এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ: ০৩-০৭-২০২৬ খ্রি:।

 সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ

তারিখ: ০৩-০৭-২০২৬ খ্রি:।


আজকের শিরোনাম:


নতুন প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষায় জাতীয় কবির সাহিত্য আলোকবর্তিকা -নজরুল বর্ষের উদ্বোধন করে বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


ভিসা নীতি সংশোধনে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন।


বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন যেকোনো অপপ্রচার কঠোর হাতে দমনের হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।


প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার - জানালেন সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে - মন্তব্য চীনা রাষ্ট্রদূতের।


ভূমিকম্পের আটদিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করলো ভেনিজুয়েলা - মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুই হাজার তিনশো।


ফিফা বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়াকে শূণ্য – তিন গোলে হারিয়ে স্পেন এবং ক্রোয়েশিয়াকে ২ – ১ গোলে পরাজিত করে শেষ ষোলোতে পর্তুগাল।

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ০২-০৭-২০২৬ খ্রি:।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ।

তারিখ: ০২-০৭-২০২৬ খ্রি:।

আজকের শিরোনাম:


নজরুল বর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী --- নতুন প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে জাতীয় কবির সাহিত্যকে আলোকবর্তিকা হিসেবে অনুসরণের তাগিদ তারেক রহমানের।


অভিন্ন প্রশ্নপত্রে প্রথমবারের মত আজ সারাদেশে একযোগে শুরু হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ।


প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৬ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে দ্রুত পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু হবে --- জানালেন শিক্ষামন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে --- মন্তব্য চীনা রাষ্ট্রদূতের।


দাম কমানো হলো এলপিজির।


রাতভর রুশ ড্রোন হামলায় কিয়েভে নিহত ১৮ ।


 ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলে রাত একটায় স্পেন অস্ট্রিয়ার এবং ভোর পাঁচটায় পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার মোকাবেলা করবে।

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ০১-০৭-২০২৬ খ্রি:।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ।

তারিখ: ০১-০৭-২০২৬ খ্রি:।

আজকের শিরোনাম


অভিন্ন প্রশ্নপত্রে প্রথমবারের মতো আগামীকাল শুরু হচ্ছে এইচ এস সি ও সমমান পরীক্ষা।


 


তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিল প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।

 

 


‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ নামে আনসার ও ভিডিপি'র মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম চালু --- সরকারের তথ্য ব্যবস্থাপনার মহাপরিকল্পনার অংশ এটি -- বললেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী।

 

 


জেলা পর্যায়ে সদর হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের আহ্বান জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডাক্তার জুবাইদা রহমানের।

 


 


যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখল সেদেশের সুপ্রিম কোর্ট।

 

 ফিফা বিশ্বকাপে আজ রাত ১০টায় ডিআর কঙ্গোর মোকাবেলা করবে ইংল্যান্ড এবং ২টায় সেনেগালের বিরুদ্ধে খেলবে বেলজিয়াম।

চলতি পথে ... "পালকি চলে! পালকি চলে!

 চলতি পথে ...

"পালকি চলে! পালকি চলে!

গগন-তলে আগুন জ্বলে!

স্তব্ধ গাঁয়ে আদুল গায়ে

যাচ্ছে কারা রৌদ্রে সারা!"

হ্যাঁ, বাংলা সাহিত্যের ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের শুধু 'পালকির গান' কবিতাই নয়, গ্ৰাম বাংলার একটি পরিচিত নাম ও হাজার বছরের লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী অভিজাত বাহন হচ্ছে পালকি। একসময় গ্রামাঞ্চলে বাহন হিসেবে পালকির ব্যাপক প্রচলন ছিল। তখন বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে মুসলিম পরিবারের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের একস্থান থেকে অন্যস্থানে আনা-নেয়ার জন্য পালকি ব্যবহৃত হতো। জমিদার জোতদাররাও পালকিতে চড়েই জমিদারি দেখাশোনা করতেন। তাছাড়া পীর-মুর্শিদরাও পালকিতে চড়ে তাদের ভক্তদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে বিভিন্ন যন্ত্রযানের কাছে হার মানায় এ ঐতিহ্যবাহী পালকি আজ দ্রুত হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ এই পালকিকে নিয়ে একসময় কত কবি, লেখক রচনা করেছেন কত কবিতা, গান, নাটক প্রভৃতি। সেসব কবিতা, গান এখনও আমাদের লোক সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে। যেমন পালকির বেহারারা এক সময় গেয়ে চলতো 'ই হুমনারে হুমনা' বা 'আল্লা বলরে... ভাবীগো, আগগ্যাইয়া নে-না গো'। এসব গান এখনও আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় লোক সংস্কৃতির ঐতিহ্যের কথা। কিন্তু আমাদের দেশ থেকে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী পালকি এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। পালকির ঠাঁই হয়েছে এখন জাদুঘরে। আজ এই পালকির দেখা মেলে রাজধানীর পান্থপথের একটি অভিজাত বিপনী বিতানে। যেখানে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের দেখার জন্য পালকিটি প্রদর্শন করা হয়েছে।

