এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৫

বুঝিয়ে বলা কঠিন, তাই চুপ থাকি

 “বুঝিয়ে বলা কঠিন, তাই চুপ থাকি”


জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যখন মনের কথা প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। হয়তো কিছু অনুভূতি এতটাই গভীর যে সেগুলো শব্দে প্রকাশ করা যায় না। কিংবা কিছু অভিজ্ঞতা এতটাই জটিল যে বোঝানোর জন্য যতই চেষ্টা করা হোক, শুনতে পাওয়া মানুষটি হয়তো বুঝবে না। তখন আমরা চুপ করে থাকি।


“চুপ থাকা” কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি আত্মনিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কখনো কখনো চুপ থাকার মধ্যে লুকিয়ে থাকে অগণিত শব্দ, মনের গভীর বেদনা কিংবা অজস্র অপ্রকাশিত গল্প। আমরা হয়তো জানি, কেউ যদি আমাদের কথা বুঝতে না পারে, তবে সেসব বলারও কোনো মানে নেই। বরং চুপ থাকা আমাদের মানসিক শান্তি বজায় রাখে।


তবে চুপ থাকার মানে এই নয় যে, আমরা দুর্বল বা আত্মবিশ্বাসহীন। বরং এটি আমাদের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার প্রতিফলন। কিছু অনুভূতি শুধুই অনুভবের জন্য, বোঝানোর জন্য নয়। কিছু কথা প্রকাশ না করলেই তা আরও বেশি অর্থবহ হয়ে থাকে।


তবুও, চুপ থাকা সবসময় সঠিক সমাধান নয়। যদি কোনো সম্পর্ক কিংবা পরিস্থিতিতে ভুল বোঝাবুঝি বাড়তে থাকে, তাহলে সেটা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা জরুরি। কারণ, অনেক সময় চুপ থাকাও ভুল বোঝার জন্ম দেয়।


তাই, কখন কথা বলতে হবে আর কখন চুপ থাকতে হবে, সেটি বুঝতে শিখুন। কারণ, শব্দের মতোই নীরবতাও একধরনের ভাষা—যা কেবল বোঝার ক্ষমতা থাকা মানুষের জন্য।


🫢🤫😐😔


গল্পের ভান্ডার - Golper Vandar

জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে সমস্যা থাকবে, থাকবে দুশ্চিন্তা

 "জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে সমস্যা থাকবে, থাকবে দুশ্চিন্তা।"

এই পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই যার জীবনে কোনো সমস্যা নেই। আমরা প্রত্যেকেই আমাদের নিজস্ব লড়াইয়ে প্রতিনিয়ত ব্যস্ত। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য হলো—এই লড়াই আমাদের আরও শক্তিশালী করে।


মানুষের অন্তরে যত নেতিবাচক প্রবণতা রয়েছে, তা জয় করার জন্য প্রতিনিয়ত নিজেকে গড়ে তুলতে হয়। জীবনের পথে হাজারো বাধা আসবেই, কিন্তু সেগুলোর মোকাবিলা করতে হলে প্রয়োজন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অবিচল মনোভাব।


যারা হতাশার মাঝেও আশা খুঁজে পায়, যারা নিজেদের দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করতে জানে, তারাই জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। আর এই মানসিক শক্তি ও ইতিবাচকতার ফলেই আসে সত্যিকারের সফলতা।


তাই, যদি কখনো মনে হয় জীবন খুব কঠিন, যদি মনে হয় দুশ্চিন্তার পাহাড় জমে উঠছে—তখন নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিন, "আমি পারব। আমার ভেতরের শক্তি অদম্য।"


সফলতা কেবল তাদেরই ধরা দেয়, যারা সাহস নিয়ে সবকিছু মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। আজ লড়াই করুন, কাল জয়ের গল্প লিখুন।

বাঁচুন বিশ্বাস নিয়ে, এগিয়ে চলুন সাহস নিয়ে।

©

স্বাধীন ভারতে বাংলার ইতিহাসে একমাত্র রঞ্জিজয়ী অধিনায়ক হয়ে রয়ে গেলেন।

 স্বাধীন ভারতে বাংলার ইতিহাসে একমাত্র রঞ্জিজয়ী অধিনায়ক হয়ে রয়ে গেলেন। এখনও পর্যন্ত।তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য যখন তিনি উইকেটের পিছনে গ্লাভস হাতে দাঁড়াতেন তখন তাঁর হয়ে গলা ফাটানোর জন্য কোনও জাতীয় নির্বাচকের নাম সম্বরণ ব্যানার্জি ছিল না। যদি সৈয়দ কিরমানিকে বাদ রাখা যায় সংশয়াতীত ভাবে সেই সময় দেশের সেরা উইকেটরক্ষক বাংলার সম্বরণ ব্যানার্জি। একজন দক্ষ উইকেটরক্ষকের যেসব গুণ থাকার কথা সব ছিল তাঁর 

 মনঃসংযোগ, ফিটনেস, ‘বল সেন্স’ ও অনুমানক্ষমতা। সম্বরণ ব্যানার্জির মধ্যে এই চারটি গুণের প্রতিটিই ছিল।  ধারাবাহিকতাই  ছিল তাঁর আসল অস্ত্র। 

১৯৮১ সালে ভারতীয় দলে প্রায় সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে উইকেটের পিছনে সেরা ছিলেন সম্বরণ। কিন্তু জাতীয় দলের দরজা খোলেনি। দাত্তু ফাডকরদের নির্বাচক কমিটির কাছে উপেক্ষাই পেয়েছেন। অথচ সম্বরণ ব্যানার্জির পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন অযোগ্য কিছু উইকেটরক্ষক। 


