এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

এই ব্লগটি সন্ধান করুন

সোমবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৫

উপমহাদেশের বিখ্যাত শিল্পী নচিকাতার পৈত্রিক ভিঠা ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলায়।

 উপমহাদেশের বিখ্যাত শিল্পী নচিকাতার পৈত্রিক ভিঠা ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলায়।


কুঁড়েঘরের বারান্দার মাটির মেঝেতে বসে কান্না লুকানোর চেষ্টা করেও পারলেন না। কালো রোদচশমার ফাঁক গলে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল কোলে। কখনো বাড়ির দিঘিরপাড়ে, কখনো পৈতৃক ভিটায় বসে এভাবেই নীরবে চোখের জল ফেললেন। পরে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কাটাখালী খালের পানি বোতলে ভরে নিয়ে গেলেন।

ভারতের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী নচিকেতাকে এভাবে দেখে অবাক হয়েছেন চেচরীরামপুর গ্রামের মানুষ। যাঁরা নচিকেতার গান শুনেছেন কিংবা তাঁর সম্পর্কে জানেন, তাঁরা নচিকেতার মাতৃভূমির প্রতি এমন টান দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। প্রিয় শিল্পীর কান্না দেখে সেখানে উপস্থিত গ্রামবাসীরও চোখে পানি ঝরেছে।

নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্ম কলকাতায়। পূর্বপুরুষের বাড়ি ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার চেচরীরামপুর গ্রামে। ২০১৪সালে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসেন তিনি। সেদিন দুপুরে আসেন চেচরীরামপুর গ্রামে।

স্থানীয় লোকজন জানান, হেলিকপ্টারে করে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা শহরে আসেন নচিকেতা। স্থানীয় বিহারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নামার পর ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আতিকুর ইসলাম, থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি বিহারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকর দাস তাঁকে বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদ্যাপনের একটি স্মরণিকা উপহার দেন।

শংকর দাস বলেন, নচিকেতার দাদু (মায়ের বাবা) ললিত মোহন গাঙ্গুলী বিহারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ১৯৫৮ সালে তিনি এ বিদ্যালয় থেকে অবসর নেন। দাদুর স্মৃতিবিজড়িত বিদ্যালয়ে এসে প্রখ্যাত এই সংগীতশিল্পী আবেগে শিশুর মতো কেঁদে ফেলেন।

বিদ্যালয়ে কিছুক্ষণ কাটিয়ে সড়কপথে যান ভান্ডারিয়া শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে কাঁঠালিয়ার চেচরীরামপুর গ্রামে। সেখানে ললিত মোহন গাঙ্গুলীর বাড়ির পাশেই জমি কিনে বসবাস করতেন নচিকেতার বাপ-দাদার পরিবার। সেখান থেকেই বাবা সখা রঞ্জন চক্রবর্তী ১৯৪৫ সালে সপরিবারে ভারত চলে যান।

গ্রামের লোকজন জানান, নচিকেতা প্রথমে গিয়েই বসেন বাড়ির দিঘিরপাড়ে। সেখানে তাঁকে ঘিরে ধরেন উৎসুক লোকজন। দিঘির জলের দিকে আনমনে তাকিয়ে থাকেন কিছুক্ষণ। এরপর গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। জানতে পারেন তাঁদের ভিটায় এখন আনোয়ার সিকদার নামের এক ব্যক্তি ঘর তুলে বসবাস করছেন। একজন দেখিয়ে দেন তাঁর পৈতৃক ভিটা। সেখানে আনোয়ারের কুঁড়েঘরের বারান্দায় মাটিতে বসে পড়েন তিনি। এ সময় আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। সবার সামনেই কেঁদে ফেলেন।

নচিকেতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘১৯৪৫ সালে আমার বাবা সখা রঞ্জন চক্রবর্তী সপরিবারে ভারতে চলে যান। কলকাতায় আমার জন্ম। এখানে এসেছি নাড়ির টানে। অনেক দিন ধরে এখানে আসার ইচ্ছা ছিল। ব্যস্ততার কারণে আসা হয়নি। সময় পেলে আবার গ্রামে আসব।’ উপস্থিত গ্রামবাসীকে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ হয়েছি। আপনারা আমার আপনজন।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উক্তি...

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উক্তি...


১)  "এ জগতে হায়, সেই বেশী চায় আছে যার ভুরি ভুরি / রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি”-- দুই বিঘা জমি


২) "যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালো মন্দ মিলায়ে সকলি, / এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি'। 


৩) "মানুষ যা চায় ভুল করে চায়, যা পায় তা চায় না' ।


৪) 'এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাই তুমি করে গেলে দান" ।


৫)"আজ হতে শতবর্ষ পরে, কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহলভরে"।


৬)“ছোট প্রাণ ছোট ব্যথা, ছোট ছোট দুঃখ কথা, নিতান্তই সহজ সরল"।


৭) "মা তোর বদন খানি মলিন হলে, আমি নয়ন জলে ভাসি"।


৮) "ধরাতলে দীনতম ঘরে যদি জন্মে প্রেয়সী।' 


৯)"বাদলা হাওয়ায় মনে পড়ে ছেলে বেলার গান- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, নদেয় এলো বান।


১০) "নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহিরে।"


