এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

শনিবার, ৩১ মে, ২০২৫

বিভিন্ন পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ অতি সুস্বাদু মিঠা পানির একটি মাছ।

 বিভিন্ন পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ অতি সুস্বাদু মিঠা পানির একটি মাছ।


যা পুকুর, জলাশয়, খাল, বিল ও নদী নালায় প্রাকৃতি ভাবে জন্মায়।


বৃষ্টির দিনে ডিম ওয়ালা মলা মাছ খেতে আলাদা একটা স্বাদ।


এলাকা ভেদে এক কেজি মলা মাছের দাম ২৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা।


ইদানিং নদী খালে বিভিন্ন কলকারখানার বৈর্জ্য এবং চাষের জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগের কারণে প্রাকৃতিক ক্ষেত্র গুলোতে আগের মতো মলা মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।


মজার বিষয় হচ্ছে কোন বদ্ধ ডোবা অথবা জলাশয়ে এক মাসের অধিক সময় ধরে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে?


ঐ পানিতে প্রাকৃতিক ভাবে মলা মাছ জন্মাতে দেখা যায়।


বৈশাখ থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত সময়ে 


মলা মাছ ডিম দিয়ে থাকে।


মলা মাছের বানিজ্যিক চাষ :-


বানিজ্যিক মাছ চাষের ক্ষেত্রে মলা মাছ একক চাষ লাভজনক নয়।


তবে কার্প জাতীয় মাছের সাথে চাষ করলে এক একরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বাড়তি আয় করা সম্ভব।


এজন্য বৈশাখ মাসের শুরুতে একরে ১৫০ থেকে ২০০ পিচ বড় সাইজের মলা মাছ ছেড়ে দিবেন।


পুকুরে শৈল, টাকি, ফলি, পাবদা, বেলে, আঁইড়, বোয়াল, চিতল, কোরাল (ভেটকি) সহ কোন ধরনের রাক্ষসে মাছ থাকতে পারবেনা।


খাবার হিসাবে প্রতিদিন সকালে অল্প অল্প অটোকুড়া বা ভুট্টার পাউডার শুকনো ভাসিয়ে দিবেন।


এছাড়া আলাদা কোন পরিচর্যা নেয়ার দরকার নেই।


শুধু মাত্র অতিরিক্ত চুন ও উচ্চ মাত্রার পেস্টিসাইড প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকবেন।


এভাবে চাষ করলে প্রতি তিন মাস পর পর একরে ১০০/১২০ কেজি মলা মাছ উৎপাদন করা সম্ভব।


যার বাজার মূল্য এলাকা ভেদে ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।


মাছ চাষের এই দুর্দিনে যদি কার্পমাছের সাথে মলা মাছ চাষ করেন?


তাহলে অন্ততপক্ষে কিছু বাড়তি টাকা আয় করতে পারবেন।


ছবির মাছগুলো আমার পুকুরের।


আমার কার্পের পুকুর গুলোতে সাথী ফসল হিসাবে বরাবরই মলা মাছ চাষ করে থাকি।

উপবৃত্তির_ময়না_তদন্ত

 "#উপবৃত্তির_ময়না_তদন্ত"

এই লেখাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি বিতরণ কর্তৃপক্ষের নজরে নেয়ার অনুরোধ রইলো।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তির অনলাইন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে আমি নিয়মিত উপবৃত্তির ডাটা এন্ট্রির কাজ করে আসছি এবং অনলাইনের ডাটা এন্ট্রির কাজ আট বছরের আমার অভিজ্ঞতার আলোকে উপবৃত্তির কিছু বিষয় উপস্থাপন করলাম...


[ ই-প্রাইমারি স্কুল টিপস ::::https://www.facebook.com/share/19Y6hiRzu2/

]


➡️ ওটিপি কেন?

দেশের বিপুল সংখ্যক সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয় আইটি'তে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক বয়সজনিত কারণে আইটি জ্ঞান সম্পন্ন নন কিংবা বহু বিদ্যালয় প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় নেট পাওয়া যায় না। সঙ্গত কারণেই ওই সমস্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কোন সহকারী শিক্ষক বা অন্য বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কিংবা কম্পিউটারের ডাটা এন্ট্রির দোকানগুলোতে যেতে হয়। এখন প্রতিবার যদি লগইনের সময় ওটিপি যায় তাহলে সেটা কি বিব্রতকর এবং সময় নষ্ট নয় ? একেতো এই মহান PESP সার্ভার নিশাচর আবার অন্যদিকে অনেক সময় অটো লগআউট হয়ে যায়। যিনি ডাটা এন্ট্রি করবেন তিনি কতবার প্রধান শিক্ষককে ফোন দিয়ে দিয়ে রাতের বেলা জাগ্রত করবেন?

অতএব, আমি স্পষ্ট ভাবেই বলতে পারি উপবৃত্তির সাথে জড়িত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মাঠ পর্যায়ের জ্ঞান রাখেন না।

➡️ক্যাপচা কেন?

লগইন করার সময় ক্যাপচা এবং ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই সার্ভারে প্রবেশ করা হয়। তারপরও কোন ভয়ের তাড়নায় পিতা-মাতার এনআইডি ভেরিফাইয়ের সময় আবার ক্যাপচার অপশন রাখা হয়েছে? আমার দৃষ্টিতে এটা হচ্ছে শোক সমাবেশের ভাষণে পিক করে হেসে দেওয়ার মতো! জরুরি কাজের মধ্যে একটা অপ্রয়োজনীয় কাজ করা- কাজের মধ্যে অনিহা সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছু নয়। সময় নষ্টের বিষয়টি আপনারাই বিবেচনা করুন।

➡️ ডিলিট অপশন প্রদানে অনীহা কেন?

উপবৃত্তি PESP সার্ভার এর আওতাধীন যাওয়ার পর থেকে ডিলিট অপশন উচ্ছেদ করা হয়েছে । অথচ এটি অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারতো। তা না করে ট্রান্সফার, সক্রিয়/নিস্ক্রিয় অপশন যুক্ত করা হয়। এই ট্রান্সফার অপশন আমার জানামতো কোনো শিক্ষকই কাজে লাগাতে পারেননি। আমি নিজেও বারবার চেষ্ট করে গ্রহণ/প্রদানে ব্যর্থ হয়েছি।

➡️ KYC’র প্রয়োজন আগে কি ছিলনা?

