এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫

ফেরার দরজা বন্ধ,,,,,,, ভুতের গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ⛔ ফেরার দরজা বন্ধ ⛔

(✍️বছর: ২০০২ | লোকেশন: সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানার একটি দূরবর্তী গ্রাম — খরিয়াডাঙা✍️)


আমি, রাকিব, তখন মাত্র ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়েছি। বড় শহরে প্রথমবার আসা, নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধু — সবকিছুই যেন এক নতুন পৃথিবী। তবে আমার মধ্যে এক অদ্ভুত অভ্যাস ছিল — পুরোনো বাড়ি, পরিত্যক্ত জায়গা কিংবা গ্রাম্য রহস্যে পা না বাড়িয়ে থাকতে পারতাম না। এটা ছোটবেলা থেকেই।


সেবার শীতের ছুটিতে বন্ধু ফয়সাল তার গ্রামের বাড়ি নিয়ে যেতে বলল। সে বলল,

"রাকিব, আমাদের গ্রামে একটা পুরনো বাড়ি আছে — কেউ যায় না। ১৯৮৫ সালে একটা পুরো পরিবার একরাতে নিখোঁজ হয়েছিল। কেউ বুঝতেই পারেনি কী ঘটেছিল। তারপর থেকে ওই বাড়িতে কে যেন রাতে হাঁটে, দরজা খোলে, অথচ সেখানে কেউ থাকে না। গ্রামের লোকজন বলে ওটা নাকি 'ফেরার দরজা বন্ধ' বাড়ি… যেই ঢোকে, আর ফেরে না।"


আমার আগ্রহ জেগে উঠল।

"চল! একবার দেখে আসি!"


গ্রামে পৌঁছে আমি সত্যিই অবাক। শান্ত, নিস্তব্ধ এক জায়গা। অথচ একটা অদৃশ্য চাপ যেন মাথার ওপর চেপে বসে আছে। সেই বাড়িটা গ্রামের এক কোণায় — কাঁটা ঝোপে ঢাকা, লোহার ফটক অর্ধেকটা খোলা, জানালাগুলো সব ভাঙা। আমরা চারজন — আমি, ফয়সাল, রাজু, আর মনির — ঠিক করলাম রাতে ওই বাড়িতে ঢুকব।


আমরা বাড়ির ভেতর ঢুকলাম। বাতাস থমথমে, দেয়ালের ফাটল দিয়ে ঘূর্ণি বাতাস ঢুকছে। হঠাৎ ফয়সাল বলল,

"দ্যাখো, পেছনের দরজাটা খোলা ছিল না তো!"

আমরা দেখলাম, পেছনের দরজা খোলা, অথচ আমরা এসেছিলাম সামনের ফটক দিয়ে। কে খুলল?


আমরা মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে ঘুরতে লাগলাম। বাড়ির ভেতরে পুরনো খাট, চৌকি, আয়না — সবকিছুই যেন সময়ের ফ্রেমে আটকে আছে। হঠাৎ একটা দরজা পেলাম — খুব পুরনো কাঠের তৈরি, কিন্তু স্পষ্টভাবে তাজা রক্তের ছিটে লেগে আছে! দরজার ওপরে লেখা:

“ফেরার দরজা বন্ধ”

তার নিচে লাল কালিতে আঁকা কিছু লেখা — অদ্ভুত ভাষায়, যেন আরবি, উর্দু আর সংস্কৃতের মিশ্রণ।


রাজু দরজাটা ছুঁইল। সাথে সাথে একটা ঠান্ডা শ্বাস যেন ঘাড় বেয়ে শরীরে ঢুকে গেল।


আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, এবার বেরিয়ে যাব। কিন্তু বাইরে গিয়ে দেখি — মনির নেই! সে একসাথেই ছিল!

ডাকাডাকি করে, আলো জ্বালিয়ে খুঁজলাম। কোথাও নেই। আবার ভেতরে ফিরলাম — দরজাটা এবার বন্ধ। “ফেরার দরজা”। তবে এবার নিচে লেখা আছে:

“একজন গেছে, আর তিনজন বাকি”


আমার বুক কেঁপে উঠল। আমরা জোরে দরজা ধাক্কালাম — কিছুতেই খুলছে না। জানালায় তাকিয়ে দেখি, বাইরে আর আলো নেই। মোবাইলে নেটওয়ার্ক নেই। একটা আওয়াজ কানে এল — ঘরজুড়ে কেউ যেন ফিসফিস করে নাম নিচ্ছে,

“রাকিব… ফয়সাল… রাজু…”


রাজু আচমকা মাটিতে বসে পড়ল। ফিসফিস করে বলছে,

"আমার আম্মু এখানে… ও বলছে আমি ছোট ছিলাম যখন… আমায় রেখে গিয়েছিল এই দরজার পেছনে… আমায় ওরা ডাকে রোজ…"


তার চোখ কোটরের বাইরে, শরীর কাঁপছে। সে দাঁড়াল, এবং সেই রক্তমাখা দরজার দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। আমরা বাধা দিলাম। কিন্তু সে চিৎকার করে বলল,

"ওরা বলেছে, দরজাটা খুললে আম্মুর মুখ আবার দেখতে পারব!"


একটানে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে গেল — ঘন অন্ধকার, ঝড়ের মতো বাতাস বেরিয়ে এলো। আমরা দেখতে পেলাম না ভেতরে কী ছিল, কিন্তু রাজুর চিৎকার —

"এই না, এই তো আমার আম্মু… না না!! এটা কেউ না!! ছেড়ে দাও!!"

— তারপর এক মুহূর্তে চুপ।


দরজা আবার বন্ধ। এবার লেখাঃ

“আর দুজন বাকি”


আমি ও ফয়সাল কোনোমতে দরজার উল্টোদিকে পালালাম। তখন ফয়সাল জানাল,

"আমার নানা এক সময় তান্ত্রিক ছিল… এই বাড়িটা তারা বানিয়েছিল এক নিষিদ্ধ সাধনার জন্য। এক সত্তা, যাকে 'মারফত' বলা হত, তার সাথে যোগাযোগ করত। ওই সত্তার নিয়ম — যে একবার তার ডাকে সাড়া দেয়, তার ফেরার দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।"


আমি বললাম,

"তাহলে তুই আমাদের এনে মরতে দিলি?"


সে ফুঁপিয়ে উঠল,

"ওরা আমার বাবাকে নিয়ে গেছে… আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তিনজনকে এনে দিলেই বাবাকে ফেরত পাবে। আমি ভাবিনি ওরা সত্যি আসবে!"


আমি চিৎকার করে উঠলাম,

"তুই আমাদের বিক্রি করছিস!"


আমি দৌড়ে পালাতে চাইলাম, কিন্তু দরজাগুলো যেন হারিয়ে গেল। প্রতিটা রুম শুধু ঘুরে ফিরে একই রুমে এসে থামে। ফয়সাল পেছনে পড়ে গেল। তখন দরজার গায়ে আবার লেখা:

“একজন বাকি”


শেষে আমি একটা কুলুঙ্গির মধ্যে লুকালাম। কান পেতে শুনতে পাচ্ছি — খুব ধীরে ধীরে আমার নাম বলা হচ্ছে…

"রা…কি…ব…"

একটা শীতল আঙুল ঘাড়ে ছুঁয়ে দিল।


"ভাই, আমি তো ওই বাড়ির পাশে থাকি। কাল রাত ১০টার পর তিনটা ছেলে ঢুকছিলাম দেখি। সকালে দেখলাম একটাই ছেলে পড়ে আছে বাড়ির উঠানে — চোখ মুখ হাঁ করে আছে, কথা বলতে পারছে না, শুধু তাকিয়ে আছে। আর মুখ দিয়ে খালি একটা কথাই বারবার বলছে…

‘দরজা… ফেরার… বন্ধ…’"


আমি এখন মানসিক হাসপাতালে আছি। ডাক্তার বলে এই ট্রমা কেটে যাবে। কিন্তু ওরা জানে না, আমি ঘুমাতে পারি না, কারণ ঘুমালেই সেই দরজা দেখি —

‘ফেরার দরজা’


রাকিব যদি মানসিক হাসপাতালে থাকে, তাহলে সে কীভাবে এত বিস্তারিতভাবে পুরো ঘটনা লিখল?


এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে রাকিবের চিকিৎসকের হাতে লেখা একটি চিঠিতে, যা অনেকদিন পর তার মেডিকেল ফাইল থেকে উদ্ধার করা হয়:


চিঠির একাংশ (ডাঃ সায়েমা হক, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, সাতক্ষীরা জেলা হাসপাতাল):


> রোগীর নাম: রাকিব হোসেন

ভর্তি: ২০০২ সালের ১৭ জানুয়ারি

বয়স: ২২


রাকিব যখন প্রথম হাসপাতালে আসে, সে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ ছিল। তার চোখে ছিল গভীর আতঙ্ক, যেন কোন কিছুকে প্রতিনিয়ত দেখছে যা অন্যেরা দেখতে পায় না। সে কেবল ফিসফিস করে বলত:


“ফেরার দরজা বন্ধ… ফয়সাল, রাজু, মনির…”


তীব্র ট্রমার কারণে আমরা তাকে হাই-ডোজ সেডেটিভে রাখি। তবে অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে—চিকিৎসার দ্বিতীয় সপ্তাহে সে একরাতে হঠাৎ জেগে উঠে, হাসপাতালের পুরনো টাইপরাইটার নিয়ে প্রায় ২০ পাতার একটি কাহিনী টাইপ করে। পরদিন সকালে সে আবার নিশ্চুপ হয়ে যায়, এবং সেই অবস্থা আজ অবধি চলমান।


অবাক করার বিষয়: আমরা বহুবার পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছি — রাকিব টাইপ করা সেই গল্পের কোথাও ভুল বানান, অসংলগ্নতা বা ঘাটতি রাখেনি।


অথচ সে তখনও ওষুধের প্রভাবে বাস্তব চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল।


প্রশ্ন রয়ে যায়—এই গল্প কে লিখল? রাকিব, নাকি কেউ তার ভিতর দিয়ে লিখিয়ে নিলো?


তার কক্ষে একদিন আমার সহকারী একটি শব্দ শুনেছে—“শেষজনও আসছে…”


আমরা সেই টাইপ করা পাতাগুলো সিল করে রেখেছি। কারণ আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস—এই কাহিনির মধ্যে এমন কিছু আছে, যা আমাদের জগৎ নয়।


বিশেষ দ্রষ্টব্য:-  গল্পে ভুল ত্রুটি হতেই পারে অবশ্যই আপনি আপনার মতামত জানাবেন গল্পটি কেমন হয়েছে...

আদৌও কি সম্ভব?? 

 আদৌও কি সম্ভব?? 



আমার মনে হয় নিজেদের ধারনার বাইরে নির্মাণশৈলী দেখেই এমন মন্তব্য করতেন তখনকার লোকজন!! 


মুঘল সাম্রাজ্যের সময়ে আমাদের দেশে মসজিদ নির্মাণের কাজ করতেন বিদেশি বিভূঁইয়ে মিস্ত্রিরা।


উনারা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসতেন এবং নিজেদের সুনিপুণ নির্মাণকাজ করে লোকজনকে তাক লাগিয়ে দিতেন!!


আর সাধারণত একটা সময় নির্জন জায়গায় মসজিদের নির্মাণ কাজ হতো। লোকচক্ষুর আড়ালে পুরো নির্মাণকাজ শেষ করে আয়োজন করে উদ্বোধন হতো তখন লোকজন ভাবতো "আরে এখানে হুট করে মসজিদ তৈরি হয়ে গেল কি করে??হয়তো জ্বীনের সহায়তা নিয়েই বানানো হয়েছে! 


আবার এমনও হতে পারে মসজিদ নির্মাণ এর মতন মহৎ কাজটা যিনি নির্মাণ করাতেন উনিই চাইতেন না তার নির্মানের কথা কেউ জানুক।কারন এসব কাজ গোপনে করলে আল্লাহ খুশি হন!!


আবার একটা সময় অসাধারণ কাজ দেখা মাত্রই লোকজন সেটায় জ্বীনের সহায়তা নেয়া হয়েছে অথবা জ্বীন নির্মান করেছে বলেই ধরে নিতেন!!


মাটির ঘরে ঝুপড়ি ঘরে থাকা লোকজনের তখনকার দিনে মসজিদের মতন বিশাল স্থাপনা দেখে এমন মন্তব্য করা একদম অস্বাভাবিক নয়!!


এইসব আমার ধারনা মাত্র।


জ্বীনের মসজিদ নির্মাণ করার কথা বোধহয় বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থেই রয়েছে।বিশেষ করে আল কুরআনে মাসজিদুল আকসা নির্মাণকারী হিসেবে জ্বীন অন্যতম ছিলো বলেই আয়াত আছে!!


আচ্ছা মসজিদ নির্মাণ নিয়ে একটি অদ্ভুত অসাধারণ একটি ঘটনা বলে শেষ করছি!!


পুরো গ্রামে উনারে একনামে চিনেন সবাই।আশেপাশে দশগ্রামে একমাত্র হাজি সাহেব উনি


হজ্ব থেকে ফেরার বহু বছর পরে উনি নিজ গ্রামে একটি মসজিদ নির্মাণ করার উদ্যোগ নিলেন


সবকিছু গুছিয়ে একদিন নির্মাণ কাজও শুরু করে দিলেন!


সেদিন রাত্রেই উনি স্বপ্ন দেখলেন কালো কাপড়ে আবৃত একজন লোক হাতে লাঠি নিয়ে উনায় শিয়রের কাছে দাড়িয়ে উনি দেখা মাত্র লাফিয়ে উঠলেন!!


কালো কাপড় আবৃত লোকটা এবার তাকে বললো " মতলব মিয়া তোমার তো সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল কিন্তু আল্লাহ পাক তোমার হায়াত বৃদ্ধি করলেন কারন তুমি আল্লাহর ঘর নির্মাণ এ আগ্রহী হয়েছো!


ঘুম ভেঙে গেল এই শীতেও ঘামে ভিজে গেছেন!


বুঝতে পারলেন এটা নিতান্ত স্বপ্ন।দ্বিধায় পড়ে গেলেন এটা শয়তান দেখালো কি না?


শয়তান মালাকুল মউত এর রুপে স্বপ্নে আসতে পারে কি না কাল ইমাম সাহেব এর কাছে জানতে হবে।স্বপ্নের ব্যখাও জানতে হবে...


পরের দিন হাজি সাহেব গোসলের সময় পরম বিস্মিত হয়ে খেয়াল করলেন তার বুকে একদম গোলাকার একটি কালো দাগ!!


গোসল না করেই দ্রুত স্বপ্নের তাবির করার জন্য বেড়িয়ে পড়লেন


ঈমাম সাহেব হাজি সাহেব এরচে বেশি অবাক হলেন ঘটনা শুনে এবং বললেন হতেই পারে স্বপ্নে তাকে আল্লাহ পাক উনার বিধানজারীই করেছেন!


স্বপ্ন সত্য!!


হাজি সাহেব বেরিয়ে গেলেন। সেদিন থেকেই শুরু করলেন তার মসজিদ তৈরীর মহা পরিকল্পনা!! 


এ বছরেই নির্মিত হওয়ার কথা থাকলেও হাজি সাহেব সেটা দীর্ঘ করার জন্য যা লাগে তাই করা শুরু করলেন


একবার ফাউন্ডেশন দিলেন দু তলার! 


এরপর সেটা বাতিল করে আবার জায়গা বদল করলেন আবার নির্মান শুরু করলেন।


একবার ঝকঝকে ফ্লোর তৈরি করলেন এরপর মোজাইক এরপর টাইলস! 


এই জানালার ডিজাইন পছন্দ হয়নি আবার নতুন ডিজাইন এর জানালা লাগালেন


মোটকথা মসজিদের নির্মাণ কাজ চলতেই থাকে সেই ব্যবস্থা নিলেন গোপনে!


মসজিদের নির্মাণ শেষ পর্যন্ত তিনি আটকে রাখলেন যেন বেশিদিন লাগে উনি বেশিদিন বাঁচবেন বলে!


কিন্তু অদ্ভুত কান্ড হলো মসজিদের শুরুই হলো হাজি সাহেব এর জানাযার মাধ্যমে! 


ঠিক একবছর পরেই উনি ইন্তেকাল করেছেন!


আল্লাহর সাথে কৌশলে পারলেন না!!


(উক্ত ঘটনাটি হুমায়ূন আহমেদ এর উপন্যাস থেকে নেয়া)


ছবিটা প্রতীকী মাত্র

সকাল ৭টার সংবাদ  তারিখ : ২৫-০৪-২০২৫ খ্রি:

 সকাল ৭টার সংবাদ 

তারিখ : ২৫-০৪-২০২৫ খ্রি:


আজকের সংবাদ শিরোনাম:


তরুণদের বড় স্বপ্ন দেখার ও নিজেদের জীবনে ‘তিন-শূন্য’ তত্ত্ব কাজে লাগানোর আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা।


কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎ - বাংলাদেশের পুনর্গঠনে সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস।


দেশে ফিরলে বিমানবন্দরে ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হবে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের - কাতারে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে বৈঠকে বললেন প্রধান উপদেষ্টা।


ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে বাংলাদেশ - অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে আজ রোম যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা।


কর্মসংস্থান, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা আধুনিকায়নে ৮৫ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক - ওয়াশিংটনে দুটি চুক্তি স্বাক্ষর।


সবার মত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় সনদ তৈরি করা হবে, যার মধ্য দিয়ে নির্মিত হবে আগামীর বাংলাদেশের পথরেখা - বললেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি।


কাশ্মিরে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে ভারতীয়দের ভিসা বাতিল করলো পাকিস্তান।


আজ জাকার্তায় এশিয়ান হকি ফেডারেশন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ওমানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

বেলুন,,,, ভুতের গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ⛔বেলুন⛔

(✍️ বাস্তবমুখী এই গল্পটি পাঠিয়েছেন: পারভেজ আল মুমিন ✍️)


সকালটা অন্যসব দিনের মতোই ছিল—নির্লিপ্ত, স্বাভাবিক। স্নিগ্ধা স্কুলে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো ঘুম জড়ানো চোখে বেলুন চাইলো।

“ওই বেলুনওয়ালা আবার এসেছে মা!”