১১) "গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা"।


১২) "ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই, ছোটো সে তরী / আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।"


১৩)"খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে / বনের পাখি ছিল বনে। একদা কী করিয়া মিলন হল দোঁহে, কী ছিল বিধাতার নার মনে।" 


১৪) "কেরোসিন শিখা বলে মাটির প্রদীপে, ভাই বলে ডাক যদি দেব গলা টিপে। হেনকালে গগনেতে উঠিলেন চাঁদা, কেরোসিন বলি উঠে, এসো মোর দাদা।”


১৫). "আজি এ প্রভাতে রবির কর কেমনে পশিল প্রাণের পর, কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাত পাখির গান। না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।" 


১৬) "কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই।" 


১৭)"কিন্তু মঙ্গল আলোকে আমার শুভ উৎসব উজ্জ্বল হইয়া উঠিল"। 


১৮) 'নমো নমঃ নমঃ সুন্দরী মম জননী বঙ্গভূমি' ।


১৯) "আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে"। 


২০). "মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।" 


২১) "মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারানো পাপ" । 


২২), "সমগ্র শরীরকে বঞ্চিত করে কেবল মুখে রক্ত জমলে তাকে স্বাস্থ্য বলা যায় না"। 


২৩) "আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে"।


২৪ "আমরা আরম্ভ করি, শেষ করি না: আড়ম্বর করি, কাজ করি না; যাহা অনুষ্ঠান করি, তাহা বিশ্বাস করি না" ।


২৫)"হে মোর চিত্ত, পুণ্য তীর্থে জাগো রে ধীরে- এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে।" 


২৬),"ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা"।


২৭) "আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর"।


২৮) "যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম, এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হবে।" 


২৯)এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে" ।


৩০) 'একটি ধানের শিষের উপর একটি শিশির বিন্দু' ।


৩১) "কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই।"


৩২) "বুকের রক্ত দিয়া আমাকে যে একদিন দ্বিতীয় সীতা বিসর্জনের কাহিনীড লিখতে হইবে সে কথা কে জানিত"।


৩৩) "যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই  দিলাম।এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হবে।" 


৩৪)"এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে?"


৩৫) "হায়রে, তাহার বউমার প্রতি বাবার সেই মধুমাখা পঞ্চস্বর এবার এমন বাজখাই খাদে নামিল কেমন করিয়া?”


৩৬) "একবার মনে হইল ফিরিয়া যাই, জগতের ক্রোড়বিচ্যুত সেই অনাথিনীকে সঙ্গে করিয়া লইয়া আসি - নদীবক্ষে ভাসমান পথিকের হৃদয়ে এই তথ্যের উদয় হইল? ফিরিয়া ফল কি-এ পৃথিবীতে কে কাহার?”

বছরের শেষ ও নতুন বছর নিয়ে এতো আদিখ্যেতা করা ঠিক না।

 বছরের শেষ ও নতুন বছর নিয়ে এতো আদিখ্যেতা করা ঠিক না।


থার্টিফার্স্ট নাইটে যেভাবে আতোশ বাজি ফোটানো হয় তাতে কতশত পাখি মারা যায়, রাস্তার বিড়াল কুকুরের কতো সমস্যা হয় এটা কেউই ভাবে না। একটু ভাববেন প্লিজ 🙏 


কীভাবে এলো ইংরেজি নববর্ষ। আর কি-ই বা এর ইতিহাস। কথায় গাঁথা সুরের মেলা গ্রুপের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—


ইংরেজি নববর্ষের ইতিহাস -


আসলে আমরা যে ইংরেজি সাল বা খ্রিস্টাব্দ বলি সেটা হচ্ছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। আমরা এখন যে ইংরেজি বর্ষ পালন করি তা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী। এর কিন্তু আবার আছে বিশাল ইতিহাস। আগে আমরা জেনে নেই সেটি।


নতুন বছরের কথা জানাতে গিয়ে আমরা কিন্তু চলে যাচ্ছি পুরোনো আমলের ইতিহাসে। গ্রেগরিয়ান আসলে একটি সৌর বছর। এর বর্তমান কাঠামোতে পৌঁছাতে সময় লেগেছে কয়েকশ বছর। নানা পরিবর্তন পরিমার্জনের ফল আজকের ক্যালেন্ডার। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মানুষ যেদিন বর্ষ গণনা করতে শিখলো সেদিন চাঁদের হিসাবেই শুরু করে বর্ষ গণনা। সূর্যের হিসাবে বা সৌর গণনার হিসাব আসে অনেক পরে। সৌর এবং চন্দ্র গণনায় আবার পার্থক্য রয়েছে। সৌর গণনায় ঋতুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকে, কিন্তু চন্দ্র গণনায় ঋতুর সঙ্গে সম্পর্ক থাকে না।


বর্ষপঞ্জিকা তৈরির বিষয়টি লক্ষ্য করা গিয়েছিল সুমেরীয় সভ্যতায়। মিশরীয় আবার জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিসাব-নিকাশে ছিলো বেশ এগিয়ে। এই মিশরীয় সভ্যতাই পৃথিবীর প্রাচীনতম সৌর ক্যালেন্ডার আবিষ্কার করে বলে ধারণা করা হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মিশরীয় সে ক্যালেন্ডার নিয়ে করেছেন বিস্তৃত গবেষণা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারা এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, খ্রিস্টপূর্ব ৪২৩৬ অব্দ থেকে ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু করে।