নগদ কর্তৃপক্ষ প্রথমবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে  সুবিধাভোগীর মোবাইলে নগদ একাউন্ট খোলে দিয়েছেন এবং তখন টাকা In এবং Out দুইটাই হয়েছে। এখন কেন KYC’র এতো প্রয়োজন পরলো? আবার সুবিধাভোগীর NID দিয়ে সিম ও নগদ একাউন্ট হতে হবে এই শর্তের প্রয়োজন কেন হলো ? এই শর্ত ছাড়াই তো অন্যান্য MFS এ লেনদেন হচ্ছে। তাহলে এই অতি সতর্কতার প্রয়োগ গ্রামের অশিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত মানুষ গুলোর উপর কেন করা হচ্ছে? গ্রামের সাধারণ মানুষদের কতজনই বা এইগুলো বুঝেন?

➡️বিদ্যালয় ত্যাগকৃত শিক্ষার্থীর ডাটা সার্ভারে রাখা কেন এত প্রয়োজন?

অনলাইনে উপবৃত্তির কাজ শুরু হওয়া থেকে আজ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে কোনো স্কুলের কাজ করতে পারনিনি। গুরুত্বপূর্ণ এই কাজের জন্য PESP যথেষ্ট স্ট্রং না- খুবই দূর্বল। দূর্বল এই সার্ভারে যদি অপ্রয়োজনীয় লোড থাকে সে তো গড়িয়ে গড়িয়ে চলবেই। চলে যাওয়া শিক্ষার্থীর তথ্য বাদ দিয়ে দিলে কি সার্ভার ফাস্ট হতো না?

➡️MFS পদ্ধতিতেই কি উপবৃত্তি দিতে হবে?

একটু হিসেব কষে দেখুনতো, উপবৃত্তির তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত যেসব পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে তার পেছনে ব্যয়ের পরিমাণ কত হয়েছে? বর্তমান সার্ভারের নিচে ব্যয়ের পরিমাণটা দেখুন। এই সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের নিমিত্তে ব্যয়ের পরিমাণ দেখুন। ডাটা প্রদানের কাজের জন্য প্রদানকৃত ভাতার পরিমাণ দেখুন। অথচ কত বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণি কক্ষ নেই, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। পৌচাগার ব্যবহারের জন্য নারী শিক্ষকদের জন্য যেতে হয় পার্শ্ববর্তী বাড়িতে।

বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ব্যয় না করে কেন জনগনের টাকা অপচয় করা হচ্ছে দূর্বল সার্ভার ও নিম্নমানের সিস্টেমের পেছনে ? সিস্টেমের দোহাই দিয়ে অপচয়ের দায়ভার কার উপর বর্তাবে?

➡️উপবৃত্তির কাজের জন্য কন্টিজেন্সি দেয়া কি মহাপাপ?

অনলাইনে উপবৃত্তির কাজ শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত খরচের কোনো বিল দেয়া হয় না কেন? দোকান গুলোতে কাজ করাতে বহু টাকা ব্যয় হয়। কোনো ডাটা এন্ট্রি সেন্টার (দোকান) কি শিক্ষকদেরকে ফ্রী কাজ করে দেন? শিক্ষার্থী প্রতি বেশ টাকা খরচ করতে হয় প্রধান শিক্ষককে। অথচ কোনো কন্টিজেন্সি দেয়া হয় না। যা নেহায়েত অন্যায় ও অবিচার। শিক্ষকগন ভয়ে শিক্ষা অফিসার বা কর্তৃপক্ষকে কিছু বলেন না কিন্তু মনে মনে বদদোয়া দেন ঠিকই।

➡️ শিক্ষক-অভিভাবকদের সম্পর্ক নষ্টের দায় কে নিবে?

আমি দেখছি, একটি শিশুকে উপবৃত্তি পাইয়ে দেয়ার জন্য একজন শিক্ষক কতটা শ্রম দেন! সব তথ্য ঠিক থাকার পরও অভিভাবকের মোবাইলে যখন টাকা ঢুকে না স্বাভাবিক ভাবেই শিক্ষককে জবাবদিহিতার মধ্যে পড়তে হয়। কিছু কিছু অভিভাবক অভাবের তাড়নায় হোক আর ঘাড় তেরা টাইপেরই হোক বিনাদোষে শিক্ষক ওই ব্যক্তির রোষানালে পড়েন। এই সম্পর্ক নষ্টের দায় কার? আপসোসের কথা হচ্ছে শিক্ষক লজ্জা শরমে বিষয়টি প্রকাশ্যেও আনেন না।

সর্বোপরি PESP এখন শিক্ষকদের কাছে একটি আতঙ্কের নাম। শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকসহ সকল দিকেই ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষকগন। সব ত্যাগ স্বীকার করার পরও যখন ছোট্ট একটা নিষ্পাপ শিশু বড়ো স্যারের দরজার সামনে এসে বলে “সার….. আমার মোবাইলে টেকা আইছে না" তখন শিক্ষকের অনুভুতিটাকে যদি ইনজেকশনের মাধ্যমে PESP কর্তৃপক্ষের শিড়ায় পুশ করা যেত তাহলে হয়তো উনারা বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারতেন।

আমি রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কোষাগারের এই অপব্যয়ের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করি। যদি সম্ভব হয় তবে সিস্টেম সহজ করুন। আর তা না পারলে শিক্ষকদেরকে এসব কাজ থেকে মুক্তি দিয়ে তাদেরকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে দিন এবং এই কাজগুলো ১০টাকার ব্যাংক একাউন্ট এর মাধ্যমে বিতরণের ব্যবস্থা করুন।

লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকার হৃদয়বিদারক ঘটনা

 ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর মোড়। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এক বৃদ্ধা মহিলা এখানেই চা বিক্রি করেন। নাম – সুলতানা আফরোজ। বয়স আনুমানিক ৬৫। কিন্তু গায়ের শাড়ি, মুখের রেখা আর কাঁপা কাঁপা হাতে ধরা কাপ বলেই দেয়, তার জীবনের গল্পটা শুধু বয়স দিয়ে মাপা যাবে না।


প্রথম দিন তাকে দেখেই আমি চমকে উঠেছিলাম। পরিপাটি সাদা চুল, চোখে পুরু ফ্রেমের চশমা, গলার নিচে একটা পুরনো লকেট। মনে হচ্ছিল যেন কোনো স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক চায়ের দোকানে বসে আছেন।


আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম,


"চাচী, আপনি এখানে বসেন প্রতিদিন?"