তার ছোট্ট আঙুলে ইশারা করা লাল বেলুনটি ছিল চোখ-মুখ আঁকা, অদ্ভুত এক হাসি লেগে থাকা মুখ। মা একটু বিরক্ত হয়েছিলেন, কারণ এই নিয়ে তৃতীয়বার একই বেলুন কিনতে চাইলো স্নিগ্ধা।

“এই বেলুনটা শেষবার কিনবো, তারপর আর না,” বলেই মা শেষ পর্যন্ত বেলুনটা কিনে দিলেন।

স্নিগ্ধা সেই বেলুনটা নিয়ে এতটাই খুশি হয়েছিল যে, তার মুখে তখনো যেন ছোট ছোট রঙিন হাসি ফুটছিল।


কিন্তু বিকেল হতেই সব উল্টে গেল। স্নিগ্ধা হঠাৎ নিথর হয়ে পড়েছিল। তার চোখ খোলা, অথচ তাতে প্রাণ নেই। মুখে এক ধরনের ফ্যাকাসে শান্তি, কিন্তু তা ছিল ভয়ংকর।

ডাক্তাররা বলেছিল “হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে গেছে। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট।”

তবে কি আট বছরের ছোট্ট মেয়েটার এমন হতে পারে?


মা শুধু স্নিগ্ধার জামাটা আঁকড়ে ধরেছিল। সেই জামা যার বোতাম সে প্রতিদিন সকালে নিজ হাতে লাগিয়ে দিত। জামাটার গন্ধে এখনো যেন স্নিগ্ধার শরীরের গরম শ্বাস মিশে আছে।

বাবা কিছু বলতে পারছিল না, ঠোঁট শক্ত করে শুধু পাথরের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখে জল ছিল না, কিন্তু ভেতরের ছাইচাপা আগুনটা যেন নিঃশব্দে পুড়ছিল।


স্নিগ্ধার মুখে তখনো ছিল সেই বেলুনের প্রতিচ্ছবি। বেলুনটা বিছানার এক পাশে চুপসে পড়ে ছিল। কেউ খেয়াল করেনি—এই চুপসে যাওয়া হাওয়াটাই যেন স্নিগ্ধার নিঃশেষ হওয়া প্রাণ।


কয়েকদিন পর, এক সন্ধ্যায় স্নিগ্ধার বাবা বারান্দায় বসে থাকতে থাকতে নিচে চোখ পড়তেই দেখলেন—একজন বেলুনওয়ালা ডাস্টবিন থেকে কি যেন তুললো।

তার কাঁধে ছিল রঙিন বেলুনে ভরা এক বান্ডিল। হঠাৎ কেন জানি স্নিগ্ধার বাবার বুকটা ধক করে উঠলো।

এই বেলুনওয়ালাকেই সেদিন স্কুলের গেটের সামনে দেখেছিলেন! এই লোকটাই তো… এই লোকটাই স্নিগ্ধাকে চোখ-মুখ আঁকা বেলুন বিক্রি করেছিল!


এদিকে স্নিগ্ধার মা বারান্দায় এসে প্রতিবেশীর বাচ্চাকে সেই একই রকম বেলুন নিয়ে খেলতে দেখলো। এক অজানা আতঙ্ক তার শরীর ভেদ করে গেল। বুকের ভেতরে যেন কিছু একটা ফুস করে উঠলো।

স্নিগ্ধার শেষ কথাগুলো আবার মনে পড়লো—

“মা, ওনার বেলুনটা না অন্যরকম… ওই বেলুনগুলো রেখে দিলে ভালো লাগে, যেন বেলুনটা আমাকে গল্প বলে।”

কিন্তু এখন তো স্নিগ্ধা নেই। এখন শুধু ওই বেলুনটা রয়ে গেছে, আর কিছু দুঃস্বপ্নের মতো স্মৃতি।


কিন্তু গল্পটা এখানেই শেষ নয়। বরং, এখান থেকে শুরু হয় এক ভয়ানক অধ্যায়।


বেলুনওয়ালার পরিবার বলতে কেউ নেই। সে একা থাকে পুরনো এক ভাঙা বাড়িতে শহরের প্রান্তে।

রাত ঘনিয়ে এলে সে সেই বাড়িতে ফিরে যায়। বেলুনের লাঠিগুলো এক কোণে রেখে সে ধীরে ধীরে আলমারির দরজা খোলে।

আলমারির ভেতরে নেই কোনো জামা-কাপড়, নেই কোনো তোরজোড়—

আছে শুধু এক গোপন সিঁড়ি, যা নেমে যায় ভূগর্ভস্থ এক ঘরে।


সেখানে একটি পুরোনো, পাথরের তৈরি মূর্তি, যার মুখ কুয়াশার মতো অস্পষ্ট, কিন্তু নিচের দিকের অংশে মানুষের মতো হাত তৈরি হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে।

বেলুনওয়ালা সেই মূর্তির সামনে বসে পড়ে, কাঁপা গলায় ডাকে,

“মা… মা… আজকেও একটা গেলো, মা… আরেকটা বাচ্চা… আরেকটা নিঃশ্বাস…।”

তারপর পকেট থেকে বের করে এক চুপসানো বেলুন, যেটা এক মৃত শিশুর খেলনার অংশ ছিল।


সে বেলুনটি মূর্তির পায়ের কাছে রাখতেই অদ্ভুতভাবে বেলুনটি নিজে নিজেই ফুলে ওঠে। মূর্তির আঙুলের একটি অংশ যেন এবার আরও একটু মানুষের আঙুলের মতো হয়ে ওঠে।

একটা চাপা গোঙানির মতো শব্দ হয়, যেন মূর্তিটি সন্তুষ্ট।


বেলুনওয়ালার কাজ এখানেই শেষ নয়।


সে জানে না কাকে সে “মা” বলে ডাকে। সে জানে না—এই পাথরের মূর্তি আসলে এক অপদেবী, যাকে কোনো কালো গ্রন্থে “বায়নাকী” নামে ডাকা হয়।

এই দেবী হাওয়া দিয়ে জন্ম নেয়, শিশুদের নিঃশ্বাস দিয়ে রূপান্তরিত হয়।

প্রতি দশটি শিশুর নিঃশ্বাসে তার একটি আঙুল মানব রূপ পায়, প্রতি একশ শিশুর প্রাণে তার মুখ সৃষ্টি হয়।


এই শহরে, এই দেশজুড়ে, প্রতিদিন কত শিশু হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায়—কেউ জানে না কেন।

হাসপাতাল, রিপোর্ট, ডাক্তারের ফাইল—সবই বলে “হৃদরোগ,” “শ্বাসকষ্ট,” “সাধারণ মৃত্যু।”


কিন্তু কেউ জানে না, এক বেলুনওয়ালা প্রতিদিন সেই মৃত শিশুদের নিঃশ্বাস ভরে বেলুন বিক্রি করে যাচ্ছে।

বাচ্চারা সেই বেলুন নিয়ে খেলে, হাসে, শুয়ে পড়ে বিছানায়, আর ঘুমিয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে—


বেলুন চুপসে যায়।

আর বাচ্চারা নিঃশব্দে চলে যায়।


পিছনে থেকে যায় শুধু একটা চুপসে যাওয়া বেলুন, আর এক ঘরের স্তব্ধতা।


বেলুনওয়ালা আবারও তৈরি। আগামীকাল আরও স্কুল, আরও খেলার মাঠ, আরও বাচ্চা।

আরও নিঃশ্বাস জমাতে হবে,

আরও শিশুদের হাওয়া নিতে হবে,

আরও বেলুন বিক্রি করতে হবে—

যতদিন না তার "মা" সম্পূর্ণ মানুষ হয়ে এই পৃথিবীতে পা রাখে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য... ভুতের গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 বিশেষ দ্রষ্টব্য...