ছবি: খোন্দকার এরফান আলী 

(০১ জুলাই, ২০২৬) See less

সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ তারিখ: ০১-০৭-২০২৬ খ্রি:।

 সকাল ০৭টার বাংলা সংবাদ

তারিখ: ০১-০৭-২০২৬ খ্রি:।


আজকের শিরোনাম:


২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস হলো সংসদে।


‘জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬’ এবং ‘সাইবার সুরক্ষা সংশোধন বিল-২০২৬’ সংসদে পাস।


মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড।


দ্রুত, সহজ ও নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করতে আজ থেকে দেশে চালু হয়েছে বাংলা কিউ আর।


নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে আজ পালিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস।  


পাকিস্তানের লাহোরে একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু।


ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলে সুইডেনকে হারিয়ে ফ্রান্স ও আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নরওয়ে শেষ ষোলোতে  - এখন মেক্সিকোর মোকাবেলা করছে ইকুয়েডর ।

সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

কোরানকে পাশ কাটিয়ে হিজাব নিয়ে মুসলমানদের বাড়াবাড়ি কখনো তাকওয়ার পথ নয়।,,,,,, হেজবুদ তাওহিদ ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 কোরানকে পাশ কাটিয়ে হিজাব নিয়ে মুসলমানদের বাড়াবাড়ি কখনো তাকওয়ার পথ নয়।

===== ==== ==== ==== ==== 


দৃষ্টি সংযত করা, পবিত্রতা রক্ষা করা, তাকওয়ার পোশাক এবং শালীনতা: কুরআন-কেন্দ্রিক একটি বিশ্লেষণ


ইসলামে নারীর পোশাক নিয়ে আলোচনা প্রায়ই পোশাক দিয়েই শুরু হয়। কিন্তু কুরআন বিষয়টি শুরু করেছে আরও গভীর বিষয় দিয়ে—ঈমান, আত্মসংযম, আল্লাহ-সচেতনতা (তাকওয়া) এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ।


নারীদের পোশাক সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়ার আগে আল্লাহ প্রথমে মুমিন পুরুষদের দৃষ্টি সংযত করতে এবং তাদের পবিত্রতা রক্ষা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরই মুমিন নারীদেরও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারপর পোশাক সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় যে কুরআনের দৃষ্টিতে শালীনতা শুরু হয় মানুষের নিজের আচরণ ও নৈতিক দায়িত্ব থেকে।


এই প্রবন্ধে কুরআনের প্রাসঙ্গিক আয়াতগুলো কুরআন-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে কুরআনের স্পষ্ট বক্তব্য এবং পরবর্তী ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা হয়েছে।


১. শালীনতার ভিত্তি: দৃষ্টি সংযত করা এবং পবিত্রতা রক্ষা করা**


আল্লাহ বলেন:


"মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটি তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয়ই তারা যা করে, আল্লাহ সে সম্পর্কে অবগত।"


(কুরআন অধ্যায় ২৪: ৩০)


কুরআন প্রথমে মুমিন পুরুষদের উদ্দেশ্যে কথা বলেছে। নারীর পোশাক সম্পর্কে কোনো আলোচনা করার আগে পুরুষদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—


* দৃষ্টি সংযত করতে।


* পবিত্রতা রক্ষা করতে।


এতে বোঝা যায় যে পুরুষ নিজের আচরণ, চিন্তা, দৃষ্টি এবং আকাঙ্ক্ষার জন্য নিজেই দায়ী। কুরআন শালীনতার আলোচনা অন্যের বাহ্যিক রূপ দিয়ে শুরু করেনি; বরং ব্যক্তিগত আত্মসংযম দিয়ে শুরু করেছে।


১. নারীদের জন্যও একই নৈতিক দায়িত্ব


পুরুষদের নির্দেশ দেওয়ার পরপরই আল্লাহ বলেন:


"আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, আর তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে—যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায় তা ছাড়া—এবং তারা যেন তাদের খুমুর তাদের বক্ষদেশের উপর টেনে দেয়..."