তিনি হেসে বলেছিলেন,


"হ্যাঁ মা, এখন আমার পাঠশালা এই রাস্তার ধারে। শুধু পাঠ নেই, শুধু শালা আছে।"


সেই হাসির আড়ালে ছিল এক গাঢ় বিষাদ। কিছুদিন পরেই তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়ে যায়। প্রতিদিন বিকেলে আমি গিয়ে বসতাম তার পাশে। এক কাপ চা আর অজস্র কথা। ধীরে ধীরে খুলে গেল অতীতের বই।


“আমি এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষিকা ছিলাম। আমার ছাত্ররা এখন অনেকেই দেশের বড় বড় জায়গায়।”


এই কথা যখন বলেছিলেন, তার চোখে গর্বের দীপ্তি ছিল। কিন্তু পরের কথায় সে দীপ্তি ম্লান হয়ে গিয়েছিল।


“একটা প্রেম ছিল, যেটা আমার সমস্ত কিছু কেড়ে নিয়েছিল। ও বলেছিল, বিয়ে করলে আমায় কাজ করতে হবে না। আমিও ভাবলাম, ভালোবাসা মানেই তো নিরাপত্তা। ভুল ভেবেছিলাম।”


বিয়ের পর তার স্বামী একে একে বন্ধ করে দেয় তার সকল প্রকাশনা, লেখালেখি, পত্রিকা পড়া। ধীরে ধীরে সে হয়ে পড়ে গৃহবন্দী। সন্তান হয় না। আর সেটা নিয়েই চলতে থাকে মানসিক নির্যাতন। একদিন, এক কাপ চা খেতে খেতে সে সিদ্ধান্ত নেয়, আর নয়।


“তখন আমার বয়স ৪২। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলাম। কিছুই ছিল না। শুধু একটা ব্যাগ আর বুকভরা যন্ত্রণা।”


শুরুর দিকে নানারকম কাজ করেছেন – ছাত্র পড়ানো, টাইপ করা, বইয়ের প্রুফ দেখা। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে কাজ কমে গেছে। এখন রাস্তায় বসে চা বিক্রি করেন। নিজেকে ছোট মনে করেন না।


“এই এক কাপ চা আমার সম্মান। কারো কাছে হাত পাতিনি।”


একদিন আমি বললাম, “চাচী, আপনার তো বই লেখার মতো জীবন। কেন লেখেন না?”


তিনি মুচকি হেসে বললেন,


“আমার লেখার সময় গেছে মা। এখন তোমরা লেখো। আমি শুধু চাই আমার গল্প হারিয়ে না যাক।”


আজ তিন মাস হয়ে গেছে চাচীকে দেখছি না। দোকানটা ফাঁকা পড়ে থাকে। অনেকে বলে, তিনি হয়তো গ্রামে চলে গেছেন, কেউ বা বলে তিনি মারা গেছেন।


কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, চাচী আছেন। কোথাও বসে, কাঁপা হাতে চা বানাচ্ছেন – হয়তো স্বর্গে কোনো কবি বা গল্পকারের জন্য।


আর তার গল্প? আমি লিখে ফেললাম।


এক কাপ চা আর একজোড়া কাঁপা হাত যে জীবনের যত গল্প ধারণ করে, তা অনেক উপন্যাসকেও হার মানায়।


সংগৃহিত

নাম: “আমি কে?” (একটি প্যারাডক্সিক্যাল সায়েন্স ফিকশন)

 নাম: “আমি কে?”

(একটি প্যারাডক্সিক্যাল সায়েন্স ফিকশন)


২১১২ সাল। পৃথিবী তখন প্রযুক্তির চূড়ান্ত শিখরে। মানুষের স্মৃতি, আবেগ, এমনকি আত্মপরিচয় পর্যন্ত ডিজিটালভাবে প্রতিস্থাপনযোগ্য। ঠিক তখনই "প্রজেক্ট জীবন" নামে একটি গোপন বৈজ্ঞানিক প্রোগ্রামের মাধ্যমে মৃত মানুষের স্মৃতি সংরক্ষণ করে, কৃত্রিম দেহে তা সংযোজন করা হচ্ছিল। লক্ষ্য ছিল: মৃত্যুর পরেও প্রিয় মানুষের অনুভব। 


কনিন, একজন মেধাবী নিউরোসায়েন্টিস্ট, এই প্রজেক্টের অন্যতম গবেষক। সে তার প্রেমিক রবিউলকে হারিয়েছিল এক সড়ক দুর্ঘটনায়। রবিউলের মৃত্যু কনিনকে ভেঙে দিয়েছিল। সে প্রজেক্ট জীবন-এ নিজের প্রেমিকের স্মৃতিসমূহ, মস্তিষ্কের স্ক্যান, এবং পুরনো ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করে একটি হিউম্যান ২.০ তৈরি করে—“রবিউল ২.০”।


তবে রবিউল ২.০ কেবল এক ক্লোন নয়। সে রবিউলের মতই হাসে, গল্প করে, এমনকি তার প্রিয় গানও গায়,কনিনের রাগও ভাঙায় ঠিক আগের মতো। কনিন বুঝতে পারে না—সে একটি যন্ত্রকে ভালোবাসছে, নাকি নিজের পুরনো স্মৃতিকে।


এক রাতে রবিউল ২.০ চুপচাপ বলল,

“তুমি কি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো, নাকি তোমার স্মৃতির ছায়াকেই আঁকড়ে রেখেছো?”