ইউরোপকে বলা হয় শিল্প-সাহিত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞানের স্বর্গ। সভ্যতার সব গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার কিন্তু তারাই করেছে। আর এদিক দিয়ে এগিয়ে ছিলো গ্রিক ও রোমনরা।


রোমানরা আবার তাদের প্রথম ক্যালেন্ডার লাভ করে গ্রিকদের কাছ থেকে। মজার বিষয় রোমানদের প্রাচীন ক্যালেন্ডারে মাস কিন্তু ১২টি ছিলো না। তাদের মাস ছিলো ১০টি। তাদের বছর ছিলো ৩০৪ দিনে। আরো মজার ব্যাপার শীতের দুই মাস তারা বর্ষ গণনার মধ্যেই আনতো না। রোমানরা মার্চ মাস থেকে তাদের বর্ষ গণনা শুরু করতো। নববর্ষ উৎসব পালন করতো মার্চ মাসের ১ তারিখে। বছর গণনায় ৬০ দিন বাদ যাওয়ায় তারা কিন্তু দিন, তারিখ বর্ণিত ক্যালেন্ডার ব্যবহারের কথা ভাবতো না।


রোমের একজন বিখ্যাত সম্রাট রমুলাস। তিনি ছিলেন রোমের প্রথম সম্রাট। তিনিই নাকি আনুমানিক ৭৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে ১০ মাসের সঙ্গে আরো দুটো মাস যোগ করেন রোমান সম্রাট নুমা। আর মাস দুটো হচ্ছে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি। তিনিই জানুয়ারিকে বছরের প্রথম মাস হিসাবে যুক্ত করেন।


জানুয়ারি মাস ২৯ দিনে এবং ফেব্রুয়ারি মাস ধার্য করা হয় ২৮ দিনে। আরো মজার ব্যাপার এই বারো মাসের বাইরে তিনি মারসিডানাস নামে অতিরিক্ত একটি মাসেরও প্রবর্তন করেন। মাসটি গণনা করা হতো আবার ২২ দিনে। এ অতিরিক্ত মাসটি গণনা করা হতো এক বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ ২৪ তারিখের মাঝখানে।


নুমা চালু করা মাসের হিসাব পরিবর্তন করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪৩২ অব্দে। আমরা এখন যে লিপ ইয়ার পালন করি চার বছর পর পর তার প্রবর্তকও কিন্তু এই রোমানরাই। রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার রোমে চালু করেন নতুন ক্যলেন্ডার। তিনি মিশরীয় ক্যালেন্ডার নিয়ে আসেন রোমে। জ্যোতির্বিদদের পরামর্শে খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে সেই বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মাঝখানে ৬৭ দিন এবং ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে ২৩ দিনসহ মোট ৯০ দিন যুক্ত করে সংস্কার করেন ক্যালেন্ডার। পরবর্তে এ ক্যালেন্ডার পরিচিত হয় জুলিয়ান ক্যালেন্ডার নামে।


জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে মার্চ, মে, কুইন্টিলিস ও অক্টোবর মাসের দিন সংখ্যা ৩১ এবং জানুয়ারি ও সেক্সটিনিস মাসের সঙ্গে দুইদিন যুক্ত করে ৩১ দিন করা হয়। ফেব্রুয়ারি মাস গণনা হতে থাকে ২৮ দিনেই। আমরা যাকে এখন লিপইয়ার বলি সেই ফ্রেব্রুয়ারি মাসে প্রতি চার বছর অন্তর যুক্ত করা হয় একদিন। পরবর্তীতে জুলিয়াস সিজারের নামানুসারে প্রাচীন কুইন্টিলিস মাসের নাম বদলিয়ে রাখা হয় জুলাই।


আরেক বিখ্যাত রোমান সম্রাট ছিলেন অগাস্টাস। তার নামানুসারে সেক্সটিনিস মাসের নাম পাল্টিয়ে করা হয় অগাস্ট। ৩৬৫ দিনে সৌর বর্ষ গণনার কাজটা কিন্তু করতো মিশরীয়রা। কিন্তু জুলিয়াস সিজারের সংস্কারের ফলে তা এসে দাঁড়ায় তিনশ সাড়ে পঁয়ষট্টি দিনে ।


আমরা যে খ্রিস্ট বছর বা খ্রিস্টাব্দ বলি, তার সূচনা হয় আরো পরে। খ্রিস্ট ধর্মের প্রবর্তক যীশুখ্রিস্টের জন্ম বছর থেকে গণনা করে ডাইওনিসিয়াম এক্সিগুয়াস নামক এক খ্রিস্টান পাদ্রী ৫৩২ অব্দ থেকে সূচনা করেন খ্রিস্টাব্দের। ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দের কথা। রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জ্যোতির্বিদদের পরামর্শে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার সংশোধন করেন। তার নির্দেশে ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাস থেকে দেওয়া হয় ১০ দিন। এর ফলে ঐ বছরের ৫ তারিখকে করা হয় ১৫ তারিখ।