 জাতীয় দলে না খেলার যন্ত্রনা সম্বরণ ব্যানার্জি পুষিয়ে নিয়েছিলেন পূর্বাঞ্চল থেকে জাতীয় নির্বাচক হওয়ার পরে। যে কায়দায় সৌরভ গাঙ্গুলি কে ভারতীয় দলে ঢুকিয়েছেন সেই ইতিহাস সর্বজনবিদিত। গুণ্ডাপা বিশ্বনাথ হেসেছিলেন যখন সম্বরণ সৌরভকে ১৯৯৬ ইংল্যান্ডগামী দলে ঢোকাতে অলরাউন্ডারের তাস বের করেন। পূর্বাঞ্চল থেকে কাকে না তিনি সুযোগ করে দিয়েছেন। সৌরভ থেকে সাবা করিম,প্রশান্ত বৈদ্য,উৎপল চ্যাটার্জি। দেবাশিস মোহান্তি জীবনে ভারতীয় দলে সুযোগ পেতেন না যদি সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় নির্বচক না হতেন। নিশ্চিত ভাবে একটা সময় গিয়েছে যখন বাংলা তথা পূর্বাঞ্চলের প্রতিশ্রুতিবান ক্রিকেটারের নাম শুনলে জাতীয় নির্বাচকরা আড়ালে আবডালে হাসাহাসি করতেন।

যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাংলার অনেক ক্রিকেটারের জন্য কোনওদিন জাতীয় দলের দরজা খোলেনি।


 সম্বরণ ব্যানার্জি একমাত্র নির্বাচক যিনি সংশয়াতীত ভাবে পূর্বাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করা শ্রেষ্ঠ জাতীয় নির্বাচক যাঁকে যোগ্য মনে করেছেন তাঁকে ভারতীয় দলে খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। অবশ্য সৌরভ গাঙ্গুলি যেমন সম্বরণ ব্যানার্জির সৌজন্যে ভারতীয় দলে ঢুকে নিজের যোগ্যতায় অধিনায়ক হয়েছেন। একদিনের ক্রিকেটে বিশ্বের  অন্যতম সেরা ওপেনার ছিলেন। টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন দাপটে। কিন্তু সৌরভের উত্তরসূরী হিসেবে সেভাবে কেউ উঠতে পারলেন না। মনোজ তিওয়ারির মধ্যে যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের হয়ে সেঞ্চুরি করেও ভবিষ্যতে সুযোগ পাননি। যেমন উৎপল চ্যাটার্জি যেকোনও দিনে বেঙ্কটাপতি রাজুর চেয়ে একশো গুণ ভাল স্পিনার কিন্তু তাঁর হয়ে কোনও আজাহারউদ্দিন ছিলেন না। ঋদ্ধিমান ঢাকা পড়লেন মহেন্দ্র সিং ধোনির ছায়ায়। সেভাবে সুযোগ পেলেন না যেটুকু পেয়েছেন প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি ছিলেন বিশ্বসেরা উইকেটরক্ষক।


১৯৮৯/৯০ মরশুমে যেবার বাংলা শেষ রঞ্জি ট্রফি জিতেছিল সেই দলের অধিনায়ক সম্বরণ ব্যানার্জি ।

স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর বাংলার প্রথম ও একমাত্র রঞ্জি ট্রফি জয়ে ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ৫২রানের ইনিংস খেলেছিলেন অরুণলাল।  এখনকার ডার্কওয়াথ-লুইস সিস্টেম যেমন অনেকের মাথায় ঢোকেনা,তেমন 'কোশেন্ট'-এর বৃষ্টিবিঘ্নিত রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে বাংলা হারিয়ে দিয়েছিল তখনকার ক্রিকেটে পাওয়ার হাউজ দিল্লিকে৷ ফাইনালে দিল্লির ২৭৮ রানের জবাবে বাংলার স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ২১৬, অরুণলাল অপরাজিত ৫২ ৷ সেই সময় ভারতীয় দলের অন্যতম সেরা পেসার মনোজ প্রভাকর,কীর্তি আজাদ,অতুল ওয়ালসন সমৃদ্ধ দিল্লিকে হারিয়ে বাংলাকে দীর্ঘদিন পর রঞ্জি জয়ের মধুর স্বাদ পাইয়ে দিয়েছিলেন সম্বরন বন্দ্যোপাধ্যায়,অরুণ লাল,অশোক মালত্রোহা,সৌরভ গাঙ্গুলি,দত্তাত্রেয় মুখোপাধ্যায়,রাজীব শেঠ,উৎপল চ্যাটার্জি,শরদিন্দু মুখার্জি৷ ক্রিকেটার সম্বরণ ব্যানার্জি চমৎকার ক্রিকেট বিশ্লেষক। আসলে ক্রিকেট খেলাটা তিনি খুব ভাল বোঝেন। সমসাময়িক সময়ের ভারতীয় কিংবা বাংলা দলের কেন জাতীয় স্তরের প্রতিশ্রুতিবান সব খেলোয়াড়ের খবর তাঁর নখদর্পণে।

ক্রিকেট তাঁর জীবনের সব কিছু হলেও কলকাতার প্রাণের জিনিস ফুটবল। ছোটবেলায় ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ দেখার জন্য কত বার মাঠে ছুটে গিয়েছেন ।উত্তর কলকাতা টানত নাটকের জন্য। শোভাবাজারের রংমহলে বহু বার গিয়েছেন নাটক দেখার নেশায়। সম্বরণের কলমে অতীত থেকে বর্তমান দিনের ক্রিকেট, ক্রিকেটারদের কথা উঠে আসে। কিন্তু বাংলার রঞ্জি জয়ী অধিনায়ক,এক সময়ে সফল জাতীয় নির্বাচক, দেশের অন্যতম সেরা উইকেটরক্ষক সম্বরণ ব্যানার্জির কথা কিন্তু কারও কলমে উঠে আসতে দেখা যায় না! নাকি আমাদের দেখার ভুল!

কলমে ✍🏻 অরুণাভ সেন।।

© ধ্রুবতারাদের খোঁজে


#SambaranBanerjee

#nationalselector

#RanjiTrophy 

#EdenGardens

#Bengal

#BengalCricketTeam

#BCCI

#SouravGanguly 

#IndianCricketTeam

#dhrubotaraderkhonje

ফজর সলাত নিয়ে আর কত অবহেলা

 #ফজর সলাত নিয়ে আর কত অবহেলা???

যারা ফজর সলাত না আদায় করে ঘুমিয়ে ছিলেন???