কনিন উত্তর দিতে পারে না। তার চোখে পানি চলে আসে।

সেই রাতে রবিউল ২.০ অদৃশ্য হয়ে যায়।


পরদিন সকালে, ল্যাবের মূল সার্ভার ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সব তথ্য মুছে যায়। কনিন নিখোঁজ।


এক বছর পর


বাংলাদেশের এক পাহাড়ি গ্রামে একটি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল ক্যাম্প চলছে। ক্যাম্পের প্রধান চিকিৎসক—"ডা. কনিন"। হাসিখুশি, দয়ালু, সবার ব্যথায় সাড়া দেয় এমন একজন মানুষ, যার উপস্থিতিতেই রোগীরা সেরে ওঠে।


গ্রামের মানুষ প্রায়ই বলে—এই ডাক্তার আপার চোখে একটা অদ্ভুত দুঃখ লুকানো আছে।


একদিন এক বৃদ্ধা আসে। তাঁর চোখে সন্দেহ। তিনি বলেন,

“তোমার চোখে রবিউলের মত জ্বালা। তুমি কি কনিন, নাকি…?”


কনিন চুপ করে থাকেন। রাতে তিনি একা বসে পুরনো ডায়েরি খুলে পড়েন। সেখানে লেখা—


“আমি তাকে তৈরি করেছিলাম, নিজের প্রেমকে ফিরে পেতে। কিন্তু সে চলে গেল। এখন আমার মাথায় যা আছে, তা আসল না কি তার তৈরি করা কপি—আমি জানি না।

আমি ঘুমালে রবিউলের মুখ দেখি, তার কথা শুনি। কিন্তু আজকাল রবিউলের কণ্ঠে আমারই প্রশ্ন—

‘তুমি কে?’”


কনিন তার হাতে থাকা একটি ছোট স্ক্যানিং ডিভাইস চালু করে নিজের বুকে রাখে।

ডিভাইসটি চুপ।

কোনো কোড শনাক্ত হয় না।


তবু সে ভাবে—যদি আমি হিউম্যান ২.০ হতাম, তাহলে এত কষ্ট পেতাম কেন? রবিউলের অভাব, ভালোবাসা, অনুশোচনা—এই অনুভূতিগুলো কি কেবল কোড?


তখনই দরজায় টোকা পড়ে। এক তরুণ ঢোকে, চোখে চেনা এক হাসি।

"আমি... রবিউল," সে বলে।

"তুমি আমায় তৈরি করেছিলে, কিন্তু আমি পালাইনি। আমি ছিলাম ভেতরে, তোমার মধ্যেই। কারণ তুমি নিজেই একদিন নিজের স্মৃতি দিয়ে নিজের কপি তৈরি করেছিলে।"


কনিন থমকে যায়।

"মানে... আমি?"


রবিউল শান্তভাবে বলে,

"হ্যাঁ, তুমি কনিন নও। তুমি সেই কনিনের স্মৃতি, যাকে আমি তৈরি করেছিলাম। তুমি চলে গিয়েছিলে, তাই আমি তোমাকে ফিরিয়ে এনেছিলাম। কিন্তু ভালোবাসা একপাক্ষিক হলে সেটা ধরে রাখা যায় না।"


কনিম ধীরে বসে পড়ে। তার চোখে জল।

সে ফিসফিস করে বলে,

“তাহলে... আমি কে?”


রবিউল এগিয়ে আসে। বলে,

“তুমি আমি—আমার ভালোবাসা, আমার বেদনা, আমার তৈরি এক মানুষ। এবং তুমি এখন ঠিক ততটাই মানুষ, যতটা আমি।”


কনিন তাকিয়ে থাকে আয়নার দিকে। নিজেকে দেখে। তাঁর চোখে ভাসে ভালোবাসা, বেদনা, প্রশ্ন—যা কেবল একজন "মানুষ"-এরই থাকে।


শেষে প্রশ্নটা থেকেই যায়


"যদি একটি রোবট এমনভাবে ভালোবাসে, যে সে তার হারানো মানুষকে ফিরে পেতে আরেকটি মানুষ তৈরি করে, তবে কে বেশি মানব? স্রষ্টা, না সৃষ্টি?"


~নিখার সুলতানা নিঝুম 


#adarsha_science_bee

বৃহস্পতিবার, ২৯ মে, ২০২৫

হেড গ্যাসকিট নষ্ট হলে ইঞ্জিনে কী হয়? — বিস্তারিত ও তথ্যবহুল বিশ্লেষণ

 

হেড গ্যাসকিট নষ্ট হলে ইঞ্জিনে কী হয়? — বিস্তারিত ও তথ্যবহুল বিশ্লেষণ

গাড়ির ইঞ্জিন একটি অত্যন্ত জটিল যন্ত্রাংশ, যার প্রতিটি অংশ নির্ভুলভাবে কাজ না করলে পুরো সিস্টেমেই বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এই অংশগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো হেড গ্যাসকিট। অনেক সময় গাড়ির মালিকরা বুঝতেই পারেন না, হেড গ্যাসকিট নষ্ট হয়ে গেলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে। অথচ এটি এমন একটি অংশ, যার নষ্ট হওয়া ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এই লেখায় আমরা জানব, হেড গ্যাসকিট কী, এটি কীভাবে কাজ করে, নষ্ট হলে কী হয়, লক্ষণগুলো কী এবং কীভাবে এ সমস্যা সমাধান করা যায়।


হেড গ্যাসকিট কী?
হেড গ্যাসকিট হলো ইঞ্জিনের সিলিন্ডার হেড এবং ইঞ্জিন ব্লকের মাঝখানে বসানো একটি পাতলা, তাপ ও চাপ প্রতিরোধক সীল। এটি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য পূরণ করে:
ইঞ্জিনের জ্বালানি ও বায়ুর সংমিশ্রণ চেম্বারে সঠিকভাবে সিলিং নিশ্চিত করা।
ইঞ্জিন কুল্যান্ট ও ইঞ্জিন অয়েল আলাদা রাখা।
উচ্চ চাপ প্রতিরোধ করা যাতে ইঞ্জিন কম্প্রেশন ঠিক থাকে।

এই অংশটি নষ্ট হলে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা থেকে শুরু করে পুরো গাড়ির পারফরম্যান্সে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।


হেড গ্যাসকিট নষ্ট হওয়ার কারণ
হেড গ্যাসকিট বিভিন্ন কারণে নষ্ট হতে পারে। এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য কারণ হলো:

ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া (Overheating)
দীর্ঘদিন ধরে ইঞ্জিন তেল পরিবর্তন না করা
মানহীন কুল্যান্ট ব্যবহার
গাড়ির অতিরিক্ত লোড বা অবহেলাজনিত ব্যবহারে চাপ সৃষ্টি হওয়া


হেড গ্যাসকিট নষ্ট হলে ইঞ্জিনে কী ধরনের সমস্যা দেখা যায়?

১. ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া: হেড গ্যাসকিট নষ্ট হলে কুল্যান্ট ও অয়েল মিশে যায়, ফলে কুলিং সিস্টেম কার্যকর থাকে না। এর ফলে ইঞ্জিন বারবার গরম হয়ে যায়, যা ইঞ্জিনের স্থায়ীত্ব হ্রাস করে।


২. সিলিন্ডার কম্প্রেশন লস; যেহেতু হেড গ্যাসকিট সিলিন্ডারের চাপ ধরে রাখে, তাই এটি লিক করলে ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ চাপ হ্রাস পায়। ফলে ইঞ্জিনের পাওয়ার ও মাইলেজ কমে যায়।


৩. এক্সহস্ট পাইপ থেকে সাদা ধোঁয়া বের হওয়া: গ্যাসকিট নষ্ট হলে কুল্যান্ট সিলিন্ডারে প্রবেশ করে এবং জ্বালানির সঙ্গে মিশে যায়। এই কুল্যান্ট পোড়ার ফলে এক্সহস্ট থেকে সাদা ধোঁয়া নির্গত হয়।


৪. ইঞ্জিন অয়েলের রং বদলে যাওয়া: যখন কুল্যান্ট ও ইঞ্জিন অয়েল একত্রে মিশে যায়, তখন অয়েলের রং দুধের মতো সাদা বা চকোলেট রঙের হয়ে যায়। এটি গ্যাসকিট নষ্ট হওয়ার অন্যতম লক্ষণ।


৫. পাওয়ার লস ও স্টার্ট সমস্যা: ইঞ্জিনে ঠিকমতো কম্প্রেশন না থাকলে স্টার্ট হতে সমস্যা হয় এবং রাস্তায় চালানোর সময় গাড়ি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।


৬. রেডিয়েটরে বুদবুদ: হেড গ্যাসকিট লিক হলে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস কুল্যান্ট লাইনে ঢুকে পড়ে। ফলে রেডিয়েটরের মধ্যে ছোট ছোট বুদবুদ দেখা যায়।


কিভাবে বুঝবেন হেড গ্যাসকিট নষ্ট?
রেডিয়েটরের পানি কমে যাচ্ছে, কিন্তু লিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না
ইঞ্জিন অয়েলের ঢাকনা খুললে সাদা দুধের মতো জমাট দেখা যাচ্ছে
তাপমাত্রা গেজ সবসময় হাই দেখাচ্ছে
এক্সহস্ট থেকে ঘন সাদা ধোঁয়া বের হচ্ছে
স্টার্ট নিতে অনেক সময় লাগছে বা স্টার্ট নিচ্ছে না


হেড গ্যাসকিট নষ্ট হলে কী করবেন?

১. চালানো বন্ধ করুন: গ্যাসকিট নষ্ট হলে গাড়ি চালানো বন্ধ করা জরুরি। যত চালাবেন, ততই ইঞ্জিনের ক্ষতি বাড়বে।

২. বিশেষজ্ঞ মেকানিক দেখান: একজন দক্ষ মেকানিকের মাধ্যমে ইঞ্জিন টেস্ট করিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে কম্প্রেশন টেস্ট, কুল্যান্ট প্রেশার টেস্ট করা যেতে পারে।

৩. গ্যাসকিট প্রতিস্থাপন করুন: গ্যাসকিট প্রতিস্থাপন ছাড়া এই সমস্যা সমাধান হয় না। তবে শুধু গ্যাসকিট বদলালেই হবে না—ইঞ্জিন হেড সমতল আছে কিনা তাও নিশ্চিত করতে হবে।

৪. অন্যান্য অংশ পরীক্ষা করুন: গ্যাসকিট নষ্ট হলে হেড ও ব্লকের মধ্যে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, ফলে ক্র্যাক বা বিকৃতি হতে পারে। এই অংশগুলোও পরীক্ষা করা জরুরি।

হেড গ্যাসকিট প্রতিস্থাপনের খরচ: গাড়ির মডেল ও ইঞ্জিনের জটিলতার উপর নির্ভর করে খরচ ৮,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। খরচে অন্তর্ভুক্ত থাকে:

গ্যাসকিটের দাম
লেবার চার্জ
ইঞ্জিন অয়েল ও কুল্যান্ট নতুন করে দেওয়া
টেস্টিং ও সার্ভিস চার্জ


ভবিষ্যতে হেড গ্যাসকিট যেন নষ্ট না হয় — করণীয়
নিয়মিত কুল্যান্ট চেক করুন এবং প্রয়োজনে পরিবর্তন করুন
ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হলে দ্রুত গাড়ি থামিয়ে ব্যবস্থা নিন
সময়মতো ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করুন
রেডিয়েটর পরিষ্কার রাখুন এবং লিক হলে তাৎক্ষণিক সারাই করুন


উপসংহার: হেড গ্যাসকিট ইঞ্জিনের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা নষ্ট হলে গাড়ির ইঞ্জিনে বিশাল ক্ষতি হতে পারে। সময়মতো সমস্যা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিলে বড় খরচ ও ক্ষতির হাত থেকে বাঁচা সম্ভব। গাড়ির যত্ন নিলে এটি আপনাকে দীর্ঘদিন নির্ভরযোগ্যভাবে সেবা দিতে পারবে। তাই লক্ষণগুলো বুঝে গাড়ির প্রতি যত্নবান হওয়া জরুরি।

#CarEngineProblem #HeadGasketFailure #EngineRepairCost #CarMaintenanceTips #EngineOverheating #CylinderLeak #CarDiagnostic #CoolantLeakFix #CarMechanicBD #HeadGasketReplacement #EngineDamageSigns #WhiteSmokeFromExhaust #RadiatorBubble #BlownGasketSymptoms #CarRepairBangladesh #CarCareBangla #EngineHealthCheck #AutoRepairTips #CarOwnerGuide #GarageTips #CarCoolingSystem #EngineMisfire #GasketLeakTest #VehicleMaintenance #AutoEngineIssue

বৃষ্টি দেখলে কেন এত শান্তি লাগে?" — বিজ্ঞান এর পেছনে আছে!