(কুরআন ২৪ অধ্যায়: ৩১)


পুরুষদের মতো নারীদেরও প্রথমে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—


*দৃষ্টি সংযত করতে।


*পবিত্রতা রক্ষা করতে।


এরপর কুরআন পোশাকের বিষয় উল্লেখ করেছে।


খুমুর (خُمُر) শব্দের অর্থ হলো "আবরণ বা ঢাকার বস্তু"। এই আয়াতে নারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের খুমুর বক্ষদেশের উপর টেনে দিতে।


এই আয়াতে সরাসরি বলা হয়নি—


* চুল ঢাকো।


* মাথা ঢাকো।


* মুখ ঢাকো।


এই আয়াতে কি অতিরিক্ত কোনো আবরণ বোঝায় কি?


১. তাকওয়ার পোশাক: শালীনতার অন্তর্নিহিত ভিত্তি


আল্লাহ বলেন:


"হে আদমসন্তান! আমি তোমাদের জন্য পোশাক নাযিল করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং সৌন্দর্যের উপকরণ। আর তাকওয়ার পোশাক—সেটিই সর্বোত্তম। এগুলো আল্লাহর নিদর্শন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।"


(কুরআন অধ্যায় ৭:২৬)


লিবাসুত তাকওয়া (لِبَاسُ التَّقْوَى) অর্থ হলো: "তাকওয়ার পোশাক", অর্থাৎ আল্লাহ-সচেতনতা ও নৈতিকতার পোশাক।


এই আয়াত দেখায় যে বাহ্যিক পোশাকের যেমন উদ্দেশ্য আছে, তেমনি মানুষের অন্তরের গুণাবলিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাকওয়া বলতে বোঝায়—


* আল্লাহর উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকা।


* সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া।


* আত্মসংযম বজায় রাখা।


* নৈতিক জীবনযাপন করা।


কুরআনের দৃষ্টিতে প্রকৃত শালীনতার ভিত্তি হলো মানুষের অন্তরের অবস্থা ও চরিত্র।


১. বাইরের পোশাক (জিলবাব)


আল্লাহ বলেন:


"হে নবী! আপনার স্ত্রীগণ, আপনার কন্যাগণ এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাব নিজেদের উপর টেনে দেয়। এটি অধিক উপযুক্ত, যাতে তারা পরিচিত হয় এবং কষ্টের শিকার না হয়। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"


(কুরআন অধ্যায় ৩৩: ৫৯)


"জালাবিব (جَلَابِيب)" হলো "জিলবাব (جلباب)" -এর বহুবচন। এর অর্থ হলো বাইরের পোশাক, চাদর, আবরণ বা উপর পরিধান করা পোশাক।


এই আয়াতে নারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের বাইরের পোশাক নিজেদের উপর টেনে নিতে এবং এর উদ্দেশ্য বলা হয়েছে:


"...যাতে তারা পরিচিত হয় এবং কষ্টের শিকার না হয়।"


কুরআন এখানে জিলবাবকে স্পষ্টভাবে মাথা ঢাকার বা মুখ ঢাকার পোশাক হিসেবে বর্ণনা করেনি।


"যাতে তারা পরিচিত হয়"—এই বাক্যাংশ বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, পরিচিত হওয়ার জন্য সাধারণত মুখ দৃশ্যমান থাকা প্রয়োজন। যদি মুখ সম্পূর্ণ আবৃত থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে:


"তাহলে তারা কীভাবে পরিচিত হবে?"


১. কুরআন স্পষ্টভাবে কী নির্দেশ দিয়েছে?


## মুমিন পুরুষদের জন্য:


* দৃষ্টি সংযত করা।


* পবিত্রতা রক্ষা করা।


## মুমিন নারীদের জন্য:


* দৃষ্টি সংযত করা।


* পবিত্রতা রক্ষা করা।


* সৌন্দর্য প্রকাশ না করা, যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায় তা ছাড়া।


* খুমুর (আবরণ) বক্ষদেশের উপর টেনে দেওয়া।


* জিলবাব (বাইরের পোশাক) নিজেদের উপর পরিধান করা।


১. কুরআন স্পষ্টভাবে কী বলেনি?


কুরআনে সরাসরি নির্দেশ নেই যে নারীদের—


* চুল ঢাকতে হবে।


* মাথা ঢাকতে হবে।


* মুখ ঢাকতে হবে।


* নিকাব পরতে হবে।


এই নির্দিষ্ট নির্দেশগুলো কুরআনের সরাসরি বক্তব্যে উল্লেখ নেই।


শেষ কথা 


কুরআন শালীনতাকে একটি পূর্ণাঙ্গ নৈতিক নীতি হিসেবে উপস্থাপন করে, যার ভিত্তি হলো—


দৃষ্টি সংযত করা, পবিত্রতা রক্ষা করা, আল্লাহ-সচেতনতা (তাকওয়া) এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ব।