তাদের দ্বারা পরিবার/সমাজ/রাষ্ট্র কিছুরই উন্নয়ন সম্ভব না,শুধুই নিজের উন্নয়ন (দুনিয়াবি) হবে। এগুলা নেক সুরতে-শয়তানের* ধোঁকা।


#হাদিস: حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَوْفٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَمُرَةُ بْنُ جُنْدَبٍ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الرُّؤْيَا قَالَ ‏ "‏ أَمَّا الَّذِي يُثْلَغُ رَأْسُهُ بِالْحَجَرِ فَإِنَّهُ يَأْخُذُ

الْقُرْآنَ فَيَرْفِضُهُ وَيَنَامُ عَنِ الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ ‏"‏‏

সামুরাহ ইবনে জুনদাব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি তার স্বপ্ন বর্ণনার এক পর্যায়ে বলেছেন,যে ব্যক্তির মাথা পাথর দিয়ে বিচূর্ণ করা হচ্ছিল,সে হল ঐ লোক যে কোরআন শিখে তা পরিত্যাগ করে এবং ফরজ সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকে।

সহিহ বুখারী হাদিস:১১৪৩

হাদিসের মান: সহিহ হাদিস


#হাদিস: أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَقَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে,তিনি বলেছেনঃ "ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত সালাত দুনিয়া এবং তদস্থিত সমুদয় বস্তু (আল্লাহর রাস্তায় দান করা) থেকেও উত্তম"

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস:১৭৫৯

হাদিসের মান:সহিহ হাদিস


#সলাত ছেড়ে দেয়া কুফুরী/শিরক।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ মুমিন বান্দা ও শিরক-এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সলাত (নামাজ) বর্জন করা। অতএব যে ব্যক্তি সলাত ত্যাগ করলো,সে কুফরী/শিরক করলো।

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস:১০৭৮,১০৭৯,১০৮০

হাদিসের মান:সহিহ হাদিস

বিয়ের পর দয়া করে স্বামী-স্ত্রী বেশিদিন দূরে থাকবেন না।

 বিয়ের পর দয়া করে স্বামী-স্ত্রী বেশিদিন দূরে থাকবেন না। বিস্বাস করুন ভালো থাকার জন্য অনেক বেশি টাকার দরকার একদম-ই নেই। দরকার আপনার ভালোবাসার।

.

জীবন থেকে যে একটা সেকেন্ড চলে যায় সেটা আমরা আর কখনো ফিরে পাই না। আর আপনি বছরের পর বছর স্ত্রী, সন্তান রেখে বহুদূরে পরে আছেন!

.

এই কি জীবন? কোথায় সুখ? কোথায় আপনার স্ত্রীর জন্য ভালোবাসা? কোথায় সন্তানের জন্য স্নেহ?

.

হ্যাঁ, টাকা-পয়সা জীবনে অনেক দরকার কিন্তু; ভেবে দেখেন তো সারাদিনে ৩০০ টাকা রোজগার করা মানুষটা যখন দিনশেষে বাসায় ফিরে তার সামনে পানি দেওয়ার জন্য একজন মানুষ আছে, সে রাতে তার স্ত্রী, সন্তানদের পাশে ঘুমাতে পারে, তার অসুস্থতায় তার স্ত্রী তাকে সেবা করে, তার সন্তান দূর থেকে তাকে দেখে দৌড়ে এসে কোলে ওঠে।

.

কোনো নারীর জীবন থেকে এমন সময় কেঁড়ে নিবেন না যে সময়টায় সে শুধু আপনাকে কাছে চায়।

.

বাইরে গেলে যখন তার চোখে পরে পাঞ্জাবি পরা কোনো এক ছেলে তার প্রিয়তমার হাত ধরে রাস্তা পার করে দিচ্ছে, তখন আপনার স্ত্রীর ভেতর থেকে দীর্ঘস্বাস বের হওয়া ছাড়া আর কিছু-ই করার থাকে না।

..

আপনি সারাদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা রোজগার করে বউকে দামী শাড়ি আর গহনা-ই পরিয়ে গেলেন। কিন্তু যে সময়গুলো আপনারা হারিয়েছেন সেটা আর আসবে না কোনোদিন। উত্তপ্ত প্রেম টাকার তলায় চাপা দিয়ে দিলেন।

.

আপনার সন্তান যখন রাস্তায় দেখে কোনো বাবা তার ছেলেকে রঙিন বেলুন কিনে দিচ্ছে, তখন সে আপনাকে খোঁজে।

.

 সন্তান যখন দেখে তার বয়সী বাচ্চা তার বাবার হাত ধরে মাদ্রাসাই যাচ্ছে তখন সে আপনাকে খুব মিস করে। 

সন্তানের জন্য মাসে এতো হাজার টাকা না পাঠিয়ে হাত ধরে মাদ্রাসাই দিয়ে আসুন।

.

 সে আপনার আদর্শে বড় হবে। তখন সে আপনার কাছে ৫ টাকার প্রয়োজনে ১০ টাকা চাইবে না। বরং ১০ টাকার কাজ টা ৫ টাকায় মিটমাট করার চেষ্টা করবে।

.

কাজের চাপে আপনি সারাদিনে বউকে মনে করার তেমন সময়ও পান না অনেক সময়। এদিকে দুপুরের নাওয়া-খাওয়া শেষ করার পর আপনার স্ত্রীর অলস বিকালে আর সন্ধ্যা নেমে আসতে চায় না। 

জানালা দিয়ে সে বাইরে তাকিয়ে দূরের ঐ নীল আকাশে রং বেরঙের কত কী দেখে। দেখে না শুধু আপনাকে।

.

মাঝরাতে ঘুম ভাঙার পর বাম পাশে আপনাকে না পেয়ে বুকে আকাশ সমান বোঝা নিয়ে আপনার স্ত্রী ঘুমিয়ে যায়। এভাবেই আপনার বয়স ৫০ পেড়িয়ে যাবে, স্ত্রীর চোখ ধূসর হয়ে আসবে।

.

