চলতি পথে ...
'দু কদম হেঁটে এস মোদের কুটির,
পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
চাল আছে ঢেঁকি ছাঁটা,
রয়েছে পানের বাটা,
কলাপাতা ভরে দেব ঘরে-পাতা দই,
এই দেখ আছে মোর আয়না কাঁকই।'
হ্যাঁ, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বৃক্ষ মেলার মূল ফটক থেকে দু কদম সামনে এগোতেই চোখে পড়বে ছবির এই বন কুঠির-টি। তখন মনে পড়বে বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও ঔপন্যাসিক অচিন্তকুমার সেনগুপ্ত এর 'কুটির' কবিতাটি। যেখানে ফুটে উঠেছে প্রকৃতির সান্নিধ্যে গ্ৰামীণ ঘর ও উঠোন, মানুষের সহজ সরল জীবন, আতিথেয়তাসহ গাছপালা ও পাখির কলকাকলিতে মুখরিত এক স্নিগ্ধ পরিবেশ। শুধু অচিন্তকুমারই নন, বাংলা সাহিত্যে গ্ৰামীণ বাড়ি, কুটির ও প্রকৃতির রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন অনেক কবি, সাহিত্যিকও। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখায় যেমন মাটির ঘ্রাণ পাওয়া যায় তেমন পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের 'আমার বাড়ি' কবিতায়ও গ্ৰামীণ ঘর ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে। কিন্তু আজ গ্ৰামের বাইরে হাজারো অট্টালিকার এই শহরে এমন চিত্র আর চোখে পড়ে না। এ প্রেক্ষাপটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চলমান জাতীয় বৃক্ষ মেলায় প্রাকৃতিক ও গ্ৰামীণ আবহে এমনই একটি 'বন কুঠির' তৈরি ও তা তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতিঘেরা ছায়া সুনিবিড় পাখপাখালির এই বন কুঠিরটি বৃক্ষ মেলায় আসা সব ক্রেতা-দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে।
ছবি: খোন্দকার এরফান আলী
(০৪ আগষ্ট, ২০২৬)