আমরা সব গল্প শেয়ার করি না। আমাদের কাছে পাঠানো অসংখ্য গল্পের মধ্য থেকে যে গল্পগুলো সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যায়, ভাবনায় নাড়া দেয়—সেই গল্পগুলোই আমরা বেছে নিই এবং প্রকাশ করি। ✨✍️


এখন পর্যন্ত আপনাদের পাঠানো প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০-এর মতো মূল্যবান গল্প আমাদের সংগ্রহে রয়েছে। প্রতিটি গল্প আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু প্রতিটি গল্পকে সময় নিয়ে পড়া, বিশ্লেষণ করা এবং পুনরায় পর্যালোচনা করাটা সময়সাপেক্ষ বিষয়। ⏳


তাই, আপনাদের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ—

যে গল্পগুলো আপনি আমাদের পাঠাবেন, তা যেন একান্তই আমাদের জন্য মৌলিক ও এক্সক্লুসিভ হয়।

অর্থাৎ, সে গল্প অন্য কোথাও আগে প্রকাশিত, শেয়ারকৃত বা গ্রুপে পোস্ট করা যেন না হয়। ❌📤


আমরা যদি দেখি গল্পটি সত্যিই অনন্য, পাঠযোগ্য এবং মানসম্পন্ন, তাহলে আপনার নাম ও প্রাসঙ্গিক পরিচয় উল্লেখ করে তা আমাদের মাধ্যমে প্রকাশিত হবে—সসম্মানে, সৃষ্টিশীলতাকে উৎসাহ জানিয়ে। 🖋️📚


অনেক সময় অনেক লেখকের পক্ষ থেকে আমাদের অনুরোধ আসে—তাদের গল্প যেন কোনোভাবেই এডিট বা পরিবর্তন না করা হয়।

আমরা সেই চাওয়া’র প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, নিরুপায়ভাবে লেখকের ভাষা ও প্রকাশ ঠিক রেখেই গল্পটি প্রকাশ করি। ✍️


ফলে, গল্পে যদি কোথাও বানান বা ভাষাগত কিছু ত্রুটি থেকে যায়, তাহলে পাঠক হিসেবে আপনারা তা অবশ্যই সৌজন্যমূলক ও ক্ষমাশীল দৃষ্টিতে দেখবেন—

কারণ, গল্পটির মূল ভাব ও লেখকের আত্মা যেন অটুট থাকে, সেটাই আমাদের অগ্রাধিকার।


আমাদের বিশ্বাস, প্রতিটি গল্পের পেছনে থাকে একটি হৃদয়। আর সেই হৃদয়ের স্পর্শ আমাদের নাড়া দেয় তখনই, যখন তা হয় একান্তই আপনার নিজস্ব।


ধন্যবাদ আপনাদের মূল্যবান সৃজনশীলতার জন্য। আমরা অপেক্ষায় আছি সেই অনন্য গল্পের, যা হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।


শুভকামনা রইল লেখনীতে—চলুক গল্পের জাদু...

✍️❤️✨

ভাসমান কবর,, ভুতের গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ⛔ ভাসমান কবর ⛔


২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আমাদের পেজের ইনবক্সে আসে একটি ইমেইল। সেন্ডারের নাম ছিল না, ইমেইল অ্যাড্রেসটাও ছিল এমন—shadow.of.ocean1781@… সাথে ছিল কিছু পুরনো স্ক্যান কপি—একটা ডায়েরি, কয়েকটা অস্পষ্ট নোট, আর একটি লিঙ্ক—যেটি নিয়ে যেত এক ডার্ক ওয়েব পেজে আপলোড করা ভয়ানক ফুটেজে।


প্রথমে আমরা এটিকে বানানো কনটেন্ট ভেবেছিলাম। কিন্তু যখন আমরা সেই তথ্য অনুসরণ করে কক্সবাজারের স্থানীয় দুজন ভিডিও ক্রিয়েটরের সাথে কথা বলি, তখন তারা বললেন— “হ্যাঁ ভাই, ওই পুরনো কাঠের জাহাজ সত্যিই ভেসে এসেছিল। আর একজন ছেলেও এসেছিল ইউটিউব ভিডিও করতে… কিন্তু পরে তার কোনো আপডেট পাইনি।” তার পেজ আজো চালু, কিন্তু কোনো নতুন ভিডিও নেই, লাস্ট পোস্ট ৯ মাস আগে।


এই সবকিছু যাচাই করে আমরা বুঝি—গল্পটা হয়তো গল্প না… বরং এমন কিছু, যা কেউ চায় না আপনারা জানুন।


বালুচরের উপর আধা পচা এক খুলি পড়ে আছে। পাশেই মাটি থেকে উঁকি দিচ্ছে দুটি হাতের হাড়। আশেপাশে আরও কয়েকটা খুলি, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। একটু দূরে, সাগরের ঢেউ ছুঁয়ে যাচ্ছে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজের অর্ধডোবা কাঠামো। বাতাসে ভেসে আসছে স্যাতসেতে গন্ধ, যেন মাটির নিচে এখনও কিছুর উপস্থিতি বেঁচে আছে।


২০২৩ সালের অক্টোবরে, কক্সবাজার সমুদ্রতীরে ঘূর্ণিঝড়ের পরে ভেসে আসা এই দৃশ্য দেখে প্রথমে সবাই ভেবেছিল হয়তো পুরনো কোনো জাহাজডুবির চিহ্ন। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন জাহাজের কাঠের ভাঙা অংশ থেকে একটি ধাতব বাক্স উদ্ধার করা হয়। বাক্সটা ছিল তালাবদ্ধ, আর তার গায়ে খোদাই করা ছিল: "La tombe flottante – 1781"—ফরাসি ভাষায় যার মানে “ভাসমান কবর”।


কেউ জানতো না, বাক্সটি খোলার পরই একটা অভিশপ্ত চক্র আবার শুরু হয়ে যাবে।


একজন তরুণ অভিযাত্রী, নাম রাহাত, এই ঘটনাগুলো প্রথম ফেসবুক লাইভে তুলে ধরতে গিয়ে নিজের চোখে দেখেছিল বাক্সের ভেতর থেকে গা-ছমছমে বাতাস বেরিয়ে আসতে। ভিডিওর শেষ লাইনে সে বলেছিল, “আব্বা… কেউ একজন এখানে হাঁটছে… কিন্তু কেউ নেই… কেউ নেই…”


তারপর সে নিখোঁজ।


তদন্তে উঠে আসে এক পুরনো নাবিকের ডায়েরি। তার নাম ছিল আজিম আলী। ১৭৮১ সালের মার্চ মাসে সে ছিল "এম্প্রেস অফ দ্য হ্যাভেন" নামের এক ব্রিটিশ বাণিজ্য জাহাজের নাবিক। জাহাজটি দক্ষিণ চীন সাগর পাড়ি দিয়ে আরব সাগর হয়ে বাংলা উপকূলে আসছিল। বহন করছিল অদ্ভুত কিছু পণ্য: তিব্বতের এক প্রাচীন কঙ্কাল, মরোক্কোর এক লোহার জলপাত্র, আর একটি ছোট লোহার বাক্স—যার ভিতরে কী ছিল, কেউ জানত না।


সপ্তাহখানেকের মধ্যে শুরু হয় অদ্ভুত ঘটনা। নাবিকরা রাতে স্বপ্নে দেখত সাগরের নিচ থেকে কেউ ডাকে। কেউ কানে ফিসফিস করে বলে, “তুমি যদি ফিরে যাও, তবু আমরা তোমাকে ছাড়বো না।”


জাহাজের মাঝখান দিয়ে উঠে আসত কুয়াশার মতো ধোঁয়া, যার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকত মানুষের মতো কিছু অবয়ব। তাদের চোখ ছিল না, কিন্তু তারা হাঁটত। সোজা রুমে ঢুকে দাঁড়িয়ে থাকত মাথার পাশে। কেউ ঘুমালে তাকে ডেকে বলত, “তোমার ঘুম দরকার নেই আর।”


এক এক করে সব নাবিক অদৃশ্য হতে লাগলো।


আজিম আলী তার ডায়েরিতে লিখেছিল—“আজ ক্যাপ্টেন রিড নিচে গিয়েছিল। ওর পায়ের নিচে যেন কাঠ নড়ে উঠলো। জাহাজ কাঁপলো হালকা করে, তারপর চিৎকার। কেউ বলল, 'এখানে আসো… নিচে সবাই আছে…' এরপর আর রিড উঠে আসেনি।”


ডায়েরির শেষ পৃষ্ঠায় লেখা ছিল— “যদি কেউ এই ডায়েরি পায়, দয়া করে ফিরে যাও। এই জাহাজ ভাসে না। এটা কবর। আর আমরা সবাই এখানে বন্দি।”


তারপর ডায়েরিটা থেমে যায়।


রাহাতের নিখোঁজ হওয়ার পর দিন পাঁচেক কেউ কিছু বলেনি। তারপর একদিন তার ফোনের লোকেশন আচমকা দেখা যায় সমুদ্রের অনেক ভিতরে, যেখানে জাহাজটি ডুবে ছিল বলে অনুমান করা হয়।


তদন্তকারী দল একবার ডুব দেয়। কিন্তু তাদের হেলমেট ক্যামেরায় দেখা যায়—জলের নিচে ভাসছে পুরো জাহাজটা। অক্ষত। জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে আছে ১৮-১৯ জন হাড়ের মতো দেখতে অবয়ব, তাদের চোখ নেই, কিন্তু তারা সবাই ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছে।


তারপর কেটে যায় সংযোগ।


জলের নিচে কেউ কথা বলেছিল সেই মুহূর্তে—"তোমরা ওদের ফেরত চাও… ওরা তো আমাদের হয়ে গেছে…"