হলো না আপনাদের কদম হাতে বৃষ্টিতে ভেজা।

আর হলো না আঁকাবাকা রাস্তায় পা মিলিয়ে সামনে হাটা। হলো না সন্তান বুকে নিয়ে ঘুমানো।

হলো টাকার পাহাড়, বিষের পাহাড়, বিষাদের পাহাড়। যার চাপায় পিষে যাবে কতগুলো রঙিন স্বপ্ন, পিষে যাবে স্ত্রীর প্রেম, খসে যাবে আপনার যৌবন। ©

সত্য ঘটনা কলমে:সরজিৎ ঘোষ

 (সত্য ঘটনা)

নিজের ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়েছিলেন সতীশবাবু। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন বন্ধু বরেণকেও। ফেরার পথে সেই কথাই দুই বন্ধুর মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল আমার পিছনের সীটে বসেই।


হাওড়া থেকে বাসে উঠেছি আমি। যাদবপুর গামী এসি বাস।আমি ওঠার পরেই ওনারা উঠেই ঠিক আমার পিছনের সীটেই বসলেন। বয়স দুজনেরই ষাটোর্ধ্ব। আমি যাব ভবানীপুর।ওনাদের গন্তব্য আরো পরে। আমি নেমে আসার সময় দেখলাম সে গল্প তখনো চলছে, বুঝলাম ওনারা আরো দূরের যাত্রী। সে যাইহোক আসল গল্পে আসা যাক। বরেণ বাবু বসেই  বিরক্ত হয়ে বললেন,


"দেখ সতীশ, আমি এরকম কথা কোনো মেয়ের মা'কেই বলতে শুনিনি। মেয়ের মা তো বলেই বসল,"ছেলের গায়ের রঙ ফর্সা তো? গায়ের রঙ কালো হলে আমি অন্তত মেয়ের বিয়ে দেব না।দেখলেন তো আমার মেয়ে কেমন টকটকে ফর্সা।"  কথা গুলোর মধ্যে কেমন একটু বক্রোক্তিই ছিল। আচ্ছা তুই বল তো, গায়ের রঙ নিয়ে মেয়ের মায়ের এত অহংকার করার কি আছে? সাধারণত সবাই ছেলের ইনকামটাই দেখে। তোর ছেলে ব্যাঙ্কে চাকরি করে। যে কোনো মেয়ের বাবা মা রাজী হয়ে যাবে বিয়ে দিতে। এই বাজারে ভালো চাকরি করে, এমন একটা সৎ চরিত্রবান ছেলেকে কে না চায়? জানি ওনার মেয়েও চাকরি করে, তবুও। ছেলের গায়ের রঙ কালো বলে কেউ অপছন্দ করবে, অন্তত আমার জানা ছিল না। আর তোকেও বলিহারি! তোর মত হম্বিতম্বি ওয়ালা মানুষটাও মুখে কুলুপ এঁটে থাকল, একটি কথাও বললি না। তোর অন্তত কিছু বলা উচিত ছিল। এটা যদি আমার ছেলের দেখাশোনা  হতো আমি কিন্তু দুটো কথা শুনিয়েই আসতাম। এরকম একটা ফ্যামিলিতে সম্বন্ধটা কে দেখে দিল বল তো? বিয়ের ব্যাপারে শুধু ছেলে মেয়ে দেখাটা শেষ কথা নয়, ফ্যামিলিটাও দেখতে হয়।


বরেণ বাবুর কথা শেষ হতেই মুখ খুললেন সতীশ বাবু। বললেন,


-জানিস বরেণ এই পৃথিবীটা যে গোল, তা আরো একবার প্রমাণ হয়ে গেল। সময়ের সাথে যেমন সব কিছু পরিবর্তন হয়ে যায়, তেমনি সময়ের সাথে সাথে হিসেবটাও বুঝিয়ে দেয়‌ ভগবান। আমি বলতে চাইলেও বলার মত মুখ আমার ছিল না।তাই হয়তো চুপ ছিলাম। আমি তখন ভাবছিলাম মেয়ে দেখা হয়ে গেল অথচ মেয়ের মা কেন সামনে আসছে না, ব্যাপারটা আমার কাছে রহস্যময় মনে হচ্ছিল। শুধু মনে হচ্ছিল কিছু একটা ব্যাপার হয়তো আমার কাছে লুকিয়ে যাচ্ছে। আমার ধারণা ভুল বলে প্রমাণিত হল। আসলে আমরা যা ভাবি তা সব সময় সঠিক নয়। হঠাৎ করেই সে রহস্য ভেদ হয়ে গেল। একটা পুরানো হিসেব মিটিয়ে নিল আজ। বিশ্বাস কর বরেণ, আমি ওখানে মেয়েটির মা হিসেবে অনুলতাকে দেখব ভাবিনি।


-মানে?


-এই সেই অনুলতা আজ থেকে তিরিশ বছর আগে 'গায়ের রঙ কালো' এই অজুহাতে অনুলতাকে ছেড়ে দিয়ে বাড়ির পছন্দেই এক ফর্সা সুন্দরীকে বিয়ে করেছিলাম। অনুলতার কথা যখন বাড়িতে বলেছিলাম,তখন আমার বড় পিসিই বলে বসল, "কালো মেয়েকে বিয়ে করলে ওর পেটে যদি একটা কালো হয়?" আমার মা বলত, "ফরসা টুকটুকে বৌ না'হলে আমার সতুর সাথে মানাবে না।" অথচ আমার গায়ের রঙ কালো সেটা আমি নিজেই ভুলে গিয়েছিলাম। অদ্ভুত ব্যাপারটা কী হল বল তো, ফর্সা সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করেও আমার ছেলে মেয়েরা কিন্তু  তাদের মায়ের মত ফর্সা হল না। অথচ অনুলতার এক মাত্র মেয়ে সে কিন্তু সত্যিই সুন্দরী। সেদিন বাড়ির পছন্দে বিয়ে করেছিলাম বলে সবাই বলেছিল,"এই না হ'লে ছেলে? এরকম ছেলে আজ কাল হয় না। বাবা মায়ের পছন্দতেই পছন্দ।" সেদিন নিজের মেরুদণ্ড সোজা রাখতে আমি পারিনি। আজ অনুলতার ওই একটি কথাই আমাকে অবশ করে দিল। আমি কোন মুখ নিয়ে কথা বলতাম ওখানে? ভগবান আসলে সব হিসেব ঠিক সময়ে বুঝিয়ে দেন বোধহয়। আমার ব্যক্তিত্ব সেদিনই ভেঙে গিয়েছিল যেদিন অনুলতাকে ছেড়ে দিয়ে বাড়ির পছন্দে বিয়ে করে নিয়েছিলাম। প্রশাসনিক পদের ভালো রাঙ্কে চাকরি করলেই কি ব্যক্তিত্বশালী হওয়া যায়? ওপর থেকে সাজানো সব কিছু আমাদের, কিন্তু ভিতরটা অন্য কথা বলে।ভুলটা আমিই করেছিলাম সেদিন, আর আজ অনু্লতা ভুল কিছু বলেও নি। মেরুদণ্ড সোজা থাকলে তো মুখের ওপর বলতে পারতাম। পাশার দান কখন যে উল্টে যাবে কেউ বলতে পারে না?