শালীনতা সম্পর্কে কুরআনের প্রথম নির্দেশ নারীর পোশাক নয়; বরং মুমিন পুরুষদের দৃষ্টি সংযত করা এবং পবিত্রতা রক্ষা করা। এরপর মুমিন নারীদেরও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারপর পোশাকের বিষয় এসেছে।


কুরআন শিক্ষা দেয় যে "তাকওয়ার পোশাক"—অর্থাৎ আল্লাহ-সচেতনতা ও নৈতিকতার পোশাক—হলো সর্বোত্তম পোশাক। একই সঙ্গে নারীদের তাদের খুমুর বক্ষদেশের উপর টেনে দিতে এবং জিলবাব নিজেদের উপর পরিধান করতে বলা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য বলা হয়েছে—"যাতে তারা পরিচিত হয় এবং কষ্টের শিকার না হয়।"


একই সময়ে কুরআনের আয়াতে বলা হয়নি যে নারীদের অবশ্যই চুল, মাথা বা মুখ ঢাকতে হবে। 


সামগ্রিকভাবে কুরআনের শিক্ষা হলো—প্রকৃত শালীনতা শুরু হয় মানুষের অন্তর, দৃষ্টি, চরিত্র এবং আচরণ থেকে। পোশাক শালীনতার একটি অংশ, কিন্তু এর মূল ভিত্তি হলো ঈমান, আত্মসংযম, নৈতিকতা এবং আল্লাহর প্রতি সচেতনতা।

হিজবুত তাউহিদ ফেইসবুক থেকে নেওয়া

একাত্তরের ৫ অক্টোবরের রাত। সেদিন ছিল পবিত্র শবে বরাত

 একাত্তরের ৫ অক্টোবরের রাত। সেদিন ছিল পবিত্র শবে বরাত। অথচ সেই পবিত্র রাতেই পা/কিস্তানি সে/না/দের অ/মানবিক ও নি/র্মম শা/রীরিক নি/র্যা/তনে শহীদ হন লুৎফুন নাহার হেলেনা।


এর আগে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে শিশুপুত্রসহ তাঁকে দিনের বেলা আ/টক করে রা/জা/কা/ররা। পরে তাঁকে মাগুরা শহরে এনে পা/কি/স্তান সে/নাবা/হি/নীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। হ//ত্যার পরও থামেনি নি/ষ্ঠুরতা। পা/কিস্তানি সে/নারা তাঁর ম/রদে/হ জিপের পেছনে বেঁ/ধে টেনে নিয়ে যায় শহরের অদূরে নবগঙ্গা নদীর ডাইভারশন ক্যানেলে। সেখানেই ফে/লে দেওয়া হয় তাঁর ক্ষ/তবি/ক্ষ/ত  ম/রদে/হ।


ম/র্মান্তিক এই ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায় তাঁর স্বামী আলী কদরের রচনায়। তিনি লিখেছেন, ‘হেলেনের মৃ/ত্যুঘটনা ছিল করুণ ও ম/র্মান্তিক।


[…] মহম্মদপুর থানার এক গ্রামে অবস্থানকালে রা/জা/কার ও ঘা/তক দা/লালদের গু/প্তচরের সহায়তায় হেলেন ২ বছর ৫ মাস বয়স্ক শিশু পুত্র দিলীরসহ রা/জা/কারদের হাতে ধ/রা পড়ে গেলে তাকে তারা সরাসরি নিয়ে আসে মাগুরা শহরে।


এরপর পা/কিস্থান বা/হিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে তাকে সো/পর্দ করা হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।


হেলেনের এই দুঃসংবাদে তার বৃদ্ধ পিতা ও কতিপয় আত্মীয়স্বজন দুগ্ধপোষ্য শিশুর মাতা হেলেনের মুক্তির জন্য শত অনুরোধ সত্ত্বেও রা/জা/কা/র ও ঘাতক দা/লালরা তার মুক্তির ব্যাপারে সব চাইতে বেশি বা/ধা সৃষ্টি করে।


আলোচনায় পা/কবা/হিনী কর্মকর্তাকে জানায় যে, হেলেন মাগুরার বা/মপন্থি নেতা মাহফুজুল হক সাহেবের বোন এবং মহম্মদপুর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের বা/হিনী প্রধান বা/মপন্থি নেতা আলী কদরের স্ত্রী। সুতরাং তার মুক্তির প্রশ্নই ওঠে না।


ঐ রাতেই তারা হেলেনের শিশু পুত্র দিলীরের করুণ-কান্নাকে উপেক্ষা করে তাকে মায়ের কোল থেকে বিচ্ছিন্ন করে পাঠিয়ে দেয় নানা বাড়িতে।


