। এটি শুধু ডিস্ট্রিক্ট হিটিং নেটওয়ার্কে নয়—খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, টেক্সটাইল শিল্প, কেমিক্যাল উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পড়ে এবং রাসায়নিক ব্যাটারির কার্যক্ষমতা দ্রুত কমে আসে, সেখানে স্যান্ড ব্যাটারি আরও বেশি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসাবে কাজ করতে পারে।

.


চ্যালেঞ্জ বা সীমাবদ্ধতা


অবশ্য, সব প্রযুক্তির মত স্যান্ড ব্যাটারিরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একটি প্রধান সীমাবদ্ধতা হল সঞ্চিত তাপকে আবার বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে এর তুলনামূলক কম দক্ষতা। যদিও তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, এই প্রক্রিয়ায় বেশ খানিকটা শক্তি নষ্ট হয়। তাই এটি সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহের চেয়ে তাপ সরবরাহের জন্যই বর্তমানে বেশি কার্যকর। আরেকটি বিষয় হল এর আকার—স্যান্ড ব্যাটারি বেশ বড় আকারের হতে পারে, ফলে এটি স্থাপনের জন্য তুলনামূলক বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়। 


এছাড়া, এর কার্যকারিতা অনেকাংশে অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। যদি কাছাকাছি কোনো ডিস্ট্রিক্ট হিটিং নেটওয়ার্ক বা বড় শিল্প কারখানা থাকে যেখানে উৎপন্ন তাপ সরাসরি ব্যবহার করা যায়, তবেই এটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়।


আধুনিক শহরগুলিতে যেখানে জমি কম এবং শক্তির চাহিদা বেশি, সেখানে স্যান্ড ব্যাটারি স্থাপনের জন্য দক্ষ পরিকল্পনা প্রয়োজন হবে।

.


ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা


স্যান্ড ব্যাটারির ভবিষ্যৎ খুবই আশাব্যঞ্জক। গবেষকরা এখন আরও বড় ট্যাঙ্ক নির্মাণ, উন্নত ইনসুলেশন এবং তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দক্ষতা বাড়ানোর কাজ করছেন। বিশেষ করে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে—যেখানে দিনে প্রচুর সৌর শক্তি মেলে কিন্তু রাতে দ্রুত ঠাণ্ডা পড়ে—স্যান্ড ব্যাটারি সস্তা ও নির্ভরযোগ্য শক্তি সঞ্চয়ের জন্য অসাধারণ সমাধান হতে পারে।


বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মত এলাকায়, যেখানে শীতকালে তাপমাত্রা কমে যায়, সেখানে দিনে সোলার ফার্মের বাড়তি বিদ্যুৎ বালিতে জমিয়ে রাতের জন্য ঘর গরম রাখা সম্ভব হবে।


স্যান্ড ব্যাটারি হয়ত এখনও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠেনি, কিন্তু নবায়নযোগ্য শক্তির যুগে এটি এক যুগান্তকারী সমাধান হতে চলেছে।


#বালি #ব্যাটারি #শক্তি

বাংলার প্রাচীন জনপদ,,,

 বাংলার প্রাচীন জনপদ

প্রাচীনকালে এই বাংলা অঞ্চল বর্তমানের মতো এরকম বৃহৎ অঞ্চল ছিল না। প্রাচীন বাংলা অঞ্চল অনেকগুলো ছোট ছোট জনপদ নিয়ে গঠিত হয়েছিল। এই অংশে আলোচনা করব বাংলার সেসব প্রাচীন জনপদ নিয়ে। প্রাচীন বাংলার জনপদগুলো হলো:

বরেন্দ্র,পুন্ড্র,গৌড়,রাঢ়,বঙ্গ,কামরূপ,হরিকেল,সমতট,চন্দ্রদ্বীপ


এখন চলুন, বিস্তারিতভাবে এসব জনপদ নিয়ে জেনে নেয়া যাওয়া যাক।

১. বরেন্দ্র

বরেন্দ্র অঞ্চল হলো পুণ্ড্রবর্ধনের কেন্দ্রস্থল। এটি বর্তমানের বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী ও পাবনা (সম্ভবত) অঞ্চল জুরে বিস্তৃত ছিল। মধ্যযুগের মুসলিম ঐতিহাসিকেরা বরেন্দ্র অঞ্চলকে বরিন্দ নামে অবিহিত করতেন। পাল রাজারা একে তাদের পিতৃভূমি হিসেবে অভিহিত করতেন। সেন রাজাদের শিলালিপিতে বরেন্দ্র অঞ্চলের বর্ণনা পাওয়া যায়।