জানিনা তারপরে দুজনের মধ্যে কী কথা হয়েছিল। ঠিকই তো।ভগবানের হিসেব কখনো ভুল হয় না।  সময়ের সাথে সাথে সব কিছু হিসেব পেয়ে যায় মানুষ, সে ভালো হোক বা মন্দ। বাস থেকে নামি আর ভাবতে থাকি, অন্যায় ভাবে কাউকে ছেড়ে দিলেও ঈশ্বর কখনো ছাড়েন না। দিনশেষে বিবেকের কাছে জবাব দিহি করতেই হবে। আর শেষ জবাবটা তো ঈশ্বর দেন। তার জন্য বোধহয়  তৈরিও থাকতে হয়। 


কলমে:সরজিৎ ঘোষ।

লেখায় : শরণ্যা ছবি : সংগৃহীত  পুনর্জন্ম - Punarjanma,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 || দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর বিছানায় একটু গড়িয়েছেন সবে; এমন সময় হঠাৎ বেল বেজে উঠলো। বিরক্ত হলেন বিলাশবাবু, এই ভর দুপুরবেলা আবার কে এলো রে বাবা! সবে তো তিনটে বাজে, সবাই এখন খেয়েদেয়ে ভাতঘুম দেয়...এই সেলসম্যান গুলো যখন তখন এসে বেল দেয়। কোনো কান্ডজ্ঞান নেই এদের। ভাড়াটে গুলোও ঘুমাচ্ছে নিশ্চয়ই...ভীষণ বিরক্ত নিয়ে উঠলেন বিলাশবাবু। 

এই তিনতলা বাড়িটা বিলাশবাবুর পৈতৃক বাড়ি। বাবা মা মারা যাবার পর বলতে গেলে একা পরে যান। কারণ তিনি বিয়ে থা করেননি; আর তার কোনো ভাইবোনও নেই। সরকারি চাকরি করতেন, রিটায়ার্ড করার পর পেনশন পাচ্ছিলেন দিব্যি। কিন্তু এতবড় বাড়িতে একা থাকতে একটু ভয় ভয় ই করত তার, তাই দোতলা আর তিনতলা পুরোটাই ভাড়া দিয়ে দিয়েছিলেন। একটু উপরি উপার্জনও হয়। কিছুদিন আগে দোতলার একটা ভাড়াটে, দুটো ব্যাচেলর ছেলে; উঠে গেলো। চাকরি নিয়ে কলকাতায় এসেছিল ওরা, এখন চাকরি নিয়েই আবার দূর্গাপুরে চলে গেছে! ওই ঘরটা খালি পড়ে আছে...। বিলাশবাবু ওই ঘরটা ভাড়া দেওয়ার জন্যে বাইরে পোস্টারও টাঙিয়ে রেখেছেন... এখনও অবধি কেউ খোঁজ করতে আসেনি যদিও। 

তবে বাড়িওয়ালা হিসেবে বিলাশবাবুর নামডাক কিন্তু খুব একটা ভালো নয়। তিনি নাকি সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করেন না... পাম্প দিনে একবারের বেশি চালাতে চান না! জল না আসলেও পাম্প চালান না! রাতে দেরি করে ফেরা যাবে না... পুজোর দিনগুলোতেও তার অন্যথা হয়নি! কিছুদিন আগেই দুর্গাপুজোর এক রাতে মেইন গেটে একদিন তালা দিয়ে দিয়েছিলেন; সেই কারণে তিনতলার ভাড়াটেরা বেচারা সেদিন মাঝরাতে ঠাকুর দেখে এসে আর ঢুকতে পারেনি বাড়িতে। তবে এসব নিয়ে বিলাশবাবুর খুব একটা মাথা ব্যাথা নেই! তিনি তার মতোই আছেন... 


আবার বেল বাজলো! একরাশ বিরক্ত নিয়ে দরজা খুললেন! 

– কে রে, তখন থেকে বেল বাজিয়ে বাজছে?

– কাকু, এখানে লক্ষ্মী পুজো অবদি ঘর ভাড়া পাওয়া যাবে? না মানে... আসলে এখন কৈলাস গেলে এত তাড়াতাড়ি ফিরতে পারব না।

বিলাশবাবু হাঁ হয়ে গেলেন, একি! একটা ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে, মুখ খানা একেবারে দেবীর মত! হাতে ঘট নিয়ে, পরনে লাল শাড়ি; কপালে চন্দন, পায়ে আলতা! দরজার সামনে দাঁড়িয়ে... 

– কে তুমি? তোমার মা বাবা কোথায়?

– মা তো ভাইবোন দের নিয়ে কৈলাসে ফিরে গেছে কাকু। আমার তো সামনেই পুজো, আমাকে থাকতে হবে এখানে। এর মধ্যে কৈলাস গেলে আর ফিরে আসতে পারবনা। 

বিলাশবাবু কিছুক্ষণের জন্যে হতভম্ব হয়ে গেলেন; তারপর বুঝলেন কেউ তার সাথে হয়ত মজা করছে। দুর্গাপুজোর বিজয়া সম্মিলনী হবে পাড়ায়, সেখানে কোনো বাচ্চাকে নিশ্চয়ই লক্ষ্মী সাজিয়েছে; আর বলেছে গিয়ে হয়ত মজা করতে... 