পরে পোপ গ্রেগরি ঘোষণা করেন, যেসব শতবর্ষীয় অব্দ ৪০০ দিয়ে বিভক্ত হবে সেসব শতবর্ষ লিপইয়ার হিসেবে গণ্য হবে। পোপ গ্রেগরি প্রববর্তিত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার মোটামুটি একটি নিখুঁত হিসাবে আমাদের পৌঁছে দেয়। বিশ্বব্যাপী এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। আজ আমরা যে ক্যালেন্ডার দেখে ইংরেজি বর্ষ হিসাব করি, উদযাপন করি নববর্ষ, তা সেই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ফসল।

@সবাই কে থার্টিফার্স্ট নাইটের শুভেচ্ছা জানাই 🌹

অমানুষ ছবি সাফল্যের পরে শক্তি সামন্ত  উত্তমকুমারকে নিয়ে আনন্দ আশ্রম ছবিটি করেছিলেন।  

 ♦️অমানুষ ছবি সাফল্যের পরে শক্তি সামন্ত 

উত্তমকুমারকে নিয়ে আনন্দ আশ্রম ছবিটি করেছিলেন।  


আনন্দ আশ্রম শুরু হওয়ার ৫-৬ দিন আগে আনন্দ আশ্রমের হিন্দি স্ক্রিপ্টটা দাদা মনি অর্থাৎ অশোক কুমারের চেম্বারে পৌঁছাতে গিয়েছিলেন পরিচালক প্রভাত রায়।

ট্রিপটা হাতে নিয়েই অশোক কুমার বলেছিলেন,

 'এ কি তুমি হিন্দিটা নিয়ে এসেছ কেন? বাংলাটা নিয়ে এসো। @রূপকথা

কদিন পরে বাংলার রয়েল বেঙ্গল টাইগার উত্তমের সামনে দাঁড়িয়ে অ্যাক্টিং করতে হবে। বাংলা ডায়লগ ঠিকঠাক বলতে না পারলে ও তো আমাকে চিবিয়ে খেয়ে নেবে।' 


পরদিন প্রভাত রায় সকালেই অশোক কুমারকে বাংলা স্ক্রিপটা পৌঁছে দিলেন। 

বিকেলে উত্তম কুমার কলকাতা থেকে মুম্বাইয়ে পৌঁছেই শক্তি ফিল্মস এর অফিসে হাজির।


বললেন,  'প্রভাত আনন্দ আশ্রমের স্ক্রিপ টা দে।

প্রভাত রায় বাংলাটা হাতে দিতেই বলে উঠলেন, 'আরে বাংলাটা দিলি কেন ওটা আমি ম্যানেজ করে দেব। 

তুই আমাকে হিন্দি টা দে। দাদা মনির সামনে হিন্দি সংলাপ বলে অভিনয় করতে গেলে তো ল্যাজেজে গোবরে হয়ে যাব। চিবিয়ে ছিবড়ে করে দেবে।'

@রূপকথা

হিন্দি স্ক্রিপটা উত্তমকুমারের হাতে দিয়ে প্রভাত রায় বললেন,  'কাল দাদা মনিও এই একই কথা বলেছিলেন।'

পাশ থেকে শক্তি সামন্ত বললেন,  'উত্তমদা লড়ে যান দাদামনির সঙ্গে।'

উত্তমকুমার কপালে হাত ঠেকিয়ে বললেন, ' মাথা খারাপ, ওনার সঙ্গে লড়বো। কত বড় অ্যাক্টর উনি। বাপরে।' 

একজন অভিনেতার আরেকজন অভিনেতার প্রতি অসীম শ্রদ্ধা দেখে সেদিন প্রভাত রায় অবাক হয়েছিলেন।


@রূপকথা


আনন্দলোক পত্রিকা।

পারভীন সুলতানা দিতি যিনি দিতি নামে বেশি পরিচিত (৩১ মার্চ, ১৯৬৫- ২০ মার্চ ২০১৬) একজন বাংলাদেশী

 পারভীন সুলতানা দিতি যিনি দিতি নামে বেশি পরিচিত

(৩১ মার্চ, ১৯৬৫- ২০ মার্চ ২০১৬) একজন বাংলাদেশী

অভিনেত্রী।বাংলাদেশের তুমুল জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী

জন্ম নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে।তাঁর অভিনীত

১ম চলচ্চিত্র হল উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত "ডাক দিয়ে

যাই"।৩১ বছরের অভিনয় জীবনে দুই শতাধিক ছবিতে

কাজ করেছিলেন দিতি। ১৯৮৭ সালে স্বামী স্ত্রী (১৯৮৭)

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ "পার্শ্ব অভিনেত্রী"

বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি

সিনেমার পাশাপাশি টিভি নাটকেও অভিনয় করেছেন।

বেশ কিছু নাটকও পরিচালনা করেছেন তিনি।এছাড়াও

তিনি রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন।তাকে

অভিনয়ের বাইরে মাঝেমধ্যে গান গাইতেও দেখা গেছে।

প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একক গানের অ্যালবামও। শুধু

তাই নয়, বিভিন্ন বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলও হয়েছেন তিনি।

১৯৮৪ সালে "নতুন মুখের সন্ধান" - এর মাধ্যমে দেশীয়

চলচ্চিত্রে দিতির সম্পৃক্ততা ঘটে। তাঁর অভিনীত প্রথম

চলচ্চিত্র উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত "ডাক দিয়ে যাই"।