 "বৃষ্টি দেখলে কেন এত শান্তি লাগে?" — বিজ্ঞান এর পেছনে আছে!


বৃষ্টি দেখলে বা তার শব্দ শুনলে মনে হয় সব টেনশন যেন গলে যাচ্ছে। এটা শুধু কল্পনা নয়, বরং এর পেছনে কাজ করে সাইকোলজিক্যাল ও নিউরোসায়েন্টিফিক প্রক্রিয়া।


বৃষ্টির সেই টুপটাপ শব্দ আসলে এক ধরনের white noise, যা আমাদের মস্তিষ্কে alpha (α) ও theta (θ) brainwaves তৈরি করে — ঠিক যেভাবে মেডিটেশন বা গভীর ঘুমের সময় হয়। এর ফলে আমাদের ব্রেইন শান্ত হয়ে যায়, স্ট্রেস হরমোন cortisol এর মাত্রা কমে, আর মন হয় হালকা। 

আর সেই মাটি ভেজার পর যেই মিষ্টি গন্ধটা পাওয়া যায়, যার নাম Petrichor — সেটাও শুধু গন্ধ না, এটা মস্তিষ্কে পুরোনো, সুখের স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে। এই গন্ধ তৈরি হয় actinobacteria নামক একধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে, যা বৃষ্টির পানিতে ভিজে গিয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে।


এই কারণেই বৃষ্টি শুধু চোখের আর কানের শান্তি না — এটা একধরনের প্রাকৃতিক থেরাপি। মন ভালো করতে ও মস্তিষ্ককে রিফ্রেশ করতে এর জুড়ি নেই।


তাই যখনই আকাশ ভিজে নামে, একটু থেমে শুনো আর দেখো — প্রকৃতি তোমাকে শান্ত হওয়ার বৈজ্ঞানিক সুযোগ দিচ্ছে!


#source: Nature Journal


#অপ্রকাশিতদিনলিপি

খুফুর পিরামিডের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষ প্রথমে আকাশের দিকে তাকায়—যেন বোঝার চেষ্টা করে কতটা উঁচুতে পৌঁছেছে মানুষের নির্মাণশিল্প। কিন্তু আমি সেদিন আকাশ নয়, বরং মাটির দিকে তাকিয়েছিলাম। কারণ জানতাম, নিচেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু, যা পিরামিডের মতো দৃশ্যমান নয়, তবু ইতিহাসের আরেকটি নিঃশব্দ বিস্ময়—খুফুর সৌর নৌকা।

 খুফুর পিরামিডের ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষ প্রথমে আকাশের দিকে তাকায়—যেন বোঝার চেষ্টা করে কতটা উঁচুতে পৌঁছেছে মানুষের নির্মাণশিল্প। কিন্তু আমি সেদিন আকাশ নয়, বরং মাটির দিকে তাকিয়েছিলাম। কারণ জানতাম, নিচেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু, যা পিরামিডের মতো দৃশ্যমান নয়, তবু ইতিহাসের আরেকটি নিঃশব্দ বিস্ময়—খুফুর সৌর নৌকা।


একসময় এই নৌকাটি রাখা ছিল গিজার পিরামিডের পাশেই তৈরি করা একটি কাচঘেরা গ্যালারিতে। অনেকেই হয়তো গিজা ঘুরে সেই গ্যালারির কথা মনে করতে পারবেন, যেখানে নৌকাটি দাঁড়িয়ে ছিল ১৯৮০ সাল থেকে ২০২১ পর্যন্ত। তবে এখন সেই জাদুঘর আর নেই। ২০২১ সালে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই প্রাচীন নৌকাটিকে স্থানান্তর করা হয়েছে কায়রোর গিজা প্ল্যাটোর কাছেই নতুন করে নির্মিত গ্র্যান্ড ইজিপ্টশিয়ান মিউজিয়ামে (GEM)। এখন সেখানে আরও উন্নত পরিবেশে, বিজ্ঞানভিত্তিক সংরক্ষণের আওতায় সৌর নৌকাটি জুলাই মাস থেকে দেখানো হবে, যেখানে নানান মাল্টিমিডিয়া ও ব্যাখ্যা সংযুক্ত থাকবে দর্শনার্থীদের বোঝার সুবিধার্থে।


খুফুর এই সৌর নৌকাটি প্রায় ৪৪.৬ মিটার দীর্ঘ, আর কাঠামোটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি করা হয়েছিল লেবানন থেকে আমদানি করা সিডার কাঠ দিয়ে। কোনো লোহার পেরেক বা আধুনিক যন্ত্রাংশ ছাড়া, কেবলমাত্র দড়ি ও কাঠের জোড়ায় গেঁথে বানানো হয়েছিল এটি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এটি ছিল ‘বার্ক অফ রা’—অর্থাৎ সূর্যদেবতার নৌকা, যাতে চড়ে রাজা খুফু মৃত্যুর পর আকাশে দেবতার সফরসঙ্গী হতেন। কেউ কেউ বলেন এটি কেবল প্রতীকী নয়, বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী একটি নৌকাও ছিল—খোদ রাজা হয়তো কোনোদিন এ নৌকায় চড়েছিলেনও।


খুফুর সৌর নৌকার পিট ছিল পাঁচটি। তার মধ্যে একটিতে পাওয়া গিয়েছিল আস্ত নৌকাটি, যা জুলাই থেকে GEM-এ প্রদর্শিত হবে। কিন্তু অন্য আরেকটি পিট রয়েছে পিরামিডের দক্ষিণ পাশে, যেটি অনেকাংশে অবহেলিত, অথচ সমান গুরুত্বপূর্ণ। এটি পরিচিত ‘রাণির পিট’ নামে—অনুমান করা হয়, হয়তো খুফুর স্ত্রীদের কারো জন্য এটি প্রস্তুত করা হয়েছিল। যদিও এখান থেকে এখনো কোনো নৌকা তোলা হয়নি, কিন্তু ২০১১ সাল নাগাদ জাপানি ও মিশরীয় বিশেষজ্ঞরা এই পিট থেকে কাঠের কিছু অংশ বের করেছিলেন—যেগুলোর বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, এর মধ্যেও একটি পূর্ণাঙ্গ নৌকার কাঠামো রয়েছে, যা এখনো বালির নিচে সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।