তারপর আর কেউ ডুব দেয়নি।


কিন্তু সমুদ্র কখনও কিছু গিলে ফেলে না। সে শুধু সময় মতো ফেরত দেয়।


২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আবার এক ঝড়ে জাহাজের আরও অংশ ভেসে আসে কক্সবাজারে। এবার মানুষজন দেখতে পায় অদ্ভুত দাগ—বালির ওপর যেন কেউ হেঁটেছে, কিন্তু কোনো পা নেই। খুলি আর হাড়গুলো ছিল গরম, ছুঁয়ে দেখা যায়নি।


গল্পটা এখানেই থেমে যায় না।


রাহাত কোনো পেশাদার অভিযাত্রী ছিল না। ও ছিল একজন স্রেফ ইউটিউবার আর ফেসবুক লাইভার, “সিনিস্টার বাংলা” নামে তার পেজে নানা ভৌতিক কন্টেন্ট বানাতো। ২০২৩ সালের শেষ দিকে এক ঝড়ে কক্সবাজারে ভেসে আসা পুরনো কাঠের জাহাজের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে সে চরম কৌতূহলী হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সে নিজেই যায় স্পটটিতে।


প্রথম ভিডিওটা ছিল রাত ১১টার দিকে। সে বলছিল— “এই বাক্সটা আসলে কি? এত পুরনো, কিন্তু তালাটা এমনভাবে লাগানো যেন কেউ এর ভেতর থেকে কিছু বের হতে না চায়।” তার সাথের লোক বলেছিল— “ভাই, খুলবেন না… লোকজন বলতেছে আগেও নাকি এমন বাক্স ভেসে এসেছিল। তারপর এক গ্রাম উধাও হইছিল।”


রাহাত হেসে বলে— “ভাই ভাইরাল তো হতে হবে!”


আর সেদিনই সে একটা ভুল করে। সে সেই বাক্স খুলে ফেলে লাইভে। ক্যামেরায় দেখা যায় কালচে ধোঁয়ার মতো কিছু বের হচ্ছে। হঠাৎ লাইভ হ্যাং করে যায়।


২৪ ঘণ্টা পর, সেই পোস্টে একটা কমেন্ট আসে— “রাহাত এখন আর তোমাদের মাঝে নেই। সে এখন আমাদের।” কমেন্টটা ছিল ঠিক সেই পেজের মডারেটর আইডি থেকে, অথচ সে তখনই জানায় যে ওর আইডি হ্যাকড।


আজিম আলীর ডায়েরির অনুবাদ অংশ


২২ মার্চ, ১৭৮১

আজ রাত্রে জাহাজের ডেক কেঁপে উঠলো। এক সঙ্গী বলল, "কেউ যেন জলের নিচ থেকে তাকাচ্ছে আমাদের দিকে।" আমি লণ্ঠন নিয়ে নিচে যাই। কাঠের তলায় অদ্ভুত দাগ… যেন কারো পায়ের ছাপ, কিন্তু উল্টো দিকে—পায়ের আঙুল সামনে না, পেছনে।


২৩ মার্চ, ১৭৮১

একজন নাবিক আজ নিজেই ঝাঁপ দিলো। কিছু বলছিল না। শুধু হেঁটে গিয়ে লাফ দিয়ে পড়লো জলে। কেউ দেখেছিল তার কানে কেউ ফিসফিস করছিল।


২৫ মার্চ, ১৭৮১

জল থেকে উঠলো কিছু... পচা হাত, কিন্তু সে হাঁটতে পারে। ক্যাপ্টেন বলছিল—এই বাক্সটায় কিছু ছিল… যেটা ওরা ‘সমুদ্রের দাফন’ বলে।


শেষ এন্ট্রি: ২৯ মার্চ, ১৭৮১

আমাদের সবাইকে ওরা ডাকছে। ডেকে উঠলে দাঁড়িয়ে থাকে এক সারি মৃত চোখহীন অবয়ব। আমরা পলাতে পারি না। কেউ পেছনে দাঁড়িয়ে বলছে—"তোমরা ভেবেছিলে সমুদ্র গিলে ফেলে… না, সমুদ্র সংরক্ষণ করে… মৃত্যুকে চিরকাল ভাসিয়ে রাখে।"


শেষ পাওয়া ভিডিওর ট্রান্সক্রিপ্ট


রাহাত (ঘেমে গেছে, কণ্ঠ কাঁপছে): “এই বাক্স খুলেছি… একটা ঠান্ডা বাতাস লাগলো মুখে… কেউ হাঁটছে… হ্যাঁ, আমি শিওর কেউ হাঁটছে… অথচ কেউ নেই… ভাই, দরজা বন্ধ হয়ে গেল… কেউ দরজা… বন্ধ করছে…”


(ভিডিও ব্ল্যাকআউট হয়ে যায়। শব্দ শোনা যায়—জলের মতো ফিসফিসানি)


(✍️আমরা আর কোন তথ্য উদ্ধার করতে পারিনি যতটুকু উদ্ধার করেছি ততটুকুই লিখতে পেরেছি গুছিয়ে কেমন হয়েছে আশা করছি কমেন্ট করে আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের জানাবেন✍️)০

মাহার জবানবন্দি,,,,, ভুতের গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ⛔⛓️ মাহার জবানবন্দি⛓️⛔

(✍️একজন নার্সের বাস্তবিক জিন-আক্রান্ত জীবনের রক্তজমে যাওয়া সাক্ষ্য✍️)


আমি মাহা আক্তার। মুন্সীগঞ্জের মেয়ে, এখন ঢাকায় নার্সিং পড়ি। আমি চাই, আমার এই কথা গুলো তোমরা মন দিয়ে শোনো। কারণ এটা কেবল একটা গল্প না—এটা আমার নিঃশ্বাস, আমার আতঙ্ক, আমার জীবন।


সবকিছু শুরু হয় যখন আমি ক্লাস সেভেন-এইটের ছাত্রী। আমার বড়ো চাচি প্রায়ই কবিরাজ বাড়ি যেতেন। শরীর ঝাড়ফুঁক করাতেন। আম্মু আর আমি সেইসব দেখে হাসতাম, বলতাম, “এই আধুনিক যুগে কে আর জিন-ভূতে বিশ্বাস করে!” চাচি একদিন শুধু বলেছিলেন, “বুঝবি একদিন, জিন আছে কি নাই।”


বুঝেছিলাম। খুব তাড়াতাড়ি বুঝেছিলাম।


আমার আব্বু সিদ্ধান্ত নেন, আমরা মুন্সীগঞ্জ সদর চলে যাব, যেন পড়াশোনার পরিবেশ পাই। তিনতলার একটা ফ্ল্যাটে উঠলাম। তখন সব ঠিকই চলছিল। কিন্তু একদিন আমার ছোট ভাই সাহাদ অসুস্থ হয়ে পড়ে। কাকি দেখতে আসে। হুট করে সে নামাজ পড়ে পাশের রুমে, নামাজ শেষে অদ্ভুতভাবে শরীর ঝাঁকায়, তারপর চুপচাপ চলে যায়।


সেদিন সন্ধ্যায় আম্মু রুমের জানালা বন্ধ করতে যায়, যেই রুমে কাকি নামাজ পড়েছিল। জানালা বন্ধ করতেই চোখে পড়ে—তিনটা ছায়ামূর্তি রুমে ঢুকছে। পর মুহূর্তে আমি হঠাৎ দরজার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যাই। আমার শরীর কাপছে, মুখে আওয়াজ নেই, চোখ স্থির।


আমার মধ্যে তখন কিছু একটা ঢুকেছে।


পরদিন থেকে আমার শরীর নীল-কালো হতে থাকে। আমার চোখে এক ভয়াবহ চাহনি। বাচ্চারা আমার পাশে আসত না, বড়রাও ভয় পেত। ডাক্তার ওষুধ দেয়, ঘুমের, ডিপ্রেশনের, কিন্তু কিছুতেই কাজ হয় না। ঘরে ছায়া দেখি, রাত হলে পায়ের আওয়াজ, ফিসফাস, শীতল বাতাসের ঘ্রাণে ঘর জমে যায়।


এক রাতে আমি ঘুমাচ্ছি। হালকা ঘুমে বুঝি, কেউ আমার হাত ধরে আছে। চোখ মেলে দেখি—একটা মোটা, লোমে ঢাকা, দানব সদৃশ কালো ছায়া আমার পাশে বসে আছে। আমি চিৎকার করি, লাইট জ্বলে ওঠে। আম্মু এসে দেখে বুকসেল্ফের পেছনে কিছু একটা লুকিয়ে আছে। আমি বলি, “সেইটা দেখলাম!” কিন্তু কেউ বিশ্বাস করে না।


আমাকে এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জানান, আমার কাকি যখন ছোট ছিল, পুকুরে গোসল করতে গিয়ে এক অদৃশ্য সত্তার নজরে পড়ে। তখন থেকেই সেই জিন তার মধ্যে আছে। এখন সেটা আমার দিকে নজর দিয়েছে।