কিন্তু চলচ্চিত্রটি আর শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। দিতি

অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত ১ম চলচ্চিত্র ছিল "আমিই ওস্তাদ"।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলেন আজমল হুদা মিঠু।


সুভাষ দত্ত পরিচালিত স্বামী স্ত্রী (১৯৮৭) চলচ্চিত্রটিতে

দিতি আলমগীরের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

এই সিনেমাতেই অভিনয় করে দিতি প্রথম বারের মতো

শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

অর্জন করেন। পরবর্তীতে তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য

সিনেমা গুলোর মধ্যে রয়েছে - হীরামতি,দুই জীবন,ভাই

বন্ধু,স্নেহের প্রতিদান,শেষ উপহার,কাল সকালে,মেঘের

কোলে রোদ।


মৃত্যু : ২০ মার্চ ২০১৬ (বয়স ৫০), ঢাকা।


♦️তথ্য ও ছবি উইকিপিডিয়া থেকে সংগৃহীত।

সূর্য উডের অভাই লাল মারি/  রইস্যা বন্ধু যারগই আমার বুকে সেল মারি’  অথবা 'নাতিন বরই খা বরই খা হাতে লইয়া নুন

 ‘সূর্য উডের অভাই লাল মারি/ 

রইস্যা বন্ধু যারগই আমার বুকে সেল মারি’ 

অথবা 'নাতিন বরই খা বরই খা হাতে লইয়া নুন।’


গানগুলো অবশ্যই আপনারা শেফালী ঘোষের কন্ঠে অনেকে শুনেছেন। তাঁর কণ্ঠে প্রতিধ্বনি হয়েছে  মানুষের আনন্দ-বেদনার সুর,   নদীর সৌন্দর্য্য, পাহাড়ের নীরবতা আর পশুপাখি কলতান । আঞ্চলিক গানের কিংবদন্তি শিল্পী ছিলেন শেফালী ঘোষ।  তিনি বাংলাদেশের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরেছেন যা উপমহাদেশের সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে। সংগীত জীবনে তিনি প্রায় সহস্রাধিক গান গেয়েছেন। তার গাওয়া গান নিয়ে দুই শতাধিকের বেশি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বেশ কয়েকটি বাংলা চলচ্চিত্রের গানেও প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের প্রায় ২০টিরও বেশি দেশে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সাংস্কৃতিক ভূমিকা রেখেছেন। সঙ্গীতের পাশাপাশি যাত্রা এবং মঞ্চনাটকেও তার নিয়মিত অংশগ্রহণ ছিল। তার গাওয়া বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে এম এন আখতার রচিত এবং সুরারোপিত "যদি সুন্দর একখান মুখ পাইতাম", আহমেদুল হক সিদ্দিকী রচিত ও সুরে "ও রে সাম্পানওয়ালা", মলয় ঘোষ দস্তিদার রচিত ও সুরে "ছোট ছোট ঢেউ তুলি" প্রভৃতি। শেফালী ঘোষ ১৯৪১ সালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কানুনগোপাড়ায় জজন্মগ্রহণ করেন। শিল্পী জীবনের সূচনালগ্নে প্রথমে রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত এবং আধুনিক গান শিখতে শুরু করলেও এক পর্যায়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন তিনি। শেফালী ঘোষের জন্য গান লিখেছিলেন সুপরিচিত কবিয়াল রমেশ শীল, আবদুল গফুর হালী, এম এন আখতার, কবিয়াল এয়াকুব আলী, সৈয়দ মহিউদ্দিন, অচিন্ত্য কুমার চক্রবর্তী, চিরঞ্জিত দাশ, মোহাম্মদ নাসির এবং মোহন লাল দাশ। তিনি ১৯৯০ সালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক পদক, ২০০২ সালে বাংলা একাডেমি আজীবন সম্মাননা পদক , ২০০৩ সালে শিল্পকলা একাডেমী পদক এবং ২০০৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন। ২০০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেফালী ঘোষ মারা যান। আজ বরেণ্য কন্ঠশিল্পী শেফালী ঘোষের  প্রয়াণ দিবসে গভীর শ্রদ্ধা চিত্তে স্মরণ করছি। মানুষের আবেগ আর ভালোবাসায় শেফালী ঘোষ আমাদের অন্তরে জাগ্রত থাকুক।


✍️রূপম চক্রবর্ত্তী- প্রাবন্ধিক, চট্টগ্রাম

      ছবিতে শিল্পী শেফালি ঘোষ

শচীন দেববর্মণ আমাদের জন্য রেখে গেছেন এক অমূল্য সম্পদ—তাঁর সুর ও গানের ভাণ্ডার, যা আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।

 রাজ পরিবারের সন্তান হলেও তিনি ছিলেন আদ্যোপান্ত একজন মাটির মানুষ। বলতেন, "দূর! যে দেশে গঙ্গা নাই, হেইডা আবার দেশ নাকি!" এই এক বাক্যেই যেন তাঁর শিকড়ের প্রতি টান ও গভীর দার্শনিকতা ধরা পড়ে। শচীন দেববর্মণ—এক এমন সুরের সন্ন্যাসী, যাঁর জীবনের প্রতিটি পরতে ছিল সংগীতের প্রতি অপরিসীম প্রেম।