২. পুণ্ড্র

বাংলা অঞ্চলে পুণ্ড্র জনপদ হচ্ছে সর্বাধিক প্রাচীনতম জনপদ। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের দিকে এই অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায়। তখন এ অঞ্চলের পুন্দনগলের উল্লেখ পাওয়া যায়। এ পুন্দনগল ছিল সে সময়কার পুণ্ড্রের রাজধানী যা বর্তমান সময়ে বগুড়ার মহাস্থানগড়।  এ জনপদের সমৃদ্ধি বাড়ার ফলে এটি পঞ্চম-ষষ্ঠ শতকের দিকে পুণ্ড্রবর্ধনে রূপান্তর হয়। তখন এ অঞ্চলের অন্তর্গত ছিল: বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলা।


ধারণা করা হয় যে, রাজমহল-গঙ্গা-ভাগীরথী থেকে শুরু করে করতোয়া পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের পুরোটাই পুণ্ড্রবর্ধনের অঙ্গীভূত ছিল। পরবর্তীতে এ অঞ্চলের সীমানা আরও বৃদ্ধি পায়।

৩. গৌড়

গৌড় জনপদও অনেক প্রাচীন একটি জনপদ। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে এই অঞ্চলে উৎপন্ন অনেক শিল্প ও কৃষিজাত পণ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর থেকে ধারণা করা যায় যে, গৌড় অঞ্চল কৃষি ও শিল্পে বেশ অগ্রগতি করেছিল। এ অঞ্চলের ইতিহাসের খোঁজ তৃতীয় থেকে চতুর্থ শতকে এর নাগরিকদের উপাদান থেকে পাওয়া যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে মুর্শিদাবাদের বীরভূম অঞ্চলই গৌড় অঞ্চল ছিল। এরপর এটি সম্প্রসারিত হয় মালদহ ও বর্ধমানের সংযুক্তির পর।


সপ্তম শতকে শশাঙ্ক রাজার শাসনামলে মুর্শিদাবাদ জেলার রাঙামাটি অঞ্চলটি ছিল এ জনপদের রাজধানী। বর্তমান সময়ে আমরা যে অংশকে পশ্চিমবঙ্গ ধরি অর্থাৎ মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান- এ অঞ্চলগুলো মিলিয়েই ছিল গৌড়ের রাজ্য। তবে, ইতিহাসে গৌড় বলতে কখনও কখনও সমগ্র বাংলাদেশকেও বোঝানো হতো।


৪. রাঢ় 

রাঢ় নামক জনপদের সন্ধান পাওয়া যায় আচারাঙ্গ সুত্র নামের এক প্রাচীন জৈন পুথিতে। এ জনপদের ইতিহাস অনেক প্রাচীন। জানা যায়, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে মহাবীর তার কয়েকজন অনুসারীকে সাথে নিয়ে এ জনপদে আসেন। তাদের আগমনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্ম প্রচার। তখন এ জনপদে রাস্তাঘাট তেমন উন্নত ছিল না। এ অঞ্চলের লোকজন ছিল নিষ্ঠুর প্রকৃতির। তারা সেসব জৈন ধর্ম প্রচারকদের প্রতি কুকুর লেলিয়ে দেয়। রাঢ় অঞ্চলের দুটি বিভাগ ছিল। সেগুলো হলো:

বজ্রভূমি

সুন্ধভূমি

৫. বঙ্গ

বঙ্গ খুবই প্রাচীন জনপদের একটি। অনেক পুরনো দুটি পুথিতে বঙ্গের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে বঙ্গ অঞ্চলকে মগধ ও কলিঙ্গ জনপদের পাশের জনপদ বলে অভিহিত করা হয়েছিল। পাশাপাশি, মহাভারত থেকে জানা যায় যে, বঙ্গ অঞ্চলটি পুণ্ড্র, তাম্রলিপি ও সুন্ধ জনপদের আশেপাশে ছিল। পরবর্তীতে নানান নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, গঙ্গা-ভাগীরথীর তীরেই বঙ্গের অবস্থান ছিল।