তারপর অ/মানবিক নি/র্মম শা/রীরিক নি/র্যা/তন চালিয়ে হ//ত্যা করে হেলেনকে।’ (স্মৃতিঃ ১৯৭১, অষ্টম খণ্ড, প্রথম প্রকাশ ১৯৯৫, সম্পাদনা রশীদ হায়দার)।


লুৎফুন নাহার হেলেনা ‘হেলেন’ নামেও পরিচিত ছিলেন। 


লুৎফুন নাহার হেলেনার জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর মাগুরা শহরে। তাঁর বাবা মুহাম্মদ ফজলুল হক এবং মা মোসাম্মৎ ছফুরা খাতুন। পাঁচ ভাই ও নয় বোনের মধ্যে বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন ষষ্ঠ। মেধাবী ছাত্রী হেলেনা বাবার কাছ থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন। ১৯৬৮ সালে বিএ পাস করে মাগুরা গার্লস হাইস্কুলে, বর্তমানে সরকারি গার্লস হাইস্কুল, সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি মাগুরার বা/ম রাজনী/তিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।


তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের মাগুরা আঞ্চলিক শাখার নেত্রী এবং মাগুরা কলেজের ছাত্রী সংসদের মহিলা কমনরুম সম্পাদিকা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে জীবনের ঝুঁ/কি নিয়ে পা/কিস্তান সে/নাবা/হিনী ও তাদের সহযোগীদের কর্মসূচির সংবাদ তাঁর মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর কাছে পাঠাতেন। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধের কাজে মহম্মদপুর এলাকায় গিয়ে নারীদের, বিশেষত ভূমিহীন গরিব কৃষক পরিবারের নারীদের অনুপ্রাণিত করতেন। পাশাপাশি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়া-দাওয়া, দেখাশোনা ও অসুস্থদের সেবাযত্নে সহযোগিতা করতেন। 


‘…হেলেনের মৃ/ত্যু হয় ১৯৭১-এর ৫ অক্টোবর রাত্রিবেলায়। ঐ রাত ছিল সকল মুসলমানদের এক পবিত্র রাত শব-ই-বরাত।


একাত্তরে পা/কিস্তানি হা/নাদার বা/হিনী ও তাদের এদেশীয় সহযোগীদের নৃ/শং/সতা থেকে রে/হাই পায়নি কোনো বিশেষ দিন, ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোত্রের মানুষ। পবিত্র শবে বরাতের রাতও থামাতে পারেনি তাদের নি/র্মম/তা। সেই রাতেই তাঁদের নি/ষ্ঠু/রতার শি/কার হয়ে শহীদ হন লুৎফুন নাহার হেলেনা।


বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লুৎফুন নাহার হেলেনার প্রতি স্যালুট ও বিনম্র শ্রদ্ধা। 🙏🌹🖤🇧🇩 

আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।


সৌজন্যে: বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র


#bdcs #LutfunNaharHelena ##liberationwar1971 #মুক্তিযুদ্ধ #বাদুছস  #itihaserkhojegiridhar #giridhardey #গিরিধরদে #বাংলাদেশের_দুষ্প্রাপ্য_ছবি_সমগ্র #ইতিহাসেরখোঁজেগিরিধর

বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

শেষ দশ সূরার গল্প — প্রতিদিন যা পড়ি, অথচ সুতোটা দেখি না ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 শেষ দশ সূরার গল্প — প্রতিদিন যা পড়ি, অথচ সুতোটা দেখি না

---------------------------------------------------


সূরা ফীল থেকে সূরা নাস—কুরআনের শেষ দশটি সূরা আমাদের সবচেয়ে বেশি মুখস্থ। নামাজে ঘুরেফিরে এগুলোই পড়ি। কিন্তু কখনো কি খেয়াল করেছেন, এই দশটি সূরা আসলে একটাই গল্প বলছে—একটার পর একটা, নিখুঁত ধারাবাহিকতায়? আজ সেই সুতোটা ধরিয়ে দিচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, এরপর থেকে এই সূরাগুলো তিলাওয়াতের অভিজ্ঞতাই বদলে যাবে।


পুরো গল্পটা বুঝতে আপনাকে শুধু একটা জিনিস মনে রাখতে হবে—ইবরাহীম (আ)-এর দুআ। কাবা নির্মাণের সময় তিনি মক্কার জন্য দুটি জিনিস চেয়েছিলেন: এই শহর যেন নিরাপদ থাকে, আর এর অধিবাসীরা যেন ফলমূলের রিজিক পায়। নিরাপত্তা এবং সমৃদ্ধি। ব্যস, এবার গল্প শুরু।