– তুমি এসো ভিতরে।

মেয়েটা গুটি গুটি পায়ে ভিতরে ঢুকলো। বিলাশবাবু ঘরে গিয়ে টেলিফোনটা তুললেন, পাড়ার সেক্রেটারি কে ফোন করলেন।

– হ্যাঁ আকাশ? এই, পাড়ায় কি তোমরা কোনো প্রোগ্রাম বা নাটক করছ যেখানে কোনো বাচ্চা মেয়েকে লক্ষ্মী সাজতে হবে? হ্যাঁ...কি বললে?... ও এরকম কোনো নাটক হচ্ছে না?... আচ্ছা বিজয়ার অনুষ্ঠান এখন হচ্ছে না? পরে হবে? আচ্ছা, ঠিক আছে। না না এমনি... রাখলাম। 

বিলাশবাবু একটু অবাক হলেন, মেয়েটা কে তাহলে?! তাড়াতাড়ি বাইরের ঘরে এসে দেখেন মেয়েটা আর নেই! চারিদিকে খুঁজলেন, ঘরের ভিতরে, বাইরে। নাহ্, কোথাও নেই। চলে গেল নাকি? হ্যাঁ দরজাটা যদিও খোলা। সদর দরজাটা আটকাতে গিয়ে দেখেন এক অদ্ভুত ব্যাপার...ছোট ছোট পায়ের  আলতার ছাপ দরজাটার সামনে! একটু ঝুঁকে দেখলেন বিলাশবাবু; নিশ্চয়ই ওই বাচ্চা মেয়েটার পা থেকে এসেছে। যাই হোক, দরজা আটকে ঘরে ফিরলেন। রাতের বেলা রান্নাঘরে যেতেই টের পেলেন আগামীকাল লক্ষ্মীপুজোর জন্যে তিনি এক কৌটো নাড়ু নিয়ে এসেছিলেন; সেটা নেই! তন্নতন্ন করে সারা বাড়িতে খুঁজেও পেলেন না... কিন্তু তার স্পষ্ট মনে আছে তিনি ওটা রান্নাঘরের ই এক কোণায় রেখেছিলেন। 

পরেরদিন সকালে তিনতলার  ভাড়াটেরা এল ওনার ঘরে; লক্ষ্মীপুজোর নেমতন্ন করতে! বিলাশবাবু খুব অবাক হলেন, এই সেই ভাড়াটে যে রাত করে ফিরেছিল বলে তালা খোলেননি তিনি। তারা ওনাকে নেমতন্ন করতে এসেছে? ওরা সারারাত বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল! তিনি ফিরেও তাকাননি...চোখে জল আসল বিলাশবাবুর হঠাৎ...তাহলে কি কাল মা লক্ষ্মী স্বয়ং তার বাড়িতে এসে নাড়ু নিয়ে গেলেন...? মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন, এরপর থেকে আর কোনোদিনও এরকম আচরণ করবেন না কারোর সাথে; নিজেকে শুধরাবেন! সেদিনের পর থেকে বিলাশবাবু নিজে হাতে প্রতিবছর লক্ষ্মীপুজো করেন! ||


লেখায় : শরণ্যা

ছবি : সংগৃহীত 

© পুনর্জন্ম - Punarjanma

বই পড়ার সুন্দর দুটা পদ্ধতি আছে,,,,,,,,,

 বই পড়ার সুন্দর দুটা পদ্ধতি আছে।  প্রথমটি হল সাথে একটা নোট খাতা রাখা এবং দ্বিতীয়টি হল শুধু মাত্র রিডিং না পড়ে  প্রত্যেকটি লাইনে লাইনে লেখকের সাথে যুক্তি তর্ক করে যাবেন। 


প্রথম পদ্ধতিটা আমি শিখেছি লেখক আহমদ ছফা'র কাছ থেকে। ছাত্রাবস্থায় তিনি  অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে রোজ একটি করে বই নিয়ে পুরো বইএর সারমর্ম একটা নোট খাতায় নিজের মত করে লিখে রাখতেন। 


এই নোট করে রাখার প্র্যাকটিসটা হুমায়ূন আহমেদের ভেতরেও পেয়েছি যদিও তার  স্মৃতি শক্তি অনেক প্রখর ছিল।  জীবনের শেষের দিকে এসে  স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শৈশবের সাত বছর বয়সে লুকিয়ে প্রথম বই পড়ার কথা লিখতে গিয়ে তিনি সেই বইএর ভেতরের গল্পটাও লিখে ফেলেছেন ! 


বই পড়ার দ্বিতীয় পদ্ধতিটা আমি শিখেছি, ভারতীয় যুক্তিবাদী লেখক প্রবীর ঘোষের কাছ থেকে। তিনি একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, আপনি যদি লেখক যাই লিখেন কোন রকমের চিন্তা ভাবনা না করে সবই বিশ্বাস করতে শুরু করেন তাহলে তার দশটা সত্য কথার সাথে দু একটা মিথ্যা কথাকেও বিশ্বাস করতে শুরু করবেন। এই দুটা মিথ্যা কথা আপনার জীবনে অনেক ভয়ংকর হবে ! কেননা দশটা সত্য কথার সাথে একটা মিত্থা কথা মিশে গেলে সেটাকে আলাদা করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।  


খাতায় নোট করবার ব্যাপারে আমি বেশ কিপটে। খুব সামান্যই লিখে রাখি।  কিন্তু বিশ্বাস করুন, যখন আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি এই নোট খাতাটা খুলে পড়তে শুরু করি এবং যেখান থেকে আমি দৌড়ানোটা থামিয়েছিলাম সেখান থেকেই আবার দৌড়াতে শুরু করি।  