একাদশ শতকের দিকে বঙ্গের দুটি বিভাগ ছিল বলে ধারণা করা হয়। বিভাগ দুটির একটি হলো বঙ্গের উত্তরাঞ্চল নিয়ে গঠিত এবং অন্যটি বঙ্গের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে গঠিত। আবার, কেশবসেন ও বিস্বরূপসেনের আমলেও বঙ্গের দুটি বিভাগ ছিল। সেগুলো হলো:

বিক্রমপুর

নাব্যমণ্ডল

বিক্রমপুর অঞ্চল বর্তমান সময়কার বিক্রমপুর পরগনা, যা কিনা মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত এবং সাথে ছিল ইদিলপুর পরগনার কিছু অংশ। অন্যদিকে, বাখরগঞ্জ জেলা এবং আরও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্র পর্যন্ত অংশ নিয়ে ছিল নাব্যমণ্ডল।


৬. কামরূপ

কামরূপ বাংলার প্রাচীন জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আসামের বৃহত্তর গোয়ালপাড়া জেলা, বৃহত্তর কামরূপ জেলা নিয়ে গঠিত। কালিকাপুরাণ থেকে জানা যায়, এটির অবস্থান করতোয়া নদীর পূর্বে এবং এ অঞ্চলটি পূর্বদিকে দিক্কারবাসিনী দ্বারা ঘেরা ছিল, যা বর্তমান দিকরাই নদী নামে পরিচিত।


চতুর্থ শতকে সমুদ্র গুপ্তের একাহাবাদ স্তম্ভলিপিতে কামরূপের নামের খোঁজ পাওয়া যায়। জানা যায়, এক সময় কামরূপ অঞ্চলে বর্তমান ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা, ভুটান, রংপুর ও কুচবিহারের কিছু অঞ্চল যুক্ত ছিল।


৭. হরিকেল

হরিকেল হলো বাংলা অঞ্চলের পূর্ব সীমানার একটি জনপদ। এ অঞ্চলটি তৎকালীন চন্দ্রদ্বীপ বা বাখরগঞ্জ অঞ্চলের সংলগ্ন ছিল। জানা যায় যে, সপ্তম-অষ্টম শতক থেকে দশম-একাদশ শতক পর্যন্ত হরিকেল ছিল একটি স্বতন্ত্র রাজ্য। কিন্তু একটা সময় ত্রৈলোক্যচন্দ্র চন্দ্রদ্বীপ দখল করে। চন্দ্রদ্বীপ দখলের পর হরিকেল বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।


৮. সমতট

সমতটের উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীন আমলের পুথি থেকে। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শতকের পুথিতে সমতট নামের একটি জনপদের খোঁজ পাওয়া যায়। তখনকার সময়ে ত্রিপুরা অঞ্চল পুরোটাই সমতটের অঙ্গীভূত ছিল। জানা যায়, এ অঞ্চলের সীমানা চব্বিশ পরগনা থেকে ত্রিপুরা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।


৯. চন্দ্রদ্বীপ

চন্দ্রদ্বীপের ইতিহাস থেকে জানা যায়, এটি ছিল মধ্যযুগের একটি নামকরা অঞ্চল। আইন-ই-আকবরী গ্রন্থের মাধ্যমে জানা যায়, গ্রন্থে উল্লিখিত বাকলা পরগনার বাকলা-ই, যা কিনা বর্তমানে বাখরগঞ্জ নামে পরিচিত, হলো সেই চন্দ্রদ্বীপ অঞ্চল।

ক্যাপুয়ার অ্যাম্ফিথিয়েটার হল একটি প্রাচীন রোমান কাঠামো যা ইতালির সান্তা মারিয়া ক্যাপুয়া ভেটেরেতে অবস্থিত এবং এটি রোমান কলোসিয়ামের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম অ্যাম্ফিথিয়েটার।