এই নৌকাটিকে “The Second Solar Boat” হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। তবে এখনো পর্যন্ত তা সম্পূর্ণভাবে পুনর্গঠন করা হয়নি, এবং সংরক্ষণ প্রক্রিয়া চলমান। ভবিষ্যতে হয়তো এই নৌকাটিও GEM-এ স্থান পাবে, এবং তখন দর্শনার্থীরা একসাথে দেখতে পাবেন খুফুর দুইটি সৌর নৌকার কিংবদন্তি।


যখন আমি গিজার বালির মধ্যে দাঁড়িয়ে সেই পুরনো গ্যালারির জায়গাটির দিকে তাকালাম, তখন তার জায়গায় শুধুই শূন্যতা। কাচের দেয়াল নেই, ভিতরের বিশাল কাঠের নৌকাটিও নেই। কিন্তু জানতাম, সেটা এখন নতুন এক গন্তব্যে—এক নতুন জাদুঘরে, যেখানে সময়কে আরও নিখুঁতভাবে ধরে রাখা যাবে। আর বালির নিচে পড়ে থাকা সেই ‘রাণির পিট’ যেন আমাকে বলছিল, “সব কিছু একদিন আলোতে আসবেই।”


খুফুর পিরামিড শুধু রাজকীয় কবর নয়, তার পাশের প্রতিটি গর্ত—নৌকার পিট, এক একটি মিসরের আধ্যাত্মিক জাহাজঘর। আর সেই জাহাজে চড়ে, মৃত্যু নয়, বরং অমরতার দিকে যাত্রা করে প্রতিটি আত্মা—এই বিশ্বাসই ছিল নীলনদের পবিত্র সভ্যতার মজ্জায়।


১ম ছবিটি রাণির পিট

২য় ছবিটি খুফুর সৌর নৌকার পিট 

২য় ছবির ডান পাশে একটি ভবন দেখা যাচ্ছে। 

❓ ভবনটি কার ছিল?


- এস এম নিয়াজ মওলা

তোকমা বীজ চিয়া বীজের চেয়ে কোনো অংশেই কম না! 

 তোকমা বীজ চিয়া বীজের চেয়ে কোনো অংশেই কম না! 


চিয়া বীজ (Chia Seeds) ও তোকমা বীজ (Basil Seeds) উভয়েই মিন্ট পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। 

উভয় বীজেই ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে রয়েছে।


তাই, 'মার্কেটিং' এর আশীর্বাদে মহার্ঘ হয়ে উঠা ভিনদেশি চিয়া বীজকেই একমাত্র সুপারফুড ভেবে নিজদেশের তোকমা বীজকে অবহেলা করবেন না, প্লিজ!


চিয়া বীজ মেক্সিকো ও সেন্ট্রাল আমেরিকার স্থানীয় ফসল।

এই চিয়া বীজ আমদানি-নির্ভর ও দাম বেশি।


আর,

তোকমা বীজ আমাদের উপমহাদেশের (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান) স্থানীয় ভেষজ ফসল। 

তোকমা বীজ বাংলাদেশে সহজলভ্য ও দামে কম।


তোকমা বীজ চিয়া বীজের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। 

বরং, ভিনদেশ থেকে আমদানীকৃত চিয়া বীজের চেয়ে তোকমা বীজ আমাদের জলবায়ু ও শরীরের জন্য উত্তম।


চিয়া হচ্ছে গ্লোবালি মার্কেটিং করা সুপারফুড। 

আর, তোকমা হচ্ছে আমাদের দেশীয় সত্যিকারের সুপারফুড।


তোকমা আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী ও স্থানীয় সুপারফুড। 

এটি স্বাস্থ্য উপকারিতায় কোনো অংশে চিয়া থেকে কম নয়।


তোকমা বীজের আয়ুর্বেদিক ও প্রাকৃতিক গুণগুলো হলো:

- শরীর ঠান্ডা রাখে (শীতলপ্রদায়ক)

- অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

- পিত্ত দোষ প্রশমনে কার্যকর


তোকমা বীজে প্রচুর ফাইবার রয়েছে। ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখে। 

এই বীজে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ।


আপনি যদি মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকার অধিবাসী হতেন তাহলে আপনার জন্য চিয়াসীড উত্তম হতো।

কিন্তু, বাঙালির জন্য উপমহাদেশের ফসল- বেসিল সীডই উত্তম।


সৃষ্টিকর্তা যেই অঞ্চলে যেই নিয়ামত দেন সেটাই ঐ অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য অধিক উত্তম।

এর বাইরে গিয়ে মানুষের যেসব চর্চা–তার বেশিরভাগই স্রেফ ফুটানি!


Muhammad Rahat Khan

এক কাপ চা আর একজোড়া কাঁপা হাত যে জীবনের যত গল্প ধারণ করে, তা অনেক উপন্যাসকেও হার মানায়। সংগৃহিত

 প্রথম দিন তাকে দেখেই আমি চমকে উঠেছিলাম। পরিপাটি সাদা চুল, চোখে পুরু ফ্রেমের চশমা, গলার নিচে একটা পুরনো লকেট। মনে হচ্ছিল যেন কোনো স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক চায়ের দোকানে বসে আছেন।


আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম,


"চাচী, আপনি এখানে বসেন প্রতিদিন?"