এ পি জে আবদুল কালামের ' টার্নিং পয়েন্টস' পুরো গ্রন্থটা পড়ে আমি শুধু মাত্র সেখান থেকে একটা লাইন আমার নোট খাতায় টুকে রেখেছি। আমি জানি যেদিন আমি মেঝেতে চিত হয়ে মাথার নিচে হাত দিয়ে কাত হয়ে শুয়ে থাকব সেদিন এই লাইনটাই আমাকে মায়ের মত পিঠ চাপড়ে ভরসা দেবে। লাইনটা হল-'' আমি পেশা হিসেবে গবেষণা এবং শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছি কেননা আমি পুনরাবৃত্তি ভালোবাসি'' 


কিছু কিছু শব্দ আছে নিঃশব্দের মত। আমার কাছে পুনরাবৃত্তি শব্দটাকে সেরকম মনে হয়েছে। আমরা বেশিরভাগ মানুষ সফল হইনা কেননা আমরা পুনরাবৃত্তি পছন্দ করি না। একটা কাজে বাঁধা পেলে সেটা বার বার পুনরাবৃত্তি করার ধৈর্যটা আমাদের থাকে না। 


আইরিশ লেখক জর্জ বার্নার্ডশ তার একটা নাটকের সংলাপে লিখেছেন '' আমি যেদিন থেকে বুঝেছি কোন একটা কাজ দশবার করার পর আমি একবার সফল হই সেদিন থেকে আমি প্রত্যেকটি কাজ দশবার করে করা শুরু করেছি'' 


একটা জিনিস ' জানা' এবং একটা জিনিস ' পারা'র ভেতরে পার্থক্য কিন্তু অনেক। মনে করুন আপনি ড্রাইভিং শেখার জন্য আমার কাছে এসেছেন এবং আমি আপনাকে একটা গাড়ি দেখিয়ে বললাম - এটা হল গাড়ির স্কেলেটর, এখানে চাপ দিলেই গাড়ি চলতে শুরু করবে এবং এই যে ব্রেকে চাপ দিলেই গাড়ি থেমে যাবে। এই যে এখানে চাপ দিলেই হর্ন বাজবে, আর সামনের এটা ডানে ঘুরালে ডানে আর বামে ঘুরালে গাড়ি বা দিকে যাবে। 


আপনি সব কিছু জেনেও কেন গাড়িটা চালাতে পারছেন না জানেন ? পার্থক্যটা হল প্র্যাকটিস ! আপনাকে এই প্র্যাকটিসটা শুরু করতে হবে। 

  

যখন পিপাসা থাকে না তখন একটা পানির বোতলে চোখ গেলে আমরা শুধু বোতলটাই দেখি আর যখন পিপাসা থাকে তখন দেখি বোতলে পানি আছে কিনা !  যখন আলো থাকে তখন মোমটা ড্রয়ারের তলায় অবহেলায় পড়ে থাকে  কিন্তু যখন অন্ধকার হয় - সে যত আড়ালেই থাকুক না কেন সবাই তাকে খুঁজে বের করবেই।  আপনাকে সেই সময়টার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। উঁচু পাহাড়ে উঠার নিয়মটা খুব সহজ- সেটা হল ভুলেও নিচের দিকে তাকানো যাবে না।


©Zunayed evan

সকাল ৭টার সংবাদ তারিখ ১০-০১-২০২৫ খ্রি:।

 সকাল ৭টার সংবাদ

তারিখ ১০-০১-২০২৫ খ্রি:।


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাপক মতৈক্যের ভিত্তিতে জুলাই ঘোষণাপত্র তৈরি করা হবে - উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত। 


বাংলাদেশে শিল্প কারখানা স্থানান্তর, আরও বেশি বিনিয়োগ ও এদেশের যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে তুরস্কের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান।


কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সহযোগিতা করা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়াই লক্ষ্য - বললেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।


আসন্ন পবিত্র রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে - আশাবাদ বাণিজ্য উপদেষ্টার।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্রসফায়ারে হত্যা ও গুমের অভিযোগ দায়ের বিএনপির - দলের ২ হাজার ২৭৬ জনকে হত্যা ও ১৫৩ নেতাকর্মীকে গুমের দাবি।


যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ৫ জন নিহত।


সিলেটে বিপিএল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রংপুর রাইডার্স ও চিটাগং কিংস নিজ নিজ খেলায় জয়ী - আজ মুখোমুখি হবে দুর্বার রাজশাহী – খুলনা টাইগার্সের এবং সিলেট স্ট্রাইকার্স – ঢাকা ক্যাপিটালসের।

এ টি এম ভাইয়ের গল্প শুনিয়েছিলাম। সে গল্পে এক শ্রেনীর মানুষের অসভ্যতা উঠে এসেছিলো। এবারের লেখায় শোনাতে চাই অতি খ্যাতনামা শাহরুখ খানের গল্প, আর এক দেশেও একইরকমের মানুষ রয়েছে- সে গল্প।

 এ টি এম ভাইয়ের গল্প শুনিয়েছিলাম। সে গল্পে এক শ্রেনীর মানুষের অসভ্যতা উঠে এসেছিলো। এবারের লেখায় শোনাতে চাই অতি খ্যাতনামা শাহরুখ খানের গল্প, আর এক দেশেও একইরকমের মানুষ রয়েছে- সে গল্প।


বহু আগে শাহরুখ খান যখন নির্ভরযোগ্য তারকা হয়ে উঠেছেন, সেই সময়টায় একটা সাক্ষাৎকারের ঘটনা। সংবাদিকেরা এ প্রশ্ন সে প্রশ্নে তারকাকে খুবই ব্যস্ত রেখেছে। তারকা জানেন আরও বিখ্যাত হতে হলে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে, ধৈর্য হারালে চলবেনা আর হেসে হেসেই সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যেতে হবে। 