সূরা ফীল: আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতির প্রথম অংশ রক্ষা করলেন। হাতির বাহিনী নিয়ে আবরাহা এলো কাবা ধ্বংস করতে—আল্লাহ আবাবিল পাখি দিয়ে তাদের চিবানো ঘাসের মতো করে দিলেন। মক্কা রইলো নিরাপদ।


সূরা কুরাইশ: প্রতিশ্রুতির দ্বিতীয় অংশ। رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ—শীত ও গ্রীষ্মের বাণিজ্য সফর। কুরাইশদের ব্যবসা চলে নির্বিঘ্নে, ক্ষুধায় তিনি খাদ্য দিলেন, ভয় থেকে দিলেন নিরাপত্তা। সমৃদ্ধিও পূর্ণ হলো। তাহলে দাঁড়ালো—ফীল ও কুরাইশ হলো ইবরাহীম (আ)-এর দুআর দুই ডানা।


সূরা মাউন: কিন্তু এবার প্রশ্ন—আল্লাহ তো তাঁর দিক থেকে প্রতিশ্রুতি রাখলেন; ইবরাহীমের যে সন্তানেরা এখন কাবার দায়িত্বে, তারা কি তাদের দিকটা রেখেছে? উত্তর: না।


أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ ۝ فَذَلِكَ الَّذِي يَدُعُّ الْيَتِيمَ ۝ وَلَا يَحُضُّ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ

আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে দ্বীনকে অস্বীকার করে? সে-ই তো ইয়াতিমকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়, আর মিসকিনকে খাবার দিতে উৎসাহিত করে না।


ইয়াতিমকে দূরে ঠেলে দেওয়া, লোক দেখানো নামাজ—এই হলো তাদের অবস্থা। সূরা মাউন যেন আদালতে পেশ করা প্রমাণ: কুরাইশরা ইবরাহীমের উত্তরাধিকারের যোগ্য নয়।


সূরা কাউসার: তারা যদি যোগ্য না হয়, তাহলে যোগ্য কে? উত্তর এলো—إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ—নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি। কাবার প্রকৃত উত্তরাধিকারী হলেন রাসূলুল্লাহ (স)। কেন? কারণ তিনিই ইবরাহীম (আ)-এর আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করবেন। আর সেই আদর্শের সারকথা এই সূরাতেই: فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ—আপনার রবের জন্য নামাজ পড়ুন এবং কুরবানী করুন। নামাজ আর কুরবানী—ভেবে দেখুন, এই দুটোই তো ইবরাহীম (আ)-এর জীবনের সারমর্ম! যে কুরবানীর প্রস্তুতি তাঁকে এই ঘর নির্মাণের যোগ্য বানিয়েছিল, আর নির্মাণের সময় যাঁর দুআ ছিল—হে রব, আমাকে ও আমার বংশধরদের নামাজ প্রতিষ্ঠাকারী বানান।


সূরা কাফিরুন: এখন সমস্যা হলো, যোগ্য আর অযোগ্য—দুই পক্ষই এক শহরে, এক কাবা ঘিরে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে সবাই বুঝি একই ধর্মের। তাই এবার এলো প্রকাশ্য বিচ্ছেদের ঘোষণা:


قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ... لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ

বলুন, হে কাফেরগণ... তোমাদের দ্বীন তোমাদের, আমার দ্বীন আমার।


উপাসনালয় এক হলেও ধর্ম এক নয়। আর সেই যুগে গোত্রের আনুগত্য ত্যাগ করার অর্থ কী জানেন? যে গোত্র আপনার নিরাপত্তার একমাত্র ঢাল, তাকেই প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলা। কাফিরুন ঘোষণার পর সংঘাত অনিবার্য হয়ে গেলো।


সূরা নাসর: আর সংঘাত হলে কেউ জিতবে, কেউ হারবে। কে জিতবে? إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ—যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে... وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا—আর আপনি দেখবেন, মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করছে। ভাবুন, এই প্রতিশ্রুতি যখন আসছে, মুসলিমরা তখন নির্যাতিত সংখ্যালঘু!