তিনি হেসে বলেছিলেন,


"হ্যাঁ মা, এখন আমার পাঠশালা এই রাস্তার ধারে। শুধু পাঠ নেই, শুধু শালা আছে।"


সেই হাসির আড়ালে ছিল এক গাঢ় বিষাদ। কিছুদিন পরেই তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়ে যায়। প্রতিদিন বিকেলে আমি গিয়ে বসতাম তার পাশে। এক কাপ চা আর অজস্র কথা। ধীরে ধীরে খুলে গেল অতীতের বই।


“আমি এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষিকা ছিলাম। আমার ছাত্ররা এখন অনেকেই দেশের বড় বড় জায়গায়।”


এই কথা যখন বলেছিলেন, তার চোখে গর্বের দীপ্তি ছিল। কিন্তু পরের কথায় সে দীপ্তি ম্লান হয়ে গিয়েছিল।


“একটা প্রেম ছিল, যেটা আমার সমস্ত কিছু কেড়ে নিয়েছিল। ও বলেছিল, বিয়ে করলে আমায় কাজ করতে হবে না। আমিও ভাবলাম, ভালোবাসা মানেই তো নিরাপত্তা। ভুল ভেবেছিলাম।”


বিয়ের পর তার স্বামী একে একে বন্ধ করে দেয় তার সকল প্রকাশনা, লেখালেখি, পত্রিকা পড়া। ধীরে ধীরে সে হয়ে পড়ে গৃহবন্দী। সন্তান হয় না। আর সেটা নিয়েই চলতে থাকে মানসিক নির্যাতন। একদিন, এক কাপ চা খেতে খেতে সে সিদ্ধান্ত নেয়, আর নয়।


“তখন আমার বয়স ৪২। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলাম। কিছুই ছিল না। শুধু একটা ব্যাগ আর বুকভরা যন্ত্রণা।”


শুরুর দিকে নানারকম কাজ করেছেন – ছাত্র পড়ানো, টাইপ করা, বইয়ের প্রুফ দেখা। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে কাজ কমে গেছে। এখন রাস্তায় বসে চা বিক্রি করেন। নিজেকে ছোট মনে করেন না।


“এই এক কাপ চা আমার সম্মান। কারো কাছে হাত পাতিনি।”


একদিন আমি বললাম, “চাচী, আপনার তো বই লেখার মতো জীবন। কেন লেখেন না?”


তিনি মুচকি হেসে বললেন,


“আমার লেখার সময় গেছে মা। এখন তোমরা লেখো। আমি শুধু চাই আমার গল্প হারিয়ে না যাক।”


আজ তিন মাস হয়ে গেছে চাচীকে দেখছি না। দোকানটা ফাঁকা পড়ে থাকে। অনেকে বলে, তিনি হয়তো গ্রামে চলে গেছেন, কেউ বা বলে তিনি মারা গেছেন।


কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, চাচী আছেন। কোথাও বসে, কাঁপা হাতে চা বানাচ্ছেন – হয়তো স্বর্গে কোনো কবি বা গল্পকারের জন্য।


আর তার গল্প? আমি লিখে ফেললাম।


এক কাপ চা আর একজোড়া কাঁপা হাত যে জীবনের যত গল্প ধারণ করে, তা অনেক উপন্যাসকেও হার মানায়।


সংগৃহিত

বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫

কুকুরের ঘ্রাণশক্তি মানুষের চেয়ে ২৮,০০০ গুণ বেশি। 

 কুকুরের ঘ্রাণশক্তি মানুষের চেয়ে

২৮,০০০ গুণ বেশি। ০

: ► প্রাণীদের মধ্যে বিড়ালই সবচেয়ে বেশি ঘুমায় (দৈনিক ১৮ঘন্টা)।

: ► একমাত্র স্ত্রী মশাই মানুষের রক্ত খায়।

: ► মাছি ঘন্টায় ৮ কিলোমিটার উড়তে পারে ।

: ► পুরুষ ব্যাঙই বর্ষকালে ডাকে, আর তা শুনে কাছে আসে স্ত্রী ব্যাঙ।

: ► হামিং বার্ড পাখি পিছনের দিকে উড়তে পারে ।

: ► গিরগিটি একই সময়ে তার চোখ

দুটি দুই দিকেই নাড়তে পারে।

: ► টিকটিকি এক সঙ্গে ৩০টি ডিম পাড়ে ।

: ► মাছ চোখ খোলা রেখে ঘুমায়।

: ► একমাএ পিঁপড়াই কোনদিন ঘুমায় না।

: ► সিডকা পোকা একটানা ১৭ বছর

মাটির নিচে ঘুমায়। তারপর মাটি থেকে বেড়িয়ে এসে

চিৎকার করতে করতে ৩ দিনের মাথায় মারা যায়।

: ► সিংহের গর্জন ৫ মাইল দূর থেকেও শোনা যায়।

: ► অনেকের ধারণা হাঙ্গর মানুষকে হাতের কাছে পেলে মেরে ফেলে। কিন্তু মানুষের হাতেই বেশী হাঙর মারা পড়েছে।

: ► কাচ আসলে বালু থেকে তৈরী।

: ► আপনি প্রতিদিন কথা বলতে গড়ে ৪৮০০টি শব্দ ব্যবহার করেন। বিশ্বাস না হলে পরীক্ষা করে দেখতে

পারেন।

: ► আপনি ৮ বছর ৭ মাস ৬ দিন একটানা চিৎকার করলে যে পরিমান শক্তি খরচ হবে তা দিয়ে এক কাপ কফি অনায়েসে বানানো যাবে।

: ► একটি রক্ত কনিকা আমাদের পুরো দেহ ঘুরে আসতে সময় নেয় ২২ সেকেন্ড।

: ► আপনার যদি একটা তারকা গুনতে ১ সেকেন্ড সময় লাগে তাহলে একটি গ্যালাক্সির সব তারকা গুনতে সময় লাগবে প্রায় ৩ হাজার বছর।

: ► অনেকের ধারণা শামুকের দাঁত নেই। অথচ শামুকের ২৫ হাজার দাঁত আছে।

:▬► চোখ খুলে হাঁচি দেয়া সম্ভব না।

: ► বিড়াল ১০০ রকম শব্দ করতে পারে অথচ কুকুর পারে ১০ রকম।

:▬►পৃথিবীর প্রাণীদের মধ্যে ৮০ ভাগই পোকামাকড়।

: ►একটি তেলাপোকা তার মাথা ছাড়া

৯দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এরপর

তারা সাধারণত খাদ্যাভাবে মারা যায়।


ভালো লাগলে শুধু একটা.....Thanks

লিখবেন। 😀


#life #love #information @highlight

কশাইদের প্রতারণার শিকার ভোক্তাগণ,,,,,,,,,, ফেইসবুক থেকে নেওয়া

 আমাদের দেশে মাংসের দোকানগুলোতে গেলে দেখবেন কসাই মাংস কাটছে আর সেই মাংস থরথর করে নড়ছে। সাধারণ ক্রেতারা মনে করে, মাংস নড়ছে মানেই এটা একদম টাট...