এক সাংবাদিক প্রশ্ন করে বসলেন, আপনি এখন বিখ্যাত তারকা, আপনার স্ত্রীকে দেখা যায় মিনি স্কার্ট পরে ঘোরাফেরা করেন- এটা কি ঠিক হচ্ছে বলে মনে করেন? সভ্যতা ভব্যতাহীন প্রশ্নে সামান্য বিরক্ত, বিব্রত হতে দেখা গেলোনা অত্যন্ত বুদ্ধিমান এ অভিনেতাকে। যেমন হেসে হেসে উত্তর করছিলেন, তেমন হেসেই বলেন, আমার স্ত্রী গৌরীকে ছোটবেলা থেকেই চিনি বলে কখন কি পোষাকে তাঁকে আপত্তিকর ঠেকছে খেয়াল করা হয়নি, দুঃখিত। 


একটু থেমে হাসিটায় অপরাধ হয়েছে এমন ভঙ্গী যোগ করে বলেন- কথা দিচ্ছি, আজকেই বাড়িতে ফিরে তাঁকে সাবধান করে দেবো। গিয়ে বলবো- দেখো, তোমার খোলা পা আমি মন দিয়ে কখনও দেখা দরকার বলে মনে করিনি কিন্তু অন্য লোকেরা মন দিয়ে দেখে, সে দেখায় তাদের বড্ড অসুবিধা হয়। তাদের ভালো থাকার জন্য তোমার খোলা পা ঢেকেঢুকে চলা উচিত।


দেখা বিষয়টা কি? চোখ আছে, দেখতে পাই- দেখি। সোজা বিচারে এটাকেই দেখা বলে। দেখা নিয়ে আমরা বিশেষ করে ভাবিইনা। অন্ধমানুষ চোখে না দেখতে পারুক, অনুভব করতে পারে। তার মানে অনুভবও দেখা। সে অনুভব মনে পয়দা হয়। চোখ দেখে, শুধুই দেখে। বাকি যা করার করে মন। একজন ভাবলো, আল্লাহকে তো চোখে দেখিনা। মন তখন বলে, তিনি আছেন। ব্যাস আছে, নেইয়ের সমস্যা মিটে যায়।


চোখ আর মনের দেখার ধরণ, অভ্যাস যেমনই থাকুক- ইচ্ছা করলে বদলানো যায়। আগের লেখায় বলেছিলাম আর্ট কলেজে এসে ছেলে মেয়েদের হাত ধরাধরি করে চলতে দেখে সেদিনের গ্রাম্য মনে কেমন প্রতিক্রিয়া হয়েছিলো, জানাবো।


প্রথমে মনে হয়েছিলো এসেছি গ্রাম থেকে, যা দেখছি তা বোধহয় শহরের রীতি। কয়েকদিন গেলো। ভর্তি হয়ে গেছি। একটু একটু করে বুঝতে পারি, এখানে বাইরের জগৎ ও ভাবনা নিয়ে ঢুকেছি। ঢুকেছি যে জ্ঞান আমার নেই, তা অর্জনের আশায়। সে জ্ঞান পেতে হলে নিজেকে তৈরি করে নেয়া লাগবে। 


প্রথম পাওয়া শিক্ষা হলো যেমন আছো, তেমনই থাকো- শুধু দেখার চোখ আর মনটাকে আরও বেশি দেখার উপযুক্ত করে তোলা দরকার। 

সহজভাবে শেখানো হয়, মন আর চোখ দুটোই তোমার- তুমি তাদের অধীন হতে পারো অথবা তাদেরকে তোমার অধীন করে নিতে পারো। 


উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হলো- ঐ সামনের গাছটার পাতার রং কি, জিজ্ঞাসা করলে সবাই দেখে বলবে সবুজ। শিল্পীকে সেই সবুজ রঙের মধ্যে আরও অনেক রঙ লুকানো থাকে তা দেখা, বোঝা, অনুভব করার চেষ্টা করতে হবে- সেটাই মন আর চোখ দিয়ে নতুন করে দেখা, দেখার চেষ্টা। 


অন্য সকলে যে গাছটাকে বটগাছ বা নিমগাছ গাছ দেখবে, শিল্পী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যারা এসেছে তারা দেখবে আরও মনোযোগী হয়ে। দেখবে- গাছের গড়ন, শাখা প্রশাখার আকৃতি, পাতার ধরন। কিভাবে একটা গাছ মাটির উপর দাঁড়িয়ে থাকে ইত্যাদি।


জানা হলো, মানুষের হাত ছবি আঁকে কিন্তু হাত একা আঁকেনা- চোখ আর মন হাতকে দিয়ে আঁকায়। চোখ মন হাত- সবকিছুকে শিল্পীর করে তোলার জন্য বিশেষ যে প্রক্রিয়া, চেষ্টা- সেটাই আর্ট কলেজের শিক্ষা।


শিল্পী হতে চাওয়ার প্রথম ধাপেই নিজের সাথে একটা বোঝাপড়া হয়ে যায়- জগতে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখার, মন দিয়ে বোঝার, ভাববার জন্য অগণিত বিষয় রয়েছে। সব ছেড়ে ছুঁড়ে এই বিদ্যাপীঠে ছেলেরা মেয়েরা পাশাপাশি কেনো বসে থাকে, হাত ধরাধরি করে কেনো চলে ফেরে- এই ভাবনাকে মনে লটর পটর করতে জায়গা দিলে নিজের বৃদ্ধি হওয়ার সুযোগ গোল্লায় চলে যাবে।


শাহরুখ খানকে তাঁর স্ত্রীর পা নিয়ে যে মানুষটা প্রশ্ন করেছিলো, সে কোনোদিনও ভেবে দেখবেনা, জগতে দেখার, মুগ্ধ হবার বা অপছন্দ করার মতো লক্ষ কোটি বিষয় আছে। সব ফেলে পা দেখা মানুষটা সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পা ই দেখবে এবং দেখে ভাববে, পরস্ত্রীর পা ই জগতের সকল সর্বনাশের মূল কারণ।

গ্রীষ্মকালীন_লাউ_চাষের_A_to_Z

 #গ্রীষ্মকালীন_লাউ_চাষের_A_to_Z  গ্রীষ্মকালেও লাউ চাষ করে ভালো ফলন ও লাভ পাওয়া সম্ভব। তবে এজন্য দরকার উপযুক্ত জাত, সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ, মাচ...