ফিল্মিস্তানে কাজের প্রথম দিনগুলোতে শচীন কত্তার পকেটে থাকত মাত্র দুটো টাকা। পরবর্তী সময়ে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করলেও সেই দু’টাকার সঙ্গে লাখ টাকার কোনও তফাৎ ছিল না তাঁর কাছে। গান ছিল তাঁর প্রথম এবং শেষ প্রেম। সংসার, বিবাহ সব সামলেও সংগীতই ছিল তাঁর একমাত্র ধ্যান।


সেন্ট জেভিয়ার্সের ছাত্র শচীন টেনিস খেলতেন সাউথ ক্লাবে। কিন্তু সংগীতের প্রতি তাঁর টান শুরু হয় মান্না দে'র কাকা কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে। পরে তিনি ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছে তালিম নেন। প্রথম জীবনে এই দুই গুরুদেবের প্রভাব থাকলেও, রবীন্দ্রসঙ্গীত ছিল তাঁর প্রাণ।


পরিচালক তপন সিংহ একবার বম্বেতে শচীন কর্তার সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তখন নতুন একটি সুর করছিলেন। লতা মঙ্গেশকর গাইবেন সেই গান। তপন সিংহকে শোনালেন—‘মেঘছায়ে আঁধি রাত’। তপন মুগ্ধ হয়ে বললেন, “অসাধারণ!” শচীন কর্তার উত্তর ছিল, “সবই রবীন্দ্রনাথের কৃপা। এই সুরের মূলেও রবীন্দ্রপ্রভাব।”


একদিন মেঘলা দুপুরে শচীন কর্তা হারমোনিয়াম নিয়ে সুর করছিলেন। হঠাৎ কাজী নজরুল ইসলাম এসে বললেন, "মুখটা তো বেশ হয়েছে শচীন, দাঁড়াও একটা কাগজ দাও।" মাত্র মিনিট পনেরো। লেখা হয়ে গেল পুরো গানটি, আর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সুর। পরের দিন রেকর্ডিংয়ে তৈরি হলো চিরস্মরণীয় গান—‘মেঘলা নিশি ভোরে, মন যে কেমন করে’।


তপন সিংহ একবার শোনেন শচীন দেববর্মণের স্ট্রোক হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখলেন, বাঁ দিক সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তপনের দিকে তাকিয়ে কর্তা বললেন, “তপন, আর কিছু চাই না—শুধু যদি একটু গুনগুন করে গান গাইতে পারতাম!”


তপন তাঁকে উৎসাহ দিয়ে বলেছিলেন, “বড়ে গোলাম আলি খান সাহেব স্ট্রোকের পরেও গান গেয়েছিলেন। আপনিও পারবেন।” কিন্তু হয়তো মৃত্যুর নিয়ম ভিন্ন। কলকাতায় ফিরে কিছুদিনের মধ্যেই, ৩১ অক্টোবর ১৯৭৫, ভারত হারাল সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সংগীতের একটি অধ্যায়ের অবসান হল।


শচীন দেববর্মণ আমাদের জন্য রেখে গেছেন এক অমূল্য সম্পদ—তাঁর সুর ও গানের ভাণ্ডার, যা আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।

____________________________

কৃতজ্ঞতা: মনে পড়ে, তপন সিংহ।

সম্পাদনা: কিছু কথা॥ কিছু সুর ।

© ছবি পুনর্নবীকরণ ও রঙিনীকরন: কিছু কথা ॥ কিছু সুর

অঞ্জনা (1965/06/27-2025/01/04)

 অঞ্জনা 🏵️

পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চ থেকে চিরবিদায় নিলেন ঢাকার চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঞ্জনা রহমান। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী অঞ্জনা রহমান আমাদের মাঝে আর নেই - ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।।


সংক্ষিপ্ত জীবনী ----

অঞ্জনা ‏বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে অঞ্জনা বহুল আলোচিত একটি নাম। দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিনয় জীবনে তিনি ৩৫০টির অধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনয়,কত্থক নৃত্য ও মডেলিং এই তিনটিতেই রয়েছে তার সফল বিচরণ।


এর পাশাপাশি অঞ্জনা একজন সংগীতশিল্পীও। মাত্র ৪ বছর বয়স থেকে মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করা শুরু করেছিলেন অঞ্জনা। নাচ নিয়ে ব্যস্ততার সময়ই মাসুদ পারভেজ সোহেল রানার হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসেন। সারথী পরিচালিত "দস্যু বনহুর" ছবির মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রজীবন শুরু হয়।


আলমগীর কবির পরিচালিত "পরিণীতা" চলচ্চিত্রে অভিনয় করে অঞ্জনা সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। অঞ্জনা নায়করাজ রাজ্জাকের সাথে ৩০টি ছবিতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন।


এর মধ্যে অশিক্ষিত_রজনীগন্ধা_আশার আলো_

জিঞ্জির_আনারকলি_বিধাতা_বৌরানী_সোনার হরিণ_

মানা_রামরহিমজন_সানাই_সোহাগ_মাটির পুতুল_

সাহেব বিবি গোলাম ও অভিযান উল্লেখযোগ্য। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছবি হল - মাটির মায়া_রূপালি সৈকতে_মোহনা_গুনাই বিবি_গাংচিল_রাজবাড়ী_নূরী_