পরিবারের শত্রুরা আমাদের নিচে ১৪টা তাবিজ পুঁতে রেখেছে। সেইসব তাবিজ থেকেই জিনদের আনাগোনা। তারা রক্ত চায়, আত্মা চায়।


একদিন আম্মু সাহাদকে আনতে যায়, আমাকে রুমে লক করে দেয়, ছুরি, বটি, ধারালো কিছু লুকিয়ে রাখে। কিন্তু আমি তো পেন্সিল কাটার ব্লেড পেয়ে যাই। নিজের হাত কেটে ১০০টা দাগ দিই। মুখ কালো, চোখ বেরিয়ে আসে, আমি আর আমি নেই। আম্মু এসে দেখে, আমি একটা দানবের মতো রূপ নিয়েছি।


মামা এসে আমাকে নানুবাড়ি নিয়ে যায়। এরপর আরেক কবিরাজকে পাই। উনি বলেন, “তিনটা জিন তোমার সাথে যুক্ত, তাদের আলাদা করে বোতলে ভরে নদীতে ফেলে দিতে হবে।” ছাগল জবাই, মিলাদ, কালো তাবিজ—সব করানো হয়। ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকি। এরপর ঢাকায় চলে আসি নার্সিং পড়ার জন্য।


কিন্তু, এই যাত্রা শেষ হয়নি।


ঢাকায় হোস্টেলের ৪ তলায় উঠি। কেউ সেই তলায় থাকতে চায় না। রাতে ছাদ থেকে শব্দ আসে। কেউ বলে, আমরা নাকি নাচি। অথচ আমরা কিছুই শুনি না, শুধু ছাদের কড়কড় শব্দ, আর ঘন রাত্রিতে হঠাৎ কড়া গন্ধ।


একদিন রাত ২টার দিকে আমার এক বান্ধবীর গলায় কণ্ঠ শুনি—“মাহা, এইদিকে আয়।” দরজা খুলি, কেউ নেই। মোশারির ভেতরে ঢুকে পড়ি। দেখি—কে যেন মোশারির উপর থেকে উঁকি দিচ্ছে! আমি চিৎকার করি। সবাই ভয়ে এক বিছানায় এসে কুঁকড়ে থাকে।


পরে জানতে পারি, সেই রুমে আগে এক মেয়ে আত্মহত্যা করেছিল। তখনই বুঝি, আবার শুরু হয়েছে।


পরবর্তী বাসায় এক রাতে দেখি, এক শাড়ি পরা মহিলা আমার পাশে শুয়ে পড়ে। মুখ ফিরিয়ে আছি। কবিরাজ বলেছিলেন, কথা বললেই বিপদ। কিন্তু আমি একটু সাহস করে মুখ ফিরিয়ে দেখি—এক পুড়ে যাওয়া, বিকৃত, চোখ গলতে থাকা মুখ আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।


আমার হুঁশ থাকে না।


আমাকে আবার তাবিজ পড়তে হয়, কালো কাইতন কোমরে বাঁধতে হয়। অনেকদিন ভালো থাকি। হুট করে কিছুদিন আগে কাইতনটা হারিয়ে যায়। তখনই জানালায় এক বিকট আওয়াজ। জানালা খুলে দেখি—পাশের বিল্ডিংয়ের দেয়ালের উপরে বসে আছে সেই দানবটা, যেটা এক রাতে আমার পাশে বসেছিল। এবার সে পেছন ফিরে মুখ ঘুরিয়ে তাকায়।


সেই চোখ, সেই ছায়া, সেই লোমে ঢাকা কালো শরীর।


আজ এতদিন পরও আমি জানি না—এইটা কি একজন? নাকি একাধিক? এরা কি চাচির মধ্য থেকে আমার মধ্যে এসেছে, নাকি আমাদের পরিবারের উপরই এই ছায়ার অভিশাপ?


শেষ কোথায়, আমি জানি না।


তবে এখনো ঘুমাতে গেলেই বুক ধড়ফড় করে, বাতি নিভলেই ছায়া নড়ে ওঠে, আয়নায় তাকালে মনে হয়—আমি ছাড়া আরেকজন আমার ভিতরেই আছে।


এই লিখতে লিখতে আমার বুক কাঁপছে।


আমি এখনো পেছনে তাকাই না।


⛓️শেষ নয়⛓️


(জিনের দৃষ্টি পড়লে জীবন বদলে যায়। কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক, কেউ কেউ এই অভিশাপের বোঝা বয়ে চলে আজীবন। মাহা এখনো লড়ছে—নিজের ছায়ার বিরুদ্ধে।)

গ্রীস্মের দুপুর,,,,, ভুতের গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ⛔গ্রীস্মের দুপুর ⛔

(✍️ নিজের দাদার সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ভয়ংকর বাস্তব ঘটনাটি শেয়ার করেছেন জুথী ঝিনাইদহ থেকে লিখছি দাদার ভাষায়✍️) 


আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া আমি জুথী ঝিনাইদহ থেকে বলছি অনেকদিন ধরে ভাবছি আপনাদেরকে আমাদের পরিবারের অর্থাৎ দাদার সাথে ঘটে যাওয়া একটি ভয়ংকর ঘটনা শেয়ার করব জানিনা আপনারা ঘটনাটি কিভাবে বিশ্বাস করবেন তবে যা ঘটে তাহাই রটে।


১৯৭৪ কিংবা ৭৫ সালের কথা। তখন গ্রামে গ্রীষ্মকালের দুপুর যেন আতঙ্ক ছড়ানোর নিঃশব্দ সময়। জনমানবহীন বিস্তীর্ণ মাঠ, ঝাঁ ঝাঁ করে পড়া রোদ আর পায়ের নিচে ফেটে যাওয়া মাটি—সেই সময়েই আমি আর আমার বন্ধু কালী মিলে গরু চরাতে গিয়েছিলাম গ্রামের এক প্রান্তের মাঠে। আমাদের বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে। মাঠে তখন কিছু জমি খালি, আবার কিছু জমিতে ধইঞ্চা গাছের সারি, যা দেখতে অনেকটা পাট গাছের মতো। ধইঞ্চাগুলো লম্বা, ঘন, আর কিছুটা গা ছমছমে। ঠিক যেন কারো লুকিয়ে থাকার উপযুক্ত জায়গা।


আমরা তখন যুবক, শরীরে রক্ত টগবগ করছে, ভয় বলে কিছু অনুভব করতাম না। মাঠের একপাশে ধইঞ্চার ভুইয়ের আইলে বসে ছিলাম। আমি আর কালী মিলে তর্কে জড়িয়ে পড়ি এক সময়। সে রাগ করে তার গরুগুলো নিয়ে অন্য পাশে চলে গেল। আমি একা পড়ে রইলাম। দুপুরের রোদে মাঠ ফাঁকা, কোথাও কোনো লোকজন নেই। একা বসে থাকতে থাকতে অস্বস্তি লাগছিল, যেন চারপাশের নিস্তব্ধতা কিছু একটা লুকিয়ে রাখছে।


তখনই হঠাৎ একটা শব্দ পেলাম—“কুক...” বাচ্চারা যেমন লুকোচুরি খেলায় লুকিয়ে থেকে শব্দ করে, তেমন কিছু। আমি ভাবলাম কালী হয়তো মজা করছে। কয়েক মিনিট পর আবার শব্দ হলো। আমি জোরে বললাম, “এই কালী, আমাকে ভয় দেখাচ্ছিস নাকি? আমি বুঝতেছি!” কোনো উত্তর নেই। আবার নিস্তব্ধতা।


এরপর হঠাৎ সেই একই শব্দ আরও জোরে। এবার আমি একটু রেগে গিয়ে বললাম, “তুই কি বাইরে আসবি না আমি গিয়ে তোকে ধইঞ্চার ভেতর থেকে টেনে বের করব?” এইবারও নিরবতা। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, বাতাস একেবারে থেমে গেল। একমুহূর্ত আগেও ধইঞ্চা গাছের ফাঁকে সামান্য বাতাস ছিল, এখন চারপাশ একেবারে স্তব্ধ। শরীর ভারী লাগতে শুরু করল। বুকের ভেতরে অজানা একটা শঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছিল।


ঠিক তখনই সেই শব্দটা আবার, কিন্তু এবার অনেক জোরে। সেই আওয়াজে যেন কোনো পশুর গর্জনের সুর ছিল। আমি আর থাকতে পারলাম না। হামাগুড়ি দিয়ে ধইঞ্চার গাছের ফাঁক দিয়ে দেখতে চেষ্টা করলাম—আর তখনই আমি যা দেখলাম, তা আমার আজীবনের দুঃস্বপ্ন হয়ে রয়ে গেছে।