 ক্যাপুয়ার অ্যাম্ফিথিয়েটার হল একটি প্রাচীন রোমান কাঠামো যা ইতালির সান্তা মারিয়া ক্যাপুয়া ভেটেরেতে অবস্থিত এবং এটি রোমান কলোসিয়ামের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম অ্যাম্ফিথিয়েটার। এটির ধারণক্ষমতা ছিল 60,000 জন।  এটি খ্রিস্টপূর্ব ১ম শতাব্দীতে, অগাস্টাসের রাজত্বের কাছাকাছি সময়ে নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। শহরটি তার গ্ল্যাডিয়েটর স্কুলগুলির জন্য বিখ্যাত ছিল এবং এই অ্যাম্ফিথিয়েটার গ্ল্যাডিয়েটর মারামারি, বন্য প্রাণীর শো এবং পাবলিক ইভেন্টের আয়োজন করত। এটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে কারণ স্পার্টাকাস 73 খ্রিস্টপূর্বাব্দে এখানে একটি গ্ল্যাডিয়েটর স্কুল থেকে পালিয়ে গিয়ে বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন। রোমান সাম্রাজ্যের পতনের সাথে ধ্বংসস্তূপে পড়ে যাওয়া কাঠামোটি মধ্যযুগে আংশিকভাবে পরিত্যক্ত হয়েছিল। আজ, এটি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসাবে সুরক্ষিত, এবং ভূগর্ভস্থ কক্ষ এবং এরিনা বিভাগ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত।


#প্রত্নতত্ত্ব #দুর্গ #ইতিহাসের_অধ্যায় #মোঘল_সাম্রাজ্যে #তারিখহিন্দ #ইতিহাসনামা #historyfacts #history #ইতিহাস #নবাব 


ফেসবুক পেইজ: https://www.facebook.com/hasnat.shohag

পেঁপে গাছে জিংক-বোরন-ম্যাগনেসিয়ামের সঠিক অনুপাত' 🌟 বছরে কত গ্রাম দিলে ফলন হবে বেশি?

 পেঁপে গাছে জিংক-বোরন-ম্যাগনেসিয়ামের সঠিক অনুপাত' 🌟 বছরে কত গ্রাম দিলে ফলন হবে বেশি?


পেঁপে গাছের স্বাস্থ্য ও ফলন বৃদ্ধিতে জিংক বোরন , এবং ম্যাগনেসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পরিমাণ জানা না থাকলে ক্ষতিও হতে পারে! চলুন জেনে নিই বছরে কতটুকু এবং কীভাবে প্রয়োগ করবেন:


🚨 সতর্কতা 

অতিরিক্ত ব্যবহার গাছের ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে বোরন বিষাক্ততা ঘটায়।  


📲শাহী পেঁপে ও তাল বেগুন চারার জন্য কল করুন

মোবাইল-০১৩২৩০৬৬৯০৯


#জিংক 

কার্যকারিতা পাতা হলুদ হওয়া, গাছের বৃদ্ধি।  

জিংক সালফেট

পরিমাণ প্রতি গাছে ১ বছরে  

মাটিতে প্রয়োগ ৫-১০ গ্রাম ২-৩ বার ভাগ করে।  

স্প্রে ০.৫-১ গ্রাম/লিটার পানি, ৩-৪ বার ফুল ও ফল ধারণের আগে।  


#বোরন 

কার্যকারিতা ফল ফাটা, বিকৃত ফল রোধ।  

বোরাক্স বা বোরিক অ্যাসিড।  

পরিমাণ প্রতি গাছে বছরে

মাটিতে প্রয়োগ ২-৪ গ্রাম ২ বার ভাগ করে।  

স্প্রে০.৫ গ্রাম/লিটার পানি, ২ বার ফুল আসার সময় ও ফল ধারণের পর।  


#ম্যাগনেসিয়াম 

কার্যকারিতাপাতা হলুদ ক্লোরোসিস দূর করা।  

পরিমাণ প্রতি গাছে বছরে 

মাটিতে প্রয়োগ ১০০-২০০ গ্রাম ৪ বার ভাগ করে, প্রতি ৩ মাসে ৫০ গ্রাম।  

 স্প্রে ৫ গ্রাম/লিটার পানি, মাসে ১ বার হলুদ পাতা দেখা গেলে।


🕒 সময়সূচি

জিংক ও বোরন  ফুল ফোটার আগে ও ফল ধারণের সময়।  

ম্যাগনেসিয়াম বর্ষা বা সেচের পর মাটিতে প্রয়োগ করুন।  

   

বোরন বিষাক্ততা এড়াতে পরিমাণের বেশি কখনোই দেবেন না।  

স্প্রে সকাল বা বিকালে করুন, রোদে নয়।  


#papaya_fertilizer #papaya_2x_growth #papaya_zink #papaya

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...