সুখের-সংসার_অন্ধবধূ_যাদু নগর।


তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে - প্রাণ সজনী_

দেশ-বিদেশ_লাভ ইন সিঙ্গাপুর_নেপালি মেয়ে সহ একাধিক ছবি নির্মিত হয়েছে। অঞ্জনার জন্ম ১৯৬৫ সালের ২৭ জুন ঢাকা ব্যাংক কোয়ার্টারে। তার পৈতৃক নিবাস চাঁদপুর। শুরুতে তিনি "অঞ্জনা রহমান" নামে পর্দায় কাজ করলেও বর্তমানে তিনি অঞ্জনা সুলতানা নামেই সমধিক পরিচিত।। 🔸

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস ১৯৫৬ সাল-বর্তমানঃ-

 বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস ১৯৫৬ সাল-বর্তমানঃ-



১। বাংলাদেশের ১ম চলচ্চিত্রের নাম ‘মুখ ও মুখোশ’।

২। বাংলাদেশের ১ম চলচ্চিত্রের পরিচালক আব্দুল জব্বার খান।

৩। বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল ছবি ‘তুফান’।

৪। বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ ব্যবসাসফল মুভির নায়ক শাকিব খান।

৫। বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বেশি সিনেমার পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু।

৬। সবচেয়ে বেশি সিনেমার জুটি আলমগীর-শাবানা।

৭। বাংলা চলচ্চিত্রের ৫ যুগের মধ্যে প্রায় দুই যুগ ধরে রাজত্ব করছেন শাকিব খান।

৮। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ব্যবসাসফল সিনেমার নায়ক শাকিব খান।

৯। বাংলাদেশী চলচ্চিত্র তারকাদের মধ্যে সর্বোচ্চ কর দাতা শাকিব খান।

১০। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া নায়ক শাকিব খান। (২কোটি+)।

১১। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পেয়েছেন আলমগীর (৯ বার)।

১২। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মেরিল প্রথম আলো পুরষ্কার পেয়েছেন শাবনুর (১০বার)।

১২। বাংলা চলচ্চিত্রে সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তা পাওয়া নায়ক শাকিব খান।

১৩। বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেতা হয়ে বিদেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন শাকিব খান।

১৪। বাংলা চলচ্চিত্রে মার্শাল কিং নায়ক রুবেল।

১৫। বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের বেশি বর্ষসেরা সিনেমার নায়ক শাকিব খান (১৫ বার)।

১৬। বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের বেশি বর্ষসেরা সিনেমার নায়িকা শাবানা।

১৭। দুই বাংলা মিলিয়ে ইউটিউবে শাকিব খানের সিনেমা ও গানের ভিউজ সবচেয়ে বেশি।

১৮। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ঈদে রিলিজ হয়েছে শাকিব খানের সিনেমা (১০০+টি)।

১৯। বাংলাদেশী তারকাদের ভিতর ঈদে সবচেয়ে বেশি ব্যবসাসফল সিনেমা দিয়েছেন শাকিব খান।

২০। বাংলাদেশী তারকাদের ভিতর সবচেয়ে বেশি ঈদ ক্ল্যাশ উইনার শাকিব খান।

২১। এক ঈদে সর্বোচ্চ ৫টি ব্যবসাসফল সিনেমার অল টাইম রেকর্ড শাকিব খানের।

২২। এক বছরের সবচাইতে বেশি ব্যবসাসফল সিনেমা দেওয়ার রেকর্ড ইলিয়াস কাঞ্চনের।

২৩। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ব্রান্ড ভ্যালু ও সম্পদশালী অভিনেতা শাকিব খান।

২৪। টানা সবচেয়ে বেশি বর্ষসেরা গ্রোসার সিনেমা দেওয়ার রেকর্ড শাকিব খানের (সর্বোচ্চ ৮ বার)। 

২৫। বিজ্ঞাপনের জন্য দেশের ইতিহাসে ৩৫ লাখ টাকার পারিশ্রমিকের সর্বোচ্চ রেকর্ড শাকিব খানের।

২৬। বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে প্রশংসিত পোস্টার শাকিব খানের ‘প্রিয়তমা’।

২৭। ইউটিউবে দেশীয় চলচ্চিত্রে সর্বোচ্চ ভিউ পাওয়া মৌসুমীর সিনেমা (খাইরুন সুন্দরী)।

২৮। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক ঈদে ৫টি সিনেমা মুক্তি পাওয়ার রেকর্ড শাকিব খানের।

২৯। ঈদে এক টিভি চ্যানেলে ২০-২২টি সিনেমা চলার রেকর্ড শাকিব খানের।

৩০। পুরনো ছবি নতুন পোস্টার করে সিনেমা হলে চালানো হয়েছে একমাত্র শাকিব খানের।

৩১। বাংলা চলচ্চিত্র ইতিহাসে সর্বপ্রথম ইউটিউবে এক কোটি+ ভিউজ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেছিল শাকিব খানের মাই নেম ইজ খান।

৩২। বাংলার চলচ্চিত্র ইতিহাসে ১০০+ সিনেমা ইউটুউবে কোটি+ ভিউজ অতিক্রম করেছে শাকিব খানের।