দুইটা বিশাল মোটা পা, পশুর মতো দেখতে, কিন্তু দাঁড়িয়ে আছে মানুষের মতো। পা দুটো পুরোটাই কালো লোমে ঢাকা। এত লম্বা ছিল সে, আমি নিচ থেকে কোমর পর্যন্তই দেখতে পেলাম। মুখ দেখতে পাইনি। আমি তো ভয়ে জমে গেলাম, আর ঠিক তখনই সে একটা আওয়াজে বলল, “কিরে, আমার কাছে আইসোস? তুই কি আমাকে দেখে ভয় পাস না? তোর অনেক সাহস!” গলা ছিল যেন খোঁচা খোঁচা পাথরের মতো, গলা দিয়ে ঘষে ঘষে আওয়াজ বের হচ্ছে। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছিল। আমি আর দেরি করলাম না। সোজা দৌড়ে মাঠ পেরিয়ে কাঁচা রাস্তায় উঠে এলাম। পেছনে তাকিয়ে দেখলাম, ধইঞ্চার ভুইয়ের মধ্যে হঠাৎ প্রবল বাতাস বইছে, অথচ আশেপাশে এক চিলতে পাতাও নড়ছে না।


আমি তখনো দৌড়াতে থাকি। গরুগুলো ফেলে রেখেই বাড়ি ফিরি। মা আমাকে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কি রে, এত তাড়াতাড়ি চলে এলি? গরুগুলা কই?” আমি কোনো কথা বলতে পারছিলাম না। বুক ধকধক করছিল, শরীর ঘেমে ভিজে গেছে। সেদিনের পর আমার টানা ৩-৪ দিন জ্বর। গরুগুলোর মধ্যে একটা বড় গাভি—যেটা সবচেয়ে শক্ত আর দামী ছিল—সেই ধইঞ্চার ভুইয়ের পাশেই মরে পড়ে ছিল।


আমার মা পরে এক কবিরাজের কাছে নিয়ে গেল। সে আমার শরীর দেখে বলল,


“এই ছেলেটা একখান দেও’র সামনে পড়ে গেছিল। ওর সাহস দেখে দেওটা রেগে গেছিল। ওর বলার ধৃষ্টতা—‘আমি কাউকে দেখে ভয় পাই না’—এই কথাটাই দেওটা শুনে ফেলেছিল। তাই ওকে মারতে চেয়েছিল। কিন্তু এই ছেলে বেঁচে যায়, আর ওর জায়গায় গরুটা মারা পড়ে।”


সেদিন জ্বরের চতুর্থ দিন। আমার মুখ শুকিয়ে গেছে, চোখের নিচে কালি পড়েছে, রাতের ঘুম নেই। ঘুমালেই অদ্ভুত অদ্ভুত স্বপ্ন দেখি—একটা কালো ছায়া আমার ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে থেকে ডাকে, “আয়... তুই সাহসী না? তুই আমাকে দেখে ভয় পাইস না... আয়...” আমি চিৎকার দিয়ে উঠে বসি, গলা শুকিয়ে কাঠ।


তখন মা ও বাবা আমাকে গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার এক বিখ্যাত কবিরাজের কাছে নিয়ে গেল। তিনি ছিলেন অল্পবয়সী, কিন্তু তার চোখদুটো এত তীক্ষ্ণ ও গভীর ছিল, যেন কারো ভিতরের চিন্তাও পড়ে ফেলতে পারেন। নাম ছিল তার হুজুর কবিরাজ কাদির আলী। যমুনার পারে দীর্ঘ সময়修ফিল বাস করেছেন, জ্বিন ও দেও-দাওয়াদের ব্যাপারে তার অভিজ্ঞতা বিস্তর।


আমি ওখানে পৌঁছানোর পরই তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “এ ছেলেটা কারে গিয়ে ডিস্টার্ব কইরা আইছে? ওর গায়ে ঘোরত লাগছে, ঠিক যেন কেউ ওর চারপাশে হাঁটতেছে...” মা তখন কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “হুজুর, বাঁচান! আমার ছেলে মরে যাবে।”


তিনি এক দমকা নিঃশ্বাস নিয়ে বললেন, “ভয়ের কিছু নাই, তবে কাজটা সহজ না। দেওটা খুব রেগে আছে। ওরে বোঝাইতে হবে।”


তারপর তিনি একটা পুরোনো কাঠের সিন্দুক খুলে ভেতর থেকে কয়েকটা পুরোনো আরবি হরফ খচিত পুঁথি, কিছু শুকনো হরিয়াল পাতা, আর একটি কালি-জল মেশানো বোতল বের করলেন। ধূপ জ্বালালেন, তারপর আমার কানের পাশে ফিসফিস করে কিছু পড়তে লাগলেন— “আউযু বিঝি রব্বিন্নাস, মালিকিন্নাস, ইলাহিন্নাস...”


তার কণ্ঠে ছিল একধরনের কম্পন। আমি অনুভব করলাম আমার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে, গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে। আচমকা তিনি একটা লম্বা হাঁপ ছেড়ে বললেন, “ও এখন আমাদের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করছে। আমি যখন ওরে নাম ধইরা ডাকবো, তখন কিছু একটা ঘটবে। তোমরা ভয় পাইও না।”


তারপর তিনি পুঁথি থেকে কিছু আরবি শব্দ উচ্চারণ করলেন, গলার স্বর ধীরে ধীরে চড়ে উঠল। হঠাৎ করে বাতাস বন্ধ হয়ে গেল ঘরের মধ্যে। ধূপের ধোঁয়া ঘনীভূত হয়ে একটা কালো চক্রের মতো আমাদের চারপাশে ঘুরতে লাগল।


ঠিক তখনই আমি একটা বিকট শব্দ শুনলাম—ঘরের জানালার কাঁচে খটাস করে কিছু একটা লাগলো। আমি লাফ দিয়ে উঠে পড়তে যাচ্ছিলাম, কিন্তু কবিরাজ হঠাৎ আমার কপালে ঠান্ডা কালিজল ছিটিয়ে বললেন, “নড়বি না! ওরে তুই একবার সাহস দেখাইছিলি, এখন ও তোকে নিয়ে যেতে চায়।”


এরপর তিনি ছোট এক টুকরো তামার পাতায় কিছু লিখে সেটা আগুনে পুড়িয়ে ধোঁয়া আমার মুখের দিকে ছেড়ে দিলেন। গন্ধটা ছিল অদ্ভুত—কাঁচা রসুন, পুরনো বই আর ধূপের মিশ্রণে একধরনের তীব্র ঘ্রাণ।


এক মুহূর্তে আমি দেখলাম, ঘরের এক কোণে যেন কিছু একটা দাঁড়িয়ে আছে—ছায়াময়, অস্পষ্ট, কিন্তু চোখদুটো লালচে... যেন আগুন।


আমি চিৎকার করে উঠতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু কবিরাজ বললেন, “চোখ বন্ধ রাখ, মুখে বল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’!”


আমি তখন নিজেও পড়তে লাগলাম। কাঁপতে কাঁপতে। তারপর যেন একটা ধাক্কা লাগলো পেছন থেকে, আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম।


পরদিন সকালে, চোখ খুলে দেখি, আমি কবিরাজের ঘরের বারান্দায় মাদুরে শুয়ে। মা পাশে বসে আছে, চোখে জল। কবিরাজ ধীরে ধীরে এসে বললেন, “তুই বাঁচছিস, কিন্তু সাবধান। এরপর কখনো কারো অজানা ভুইয়ে দাঁড়িয়ে সাহসী হইস না। কারা কোথায় থাকে, সেইটা জানিস না।”


তিনি আমাকে একটা তাবিজ দিলেন, আর বললেন, “এইটা গলায় রাখিস। তোর ওপর নজর এখনও আছে। রাতে একা বাইরে যাইবি না।”


সেই দিনের পর থেকে আমি বদলে গেছি। আগে যেখানে সাহস দেখাতাম, এখন জায়গা বুঝে নত হই। জীবনে একবার যার চোখে অতল অন্ধকার পড়ে, সে আর সহজে আলো নিয়ে গর্ব করতে পারে না।


আমি তখনই বুঝলাম, সাহস দেখাতে গিয়ে জীবনের বড় ভুল করে ফেলেছিলাম। সেই দিনের পর আমি আর কোনোদিন একা মাঠে গরু চরাতে যাইনি। সেই ধইঞ্চার ভুইয়ের পাশ দিয়ে গেলেও বুকটা কেঁপে ওঠে।


 ভয় না পাওয়া এক জিনিস, আর অকারণে সাহস দেখানো আরেক জিনিস। কারণ কেউ কেউ আছে, যাদের দেখা মাত্রই মানুষ বোঝে—এরা এই জগতের নয়। তারা চুপচাপ দেখছে, শুনছে... শুধু অপেক্ষায় থাকে, কে তাদের ডাক দিল, কে তাদের অপমান করল—আর তারপর ঘটে এমন কিছু যা মানুষের বুদ্ধির বাইরে।


_____________________________________________


_সমাপ্ত_

Good New,,,,ভুতের গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 😌 Good New...❤️


আসসালামু আলাইকুম।


একটি আনন্দের সংবাদ আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।


এতদিন আমাদের গল্পগুলো ছিল শুধুই আমাদের ফেসবুক পেইজে সীমাবদ্ধ। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতা এবার অতিক্রম করে পৌঁছাতে চলেছে এক নতুন দিগন্তে। এখন থেকে আমাদের গল্পগুলো আর শুধু পেইজেই আটকে থাকবে না—সেগুলো ছড়িয়ে পড়বে গ্রামবাংলার প্রতিটি কোণে, প্রতিটি হৃদয়ে। প্রতিধ্বনিত হবে আনাচে-কানাচে, শহর-বন্দর পেরিয়ে, এমনকি এক দেশ থেকে আরেক দেশেও।