সূরা মাসাদ (আরেক নাম সূরা লাহাব): এত বড় প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য করতে চাই একটা নমুনা, একটা টোকেন। যেমন টানা দশ ম্যাচ হারা দল একটা ম্যাচ জিতলেই বলে—"এখনো আশা আছে!" আল্লাহ সেই টোকেন দিলেন: تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ—ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাত। ইসলামের সবচেয়ে কঠিন শত্রুদের একজনের ধ্বংসের অগ্রিম ঘোষণা—প্রমাণ যে বড় বিজয়টাও আসছে।


সূরা ইখলাস: এবার এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক মুহূর্ত। বছরের পর বছর কোনো মিশনে লেগে থাকলে মানুষ কী ভুলে যায়? কেন শুরু করেছিল, সেটাই! বিজয়ের প্রতিশ্রুতি এসে গেছে; এখন মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি—এই এত সংগ্রাম কীসের জন্য ছিল। ইবরাহীম (আ) কেন কাবা বানিয়েছিলেন? একটাই কারণে—


قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۝ اللَّهُ الصَّمَدُ ۝ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۝ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ

বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি, তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমকক্ষ কেউই নেই।


মজার ব্যাপার কী জানেন? 'ইখলাস' শব্দটা এই সূরার কোথাও নেই! মাসাদে 'মাসাদ' আছে, কাফিরুনে 'কাফিরুন' আছে—কিন্তু ইখলাসে 'ইখলাস' নেই। তবু সাহাবিরা এই নাম দিলেন কেন? কারণ এই সূরা পুরো মিশনের নিয়তকে পরিশুদ্ধ করে দেয়—সবকিছু শুধুই এক আল্লাহর জন্য।


সূরা ফালাক ও সূরা নাস: কিন্তু এই যে ইখলাস—নিয়তের এই বিশুদ্ধতা—এটা কি একবার অর্জন করলেই চিরদিন টিকে থাকে? না; এটা সার্বক্ষণিক আক্রমণের মুখে থাকা এক অমূল্য সম্পদ। তাই গল্পের শেষে এলো দুটি সুরক্ষা-কবচ। বাইরের হুমকি থেকে—قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ—রাতের অন্ধকার, জাদু, হিংসুকের হিংসা। আর ভেতরের হুমকি থেকে—قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ—সেই কুমন্ত্রণাদাতা, যে মানুষের বুকের ভেতরে ফিসফিস করে। এত কষ্টে অর্জিত ঈমান আর ইখলাসকে এবার পাহারা দিন—বাইরে থেকে, ভেতর থেকে।


এবার পুরো গল্পটা এক নিঃশ্বাসে দেখুন: ইবরাহীমের দুআ পূর্ণ হলো (ফীল, কুরাইশ) → উত্তরাধিকারীরা অযোগ্য প্রমাণিত (মাউন) → প্রকৃত উত্তরাধিকারী ঘোষিত (কাউসার) → সম্পর্কচ্ছেদ (কাফিরুন) → বিজয়ের প্রতিশ্রুতি (নাসর) → বিজয়ের নমুনা (মাসাদ) → মিশনের মূল উদ্দেশ্য (ইখলাস) → সেই অর্জনের সুরক্ষা (ফালাক, নাস)।


আর সবচেয়ে সুন্দর কথাটা শেষে। কুরআন শুরু হয়েছিল এক প্রার্থনা দিয়ে—সূরা ফাতিহায় আমরা পথের দিশা চেয়েছিলাম। আর কুরআন শেষও হলো প্রার্থনা দিয়ে—ফালাক ও নাসে আমরা সেই পথের সম্পদটুকু হেফাজতের দুআ করছি। শুরুতে চাওয়া, শেষে পাহারা। আর নাস শেষ করে আমরা আবার কোথায় ফিরে যাই? ফাতিহায়। বৃত্তটা ঘুরতেই থাকে।


আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আমাদের কুরআনের উপর গভীর তাদাব্বুর করার এবং এর অপূর্ব বিন্যাসের স্বাদ আস্বাদনের তৌফিক দান করুন।


—নোমান আলী খান

— সূরাসমূহের পারস্পরিক সঙ্গতি বিষয়ক লেকচার থেকে

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

ইমাম চাচার ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমাদের একাধিক স্ত্রী, অধিক সন্তান কিংবা এ বিষয়ে আমাদের লেখা ও কার্যক্রম দেখে যখন আপনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন, গালিগালাজ করেন, বিদ্রূপ করেন বা দীর্ঘ মন্তব্য লিখতে ব্যস্ত থাকেন, তখন হয়তো আমরা আমাদের কোনো এক স্ত্রীর সঙ্গে সুন্দর সময় কাটাচ্ছি। হয়তো সবাইকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে বের হয়েছি। হয়তো পরিবারের জন্য বাজার করছি। হয়তো সন্তানদের সঙ্গে খেলছি, তাদের পড়াশোনা দেখছি, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছি। হয়তো নতুন সন্তানের আগমনের আনন্দে মশগুল, অথবা তাদের হালাল রিযিকের জন্য পরিশ্রম করছি।

অর্থাৎ আমরা ব্যস্ত আমাদের পরিবার, দায়িত্ব, ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন নিয়ে।


আর আপনি ব্যস্ত আমাদের পোস্টের নিচে রাগ ঝাড়া, গালিগালাজ করা আর বিরোধিতা করার কাজে।


একবার ভেবে দেখুন, লাভটা কার হচ্ছে?