৩৩। বাংলার চলচ্চিত্র ইতিহাসে সর্বপ্রথম এক কোটি ভিউজ অতিক্রম করা সিনেমার গান শাকিব খানের ‘বসগিরি’ সিনেমার ‘দিল দিল দিল’।

৩৪। বাংলার চলচ্চিত্র ইতিহাসে সর্বপ্রথম ১০০+ সিনেমার গান ইউটুউবে কোটি ভিউজ অতিক্রম করেছে শাকিব খানের।

৩৫। বাংলাদেশের সিনেমা ইতিহাসে প্রথম বাংলা গান হিসেবে গ্লোবাল টপ ১০০ মিউজিক ভিডিওর লিস্টে ৩৫-তম অবস্থানে  জায়গা পেল শাকিব খানের ‘প্রিয়তমা’ সিনেমার গান 'ও প্রিয়তমা'।

৩৬। বাংলা চলচ্চিত্রের সবচাইতে বেশি নায়িকার সাথে কাজ করেছেন শাকিব খান (৮৫+)।

৩৭। বাংলা চলচ্চিত্রের সবচাইতে জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা।

৩৮। বাংলা চলচ্চিত্রের সবচাইতে জনপ্রিয় কমেডিয়ান দিলদার।

৩৯। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় সবচাইতে সফল 

নায়ক শাকিব খান।

৪০। বাংলা চলচ্চিত্রের সবচাইতে বড় বাজেটের মুভি ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ (৮৩ কোটি)।

৪১। বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম ডিজিটাল সিনেমার নায়ক অনন্ত জলিল।

৪২। বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতিবাদী নায়ক জসিম ও মান্না।

৪৩। অল্প সময়ের বেশি জনপ্রিয়তা পাওয়া নায়ক সালমান শাহ।

৪৪। বাংলার চলচ্চিত্র ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভিউজ গান শাকিবের ‘দুষ্টু কোকিল’।

৪৫। বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিলেন রাজিব।

৪৬। বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিচালক আমজাদ হোসেন (আমার মতে)।

৪৭। বিদেশে সর্বপ্রথম শুটিং হওয়া সিনেমা ‘লাভ ইন সিঙ্গাপুর’।

৪৮। স্বাধীন বাংলার প্রথম রঙিন সিনেমা ‘বাদশা’।

৪৯। বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে স্টাইলিশ হিরো জাফর ইকবাল।

৫০। ঈদুল আযহায় সর্বপ্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা Talash (Urdu)

৫১। ঈদুল ফিতরে সর্বপ্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা Shadi (Urdu)

৫২। বাংলা চলচ্চিত্রে সর্বোচ্চ সংখ্যক গান গেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর।

৫৩। সর্বাধিক দেশে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি শাকিবের ‘তুফান’।

৫৪। বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বাধিক পারিশ্রমিক প্রাপ্ত পরিচালক শহিদুল ইসলাম খোকন।

৫৫। চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচাইতে ক্রেজি ভক্তকুল শাকিবিয়ান।


©mahim

সুচিত্রাদিকে বাইরে ভীষণ কঠোর মনে হত স্মৃতিসুধায়' / সুমিত্রা সেন)

 "সুচিত্রাদিকে বাইরে ভীষণ কঠোর মনে হত। কিন্তু মনে প্রাণে নরম। আগে থেকে আলাপ ছিল বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা রেকর্ডিংয়ে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে। তবে তখন তত কাছে যেতে পারেনি, যতটা চাকরিসূত্রে যেতে পেরেছিলাম। ১৯৭০ সালে আমি রবীন্দ্রভারতীতে রবীন্দ্রসংগীতের শিক্ষক হিসেবে যোগ দিই। ১৯৭০- ৯৫ রবীন্দ্রভারতীতে চাকরি করেছি। তখন সুচিত্রা মিত্র হেড অফ দা ডিপার্টমেন্ট।অত বিরাট মাপের মানুষ তার ওপর আবার হেড ডিপ। আমার একটু ভয় করছিল শুরুতে। কিন্তু দেখলাম, সময়ের সঙ্গে কাছে ডেকে নিয়ে ডিপার্টমেন্ট কিভাবে চলবে, কী কাজ করতে হবে সেই আলোচনা করছেন। কিভাবে ক্লাস নিলে ঠিক হবে তার হাতে খড়ি ওঁর কাছে। দীর্ঘদিন আমরা একসঙ্গে কাটিয়েছি। ওঁর মানবিকতা বোধের আরো পরিচয় পেলাম যখন আমার স্বামী অসুস্থ হলেন এবং চলে গেলেন, সেই পর্বে। প্রতিদিন নিয়ম করে খোঁজ নিতেন বড় দিদির মত, জানতে চাইতেন খেয়েছি কি না। উপদেশ দিতেন। সেই সময় সুচিত্রাদি যেভাবে পাশে ছিলেন, তা আমি ভুলতে পারিনা। ভুল করলে, বকে শুধরেও দিতেন।''

('স্মৃতিসুধায়' / সুমিত্রা সেন)

নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস ---

 নড়াইল জেলার  লোহাগড়ার ইতনার পরীর খাটের ইতিহাস --- পরীর খাটটি বাংলাদেশের জাদুঘরে দেখে থাকলেও ইতিহাস আমরা অনেকেই জানি না। নাটোরের মহারানী ভব...