এই অসাধারণ যাত্রায় আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে 


⛔ Shadhin music ⛔ 


তাদের সহযোগিতায় আমাদের গল্পগুলো পাবে নতুন রূপ, নতুন মাত্রা—শব্দ ও সুরের এক অপূর্ব সম্মিলনে।

এখন থেকে আমাদের গল্প শুধু পড়ার জন্য নয়, শোনার জন্যও—স্বাধীন মিউজিক অ্যাপে। আবেগময় কণ্ঠ, সুরেলা আবহ এবং জীবন্ত পরিবেশনায় প্রতিটি গল্প হয়ে উঠবে এক অনন্য শ্রবণানন্দ।


আপনাদের ভালোবাসা আর সমর্থনই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের সঙ্গে থাকুন, গল্পের গভীরে ডুব দিন, আর প্রস্তুত হোন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনার জন্য।


তাই, আপনাদের সবাইকে আন্তরিক আহ্বান—আপনারা আমাদেরকে বেশি বেশি করে গল্প পাঠান। যদি আপনার গল্প আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়, তাহলে সেই গল্প ছড়িয়ে পড়বে হাজারো শ্রোতার মাঝে—শুধু আমাদের পেইজেই নয়, স্বাধীন মিউজিক অ্যাপেও।

আপনাদের প্রতিটি গল্পই আমাদের অনুপ্রেরণা। ভালো লাগলে অবশ্যই আমাদের পেইজে এবং Shadhin Music এ শুনতে পাবেন সেই গল্পের শব্দ-রূপ।

দেয়ালের ওপারে ভুতের গল্প ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 ⛔দেয়ালের ওপারে⛔

(✍️বাস্তব এই ঘটনাটি পাঠিয়েছেন তানজিনা জাহান রানু, রামপুরা, ঢাকা✍️) 


২০০৬ সাল। এসএসসি পাস করার পর টাঙ্গাইলের একটি নামকরা নারী কলেজে ভর্তি হই। তখন আমার মা-বাবা কেউই জীবিত ছিলেন না। দুই ভাই আলাদা সংসারে, আত্মীয়স্বজনরা যার যার মত ব্যস্ত। একা আমি। ভর্তি হতেই হল বসবাস বাধ্যতামূলক হওয়ায়, কলেজ হোস্টেলেই আমার ঠিকানা হয়।


জানুয়ারি মাস। ঠান্ডা প্রচণ্ড। আমাকে যে রুমে রাখা হয়, সেটা দ্বিতীয় তলার এক বড় হলরুম। প্রায় ২৫-৩০ জন মেয়ে সেখানে থাকে। হোস্টেল ভবনটা ছিল অনেক পুরনো—ব্রিটিশ আমলের জমিদার বাড়ির মত। প্রবেশ দরজা দিয়ে ঢুকলেই সামনে একটা পুকুর, তারপর আরেকটা ভবন। ডান পাশে রান্নাঘর, তারপর উঁচু পাঁচিল। বাঁদিকে খেলার মাঠ। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর দিক ছিল ভবনের পিছনটা।


পেছনে প্রথমে একটা ডোবা, তারপর জঙ্গল। আর সবশেষে প্রায় ১৫ ফুট উঁচু দেয়াল। এতটাই নির্জন ও দুর্গম জায়গা, যে কোনো মানুষ তো দূরের কথা, কুকুর-বিড়ালও সহজে যায় না।


হোস্টেলের প্রতিটি তলার মাঝে বিশাল সিঁড়ি, ছাদ থেকে নিচ পর্যন্ত তাকালেই নিচে সব দেখা যায়। প্রতিটি হলরুমের এক পাশে টয়লেট ও বাথরুম, যা যেতে হলে খোলা বারান্দা ধরে অনেকটা হেঁটে যেতে হয়।


প্রথম দিনেই, রুমের কিছু সিনিয়র অদ্ভুতভাবে সতর্ক করে দিল—

“নির্দিষ্ট সময়ের পর বাইরে যাস না।”

“হুট করে টয়লেট যাস না রাতে।”

“সন্ধ্যার পর বারান্দায় একা দাঁড়াবি না।”


আমি নতুন, কাউকে চিনি না। তাই প্রথম রাতে চুপচাপ শুয়ে পড়ি। বিছানাটা দরজার একদম পাশেই। রাত আনুমানিক ৩টা ৩৬ মিনিট। হঠাৎ দরজায় জোরে ধাক্কা।

টাক টাক টাক!

জানালার কাঁচ কেঁপে উঠল। আমি আঁতকে উঠলাম। শব্দ থামতেই আবার—

টাক টাক টাক!

এবার সঙ্গে ভেসে এলো এক গম্ভীর কান্নার আওয়াজ। মনে হচ্ছিল, কেউ বেদনায় ছটফট করছে। ভয় পেলেও জিজ্ঞাসা করলাম,

– “কে? দরজায় কে?”


কোনো উত্তর নেই। সাহস করে নিচে নামতে যাব, এমন সময় কানের কাছে ফিসফিস করে কেউ বলল,

– “খুলিস না... খুললে আর ফিরতে পারবি না।”


গলা শুকিয়ে গেল। চিৎকার করতে চাইলেও পারলাম না। বিছানায় বসে কাঁপতে লাগলাম। বাকিরা কেউ কিছু টের পেল না। রাতটা কোনো মতে পার করে ভোরে পাশের মেয়েকে সব বললাম। সে আঁকড়ে ধরে বলল,

– “ভাগ্যিস দরজা খুলিস নাই। যেটা তোর পাশে ছিল, সেটা মানুষ না...”


এরপর আমি আর একা ঘুমাই না। ওর সঙ্গেই থাকি। ধীরে ধীরে জানতে পারি, হোস্টেলটির পিছনের দেয়ালের ওদিকে আগে নাকি কবরস্থান ছিল। কেউ কেউ বলে, একবার এক মেয়ে টয়লেটে গিয়ে আর ফেরেনি। পরে ওর মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল ঠিক দেয়ালের ধারে। এরপর থেকেই মাঝরাতে কান্না, দরজায় ধাক্কা, কেউ একজন ফিসফিস করে ডাক দেয়—এসব চলতেই থাকে।


সবচেয়ে ভয়ানক ঘটনা ঘটল আমার দ্বাদশ রাত্রে।


সেই রাতে আমি হালকা জ্বরে ভুগছিলাম। ঘুম ভেঙে দেখি, বাথরুমে যাওয়ার দরকার। ঘড়িতে ৩টা বেজে ২০। সাহস করে উঠে গেলাম, কিন্তু গেটের কাছে গিয়ে দেখি দরজা খোলা। বাতাসে কেমন একটা গন্ধ—পচা গোলাপের মত।


যাই হোক, বাথরুমের দিকে এগোতেই দেখি, বাথরুমের দরজার নিচ দিয়ে ধোঁয়ার মত কিছু একটা বের হচ্ছে। আমি থমকে গেলাম। তারপর স্পষ্ট শুনি—

“তুই এলি... আমি তোকে অনেক দিন ধরেই খুঁজছি...”


আবছা আলোয় দেখি, একটা রক্তমাখা নারী মুখ, চুল এলোমেলো, চোখ নেই—ফাঁকা গহ্বর! সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে আমার দিকে।


আমি দৌড় দিলাম। কিন্তু পা যেন চলছিল না। গলা শুকিয়ে গেছে। চিৎকার করতে চাচ্ছি, কিন্তু আওয়াজ বের হচ্ছে না।

শেষমেশ দরজায় এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাই। কে যেন আমাকে টেনে ভেতরে নিয়ে আসে। তারপর জ্ঞান হারাই।


পরদিন সকালে চোখ খুলে দেখি, সবাই আমার চারপাশে। কেউ একজন বলল,

– “তুই যদি এক মিনিট দেরি করতি, হয়ত আজ তোর মুখ আমরা দেখতেই পারতাম না।”


এরপর থেকে আমাকে আর ওই বাথরুমে যেতে দেওয়া হয়নি। দুই মাস পর হোস্টেল বদলে ফেলি।

তবুও, এখনও মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে, মনে হয়—কেউ দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে।


“খুলিস না... খুললে আর ফিরতে পারবি না।”

শব্দটা যেন ঠিক পাশেই ভেসে আসে...

বিপদের সময় এই দোয়াটি পড়ুন,অলৈকিক সাহায্য আসবেই,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 🌊 তিন অন্ধকারের বুক চিরে অলৌকিক মুক্তির মহাকাব্য: ইউনুস (আ.)-এর গল্প ​আপনি কি কখনো এমন ঘোর অন্ধকারে পড়েছেন, যেখানে পালানোর কোনো পথ নেই? যে...