আমরা আমাদের পরিবারের সঙ্গে স্মৃতি তৈরি করছি, আর আপনি আমাদের নিয়ে মন্তব্য লিখে নিজের মূল্যবান সময় ব্যয় করছেন।


আমরা সন্তানদের মানুষ করার পরিকল্পনা করছি, আর আপনি আমাদের সমালোচনা করার জন্য নতুন নতুন ভাষা খুঁজছেন।


আমরা পরিবারের সুখ, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ গড়তে ব্যস্ত, আর আপনি অন্যের জীবন নিয়ে অস্থির হয়ে নিজের সময় নষ্ট করছেন।


আমাদের সংসারে হাসি বাড়ছে, সন্তান বাড়ছে, দায়িত্ব বাড়ছে, কাজ বাড়ছে, আলহামদুলিল্লাহ নিয়ামতও বাড়ছে।

আর আপনার রাগ, ক্ষোভ, বিদ্রূপ আর মন্তব্য—এসবই শুধু বাড়ছে।


আপনার মন্তব্যে আমাদের পরিবারের সুখ একটুও কমে না। আমাদের রিযিক কমে না। আমাদের স্ত্রী-সন্তানের ভালোবাসাও কমে না। বরং আপনার প্রতিটি মন্তব্য শুধু একটি বিষয়ই প্রমাণ করে—আমাদের জীবন নিয়ে আপনি যতটা চিন্তিত, নিজের জীবন নিয়ে হয়তো ততটা নন।


মানুষ সাধারণত সেই বিষয় নিয়েই সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে, যা তার মনকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয়। তাই আপনার প্রতিটি বিরোধিতা আমাদের থামায় না; বরং বুঝিয়ে দেয়, আমরা যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি, সেটি আপনাকে ভাবাচ্ছে।


আমরা আমাদের সময় বিনিয়োগ করছি পরিবার গঠনে।

আপনি আপনার সময় বিনিয়োগ করছেন আমাদের বিরোধিতায়।


আমরা ভবিষ্যৎ গড়ছি।

আপনি মন্তব্যের ঘর ভরছেন।


আমরা উত্তরাধিকার রেখে যাওয়ার চিন্তা করছি।

আপনি আপত্তি লিখে যাওয়ার চিন্তা করছেন।


দিনের শেষে আমাদের হাতে থাকে পরিবার, সন্তান, স্মৃতি ও অর্জন।


আর আপনার হাতে থাকে কয়েকটি রাগভরা মন্তব্য, কিছু গালিগালাজ এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া মূল্যবান সময়।


তাই আপনার গালিগালাজে আমাদের কিছুই আসে যায় না।

বরং কখনো কখনো আপনার জন্য আফসোসই হয়। কারণ যে সময় একজন মানুষ নিজের পরিবার, সন্তান, ইলম, ব্যবসা, দীন বা আখিরাতের প্রস্তুতিতে ব্যয় করতে পারত, সেই সময় যদি সে অন্যের জীবন নিয়ে ক্ষোভ আর বিদ্বেষে কাটিয়ে দেয়, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা সে নিজেকেই করে।

সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ। তারিখ: ৩০-০৫-২০২৬ খ্রি:।

 রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সংবাদ।

তারিখ: ৩০-০৫-২০২৬ খ্রি:।

আজকের শিরোনাম:


যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী।

  

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী ।                  


শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ করলেন তারেক রহমান --- জিয়াউর রহমানের আদর্শে দীক্ষিত হয়ে দেশ গঠনে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান।   


জিয়াউর রহমান মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসন আমলে বাংলাদেশে নজিরবিহীন পরিবর্তন সাধন করেছিলেন --- বললেন এলজিআরডি মন্ত্রী।


১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকাকে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে

শহিদ রাষ্ট্রপতিকে শ্রদ্ধা জানালো ভারতীয় হাইকমিশন।

 

ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু --- দেশে ফিরছেন হাজিরা।    


আফগানিস্তানে শরণার্থীবাহী ট্রাক উল্টে ১০ শিশুসহ নিহত ২২ ।


 এডিনবরায় ত্রি-দেশীয় নারী টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট সিরিজে স্বাগতিক স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি বাংলাদেশ।

গ্রীষ্মকালীন_লাউ_চাষের_A_to_Z

 #গ্রীষ্মকালীন_লাউ_চাষের_A_to_Z  গ্রীষ্মকালেও লাউ চাষ করে ভালো ফলন ও লাভ পাওয়া সম্ভব। তবে এজন্য দরকার উপযুক্ত জাত, সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ, মাচ...